বিতর্কের মাঝেই পিরোজপুর ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ

বিতর্কের মাঝেই পিরোজপুর ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য নিয়োগ
৮ জুন, ২০২৬ ১৯:৫৯  

নানামুখী বিতর্ক ও অভিযোগের মধ্যেই দেশের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নতুন উপাচার্য (ভিসি) নিয়োগ দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ৮ জুন, সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পৃথক প্রজ্ঞাপনে পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) এই নিয়োগ প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে জারি করা এই প্রজ্ঞাপন দুটিতে স্বাক্ষর করেছেন সহকারী সচিব মো. শাহ আলম সিরাজ।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবির অধ্যাপক, রয়েছে দুর্নীতির অভিযোগ

পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছবিরুল ইসলাম হাওলাদার। সাধারণত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে 'বিজ্ঞান বিশেষজ্ঞ' অভিজ্ঞ শিক্ষকদের ভিসি পদে নিয়োগ দেওয়ার রীতি থাকলেও, তিনি নিয়োগ পেলেন ভাষা ও সাহিত্যের ব্যাকগ্রাউন্ড থেকে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়টির আইনে এ বিষয়ে কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।

আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকলেও ড. ছবিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের নভেম্বরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের সভাপতি থাকাকালে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা জ্ঞাপন করেছিলেন বিভাগের অপর ২১ জন শিক্ষক। আর্থিক ও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগে তৎকালীন উপাচার্য বরাবর আবেদন করার পর তাকে বিভাগের সভাপতির পদ থেকে সাময়িকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। একই বছরের ১০ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে রাবি প্রশাসন এবং তদন্ত চলাকালীন যাবতীয় অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে তাকে দূরে রাখা হয়। পিরোজপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০২২-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে আগামী ৪ বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অপসারণের দাবিতে মানববন্ধনের পরদিনই পবিপ্রবির ভিসি হেমায়েত জাহান

এদিকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান। বিতর্ক ও স্থানীয়দের জোরালো প্রতিবাদের মুখেই তাকে এই শীর্ষ পদে দায়িত্ব দেওয়া হলো।

প্রজ্ঞাপন জারির কিছুদিন আগেই (২১ মে) ঢাকা-পটুয়াখালী মহাসড়কের লেবুখালী টোল প্লাজা এলাকায় অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহানের বিরুদ্ধে স্থানীয় এলাকাবাসী এক বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, ড. হেমায়েত জাহান ও তার অনুসারী একটি গোষ্ঠী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রশাসনিক সুবিধা ভোগকারী বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছেন। তাদের এমন অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও প্রভাব বিস্তারের রাজনীতির কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও প্রশাসনিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। সেই সাথে তাদের দায়ের করা 'মিথ্যা মামলা' প্রত্যাহারের দাবিও জানানো হয়েছিল ওই কর্মসূচি থেকে। সমস্ত বিতর্ক পাশ কাটিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী তিনি যোগদানের তারিখ হতে আগামী ৪ বছর এই পদে বহাল থাকবেন।

//ডিবিটেক/সিবি/সিপি/ ইকে//