মোবারকপুরে ছয় কিলোমিটার গভীরে ড্রিলিং প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ
পাবনায় গভীর কূপ খননে গ্যাস অনুসন্ধানে বাপেক্স
- আগামী ২০ বছর দৈনিক ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের সম্ভাবনায় পাবনার সুজানগরে ছয় কিলোমিটারের বেশি গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন করছে বাপেক্স
- উচ্চ ভূগর্ভস্থ চাপ মোকাবেলায় চীনা প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান সিএনপিসির সহায়তায় আধুনিক ড্রিলিং রিগ ও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত
- উত্তরবঙ্গের প্রথম পূর্ণাঙ্গ গ্যাস কূপ প্রকল্পের আওতায় পাইলিংয়ের কাজ চলছে এবং ২০২৮ সাল নাগাদ মূল ড্রিলিং সম্পন্নের লক্ষ্য নির্ধারণ
পাবনার সাঁথিয়ার পাগলা ও সুজানগরের মোবারকপুর ভূগর্ভস্থ কাঠামো থেকে আগামী ২০ বছর দৈনিক অন্তত ২০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনার ভিত্তিতে গভীর কূপ খনন কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি (বাপেক্স)। ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শনিবার সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়। সাঁথিয়ার পূর্ববর্তী অনুসন্ধান এলাকা পুরোপুরি পরিত্যক্ত না করে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে সুজানগরের মোবারকপুরে দ্বিতীয় অনুসন্ধান কূপ খননের অবকাঠামোগত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পের ভূতাত্ত্বিক ও মেকানিক্যাল পরিকল্পনা অনুযায়ী, সুজানগরে ছয় কিলোমিটারেরও বেশি গভীরে এই গভীর অনুসন্ধান ড্রিলিং সম্পন্ন করা হবে। মোবারকপুর ডিপ-১ প্রকল্পের পরিচালক ও বাপেক্সের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) এস এ এম মেরাজুল আলম জানান, আহমেদপুর ইউনিয়নের কুড়িপাড়া গ্রামে ছয় একর জমিতে প্রকল্পের সাইট উন্নয়ন ও অবকাঠামো নির্মাণের কাজ পুরোদমে চলছে। প্রযুক্তিগতভাবে প্রকল্পটি সফল হলে এটি হবে উত্তরবঙ্গের প্রথম কার্যকর প্রাকৃতিক গ্যাস কূপ। সুজানগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মীর রাশেদুজ্জামান রাশেদ জানিয়েছেন, প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত জমি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে ইতোমধ্যে বাপেক্সের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বাপেক্স জানায়, জমি উন্নয়ন ও হেভি ড্রিলিং রিগ ফাউন্ডেশন প্রস্তুত করতে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ব্যয়ে পাইলিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে, যা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে। প্রকল্পের টাইমলাইন অনুযায়ী, মূল গভীর কূপ ড্রিলিং কার্যক্রম শুরু হবে ২০২৮ সালের জুনের মাঝামাঝি এবং সফল হলে ওই বছরের শেষ নাগাদ গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে।
উচ্চ চাপের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উন্নত ড্রিলিং প্রযুক্তির প্রয়োগ নিয়ে পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, ২০১৪ সালে প্রায় ৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে মোবারকপুরে সাড়ে চার কিলোমিটার গভীরে খননের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ভূগর্ভে গ্যাসের অস্বাভাবিক চাপ এবং তৎকালীন কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে কার্যক্রমটি সাময়িক স্থগিত করা হয়। এবার পূর্ববর্তী ডেটা এবং আধুনিক পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি কাজে লাগানো হচ্ছে।
এস এ এম মেরাজুল আলম আরও জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এক হাজার ১৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খননের অনুমোদন দেয়, যার অন্যতম এই মোবারকপুর ডিপ-১। প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের প্রকৌশল প্রতিষ্ঠান ‘সিএনপিসি চুয়ানচিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড’-এর সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে কুমিল্লায় ড্রিলিং কাজে নিয়োজিত রয়েছে; সেখান থেকে ভারী রিগ ও প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম মোবারকপুরে স্থানান্তর করা হবে।
ঐতিহাসিক ভূ-তাত্ত্বিক তথ্যানুযায়ী, ১৯৮০-৮১ সালে পেট্রোবাংলা প্রথম এ অঞ্চলে ভূ-কম্পন জরিপ চালায়। পরবর্তীতে ১৯৮৩-৮৪ সালে একটি জার্মান ভূতাত্ত্বিক সংস্থা এবং ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে বাপেক্স একাধিকবার সিসমিক সার্ভে পরিচালনা করে গ্যাসের ট্র্যাপ নিশ্চিত করে। এর ভিত্তিতে ২০০৯ সালে সাঁথিয়ার পাগলা গ্রামে কূপ খনন শেষে পরীক্ষামূলক পাইপে আগুন জ্বালানো হলেও পরবর্তীতে উত্তোলন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি রয়েছে, কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন প্রকল্প না নিয়ে পাগলা কূপ থেকেই গ্যাস উত্তোলন সম্ভব ছিল। তবে বাপেক্সের ভূতাত্ত্বিকদের দাবি, পাঁচ কিলোমিটার দূরের নতুন গভীর ট্র্যাপে অনুসন্ধান সফল হলে আশপাশের বেসিনে আরও কূপ খননের প্রযুক্তিগত দ্বার উন্মোচিত হবে।
//ডিবিটেক/ ডিওসি/এনএএম/এমআইএসটি//





