আগামী ৫ - ১৩ জুন
সেমিকন্ডাক্টরে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের নতুন অভিযান
সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে বাংলাদেশের সক্ষমতা বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরতে এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমের সঙ্গে দেশীয় উদ্ভাবন ও মানবসম্পদের সংযোগ জোরদার করতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শুরু হচ্ছে ‘ইউএস রোডশো ২০২৬’। বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), সিলিকন রিভার ও ব্রেইনগেইনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই সফরকে দেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আগামী ৫ থেকে ১৩ জুন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক প্রযুক্তিকেন্দ্রিক শহরে অনুষ্ঠিতব্য এ রোডশোতে অংশ নেবেন শিল্পপ্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা সংস্থা, বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং বিশ্বজুড়ে কর্মরত বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীরা। সফরের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এম. এ. জব্বার এবং মুহাম্মদ মোস্তফা হুসাইন। তাদের সঙ্গে থাকবেন শিল্প ও একাডেমিয়ার প্রতিনিধিরা, ব্রেইনগেইন নেটওয়ার্কের সদস্য এবং ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস-এর প্রতিনিধিরা।
রোডশোর যাত্রা শুরু হবে অস্টিন থেকে। সেখানে বিশ্বের শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। পরবর্তী দিনগুলোতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, গবেষক ও উদ্যোক্তাদের নিয়ে একাধিক ‘ব্রেইনগেইন’ নেটওয়ার্কিং আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে, যা বৈশ্বিক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতাকে দেশের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা।
রোডশোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে প্রতিনিধি দল সফর করবে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি, বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং সিলিকন ভ্যালির শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোতে। এসব বৈঠকে চিপ ডিজাইন, উন্নত উৎপাদন প্রযুক্তি, গবেষণা সহযোগিতা, উদ্ভাবন এবং প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোক্তা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। পাশাপাশি বাংলাদেশি প্রযুক্তি পেশাজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মশক্তি গঠন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ অনুসন্ধান করা হবে।
১১ জুন সিলিকন ভ্যালিতে অনুষ্ঠিতব্য ব্রেইনগেইন ব্যাংকুয়েট রিসেপশনকে রোডশোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নির্বাহী কর্মকর্তা, গবেষক, অধ্যাপক এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তারা অংশ নেবেন। আয়োজকদের মতে, এই আয়োজন বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের মেধা ও সক্ষমতাকে এক প্ল্যাটফর্মে তুলে ধরবে।
সফরের শেষদিকে প্রতিনিধি দল বিশ্বখ্যাত স্টার্টআপ অ্যাক্সিলারেটর Berkeley SkyDeck এবং উদ্ভাবনভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সফর করবে। সেখানে প্রযুক্তির বাণিজ্যিকীকরণ, স্টার্টআপ বিনিয়োগ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং গবেষণাকে বাজারমুখী করার কৌশল নিয়ে আলোচনা হবে। ১৩ জুন পোর্টল্যান্ড-এ আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এই রোডশো।
বিএসআইএ সভাপতি এম. এ. জব্বার বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি তার মানবসম্পদ। সিলিকন রিভার ও ব্রেইনগেইনের মাধ্যমে বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও নেতৃত্বকে দেশের ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে। তার মতে, এ উদ্যোগ আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সহায়তা করবে।
অধ্যাপক মুহাম্মদ মোস্তফা হুসাইন বলেন, বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর খাতের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে দক্ষ মানবসম্পদ, আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার ওপর। এই রোডশো শিল্প, বিশ্ববিদ্যালয়, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে আরও শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি করবে, যা জ্ঞান বিনিময়, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তি উন্নয়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত চিপ ডিজাইন, রোবোটিক্স এবং উচ্চপ্রযুক্তি উৎপাদনের যুগে সেমিকন্ডাক্টর শিল্প বৈশ্বিক অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে। এমন বাস্তবতায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ প্রযুক্তি কেন্দ্রগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি সংযোগ দেশের উদীয়মান প্রযুক্তি শিল্পের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে পারে। বিশেষ করে গবেষণা, চিপ ডিজাইন, উন্নত প্যাকেজিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং প্রযুক্তি উদ্যোক্তা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই রোডশো দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
|
এক নজরে রোড শো- ৫ জুন অস্টিন, টেক্সাসে, যেখানে প্রতিনিধি দল এএমডি, টোকিও ইলেক্ট্রন (টেল) এবং এনএক্সপি সেমিকন্ডাক্টরস-এর সাথে বৈঠকে অংশ নেবে। এসব বৈঠকে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পে দক্ষ জনশক্তি উন্নয়ন, শিল্প-একাডেমিয়া সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। ৬ জুন অনুষ্ঠিত হবে ব্রেইনগেইন রিসেপশন লাঞ্চ, যেখানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রযুক্তি পেশাজীবী, গবেষক, উদ্যোক্তা ও শিল্প নেতারা অংশ নেবেন। ৭ জুন ফিনিক্স, অ্যারিজোনায় অনুষ্ঠিত হবে ব্রেইনগেইন রিসেপশন ডিনার, যা বাংলাদেশ এবং যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি পেশাজীবীদের মধ্যে সংযোগ আরও জোরদার করবে। ৮ জুন প্রতিনিধি দল সফর করবে অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটি এবং ক্যাকটাস ম্যাটেরিয়ালস। এই সফরে উন্নত উপকরণ গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প সহযোগিতা, উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ কর্মশক্তি তৈরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। ৯ জুন সিলিকন ভ্যালিতে অনুষ্ঠিত হবে স্যানডিস্ক ও গ্লোবাল ফাউন্ড্রিজ-এর সাথে বৈঠক, যেখানে শিল্প সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হবে। ১০ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ফলসমে প্রতিনিধি দল সফর করবে সিনপসিস ও ক্রেডো টেকনোলজি গ্রুপে। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে আরেকটি ব্রেইনগেইন রিসেপশন ডিনার। । ১১ জুন সিলিকন ভ্যালিতে অনুষ্ঠিত হবে রোডশোর অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ব্রেইনগেইন ব্যাংকুয়েট রিসেপশান। এর আগে প্রতিনিধি দল ইন্টেল, আর্ম এবং অন্যান্য শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর নেতাদের সাথে মতবিনিময়ে অংশ নেবে। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নির্বাহী কর্মকর্তা, অধ্যাপক, গবেষক, উদ্যোক্তা এবং বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করবেন। ১২ জুন প্রতিনিধি দল সফর করবে YES (Engineering the Intelligent Future) এবং বিশ্বখ্যাত স্টার্টআপ অ্যাক্সিলারেটর Berkeley SkyDeck-এ। এখানে উদ্ভাবন, প্রযুক্তি বাণিজ্যিকীকরণ, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম নিয়ে আলোচনা হবে। |
/ডিবিটেক/এইইচএ/এমইউআইএম/





