বিপিও খাতে ২০৩১ পর্যন্ত কর অব্যাহতি ও ১০% রপ্তানি প্রণোদনার দাবি বাক্কোর
বাংলাদেশের বিপিও ও আইটি খাতের বিকাশে ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি, ১০ শতাংশ রপ্তানি প্রণোদনা এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে বিশেষ তহবিল গঠনের দাবি জানিয়েছে বাক্কো।
দেশের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা খাত—বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও), তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) এবং আইটি-সক্ষম সেবা (আইটিইএস)—এর টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে বাজেট নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো)।
সংগঠনটির সভাপতি তানভীর ইব্রাহীম বলেছেন, বৈশ্বিক আউটসোর্সিং বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে। এই খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং তরুণদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। ফলে খাতটির প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে দীর্ঘমেয়াদি নীতি সহায়তা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বিপিও, আইটি ও আইটিইএস খাতে বিদ্যমান কর অব্যাহতির মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৭ পর্যন্ত থাকলেও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার স্বার্থে তা ৩০ জুন ২০৩১ পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে ট্যাক্স এক্সেম্পশন সার্টিফিকেট পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার আহ্বান জানান তিনি।
বাক্কোর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে, বর্তমানে আইটি ও বিপিও রপ্তানিতে প্রদত্ত ৬ শতাংশ নগদ সহায়তা পুনরায় ১০ শতাংশে উন্নীত করা হোক এবং উৎসে ৫ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহার করা হোক। এতে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান অর্জন করতে পারবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য একটি বিশেষ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড গঠনের প্রস্তাবও দিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিংসহ উদীয়মান প্রযুক্তি বিষয়ে প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ এবং টিয়ার-৩ ও টিয়ার-৪ ডাটা সেন্টার স্থাপনে প্রণোদনা দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
তানভীর ইব্রাহীম বলেন, ফ্রিল্যান্সার ও প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপ উদ্যোক্তাদের জন্য কর সুবিধা, সহজ শর্তে ঋণ এবং ভেঞ্চার ক্যাপিটাল তহবিল গঠন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে ডাটা প্রোটেকশন আইন প্রণয়ন এবং সরকারি প্রকল্প বাস্তবায়নে দেশীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নারী ও প্রতিবন্ধী কর্মীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ এবং রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন অঞ্চলে বিপিও পার্ক স্থাপন করা হলে কর্মসংস্থান ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত হবে।
বাক্কোর তথ্যমতে, বর্তমানে সংগঠনটির ৫০০-এর বেশি সদস্য প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ খাত ইতোমধ্যে এক লাখেরও বেশি মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে।
সংগঠনটি ২০৩০ সালের মধ্যে ৩ লাখ টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বার্ষিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। সমন্বিত নীতি সহায়তা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিপিও খাত বৈশ্বিক আউটসোর্সিং শিল্পে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাক্কোর সভাপতি।
//ডিবিটেক/ কিউএমএইচ/এমআই //





