২০২৩ সালের মধ্যে গ্রামগুলো হবে ডিজিটাল: মোস্তাফা জব্বার
টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর বনাঞ্চলের গ্রাম গায়রা, গাছাবাড়ি, ইদিলপুর। ঘনবনে ঘেরা এই গ্রামগুলোতে বসেই এতোদিন মোবাইল মডেম দিয়ে কষ্টে সৃষ্টে ফ্রিল্যান্সিং করছিলেন গারো তরুণেরা। তবে সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক ওঠা নামা করে টু-জি আর থ্রিজিতে। ফলে টিনের চালে মডেম দিয়ে সেই সংযোগ দিয়ে ইন্টারনেটে সংযুক্ত হতে হতো তাদের।
তবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ পেয়ে আজ সেই কষ্টটা ঘুচেছে স্থানীয় গারো অধিবাসীদের। বৃহস্পতিবার ভার্চুয়াল সংযুক্ত হয়ে একটি বেসরকারি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের এই সংযোগ উদ্বোধন করেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বাার।
মধুপুরের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলসহ সকল দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ চালু করার আশ্বাস দিয়ে এসময় তিনি আরো একটি সুখবর দিলেন স্থানীয় গ্রামবাসীদের। জানালেন, আগামী ১২ মার্চ মোবাইল ইন্টারনেট সমস্যারও অবসান ঘটবে। এরই মধ্যে গ্রামীণফোন সেখানে টাওয়ার স্থাপন করে তা চালু করার শেষ ধাপে রয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ১৯০ টি ইউনিয়ন ছাড়া দেশের প্রতিটি ইউনিয়নসহ দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল,দ্বীপ, চর ও হাওর উচ্চগতির ইন্টারনেট সংযোগ নিশ্চিত করা হয়েছে।মধুপুরের বণাঞ্চলের গ্রামগুলোর মতো ২০২৩ সালের মধ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হবে। দেশের প্রতিটি গ্রাম হয়ে উঠবে ডিজিটাল গ্রাম।
মন্ত্রী আরো বলেন, মধুপুরের বনের মতো সারা দেশে অনেক প্রতিভা লুকিয়ে আছে। তাদেরকে ডিজিটাল সংযোগ দিতে পারলে নতুন নতুন অনেক প্রতিভা বেরিয়ে আসবে। তিনি বলেন, প্রযুক্তিতে শতশত বছর পিছিয়ে থাকা এই জাতি আগামী দশ বছরে পৃথিবীর কোন দেশ থেকে এক চুলও পিছিয়ে থাকবেনা। আমরা ইতোমধ্যে ফাইভ-জি উদ্বোধন করেছি। কৃষি, মৎস্য চাষ ও শিল্প বাণিজ্যসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে ফাইভ-জি হবে এগিয়ে যাওয়ার বড় হাতিয়ার
বক্তব্যে দৈনিক প্রথম আলো প্রতিবেদক রাহিতুল ইসলাম রুয়েলের সংবাদের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ও প্রতিবেদনটি করার কারণে গ্রামটিতে যে ইন্টারনেট বা মোবাইল নেটওয়ার্কে দুরবস্থা তা জানা গেঝে। আর সাথে সাথেই সেই সমাধানও হয়েছে। আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম না তখনও রাহিতুলদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেছি। এখনো করে যাচ্ছি। এমন গল্পগুলো আসলো প্রশংসার দাবিদার।
অনুষ্ঠানে দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, হেড অব ইয়্যুথ প্রোগ্রাম মুনীর হাসান, প্রতিবেদক রাহিতুল ইসলাম এবং গ্রামবাসীর পক্ষে সুবীর নাগরিগ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তাদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।