জাতীয়তা, উত্তরাধিকার, চারিত্রিক ও আয়ের সনদ অনলাইনে প্রদান করার জন্য অনলাইন সেবা ‘প্রত্যয়ন’ চালুর করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি)। ঘরে বসেই সব ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রত্যয়নের সুবিধা চালু করতে প্রকাশ করা হয়েছে
নাগরিক ওয়েব পোর্টাল। এই অনলাইন থেকে উত্তর সিটির নাগরিকরা প্রত্যয়নের ওয়েবসাইট আবেদন করতে পারবেন।
অবশ্য এই সেবা নিতে নাগরিককে সনদ প্রতি ১৫ টাকা সার্ভিস ফি ও সার্ভিস ফির তিন ভাগ ট্রানজেকশন ফি মোবাইল বা ব্যাংক কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। এতে একবার রেজিস্ট্রেশন করে কোনও সনদ নিলে পরে অন্য কোনও সনদ নিতে হলে দ্বিতীয়বার রেজিস্ট্রেশনের প্রয়োজন নেই। নাগরিকের তথ্য এনআইডি এবং জন্মনিবন্ধন সার্ভার থেকে যাচাই করার ফলে প্রত্যয়ন সিস্টেমটি অসাধু ব্যক্তি, সীমান্তে অনুপ্রবেশকারী ও রোহিঙ্গাদের সনদ প্রদান রোধে শতভাগ সহায়ক বলে জানান তিনি।
সূত্র মতে , তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অধীনে ‘এটুআই’ প্রোগ্রামের সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড প্রকল্পের সহযোগিতায় ‘অলিভিন লিমিটেড’ উদ্ভাবিত ‘অনলাইন কাউন্সিলর সার্টিফিকেট বা প্রত্যয়ন’ সিস্টেমটি ২০১৬ সাল থেকে যাত্রা শুরু করে। বর্তমানে এ সিস্টেমটি দুটি সিটি করপোরেশন, ৩৬টি পৌরসভা ও ৫১০টি ইউনিয়ন পরিষদে চলমান আছে। এর মাধ্যমে উত্তরাধিকার সনদ, চারিত্রিক সনদ, ভূমিহীন সনদ, বার্ষিক আয়ের সনদ, বেকারত্ব সনদ, বিবাহ ও জাতীয়তাসহ প্রায় ৩০ প্রকারের সনদ প্রদান করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজারটি সনদ ইস্যু হয়েছে এই ডিজিটাল প্লাটফর্ম থেকে। এ ছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয় কর্তৃক চালু করা ‘ই-নামজারি’ সিস্টেমের সঙ্গে ‘প্রত্যয়ন’ সিস্টেমের আন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।
ডিএনসিসির সিস্টেম অ্যানালিস্ট তুহিনুল ইসলাম জানিয়েছন, স্থানীয় সরকার বিভাগ প্রত্যয়ন সিস্টেমটি চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে সিটি করপোরেশনগুলোয় চিঠি পাঠানো হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রত্যয়ন সিস্টেমটি মাইগভ (mygov.bd), ই-নামজারি,(mutation.land.gov.bd), এনআইডি এবং জন্মনিবন্ধন সার্ভারের সঙ্গেআন্তঃসংযোগ স্থাপন করা হয়েছে এবং সব ডাটা ন্যাশনাল ডাটা সেন্টারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় একই ব্যক্তির নামে শুধু একটি উত্তরাধিকার সনদ ইস্যু করায় উত্তরাধিকার সম্পদ বণ্টনে জালিয়াতি রোধ সম্ভব হবে বলে আশা করছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সনদের ডাটা আজীবন সংরক্ষিত থাকবে এবং পরবর্তীতে অনলাইনের মাধ্যমে সঠিকতা যাচাই করা যাবে। এ ছাড়া সিটি করপোরেশনের সব ওয়ার্ড অফিসে এ সিস্টেমটি চালুকরণে সিটি করপোরেশনের কোনও আর্থিক ব্যয় হবে না।
তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৬তম বোর্ড সভায় বিষয়টি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করলে কাউন্সিলররা এর বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উঠে আসে। চ্যালেঞ্জ মাথায় নিয়েই ‘অননলাইনে অনিয়ম হওয়ার সুযোগ কম’ বলে মত দেন ১১ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর দেওয়ান আবদুল মান্নান। তিনি নতুন পদ্ধতির সমর্থন জানিয়ে উক্ত পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য দক্ষ জনবল, উচ্চমানের কম্পিউটার ও দ্রুতগতির ইন্টারনেট সরবরাহ নিশ্চিতের অনুরোধ জানান।
অবশ্য অনলাইনে ওয়ারিশান সনদের ভেরিফিকেশন কীভাবে সম্পন্ন করা হবে তা জানতে চান ৩২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সৈয়দ হাসান নুর ইসলাম। অনলাইনে এ বিষয়টি কীভাবে যাচাই-বাছাই করা হবে তা জানতে চান ৫২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ফরিদ আহমেদ। আর অনলাইন কাউন্সিলর সার্টিফিকেট ‘প্রত্যয়ন’ সিস্টেমটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সব ওয়ার্ডে একযোগে বাস্তবায়নের বিষয়টি যাচাই-বাছাই করার জন্য কমিটি গঠনের অনুরোধ জানান ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. জামাল মোস্তফা।
এসব পরামর্শ শুনে অনলাইনে কাউন্সিলর সনদ প্রদানের পদ্ধতি বাস্তবায়নে কী কী বাধা আসতে পারে, তা নির্ধারণ করেই জনগণকে নির্বিঘ্নে সেবা প্রদানের জন্য এ পদ্ধতি বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করেন উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম।
তিনি জানান, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে ডিএনসিসির সব অনলাইন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাউন্সিলরদের অনকূলে ইতোমধ্যে কম্পিউটার, স্ক্যানার ও প্রিন্টার কেনার জন্য ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যয়ন চালুকরণের আগে কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড সচিবদের বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
মেয়র আরো জানান, অনলাইন কাউন্সিলর সার্টিফিকেট প্রত্যয়ন সিস্টেমটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সব ওয়ার্ডে একযোগে বাস্তবায়নের জন্য পদ্ধতিটি যাচাই-বাছাই করে সুপারিশসহ পরবর্তী সভায় উপস্থাপনের জন্য বাজার মূল্য পর্যবেক্ষণ, মনিটরিং ও নিয়ন্ত্রণ কমিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।