অন্যায় আচরণের মুখোমুখি হলে কী করবেন?

চলতি পথে কারও তিতা কথা কিংবা অপ্রীতিকর ব্যবহারে মন ভেঙে যাওয়া নতুন কিছু নয়। হুট করে পাওয়া এমন আঘাতেই আমাদের ভেতরে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে, মন চায় সাথে সাথেই কড়া জবাব দিয়ে প্রতিশোধ নিতে। কিন্তু চড়া কথার জবাবে চড়া কথা বলা কি সত্যিই সমস্যার সমাধান আনে? ইসলাম আমাদের শেখায় ক্ষোভের আগুনে ঘি না ঢেলে কীভাবে […] The post অন্যায় আচরণের মুখোমুখি হলে কী করবেন? first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

অন্যায় আচরণের মুখোমুখি হলে কী করবেন?
২৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০০  

চলতি পথে কারও তিতা কথা কিংবা অপ্রীতিকর ব্যবহারে মন ভেঙে যাওয়া নতুন কিছু নয়। হুট করে পাওয়া এমন আঘাতেই আমাদের ভেতরে ক্ষোভের আগুন জ্বলে ওঠে, মন চায় সাথে সাথেই কড়া জবাব দিয়ে প্রতিশোধ নিতে। কিন্তু চড়া কথার জবাবে চড়া কথা বলা কি সত্যিই সমস্যার সমাধান আনে? ইসলাম আমাদের শেখায় ক্ষোভের আগুনে ঘি না ঢেলে কীভাবে সংযম ও প্রজ্ঞার মাধ্যমে পরিস্থিতি জয় করা যায়। জীবনের এই কঠিন মুহূর্তগুলোতে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর জীবন আমাদের সামনে তুলে ধরে এক চমৎকার আলোকবর্তিকা।

কারো অপ্রীতিকর আচরণের মুখোমুখি হলে প্রথমেই নিজের রাগ সামলে নেওয়া উচিত। কারণ রাগের মাথায় বলা কথা পরিস্থিতিকে কেবল জটিলই করে তোলে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, প্রকৃতপক্ষে সেই ব্যক্তিই শক্তিশালী, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। তাই কেউ রাগিয়ে দিলে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিক্রিয়া না দেখিয়ে কিছুটা সময় থামা উচিত। এরপর ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিলে অনাকাঙ্ক্ষিত বিবাদ এড়ানো সম্ভব হয়।

খারাপ আচরণের বদলা খারাপ দিয়ে দেওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য নয়। সম্ভব হলে উত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করতে হবে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, ভালো ও মন্দ কখনো সমান হতে পারে না; তাই মন্দকে উত্তম দিয়ে প্রতিহত করুন, যাতে শত্রুও আপনার অন্তরঙ্গ বন্ধুতে পরিণত হয়। মহানবী (স.)-এর জীবনেও এর বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। একবার এক বেদুঈন অত্যন্ত রূঢ়ভাবে তাঁর চাদর টেনে ধরে পাওনা দাবি করলে নবীজি (স.) রেগে না গিয়ে মুচকি হেসে তাকে সাহায্য করার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে। প্রতিটি ছোটখাটো ভুলের প্রতিশোধ নিতে গেলে সম্পর্কের টানাপোড়েন বেড়ে যায়। আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্যের ভুলত্রুটি ক্ষমা ও উপেক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে তিনি নিজেও আমাদের ক্ষমা করে দেন। তবে ক্ষমা করার অর্থ অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া নয়। কেউ যদি বারবার অপমান করে বা ক্ষতি করতে থাকে, তবে নিজেকে রক্ষা করতে শান্ত ও সংযত ভাষায় তার প্রতিবাদ করা জরুরি।

অন্যের অপমান বা অন্যায়ের কথা বারবার মনে করে প্রতিশোধের চিন্তায় নিজেকে ব্যস্ত রাখলে নিজেরই মানসিক ক্ষতি হয়। এ ধরনের চিন্তায় আটকে না থেকে বিষয়টি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়া এবং নিজের কাজে মনোযোগ দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।

মূলত, ইসলাম আমাদের আত্মমর্যাদা রক্ষার অধিকার দেওয়ার পাশাপাশি ক্ষমা ও ধৈর্যের মতো মহৎ গুণ অর্জনের আহ্বান জানায়। কারও খারাপ ব্যবহারের জবাবে ক্ষুব্ধ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা দুর্বলতা নয়, বরং তা আত্মিক পরিপক্বতার লক্ষণ। আমরা যদি প্রতিশোধের মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে সুন্দর আচরণের চর্চা করতে পারি, তবে তা কেবল আমাদের আত্মিক প্রশান্তিই দেবে না, বরং সমাজেও ছড়াবে ভালোবাসার আলো। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে রাগের মুহূর্তে ধৈর্য ধারণ করার এবং মহানবী (স.)-এর উত্তম চরিত্রের আলোয় নিজেদের জীবন সাজানোর তাওফিক দান করুন। আমিন।

The post অন্যায় আচরণের মুখোমুখি হলে কী করবেন? first appeared on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.