প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সীমান্তে জোর, বিজিবিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ
প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট সীমান্ত গড়ে তুলতে ড্রোন, থার্মাল ক্যামেরা ও আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বিজিবির পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখারও আহ্বান জানান তিনি।
সীমান্ত নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে প্রযুক্তিনির্ভর সক্ষমতা বৃদ্ধি, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, স্মার্ট সীমান্ত ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে ড্রোন, নাইট ভিশন, থার্মাল ক্যামেরা ও আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি সংযোজনের মাধ্যমে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-কে বিশ্বমানের আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে।
২০ জুলাই, সোমবার দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের শহীদ শাকিল আহমেদ মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বিজিবি সদস্যদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী স্বাগত বক্তব্য দেন। সভায় ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (ভিটিসি) মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সব ব্যাটালিয়ন ও সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) থেকে বিজিবি সদস্যরা অংশ নেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত পাঁচ মাসে বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। নতুন সীমান্ত ফাঁড়ি স্থাপন, জনবল বৃদ্ধি, ড্রোন প্রযুক্তি, নাইট ভিশন ও থার্মাল ক্যামেরা সংযোজন এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থার সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাহিনীকে প্রযুক্তিনির্ভর ও ত্রিমাত্রিক সক্ষমতায় উন্নীত করা হচ্ছে।
তিনি বাহিনীর শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ড বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, একটি বাহিনীর সবচেয়ে বড় শক্তি তার শৃঙ্খলা। গুজব, অপপ্রচার বা উসকানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বাজেট ও সম্পদের সীমাবদ্ধতা থাকলেও সরকার ধাপে ধাপে বিজিবির যৌক্তিক চাহিদা পূরণ, আবাসন সুবিধা বৃদ্ধি এবং সদস্যদের কল্যাণে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৪ হাজার ৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রক্ষা, জাতীয় সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতকরণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং মানবিক সহায়তায় বিজিবি ধারাবাহিকভাবে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে বিজিবির নিরপেক্ষ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা দেশ-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও জোরপূর্বক পুশইনের অপচেষ্টা প্রতিহত করার জন্য বিজিবির প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বাহিনীর দৃঢ় অবস্থানের কারণে এ ধরনের অপচেষ্টা বর্তমানে কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান দমন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী জনগণের বিকল্প কর্মসংস্থান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতেও বিজিবি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে বাহিনীর একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে তাকে ব্রিফ করা হয়।
মতবিনিময় সভা শেষে তিনি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং পিলখানায় সীমান্ত গৌরব, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ ও দীপ্ত সীমান্ত বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন। এছাড়া সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় একটি বৃক্ষরোপণ করেন।
//ডিবিটেক/ এফএইচ/ এসএমই//





