বিধি মানতে গ্রামীণফোনকে বিটিআরসি’র চিঠি
একচেটিয়া অপারেটর হিসেবে এবার গ্রামীণফোনের লাগাম টেনে ধরতে যাচ্ছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সিগনিফিকেন্ট মার্কেট পাওয়ার (এসএমপি) অপারেটর হিসেবে এমএনপি লকিং পিরিয়ড কমিয়ে দেয়ার পাশাপাশি বর্তমানে চালু সকল সেবা, প্যাকেজ, অফার নতুন করে অনুমোদন নেয়া ও নতুন কোনো প্যাকেজ বা সেবার ক্ষেত্রেও অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়েছে। একজন গ্রাহক তার নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলানোর পর আবারও অপারেটর বদলাতে চাইলে যে ৯০ দিন অপেক্ষা করতে হয় ওই সময়কেই লকিং পিরিয়ড বলা হয়।
রোববার (২১ জুন) আপারেটরটিকে এসএমপি কার্যকরের এই নির্দেশনা পাঠায় নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
সামাজিক দায়বদ্ধতার নামে গ্রামীণফোন বাজার নষ্ট করছে অন্য তিন অপারেটর অভিযোগ করার পর এই নির্দেশনা দেয়া হয়। নির্দেশনার চিঠিতে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সঙ্কটের মধ্যে গ্রামীণফোনের ক্ষেত্রে সর্বনিম্ন কলরেটের শর্ত (সর্বনিম্ন ৫০ পয়সা/মিনিট) আপাতত আরোপ করা না হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কমিশন বিষয়টি বিবেচনা করবে। আর কল টার্মিনেশন থেকে গ্রামীণফোনের আয় কমিয়ে দেওয়ার (মিনিটে ১০ পয়সার বদলে ৫ পয়সা) বিষয়ে আরও যাচাই বাছাই করে কমিশন পরে সিদ্ধান্ত নেবে।
তবে প্রথম দফায় প্রতিপালনের জন্য যে দুইটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে তার মধ্যে প্রথম নির্দেশনায় বলা হয়েছে, আগামী ১ জুলাই থেকে বিটিআরসির আগাম অনুমোদন ছাড়া গ্রামীণফোন নতুন কোনো সেবা, প্যাকেজ বা অফার দিতে পারবে না। বিদ্যমান সেবা, প্যাকেজ, অফার পরিবর্তন করতে চাইলেও কমিশনের অনুমোদন নিতে হবে। আর এখন যেসব সেবা, প্যাকেজ বা অফার চালু আছে, সেগুলো আগামী ৩১ অগাস্টের মধ্যে নতুন করে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।
দ্বিতীয় নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নম্বর ঠিক রেখে অপারেটর বদলের ক্ষেত্রে গ্রামীণফোনের বেলায় 'লকিং পিরিয়ড' হবে ৬০ দিন, যেখানে অন্য অপারেটরদের ক্ষেত্রে তা ৯০ দিন। এই নির্দেশনাও ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, বিটিআরসি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে মার্কেট শেয়ারের ভিত্তিতে গ্রামীণফোনকে এসএমপি অপারেটরের ঘোষণা দেয়। এরপর ১৫ মাস পর অপারেটরটির ওপর আরোপিত বিধি নিষেধ আরোপে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।