ডিজিবাংলা নির্বাহী সম্পাদকের ওপর হামলায় নিন্দা

১৫ আগষ্ট, ২০২৪ ২৩:৩২  

দুর্নীতি সংশ্লিষ্ট সংবাদের তথ্য সংগ্রহে গিয়ে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইসিটি টাওয়ারে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কর্মচারীদের হামলার শিকার হয়েছেন ডিজিবাংলাটেক নির্বাহী সম্পাদক এস এম ইমদাদুল হক। তিনি বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরামের (বিআইজেএফ) নির্বাহী সদস্য। বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক বৈঠকে দোষীদের সনাক্ত করেছে বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ। সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে এ নিয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অতর্কিত হামলার শিকার এই সাংবাদিক।

সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা জানার পর পরই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন আইসিটি বিটের সাংবাদিক ও সংগঠন এবং প্রযুক্তি খাতের ব্যবসায়ী ও সামাজিক সংগঠন। তারা দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এই ঘটনায় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক দাবি করেছেন ডিজিবাংলাটেক.নিউজ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক। তিনি বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে হুমকি। এতে আমি আমার সাংবাদিকদের জীবনের নিরপত্তা নিয়ে শঙ্কিত। তাই কর্তৃপক্ষের কাছে অনতিবিলম্বে এই ঘটনায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। আর যারা তাৎক্ষণিকভাবে ডিজিবাংলা’র সাথে থেকে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছেন তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

সাংবাদিক ইমদাদুল হকের ওপর হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে বাংলাদেশ আইসিটি জার্নালিস্ট ফোরাম (বিআইজেএফ)।  

সংগঠনটির কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষ থেকে সভাপতি নাজনীন নাহার ও সাধারণ সম্পাদক সাব্বিন হাসান হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করছেন। পাশাপাশি জড়িতদের শাস্তি দাবি করেছেন।

এ ঘটনায় টেকনোলজি মিডিয়া গিল্ড বাংলাদেশ-টিএমজিবি তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। পাশাপাশি পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এ ধরনের ঘৃণ্য ঘটনায় টিএমজিবির সব সদস্য গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এ ঘটনার সাথে দায়ী ব্যক্তিদের দ্রুততম সময়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছে টিএমজিবি।

বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগে ইমদাদুল হক বলেন, ‘আমি পেশাগত দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে আজ ১৫ আগস্ট দুপুরে আইসিটি টাওয়ারে আসি। এখানে এসে জানতে পারি, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কর্মচারীরা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করছেন। আমি তাদের স্লোগান শুনে দেখতে যাওয়ার পর তারা আমাকে চলে যেতে বললে আমি ফিরে চলে আসি। আসার সময় মোশাররেফ হোসেন পারভেজ, হিসাবরক্ষক ও সেলিন মাহমুদ কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক কাম অফিস সহকারী আমাকে পেছন থেকে জাপটে ধরে এলোপাথাড়ি কিলঘুষি দেন।’

লিখিত অভিযোগে তিনি আরও লিখেছেন, ‘এ সময় আমি এমডির কক্ষের দিকে যেতে চাইলে এবং হাই-টেক পার্কের অন্যান্য কর্মকর্তারা ছুটে এসে আমাকে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরেও তারা দ্বিতীয় দফায় আবারও আক্রমণ করেন। এ সময় পাশে থেকে আন্দোলনের নেত্রী শর্মিলী খাতুন পাশে থেকে তাদের হামলা করতে আরও উৎসাহ দেন।’

পরে কোনোমতে আমি প্রাণ নিয়ে প্রথমে জনসংযোগ কর্মকর্তার কক্ষে আশ্রয় নিই এবং পরে তাদের পাহারায় এমডির রুমে যাই।

এদিকে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন (সিক্যাফ) তাদের কার্যনির্বাহী পরিষদের সহ-সভাপতি এস এম ইমদাদুল হকের ওপর হামলায় দোষীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।   সংগঠনটির কার্যনির্বাহী পরিষদের পক্ষে সভাপতি কাজী মুস্তাফিজ এক বিবৃতিতে বলেন, তার প্রতি এমন আচরণের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। দেশে দীর্ঘদিনের অপশাসনের পর সম্প্রতি নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে দেশে সুশাসন নিশ্চিত ও গণমাধ্যমকর্মীদের কাজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় আছি। কিন্তু এমন দুর্বৃত্তপনা আচরণ আমাদের এই প্রত্যাশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। চিহ্নিত হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশন (সিক্যাফ)।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, আজ হাইটেক পার্কের সংবাদ সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত থাকার সময় ডিজিবাংলাটেক নির্বাহী সম্পাদক জনাব এমদাদুল হকের অসাধু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা, কর্মচারীরা যে হামলা করেছে তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি এই হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অন্তবর্তী সরকারের কাছে বিনীতভাবে আহ্বান জানাচ্ছি।

বিষয়টির জন্য বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জি এস এম জাফর উল্লাহ বলেছেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। এজন্য আমি নিজে তার কাছে ক্ষমা চেয়েছি। তার কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷ এ জন্য রবিবার পর্যন্ত সময় চেয়েছি।