রাজধানীতে ইবনে আল-হাইসাম বিজ্ঞান উৎসব শুরু
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রবিবার সকাল ১০টা থেকে শুরু হয়েছে ‘ইবনে আল-হাইসাম সায়েন্স ফেস্ট ২০২৪’। উৎসবের মূল ভ্যেনুতে প্রবেশ পথেই একটি টানেল। সেখানে তুলে ধরা হয়েছে মুসলিম বিজ্ঞানীদের শৌর্য। উপস্থাপন করা হচ্ছে বাংলাদেশর কিশোর তরুণ উদ্ভাবকদের নানা উপস্থাপনা। স্টলে স্টলে এয়ার ড্রোন, রোবট কার, অগ্নি নির্বাপনের ডিজিটাল ফায়ার ফাইটার, সোলার পাওয়ার ভেহিক্যাল...।
দেশে বিজ্ঞান চর্চাকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নিতে শুরুতেই পরিচয় করিয়ে দেয়া হয়য় গ্রিক চিকিৎসা ও বৈজ্ঞানিক গ্রন্থের সবচেয়ে প্রভাবশালী অনুবাদক নবম শতাব্দির হুনাইন ইবনে ইসহাক (৮০৯-৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দ); উড্ডয়ন বিশারদ আব্বাস ইবনে ফিরনাস (৮১০-৮৮৭) এর সঙ্গে।
এর পর দেখা মেলে দশম শতাব্দীর শিশুরোগ চিকিৎসার জনক আল রাজীর (৮৬৫-৯২৫) সঙ্গে। একে একে ডিজিটাল ডিপ্লেতে ভেসে আসে শল্য চিকিৎসার অগ্রদূত আল জহুরী (৯৩৬-১০১৩); ইন্ডোলজি প্রতিষ্ঠাতা একাদশ শতাব্দির আবু রায়হান আল-বেরুনী (৯৭৩–১০৪৮); দ্বাদশ শতাব্দির মনোবিজ্ঞানের জনক ও আন্দালুসীয় বহুবিদ্যাবিশারদ আবুল ওয়ালিদ মুহাম্মাদ ইবন আহমাদ ইবন রুশদ; অপটিক্স এর জনক হাসান ইবনে আল-হাইসাম. ত্রয়োদশ শতাব্দিতেই প্রথম ফুসফুসের রক্ত সঞ্চালনের উদ্ভাবক আরব বহুবিদ্যাবিশারদ ইবনুন নাফিস (১২১৩–১২৮৮); জ্যোতির্বিদ্যা, গণিত ও প্রকৌশলে নতুন পথ দেখানো নাসির আল দ্বীন আল তুষি এর অবদান। এভাবেই দশকের পর দশক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে মুসলিম বিজ্ঞানীদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া হচ্ছে উৎসবে।
এই প্রদর্শনী চলবে আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রদর্শনীর পাশাপাশি পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বাস্তব জীবনে বিজ্ঞানের প্রয়োগ, গবেষণা ও উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করণের জন্য অনুষ্ঠিত হচ্ছে জুনিয়র সায়েন্টিস্ট হান্ট প্রজেক্ট শো, রুবিক্স কিউব প্রতিযোগিতা। পাশাপাশি চলছে ফিজিক্স, কেমিস্ট্রি, এস্ট্রোনমি, আইটি বিষয়ক বুথ, বৈজ্ঞানিক তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং। এসব প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করছেন ৫ম থেকে ১২শ শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীরা।
বাংলাদেশ ছা্ত্র শিবিরের বিজ্ঞান শাখার আয়োজনে উৎসব উদ্বোধন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মঞ্জুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব টেনেসিস নক্সবেল এর সহযোগী অধ্যাপক শিক্ষাবিদ জুবায়ার আহমেদ, সংগঠনের সেক্রটারি জেনারেল জাহিদুল ইসলাম, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ জাহেদুর রহমান, সাবেক সেক্রেটারি (আন্তর্জাতিক) ড. মির্জা গালিব, বিজ্ঞান শাখার সেক্রেটারি ডা. নাঈম তাজওয়ার প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, আধুনিক বিজ্ঞানের যে উৎকর্ষ আমরা আজ দেখতে পাচ্ছি, তার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন মুসলিম বিজ্ঞানীরা। বিজ্ঞান ছিল মুসলমানদের নিজস্ব সম্পদ, কিন্তু দুঃখজনকভাবে সেই সম্পদ আজ বেহাত হয়ে গেছে। ইবনে আল-হাইসাম, আল-জাবির ইবনে হাইয়ান, আল-বেরুনি, ইবনে সিনা প্রমুখ মুসলিম বিজ্ঞানীদের অবদান যথাযথভাবে শিক্ষা বা সমাজে তুলে না ধরার কারণে আমাদের নতুন প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞান ও জ্ঞানচর্চায় আত্মবিশ্বাসের অভাব সৃষ্টি হয়েছে, যার ফলে আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে পিছিয়ে পড়েছি। তবে আমরা আমাদের বর্তমান প্রজন্ম নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী। তাদের চোখে-মুখে যে স্বপ্নের ছাপ আমরা দেখতে পাই, তা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য আশার আলো দেখায়। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, ইনশাআল্লাহ, এই প্রজন্ম একদিন জ্ঞান-বিজ্ঞানে বিশ্বকে নেতৃত্ব দেবে।





