বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নীতিতে ফ্রিল্যান্সারদের বৈদেশিক লেনদেন সহজ, সন্তোষ প্রকাশ বাক্কোর
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক নীতিগত উদ্যোগে দেশের ফ্রিল্যান্সার ও ডিজিটাল সেবা রপ্তানিকারকদের বৈদেশিক লেনদেন আরও সহজ ও কার্যকর হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো)। সংগঠনটির মতে, নতুন এ উদ্যোগ দেশের ফ্রিল্যান্সিং, বিপিও এবং তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা রপ্তানি খাতের প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
২৩ জুলাই, বৃহস্পতিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বাক্কো জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি এ বিষয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে আবেদন, মতবিনিময় এবং নীতিগত আলোচনায় অংশ নিয়ে আসছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের ফলে সেই প্রচেষ্টার একটি ইতিবাচক ফলাফল এসেছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্ল্যাটফর্ম স্টেটমেন্ট, ই-মেইলসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক প্রমাণের ভিত্তিতে বৈদেশিক আয় দেশে গ্রহণ করা যাবে। এতে প্রচলিত কাগজপত্রের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং বৈদেশিক আয় দেশে আনার প্রক্রিয়া আরও সহজ ও আধুনিক হবে।
এছাড়া সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স আনুষ্ঠানিক ঘোষণাপত্র ছাড়াই গ্রহণ, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার মার্কিন ডলার গ্রহণ, ডুয়াল-কারেন্সি ‘ফ্রিল্যান্সার কার্ড’ চালু এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতের ফ্রিল্যান্সারদের রপ্তানি আয়ের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ এক্সপোর্ট রিটেনশন কোটার সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। অন্যান্য সেবা রপ্তানিকারকদের জন্য এ সীমা ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাক্কোর কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের এ সিদ্ধান্ত দেশের ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং খাতের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক। বৈদেশিক লেনদেন সহজ হলে আন্তর্জাতিক বাজারে কাজ করা ফ্রিল্যান্সার ও সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আরও নির্বিঘ্নে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে। এতে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন বাড়বে এবং দেশের ডিজিটাল সেবা রপ্তানি আরও সম্প্রসারিত হবে।
সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফয়সল আলিম বলেন, নতুন উদ্যোগ বর্তমান ও আগ্রহী ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বড় ধরনের উৎসাহ হিসেবে কাজ করবে। বৈদেশিক লেনদেনের জটিলতা কমলে নতুন প্রজন্ম আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করতে আগ্রহী হবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানের সুযোগও বৃদ্ধি পাবে।
বাক্কোর মতে, ফ্রিল্যান্সিং ও বিপিও শিল্প বাংলাদেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় রপ্তানিমুখী খাত। এ খাতের টেকসই উন্নয়নে সময়োপযোগী নীতিগত সহায়তা, সহজ আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে কার্যকর সংযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। বাংলাদেশ ব্যাংকের এ উদ্যোগ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক হবে।
সংগঠনটি এ উদ্যোগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে ধন্যবাদ জানিয়ে ভবিষ্যতেও ফ্রিল্যান্সিং ও আউটসোর্সিং শিল্পের বিকাশে সরকার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
//ডিবিটেক/বিএমএইচ/এনএএম//





