সাইবার নিরাপত্তা ও ফিনটেক সুরক্ষায়

অবৈধ ঋণ অ্যাপের পেমেন্ট বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক

  • অননুমোদিত লোন অ্যাপের মাধ্যমে অতিরিক্ত সুদ আদায়, ডেটা চুরি ও ব্ল্যাকমেইল প্রতিরোধে ব্যাংক, এমএফএস ও পিএসপি চ্যানেল বন্ধের নির্দেশ
  • ​গ্রাহকের কন্ট্যাক্ট লিস্ট ও ব্যক্তিগত ছবি হাতিয়ে নিয়ে হয়রানি করলে পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্টে পেমেন্ট সুবিধা স্থগিত
  • ​১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিএফআইইউ, বিটিআরসি ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর প্রযুক্তিগত ও আইনি পদক্ষেপের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ 

অবৈধ ঋণ অ্যাপের পেমেন্ট বন্ধে কেন্দ্রীয় ব্যাংক
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০০:০৫  

উচ্চ সুদের ফাঁদে ফেলে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, স্মার্টফোনের সংবেদনশীল ডেটা চুরি ও ডিজিটাল ব্ল্যাকমেইলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত অবৈধ ঋণদানকারী মোবাইল অ্যাপগুলোর আর্থিক লেনদেন ও পেমেন্ট সেবা পুরোপুরি বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

সংশ্লিষ্ট ​সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস সুপারভিশন ডিপার্টমেন্ট থেকে সম্প্রতি তফসিলি ব্যাংক, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), অনুমোদিত পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রতিষ্ঠান এবং ডাক বিভাগের ডিজিটাল লেনদেন সেবা ‘নগদ’-এর কাছে এই নির্দেশনামূলক চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে এসব অনুমোদনহীন অ্যাপ পরিচালনাকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পেমেন্ট গেটওয়ে অবিলম্বে বিচ্ছিন্ন করার প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ নিয়ে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মঙ্গলবারের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে লিখিতভাবে অবহিত করতে বলা হয়েছে।

​সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞরা জানান, ‘দ্রুত ঋণ’, ‘সহজ ক্যাশ’ কিংবা ‘টাকা ঋণ’-এর মতো বিভিন্ন চটকদার নামে প্লে-স্টোর ও থার্ড-পার্টি এপিকে (APK) ফাইল হিসেবে ছড়ানো এসব অননুমোদিত অ্যাপ ব্যবহারকারীর ডিভাইসে বিপজ্জনক অ্যাক্সেস পারমিশন নেয়। ফলে ডিভাইসে থাকা কন্ট্যাক্ট তালিকা, ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও ও এসএমএস ডেটাবেইস রিমোট সার্ভারে চলে যায়। পরবর্তীতে দাবিকৃত চড়া সুদ পরিশোধে ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করা এবং বিকৃত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে ডিজিটাল হয়রানি চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

​এর পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনায় ‘পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট, ২০২৪’-এর ১৫(২) ধারা উল্লেখ করে জানানো হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ব্যতীত কোনো অনলাইন বা অফলাইন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অর্থ সংগ্রহ, ঋণ বিতরণ, জমা সংরক্ষণ বা আর্থিক লেনদেন সম্পূর্ণ বেআইনি। এসব অবৈধ মোবাইল অ্যাপ পরিচালনাকারীদের কর্মকাণ্ড আইনের ৩৭(১) ধারার অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এছাড়া এই অবৈধ আর্থিক নেটওয়ার্কে কোনো ব্যাংক বা এমএফএস চ্যানেল লেনদেন সুবিধা অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোও অপরাধের সহযোগী হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এই ঝুঁকি এড়াতে আইনের ১৮(৪) ধারা প্রয়োগ করে সংশ্লিষ্টদের সব ভার্চুয়াল অ্যাকাউন্ট ও পেমেন্ট চ্যানেল অবিলম্বে স্থগিত করতে বলা হয়েছে।

​এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, সাধারণ নাগরিক ও ফিনটেক গ্রাহকদের ডিজিটাল প্রতারণা থেকে রক্ষা করতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই প্রযুক্তিগত প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। তিনি উল্লেখ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা যত্রতত্র লিংকে ক্লিক করে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ পাওয়া যায় না। ঋণ কার্যক্রম কেবল অনুমোদিত ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও ক্ষুদ্রঋণ সংস্থার মাধ্যমে পরিচালিত হয়। প্রযুক্তি সচেতনতার মাধ্যমে নাগরিকদের সতর্ক থাকার এবং সন্দেহজনক অ্যাপে ব্যক্তিগত ফোনের নিয়ন্ত্রণ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

​//ডিবিটেক/ডিএমও/এনএপি/এমআইএস//