এআই বিল্ডফেস্টে এক হাজার নির্মাতার মিলন

১২ জুন ঢাকায় এআই বিল্ডফেস্ট ২০২৬

১২ জুন ঢাকায় এআই বিল্ডফেস্ট ২০২৬
৪ জুন, ২০২৬ ০৯:৫২  

বাংলাদেশে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্ভাবন, সফটওয়্যার নির্মাণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা সংস্কৃতিকে আরও এগিয়ে নিতে দেশের সুবিস্তৃত এআই হ্যাকাথন ‘দ্য ইনফিনিটি এআই বিল্ডফেস্ট ২০২৬’-এর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের আয়োজনে এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির সহ-আয়োজনে আগামী ১২ জুন, শুক্রবার রাজধানীর ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এই মেগা আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে। 

আয়োজকদের দাবি, এটি দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এআই বিল্ডার সমাবেশ, যেখানে একই ছাদের নিচে এক হাজারের বেশি এআই নির্মাতা, উদ্ভাবক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অংশ নেবেন।

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে এ পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজারের বেশি অংশগ্রহণকারী নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। ছয় শতাধিক দল আবেদন করলেও কঠোর বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চূড়ান্ত পর্বের জন্য নির্বাচিত হয়েছে ২০৮টি দল। অনলাইন স্ক্রিনিংয়ে অংশগ্রহণকারী দলগুলো এক পৃষ্ঠার প্রকল্প সারসংক্ষেপ এবং তিন মিনিটের ভিডিও উপস্থাপন জমা দেয়। বিশেষজ্ঞ বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পাঁচটি উদ্ভাবন ট্র্যাক থেকে সেরা দলগুলোকে সরাসরি প্রতিযোগিতার জন্য মনোনীত করা হয়েছে।

চূড়ান্ত পর্বে এডটেক, মারটেক, হেলথটেক, ই-কমার্স এবং ইনফোটেক—এই পাঁচটি খাতে বাস্তব সমস্যার সমাধানভিত্তিক এবং উৎপাদন-উপযোগী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সমাধান উপস্থাপন করবে প্রতিযোগীরা। প্রযুক্তি খাতের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ ও তরুণ উদ্ভাবকদের এক মঞ্চে আনার মাধ্যমে দেশীয় এআই ইকোসিস্টেমে নতুন গতি তৈরি হতে পারে।

আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ‘ইনফিনিটি ভাইব কোডিং টু প্রোডাকশন চ্যালেঞ্জ’। এখানে নির্বাচিত ১০০ জন প্রতিযোগীকে মাত্র পাঁচটি প্রম্পট ব্যবহার করে ৬০ মিনিটের মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ এআই অ্যাপ্লিকেশন তৈরি ও অনলাইনে চালু করতে হবে। এআই-সহায়ক সফটওয়্যার প্রকৌশলের ভবিষ্যৎ কেমন হতে পারে, তার বাস্তব প্রদর্শনী হিসেবেই এই প্রতিযোগিতাকে দেখছেন আয়োজকরা।

প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, উচ্চশিক্ষা এবং বিনিয়োগ সংযোগ তৈরির লক্ষ্যেও থাকছে ‘অপরচুনিটি কানেক্ট’ কার্যক্রম। এতে অংশগ্রহণকারীরা বিনিয়োগকারী, নিয়োগদাতা এবং উচ্চশিক্ষা পরামর্শকদের সঙ্গে পূর্বনির্ধারিত একক বৈঠকে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। ফলে নতুন চাকরি, গবেষণা বৃত্তি কিংবা স্টার্টআপ অর্থায়নের পথও উন্মুক্ত হতে পারে।

দিনব্যাপী মেন্টরিং সেশনে অভিজ্ঞ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা দলগুলোর প্রকল্প উন্নয়ন, স্থাপত্য পর্যালোচনা এবং উপস্থাপনা প্রস্তুতিতে সহায়তা করবেন। পাশাপাশি এআই-নেটিভ আর্কিটেকচার, প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং এজেন্টিক সমাধান নির্মাণ বিষয়ে বিশেষ কর্মশালার আয়োজন থাকবে। অন্যদিকে ১০টি বিশেষজ্ঞ বিচারক প্যানেল উদ্ভাবন, কারিগরি দক্ষতা, ব্যবসায়িক সম্ভাবনা এবং সামাজিক প্রভাবের ভিত্তিতে প্রতিটি দলকে মূল্যায়ন করবে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরাও এ আয়োজনে যুক্ত হচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং অস্ট্রেলিয়া থেকে বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন দলের সঙ্গে কাজ করবেন, যা প্রতিযোগীদের বৈশ্বিক মানের অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দেবে।

ক্লাউডক্যাম্প বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহদী-উজ-জামান বলেন, এআই বিল্ডফেস্ট কোনো সাধারণ প্রতিযোগিতা নয়। এখানে অংশগ্রহণকারীরা শুধু কোড লেখে না, বরং বাস্তব সমস্যার সমাধান তৈরি করে এবং আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পায়। তাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের তরুণদের বৈশ্বিক প্রযুক্তি নির্মাতা হিসেবে গড়ে তোলা।

প্রতিযোগিতার পাঁচটি ডোমেইন থেকে চ্যাম্পিয়ন ও রানারআপ দল এবং ভাইব কোডিং চ্যালেঞ্জের বিজয়ীসহ মোট ১৫টি দলকে পুরস্কৃত করা হবে। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে ৫০ হাজার টাকা, রানারআপ ৩০ হাজার টাকা এবং ভাইব চ্যালেঞ্জের বিজয়ীরা পাবেন ১০ হাজার টাকা করে। এছাড়া বিজয়ী দলগুলোর জন্য থাকবে সনদ, ক্রেস্ট এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রকল্প প্রদর্শনের সুযোগ।

আয়োজনটির কৌশলগত অংশীদার হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেইন)। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ, গবেষণা সংস্থা এবং করপোরেট অংশীদারদের সমন্বয়ে আয়োজিত এই উদ্যোগকে দেশের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের অন্যতম বৃহৎ সম্মিলন হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের প্রত্যাশা, এ আয়োজন থেকে উঠে আসবে এমন সব প্রযুক্তি সমাধান, যা স্থানীয় সমস্যা মোকাবিলার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারেও বাংলাদেশের উদ্ভাবনী সক্ষমতার পরিচয় তুলে ধরবে।

/ডিবিটেক/এসএম/ এমইউ আইএম/