স্বরাষ্ট্র সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সবুজ সংকেত

এপিবিএনকে সাইবার অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দিয়ে নতুন আইন

  • আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাস ও গুম তদন্তের ক্ষমতা প্রদান
  • নিজস্ব সাইবার সেল, হাজতখানা, মালখানা ও দুই ধরনের ট্রাইব্যুনাল গঠন
  • নব্বই দিনের বেশি কারাদণ্ড হলে এপিবিএন সদস্য চাকরি থেকে বরখাস্ত

এপিবিএনকে সাইবার অপরাধ তদন্তের ক্ষমতা দিয়ে নতুন আইন
৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:১৯  

সাইবার অপরাধ, সন্ত্রাস, সংঘবদ্ধ অপরাধ, মানবপাচার, গুম ও ভূমিদস্যুতাসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নকে (এপিবিএন) বিস্তৃত দায়িত্ব ও ক্ষমতা দেওয়ার বিধান রেখে নতুন আইন পাসের সর্বসম্মত সুপারিশ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। গত ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে পর্যালোচনা শেষে সোমবার (০৭ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে 'আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল, ২০২৬' উপস্থাপন করেন বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন।

প্রস্তাবিত বিলে ১৯৭৯ সালের 'আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নস অর্ডিন্যান্স' রহিত করে নতুন আইন কার্যকরের কথা বলা হয়েছে। নতুন কাঠামোয় এপিবিএনের অধীনে বিশেষ নিরাপত্তা ও সুরক্ষামূলক ব্যাটালিয়নসহ অন্যান্য ইউনিটে নিজস্ব 'সাইবার সেল' গঠন, হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার আইনি সুযোগ রাখা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তা এপিবিএনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

বিলে জননিরাপত্তা, ভিআইপি সুরক্ষা, বিমানবন্দর নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি আদালত, সরকার বা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে সাব-ইন্সপেক্টর বা তদূর্ধ্ব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের অপরাধ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে গ্রেফতার বা আলামত জব্দ করা হলে তা অনতিবিলম্বে নিকটবর্তী থানায় হস্তান্তরের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আইনে এপিবিএন সদস্যদের শৃঙ্খলা ও বিচার নিশ্চিত করতে 'বিশেষ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালত' এবং 'সংক্ষিপ্ত আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন আদালত' গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। বিশেষ আদালতে বিদ্রোহ ও বলপ্রয়োগের অপরাধে সর্বোচ্চ যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং সংক্ষিপ্ত আদালতে অন্যান্য অপকর্মের জন্য সর্বোচ্চ তিন বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। কোনো সদস্য ৯০ দিনের বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত হবেন। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া গণমাধ্যমে তথ্য প্রকাশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
//ডিবিটেক/জেএনও/এসএই/এমআইএস//