নিউ জার্সি ছেড়ে টেক্সাসে যাচ্ছে স্যামসাংয়ের মার্কিন সদর দফতর
দীর্ঘ ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিউ জার্সিতে কার্যক্রম পরিচালনার পর এবার যুক্তরাষ্ট্রের মূল সদর দফতর স্থানান্তর করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ান প্রযুক্তি জায়ান্ট স্যামসাং। নিউ জার্সির পাট চুকিয়ে প্রতিষ্ঠানটি তাদের মার্কিন সদর দফতরকে টেক্সাসের ‘প্ল্যানো’ শহরে সরিয়ে নিচ্ছে। প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম কোরিয়া টাইমস-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্ল্যানো শহরটি মূলত ডালাস সিটির ঠিক উত্তর দিকে অবস্থিত এবং টেক্সাসের ‘টেলর’ শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২০০ মাইল। এই টেলর শহরেই স্যামসাং ইতিমধ্যে তাদের বেশ কয়েকটি বিশালাকার সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ তৈরির কারখানা স্থাপন করেছে এবং সেখানে আরও নতুন কারখানা তৈরির পরিকল্পনা করছে।
সেমিকন্ডাক্টর হাব ও অ্যাপল ফ্যাক্টর
বিশ্লেষকদের মতে, স্যামসাংয়ের এই সদর দফতর স্থানান্তরের পেছনে বিশাল ভূ-রাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক কৌশল কাজ করছে। ২০২৪ সালে মার্কিন সরকারের কাছ থেকে টেক্সাসে চিপ উৎপাদন ও ফাউন্ড্রি ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য ৬.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিশাল ভর্তুকি বা সাবসিডি পেয়েছিল স্যামসাং।
বর্তমানে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট অ্যাপল চিপ উৎপাদনের ক্ষেত্রে তাইওয়ানের টিএসএমসির ওপর তাদের একক নির্ভরতা কমিয়ে আনার জন্য মরিয়া হয়ে চেষ্টা করছে। একই সাথে মার্কিন সরকারও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আমেরিকার মাটিতেই চিপ উৎপাদনের জন্য তীব্র চাপ দিয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে অ্যাপল তাদের ভবিষ্যৎ চিপ তৈরির জন্য মার্কিন ইন্টেল এবং স্যামসাংয়ের ফাউন্ড্রি ব্যবহার করার বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছে। সম্প্রতি অ্যাপলের শীর্ষ নির্বাহীরা টেক্সাসে স্যামসাংয়ের এই বিশাল চিপ কারখানা বা ফাউন্ড্রিটি সরজমিনে পরিদর্শনও করে গেছেন।
১ হাজার কর্মীর স্থানান্তর ও চূড়ান্ত রূপরেখা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্যামসাংয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “চলতি ২০২৬ সালের মধ্যেই এই সদর দফতর স্থানান্তরের কাজ সম্পূর্ণ শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। খুব শীঘ্রই একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনার পর হেডকোয়ার্টারের চূড়ান্ত অপারেশনাল প্ল্যান এবং কর্মীদের নতুন কর্মক্ষেত্র বণ্টন বা বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হবে।”
বর্তমানে নিউ জার্সির এঙ্গলউড ক্লিফস সদর দফতরে কর্মরত প্রায় ১ হাজার কর্মচারীর সিংহভাগকেই টেক্সাসের প্ল্যানো শহরে বদলি করা হবে। নিউ জার্সির স্থানীয় আঞ্চলিক কার্যক্রম এবং লজিস্টিক সাপোর্ট ধরে রাখার জন্য সেখানে কেবল অল্প কিছু কর্মীকে রেখে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত বছরই স্যামসাং টেক্সাসের এই প্ল্যানো শহরে একটি অত্যাধুনিক ‘নেটওয়ার্কস ইনোভেশন সেন্টার’ চালু করেছিল, যা এখন তাদের মূল সদর দফতরের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।
৪০ বছরের পুরনো ঠিকানা বদলে স্যামসাংয়ের এই টেক্সাস যাত্রা বৈশ্বিক চিপ ও স্মার্টফোন বাজারে এক নতুন মেরুকরণ তৈরি করতে যাচ্ছে। বিশেষ করে অ্যাপলের মতো মেগা গ্রাহককে নিজেদের ফাউন্ড্রিতে টেনে নেওয়ার ক্ষেত্রে টেক্সাসের এই নতুন হেডকোয়ার্টার স্যামসাংকে অনেক বেশি ভৌগোলিক ও কৌশলগত সুবিধা দেবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষকেরা।
ডিবিটেক/বিএমটি । সূত্র: জিএসএম এরিনা





