কৃষি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের সঙ্গে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র বাড়ানোর তাগিদ
অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলা, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি খাত গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘সংকট মুহূর্তের বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রাজধানীর সিরডাপ আন্তর্জাতিক কনফারেন্স সেন্টারের এ টি এম শামসুল হক অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তারা বলেন, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার প্রেক্ষাপটে বাজেটকে প্রযুক্তিবান্ধব, সংস্কারমুখী ও উৎপাদনমুখী হতে হবে। কর প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তর, কৃষি ও শিল্পে প্রযুক্তি ব্যবহারের সম্প্রসারণ, আর্থিক খাতে সুশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত স্থিতিশীলতার ওপর জোর দেন তারা।
তাদের মতে, প্রযুক্তি, কৃষি, শিল্প ও বিনিয়োগ খাতের সমন্বিত উন্নয়নই বাংলাদেশকে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিতে পারে।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চারচা ডটকম এর আয়োজনে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তীতুমীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নেন পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাশরুর রিয়াজ, এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম মঞ্জুর, গবেষক ও অধিকারকর্মী মাহা মির্জা, সাবেক অর্থসচিব মুসলিম চৌধুরী, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, আইসিএমএবি সভাপতি কাউসার আলম এবং নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন ড. একেএম ওয়ারেসুল করিম। সঞ্চালনা করেন চরচা সম্পাদক সোহরাব হাসান।
আলোচনায় রাশেদ আল মাহমুদ তীতুমীর বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার নতুন অর্থনৈতিক মডেলে কাজ করছে। তিনি বলেন, প্রবৃদ্ধির সুফল সমাজের সব স্তরে পৌঁছে দিতে হবে এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবনে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকার পুনর্গঠন প্যাকেজ নিয়ে কাজ করছে সরকার। পাশাপাশি কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে ব্যয়ের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং তৃণমূল পর্যায়ে সেবা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি ও শিল্পায়নের প্রসঙ্গ তুলে এপেক্স ফুটওয়্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাসিম মঞ্জুর বলেন, বিনিয়োগ আকর্ষণে করপোরেট কর ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা প্রয়োজন। তিনি কর প্রশাসনে ডিজিটাল এবং ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা ব্যবস্থা চালুর দাবি জানান।
নাসিম মঞ্জুর বলেন, নীতিগত অনিশ্চয়তা ও প্রশাসনিক জটিলতা বিনিয়োগের বড় বাধা। তিনি বিমানবন্দরের গুদাম ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং স্বাস্থ্য খাতে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।
গবেষক ও অধিকারকর্মী মাহা মির্জা কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ বর্তমান ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থা ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা ও কৃষকের আয় বৃদ্ধি সম্ভব নয়।
তিনি কৃষকের দোরগোড়ায় ক্রপ ড্রায়ার, কম্বাইন হারভেস্টার এবং আধুনিক কৃষিযন্ত্র পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্যের সংরক্ষণে কোল্ড স্টোরেজ, প্রিজারভেশন সেন্টার এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি ক্রয়কেন্দ্র বাড়ানোর দাবি জানান।
মাহা মির্জা বলেন, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ ও প্রণোদনার সুবিধা প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে। গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং শহরমুখী অভিবাসন কমবে।
//ডিবিটেক/পিজেইউ/ইকে//





