জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ির বাড়িতে দুদকের ইনভেন্টরি অভিযান

আদালতের নির্দেশে সাবেক এনটিএমসি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (বরখাস্ত) জিয়াউল আহসানের রাজধানীর জলসিঁড়ির আটতলা ভবনে সম্পদ তালিকাভুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন

জিয়াউল আহসানের জলসিঁড়ির বাড়িতে দুদকের ইনভেন্টরি অভিযান
২০ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৪৬  

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক এবং সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত হওয়া মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের রাজধানীর জলসিঁড়ি এলাকার ক্রোক করা আটতলা ভবনে সম্পদ তালিকাভুক্তকরণ (ইনভেন্টরি) কার্যক্রম শুরু করেছে।

২০ জুলাই, সোমবার দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী এ কার্যক্রম পরিচালনা করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশ অনুসারে জিয়াউল আহসানের ক্রোক করা সম্পদের ইনভেন্টরি করা হচ্ছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

দুদকের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং অবৈধ সম্পদ সঞ্চয়ের অভিযোগে তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি প্রায় ২২ কোটি ২৭ লাখ ৭৮ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ১২০ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন করেছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে বৈদেশিক মুদ্রা বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও রয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানে আরও বলা হয়েছে, তিনি বিদেশে সম্পদ ও অর্থ স্থানান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সংস্থাটির দাবি, ২০১৭ সালে তিনি অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডার নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন এবং দেশটির বিনিয়োগ কর্মসূচিতে অর্থ বিনিয়োগ করেন। পাশাপাশি দুবাই, মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাচারের তথ্যও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে বলে দুদক জানিয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত জিয়াউল আহসান ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নামে থাকা ক্রোক করা স্থাবর সম্পত্তির রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও গণপূর্ত বিভাগকে রিসিভার (তত্ত্বাবধায়ক) হিসেবে নিয়োগ দেন।

আদালতের আদেশ অনুযায়ী তার তিনটি ফ্ল্যাট, পাঁচটি বাড়ি এবং প্রায় ১০০ বিঘা জমি তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে।

দুদক ২০২৪ সালের ১৮ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে। পরে ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি-১) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলাও বিচারাধীন রয়েছে। ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

জিয়াউল আহসান ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কমিশনপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তীতে তিনি র‍্যাব, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারে (এনটিএমসি) বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৪ সালের ৬ আগস্ট তাকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়। পরে ১৫ আগস্ট রাতে রাজধানীর খিলক্ষেত এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

/প্রসঙ্গত, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের অধীন একটি সংস্থা, যা টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংস্থাটির বিরুদ্ধে নাগরিকদের ওপর নজরদারি, ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কিছু বিষয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থার তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত রায় এখনো হয়নি।
//ডিবিটেক/ডিপিও/এসএমই//