ভুয়া কল সনাক্ত করবে গুগলের ফোন অ্যাপ

ভুয়া কল সনাক্ত করবে গুগলের ফোন অ্যাপ
৪ জুন, ২০২৬ ০৯:৩০  

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার করে বিশ্বজুড়ে যেভাবে ‘ভয়েস ডিপফেক’ এবং কল জালিয়াতি বাড়ছে, তা রুখতে এক অভিনব ও বৈপ্লবিক ফিচার নিয়ে এসেছে সার্চ ইঞ্জিন জায়ান্ট গুগল। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অফিশিয়াল ‘ফোন বাই গুগল’ অ্যাপের জন্য নতুন ‘ফেক কল ডিটেকশন’ বা ভুয়া কল শনাক্তকরণ ফিচার চালুর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। 

গুগলের মতে, এই প্রযুক্তিটি মূলত এআই ডিপফেক ব্যবহার করে বিভিন্ন করপোরেট কর্মকর্তা, পরিবারের সদস্য বা পরিচিত সেজে প্রতারণা করার ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক হুমকি থেকে সাধারণ স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের রিয়েল-টাইমে সুরক্ষা দেবে।

গুগল তাদের বিবৃতিতে বর্তমান সময়ের এই আধুনিক সাইবার জালিয়াতির নিখুঁত কার্যপদ্ধতি ব্যাখ্যা করে জানিয়েছে, হ্যাকার বা স্ক্যামাররা প্রথমে ইন্টারনেট-ভিত্তিক বিভিন্ন সফটওয়্যারের মাধ্যমে কল স্পুফিং করে। অর্থাৎ, তারা ভুক্তভোগীর কোনো পারিবারিক সদস্য বা পরিচিত কন্টাক্টের আসল ফোন নম্বরটি ক্লোন বা জাল করে কল দেয়, যাতে স্ক্রিনে পরিচিত নামটি ভেসে ওঠে। এরপর তারা ইন্টারনেটে সহজে পাওয়া যায় এমন ‘এআই ভয়েস ক্লোনিং’ প্রযুক্তি ব্যবহার করে অবিকল সেই পরিচিত ব্যক্তি, অফিসের বস কিংবা কোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কর্মকর্তার মতো কণ্ঠস্বর তৈরি করে কথা বলে। 

সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানের ভয়েস ডিপফেকগুলো এতটাই নিখুঁত ও বাস্তবসম্মত যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে কান দিয়ে শুনে আসল ও নকল কণ্ঠের পার্থক্য বোঝা অসম্ভব।

আর এই চতুর জালিয়াতি ধরিয়ে দিতেই মাঠ কাঁপাবে গুগলের এই নতুন ‘ফেক কল ডিটেকশন’ ফিচার। এর কার্যপদ্ধতি অত্যন্ত সুরক্ষিত ও স্বয়ংক্রিয়। যদি আপনার ফোনে কোনো পরিচিত নম্বর থেকে কল আসে এবং অপর প্রান্তের ব্যক্তিটিও ‘ফোন বাই গুগল’ অ্যাপ ব্যবহারকারী হন, তবে কলটি রিসিভ হওয়ার সাথে সাথে দুটি ফোনের অ্যাপ নিজেদের মধ্যে ব্যাকগ্রাউন্ডে সম্পূর্ণ নিঃশব্দে একটি সিগন্যাল আদান-প্রদান করবে। এই পুরো যোগাযোগটি সম্পন্ন হবে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপ্টেড ‘আরসিএস’ মেসেজিং প্রযুক্তির মাধ্যমে, যার ফলে ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা শতভাগ সুরক্ষিত থাকবে এবং গুগল নিজেও এই সিগন্যাল দেখতে পাবে না।

যদি কোনো হ্যাকার বা স্ক্যামার মাঝখান থেকে অন্য কোনো সফটওয়্যার ব্যবহার করে আপনার পরিচিত মানুষের নম্বর বা কণ্ঠ জাল করে কল দেয়, তবে অপর প্রান্তের আসল ডিভাইস থেকে এই স্বয়ংক্রিয় কনফার্মেশন সিগন্যালটি আসবে না। সিগন্যাল না পেলেই আপনার ফোনের স্ক্রিনে থাকা গুগল ফোন অ্যাপটি তাৎক্ষণিকভাবে একটি লাল সতর্কবার্তা বা ‘ওয়ার্নিং’ প্রদর্শন করবে। এর ফলে ব্যবহারকারীরা কল চলাকালীন রিয়েল-টাইমেই বুঝতে পারবেন যে এটি একটি সাজানো বা ফেক কল। এই ফিচারটি অ্যাপে ডিফল্ট বা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই চালু থাকবে, তবে ব্যবহারকারী চাইলে অ্যাপের সেটিংস থেকে এটি বন্ধও করে রাখতে পারবেন।

গুগল জানিয়েছে, চলতি ২০২৬ সালের জুন মাস থেকেই বিশ্বব্যাপী সব অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য এই ফিচারটির রোলআউট শুরু হচ্ছে। অ্যান্ড্রয়েড ১২ বা তার পরবর্তী যেকোনো সংস্করণে চলা স্মার্টফোনে এই সুবিধা মিলবে। যথারীতি গুগলের নিজস্ব ‘পিক্সেল’ সিরিজের ফোনগুলো সবার আগে এই ওটিএ আপডেট পাবে। যেসব অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে ব্র্যান্ডের নিজস্ব ডিফল্ট ডায়ালার অ্যাপ দেওয়া থাকে, তারা গুগল প্লে স্টোর থেকে অফিশিয়াল ‘ফোন বাই গুগল’ অ্যাপটি ডাউনলোড করে সেটিকে ডিফল্ট ফোন অ্যাপ হিসেবে সেট করলেই এই অত্যাধুনিক সাইবার নিরাপত্তা সুবিধাটি উপভোগ করতে পারবেন।

ডিবিটেক/বিএমটি   ।   সূত্র: জিএসএম এরিনা