অবৈধ ভিওআইপি: গ্রামীণফোনকে আবারও ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করল বিটিআরসি

অবৈধ ভিওআইপি: গ্রামীণফোনকে আবারও ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করল বিটিআরসি
গ্রামীনফোন লোগো
২৫ জুলাই, ২০২৬ ১৫:১৪  

মোবাইল অপারেটর গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে আবারও অবৈধ ভিওআইপি (ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রোটোকল) কার্যক্রমে জড়িত থাকার প্রমাণ পেয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রশাসনিক জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ১০ দিনের মধ্যে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করে তার প্রমাণ কমিশনে জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিটিআরসির নোটিশ অনুযায়ী, গ্রামীণফোন তাদের নেটওয়ার্কে অবৈধ আন্তর্জাতিক কল প্রতিরোধে বাধ্যতামূলক সেলফ-রেগুলেটরি প্রসেস (এসআরপি), টেলিকম ফ্রড ম্যানেজমেন্ট (টিএফএম) এবং অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা কার্যকরভাবে পরিচালনায় ব্যর্থ হয়েছে। এতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন-২০০১, সেলুলার মোবাইল সার্ভিসেস গাইডলাইন-২০২৪ এবং অপারেটরের লাইসেন্সের একাধিক শর্ত লঙ্ঘিত হয়েছে বলে কমিশনের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

জানা গেছে, বিটিআরসি, জাতীয় টেলিযোগাযোগ মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ অভিযানে এই অনিয়ম ধরা পড়ে। গত ২১ এপ্রিল কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার একটি মামলার তদন্তে ১৬৪টি এবং ১৯ মে চট্টগ্রামের হালিশহর থানার আরেকটি অভিযানে ২০টি গ্রামীণফোন সিম জব্দ করা হয়। তদন্তে দেখা যায়, মোট ১৮৪টি সিম অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

বিটিআরসির নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি অবৈধ সিমের জন্য ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। সে হিসাবে মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা।

এর আগে ২০২৩ সালে এক অভিযানে গ্রামীণফোনের ১ হাজার ৬৪০টি সিম অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমে ব্যবহারের অভিযোগে জব্দ করা হয়েছিল। ২০২২ সালেও একই ধরনের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৯৯ লাখ ৬২৫ টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়া আরও আগে অবৈধ ভিওআইপি কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারের রাজস্ব ক্ষতির অভিযোগে গ্রামীণফোনকে ২০০ কোটি টাকা জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়েছিল।

এ বিষয়ে গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশনস শারফুদ্দিন আহমেদ চৌধুরী দাবি করেছেন, "গ্রামীণফোন দেশের আইন-কানুন এবং বিটিআরসি প্রদত্ত সকল নির্দেশনা মেনে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতারণামূলক ভিওআইপি কার্যক্রম প্রতিরোধে বিটিআরসি নির্ধারিত স্ব-নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হয়। তবে বায়োমেট্রিকভাবে নিবন্ধিত কোনো গ্রাহক যদি তার সংযোগ অবৈধ কাজে ব্যবহার করেন, তাহলে এ ধরনের অনিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে বিটিআরসির সঙ্গে আমাদের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।"

//ডিবিটেক/জেটিএনআর/এসএমই//