৫% মুনাফার দাবিতে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের জাতীয় প্রতিবাদ
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ৫ শতাংশ মুনাফাভিত্তিক অংশগ্রহণ তহবিল (ডব্লিউপিপিএফ) বাস্তবায়ন, ১৬ বছরের আইনগত পাওনা পরিশোধ এবং শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণের দাবিতে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকদের জাতীয় প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকরা ১৬ বছরের আইনগত পাওনা, শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত ৫ শতাংশ মুনাফাভিত্তিক অংশগ্রহণ তহবিল (Workers' Profit Participation Fund-WPPF) বাস্তবায়ন, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ এবং অর্জিত অধিকার সংরক্ষণের দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে জাতীয় শ্রমিক প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। সমাবেশে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, একটি চলমান রিটের মাধ্যমে শ্রমিকদের আইনি অধিকার ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা হলে এর প্রভাব দেশের সব শিল্পখাতের শ্রমিকদের ওপর পড়তে পারে।
২০ জুলাই, রবিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ওয়ার্কার্স ফেডারেশনের সভাপতি ও শ্রমিক নেতা বাবুল আক্তার উপস্থিত থেকে গ্রামীণফোনের শ্রমিকদের দাবির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অর্জিত ও আইনগত অধিকার রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সম্প্রতি গ্রামীণফোনের কর্মরত কর্মকর্তা ও হেড অব আইআর আউলাদ হোসেন শেয়ারহোল্ডার হিসেবে একটি রিট দায়ের করেছেন। তাদের দাবি, তিনি একই সঙ্গে WPPF-এর সম্ভাব্য সুবিধাভোগী হলেও রিটে সেই বিষয়টি উল্লেখ করেননি। বক্তাদের ভাষ্য, ওই রিটের মাধ্যমে যদি শ্রমিকদের ৫ শতাংশ মুনাফাভিত্তিক অংশগ্রহণের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়, তবে তা শুধু গ্রামীণফোন নয়, দেশের বিভিন্ন শিল্প ও প্রতিষ্ঠানের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ শ্রমিকদের অধিকারেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
বক্তারা আরও বলেন, শ্রমিকের অর্জিত অধিকার কোনো প্রতিষ্ঠানের অনুগ্রহ নয়; এটি আইনে স্বীকৃত অধিকার। তাই এই অধিকার রক্ষা করা মানে দেশের সব শ্রমজীবী মানুষের অধিকার রক্ষা করা।
সমাবেশে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সেখানে লেখা ছিল— "এক দফা এক দাবি, ৫% করে দিবি?", "মুনাফার ৫% বিনা বাক্যে দিতে হবে", "বিচার নয়, আমাদের ৫% টাকা পরিশোধ করতে হবে", "১৬ বছরের বকেয়া ৫% মুনাফা অবিলম্বে পরিশোধ করুন" এবং "শ্রমিকের অর্জিত অধিকার ফিরিয়ে দাও"।
এর আগে পবিত্র ঈদুল আজহার পর থেকে গ্রামীণফোনের সাবেক শ্রমিকরা রাজধানীর জিপিহাউস, জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক কর্মসূচি পালন করে আসছেন। আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা আইন অনুযায়ী প্রাপ্য ৫ শতাংশ মুনাফার অংশ, বকেয়া পাওনা এবং শ্রমিক অধিকার বাস্তবায়নের দাবিতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, গ্রামীণফোন এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, আন্দোলনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ ব্যক্তি বহু আগে প্রতিষ্ঠান ছেড়েছেন এবং আইন অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য সুবিধা গ্রহণ করেছেন। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, আন্দোলনকারীদের উত্থাপিত বিষয়গুলো বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন এবং এ বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্তের প্রতিই তারা শ্রদ্ধাশীল।
//ডিবিটেক/এজে/এসএমই//





