ফোনের ব্লুটুথ সবসময় চালু রাখা কি নিরাপদ?

ফোনের ব্লুটুথ সবসময় চালু রাখা কি নিরাপদ?
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:১৩  

ওয়্যারলেস বা তারবিহীন হেডফোন ব্যবহার করা, গাড়িতে হ্যান্ডস-ফ্রি কথা বলা কিংবা এক ফোন থেকে অন্য ফোনে তথ্য আদান-প্রদান- দৈনন্দিন জীবনে ব্লুটুথ প্রযুক্তি আমাদের কাজকে অনেক সহজ করে তুলেছে। তবে এই স্বাচ্ছন্দ্যের পাশাপাশি প্রযুক্তির আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি। ব্যক্তিগত সাইবার তথ্য যেখানে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত মূল্যবান, সেখানে ফোনের ব্লুটুথ সার্বক্ষণিক চালু রাখা কতটা নিরাপদ, তা নতুন করে ভেবে দেখা প্রয়োজন।

নিরাপত্তা ঝুঁকি ও সাইবার হ্যাকিংয়ের আশঙ্কা
ব্লুটুথ সংযোগে অন্য ডিভাইসে যুক্ত হওয়ার আগে ব্যবহারকারীর অনুমতির প্রয়োজন হলেও হ্যাকাররা কারিগরি ত্রুটি ব্যবহার করে গোপনে ডিভাইসে প্রবেশের সুযোগ পায়। ফিটবিটসহ বিভিন্ন ব্লুটুথ হার্ডওয়্যারে এমন কিছু নিরাপত্তা দুর্বলতা পাওয়া গেছে, যা ব্যবহার করে অপরাধীরা ব্যবহারকারীর অবস্থান পর্যন্ত শনাক্ত করতে পেরেছে। 

সম্প্রতি ‘অ্যাইরোহা’ প্রযুক্তিভিত্তিক বেশ কিছু হার্ডওয়্যারে মারাত্মক ত্রুটি ধরা পড়েছে। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট সীমানার মধ্যে থাকা হ্যাকাররা মোবাইল থেকে কল রেকর্ড, কনট্যাক্ট লিস্ট ও মেসেজ হাতিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি কথোপকথন আড়িপেতেও শুনতে সক্ষম। 

এছাড়া বেলজিয়ামের কেইউ ল্যোভেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকেরা ‘গুগল ফাস্ট পেয়ার’ চালিত অন্তত ১৭টি অডিও ডিভাইসে ক্ষতিকর ত্রুটি খুঁজে পেয়েছেন, যা অনায়াসে দূর থেকে হ্যাক করা সম্ভব। তাদের তৈরি ‘হুইসপার পেয়ার ডট ইউ’ টুলের মাধ্যমে কোনো ডিভাইস নিরাপদ কি না তা যাচাই করা যায়। 

‘ব্লুবাগিং’ বা ‘ব্লুসনারফিং’-এর মতো কৌশলে অপরাধীরা কাছাকাছি থাকা ব্লুটুথ সংযোগকে কাজে লাগিয়ে স্পর্শকাতর ডেটা চুরি করে।

সুরক্ষিত থাকার কার্যকরী উপায়
সাইবার আক্রমণ থেকে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে সহজ ও প্রাথমিক উপায় হলো প্রয়োজন শেষ হওয়া মাত্রই ফোনের ব্লুটুথ বন্ধ করে রাখা। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ব্লুটুথ অপশনটিকে সবসময় ‘দৃশ্যমান’ বা ডিসকভারেবল না রেখে ‘অদৃশ্য’ বা হিডেন মোডে রাখার পরামর্শ দেন। 

আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য ‘লাইভ লিসেন’ ফিচারটির ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা আবশ্যক; কারণ মাইক্রোফোন থেকে সরাসরি এয়ারপডসে শব্দ পাঠানোর এই ফিচার ব্লুটুথ ব্যবহার করে, যা হ্যাকিংয়ের বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করে।

অন্যদিকে, ভাড়া করা বা পুরোনো গাড়ি বিক্রি করার সময় গাড়িটির সিস্টেম থেকে নিজের স্মার্টফোনের ব্লুটুথ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং ব্যক্তিগত সব তথ্য মুছে ফেলা জরুরি। গাড়িতে তারহীন ‘অ্যান্ড্রয়েড অটো’ ব্যবহারে ব্লুটুথ ও ওয়াই-ফাই—উভয় প্রযুক্তিরই প্রয়োজন হয়, যা সাইবার নিরাপত্তার দুর্বলতা বাড়ায়।

ডিবিটেক/বিএমটি