ঢাকায় এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপের সম্মেলন // হাইব্রিড মডেলে ৪ ভেন্যুতে সিক্স-জি ও ফ্রিকোয়েন্সি ব্যবস্থাপনার মহাপরিকল্পনা

আঞ্চলিক টেলিকম কূটনীতি ও বৈশ্বিক উদ্ভাবনের কেন্দ্রে বাংলাদেশ; দ্বিতীয় দিনে প্রযুক্তি অগ্রাধিকার

  • ৪টি ভেন্যুতে ৪০টিরও বেশি দেশের ৩৯৫ জন বিশেষজ্ঞের অংশগ্রহণে চলছে সেশন
  • ৫জি, সিক্স-জি, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা ও স্যাটেলাইট যোগাযোগে বৈশ্বিক রূপরেখা প্রণয়ন 
  • স্পেকট্রাম শেয়ারিং কৌশল মূল্যায়ন ও  নিরাপদ রেলওয়ে বেতার আধুনিকায়নে গুরুত্বারোপ

আঞ্চলিক টেলিকম কূটনীতি ও বৈশ্বিক উদ্ভাবনের কেন্দ্রে বাংলাদেশ; দ্বিতীয় দিনে প্রযুক্তি অগ্রাধিকার
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৪১  

এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে ৫জি সম্প্রসারণ, কার্যকর স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ রেলওয়ে বেতার যোগাযোগের আধুনিকায়নকে সামনে রেখে ঢাকায় চলছে ৩৭তম এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপ (AWG-37) সম্মেলন। সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে ৫জি নেটওয়ার্কের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ, স্পেকট্রাম শেয়ারিং কৌশল এবং নিরাপদ রেলওয়ে বেতার প্রযুক্তি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি আলোচনা হয়েছে।

৮ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল রেডিসন ব্লুতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক এই সম্মেলনে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। ৭ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলা সম্মেলনে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তির অগ্রগতি, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা, উদীয়মান প্রযুক্তি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বেতার নেটওয়ার্ক নিয়ে কাজ করছেন বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞরা।

এদিন নির্ধারিত চার সেশনে একযোগে সাব-ওয়ার্কিং গ্রুপ (SWG) এবং ট্র্যাকিং গ্রুপ (TG)-এর কাজ পরিচালনা করা হয়। সকালের  প্রথম সেশনে আইএমটি স্পেকট্রাম (SWG-IMT-SPEC), ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস সিস্টেম (TG-WAS/RLAN), ইন্টেলিজেন্ট ট্রাফিক সিস্টেম (TG-ITS) ও স্পেকট্রাম ম্যানেজমেন্ট (SWG-SM) নিয়ে আলোচনা হয়। দ্বিতীয় সেশনে আইএমটি টেকনোলজি (SWG-IMT-TECH), স্যাটেলাইট স্পেকট্রাম (SWG-SAT), রেলওয়ে রেডিও (TG-RR) ও ফ্রিকোয়েন্সি শেয়ারিং (SWG-SS) গুরুত্ব পায়। দুপুরে তৃতীয় সেশনে সার্ভিসেস অ্যান্ড অ্যাপ্লিকেশনস (SWG-SA&H), আপৎকালীন প্রযুক্তি (TG-PPDR), হাই অলটিটিউড প্লাটফর্ম সিস্টেমস (TG-HAPS) এবং আল্ট্রা-ওয়াইডব্যান্ড প্রযুক্তি (DG-UWB) সংক্রান্ত সেশন অনুষ্ঠিত হয়। বিকেলেপুনরায় আইএমটি টেকনোলজি, ওয়্যারলেস পাওয়ার ট্র্যান্সফার (TG-TG-WPT), ডাব্লিউএএস সেশন এবং মোবাইল অ্যাড-হক নেটওয়ার্ক (TG-A&M) নিয়ে নিবিড় আলোচনা হয়।

এপিটি মহাসচিব মাসানোরি কোন্দো, এপিটি ওয়্যারলেস গ্রুপের সভাপতি দেয়জুং কিম এবং বিটিআরসি চেয়ারম্যান এমদাদ উল বারী সম্মেলনে উপস্থিত রয়েছেন। ৪০টি দেশের অন্তত ৩৯৫ জন প্রতিনিধি এতে অংশ নিয়েছেন। এর মধ্যে ১৬৮ জন সরাসরি এবং ২২৭ জন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছেন। ঢাকায় সরাসরি অংশ নিয়েছেন ১২০ জনের বেশি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ।

হাইব্রিড আয়োজনে পাঁচ দিনে মোট ৫২টি সেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। হোটেল রেডিসন ব্লুর গ্র্যান্ড বলরুম, লহরী, মল্লিকা ও মাধবী—চারটি পৃথক ভেন্যুতে সমান্তরালভাবে এসব সেশন চলছে।

সম্মেলনের কারিগরি আলোচনায় ৬জি, ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি), ওয়াই-ফাই প্রযুক্তি, ফ্রিকোয়েন্সি পুনর্বণ্টন এবং ভবিষ্যৎ মোবাইল যোগাযোগের রূপরেখা নিয়ে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এপিটির মনোনীত অভিজ্ঞ চেয়ারদের সঞ্চালনায় বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি বিতর্ক ও মতবিনিময় এগিয়ে যাচ্ছে।

দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ৫জি নেটওয়ার্কের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে স্পেকট্রাম ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে স্পেকট্রাম শেয়ারিং কৌশল এবং রেল যোগাযোগব্যবস্থায় নিরাপদ ও আধুনিক বেতার যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে মতবিনিময় করা হয়েছে।

আগামী ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর স্যাটেলাইট যোগাযোগ, আইএমটি-২০৩০ মানদণ্ড এবং এশিয়ান ফ্রিকোয়েন্সি ডাটাবেজ (এএফআইএস) হালনাগাদ নিয়ে কারিগরি কাজ চলবে। এই তিন দিনে আইএমটি-২০৩০/৬জি-র মানদণ্ড নির্ধারণ এবং নিম্ন-কক্ষপথের স্যাটেলাইট (LEO Satellite) প্রযুক্তি বিষয়ে বিস্তারিত আঞ্চলিক আলোচনা শেষে যৌথ খসড়া রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। যা পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (ITU) ওয়ার্ল্ড রেডিও কনফারেন্সে (WRC) এশিয়ার পক্ষ থেকে পেশ করা হবে। এ উদ্যোগ বাংলাদেশের ৫জি সম্প্রসারণ ও ভবিষ্যৎ ৬জি রোডম্যাপ তৈরিতে নতুন মাইলফলক স্থাপন করবে।

১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত প্লেনারি সভায় সম্মেলনের যৌথ সুপারিশমালা গ্রহণ করা হবে। পরবর্তী সময়ে এসব সুপারিশ আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) বিশ্ব রেডিও সম্মেলনে (ডব্লিউআরসি) এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের কৌশলগত অবস্থান ও দাবির অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হবে।
//ডিবিটেক/আইএইচ/এসএমই/এমআইএসটি//