প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিকায়ন জরুরি

স্মার্ট ডিজিটালাইজেশনে কমবে ব্যবসার সার্বিক খরচ

  • বন্দর ও বিভিন্ন সেবায় ডিজিটাল রূপান্তর জরুরি
  • প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা না হলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে
  • আর্থিক লেনদেনে ক্যাশলেস ব্যবস্থার প্রসার ঘটাতে হবে

স্মার্ট ডিজিটালাইজেশনে কমবে ব্যবসার সার্বিক খরচ
৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৩:৪০  

ব্যবসা পরিচালনায় প্রযুক্তিভিত্তিক আধুনিকায়ন, অটোমেশন এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের মাধ্যমে কাঠামোগত খরচ কমানো ও সেবা প্রদানে দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব।

৮ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর একটি হোটেলে ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি আয়োজিত ‘ডায়নামিক বাংলা কিউআর’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব তথ্য উঠে আসে।

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, দুর্নীতি প্রতিরোধ এবং সেবা দ্রুত করতে সরকার দেশের গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনছে। বন্দর, বিমানবন্দর, কারখানা এবং সড়কপথের জটিলতা ও বিলম্ব ব্যবসার ব্যয় বাড়ায়। এসব সেবা ডিজিটাল প্রযুক্তির আওতায় এনে সহজ ও কার্যকর করা জরুরি।

তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে টিকে থাকতে হলে ফিনটেক ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সময়মতো আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ না করলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

তার ভাষায়, বন্দর থেকে সড়কপথ এবং কারখানা—প্রতিটি পর্যায়ে বিভিন্ন জটিলতা ও বিলম্ব ব্যবসায়ের ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাই বন্দর ও বিমানবন্দরসহ সার্বিক সেবাব্যবস্থাকে উন্নত ডিজিটাল প্রযুক্তি এবং অটোমেশনের আওতায় এনে প্রক্রিয়া সহজ ও কার্যকর করতে হবে। আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে সেবা প্রদানে গতি ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি ডিজিটালাইজেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এবং প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আমির খসরু বলেন, ডিজিটালাইজেশন ও এআই ব্যবহারে পিছিয়ে থাকলে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ কাঙ্ক্ষিত অবস্থান অর্জনে সক্ষম হবে না।

অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান অর্থনীতির প্রেক্ষাপটে ডিজিটাল অর্থনীতির গুরুত্ব অপরিসীম, যা বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারেও স্থান পেয়েছে। নগদ লেনদেন কমিয়ে ক্যাশলেস লেনদেন বাড়ানো গেলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। বাংলা কিউআর প্ল্যাটফর্মকে কার্যকর করতে বিভিন্ন ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) মধ্যে আন্তঃসংযোগ বা ইন্টারঅপারেবিলিটি নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।

তিনি আরো ব্যাখ্যা করেন, ডিজিটাল ও কিউআরভিত্তিক লেনদেনের মাধ্যমে ডেটাভিত্তিক রেকর্ড তৈরি হবে, যা কর আদায় সহজ করবে এবং অন্যায্য করচাপ কমিয়ে ট্রেস অ্যান্ড ট্র্যাকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা আনবে। সরকারি ও আর্থিক সেবাকে ফিজিক্যাল কনট্যাক্টের বাইরে এনে বাসায় বসেই সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা গেলে ‘কস্ট অব ডুয়িং বিজনেস’ অনেক কমে আসবে। ভবিষ্যৎ অর্থনীতি গঠনে এআই প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার ও প্রয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে বাংলাদেশকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
//ডিবিটেক/ইটিডব্লিউ/এমআইএস/এসএমই//