<?xml version="1.0" encoding="UTF-8"?>
<rss version="2.0"
     xmlns:dc="http://purl.org/dc/elements/1.1/"
     xmlns:sy="http://purl.org/rss/1.0/modules/syndication/"
     xmlns:admin="http://webns.net/mvcb/"
     xmlns:rdf="http://www.w3.org/1999/02/22-rdf-syntax-ns#"
     xmlns:content="http://purl.org/rss/1.0/modules/content/"
     xmlns:media="http://search.yahoo.com/mrss/">
<channel>
<title>Digi Bangla &#45; : টেক&#45;থট</title>
<link>https://digibanglatech.news/rss/category/tech-thought</link>
<description>Digi Bangla &#45; : টেক&#45;থট</description>
<dc:language>en</dc:language>
<dc:rights>নিবন্ধন নং &#45; ২৩৩ &amp;lt;br /&amp;gt;প্রকাশক: সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক &amp;lt;/br&amp;gt;  নির্বাহী সম্পাদক: এস এম ইমদাদুল হক &amp;lt;/br&amp;gt; সম্পাদকীয় কার্যালয়: সড়ক ২৯, বাড়ি ২/ই (গুলশান লেক প্যালেস), সি&#45;২, গুলশান&#45;১, ঢাকা&#45;১২১২, বাংলাদেশ।  &amp;lt;/br&amp;gt;ফোন: ০৯৬৩৯&#45;৩৩৩৫৫৫, ইমেইল: press@digibanglatech.news   &amp;lt;/br&amp;gt; © স্বত্ব ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া লিমিটেড ২০১৯&#45;২০২৬</dc:rights>

<item>
<title>সাইবার সুরক্ষা আইনের সংশোধনী: মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় ডিএসএ&#45;র ছায়া</title>
<link>https://digibanglatech.news/190985</link>
<guid>https://digibanglatech.news/190985</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x580_6ab6c813cb7e3.jpg" length="107944" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 25 Sep 2026 01:15:03 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ফৌজদারি মানহানি, অনলাইন সেন্সরশিপ, মুশতাক আহমেদ, আইসিটি আইন, নাগরিক অধিকার</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p></p>
<table border="1" style="border-collapse: collapse; width: 100.041%;"><colgroup><col style="width: 99.8764%;"></colgroup>
<tbody>
<tr>
<td>
<ul>
<li data-path-to-node="45,0,0">সাইবার সুরক্ষা আইনের প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মানহানি, অপমান ও বুলিংকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে পুনঃপ্রবর্তনের চেষ্টা চলছে।</li>
<li data-path-to-node="45,1,0">‘গুজব’ ও ‘অযাচাইকৃত তথ্য’ প্রকাশের অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা জরিমানার কঠোর বিধান রাখা হয়েছে।</li>
<li data-path-to-node="45,2,0">বিচারিক নজরদারি ছাড়াই সন্দেহভাজন কনটেন্ট ব্লক করার নির্বাহী ক্ষমতা প্রশাসনের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।</li>
<li data-path-to-node="45,3,0">সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বাদ দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।</li>
<li data-path-to-node="45,4,0">খসড়াটি ভারতের শ্রেয়া সিংঘল রায় এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড (ICCPR)-এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী।</li>
</ul>
</td>
</tr>
</tbody>
</table>
<p data-path-to-node="11">বাংলাদেশের সংসদ ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে সাইবার সুরক্ষা আইন পাস করে, যার মূল লক্ষ্য ছিল বহুল সমালোচিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ (ডিএসএ)-এর বিতর্কিত উত্তরাধিকার থেকে বেরিয়ে আসা। কিন্তু আইনটি পাসের কয়েক মাসের মাথায় সরকার এমন কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব উত্থাপন করে, যা কার্যত ডিএসএ-র দমনমূলক বিধানগুলোকে নতুন আঙ্গিকে ফিরিয়ে আনছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে, “অপমান” ও “বুলিং”-এর মতো অস্পষ্ট অপরাধ সৃষ্টি করা হচ্ছে এবং “গুজব” ও “অপতথ্য” ছড়ানোর অভিযোগে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা জরিমানের বিধান রাখা হচ্ছে। এই নীতি গবেষণা নিবন্ধটি প্রস্তাবিত সংশোধনীর খসড়া, নাগরিক সমাজের উদ্বেগ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালার আলোকে পর্যালোচনা করে দেখিয়েছে কীভাবে এই খসড়াটি মুক্তমত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকারকে চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।</p>
<p data-path-to-node="13"><b data-path-to-node="13" data-index-in-node="0">১. ভূমিকা</b></p>
<p data-path-to-node="14">২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে বহুল বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ বাতিলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাতীয় সংসদে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬ পাস করা হয়। ডিএসএ দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধানী সাংবাদিক, লেখক, অধিকারকর্মী এবং সাধারণ নাগরিকের বিরুদ্ধে ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১ জুলাই প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে আইনটির বিতর্কিত ধারা ২০ বিলুপ্ত করা হয়। কিন্তু সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ আইসিটি বিভাগ একটি নতুন সংশোধনীর খসড়া প্রকাশ করে, যা পর্যালোচনার জন্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রীর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয়।</p>
<p data-path-to-node="15">প্রস্তাবিত সংশোধনীতে মানহানি, অপমান, বুলিং, গুজব ও অপতথ্য সংক্রান্ত নতুন অপরাধ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে; কনটেন্ট ব্লকিংয়ের নির্বাহী ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে; মোবাইল কোর্টের এখতিয়ার বাড়ানো হয়েছে এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধিত্ব বাদ দেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে স্বীকৃত চিন্তা, বিবেক ও বাক্-স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার চুক্তির (ICCPR) ১৯ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।</p>
<p data-path-to-node="17"><b data-path-to-node="17" data-index-in-node="0">২. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮: অপব্যবহারের ইতিহাস</b></p>
<p data-path-to-node="18">ডিএসএ কার্যত তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন ২০০৬-এর বিতর্কিত ৫৭ ধারারই দমনমূলক ধারাবাহিকতা বহন করেছিল। ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কেবল ডিএসএ-র অধীনেই ৪,৫০০-এর বেশি মানুষ নিপীড়নের শিকার হন—যাদের বড় অংশই সাংবাদিক, বিরোধী রাজনীতিবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি। সাধারণ বৈঠকেও মানুষ মোবাইল ফোন সঙ্গে নিতে ভয় পেত; জনপরিসরে তৈরি হয়েছিল চরম আতঙ্কের পরিবেশ।</p>
<p data-path-to-node="19">ক্লুনি জাস্টিস ফাউন্ডেশন ও সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের (CGS) যৌথ বিশ্লেষণে ৩৯৬ জন সাংবাদিক জড়িত এমন ২২২টি মামলা পর্যালোচনায় দেখা গেছে, আইনটিকে মূলত ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। অভিযুক্ত সাংবাদিকদের বিনা পরোয়ানায় গ্রেপ্তার এবং রিমান্ডে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ২০১৮ সালে আলোকচিত্রী শাহিদুল আলমকে ছাত্র আন্দোলনের সমালোচনার জেরে ৫৭ ধারায় গ্রেপ্তার করে ১০৮ দিন কারারুদ্ধ রাখা হয়। ময়মনসিংহে আইনজীবীদের বিরুদ্ধে কিংবা রংপুর-রাজশাহীর সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ডিএসএ-তে মামলা দিয়ে দীর্ঘ কারাবাসে বাধ্য করা হয়, যা পরবর্তীতে তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবন ধ্বংস করে দেয়।</p>
<p data-path-to-node="20"><b data-path-to-node="20" data-index-in-node="0">২.১ মুশতাক আহমেদ: আইনের প্রাণঘাতী পরিণতি</b></p>
<p data-path-to-node="21">ডিএসএ-র নির্মমতম শিকার ছিলেন লেখক ও ব্লগার মুশতাক আহমেদ। ২০২০ সালের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করোনা মহামারি নিয়ে সরকারের ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। টানা ছয়বার জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর ২০২১ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়। তিনিই ডিএসএ-র অধীনে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুবরণকারী প্রথম ব্যক্তি। তাঁর সহ-অভিযুক্ত কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর দীর্ঘ নির্যাতন সহ্য করে জামিনে মুক্তি পান, যিনি পরবর্তীতে হেফাজতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে শ্রবণশক্তি হারানোর বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন।</p>
<p data-path-to-node="22"><b data-path-to-node="22" data-index-in-node="0">২.২ সাংবাদিকতায় বিধ্বংসী প্রভাব</b></p>
<p data-path-to-node="23">সিজিএস-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিএসএ-র মোট মামলার ২৭.৪১ শতাংশই দায়ের হয়েছিল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে; যেখানে কমপক্ষে ৩৫৫ জন গণমাধ্যমকর্মীকে অভিযুক্ত করা হয়। “গুজব ছড়ানো” ও “ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত”-এর মতো অস্পষ্ট ধারার সুযোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষ যেকোনো গঠনমূলক সমালোচনাকে অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করার অবাধ সুযোগ পেয়েছিল।</p>
<p data-path-to-node="25"><b data-path-to-node="25" data-index-in-node="0">৩. প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬: ডিএসএ-র প্রত্যাবর্তন</b></p>
<p data-path-to-node="26">সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ প্রস্তাবিত খসড়াটি পর্যালোচনায় দেখা যায়, এটি কার্যত ডিএসএ-র দমনমূলক চরিত্রকেই পুনরুজ্জীবিত করছে। টিআইবি, ব্লাস্ট এবং আর্টিকেল ১৯-সহ ১৯টি নাগরিক সমাজ সংগঠন এক যৌথ বিবৃতিতে এই সংশোধনীকে ‘ডিএসএ-র চেয়েও বেশি প্রতিক্রিয়াশীল’ বলে আখ্যায়িত করেছে।</p>
<ul data-path-to-node="27">
<li>
<p data-path-to-node="27,0,0"><b data-path-to-node="27,0,0" data-index-in-node="0">ফৌজদারি মানহানি (ধারা ২৫):</b> যৌন হয়রানি ও ব্ল্যাকমেইল সংক্রান্ত ধারায় ‘মানহানি’ ও ‘অপমান’ যুক্ত করা হয়েছে। এতে সর্বোচ্চ ৫ বছর কারাদণ্ড ও ২০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে (নারী ও শিশুর ক্ষেত্রে দ্বিগুণ)। পেনাল কোডের ৪৯৯ ধারায় দেওয়ানি প্রতিকার থাকা সত্ত্বেও ডিজিটাল মাধ্যমে এটিকে অজামিনযোগ্য ও কঠোর শাস্তির আওতায় আনা জনস্বার্থের সাংবাদিকতাকে সরাসরি রুদ্ধ করবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="27,1,0"><b data-path-to-node="27,1,0" data-index-in-node="0">অপমান ও বুলিং (ধারা ২৫):</b> “মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়া” বা “মানসিক অস্বস্তি”র মতো অত্যন্ত অনির্দিষ্ট ও সাবজেক্টিভ সংজ্ঞার ওপর ভিত্তি করে কাউকে কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এর ফলে যৌক্তিক রাজনৈতিক বিতর্ক, অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বা ভোক্তার ন্যায্য অভিযোগকেও ‘বুলিং’ হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি তৈরি হবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="27,2,0"><b data-path-to-node="27,2,0" data-index-in-node="0">গুজব ও অপতথ্য (নতুন ধারা ২৬ক):</b> এই ধারায় “অযাচাইকৃত তথ্য” ছড়ানোর দায়ে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। জরুরি দুর্যোগ, মানবাধিকার লঙ্ঘন বা দুর্নীতির ঘটনা তাৎক্ষণিক প্রকাশের ক্ষেত্রে এটি সাংবাদিকদের জন্য চরম ফাঁদ হিসেবে কাজ করবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="27,3,0"><b data-path-to-node="27,3,0" data-index-in-node="0">কনটেন্ট ব্লকিং ও তদারকিহীন ক্ষমতা (ধারা ৮):</b> কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়, বরং যেকোনো ক্ষমতাপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থা অপরাধের “সন্দেহ” থেকেই কনটেন্ট ব্লক করার নির্দেশ দিতে পারবে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়—ব্লক করা কনটেন্টের তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশের বর্তমান আইনি বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="27,4,0"><b data-path-to-node="27,4,0" data-index-in-node="0">মোবাইল কোর্ট ও মানবাধিকার কমিশন বাদ:</b> নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিচালিত মোবাইল কোর্টকে সংক্ষিপ্ত বিচারে এসব অপরাধের শাস্তিদানের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা নিরপেক্ষ শুনানির পরিপন্থী। এছাড়া সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিল থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে বাদ দিয়ে কেবল সরকারি আমলাদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে এবং কর্মকর্তাদের কাজের ক্ষেত্রে ‘সৎ বিশ্বাসে’র নামে আইনি দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।</p>
</li>
</ul>
<p data-path-to-node="29"><b data-path-to-node="29" data-index-in-node="0">৪. আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট ও তুলনামূলক পর্যালোচনা</b></p>
<ul data-path-to-node="30">
<li>
<p data-path-to-node="30,0,0"><b data-path-to-node="30,0,0" data-index-in-node="0">ভারতের শ্রেয়া সিংঘল রায় (২০১৫):</b> ভারতের সুপ্রিম কোর্ট আইটি আইনের বিতর্কিত ৬৬ক ধারা বাতিল করে রায় দিয়েছিল যে, আইনের সংজ্ঞা যদি অস্পষ্ট হয় এবং তা মুক্তমত প্রকাশের ওপর ভীতি ছড়ায় (Chilling Effect), তবে তা অসাংবিধানিক। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত ‘অপমান’ ও ‘বুলিং’-এর ধারাগুলো শ্রেয়া সিংঘল নীতির সম্পূর্ণ বিরোধী।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="30,1,0"><b data-path-to-node="30,1,0" data-index-in-node="0">সিঙ্গাপুরের অভিজ্ঞতা (POFMA):</b> সিঙ্গাপুরের অনলাইন সুরক্ষা আইনে নির্বাহী ক্ষমতা প্রয়োগের সুযোগ থাকায় তা বিরোধী মত ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করেছে বলে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচিত। বাংলাদেশের প্রস্তাবিত খসড়ায় সিঙ্গাপুরের চেয়েও কম আইনি সুরক্ষা রাখা হয়েছে; কারণ এখানে কনটেন্ট ব্লকের বিরুদ্ধে স্বাধীন বিচারিক আপিলের কার্যকর সুযোগ রাখা হয়নি।</p>
</li>
</ul>
<p data-path-to-node="32"><b data-path-to-node="32" data-index-in-node="0">৫. প্রভাব মূল্যায়ন: কারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন?</b></p>
<ul data-path-to-node="33">
<li>
<p data-path-to-node="33,0,0"><b data-path-to-node="33,0,0" data-index-in-node="0">সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী:</b> ‘অযাচাইকৃত তথ্য’ প্রকাশের অজুহাতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ১০ বছরের কারাদণ্ডের খড়্গ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="33,1,0"><b data-path-to-node="33,1,0" data-index-in-node="0">লেখক, কার্টুনিস্ট ও গবেষক:</b> ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক কার্টুন বা সাহিত্যচর্চাকে ‘অপমান’ হিসেবে চিহ্নিত করে আইনি হেনস্তার পথ সুগম হবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="33,2,0"><b data-path-to-node="33,2,0" data-index-in-node="0">মানবাধিকার কর্মী ও সাধারণ নাগরিক:</b> বিচারবহির্ভূত ঘটনার তথ্য নথিভুক্তকারীদের ‘গুজব রটনাকারী’ তকমা দিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বিচারে দণ্ড দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।</p>
</li>
</ul>
<p data-path-to-node="35"><b data-path-to-node="35" data-index-in-node="0">৬. নীতিগত সুপারিশমালা</b></p>
<p data-path-to-node="36">১. <b data-path-to-node="36" data-index-in-node="3">প্রস্তাবিত সংশোধনী অবিলম্বে প্রত্যাহার:</b> খসড়া সংশোধনীটি প্রত্যাহার করে গণমাধ্যমকর্মী, নাগরিক সমাজ, প্রযুক্তিবিদ ও মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে অর্থবহ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সংলাপ শুরু করতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="37">২. <b data-path-to-node="37" data-index-in-node="3">ধারা ২৫ থেকে মানহানি ও বুলিং বাদ দেওয়া:</b> অনলাইন মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধের বাইরে রাখতে হবে। পেনাল কোডের সাধারণ আইনি কাঠামোর বাইরে এটিকে টেনে এনে মতপ্রকাশ রুদ্ধ করা বন্ধ করতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="38">৩. <b data-path-to-node="38" data-index-in-node="3">প্রস্তাবিত ধারা ২৬ক বিলুপ্তকরণ:</b> ‘গুজব’ ও ‘ফেক নিউজ’-এর অস্পষ্ট সংজ্ঞার আড়ালে মুক্ত সাংবাদিকতা দমনের ধারাটি পুরোপুরি বাতিল করতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="39">৪. <b data-path-to-node="39" data-index-in-node="3">কনটেন্ট ব্লকিংয়ে বিচারিক নজরদারি প্রতিষ্ঠা:</b> স্বাধীন বিচারিক পরোয়ানা ব্যতীত নির্বাহী আদেশে কনটেন্ট ব্লক করা যাবে না এবং স্বচ্ছতার স্বার্থে ব্লককৃত তথ্যের সরকারি তালিকা জনসমক্ষে প্রকাশ করতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="40">৫. <b data-path-to-node="40" data-index-in-node="3">কাউন্সিল পুনর্গঠন ও মানবাধিকার কমিশন অন্তর্ভুক্তি:</b> সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে মানবাধিকার কমিশন ও নাগরিক সমাজের স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং নির্বাহীদের স্বেচ্ছাচারী দায়মুক্তি বাতিল করতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="41">৬. <b data-path-to-node="41" data-index-in-node="3">আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড নিশ্চিতকরণ:</b> আইনটিকে আইসিসিপিআর-এর ১৯ অনুচ্ছেদ এবং আন্তর্জাতিক নাগরিক অধিকার সনদের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রূপ দিতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="42"><b data-path-to-node="42" data-index-in-node="0">উপসংহার</b></p>
<p data-path-to-node="43">ডিএসএ-র অন্ধকার যুগ পেরিয়ে মুক্ত গণমাধ্যম ও গণতান্ত্রিক পরিসর নিশ্চিত করার যে ঐতিহাসিক সুযোগ বাংলাদেশের সামনে এসেছে, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬ তার সম্পূর্ণ বিপরীত পথ নির্দেশ করছে। মুশতাক আহমেদের মর্মান্তিক আত্মত্যাগ আমাদের মনে করিয়ে দেয়—আইনের অস্পষ্ট ভাষা কীভাবে নাগরিকের জীবনের জন্য প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। সাইবার অবকাঠামোর বাস্তব সুরক্ষার নামে নাগরিকদের সাংবিধানিক কণ্ঠরোধ করার এই অপচেষ্টা অবিলম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="46"><b data-path-to-node="46" data-index-in-node="0">লেখক || </b>আহ্বায়ক, ডিএসএ ভিকটিমস নেটওয়ার্ক; প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), সি-বিচ৭৭ লিমিটেড।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="48"><b data-path-to-node="48" data-index-in-node="0">এডিটরস নোট || </b>আলোচ্য নীতি গবেষণা নিবন্ধে প্রকাশিত পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ লেখকের নিজস্ব। দেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি মুক্তচিন্তা, মতপ্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার ও মানবাধিকার সুরক্ষার স্বার্থে লেখাটি সম্পাদকীয় প্রমিতকরণসহ প্রকাশ করা হলো।</p>
<hr><hr>
<p data-path-to-node="48"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল ব্যাংকের দুয়ার খুলেছে: প্রান্তিক ক্ষমতায়ন ও সুস্থ প্রতিযোগিতার সুযোগ বাড়ুক</title>
<link>https://digibanglatech.news/190976</link>
<guid>https://digibanglatech.news/190976</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x580_6ab6c20269b53.jpg" length="93303" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 24 Sep 2026 00:42:29 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>ডিজিটাল ব্যাংক বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ব্যাংক এলওআই, ক্যাশলেস অর্থনীতি, ক্ষুদ্র ঋণ, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, ফিনটেক প্রতিযোগিতা, সাইবার নিরাপত্তা, এ এইচ এম বজলুর রহমান</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<table border="1" style="border-collapse: collapse; width: 100%;"><colgroup><col style="width: 99.8744%;"></colgroup>
<tbody>
<tr>
<td>
<ul>
<li data-path-to-node="22,0,0">ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রথম ধাপে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে এলওআই দেওয়া ইতিবাচক, তবে বাজারের আকার ৫-এ সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নয়।</li>
<li data-path-to-node="22,1,0">সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে প্রকাশ্য মানদণ্ডের ভিত্তিতে যোগ্য অন্যান্য আবেদনকারীদের জন্যও লাইসেন্সিংয়ের পথ খোলা রাখতে হবে।</li>
<li data-path-to-node="22,2,0">ন্যূনতম পরিশোধিত মূলধন ৩০০ কোটি টাকার পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন সক্ষমতা যাচাই অপরিহার্য।</li>
<li data-path-to-node="22,3,0">ডিজিটাল ব্যাংকের কোনো নিজস্ব শাখা না থাকায় নগদ অর্থ জমা ও উত্তোলনে বিদ্যমান আর্থিক অবকাঠামোর ইন্টারঅপারেবিলিটি জরুরি।</li>
<li data-path-to-node="22,4,0">সাফল্যের পরিমাপ অ্যাপ ডাউনলোড দিয়ে নয়, বরং নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণের সহজলভ্যতায় নির্ধারিত হওয়া উচিত।</li>
</ul>
</td>
</tr>
</tbody>
</table>
<p data-path-to-node="10">পাঁচটি প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক সম্মতি বা লেটার অব ইনটেন্ট (LOI) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরবর্তী মূল দায়িত্ব হলো যোগ্য অন্যান্য আবেদনকারীদের জন্যও স্বচ্ছ নীতিমালা বজায় রাখা এবং নিশ্চিত করা যেন এই নতুন প্রতিষ্ঠানগুলো সাধারণ মানুষের আর্থিক জীবনে অর্থবহ ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনতে পারে।</p>
<p data-path-to-node="11">গ্রামের একজন নারী উদ্যোক্তা হয়তো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (MFS) মাধ্যমে নিয়মিত অর্থ লেনদেন করেন, কাঁচামালের সরবরাহকারীকে মূল্য পরিশোধ করেন এবং প্রাত্যহিক সংসারের খরচও নির্বাহ করেন। কিন্তু ব্যবসা সম্প্রসারণের প্রয়োজনে যখন তাঁর একটি ছোট অঙ্কের প্রাতিষ্ঠানিক ঋণের দরকার হয়, তখন তাঁকে এমন জটিল কাগজপত্র, স্থাবর জামানত বা দূরবর্তী ব্যাংক শাখার মুখোমুখি হতে হয়—যা তাঁর নাগালের বাইরে। বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের প্রকৃত সম্ভাবনা অনুধাবন করতে হলে এই কাঠামোগত ব্যবধানটি বুঝতে হবে: দেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি বেড়েছে, কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ের আর্থিক ও উৎপাদনশীল সুযোগ কি সমান্তরাল গতিতে বেড়েছে?</p>
<p data-path-to-node="12">এই বাস্তবতায় পাঁচটি প্রস্তাবিত ডিজিটাল ব্যাংককে লেটার অব ইনটেন্ট দেওয়ার বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ডিকে, বিকাশ, নোভা, বুস্ট ও কড়ি ডিজিটাল ব্যাংককে প্রাথমিক সম্মতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে মনে রাখা দরকার, এলওআই পাওয়া মানেই চূড়ান্ত লাইসেন্স পাওয়া নয়; মূলধনের শর্ত পূরণ, কারিগরি প্রস্তুতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা মূল্যায়নের পরই পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরুর চূড়ান্ত অনুমোদন আসবে।</p>
<p data-path-to-node="13">এটি একটি আশাব্যঞ্জক সূচনা হলেও শুরুতেই ‘পাঁচ’ সংখ্যাটিকে গোটা বাজারের জন্য স্থায়ী সিলিং বা সীমা বানানো যৌক্তিক হবে না। দ্বিতীয় দফায় জমা পড়া ১২টি আবেদনের মধ্যে যারা এই দফায় এলওআই পাননি, তাঁদের মধ্যে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলো প্রয়োজনীয় শর্ত ও মানদণ্ড পূরণ করলে ভবিষ্যতে লাইসেন্স পাওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত রাখা উচিত। সেই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া হতে হবে সুস্পষ্ট ও প্রকাশ্য মানদণ্ডের ভিত্তিতে।</p>
<p data-path-to-node="14">বাজারে আরও ডিজিটাল ব্যাংক প্রবেশের সুযোগ রাখার পক্ষে মূল যুক্তি কেবল সংখ্যা বৃদ্ধি নয়। কেবল কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ করতে দিলেই তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেনদেন মাশুল কমাবে, সেবার মান বাড়াবে কিংবা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে ঋণ পৌঁছে দেবে—এমন নিশ্চয়তা নেই। কিন্তু বাজারে যোগ্য ও সক্ষম প্রতিষ্ঠানের অবাধ প্রবেশের পরিবেশ থাকলে সেবার মান, মূল্য নির্ধারণ ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মধ্যে স্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। একজন গ্রাহক তখন অ্যাকাউন্ট খোলা, তহবিল স্থানান্তর কিংবা মাইক্রো-লোন গ্রহণের ক্ষেত্রে একাধিক বিকল্প যাচাইয়ের স্বাধীনতা পান।</p>
<p data-path-to-node="15">তবে সেই প্রতিযোগিতার সুফল প্রান্তিক জনগোষ্ঠী কতটুকু পাবে, সেটিই মূল বিবেচ্য। কেবল শহুরে স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের জন্য দ্রুতগতির অ্যাপ তৈরি করলেই ডিজিটাল ব্যাংকিংয়ের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হবে না। গ্রামীণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষিজীবী পরিবার, নারী উদ্যোক্তা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী এবং স্বল্প ডিজিটাল দক্ষতাসম্পন্ন মানুষের প্রয়োজনকে সেবার আর্কিটেকচারে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সহজ মাতৃভাষায় সেবার শর্তাবলি উপস্থাপন, ক্ষুদ্র সঞ্চয় ও ঋণে নামমাত্র খরচ, ২৪/৭ কার্যকর কাস্টমার সাপোর্ট এবং প্রয়োজনে মানবিক সহায়তা পাওয়ার ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক।</p>
<p data-path-to-node="16">ডিজিটাল ব্যাংকের কোনো ভৌত শাখা থাকবে না বটে, কিন্তু তৃণমূল মানুষের দৈনন্দিন জীবনে নগদ টাকার প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাবে না। তাই বিদ্যমান ব্যাংকিং পরিকাঠামো ও এজেন্ট নেটওয়ার্কের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ বজায় রেখে সহজে ক্যাশ-ইন ও ক্যাশ-আউটের বাস্তব সুবিধা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। অ্যাপের মাধ্যমে এক মিনিটে অ্যাকাউন্ট খোলা গেলেও জরুরি প্রয়োজনে গ্রাহক যদি নিজের অর্থ তুলতে বা জমা দিতে না পারেন, তবে পুরো ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হবে।</p>
<p data-path-to-node="17">আস্থার দ্বিতীয় অপরিহার্য শর্ত হলো কঠোর সাইবার নিরাপত্তা ও গ্রাহক তথ্যের সুরক্ষা। ডিজিটাল ব্যাংক যত বেশি মানুষের স্পর্শকাতর ডেটা ও লেনদেন পরিচালনা করবে, পরিচয় জালিয়াতি, সাইবার আক্রমণ ও অপ্রত্যাশিত সিস্টেম ডাউনটাইমের ঝুঁকিও তত বাড়বে। গ্রাহকের ব্যক্তিগত আর্থিক তথ্য কী উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার পূর্ণ স্বচ্ছতা থাকতে হবে। ভুল লেনদেন বা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দ্রুত প্রাতিষ্ঠানিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে; ব্যাংকিংয়ের ভবিষ্যৎ অ্যাপভিত্তিক হলেও গ্রাহকের আর্থিক ক্ষতির দায় কোনো স্বয়ংক্রিয় চ্যাটবট উত্তরের আড়ালে ঢেকে রাখা যায় না।</p>
<p data-path-to-node="18">বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য তাই দুটি কাজ একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়া জরুরি। প্রথমত, এলওআইপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর ঘোষিত পরিশোধিত মূলধন (যা ১২৫ কোটি থেকে বাড়িয়ে ৩০০ কোটি টাকা করা হয়েছে), প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও গ্রাহক সুরক্ষা মানদণ্ড কঠোরভাবে যাচাই করা। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতে নতুন প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্তির জন্য একটি প্রকাশ্য ও বিশ্বাসযোগ্য গাইডলাইন উন্মুক্ত রাখা। কোন ত্রুটির কারণে আবেদন বাতিল হলো এবং কোন সক্ষমতা অর্জন করলে পরবর্তী ধাপে আবেদন বিবেচনা করা হবে—তা সুস্পষ্ট থাকলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতা ও জবাবদিহি দুটিই সমুন্নত থাকবে।</p>
<p data-path-to-node="19">নতুন ডিজিটাল ব্যাংকগুলোর সাফল্য কেবল অ্যাপ ডাউনলোডের সংখ্যা বা খোলা অ্যাকাউন্টের পরিসংখ্যান দিয়ে পরিমাপ করা উচিত নয়। দেখতে হবে—কতজন প্রান্তিক মানুষ নিয়মিত ও নিরাপদে এই সেবা ব্যবহার করছেন; উৎপাদনশীল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা জামানতবিহীন সহজ ঋণ পাচ্ছেন কি না; গ্রাহকের প্রকৃত সেবা খরচ কমছে কি না; এবং বিরোধ নিষ্পত্তিতে কতটুকু দ্রুততা বজায় রাখা হচ্ছে। কেবল একটি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকা আর সেই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে নিজের জীবিকা ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা পরিবর্তনের ক্ষমতা পাওয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে।</p>
<p data-path-to-node="20">বাংলাদেশ ব্যাংক ডিজিটাল ব্যাংকের দ্বার উন্মোচন করে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিয়েছে। এখন প্রত্যাশা—প্রথম ধাপের প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রস্তুতি কঠোরভাবে তদারকির পাশাপাশি যোগ্য আরও দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতিযোগিতার পথ উন্মুক্ত রাখা হবে। মূল লক্ষ্য ব্যাংকের সংখ্যা বাড়ানো নয়; লক্ষ্য এমন একটি গণমুখী আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা, যেখানে প্রতিটি নাগরিক নিরাপদে, সাশ্রয়ী মূল্যে এবং নিজের চাহিদা অনুযায়ী আধুনিক ব্যাংকিং সেবা বেছে নিতে পারেন।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="23"><b data-path-to-node="23" data-index-in-node="0">লেখক II </b>দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক আন্তর্জাতিক অ্যাম্বাসেডর; প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="25"><b data-path-to-node="25" data-index-in-node="0">এডিটরস II </b>আলোচ্য নিবন্ধে প্রকাশিত পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ লেখকের নিজস্ব। দেশে আর্থিক অন্তর্ভুক্তি জোরদার, উদ্ভাবনী ফিনটেক সংস্কার এবং গ্রাহকবান্ধব ডিজিটাল রূপান্তরের স্বার্থে লেখাটি সম্পাদকীয় প্রমিতকরণসহ প্রকাশ করা হলো।</p>
<hr><hr>
<p data-path-to-node="25"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ই&#45;কমার্সে খাদ্য নিরাপত্তা: চাহিদার অসঙ্গতি, সহজ ইউবিআইডি ও ভোক্তার অধিকার</title>
<link>https://digibanglatech.news/190972</link>
<guid>https://digibanglatech.news/190972</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x_6a7149a69d6da.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 22 Sep 2026 23:54:49 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>ই-কমার্স খাদ্য নিরাপত্তা, এফ-কমার্স ভেজাল, ইউবিআইডি নিবন্ধন, বিএসটিআই মানদণ্ড, নিরাপদ খাদ্য আইন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, অনলাইন শপিং সচেতনতা, ই-ক্যাব</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<table border="1" style="border-collapse: collapse; width: 100%;"><colgroup><col style="width: 99.8688%;"></colgroup>
<tbody>
<tr>
<td>
<ul>
<li data-path-to-node="21,0,0">উৎপাদন ব্যয়ের গাণিতিক হিসেবে কম দামে বিক্রি বেশিরভাগ অনলাইন ঘি, মধু ও সরিষার তেল কৃত্রিম উপাদানে তৈরি।</li>
<li data-path-to-node="21,1,0">৩ লাখেরও বেশি এফ-কমার্স পেজের মধ্যে ৯০ শতাংশেরই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা আইনি অনুমোদন নেই।</li>
<li data-path-to-node="21,2,0">জটিল আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে ই-টিনের মতো ১০ মিনিটে স্বয়ংক্রিয় ও বিনামূল্যে ইউবিআইডি নিশ্চিত করা জরুরি।</li>
<li data-path-to-node="21,3,0">লজিস্টিকস ও কুরিয়ার সার্ভিসে পণ্য প্রেরণে ইউবিআইডি বাধ্যতামূলক করলে ভুয়া পেজের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হবে।</li>
<li data-path-to-node="21,4,0">প্রতিটি পণ্যের মোড়কে বিএসটিআই ল্যাব রিপোর্টের যাচাইযোগ্য কিউআর কোড যুক্ত করা এবং সচেতনভাবে প্রমাণসহ ভোক্তা অধিকারে অভিযোগ দায়ের করা প্রয়োজন।</li>
</ul>
</td>
</tr>
</tbody>
</table>
<p data-path-to-node="10">বাংলাদেশে ই-কমার্স এবং ফেসবুকভিত্তিক এফ-কমার্স ব্যবসার দ্রুত প্রসারের সাথে সাথে অনলাইনে খাবার কেনাবেচার দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ডিজিটাল লেনদেনের সহজলভ্যতা এবং হোম ডেলিভারির সুবিধার কারণে ঘি, মধু, সরিষার তেল, গুঁড়া মসলা, ভেষজ পাউডার, ফলের জুস, দই, মিষ্টি এবং হোমমেড কেকের বিক্রি এখন আকাশচুম্বী। '১০০% খাঁটি', 'অর্গানিক', 'ঘানি ভাঙা' কিংবা 'ঘরে তৈরি' মুখরোচক বিজ্ঞাপনী স্লোগানে সাধারণ ক্রেতারা বিভ্রান্ত হয়ে কোটি কোটি টাকার কেনাকাটা করছেন। অথচ এই চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে কাঁচামালের বাস্তব জোগানের তীব্র ঘাটতি, বিএসটিআই সনদের জালিয়াতি এবং প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির অভাবে এক নীরব জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় দানা বাঁধছে।</p>
<p data-path-to-node="11">ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (e-CAB) এবং ডিজিটাল কমার্স রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি ফোরামের (DCRAF) সমীক্ষা অনুযায়ী, দেশে অনলাইন বাণিজ্যের বাজার ২৫ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, যার প্রায় এক-চতুর্থাংশ খাদ্য ও নিত্যপণ্যের। অথচ খাতটিতে নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান মাত্র হাজারখানেক হলেও ৩ লাখের বেশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ফেসবুক পেজে ব্যবসা করছেন। এদের ৯০ শতাংশেরও বেশি বিক্রেতার কোনো ট্রেড লাইসেন্স, ভ্যাট নিবন্ধন, বিএসটিআই মানসনদ বা নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নেই। বেশিরভাগ পেজে প্রদর্শিত ল্যাব টেস্টের রিপোর্টগুলো হয় জাল, নয়তো পুরোনো। তদুপরি হোমমেড কেক, দই কিংবা খোলা ভেষজ পাউডারের ব্যাচভিত্তিক মান যাচাইয়ের সরকারি কোনো নজরদারি সেলও সক্রিয় নেই।</p>
<p data-path-to-node="12">বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সাম্প্রতিক অনুসন্ধান থেকে স্পষ্ট যে, অনলাইনে ‘খাঁটি গাওয়া ঘি’ হিসেবে বিক্রি হওয়া পণ্যের বড় অংশে ডেইরি ফ্যাটের অস্তিত্বই নেই; বরং মিল্ক ফ্যাট সরিয়ে সেখানে পাম অলিন, ডালডা, সুগন্ধি এসেন্স এবং বিপজ্জনক রাসায়নিক ডাই-মিথাইল হলুদ মেশানো হচ্ছে। খাঁটি সরিষার তেলে ঝাঁঝ বাড়াতে ব্যবহৃত হচ্ছে ক্ষতিকর খনিজ তেল ও রাসায়নিক। প্রাকৃতিক মধুর নামে বাজার সয়লাব সুগার ও গ্লুকোজ সিরাপের মিশ্রণে, যা উচ্চ তাপে ফোটানোর ফলে বিষাক্ত উপাদানে রূপ নিয়ে ফ্যাটি লিভার ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। গুঁড়া মসলায় টেক্সটাইল ডাই ও বিষাক্ত সিসা, ভেষজ পাউডারে দ্রুত ফল দেখাতে স্টেরয়েড, ফলের জুসে কৃত্রিম স্যাকারিন এবং মিষ্টি তৈরিতে কৃত্রিম স্টার্চ মেশানো দুধ ব্যবহারের কারণে মানুষ ক্যানসার ও কিডনি বিকল হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ছে।</p>
<p data-path-to-node="13">খাদ্যপণ্যের জালিয়াতি বোঝার সবচেয়ে অকাট্য প্রমাণ মেলে দেশীয় উৎপাদন ও চাহিদার সহজ অর্থনৈতিক সমীকরণে:</p>
<ul data-path-to-node="14">
<li>
<p data-path-to-node="14,0,0"><b data-path-to-node="14,0,0" data-index-in-node="0">ঘিয়ের ক্ষেত্রে:</b> প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, দেশে বছরে তরল দুধের উৎপাদন ১ কোটি ৪০ লাখ মেট্রিক টন হলেও চাহিদা ১ কোটি ৫০ লাখ টনের বেশি। ১ কেজি খাঁটি ঘি তৈরিতে গড়ে ১৬ থেকে ২০ লিটার দুধ লাগে। প্রতি লিটার কাঁচা দুধের দাম ৭০ থেকে ৮০ টাকা ধরলে কেবল কাঁচামালেই ব্যয় হয় ১,১০০ থেকে ১,৪০০ টাকা। প্রসেসিং, প্যাকেজিং ও পরিবহন মিলিয়ে ১ কেজি ঘিয়ের ন্যূনতম উৎপাদন ব্যয় দাঁড়ায় ১,৪০০ থেকে ১,৬০০ টাকা, যা বাজারে ১,৮০০ থেকে ২,৫০০ টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। অথচ অনলাইনে তা ৭০০ থেকে ১,০০০ টাকায় অহরহ মিলছে, যা প্রমাণ করে এর সিংহভাগই পাম অয়েল ও ডালডার মিশ্রণ।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="14,1,0"><b data-path-to-node="14,1,0" data-index-in-node="0">সরিষার তেলের ক্ষেত্রে:</b> কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, বার্ষিক উৎপাদিত ১১-১২ লাখ টন সরিষা থেকে সর্বোচ্চ ৪-৪.৫ লাখ টন তেল পাওয়া যায়। অথচ দেশে ভোজ্যতেলের বার্ষিক চাহিদা ২৪-২৫ লাখ টন। এই বিশাল ঘাটতির মধ্যেও অনলাইনে যে পরিমাণ ‘খাঁটি ঘানি ভাঙা’ তেল সয়লাব, তার অধিকাংশই কৃত্রিম ঝাঁঝযুক্ত পাম তেল।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="14,2,0"><b data-path-to-node="14,2,0" data-index-in-node="0">মধুর ক্ষেত্রে:</b> সুন্দরবন ও বাণিজ্যিক মৌ-চাষ থেকে বছরে সংগৃহীত ১০-১২ হাজার টন মধুর বিপরীতে বাজারে বিক্রি হয় ২০ হাজার টনের বেশি। এই অতিরিক্ত ৮-১০ হাজার টন ব্যবধান তৈরি করছে কারখানাভিত্তিক কৃত্রিম চিনির শিরা।</p>
</li>
</ul>
<p data-path-to-node="15">দেশে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন (২০০৯), নিরাপদ খাদ্য আইন (২০১৩), বিএসটিআই আইন (২০১৮) এবং ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা (২০২১) থাকা সত্ত্বেও কার্যকর প্রতিকার মিলছে না। স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় ফেসবুকভিত্তিক পেজগুলোর বিরুদ্ধে প্রচলিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা যায় না। একটি পেজ বন্ধ হলে নাম বদলে আরেকটি পেজ খুলে সহজেই প্রতারণা চালিয়ে যাওয়া যায়।</p>
<p data-path-to-node="16">এই সংকট উত্তরণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ইউনিক বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন (UBID) প্রক্রিয়াটিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত করতে হবে। জটিল নথিপত্রের কারণে গত কয়েক বছরে মাত্র হাতেগোনা উদ্যোক্তা এটি নিতে পেরেছেন। এনআইডি ও জাতীয় তথ্যের সাথে সংযুক্ত করে ই-টিনের (e-TIN) মতো সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়, বিনামূল্যে এবং সর্বোচ্চ ১০ মিনিটে অনলাইন ইউবিআইডি পাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এর মাধ্যমে লাখ লাখ উদ্যোক্তার জাতীয় ডাটাবেজ তৈরি হবে, যা দিয়ে নীতি-নির্ধারকেরা কার্যকর তদারকি চালাতে পারবেন।</p>
<p data-path-to-node="17">একই সাথে কুরিয়ার ও লজিস্টিকস কোম্পানিগুলোর ওপর কঠোর বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে হবে, যাতে বৈধ ইউবিআইডি ছাড়া কোনো খাদ্যপণ্যের পার্সেল বুকিং নেওয়া না হয়। এর ফলে অনিবন্ধিত অসাধু বিক্রেতারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লেনদেন ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। পাশাপাশি বিএসটিআই-এর ল্যাব রিপোর্টের সত্যতা যাচাইয়ে প্রতিটি খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে যাচাইযোগ্য কিউআর (QR) কোড থাকা বাধ্যতামূলক করা দরকার।</p>
<p data-path-to-node="18">আইনি সুরক্ষার বাইরে সাধারণ ক্রেতার সচেতনতাই বড় প্রতিরোধ। অবিশ্বাস্য স্বল্পমূল্যে পণ্য কেনা পরিহার করে বিক্রেতার স্থায়ী পরিচয় ও ইউবিআইডি যাচাই করা উচিত। লেনদেনের ক্যাশ মেমো ও চ্যাট রেকর্ড সংরক্ষণ করা থাকলে প্রতারণার শিকার হলে ৩০ দিনের মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা যায়, যেখানে প্রমাণিত জরিমানার ২৫ শতাংশ অর্থ অভিযোগকারী গ্রাহককে দেওয়া হয়।</p>
<p data-path-to-node="19">অনলাইন খাদ্য বাণিজ্য দেশের অর্থনীতির বিরাট সম্ভাবনা। কিন্তু নিয়ন্ত্রণহীন ভেজাল এই খাতটিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রশাসনিক অটোমেশন, সহজ ইউবিআইডি এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমেই কেবল এই খাতকে নিরাপদ ও টেকসই করা সম্ভব।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="22"><b data-path-to-node="22" data-index-in-node="0">লেখক || </b>ই-কমার্স বিশ্লেষক এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="24"><b data-path-to-node="24" data-index-in-node="0">এডিটরস নোট || </b>আলোচ্য নিবন্ধে প্রকাশিত তথ্য ও মতামত লেখকের নিজস্ব বিশ্লেষণ। ডিজিটাল বাণিজ্যে জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন নিশ্চিতের তাগিদে লেখাটি সম্পাদকীয় পরিমার্জনসহ প্রকাশ করা হলো।</p>
<hr><hr>
<p data-path-to-node="24"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল সহিংসতাই বাস্তব সহিংসতা: কৃত্রিম বিভাজনের ফাঁদ ও নাগরিক অধিকার</title>
<link>https://digibanglatech.news/190974</link>
<guid>https://digibanglatech.news/190974</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x580_6ab6bbcd1808b.jpg" length="121776" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 21 Sep 2026 00:22:23 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>ডিজিটাল সহিংসতা, প্রযুক্তি-সহায়ক লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, নারীদের নাগরিক অধিকার, সাইবার হয়রানি, অনলাইন ব্ল্যাকমেলিং, ডক্সিং ও ডিপফেক, হেল্পলাইন ১০৯, ডিজিটাল ন্যায়বিচার</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<table border="1" style="border-collapse: collapse; width: 100.04%;"><colgroup><col style="width: 99.8794%;"></colgroup>
<tbody>
<tr>
<td>
<ul>
<li data-path-to-node="18,0,0">ডিজিটাল দুনিয়া থেকে অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা লগ অফ করা কোনো স্থায়ী প্রতিকার নয়, বরং প্রকাশ্য নাগরিক জীবন থেকে উচ্ছেদ।</li>
<li data-path-to-node="18,1,0">শারীরিক পদধ্বনি আর ডিজিটাল কমেন্টের মধ্যে শরীর বা কর্টিসল হরমোন কোনো পার্থক্য খোঁজে না; মানসিক আঘাত সমপর্যায়ের।</li>
<li data-path-to-node="18,2,0">বিবিএস-এর তথ্যানুযায়ী, বাংলাদেশের ৮৯ শতাংশ নারী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্তত একবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন।</li>
<li data-path-to-node="18,3,0">কোনো দৃশ্যমান কালশিটে দাগের জন্য অপেক্ষা করে বিচার করতে গেলে ডিজিটাল অপরাধের গভীর সামাজিক আঘাত আড়াল থেকে যায়।</li>
<li data-path-to-node="18,4,0">হেল্পলাইন ১০৯-এর কল রেকর্ড কেবল সংখ্যা নয়; জরুরি ভিত্তিতে রাষ্ট্র ও প্ল্যাটফর্মগুলোর সমন্বিত হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।</li>
</ul>
</td>
</tr>
</tbody>
</table>
<p data-path-to-node="10">ডিজিটাল দুনিয়া থেকে 'লগ অফ' করা বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা কোনো প্রতিকার নয়; এটি মূলত একজন নাগরিককে তার প্রকাশ্য সামাজিক ও নাগরিক জীবন থেকে উচ্ছেদের নামান্তর।</p>
<p data-path-to-node="11">সংবাদকক্ষ থেকে শুরু করে কিছু আদালতের এজলাসেও আজও একটি আপাত-নম্র কিন্তু মারাত্মক মানসিক প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়—যেখানে অনলাইন সহিংসতাকে অপেক্ষাকৃত 'লঘু' ক্ষতি হিসেবে দেখা হয়: এটিকে হয়তো দুর্ভাগ্যজনক কিংবা কুৎসিত বলা হয়, কিন্তু পূর্ণাঙ্গ ‘সহিংসতা’ বলে গণ্য করা হয় না। আর এই সমস্যার প্রস্তাবিত দাওয়াই হিসেবে দেওয়া হয় স্ব-উদ্যোগী সমাধানের পরামর্শ—'পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন', 'অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করুন', কিংবা 'ট্রলদের পাত্তা দেবেন না'। এই উপদেশগুলো মূলত নারীদের রাজপথ ও রান্নাঘরে যুগ যুগ ধরে দেওয়া পুরোনো নিষেধাজ্ঞারই আধুনিক সংস্করণ: "ঘর থেকে বেরিয়ো না, ওই ঘর ছেড়ে চলে যাও।" অথচ সেই 'ঘর' বা প্রকাশ্য আঙিনাই আজ কর্মসংস্থান, ব্যাংকিং, শিক্ষাঙ্গন, সাংবাদিকতা এবং রাষ্ট্রীয় রাজনীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু।</p>
<p data-path-to-node="12">স্মার্টফোনের যুগ শুরুর বহু আগেই লিজ কেলি যৌন সহিংসতার ধারাবাহিক রূপরেখা (Continuum of Sexual Violence) নিয়ে লিখেছিলেন। সমকালীন বাস্তবতাকে তা আজও এক নির্মম নির্ভুলতায় চিত্রিত করে। এই ধারাবাহিক কাঠামোর মূল কথা কেবল যৌন নিপীড়নের মাত্রাভেদে অপরাধকে ছোট-বড় হিসেবে তালিকাভুক্ত করা নয়; বরং এটি দেখানো যে, সহিংসতার বহুমুখী রূপের একটাই উদ্দেশ্য—নারীদের মুক্ত বিচরণের পরিসর সংকুচিত করা এবং জনপরিসরে উপস্থিত থাকার মাশুল হিসেবে সাধারণ দর্শকমহলকে ভীতি প্রদর্শন করা। প্রযুক্তি-সহায়ক লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা (TFGBV) কখনোই সনাতন শারীরিক আঘাত বা চারদেয়ালে বন্দিত্বের বিকল্প নয়; বরং এটি ডিভাইসের পর্দা, বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্ম এবং সিন্থেটিক মিডিয়ার মাধ্যমে সেই নিপীড়নের ভৌগোলিক সীমানাকে আরও বিস্তৃত করে মাত্র। একজন রক্তমাংসের অন্ধ অনুসারী (Stalker) আর সুসংগঠিত ‘ডক্সিং’ প্রচারণা কোনো আলাদা জগৎ নয়; এগুলো মূলত একই শিকারি বা একই চক্রের ব্যবহৃত দুটি ভিন্ন প্রবেশদ্বার।</p>
<p data-path-to-node="13">মানুষের শরীর এই মানসিক ক্ষতের প্রতিটি আঘাত অনুভব করে। ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। রক্তের কর্টিসল হরমোন একটি হিংস্র শারীরিক পদধ্বনি আর একটি বিদ্বেষমূলক কমেন্টের মধ্যে কোনো তফাত করে না। ফলে একজন নারী প্রথমে ডিজিটাল ফিড থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন, তারপর সংবাদপত্রের বাইলাইন থেকে সরে দাঁড়ান এবং একপর্যায়ে রাজনৈতিক বা প্রাতিষ্ঠানিক প্রার্থিতা থেকেই পিছিয়ে যান। ইউএন উইমেন (UN Women)-এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে—৩৮ শতাংশ নারী ব্যক্তিগতভাবে অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছেন এবং ৮৫ শতাংশ নারী এর প্রত্যক্ষদর্শী; সহিংসতার আশঙ্কায় ৪০ শতাংশের বেশি নারী আত্ম-নজরদারি বা নিজস্ব মতপ্রকাশ সংকুচিত করেছেন এবং প্রতি পাঁচজনে একজন পেশাগত প্রকাশ্য আলোচনা থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন। বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) এক তথ্যে দেখা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী নারীদের মধ্যে ৮৯ শতাংশই অন্তত একবার অনলাইনে নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অথচ তাদের মধ্যে প্রতি পাঁচজনে একজনও আইনি প্রতিকার বা অভিযোগের পথ বেছে নেন না। যে ক্ষত এত সর্বব্যাপী এবং যার অভিযোগের হার এত কম, তা নিছক কোনো অনলাইন কনটেন্টের সমস্যা নয়—এটি একটি গভীর নাগরিক অধিকার সংকট।</p>
<p data-path-to-node="14">আমাদের সনাতন আইনি কাঠামো আজও সেই সেকেলে ফরেনসিক যুক্তির ওপর হোঁচট খাচ্ছে—যেখানে মনে করা হয়, কোনো অপরাধের দৃশ্যমান শারীরিক চিহ্ন না থাকলে তা অপরাধ নয়। যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে কারও মুখাবয়ব বা সিন্থেটিক ছবি তৈরি করা হয়, তখন বহু তদন্ত কর্মকর্তা কিংবা স্বজন আজও প্রশ্ন তোলেন—ক্ষতিটা কি সত্যিই “বাস্তব”? এই নির্লজ্জ প্রশ্নটিই প্রমাণ করে আমরা এক কৃত্রিম ও মিথ্যা বিভাজনের ফাঁদে বন্দি। এই অপরাধের মূল ক্ষত লুকিয়ে থাকে ছবিটির অবাধ ছড়িয়ে পড়ায়, পরিবারের সাথে সম্মান রক্ষার দেনদরবারে, চাকরি হারানোর মর্মান্তিকতায় এবং সন্তানের সামনে ছড়িয়ে পড়া সেই কলঙ্কিত নথির সামাজিক যন্ত্রণায়। যে বিচারব্যবস্থা কেবল চামড়ার ওপর ক্ষতের কালশিটের অপেক্ষা করে, তা বরাবরই এই ডিজিটাল সহিংসতার সারবত্তা অনুধাবনে ব্যর্থ হবে।</p>
<p data-path-to-node="15">বাংলাদেশে জাতীয় হেল্পলাইন ‘১০৯’-এ প্রতিদিন অনলাইন ব্ল্যাকমেলিং, অনুমতিহীন অন্তরঙ্গ ছবি প্রকাশ, পরিচয় জালিয়াতি (Impersonation) এবং সেক্সটরশনের শত শত ফোন আসছে। যারা এই বিপদে কল করছেন, তারা নিছক কোনো ব্যক্তিগত মেজাজ বা অনুভূতির বর্ণনা দিচ্ছেন না; তারা বর্ণনা করছেন এমন এক সুপরিকল্পিত নির্মম চক্রের, যার চূড়ান্ত পরিণতি রূপ নেয় কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা প্রকাশ্য রাজপথ থেকে তাদের পুরোপুরি ছিটকে পড়ার মাধ্যমে। যে রাষ্ট্র কেবল ভুক্তভোগীর এই আর্তনাদ কলরেকর্ডে নথিভুক্ত করে কিন্তু অপরাধের মূল চক্রকে ভেঙে দেওয়ার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তোলে না, সেই রাষ্ট্র প্রকারান্তরে এই মিথ্যা বিভাজনকেই নিজস্ব সরকারি নীতি হিসেবে মেনে নেয়।</p>
<p data-path-to-node="16">যতদিন না দেশের আইন, গণমাধ্যমের সম্পাদকীয় নীতিমালা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর বিধিমালার কেন্দ্রবিন্দুতে ডিজিটাল সহিংসতাকে উন্মুক্ত নাগরিক চলাচলের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে বিবেচনা করা হবে, ততদিন এর প্রতিকার কেবল ভুক্তভোগী নারীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া এক ব্যক্তিগত দায় হিসেবেই রয়ে যাবে। ‘ঢাকা ডায়ালগ’-এ এই সম্মিলিত সংজ্ঞায়নের জোর দাবি মূলত ইন্টারনেটের 'শূন্যতার তত্ত্ব' (Vacuum theory) কবর দেওয়ার এক সাহসী প্রচেষ্টা। ডিজিটাল দুনিয়ায় কোনো শূন্যতা নেই; এখানে কেবল এমন কিছু নাগরিক পরিসর রয়েছে, যেখান থেকে প্রতিদিন নারীদের মুখ বুজে বেরিয়ে যেতে বলা হচ্ছে।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="19"><b data-path-to-node="19" data-index-in-node="0">লেখক || </b>ধান উদ্ভাবন কর্মকর্তা ও মহাপরিচালক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। তিনি একজন কূটনীতিক ও উদ্ভাবন কৌশলবিদ; কাজ করছেন বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুশাসনের সন্ধিক্ষণে। যুক্ত রয়েছেন Digital@UNGA, শিক্ষা ও এআই, সার্বভৌম কম্পিউট এবং অর্থনৈতিক কূটনীতির নীতিগত চর্চায়।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="21"><b data-path-to-node="21" data-index-in-node="0">এডিটরস নোট || </b>আলোচ্য নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত ও তাত্ত্বিক পর্যবেক্ষণ লেখকের নিজস্ব। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নাগরিকের অধিকার রক্ষা, লিঙ্গবৈষম্য নিরসন এবং জনসচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবে লেখাটি সম্পাদকীয় প্রমিতকরণসহ প্রকাশ করা হলো।</p>
<hr><hr>
<p data-path-to-node="21"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল পরিসরে নারীর নিরাপত্তা: সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি কেবল কাগজে নয়, বাস্তবে চাই</title>
<link>https://digibanglatech.news/190597</link>
<guid>https://digibanglatech.news/190597</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x580_6ab1f80ee12b5.jpg" length="155061" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 18 Sep 2026 09:38:59 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>অনলাইন নিরাপত্তা, নারী ও সাইবার সহিংসতা, টিএফজিবিভি, ডিজিটাল অধিকার, আইনি প্রতিকার, প্ল্যাটফর্ম জবাবদিহি, ইউএনএফপিএ, সাইবার সুরক্ষা</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<ul>
<li data-path-to-node="20,0,0">প্রযুক্তির অগ্রযাত্রার সমান্তরালে সাইবার বুলিং ও ডিপফেকের মাধ্যমে নারীদের লক্ষ্যবস্তু করার হার মারাত্মকভাবে বাড়ছে।</li>
<li data-path-to-node="20,1,0">ইউএনএফপিএর তথ্যানুযায়ী, বিশ্বের অর্ধেকের বেশি নারী অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি সুরক্ষার বাইরে।</li>
<li data-path-to-node="20,2,0">ফৌজদারি শাস্তির পাশাপাশি দেওয়ানি প্রতিকার এবং প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ (Tech-neutral) আধুনিক আইন প্রণয়ন জরুরি।</li>
<li data-path-to-node="20,3,0">২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ক্ষতিকর কনটেন্ট অপসারণে বৃহৎ প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।</li>
<li data-path-to-node="20,4,0">ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ, বিশেষায়িত তদন্ত এবং ভুক্তভোগী সুরক্ষায় রুদ্ধদ্বার শুনানির আইনি বাধ্যবাধকতা প্রয়োজন।</li>
</ul>
<p data-path-to-node="10"><strong><span style="font-size: 12pt;">আ</span></strong>মরা এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে মানুষের বাস্তব জীবন আর ভার্চুয়াল জগতের মধ্যকার সীমারেখা কার্যত মুছে গেছে। তবে প্রযুক্তির এই অভাবনীয় অগ্রযাত্রার সাথে সাথে একটি অন্ধকার দিক ক্রমেই প্রকট হয়ে উঠছে—তা হলো ‘প্রযুক্তি-সহায়ক লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা’ বা টেকনোলজি-ফ্যাসিলিটেটেড জেন্ডার-বেসড ভায়োলেন্স (TFGBV)। সাইবার বুলিং, সম্মতিবিহীন অন্তরঙ্গ ছবি বা ডিপফেক ছড়িয়ে দেওয়া, অনলাইন স্টকিং থেকে শুরু করে চরিত্রহনন- ডিজিটাল পরিসরে নারী ও কন্যাশিশুরা প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন কৌশলে সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। দুঃখজনক হলেও সত্য, বাস্তব পৃথিবীর মতো ডিজিটাল জগতেও নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক আইন ও বিচারব্যবস্থা এখনো অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে।</p>
<p data-path-to-node="11">জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)-এর সাম্প্রতিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে উদ্বেগজনক চিত্র সামনে আসে। পরিসংখ্যান বলছে, বিশ্বের অর্ধেকেরও বেশি নারী এখনো অনলাইন সহিংসতার বিরুদ্ধে কার্যকর আইনি সুরক্ষার বাইরে। বিশ্বের মাত্র ৪০ শতাংশের কম দেশে সাইবার হয়রানি বিরোধী সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে এবং দেওয়ানি প্রতিকারের সুযোগ রয়েছে মাত্র ১৪ শতাংশ দেশে। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দেয় যে, আইন যেখানে রয়েছে, সেখানেও তা দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সাথে তাল মেলাতে পারছে না। ফলে অপরাধীরা প্রতিনিয়ত দায়মুক্তির সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে।</p>
<p data-path-to-node="12">আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন ও সনদ—যেমন CEDAW, ICCPR কিংবা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সাম্প্রতিক রেজ্যুলেশন—স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছে: "<strong>অফলাইনে মানুষের যে অধিকার রয়েছে, তা অনলাইনেও সমানভাবে সুরক্ষিত হতে হবে"</strong>। কিন্তু এই নীতিকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে প্রয়োজন একটি আধুনিক, কার্যকর ও মানবাধিকারভিত্তিক আইনি মডেল কাঠামো।</p>
<p data-path-to-node="13"><strong>আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে চারটি মৌলিক নীতিকে ভিত্তি হিসেবে ধরা জরুরি: </strong></p>
<ul>
<li>১. সম্মতি (Consent): আইনের কেন্দ্রবিন্দু হতে হবে ‘সম্মতি’, অপরাধীর তথাকথিত ‘উদ্দেশ্য’ নয়। সম্মতি হতে হবে অবাধ, সুনির্দিষ্ট ও প্রত্যাহারযোগ্য।</li>
<li>২. স্বায়ত্তশাসন ও এজেন্সি (Autonomy &amp; Agency): ভুক্তভোগীকে কেবল ‘রক্ষার পাত্র’ হিসেবে না দেখে তার নিজস্ব পরিচয়, তথ্য ও সিদ্ধান্তের ওপর অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।</li>
<li>৩. আন্তঃবিভাগীয়তা (Intersectionality): প্রান্তিক, সংখ্যালঘু, প্রতিবন্ধী নারী বা গণমাধ্যমে কাজ করা নারীদের বর্ধিত ঝুঁকি বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।</li>
<li>৪. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা (Transparency &amp; Accountability): রাষ্ট্র ও বৃহৎ প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম—উভয়কেই জনস্বার্থে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে।</li>
</ul>
<p data-path-to-node="14">একটি পূর্ণাঙ্গ আইনি কাঠামোর জন্য ফৌজদারি শাস্তির পাশাপাশি দেওয়ানি ও প্রশাসনিক প্রতিকারের সমান গুরুত্ব দেওয়া দরকার। আইনকে হতে হবে প্রযুক্তি-নিরপেক্ষ (Tech-neutral), যেন নতুন কোনো এআই বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম আসার সাথে সাথে আইনের কার্যকারিতা ফুরিয়ে না যায়। যুক্তরাজ্যের ‘অনলাইন সেফটি অ্যাক্ট ২০২৩’-এর মতো স্পষ্ট আইন থাকা দরকার, যেখানে সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি বা কনটেন্ট প্রকাশ সরাসরি অপরাধ; অপরাধীর ক্ষতিকর উদ্দেশ্য প্রমাণের অজুহাতে মামলা ঝুলে থাকার সুযোগ সেখানে নেই।</p>
<p data-path-to-node="15">একই সাথে প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর কঠোর আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপের সময় এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘Take It Down Act’ কিংবা জার্মানির ‘NetzDG’-এর দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে নির্দিষ্ট সময়ের (যেমন ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা) মধ্যে ক্ষতিকর বা সম্মতিবিহীন কনটেন্ট অপসারণের নোটিশ কার্যকরের বাধ্যবাধকতা থাকা প্রয়োজন; ব্যর্থতায় বড় অঙ্কের জরিমানা ও প্রাতিষ্ঠানিক শাস্তির সুস্পষ্ট বিধান থাকতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="16">পাশাপাশি তদন্ত প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংস্কার আবশ্যক। সনাতনী পুলিশিং দিয়ে সাইবার অপরাধের ডিজিটাল এভিডেন্স সংগ্রহ ও মেটাডেটা সংরক্ষণ সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন বিশেষায়িত তদন্ত প্রোটোকল, নিয়মিত প্রশিক্ষণ এবং সাক্ষ্য আইনে ডিজিটাল প্রমাণের সুস্পষ্ট গ্রহণযোগ্যতা। বিচার প্রক্রিয়ায় ভুক্তভোগীর পরিচয় সুরক্ষায় ছদ্মনাম ব্যবহার ও ইন-ক্যামেরা বা রুদ্ধদ্বার শুনানির মতো সংবেদনশীল ব্যবস্থাও রাখা চাই।</p>
<p data-path-to-node="17">তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে মনে রাখা দরকার, সুরক্ষার নামে যেন এমন কোনো বিধিনিষেধ তৈরি না হয় যা নাগরিকদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করে। আবার আইনের কোনো অসতর্ক ফাঁদে পড়ে ভুক্তভোগী নারী নিজেই যেন পুনরায় হেনস্তার শিকার না হন।</p>
<p data-path-to-node="18">ডিজিটাল দুনিয়া কোনো আইনহীন প্রান্ত নয়। নারীর জন্য ডিজিটাল মাধ্যমকে নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক করতে হলে বিচ্ছিন্ন কোনো পদক্ষেপ নয়, বরং একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা, সুনির্দিষ্ট বাজেট এবং কঠোর আইনি কাঠামোর দ্রুত বাস্তবায়ন প্রয়োজন। অনলাইন পরিসরে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে সমতা ও টেকসই উন্নয়নের যেকোনো প্রতিশ্রুতিই অর্থহীন হয়ে পড়বে।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="21"><b data-path-to-node="21" data-index-in-node="0">লেখক || </b>জেন্ডার-বেসড ভায়োলেন্স (GBV) বিশেষজ্ঞ, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (UNFPA)</p>
<hr>
<p data-path-to-node="23"><b data-path-to-node="23" data-index-in-node="0">এডিটরস নোট || </b>আলোচ্য নিবন্ধে ব্যক্ত মতামত লেখকের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ ও নীতিগত বিশ্লেষণ। ডিজিটাল পরিসরে নারীর মৌলিক মানবাধিকার ও কার্যকর সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের তাগিদে লেখাটি সম্পাদকীয় প্রমিতকরণসহ প্রকাশ করা হলো।</p>
<hr><hr>
<p data-path-to-node="23"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>প্রযুক্তির নগর শেনজেন ও বাংলাদেশের নাগরিক ভাবনার ভবিষ্যৎ</title>
<link>https://digibanglatech.news/189954</link>
<guid>https://digibanglatech.news/189954</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x580_6aa98a69404cf.jpg" length="51401" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 15 Sep 2026 20:14:41 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>শেনচেন নগর ব্যবস্থাপনা, প্রযুক্তি ও নাগরিক সেবা, ক্যান্টন ফেয়ার, আইএসপিএবি, টেকসই নগরায়ণ, ইন্টারনেট ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্থানীয় সরকার সংস্কার, সেনজেন প্রযুক্তি বিপ্লব</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p></p>
<table border="1" style="border-collapse: collapse; width: 99.967%; height: 100px;"><colgroup><col style="width: 100%;"></colgroup>
<tbody>
<tr style="height: 100px;">
<td style="height: 100px;">
<ul>
<li data-path-to-node="46,0,0">চীনের প্রযুক্তি নগর সেনজেন পরিদর্শন ছিল নাগরিক সেবা ও প্রযুক্তির সমন্বিত রূপ দেখার এক বাস্তব অভিজ্ঞতা।</li>
<li data-path-to-node="46,1,0">কেবল উড়ালসড়ক বা বড় ভবন নয়; কার্যকর ট্রাফিক, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, দ্রুতগতির ইন্টারনেট ও জনকল্যাণই প্রকৃত আধুনিকতা।</li>
<li data-path-to-node="46,2,0">সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব সরকারি অর্থের অপচয় বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনার অন্যতম প্রধান সংকট।</li>
<li data-path-to-node="46,3,0">শুধু প্রযুক্তির ‘ভোক্তা’ হয়ে থাকলে চলবে না; গবেষণা ও নীতিগত প্রণোদনার মাধ্যমে ‘উৎপাদক’ হওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।</li>
<li data-path-to-node="46,4,0">নাগরিকের অভিযোগ ও সেবায় ওপেন ড্যাশবোর্ড এবং স্থানীয় সরকার কাঠামোর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।</li>
</ul>
</td>
</tr>
</tbody>
</table>
<p data-path-to-node="12"></p>
<p data-path-to-node="12">গত ৯ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর চীনের কুয়াংচৌ শহরে ঐতিহ্যবাহী আসন্ন সিআইও ফেয়ারের পার্শ্ববর্তী প্রযুক্তি নগরী সেনজেন পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছিল আমার। সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সিআইওই চায়না আন্তর্জাতিক অপটোইলেকট্রনিক প্রদর্শনী (সিআইও) থেকে আমার সঙ্গে আইএসপি, আইটি ও প্রযুক্তিসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও শীর্ষ প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরাও এই মেলায় অংশ নেন।</p>
<p data-path-to-node="12">এটি বলে রাখা ভালো যে, এই মেলায় অংশগ্রহণ ছিল সবার ব্যক্তিগত বা নিজ প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে। সেখানে দেখা হয় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) মহাসচিব নাজমুল করিম ভূঁইয়া, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মিঠু হাওলাদার, সেলিমসহ প্রায় ৫০ জন সদস্যের সঙ্গে। তাঁরা তিন দিন ধরে মেলা ঘুরে দেখেন, আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন, উন্নত প্রযুক্তি পণ্যের ক্রয়াদেশ দেন এবং সরাসরি অত্যাধুনিক হাই-টেক ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করেন।</p>
<p data-path-to-node="13">সিআইও ফেয়ার মূলত চীনের উৎপাদন, আধুনিক প্রযুক্তি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার অন্যতম বৃহৎ প্রদর্শনী। তবে এই সফর কেবল একটি বাণিজ্যিক প্রদর্শনী দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এটি ছিল একটি দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা, সহজলভ্য নাগরিক সেবা এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন রূপরেখাকে অত্যন্ত কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করার এক বিরল অভিজ্ঞতা।</p>
<p data-path-to-node="14">সেনজেন শহর ঘুরে এবং চীনের প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক ব্যবস্থাপনার নানা দিক গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে মনে একটি প্রশ্ন বারবার জেগেছে—চীন যেভাবে প্রযুক্তিকে সরাসরি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে একীভূত করে এগিয়ে চলেছে, বাংলাদেশ কি একইভাবে প্রযুক্তিকে সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক কল্যাণ ও জীবনমানের অংশ করে তুলতে পারছে?</p>
<p data-path-to-node="15">বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের ব্যবধান কেবল জিডিপি প্রবৃদ্ধি বা আকাশচুম্বী অবকাঠামোতেই সীমাবদ্ধ নয়। এই পার্থক্য সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা, নিখুঁত বাস্তবায়ন, নাগরিক সেবা নিশ্চিতকরণ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, স্থানীয় সরকারের স্বায়ত্তশাসন এবং ভবিষ্যৎমুখী চিন্তাভাবনার মধ্যেও স্পষ্ট। তবে এই তুলনার উদ্দেশ্য চীনের সবকিছুকে অন্ধভাবে আদর্শ কিংবা বাংলাদেশের অর্জনকে খাটো করে দেখা নয়। বরং একটি উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক ও অধিকারকর্মী হিসেবে চীনের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বাংলাদেশ কীভাবে শিক্ষা নিতে পারে, সেই নীতিগত পথরেখা খোঁজাটাই মূল লক্ষ্য।</p>
<p data-path-to-node="16"><strong><span style="font-size: 10pt;">সেনজেন: নিছক শহর নয়, পরিকল্পিত উন্নয়নের মডেল</span></strong></p>
<p data-path-to-node="17">চীনের সেনজেন একসময় ছিল একটি ক্ষুদ্র ও অনুন্নত সীমান্ত জনপদ। ১৯৭৯-৮০ সালে দেং জিয়াওপিংয়ের অর্থনৈতিক সংস্কার ও প্রথম বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (SEZ) হিসেবে ঘোষণার পর, কয়েক দশকের ব্যবধানে শহরটি আজ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি, হার্ডওয়্যার উৎপাদন ও উদ্ভাবনী হাব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।</p>
<p data-path-to-node="18">সেনজেনের রূপান্তর প্রমাণ করে—একটি নগরীকে আধুনিক করে তোলার অর্থ কেবল কাচের বহুতল ভবন, প্রশস্ত রাজপথ বা দৃষ্টিনন্দন উড়ালসড়ক নির্মাণ নয়। একটি আধুনিক শহরের প্রকৃত শক্তি নিহিত থাকে তার সমন্বিত গণপরিবহন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্ক, পরিবেশবান্ধব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জননিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং হয়রানিমুক্ত ডিজিটাল পাবলিক সার্ভিসে।</p>
<p data-path-to-node="19">শহরের প্রতিটি কোণে প্রযুক্তির প্রয়োগ, বৈদ্যুতিক বাসের সুশৃঙ্খল নেটওয়ার্ক, সড়ক ব্যবস্থাপনা এবং উন্মুক্ত জনপরিসরের বিন্যাস দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়—সেখানে নগর উন্নয়নকে একটি দীর্ঘমেয়াদি, সামগ্রিক পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখা হয়। বর্তমানের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আগামী দশকের জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পায়ন ও আধুনিক সেবার চাপও আগাম বিবেচনায় নেওয়া হয়।</p>
<p data-path-to-node="20">অন্যদিকে, আমাদের দেশে নগর উন্নয়ন প্রায়ই বিচ্ছিন্ন কোনো মেগা প্রকল্প, নতুন ফ্লাইওভার বা সড়ক নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু প্রকল্প শেষের পর তা কীভাবে পরিচালিত হবে, আন্তঃসংস্থার সমন্বয় কীভাবে হবে এবং নাগরিকের প্রাত্যহিক দুর্ভোগ কতটা কমবে—সেই প্রশ্নগুলো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে উপেক্ষিত থেকে যায়। সেনজেনের অভিজ্ঞতা চোখে আঙুল দিয়ে দেখায়—অবকাঠামো নির্মাণই শেষ কথা নয়; তাকে কার্যকর, টেকসই ও নাগরিকবান্ধব করাই প্রকৃত উন্নয়ন।</p>
<p data-path-to-node="21"><strong><span style="font-size: 10pt;">প্রযুক্তি যখন প্রদর্শনীর বদলে নাগরিক জীবনের অংশ</span></strong></p>
<p data-path-to-node="22">সিআইও ফেয়ারে আধুনিক ইলেকট্রনিকস, স্মার্ট আইওটি ডিভাইস, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অটোমেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সমন্বিত যোগাযোগ প্ল্যাটফর্ম সম্পর্কে গভীর ধারণা পাওয়ার সুযোগ হয়েছে। এসব আধুনিক প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্যও অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।</p>
<p data-path-to-node="23">আজকের বিশ্বে প্রযুক্তি কেবল দামি স্মার্টফোন বা ইন্টারনেটের চটকদার বিজ্ঞাপনে সীমাবদ্ধ নয়। জ্বালানি বণ্টন, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, টেলিমেডিসিন, স্বয়ংক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি নথিপত্র ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিই মূল চালিকাশক্তি।</p>
<p data-path-to-node="24">চীনের স্মার্ট নগর ব্যবস্থাপনা দেখে উপলব্ধি করা যায়—বিদেশ থেকে কেবল দামি গ্যাজেট বা সার্ভার আমদানি করলেই 'স্মার্ট নগরী' গড়ে ওঠে না। এর জন্য প্রয়োজন সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার (Interoperable Database), প্রশিক্ষিত জনবল, শতভাগ স্থিতিশীল বিদ্যুৎ গ্রিড, মানসম্মত ব্যান্ডউইথ এবং সর্বোপরি একটি জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক কাঠামো।</p>
<p data-path-to-node="25">আমরা প্রায়ই 'ডিজিটাল' বা 'স্মার্ট' সেবার কথা বলি। কিন্তু বাস্তবে দেশের সাধারণ নাগরিককে একটি সাধারণ সনদপত্র বা সরকারি সেবা নিতে আজও দীর্ঘ লাইনে দাঁড়াতে হয়, এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে ঘুরতে হয় এবং সীমাহীন ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়। প্রযুক্তি তখনই সফল, যখন নাগরিক ঘরে বসেই কয়েক ক্লিকে জন্মনিবন্ধন, ভূমিসেবা, কর পরিশোধ কিংবা অভিযোগ নিষ্পত্তির সুনির্দিষ্ট ফলাফল হাতে পান। প্রযুক্তি যদি নাগরিকের সময়, অর্থ ও প্রশাসনিক হয়রানি লাঘব করতে না পারে, তবে তা নিছক প্রচারণার প্রযুক্তি—জনকল্যাণের প্রযুক্তি নয়।</p>
<p data-path-to-node="26"><span style="font-size: 10pt;"><b data-path-to-node="26" data-index-in-node="0">নগর পরিচালনায় সমন্বয়হীনতা ও বাংলাদেশের সংকট</b></span></p>
<p data-path-to-node="27">সেনজেনের মতো মেগাসিটিতে নগর ব্যবস্থাপনা এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। বিপুল জনসংখ্যা ও শিল্পকারখানা পরিচালনার জন্য সেখানে রয়েছে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সংস্কৃতি।</p>
<p data-path-to-node="28">বাংলাদেশের নগর ব্যবস্থাপনার প্রধানতম সংকট হলো দায়িত্বের তীব্র বিভাজন এবং আন্তঃসংস্থার চরম সমন্বয়হীনতা। সড়ক নির্মাণ করে একটি বিভাগ, পানি নিষ্কাশন ও ড্রেনেজ করে অন্য সংস্থা, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ করে পৃথক দুটি দপ্তর, আবার ইন্টারনেট বা ক্যাবল অপারেশনের জন্য চলে আলাদা লাইন টানাটানি। ফলে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক সড়ক নির্মাণের কয়েক মাসের মধ্যেই অন্য সংস্থার কাজের নামে তা খুঁড়ে ফেলা হয়। এই সমন্বয়হীনতার চূড়ান্ত মাশুল দেন সাধারণ করদাতা—যানজট, জলাবদ্ধতা আর সরকারি অর্থের অপচয়ের মধ্য দিয়ে।</p>
<p data-path-to-node="29">একটি সড়ক নির্মাণের আগেই সেখানে ভূগর্ভস্থ বিদ্যুৎ, অপটিক্যাল ফাইবার ডাক্ট, সুয়ারেজ এবং গ্যাস পাইপলাইনের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের সমন্বিত সমন্বয় থাকা বাধ্যতামূলক। প্রতিটি প্রকল্পের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ পরিকল্পনা যুক্ত না থাকলে টেকসই উন্নয়ন অসম্ভব।</p>
<p data-path-to-node="30"><span style="font-size: 10pt;"><b data-path-to-node="30" data-index-in-node="0">প্রযুক্তির ভোক্তা থেকে উৎপাদক হওয়ার প্রত্যয়</b></span></p>
<p data-path-to-node="31">বাংলাদেশে টেলিকম, মোবাইল ব্যাংকিং, ফ্রিল্যান্সিং ও ই-কমার্সে ঈর্ষণীয় বিস্তার ঘটেছে। তরুণ সমাজের প্রযুক্তিমুখী মনোভাব আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। কিন্তু আমাদের প্রযুক্তির মূল দুর্বলতা হলো—আমরা এখনো কেবল প্রযুক্তির ভোক্তা (Consumer), উৎপাদক (Producer) নই।</p>
<p data-path-to-node="32">আমরা শত শত কোটি ডলার খরচ করে হ্যান্ডসেট, নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম, সার্ভার ও সফটওয়্যার আমদানি করি। অথচ নিজস্ব চিপ ডিজাইন, উচ্চতর প্রযুক্তি গবেষণা, ইন্ডাস্ট্রিয়াল হার্ডওয়্যার উৎপাদন এবং সফটওয়্যার পেটেন্ট তৈরিতে আমাদের অংশগ্রহণ এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে।</p>
<p><img src="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x_6aa98af522a4b.jpg" alt=""></p>
<p data-path-to-node="33">সিআইও ফেয়ারের অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের স্পষ্ট সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে—বাংলাদেশ কি অনন্তকাল আমদানিনির্ভর থাকবে, নাকি নিজস্ব উৎপাদনশীলতার বিকাশ ঘটাবে? এর জন্য প্রয়োজন:</p>
<ul>
<li data-path-to-node="34,0,0">তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি গবেষণায় (R&amp;D) জাতীয় বাজেটের বরাদ্দ বৃদ্ধি;</li>
<li data-path-to-node="34,1,0">বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যৌথ কারিগরি গবেষণা;</li>
<li data-path-to-node="34,2,0">হার্ডওয়্যার ও ভিএলএসআই (VLSI) প্রকৌশলী তৈরির জাতীয় উদ্যোগ;</li>
<li data-path-to-node="34,3,0">দেশীয় প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যকর শুল্ক ও নীতিগত প্রণোদনা;</li>
<li data-path-to-node="34,4,0">ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও অর্থায়ন।</li>
</ul>
<p data-path-to-node="35"><span style="font-size: 10pt;"><b data-path-to-node="35" data-index-in-node="0">জ্বালানি ও ইন্টারনেট: জাতীয় অর্থনীতির হৃৎস্পন্দন</b></span></p>
<p data-path-to-node="36">প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সমাজ বিনির্মাণে বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেটকে পৃথক কোনো বিলাসিতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিদ্যুৎ সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলেই ডেটা সেন্টার অচল হয়ে পড়ে, মোবাইল টাওয়ার নিষ্ক্রিয় হয় এবং ব্যাংক থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যসেবার পুরো ডিজিটাল ইকোসিস্টেম মুখ থুবড়ে পড়ে।</p>
<p data-path-to-node="37">তাই ডিজিটাল অবকাঠামোর পূর্বশর্ত হলো নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল বিদ্যুৎ, ব্যাকআপ পাওয়ার গ্রিড এবং দেশব্যাপী মানসম্মত হাই-স্পিড ব্রডব্যান্ড ফাইবার নেটওয়ার্ক। অবকাঠামো নির্ভরযোগ্য না হলে কোনো ডিজিটাল রূপান্তরই টেকসই হতে পারে না।</p>
<p data-path-to-node="38"><span style="font-size: 10pt;"><b data-path-to-node="38" data-index-in-node="0">স্থানীয় সরকারের ক্ষমতায়ন ছাড়া রূপান্তর অসম্ভব</b></span></p>
<p data-path-to-node="39">উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সচিবালয় বা মন্ত্রণালয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা বাংলাদেশের একটি বড় প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতা। ঢাকা বা জেলা শহরের নাগরিক ড্রেনেজ বা সড়কের সমস্যা সমাধানের অনুমোদন যদি কেন্দ্রীয় স্তরের আমলাতন্ত্রে আটকে থাকে, তবে দ্রুত ও কার্যকর নাগরিক সেবা দেওয়া অসম্ভব।</p>
<p data-path-to-node="40">স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে পর্যাপ্ত বাজেট, আধুনিক প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম ও স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিতে হবে। একই সঙ্গে জনসেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনে ওপেন ড্যাশবোর্ড চালু করা প্রয়োজন—যেখানে নাগরিকের অভিযোগ কোথায় পেন্ডিং আছে এবং কত দিনে সমাধান হবে, তা প্রকাশ্য থাকবে।</p>
<p data-path-to-node="42">সেনজেন ও কুয়াংচৌ সফরের অভিজ্ঞতা এই সত্যটি আবারও প্রমাণ করেছে—কোনো দেশের প্রকৃত উন্নয়ন কেবল মোট জাতীয় আয়ের সংখ্যাতত্ত্বে নয়; বরং নাগরিকের প্রাত্যহিক জীবন কতটা স্বাচ্ছন্দ্যময়, মর্যাদাপূর্ণ ও নিরাপদ হলো, সেটিই অগ্রগতির মূল মাপকাঠি।</p>
<p data-path-to-node="43">চীন আমাদের দেখিয়েছে কীভাবে প্রযুক্তি, শিল্পনীতি ও জবাবদিহিমূলক নগর ব্যবস্থাপনাকে একই সূত্রে গাঁথা যায়। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু সেই অভিজ্ঞতা থেকে সমন্বিত পরিকল্পনা, দেশীয় উদ্ভাবন এবং নাগরিকবান্ধব সেবার শিক্ষা গ্রহণ করা আমাদের জন্য এখন অপরিহার্য।</p>
<p data-path-to-node="44">উন্নয়নের চূড়ান্ত লক্ষ্য কেবল ইট-পাথরের শহর গড়ে তোলা নয়; মানুষের জীবনকে সহজ ও অর্থবহ করা। আর সেই জনকল্যাণমূলক দর্শনের ওপর দাঁড়িয়েই পরিচালিত হোক বাংলাদেশের আগামীর প্রযুক্তি ও নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="47"><b data-path-to-node="47" data-index-in-node="0">লেখক ||  </b>সভাপতি, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন (বিএমজিএ); প্রযুক্তি ও ভোক্তা অধিকার গবেষক এবং কলামিস্ট</p>
<hr>
<p data-path-to-node="49"><b data-path-to-node="49" data-index-in-node="0">এডিটরস || </b>আলোচ্য নিবন্ধে প্রকাশিত পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাবনা লেখকের নিজস্ব মূল্যায়ন। নাগরিক সেবায় প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ এবং টেকসই নগর পরিকল্পনা বিনির্মাণে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিবন্ধটি প্রয়োজনীয় তথ্যগত প্রমিতকরণসহ প্রকাশ করা হলো।</p>
<hr><hr>
<p data-path-to-node="49"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>অ্যালগরিদম নয়, বিদ্যুৎ ও পুঁজির দামেই নির্ধারিত হবে এআই ভবিষ্যৎ</title>
<link>https://digibanglatech.news/189843</link>
<guid>https://digibanglatech.news/189843</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x580_6aa849443ad4a.jpg" length="95198" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 14 Sep 2026 01:22:01 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>এআই অর্থনীতি, বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০২৬, ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব, কম্পিউট সক্ষমতা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো, ডেটা সেন্টার অর্থায়ন, এআই বাংলাদেশ</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<table border="1" height="123" style="border-collapse: collapse; width: 77.1401%;"><colgroup><col style="width: 100%;"></colgroup>
<tbody>
<tr>
<td>
<ul>
<li data-path-to-node="33,0,0">এআই বিপ্লবে উন্নয়নশীল দেশের প্রতিযোগিতা কেবল অ্যালগরিদমে নয়, বিদ্যুৎ ও পুঁজির ব্যয়ের ওপরও নির্ভর করছে।</li>
<li data-path-to-node="33,1,0">উন্নয়নশীল দেশের ডেটা সেন্টার প্রকল্পগুলোকে অতিরিক্ত ‘অনুভূত ঝুঁকি’র কারণে চড়া সুদে মূলধন সংগ্রহ করতে হয়।</li>
<li data-path-to-node="33,2,0">ফ্রন্টিয়ার এআই মডেল তৈরির চেয়ে বিদ্যমান প্রযুক্তি গ্রহণ ও স্থানীয় ভাষায় অভিযোজন (Adopt, Adapt, Advance) অধিক ফলপ্রসূ।</li>
<li data-path-to-node="33,3,0">সার্বভৌম গ্যারান্টি দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি, যাতে বেসরকারি মুনাফার বিপরীতে জনগণের ওপর অপ্রকাশিত দায় না চাপে।</li>
<li data-path-to-node="33,4,0">বিশাল মেগা ডেটা সেন্টারের চেয়ে শিক্ষা ও শিল্প খাতের বাস্তব চাহিদানির্ভর মডুলার কম্পিউটিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।</li>
</ul>
</td>
</tr>
</tbody>
</table>
<p data-path-to-node="10">কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ শুধু অ্যালগরিদমে নয়, বিদ্যুৎ ও পুঁজির দামেও নির্ধারিত হবে।</p>
<p data-path-to-node="11">বিশ্বব্যাংকের <i data-path-to-node="11" data-index-in-node="14">World Development Report 2026</i>-এর পটভূমি গবেষণা বাংলাদেশের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন রেখেছে: আমাদের এআই ব্যবহারের আকাঙ্ক্ষা আছে, কিন্তু সেই প্রযুক্তি পরিচালনার ডিজিটাল ভিত্তি কতটা নির্ভরযোগ্য, সাশ্রয়ী ও ঝুঁকিমুক্ত?</p>
<p data-path-to-node="12">কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা নিয়ে আলোচনায় সচরাচর লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM), বিপুল ডেটাসেট, চিপ প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল কিংবা চ্যাটজিপিটির মতো পণ্যের নাম উঠে আসে। কিন্তু উন্নয়নশীল অর্থনীতির জন্য এআই যুগের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে অতি-প্রাথমিক কিছু ভিত্তির ওপর: বিদ্যুৎ সরবরাহ কতটা নিরবচ্ছিন্ন? ইন্টারনেট সংযোগ কি টেকসই ও স্বল্পব্যয়ী? উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং লজিস্টিকস দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নাগালের মধ্যে কি না? এবং নাগরিক পরিচয়, লেনদেন ও নিরাপদ তথ্য বিনিময়ের মতো ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো (DPI) পরস্পরের সঙ্গে নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারছে কি না?</p>
<p data-path-to-node="13">বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনটির জন্য প্রস্তুতকৃত মারিয়ানা দাহান, জুনায়েদ আহমেদ ও ডেভিড স্যাভেজের যৌথ গবেষণা <i data-path-to-node="13" data-index-in-node="103">De-Risking the Digital Foundations of AI: Capital, Risk, and the Diffusion of AI</i> মূলত এই পরোক্ষ অবকাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরেছে। তাদের গবেষণার মূল প্রতিপাদ্য হলো—এআই প্রযুক্তির সুষম বিস্তারে চারটি উপাদান অপরিহার্য: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, উচ্চগতির কানেক্টিভিটি, কম্পিউট সামর্থ্য এবং আন্তঃসংযুক্ত ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো। অথচ উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এই উপাদানগুলোর অর্থায়ন ব্যয় বা ক্যাপিটাল কস্টই প্রযুক্তি প্রসারের প্রধান প্রতিবন্ধক।</p>
<p data-path-to-node="14"><b data-path-to-node="14" data-index-in-node="0">প্রযুক্তির নয়, মূল ব্যবধান পুঁজির ব্যয়ে</b></p>
<p data-path-to-node="15">অতীতে ডিজিটাল বিভাজন বলতে কেবল ইন্টারনেট সংযোগ থাকা বা না থাকাকে বোঝাত। এআই যুগে এই ব্যবধান বহুমাত্রিক ও জটিল আকার ধারণ করেছে।</p>
<p data-path-to-node="16">উন্নত বিশ্বের একটি ডেটা সেন্টার প্রকল্প যদি স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি মূলধন পায়, আর উন্নয়নশীল দেশের অনুরূপ প্রকল্পকে রাজনৈতিক ঝুঁকি, বৈদেশিক মুদ্রার অস্থিরতা, অস্পষ্ট নীতিমালা কিংবা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের আশঙ্কায় চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়, তবে প্রযুক্তির প্রাপ্যতা সমান হলেও প্রতিযোগিতার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।</p>
<p data-path-to-node="17">মাল্টিলেটারাল ইনভেস্টমেন্ট গ্যারান্টি এজেন্সির (MIGA) পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এআই পরিকাঠামোতে শুধু প্রাথমিক বিনিয়োগই একমাত্র চ্যালেঞ্জ নয়। নিয়ন্ত্রক সংস্থার সিদ্ধান্তহীনতা, চুক্তিগত অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পরিচালনাগত ঝুঁকি বিনিয়োগকারীদের হিসাব-নিকাশকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। ফলে কোনো দেশের প্রকৃত ঝুঁকির তুলনায় বাজারে তার ‘অনুভূত ঝুঁকি’ (Perceived Risk) বেশি হলে মূলধনের ব্যয়ও বেড়ে যায়। এভাবে প্রযুক্তিগত ব্যবধান রূপ নেয় সুদূরপ্রসারী আর্থিক বৈষম্যে।</p>
<p data-path-to-node="18">এ কারণেই ‘এআই সার্বভৌমত্ব’ নিশ্চিত করতে কেবল নিজস্ব ভাষা মডেল বা জাতীয় ডেটা সেন্টার গড়ে তোলাই যথেষ্ট নয়। প্রকৃত ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব হলো একটি দেশের স্বাধীন বিকল্প বেছে নেওয়ার সক্ষমতা—কোন ক্লাউড নেটওয়ার্ক দেশ ব্যবহার করবে, কোন মডেল গ্রহণ করবে, প্রয়োজনে একক সরবরাহকারী পরিবর্তন করা যাবে কি না, স্থানীয় ভাষার উপযোগী এআই তৈরি করা সম্ভব কি না এবং জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো কোনো বিদেশি টেক জায়ান্টের একচেটিয়া নির্ভরতায় জিম্মি হয়ে পড়ছে কি না।</p>
<p data-path-to-node="19">এ বাস্তবতায় <i data-path-to-node="19" data-index-in-node="12">World Development Report 2026</i> উন্নয়নশীল দেশগুলোকে ‘Adopt, Adapt, Advance’ কাঠামো অনুসরণের দিকনির্দেশনা দিয়েছে। অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে শুরুতেই সর্বাধুনিক ফ্রন্টিয়ার মডেল তৈরি করা অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত নয়। বরং বিদ্যমান প্রযুক্তি গ্রহণ, স্থানীয় ভাষা ও বাস্তবতার সঙ্গে তার সংবেদনশীল অভিযোজন এবং পর্যায়ক্রমে অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা বাড়ানোই টেকসই পথ।</p>
<p data-path-to-node="20"><b data-path-to-node="20" data-index-in-node="0">ঝুঁকি প্রশমন বনাম রাষ্ট্রীয় দায়</b></p>
<p data-path-to-node="21">গবেষণাটির গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ হলো—ক্রেডিট গ্যারান্টি, পলিটিক্যাল রিস্ক ইন্স্যুরেন্স ও ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্সিংয়ের মতো ঝুঁকি-বণ্টন ব্যবস্থার মাধ্যমে এমন সব জাতীয় অবকাঠামোয় বেসরকারি বিনিয়োগ আনা সম্ভব, যা অর্থনৈতিকভাবে সম্ভাবনাময় হলেও অতিরিক্ত ঝুঁকি-ধারণার কারণে অর্থায়ন পাচ্ছিল না।</p>
<p data-path-to-node="22">তবে এই ঝুঁকি প্রশমন (De-risking) প্রক্রিয়া যেন বেসরকারি মুনাফা নিশ্চিত করতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক দায় (Contingent Liability) চাপিয়ে না দেয়। নির্বিচারে সার্বভৌম নিশ্চয়তা (Sovereign Guarantee) দিলে দুর্বল প্রকল্পও ‘জাতীয় প্রকল্প’ তকমা নিয়ে সুবিধা নিতে পারে, যার চূড়ান্ত বোঝা চাপে জনগণের করের ওপর। ফলে ডি-রিস্কিংয়ের সঙ্গে স্বচ্ছ জবাবদিহি নিশ্চিত করা অপরিহার্য।</p>
<p data-path-to-node="23"><b data-path-to-node="23" data-index-in-node="0">বাংলাদেশের ডিজিটাল ভিত্তি ও চ্যালেঞ্জ</b></p>
<p data-path-to-node="24">বাংলাদেশের ইতিবাচক দিক হলো, দেশটি শূন্য থেকে এআই যুগে প্রবেশ করছে না। জি-টোয়েন্টিভুক্ত ডিজিটাল পাবলিক অবকাঠামো বিষয়ক গবেষণায় বাংলাদেশকে ডিজিটাল আইডেন্টিটি, পেমেন্ট এবং ডেটা এক্সচেঞ্জ—এই তিন স্তরেই কার্যকর ব্যবস্থার একটি উদাহরণ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), পরিচয় প্ল্যাটফর্ম, ই-কেওয়াইসি (e-KYC), একপে (EkPay), বিনিময় (Binimoy) এবং মাইগভ (MyGov)-এর মতো প্ল্যাটফর্ম সমন্বিত ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের মজবুত ভিত্তি গড়ে তুলেছে। বর্তমান চ্যালেঞ্জ হলো বিদ্যমান এই অবকাঠামোকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপযোগী, সুরক্ষিত এবং অধিক জনমুখী রূপ দেওয়া।</p>
<p data-path-to-node="25">তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও স্পষ্ট। শতভাগ বিদ্যুতায়নের পর এখন প্রশ্ন নিরবচ্ছিন্নতা ও স্থিতিশীলতার। গ্রিডে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অনুপাত অত্যন্ত সীমিত এবং ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পের জন্য অবকাঠামোগত নির্ভরযোগ্যতার ঘাটতি রয়েছে। একটি এআই-রেডি ডেটা সেন্টার বা ক্লাউড ফ্যাসিলিটি পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, কার্যকর কুলিং সিস্টেম, হাই-ক্যাপাসিটি ব্যান্ডউইথ, সাইবার নিরাপত্তা ও সার্বক্ষণিক দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিশ্চিত করা পূর্বশর্ত।</p>
<p data-path-to-node="26"><b data-path-to-node="26" data-index-in-node="0">মেগা প্রকল্প বনাম চাহিদাভিত্তিক পরিকাঠামো</b></p>
<p data-path-to-node="27">একটি বিশাল ‘ন্যাশনাল এআই ডেটা সেন্টার’ স্থাপন রাজনৈতিকভাবে আকর্ষণীয় মনে হলেও চাহিদা ছাড়া তা দ্রুত অকার্যকর সম্পদে (Stranded Asset) পরিণত হতে পারে; বিশেষ করে যখন জিপিইউ প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে।</p>
<p data-path-to-node="28">এআই অবকাঠামোর নীতি ‘আগে নির্মাণ, পরে ব্যবহারকারী সন্ধান’ হওয়া উচিত নয়। আগে শনাক্ত করতে হবে দেশে কোথায় কম্পিউটেশনের কার্যকর চাহিদা রয়েছে—যেমন বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা, বাংলা ভাষা মডেল, আবহাওয়া ও জলবায়ু পূর্বাভাস, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও জনসেবা। সেই চাহিদার ভিত্তিতে মডুলার ও শেয়ার্ড কম্পিউটিং মডেলে বিনিয়োগ করাই যুক্তিযুক্ত।</p>
<p data-path-to-node="29">একই সঙ্গে জাতীয় অবকাঠামো যেন কোনো একক ভেন্ডর বা ক্লাউড সেবাদাতার ওপর স্থায়ীভাবে নির্ভরশীল (Vendor Lock-in) না হয়ে পড়ে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা জরুরি। ওপেন স্ট্যান্ডার্ড, এপিআই ইন্টারঅপারেবিলিটি এবং ডেটা পোর্টেবিলিটি নিশ্চিত করাকে সরকারি তহবিল বা গ্যারান্টিপ্রাপ্ত প্রকল্পের বাধ্যতামূলক শর্ত করা উচিত। সরকারি সহায়তায় গড়ে ওঠা অবকাঠামো থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ও দেশীয় স্টার্টআপগুলোর জন্য সাশ্রয়ী ‘কম্পিউট কোটা’ বরাদ্দ রাখা এবং জ্বালানি ব্যবহারে কার্বন ফুটপ্রিন্ট নিয়ন্ত্রণের সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড থাকাও প্রয়োজন।</p>
<p data-path-to-node="30">প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের চেয়েও এআই যুগে দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো ব্যবহারকারীর ‘আস্থা’। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে নাগরিকের তথ্যের গোপনীয়তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কাঠামোগত দুর্বলতার বোঝা কখনোই সাধারণ নাগরিকের মৌলিক অধিকার খর্ব করে চাপানো যাবে না।</p>
<p data-path-to-node="31">কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ কেবল অ্যালগরিদমের শ্রেষ্ঠত্বে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ, নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ এবং ন্যায্যমূল্যের মূলধনের ওপর ভিত্তি করে যে দেশ কার্যকর পরিকাঠামো দাঁড় করাতে পারবে, তারাই এই রূপান্তরের সুফল পাবে।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="34"><b data-path-to-node="34" data-index-in-node="0">লেখক || </b>দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক আন্তর্জাতিক অ্যাম্বাসেডর; প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিএনএনআরসি</p>
<hr>
<p data-path-to-node="36"><b data-path-to-node="36" data-index-in-node="0">এডিটরস নোট || </b>আলোচ্য নিবন্ধে প্রকাশিত মতামত ও বিশ্লেষণ লেখকের নিজস্ব। ডিজিটাল বাংলাদেশ ও প্রযুক্তি খাতের অন্তর্ভুক্তিমূলক বিকাশ এবং টেকসই নীতি নির্ধারণের স্বার্থে নিবন্ধটি সম্পাদকীয় পরিমার্জনসহ প্রকাশ করা হলো।</p>
<hr><hr>
<p data-path-to-node="36"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>কোড যখন ক্ষমতার রাজনীতির দর্পণ</title>
<link>https://digibanglatech.news/189845</link>
<guid>https://digibanglatech.news/189845</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x580_6aa8509f935dd.jpg" length="104289" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 13 Sep 2026 01:53:27 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>এআই রাজনীতি, প্রযুক্তি নিরপেক্ষতা, টেকনোফেমিনিজম, ডিপফেক সহিংসতা, অ্যালগরিদম পক্ষপাত, ডেটা স্ক্র্যাপিং, এআই গভর্ন্যান্স, জেন্ডার ও প্রযুক্তি</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: center;"></p>
<table border="1" height="121" style="border-collapse: collapse; width: 68.104%; height: 132px;"><colgroup><col style="width: 100%;"></colgroup>
<tbody>
<tr style="height: 128px;">
<td style="height: 128px;">
<ul>
<li data-path-to-node="17,0,0">কোড কেবল প্রযুক্তিগত বিন্যাস নয়; এটি প্রকৌশলের ছদ্মবেশে এক গভীর রাজনৈতিক ক্ষমতার চর্চা।</li>
<li data-path-to-node="17,1,0">ইন্টারনেট ক্ষমতা বা লিঙ্গভেদ মেটায়নি; বরং পুঁজিবাদী প্ল্যাটফর্মগুলো মনোযোগ বন্দি করার ওপর দাঁড়িয়েছে।</li>
<li data-path-to-node="17,2,0">ফাউন্ডেশন মডেল তৈরির শীর্ষ ল্যাবগুলো পুরুষ-প্রধান হওয়ায় সিস্টেমে একপেশে দৃষ্টিভঙ্গি স্থায়ী হচ্ছে।</li>
<li data-path-to-node="17,3,0">বিশ্বজুড়ে ডিপফেক কনটেন্টের ৯৫ শতাংশই সম্মতিহীন যৌন নিপীড়নমূলক, যার ৯৯ শতাংশের শিকার নারী।</li>
<li data-path-to-node="17,4,0" style="text-align: justify;">প্রযুক্তিকে নিরপেক্ষ দাবি করা একটি অজুহাত মাত্র, যার আড়ালে অ্যালগরিদমভিত্তিক মুনাফার ব্যবসা জারি থাকে।</li>
</ul>
</td>
</tr>
</tbody>
</table>
<p data-path-to-node="10"></p>
<p data-path-to-node="10">কোড কেবল কোনো নিরীহ পাইপলাইন বা প্রযুক্তিগত নল নয়; এটি মূলত এমন এক রাজনীতি, যা সুকৌশলে প্রকৌশলের ছদ্মবেশ ধারণ করেছে।</p>
<p data-path-to-node="11">নব্বইয়ের দশকের একটি সংক্ষিপ্ত সময়ে প্রাথমিক সাইবার-নারীবাদীরা ইন্টারনেটকে এমন এক মুক্ত পরিসর হিসেবে কল্পনা করতে পেরেছিলেন, যেখানে মানব শরীরকে দরজার বাইরে রেখেই প্রবেশ করা সম্ভব। ধারণা করা হয়েছিল, ভার্চুয়াল অবতার লিঙ্গপরিচয়কে মুছে দেবে এবং নেটওয়ার্ক গুঁড়িয়ে দেবে সনাতন ক্ষমতার স্তরবিন্যাস। সেই বাজিটি বোকামি ছিল না, তবে তা ছিল নিশ্চিতভাবেই অসম্পূর্ণ। এর পরবর্তী সময়ে যে বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্মগুলো গড়ে উঠল, তা তৈরি করেছে করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো; যা পরিপুষ্ট হয়েছে রাজপথ ও সামরিক ব্যারাকের রূঢ় ভাষায় এবং যেখানে মুনাফা এসেছে কেবল মানুষের মনোযোগকে বন্দি করে। ফলে টেকনোফেমিনিজমের সংশোধনী আজ এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই: প্রযুক্তি এমন কোনো নিরপেক্ষ হাতিয়ার নয়, যা কেবল ভালো কিংবা খারাপভাবে ব্যবহারের অপেক্ষায় বসে থাকে। এটি বরং সেই সমাজেরই একটি নিখুঁত আয়না এবং পরবর্তীতে শক্তিশালী মেগাফোন—যে সমাজ এটিকে অর্থায়ন করে, কর্মী জোগায় এবং ডেটা স্ক্র্যাপ করে গড়ে তোলে।</p>
<p data-path-to-node="12">যে ল্যাবরেটরিগুলো বিশ্বের মূল ফাউন্ডেশন মডেল তৈরি করে সরবরাহ করছে, সেখানে কর্মীদের সিংহভাগই পুরুষ এবং প্রতিষ্ঠানগুলো হাতেগোনা কয়েকটি পশ্চিমা ভূখণ্ডের ভৌগোলিক বলয়ে সীমাবদ্ধ। ফলস্বরূপ, এই সিস্টেমগুলো কেবল নিছক অনাকাঙ্ক্ষিত অবশিষ্টাংশ হিসেবে পক্ষপাত বা বায়াস তৈরি করে না; বরং তারা একটি নির্দিষ্ট একতরফা দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়। জিপিইউর (GPU) দাম সস্তা হওয়ার বহু আগেই নারীবাদী তত্ত্বে যে যৌন বৈষম্য ও অবমাননার কথা চিহ্নিত করা হয়েছিল, মডেলের ট্রেনিং ডেটাসেটগুলো ঠিক সেই সনাতন বৈষম্যেই ঠাসা। নিরাপত্তা মূল্যায়নকারী ফ্রেমওয়ার্কগুলো আজও শুধু ইংরেজি ভাষার আপত্তিকর বিষয়গুলোকেই বিশ্বের সার্বজনীন মানদণ্ড হিসেবে বিবেচনা করে। অন্যদিকে, প্ল্যাটফর্মগুলোর নিরাপত্তা নীতিমালায় নারীর সম্মতিহীন ডিপফেক যৌন কনটেন্টগুলোকে কোনো গভীর অপরাধ হিসেবে না দেখে 'অ্যাডাল্ট কনটেন্ট' নামক এক সাধারণ ঝুড়িতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর কোনোটিই কোনো নির্দোষ যন্ত্রের যান্ত্রিক ত্রুটি বা গ্লিচ নয়; বরং বিদ্যমান রাজনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য যখন কোডের ভাষায় রূপান্তরিত হয়, তখন ফলাফল এমনই রূপ নেয়।</p>
<p data-path-to-node="13">এর বাস্তব পরিণতি এখন আর তাত্ত্বিক কোনো আলোচনার বিষয় নয়। অনলাইনে ছড়িয়ে থাকা ডিপফেক কনটেন্টের প্রায় পঁচানব্বই শতাংশই সম্মতিহীন যৌন বিষয়ক চিত্রায়ণ, যার নিরঙ্কুশ নিরানব্বই শতাংশের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন নারী। অতীতে যে অপকর্ম করতে একটি ডার্করুম আর চুরিকৃত ছবির প্রয়োজন হতো, আজ কেবল একটি অ্যাপ এবং মাত্র নব্বই সেকেন্ডেই তা সম্পন্ন হচ্ছে। এআই মডেল মানুষের ভেতরে এই বিকৃত কামনার জন্ম দেয়নি; বরং এটি অপবৃত্তিকে প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্পায়িত রূপ দিয়েছে এবং ইন্টারনেট সংযোগ থাকা যেকোনো মানুষের হাতে একে একটি প্রযুক্তিগত 'ফিচার' হিসেবে তুলে দিয়েছে। প্রযুক্তির 'নিরপেক্ষতার বয়ান' হলো এমন এক সুবিধাজনক অজুহাত, যা সফটওয়্যার প্রস্তুতকারী ভেন্ডরকে দায়মুক্তি দিয়ে ব্যবহারকারীর দিকে আঙুল তোলার সুযোগ করে দেয়, আর পেছনের অ্যালগরিদমিক আর্কিটেকচার থেকে ক্রমাগত নগদ মুনাফা ঝরে পড়তে থাকে।</p>
<p data-path-to-node="14">নিরপেক্ষতার এই মিথ পরিত্যাগ করার অর্থ কখনোই প্রযুক্তি ধ্বংস করার ডাক নয়। এর প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো সিস্টেমের ভেতরের ডিজাইনসংক্রান্ত প্রতিটি সিদ্ধান্তকে একটি প্রকাশ্য সামাজিক সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচনা করা। কার ডেটা স্ক্র্যাপ করা হচ্ছে? মডেলের মৌলিক বিধানে কোন কোন ক্ষতিকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে? সিস্টেমের প্রত্যাখ্যাত হওয়ার নির্দেশিকা বা সেফটি-রিফিউজাল কোন ভাষায় পরীক্ষা করা হচ্ছে? রেড-টিমিংয়ের নিরাপত্তা যাচাইয়ে কারা দায়িত্ব পালন করছেন? আর যখন একজন নারী অভিযোগ করেন যে ক্লাসিফায়ার হুমকিটি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে কারণ এটি বাংলা ভাষায় লেখা হয়েছিল কিংবা নিছক গালাগালির বদলে ‘সম্মান’ বা সামাজিক সংস্কারের আড়ালে প্রকাশ করা হয়েছিল—তখন কার বক্তব্যকে বিশ্বাস করা হচ্ছে? এগুলো নিছক বৈচিত্র্য প্রদর্শনের কোনো অলংকার নয়; এগুলো হলো প্রযুক্তি-কাঠামোর অন্তর্নিহিত রাজনীতি।</p>
<p data-path-to-node="15">কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহায়ক এই নারীবিদ্বেষী সহিংসতা যদি বৃদ্ধির বদলে কমাতে হয়, তবে প্রকৌশলী, বিনিয়োগকারী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে প্রথমেই একটি বুদ্ধিবৃত্তিক সত্যকে অবনত মস্তকে স্বীকার করতে হবে: কোড হলো একটি রাজনৈতিক উপাদান। ঢাকার মতো জায়গায় এ ধরনের সংলাপ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা ঠিক এই কারণেই যে, যে কক্ষগুলোতে মানুষ কেবল উদ্ভাবনের জয়গান গাইতে ভালোবাসে, সেখানে এখনও এই বাক্যটির পক্ষে লড়াই চালিয়ে যেতে হচ্ছে। যতদিন না এই সত্য গৃহীত হচ্ছে, ততদিন ওয়াটারমার্কিং, কনটেন্ট টেকডাউন, ফরেনসিক প্রশিক্ষণ কিংবা নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা (WPS) জাতীয় কর্মপরিকল্পনার মতো প্রতিটি পরবর্তী সংস্কার কেবল খোলা নলের নিচে দাঁড়িয়ে প্লাবিত মেঝে মোছার নিষ্ফল চেষ্টার মতোই পরিহাস হয়ে থাকবে।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="18"><b data-path-to-node="18" data-index-in-node="0">লেখক || </b>পিএইচডি, পিজিডি (অক্সফোর্ড); প্রধান উদ্ভাবন কর্মকর্তা ও মহাপরিচালক, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। তিনি একজন কূটনীতিক ও উদ্ভাবন কৌশলবিদ, যিনি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শাসনব্যবস্থার সংযোগস্থলে কাজ করেন। যুক্ত রয়েছেন Digital@UNGA, শিক্ষা ও এআই, সার্বভৌম কম্পিউট এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিতে।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="20"><b data-path-to-node="20" data-index-in-node="0">এডিটরস নোট || </b>আলোচ্য নিবন্ধে প্রকাশিত অভিমত লেখকের নিজস্ব তাত্ত্বিক ও নীতিগত বিশ্লেষণ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জেন্ডার ন্যায়ের জটিল সমীকরণকে উন্মোচনের অংশ হিসেবে নিবন্ধটি সম্পাদকীয় প্রমিতকরণসহ প্রকাশ করা হলো।</p>
<hr><hr>
<p data-path-to-node="20"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বাংলা কিউআরে অবৈধ ক্যাশ আউট: ক্যাশলেস অর্থনীতির নীতিগত রূপান্তরে বড় হুমকি</title>
<link>https://digibanglatech.news/189648</link>
<guid>https://digibanglatech.news/189648</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x580_6aa62287e78f6.jpg" length="57713" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 12 Sep 2026 10:12:12 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>বাংলা কিউআর, ক্যাশলেস সোসাইটি, এমএফএস ক্যাশ আউট, বাংলাদেশ ব্যাংক, মার্চেন্ট পেমেন্ট জালিয়াতি, রাজস্ব ফাঁকি, ফিনটেক অনিয়ম, ডিজিটাল অর্থনীতি</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<table border="1" style="border-collapse: collapse; width: 99.9683%;"><colgroup><col style="width: 100%;"></colgroup>
<tbody>
<tr>
<td>
<ul>
<li>ক্যাশ ব্যবস্থাপনায় সরকারের বছরে প্রায় ২৫,০০০ কোটি টাকা অপচয় কমাতে ‘বাংলা কিউআর’-এর যাত্রা</li>
<li>পণ্য ও সেবা ছাড়া মার্চেন্ট কিউআরে কৃত্রিম লেনদেন দেখিয়ে সংঘটিত হচ্ছে: ভুয়া বাণিজ্যিক পেমেন্ট, গ্রাহক প্রতারণা এবং ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি</li>
<li>এমএফএস অ্যাপে মার্চেন্ট পেমেন্ট সম্পূর্ণ ফি-মুক্ত (০%) হলেও অসাধু এজেন্টরা হাতিয়ে নিচ্ছে প্রতি হাজারে ১৪.৯০ থেকে ১৮.৫০ টাকা</li>
<li>ফিল্ড ভিজিট ও কেওয়াইসি (KYC) যাচাই ছাড়াই লক্ষ্যমাত্রা পূরণের তীব্র প্রতিযোগিতায় ব্যাংক ও ফিনটেকগুলোর লাগামহীন মার্চেন্ট অনবোর্ডিং</li>
<li>অবৈধ ক্যাশ আউটের লেনদেন মানি লন্ডারিং, অনলাইন জুয়া এবং হুন্ডি কার্যক্রমে ব্যবহারের ঝুঁকি; কঠোর হচ্ছে BFIU এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক</li>
<li data-path-to-node="32,5,0">অপরাধী মার্চেন্টের অ্যাকাউন্ট জব্দ ও ট্রেড লাইসেন্স বাতিলসহ সংশ্লিষ্ট একুয়ারিং ব্যাংককে ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান আছে </li>
</ul>
</td>
</tr>
</tbody>
</table>
<p data-path-to-node="2">বাংলাদেশের আর্থিক লেনদেন ব্যবস্থার ডিজিটাইজেশন ও সার্বিক আধুনিকায়নের ইতিহাসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও নীতিগত মাইলফলক ছিল সর্বজনীন ও ইন্টারঅপারেবল পেমেন্ট পরিকাঠামো ‘বাংলা কিউআর’ (Bangla QR)। দেশজুড়ে নগদ অর্থের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে একটি নিরবচ্ছিন্ন, নিরাপদ ও স্বচ্ছ ‘ক্যাশলেস সোসাইটি’ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক এই জাতীয় কিউআর স্ট্যান্ডার্ড প্রবর্তন করা হয়।</p>
<p data-path-to-node="3">জাতীয় আর্থিক অন্তর্ভুক্তি কৌশল (National Financial Inclusion Strategy - NFIS) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্টের সামগ্রিক রূপরেখা অনুযায়ী, একটি সমন্বিত পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল সরকারের বিশাল পরিচালনা ও নগদ অর্থ ব্যবস্থাপনা ব্যয় হ্রাস করা। কারণ, নতুন কাগজের নোট ছাপা, ভল্টিং, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, পরিবহন এবং ব্যাংকগুলোতে ক্যাশ প্রসেসিং সহ অন-ক্যাশ ট্রানজেকশনের পেছনে সরকারের প্রতি বছর আনুমানিক ২০,০০০ থেকে ২৫,০০০ কোটি (২০০-২৫০ বিলিয়ন) টাকা খরচ হয়। দীর্ঘমেয়াদি এই ডিজিটাল পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য ছিল এই জাতীয় অপচয়ের পরিমাণ অন্তত ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা।</p>
<p data-path-to-node="4">একই উদ্দেশ্যে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, জাতীয় সংস্কার কৌশল, ডিজিটাল কমার্স নীতিমালার সংশোধিত আইন কাঠামো এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) যৌথভাবে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্প (CMSME) খাতের উদ্যোক্তাদের আধুনিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে বিশেষ ট্যাক্স রিবেট, মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (MDR) শিথিলকরণ এবং প্রণোদনা সুবিধা নিশ্চিত করে আসছে। সরকারের মূল লক্ষ্য ছিল প্রতিটি ক্ষুদ্র পানের দোকান থেকে শুরু করে প্রান্তিক বাজারের নিত্যপণ্যের বিক্রেতাকে বাণিজ্যিক পেমেন্টের আওতায় আনা।</p>
<p data-path-to-node="5">তবে নীতিগত এই যুগান্তকারী উদ্যোগের বিপরীত পিঠে দাঁড়িয়ে মাঠপর্যায়ে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে এক গভীর অনিয়ম ও ডিজিটাল রূপান্তরের অপব্যবহার। দেশের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) এজেন্ট ও একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীদের চক্র কেনাকাটার জন্য নির্ধারিত ‘মার্চেন্ট পেমেন্ট’ পোর্টালকে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ‘ক্যাশ আউট’ বা অনিয়ন্ত্রিত নগদ উত্তোলনের অবৈধ ব্যবসায় রূপান্তরিত করেছে। এর ফলে সরকারের ক্যাশলেস রূপান্তরের মৌলিক উদ্দেশ্য ভেস্তে যাওয়ার পাশাপাশি জাতীয় রাজস্ব, ব্যাংকিং শৃঙ্খলা, পেমেন্ট সিকিউরিটি এবং প্রান্তিক আর্থিক কাঠামো নজিরবিহীন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।</p>
<p data-path-to-node="6"><span style="font-size: 12pt;"><b data-path-to-node="6" data-index-in-node="0">১. ছদ্মবেশী লেনদেনের মেকানিজম ও তিন স্তরের অপরাধের ধরন</b></span></p>
<p data-path-to-node="7">অভিযোগ মতে, রাজধানী ঢাকার প্রধান প্রধান বাণিজ্যিক হাব—যেমন মতিঝিল, কারওয়ান বাজার, মালিবাগ, উত্তরা, মিরপুর, ফার্মগেট—থেকে শুরু করে দেশের বিভাগীয় ও জেলা শহরগুলো (চট্টগ্রাম, সিলেট, বগুড়া, খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল) এবং গ্রামীণ বাজারের টেলিকম ফ্ল্যাক্সিলোড ও ক্ষুদ্র রিচার্জ পয়েন্টগুলোতে এই ছদ্মবেশী লেনদেন অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।</p>
<p data-path-to-node="8">জরুরি প্রয়োজনে সাধারণ কোনো গ্রাহক যখন নিজের এমএফএস অ্যাকাউন্ট থেকে নগদ অর্থ তুলতে এজেন্ট পয়েন্টে যান, তখন তাকে ব্যাংকিং নিয়মানুযায়ী নির্ধারিত এজেন্ট ক্যাশ আউট নম্বর না দিয়ে কাউন্টারে ঝুলানো কোনো বাণিজ্যিক ব্যাংক বা ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের 'বাংলা কিউআর' স্ক্যান করে ‘পেমেন্ট’ করতে উৎসাহিত বা বিভ্রান্ত করা হয়। সাধারণ গ্রাহক পেমেন্ট ও ক্যাশ আউটের কারিগরি এবং আইনি পার্থক্য না বুঝে অ্যাপের মাধ্যমে মার্চেন্ট পেমেন্ট সম্পন্ন করেন। অন্যদিকে, অসাধু দোকানদার কোনো পণ্য বা সেবা হস্তান্তর ছাড়াই নিজের ক্যাশ ড্রয়ার থেকে সমপরিমাণ নগদ অর্থ গ্রাহকের হাতে তুলে দেন।</p>
<p data-path-to-node="9">এই একটিমাত্র কৃত্রিম লেনদেনের আড়ালে পদ্ধতিগত ও আইনিভাবে তিনটি গুরুতর অপরাধ পর্যায়ক্রমে সংঘটিত হচ্ছে।</p>
<p data-path-to-node="10">প্রথমত, এটি একটি পণ্যহীন ভুয়া বাণিজ্যিক পেমেন্ট (Fictitious Commercial Payment)। পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস অ্যাক্ট এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিপত্র অনুযায়ী মার্চেন্ট পেমেন্টের একমাত্র আইনি ভিত্তি হলো বাস্তব পণ্য বা সেবার হস্তান্তর। কোনো লেনদেনে পণ্য কেনাবেচা না থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকিং চ্যানেলে পেমেন্ট দেখানো পেমেন্ট সিকিউরিটি ও ফিন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটির স্পষ্ট লঙ্ঘন।</p>
<p data-path-to-node="11">দ্বিতীয়ত, গ্রাহক শোষণ ও অনৈতিক ফি গ্রহণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের কঠোর নির্দেশনায় বাংলা কিউআরে কেনাকাটার পেমেন্ট গ্রাহকের জন্য সম্পূর্ণ ফি-মুক্ত (০% চার্জ) নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা অসচেতন গ্রাহকের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে সাধারণ ক্যাশ আউটের পূর্ণাঙ্গ ফি (প্রতি হাজারে ১৪.৯০ টাকা থেকে ১৮.৫০ টাকা পর্যন্ত) গ্রাহকের কাছ থেকে নগদে বা কেটে রেখে বেআইনিভাবে আদায় করছেন।</p>
<p data-path-to-node="12">তৃতীয়ত, বিপুল পরিমাণ ভ্যাট ও কর ফাঁকি। এমএফএস ক্যাশ আউটের ওপর সরকার নির্ধারিত ১৫% ভ্যাট (VAT) এবং ব্যাংকিং বা এমএফএস অপারেটরের আয়ের ওপর প্রযোজ্য কর্পোরেট ট্যাক্স সম্পূর্ণ এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। এতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR) প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।</p>
<p data-path-to-node="13"><span style="font-size: 12pt;"><b data-path-to-node="13" data-index-in-node="0">২. অনবোর্ডিং বিশৃঙ্খলা, তদারকিমূলক ঘাটতি ও প্রান্তিক ইকোসিস্টেমে আঘাত</b></span></p>
<p data-path-to-node="14">শিল্প খাতের বিভিন্ন পরিসংখ্যান ও প্রাক্কলন অনুযায়ী, দেশে ইতোমধ্যেই প্রায় ৩২ লক্ষাধিক ছোট-বড় ব্যবসায়ী ও ক্ষুদ্র দোকানদারকে 'বাংলা কিউআর' ইকোসিস্টেমে নিবন্ধিত করা হয়েছে। প্রতিদিন শত শত কোটি টাকার লেনদেন এই ইন্টারঅপারেবল সমন্বিত নেটওয়ার্কে পরিচালিত হচ্ছে। তবে অনবোর্ডিংয়ের এই দ্রুত প্রসারের আড়ালেই মূলত শক্তিশালী তদারকি কাঠামোর অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।</p>
<p data-path-to-node="15">ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যবসায়িক পারফর্মেন্স লক্ষ্যমাত্রা (KPI Target) পূরণের তীব্র প্রতিযোগিতায় নেমে যথাযথ ফিল্ড ভিজিট (Site Inspection) বা 'নো ইউর কাস্টমার' (KYC) যাচাই ছাড়াই সাধারণ এমএফএস এজেন্টদের হাতে মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট তুলে দিচ্ছে। এর ফলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সত্যতা যাচাই না করেই মার্চেন্ট কিউআর কোড সরবরাহ করা হচ্ছে।</p>
<p data-path-to-node="16">একই সাথে এজেন্ট ও মার্চেন্ট কাঠামোর মধ্যে বড় ধরনের নীতিগত অসামঞ্জস্য তৈরি হয়েছে। প্রায় দেড় দশক ধরে এমএফএস খাতের ভারসাম্য রক্ষায় একই দোকানে 'এজেন্ট' এবং 'মার্চেন্ট' অ্যাকাউন্ট চালুর ওপর সুস্পষ্ট আইনি নিষেধাজ্ঞা ছিল। কিন্তু সর্বজনীন কিউআর চালুর পর সেই দুই ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক ও আইনি সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে পড়ে। ফলস্বরূপ, অসাধু চক্র একই কাউন্টারে এজেন্টের আড়ালে ব্যাংকের মার্চেন্ট কিউআর ঝুলিয়ে অবৈধ নগদ উত্তোলনের সমান্তরাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে।</p>
<p data-path-to-node="17">এর সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে দেশের লাখ লাখ বৈধ এমএফএস এজেন্টের ওপর। এমএফএস খাতের মূল চালিকাশক্তি হলো প্রান্তিক এজেন্ট নেটওয়ার্ক। অনিয়মতান্ত্রিক উপায়ে পেমেন্ট পোর্টালে অবৈধ ক্যাশ আউট বাড়তে থাকলে প্রকৃত এজেন্টরা তাদের ন্যায্য কমিশন হারাবেন এবং ব্যবসা গুটাতে বাধ্য হবেন। ফলে দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর তৃণমূল পর্যায়ে আর্থিক সেবা পাওয়ার মৌলিক অধিকারই ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।</p>
<p data-path-to-node="18"><span style="font-size: 12pt;"><b data-path-to-node="18" data-index-in-node="0">৩. সামষ্টিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি, মানি লন্ডারিং ও কঠোর আইনি বিধান</b></span></p>
<p data-path-to-node="19">এই অনিয়মের ব্যাপ্তি কেবল একজন দোকানদারের ব্যক্তিগত অনৈতিক মুনাফা অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর বেশ কিছু বহুমুখী ঝুঁকি তৈরি করছে।</p>
<p data-path-to-node="20">প্রথমত, মানি লন্ডারিং ও ছায়া অর্থনীতির বিস্তার ঘটছে। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী, বাস্তব লেনদেন ছাড়া ইলেকট্রনিক অর্থকে নগদে রূপান্তর করা অর্থ পাচারের শামিল। অভিযোগ রয়েছে, এই অপ্রদর্শিত পেমেন্ট চ্যানেল ব্যবহার করে অনিয়ন্ত্রিত অর্থ প্রবাহ, ক্রিপ্টোকারেন্সি কেনাবেচা, অবৈধ অনলাইন জুয়া এবং হুন্ডি চক্র তাদের অর্থের প্রকৃত উৎস ও গন্তব্য গোপন (Layering) করার সুযোগ পাচ্ছে।</p>
<p data-path-to-node="21">দ্বিতীয়ত, গ্রাহকের অনাকাঙ্ক্ষিত আইনি সংকট তৈরি হচ্ছে। সাধারণ নাগরিক না বুঝে ক্যাশ আউটের উদ্দেশ্যে এমন পেমেন্ট করলেও, বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (BFIU) এআই মনিটরিং সিস্টেমে ট্রানজেকশনটি "সন্দেহজনক লেনদেন" (Suspicious Transaction Report - STR) হিসেবে ফ্ল্যাগ হতে পারে। এতে ভবিষ্যতে ওই সাধারণ ব্যবহারকারী আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন।</p>
<p data-path-to-node="22">তৃতীয়ত, সরকারি আইনি অবকাঠামো ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অবস্থান অত্যন্ত কঠোর। পরিশোধ ও নিষ্পত্তি ব্যবস্থা আইন, ২০২৪ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক সম্প্রতি জারিকৃত স্পষ্ট নির্দেশিকা অনুযায়ী—মার্চেন্ট অ্যাকাউন্টে কৃত্রিম লেনদেন বিভাজন (Artificial Splitting) বা অনিয়ন্ত্রিত ক্যাশ আউটের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর ট্রেড লাইসেন্স ও মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট চিরতরে বাতিল করা হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তির সমস্ত ব্যাংক ও এমএফএস অ্যাকাউন্ট জব্দ করার আদেশ দেওয়া হবে। পাশাপাশি তদারকিতে ব্যর্থ অনবোর্ডিংকারী ব্যাংক বা একুয়ারিং প্রতিষ্ঠানের ওপর সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত শাস্তিমূলক জরিমানা এবং মার্চেন্ট অ্যাকুয়ারিং সনদ স্থগিতের স্পষ্ট বিধান রয়েছে।</p>
<p data-path-to-node="23"><span style="font-size: 12pt;"><b data-path-to-node="23" data-index-in-node="0">৪. টেকসই উত্তরণের নীতিগত রূপরেখা ও সুপারিশমালা</b></span></p>
<p data-path-to-node="24">‘বাংলা কিউআর’-এর বৈপ্লবিক সাফল্য ও সুবিধা অক্ষুণ্ন রেখে সার্বিক ডিজিটাল পেমেন্ট ইকোসিস্টেমের সুরক্ষায় একটি সমন্বিত জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা আবশ্যক:</p>
<p data-path-to-node="25">১. অ্যালগরিদমভিত্তিক রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং: কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও ব্যাংকগুলোর ব্যাংকিং আইটি বিভাগে এআই-ভিত্তিক ট্রানজেকশন মনিটরিং চালু করতে হবে। কোনো সাধারণ মুদি বা পানের দোকানে যদি নির্দিষ্ট সময় পরপর একই অঙ্কের গোল ফিগারের (যেমন: ৫,০০০, ১০,০০০ বা ২০,০০০ টাকা) পুনরাবৃত্তিমূলক পেমেন্ট আসতে থাকে, তবে সিস্টেম যেন তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত ও ফ্ল্যাগ করে।</p>
<p data-path-to-node="26">২. অনসাইট ফিল্ড অডিট: মার্চেন্ট অনবোর্ডিংকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়মিত সরেজমিন ফিল্ড অডিট চালাতে হবে। কোনো এমএফএস এজেন্ট পয়েন্টে অননুমোদিত মার্চেন্ট কিউআর ঝুলানো থাকলে তা অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা নিশ্চিত করতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="27">৩. প্রযুক্তিগত পপ-আপ ও গ্রাহক সচেতনতা: ব্যাংকিং ও এমএফএস অ্যাপগুলোতে কিউআর কোড স্ক্যান করার সময় সরাসরি দৃশ্যমান লাল ফন্টে সতর্কবার্তা প্রদর্শন নিশ্চিত করা প্রয়োজন—"এটি মার্চেন্ট পেমেন্ট কোড, ক্যাশ আউট নয়। এখানে অতিরিক্ত কোনো ফি দেওয়া আইনত দণ্ডনীয়।"</p>
<p data-path-to-node="28">৪. যৌথ রাজস্ব তদারকি: জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) ভ্যাট ট্র্যাকিং সেল এবং সিআইডির ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটকে যৌথভাবে অনলাইন পেমেন্টের অসঙ্গতি পর্যবেক্ষণ করে ডিজিটাইজড কর ফাঁকি ও ভয়েল পেমেন্ট চক্রের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="29">‘বাংলা কিউআর’ স্মার্ট বাংলাদেশ ও আধুনিক ক্যাশলেস অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম মূল স্তম্ভ। কিন্তু নীতিগত তদারকি ব্যবস্থার কঠোর প্রয়োগ এবং মাঠপর্যায়ে নজরদারি নিশ্চিত করা না গেলে এই যুগান্তকারী অর্জন কর ফাঁকি ও ডিজিটাল কালোবাজারির সুযোগ হিসেবে ব্যবহৃত হতে থাকবে।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="35"><b>লেখক || </b>ই-কমার্স বিশ্লেষক ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, ই-ক্যাব (e-CAB)</p>
<hr>
<p data-path-to-node="36"><b data-path-to-node="36" data-index-in-node="0">এডিটরস নোট || </b>লেখাটি লেখকের নিজস্ব চিন্তার ফসল। এর সঙ্গে কারও চরিত্র মিলে গেলে তা কাকতাল মাত্র। এর সাথে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের সম্পাদকীয় নীতিমালার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা নেই। মতপ্রকাশের উদারতা সমুন্নত রাখতে লেখাটি অবিকৃত রেখে প্রকাশ করা হলো।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="36"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সাইবার সুরক্ষার নামে নিয়ন্ত্রণের নতুন খসড়া?</title>
<link>https://digibanglatech.news/189448</link>
<guid>https://digibanglatech.news/189448</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x580_6aa37429ccfd9.jpg" length="114990" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 11 Sep 2026 09:23:43 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p class="isSelectedEnd"><span>এটি সাইবার নিরাপত্তার সংশোধনী নয়, বরং বক্তব্য নিয়ন্ত্রণ এবং গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের হাতে ক্ষমতা বাড়িয়ে দেওয়ার সংশোধনী—এমন আশঙ্কাই তৈরি করছে প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>সাইবার অপরাধ দমনে একটি শক্তিশালী ও আধুনিক আইন প্রয়োজন—এ নিয়ে বিতর্কের অবকাশ নেই। কিন্তু ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর সর্বশেষ খসড়া পর্যালোচনা করলে প্রশ্ন উঠছে, এর কেন্দ্রবিন্দু কি সত্যিই সাইবার নিরাপত্তা, নাকি অনলাইন বক্তব্য ও কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ?</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পরামর্শ সভায় আলোচিত খসড়ায় গুজব ও অপতথ্যকে নতুন অপরাধ হিসেবে যুক্ত করা, মানহানি ও ‘হেয়প্রতিপন্ন’ করাকে আবার অপরাধের আওতায় আনা, বিচারব্যবস্থার পরিধি বদলানো এবং কনটেন্ট অপসারণ ও ব্লক করার ক্ষমতা আরও বিস্তৃত করার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তাদের দায়মুক্তির নতুন বিধান এবং জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভার সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাবও রয়েছে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>এখানে আপত্তি সাইবার অপরাধ দমনের বিরুদ্ধে নয়। আপত্তি হলো—সাইবার নিরাপত্তার নামে এমন ক্ষমতা তৈরি করা হচ্ছে কি না, যা শেষ পর্যন্ত মতপ্রকাশ, সাংবাদিকতা, নাগরিক অনুসন্ধান ও সমালোচনার ওপর প্রয়োগ করা যেতে পারে।</span></p>
<h3><strong><span style="font-size: 10pt;">সাইবার আইনের জীবনচক্র</span></strong></h3>
<p class="isSelectedEnd"><span>বাংলাদেশে সাইবার আইন নিয়ে বিতর্কের ইতিহাস দীর্ঘ। ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণীত হয়। এর নানা ধারা নিয়ে দীর্ঘদিন সমালোচনা ছিল। পরে ২০২৩ সালে নাম ও কিছু বিধান পরিবর্তন করে সাইবার নিরাপত্তা আইন করা হয়। তখনও সমালোচকদের অভিযোগ ছিল, পুরোনো আইনের অনেক বিতর্কিত কাঠামো নতুন আইনে রয়ে গেছে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সাইবার নিরাপত্তা অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে। পরে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে নির্বাচিত সংসদে ‘সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬’ প্রণীত হয়। জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির সরকারি তালিকাতেও ২০২৫ সালের অধ্যাদেশ এবং ২০২৬ সালের আইন—দুটিই পৃথকভাবে নথিভুক্ত রয়েছে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>এরপর ১ জুলাই ২০২৬ ‘সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ গেজেট হয়। সরকারি গেজেটের তালিকায় এটি ২০২৬ সনের ৯৯ নম্বর আইন হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>কিন্তু সেই সংশোধনের পরও নতুন করে আরও একটি সংশোধনী খসড়া সামনে এসেছে। জুলাইয়ে এ খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার জন্য মন্ত্রিসভা কমিটি গঠন করা হয় এবং ১৫ জুলাই কমিটির সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সেপ্টেম্বরের ১০ তারিখে এ নিয়ে আবার পরামর্শ সভা হয়েছে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>অর্থাৎ আলোচ্য বিষয়টি এখন আর কেবল আইন প্রণয়নের প্রশ্ন নয়; বরং একটি সদ্য প্রণীত আইনের পরপরই আরও বিস্তৃত নিয়ন্ত্রণমূলক বিধান যুক্ত করার প্রশ্ন।</span></p>
<h3><span style="font-size: 12pt;"><strong>১. বিলের প্রস্তাবনাই বিলের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলে</strong></span></h3>
<p class="isSelectedEnd"><span>সাইবার সুরক্ষা আইনের মূল দর্শন ছিল নাগরিকের অধিকার ও সাইবার নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা। সেই জায়গা থেকেই প্রশ্ন আসে—যে ধরনের বিধান অতীতে মৌলিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করার অভিযোগে সমালোচিত হয়েছে, সেগুলোই যদি নতুন নামে ফিরে আসে, তাহলে আইনের চরিত্র কতটা বদলাল?</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>প্রস্তাবিত নতুন ২৬ক ধারাই এই প্রশ্নকে সবচেয়ে তীব্র করে।</span></p>
<h3><span style="font-size: 12pt;"><strong>২. নতুন ২৬ক: ‘গুজব’-এ ১০ বছর</strong></span></h3>
<p class="isSelectedEnd"><span>খসড়ায় সাইবার স্পেসে ‘গুজব ও অপতথ্য’ প্রকাশ বা প্রচারকে নতুন অপরাধ করার প্রস্তাব রয়েছে। সর্বোচ্চ শাস্তি হতে পারে ১০ বছর কারাদণ্ড বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>সমস্যার জায়গাটি শুধু শাস্তির মাত্রা নয়; ‘গুজব’-এর সংজ্ঞা।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>প্রস্তাবিত সংজ্ঞায় অসমর্থিত বা যাচাই না করা তথ্য, সংবাদ বা দাবিকে এমন ক্ষেত্রে গুজব বলা হচ্ছে, যা বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা বা সামাজিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে বা করার সম্ভাবনা রাখে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>এখানে তিনটি প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><strong><span>প্রথমত, তথ্যটি মিথ্যা হওয়া কি আবশ্যক?</span></strong><br><span>না। ‘অযাচাইকৃত’ হওয়াই যথেষ্ট হতে পারে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><strong><span>দ্বিতীয়ত, ইচ্ছাকৃততা কি আবশ্যক?</span></strong><br><span>‘অপতথ্য’-এর ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য বা ইচ্ছাকৃততার প্রশ্ন থাকলেও ‘গুজব’-এর প্রস্তাবিত সংজ্ঞায় সেটি একইভাবে স্পষ্ট নয়।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><strong><span>তৃতীয়ত, প্রকৃত ক্ষতি হওয়া কি আবশ্যক?</span></strong><br><span>না। ‘ক্ষতি বা অস্থিতিশীলতার সম্ভাবনা’ও বিবেচ্য হতে পারে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>এখানেই সাংবাদিকতার সঙ্গে সংঘাতের সম্ভাবনা তৈরি হয়। সংবাদ প্রকাশের কাজের একটি মৌলিক বৈশিষ্ট্য হলো—সরকারি নিশ্চিতকরণের আগেও তথ্য প্রকাশ করা। পরে কোনো তথ্য সত্য প্রমাণিত হলেও, প্রকাশের সময় সেটি ‘যাচাই না করা’ ছিল কি না—এই প্রশ্নটি তখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>এ ধরনের অস্পষ্টতা থাকলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা, নাগরিক সাংবাদিকতা ও জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্র সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা অমূলক নয়।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>আর ধারা ২৭ অনুযায়ী সহায়তা বা সহযোগিতার অপরাধের শাস্তিও মূল অপরাধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হলে একটি তথ্য শেয়ার বা পুনঃপ্রচার করাও গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।</span></p>
<h3><strong><span style="font-size: 10pt;">শাস্তির তুলনায় অসামঞ্জস্য</span></strong></h3>
<p class="isSelectedEnd"><span>খসড়ার প্রস্তাবিত ২৬ক ধারার সর্বোচ্চ ১০ বছরের শাস্তি বিশেষভাবে প্রশ্ন তৈরি করে। কারণ এটি এমন একটি অপরাধের জন্য, যেখানে ‘অযাচাইকৃত’ তথ্যই অপরাধের একটি ভিত্তি হতে পারে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>অন্যদিকে বর্তমান কাঠামোয় সাইবার প্রতারণা, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোতে গুরুতর আক্রমণ এবং সাইবার সন্ত্রাসের মতো অপরাধের সঙ্গে শাস্তির মাত্রার তুলনা করলে ‘গুজব’-এর প্রস্তাবিত শাস্তি কতটা আনুপাতিক—সে প্রশ্ন থেকেই যায়।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>এখানে মূল প্রশ্ন শাস্তি দেওয়া হবে কি না নয়; বরং </span><strong><span>অপরাধের সংজ্ঞা ও শাস্তির মধ্যে সামঞ্জস্য আছে কি না।</span></strong></p>
<h3><span>৩. সুরক্ষার বিধান যেখানে আছে, সেখানে নেই কেন?</span></h3>
<p class="isSelectedEnd"><span>খসড়ার অন্য কিছু বিধানে জনস্বার্থ, আইন প্রয়োগ, তদন্ত, চিকিৎসা, অনুমোদিত গবেষণা, শিক্ষা কিংবা হুইসেলব্লোয়িংয়ের মতো বৈধ ব্যবহারের জন্য ব্যতিক্রম রাখার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করা হয়েছে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>তাহলে মতপ্রকাশ-সম্পর্কিত ধারাগুলোতে সাংবাদিকতা, ব্যঙ্গ-রসিকতা, গবেষণা, সৎ সমালোচনা বা জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশের জন্য স্পষ্ট সুরক্ষা থাকবে না কেন?</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>একই আইনে যখন ব্যতিক্রম তৈরির কৌশল প্রয়োগ করা সম্ভব, তখন সবচেয়ে সংবেদনশীল বক্তব্য-সম্পর্কিত ধারায় তা না থাকা নিছক drafting oversight হিসেবে দেখলে প্রশ্ন থেকেই যায়।</span></p>
<h3><span>৪. মানহানি ও ‘হেয়প্রতিপন্ন’ আবার কেন?</span></h3>
<p class="isSelectedEnd"><span>খসড়ায় বর্তমান ২৫ ধারার যৌন হয়রানি, ব্ল্যাকমেইলিং, রিভেঞ্জ পর্ন, সেক্সটর্শন ও শিশু যৌন নিপীড়নসংক্রান্ত অপরাধের তালিকায় মানহানি, ‘হেয়প্রতিপন্ন’ ও বুলিং যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। শাস্তিও বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>শিশু যৌন নিপীড়ন বা সেক্সটর্শনের মতো গুরুতর অপরাধের শাস্তি কঠোর করার প্রয়োজন নিয়ে আপত্তি থাকার কথা নয়। কিন্তু একই ধারায় অনলাইন মানহানি ও ‘হেয়প্রতিপন্ন’-এর মতো বিস্তৃত ধারণাকে যুক্ত করা হলে আইন প্রয়োগের সীমা কোথায়—সেটিই প্রশ্ন।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>বিশেষ করে ‘হেয়প্রতিপন্ন’-এর সংজ্ঞা যদি এমনভাবে বিস্তৃত হয়, যার আওতায় নেতিবাচক পর্যালোচনা, জবাবদিহিমূলক প্রতিবেদন, ব্যঙ্গচিত্র বা মিমও পড়তে পারে, তাহলে সমালোচনা ও অপরাধের সীমারেখা অস্পষ্ট হয়ে যায়।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিচারযোগ্যতা ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা। খসড়ায় মানহানি-সংক্রান্ত অপরাধকে বিচারব্যবস্থার এমন কাঠামোর মধ্যে রাখার প্রস্তাব রয়েছে, যা অতীতে ডিজিটাল আইনের অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছিল।</span></p>
<h3><span>৫. সাইবার অপরাধের বিচার কি মোবাইল কোর্টে?</span></h3>
<p class="isSelectedEnd"><span>খসড়ায় সব সাইবার অপরাধকে একই বিচারিক কাঠামোর মধ্যে না রেখে গুরুতর কিছু অপরাধ সাইবার ট্রাইব্যুনালে এবং অন্যান্য অপরাধ প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানোর প্রস্তাব রয়েছে। কিছু অপরাধ মোবাইল কোর্টের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত হলে সেখানে বিচারও হতে পারে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>এখানে কাঠামোগত প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে ডিজিটাল ফরেনসিক, অডিও-ভিডিও যাচাই, তথ্য-উপাত্তের উৎস নির্ধারণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্মিত বা সম্পাদিত কনটেন্ট শনাক্ত করার মতো প্রযুক্তিগত বিষয় জড়িত। খসড়াতেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে অডিও-ভিডিও তৈরি বা সম্পাদনার বাস্তবতা স্বীকার করা হয়েছে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>তাহলে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সংক্ষিপ্ত বিচারপ্রক্রিয়ায় একটি স্ক্রিনশট, অডিও বা ভিডিওর সত্যতা নির্ধারণ কতটা সম্ভব—এ প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হওয়া দরকার।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, বিচারিক স্বাধীনতা ও ন্যায্য বিচারের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা। প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের বিচারকে যদি দ্রুততার নামে এমন ব্যবস্থায় নেওয়া হয়, যেখানে প্রমাণ যাচাইয়ের সুযোগ সীমিত, তাহলে সেটি ন্যায়বিচারের মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।</span></p>
<h3><span>৬. ব্লক করার ক্ষমতা কার হাতে যাচ্ছে?</span></h3>
<p class="isSelectedEnd"><span>খসড়ায় কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষমতার পরিধি বাড়ানোর প্রস্তাব রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকারের ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য সংস্থা বা বাহিনীকে এর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>এখানে ‘অন্যান্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থা বা বাহিনী’ কথাটিই বড় প্রশ্ন তৈরি করে। কারণ ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থার পরিধি যদি আইনে স্পষ্টভাবে নির্ধারিত না থাকে, তাহলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ক্ষমতার ক্ষেত্র ক্রমশ বিস্তৃত হতে পারে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ‘অপতথ্য বা গুজব’, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘মানহানিকর’ এবং রাষ্ট্রের জন্য ‘অবমাননাকর’ কনটেন্টও অপসারণ বা ব্লকের আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>‘রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকর’—এই শব্দবন্ধের সুনির্দিষ্ট আইনি সংজ্ঞা না থাকলে তার সীমা কোথায়?</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>তবে খসড়ার একটি স্বচ্ছতা-সংক্রান্ত নীতি অবশ্যই রাখা উচিত—কোন কনটেন্ট কেন ব্লক বা অপসারণ করা হয়েছে, তার তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশের ব্যবস্থা। স্বচ্ছতা ছাড়া ব্লকিং ক্ষমতা সহজেই নির্বাহী ক্ষমতার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিকার। যে সংস্থা কনটেন্ট ব্লক করবে, তার কাছেই যদি সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করতে হয়, তাহলে স্বাধীন প্রতিকারের প্রশ্ন ওঠে। এ ক্ষেত্রে আদালতের কাছে যাওয়ার পথ স্পষ্ট ও কার্যকর থাকা জরুরি।</span></p>
<h3><span>৭. তদারকি কমছে, দায়মুক্তি বাড়ছে?</span></h3>
<p class="isSelectedEnd"><span>খসড়ায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সভার ব্যবধান তিন মাস থেকে ছয় মাস করার প্রস্তাব রয়েছে—এমন তথ্য আলোচ্য তুলনামূলক নথি ও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>একই সময়ে নির্বাহী সংস্থার কনটেন্ট ব্লক ও অপসারণের ক্ষমতা বাড়ানোর প্রস্তাব থাকলে তদারকির ব্যবধান বাড়ানোর যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করা জরুরি।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>আরও বড় প্রশ্ন কর্মকর্তাদের দায়মুক্তি নিয়ে। খসড়ায় কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, সদস্য এবং ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ‘সরল বিশ্বাসে’ করা কাজের জন্য দেওয়ানি বা ফৌজদারি মামলার দায় থেকে সুরক্ষা দেওয়ার প্রস্তাবের কথা বলা হয়েছে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে ‘সরল বিশ্বাস’ প্রয়োজনীয় সুরক্ষা হতে পারে। কিন্তু এর সীমা, সংজ্ঞা ও জবাবদিহি স্পষ্ট না হলে দায়মুক্তি নিজেই অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করে।</span></p>
<h3><span>আসল প্রশ্নটি এখানেই</span></h3>
<p class="isSelectedEnd"><span>সাইবার অপরাধ দমনে আধুনিক আইন দরকার। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক, র‍্যানসমওয়্যার, ম্যালওয়্যার, পরিচয় চুরি, সাইবার প্রতারণা ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর ওপর আক্রমণ—এসব বাস্তব হুমকি। সরকারকে এগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর আইন করতেই হবে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>কিন্তু নিরাপত্তা আর নিয়ন্ত্রণ এক জিনিস নয়।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>সাইবার নিরাপত্তার একটি আধুনিক আইন নাগরিকের ডিজিটাল অধিকারও সুরক্ষিত করবে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো, সরকারি ব্যবস্থা, ব্যবসা ও নাগরিকের তথ্যকে সাইবার হামলা থেকে রক্ষা করবে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন ‘গুজব’, ‘অপতথ্য’, ‘হেয়প্রতিপন্ন’, ‘রাষ্ট্রের জন্য অবমাননাকর’ কিংবা ‘অস্থিতিশীলতার সম্ভাবনা’র মতো অস্পষ্ট শব্দের ওপর দীর্ঘ কারাদণ্ড ও বিস্তৃত প্রশাসনিক ক্ষমতা নির্ভর করে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৬ ইতোমধ্যে প্রণীত হওয়ার পর এত দ্রুত নতুন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা সরকার ব্যাখ্যা করতে পারে। ২০২৬ সালের জুলাইয়েই একটি সংশোধনী আইন গেজেট হয়েছে এবং এখন আবার নতুন খসড়া নিয়ে পরামর্শ চলছে।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>সুতরাং প্রশ্নটি হওয়া উচিত—আমরা কি সত্যিই সাইবার নিরাপত্তা শক্তিশালী করছি, নাকি নিরাপত্তার কাঠামোর ভেতরে বক্তব্য নিয়ন্ত্রণের পুরোনো পদ্ধতিগুলো ফিরিয়ে আনছি?</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><span>ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। নতুন আইন যদি একই ধরনের অস্পষ্ট সংজ্ঞা, অতিরিক্ত শাস্তি, বিস্তৃত ব্লকিং ক্ষমতা, দুর্বল প্রতিকার ও কর্মকর্তাদের দায়মুক্তির কাঠামো ফিরিয়ে আনে, তাহলে শুধু আইনের নাম বদলাবে; সমস্যার চরিত্র বদলাবে না।</span></p>
<p class="isSelectedEnd"><strong><span>একটি ভালো সাইবার আইন দরকার। কিন্তু সেই আইন নাগরিককে নিরাপদ করবে—নীরব নয়।</span></strong></p>
<hr>
<p class="isSelectedEnd"><strong><span>লেখক ||  </span></strong>পলিসি টেকনোলজিস্ট, ডাটা সায়েন্টিস্ট এবং গবেষক  </p>
<hr>
<p><strong><span>সম্পাদকীয় নোট ||</span></strong><span> </span><em><span>প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব এবং তা ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের সম্পাদকীয় অবস্থানকে অপরিহার্যভাবে প্রতিফলিত করে না। মতপ্রকাশের বৈচিত্রময়তাকে সমুন্নত রাখতে কোনো সম্পাদকীয় সেন্সরশিপ ছাড়াই </span></em><strong><em><span>টেক-থট</span></em></strong><em><span> প্রকাশ করা হয়।</span></em></p>
<hr><hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>নমনীয় সিলিকন থেকে বাংলাদেশের স্বপ্ন</title>
<link>https://digibanglatech.news/189446</link>
<guid>https://digibanglatech.news/189446</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x580_6aa3624babe0b.jpg" length="85356" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 10 Sep 2026 08:07:49 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>নমনীয় সিলিকন, সেমিকন্ডাক্টর, গভীর প্রযুক্তি, সিলিকন রিভার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এআইওটি, নমনীয় ইলেকট্রনিক্স, গবেষণা, বাংলাদেশ</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>আজ অ্যাপল তাদের প্রথম ভাঁজযোগ্য আইফোন—আইফোন ডুও—নিয়ে এসেছে। অ্যাপল অবশ্যই প্রথম নয়। স্যামসাংসহ আরও অনেক প্রতিষ্ঠান অনেক আগেই ভাঁজযোগ্য ফোন বাজারে এনেছে। তারও আগে জন রজার্সসহ অসাধারণ গবেষকেরা নমনীয় ও প্রসারণযোগ্য ইলেকট্রনিক্স নিয়ে পথপ্রদর্শক কাজ করেছেন।</p>
<p>কিন্তু ১৩ বছর আগে আরেকটি দল একটু অন্য প্রশ্ন করেছিল।</p>
<p>নতুন কোনো অভিনব উপাদান নয়, প্লাস্টিক ইলেকট্রনিক্সও নয়—শিল্পমানের বাল্ক একক-স্ফটিক সিলিকন ওয়েফার এবং প্রচলিত সিএমওএস-সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইলেকট্রনিক্স তৈরি করে, সেই সিলিকনকেই কি পরে নমনীয় করা যায়? কর্মক্ষমতা, বৃহৎ পরিসরে উৎপাদনযোগ্যতা এবং সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনের মূল সুবিধাগুলো ধরে রেখেই?</p>
<p>জন রজার্স ও অন্য গবেষকেরা এর আগে সিলিকন-অন-ইনসুলেটর বা এসওআই, সিলিকন (১১১)সহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে নমনীয় সিলিকন ইলেকট্রনিক্স নিয়ে কাজ করেছিলেন। এসব পদ্ধতির কিছু ক্ষেত্রে সাবস্ট্রেটের খরচ, ত্রুটির ঘনত্ব বা কর্মক্ষমতা নিয়ে সীমাবদ্ধতা ছিল। আমাদের প্রশ্ন ছিল আরও সরাসরি: মূলধারার সেমিকন্ডাক্টর শিল্প যে বাল্ক সিলিকন (১০০) ওয়েফার ব্যবহার করে, সেটিকেই কি নমনীয় ইলেকট্রনিক্সের ভিত্তি করা যায়?</p>
<p>২০১৩ সালের ১০ সেপ্টেম্বর <em>সায়েন্টিফিক রিপোর্টস</em>-এ প্রকাশিত আমাদের গবেষণাপত্রটির শিরোনাম ছিল, <em>“আমরা কি সত্যিই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন, নমনীয় ও স্বচ্ছ কম্পিউটার তৈরি করতে পারি?”</em> গবেষণাটি দেখিয়েছিল, বাল্ক সিলিকন (১০০) ওয়েফার থেকে প্রচলিত মাইক্রোফ্যাব্রিকেশন ও সিএমওএস-সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রক্রিয়া ব্যবহার করে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিলিকন ইলেকট্রনিক্সকে নমনীয় ও আংশিক স্বচ্ছ করা সম্ভব।</p>
<p>গবেষণায় তৈরি সিলিকন ফ্যাব্রিকের পুরুত্ব ছিল প্রায় ১৫–১৭.৫ মাইক্রোমিটার এবং এটি প্রায় ৫ মিলিমিটার বাঁকন-ব্যাসার্ধ পর্যন্ত বাঁকানো সম্ভব হয়েছিল। ডিভাইসগুলোতে উচ্চ-কে/ধাতব-গেট প্রযুক্তির পি-টাইপ এমওএসএফইটি ব্যবহার করা হয়। একই সঙ্গে গবেষণায় দেখানো হয়েছিল, ব্যবহৃত বাল্ক সিলিকন সাবস্ট্রেট রাসায়নিক-যান্ত্রিক সমতলীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় ব্যবহার করা সম্ভব।</p>
<p>সেই সময় ন্যানোওয়ার্ক এই কাজ নিয়ে লিখেছিল, <em>“নমনীয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার তৈরির পথে।”</em> ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার আলোচনায় ভাঁজযোগ্য, কাগজের মতো পাতলা ট্যাবলেট কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের কথাও উঠে এসেছিল।</p>
<p>এবার চমকটা বলি। </p>
<p>কাজটি এমআইটি, স্ট্যানফোর্ড বা সিলিকন ভ্যালিতে হয়নি। হয়েছিল সৌদি আরবের মরুভূমিতে, তখনকার সদ্য প্রতিষ্ঠিত কিং আবদুল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বা কেএইউএসটির ইন্টিগ্রেটেড ন্যানোটেকনোলজি ল্যাবে। গবেষণাপত্রের লেখক ছিলেন জনাথান পি. রোজাস, গালো এ. টরেস সেভিয়া এবং আমি—মুহাম্মদ এম. হুসাইন। গবেষণাপত্রে আমাদের সবার প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় হিসেবে কেএইউএসটির ইন্টিগ্রেটেড ন্যানোটেকনোলজি ল্যাবের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।</p>
<p>আলহামদুলিল্লাহ, সেই দলটি ছিল আমাদের।</p>
<p>আমরা আজকের অ্যাপল বা স্যামসাংয়ের ভাঁজযোগ্য ফোন বানিয়েছি—এমন দাবি করছি না। নমনীয় ইলেকট্রনিক্সও আমরা আবিষ্কার করিনি। আমাদের প্রশ্নটি ছিল আলাদা: বিদ্যমান সেমিকন্ডাক্টর ব্যবস্থাকে বাদ না দিয়েই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সিলিকন ইলেকট্রনিক্সকে নমনীয় করা যায় কি? আলহামদুলিল্লাহ, আমরা দেখিয়েছিলাম—যায়।</p>
<p>তখন কেএইউএসটি নতুন। সৌদি আরবকে প্রযুক্তির অগ্রভূমি হিসেবে দেখার লোকও কম ছিল। তাই হয়তো কাজটি তার প্রাপ্য আলো পায়নি। কিন্তু বিজ্ঞানের কোনো পাসপোর্ট নেই। উদ্ভাবনের কোনো ঠিকানাও নেই।</p>
<p>আর ঠিক এখানেই সিলিকন রিভার বাংলাদেশের দুঃসাহসী স্বপ্নের সঙ্গে গল্পটি মিলে যায়—ভীষণ নয়, ভিশন! </p>
<p>আজ কেউ বলবে, বাংলাদেশ কেন উন্নত মেমোরি, এজেন্টিক এআই, এআইওটি, ডিজিটাল টুইন, বিশেষায়িত পরীক্ষা, স্বয়ংক্রিয় সংযোজন, প্যাকেজিং, কৌশলগত ফ্যাব্রিকেশন, মেধাস্বত্ব বা পণ্য উন্নয়ন নিয়ে ভাববে? সক্ষমতা কোথায়?</p>
<p>আমার উত্তর খুব সহজ।</p>
<p>সক্ষমতা সবসময় শুরু করার আগে তৈরি থাকে না। কাজ করতে করতেই সক্ষমতা তৈরি হয়।</p>
<p>২০১৩ সালে মরুভূমির একটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় যদি ভবিষ্যতের নমনীয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং নিয়ে প্রশ্ন করতে পারে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ কেন সেমিকন্ডাক্টর ও গভীর প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করবে না?</p>
<p>অন্যের প্রযুক্তি সফল হওয়ার পরে সস্তা সেবা-দাতা হিসেবে প্রবেশ করা সহজ।</p>
<p>আমাদের লক্ষ্য হলো তার আগেই জ্ঞান, মেধাস্বত্ব, পণ্য ও কোম্পানি তৈরির টেবিলে বসা।</p>
<p>কারণ ভবিষ্যৎ যখন সবার কাছে স্পষ্ট হয়ে যায়, সবচেয়ে মূল্যবান চেয়ারগুলো সাধারণত ততক্ষণে দখল হয়ে গেছে।</p>
<p>সিলিকন রিভার সেই চেয়ারগুলোর একটিতে বাংলাদেশের নাম লিখতে চায়।</p>
<p>ইনশাআল্লাহ; বাংলাদেশ।</p>
<p><span style="text-decoration: underline;"><strong>তথ্যসূত্র:</strong></span><br><em>জনাথান পি. রোজাস, গালো এ. টরেস সেভিয়া ও মুহাম্মদ এম. হুসাইন, “আমরা কি সত্যিই উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন, নমনীয় ও স্বচ্ছ কম্পিউটার তৈরি করতে পারি?”, সায়েন্টিফিক রিপোর্টস, ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩।</em><br><em>ন্যানোওয়ার্ক, “নমনীয় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটার তৈরির পথে”, সেপ্টেম্বর ২০১৩।</em></p>
<hr>
<p><strong>লেখক ||</strong><em><strong> </strong>প্রধান স্থপতি, সিলিকন রিভার; অধ্যাপক, পারডু ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিয়ানা, যুক্তরাষ্ট্র</em></p>
<hr>
<p><strong>সম্পাদকীয় নোট || </strong> <em>প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব এবং তা ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের সম্পাদকীয় অবস্থানকে অপরিহার্যভাবে প্রতিফলিত করে না। মতপ্রকাশের বৈচিত্রময়তাকে সমুন্নত রাখতে কোনো সম্পাদকীয় সেন্সরশিপ ছাড়াই <strong>টেক-থট</strong> প্রকাশ করা হয়।</em></p>
<hr><hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>জ্বালানি ক্রয়ে চাই রাইট এক্সপার্টিজ</title>
<link>https://digibanglatech.news/189467</link>
<guid>https://digibanglatech.news/189467</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x580_6aa39840818b1.jpg" length="101475" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 09 Sep 2026 12:02:37 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>জ্বালানি প্রকিউরমেন্ট, এলএনজি, এনার্জি মার্কেট, ফুয়েল প্ল্যান, লোড ফোরকাস্টিং, পেট্রোবাংলা, বিপিসি, স্পট মার্কেট, এনার্জি রিস্ক ম্যানেজমেন্ট</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশের জ্বালানি সংগ্রহ ও বিশেষ করে এলএনজি প্রকিউরমেন্টে আমাদের <strong>রাইট এক্সপার্টিজ</strong> আনা দরকার। ঐতিহাসিকভাবেই এই জায়গায় আমরা লোকসান করছি। সঠিক সময়ে, সঠিক দামে এবং সঠিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জ্বালানি কেনার সক্ষমতা এখনও আমাদের কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি।</p>
<p>হিসাব করে দেখা যাচ্ছে, বছরে বাংলাদেশের ১১০-১১৫টি এলএনজি কার্গো কেনার ক্ষেত্রে বাজারদর ও ক্রয়মূল্যের ব্যবধান থেকে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলারের বাড়তি খরচ হতে পারে। তবে এই হিসাবের নির্ভুলতা নির্ভর করবে কোন আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক, কোন ডেলিভারি উইন্ডো এবং কোন মূল্যকে তুলনার ভিত্তি ধরা হচ্ছে তার ওপর।</p>
<p>২০২৬ সালে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বিঘ্ন এবং বৈশ্বিক এলএনজি বাজারের অস্থিরতায় বাংলাদেশকে একাধিক স্পট কার্গো উচ্চ দামে কিনতে হয়েছে। ২৪ আগস্ট সরকার সেপ্টেম্বরের জন্য দুটি স্পট কার্গো অনুমোদন করে—একটি POSCO International-এর কাছ থেকে ২৪.৬২৫ ডলার এবং অন্যটি TotalEnergies Gas &amp; Power-এর কাছ থেকে ২৪.২৫ ডলার প্রতি MMBtu দরে।</p>
<p>অন্যদিকে, ২০২৬ সালের বার্ষিক সরবরাহ পরিকল্পনায় মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির লক্ষ্য ছিল। এর মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি স্বল্পমেয়াদি ও স্পট কার্গোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।</p>
<p>কাতার বাংলাদেশের বড় দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহকারী। কিন্তু ২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ-সংক্রান্ত বিঘ্নের কারণে QatarEnergy বাংলাদেশে নির্ধারিত সরবরাহের বড় অংশ কমিয়ে দেওয়ার কথা জানায়। ফলে ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশকে স্পট বাজারে আরও বেশি যেতে হয়েছে।</p>
<p>এখানে কয়েকটি বিষয় আমলে নিতে হবে।</p>
<h3><strong><span style="font-size: 10pt;">১. জ্বালানি পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ফাইলে নয়, সমীকরণে হতে হবে</span></strong></h3>
<p>বর্তমান ব্যবস্থায় একজন মন্ত্রী ও একজন সচিবের নেতৃত্বে জ্বালানি পরিকল্পনার বড় সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হয়। বিপিসি বা পেট্রোবাংলা বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রাথমিক প্রস্তাব তৈরি করে। এরপর ফাইল মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে সচিব ও মন্ত্রীর অনুমোদনের পর সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটিতে যায়। অনুমোদনের পর আবার একই প্রশাসনিক পথে তা নিচে নামে।</p>
<p>অর্থাৎ কাঠামোটা অনেকটা এমন—</p>
<p><strong>বিপিসি/পেট্রোবাংলা → মন্ত্রণালয় → সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি → মন্ত্রণালয় → বিপিসি/পেট্রোবাংলা।</strong></p>
<p>একবার ফাইল ওঠে, অনুমোদন নেয় এবং আবার নামে। এরপর শুরু হয় প্রকৃত ক্রয়।</p>
<p>এ ধরনের দীর্ঘ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় হতে পারে। কিন্তু জ্বালানি বাজারের মতো অত্যন্ত দ্রুত পরিবর্তনশীল বাজারে প্রতিটি কার্গোকে যদি খুচরা ক্রয় হিসেবে বিবেচনা করতে হয়, তাহলে বাজারের ভালো সময় ধরে মূল্য নির্ধারণ বা আগাম মূল্য সুরক্ষার সুযোগ কমে যায়।</p>
<p>২০২৬ সালের ২৪ আগস্টের দুটি কার্গোই এর একটি উদাহরণ। দুটি কার্গোর দাম ২৪ ডলারের ওপরে ছিল। এর মাত্র কয়েক দিন আগে অনুমোদিত একটি কার্গোর দাম ছিল ২৩.৯৩ ডলার/MMBtu; তারও আগে আগস্টের দুটি কার্গো ২১.৭৭৮ ও ২১.৮৭৮ ডলারে অনুমোদিত হয়েছিল।</p>
<p>এখানে প্রশ্ন শুধু দাম বেশি কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো—আমরা কি বাজারকে আগে থেকে বুঝে ক্রয় করছি, নাকি সংকট তৈরি হওয়ার পর বাজারের কাছে গিয়ে দাম মেনে নিচ্ছি?</p>
<p>মন্ত্রী বা সচিবের ব্যক্তিগত বাজার-অভিজ্ঞতার ওপর জ্বালানি পরিকল্পনা নির্ভর করা উচিত নয়। <strong>ফুয়েল প্ল্যান তৈরি হতে হবে প্রকৌশল, অর্থনীতি, চাহিদা, বাজার ও ঝুঁকি বিশ্লেষণের সমন্বিত মডেলের ভিত্তিতে।</strong></p>
<p>এর জন্য প্রথম প্রয়োজন নির্ভুল <strong>লোড ফোরকাস্টিং</strong>।</p>
<p>সাবস্টেশন, বিদ্যুৎ বিতরণ অঞ্চল ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্যের পাশাপাশি শিল্প ও বণিক সমিতি, ইপিজেড, বেজা, বেপজা, হাই-টেক পার্কসহ শিল্পায়নের নতুন কেন্দ্রগুলোর সম্ভাব্য চাহিদাকেও হিসাবের মধ্যে আনতে হবে।</p>
<p>একটি উদাহরণ দিই। এবছর আমাদের লোড ফোরকাস্ট ছিল ১২.৪ শতাংশ; বাস্তব লোড বেড়েছে ১৭ শতাংশের বেশি—এমন হিসাব পাওয়া যাচ্ছে। আবার পূর্বাভাসের মধ্যেও বড় অংশের সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে একদিকে প্রকৃত চাহিদার বৃদ্ধি ছিল, অন্যদিকে সরবরাহ ঘাটতি ও লোডশেডিংও ছিল।</p>
<p>অর্থাৎ শুধু বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য কত গ্যাস লাগবে, সেই হিসাব যথেষ্ট নয়। <strong>কোথায়, কখন, কত বিদ্যুৎ প্রয়োজন হবে—তার ওপর ভিত্তি করে গ্যাস, কয়লা, ফার্নেস অয়েল ও অন্যান্য জ্বালানির সমন্বিত পরিকল্পনা করতে হবে।</strong></p>
<h3><strong><span style="font-size: 10pt;">২. দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া স্পট মার্কেট বিপজ্জনক</span></strong></h3>
<p>নিখুঁত লোড ফোরকাস্টের ভিত্তিতে ফুয়েল মিক্স পরিকল্পনা করতে হবে। সেই পরিকল্পনার সঙ্গে মিলিয়ে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি ক্রয়।</p>
<p>বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ভিত্তি ইতোমধ্যে আছে। QatarEnergy, OQ Trading এবং Excelerate Energy-সহ একাধিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ চুক্তি রয়েছে। ২০২৬ সালে নতুন চুক্তিগুলোর আওতায় সরবরাহ শুরু হওয়ার কথাও ছিল।</p>
<p>সমস্যা হলো—দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি থাকলেও সরবরাহের ঝুঁকি রয়েছে। কাতারের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ভূরাজনৈতিক সংকট সেটিই দেখিয়েছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির পাশাপাশি বিকল্প সরবরাহকারী ও বিকল্প সরবরাহপথও তৈরি রাখতে হবে।</p>
<p>সত্যি বলতে লজ্জার কিছু নেই—আমাদের আন্তর্জাতিক এনার্জি মার্কেট, ট্রেডিং ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট এক্সপার্টিজের ঘাটতি আছে।</p>
<h3><strong><span style="font-size: 10pt;">৩. সরাসরি উৎস ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ সম্পর্ক দরকার</span></strong></h3>
<p>স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে তৃতীয় পক্ষের ট্রেডিং মধ্যস্বত্বভোগীর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে মূল উৎপাদক ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক মার্কেটারদের সঙ্গে সরাসরি সরবরাহ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।</p>
<p>Shell, TotalEnergies, QatarEnergy-এর মতো প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ট্রেডিং হাউসগুলোর সঙ্গেও প্রতিযোগিতামূলক সম্পর্ক রাখতে হবে। তবে ‘উৎপাদক’ ও ‘ট্রেডিং কোম্পানি’কে এক করে দেখা যাবে না—চুক্তির ধরন, মূল্য কাঠামো, সরবরাহের নিশ্চয়তা এবং ঝুঁকি আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করতে হবে।</p>
<p>একাধিক নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ উৎস প্রয়োজন, যেখান থেকে জরুরি পরিস্থিতিতে সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো সম্ভব হবে।</p>
<p>কারও সঙ্গে নিয়মিত ক্রয়সম্পর্ক না থাকলে সংকটের মুহূর্তে তার কাছ থেকে জ্বালানি পাওয়ার নিশ্চয়তাও থাকে না।</p>
<h3><strong><span style="font-size: 10pt;">৪. সংকটের পরে নয়, সংকটের আগেই ক্রয়</span></strong></h3>
<p>নির্ভুল ফুয়েল প্ল্যান না থাকায় আমরা প্রায়ই সংকট তৈরি হওয়ার পর ক্রাঞ্চ টাইমে তাৎক্ষণিক বাজার ক্রয়ের ওপর নির্ভর করি। তখন বাজারও জানে যে ক্রেতার হাতে সময় কম।</p>
<p>ফলে দর-কষাকষির ক্ষমতা কমে এবং দাম বেড়ে যায়।</p>
<p>একটি ভারসাম্যপূর্ণ ক্রয় পোর্টফোলিও দরকার। সেখানে এক, দুই, তিন বা পাঁচ বছর মেয়াদি নির্ধারিত বা সূত্রভিত্তিক মূল্য চুক্তি থাকবে। পাশাপাশি এপ্রিল-আগস্টের দীর্ঘ পিক-ডিমান্ড সময়ের জন্য দেশীয় ও বৈদেশিক সরবরাহের নিশ্চয়তা আগেই ঠিক করতে হবে।</p>
<p>স্পট ক্রয় থাকবে, কিন্তু সেটি হবে <strong>পরিকল্পিত ও সীমিত</strong>।</p>
<p>বড় সংকট, দুর্যোগ, সরবরাহ বিচ্ছিন্নতা বা আকস্মিক চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে কিছু সুশৃঙ্খল স্পট ক্রয় রাখা যেতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সামার উইন্ডোকে যদি ধারাবাহিক স্পট ক্রয়ের ওপর নির্ভর করে চালাতে হয়, তাহলে সেটি কোনো টেকসই জ্বালানি কৌশল নয়।</p>
<p>বাংলাদেশের ২০২৬ সালের অভিজ্ঞতা তার প্রমাণ। কাতারের সরবরাহ কমে যাওয়ার পর বাংলাদেশকে স্পট বাজারে উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি যেতে হয়েছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর বাংলাদেশকে বিকল্প উৎস থেকে স্পট কার্গো সংগ্রহ বাড়াতে হয়েছিল।</p>
<h3><strong><span style="font-size: 10pt;">৫. জ্বালানি কেনায় আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জরুরি</span></strong></h3>
<p>মূল্য অস্থিরতার সময় বাজারের ঝুঁকিকে পেশাদার আর্থিক ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আওতায় আনতে হবে।</p>
<p>Petrobangla ও BPC-এর মূল্য নির্ধারণ এবং ঝুঁকি বিশ্লেষণ টিমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা জরুরি। Henry Hub futures, Brent-linked derivatives, LNG price swaps কিংবা অন্যান্য OTC ব্যবস্থার ব্যবহার সম্পর্কে দক্ষতা তৈরি করতে হবে।</p>
<p>এখানে একটি বাস্তব সমস্যা হলো—সরকারি সচিব বা মন্ত্রী পদগুলো ঘূর্ণায়মান। একজন মন্ত্রীর বা সচিবের ব্যক্তিগত বাজার-অভিজ্ঞতার ওপর এই দক্ষতা তৈরি করা যায় না।</p>
<p><strong>প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক দক্ষতা তৈরি করতে হবে।</strong></p>
<p>অর্থাৎ একটি পেশাদার এনার্জি ট্রেডিং, মার্কেট অ্যানালিটিক্স ও রিস্ক ম্যানেজমেন্ট টিম দরকার, যারা সরকার পরিবর্তন বা কর্মকর্তা বদল হলেও কাজ চালিয়ে যাবে।</p>
<p>বাংলাদেশের এনার্জি প্রকিউরমেন্ট ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় ঘাটতি হয়তো অর্থের নয়—<strong>দক্ষতার।</strong></p>
<h3><strong><span style="font-size: 10pt;">৬. ‘অ্যাড-হক’ ক্রয় থেকে পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনায় যেতে হবে</span></strong></h3>
<p>আমাদের ক্রয় ব্যবস্থা এখনো অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনের সময় ক্রয় করার দিকে ঝুঁকে আছে। আধুনিক এনার্জি মার্কেটে এটি যথেষ্ট নয়।</p>
<p>প্রথমে চাহিদা নির্ধারণ করতে হবে। তারপর ফুয়েল মিক্স। এরপর সরবরাহ নিরাপত্তা। এরপর দীর্ঘমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি চুক্তি। এরপর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা। সবশেষে অবশিষ্ট ঘাটতি পূরণের জন্য স্পট মার্কেট।</p>
<p>এই ক্রমটাই হওয়া উচিত।</p>
<p>স্পট মার্কেটকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। বরং সঠিক সময়ে ব্যবহার করতে হবে। বাজার যখন কম দামে থাকে, তখন ভবিষ্যৎ ডেলিভারির জন্য স্পট কার্গো ব্লক বা মূল্য সুরক্ষার সুযোগ নিতে হবে—যদি চুক্তি, বাজারের তারল্য ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কাঠামো তা সমর্থন করে।</p>
<p>এজন্যই <strong>ডিমান্ড ফোরকাস্ট, ফুয়েল প্ল্যান ও প্রকিউরমেন্টকে একই ব্যবস্থাপনা কাঠামোর মধ্যে আনতে হবে।</strong></p>
<h3>শেষ কথা</h3>
<p>বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এখন শুধু কত গ্যাস আছে, কত বিদ্যুৎকেন্দ্র আছে বা কত কার্গো কেনা যাবে—এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নেই।</p>
<p>প্রশ্ন হলো, <strong>আমরা কতটা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে কিনছি।</strong></p>
<p>২০২৬ সালের বাজার অস্থিরতা দেখিয়ে দিয়েছে, একক সরবরাহ উৎস, একক সরবরাহপথ কিংবা সংকটের সময় স্পট বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ।</p>
<p>বাংলাদেশকে তাই একটি পেশাদার <strong>Energy Procurement &amp; Trading Architecture</strong> তৈরি করতে হবে।</p>
<p>দরকার আন্তর্জাতিক মানের এনার্জি মার্কেট এক্সপার্ট, ট্রেড নেগোশিয়েটর, ডিমান্ড ফোরকাস্টার, কমোডিটি রিস্ক ম্যানেজার এবং আর্থিক বাজার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে স্থায়ী টিম।</p>
<p>আমাদের অ্যাড-হক ক্রয় কমাতে হবে। অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমাতে হবে। সরাসরি ও বহুমুখী সরবরাহ সম্পর্ক তৈরি করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি ও মধ্যমেয়াদি চুক্তির সঙ্গে পরিকল্পিত স্পট ক্রয় রাখতে হবে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—<strong>জ্বালানি কেনার সিদ্ধান্তকে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক অনুমানের বদলে প্রকৌশল, অর্থনীতি, ডেটা ও বাজার-ঝুঁকির সমীকরণে আনতে হবে।</strong></p>
<p>বাংলাদেশের ১১৫টি কার্গো কেনা শুধু ১১৫টি আলাদা ক্রয় নয়। এটি একটি জাতীয় <strong>Energy Portfolio</strong>।</p>
<p>সেই পোর্টফোলিও যদি পেশাদারভাবে পরিচালনা করা যায়, তাহলে কয়েকশ মিলিয়ন ডলারের সম্ভাব্য অপচয় কমানো সম্ভব। আর যদি না যায়, তাহলে বাজার যতই বদলাক, আমরা বারবার একই জায়গায় ফিরে আসব—<strong>সংকটের পরে বাজারে গিয়ে বেশি দামে জ্বালানি কেনা।</strong></p>
<hr>
<p><strong>লেখক || </strong>অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা; প্রকৌশলী ও লেখক</p>
<hr>
<p><strong>সম্পাদকীয় নোট ||</strong> <em>প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব এবং তা ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের সম্পাদকীয় অবস্থানকে অপরিহার্যভাবে প্রতিফলিত করে না। মতপ্রকাশের বৈচিত্রময়তাকে সমুন্নত রাখতে কোনো সম্পাদকীয় সেন্সরশিপ ছাড়াই <strong>টেক-থট</strong> প্রকাশ করা হয়।</em></p>
<hr><hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>লগফাইলের অন্ধকারে লুকানো অপরাধী</title>
<link>https://digibanglatech.news/189228</link>
<guid>https://digibanglatech.news/189228</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x580_6aa0f44b8f504.jpg" length="126070" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 08 Sep 2026 22:00:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>সাইবার ফরেনসিক, তানভীর হাসান জোহা, রিমোট অ্যাক্সেস ট্রোজান, ব্ল্যাকমেইল তদন্ত, ডিজিটাল এভিডেন্স, ডেটা এক্সফিলট্রেশন, ক্লাউড ফরেনসিক, সাইবার ক্রাইম তদন্ত, চেইন অব কাস্টডি, তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তা</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="4">ফোনের ওপাশ থেকে ভেসে এলো মালিহার (ছদ্মনাম) আতঙ্কিত কণ্ঠ। গভীর রাত, পাশে ঘুমিয়ে আছে তাঁর দুই বছরের ফুটফুটে কন্যাসন্তান। অথচ মা দুচোখের পাতা এক করতে পারছেন না। তাঁর কিছু পুরোনো ব্যক্তিগত ছবি পাঠিয়ে অজানা এক নম্বর থেকে ব্ল্যাকমেইল করা হচ্ছে।</p>
<p data-path-to-node="5">পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে স্বাভাবিকভাবেই প্রথম সন্দেহ গিয়ে পড়েছিল তাঁর সাবেক প্রেমিকের দিকে। সামাজিকভাবে এমন ক্ষেত্রে আঙুল তো সেদিকেই ওঠে। সাবেক প্রেমিক ব্যাকুল হয়ে শপথ করে বললেন, “বিশ্বাস করুন, আমি কিছুই করিনি।”</p>
<p data-path-to-node="6">আমি কেবল চুপ করে শুনলাম।</p>
<p data-path-to-node="7">আমাদের বাস্তবতায় অনেক সময় মানুষ কোনো অপরাধ না করেও পরিস্থিতির শিকার হয়ে অপরাধীর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে যায়। কিন্তু অনুমানের ওপর তো আর বিচার চলে না। সত্যিটা তবে লুকিয়ে থাকে কোথায়? সত্যি থাকে অপারেটিং সিস্টেমের গভীরে, লগফাইলের অন্ধকারে, হার্ডড্রাইভের অপরিচিত সেক্টরে কিংবা গুগল ক্লাউডের নীরব অ্যাক্টিভিটি লগে।</p>
<p data-path-to-node="8">ডিভাইসটি ফরেনসিক পর্যালোচনার জন্য হাতে নিলাম। সামনে এলো এক ভয়াবহ চিত্র—একটি মারাত্মক র‍্যাট (Remote Access Trojan - RAT)-এর মাধ্যমে সিস্টেমের ‘রুট অ্যাক্সেস’ নিয়ে বসে রয়েছে এক অচেনা হ্যাকার। সে দূর থেকেই মালিহার ক্লাউড ও ডিভাইসের গুগল ফটোজ ঘেঁটে সংবেদনশীল ছবিগুলো হাতিয়ে নিয়েছে। বিস্ময়কর বিষয় হলো, সাবেক প্রেমিকের ফোনটিও একই কৌশলে অন্য কারো নিয়ন্ত্রণে চলে গিয়েছিল, যা তিনি নিজেও ঘুণাক্ষরে টের পাননি।</p>
<p data-path-to-node="9">এখানেই দৃশ্যপটে এলো ডিজিটাল ফরেনসিকের বৈজ্ঞানিক তদন্ত:</p>
<ul data-path-to-node="10">
<li>
<p data-path-to-node="10,0,0"><b data-path-to-node="10,0,0" data-index-in-node="0">চেইন অব কাস্টডি ও হ্যাশ ভ্যালু:</b> আইনি মান বজায় রেখে শুরুতেই ডিভাইসের ক্রিপ্টোগ্রাফিক হ্যাশ ভ্যালু সংরক্ষণ করা হলো, যাতে কোনো ডেটা সামান্যতম বিকৃত না হয়।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="10,1,0"><b data-path-to-node="10,1,0" data-index-in-node="0">ফিজিক্যাল ইমেজিং ও সিস্টেম বিশ্লেষণ:</b> ফোনের ফিজিক্যাল ইমেজ তৈরি করে অভ্যন্তরীণ ফাইল সিস্টেম ঘেঁটে সুকৌশলে লুকিয়ে থাকা আরএটি (RAT) ম্যালওয়্যারটির ডিজিটাল স্বাক্ষর শনাক্ত করা হলো।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="10,2,0"><b data-path-to-node="10,2,0" data-index-in-node="0">ক্লাউড ও নেটওয়ার্ক ফরেনসিক:</b> ক্লাউড হিস্ট্রি উন্মোচন করতেই দেখা গেল অজ্ঞাত আইপি (IP) অ্যাড্রেস থেকে বারবার অননুমোদিত অ্যাক্সেস। এরপর নেটওয়ার্ক ফরেনসিকে ধরা পড়ল দূরবর্তী এক বিদেশি কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল (C2) সার্ভারের সঙ্গে ডেটার গোপন সংযোগ।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="10,3,0"><b data-path-to-node="10,3,0" data-index-in-node="0">ম্যালওয়্যার অ্যানালাইসিস:</b> বিশ্লেষণে অকাট্যভাবে বেরিয়ে এলো যে ব্যাকগ্রাউন্ডে নিয়মিত ‘ডেটা এক্সফিলট্রেশন’ বা সংবেদনশীল ফাইল পাচার হচ্ছিল।</p>
</li>
</ul>
<p data-path-to-node="11">প্রমাণভিত্তিক তদন্তের প্রতিটি ধাপে মেঘ সরে গিয়ে আলো ফুটে উঠল। আসল অপরাধী মালিহার পরিচিত বৃত্তের কোনো মানুষ নয়; লুকিয়ে ছিল সাইবার জগতের অন্ধকারের এক অদৃশ্য হ্যাকার।</p>
<p data-path-to-node="12">মানুষ স্বভাবসুলভ আবেগে মানুষকে ভুল সন্দেহ করে; কিন্তু প্রযুক্তি নিরপেক্ষ থেকে নির্ভুল সত্যটি সামনে তুলে ধরে। ন্যায়বিচার কেবল কোনো অপরাধীকে চিহ্নিত করার নাম নয়—একজন নির্দোষকে অপবাদের হাত থেকে মুক্ত করাও ন্যায়বিচারের সমান মর্যাদাপূর্ণ অংশ।</p>
<p data-path-to-node="13">আমার হাতের ফরেনসিক কিবোর্ডে ন্যায়বিচার কখনো পথ হারায় না; সত্য কেবল নিজেকে উন্মোচনের সঠিক উপায় ও কিছুটা সময় চায়। </p>
<hr>
<p data-path-to-node="13"><strong>লেখক</strong> || সাইবার ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর ও তদন্ত কর্মকর্তা</p>
<hr><hr>
<p data-path-to-node="13">লেখাটি লেখকের নিজস্ব চিন্তার ফসল। এর সঙ্গে কারও চরিত্রের মিল পাওয়া গেলে তা একান্তই কাকতাল মাত্র। একইসঙ্গে লেখকের ব্যক্তিগত বিশ্লেষণী মূল্যায়নে ‘<strong>ডিজিবাংলাটেক.নিউজ</strong>’-এর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ‘টেক-থট’-এ প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব; এর সাথে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের সম্পাদকীয় নীতিমালার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতা নেই। মতপ্রকাশের উদারতা সমুন্নত রাখতে লেখাটি অবিকৃত রেখে প্রকাশ করা হলো।</p>
<hr><hr>
<p data-path-to-node="13"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ট্রেনের ছাদ থেকে স্টারলিংক উধাও: প্রযুক্তি আনলেই কি ডিজিটাল রূপান্তর হয়?</title>
<link>https://digibanglatech.news/189008</link>
<guid>https://digibanglatech.news/189008</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x580_6a9e21036cdb6.jpg" length="115734" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 07 Sep 2026 08:27:39 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>স্টারলিংক চুরি, রেলওয়ে ওয়াইফাই, ডিজিটাল সম্পদ নিরাপত্তা, বিএসসিএল, গণপরিবহন প্রযুক্তি, স্মার্ট বাংলাদেশ, স্যাটেলাইট ইন্টারনেট, টেকসই রূপান্তর, প্রযুক্তি সুশাসন, সাইবার সিকিউরিটি</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="4">চলন্ত রেলে উচ্চগতির স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংযোগ চালু করা নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের গণপরিবহন ব্যবস্থায় এক যুগান্তকারী ডিজিটাল উদ্ভাবন। তবে সেবা চালুর মাত্র ছয় মাসের মাথায় একাধিক আন্তঃনগর ট্রেন থেকে স্টারলিংকের মূল্যবান যন্ত্রপাতি চুরির ঘটনা একটি রূঢ় সত্য চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল—কেবল দামি প্রযুক্তি কেনাই ডিজিটাল রূপান্তর নয়; এর সঙ্গে প্রয়োজন সমন্বিত নিরাপত্তা, সার্বক্ষণিক রক্ষণাবেক্ষণ, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এবং স্বচ্ছ জবাবদিহি।</p>
<p data-path-to-node="5"><span style="font-size: 10pt;"><b data-path-to-node="5" data-index-in-node="0">চাহিদা বনাম নিরাপত্তা সংকট</b></span></p>
<p data-path-to-node="6">গত ১৩ মার্চ পর্যটক এক্সপ্রেস, পারাবত এক্সপ্রেস, উপবন এক্সপ্রেস ও বনলতা এক্সপ্রেসে পরীক্ষামূলকভাবে স্টারলিংকভিত্তিক ফ্রি ওয়াই-ফাই সেবা চালু হয়। দূরপাল্লার রুটে, বিশেষ করে যেখানে সেলুলার নেটওয়ার্ক দুর্বল বা অনুপস্থিত, সেখানে উদ্যোগটি তাৎক্ষণিকভাবে যাত্রীদের মধ্যে বিপুল সাড়া ফেলে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র চারটি ট্রেনের যাত্রীরাই প্রায় ১৮ টেরাবাইট (TB) ডেটা ব্যবহার করেছেন—যা এই সেবার বাস্তব উপযোগিতা ও চাহিদাকেই প্রমাণ করে।</p>
<p data-path-to-node="7">কিন্তু এই সাফল্যের সমান্তরালে ফুটে উঠেছে আমাদের সম্পদ ব্যবস্থাপনার বড় ধরনের দুর্বলতা। উপবন এক্সপ্রেসের ট্রেনের ছাদ থেকে আস্ত ফ্ল্যাট অ্যান্টেনা খুলে নেওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য ট্রেন থেকেও আধুনিক তারহীন নেটওয়ার্ক ডিভাইস চুরি হয়ে গেছে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে নতুন যন্ত্র প্রতিস্থাপনের পরও তা পুনরায় খোয়া গেছে।</p>
<p data-path-to-node="8">এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ছিঁচকে চুরির ঘটনা নয়; এটি মূলত আমাদের ‘ডিজিটাল সম্পদ ব্যবস্থাপনা’ ও তদারকি ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতা।</p>
<p data-path-to-node="9"><span style="font-size: 10pt;"><b data-path-to-node="9" data-index-in-node="0">প্রযুক্তি বনাম প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি</b></span></p>
<p data-path-to-node="10">একজন যাত্রী হয়তো একটি কিউআর কোড স্ক্যান করে কয়েক সেকেন্ডেই উচ্চগতির ইন্টারনেটে যুক্ত হতে পারেন। কিন্তু এই সহজ অভিজ্ঞতার পেছনে সক্রিয় থাকে ট্রেনের ছাদে বসানো স্যাটেলাইট টার্মিনাল, অভ্যন্তরীণ রাউটার, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং পুরো ওয়্যারলেস নেটওয়ার্ক কাঠামো। স্পর্শকাতর এই শৃঙ্খলের একটিমাত্র যন্ত্র চুরি হয়ে গেলেই পুরো সিস্টেমটি অকেজো হয়ে পড়ে।</p>
<p data-path-to-node="11">স্বয়ং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিবও এ ক্ষেত্রে তদারকির সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করেছেন এবং সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বিত পর্যালোচনার তাগিদ দিয়েছেন। এখানেই মৌলিক প্রশ্নগুলো সামনে আসে:</p>
<ul data-path-to-node="12">
<li>
<p data-path-to-node="12,0,0">প্রতিটি যাত্রার আগে ও পরে স্টারলিংক ডিভাইসের ইনভেন্টরি অডিট কে করবে?</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="12,1,0">ট্রেন ছাড়া ও গন্তব্যে পৌঁছানোর পর বাধ্যতামূলক নিরাপত্তা তল্লাশি হচ্ছে কি?</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="12,2,0">ট্রেনের ছাদে থাকা টার্মিনালে কোনো টেম্পার সেন্সর কিংবা রিমোট অ্যালার্ম ছিল কি?</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="12,3,0">কোনো ডিভাইস খোয়া গেলে রেলওয়ে, রেলওয়ে পুলিশ (জিআরপি), বাংলাদেশ স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিএল) এবং সরবরাহকারী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দায়দায়িত্ব কীভাবে বণ্টিত হবে?</p>
</li>
</ul>
<p data-path-to-node="13">এই মৌলিক প্রশ্নগুলোর সুরাহা না করে বাস, ফেরি কিংবা অন্যান্য গণপরিবহনে একই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করতে গেলে তা আরও বড় আর্থিক ও প্রযুক্তিগত ঝুঁকির জন্ম দেবে।</p>
<p data-path-to-node="14"><span style="font-size: 10pt;"><b data-path-to-node="14" data-index-in-node="0">প্রযুক্তি বর্জন সমাধান নয়</b></span></p>
<p data-path-to-node="15">চুরির ভয়ে স্টারলিংক সেবা বন্ধ করে দেওয়া কোনো দূরদর্শী সমাধান হতে পারে না। মূলত একটি পাইলট প্রকল্পের উদ্দেশ্যই হলো প্রযুক্তির কার্যকারিতার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা ও সুরক্ষার ফাঁকফোকরগুলো চিহ্নিত করা।</p>
<p data-path-to-node="16">বরং ইতিবাচক বিষয় হলো, বিএসসিএল ট্রেনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দূরপাল্লার বাস ও ফেরিতে সেবাটি সম্প্রসারণ এবং একটি সমন্বিত সাবস্ক্রিপশন মডেল চালুর কথা ভাবছে। উদ্যোগটি অবশ্যই সম্ভাবনাময়। তবে যেকোনো বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের আগে ডিভাইসের ভৌগোলিক নিরাপত্তা, লাইফ-সাইকেল ব্যয়, নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক টেকসইতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন অপরিহার্য।</p>
<p data-path-to-node="17"><span style="font-size: 10pt;"><b data-path-to-node="17" data-index-in-node="0">জাতীয় ‘ডিজিটাল সম্পদ নিরাপত্তা প্রটোকল’ সময়ের দাবি</b></span></p>
<p data-path-to-node="18">গণপরিবহনে ডিজিটাল রূপান্তর টিকিয়ে রাখতে অবিলম্বে একটি জাতীয় রূপরেখা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন:</p>
<ul data-path-to-node="19">
<li>
<p data-path-to-node="19,0,0"><b data-path-to-node="19,0,0" data-index-in-node="0">সেন্ট্রাল ডিজিটাল ট্র্যাকিং:</b> প্রতিটি ডিভাইসকে রিয়েল-টাইম কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ইনভেন্টরির আওতায় আনা।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="19,1,0"><b data-path-to-node="19,1,0" data-index-in-node="0">হার্ডওয়্যার সুরক্ষা:</b> টার্মিনালগুলোতে টেম্পার-প্রুফ কেসিং, বিশেষায়িত মাউন্ট, মোশন অ্যালার্ম এবং জিপিএস ট্র্যাকিং সংযুক্ত করা।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="19,2,0"><b data-path-to-node="19,2,0" data-index-in-node="0">জবাবদিহিমূলক পর্যবেক্ষণ:</b> প্রতিটি প্রারম্ভিক ও অন্তিম স্টেশনে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের মাধ্যমে ডিভাইসের নিয়মিত সাইন-ইন ও সাইন-অফ তদারকি বাধ্যতামূলক করা।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="19,3,0"><b data-path-to-node="19,3,0" data-index-in-node="0">ঝুঁকি ও জীবনচক্র বাজেট:</b> যেকোনো পাইলট প্রকল্পের বাজেট পরিকল্পনায় শুরু থেকেই নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ ও প্রতিস্থাপন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত করা।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="19,4,0"><b data-path-to-node="19,4,0" data-index-in-node="0">নাগরিক স্বচ্ছতা:</b> জনগণের করের টাকায় কেনা মূল্যবান পাবলিক টেকনোলজি খোয়া গেলে তার ক্ষয়ক্ষতি, প্রতিস্থাপন ব্যয় ও তদন্তের হালনাগাদ অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ করা।</p>
</li>
</ul>
<p data-path-to-node="20">রেলের ছাদ থেকে স্টারলিংক উধাও হওয়ার ঘটনাকে কোনোভাবেই আমাদের প্রযুক্তি অভিযাত্রার ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং এটি একটি সময়োপযোগী প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা। নতুন প্রযুক্তি কত দ্রুত আমদানি করা হলো, তা দিয়ে ডিজিটাল রূপান্তর মাপা যায় না; বরং সেই প্রযুক্তিকে কতটা নিরাপদ, কার্যকর এবং জবাবদিহির সঙ্গে জনসেবায় টিকিয়ে রাখা গেল—সেটিই আধুনিক রাষ্ট্রের আসল মাপকাঠি।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="20"><strong>লেখক </strong>|| ডিজিটাল গণতন্ত্র, তথ্যের অখণ্ডতা ও গণমাধ্যম উন্নয়নবিষয়ক বিশেষজ্ঞ; দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর</p>
<hr><hr>
<p data-path-to-node="20"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ওটিপির বিকল্প পাসকি: ডিজিটাল লেনদেনে নিরাপত্তা ও গতির নতুন দিগন্ত</title>
<link>https://digibanglatech.news/188870</link>
<guid>https://digibanglatech.news/188870</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x580_6a9c3021e9b98.jpg" length="63663" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 05 Sep 2026 10:07:49 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>ভিসা পেমেন্ট পাসকি, ওটিপি প্রতারণা, ডিজিটাল পেমেন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ব্যাংক, ফাইডো অ্যালায়েন্স, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন, সাইবার নিরাপত্তা, ই-কমার্স পেমেন্ট, বায়োমেট্রিক লেনদেন, ফিনটেক রূপান্তর</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="4">বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিধি দ্রুত বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে গড়ে ৪৫ থেকে ৫০ হাজার কোটি টাকার লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে। তবে এই প্রবৃদ্ধির সমান্তরালে বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে সাইবার প্রতারণা ও ডিজিটাল জালিয়াতি। দীর্ঘদিন ধরে কেনাকাটা বা বিল পরিশোধে নিরাপত্তাবলয় হিসেবে ব্যবহৃত ৬ ডিজিটের ওটিপি (One-Time Password) এখন নানা ধরনের প্রযুক্তিগত ও সামাজিক ঝুঁকিতে পড়েছে।</p>
<p data-path-to-node="5">দেশীয় ও বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, আর্থিক খাতে সংঘটিত ডিজিটাল ফ্রডের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশই ঘটে ওটিপি চুরি কিংবা ভুয়া পরিচয়ে ফোন দিয়ে সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার (সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) মাধ্যমে। এছাড়া দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্ক বা এসএমএস পৌঁছাতে বিলম্বের কারণে অন্তত ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ই-কমার্স লেনদেন পেমেন্ট ধাপেই আটকে যায় এবং গ্রাহকরা তা বাতিল করতে বাধ্য হন।</p>
<p data-path-to-node="6">এই দ্বিমুখী সংকট কাটাতে আন্তর্জাতিক পেমেন্ট নেটওয়ার্ক ভিসা (Visa) বাংলাদেশে ‘ভিসা পেমেন্ট পাসকি’ (Visa Payment Passkey) প্রযুক্তি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ জানান, এ পদ্ধতির মূল লক্ষ্য হলো এসএমএস-ভিত্তিক ওটিপির ওপর অতিনির্ভরশীলতা দূর করা। এর ফলে গ্রাহক নিজের ডিভাইসের ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস আইডি কিংবা ডিভাইসের বায়োমেট্রিক/পিন ব্যবহার করে চোখের পলকে লেনদেন সম্পন্ন করতে পারবেন।</p>
<p data-path-to-node="7"><b data-path-to-node="7" data-index-in-node="0">পাসকি প্রযুক্তির কর্মপদ্ধতি ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা</b></p>
<p data-path-to-node="8">আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি মান সংস্থা ফাইডো অ্যালায়েন্স (FIDO Alliance) এবং ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব কনসোর্টিয়াম (W3C)-এর পাবলিক-কি ক্রিপ্টোগ্রাফির (Public-Key Cryptography) ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে এই পাসকি ব্যবস্থা। সাধারণ নিয়মে ব্যাংকের এসএমএসের জন্য অপেক্ষা করতে হলেও পাসকিতে কোনো ম্যানুয়াল কোড প্রবেশ করাতে হয় না।</p>
<p data-path-to-node="9">গ্রাহক যখন প্রথমবার কোনো ডিভাইসে সেবাটি সক্রিয় করেন, তখন ফোনের সুরক্ষিত হার্ডওয়্যার অংশ ‘সিকিউর এনক্লেভ’-এ একটি ইউনিক ক্রিপ্টোগ্রাফিক প্রাইভেট কি (Private Key) সংরক্ষিত হয়। লেনদেনের সময়ে পেমেন্ট গেটওয়ে ও ব্যাংকিং সিস্টেমের সঙ্গে এটি ব্যাক-এন্ডে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তথ্য যাচাই করে নেয়। গ্রাহক কেবল নিজের আঙুলের ছাপ বা ফেস আইডি স্পর্শ করেই পেমেন্ট অনুমোদন করেন।</p>
<p data-path-to-node="10">বিশ্বজুড়ে বর্তমানে ৩০০ কোটিরও বেশি অ্যাকাউন্টে পাসকি ব্যবহৃত হচ্ছে। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের দেশগুলোতে এই ব্যবস্থা চালুর পর দেখা গেছে, নেটওয়ার্কজনিত কারণে লেনদেন বাতিলের হার প্রায় ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং ওটিপি-কেন্দ্রিক জালিয়াতি নেমে এসেছে শূন্যের কোঠায়।</p>
<p data-path-to-node="11"><b data-path-to-node="11" data-index-in-node="0">বাংলাদেশ ব্যাংক ও ডেটা সুরক্ষানীতির সামঞ্জস্য</b></p>
<p data-path-to-node="12">বাংলাদেশে যেকোনো ডিজিটাল লেনদেনে দ্বি-স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা বা টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (2FA) নিশ্চিত করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুস্পষ্ট নির্দেশনার অংশ। পাসকি প্রযুক্তি গ্রাহকের নিজস্ব ডিভাইসকে প্রথম উপাদান (Possession) এবং বায়োমেট্রিক বা পিনকে দ্বিতীয় উপাদান (Inherence) হিসেবে গ্রহণ করায় এটি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশিকার সঙ্গে শতভাগ সঙ্গতিপূর্ণ।</p>
<p data-path-to-node="13">পাশাপাশি দেশের উপাত্ত সুরক্ষা নীতিমালা অনুযায়ী, নাগরিকদের সংবেদনশীল আর্থিক বা বায়োমেট্রিক তথ্য দেশের সীমানার বাইরে পাঠানো কিংবা কোনো সাধারণ ব্যাংকিং ক্লাউড সার্ভারে সংরক্ষণ করা নিষিদ্ধ। পাসকির বড় বিশেষত্ব হলো, গ্রাহকের আঙুলের ছাপ বা ফেস আইডির মূল ডেটা কখনো ব্যাংকের সার্ভার বা ইন্টারনেটে সঞ্চালিত হয় না; এটি সংরক্ষিত থাকে কেবল ব্যবহারকারীর নিজস্ব ডিভাইসের এনক্রিপ্টেড মেমরিতে। ফলে নীতিগত ও আইনগতভাবেও এটি সম্পূর্ণ নিরাপদ।</p>
<p data-path-to-node="14"><b data-path-to-node="14" data-index-in-node="0">লেনদেনে গতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব</b></p>
<p data-path-to-node="15">ই-কমার্স খাতের সমীক্ষা অনুযায়ী, ওটিপির মাধ্যমে কেনাকাটার অর্থ পরিশোধ করতে একজন গ্রাহকের গড়ে ৩০ থেকে ৪৫ সেকেন্ড সময় লাগে। অন্যদিকে পাসকির মাধ্যমে মাত্র ৫ থেকে ৭ সেকেন্ডেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ হয়ে যায়।</p>
<p data-path-to-node="16">এই সময় সাশ্রয় অর্থনৈতিকভাবে বিপুল তাৎপর্য বহন করে। ওটিপি জটিলতার কারণে যে বিপুল পরিমাণ অনলাইন কেনাকাটা মাঝপথে বাতিল হয়ে যেত (Cart Abandonment), তা সফল হলে দেশীয় ই-কমার্স খাতের বার্ষিক টার্নওভার এক লাফে বহুগুণ বাড়বে। সরকারের রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাবে এবং কাগুজে নোটের ব্যবহার হ্রাস পেয়ে ক্যাশলেস অর্থনীতির পরিধি সম্প্রসারিত হবে।</p>
<p data-path-to-node="17">গ্রাহকের দিক থেকেও সবচেয়ে বড় স্বস্তি—প্রতারকরা দূর থেকে ফোন করে কোনোভাবেই বায়োমেট্রিক ডেটা হাতিয়ে নিতে পারবে না। ফলে ওটিপি বা পিন চাওয়ার যে প্রতারণার ফাঁদ সমাজে চেপে বসেছে, তা সম্পূর্ণ অকার্যকর হয়ে পড়বে। এছাড়া প্রবাসী কিংবা বিদেশে ভ্রমণরত বাংলাদেশিরা রোমিং নেটওয়ার্ক ছাড়াই কেবল ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে সহজে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে পারবেন।</p>
<p data-path-to-node="18"><b data-path-to-node="18" data-index-in-node="0">বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ ও কারিগরি সীমাবদ্ধতা</b></p>
<p data-path-to-node="19">উন্নত সুরক্ষা কাঠামো সত্ত্বেও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে প্রযুক্তিটির কিছু দৃশ্যমান চ্যালেঞ্জ রয়েছে:</p>
<ul data-path-to-node="20">
<li>
<p data-path-to-node="20,0,0"><b data-path-to-node="20,0,0" data-index-in-node="0">ডিভাইস চুরির ঝুঁকি:</b> কোনো গ্রাহকের হ্যান্ডসেট চুরি হলে এবং অপরাধী যদি কৌশলে ডিভাইসের পিন বা স্ক্রিন লক আগেই জেনে ফেলে, তবে ওটিপি ছাড়াই কার্ড ব্যবহারের একটি তাত্ত্বিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="20,1,0"><b data-path-to-node="20,1,0" data-index-in-node="0">সাশ্রয়ী হ্যান্ডসেটের সীমাবদ্ধতা:</b> দেশের একটি উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠীর হাতে এখনো আধুনিক বায়োমেট্রিক সেন্সর বা ফাইডো সাপোর্টহীন পুরোনো হ্যান্ডসেট কিংবা বেসিক ফিচার ফোন রয়েছে। এই প্রযুক্তি থেকে তারা তাৎক্ষণিকভাবে বঞ্চিত হতে পারেন।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="20,2,0"><b data-path-to-node="20,2,0" data-index-in-node="0">ব্যাংকগুলোর প্রস্তুতি ও বড় বিনিয়োগ:</b> ভিসা পাসকির আধুনিক এপিআই যুক্ত করতে দেশের ব্যাংকগুলোকে তাদের প্রথাগত কোর-ব্যাংকিং ও পেমেন্ট সফটওয়্যার আর্কিটেকচারে বড় সংস্কার আনতে হবে, যা বেশ ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="20,3,0"><b data-path-to-node="20,3,0" data-index-in-node="0">ব্যবহারকারীর মনস্তাত্ত্বিক দ্বিধা:</b> বহুদিনের অভ্যস্ত ওটিপি ব্যবস্থা ছেড়ে নতুন পদ্ধতিতে অভ্যস্ত হতে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে শুরুতে কিছুটা সংশয় ও আস্থার ঘাটতি দেখা দিতে পারে।</p>
</li>
</ul>
<p data-path-to-node="21"><b data-path-to-node="21" data-index-in-node="0">ভবিষ্যতের পথরেখা</b></p>
<p data-path-to-node="22">২০২৭ সালের মধ্যে দেশের সিংহভাগ খুচরা লেনদেন ডিজিটাল করার যে জাতীয় লক্ষ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক নির্ধারণ করেছে, ভিসার পাসকি চালুর উদ্যোগ সেই যাত্রায় একটি বড় রূপান্তর। তবে এই উদ্যোগের পূর্ণ সুফল পেতে বাংলাদেশ ব্যাংককে দ্রুত সুনির্দিষ্ট ডেটা সিকিউরিটি ও ডিভাইস ম্যানেজমেন্ট গাইডলাইন জারি করতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="23">একইসঙ্গে যেসব গ্রাহক এখনো ফিচার ফোন বা পুরোনো হ্যান্ডসেট ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য সমান্তরালভাবে ওটিপি সুবিধা চালু রাখতে হবে; অন্যদিকে আধুনিক স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের ধীরে ধীরে পাসকিতে অভ্যস্ত করে তুলতে হবে। কার্যকর নিয়ন্ত্রণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতা নিশ্চিত করা গেলে এই প্রযুক্তি বাংলাদেশের ফিনটেক ইকোসিস্টেমকে বিশ্বমানের আধুনিক ও সুরক্ষিত করে তুলবে।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="23"><b>লেখকঃ</b> ই-কমার্স বিশ্লেষক এবং প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)।</p>
<hr><hr>
<p data-path-to-node="23"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>শিশুরা কেন ডিজিটাল স্ক্রিনে আসক্ত হচ্ছে?</title>
<link>https://digibanglatech.news/188656</link>
<guid>https://digibanglatech.news/188656</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;strong&gt;ডিজিটাল স্ক্রিনের অদৃশ্য ফাঁদ: হুমকির মুখে শৈশব ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x580_6a99148829103.jpg" length="51709" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 03 Sep 2026 05:32:25 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>ডিজিটাল স্ক্রিন আসক্তি, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম, আইসিডিডিআরবি গবেষণা, স্পিচ ডিলে, অলিম্পিয়াড আন্দোলন, অভিভাবকত্ব সচেতনতা, শিশু বিকাশ, ডোপামিন ইফেক্ট, জনস্বাস্থ্য সংকট</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="4">বাংলাদেশে গত দুই দশক ধরে অলিম্পিয়াড আন্দোলন বেশ জনপ্রিয়। গণিত অলিম্পিয়াড দিয়ে যাত্রা শুরু হলেও দেশে এখন প্রায় ২৪-২৫ ধরনের অলিম্পিয়াড চালু রয়েছে। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলর ও কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে প্রায় ১৮ বছর ধরে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করার সুযোগ আমার হয়েছে।</p>
<p data-path-to-node="5">আমাদের শিক্ষার্থীরা অলিম্পিয়াডে দারুণ সাফল্য দেখাচ্ছে, তাদের অংশগ্রহণও বাড়ছে। তবে তৃতীয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত ব্যক্তিগত আলাপে তাদের মধ্যে স্মার্টফোন বা ডিজিটাল স্ক্রিনের প্রতি প্রবল এক আসক্তি চোখে পড়ছে—বিশেষ করে ২০১৬ সালের পর থেকে এই প্রবণতা জ্যামিতিক হারে বেড়েছে।</p>
<p data-path-to-node="6">আজকের বিশ্বে শিশুরা শৈশব থেকেই ট্যাব, স্মার্টফোন আর টেলিভিশনের পর্দার সঙ্গে পরিচিত হয়ে উঠছে। পড়াশোনা থেকে শুরু করে প্রাত্যহিক বিনোদন—সবক্ষেত্রেই ডিজিটাল মাধ্যমের আধিপত্য অস্বাভাবিক রূপ নিয়েছে। এই আধুনিক রূপান্তর শিশুদের দৈনন্দিন জীবনকে যতটা সহজ করেছে, তার চেয়েও বেশি ডেকে এনেছে এক গভীর অদৃশ্য সংকট।</p>
<p data-path-to-node="7">সুধীর কুমার মুপ্পালার (Sudheer Kumar Muppalla, ২০২৩) গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের অপূরণীয় ক্ষতি করছে। এই আসক্তির বেড়াজালে হারিয়ে যাচ্ছে স্বাভাবিক শৈশব, মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিশুদের সামগ্রিক বিকাশ।</p>
<p data-path-to-node="8"><strong>স্ক্রিন আসক্তির স্বরূপ ও ক্ষতিকর কনটেন্ট</strong></p>
<p data-path-to-node="9">বিশেষ করে করোনা মহামারি-পরবর্তী সময়ে কার্টুন, অনলাইন গেম আর শর্ট-ভিডিও প্ল্যাটফর্মের প্রতি শিশুদের আকর্ষণ চরমে পৌঁছেছে। ইউটিউব শর্টস কিংবা টিকটকের মতো মাধ্যমে দ্রুত পরিবর্তনশীল রঙিন দৃশ্য ও কৃত্রিম শব্দ শিশুদের মস্তিষ্কে অতিরিক্ত ডোপামিন হরণ ঘটায়, যা তাদের বারবার স্ক্রিনে ফিরতে বাধ্য করে।</p>
<p data-path-to-node="10">আন্তর্জাতিক গবেষণার প্রতিফলন দেখা গেছে ঢাকা শহরের শিশুদের ওপর পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণাতেও। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (icddr,b)-এর গবেষক ড. শাহরিয়া হাফিজ কাকন ও তাঁর দলের এই গবেষণাটি বিখ্যাত 'জার্নাল অব মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ হিউম্যান ফ্যাক্টর্স' (JMIR Human Factors)-এ প্রকাশিত হয়েছে।</p>
<p data-path-to-node="11">গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী স্কুলগামী শিশুদের প্রায় ৮৩ শতাংশই প্রতিদিন দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিনের সামনে কাটাচ্ছে। অথচ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) সুস্পষ্ট নির্দেশনা হলো—এই বয়সী শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন টাইম কোনোভাবেই দিনে দুই ঘণ্টার বেশি হওয়া উচিত নয়। ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৪২১ জন শিক্ষার্থীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা গড়ে প্রতিদিন প্রায় ৪.৬ ঘণ্টা ব্যয় করছে স্মার্টফোন, টেলিভিশন ও ট্যাবলেটের পেছনে।</p>
<p data-path-to-node="12"><strong>শারীরিক ও আচরণগত সংকট</strong></p>
<p data-path-to-node="13">প্রশান্ত ভিকারিয়া, রিনাম এন দোশি এবং অমিত এস জৈনের ক্রস-সেকশনাল গবেষণায় স্ক্রিন আসক্তির সঙ্গে আচরণগত জটিলতার গভীর যোগসূত্র উঠে এসেছে। প্রতি চারজন শিশুর মধ্যে একজন ঘুমের ঘাটতি, স্থূলতা এবং দীর্ঘস্থায়ী মাথাব্যথায় ভুগছে। এছাড়া প্রায় ৪০ শতাংশ শিশুর মধ্যে দেখা দিচ্ছে অতিরিক্ত উদ্বেগ, অতিচঞ্চলতা (ADHD লক্ষণ) এবং অবসাদ। ডিভাইসের নীল আলো মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত করে স্বাভাবিক ঘুমের চক্র ধ্বংস করে দিচ্ছে।</p>
<p data-path-to-node="14">প্রয়াস ইনস্টিটিউট অব স্পেশাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের সহকারী অধ্যাপক ফাতিমা মেঘলা জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশাপাশি সাধারণ শিশুদের মধ্যেও স্ক্রিন আসক্তি আজ এক নীরব মহামারির রূপ নিয়েছে। শিশুদের মধ্যে অটিজম-সদৃশ লক্ষণ, মনোযোগের স্থায়িত্ব হ্রাস এবং ভাষা প্রকাশে বিলম্ব (Speech Delay) তীব্র হচ্ছে। ক্লাসরুমে শিক্ষকের সাধারণ নির্দেশনা বুঝতেও তারা খেই হারিয়ে ফেলছে।</p>
<p data-path-to-node="15">একইভাবে ভাষাগত বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম চৌধুরী। তাঁর মতে, ডিজিটাল স্ক্রিনের অগভীর ও যান্ত্রিক ভাষা শিশুদের শব্দভাণ্ডার সংকুচিত করছে। নিথর স্ক্রিন কখনো মানুষের মতো ভাববিনিময়ের অনুভূতি দিতে পারে না। শিশুদের বইমুখী না করলে তারা অচিরেই নিজস্ব সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মাতৃভাষার শিকড় থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে।</p>
<p data-path-to-node="16">ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগাযোগ বৈকল্য (Communication Disorders) বিভাগের অধ্যাপক ড. হাকিম আরিফ বলেন, স্ক্রিনভিত্তিক ভার্চুয়াল জগৎ শিশুদের একমুখী যোগাযোগ শেখায়। পারস্পরিক মিথস্ক্রিয়া ছাড়া ভাষা ও আবেগ কখনোই স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে পারে না। ফলে শিশুরা বাস্তব জীবনে অন্যের অনুভূতি বুঝতে পারে না এবং তাদের মধ্যে তীব্র সামাজিক বিচ্ছিন্নতা জন্ম নেয়।</p>
<p data-path-to-node="17">অনলাইন কনটেন্ট বিশ্লেষক নুরুন্নবী চৌধুরী হাছিব স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান অনলাইন অ্যালগরিদমগুলো শিশুদের প্রবৃত্তি ও মনোযোগকে বন্দি করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে ডিজাইন করা। কনটেন্ট নির্মাতারা ভিউ বাড়ানোর তাগিদে হাইপার-স্টিমুলেটিং উপাদান ব্যবহার করে শিশুদের মস্তিষ্কের নিউরোলজিক্যাল প্যাটার্নকে ক্ষতিগ্রস্ত করছেন।</p>
<p data-path-to-node="18"><strong>উত্তরণের পথ</strong></p>
<p data-path-to-node="19">প্রযুক্তির সম্পূর্ণ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা কোনো বাস্তবসম্মত সমাধান নয়; প্রয়োজন সুষম নিয়ন্ত্রণ ও পারিবারিক সচেতনতা। icddr,b-এর নির্বাহী পরিচালক ড. তাহমিদ আহমেদ মনে করেন, শিশুদের ডিভাইস থেকে ফিরিয়ে এনে নিয়মিত বহিরাঙ্গন খেলাধুলা (Outdoor games), বিতর্ক, বইপড়ার অভ্যাস এবং সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে হবে। চোখের সুরক্ষায় স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘২০-২০-২০’ নিয়ম (প্রতি ২০ মিনিট পর অন্তত ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরের কিছুর দিকে তাকানো) মেনে চলা জরুরি।</p>
<p data-path-to-node="20">একজন গবেষক হিসেবে আমি মনে করি, শিশুদের ডিজিটাল আসক্তি এখন আর পারিবারিক পরিসরে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রূপ নিয়েছে জাতীয় জনস্বাস্থ্য সংকটে। অভিভাবক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্র—এই তিন পক্ষের সমন্বিত নীতি ও উদ্যোগ ছাড়া এই অদৃশ্য মহামারি রুখে দেওয়া সম্ভব নয়। আমাদের আগামী প্রজন্মকে একটি সুস্থ, প্রাণবন্ত ও চিন্তাশীল শৈশব উপহার দেওয়া এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="20"><strong>লেখকঃ </strong>সিনিয়র লেকচারার, নর্দার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ; এমফিল গবেষক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলর, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি।</p>
<hr><hr>
<p data-path-to-node="20"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>স্বপ্নের স্থপতি কামরুল ইসলাম সিদ্দিক: স্মৃতিতে ও অর্জনে অম্লান এক কর্মবীর</title>
<link>https://digibanglatech.news/188436</link>
<guid>https://digibanglatech.news/188436</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202609/image_870x580_6a966da982a14.jpg" length="75943" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 01 Sep 2026 09:30:39 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>কামরুল ইসলাম সিদ্দিক, এলজিইডি, গ্রামীণ অবকাঠামো, বীর মুক্তিযোদ্ধা, নঈম নিজাম, শহীদুল হাসান, প্রকৌশল ও উন্নয়ন, স্মৃতিচারণ, বাংলাদেশ স্থানীয় সরকার</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="4">বাংলাদেশ সচিবালয়ের মাত্র দুটি কক্ষ থেকে যাত্রা শুরু করেছিলেন প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক। এরপর লালমাটিয়ার একটি ভাড়া বাড়ি; সেখান থেকে কয়েক বছরের ব্যবধানে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে গড়ে উঠল দৃষ্টিনন্দন এলজিইডি ভবন। সেই বহুতল ভবনটি ছিল মূলত তাঁর অদম্য স্বপ্ন, সাহস ও অনন্য নেতৃত্বের জীবন্ত প্রতীক।</p>
<p data-path-to-node="5">বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের সেই লড়াই ও কর্মযজ্ঞ খুব কাছ থেকে প্রত্যক্ষ করার বিরল সুযোগ আমার হয়েছিল। একজন সরকারি কর্মকর্তা কীভাবে আমলাতান্ত্রিক গণ্ডি পেরিয়ে সত্যিকারের দূরদর্শী রূপকার হয়ে উঠতে পারেন, তিনি ছিলেন তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। দুঃসাহসী, নিরলস ও স্বপ্নবান এই মানুষটি বাংলাদেশের গ্রামীণ অবকাঠামো এবং গ্রামীণ অর্থনীতির মানচিত্র আমূল বদলে দিয়েছিলেন। এই উন্নয়নযাত্রায় তাঁর অন্যতম বিশ্বস্ত সহযোদ্ধা ছিলেন শহীদুল হাসান (যিনি পরবর্তীতে এলজিআরডি সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন)।</p>
<p data-path-to-node="6">কামরুল ইসলাম সিদ্দিকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে আমার অগুনতি স্মৃতি। তিনি আমাকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন, বিশ্বাস করতেন এবং মনের অনেক কথা অকপটে ভাগ করে নিতেন। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) চেয়ারম্যান কিংবা গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তাঁর বহুমুখী অভিজ্ঞতা, পেশাগত সাফল্য, নানা সংকট এবং রাজনীতিকদের অন্যায্য আবদার প্রত্যাখ্যানের ফলে তৈরি হওয়া মানসিক যন্ত্রণার কথা তিনি আমাকে বলতেন। তিনি ছিলেন আপসহীন ও স্পষ্টভাষী; অন্যায়কে অন্যায় বলতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করতেন না। রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব সততার সঙ্গে পালন করতে গিয়ে কী পরিমাণ চাপ ও বৈরিতা তাঁকে সামাল দিতে হয়েছিল, তা কাছ থেকেই দেখেছি ও শুনেছি।</p>
<p data-path-to-node="7">২০০৮ সালে মৃত্যুর কিছুদিন আগে বিশ্ব পানি সম্মেলনে যোগ দিতে তিনি সুইডেন গিয়েছিলেন। সেখান থেকেই আমাকে ফোন করেছিলেন। অনেকক্ষণ কথা হয়েছিল আমাদের। জানিয়েছিলেন, সুইডেন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ছেলের বাসায় কিছুদিন কাটিয়ে আসন্ন ঈদের পর ঢাকায় ফিরবেন।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="7"><strong>লেখকঃ</strong> প্রথিতযশা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, সম্পাদক ও কলামিস্ট</p>
<hr>
<p data-path-to-node="8">কিন্তু সেই ফেরা আর কখনোই হয়নি।</p>
<p data-path-to-node="9">আজও সেই শোকাবহ দিনটির কথা স্পষ্ট মনে পড়ে। ২০০৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর অফিসে বসে তাঁর পাঠানো শেষ ই-মেইলটি পড়ছিলাম এবং তাঁর জবাব টাইপ করছিলাম। ঠিক সেই মুহূর্তে টেলিফোন বেজে উঠল। ওপাশে এলজিইডির তৎকালীন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ইফতেখার ভাই।</p>
<p data-path-to-node="10">ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বললেন, “কামরুল ইসলাম সিদ্দিক স্যার আর নেই।”</p>
<p data-path-to-node="11">মুহূর্তের জন্য আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম। অবিশ্বাসের সুরে বললাম, “আমি তো ঠিক এই মুহূর্তেই স্যারের মেইলের উত্তর লিখছি!”</p>
<p data-path-to-node="12">ইফতেখার ভাই জানালেন, আমাদের মেইল পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে বড় ছেলে সাইফের বাসায় তিনি হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ছেলে দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স ডাকলেও হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।</p>
<p data-path-to-node="13">নিয়তির কী নির্মম পরিহাস—যে মানুষের সঙ্গে ভাববিনিময়ের জন্য আমরা উত্তর লিখি, সেই উত্তর আর কোনোদিন তাঁর কাছে পৌঁছায় না!</p>
<p data-path-to-node="14">অসময়েই চলে গিয়েছিলেন এই কর্মবীর রূপকার। ২০০৮ সালের আজকের এই দিনটিতেই তিনি সবাইকে কাঁদিয়ে না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান।</p>
<p data-path-to-node="15">কাল পরিক্রমায় মানুষ চলে যায়, কিন্তু কিছু মানুষ বেঁচে থাকেন তাঁদের অমর সৃষ্টির মাঝে—দেশের পথে প্রান্তরে, মানুষের জীবনযাত্রায় এবং স্মৃতির মণিকোঠায়। এত বছর পরও মাঝে মাঝে মনে হয়, কোনো এক বিকেলে আবার সেই চিরচেনা নম্বর থেকে ফোন আসবে; ওপাশ থেকে ভেসে আসবে স্নেহমাখা সেই কণ্ঠস্বর: “নঈম, কেমন আছেন?”</p>
<p data-path-to-node="16">সেই কণ্ঠ আর কোনোদিন শোনা হবে না।</p>
<p data-path-to-node="17">প্রয়াণ দিবসে গ্রামীণ বাংলাদেশের এই রূপকারকে গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় স্মরণ করছি। পরপারে শান্তিতে থাকুন প্রিয় মানুষটি। </p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সিলিকন রিভারের চার মাস: অর্জন, অন্তর্দ্বন্দ্ব ও সেমিকন্ডাক্টরে বাংলাদেশের উত্তরণ</title>
<link>https://digibanglatech.news/188427</link>
<guid>https://digibanglatech.news/188427</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x_6a6f47729be44.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 01 Sep 2026 02:18:39 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>সিলিকন রিভার, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, নেশন অব ইনোভেশন, চিপ ডিজাইনিং, সিনপসিস চুক্তি, বিয়ার সামিট ২০২৬, সিইএস ২০২৭, এসকে হাইনিক্স, গ্লোবালফাউন্ড্রিজ, প্রযুক্তিগত সংস্কার</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="4">গত ১ মে থেকে ৩১ আগস্ট—এই চার মাসে ‘সিলিকন রিভার’ (Silicon River) কী কী অর্জন করেছে, তার একটি বস্তুনিষ্ঠ খতিয়ান তুলে ধরা যাক:</p>
<p data-path-to-node="5">১. <b data-path-to-node="5" data-index-in-node="3">দক্ষিণ কোরিয়ায় রোডশো:</b> এসকে হাইনিক্স (SK hynix)-এর প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণে তাদের উন্নত প্যাকেজিং ফ্যাসিলিটি পরিদর্শন; কেএসআইএ (KSIA)-সহ শীর্ষস্থানীয় ৫টি সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এবং কাইস্ট (KAIST)-এর সঙ্গে ক্রেস্ট (CREST)-এর কৌশলগত দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সম্পাদন।</p>
<p data-path-to-node="6">২. <b data-path-to-node="6" data-index-in-node="3">যুক্তরাষ্ট্রে সফল রোডশো:</b> অস্টিন, ফিনিক্স, সিলিকন ভ্যালি, ফলসম থেকে শুরু করে পোর্টল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃত সফর। এতে ১১টি গ্লোবাল টেক কোম্পানি, ৩টি বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্রবাসীদের নিয়ে ৫টি বিশেষ নেটওয়ার্কিং সেশন সম্পন্ন।</p>
<p data-path-to-node="7">৩. <b data-path-to-node="7" data-index-in-node="3">নীতিগত সংস্কার:</b> জাতীয় স্বার্থে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের কাঁচামাল ও সরঞ্জাম আমদানির ওপর শুল্ক কার্যকরভাবে ১ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনা।</p>
<p data-path-to-node="8">৪. <b data-path-to-node="8" data-index-in-node="3">ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম ও BEAR Summit 2026:</b> সরকার, শিল্প খাত, শিক্ষাবিদ, প্রবাসী এবং আন্তর্জাতিক অতিথিদের (টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টসের সিটিও-সহ) নিয়ে এক ঐতিহাসিক আয়োজন। এতে ৩,৮৮১ জন নিবন্ধিত অংশগ্রহণকারী, বাংলাদেশি তরুণদের ৩৭টি উদ্ভাবনী প্রদর্শনী এবং ১৩০ জন মেধাবী তরুণের সক্রিয় অবদান নিশ্চিত হয়েছে।</p>
<p data-path-to-node="9">৫. <b data-path-to-node="9" data-index-in-node="3">আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ:</b> এসআইসিআইপি (SICIP)-এর মাধ্যমে বিশেষায়িত চিপ ডিজাইনিং ও সেমিকন্ডাক্টর প্রশিক্ষণের লক্ষ্যে বিশ্বখ্যাত সিনপসিস (Synopsys)-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর।</p>
<p data-path-to-node="10">৬. <b data-path-to-node="10" data-index-in-node="3">গ্লোবাল ক্যারিয়ার ও ফেলোশিপ:</b> ওয়াইইএস (YES)-এর সঙ্গে ওয়াইসিআরসি (YCRC) ও ক্রেস্ট ২০২৭-এর জন্য ডাবল ফেলোশিপের সুযোগ, কাউস্ট (KAUST)-এ পেইড ইন্টার্নশিপ এবং গ্লোবালফাউন্ড্রিজে (GlobalFoundries) সরাসরি চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু।</p>
<p data-path-to-node="11">৭. <b data-path-to-node="11" data-index-in-node="3">সিইএস ২০২৭-এ ঐতিহাসিক আত্মপ্রকাশ:</b> বিশ্বমঞ্চে ‘কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স শো’ (CES 2027)-এ প্রথমবারের মতো ‘বাংলাদেশ প্যাভিলিয়ন’-এর চুক্তি সম্পাদন এবং সারা (SARA) প্রোগ্রামে শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সফল অন্তর্ভুক্তি।</p>
<p data-path-to-node="12">৮. <b data-path-to-node="12" data-index-in-node="3">তারুণ্যের মেলবন্ধন:</b> ‘সিলিকন রিভার স্টুডেন্টস ব্রাঞ্চ’-এর জন্য দেশের ৫০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় ৬০০ মেধাবী শিক্ষার্থীর স্বতঃস্ফূর্ত আবেদন।</p>
<p data-path-to-node="13">এক মুহূর্তের জন্য ভাবুন—যদি ‘সিলিকন রিভার’ না থাকত, তবে এই অর্জনের কয়টি দৃশ্যমান হতো? বড়জোর শুল্ক সংস্কার কিংবা একটি সমঝোতা স্মারক; এর বেশি কিছু নয়।</p>
<p data-path-to-node="14">আমরা যখন বাংলাদেশকে একটি সত্যিকারের ‘নেশন অব ইনোভেশন’ হিসেবে গড়ে তোলার রূপরেখা দিই, তখন দেশের ৭টি প্রধান অংশীজন (Stakeholders)-এর সুনির্দিষ্ট ভূমিকা চিহ্নিত করেছিলাম। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভিশন বক্তব্যে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল—কোন পক্ষের কী দায়িত্ব পালন করলে আমরা লক্ষ্যপূরণে সফল হব।</p>
<p data-path-to-node="15">বাস্তবে গত চার মাসে এই ৭টি অংশীজনের আচরণ কেমন ছিল?</p>
<ul data-path-to-node="16">
<li>
<p data-path-to-node="16,0,0"><b data-path-to-node="16,0,0" data-index-in-node="0">একাডেমিক (Academics):</b> শিক্ষকদের একাংশের মধ্যে এক ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঈর্ষা ও অসন্তোষ দেখা গেছে। শুরু হয়েছে নানামুখী বয়ান তৈরি, তদবিরের মহোৎসব ও অপ্রয়োজনীয় কূটনামি।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="16,1,0"><b data-path-to-node="16,1,0" data-index-in-node="0">বিল্ডার্স (Builders - তারুণ্য):</b> তরুণ প্রজন্মই আমাদের প্রকৃত শক্তি। তাদের অফুরন্ত মেধা ও দায়বদ্ধতাই দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="16,2,0"><b data-path-to-node="16,2,0" data-index-in-node="0">নাগরিক (Citizens):</b> সাধারণ মানুষের অফুরন্ত ভালোবাসা ও অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছি। তাদের এই অটুট আস্থার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="16,3,0"><b data-path-to-node="16,3,0" data-index-in-node="0">প্রবাসী সমাজ (Diaspora):</b> একটি বিশেষ চক্র দশকের পর দশক কোনো অবদান না রেখে কিংবা ক্ষতিকর ভূমিকা পালন করেও এখন নানা ষড়যন্ত্রমূলক পারফরমেটিভ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="16,4,0"><b data-path-to-node="16,4,0" data-index-in-node="0">উদ্যোক্তা (Entrepreneurs):</b> সুস্থ প্রতিযোগিতা ও বড় হওয়ার আকাঙ্ক্ষা ইতিবাচক; তবে সক্ষমতা না বাড়িয়ে সিন্ডিকেট তৈরি, অপপ্রচার ও একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা জাতীয় অগ্রগতিকে পিছিয়ে দেয়।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="16,5,0"><b data-path-to-node="16,5,0" data-index-in-node="0">ফোর্থ কলাম (Media):</b> গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে সুযোগসন্ধানী স্বঘোষিত ‘পণ্ডিতেরা’ গণমাধ্যমকে ভুল বুঝিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টাও করছে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="16,6,0"><b data-path-to-node="16,6,0" data-index-in-node="0">সরকার (Government):</b> প্রশাসনে কিছু অসাধারণ দূরদর্শী কর্মকর্তা রয়েছেন, যাদের আন্তরিক সহযোগিতার শেষ নেই। বিপরীতে কতিপয় ব্যক্তি ব্যস্ত স্রেফ প্রচারের আলো কেড়ে নেওয়ার নাটকে।</p>
</li>
</ul>
<p data-path-to-node="17">অনেকেই বলতে পারেন—এসব তো থাকবেই। কিন্তু সংকট হলো, একটি দেশ হিসেবে আমরা এখন অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ এক সরু রশির ওপর দিয়ে হাঁটছি। বাইরে থেকে অনেকেই সেই রশি ঝাঁকিয়ে ফেলার চেষ্টা করছে। তার ওপর আমরা যারা সেই রশির ওপর একসঙ্গেই হাঁটছি, তাদেরই কেউ যদি ছুরি দিয়ে রশি কেটে দেওয়ার চক্রান্তে লিপ্ত হয়, তবে পরিণতি কী হবে? সবাই মিলেই খাদে পড়তে হবে। তখন সেই পুরোনো কৌতুকটিই সত্য হবে—আমাদের দোযখের ওপর কোনো প্রহরীর দরকার পড়ে না, কারণ একজন উঠতে গেলেই অন্যজন তার পা টেনে নিচে নামায়।</p>
<p data-path-to-node="18">প্রতিদিন যেসব প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে, তাতে টিকে থাকাটাই এক নিরন্তর সংগ্রাম। তবে এই সংগ্রাম চলবেই, ইনশাআল্লাহ।</p>
<p data-path-to-node="19"><b data-path-to-node="19" data-index-in-node="0">পুনশ্চ:</b> অনেকে হয়তো প্রশ্ন তুলবেন—কয় টাকা সরাসরি বিনিয়োগ এলো কিংবা জাতীয় রাজস্ব কত বাড়ল? প্রথমত, এই পুরো কর্মযজ্ঞে সরকারের এক টাকাও ব্যয় হয়নি। দ্বিতীয়ত, যারা ঢালাও সমালোচনা করছেন, তাদের পকেটেরও কোনো টাকা খরচ হয়নি। অথচ প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যে ২ মিলিয়ন ডলারের বেশি প্রত্যক্ষ বৈদেশিক আয় অর্জিত হয়েছে এবং ‘ডিজিটাল টুইন’ প্রযুক্তিতে দেশের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বহুলাংশে বেড়েছে। আর কোনো অগ্রগতি যদি কেউ স্বীকার করতে না-ও চান, অন্তত এটুকু নিশ্চিত যে দেশজুড়ে সেমিকন্ডাক্টর নিয়ে অভূতপূর্ব আলোড়ন তৈরি হয়েছে—এমনকি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) কল্যাণে রাতারাতি বহু সমালোচকও এখন সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞ বনে গেছেন!</p>
<hr>
<p data-path-to-node="19"><strong>লেখকঃ</strong><span> চিফ আর্কিটেক্ট, সিলিকন রিভার; </span><span>অধ্যাপক, পারডু বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ানা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র</span></p>
<hr>
<p data-path-to-node="19"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>নাগরিক সেবা: প্রশ্নটা সরঞ্জাম বা বাজেটের নয়, আন্তঃমন্ত্রণালয় এপিআই সংযোগের</title>
<link>https://digibanglatech.news/188177</link>
<guid>https://digibanglatech.news/188177</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x580_6a92b80a6ffb0.jpg" length="81681" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 29 Aug 2026 11:44:45 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>নাগরিক সেবা, এপিআই কানেক্টিভিটি, ন্যাশনাল সার্ভিস হাব, প্রশাসনিক সংস্কার, ডিজিটাল সেন্টার, ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, সুশাসন, তথ্যপ্রযুক্তি</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="1">গত সপ্তাহে ব্যক্তিউদ্যোগে চালু হওয়া 'ঘুষ ডট সাইট' চালুর মাত্র ৮ দিনেই ৮ হাজার ৯৪১টি বেনামি অভিযোগ পেয়েছে, যেখানে দাবিকৃত ঘুষের অংক প্রায় ২৯৮ কোটি টাকা। উদ্যোক্তারা স্বীকার করেছেন এগুলো অযাচাইকৃত ও স্বেচ্ছাপ্রদত্ত রিপোর্ট। তবু এই পরিসংখ্যান যা উন্মোচন করে তা নতুন কিছু নয়—সরকারি সেবা নিতে গিয়ে চরম হয়রানি, ঘুষ ও সীমাহীন সময়ক্ষেপণ আমাদের নাগরিক জীবনের নিত্যদিনের বাস্তবতা। এটি হিমশৈলের চূড়া মাত্র। ১৮ কোটি মানুষের দেশে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েননি এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার; শিশুর জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে মৃত্যুসনদ পর্যন্ত এই দুষ্টচক্র আবর্তিত হতে থাকে।</p>
<p data-path-to-node="2">‘নাগরিক সেবা’র ধারণার উৎপত্তি ঠিক এই সংকট নিরসনের জায়গা থেকেই।</p>
<p data-path-to-node="3">সম্প্রতি মহৎ এই উদ্যোগটি নিয়ে কিছু মহল বিদ্বেষমূলক ও অবান্তর প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি—মাঠপর্যায়ে সরঞ্জাম দেওয়া হয়নি, আলাদা বাজেট নেই, তাই উদ্যোগটি টেকসই হয়নি। প্রশ্ন ওঠা ইতিবাচক, তবে যারা প্রশ্ন তুলছেন তারা উদ্যোগটির মৌলিক কারিগরি স্থাপত্য বুঝতেই ব্যর্থ হয়েছেন। আমাদের দেশে দলীয় সুপারিশে অদক্ষ লোক দিয়ে দায়িত্ব সারার প্রবণতা রয়েছে, যাদের প্রযুক্তিগত বিষয়ে ন্যূনতম ধারণাও নেই।</p>
<p data-path-to-node="4">‘নাগরিক সেবা’ কোনো হার্ডওয়্যার বা সরঞ্জাম বিলির প্রকল্প নয়; এটি কোডভিত্তিক সার্ভিস শেয়ারিং ও ইন্টারকানেক্টিভিটি প্রোটোকলনির্ভর একটি জাতীয় উদ্যোগ। নাগরিক সেবা সরঞ্জামনির্ভর হলে সেখানে কেনাকাটার দুর্নীতি বাসা বাঁধে, আর বাজেটনির্ভর হলে প্রকল্পের মেয়াদ ও অর্থ শেষের সাথে সাথে সেবাও বন্ধ হয়ে যায়। এটি ছিল মূলত সরকারি দপ্তরের ভেতরের কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে পরিচালিত একটি রুটিন সেবা কার্যক্রম। প্রকল্প নেই, পিডি (প্রকল্প পরিচালক) নেই, বাজেট ও খরচের সুযোগ নেই বলেই কি নাগরিক সেবা বন্ধ রাখতে হবে?</p>
<p data-path-to-node="5">এই মডেলে উদ্যোক্তাদের কম্পিউটার বা ইন্টারনেট দেওয়া হয় না (মডেল হিসেবে প্রদর্শনের জন্য মাত্র ৬টি কেন্দ্র করা হয়েছিল); বরং তাদের দেওয়া হয় একটি সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম (এপিআই হাব) এবং সেটির ভেরিফায়েড অ্যাক্সেস। উদ্যোক্তা নিজস্ব সরঞ্জাম ব্যবহার করে নাগরিককে সেবা দেন এবং নির্ধারিত সার্ভিস চার্জ নেন। প্ল্যাটফর্মে সেবার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে উদ্যোক্তার আয়ও বাড়ে। সরকারের মূল দায়িত্ব হলো ধাপে ধাপে সব মন্ত্রণালয়ের সেবাকে এই একক প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা, যাতে সাধারণ মানুষকে সেবার জন্য ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে দৌড়াতে না হয়।</p>
<p data-path-to-node="6">পুরোনো ‘ডিজিটাল সেন্টার’ আর ‘নাগরিক সেবা’র দর্শন এক নয়। ডিজিটাল সেন্টারে উদ্যোক্তাকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের শত শত পৃথক ওয়েবসাইটে গিয়ে আলাদাভাবে আবেদন করতে হতো—যা কার্যত বিচ্ছিন্ন একেকটি ডিজিটাল দ্বীপ। নাগরিক সেবা ভিন্ন কাজ করে: এটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সফটওয়্যারের কোডকে এপিআই (API)-এর মাধ্যমে একক প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করে। ফলে এক ঠিকানা থেকেই সব আবেদন সম্পন্ন হয় এবং আবেদনকারী, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়—তিন পক্ষই রিয়েল-টাইম ড্যাশবোর্ডে দেখতে পায় ফাইলটি কোথায় আটকে আছে এবং প্রক্রিয়াকরণে কত সময় লাগছে।</p>
<p data-path-to-node="7">এই স্বচ্ছতা ও দৃশ্যমানতাই ঘুষ-দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ। অস্বচ্ছতায় দালালের দৌরাত্ম্য বাড়ে, আর দীর্ঘসূত্রতায় বাড়ে দুর্নীতির সুযোগ।</p>
<p data-path-to-node="8">বাজেট কোনো দিনই এই প্ল্যাটফর্মের মূল বাধা ছিল না। নতুন কোনো মেগা প্রকল্প, টেন্ডার বা সরকারি বাড়তি বরাদ্দ ছাড়াই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব প্রোগ্রামারদের প্রস্তুত করে মাত্র ছয়-সাত মাসে ১১টি মন্ত্রণালয়ের ৪১টি সেবা এপিআইভুক্ত করা হয়েছিল। মাইগভ (MyGov)-এর ইন্টার-কানেক্টিভিটি থেকে যুক্ত হয়েছিল আরও ৪৫২টি আবেদন; সব মিলিয়ে প্রায় ৪৯৩টি সেবা এবং সাড়ে আটশত উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ ও লগইন সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। প্রচলিত সরকারি ক্রয় মডেলে এই কাজের পেছনে শত শত কোটি টাকা ব্যয় দেখানো হতো। আমরা সেই পথে না হেঁটে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছিলাম।</p>
<p data-path-to-node="9">প্রকৃত বাধা ছিল সেবার ওপর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার মানসিকতা। সেবা প্রদানকারী দপ্তরগুলোর ভয় ছিল, এপিআই সংযোগ দিলে হয়তো তাদের একক কর্তৃত্ব বা নিয়ন্ত্রণ খর্ব হবে। পাসপোর্ট অধিদপ্তর থেকে এপিআই সংযোগ চেয়ে পাওয়া গিয়েছিল একটি যন্ত্র, যা শুরু থেকেই আংশিক অচল। এটি প্রযুক্তিগত জটিলতা নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক কায়েমি স্বার্থের প্রতিবন্ধকতা।</p>
<p data-path-to-node="10">বর্তমানে সেবা ইন্টিগ্রেশনের কাজ বন্ধ রয়েছে। নতুন কোনো এপিআই যুক্ত করা হয়নি এবং আগে চালু থাকা কিছু সেবার কোড-অ্যাক্সেসও বন্ধ রাখা হয়েছে।</p>
<p data-path-to-node="11">আমার প্রশ্নটি কোনো রাজনৈতিক দলের বিরুদ্ধে নয়, সরাসরি প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার প্রতি: এই জনকল্যাণমূলক প্রযুক্তি সংযোগ বন্ধ রাখা হলো কেন?</p>
<p data-path-to-node="12">বর্তমান সরকারের কার্যকালের মধ্যে চাইলে কোনো অতিরিক্ত বাজেট ছাড়াই আরও শতাধিক এপিআই যুক্ত করা যেত। নাম কিংবা ব্র্যান্ডিং পছন্দ না হলে তা পুনর্নির্ধারণ করা হোক। মূল নীতিটি অপরিবর্তিত রাখা জরুরি: ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট কিংবা জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) সেবা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ের ভৌগোলিক সীমানার বাইরে নিয়ে আসতে হবে। কারণ ঘুষ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সিন্ডিকেট সেই কাউন্টারগুলোকে ঘিরেই গড়ে ওঠে। এই ব্যবস্থার কার্যকর রূপান্তরই মূল সংস্কার।</p>
<p data-path-to-node="13">প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাজ সেবাগ্রহীতাদের সরাসরি ভিড় সামলানো নয়; তাদের মূল দায়িত্ব সেবার মান নিয়ন্ত্রণ, নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ। সেবা পৌঁছে দেওয়ার কাজটি করবে মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তারা, পরবর্তীতে যা সচেতন নাগরিক ও প্রবাসীরা নিজেরাই সম্পন্ন করতে পারবেন।</p>
<p data-path-to-node="14">বিদ্যমান জনবল ও অবকাঠামো কাজে লাগিয়ে নাগরিক ভোগান্তি কমানোর যে ভিত্তি দাঁড়িয়ে গেছে, তাকে এগিয়ে নেওয়াই যৌক্তিক। প্রশ্নটি কোনো সরকারের একক কৃতিত্বের নয়, নাগরিকের অর্থ ও সময় বাঁচানোর।</p>
<p data-path-to-node="15">সরকারের কাছে বিনীত আহ্বান—এপিআই-ভিত্তিক ‘ন্যাশনাল সিঙ্গেল সার্ভিস প্ল্যাটফর্ম’-এর অগ্রযাত্রা থামিয়ে না রেখে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর ভেতর থেকেই এটি এগিয়ে নিন। নতুন প্রকল্প খুলে ফান্ড নির্ভরতা তৈরি করলে মেয়াদ শেষে পুরো উদ্যোগটি আবারও স্থবির হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকবে। নাগরিকের ভোগান্তি কমাতে এবং দুর্নীতিমুক্ত সেবা নিশ্চিতে এক ঠিকানায় সব নাগরিক সেবার সমন্বয় ফিরিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="17"><b data-path-to-node="17" data-index-in-node="0">লেখক:</b> প্রযুক্তিবিদ, লেখক এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক বিশেষ সহকারী।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="17"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বাংলাদেশে এআই ও আইনের শাসন: বিচারব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নীতি ও কাঠামো</title>
<link>https://digibanglatech.news/187815</link>
<guid>https://digibanglatech.news/187815</guid>
<description><![CDATA[ &lt;div&gt;বিচারব্যবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ব্যবহারের আগে প্রয়োজন স্পষ্ট নীতি, নিরাপত্তা ও জবাবদিহির কাঠামো। সুপ্রিম কোর্টের নেতৃত্বে বিচারিক এআই কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিশ্লেষণাত্মক লেখা।&lt;/div&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x580_6a8d60bb986c3.jpg" length="106807" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 25 Aug 2026 10:31:08 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিচারব্যবস্থা, আইনের শাসন, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট, ইউনেস্কো এআই টুলকিট, ডিজিটাল বিচার বিভাগ, জুডিশিয়াল এআই framework, এআই নীতি, এআই ঝুঁকি।</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div _ngcontent-ng-c3448621589="" inline-copy-host="" class="markdown markdown-main-panel md-content enable-luminous-fast-follows enable-updated-hr-color stronger tutor-markdown-rendering" id="model-response-message-contentr_075e6e168a9213e5" aria-busy="false" aria-live="polite" dir="ltr">
<p>একসময় ধারণা করা হতো তথ্যপ্রযুক্তি কেবলই যোগাযোগের মাধ্যম, কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) আবির্ভাব সেই ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এআই এখন বিচারব্যবস্থার মতো সংবেদনশীল জায়গায়ও প্রবেশ করছে। বিশ্বজুড়ে বিচারব্যবস্থাগুলো যখন এখনো ঠিক করে উঠতে পারেনি এই প্রযুক্তির ব্যবহার কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত, তখনই বাংলাদেশেও এর ব্যবহারের প্রশ্নটি সামনে এসেছে। ইউনেস্কোর 'Global Toolkit on AI and the Rule of Law for the Judiciary' এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্য একটি সময়োপযোগী নীতিগত ভিত্তি হতে পারে। তবে মনে রাখা প্রয়োজন, এআই ব্যবহারের মূল লক্ষ্য বিচারককে প্রযুক্তি দিয়ে প্রতিস্থাপন করা নয়। বরং বিচারিক স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার, সমতা, গোপনীয়তা ও মানবীয় সিদ্ধান্তের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে বিচারপ্রাপ্তি সহজ করা ও আদালতের দক্ষতা বাড়ানোই এর উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। </p>
<p><strong>জেনারেটিভ এআই এবং সম্ভাবনার দুয়ার</strong><br>একজন বিচারক জেনারেটিভ এআই ব্যবহার করে দীর্ঘ নথির সারসংক্ষেপ তৈরি করতে পারেন, একজন আইনজীবী নজির খুঁজতে পারেন, আর আদালত প্রশাসন মামলার শ্রেণিবিন্যাস, শুনানির সময়সূচি তৈরি, অনুবাদ, ট্রান্সক্রিপশন বা মামলার জট শনাক্তে অ্যালগরিদম ব্যবহার করতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মামলার দীর্ঘসূত্রতা কমানো এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এআই নিঃসন্দেহে একটি বড় সম্ভাবনা। </p>
<p>তবে মূল প্রশ্নটি এটি নয় যে বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা এআই ব্যবহার করবে কি না। আসল প্রশ্ন হলো—কোন নিয়মে, কী ধরনের সুরক্ষার মধ্যে এবং কার কাছে জবাবদিহির ভিত্তিতে এটি ব্যবহৃত হবে</p>
<br><response-element class="no-md" ng-version="0.0.0-PLACEHOLDER"><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----></response-element>
<div _ngcontent-ng-c1203130217="" class="code-block ng-tns-c1203130217-68 ng-animate-disabled ng-trigger ng-trigger-codeBlockRevealAnimation" jslog="223238;track:impression,attention;BardVeMetadataKey:[[&quot;r_075e6e168a9213e5&quot;,&quot;c_f379bc1f7688e2c7&quot;,null,&quot;rc_2c4c93450bdf4bf3&quot;,null,null,&quot;bn&quot;,null,1,null,null,1,0]]" data-hveid="0" decode-data-ved="1" data-ved="0CAAQhtANahgKEwjRq8mT-bqWAxUAAAAAHQAAAAAQ3wI"><!---->
<div _ngcontent-ng-c1203130217="" class="formatted-code-block-internal-container ng-tns-c1203130217-68">
<div _ngcontent-ng-c1203130217="" class="animated-opacity ng-tns-c1203130217-68"><!---->
<pre _ngcontent-ng-c1203130217="" class="ng-tns-c1203130217-68"><sider-code-explain id="sider-code-explain" data-gpts-theme="light"></sider-code-explain><sider-code-explain id="sider-code-explain" data-gpts-theme="light"></sider-code-explain><code _ngcontent-ng-c1203130217="" role="text" data-test-id="code-content" class="code-container formatted ng-tns-c1203130217-68 no-decoration-radius">                            [ সুপ্রিম কোর্টের নেতৃত্ব ]
                                      │
              ┌───────────────────────┴───────────────────────┐
              ▼                                               ▼
   [ ঝুঁকিভিত্তিক প্রয়োগ ]                          [ Judicial AI Policy Lab ]
 (ট্রান্সক্রিপশন, ডকেট প্রসেসিং)                  (নিয়ন্ত্রিত পরীক্ষা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা)
              │                                               │
              └───────────────────────┬───────────────────────┘
                                      ▼
                        [ প্রামাণ্য বিচারিক ভান্ডার ]
                        (বাংলাদেশের আইন, নথি ও বাংলা ভাষা)
</code></pre>
<!----></div>
</div>
</div>
<response-element class="no-md" ng-version="0.0.0-PLACEHOLDER"><code-block _nghost-ng-c1203130217="" class="ng-tns-c1203130217-68 enable-luminous-code-block ng-star-inserted"><!----><!----><!----></code-block><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----><!----></response-element>
<div>
<p><strong>বিচারিক সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়</strong><br>এআই হয়তো মানুষের চেয়ে দ্রুত হাজার পৃষ্ঠার নথি বিশ্লেষণ করতে পারে, প্রাসঙ্গিক রায় খুঁজে দিতে পারে বা সাক্ষ্য ট্রান্সক্রাইব করতে পারে। কিন্তু বিচারিক প্রক্রিয়া কেবল তথ্য প্রক্রিয়াকরণের (Data Processing) কাজ নয়। আদালতকে মামলার সামাজিক ও মানবিক প্রেক্ষাপট বুঝতে হয়, সাক্ষ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করতে হয়, পরস্পরবিরোধী অধিকারের ভারসাম্য নির্ধারণ করতে হয় এবং যুক্তি উপস্থাপন করে সিদ্ধান্তের দায় নিতে হয়। </p>
<p>তাই আমাদের একটি মৌলিক নীতি নির্ধারণ করা আবশ্যক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিচারিক সিদ্ধান্তকে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু এটি কখনো বিচারকের দায়িত্বকে প্রতিস্থাপন করতে পারে না। </p>
<p><strong>অনানুষ্ঠানিক ব্যবহারের ঝুঁকি ও সংবিধানের নীতি</strong><br>নীতিমালা তৈরির আগেই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়ে যাওয়া এক বড় ঝুঁকি তৈরি করে। বিচারক, আইনজীবী বা আদালতের কর্মকর্তারা যদি নীতিমালার অভাবে উন্মুক্ত এআই প্ল্যাটফর্মে কোনো সংবেদনশীল বা গোপন বিচারিক নথি আপলোড করেন, তবে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা ও গোপনীয়তা চরম হুমকির মুখে পড়তে পারে। তদুপরি, জেনারেটিভ এআই মাঝে মাঝে কাল্পনিক রায় বা ভুল নজির (Hallucination) তৈরি করে এবং ভুয়া তথ্যকেও চরম আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপন করে। </p>
<p>সংবিধানে বর্ণিত আইনের দৃষ্টিতে সমতা, ন্যায়বিচার, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার নীতিই বিচারিক এআই ব্যবহারের প্রধান মানদণ্ড হওয়া উচিত। প্রতিটি এআই ব্যবস্থার ক্ষেত্রে কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর থাকা বাধ্যতামূলক: </p>
<ul style="list-style-type: square;">
<li>এটি কি কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য তৈরি করছে?</li>
<li>সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি কি জানতে পারছেন যে সিদ্ধান্তে এআই ব্যবহৃত হয়েছে?</li>
<li>এআই-এর সুপারিশকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ আছে কি না?</li>
<li>ব্যবস্থাটি কোনো ভুল করলে দায় কে নেবে?</li>
</ul>
<p><strong>কম ঝুঁকির ক্ষেত্র থেকে শুরু ও জাতীয় কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা</strong><br>বাংলাদেশকে দুটি চরম অবস্থান এড়িয়ে চলতে হবে—এআইকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করা কিংবা তাড়াহুড়ো করে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় বিচারব্যবস্থার দিকে ঝুঁকে পড়া। সঠিক পথ হলো ঝুঁকিভিত্তিক প্রয়োগ। প্রথম পর্যায়ে এআই কেবল ট্রান্সক্রিপশন, নথি শ্রেণিবিন্যাস, অনুবাদ, শুনানির সময়সূচি ব্যবস্থাপনা ও ডুপ্লিকেট আবেদন শনাক্তকরণের মতো কম ঝুঁকির প্রশাসনিক কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু জামিন প্রদান, শাস্তির মাত্রা নির্ধারণ বা সাক্ষীর বিশ্বাসযোগ্যতা মূল্যায়নের মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এআই-এর ব্যবহার থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে। </p>
<p>এ জন্য সুপ্রিম কোর্টের নেতৃত্বে একটি 'Bangladesh Judicial AI and Rule of Law Framework' গঠন করা যেতে পারে। এই কাঠামোর মূল ভিত্তি হবে মানবীয় সিদ্ধান্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ক্ষমতা, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে এআই ব্যবহারের স্বচ্ছতা, উচ্চতর ডেটা নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তি ক্রয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণ। </p>
<p><strong>স্থানীয় বাস্তবতা, প্রশিক্ষণ ও দৃষ্টিভঙ্গি</strong><br>আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক এআই মডেলগুলো প্রধানত ইংরেজি ভাষা ও পশ্চিমা ডেটাসেটে প্রশিক্ষিত। বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থায় বাংলা ভাষা, স্ক্যান করা পুরোনো নথি এবং নিজস্ব আইনের জটিলতা রয়েছে। ফলে বিদেশি মডেলের ওপর ভরসা না করে দেশের নিজস্ব প্রামাণ্য আইন, বিধি ও রায়ের ওপর ভিত্তি করে একটি নিরাপদ ডিজিটাল ভান্ডার গড়ে তোলা জরুরি। একই সাথে বিচার বিভাগীয় প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বে একটি 'Judicial AI and Rule of Law Lab' স্থাপন করা যেতে পারে, যা এই প্রযুক্তিগুলোকে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে। </p>
<p>প্রযুক্তি কেনার পর প্রশিক্ষণের প্রথাগত অভ্যাস বদলে, প্রযুক্তি বাস্তবায়নের আগেই বিচারক, আইনজীবী ও কর্মকর্তাদের এআই-এর কার্যপ্রণালী, এর সীমাবদ্ধতা এবং ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। কারণ বিচার বিভাগ কেবল এআই-এর ব্যবহারকারী নয়, ভবিষ্যতে এআই-সম্পর্কিত জটিল আইনি বিরোধেরও বিচারক। </p>
<p><strong>শেষ কথা</strong><br>বিচারের প্রধান উদ্দেশ্য দ্রুত সিদ্ধান্ত দেওয়া নয়, বরং সঠিক, স্বাধীন ও যুক্তিনির্ভর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। প্রযুক্তিকে বিচারকের পাশে স্থান দিতে হবে, বিচারকের আসনে নয়। নীতিগত সীমারেখা যদি আমরা এখনই নির্ধারণ না করি, তবে ভবিষ্যতে অনিয়ন্ত্রিত প্রযুক্তিই আমাদের বিচারিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করবে।</p>
</div>
<div><span data-path-to-node="23,6"></span></div>
<div><hr><span data-path-to-node="23,6"><span data-path-to-node="23,6">লেখক:  ডিজিটাল গণতন্ত্র, তথ্যের অখণ্ডতা ও গণমাধ্যম উন্নয়নবিষয়ক বিশেষজ্ঞ</span></span><hr><span data-path-to-node="23,6"></span></div>
<br>
<div></div>
<br>
<div></div>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>আসল সংকট প্রসেসর নয়, বিদ্যুৎ আর মানুষের হাত</title>
<link>https://digibanglatech.news/187454</link>
<guid>https://digibanglatech.news/187454</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202607/image_870x_6a66e1e9824a5.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 21 Aug 2026 00:44:06 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে বিশ্বজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রধান উদ্বেগ ঘুরেফিরে আসছে—এআই কি আমাদের সবার চাকরি কেড়ে নেবে? সফটওয়্যার ডেভলপার, কনটেন্ট রাইটার কিংবা ডেটা এনালিস্টদের কাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে যখন চারিদিকে আলোচনা, ঠিক তখনই পর্দার আড়ালে বিশ্ব অর্থনীতির শীর্ষ টেক ও ফাইন্যান্সিয়াল জায়ান্টরা একদম বিপরীতধর্মী ও অভূতপূর্ব এক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। মেটা, গুগল কিংবা ব্ল্যাকরকের মতো বিশ্ব কাঁপানো প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানগুলো একদিকে যেমন সফটওয়্যার প্রকৌশলী ও হোয়াইট-কলার কর্মীদের ছাঁটাই করছে, অন্যদিকে তেমনি হাজার হাজার ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, প্লাম্বার ও নির্মাণশ্রমিক খোঁজার জন্য হন্যে হয়ে উঠেছে।</p>
<p>প্রথম দেখায় বিষয়টি বৈপরীত্য মনে হলেও অর্থনৈতিক ডেটা ও টেক-ইন্ডাস্ট্রির বৈশ্বিক গতিপথ পর্যবেক্ষণ করলে এর পেছনের মূল কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার জন্য যে সুবিশাল কম্পিউটিং ক্ষমতা প্রয়োজন, তা কেবল কয়েক লাখ প্রসেসর বা জিপিইউ (GPU) কিনলেই অর্জন করা সম্ভব নয়। এআই বিপ্লবের আসল সংকট এখন আর সিলিকন চিপস কিংবা এআই অ্যালগরিদম নয়; আসল সংকট হয়ে দাঁড়িয়েছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং ভৌত অবকাঠামো গড়ে তোলার জন্য প্রয়োজনীয় মানুষের দক্ষ হাত।</p>
<p><strong>১. টেক জায়ান্টদের কারিগরি প্রশিক্ষণ উদ্যোগ ও শত কোটি টাকার তহবিল</strong></p>
<p>এআই প্রযুক্তিকে বাস্তবে কার্যকর করতে হাজার হাজার হাইপারস্কেল ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও সেগুলোকে আঞ্চলিক পাওয়ার গ্রিডের সাথে যুক্ত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। কিন্তু এই অবকাঠামো গড়ে তোলার মতো পর্যাপ্ত দক্ষ লোকবল বিশ্ববাজারে নেই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলিকন ভ্যালির বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানগুলো এখন নিজেরাই সরাসরি কারিগরি শিক্ষা ও হস্তশিল্প প্রশিক্ষণে শত শত মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে।</p>
<p><strong>মেটা (Meta):</strong> টেক জায়ান্ট মেটা তাদের নিজস্ব ও মূল নির্মাণকারী পার্টনারদের সাথে যৌথভাবে প্রায় ১১২ থেকে ১১৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল তহবিল গঠন করেছে। তাদের "America's Workforce Academy" সহ অন্যান্য পার্টনারশিপ প্রোগ্রামের আওতায় এই অর্থ ব্যবহৃত হচ্ছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ট্রেনিং, যাতায়াতের জন্য প্লেন টিকিট, বিনামূল্যে থাকার সুবিধা এবং স্টাইপেন্ড প্রদান করা হচ্ছে। ৫ সপ্তাহের একটি নিবিড় বুটক্যাম্প শেষে অংশগ্রহণকারীদের সরাসরি ডেটা সেন্টার নির্মাণ সাইটে কাজের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ব্যাচেই প্রায় ৫,০০০ জনকে অন্তর্ভুক্ত করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে এবং কনস্ট্রাকশন বা কারিগরি কাজের পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকলেও এতে যোগ দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।</p>
<p><strong>গুগল (Google):</strong> টেক জায়ান্ট গুগল কারিগরি ট্রেড গ্রোথ তরান্বিত করতে ৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশেষ আর্থিক অনুদান ঘোষণা করেছে। এই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে International Brotherhood of Electrical Workers (IBEW) এবং তাদের ন্যাশনাল ইলেকট্রিক্যাল কন্ট্রাক্টর অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে। গুগলের মূল টার্গেট হলো আমেরিকায় বার্ষিক কারিগরি শিক্ষানবিশ বা অ্যাপ্রেন্টিস গ্রহণের সংখ্যা ১৯,৫০০ থেকে বাড়িয়ে ৩০,০০০-এ উন্নীত করা, যাতে দ্রুত বর্ধনশীল ডেটা সেন্টার হাবগুলোতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ানের যোগান নিশ্চিত করা যায়।</p>
<p><strong>ব্ল্যাকরক (BlackRock):</strong> বিশ্বের সবচেয়ে বড় অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি ব্ল্যাকরকের ফাউন্ডেশন শাখা কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন ও ফ্রন্টলাইন ওয়ার্কফোর্স গড়ার লক্ষ্যে আগামী ৫ বছরের জন্য ১০০ মিলিয়ন ডলারের একটি তহবিল বরাদ্দ করেছে। এই ফান্ডের মাধ্যমে আনুমানিক ৫০,০০০ জন তরুণকে আধুনিক ম্যানুফ্যাকচারিং, সাবস্টেশন ডেভেলপমেন্ট ও হাই-ভোল্টেজ গ্রিড সংযোগের কাজে দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।</p>
<p><strong>২. কেন এই তীব্র সংকট? ওপেনএআই ও হোয়াইট হাউসের অর্থনৈতিক পর্যালোচনা</strong></p>
<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো তৈরি করতে কতটা নজিরবিহীন পরিমাণ লোকবল প্রয়োজন, তার একটি স্পষ্ট চিত্র উঠে এসেছে ওপেনএআই (OpenAI)-এর পক্ষ থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নীতি-নির্ধারক ও হোয়াইট হাউসের কাছে জমা দেওয়া এক অর্থনৈতিক পর্যালোচনায়।</p>
<p>ওপেনএআই-এর রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, কেবল তাদের প্রস্তাবিত মেগা ডেটা সেন্টার প্রজেক্টসমূহ এবং সেগুলোর চালিকাশক্তি হিসেবে নতুন পাওয়ার প্ল্যান্ট ও পাওয়ার গ্রিড কানেকশন তৈরি করতেই যুক্তরাষ্ট্রের মোট অভিজ্ঞ ও দক্ষ ইলেকট্রিশিয়ান ও টেকনিশিয়ানদের প্রায় ২০ শতাংশের প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ, আমেরিকার প্রতি ৫ জন অভিজ্ঞ ইলেকট্রিশিয়ানের মধ্যে ১ জনকে শুধু একটি এআই কোম্পানির পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণে নিয়োজিত থাকতে হবে।</p>
<p><strong><span style="color: rgb(10, 137, 17);">এই তীব্র সংকটের পেছনে আরও কয়েকটি গভীর কারণ বিদ্যমান:</span></strong></p>
<p>প্রথমত, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে কর্মরত অভিজ্ঞ ইলেকট্রিশিয়ান ও ট্রেড-ওয়ার্কারদের গড় বয়স ৪৫ থেকে ৪৬ বছরের বেশি। প্রতি বছর যে পরিমাণ প্রবীণ কারিগর অবসর গ্রহণ করছেন, তরুণ প্রজন্ম শারীরিক শ্রমে আগ্রহী না হওয়ায় ট্রেড স্কুলগুলোতে সেই অনুপাতে নতুন শিক্ষার্থী আসছে না।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, একটি আধুনিক হাইপারস্কেল এআই ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা ১০০ মেগাওয়াট থেকে শুরু করে ১ গিগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে। ১ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ দিয়ে প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ সাধারণ বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব। এই বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ডেটা সেন্টারে নিয়ে আসতে সুবিশাল হাই-ভোল্টেজ সাবস্টেশন, ট্রান্সফরমার ও হাজার হাজার মাইল ভারী কেবলিং করতে হয়। এই বিশেষ ধরনের কাজের জন্য উচ্চপর্যায়ের লাইসেন্সপ্রাপ্ত ও সার্টিফাইড ইলেকট্রিশিয়ানের তীব্র ঘাটতি রয়েছে।</p>
<p><strong>৩. বেতন, প্রিমিয়াম এবং ভেতরের বাস্তবতার সমীকরণ</strong></p>
<p>চাহিদা ও যোগানের এই চরম বৈষম্যের কারণে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ান ও টেকনিশিয়ানদের বেতন রেকর্ড পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। জনপ্রিয় আমেরিকান টিভি হোস্ট মাইক রো (Mike Rowe) টেক্সাসের একটি হাই-টেক ডেটা সেন্টার নির্মাণ সাইট পরিদর্শনের পর সেখানকার কাজের ধরন ও বেতনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তিনি সেখানে এমন কয়েকজন তরুণ লাইসেন্সড ইলেকট্রিশিয়ানের সাক্ষাৎকার নেন, যাদের প্রত্যেকের বয়স ৩০ বছরের নিচে এবং যাদের ওপর কোনো স্টুডেন্ট লোনের বোঝা নেই। কিন্তু অতি-জরুরি প্রজেক্টে ডেডলাইন মেলানোর জন্য তারা ওভারটাইম, ডাবল-টাইম বোনাস এবং প্রজেক্ট কমপ্লিশন অ্যালাউন্সসহ বছরে প্রায় ২,৬০,০০০ ডলার (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকার বেশি) পর্যন্ত আয় করছেন। ট্রেড জব বাজারে এই দক্ষ কারিগরদের এতটাই টানাটানি যে, ১৮ মাসের মধ্যে একেকজন ইলেকট্রিশিয়ানকে অন্য কোম্পানিগুলো আরও বেশি বেতনের অফার দিয়ে ৩ বার পর্যন্ত হাইজ্যাক বা ড্রাফট করে নিয়ে গেছে।</p>
<p><span style="color: rgb(10, 137, 17);"><strong>তবে এই বেতনের হিসাবের পেছনে বাজার ও প্রাতিষ্ঠানিক কিছু মূল পার্থক্য বুঝে নেওয়া প্রয়োজন:</strong></span></p>
<p>গড় বা মিডিয়ান বেতন বনাম টপ-এন্ড কেস: ইউএস ব্যুরো অব লেবার স্ট্যাটিস্টিকস (BLS)-এর তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে একজন সাধারণ লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইলেকট্রিশিয়ানের বার্ষিক গড় বা মিডিয়ান বেতন ৬১,০০০ থেকে ৬৬,০০০ ডলারের কাছাকাছি। বছরে ২,৬০,০০০ ডলার আয় করার ক্ষেত্রগুলো মূলত ডাটা সেন্টার ও ক্রিটিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের বিশেষ প্রজেক্টভিত্তিক কাজ, যেখানে সপ্তাহে ৬০ থেকে ৭০ ঘণ্টা পর্যন্ত অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম করতে হয়।</p>
<p>পে গ্রোথ প্রিমিয়াম: জব মার্কেট ডেটা প্ল্যাটফর্ম ইনডিড (Indeed)-এর সাম্প্রতিক সূচক অনুযায়ী, ডেটা সেন্টার ও এআই ইনফ্রাস্ট্রাকচার সম্পর্কিত ইলেকট্রিক্যাল ও ট্রেড জবগুলোর বেতন সাধারণ বাণিজ্যিক বা আবাসিক ট্রেড জবের চেয়ে প্রায় ৪২% বেশি গতিতে বাড়ছে।</p>
<p>শর্ট-টার্ম বুটক্যাম্প বনাম ৪ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি: North America's Building Trades Unions (NABTU) এর প্রেসিডেন্ট শন ম্যাকগার্ভি মেটা ও অন্যান্য টেক কোম্পানির ৫ সপ্তাহের বুটক্যাম্প প্রোগ্রামের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, এটি মূলত একটি চতুর পিআর (PR) কৌশল। ৫ সপ্তাহের বুটক্যাম্পে প্রশিক্ষণ নিয়ে কেবল প্রাথমিক সহকারী (Helper/Laborer) বা ক্যাবল টানার কাজ শেখা সম্ভব। কিন্তু বিপজ্জনক হাই-ভোল্টেজ প্রজেক্টে কাজ করার মতো যোগ্য 'লাইসেন্সড জর্নিম্যান' বা 'মাস্টার ইলেকট্রিশিয়ান' হতে এখনও ৪ বছরের প্র্যাকটিক্যাল অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ও প্রাতিষ্ঠানিক ঘণ্টার প্রয়োজন হয়।</p>
<p>ক্যাপেক্স (CapEx) বনাম ট্রেনিং বাজেট: মেটা ও গুগলের মতো কোম্পানিগুলো কেবল এই বছরই ডেটা সেন্টার ও এআই হার্ডওয়্যার কেনাকাটায় ৩৩৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূলধনী ব্যয় (CapEx) করছে। সেই বিশাল অঙ্কের তুলনায় ট্রেড ট্রেইনিংয়ের পেছনে তাদের ২৬৫ বা ৩০০ মিলিয়ন ডলারের বাজেটটি তাদের মাত্র কয়েক ঘণ্টার আয় বা ব্যয়ের সমান।</p>
<p>এছাড়াও এটি স্মরণ রাখা জরুরি যে, এই কাজের অফারগুলো পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য প্রযোজ্য। উপযুক্ত মার্কিন ওয়ার্ক ভিসা এবং স্থানীয় রাজ্যের ইলেকট্রিশিয়ান লাইসেন্স ছাড়া বাইরে থেকে সরাসরি এই চাকরিগুলোতে যোগদান করার কোনো সুযোগ নেই।</p>
<p><strong>৪. আমাদের সামাজিক সাংস্কৃতিক ভুল ধারণা ও বাংলাদেশের জন্য বিশাল বার্তা</strong></p>
<p>দক্ষিণ এশীয় বিশেষ করে বাংলাদেশের সংস্কৃতিতে ছোটবেলা থেকেই একটি চেনা মানসিকতা গড়ে ওঠে—"মন দিয়ে পড়ালেখা না করলে বড় হয়ে মিস্ত্রি বা কাঠমিস্ত্রির কাজ করে খেতে হবে।" প্রথাগত কায়িক শ্রম বা হাতেনাতে কাজকে আমরা সবসময় দ্বিতীয় সারির পেশা হিসেবে দেখে এসেছি এবং গ্রাজুয়েশন বা হোয়াইট-কলার চাকরিকে প্রাধান্য দিয়েছি। কিন্তু ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এই পুরনো হিসাবকে পুরোপুরি উল্টে দিয়েছে।</p>
<p>জেনারেটিভ এআই প্রযুক্তি কোডিং, টেক্সট রাইটিং, গ্রাফিক্স ডিজাইন বা ক্লাসিক্যাল অফিসের কাজগুলো অতি দ্রুত স্বয়ংক্রিয় বা অটোমেট করে ফেলছে। কিন্তু ভৌত জগতে (Physical World) গিয়ে তামার তার যুক্ত করা, সাবস্টেশন মেরামত করা বা বড় অবকাঠামো গড়ে তোলার মতো মানুষের দক্ষ হাতের কাজ প্রতিস্থাপন করার ক্ষমতা এআই বা রোবোটিক্সের এখনো তৈরি হয়নি।</p>
<p><strong><span style="color: rgb(10, 137, 17);">এই বৈশ্বিক পরিবর্তন থেকে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য ৩টি বড় শিক্ষা রয়েছে:</span></strong></p>
<p>১. ডিগ্রি বনাম সার্টিফাইড হ্যান্ডস-অন স্কিল: প্রথাগত সাধারণ ডিগ্রির চেয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং হ্যান্ডস-অন প্র্যাকটিক্যাল স্কিলের কদর বৈশ্বিক বাজারে দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে।</p>
<p>২. প্রবাসী শ্রমিকদের মানোন্নয়ন ও সার্টিফাইড করা: বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর মধ্যপ্রাচ্য ও পশ্চিমা দেশগুলোতে লাখ লাখ ইলেকট্রিশিয়ান, ওয়েল্ডার, প্লাম্বার ও নির্মাণশ্রমিক যান। কিন্তু আমাদের দেশে উপযুক্ত আন্তর্জাতিক লাইসেন্স বা মানসম্মত সার্টিফিকেশন (যেমন: NVQ বা ISO সার্টিফাইড প্রশিক্ষণ) না থাকায় তারা অদক্ষ বা আধা-দক্ষ লেবার হিসেবে সর্বনিম্ন মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হন। তাদের যদি উপযুক্ত আন্তর্জাতিক মানের ট্রেনিং দিয়ে সার্টিফাইড করে পাঠানো যায়, তবে একই শ্রমে তাদের বার্ষিক আয় ৫ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব।</p>
<p>৩. মূল দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন: আমরা হয়তো এআই নিয়ে একদম ভুল প্রশ্নটি করছি। প্রশ্নটা এটা নয় যে—"এআই কি আমাদের চাকরি কেড়ে নেবে?"</p>
<p>প্রকৃত ও সঠিক প্রশ্নটি হলো—"এআই যে বিশাল ডিজিটাল পৃথিবী গড়ে তুলতে চায়, সেই পৃথিবীর অবকাঠামো তৈরি ও চালনা করার আসল কাজটা করবে কে?"</p>
<p>পরিশেষে বলা যায়, আমাদের ডিজিটাল পৃথিবী যতই ক্লাউড বা ভার্চুয়াল জগতের দিকে যাক না কেন, তার মূল অস্তিত্ব টিকে থাকে কনক্রিটের দেয়াল, তামার ক্যাবল, সাবস্টেশন আর নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের ওপর। আর সেই ভৌত অবকাঠামো তৈরির জন্য বিশ্ব অর্থনীতির কাছে মানুষের দক্ষ হাত ছাড়া দ্বিতীয় কোনো বিকল্প আজও নেই।</p>
<hr>
<p><b data-path-to-node="22,0,0" data-index-in-node="0">লেখক:</b><span> </span><i data-path-to-node="22,0,1" data-index-in-node="0">ই-কমার্স বিশ্লেষক ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, ই-ক্যাব </i></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>আজ অন্যের কল রেকর্ড, কাল কার?</title>
<link>https://digibanglatech.news/186907</link>
<guid>https://digibanglatech.news/186907</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;span style=&quot;color: rgb(10, 137, 17); background-color: rgb(236, 240, 241);&quot;&gt;&lt;strong&gt;নাগরিকের ব্যক্তিগত যোগাযোগ, রাষ্ট্রীয় নজরদারি ও গণমাধ্যমের দায়িত্বের প্রশ্ন &lt;/strong&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x580_6a7f1556cde9e.jpg" length="67450" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 14 Aug 2026 10:17:34 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিগত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতা এবং কখনো কখনো সাধারণ নাগরিকের কথোপকথনের অডিও বা কল রেকর্ড প্রকাশ হতে দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এসব রেকর্ডে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, ক্ষমতার অপব্যবহার কিংবা অপরাধের অভিযোগের সূত্র থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে তদন্ত ও জনস্বার্থের প্রশ্ন অবশ্যই রয়েছে।</p>
<p>কিন্তু এর পাশাপাশি আরও একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে এসেছে—<br>আজ যাদের কল রেকর্ড প্রকাশিত হচ্ছে, আগামীকাল বর্তমান সরকার বা বর্তমান ক্ষমতাকেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের কল রেকর্ড প্রকাশ হবে না—তার নিশ্চয়তা কোথায়?</p>
<p>আর যদি ভবিষ্যতে কোনো সরকার ক্ষমতা পরিবর্তনের পর আজকের ক্ষমতাবানদের ব্যক্তিগত কথোপকথন প্রকাশ করে, তখন কি আমরা বলব সেটি ন্যায়সংগত?</p>
<p>এই প্রশ্নটি কোনো ব্যক্তি বা দলের পক্ষে-বিপক্ষে নয়। এটি রাষ্ট্র, আইন, নাগরিক অধিকার এবং গণতন্ত্রের প্রশ্ন।</p>
<p><strong>সংবিধান কী বলে?</strong><br>বাংলাদেশের সংবিধান নাগরিকের যোগাযোগের গোপনীয়তাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। সংবিধানের ৪৩ অনুচ্ছেদের (খ) দফায় প্রত্যেক নাগরিকের correspondence and other means of communication”-এর privacy বা যোগাযোগের গোপনীয়তার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে।</p>
<p>অর্থাৎ ফোনে কথা বলা, চিঠিপত্র, ই-মেইল কিংবা আধুনিক যোগাযোগের অন্যান্য মাধ্যম—এসব ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপেরও একটি সাংবিধানিক সীমা রয়েছে।</p>
<p>এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার—<br>গোপনীয়তার অধিকার কোনো অপরাধীর জন্য বিশেষ সুবিধা নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের অধিকার।<br>কেউ অপরাধ করলে তদন্ত হবে, তার যোগাযোগ আইন অনুযায়ী তদন্তের আওতায় আসতে পারে। কিন্তু অপরাধের তদন্তের প্রয়োজনীয়তা আর নির্বিচারে ব্যক্তিগত যোগাযোগ সংগ্রহ বা প্রকাশ—দুটি এক বিষয় নয়।<br>তাহলে কি সরকার কখনো কল রেকর্ড সংগ্রহ করতে পারবে না?<br>না। বিষয়টি এত সরল নয়।</p>
<p>রাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা, গুরুতর অপরাধের তদন্ত কিংবা আইন প্রয়োগের বৈধ প্রয়োজন থাকতে পারে। বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ খাত নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০০১ রয়েছে।  কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রশ্ন হলো—কোন পরিস্থিতিতে নজরদারি করা যাবে, কে অনুমোদন দেবে, কতদিন করা যাবে, কী তথ্য সংগ্রহ করা যাবে, সেই তথ্য কে ব্যবহার করবে এবং কখন তা ধ্বংস করতে হবে?</p>
<p>রাষ্ট্রের হাতে ক্ষমতা থাকা এবং রাষ্ট্র সেই ক্ষমতা যেকোনোভাবে ব্যবহার করতে পারা—এক জিনিস নয়।</p>
<p>আইনের শাসনের মূল কথাই হলো, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতারও সীমা থাকবে। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষায় নতুন আইন—কতটা সুরক্ষা দিচ্ছে?</p>
<p>বাংলাদেশে ডিজিটাল যুগের বাস্তবতায় ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে Personal Data Protection Ordinance, 2025-এর মাধ্যমে। এই অধ্যাদেশ ব্যক্তিগত তথ্যকে ব্যক্তির সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করার ভিত্তি গ্রহণ করেছে এবং তথ্য সংগ্রহ, প্রক্রিয়াকরণ, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি কাঠামো তৈরি করেছে।</p>
<p>এটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন শেষ নয়। কারণ ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার আইন থাকলেই নাগরিক নিরাপদ হয়ে যায় না। আইন কতটা স্বাধীনভাবে প্রয়োগ হচ্ছে, রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলো কতটা জবাবদিহির মধ্যে রয়েছে এবং নাগরিক বেআইনি নজরদারির বিরুদ্ধে কী ধরনের প্রতিকার পাচ্ছেন—সেটিই আসল পরীক্ষা।</p>
<p>বর্তমান কাঠামো নিয়ে অধিকার ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলোরও উদ্বেগ রয়েছে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB) ২০২৬ সালে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা অধ্যাদেশের কিছু বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, অপরাধ প্রতিরোধ, জাতীয় নিরাপত্তা ও জনস্বার্থের মতো বিস্তৃত ভিত্তিতে ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের সুযোগ অপব্যবহারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।</p>
<p>অর্থাৎ আইন হয়েছে—এটি ইতিবাচক; কিন্তু আইনের ক্ষমতার সীমা ও স্বাধীন তদারকি আরও গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p><strong>রাষ্ট্র কি নাগরিকের তথ্যের মালিক?</strong><br>আধুনিক তথ্য-অধিকার ও ডেটা-সুরক্ষা ধারণায় রাষ্ট্র নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের অবাধ মালিক নয়।<br>বাংলাদেশের নতুন ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ দর্শন হলো—ব্যক্তিগত তথ্যের ওপর ব্যক্তির অধিকার ও নিয়ন্ত্রণকে স্বীকৃতি দেওয়া। সরকারের ২০২৬ সালের একটি নীতিগত নথিতেও Personal Data Protection Ordinance, 2025-এর অধীনে নাগরিকের access, correction, erasure ও consent withdrawal-এর মতো অধিকারগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে।</p>
<p>এটি রাষ্ট্রের জন্য একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন। রাষ্ট্র নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে আইনের প্রয়োজনে সেই তথ্যের অর্থ এই নয় যে রাষ্ট্র সেটিকে রাজনৈতিক, ব্যক্তিগত বা প্রচারণামূলক উদ্দেশ্যে অবাধে ব্যবহার করতে পারবে। আজকের সরকার কি আগামীকাল নিরাপদ থাকবে? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।</p>
<p>বর্তমান সরকার যদি বলে—“আমরা নাগরিকের কল রেকর্ড অপব্যবহার করব না”—তাহলে সেটি রাজনৈতিক আশ্বাস হতে পারে। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে নাগরিকের অধিকার কোনো সরকারের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করা উচিত নয়।<br>কারণ সরকার পরিবর্তন হয়।<br>ক্ষমতার ব্যক্তি পরিবর্তন হয়।<br>রাজনৈতিক দল পরিবর্তন হয়।<br>কিন্তু আইন ও নাগরিকের মৌলিক অধিকার পরিবর্তিত হওয়া উচিত নয়। আজ যে সরকার ক্ষমতায় আছে, আগামীকাল সে সরকার ক্ষমতায় নাও থাকতে পারে। আজ যে কর্মকর্তা তথ্যের নিয়ন্ত্রণে আছেন, আগামীকাল তিনি হয়তো সেই পদে থাকবেন না।</p>
<p><strong>তাই প্রশ্ন হওয়া উচিত—</strong><br>বর্তমান সরকার ভালো থাকবে কি না?” নয়; বরং “যে সরকারই ক্ষমতায় আসুক, সে যাতে নাগরিকের গোপনীয়তা লঙ্ঘন করতে না পারে—সেই ব্যবস্থা কি আমরা করেছি?”<br>আমার মতে, এখানেই আমাদের বড় ঘাটতি।<br>কল রেকর্ড প্রকাশ কি সাংবাদিকতার স্বাধীনতা?</p>
<p><strong>এখানেও ভারসাম্য প্রয়োজন</strong><br>কোনো কল রেকর্ড হাতে এলেই সেটি প্রকাশ করা সাংবাদিকতার স্বাধীনতার অপরিহার্য অংশ নয়।<br>গণমাধ্যমের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তাও গুরুত্বপূর্ণ।<br>কোনো রেকর্ডে যদি দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, গুরুতর অপরাধ বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ অনিয়মের বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকে, তাহলে সেটি যাচাই করে জনস্বার্থে প্রকাশের প্রশ্ন উঠতে পারে।</p>
<p>কিন্তু একটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত কথোপকথন প্রকাশ করে কাউকে সামাজিকভাবে অপমান করা, রাজনৈতিকভাবে হেয় করা কিংবা ব্যক্তিগত জীবনকে জনসমক্ষে টেনে আনা সাংবাদিকতার দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—সেটিও বিবেচনা করা প্রয়োজন।</p>
<p><strong>জনস্বার্থ আর জনকৌতূহল এক নয়</strong><br>মানুষ কোনো বিখ্যাত ব্যক্তির ব্যক্তিগত কথোপকথন শুনতে আগ্রহী হতে পারে। কিন্তু মানুষের কৌতূহল মেটানো আর জনস্বার্থ রক্ষা করা একই বিষয় নয়।<br>সাংবাদিকতার শক্তি তথ্য প্রকাশে যেমন, তেমনি কোন তথ্য প্রকাশ না করা উচিত—সেই নৈতিক বিচারবোধের মধ্যেও।</p>
<p><strong>আন্তর্জাতিক আইন কী বলে?</strong><br>আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে বিষয়টি আরও স্পষ্ট।<br>বাংলাদেশ International Covenant on Civil and Political Rights (ICCPR)-এ ৬ সেপ্টেম্বর ২০০০ তারিখে যোগ দেয়; এটি বাংলাদেশের জন্য ৬ ডিসেম্বর ২০০০ থেকে কার্যকর হয়।<br> <br>ICCPR-এর ১৭ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত জীবন, পরিবার, বাসস্থান বা correspondence বা যোগাযোগের ওপর arbitrary বা unlawful interference করা যাবে না। একই সঙ্গে ব্যক্তির সম্মান ও সুনামের বিরুদ্ধে বেআইনি আক্রমণ থেকেও আইনি সুরক্ষার কথা বলা হয়েছে।</p>
<p>এখানে দুটি শব্দ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ—<br>Unlawful— অর্থাৎ বেআইনি হস্তক্ষেপ করা যাবে না; Arbitrary— অর্থাৎ আইন থাকলেও তা যেন খামখেয়ালি, অযৌক্তিক বা অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রয়োগ না হয়।</p>
<p>জাতিসংঘের মানবাধিকার কাঠামোও ডিজিটাল যুগে ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারকে মৌলিক মানবাধিকারের অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর বলছে, অনলাইন ও অফলাইন—উভয় ক্ষেত্রেই privacy মানবাধিকার ভোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক সমাজের অন্যতম ভিত্তি।</p>
<p>জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদও ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তার অধিকার নিয়ে পৃথক রেজল্যুশন গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ প্রযুক্তি যত উন্নত হবে, নাগরিকের গোপনীয়তার প্রশ্ন ততই গুরুত্বপূর্ণ হবে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বনাম নাগরিকের গোপনীয়তা—সমাধান কোথায়? রাষ্ট্র বলবে—জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার জন্য নজরদারি প্রয়োজন। নাগরিক বলবে—আমার ব্যক্তিগত জীবন রক্ষা করতে হবে। দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<blockquote>
<p><span style="font-size: 14pt;">সমাধান হলো না রাষ্ট্রকে সম্পূর্ণ অন্ধ করে দেওয়া, আবার নাগরিকের ওপর রাষ্ট্রকে সীমাহীন ক্ষমতা দিয়ে দেওয়া নয়। সমাধান হলো— আইন + বিচারিক অনুমোদন + প্রয়োজনীয়তা + আনুপাতিকতা + সময়সীমা + স্বাধীন তদারকি + জবাবদিহি।</span></p>
</blockquote>
<p>কোনো নাগরিকের ফোনে নজরদারি প্রয়োজন হলে তার কারণ লিখিতভাবে নির্ধারণ করতে হবে। যতটা তথ্য প্রয়োজন, ততটাই সংগ্রহ করতে হবে। প্রয়োজন শেষ হলে তথ্যের ব্যবহার ও সংরক্ষণ বন্ধ করতে হবে। বেআইনি নজরদারি হলে নাগরিককে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।</p>
<p>আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—রাষ্ট্রীয় সংস্থার সংগৃহীত তথ্য রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি হতে পারবে না।<br>কল রেকর্ড ফাঁসের দায় কার? এখানে শুধু সরকার নয়, আরও কয়েকটি পক্ষের দায়িত্ব রয়েছে।</p>
<p>প্রথমত, রাষ্ট্রীয় সংস্থা বা আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানকে নিশ্চিত করতে হবে যে সংগৃহীত তথ্য কঠোরভাবে নিরাপদ থাকবে।<br>দ্বিতীয়ত, টেলিযোগাযোগ প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত প্রতিষ্ঠানগুলোরও তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রয়েছে।<br>তৃতীয়ত, কোনো কর্মকর্তা বা ব্যক্তি যদি বেআইনিভাবে রাষ্ট্রীয় তথ্য বাইরে দেন, তার বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।<br>চতুর্থত, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদেরও বুঝতে হবে—কোনো তথ্য পাওয়া মানেই সেটি প্রকাশ বা শেয়ার করার নৈতিক অধিকার পাওয়া নয়।</p>
<p>একটি ব্যক্তিগত কথোপকথন ভাইরাল করে দেওয়া একজন মানুষের সামাজিক মর্যাদা, পরিবার, পেশা এমনকি নিরাপত্তাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।</p>
<p><strong>ভবিষ্যতের জন্য কী ধরনের আইন দরকার?</strong><br>বাংলাদেশে এখন প্রয়োজন শুধু ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার আইন নয়; প্রয়োজন যোগাযোগের গোপনীয়তা ও রাষ্ট্রীয় নজরদারি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট, কঠোর এবং বিচারিকভাবে নিয়ন্ত্রিত কাঠামো।</p>
<p><strong>এমন পরিস্থিতে করণীয়</strong><br>১.আদালতের অনুমোদন ছাড়া নিয়মিতভাবে নাগরিকের ব্যক্তিগত যোগাযোগে নজরদারি করা যাবে না।<br>২.জরুরি পরিস্থিতিতে বিশেষ নজরদারি হলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচারিক পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক করতে হবে।<br>৩.নজরদারির সুনির্দিষ্ট কারণ ও সর্বোচ্চ সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে।<br>৪.যে উদ্দেশ্যে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, তার বাইরে অন্য কাজে তথ্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে হবে।<br>৫রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় নজরদারির তথ্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।<br>৬.বেআইনিভাবে কল রেকর্ড সংগ্রহ, সংরক্ষণ, হস্তান্তর বা প্রকাশের জন্য কার্যকর শাস্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে।<br>৭. তদন্ত শেষ হলে প্রয়োজনহীন ব্যক্তিগত তথ্য ধ্বংস করার বিধান থাকতে হবে।<br>৮.নাগরিককে তার ওপর বেআইনি নজরদারি হলে প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ পাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।<br>৯.নজরদারি ব্যবস্থার ওপর স্বাধীন বিচারিক ও সংসদীয় তদারকি থাকতে হবে। রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোর তথ্য ব্যবহারের বিষয়ে নিয়মিত স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির ব্যবস্থা থাকতে হবে।</p>
<p><strong>একটি রাজনৈতিক ঐকমত্য এখনই প্রয়োজন</strong><br>এই বিষয়টি কোনো আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত, এনসিপি কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের বিষয় নয়।<br>এটি রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের সম্পর্কের বিষয়।<br>আজ যে দল ক্ষমতায় আছে, আগামীকাল অন্য দল ক্ষমতায় আসতে পারে।<br>আজ যে ব্যক্তি বিরোধী দলে আছেন, আগামীকাল তিনি সরকারে যেতে পারেন।<br>আজ যে কর্মকর্তা ক্ষমতার কেন্দ্রে আছেন, আগামীকাল তিনি সাধারণ নাগরিক হয়ে যেতে পারেন।<br>তাই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি বিষয়ে ঐকমত্য প্রয়োজন—<br>সরকার বদলালেও নাগরিকের গোপনীয়তার অধিকার বদলাবে না।</p>
<p>আজ যদি অন্যের অধিকার রক্ষা না করি। বিগত সরকারের কোনো ব্যক্তি অপরাধ করে থাকলে তার বিচার অবশ্যই হতে হবে।<br>তার বিরুদ্ধে প্রমাণ থাকলে তদন্ত হোক। প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা হোক। অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি হোক।<br>কিন্তু সেই বিচার যেন এমন কোনো নজির তৈরি না করে, যেখানে ভবিষ্যৎ সরকারও বলতে পারে—“আগের সরকার করেছে, আমরাও করতে পারি।”<br>আইনের শাসনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হলো—আমরা আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের অধিকারও রক্ষা করতে পারি কি না।<br>আজ যার কল রেকর্ড প্রকাশ হচ্ছে, তিনি হয়তো ক্ষমতাবান ছিলেন। আগামীকাল তিনি ক্ষমতাহীন।<br>কিন্তু ক্ষমতা হারানোর সঙ্গে তার নাগরিক অধিকার শেষ হয়ে যায় না।<br>একইভাবে আজ যিনি সরকারপ্রধান, আগামীকাল তিনিও সাবেক সরকারপ্রধান হতে পারেন।<br>তাই আজকের প্রশ্ন শুধু—কার কল রেকর্ড প্রকাশ হলো?</p>
<p><strong>প্রশ্ন হওয়া উচিত—</strong><br>কেন প্রকাশ হলো? কে প্রকাশ করল? কী আইনি প্রক্রিয়ায় তা সংগ্রহ করা হয়েছিল? এর জনস্বার্থ কোথায়? এবং আগামীকাল একই কাজ যদি আমাদের সঙ্গে ঘটে, তখন আমাদের সুরক্ষা কোথায়?<br>গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো—ক্ষমতাবান ব্যক্তির জন্যও একই আইন, সাধারণ নাগরিকের জন্যও একই আইন।<br>রাষ্ট্রের শক্তি এই নয় যে সে নাগরিকের সব কথা শুনতে পারে।<br>রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি হলো— সে নাগরিকের ব্যক্তিগত কথা শুনতে সক্ষম হয়েও আইন ও নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করে না।</p>
<p>সরকার আসে, সরকার যায়।<br>ক্ষমতার কেন্দ্র বদলায়।<br>রাজনৈতিক পরিচয় বদলায়।<br>কিন্তু নাগরিকের অধিকার থেকে যায়।<br>তাই আজই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে—</p>
<p>আমরা কি এমন একটি রাষ্ট্র চাই যেখানে ক্ষমতাবানরা প্রয়োজনমতো নাগরিকের ব্যক্তিগত কথোপকথন সংগ্রহ ও প্রকাশ করতে পারবে, নাকি এমন একটি রাষ্ট্র চাই যেখানে অপরাধের বিচার হবে, দুর্নীতির তদন্ত হবে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা রক্ষা হবে—কিন্তু একই সঙ্গে প্রত্যেক নাগরিকের ব্যক্তিগত জীবন, যোগাযোগ ও তথ্যের গোপনীয়তাও আইনের কঠোর সুরক্ষায় থাকবে?</p>
<p>আমার বিশ্বাস, দ্বিতীয় পথটিই গণতন্ত্রের পথ।<br>কারণ— সরকার বদলায়, ক্ষমতা বদলায়, শাসক বদলায়; কিন্তু নাগরিকের অধিকার কোনো সরকারের দয়া নয়—এটি রাষ্ট্রের আইনি ও সাংবিধানিক দায়বদ্ধতা।</p>
<p>আর আজ যদি আমরা অন্যের গোপনীয়তা রক্ষার জন্য কথা না বলি, তাহলে আগামীকাল যখন আমাদের নিজেদের গোপনীয়তা জনসমক্ষে চলে আসবে, তখন প্রতিবাদ করার নৈতিক অধিকারও দুর্বল হয়ে যাবে।</p>
<p>আজ অন্যের কল রেকর্ড ফাঁসকে যদি আমরা স্বাভাবিক করে তুলি, কাল সেটিই আমাদের সবার জন্য স্বাভাবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা হয়ে যেতে পারে।<br>সুতরাং এখনই সময় একটি স্পষ্ট নীতি প্রতিষ্ঠার—<br>অপরাধের বিচার হবে, কিন্তু নাগরিকের গোপনীয়তার বিচার হবে না।<br>রাষ্ট্র নিরাপদ থাকবে, নাগরিকের অধিকারও নিরাপদ থাকবে।<br>সরকার বদলাবে, কিন্তু নাগরিকের মৌলিক অধিকার বদলাবে না।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong> সভাপতি, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বাংলাদেশের এআই ভবিষ্যৎ?</title>
<link>https://digibanglatech.news/186787</link>
<guid>https://digibanglatech.news/186787</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;strong&gt;অর্থবহ এআই সার্বভৌমত্বের জন্য বাংলাদেশের প্রয়োজন কম্পিউটিং সক্ষমতার পাশাপাশি&lt;/strong&gt;&lt;br&gt;&lt;span style=&quot;font-size: 14pt;&quot;&gt;স্বাধীন গণমাধ্যম, জনসম্পৃক্ততা, বাংলা ভাষাভিত্তিক প্রযুক্তি এবং শক্তিশালী জবাবদিহি&lt;/span&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x580_6a7d5ef41b8ba.jpg" length="130124" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 13 Aug 2026 11:07:04 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>সেমিকন্ডাক্টর, ক্লাউড, ডেটা সেন্টার, উন্নত কম্পিউটিং, বাংলাদেশ, এআই, প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক ক্ষমতা, ডিজিবাংলা, টেকনিউজ, প্রযুক্তি দুনিয়া</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্রুতই অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক ক্ষমতার নতুন অবকাঠামো হয়ে উঠছে। দেশগুলো প্রতিযোগিতা করছে সেমিকন্ডাক্টর, ক্লাউড, ডেটা সেন্টার, উন্নত কম্পিউটিং এবং দক্ষ মানবসম্পদের জন্য। একই সঙ্গে সরকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভাবছে, শক্তিশালী এআই ব্যবস্থাকে কীভাবে নিরাপদ, ন্যায়সংগত ও জবাবদিহিমূলক রাখা যায়।</p>
<p>বাংলাদেশের জন্য এই পরিবর্তন একই সঙ্গে সুযোগ ও ঝুঁকি।<br>আমাদের অবশ্যই ভাবতে হবে কম্পিউটিং সক্ষমতা, ডেটা শাসন, বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই, সাইবার নিরাপত্তা, মানবসম্পদ এবং বৈশ্বিক এআই শাসনে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে। কিন্তু এই আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন প্রায়ই আড়ালে থেকে যায়: গণমাধ্যমের ভূমিকা কী হবে?</p>
<p>এআই শাসন শুধু প্রযুক্তিবিদ, মন্ত্রণালয় বা কূটনীতিকদের বিষয় হতে পারে না। নাগরিকদের জানতে হবে, এআই তাদের চাকরি, শিক্ষা, কৃষি, ব্যাংকিং, সরকারি সেবা, নির্বাচন, তথ্যপ্রবাহ ও দৈনন্দিন জীবনকে কীভাবে বদলে দিচ্ছে।</p>
<p>তাই গণমাধ্যমকে এআই পরিবর্তনের শুধু দর্শক নয়, এআই শাসনের গণতান্ত্রিক অবকাঠামোর অংশ হিসেবে দেখতে হবে।</p>
<p><strong>সার্বভৌমত্ব শুধু GPU নয়</strong><br>এআই সার্বভৌমত্বের আলোচনায় সাধারণত প্রশ্ন ওঠে: চিপ কার হাতে, ডেটা সেন্টার কোথায়, ক্লাউড কে দিচ্ছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো পর্যাপ্ত কম্পিউটিং ক্ষমতা পাচ্ছে কি না।</p>
<p>এসব প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সার্বভৌমত্বকে শুধু GPU, সার্ভার ও মেগাওয়াটে মাপা যায় না।<br>বাংলাদেশ যদি প্রযুক্তি ব্যবহার করে, কিন্তু সেই প্রযুক্তি কী করছে, কার স্বার্থে কাজ করছে, কী তথ্য ব্যবহার করছে এবং ভুল হলে দায় কার, তা স্বাধীনভাবে বোঝা ও প্রশ্ন করার সক্ষমতা না থাকে, তাহলে সেই সার্বভৌমত্ব অসম্পূর্ণ।</p>
<p>এখানেই সাংবাদিকতার ভূমিকা।<br>গণমাধ্যমকে প্রশ্ন করতে হবে: সরকারি সংস্থা যে এআই ব্যবস্থা ব্যবহার করছে, তার মালিক কে? সরকারি ডেটা কোথায় রাখা হচ্ছে? সংবেদনশীল তথ্য দেশের বাইরে যাচ্ছে কি? অ্যালগরিদম কে পরীক্ষা করছে? স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্তে কোনো নাগরিক ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রতিকার কোথায়?</p>
<p>এসব কেবল প্রযুক্তির প্রশ্ন নয়। এগুলো ক্ষমতা, অধিকার ও জবাবদিহির প্রশ্ন।<br>প্রযুক্তির শব্দগুলোকে মানুষের ভাষায় রূপান্তর করতে হবে<br>সাধারণ মানুষ ‘কম্পিউট সার্বভৌমত্ব’, ‘ফাউন্ডেশন মডেল’, ‘অ্যালগরিদমিক জবাবদিহি’ বা ‘ডেটা গভর্ন্যান্স’ বুঝতে পারে না। ‘কম্পিউট সার্বভৌমত্ব’, ‘ফাউন্ডেশন মডেল’, ‘অ্যালগরিদমিক জবাবদিহি’ এবং ‘ডেটা গভর্ন্যান্স’ সাধারণ মানুষের কাছে দূরবর্তী।</p>
<p>গণমাধ্যম তথ্যগুলোকে মানুষের জীবনের প্রশ্নে রূপান্তর করে।<br>এআই কীভাবে পোশাকশ্রমিকের কাজ বদলাবে?<br>কৃষক বাজার ও আবহাওয়ার সঠিক তথ্য পাবে?<br>সরকারি সেবা সহজ হবে?<br>নজরদারি বাড়বে?<br>বাংলাভাষী মানুষ ইংরেজিভাষীর সমমানের এআই সেবা পাবে?<br>কোন কাজ হারাবে?<br>কোন নতুন কাজ তৈরি হবে?<br>এই প্রশ্নগুলো প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা সবার জন্য সমান করে।<br>উচ্ছ্বাস না, আতঙ্কও না।</p>
<p>এআই নিয়ে সংবাদে দুই রকমের প্রবণতা দেখা যায়। একদিকে মানুষ এআই নিয়ে উচ্ছ্বাস করে, যেন এআই এলে উন্নতি নিশ্চিত হবে। অন্যদিকে মানুষ এআই নিয়ে ভয় করে, যেন এআই এলে চাকরি, সাংবাদিকতা, মানুষের সিদ্ধান্ত শেষ হবে।</p>
<p>এখানে ব্যবহারকারীর তথ্য আছে: দুটিই ভুল।<br>এআইয়ের ফল নির্ভর করে এআই কীভাবে তৈরি, কীভাবে ব্যবহার এবং কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হয় তার ওপর।<br>যদি কোনো সরকারি সংস্থা এআই ব্যবহার করে দক্ষতা বাড়ার দাবি করে, গণমাধ্যমকে জিজ্ঞেস করতে হবে, প্রমাণ কী? যদি কোনো কোম্পানি অ্যালগরিদম পক্ষপাতহীন বলে, তাহলে জানাতে হবে কোম্পানি কীভাবে অ্যালগরিদম পরীক্ষা করেছে।</p>
<p>ব্যবহারকারীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এই অংশে আছে। সাংবাদিকতার মৌলিক প্রশ্ন এই অংশেও একই।<br>ক্ষমতা কার কাছে, এবং ক্ষমতা কীভাবে ব্যবহার করা হয়?<br>ব্যবহারকারীর তথ্য এখানে দেওয়া আছে:<br>ডিপফেকের সময়ে মূল সক্ষমতা পরীক্ষা করা হবে।<br>জেনারেটিভ এআই এখন বাস্তবের মতো ভুয়া ছবি, ভুয়া কণ্ঠ, ভুয়া ভিডিও এবং ভুয়া লেখা সৃষ্টি করে। নির্বাচন, রাজনৈতিক উত্তেজনা, সাম্প্রদায়িক সংঘাত বা দুর্যোগের সময় জেনারেটিভ এআই দ্বারা সৃষ্ট প্রভাব ভয়ানক হতে পারে।<br>নকল অডিও জনমত পরিবর্তন করতে পারে।<br>ভুয়া ছবি সহিংসতা উস্কে দিতে পারে।<br>ডিপফেক নারী সাংবাদিক বা মানবাধিকার কর্মীর বিরুদ্ধে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।</p>
<p><strong>ব্যবহারকারীর কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এখানে দেওয়া হল:</strong><br>তাই তথ্য যাচাই শুধু ফ্যাক্ট-চেকারদের কাজ না। সব সংবাদকক্ষকে তথ্য যাচাইকে মৌলিক কাজ হিসেবে নিতে হবে।</p>
<p>বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম ডিজিটাল তদন্তের জ্ঞান, সূত্র যাচাই, এআই নির্মিত কন্টেন্ট চেনা এবং প্রকাশে স্বচ্ছ নীতি চায়।<br>এআই যুগে গতি বাড়বে। যাচাইয়ের মূল্যও বাড়বে।<br>ঢাকার বাইরে এআই আলোচনা নিতে হবে<br>বাংলাদেশে এআই আলোচনা যদি ঢাকায় বেশি হয়, ইংরেজি ভাষায় হয় এবং প্রযুক্তিবিদদের উপর নির্ভর করে, তাহলে দেশের বড় অংশ বাদ পড়ে যাবে।</p>
<p>প্রযুক্তি-সুবিধাপ্রাপ্ত লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা এবং ডিপফেকের নতুন ঝুঁকি নারীদের জন্য বাড়ছে। গ্রামীণ জনগোষ্ঠী কৃষি এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে উপকার পেতে পারে, তবে ইন্টারনেট সংযোগ, উচ্চ খরচ এবং ভাষা বড় বাধা। প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সহায়ক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে বড় সুবিধা পেতে পারে, শর্ত হল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে।</p>
<p>কমিউনিটি মিডিয়া ও স্থানীয় গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ। কমিউনিটি মিডিয়া ও স্থানীয় গণমাধ্যম এআইকে সহজ বাংলায় ব্যাখ্যা করে, স্থানীয় অভিজ্ঞতা জাতীয় নীতিতে আনে, এবং মানুষে উদ্বেগ ও প্রত্যাশা তুলে ধরে।<br>এআইকে গণতান্ত্রিক করা মানে হল, যাদের জীবনে প্রযুক্তি পরিবর্তন হবে, সেসব মানুষকে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করা।</p>
<p><strong>বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই জনস্বার্থের প্রশ্ন</strong><br>অনেক এআই ব্যবস্থা এখনো ইংরেজিতে ভাল কাজ করে, বাংলায় কম। এআই ব্যবস্থার পার্থক্য যদি দীর্ঘ সময় থাকে, নতুন ডিজিটাল বৈষম্য দেখা দিতে পারে।<br>সরকারি চ্যাটবট ইংরেজিতে সঠিক, বাংলায় দুর্বল হলে, সরকারি চ্যাটবটের সমস্যা প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়, সমান অধিকার ও প্রবেশাধিকারের প্রশ্ন।<br>গণমাধ্যমকে জানতে হবে: বাংলা ডেটা কে তৈরি করছে? বাংলা ডেটায় আঞ্চলিক ভাষা ও উচ্চারণ আছে কি? বাংলা ডেটার মালিকানা কার? বাংলাদেশের গবেষকরা প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা পায় কি?<br>ভাষা এখানে সংস্কৃতি, অর্থনীতি ও প্রযুক্তি—এই সবের নিজস্ব নিয়ন্ত্রণের বিষয়ও।</p>
<p>সংবাদকক্ষেরও নিজস্ব এআই নীতি থাকা দরকার।<br>গণমাধ্যম অন্যদের এআই ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন করবে, তবে গণমাধ্যমকে নিজের দায়িত্ব নিতে হবে।<br>এআই ট্রান্সক্রিপশন, অনুবাদ, গবেষণা, ডেটা বিশ্লেষণ এবং নথি পর্যালোচনা সাংবাদিকদের সাহায্য করে। কিন্তু গোপন সূত্রের তথ্য যদি বাণিজ্যিক এআই প্ল্যাটফর্মে চলে যায়? এআই যদি ভুল তথ্য তৈরি করে? পাঠককে কখন জানাবে যে কনটেন্ট তৈরিতে এআই ব্যবহার করা হয়েছে?</p>
<p>প্রতিটি দায়িত্বশীল সংবাদমাধ্যমের Responsible AI Policy থাকা দরকার। Responsible AI Policy তে উৎসের গোপনীয়তা, তথ্য যাচাই, কপিরাইট, ডেটা সুরক্ষা, স্বচ্ছতা এবং মানবসম্পাদনার দায়িত্ব স্পষ্ট করা হবে।<br>নীতি হল: এআই সাংবাদিকতাকে সাহায্য করবে, কিন্তু সাংবাদিকের দায়িত্বের বদলে নয়।</p>
<p>প্রয়োজন হল 'Bangladesh Media and AI Governance Initiative'<br>Bangladesh Media and AI Governance Initiative গড়ে তোলা সম্ভব। Bangladesh Media and AI Governance Initiative-এ জাতীয় গণমাধ্যম, কমিউনিটি মিডিয়া, সাংবাদিকতা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ফ্যাক্ট-চেকার, নাগরিক সমাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তিবিদ এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠান যুক্ত হতে পারে।<br>ব্যবহারকারীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য এখানে:</p>
<p>সাংবাদিকদের AI literacy বাড়াবে, deepfake verification সক্ষমতা গড়ে তুলবে এবং newsroom AI guideline প্রণয়ন করবে। এরপর বাংলা ভাষায় AI সাংবাদিকতার উপকরণ তৈরি করবে এবং সরকারি AI ক্রয়, অ্যালগরিদম ও আন্তর্জাতিক AI শাসন নিয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা শক্তিশালী করবে। এভাবে সাংবাদিকতার গুণমান উন্নত হবে।</p>
<p><strong>শেষ কথা</strong><br>বাংলাদেশের এআই ভবিষ্যৎ শুধু ডেটা সেন্টারের সংখ্যা, GPU কেনা বা AI কোম্পানির সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না।<br>প্রকৃত পরীক্ষা হবে অন্য জায়গায়।<br>নাগরিকরা কি জানে প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার হয়?<br>সাংবাদিকরা কি শক্তিশালী এআইকে প্রশ্ন করে?<br>মানুষ কি স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে?</p>
<p>নারী, তরুণ, গ্রামীণ মানুষ ও প্রান্তিক গোষ্ঠী কি নীতি আলোচনায় অংশ নেয়?<br>কম্পিউটিং ক্ষমতা দরকার। ডেটা দরকার। অবকাঠামো দরকার। তবে গণতান্ত্রিক নজরদারিও ততটাই দরকার।<br>এআই যুগে গণমাধ্যমের কাজ কেবল প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ ঘটার পর খবর দেওয়া নয়।</p>
<p>বাংলাদেশের প্রযুক্তি ভবিষ্যৎ গড়তে সমাজকে সচেতন করা এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে সাহায্য করা এখন সাংবাদিকতার নতুন কাজ।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ </strong>প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)। </p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>উন্নয়ন না করের বোঝা?</title>
<link>https://digibanglatech.news/186785</link>
<guid>https://digibanglatech.news/186785</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;strong&gt;পরোক্ষ কর ও ভ্যাটের বৈষম্য: খেটে খাওয়া মানুষের ওপর প্রভাব এবং সম্পদের অসম বণ্টন&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x580_6a7d5a82839c2.jpg" length="102845" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 12 Aug 2026 11:48:20 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>একটি রাষ্ট্র কতটা ন্যায়ভিত্তিক, তার মূল চালিকাশক্তি হলো দেশের রাজস্ব নীতি। সাধারণ মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রাষ্ট্রের কর ব্যবস্থা হওয়া উচিত প্রগতিশীল। অর্থাৎ, যার আয় ও সম্পদ যত বেশি, সে তত বেশি কর দেবে; আর সেই টাকায় সামাজিক সুরক্ষা পাবে পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী।</p>
<p>কিন্তু বাংলাদেশের চিত্র উল্টো। একপাশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোর গল্প, অন্যপাশে রাজস্ব আদায়ের মূল ভরসা পরোক্ষ কর বা ভ্যাট (VAT)। এই পরোক্ষ কর আয় বৈষম্য বিবেচনা না করে রিকশাচালক, পোশাক শ্রমিক, কৃষক ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের ওপর এক অন্যায্য বোঝা হয়ে চেপে বসেছে। ঝুমবৃষ্টিতে ভিজে যাওয়া এক রিকশাচালকের আক্ষেপই এই ব্যবস্থার আসল সত্য উন্মোচন করে। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, সারাদিন কষ্ট করে রিকশা চালিয়ে যা পান, সেই টাকায় পরিবার নিয়ে একটু শান্তিতে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকা যায় না কেন?</p>
<p>সারাদিন হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেও যে মানুষ খাবারের নিশ্চয়তা পায় না, এক কেজি আটা বা বিস্কুট কিনতে তাকেও কোটিপতির সমান ভ্যাট দিতে হয়। অসম আয়ের দেশে পণ্যে সমান কর বসানোর এই নীতিগত অন্যায় এবং ধনীদের আয়কর ফাঁকির পরিণতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার সময় এসেছে।</p>
<p><strong>সবার জন্য সমান ভ্যাট কেন চরম অন্যায়?</strong><br>কর মূলত দুই ধরনের। প্রথমটি প্রত্যক্ষ কর বা আয়কর, যা আয়ের ওপর সরাসরি ধার্য হয়। অন্যটি পরোক্ষ কর বা ভ্যাট, যা বাজারে পণ্য বা সেবা কেনার সময় ক্রেতাকে মেটাতে হয়। একটি সাবান বা আটার প্যাকেটে সবার জন্য সমান ভ্যাট থাকা বাহ্যিকভাবে সমান নিয়ম মনে হলেও অর্থনৈতিক বিচারে তা চরম অন্যায্য। একে বলা হয় पश्चাৎমুখী কর ব্যবস্থা বা Regressive Tax System।</p>
<p>এর মূল কারণ আয়ের গাণিতিক তফাত। বাজারে আটা কিনতে গিয়ে ৫ টাকা ভ্যাট দিলে, মাসে ১০ লাখ টাকা আয় করা কোটিপতির জন্য তা আয়ের মাত্র ০.০০০৫ শতাংশ। কিন্তু দৈনিক ৫০০ টাকা আয় করা রিকশাচালকের জন্য এই ৫ টাকা তাঁর আয়ের সরাসরি ১ শতাংশ। উপরন্তু, নিম্নআয়ের মানুষকে তাঁর উপার্জনের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ টাকাই খাদ্য, ওষুধ ও প্রাত্যহিক খরচে ব্যয় করে ফেলতে হয়। ফলে তাঁর আয়ের প্রায় পুরোটাই ভ্যাটের আওতায় চলে আসে। অন্যদিকে ধনিক শ্রেণী আয়ের বড় অংশ ব্যাংকে সঞ্চয় করেন বা নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন, যা নিত্যপণ্যের ভ্যাটের আওতার বাইরে থেকে যায়।</p>
<p><strong>দিন এনে দিন খাওয়া মানুষের বাস্তব জীবন</strong><br>এই অন্যায্য বৈষম্যের শিকার সমাজের প্রতিটি মেহনতী মানুষ। কাকভেজা হয়ে সারাদিন রিকশার প্যাডেল ঘোরালেও দিনশেষে টিকে থাকার দুশ্চিন্তা মেটে না রিকশাচালক কিংবা দিনমজুরের। অসুস্থ হলে সরকারি হাসপাতালে ফ্রি ওষুধ বা বেড মেলে না, অথচ তাঁদের কেনা পণ্যের ভ্যাট নিয়মিত সরকারি কোষাগারে জমা হয়। একইভাবে, গার্মেন্টস শ্রমিকেরা মাসজুড়ে কায়িক শ্রম দিয়ে পাওয়া ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা মজুরির বড় অংশ চাল, ডাল, তেল, সাবান বা স্যানিটারি প্যাড কিনতে ভ্যাট হিসেবে দিয়ে দেন, অথচ মৌলিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে তাঁরা চিরকাল বঞ্চিত থাকেন।</p>
<p>একই করুণ অবস্থা প্রান্তিক কৃষকের। জমিতে সেচের ডিজেল, সার বা কীটনাশক কেনার সময় শুল্ক ও ভ্যাট দিলেও বাজারে ফসল বিক্রিতে ন্যায্য দাম পান না তাঁরা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলেও রাষ্ট্র থেকে বিনামূল্যে সার-বীজ পাওয়ার নিশ্চয়তা মেলে না। এমনকি নির্দিষ্ট আয়ের শিক্ষক ও চাকরিজীবীরাও এই চাপের বাইরে নন। ব্যাংকে বেতন আসার আগেই তাঁদের থেকে উৎসে আয়কর (TDS) কেটে নেওয়া হয়। এর ওপর বাজার খরচ, বিদ্যুৎ বিল ও মোবাইল রিচার্জে পদে পদে ভ্যাট গুনে তাঁরা নিঃস্ব হন। তাঁরা প্রত্যক্ষ কর ফাঁকি দিতে পারেন না, আবার ভ্যাট দিয়েও মানসম্মত কোনো সেবা পান না। অন্যদিকে তরুণ ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা দোকান বরাদ্দ, ট্রেড লাইসেন্স ও কাঁচামালের ভ্যাট দিয়ে ব্যবসা চালাতে হিমশিম খান, যেখানে বড় বড় শিল্পপতিরা প্রশাসনিক দাপটে বছরের পর বছর বিশেষ কর অবকাশ পান।</p>
<p><strong>কর ফাঁকি দেন ধনীরা, চাপ পড়ে আমজনতার ওপর</strong><br>জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রশাসনিক উপাত্ত পর্যালোচনা করলে রাজস্ব কাঠামোর এই সংকট স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বৈশ্বিক মানদণ্ডে একটি রাষ্ট্রের মোট রাজস্বের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ আসা উচিত ধনীদের প্রত্যক্ষ আয়কর থেকে। কিন্তু বাংলাদেশে মোট রাজস্বের প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ শতাংশই আসে পরোক্ষ কর, অর্থাৎ ভ্যাট ও আমদানি শুল্ক থেকে। বিপরীতে রাজস্বে প্রত্যক্ষ করের অবদান মাত্র ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। ১৭ কোটি মানুষের দেশে টিআইএনধারী প্রায় ১ কোটি হলেও প্রকৃতপক্ষে আয়কর বিবরণী জমা দেন মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ লাখ মানুষ, যা মোট জনসংখ্যার ১ শতাংশেরও কম। ফলে আমাদের কর-জিডিপি অনুপাত মাত্র ৭.৫ থেকে ৮ শতাংশে আটকে আছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম সর্বনিম্ন।</p>
<p>অন্যদের প্রতি এই অবিচার আরও গভীর হয় বাজেটে অসাধু উপায়ে অর্জিত কালো টাকা অল্প জরিমানায় বৈধ করার সুবিধায়। সাধারণ মানুষ কেনাকাটায় ভ্যাট দিচ্ছে, অথচ কর ফাঁকিবাজেরা ছাড় পাচ্ছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতিতে পণ্যের দাম বাড়লে নির্দিষ্ট শতাংশ হারের ভ্যাটের টাকার অঙ্কও স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে, যা মানুষকে দ্বিগুণ চাপে ফেলে। আবার ক্যাশলেস কেনাকাটা, মোবাইল ওয়ালেট বা ইএফডি মেশিনে মানুষ ভ্যাট দিলেও তদারকির অভাবে অনেক ব্যবসায়ী তা সরকারি খাত থেকে আত্মসাৎ করে। ডিজিটাল কমার্স খাতে ভোক্তা অধিকার ও নীতিগত উন্নয়ন নিয়ে গবেষণারত প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ডিজিটাল কমার্স রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি (CDCRA)-এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ডিজিটাল ইকোসিস্টেমে স্বচ্ছতা ও সঠিক ট্র্যাকিং না থাকায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ পরোক্ষ কর রাজস্ব থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হচ্ছে, আর ভোক্তারা সেবা না পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। 'ট্যাক্স জাস্টিস নেটওয়ার্ক'-এর মতে, কর ফাঁকি ও বিদেশে অর্থ পাচারে বাংলাদেশ প্রতি বছর বিপুল রাজস্ব হারায়। আর পিপিআরসি ও বিভিন্ন সংস্থার মতে, চিকিৎসাব্যয় ও পরোক্ষ করের চাপে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়ে পড়ছে।</p>
<p><strong>সাধারণ মানুষের করের টাকা যায় কোথায়?</strong><br>এই অন্যায্য রাজস্ব ব্যবস্থার ফলে দেশে আয় বৈষম্য পরিমাপক 'জিনি সহগ' বেড়ে প্রায় ০.৫০০-এর কাছাকাছি পৌঁছেছে, যার অর্থ দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সিংহভাগ জমা হচ্ছে গুটিকয়েক ধনীর পকেটে। উপরন্তু স্বাস্থ্যসেবার প্রায় ৬৮ শতাংশ খরচ সাধারণ মানুষকে নিজের পকেট থেকেই দিতে হয়। সাধারণ মানুষের ঘাম ঝরানো ভ্যাটের টাকা মূলত তিনটি জায়গায় চলে যায়। প্রথমত, সাধারণের ট্যাক্সের টাকায় প্রশাসনিক বিশাল বেতন-ভাতা মেটানো হয়, যার একটি অংশ দুর্নীতিবাজদের মাধ্যমে বিদেশে পাচার (Capital Flight) হয়। দ্বিতীয়ত, রাজস্বের বড় অংশ চলে যায় অসাধু ঠিকাদার ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক চক্রের হাতে। আর তৃতীয়ত, ভৌগোলিক বৈষম্যের কারণে বার্ষিক উন্নয়ন বরাদ্দের সিংহভাগ ব্যয় হয় ধানমণ্ডি, গুলশান, বনানী বা উত্তরার মতো অভিজাত এলাকার অবকাঠামো সাজাতে, যেখানে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়ার মেহনতী মানুষের ভাগ্যে জোটে সামান্যই।</p>
<p>টেলিভিশনের টকশোতে বুদ্ধিজীবীরা এসি রুমে বসে দেশপ্রেমের বুলি আওড়ে দিনশেষে সম্মানী পকেটে তোলেন। কিন্তু যে মেহনতী মানুষের করের টাকায় এই রাষ্ট্র ও অর্থনীতি ঘোরে, তাঁদের দৈনন্দিন বেঁচে থাকার হিসাব কোথাও মেলে না।</p>
<p><strong>বিশ্ব কীভাবে এই বৈষম্য সামলালো?</strong><br>বিশ্বের অনেক দেশই এই অন্যায্য কর কাঠামো বদলে বৈষম্য কমাতে সফল হয়েছে। স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলো, যেমন—ডেনমার্ক, নরওয়ে ও সুইডেনে প্রগতিশীল কর ব্যবস্থা কার্যকর। সেখানে ধনীদের আয়ের ওপর ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত প্রত্যক্ষ কর বসিয়ে সেই টাকায় প্রতিটি নাগরিককে বিনামূল্যে বিশ্বমানের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক নিরাপত্তা দেওয়া হয়।</p>
<p>নিউজিল্যান্ড ও উরুগুয়ের মতো দেশ চাল, আটা, ডাল ও জীবনরক্ষাকারী ওষুধে ভ্যাটের হার কমিয়ে ০ শতাংশ করেছে, আর সেই রাজস্ব ঘাটতি মেটাতে বিলাসবহুল পণ্য ও ধনীদের সম্পদের ওপর বাড়তি কর বসিয়েছে। এমনকি আমাদের প্রতিবেশী ভারতও ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থায় (আধার ও প্যান কার্ড) সমন্বয় করে প্রত্যক্ষ করদাতার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি করেছে এবং নিত্যপণ্যে ভ্যাট কমিয়ে বিলাসদ্রব্যে শুল্ক বাড়িয়েছে।</p>
<p><strong>পরিস্থিতি বদলাতে যা করা জরুরি</strong><br>বাংলাদেশের কর ব্যবস্থার এই সামাজিক অন্যায্যতা দূর করতে সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার জরুরি। প্রথমত, চাল, ডাল, আটা, ভোজ্যতেল, ওষুধ ও শিশুখাদ্যের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য থেকে পরোক্ষ কর বা ভ্যাট সম্পূর্ণ তুলে নিতে হবে এবং এর বদলে বিলাসবহুল গাড়ি, এসি, রিসোর্ট ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যে ভ্যাটের হার বাড়াতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভ্যাট তোলার সহজ পথ থেকে সরে এসে ধনীদের ওপর প্রগতিশীল আয়কর জোরদার করতে হবে এবং ১০ কোটি টাকার ওপর সম্পদে কড়া সম্পদ কর (Wealth Tax) আরোপ করতে হবে।</p>
<p>তৃতীয়ত, কর আদায় প্রক্রিয়া শতভাগ অনলাইন ও 'Faceless Assessment'-এর আওতায় আনতে হবে। সিডিসিআরএ (CDCRA)-এর পক্ষ থেকে ডিজিটাল অর্থনীতিতে সুনির্দিষ্ট কর ছাড় ও স্বচ্ছতার যে তাগিদ দেওয়া হচ্ছে, তা মেনে ইএফডি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং বাধ্যতামূলক করে ব্যবসায়ীদের ভ্যাট আত্মসাৎ বন্ধ করতে হবে। চতুর্থত, কালো টাকা সাদা করার প্রথা চিরতরে বাতিল করে সৎ করদাতাদের পুরস্কৃত করতে হবে। এবং পঞ্চমত, জনগণের ভ্যাটের টাকায় সবার জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা এবং সার্বজনীন সামাজিক সুরক্ষার সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা করতে হবে।</p>
<p><strong>সমাধান কোথায়?</strong><br>পণ্য কেনার সময় ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে ঢালাওভাবে একই ভ্যাট বসিয়ে রেখে "সবার জন্য সমান আইন" দাবি করাটা বাস্তবে এক ধরণের সামাজিক প্রতারণা। কারণ অসম উপার্জনের মানুষের ওপর সমান কর বসানো কখনোই সমতা হতে পারে না। যতক্ষণ না পর্যন্ত রাষ্ট্র ধনীদের আয় ও সম্পদ থেকে বড় অঙ্কের প্রত্যক্ষ কর আদায় করে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষের কল্যাণে তা ব্যয় করার নীতি গ্রহণ করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত সেই কাঁকভেজা রিকশাচালকের জীবনের চাকা ঘুরবে না—ঘুরবে কেবল ক্ষমতাবান বুর্জোয়া আর এলিটদের ভাগ্যের চাকা।</p>
<hr>
<p><b data-path-to-node="22,0,0" data-index-in-node="0">লেখক:</b><span> </span><i data-path-to-node="22,0,1" data-index-in-node="0">ই-কমার্স বিশ্লেষক ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, ই-ক্যাব </i></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>‘ডিজিটাল টুইন’ গতি দেবে ‘সিলিকন রিভার’ বাস্তবায়নে</title>
<link>https://digibanglatech.news/186473</link>
<guid>https://digibanglatech.news/186473</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x580_6a795402a1f61.jpg" length="106426" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 10 Aug 2026 09:37:09 +0600</pubDate>
<dc:creator>সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক</dc:creator>
<media:keywords>ডিজিটাল সিমিউলেশন, জিটাল টুইন এক্সপার্ট, ওয়েফার ফেব্রিকেশন প্ল্যান্ট, ফ্যাব ল্যাব</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হলো আমাদের তৈরি পোশাক (RMG) খাত। পোশাক শিল্প একটি কৃষিপ্রধান দেশকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান তৈরি পোশাক রফতানিকারকে পরিণত করেছে। কিন্তু ক্রমবর্ধমান মজুরি, প্রযুক্তির পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে এখন এই খাতের ওপর চাপ বাড়ছে।</p>
<p>বাংলাদেশ এখন এমন একটি শিল্পে নজর দিচ্ছে, যা দেখতে শার্টের বোতামের চেয়েও ছোট কিন্তু প্রভাব ও গুরুত্বে বহুগুণ শক্তিশালী—তা হলো ‘সেমিকন্ডাক্টর’ বা মাইক্রোচিপ।</p>
<p>‘সিলিকন রিভার’ ভিশনের ওপর ভর করে ২০৩০ সালের মধ্যে সেমিকন্ডাক্টর খাত থেকে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সময়োপযোগী। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), রোবটিক্স, বৈদ্যুতিক গাড়ি (EV), টেলিযোগাযোগ, চিকিৎসা সরঞ্জাম থেকে শুরু করে নরোবটিক্স, বৈদ্যুতিক গাড়ি—আধুনিক প্রতিটি শিল্পের মূল ভিত্তি হলো এই সেমিকন্ডাক্টর।</p>
<p><strong>আমাদের ভিত্তি ও সম্ভাবনা</strong><br>শুধু স্বপ্ন দেখে বৈশ্বিক চিপের বাজারে জায়গা করে নেওয়া যাবে না, তবে আমাদের একটি শক্ত সূচনা পয়েন্ট রয়েছে। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (BIDA) তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৭০০-রও বেশি অভিজ্ঞ চিপ ডিজাইনার রয়েছেন এবং প্রতি বছর কম্পিউটার ও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রায় ২০,০০০ গ্র্যাজুয়েট বের হচ্ছেন। এক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা উন্নয়নে ডিজিটাল টুইন আমাদের জন্য দারুণ একটা সুযোগ তৈরি করতে পারে। এটি ব্যবহারের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিং থেকে শুরু করে শিল্পকর্মেও আমাদের প্রকৌশলীরা বিশ্বমঞ্চে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবেন।</p>
<p>আমাদের শুরুতেই শত শত কোটি ডলার খরচ করে বিশাল 'ওয়েফার ফেব্রিকেশন প্ল্যান্ট' বা ফ্যাব্রিকেটর (Fab) তৈরির আগে ডিজিটাল টুইনে মনযোগী হতে হবে। কেননা, সব আধুনিক ম্যানুফ্যাকচারিং প্লান্ট এর ডিজিটাল টুইন দরকার। কিন্তু এখানে ডিজিটাল টুইন বিষয়ে যেমন শেখানো হয় না; তেমনি শিল্প ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার নেই । তাই সবচেয়ে আগে এটির ব্যবহার প্রয়োজন বোধ করছে সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি। তাই ছয় মাসের ট্রেনিং এর মাধ্যমে লাখ লাখ আইটি  প্রফেশনাল দেরকে পিভোট করানো সম্ভব।</p>
<p>একজন ডিজিটাল টুইন এক্সপার্ট বা ইঞ্জিনিয়ারের আয় বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত আকর্ষণীয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই পেশায় গড় বার্ষিক আয় প্রায় ১৩৯,০০০ থেকে ১৫৮,০০০ মার্কিন ডলার এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সিনিয়র পদে তা ১,৮০,০০০ থেকে ২,৮০,০০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। অন্যদিকে, ভারতে বার্ষিক গড় আয় প্রায় ১৫ লাখ থেকে ২৫ লাখ রুপি পর্যন্ত হয়ে থাকে।</p>
<p>অপরদিকে ‘ফ্যাব’ তৈরি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল, ঝুঁকিপূর্ণ এবং এর জন্য নিরবচ্ছিন্ন উচ্চ প্রযুক্তির পরিকাঠামো প্রয়োজন। তাই ফ্যাবের আগে আমাদের জন্য সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে তরুণ প্রকৌশলীদের দক্ষতাকে কাজে লাগানো। </p>
<p><strong>প্রথম ধাপেই ‘ডিজিটাল টুইন’ ব্যবহারের গুরুত্ব</strong><br>বাংলাদেশকে সেমিকন্ডাক্টর খাতের শিল্পায়নের প্রথম ধাপেই গবেষণা ও উন্নয়ন (R&amp;D) থেকে শুরু করে পোস্ট-প্রোডাকশন এবং ভোক্তাদের অভিজ্ঞতা জানার জন্য ডিজিটাল টুইন-এ জোর দিতে হবে।</p>
<p>ডিজিটাল টুইন হলো কোনো বাস্তব পণ্য, যন্ত্র বা পুরো কারখানার একটি জীবন্ত এবং পরিবর্তনশীল ডিজিটাল প্রতিরূপ। এটি বাস্তব ও ডিজিটাল জগতকে একই সুতোয় বেধে ফেলে; ফলে বাস্তবে চিপ বা প্রোটোটাইপ তৈরির আগেই ডিজিটাল মডেলে তা সিমিউলেশন, টেস্ট এবং অপটিমাইজ করা সম্ভব হয়।</p>
<p><strong>ডিজিটাল টুইন ব্যবহারের সরাসরি সুবিধা</strong><br>ঝুঁকি ও খরচ হ্রাস: বাস্তবে চিপ বানানোর আগেই ডিজিটাল মডেলে পরীক্ষা করা যায় বলে কোটি টাকার শারীরিক প্রোটোটাইপ তৈরির খরচ ও ঝুঁকি বেঁচে যায়।<br>প্রথমবারেই নিখুঁত ফলাফল: চিপের ত্রুটি বা পারফরম্যান্স আগে থেকেই পূর্বাভাস করা যায়, ফলে পুনর্বার কাজ করার প্রয়োজন কমে।<br>উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি: সিস্টেমের ডাউনটাইম কমে, রক্ষণাবেক্ষণ সহজ হয় এবং ডিজাইনের সর্বোচ্চ পুনঃব্যবহার (Reuse) নিশ্চিত করা যায়।<br>ছোট থেকে শুরু করে বড় পরিসরে রূপান্তর: নতুন স্টার্টআপ এবং গবেষকরা ডিজিটাল সিমিউলেশনের মাধ্যমে ছোট স্কেলে কাজ শুরু করে ধীরে ধীরে বড় পরিসরে যেতে পারেন।</p>
<p><strong>বাস্তবায়নযোগ্য অ্যাকশন প্ল্যান</strong><br>এই ভিশনকে বাস্তবে রূপ দিতে সুনির্দিষ্ট ৫টি স্তম্ভে কাজ করতে হবে:<br><strong>১. দক্ষ মানবসম্পদ ও ডিজিটাল অবকাঠামো</strong>: ভিএলএসআই (VLSI), মাইক্রোইলেকট্রনিক্স এবং ইডিএ (EDA) কোর্সের আধুনিকায়ন। শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপদের জন্য যৌথ উদ্যোগে ‘ডিজিটাল টুইন ও ইডিএ সিমুলেশন ল্যাব’ স্থাপন করা, যাতে তারা ব্যয়বহুল সফ্টওয়্যারগুলো সহজে ব্যবহার করতে পারে।</p>
<p><strong>২. নীতি ও অবকাঠামোগত নিশ্চয়তা:</strong> বাজেটে ঘোষিত কাঁচামাল আমদানিতে ১% ডিউটি এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতির সুবিধা লাল ফিতার দৌরাত্ম্য মুক্ত করে দ্রুত কার্যকর করা। একইসঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, দ্রুতগতির ডাটা করিডোর, শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা এবং মেধা সম্পদ সুরক্ষা (IP Protection) নিশ্চিত করা।</p>
<p><strong>৩. আঞ্চলিক বাস্তবতা ও নিজস্ব অবস্থান তৈরি: </strong>ভারত তাদের সেমিকন্ডাক্টর খাতে প্রায় ১৯ বিলিয়ন ডলার (১.৬ লাখ কোটি রুপি) বিনিয়োগ করছে। ভারত বা তাইওয়ানের সাথে সরাসরি প্রতিযোগিতায় না গিয়ে বাংলাদেশের উচিত চিপ ডিজাইন, ডিজিটাল টুইন সিমিউলেশন, ভেরিফিকেশন এবং পরবর্তীতে অ্যাসেম্বলি ও টেস্টিং (ATP) খাতে প্রাধান্য দেওয়া। </p>
<p><strong>৪. পোস্ট-প্রোডাকশন টেস্টিং, প্যাকেজিং ও গ্রাহক মতামত মূল্যায়ন:</strong> চিপ ডিজাইনে দক্ষতা অর্জনের পর ধীরে ধীরে সেমিকন্ডাক্টর অ্যাসেম্বলি, টেস্টিং এবং প্যাকেজিং (ATP/OSAT) শিল্পে প্রবেশ করে আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইনে নিজস্ব অবস্থান বড় করা। এরপর অ্যাসেম্বলি ও টেস্টিংয়ে রূপান্তর করা সম্ভব হয়।<br><strong>৫. সার্বিক লাইফসাইকেল পর্যবেক্ষণ:</strong> বাজারে চিপ ছাড়ার পর ব্যবহারকারীর বাস্তব অভিজ্ঞতা এবং পারফরম্যান্স ডেটা ডিজিটাল টুইনের মাধ্যমে রিয়েল-টাইমে সংগ্রহ করা। সেই তথ্য পুনরায় আরএন্ডডি (R&amp;D) ও পরবর্তী চিপ ডিজাইনে ব্যবহার করে সেমিকন্ডাক্টরের মান নিরবচ্ছিন্নভাবে উন্নত করা।</p>
<p><strong>স্বপ্ন থেকে বাস্তবায়নে</strong><br>এক বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা কেবল একটি সংখ্যা নয়, এটি আমাদের জাতীয় দক্ষতার পরীক্ষা। পোশাক খাত সফল হয়েছিল কারণ আমরা দশকের পর দশক ধরে এর চারপাশে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম তৈরি করেছি। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পেও ঠিক একই রকম ধৈর্য, নিখুঁত পরিকল্পনা ও প্রযুক্তিগত দূরদর্শিতা প্রয়োজন।</p>
<p>‘সিলিকন রিভার’ ভিশন অবশ্যই অর্জন যোগ্য। আসল চ্যালেঞ্জ হলো বৈশ্বিক প্রযুক্তির সাপ্লাই চেইনে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে আমরা ডিজিটাল-ফার্স্ট এই কঠিন কাজগুলো কতটা দক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন করছি।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ </strong>প্রকাশক, ডিজিবাংলা, সম্পাদক, সারবাংলা, উদ্যোক্তা ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি, আইএসপিএবি</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>তথ্যযুদ্ধের ভবিষ্যৎ, বাংলাদেশের করণীয় এবং নাগরিকের দায়িত্ব</title>
<link>https://digibanglatech.news/186392</link>
<guid>https://digibanglatech.news/186392</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x_6a6f385f6d0e8.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 08 Aug 2026 14:20:07 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>একসময় ধারণা করা হয়েছিল তথ্যপ্রযুক্তির বিকাশ গণতন্ত্রকে সংহত করবে এবং নাগরিক অংশগ্রহণ বাড়াবে। তবে ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের বৈশ্বিক অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে যে, এই প্রযুক্তিকেই যখন সংগঠিত অপপ্রচার ও কৃত্রিম জনমত তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তখন তা গণতন্ত্রের জন্য এক অভূতপূর্ব ঝুঁকি তৈরি করে। তথ্যযুদ্ধ আর ভবিষ্যতের কোনো আশঙ্কা নয়, এটি আমাদের বর্তমান বাস্তবতা।</p>
<h3><span style="font-size: 10pt;">১. আধুনিক তথ্যযুদ্ধের প্রকৃতি ও বট বাহিনীর মেকানিজম</span></h3>
<p><strong>মাল্টি-লেয়ার্ড ডিজিটাল অ্যাটাক:</strong> বট বাহিনী কেবল স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার নয়; এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), ট্রল নেটওয়ার্ক, ভুয়া অ্যাকাউন্ট, স্পনসরড ডিজিটাল ক্যাম্পেইন ও অ্যালগরিদমের সমন্বয়ে গঠিত এক জটিল ব্যবস্থা।</p>
<p><strong>অ্যালগরিদমকে বিভ্রান্ত করা:</strong> সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মূল চালিকাশক্তি হলো ইউজার এঙ্গেজমেন্ট। বট বাহিনী হাজারো ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে একই বার্তা ছড়িয়ে কৃত্রিম সক্রিয়তা (Artificial Engagement) তৈরি করে, যা অ্যালগরিদমকে বিভ্রান্ত করে বিষয়টিকে প্রকৃত ব্যবহারকারীদের কাছে ভাইরাল করে দেয়।</p>
<p><strong>ব্যক্তিভিত্তিক মনস্তাত্ত্বিক টার্গেটিং (Hyper-Personalized Targeting): </strong>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারকারীর রাজনৈতিক মতাদর্শ, সংবেদনশীলতা ও ভাষার ব্যবহার বিশ্লেষণ করে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন ভিন্ন বার্তা তৈরি করতে পারে। ফলে প্রতিটি নাগরিক আলাদা আলাদা ডিজিটাল প্রভাব অভিযানের লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন।</p>
<h3><span style="font-size: 10pt;">২. বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও বিদ্যমান ঝুঁকি</span></h3>
<p>বাংলাদেশ দ্রুত বর্ধনশীল ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর দেশ। এখানে মোবাইল ফোননির্ভর সংবাদ গ্রহণের প্রবণতা বেশি হওয়ায় যেকোনো গুজব বা অসম্পূর্ণ তথ্য দ্রুত দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ে:</p>
<p><strong>সামাজিক ও আইনশৃঙ্খলা সংকট:</strong> কোনো ঘটনা বা কনটেন্ট ভাইরাল হওয়ার পর তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই জনমত গড়ে ওঠে। এর ফলে ব্যক্তি সামাজিকভাবে হেনস্তার শিকার হন, প্রতিষ্ঠান প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে।</p>
<p><strong>অপূরণীয় ক্ষতি:</strong> পরবর্তীতে তথ্যের সত্যতা প্রকাশিত হলেও প্রাথমিক ধাক্কায় যে সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষতি হয়, তা আর পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয় না।</p>
<h3><span style="font-size: 10pt;">৩. অংশীদারদের ভূমিকা ও কৌশলগত রূপরেখা</span></h3>
<p>তথ্যযুদ্ধ মোকাবিলায় কেবল আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।</p>
<p>```<br>                         [ রাষ্ট্র ও সরকার ]<br>                    (দ্রুত ও সত্য তথ্য পরিবেশন)<br>                                 │<br>     ┌───────────────────────────┼───────────────────────────┐<br>     ▼                           ▼                           ▼<br>[ গণমাধ্যম ]               [ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ]         [ প্রযুক্তি কোম্পানি ]<br>(ফ্যাক্ট-চেকিং ও কন্টেন্ট)   (ডিজিটাল সাক্ষরতা শিক্ষা)   (সমন্বিত আচরণ শনাক্তকরণ)<br>     │                           │                           │<br>     └───────────────────────────┼───────────────────────────┘<br>                                 ▼<br>                        [ সচেতন সচেতন নাগরিক ]<br>                     (ডিজিটাল যুগের মূল প্রতিরক্ষা)</p>
<p>```</p>
<p><strong>৩.১. রাষ্ট্রের ভূমিকা</strong></p>
<p><strong>তথ্যশূন্যতা দূরীকরণ:</strong> তথ্যের শূন্যতা বা গ্যাপ তৈরি হলেই সেখানে গুজবের উৎপত্তি হয়। রাষ্ট্র ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মূল কাজ হবে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় দ্রুত, সঠিক ও স্বচ্ছ তথ্য জনসম্মুখে আনা।</p>
<p><strong>প্রযুক্তিগত সমন্বয়: </strong>আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে সমন্বিত অপ্রামাণিক কার্যকলাপ (Coordinated Inauthentic Behavior) দ্রুত শনাক্ত ও অপসারণের সক্ষমতা বাড়ানো।</p>
<p><strong>৩.২. গণমাধ্যমের দায়িত্ব</strong></p>
<p><strong>ফ্যাক্ট-চেকিং ও যাচাইকরণ:</strong> ভাইরাল হওয়া কোনো বিষয়ই স্বয়ংস্ক্রিয়ভাবে সংবাদ হতে পারে না। একাধিক নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে নিশ্চিত হয়ে এবং ঘটনার সঠিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে।</p>
<p><strong>প্রতিরক্ষামূলক সাংবাদিকতা: </strong>বর্তমান যুগে সাংবাদিকতার ভূমিকা কেবল খবর দেওয়া নয়, বরং বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে প্রথাগত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা।</p>
<p><strong>৩.৩. শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়ন</strong></p>
<p><strong>ডিজিটাল সাক্ষরতা (Digital Literacy):</strong> ডিজিটাল সাক্ষরতা এখন আর বিলাসিতা নয়, এটি নাগরিকের মৌলিক দক্ষতা।</p>
<p><strong>কারিকুলামে সংযোজন: </strong>শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট চিহ্নিতকরণ, ছবি/ভিডিওর উৎস যাচাই এবং অ্যালগরিদমের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তবসম্মত শিক্ষা দিতে হবে।</p>
<h3><span style="font-size: 10pt;">৪. নাগরিকের দায়িত্ব: সবচেয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা</span></h3>
<p>প্রযুক্তি বা কঠোর আইন দিয়ে তথ্যযুদ্ধ থামানো অসম্ভব; তথ্যসচেতন নাগরিকই এর সবচেয়ে কার্যকর ঢাল।</p>
<ul>
<li><strong>যাচাই না করে শেয়ার না করা: </strong>কোনো আবেগীয় বা বিতর্কিত তথ্য দেখার সাথে সাথে শেয়ার বা প্রতিক্রিয়া না জানিয়ে তার উৎস যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তোলা।</li>
<li><strong>অযাচিত ছড়ানো বন্ধ করা:</strong> যাচাইহীন কনটেন্ট শেয়ার করলে নাগরিক না বুঝেই বট বাহিনীর এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহায়তা করে ফেলেন।</li>
<li><strong>তথ্যের ভোক্তা থেকে সচেতন নাগরিকে রূপান্তর: </strong>তথ্যের অন্ধ ভোক্তা না হয়ে তথ্যের সত্যতা ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তোলার মানসিকতা লালন করা।</li>
</ul>
<p>ডিজিটাল যুগে তথ্য কেবল জ্ঞানের মাধ্যম নয়, এটি ক্ষমতারও অন্যতম উৎস। বট বাহিনী ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিন দিন আরও নিখুঁত ও শক্তিশালী হবে। তবে রাষ্ট্র, গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নাগরিক সমাজ যদি একত্রে যুক্তিনির্ভর ও সচেতন চর্চা বজায় রাখে, তবে অদৃশ্য এই তথ্যযুদ্ধে সত্য ও জনস্বার্থের জয় নিশ্চিত করা সম্ভব।</p>
<hr>
<p><span><strong>লেখকঃ</strong> সভাপতি, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন</span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>কারিগরের নাম মুছে ফেলবেন না!</title>
<link>https://digibanglatech.news/186195</link>
<guid>https://digibanglatech.news/186195</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x_6a6f876a9ec69.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 07 Aug 2026 01:36:45 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর, কনসেপচুয়াল আর্কিটেক্ট, মেধার স্বীকৃতি, ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেক্ট্রাম, ন্যাশনাল সাইবার রেটিং সিস্টেম, কোয়ালিটি অব সার্ভিস বেঞ্চমার্কিং, রিভার্স ব্রেইন ড্রেন, নাগরিক সেবা, ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<ul>
<li><b data-path-to-node="17" data-index-in-node="3">নেপথ্যের কারিগরের স্বীকৃতি:</b> জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের মতো ঐতিহাসিক প্রকল্পের কনসেপচুয়াল আর্কিটেক্টের অবদানকে রাষ্ট্রীয়ভাবে মূল্যায়নের দাবি।</li>
<li><b data-path-to-node="17" data-index-in-node="156">টেলিকম ও সাইবার নিরাপত্তা সংস্কার:</b> ৭০০ মেগাহার্টজ গোল্ডেন স্পেক্ট্রাম উন্মুক্তকরণ এবং প্রফেসর ইউনূসের নির্দেশনায় তৈরি 'ন্যাশনাল সাইবার রেটিং সিস্টেম'-এর নেপথ্য বাস্তবায়নের ইতিহাস ও কৃতিত্বের অপলাপ। </li>
<li><b data-path-to-node="17" data-index-in-node="358">রিভার্স ব্রেইন ড্রেনের সংকট:</b> মেধার সঠিক মূল্যায়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি না দিলে দেশীয় ও প্রবাসী বিশেষজ্ঞরা দেশের জন্য কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। </li>
<li><b data-path-to-node="17" data-index-in-node="512">ডিজিটাল গভর্ন্যান্সের ক্ষতি:</b> 'নাগরিক সেবা' এবং ইন্টারঅপারেবিলিটি প্রজেক্টে কারিগরি জ্ঞানহীন হস্তক্ষেপের কারণে রাষ্ট্রীয় ক্ষতি ও প্রকল্পের মূল দর্শন বিচ্যুতির আশঙ্কা।</li>
</ul>
<p data-path-to-node="6">জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন হয়েছে। এই সময়োপযোগী ও ঐতিহাসিক উদ্যোগের জন্য মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। কিন্তু উদ্বোধনের আলোকচ্ছটায় একটি মুখ সেভাবে আলো পায়নি—যিনি এই জাদুঘরের কনসেপচুয়াল আর্কিটেক্ট (ভাবাগত স্থপতি)। এই স্বপ্নটাকে বাস্তবে রূপ দিতে যিনি দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, এমনকি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন, তিনি আড়ালেই রয়ে গেলেন। একজন স্থপতি বা পরিকল্পনাকার নিজের সৃষ্টিকে কতটা গভীরভাবে ধারণ করেন, তা ভাষায় প্রকাশ করা অসম্ভব। সৃষ্টির মূল কারিগরকে লাইমলাইটে বা সামনে না রাখাটা অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। শিল্পের কারিগরকে যথাযথ সম্মান দিলে কারও সম্মান কমে না।</p>
<p data-path-to-node="7">আমি জীবনের একটি বড় সময় বিভিন্ন বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে 'সলিউশন আর্কিটেক্ট' হিসেবে কাজ করেছি। তাই আমি জানি, একটি ভাবনা বা আইডিয়াকে কনসেপ্ট থেকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার প্রক্রিয়াটি কতটা একাকী লড়াইয়ের। আর সেই দীর্ঘ লড়াইয়ের শেষে কৃতিত্বের জায়গায় যখন কেবল নীরবতা উপহার মেলে, তখন সেই কষ্টটা আর ব্যক্তিগত থাকে না; তা একটি রাষ্ট্রের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতির সংকট হয়ে দাঁড়ায়।</p>
<p data-path-to-node="8">আজ দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় এক অর্জনের কথা মনে পড়ছে—ফোরজি ও ফাইভজি সেবার জন্য ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড উন্মুক্ত করার সেই কঠিন প্রক্রিয়া। টেলিনর, আজিয়াটা ও রবির সাথে দফায় দফায় জটিল দরকষাকষি, অর্থ মন্ত্রণালয়ে গিয়ে এই কাজের সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব বোঝানো, তরঙ্গ ফি নিয়ে বার্গেইন করে তা পাস করিয়ে আনা, ছয় মাসের কাজকে রাতদিন এক করে ছয় সপ্তাহে নামিয়ে আনা, এবং আদালতের রিট খারিজ করাতে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল ও অ্যাটর্নি জেনারেলের দপ্তরে ক্রমাগত ছোটাছুটি (এমনকি ৭০০ মেগাহার্টজ ব্লক করে রাখা স্বার্থান্বেষী মহল প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল)। এরপর পিটিডি ও বিটিআরসির মধ্যে সমন্বয় সাধন করা। সেই সময়ে গ্রামীণফোন যখন দুই হাজার তিনশত কোটি টাকার স্পেক্ট্রামে নতুন বিনিয়োগ নিয়ে এলো, তখন আমাদের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া হলো যে আমরা নাকি কাউকে বিশেষ সুবিধা (ফেভার) দিয়েছি। অথচ গত মাসে যখন এই ঘনবসতিপূর্ণ দেশে সোনার হরিণের মতো সেই 'গোল্ডেন স্পেক্ট্রাম' উদ্বোধন হলো, যা 'ডিপ-ইনডোর' কভারেজ হিসেবে ফোরজি-ফাইভজি সেবার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল, তখন কেউ একটিবারও মনে করল না যে নেপথ্যের সেই মানুষগুলোর প্রতি একটি ছোট ধন্যবাদ অন্তত প্রাপ্য ছিল।</p>
<p data-path-to-node="9">নির্বাচনী প্রস্তুতির সময় সাইবার যুদ্ধ, আর্থিক প্রতারণা প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সংস্থার সমন্বিত এস্কেলেশন নিয়ে গঠিত একটি কোর কমিটির হয়ে কাজ করার সুযোগ হয়েছিল আমার। সেই সময় নিয়মিত মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস স্যারকে ব্রিফ দিতাম। এক বৈঠকে স্যার নির্দেশ দিলেন, দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সাইবার সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য একটি রেটিং সিস্টেম বা মূল্যায়ন কাঠামো দাঁড় করাতে। স্যারের সেই নির্দেশনার আলোকেই আমরা একটি 'কোর স্কোরিং ও ওয়েটেড র‍্যাঙ্কিং' কাঠামো তৈরি করি। সেখানে চারটি প্রধান স্তম্ভ নির্ধারণ করা হয়েছিল: আইটি ও তথ্য-সুরক্ষা প্রশাসনের জন্য ২০ শতাংশ, অবকাঠামো ও অপারেশনসের জন্য ৩০ শতাংশ, সাইবার নিরাপত্তা ও ডেটা সুরক্ষার জন্য ৩০ শতাংশ, এবং ডিজিটাল সেবা ও ব্যবহারকারী পরিপক্বতার জন্য ২০ শতাংশ—যা পরিবর্তনযোগ্য (চেঞ্জেবল) একটি সেটআপ। আইসিটি বিভাগ থেকে বিসিসি এবং এনসিএসএ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই 'ন্যাশনাল রেটিং সিস্টেম' এর কাজ এগিয়ে নিয়েছিল এবং আমাদের প্রকৌশলীরা ইন-হাউজ এর সফল বাস্তবায়নও সম্পন্ন করেছিলেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি আমার শেষ কর্মদিবসেই এটি উদ্বোধনের কথা ছিল, নোটিশও জারি হয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনী প্রস্তুতি, হ্যান্ড-ওভার এবং 'নোট টু সাকসেসর লেটার' তৈরির চরম ব্যস্ততায় তা আর হয়ে ওঠেনি। গত সপ্তাহে যখন অবশেষে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হলো, তখন এই আইডিয়াটি কোথা থেকে এলো, কীভাবে এর বাস্তবায়ন শুরু হয়েছিল—সেই সামান্যতম প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিটুকুও দেওয়া হলো না।</p>
<p data-path-to-node="10">আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কাজের কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মানের 'টেলিকম কোয়ালিটি অব সার্ভিস (QoS) বেঞ্চমার্কিং' ডিজাইন করা হয়েছিল, যা প্রায় ছত্রিশটি কেপিআই (KPI) সমৃদ্ধ। আপলিংক পারফরম্যান্স, মোবিলিটি, শহর-গ্রাম মিশ্র এলাকা এবং মহাসড়কের মতো বাস্তব ব্যবহারিক দৃশ্যপট প্রথমবারের মতো এই কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। পাশাপাশি এনটিটিএন (NTTN) ও আইএসপি (ISP)-দের জন্যও আলাদা কেপিআই বেঞ্চমার্কিং দাঁড় করানো হয়েছিল; কারণ মোবাইল ও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের মানে বাংলাদেশ তখন নব্বইটিরও বেশি দেশের পেছনে অবস্থান করছিল। এই কাজটির খবর গণমাধ্যমে এসেছে ঠিকই, কিন্তু যাঁরা এর নেপথ্যে মূল কারিগর ছিলেন, তাঁদের নাম আসেনি। নিজের নাম বাদ পড়ুক, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু দেশ-বিদেশের যে শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা হাজার হাজার ডলার মূল্যের পেশাদার কাজ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করে দিলেন, তাঁদের নাম সামনে আনার ক্ষেত্রে আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্রের এত কার্পণ্য কেন?</p>
<p data-path-to-node="11">এখানেই মূল প্রশ্নটি আসে—এটি কোনো রাজনৈতিক প্রশ্ন নয়, এটি একটি গভীর কাঠামোগত ও সাংস্কৃতিক সংকট। 'রিভার্স ব্রেইন ড্রেন' বা যাঁরা দেশে কিংবা প্রবাসে থেকে দেশের জন্য নিজের মেধা ও শ্রম বিলিয়ে দিতে চান, তাঁদের আমরা কীভাবে উৎসাহিত করব, যদি ন্যূনতম রাষ্ট্রীয় বা প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতিটুকুও না মেলে? নাকি আমরা পরোক্ষভাবে ধরে নিচ্ছি যে দেশের উন্নয়নের জন্য আর কোনো দক্ষ মস্তিস্কের প্রয়োজন নেই? যিনি একটি প্রকল্পের প্রাথমিক ধারণা বা নকশা এঁকেছেন, তাঁর মেধা ও জ্ঞানকে মূল্যায়ন করতে এত দ্বিধা থাকা উচিত নয়। অন্তত জ্ঞান হস্তান্তরের (Knowledge Transfer) স্বার্থেও মূল স্থপতির সাথে একটি নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগের সেতু বজায় রাখা জরুরি।</p>
<p data-path-to-node="12">কিন্তু আমাদের বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। নীতিটা যেন এমন—"অমুক এটা আগে করেছিল, যেহেতু প্রচার হয়নি, তাই সেটা চেপে যাও বা ভিন্ন নামে নতুন করে ক্রেডিট নাও।" এভাবেই আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সেরা কাজগুলো স্থগিত হয়ে যায়, প্রকল্প প্রস্তাবে বদলে যায় নাম ও রূপরেখা। আর্কিটেক্টের মূল দর্শন, টেকনিক্যাল পাথওয়ে এবং রোডম্যাপ সঠিকভাবে হস্তান্তর না করে কাজ চালিয়ে গেলে দুটি ধারণার জন্ম হয়—হয় আপনি সবকিছু একাই বুঝে ফেলেছেন, অথবা আপনি আসলে কিছুই বুঝতে চান না, আপনার কেবল সস্তা কৃতিত্ব (Credit) নেওয়া দরকার।</p>
<p data-path-to-node="13">বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম সেরা একটি কাজ ছিল 'নাগরিক সেবা' প্রজেক্ট—যদি কেউ এর গভীরতা বুঝে থাকেন। ন্যাশনাল ইন্টারঅপারেবিলিটির মাধ্যমে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সেবাকে একটি এপিআই (API) ভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম এবং ডিজিটাল সার্ভিস এক্সচেঞ্জের আওতায় আনার রূপরেখা ছিল এটি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, 'নাগরিক সেবা' প্রজেক্টটি বর্তমানে স্থগিত। ইন্টার-অপারেবিলিটির ডিপিপিতে (DPP) এমন সব পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা এই প্রযুক্তি সম্পর্কে অভিজ্ঞতাহীন লোকজনের ইনপুটের কারণে ঘটছে। আর্কিটেকচারাল ফিলোসফি, টেকনিক্যাল পাথওয়ে এবং রোডম্যাপ সম্পর্কে ধারণা না রেখে কাজ করলে, এর প্রকৃত সুফল থেকে রাষ্ট্র ও জনগণ বঞ্চিত হবে।</p>
<p data-path-to-node="14">এটি কোনো অভিযোগ নয়, বরং একটি বিনীত অনুরোধ। মেধা, আইডিয়া, উদ্যোগ এবং শিল্পের সৃজনশীলতাকে সম্মান জানাতে শিখুন। একটি প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্র তখনই প্রকৃত অর্থে এগিয়ে যায়, যখন যিনি প্রথম রেখাটি টেনেছিলেন, তাঁর নামটিও ইতিহাসে সগৌরবে টিকে থাকে। জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের ফলকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস এবং সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ভাইয়ের নামের পাশাপাশি সেই নেপথ্যের মূল কনসেপচুয়াল আর্কিটেক্টের নামটিও অনায়াসে রাখা যেত। হার্ড কিংবা সফট—যেকোনো ক্রিয়েটিভ কাজে মূল আর্কিটেক্টকে সম্মান করুন। অন্যথায়, আগামী প্রজন্মের কারিগর, স্থপতি এবং উদ্ভাবকেরা প্রশ্ন তুলবে—রাতের পর রাত জেগে দেশের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার মূল্য কী? ফলাফলের ভাগীদার হওয়াটা বড় কথা নয়, কিন্তু মেধার স্বীকৃতি দিয়ে আগামী প্রজন্মের অনুপ্রেরণাকে সঞ্চারিত করাটাই রাষ্ট্রের আসল দায়িত্ব।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="14"><strong>লেখকঃ<span> </span></strong><span>প্রযুক্তিবিদ ও লেখক এবং সাবেক অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী</span></p>
<hr><hr>
<p data-path-to-node="14"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কি সত্যিই খরচ কমাতে পারবে?</title>
<link>https://digibanglatech.news/186094</link>
<guid>https://digibanglatech.news/186094</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x580_6a742b64bad54.jpg" length="123508" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 06 Aug 2026 01:39:03 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p class="western"><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">তৈরি পোশাক শিল্পে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই কি সত্যিই বড় আকারে খরচ কমাতে সক্ষম</span></span></span></span><span style="font-size: small;">? </span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">নাকি অর্থনৈতিক চাপের কারণে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে আড়াল করতে ’প্রযুক্তি’র দোহাই দেওয়া হচ্ছে</span></span></span></span><span style="font-size: small;">?</span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;"><span lang="ar-SA">সম্প্রতি হা</span></span></span><span style="font-size: small;">-</span><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;"><span lang="ar-SA">মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ কে আজাদ তার প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৭৫ হাজার কর্মীর মধ্য থেকে ১০ হাজার কর্মী কমানোর ঘোষণা দেওয়ার পর এই প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানান</span></span></span><span style="font-size: small;">, </span><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;"><span lang="ar-SA">দেশে প্রায় ৯ শতাংশ মুদ্রাস্ফীতির কারণে ব্যবসায়ীদের মজুরি ও অন্যান্য সুবিধা বাড়াতে হচ্ছে। অথচ বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের আন্তর্জাতিক ক্রেতারা পণ্যের দাম বাড়াতে রাজি নন।</span></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">তিনি আরও বলেন</span></span></span></span><span style="font-size: small;">, </span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">বৈশ্বিক ক্রেতারা এখন উৎপাদন খরচ কমাতে এবং জনবলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কারখানায় এআই ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর জন্য গার্মেন্টস লিকদের চাপ দিচ্ছেন।</span></span></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">এই ব্যাখ্যাটির গভীর বিশ্লেষণ প্রয়োজন। এআই উৎপাদনের নির্দিষ্ট কিছু ধাপে খরচ কমাতে পারে ঠিকই</span></span></span></span><span style="font-size: small;">, </span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">কিন্তু বাংলাদেশে এটি দ্রুত ও সফলভাবে কার্যকর করার পথে দুটি বড় বাধা রয়েছে</span></span></span></span><span style="font-size: small;">: </span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">দক্ষ জনবলের অভাব এবং উচ্চ প্রযুক্তি খরচ।</span></span></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><b>হ্যাঁ</b></span></span></span><b>, </b><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><b>এআই খরচ কমাতে পারে</b></span></span></span><b>, </b><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><b>তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে</b></span></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;"><span lang="ar-SA">এআই কোনো একটি একক যন্ত্র নয়। পোশাক তৈরির বিভিন্ন ধাপে এটি ভিন্ন ভিন্নভাবে কাজ করে।</span></span></span></p>
<ul>
<li>
<p><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;"><b>মান নিয়ন্ত্রণ </b></span></span></span></span><span style="font-size: small;"><b>(Quality Control):</b></span><span style="font-size: small;"> </span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">বাংলাদেশে অনেক কারখানায় এআই</span></span></span></span><span style="font-size: small;">-</span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">ভিত্তিক ত্রুটি শনাক্তকরণ পদ্ধতি ব্যবহার হচ্ছে। মানুষের চোখের চেয়ে ক্যামেরা দ্রুত সেলাই বা কাপড়ের ত্রুটি ধরতে পারে।</span></span></span></span></p>
</li>
<li>
<p><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;"><b>রক্ষণাবেক্ষণ </b></span></span></span></span><span style="font-size: small;"><b>(Maintenance):</b></span><span style="font-size: small;"> </span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">এআই সিস্টেম রিয়েল</span></span></span></span><span style="font-size: small;">-</span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">টাইমে মেশিনের কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করতে পারে। মেশিন কখন নষ্ট হতে পারে তা এটি আগেভাগেই বলে দিতে পারে। এতে কাজ বন্ধ থাকার সময় কমে এবং সার্বক্ষণিক মেশিন পাহারা দেওয়ার জন্য বাড়তি কর্মীর প্রয়োজন হয় না।</span></span></span></span></p>
</li>
<li>
<p><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;"><b>পরিকল্পনা </b></span></span></span></span><span style="font-size: small;"><b>(Planning):</b></span><span style="font-size: small;"> </span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">চাহিদা পূর্বাভাস এবং রিপোর্ট তৈরির কাজগুলো এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারে। এতে দাপ্তরিক কাজের জন্য বাড়তি লোকের প্রয়োজন কমে।</span></span></span></span></p>
</li>
</ul>
<p class="western"><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">তবে সেলাইয়ের কাজ এখনও মানুষের হাতের স্পর্শ এবং বিচার</span></span></span></span><span style="font-size: small;">-</span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">বুদ্ধির ওপর নির্ভরশীল হলেও কাটিং এবং ডিজাইনের ক্ষেত্রে এআই</span></span></span></span><span style="font-size: small;">-</span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">এর উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে।</span></span></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">অর্থাৎ</span></span></span></span><span style="font-size: small;">, </span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">উত্তরটি হলো </span></span></span></span><span style="font-size: small;">- </span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">হ্যাঁ</span></span></span></span><span style="font-size: small;">, ‘</span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">এআই খরচ কমাতে পারে’। কিন্তু এটি তখনই সম্ভব যখন কারখানাগুলো এটি সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারবে। আর এখানেই আসল প্রতিবন্ধকতাগুলো দেখা দেয়।</span></span></span></span></p>
<p><img src="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x_6a742b660a1f8.jpg" alt=""></p>
<p class="western"><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Nirmala UI, sans-serif;"><b>প্রথম</b></span><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><b> </b></span><span style="font-family: Nirmala UI, sans-serif;"><b>বাধা</b></span></span></span><b>: </b><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Nirmala UI, sans-serif;"><b>ইঞ্জিনিয়ারের</b></span><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><b> </b></span><span style="font-family: Nirmala UI, sans-serif;"><b>অভাব</b></span><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><b> </b></span><span style="font-family: Nirmala UI, sans-serif;"><b>নয়</b></span></span></span><b>, </b><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Nirmala UI, sans-serif;"><b>অভাব</b></span><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><b> ‘</b></span><span style="font-family: Nirmala UI, sans-serif;"><b>সমন্বিত</b></span><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><b> </b></span><span style="font-family: Nirmala UI, sans-serif;"><b>দক্ষতার</b></span><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><b>’</b></span></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;"><span lang="ar-SA">অনেকেই মনে করেন বাংলাদেশে এআই প্রতিভার অভাব আছে। এটি সঠিক নয়। বাংলাদেশে প্রচুর দক্ষ সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার রয়েছেন। আসল সমস্যা হলো দুটি ভিন্ন খাতের সমন্বয় ঘটানো।</span></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">একজন সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার এআই মডেল তৈরি করতে পারেন। কিন্তু সেই মডেলটি তখনই কার্যকর হবে যখন এটি জানবে কারখানার ফ্লোরে সেলাই বা কাটিংয়ের কাজগুলো আসলে কীভাবে হয়। এই জ্ঞান কোডারদের নেই</span></span></span></span><span style="font-size: small;">, </span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Aptos, sans-serif;"><span style="font-size: small;">বরং এটি আছে কারখানা ব্যবস্থাপক বা টেকনিশিয়ানদের কাছে।</span></span></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">বর্তমানে বাংলাদেশে এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম যাদের পোশাক উৎপাদন এবং এআই </span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">- </span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">উভয় বিষয়েই গভীর জ্ঞান আছে। আর এটিই এই খাতের সবথেকে বড় বাধা বা ‘বটলনেক’।</span></span></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">এক্ষেত্রে একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকে যায়</span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">: </span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;"><b>প্রশিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেবে কে</b></span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;"><b>?</b></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;"><span lang="ar-SA">কারখানায় এআই ব্যবহারের আগে ইঞ্জিনিয়ারদের বুঝতে হবে পোশাক শিল্প কীভাবে চলে। এই সমন্বিত জ্ঞান দেওয়ার মতো প্রতিষ্ঠান বা প্রশিক্ষক বাংলাদেশে বর্তমানে নেই বললেই চলে।</span></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">সাবেক বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন </span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">(</span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">বিজিএমইএ</span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">) </span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">সভাপতি ফারুক হাসান এক সামিটে বলেছিলেন</span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">, </span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে। বর্তমান সভাপতি মাহমুদ হাসান খানও প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে বিজিএমইএ</span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">-</span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">র প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলো মূলত সাধারণ কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য তৈরি। এআই</span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">-</span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">এর জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষায়িত জনবল তৈরির কাঠামো সেখানে এখনো গড়ে ওঠেনি।</span></span></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Nirmala UI, sans-serif;"><span lang="ar-SA"><b>দ্বিতীয় বাধা</b></span></span><span style="font-family: Nirmala UI, sans-serif;"><b>: </b></span><span style="font-family: Nirmala UI, sans-serif;"><span lang="ar-SA"><b>প্রযুক্তি গ্রহণের উচ্চ ব্যয়</b></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">দক্ষ জনবল থাকলেও খরচ একটি বিশাল বাধা। এআই সিস্টেম মোটেও সহজলভ্য নয়। সরঞ্জাম কেনা</span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">, </span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">সফটওয়্যার লাইসেন্স এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য বড় অঙ্কের প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রয়োজন। হা</span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">-</span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">মীম গ্রুপের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য এই খরচ বহন করা সম্ভব হলেও</span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">, </span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">মাঝারি ও ছোট কারখানাগুলোর জন্য এটি অত্যন্ত কঠিন।</span></span></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;"><span lang="ar-SA">এর ফলে শিল্পে একটি বৈষম্য তৈরি হতে পারে। বড় গ্রুপগুলো আধুনিকায়নের সুযোগ পাবে</span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">, </span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;"><span lang="ar-SA">আর ছোট কারখানাগুলো শুধু টিকে থাকার লড়াইয়ে কর্মী ছাঁটাই করবে।</span></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">আরও একটি বড় সমস্যা হলো বৈদেশিক মুদ্রা। বেশিরভাগ এআই সফটওয়্যার ও হার্ডওয়্যার বিদেশি কোম্পানি থেকে কিনতে হয়। এর মানে হলো</span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">, </span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">স্থানীয় মুদ্রায় মজুরি দেওয়ার বদলে ডলার বা ইউরোতে লাইসেন্স ফি দিতে হবে। এ কে আজাদ যখন মুদ্রাস্ফীতির কথা বলছেন</span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">, </span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">তখন</span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;"><b> বিদেশি প্রযুক্তি আমদানি করা মানে হলো খরচ কমানো নয়</b></span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;"><b>, </b></span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;"><b>বরং খরচের খাত পরিবর্তন করা।</b></span></span></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Nirmala UI, sans-serif;"><span lang="ar-SA"><b>অমিমাংসিত প্রশ্ন</b></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">এ কে আজাদ হা</span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">-</span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">মীম গ্রুপের কর্মী ছাঁটাইয়ের কারণ হিসেবে ক্রেতাদের চাপের কথা বলেছেন। প্রমাণ বলছে যে</span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">, </span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">এআই নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে খরচ কমাতে পারে। কিন্তু তার আগে দুটি শর্ত পূরণ হওয়া প্রয়োজন। প্রথমত</span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">, </span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">বাংলাদেশে এমন বিশেষজ্ঞ প্রয়োজন যারা পোশাক উৎপাদন এবং এআই </span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">- </span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">উভয়টিই বোঝেন। দ্বিতীয়ত</span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">, </span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">কারখানাগুলোর জন্য এই প্রযুক্তি সহজে পাওয়ার সুযোগ থাকতে হবে।</span></span></span></span></p>
<p class="western"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;"><span lang="ar-SA">বর্তমানে এই দুটি শর্তের কোনোটিই পুরোপুরি পূরণ হয়নি। তাই প্রশ্ন থেকেই যায়</span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">: </span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;"><span lang="ar-SA">কর্মী ছাঁটাইয়ের পেছনে কি সত্যিই এআই</span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">-</span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;"><span lang="ar-SA">এর ভূমিকা রয়েছে</span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">, </span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;"><span lang="ar-SA">নাকি এটি স্রেফ একটি অজুহাত</span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">?</span></span></p>
<hr>
<p class="western"><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;"><b>লেখক</b></span></span></span></span><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;"><b>: </b></span></span><span style="font-family: Times New Roman, serif;"><span lang="ar-SA"><span style="font-family: Inter, Cambria, serif;"><span style="font-size: small;">টেক ইন্ডাস্ট্রি প্রফেশনাল ও সাবেক সাংবাদিক</span></span></span></span></p>
<hr>
<p class="western"><br><br></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>অসমাপ্ত ডিজিটাল বিপ্লব:  বাংলাদেশের সবার কাছে ইন্টারনেট পৌঁছাবে কীভাবে</title>
<link>https://digibanglatech.news/186040</link>
<guid>https://digibanglatech.news/186040</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;নেটওয়ার্কের আওতা বাড়লেই ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয় না। প্রয়োজন সাশ্রয়ী সংযোগ, মানসম্মত সেবা, উপযুক্ত ডিভাইস, ব্যবহারিক দক্ষতা এবং নাগরিক অধিকার রক্ষার নিশ্চয়তা&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x580_6a73317a2f3a6.jpg" length="129374" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 05 Aug 2026 00:16:36 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশের প্রায় সর্বত্র এখন মোবাইল নেটওয়ার্কের সংকেত দেখা যায়। শহরের বিপণিবিতান থেকে উপকূলের গ্রাম পর্যন্ত স্মার্টফোন মানুষের হাতে পৌঁছে গেছে। সরকারি সেবা, শিক্ষা, ব্যাংকিং, ব্যবসা, চাকরির আবেদন এবং ব্যক্তিগত যোগাযোগ ক্রমেই অনলাইননির্ভর হয়ে উঠছে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, বাংলাদেশের ডিজিটাল বিপ্লব প্রায় সম্পন্ন।</p>
<p>কিন্তু নেটওয়ার্কের মানচিত্র আর মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা এক নয়।<br>একজন কৃষক মোবাইল ফোনে সংকেত পেলেও প্রয়োজনের সময় আবহাওয়ার নির্ভরযোগ্য তথ্য নাও পেতে পারেন। একজন শিক্ষার্থীর স্মার্টফোন থাকলেও নিয়মিত অনলাইন ক্লাস করার মতো ডেটা কেনার সামর্থ্য নাও থাকতে পারে। একজন নারী পরিবারের ফোন ব্যবহার করতে পারলেও সেটির ওপর তাঁর ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ নাও থাকতে পারে। আবার কোনো প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ইন্টারনেটে যুক্ত হলেও ডিজিটাল সেবার নকশা তাঁর জন্য ব্যবহারযোগ্য না-ও হতে পারে।</p>
<p>এই বাস্তবতাই বলে দেয়, ইন্টারনেটের বিস্তার হয়েছে, কিন্তু ডিজিটাল বিপ্লব এখনো অসমাপ্ত।</p>
<p><strong>সংযোগ আছে, ব্যবহার নেই</strong><br>বিশ্বব্যাংকের ২০২৬ সালের তথ্যচিত্র “The Unfinished Digital Revolution: Expanding Internet Access” একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য সামনে এনেছে। নেটওয়ার্ক মানুষের বসতির কাছাকাছি পৌঁছানো আর মানুষ বাস্তবে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারা এক বিষয় নয়। ২০২৫ সালেও বিশ্বে প্রায় ২২০ কোটি মানুষ অফলাইনে ছিল। অবকাঠামোর ঘাটতি এর একটি কারণ, কিন্তু একমাত্র কারণ নয়। উচ্চ ব্যয়, ডিভাইসের অভাব, সীমিত ডিজিটাল দক্ষতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতির অনুপস্থিতিও মানুষকে অনলাইনের বাইরে রাখে। বিশ্বব্যাংক সতর্ক করেছে, প্রতিযোগিতা, দক্ষতা ও শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান ছাড়া ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যাপক সুফল না দিয়ে বৈষম্য আরও বাড়াতে পারে।</p>
<p><strong>বিশ্বব্যাংকের ইন্টারনেট অ্যাকসেস অ্যাটলাস</strong><br>বাংলাদেশের সাম্প্রতিক তথ্যেও একই চিত্র পাওয়া যায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪–২৫ অর্থবছরের আইসিটি জরিপ অনুযায়ী, দেশের ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। অর্থাৎ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সত্ত্বেও প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী এখনো ইন্টারনেট ব্যবহারের বাইরে।</p>
<p>আরও উদ্বেগজনক হলো ভৌগোলিক বৈষম্য। শহরে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ, অথচ গ্রামে মাত্র ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ। ব্যবধান ৩২ দশমিক ১ শতাংশ পয়েন্ট। একই জরিপে ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনের মালিকানা ৬৪ দশমিক ৪ শতাংশ এবং কম্পিউটার ব্যবহারের হার মাত্র ১১ দশমিক ৩ শতাংশ পাওয়া গেছে। বিবিএস জরিপের প্রতিবেদিত ফলাফল</p>
<p>এই ব্যবধান শুধু সংখ্যার নয়। এটি শিক্ষা, আয়, কর্মসংস্থান, সরকারি সেবা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের ব্যবধান।</p>
<p><strong>ইন্টারনেটের প্রকৃত মূল্য কোথায়</strong><br>ইন্টারনেটকে এখনো অনেক ক্ষেত্রে বিনোদন বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু আধুনিক রাষ্ট্র ও অর্থনীতিতে এটি প্রায় মৌলিক অবকাঠামোর ভূমিকা পালন করছে। একজন শিক্ষার্থী ভর্তি, বৃত্তি ও পাঠ্যসামগ্রী খুঁজে পায় অনলাইনে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ডিজিটাল পেমেন্ট গ্রহণ করেন, পণ্যের বাজার তৈরি করেন এবং সরবরাহকারীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখেন। প্রবাসী পরিবারের কাছে অর্থ পাঠান। কৃষক বাজারদর ও আবহাওয়ার খবর জানতে পারেন। নাগরিক সরকারি চাকরি, সামাজিক সুরক্ষা কিংবা স্বাস্থ্যসেবার তথ্য পান।</p>
<p>কিন্তু এই সেবাগুলো যখন “ডিজিটাল ফার্স্ট” হয়ে যায়, তখন অফলাইনে থাকা মানুষ শুধু ইন্টারনেট থেকে নয়, রাষ্ট্র ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ থেকেও বাদ পড়েন।</p>
<p>এই কারণে ইন্টারনেট সংযোগকে আর কেবল টেলিযোগাযোগ খাতের বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে দেখা যায় না। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জাতীয় উন্নয়ন প্রশ্ন।</p>
<p><strong>সিমকার্ড সংযোগের প্রমাণ নয়</strong><br>বাংলাদেশে ডিজিটাল অগ্রগতি মাপতে প্রায়ই মোবাইল গ্রাহক, ইন্টারনেট সাবস্ক্রিপশন অথবা নেটওয়ার্ক কভারেজের সংখ্যা ব্যবহার করা হয়। এই সূচকগুলো প্রয়োজনীয়, তবে অসম্পূর্ণ।</p>
<p>এক ব্যক্তি একাধিক সিম ব্যবহার করতে পারেন। আবার একটি পরিবারের পাঁচ সদস্য একটি স্মার্টফোন ভাগ করে নিতে পারেন। নিবন্ধিত সংযোগ থাকলেও সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা না-ও হতে পারে। ডেটার দাম, দুর্বল গতি, বিদ্যুৎ বিভ্রাট কিংবা মানসম্মত ডিভাইসের অভাবে কার্যকর ব্যবহার বাধাগ্রস্ত হতে পারে।</p>
<p>তাই নীতিনির্ধারণে “কতটি সংযোগ আছে” প্রশ্নের পাশাপাশি জানতে হবে:</p>
<p>কে নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন?<br>কোন ডিভাইস দিয়ে এবং কী মানের সংযোগে ব্যবহার করছেন?<br>ডেটা ও ডিভাইস কিনতে আয়ের কত অংশ ব্যয় হচ্ছে?<br>নারী ও কিশোরীরা নিজের ডিভাইস স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারছেন কি না?<br>প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও ভাষাগতভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সেবাগুলো ব্যবহারযোগ্য কি না?<br>নাগরিকেরা নিরাপদে ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অনলাইন সেবা নিতে পারছেন কি না?</p>
<p>এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না জানলে কভারেজ বাড়লেও প্রকৃত অন্তর্ভুক্তি পরিমাপ করা যাবে না।</p>
<p><strong>ব্যয়ের বাধা</strong><br>বিবিএস জরিপে ইন্টারনেট সেবার উচ্চ ব্যয় এবং ডিভাইসের দামকে ব্যবহারের বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিষয়টি শুধু একটি ডেটা প্যাকের দাম কত, তা দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে। দেখতে হবে নিম্ন আয়ের পরিবারের মাসিক আয়ের কত অংশ নিয়মিত সংযোগ বজায় রাখতে ব্যয় হয়।</p>
<p>একটি পরিবারের কাছে খাদ্য, বাসস্থান, চিকিৎসা ও শিক্ষার খরচ মেটানোর পর ইন্টারনেট কেনা যদি বিলাসিতা হয়ে দাঁড়ায়, তবে নেটওয়ার্কের উপস্থিতি কোনো অর্থবহ পরিবর্তন আনবে না। অনিয়মিত বা অল্প ডেটার সংযোগ দিয়ে ভিডিওভিত্তিক শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, টেলিমেডিসিন কিংবা অনলাইন ব্যবসা চালানোও সম্ভব নয়।</p>
<p>সরকারের তাই সাশ্রয়ী মূল্যের ন্যূনতম ব্রডব্যান্ড প্যাকেজ, শিক্ষার্থী ও নিম্ন আয়ের পরিবারের জন্য লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা এবং ডিভাইসের করকাঠামো পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। তবে ভর্তুকি যেন রাজনৈতিক সুবিধা বা অপচয়ের ব্যবস্থায় পরিণত না হয়। উপকারভোগী নির্বাচন, সেবার মান এবং ফলাফল প্রকাশ্যে যাচাইযোগ্য হতে হবে।</p>
<p><strong>গ্রামকে শহরের দুর্বল সংস্করণ ভাবা যাবে না</strong><br>গ্রামীণ সংযোগের সমস্যার সমাধান শহরের মডেল হুবহু নকল করে হবে না। চর, হাওর, দ্বীপ, পাহাড়, উপকূল এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা ভিন্ন। বাণিজ্যিকভাবে কম লাভজনক এলাকায় অপারেটররা প্রয়োজনীয় বিনিয়োগে অনাগ্রহী হতে পারে।</p>
<p>ফলে সর্বজনীন সেবা তহবিলের অর্থ কোথায় যাচ্ছে, কী ফল দিচ্ছে এবং কোন জনগোষ্ঠী উপকৃত হচ্ছে, তার স্বচ্ছ হিসাব প্রয়োজন। ফাইবার, মোবাইল ব্রডব্যান্ড, কমিউনিটি নেটওয়ার্ক, স্থানীয় ওয়াই-ফাই কেন্দ্র এবং প্রয়োজন অনুযায়ী স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সমন্বিত ব্যবহার বিবেচনা করতে হবে। কোনো একটি প্রযুক্তিকে সব সমস্যার সমাধান হিসেবে প্রচার করা উচিত নয়।</p>
<p>পাশাপাশি স্কুল, ইউনিয়ন পরিষদ, কমিউনিটি ক্লিনিক, ডাকঘর, গ্রন্থাগার ও কমিউনিটি রেডিওকেন্দ্রকে জনস্বার্থভিত্তিক ডিজিটাল সংযোগকেন্দ্র হিসেবে কাজে লাগানো যেতে পারে। এসব স্থান শুধু ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ দেবে না, স্থানীয় মানুষকে সেবা গ্রহণে সহায়তাও করতে পারবে।</p>
<p><strong>ডিজিটাল দক্ষতা মানে অ্যাপ চালানো নয়</strong><br>ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারা আর ডিজিটালভাবে সক্ষম হওয়া এক নয়। ফেসবুক বা ভিডিও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করতে পারলেও অনেকে তথ্যের সত্যতা যাচাই, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড তৈরি, প্রতারণা শনাক্ত, গোপনীয়তা নিয়ন্ত্রণ কিংবা সরকারি অনলাইন ফরম পূরণ করতে পারেন না।</p>
<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারের সঙ্গে এই দক্ষতার ঘাটতি আরও গুরুতর হবে। মানুষ শুধু ভুল তথ্য গ্রহণ করবেন না, তাঁদের ছবি, কণ্ঠ ও ব্যক্তিগত তথ্যও অপব্যবহারের ঝুঁকিতে পড়বে। নারী ও মেয়েরা প্রযুক্তি-সহায়িত জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতা, ভুয়া পরিচয়, ব্ল্যাকমেল এবং কৃত্রিমভাবে তৈরি আপত্তিকর কনটেন্টের বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছেন।</p>
<p>তাই ডিজিটাল সাক্ষরতায় নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, তথ্য যাচাই, অনলাইন অধিকার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং অভিযোগ প্রতিকারের শিক্ষা যুক্ত করতে হবে। এই প্রশিক্ষণ স্থানীয় ভাষা ও বাস্তব সমস্যার ভিত্তিতে হতে হবে। একদিনের কর্মশালা দিয়ে জাতীয় সক্ষমতা তৈরি হয় না।</p>
<p><strong>ইন্টারনেট বন্ধ রেখে ডিজিটাল অর্থনীতি চলে না</strong><br>ইন্টারনেট প্রবেশাধিকার নিয়ে আলোচনায় আরেকটি অস্বস্তিকর প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া যায় না। নাগরিককে সংযুক্ত করার পর প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সেবা বন্ধ করে দিলে সেই সংযোগকে নির্ভরযোগ্য বলা যায় না।</p>
<p>ইন্টারনেট বন্ধ হলে শুধু সামাজিক যোগাযোগ ব্যাহত হয় না। ব্যাংকিং, রপ্তানি, ফ্রিল্যান্সিং, সংবাদমাধ্যম, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জরুরি যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে চাইলে সংযোগের ধারাবাহিকতাকে আইনি ও নীতিগতভাবে রক্ষা করতে হবে। যেকোনো বিধিনিষেধ হতে হবে আইনসম্মত, প্রয়োজনীয়, আনুপাতিক, সময়সীমাবদ্ধ এবং স্বাধীন পর্যালোচনার আওতাভুক্ত।</p>
<p>একই সঙ্গে রাষ্ট্রকে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু নিরাপত্তার নামে নির্বিচার নজরদারি বা মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করা হলে মানুষ ইন্টারনেট ব্যবহারে আস্থা হারাবে। নিরাপত্তা এবং অধিকারকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ ভাবা ভুল। গণতান্ত্রিক ডিজিটাল ব্যবস্থায় দুটিই প্রয়োজন।</p>
<p><strong>পাঁচটি জাতীয় অগ্রাধিকার</strong><br>বাংলাদেশের অসমাপ্ত ডিজিটাল বিপ্লব সম্পন্ন করতে অন্তত পাঁচটি পদক্ষেপ জরুরি।</p>
<p>প্রথমত, জেলা, লিঙ্গ, বয়স, আয়, প্রতিবন্ধিতা ও গ্রাম-শহরভিত্তিক নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশ করতে হবে। জাতীয় গড় বৈষম্য আড়াল করে।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, ইন্টারনেট ও উপযুক্ত ডিভাইসের ব্যয়কে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে আনতে হবে।</p>
<p>তৃতীয়ত, গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ফাইবার, মোবাইল, কমিউনিটি নেটওয়ার্ক ও অন্যান্য প্রযুক্তির সমন্বয়ে স্থিতিস্থাপক অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।</p>
<p>চতুর্থত, বিদ্যালয় থেকে প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষা পর্যন্ত ব্যবহারিক ডিজিটাল, মিডিয়া ও এআই সাক্ষরতা চালু করতে হবে।</p>
<p>পঞ্চমত, ইন্টারনেটকে নাগরিক অধিকার, অর্থনৈতিক সুযোগ এবং প্রয়োজনীয় সেবায় প্রবেশের মাধ্যম হিসেবে রক্ষা করতে হবে। এ জন্য দরকার স্বাধীন নিয়ন্ত্রণ, বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতা, সেবার মান প্রকাশ এবং সহজ অভিযোগ প্রতিকার।</p>
<p><strong>কেবল অনলাইনে আনা যথেষ্ট নয়</strong><br>বাংলাদেশের সামনে এখন পছন্দটি স্পষ্ট। আমরা এমন একটি ডিজিটাল ব্যবস্থা তৈরি করতে পারি, যেখানে দ্রুতগতির সংযোগ, উন্নত ডিভাইস এবং নতুন প্রযুক্তির সুবিধা প্রধানত শহরের সচ্ছল জনগোষ্ঠীর মধ্যে কেন্দ্রীভূত থাকবে। অথবা ইন্টারনেটকে এমন একটি জনস্বার্থভিত্তিক অবকাঠামো হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, যা একজন উপকূলীয় নারী, চরাঞ্চলের শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র কৃষক, প্রতিবন্ধী নাগরিক এবং শহরের নিম্ন আয়ের শ্রমিককেও বাস্তব সুযোগ দেয়।</p>
<p>সাফল্যের মাপকাঠি আর কতটি টাওয়ার বসানো হলো বা কতটি সিম নিবন্ধিত হলো, সেটি হতে পারে না। আসল প্রশ্ন হলো, মানুষ সংযোগটি নিয়মিত ব্যবহার করতে পারছে কি না, সেটি তার জীবন ও জীবিকায় মূল্য যোগ করছে কি না এবং ব্যবহারের সময় তার অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষা পাচ্ছে কি না।</p>
<p>বাংলাদেশের ডিজিটাল বিপ্লব তখনই সম্পন্ন হবে, যখন ইন্টারনেট কেবল সবার নাগালের মধ্যে নয়, সবার সামর্থ্য, প্রয়োজন ও অধিকারের মধ্যেও থাকবে।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ </strong>দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ফ্রিল্যান্সিং রেমিট্যান্স ও &amp;apos;সবার আগে বাংলাদেশ&amp;apos;: অপার সম্ভাবনা এবং ব্যাংকিং খাতের বাধা</title>
<link>https://digibanglatech.news/185886</link>
<guid>https://digibanglatech.news/185886</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x580_6a7149a68e675.jpg" length="75457" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 04 Aug 2026 00:07:48 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>আজকের ডিজিটাল যুগে দেশের লাখ লাখ তরুণ-তরুণীর জন্য সবচেয়ে প্রমিজিং আর বাস্তবসম্মত আয়ের জায়গা হয়ে উঠেছে অনলাইন ফ্রিল্যান্সিং ও আইসিটি খাত। তৈরি পোশাক শিল্পের পর খুব অল্প সময়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বড় উৎস হওয়ার সব রকম ক্ষমতাই এর আছে। সরকার যে 'সবার আগে বাংলাদেশ' বা 'Bangladesh First' নীতি নিয়ে এগোচ্ছে, তার মূলে কিন্তু রয়েছে আত্মনির্ভরশীলতা—চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণরা যেন নিজেদের দক্ষতায় বিশ্বমঞ্চ থেকে আয় করতে পারে। এই চিন্তাকে বাস্তবে রূপ দিতে এবং ফ্রিল্যান্সারদের টাকা আনার পথ সহজ করতে সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংক বেশ কিছু যুগান্তকারী নিয়ম চালু করেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, কাগুজে নীতি যতই ভালো হোক, ব্যাংকগুলোর অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা, ডলারের দরের পার্থক্য আর আন্তর্জাতিক বাজারে বেশি দামি কাজের অভাবে আমাদের তরুণরা এখনো তাদের মেধার পুরোটা কাজে লাগাতে পারছেন না।</p>
<p>বিশ্ববাজারে আমাদের অবস্থান</p>
<p>বিশ্বজুড়ে আউটসোর্সিং বা গিগ ইকোনমির বাজার হু হু করে বাড়ছে। বর্তমানে এই ফ্রিল্যান্সিং বাজারের আকার কয়েক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা বলছে, ২০৩৪ সালের মধ্যে এটি ৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যাবে। আর পুরো প্রজেক্ট-ভিত্তিক কাজের বাজার হিসেব করলে তা শতবিলিয়ন ডলারের ওপর। সেখানে আমাদের দেশের অবস্থান কোথায়? আইসিটি বিভাগের মতে, বাংলাদেশে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সার আছেন, যার মধ্যে নিয়মিত কাজ করেন প্রায় ৫ লাখ। তারা বছর শেষে ৫০০ মিলিয়ন থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের মতো রেমিট্যান্স দেশে আনছেন। অর্থাৎ, এত বড় বিশ্ববাজারের তুলনায় আমরা কিন্তু এখনো ১ শতাংশের কম ধরে রাখতে পারছি। আবার যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউট (OII) বলছে, বিশ্ববাজারে ফ্রিল্যান্সার সরবরাহের দিক থেকে বাংলাদেশ দ্বিতীয়—ঠিক ভারতের পরেই। কিন্তু আয়ের অংকের দিক থেকে আমরা এখনো বেশ পিছিয়ে। কারণ আমাদের অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সার এখনো কম মূল্যের প্রথাগত কাজেই সীমাবদ্ধ আছেন।</p>
<p>আমরা কোথায় কাজ করছি এবং ঘাটতি কোথায়?</p>
<p>আমাদের ফ্রিল্যান্সাররা মূলত যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, যুক্তরাজ্য, জার্মানি বা অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশের ক্লায়েন্টদের সেবা দেন। আমাদের মূল শক্তি হলো ওয়েবসাইট ডিজাইন ও সাধারণ ডেভেলপমেন্ট (যেমন ওয়ার্ডপ্রেস, শপিফাই), গ্রাফিক ডিজাইন, সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং, এসইও কিংবা ডাটা এন্ট্রি ও ভার্চুয়াল অ্যাসিস্ট্যান্সের কাজ। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে যে কাজগুলোর দাম সবচেয়ে বেশি—যেমন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI/ML), সাইবার নিরাপত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, ব্লকচেইন প্রযুক্তি কিংবা বড় বড় প্রাতিষ্ঠানিক ডেটা সায়েন্স—সেসব জায়গায় আমাদের উপস্থিতি খুবই কম। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্লায়েন্টের সঙ্গে দরদাম করার মতো ইংরেজি ভাষা ও প্রেজেন্টেশন দক্ষতার দুর্বলতা।</p>
<p>আমাদের প্রতিবেশীরা কীভাবে এগোচ্ছে?</p>
<p>গিগ ইকোনমিতে ফিলিপাইন, ভারত, পাকিস্তান বা ভিয়েতনাম বেশ দ্রুত নিজেদের অবস্থান শক্ত করছে। ফিলিপাইন সরকার 'ফ্রিল্যান্সার প্রটেকশন অ্যাক্ট' করার পাশাপাশি এমন এক ক্যাশলেস ব্যবস্থা বানিয়ে দিয়েছে, যেখানে পেপ্যাল বা পেওনিয়ারের মাধ্যমে সরাসরি টাকা চলে আসে কোনো ঝামেলা ছাড়াই। ভারত সরকার আইটি পার্ক ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে, সফটওয়্যার আমদানিতে কর ছাড় দিচ্ছে এবং এআই-ভিত্তিক কাজের জন্য তরুণদের ট্রেইনিং দিতে বাজেট রাখছে। আর পাকিস্তান 'e-Rozgaar' ও ই-রেসিডেন্সি চালু করে ফ্রিল্যান্সারদের পেওনিয়ার বা স্ট্রাইপ ব্যবহারে পথ সহজ করেছে, এমনকি ব্যাংকে আসা প্রতি ডলারে সরাসরি নগদ প্রণোদনাও দিচ্ছে।</p>
<p>বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সার্কুলারে  যা বলছে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য? </p>
<p>বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট সম্প্রতি এফইপিডি-১ (সার্কুলার ২২) জারির মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য বেশ কিছু বড় সুযোগ দিয়েছে:</p>
<p>প্রথমত, ইন্টারনেটে সেবা রফতানির ক্ষেত্রে আগের মতো জটিল 'EXP Form' পূরণের বাধ্যবাধকতা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন ই-মেইল, ডিজিটাল চুক্তি, অনলাইন ইনভয়েস বা প্ল্যাটফর্মের স্টেটমেন্ট দেখালেই টাকা জমা হয়ে যাবে।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত রেমিট্যান্সের জন্য কোনো প্রকার 'Form-C' পূরণ করতে হবে না। আর টাকার পরিমাণ ২০ হাজারের বেশি হলে ব্যাংক অ্যাপ বা ডিজিটাল মাধ্যমে তা জমা করার সুবিধা রাখা হয়েছে।</p>
<p>তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের (OPGSP) মাধ্যমে প্রতিবারে সর্বোচ্চ ১০,০০০ ডলার পর্যন্ত সরাসরি দেশে আনা যাবে।</p>
<p>চতুর্থত, আইটি বা সফটওয়্যার আয়ের সর্বোচ্চ ৫০% এবং অন্যান্য সেবার আয়ের ৩০% পর্যন্ত এক্সপোর্টার্স রিটেনশন কোটা (ERQ) অ্যাকাউন্টে ডলারে রেখে দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এই ডলার দিয়ে ফ্রিল্যান্সাররা পরবর্তীতে সফটওয়্যার সাবস্ক্রিপশন, ডোমেইন-হোস্টিং বা সার্ভারের বিল মেটাতে পারবেন। সাথে ডুয়াল কারেন্সি 'ফ্রিল্যান্সার কার্ড' এবং বিকাশ-নগদের মতো এমএফএস বা পিএসপির মাধ্যমে টাকা তোলার পথও খোলা হয়েছে।</p>
<p>কেন্দ্রীয় ব্যাংক আর শাখা ব্যাংকের মধ্যকার নির্দেশনা এবং কাজের দূরত্বের খেসারত। </p>
<p>প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ ব্যাংক এত সুন্দর নিয়ম করার পরও মাঠপর্যায়ে ফ্রিল্যান্সাররা সুফল পাচ্ছেন না কেন? মূল সমস্যা হলো, সার্কুলার জারির পর প্রতিটি ব্যাংকের হেড অফিস থেকে নিজেদের শাখাগুলোর জন্য যে অভ্যন্তরীণ নির্দেশিকা পাঠানো দরকার, তা তৈরিতে অনেক ব্যাংকই বিলম্ব করে। এর ওপর শাখা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ই-কমার্স বা আইটি খাতের লেনদেন সম্পর্কে তেমন ধারণাই নেই। ফলে ঘটে চলেছে নানা রকমের ভোগান্তি:</p>
<p><br>সি-ফর্মের চক্কর: সার্কুলারে পরিষ্কার বলা আছে ২০,০০০ ডলার পর্যন্ত সি-ফর্ম লাগবে না। অথচ জেলা বা শাখা পর্যায়ে ৫০০ বা ১,০০০ ডলার এলেও ব্যাংক কর্মকর্তারা গ্রাহককে ধরে সি-ফর্ম পূরণ করাচ্ছেন।</p>
<p>ইআরকিউ অ্যাকাউন্ট না খোলা: আয়ের ৫০% ডলারে রাখার নিয়ম থাকলেও ঢাকার বাইরে বা মফস্বল শাখাগুলোতে এই অ্যাকাউন্ট খোলাই যায় না। শুধুমাত্র অথরাইজড ডিলার (AD) শাখায় যেতে বলায় দূর-দূরান্তের ফ্রিল্যান্সাররা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।</p>
<p>অহেতুক যোগ্যতা যাচাই ও কর কাটা: ব্যাংকের সাধারণ অফিসারদের হাতে ফ্রিল্যান্সারের কাজের ধরন বা যোগ্যতা যাচাইয়ের ভার দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা জটিলতা। আইটি সেবায় কর ছাড় থাকার পরও অনেক শাখা না বুঝে উৎস থেকে আয়কর (TDS) কেটে রাখছে। ফলে ফ্রিল্যান্সাররা বৈধ পথে টাকা আনতে নির উৎসাহিত হচ্ছেন।</p>
<p>তদারকির অভাব: কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভালো নির্দেশগুলো শাখা পর্যায়ে মানা হচ্ছে কি না, তা দেখার জন্য বা ফ্রিল্যান্সারদের অভিযোগ জানানোর মতো কোনো আলাদা 'কমপ্লেন সেল' নেই।</p>
<p>বাস্তব সংকট হুন্ডি, আইনি জটিলতা ও দ্বৈত কর।</p>
<p>একজন ফ্রিল্যান্সার দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও ব্যাংকিং টেবিলে গিয়ে পদে পদে বৈষম্যের মুখে পড়েন।</p>
<p>এক. হুন্ডি ও ব্যাংকের হারের বড় ব্যবধান: ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের অফিশিয়াল রেট যদি হয় ১১৮ টাকা, সেখানে খোলা বাজারে বা অনানুষ্ঠানিক মাধ্যমে তা ১২২ থেকে ১২৯ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। প্রতি ডলারে ৪ থেকে ১১ টাকার এই বড় ব্যবধানের কারণে অনেকেই ব্যাংকিং চ্যানেল ছেড়ে অপ্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে টাকা আনছেন, যা শেষ পর্যন্ত দেশের রেমিট্যান্সেরই ক্ষতি করছে।</p>
<p>দুই. বিদেশে ফান্ড রাখা সংক্রান্ত আইনের জট: 'ফরেন এক্সচেঞ্জ রেগুলেশন অ্যাক্ট, ১৯৪৭' অনুযায়ী অনুমোদিত উপায় ছাড়া বিদেশে টাকা রেখে দেওয়া বা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে বিনিয়োগ দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু বাস্তবে যখন কোনো ফ্রিল্যান্সার বা এজেন্সি আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের সরাসরি প্রজেক্ট চালায়, তখন ইউকে বা অন্য দেশের বিজনেস অ্যাকাউন্ট থেকেই অপারেশনাল ও মার্কেটিং খরচ মেটাতে হয়। সব টাকা সঙ্গে সঙ্গে দেশে নিয়ে আসার বাধ্যবাধকতা থাকায় তাদের বৈশ্বিক ব্যবসা বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ছে।</p>
<p>তিন. Payoneer ও প্রণোদনার জট: পেওনিয়ারের মতো বৈধ প্ল্যাটফর্ম থেকে আনা টাকার সব ডকুমেন্টস থাকা সত্ত্বেও সরকার ঘোষিত ২.৫% প্রণোদনার টাকা অনেক সময় ফ্রিল্যান্সারের অ্যাকাউন্টে ঠিকমতো জমা হয় না।</p>
<p>চার. দ্বৈত করের (Double Taxation) মার প্যাঁচ: বিদেশি ক্লায়েন্টদের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করে কাজ করার সময় ক্লায়েন্টের দেশ (যেমন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপ) তাদের স্থানীয় আইন অনুযায়ী উৎসে কর (Withholding Tax) কেটে বাকি টাকা পাঠায়। আবার সেই টাকা বাংলাদেশে আসার পর ব্যাংকগুলো আন্তর্জাতিক ট্যাক্স সার্টিফিকেটের সঠিক কাঠামোর অভাবে আবারও প্রসেসিং ফি বা ট্যাক্স কেটে নেয়। ফলে ফ্রিল্যান্সার একই আয়ের ওপর দুই দেশে কর দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এনবিআর ও ব্যাংকের মধ্যে এই দ্বৈত কর পরিহার চুক্তি (DTAA) সংক্রান্ত ডিজিটাল সমন্বয় না থাকা এর প্রধান কারণ।</p>
<p>পাঁচ. জেনারেটিভ এআই ও পেমেন্টের লিমিটেশন: আজকের দিনে মানসম্মত কাজ করতে হলে প্রজেক্ট পরিচালনায় নামি-দামি সব এআই ও ক্লাউড টুলস (যেমন OpenAI, Midjourney, AWS সার্ভার) সাবস্ক্রাইব করতে হয়। কিন্তু আমাদের ফ্রিল্যান্সার কার্ডে বা ক্রেডিট কার্ডে বাৎসরিক ডলার খরচের যে লিমিট দেওয়া আছে, তা এই আধুনিক প্রযুক্তির যুগের খরচের তুলনায় খুবই কম। সময়মতো সার্ভার বা এআই টুলের বিল দিতে না পেরে অনেক রানিং প্রজেক্ট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং বিদেশি অ্যাকাউন্ট সাসপেন্ড হচ্ছে।</p>
<p>ছয়. ERQ অ্যাকাউন্টে সুদের অভাব ও কনভার্সন রেটে লস: ইআরকিউ অ্যাকাউন্টে রাখা ডলার যখন স্থানীয় টাকায় ভাঙানো হয়, তখন ব্যাংকগুলো বাজারের স্বাভাবিক রেটের চেয়ে কম দেয়। তার ওপর সাধারণ বিডিটি সেভিংস অ্যাকাউন্টে সুদ পাওয়া গেলেও ইআরকিউ অ্যাকাউন্টের ডলারে কোনো সুদ দেয় না ব্যাংক। ফলে ডলারে টাকা জমিয়ে রাখতে আগ্রহ পান না তরুণরা।</p>
<p>সাত. পেপ্যাল না থাকা ও এআইয়ের ধাক্কা: পূর্ণাঙ্গ পেপ্যাল সেবা না থাকায় এখনো পেমেন্ট পাওয়া নিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। অন্যদিকে সাধারণ ক্যাটাগরির কাজগুলো (যেমন সাধারণ কনটেন্ট বা ডাটা এন্ট্রি) এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজেই করে ফেলছে। ফলে দ্রুত সময়ের মধ্যে অ্যাডভান্সড লেভেলের স্কিল অর্জন করতে না পারলে কাজ হারানোর তীব্র ঝুঁকি রয়েছে। এর ওপর নিরবচ্ছিন্ন উচ্চগতির ইন্টারনেট না থাকা আর ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড বা লোন পেতে ঝামেলা তো আছেই।</p>
<p>'সবার আগে বাংলাদেশ' বাস্তবায়নে যা করা জরুরি। </p>
<p>কোনো সরকারি অবকাঠামোগত বাজেট ছাড়াই নিজ যোগ্যতায় ঘরে বসে দেশের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা আনছেন ফ্রিল্যান্সাররা। তৃণমূলের বেকারত্ব দূর আর মফস্বলের অর্থনীতি চাঙ্গা করতে তাদের অবদান অনন্য। তবে কোনো নির্দিষ্ট শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব না থাকায় তাদের মাঠপর্যায়ের কষ্টগুলো আড়ালেই থেকে যায়। 'সবার আগে বাংলাদেশ' নীতির সুফল নিশ্চিত করতে এবং তাদের পথের বাধা সরাতে এখনই কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার:</p>
<p>প্রথমত, সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে (PPP) জেলা-উপজেলা পর্যায়ে এআই, ডাটা আর্কিটেকচার, সাইবার সিকিউরিটি ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের ওপর মানসম্মত বুট ক্যাম্প চালু করতে হবে। একই সাথে সব ফ্রিল্যান্সারকে সরকারি স্বীকৃতি হিসেবে স্মার্ট ডিজিটাল আইডি দিতে হবে, যা দিয়ে তারা সহজেই ব্যাংকিং লোন, ট্রেড লাইসেন্স ও ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা (Tax Exemption) পাবেন।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, ব্যাংকিং ভোগান্তি কমাতে প্রতিটি ব্যাংকের জেলা বা উপজেলা শাখায় অন্তত একজন প্রশিক্ষিত অফিসার এবং আলাদা ‘ফ্রিল্যান্সার সাপোর্ট ডেস্ক’ রাখা বাধ্যতামূলক করতে হবে। সার্কুলার অনুযায়ী যেন অহেতুক সি-ফর্ম চাওয়া না হয় বা অন্যায়ভাবে কর না কাটা হয়, তা হেড অফিস থেকে মনিটর করতে হবে। পাশাপাশি এআই ও ক্লাউড ব্যবহারের জন্য ক্রেডিট ও ফ্রিল্যান্সার কার্ডের ডলার খরচের কোটা বা লিমিট বাড়ানো দরকার।</p>
<p>তৃতীয়ত, নীতিগত নানা জটিলতা দূর করতে ডিসিআরএএফ (DCRAF - Digital Commerce Research and Advocacy Forum)-এর মতো গবেষণা ফোরাম এবং বেসিস (BASIS), বাক্কো (BACCO) ও ই-ক্যাব (e-CAB)-এর মতো ট্রেড বডিগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। ব্যাংকের হয়রানি বন্ধে এবং দ্বৈত কর জটিলতা নিরসনে এনবিআর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাথে সেতুবন্ধন হিসেবে এই প্ল্যাটফর্মগুলো বড় ভূমিকা রাখতে পারে।</p>
<p>চতুর্থত, ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের রেট বাজারের কাছাকাছি ও বাস্তবসম্মত করতে হবে। ইআরকিউ অ্যাকাউন্টের ডলারে সুদের ব্যবস্থা করা এবং তা টাকায় ভাঙানোর সময় ফেয়ার রেট দেওয়া উচিত। এছাড়া আন্তর্জাতিক ওয়ালেট থেকে আসা টাকায় সরকারের ২.৫% প্রণোদনা যেন অটোমেটিক অ্যাকাউন্টে জমা হয় সেই ব্যবস্থা করা এবং দেশে সরাসরি পেপ্যাল (PayPal) আনার দ্রুত উদ্যোগ নিতে হবে।</p>
<p>আমাদের লাখ লাখ তরুণ আজ নিজেদের মেধা দিয়ে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ করছেন। শুধুমাত্র আদেশ বা প্রজ্ঞাপন জারি করেই কাজ শেষ ভাবলে চলবে না; ব্যাংকিং টেবিলের লালফিতার দৌরাত্ম্য দূর করা এবং এআই যুগের সাথে আমাদের তরুণদের মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দেওয়া এখন সময়ের দাবি। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতি সফল করতে হলে দেশের এই মুক্ত পেশাজীবীদের সামনের সব বাধা অবিলম্বে দূর করতেই হবে।</p>
<hr>
<p><b data-path-to-node="22,0,0" data-index-in-node="0">লেখক:</b><span> </span><i data-path-to-node="22,0,1" data-index-in-node="0">ই-কমার্স বিশ্লেষক ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, ই-ক্যাব </i><span></span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বট বাহিনী: ডিজিটাল যুদ্ধের অদৃশ্য সৈনিক</title>
<link>https://digibanglatech.news/185712</link>
<guid>https://digibanglatech.news/185712</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x580_6a6f385f5dcf4.jpg" length="78749" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 02 Aug 2026 12:29:20 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>বট বাহিনী, ডিজিটাল যুদ্ধ, কম্পিউটেশনাল প্রোপাগান্ডা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অপপ্রচার, জনমত গঠন, সাইবার নিরাপত্তা, ফেক নিউজ, তথ্যযুদ্ধ</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="6">একসময় যুদ্ধ মানেই ছিল রক্তাক্ত সীমান্ত, পদাতিক সৈন্য, কামান কিংবা যুদ্ধবিমান। কূটনৈতিক সংঘাতের সরাসরি পরিণতি দেখা যেত সমরে। কিন্তু প্রযুক্তিনির্ভর এই একবিংশ শতাব্দীতে যুদ্ধের মানচিত্র এক আমূল পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। এখন যুদ্ধের অন্যতম প্রধান ও শক্তিশালী রণক্ষেত্র হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম। এখানে গোলাবারুদ বা অস্ত্রের বদলে সমানে ব্যবহৃত হচ্ছে তথ্য, গুজব, অপপ্রচার, বিভেদ, আবেগ এবং অ্যালগরিদম। আর এই ডিজিটাল যুদ্ধের সবচেয়ে কার্যকর ও ধারালো অস্ত্রগুলোর একটি হলো "বট বাহিনী"—এমন এক অদৃশ্য ডিজিটাল শক্তি, যা কয়েক মিনিটের ব্যবধানে তৈরি করা জনমতকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে পারে, সামাজিক বিভাজনে ঘৃতাহুতি দিতে পারে কিংবা পুরো একটি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।</p>
<p data-path-to-node="7">২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্বজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চরিত্র ও গতিপ্রকৃতিতে যে ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে, তার পেছনে মূল চালিকাশক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অভাবনীয় অগ্রগতি। আগের দিনের বটের কাজ ছিল কেবল নির্দিষ্ট কিছু লেখা বা বার্তা বারংবার পোস্ট বা প্রচার করা। কিন্তু আধুনিক এআই-চালিত বট স্বয়ংক্রিয়ভাবে মানুষের মতো যৌক্তিক ভাষা ব্যবহার করতে পারে, যেকোনো প্রশ্নের উত্তর প্রদান করতে পারে, অনলাইন বিতর্কে অংশ নিতে পারে, এমনকি আলাদা মানুষের মনস্তত্ত্ব বুঝে ভিন্ন ভিন্ন ধারার বার্তাও তৈরি করতে পারে। ফলস্বরূপ, সাধারণ একজন ব্যবহারকারীর পক্ষে রক্তমাংসের প্রকৃত মানুষ এবং কৃত্রিমভাবে পরিচালিত অ্যাকাউন্টের পার্থক্য চেনা ক্রমেই দুঃসাধ্য হয়ে উঠছে।</p>
<p data-path-to-node="8">প্রযুক্তি গবেষকেরা এই নজিরবিহীন পরিবর্তনকে সংজ্ঞায়িত করছেন "কম্পিউটেশনাল প্রোপাগান্ডা" (Computational Propaganda) নামে। এর মূলকথা হলো—কম্পিউটিং সিস্টেম, উন্নত অ্যালগরিদম, স্বয়ংক্রিয় অ্যাকাউন্ট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে জনমত গঠন বা পরিবর্তন করা। এই প্রোপাগান্ডার একমাত্র লক্ষ্য যে কেবল নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক বা আদর্শিক মতবাদ প্রতিষ্ঠা করা, তা নয়; বরং জনমনে চরম বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা নষ্ট করা এবং সমাজে এমন এক কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরি করা—যেখানে সত্য ও মিথ্যার সূক্ষ্ম সীমারেখাটি একেবারেই অস্পষ্ট হয়ে যায়।</p>
<p data-path-to-node="9">বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (WEF) তাদের ২০২৫ সালের বৈশ্বিক ঝুঁকি মূল্যায়নে "ভুল ও বিভ্রান্তিকর তথ্যকে" (Misinformation &amp; Disinformation) মানবজাতির জন্য অন্যতম প্রধান স্বল্পমেয়াদি ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। কারণ, কৃত্রিমভাবে ভাইরাল হওয়া একটি অসত্য তথ্য কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একটি দেশের জাতীয় নির্বাচন, জাতীয় অর্থনীতি, স্বাস্থ্যনীতি বা সামাজিক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর প্রত্যক্ষ ও ধ্বংসাত্মক প্রভাব ফেলতে সক্ষম। প্রযুক্তি যত দ্রুত উৎকর্ষ লাভ করছে, অপপ্রচারকারীরাও তত নিখুঁত ও চটজলদি তাদের ডিজিটাল চাল চালতে পারছে।</p>
<p data-path-to-node="10">আজকের বট বাহিনী আর কেবল কয়েকটি স্বয়ংক্রিয় ভুয়া অ্যাকাউন্টের সমষ্টিমাত্র নয়। এর পেছনে যুক্ত হয়েছে জটিল ট্রল নেটওয়ার্ক, ডিপফেক (Deepfake) ভিডিও, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবি ও কণ্ঠস্বর এবং অ্যালগরিদম নির্ভর নিখুঁত প্রচারণা। অনেক সময় একই ন্যারেটিভ বা বার্তা হাজার হাজার সমন্বিত অ্যাকাউন্ট থেকে একযোগে শেয়ার বা কমেন্ট করা হয়। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যালগরিদম সেটিকে "অত্যন্ত জনপ্রিয়" বা "ট্রেন্ডিং" হিসেবে চিহ্নিত করে স্বাভাবিক ব্যবহারকারীদের টাইমলাইনে ঠেলে দেয়। সাধারণ পাঠকের কাছে তখন মনে হয়, এটাই বুঝি সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের মতামত। অথচ বাস্তবে সেই তুমুল আলোচনার সিংহভাগই একটি সুনির্দিষ্ট কেন্দ্র থেকে কৃত্রিমভাবে নিয়ন্ত্রিত।</p>
<p data-path-to-node="11">এই কৌশলটি একেবারে নতুন না হলেও, এর ব্যপ্তি ও সক্ষমতা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বহুগুণ শক্তিশালী। গত এক দশকে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের নির্বাচন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত এবং সামাজিক আন্দোলনগুলোকে কেন্দ্র করে সমন্বিত ডিজিটাল প্রচারণার অভিযোগ উঠেছে। তবে ২০২৪ সালের পর থেকে এআই-ভিত্তিক কন্টেন্ট তৈরির প্রযুক্তি সবার জন্য সহজলভ্য হয়ে ওঠায় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা পেয়েছে। বর্তমানে অতি অল্প খরচে সামান্য কয়েকজন ব্যক্তি বা ছোট একটি গোষ্ঠীও বিপুল পরিমাণ লেখা, ছবি ও ভিডিও তৈরি করে ইন্টারনেটে অপপ্রচারের বন্যা বইয়ে দিতে পারে।</p>
<p data-path-to-node="12">বট বাহিনীর সবচেয়ে বড় মানসিক অস্ত্র হলো—মানুষের সংবেদনশীল আবেগকে নিশানা করা। ধর্ম, জাতীয়তাবাদ, ভাষা, নির্বাচন, অর্থনীতি কিংবা জাতীয় নিরাপত্তার মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলোকে ঘিরে যখন কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়, তখন সাধারণ মানুষ দ্রুত আবেগের বশে প্রতিক্রিয়া দেখায়। আর অ্যালগরিদমের নিয়মই হলো—যে পোস্ট বা কন্টেন্টে প্রতিক্রিয়া বেশি, সেটিকে আরও বেশি মানুষের সামনে মেলে ধরা। ফলে অপপ্রচার খুব স্বাভাবিক নিয়মেই বহুগুণ গতিতে ছড়িয়ে পড়ে।</p>
<p data-path-to-node="13">২০২৪-পরবর্তী সময়ে বিশ্বজুড়ে একটি নতুন বিপজ্জনক প্রবণতা স্পষ্ট হয়েছে—"এআই-সমর্থিত প্রভাব অভিযান" (AI-Enabled Influence Operations)। এতে মানুষের বুদ্ধিমত্তা এবং কৃত্রিম সফটওয়্যারের শক্তি এক হয়ে কাজ করে। ধরা যাক, কোনো একজন ব্যক্তি একটি অসত্য বা বিভ্রান্তিকর মূল দাবি তৈরি করলেন; এরপর শত শত বা হাজারো স্বয়ংক্রিয় বট অ্যাকাউন্ট সেটিকে মুহূর্তেই ছড়িয়ে দিল। কোথাও বটের কাজ, কোথাও মানুষের অপপ্রচার, আবার কোথাও দুইয়ের সমন্বয়—এর ফলে কোনটা প্রকৃত জনমত আর কোনটা কৃত্রিম অপপ্রচার, তার পার্থক্য ধোঁয়াশা হয়ে যায়।</p>
<p data-path-to-node="14">বাংলাদেশও এই বৈশ্বিক সাইবার বাস্তবতার বাইরে নয়। বিশেষ করে ২০২৪-পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক পরিবর্তন, সামাজিক উত্তেজনা এবং বিভিন্ন আলোচিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভুয়া তথ্য, পুরোনো সংবেদনশীল ভিডিওকে নতুন ঘটনার রূপ দেওয়া, এডিটেড ছবি এবং মনগড়া পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে দেখা গেছে। দেশের ফ্যাক্ট-চেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে এসব অপতথ্য শনাক্ত করছে। একই সঙ্গে প্রযুক্তি বিশ্লেষকেরা লক্ষ্য করেছেন, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে সমন্বিতভাবে একই ধরনের বার্তা প্রচারের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ঘটনার পেছনে পুরোপুরি বট কাজ করেছে কিনা—তা চূড়ান্তভাবে বলতে গভীর প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও অকাট্য প্রমাণের প্রয়োজন।</p>
<p data-path-to-node="15">এখানেই মূল প্রশ্নটি উঠে আসে—বট বাহিনী কি কেবলই একটি কারিগরি বা প্রযুক্তিগত সমস্যা, নাকি এটি গণতন্ত্র, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব এবং নাগরিক সমাজের অস্তিত্বের জন্য এক বিরাট হুমকি?</p>
<p data-path-to-node="16">উত্তরটি বেশ জটিল। কারণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন আর কেবল বিনোদন বা কুশল বিনিময়ের মাধ্যম নয়; এটি রাজনৈতিক আলোচনা, অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, সংবাদ পাঠ এবং জনমত গঠনের প্রধান নিয়ন্ত্রক হয়ে উঠেছে। ফলে এই সামাজিক পরিসরটি যদি কৃত্রিমভাবে বিষাক্ত বা প্রভাবিত করা হয়, তবে তার মাশুল গুণতে হয় বাস্তব জীবনে। মানুষ ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে বিভ্রান্তিকর সিদ্ধান্ত নেয়, সমাজে হিংসা ও বিভাজন বাড়ে, রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক কাঠামোর প্রতি আস্থা কমে যায় এবং সরকার ও নাগরিকের মধ্যে অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয়।</p>
<p data-path-to-node="17">সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই ডিজিটাল তথ্যযুদ্ধে সত্যের চেয়ে মিথ্যার গতি বহুগুণ বেশি। কারণ সত্যকে যাচাই করতে সময়ের প্রয়োজন হয়, অথচ একটি চমকপ্রদ বা উত্তেজনাপূর্ণ গুজব চোখের পলকে কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। পরবর্তীতে তা মিথ্যা প্রমাণিত হলেও, মানুষের মনস্তত্ত্বে এবং সমাজে তার ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই থেকে যায়।</p>
<p data-path-to-node="18">তাই এই আধুনিক ডিজিটাল যুগে বট বাহিনীকে কেবল একটি প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি এখন জাতীয় নিরাপত্তা, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং নাগরিক সচেতনতার সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত এক বৈশ্বিক বাস্তবতা। তথ্যকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করার এই নতুন যুগে যে রাষ্ট্র তথ্যক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না, এবং যে সমাজ তথ্য যাচাইয়ের সুস্থ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে ব্যর্থ হবে—তারা সহজেই এই অদৃশ্য বট বাহিনীর কৃত্রিম জনমত ও বিভাজনের শিকার হবে।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="18">লেখকঃ সভাপতি, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন</p>
<hr>
<p data-path-to-node="18"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>গ্যারেজ নয়, স্বপ্নই ইতিহাস বদলায়: সিলিকন ভ্যালি থেকে সিলিকন রিভার</title>
<link>https://digibanglatech.news/185725</link>
<guid>https://digibanglatech.news/185725</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x580_6a6f47728b462.jpg" length="104806" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 02 Aug 2026 00:35:23 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>সিলিকন রিভার, সিলিকন ভ্যালি, স্টার্টআপ বাংলাদেশ, প্রযুক্তি বিপ্লব, উদ্যোক্তা, অ্যাপল, গুগল, অ্যামাজন, এনভিডিয়া, সেমিকন্ডাক্টর, উদ্ভাবন, তরুণ প্রজন্ম</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="7">অনেকেরই ধারণা, পৃথিবীর বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্ম হয়েছে বিপুল পুঁজি, বিশ্বমানের অবকাঠামো কিংবা একদম অনুকূল ও নিখুঁত পরিবেশে। কিন্তু বাস্তবতার ইতিহাস ঠিক উল্টো। বিশ্ব ইতিহাস আমাদের স্পষ্ট দেখায়, প্রতিটি প্রযুক্তি বিপ্লবের সূচনা হয়েছে সীমাহীন অনিশ্চয়তা, সীমিত সম্পদ এবং অসম্ভবকে সম্ভব করার অদম্য সাহস থেকে। গ্যারেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমিটরি কিংবা ছোট্ট একটি কামরা কখনোই সাফল্যের আসল রহস্য ছিল না। মূল রহস্য লুকিয়ে ছিল মানুষের কল্পনাশক্তি, অবিরত অধ্যবসায় এবং পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার সাহসের মধ্যে।</p>
<p data-path-to-node="8">অ্যাপল (Apple)-এর যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৭৬ সালে, স্টিভ জবসের পরিবারের একটি সাধারণ গ্যারেজে। প্রাথমিক মাত্র ১,৩০০ ডলার পুঁজি জোগাড় করতে স্টিভ জবস তাঁর প্রিয় ভক্সওয়াগেন ভ্যানটি বিক্রি করে দিয়েছিলেন, আর স্টিভ ওজনিয়াক বিক্রি করেছিলেন তাঁর পছন্দের এইচপি (HP) বৈজ্ঞানিক ক্যালকুলেটরটি। সেখানে কোনো ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ছিল না, ছিল না কোনো সরকারি মেগা প্রকল্প কিংবা বিলিয়ন ডলারের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম। ছিল কেবল একটি সুদৃঢ় বিশ্বাস—একদিন প্রতিটি মানুষের হাতে নিজস্ব একটি কম্পিউটার থাকবে। আজ অ্যাপল বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান ও প্রভাবশালী প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান।</p>
<p data-path-to-node="9">গুগল (Google)-এর সূচনা হয়েছিল স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই পিএইচডি শিক্ষার্থী ল্যারি পেজ ও সের্গেই ব্রিনের একটি গবেষণা প্রকল্প হিসেবে। দামি ও শক্তিশালী সার্ভার কেনার সামর্থ্য তখন তাদের ছিল না। তাই সস্তা যন্ত্রাংশ জুড়াতালি দিয়ে তারা নিজস্ব সার্ভার বানিয়েছিলেন, এমনকি সেই হার্ডড্রাইভ রাখার কাঠামোটি তৈরি করেছিলেন শিশুদের ‘লেগো’ (LEGO) খেলনার ব্লক দিয়ে! তাদের লক্ষ্য কিন্তু বিশ্বের সবচেয়ে বড় কোম্পানি হওয়া ছিল না; লক্ষ্য ছিল একটি জটিল ও কঠিন সমস্যার নিখুঁত সমাধান বের করা। সেই সততা ও গবেষণাই আজকের পরাক্রমশালী গুগল।</p>
<p data-path-to-node="10">অ্যামাজন (Amazon) শুরু হয়েছিল জেফ বেজোসের ভাড়া করা একটি গ্যারেজে। তাঁর প্রথম দিকের অফিসের কাজের ডেস্কগুলো বানানো হয়েছিল সাধারণ কাঠের দরজা দিয়ে! তিনি অনলাইনে বই বিক্রি দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিলেন, কারণ তৎকালীন সময়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কাজ শুরু করার জন্য ওটাই ছিল সবচেয়ে সহজ খাত। কিন্তু তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল সুদূরপ্রসারী—ডিজিটাল বাণিজ্যের সম্পূর্ণ ভবিষ্যৎ পুনঃনির্মাণ করা। আজ অ্যামাজন কেবল কোনো ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম নয়; তারা ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স ও গ্লোবাল লজিস্টিকসের বৈশ্বিক নিয়ন্তা।</p>
<p data-path-to-node="11">মেটা বা ফেসবুক (Facebook)-এর জন্ম হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবাসের এক চিলতে কক্ষে। কোনো বিশাল ব্যবসায়িক পরিকল্পনা বা পুঁজি নিয়ে মার্ক জাকারবার্গ নামেননি। ছিল কেবল একটি সামাজিক যোগাযোগের সহজ সমাধান, যা মানুষ ব্যবহার করতে চেয়েছিল। কয়েক মাসের মধ্যেই সেই সাধারণ সমাধান বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।</p>
<p data-path-to-node="12">আজকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) বিপ্লবের মূল চালিকাশক্তি এনভিডিয়া (NVIDIA)-র গল্পটিও সমান অনুপ্রেরণাদায়ক। কোম্পানিটির প্রতিষ্ঠাতারা কোনো বিলাসবহুল করপোরেট বোর্ডরুমে নয়, বরং ডেনিস (Denny’s) নামক একটি সাধারণ রেস্তোরাঁর নাস্তার টেবিলে বসে ভবিষ্যতের স্বপ্ন বুনেছিলেন। তখন খুব কম মানুষই বিশ্বাস করতেন যে, গ্রাফিক্স প্রসেসর (GPU) একদিন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূল ভিত্তি হয়ে উঠবে। কিন্তু তারা নিজেদের ভিশনে বিশ্বাস হারাননি।</p>
<p data-path-to-node="13">একইভাবে মাইক্রোসফট (Microsoft) এমন এক সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, যখন সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত কম্পিউটারের (PC) আদৌ কোনো প্রয়োজন আছে কি না—তা নিয়ে বিশ্বজুড়ে সন্দেহ ছিল। বিল গেটস ও পল অ্যালেনের স্বপ্ন ছিল: <i data-path-to-node="13" data-index-in-node="201">“প্রত্যেক ডেস্কে এবং প্রতিটি ঘরে একটি করে কম্পিউটার থাকবে।”</i> সে সময় বিষয়টিকে চরম অবাস্তব মনে হলেও, আজ সেটিই বাস্তবতা।</p>
<p data-path-to-node="14">ইতিহাস আমাদের খুব স্পষ্টভাবে একটি সত্য শেখায়:</p>
<ul>
<li data-path-to-node="15,0,0">অ্যাপল কেবল গ্যারেজের কারণে সফল হয়নি</li>
<li data-path-to-node="15,1,0">গুগল কেবল লেগো ব্লক দিয়ে সার্ভার বানানোর কারণে বিশ্বের শীর্ষ সার্চ ইঞ্জিন হয়নি</li>
<li data-path-to-node="15,2,0">কিংবা অ্যামাজন কাঠের দরজা কেটে টেবিল বানিয়েছিল বলেই বিশ্বখ্যাত কোম্পানি হয়ে যায়নি</li>
</ul>
<p data-path-to-node="16">তারা সফল হয়েছে কারণ—তারা এমন এক ভবিষ্যৎ কল্পনা করতে পেরেছিল, যা অন্যরা তখন ধারণাও করতে পারেনি। তাইওয়ান (TSMC) যেমন সেমিকন্ডাক্টর ‘ফাউন্ড্রি’ কনসেপ্ট এনে বৈশ্বিক চিপ শিল্পে নিজেদের অপরিহার্য করে তুলেছে, কিংবা দক্ষিণ কোরিয়া যেমন শুরু থেকেই মেমোরি চিপ প্রযুক্তিতে নিজেদের একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করেছে।</p>
<p data-path-to-node="17">যারা ভারতের আইটি আধিপত্যের অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশের ‘সিলিকন রিভার’ (Silicon River) স্বপ্নের অসম্ভাব্যতা নিয়ে ঘ্যানঘ্যান করেন, তাদের জেনে রাখা ভালো—কষ্টসহিষ্ণু ও দক্ষ প্রোগ্রামিং জনশক্তি হলো ভারতের ব্র্যান্ড। তারা যেকোনো করপোরেট কাঠামোর ছাঁচে নিজেদের মানিয়ে নিতে পারে।</p>
<p data-path-to-node="18">কিন্তু রক্ত দিয়ে রক্তিম ইতিহাস লেখা আমাদের তরুণ প্রজন্মের মানসিকতা ভিন্ন! তাদের যে জেদ, অহংকার, অপ্রতিরোধ্য ঘাউরামি, এমনকি ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা নিয়ে মারামারি আর রাজনীতি নিয়ে তীব্র আবেগ—আমাদের সেই দ্রোহ ও আগুনকে সঠিক পথে কাজে লাগাতে হবে। আমাদের কাজ হবে একদম নতুন প্রোডাক্ট, সার্ভিস ও কনসেপ্ট তৈরি করে সেগুলোর বৈশ্বিক মালিকানা (Ownership) নিজেদের হাতে নেওয়া। আমাদের সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড হবে: <b data-path-to-node="18" data-index-in-node="388">স্বল্প খরচে ও দ্রুততম সময়ে যেকোনো ইউনিক ‘আইডিয়া’কে সফল ‘প্রোডাক্টে’ রূপান্তর করার ক্ষমতা।</b></p>
<p data-path-to-node="19">বাংলাদেশের আজ প্রয়োজন হাজার হাজার গ্যারেজ, গবেষণাগার, দেশীয় স্টার্টআপ, ডিজাইন সেন্টার, উদ্ভাবনী প্রকৌশলী দল, সাহসী তরুণ এবং একটি বলিষ্ঠ জাতীয় স্বপ্ন। উবার (Uber) দেখে আমরা ‘পাঠাও’ বানিয়েছি সত্য; কিন্তু এখন আমাদের চিন্তা করতে হবে উবারের চেয়েও উন্নত ভার্সন কী হতে পারে! কম জ্বালানি, স্বল্প খরচ, পরিবেশবান্ধব, দ্রুত ও শতভাগ নিরাপদ রাইড-শেয়ারিং মডেল নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="20">একটি জাতি তখনই রূপান্তরিত হয়, যখন তার নাগরিকেরা নিরাশ হয়ে প্রশ্ন করা বন্ধ করে—<i data-path-to-node="20" data-index-in-node="78">“এখানে কেন হয় না?”</i>—বরং বুক চিতিয়ে উল্টো প্রশ্ন করে—<b data-path-to-node="20" data-index-in-node="129"><i data-path-to-node="20" data-index-in-node="129">“কেন হবে না?”</i></b></p>
<div class="xdj266r x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs x126k92a">
<div dir="auto"><strong>তাহলে সিলিকন ভ্যালি কীভাবে তৈরি হলো?</strong></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">অনেকে মনে করেন, সিলিকন ভ্যালি সফল হয়েছে কারণ ক্যালিফোর্নিয়া ধনী ছিল। কিন্তু এটি অ্যাকিউরেট নয়।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">১৯৪০-এর দশক পর্যন্ত বর্তমান সিলিকন ভ্যালি ছিল মূলত ফলের বাগানের অঞ্চল, যার নাম ছিল Valley of Heart’s Delight। এপ্রিকট, চেরি ও জলপাইয়ের জন্য অঞ্চলটি পরিচিত ছিল, মাইক্রোচিপের জন্য নয়।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">পরিবর্তনের সূচনা হয় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ফ্রেডেরিক টারম্যান-এর হাত ধরে (খেয়াল করবেন ইনি একজন অধ্যাপক)। তিনি তাঁর ছাত্রদের শুধু চাকরি খুঁজতে বলেননি; নতুন কোম্পানি গড়তে উৎসাহিত করেছিলেন। সেই ছাত্রদের মধ্যেই ছিলেন বিল হিউলেট ও ডেভ প্যাকার্ড, যারা পরে Hewlett-Packard প্রতিষ্ঠা করেন।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য Stanford Research Park গড়ে তোলে। বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার, উদ্যোক্তা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং সরকার একই ইকোসিস্টেমে কাজ করতে শুরু করে।  এরপর আসে Shockley Semiconductor। সেখান থেকে বেরিয়ে আসা বিখ্যাত Traitorous Eight প্রতিষ্ঠা করেন Fairchild Semiconductor। আর Fairchild থেকেই জন্ম নেয় Intel, AMD, National Semiconductor-সহ অসংখ্য প্রতিষ্ঠান। অর্থাৎ, সিলিকন ভ্যালির জন্ম কোনো একক কোম্পানির মাধ্যমে নয়। এটি তৈরি হয়েছে একটি ইকোসিস্টেম থেকে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><strong>বাংলাদেশের আজকের অবস্থান</strong></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, আজ বাংলাদেশের হাতে এমন কিছু শক্তি রয়েছে, যা Apple, Google কিংবা NVIDIA-এর প্রতিষ্ঠাতাদের কাছে ছিল না।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আজ বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ২০,০০০-এরও বেশি প্রকৌশলী স্নাতক হচ্ছেন। বিশ্বজুড়ে রয়েছেন হাজার হাজার বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক পেশাজীবী, যারা বিশ্বের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, ওপেন-সোর্স প্রযুক্তি, RISC-V, অনলাইন শিক্ষা এবং বৈশ্বিক সহযোগিতার সুযোগ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বাংলাদেশ এখন সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেককে জাতীয় অগ্রাধিকারের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">তাহলে প্রশ্ন হলো, যদি তারা এত সীমাবদ্ধতার মধ্যেও পৃথিবী বদলে দিতে পারে, তাহলে বাংলাদেশ কেন পারবে না?</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">কারণ কি আর কেউ পারেনি? পারে নাই কেন?</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">কারণ শুধু মেধাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন একটি ইকোসিস্টেম। প্রয়োজন এমন একটি পরিবেশ, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, সরকার, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞরা একই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেন।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">প্রয়োজন এমন একটি জাতীয় উদ্দেশ্য, যা তরুণদের বলে, “তোমাদের কাজ শুধু নিজের ক্যারিয়ার গড়া নয়; একটি নতুন বাংলাদেশ গড়া।”</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এখানেই সিলিকন রিভারের দর্শন: Silicon River কোনো সংগঠনের নাম নয়।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এটি একটি জাতীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আন্দোলন।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">যেমন স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় সিলিকন ভ্যালির বীজ বপন করেছিল, তেমনি BSIA এবং বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে Silicon River।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">যেমন Fairchild Semiconductor থেকে অসংখ্য নতুন কোম্পানির জন্ম হয়েছিল, তেমনি আজকের বাংলাদেশি তরুণদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা তৈরি করার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে Silicon River। </div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">যেমন সিলিকন ভ্যালি বিশ্বজুড়ে প্রতিভাকে একত্র করেছিল, তেমনি Silicon River বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, শিল্পসংযোগ এবং সুযোগকে দেশের উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করছে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এই লক্ষ্যেই শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক রোডশো, বিশ্ববিদ্যালয়-শিল্প অংশীদারিত্ব, বৈশ্বিক ইন্টার্নশিপ, গবেষণা সহযোগিতা, দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি, National Semiconductor Symposium, BEAR Summit, BEAR to CES উদ্যোগ এবং আরও বহু কার্যক্রম।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">প্রতিটি উদ্যোগ আলাদা মনে হতে পারে। কিন্তু সবগুলো মিলে তৈরি করছে বাংলাদেশের আগামী প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আমাদের লক্ষ্য সিলিকন ভ্যালিকে অনুকরণ করা নয়।  আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশের নিজস্ব পরিচয়ে একটি নতুন উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। সিলিকন ভ্যালির শক্তি ছিল ভেঞ্চার ক্যাপিটাল। সিলিকন রিভারের শক্তি হবে জাতীয় উদ্দেশ্য, তরুণ জনগোষ্ঠী, বৈশ্বিক প্রবাসী নেটওয়ার্ক, জ্ঞান, গবেষণা এবং সম্মিলিত নেতৃত্ব।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">সিলিকন ভ্যালি বিশ্বকে কম্পিউটিংয়ের নতুন যুগ উপহার দিয়েছে। সিলিকন রিভারের স্বপ্ন, বাংলাদেশকে এমন একটি দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, যেখানে সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স, বায়োইলেকট্রনিক্স এবং ডিপ-টেকের মাধ্যমে বিশ্বের সমস্যার সমাধান তৈরি হবে। যাতে সবাই আমাদের উপরে নির্ভর করে এই বিষয়গুলোতে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">ইনশাআল্লাহ এটাই হবে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, বৈশ্বিক শক্তিশালী অবস্থান এর অন্যতম ভিত্তি। আর জাতীয় পর্যায়ে সেলফ গভর্নেন্স । জনগণ চাইলে এক হয়ে অনেক কিছু করতে পারে ইনশাআল্লাহ।</div>
</div>
<p data-path-to-node="21">এগুলো কোনো ফাঁকা বুলি বা রোমান্টিক কথা নয়। জীবন ও ইতিহাস থেকে নেওয়া শিক্ষা থেকেই এই যৌক্তিক সত্য উঠে এসেছে—যা আমাদের দেশের তথাকথিত ভীরু-কা পুরুষদের নেই। তাদের অভাব সাহসের, অভাব অদম্য ইচ্ছাশক্তির, উদ্যমের এবং অমানুষিক পরিশ্রম করার সাধ্য ও সাধনার।</p>
<p data-path-to-node="22">মহান আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।</p>
<p data-path-to-node="24"><b data-path-to-node="24" data-index-in-node="0">পুনশ্চ:</b> গত এক সপ্তাহে দেশের মূলধারার সংবাদপত্রগুলো যেন সেমিকন্ডাক্টর বিষয়ের লেখায় সয়লাব হয়ে গেছে! হঠাৎ করেই দেখা যাচ্ছে সবাই সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞ বনে গেছেন—ব্যারিস্টার, সাবেক এমপি, কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ, পিএইচডি শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বহু সম্মানীয় শিক্ষক-অধ্যাপক। অথচ এদের অনেকের সঙ্গেই সরাসরি সেমিকন্ডাক্টর বিষয়ের দূরতম কোনো একাডেমিক বা প্রায়োগিক সম্পর্ক নেই! যার যেভাবে মনে আসছে, সেভাবেই অনলাইন ও পত্রিকায় বয়ান দিয়ে যাচ্ছেন। আমরাও বাধ্য হয়ে তা পড়ছি ও শুনছি। কেউ প্রগাঢ় জ্ঞান দিচ্ছেন, কেউবা হালকা কথার তর্ল গড়াচ্ছেন। সেলুকাস! হে আল্লাহ, আমাদের রক্ষা করো!</p>
<hr>
<p data-path-to-node="24"><strong>লেখকঃ</strong> চিফ আর্কিটেক্ট, সিলিকন রিভার; <span>অধ্যাপক, পারডু বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ানা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র</span></p>
<hr>
<p data-path-to-node="24"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল পেমেন্ট সংস্কার: আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত</title>
<link>https://digibanglatech.news/185630</link>
<guid>https://digibanglatech.news/185630</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x580_6a6dfd695cc06.jpg" length="85737" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 01 Aug 2026 10:06:22 +0600</pubDate>
<dc:creator>সাহাব উদ্দিন শিপন</dc:creator>
<media:keywords>ডিজিটাল পেমেন্ট, ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট, বাংলাদেশ ব্যাংক সার্কুলার, ফ্রিল্যান্সিং আয়, ডিভিএ (DVA), ফিনটেক, ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স, পেপাল বাংলাদেশ, ডিজিটাল এক্সপোর্ট</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="5">রাত তখন প্রায় সাড় এগারোটা। ঢাকার মিরপুরের একটি ছোট্ট ফ্ল্যাটে বসে সুস্মিতা তার ল্যাপটপের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে আছে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি সফটওয়্যার কোম্পানির হয়ে সে গত তিন বছর ধরে ফ্রিল্যান্স ডিজাইনার হিসেবে কাজ করছে। কাজ শেষ, ক্লায়েন্ট সন্তুষ্ট, ইনভয়েসও পাঠানো হয়ে গেছে। কিন্তু পারিশ্রমিক হাতে পেতে এখনও লাগবে কিছুদিন—মাঝখানে থাকবে একাধিক ইন্টারমিডিয়ারি (Intermediary), কারেন্সি কনভার্সন চার্জ (Currency conversion charge) এবং একটি দীর্ঘ জটিল প্রক্রিয়া। সুস্মিতার মতো লক্ষাধিক তরুণ-তরুণী প্রতিদিন এই বাস্তবতার মুখোমুখি হন। তাদের দক্ষতা আন্তর্জাতিক মানের, কিন্তু তাদের ব্যবহারের জন্য থাকা পেমেন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার (Payment infrastructure) এখনও বৈশ্বিক অর্থনীতির গতির সঙ্গে পুরোপুরি তাল মেলাতে পারেনি।</p>
<p data-path-to-node="6">আমি এক দশকের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের ই-কমার্স (E-commerce) ও ডিজিটাল ইকোনমির (Digital economy) নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থেকেছি। ই-ক্যাব (e-CAB)-এর দায়িত্বে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, ব্যাংক, ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোক্তাদের সঙ্গে কাজ করার সময় বারবার একটি প্রশ্ন উঠে এসেছে: আমাদের উদ্যোক্তারা বিশ্বমানের পণ্য ও সেবা তৈরি করলেও কেন ক্রস-বর্ডার (Cross-border) অর্থ আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে এত বাধার মুখে পড়েন? সমস্যা কখনোই দক্ষতার ছিল না—সমস্যা ছিল ফাইন্যান্সিয়াল কানেক্টিভিটির (Financial connectivity)।</p>
<p data-path-to-node="7">২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ পলিসি ডিপার্টমেন্ট-১ (FEPD-1) থেকে জারি হওয়া সার্কুলার নম্বর ২৫ এই দীর্ঘদিনের সমস্যার একটি গুরুত্বপূর্ণ, যদিও আংশিক, সমাধানের কাঠামো তৈরি করেছে। এই লেখায় আমি সার্কুলারটি প্রকৃতপক্ষে কী প্রবর্তন করছে, এর ওপর আমার পেশাগত বিশ্লেষণ কী, এবং ভবিষ্যতের জন্য আমার সুপারিশ কী—এই তিনটি স্তরে আলাদা করে তুলে ধরব।</p>
<p data-path-to-node="9"><strong>কেন এই সংস্কার জরুরি ছিল?</strong><br>গত এক দশকে বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতি রূপান্তরিত হয়েছে। আগে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বলতে মূলত ভৌত পণ্য রপ্তানিকে বোঝানো হতো। এখন একটি সফটওয়্যার কোড (Software code), একটি ডিজাইন সার্ভিস (Design service), একটি স্যাস সাবস্ক্রিপশন (SaaS subscription) বা একটি ডিজিটাল প্রোডাক্টও (Digital product) মূল্যবান রপ্তানিযোগ্য সম্পদ। দেশের ই-কমার্স খাত প্রতিবছর বিস্তৃত হচ্ছে, ফ্রিল্যান্সিং অর্থনীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ, আর তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ সফটওয়্যার ও স্যাস ব্যবসায় বিনিয়োগ করছে।</p>
<p data-path-to-node="10">কিন্তু পেমেন্ট অবকাঠামো এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারেনি। ফ্রিল্যান্সাররা বিদেশি পেমেন্ট গ্রহণে সীমিত মাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন, লেনদেনে বিলম্ব হয়েছে নিয়মিত। সফটওয়্যার রপ্তানিকারকরা আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্টের কাছ থেকে সাবস্ক্রিপশন রাজস্ব সংগ্রহে জটিলতায় পড়েছেন। স্যাস কোম্পানিগুলোর জন্য মাসিক রিকারিং পেমেন্ট (Recurring payment) ও বৈশ্বিক গ্রাহক বিলিং (Global billing) প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো বিদেশি ক্রেতার পেমেন্ট গ্রহণ ও বৈশ্বিক মার্কেটপ্লেসের (Marketplace) সঙ্গে সংযুক্তির ক্ষেত্রে বারবার বাধাগ্রস্ত হয়েছে।</p>
<p data-path-to-node="12"><strong>সার্কুলারে কী পরিবর্তন আসছে?</strong><br>সার্কুলারটি একটি ব্যাংক-ইন্টারমিডিয়েটেড ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট (Bank-Intermediated Cross-border Digital Payment) কাঠামো প্রবর্তন করেছে, যার মাধ্যমে অথরাইজড ডিলার (Authorized Dealer - AD) ব্যাংকগুলো বিদেশি পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (PSP), ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডার (OPGSP) এবং অন্যান্য বৈধ পেমেন্ট সলিউশন প্রোভাইডার—যাদের সার্কুলারে ‘ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার’ বা সিডিপএসপি (CDPSP) বলা হয়েছে—তাদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারবে।</p>
<p data-path-to-node="13">এই কাঠামোর কেন্দ্রে আছে ডিজিটাল ভ্যালু একাউন্ট বা ডিভিএ (Digital Value Account - DVA)। সহজ ভাষায়, DVA হলো একজন ব্যক্তির নামে CDPSP-র কাছে রক্ষিত একটি রেগুলেটেড ডিজিটাল ওয়ালেট (Regulated Digital Wallet) বা স্টোরড-ভ্যালু একাউন্ট (Stored-Value Account), যেখানে বৈদেশিক মুদ্রা জমা রাখা যাবে। তবে এটি কোনো স্বাধীন ওয়ালেট নয়—প্রতিটি DVA বাধ্যতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের একটি মাস্টার DVA বা সেটেলমেন্ট একাউন্টের (Settlement Account) অধীনে সাব-একাউন্ট (Sub-Account) হিসেবে কাজ করবে, এবং ব্যাংক প্রতিটি লেনদেনের একটি মিরর লেজার (Mirror Ledger) সংরক্ষণ করবে।</p>
<p data-path-to-node="14">সাধারণ মানুষের জন্য এর অর্থ কী? একজন ফ্রিল্যান্সার তার ব্যাংকের মাধ্যমে অনুমোদিত CDPSP-র কাছে একটি DVA খুলতে পারবেন, যা সরাসরি তার ব্যাংকের সঙ্গে রিয়েল-টাইমে (Real-time) সংযুক্ত থাকবে। এতে স্বচ্ছতা বাড়লেও ব্যক্তিগত ডিজিটাল ওয়ালেটের স্বাধীনতা সীমিত থাকবে—ব্যাংকিং তদারকি (Banking Oversight) ও রেগুলেটরি কন্ট্রোল (Regulatory Control) পুরোপুরি বজায় থাকবে।</p>
<p data-path-to-node="15">সার্কুলারে আরও কিছু সুবিধার কথা বলা হয়েছে। ভ্রমণ, চিকিৎসা বা সরকারি সফরের জন্য বৈদেশিক মুদ্রা বরাদ্দ এখন DVA-র মাধ্যমে সহজতর হবে। রপ্তানি ধারণকারী কোটা (ERQ) ও আবাসিক বৈদেশিক মুদ্রা আমানত (RFCD) হিসাবের অর্থ DVA-তে লোড করে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে—যদিও রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিনজন শীর্ষ কর্মকর্তা এই সুবিধা ব্যবহার করতে পারবেন। DVA ধারীরা প্রতি ট্রানজেকশনে (Transaction) সর্বোচ্চ ৩০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অনলাইন পেমেন্ট করতে পারবেন—সদস্যপদ ফি, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যয়, ভিসা ফি বা হোটেল বুকিংয়ের জন্য। সবক্ষেত্রে ব্যাংককে নিয়মিত প্রতিবেদন দিতে হবে এবং কেওয়াইসি (KYC), সিডিডি (CDD) ও এএমএল/সিএফটি (AML/CFT) নিয়ম কড়াকড়িভাবে মেনে চলতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="17"><strong>পেপাল, পেওনিয়ার বা স্ট্রাইপ কি সরাসরি চালু হয়ে গেল?</strong><br>উত্তরটি হলো—না। এই সার্কুলার পেপাল (PayPal), পেওনিয়ার (Payoneer), স্ট্রাইপ (Stripe), উইচ্যাট পে (WeChat Pay) বা আলিপে (Alipay)-র মতো বৈশ্বিক পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মকে সরাসরি বাংলাদেশে চালু করে দিচ্ছে না। বরং এটি একটি রেগুলেটরি পাথওয়ে (Regulatory Pathway) তৈরি করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশি ব্যাংক ও অনুমোদিত পেমেন্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে এসব বৈশ্বিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ে তুলতে পারে। এই সেবাগুলো কবে, কীভাবে চালু হবে—তা নির্ভর করবে ব্যাংক-CDPSP চুক্তি এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।</p>
<p data-path-to-node="18">এখানে চারটি ধারণার পার্থক্য স্পষ্ট করা দরকার: ১. <b data-path-to-node="18" data-index-in-node="49">পেমেন্ট গেটওয়ে (Payment Gateway):</b> অনলাইন ট্রানজেকশন প্রক্রিয়াকরণের প্রযুক্তি। ২. <b data-path-to-node="18" data-index-in-node="131">ডিজিটাল ওয়ালেট (Digital Wallet):</b> অর্থ জমা রেখে লেনদেনের মাধ্যম। ৩. <b data-path-to-node="18" data-index-in-node="198">মার্চেন্ট একাউন্ট (Merchant Account):</b> ব্যবসায়ীদের কার্ড-ভিত্তিক পেমেন্ট গ্রহণের সুযোগ। ৪. <b data-path-to-node="18" data-index-in-node="288">ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট নেটওয়ার্ক (International Payment Network):</b> বিভিন্ন দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সংযুক্তকারী নেটওয়ার্ক।</p>
<p data-path-to-node="19">DVA কাঠামো মূলত এই চার স্তরের মধ্যে একটি রেগুলেটেড ব্রিজ (Regulated Bridge) হিসেবে কাজ করবে, এটি নিজেই সরাসরি একক কোনো সমাধান নয়।</p>
<p data-path-to-node="21"><strong>বাস্তব জীবনে এর প্রভাব</strong><br>সুস্মিতার মতো ফ্রিল্যান্সাররা এখন অনুমোদিত DVA খুলে বিদেশি ক্লায়েন্টের পেমেন্ট আগের চেয়ে সংগঠিতভাবে গ্রহণ করতে পারবেন, যদিও এর গতি নির্ভর করবে ব্যাংক-CDPSP সংযুক্তির কারিগরি দক্ষতার ওপর। রংপুরের একজন নারী উদ্যোক্তা, যিনি দেশীয় হস্তশিল্প বিশ্ববাজারে বিক্রি করেন, তিনি রপ্তানি আয় প্রত্যাবাসনের (Repatriation) একটি স্পষ্টতর কাঠামো পাবেন। ঢাকার একটি স্যাস স্টার্টআপ (SaaS Startup) ধীরে ধীরে এমন একটি ব্যাংকিং পরিবেশ পেতে পারে যেখানে রিকারিং ইন্টারন্যাশনাল বিলিং (Recurring International Billing) সহজতর হবে। আর বিদেশে চিকিৎসা বা শিক্ষা ফি পরিশোধের ক্ষেত্রেও অনলাইন পেমেন্টের সীমা ও প্রক্রিয়া আগের চেয়ে স্পষ্ট হয়েছে।</p>
<p data-path-to-node="22">তবে মনে রাখা দরকার—এই সুবিধাগুলো এখনও শতভাগ বাস্তবায়নের পর্যায়ে যায়নি। ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে এবং CDPSP-দের সঙ্গে প্রযুক্তিগত ইন্টিগ্রেশন (Technical Integration) গড়ে তুলতে হবে। সার্কুলারটি একটি মজবুত ভিত্তি (Foundation) তৈরি করেছে, বাস্তব সুফল পেতে এখন প্রয়োজন এর সঠিক ও দ্রুত বাস্তবায়ন (Effective Implementation)।</p>
<p data-path-to-node="24"><strong>ভারসাম্যপূর্ণ মূল্যায়ন</strong><br>বাংলাদেশ ব্যাংক এই সার্কুলারের মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সঠিক পথে হেঁটেছে। এটি রেগুলেটরি স্বচ্ছতা এনেছে—আগে যে গ্রে এরিয়াতে (Grey area) ফ্রিল্যান্সার ও ব্যবসায়ীরা কাজ করতেন, এখন সেখানে একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি হয়েছে। এটি একটি নিয়ন্ত্রিত মডেল—সবকিছু সম্পূর্ণ উন্মুক্ত না করে ধাপে ধাপে সংস্কারের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে। আর আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনার সিদ্ধান্ত মানি লন্ডারিং ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত সহায়তায় করবে।</p>
<p data-path-to-node="25">তবে চ্যালেঞ্জ থেকেই যাচ্ছে। অনেক ব্যাংকের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এখনও রিয়েল-টাইম সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের (Real-time System Integration) জন্য প্রস্তুত নয়। বাস্তবায়নের খরচ ছোট ও মাঝারি ব্যাংকের জন্য বড় বাধা হতে পারে। বৈশ্বিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কগুলোর সঙ্গে প্রকৃত সংযুক্তি তৈরি করাও এখনও কিছুটা অনিশ্চিত। সাইবার সিকিউরিটি (Cybersecurity), ডেটা প্রটেকশন (Data Protection) ও ভোক্তার আস্থা অর্জন করতে সময় লাগবে, এবং মার্চেন্টদের গ্রহণের হারও (Merchant Adoption Rate) একটি দেখার বিষয়।</p>
<p><strong>ভবিষ্যতের করণীয়</strong><br><strong>বাংলাদেশ ব্যাংক: </strong>অবিলম্বে একটি সুনির্দিষ্ট ইমপ্লিমেন্টেশন রোডম্যাপ (Implementation Roadmap) প্রকাশ করা উচিত, যেখানে সময়সীমা ও প্রত্যাশিত ফলাফল নির্দিষ্ট থাকবে। পাশাপাশি শিল্প খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়মিত পরামর্শ বজায় রাখতে হবে।<br><strong>বাণিজ্য মন্ত্রণালয়:</strong> একটি সমন্বিত ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স (Cross-border E-commerce) নীতিমালা প্রণয়নে এগিয়ে আসতে হবে।<br><strong>আইসিটি বিভাগ: </strong>সুস্পষ্ট ডিজিটাল এক্সপোর্ট স্ট্র্যাটেজি (Digital Export Strategy) তৈরি করা জরুরি।<br><strong>জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (NBR): </strong>ডিজিটাল এক্সপোর্ট আয়ের ওপর কর প্রক্রিয়া সহজ ও পূর্বানুমানযোগ্য করা উচিত, বিশেষত ছোট উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে।<br><strong>ব্যাংক খাত: </strong>প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে যাতে রিয়েল-টাইম ইন্টিগ্রেশনের স্ট্যান্ডার্ড পূরণ করা যায়।<br><strong>ফিনটেক খাত: </strong>ব্যাংক ও CDPSP-দের মধ্যে সেতুবন্ধনকারী নির্ভরযোগ্য টেকনোলজি সলিউশন তৈরি করতে পারে।<br><strong>ই-কমার্স খাত: </strong>পণ্যের মান, লজিস্টিকস, কমপ্লায়েন্স ও গ্রাহকসেবাসহ সার্বিক বৈশ্বিক বাজারের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="29">বাংলাদেশের সামনে এখন একটি ঐতিহাসিক সুযোগ—আঞ্চলিক ডিজিটাল ট্রেড, ডিজিটাল এক্সপোর্ট ও ক্রস-বর্ডার পেমেন্টের একটি উদীয়মান কেন্দ্র হয়ে ওঠার সুযোগ। FEPD-1 সার্কুলার এই দীর্ঘ যাত্রার একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা, উদ্ভাবন এবং বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারি সংস্থা, ব্যাংক, ফিনটেক প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত সহযোগিতার ওপর।</p>
<p data-path-to-node="30">সুস্মিতার মতো লক্ষ লক্ষ তরুণ-তরুণীর স্বপ্ন এখন এই সংস্কারের সফল বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করছে। সঠিক সিদ্ধান্ত, দ্রুত বাস্তবায়ন এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগ বজায় থাকলে আগামী দশকে বাংলাদেশ শুধু ভৌত পণ্য রপ্তানির দেশ নয়; বরং ডিজিটাল সার্ভিস, প্রযুক্তি ও ইনোভেশনের মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে একটি শক্তিশালী ডিজিটাল ইকোনমি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে।</p>
<div class="post-text mt-4"><hr>
<p><strong>লেখক :</strong><span> </span>সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ই-ক্যাব</p>
<hr>
<p></p>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বিনিয়োগের জটিল পাজল ও ডিপিআই: বাংলাদেশে টেকসই বিনিয়োগের পথরেখা</title>
<link>https://digibanglatech.news/185752</link>
<guid>https://digibanglatech.news/185752</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202608/image_870x580_6a6f876a90213.jpg" length="77098" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 01 Aug 2026 00:10:22 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>বিনিয়োগ পাজল, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, ডিপিআই (DPI), বিডা (BIDA), ওয়ান স্টপ সার্ভিস, ন্যাশনাল ইন্টারঅপারেবিলিটি, ডেটা গভর্নেন্স, বৈদেশীক বিনিয়োগ (FDI), ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, সাইলো প্রজেক্ট</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="5">বাংলাদেশে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) কিংবা অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগ—কোনোটিই আশানুরূপ বাড়ছে না। বিডা (BIDA) বা সার্বিক উন্নয়ন কাঠামোর আওতায় এ নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হলেও টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে জটিল মনে হলেও এর গোড়ার সমস্যাগুলো একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত।</p>
<p data-path-to-node="6">বাংলাদেশের মতো আকর্ষণহীন বিনিয়োগ গন্তব্যে মূলধন আনাটা মূলত একটি জটিল রিয়েল-লাইফ পাজল (Real-life puzzle) মেলাবার মতো। এই পাজল সঠিকভাবে সমাধান না করে কেবল লাক্সারি অফিস তৈরি, একের পর এক আলোঝলমলে ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজন কিংবা চীন-জাপানে নতুন দফতর খুলে অর্থ গচ্চা দিলে কোনো বড় পরিবর্তন আসবে না। এতে হয়তো সামান্য কিছু দৃশ্যমান উন্নয়ন দেখা যাবে, তবে প্রকৃত বা উল্লেখযোগ্য 'ডেল্টা চেঞ্জ' (Delta change) আসবে না।</p>
<p data-path-to-node="7">বিনিয়োগ পাজলের প্রধান বাধাটি শুরু হয় খাতভেদে ১২ থেকে ১৮টি বিভিন্ন পারমিশন বা ছাড়পত্র নেওয়ার দীর্ঘসূত্রতা থেকে। বিদেশি বা দেশি—কোনো বিনিয়োগকারীরই বছরের পর বছর বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ঘুরে এসব ছাড়পত্র সংগ্রহ করার সময় বা ধৈর্য নেই। অথচ আমরা আজও তাদের একটি কার্যকর 'ওয়ান স্টপ সার্ভিস' (One Stop Service - OSS) দিতে পারছি না। সিঙ্গেল সার্ভিস উইন্ডোর নামে আমরা কেবল সময় নষ্ট করছি। এখন পর্যন্ত যে টুকটাক কাজ হয়েছে, সেগুলো মূলত একেকটি আইসোলেটেড ‘সাইলো’ (Silo) বা ডিজিটাল আইল্যান্ড (Digital Island)—যা আদতে একটি আই-ওয়াশ মাত্র।</p>
<p data-path-to-node="8">এক্ষেত্রে যেসব পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কাজ করছে—যেমন পিডব্লিউসি (PwC), বোস্টন কনসালটিং গ্রুপ (BCG) কিংবা স্থানীয় কনসালট্যান্টরা—তারা অধিকাংশই পুরোনো আমলের আমলাতান্ত্রিক ধাঁচে অকার্যকর রূপরেখা বিক্রি করে আসছে। গত এক দশক ধরে তারা একই খসড়া বিক্রি করেছে, পুরোনো ডিভাইসের বাণিজ্য করেছে। ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের (Digital Transformation) প্রকৃত রূপ রূপায়ন ও কৌশল সম্পর্কে তাদের নিজেদেরই ধারণা সীমিত। এটি কোনো ধারণানির্ভর কথা নয়, বরং দীর্ঘদিনের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে নেওয়া বাস্তব উপলব্ধি।</p>
<p data-path-to-node="9">বাংলাদেশের আজ প্রয়োজন ‘এন্ড-টু-এন্ড ন্যাশনাল ইন্টারঅপারেবিলিটি’ (End-to-End National Interoperability)। নতুন কোনো ডিজিটাল আইল্যান্ড বা বিচ্ছিন্ন সাইলো নয়; বরং এমন একটি ব্যবস্থা যা দেশের সব ডেটাবেজের মধ্যে একটি সুরক্ষিত কানেক্টিভিটি হাইওয়ে (Connectivity Highway) তৈরি করবে। এই জাতীয় হাইওয়ে তৈরি থাকলে তার ওপর ভিত্তি করে যখন-তখন নতুন ও উদ্ভাবনী সার্ভিস লেয়ার (Service layer) কিংবা অ্যাপ্লিকেশন যুক্ত করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, আমাদের দ্রুত 'ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার' (DPI) গড়ে তুলতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="10">কিন্তু আমরা যদি ডিপিআই-কে কেন্দ্রীয় জাতীয় এজেন্ডা না বানাই, তবে ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নিজেদের মতো করে পৃথক পৃথক আইসিটি প্রজেক্ট করতে থাকবে। এতে আরও কিছু নতুন সাইলো বা ডিজিটাল দ্বীপ তৈরি হবে ঠিকই, কিন্তু প্রকৃত ডিপিআই বা টেকসই সমাধান কখনোই আসবে না।</p>
<p data-path-to-node="11">বিশ্বব্যাংকের ২৫০ মিলিয়ন ডলার অর্থায়নে পরিচালিত 'সিটা' (CITA) প্রকল্পটি যখন একনেকে (ECNEC) ওঠার কথা, তখন আমি জোর দিয়ে বলেছিলাম—এই পুরো তহবিলকে 'ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার' (DPI) এজেন্ডায় ডাইভার্ট করতে হবে এবং এর আওতায় সেক্টরাল ইন্টার-অপারেবিলিটি হাব ও এক্সচেঞ্জ গড়ে তুলতে হবে। বিষয়টি রিভিউ করার জন্য ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ স্যার দায়িত্ব দেওয়ার পর আমি এনবিআর (NBR), বিবিএস (BBS), মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (CAG), পাবলিক প্রকিউরমেন্ট কর্তৃপক্ষ এবং পরিকল্পনা কমিশনের সাথে যৌথ বৈঠক করি। দেশি-বিদেশি ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে টিএপিপি (TAPP) ও ডিপিপি-র (DPP) ওপর একটি বিস্তারিত ৩৪ পৃষ্ঠার রিভিউ ফিডব্যাক জমা দিই। পরবর্তীতে আইসিটি বিভাগের 'ডি-স্টার' (D-STAR) প্রজেক্টটিকেও আমরা আমূল রূপান্তর করে ডিপিআই এজেন্ডার আওতায় এনেছি এবং এর ডিপিপিতে আর্কিটেকচার ও হাই-লেভেল স্পেসিফিকেশন তৈরি করে দিয়েছি।</p>
<p data-path-to-node="12">এখন নির্বাচিত কিংবা দায়বদ্ধ সরকারকে এই দুটি কাজ ঠিকঠাক বাস্তবায়ন করতে হবে। ডিপিপি-কে সঠিক টেকনিক্যাল স্পেসিফিকেশনে রূপান্তর করে টেন্ডারিংয়ে যেতে হবে এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। ১১ মাসের সংক্ষিপ্ত মেয়াদে সাধ্যের সবটুকু দিয়ে আমি যে ভিত্তিমূল তৈরি করেছি, তার চেয়ে বেশি হয়তো ওই সময়ে সম্ভব ছিল না। তবে এই দুটি প্রকল্প ঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে ডিপিআই-এর মূল ফাউন্ডেশন দাঁড়িয়ে যাবে—একটি 'অল-টু-অল' (All-to-All) বা 'অল-এপিআই' (All-API) কানেক্টিভিটি তৈরি হবে। গড়ে উঠবে সেন্ট্রাল সিকিউর এক্সচেঞ্জ ও বিভিন্ন সেক্টরাল এক্সচেঞ্জ।</p>
<p data-path-to-node="13">তখন আর কোনো বিনিয়োগকারীকে আবেদন করার জন্য ১২টি দফতর ঘুরে ১৮টি সার্টিফিকেট ম্যানুয়ালি আপলোড করতে হবে না। রুট-কি ভেরিফাইড ই-সিগনেচার (Root-key verified e-signature) ও রিয়েল-টাইম অথেন্টিকেশনের মাধ্যমে সবকিছু স্বয়ংক্রিয়ভাবে সিস্টেম যাচাই করে নেবে। ডেটার ক্রস-ডোমেইন চেক, জাল ডকুমেন্ট শনাক্তকরণ, ফোর্জারি প্রতিরোধ, রাজস্ব ফাঁকি রোধ কিংবা তথ্য যাচাইয়ের জন্য আমরা এখানে ব্লকচেইন (Blockchain), সিস্টেমাটিক প্রোপাগেশন, ফেডারেটেড সিস্টেম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রয়োগ করতে পারব। এ ধরনের সমন্বিত নেটওয়ার্ক থাকলে প্রপার ক্রেডিট রেটিং (Credit rating) বাস্তবায়ন করা সহজ হবে—যা বর্তমানে আমাদের খেলাপি ঋণের পর্বতসম সমস্যা দূরীকরণে মূল ভূমিকা রাখবে।</p>
<p data-path-to-node="14">অবশ্য ডেটা সিকিউরিটি বা তথ্য সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। সে কারণেই আমরা সময়োপযোগী 'পার্সোনাল ডেটা প্রটেকশন আইন' তৈরি করেছি এবং এর তদারকির জন্য 'ন্যাশনাল ডেটা গভর্নেন্স অথরিটি' গঠনের বিধান এনেছি। এই ডেটা অথরিটি একই সাথে সিকিউরিটি এজেন্ট হিসেবে কাজ করবে, আইন এনফোর্স করবে এবং ডেটা ব্রোকার হিসেবে ভূমিকা রাখবে।</p>
<p data-path-to-node="15">অথচ এই আর্কিটেকচারকে সর্বজনীন ও সবার জন্য এডাপ্টিভ (Adaptive) না করে, সবাই এখনো বিচ্ছিন্ন প্রজেক্ট নেওয়ার দিকে ঝুঁকছে! ফলে দিনশেষে ডিজিটাল বিন (Business Identification Number - BIN) কিংবা ইলেকট্রনিক ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করলেও সেখানে ১২ থেকে ১৮টির বেশি কোলেটেরাল লেগে যায়। বিডা সম্প্রতি ৬৬১ কোটি টাকা ব্যয়ে 'ওয়ান স্টপ সার্ভিস' ও 'BanglaBiz' প্রজেক্টের কথা বলছে। একইভাবে ই-জুডিশিয়ারি, ই-রেজিস্ট্রেশন, ই-ল্যান্ড সার্ভিস, ই-ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা ই-ট্রেডমার্কের জন্য ডিপিআই এজেন্ডাকে পাশ কাটিয়ে সবাই ৩০০ থেকে ১০০০ কোটি টাকার পৃথক পৃথক বিচ্ছিন্ন প্রজেক্ট করছে। সবাই কেবল নতুন বায়োমেট্রিক ও আইরিশ (Iris) স্ক্যানার ডিভাইস কেনাতেই ব্যস্ত!</p>
<p data-path-to-node="16">এভাবে ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশনের মুখরোচক নামে জাতীয় রিজার্ভের মূল্যবান ডলারের শ্রাদ্ধ ছাড়া আর কিছুই হবে না। অভ্যন্তরীণ নীতিনির্ধারণী মিটিংগুলোতে এসব নিয়ে কড়া কথা বলার কারণে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে আমি শত্রু তৈরি করেছি; অনেকেই ভেবেছেন আমি তাদের কোটি টাকার প্রজেক্টের ভাগাড়ে বাগড়া দিচ্ছি!</p>
<p data-path-to-node="17">বাস্তবতা হলো—বিডা, এনবিআর, বিবিএস, পরিকল্পনা কমিশন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও আইসিটি বিভাগ—সবাইকে একটি অভিন্ন ডিপিআই ইকোসিস্টেমে আসতে হবে। জন্ম নিবন্ধন, এনআইডি, পাসপোর্ট ইত্যাদির জাতীয় ডেটাস্টোরগুলোকে ইন্টারফেসিং, ইন্টিগ্রেটিং ও ডেটা কন্সিস্টেন্সির মাধ্যমে ইন্টারপ্রেট করতে হবে। শত শত কোটি টাকা ঢেলে বিচ্ছিন্ন সাইলো বানালে দেশের ডিজিটাল সার্ভিস ইকোনমিও বাড়বে না, বিনিয়োগও আসবে না। কানেক্টিভিটি ইকোসিস্টেমের যে মূল 'হাইওয়ে', সেখানে পেমেন্ট ইকোসিস্টেম এসে যুক্ত হবে এবং তার ওপর ভর করেই আমরা নতুন নতুন সার্ভিস লেয়ার তৈরি করে ডিজিটাল ইকোনমিকে সমৃদ্ধ করতে পারব।</p>
<p data-path-to-node="18">একজন দেশের নাগরিক হোক বা বিদেশি বিনিয়োগকারী—কাউকে সেবা দিতে গেলে বুঝতে হবে যে মূল কানেক্টিভিটি আর্কিটেকচারটি মূলত ডিপিআই-এর একটি ‘সাব-সেট’ (Sub-set)। ডেটা গভর্নেন্স আইনের আওতায় প্রস্তাবিত 'ন্যাশনাল ডেটা অথরিটি'র ডিপিআই আর্কিটেকচার এবং একটি 'ইউনিফায়েড ট্রেড লাইসেন্স'-এর আর্কিটেকচার মূলত একই কাঠামোর বড় ও ছোট রূপ। তবে প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বিজনেস প্রসেস ও ডেটা প্রসেসিংয়ের চাহিদা ভিন্ন বলে তাদের আলাদা ইআরপি (ERP) লাগবে—যার কিছু অংশ হবে কমন, কিছু অংশ ইউনিক। এগুলো মূলত সার্ভিস লেয়ারের সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট।</p>
<p data-path-to-node="19">যেসব সংস্থা বড় পরিসরে সেবা দেবে, তাদের ডিপিআই সাব-সেটটি বড় হবে; আর ছোট সেবাদাতারা ডিপিআই-এর ছোট কানেক্টিভিটি লেয়ার ব্যবহার করবে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রবাসকল্যাণ, এনবিআর বা বাংলাদেশ ব্যাংকের মতো বিশেষায়িত সংস্থার নির্দিষ্ট 'ইউজ কেস' (Use case) ও স্পেসিফিক ডেটা ডিমান্ড অনুযায়ী সেক্টরাল সাব-সেট বা ভিন্ন ভিন্ন কানেক্টিভিটি প্রয়োজন হবে। তবে মূল নির্যাসটি হলো—আমাদের 'অল-টু-অল' কানেক্টিভিটি লাগবে, সব ভার্টিক্যাল (সেক্টরাল ডেটা স্টোর) এবং সব হরাইজন্টাল (এনআইডি, বিডিআরইএস ইত্যাদি) ডেটাস্টোরের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ থাকতে হবে। এটি না করে যেভাবে পৃথক আইসিটি প্রজেক্টের মহোৎসব চলছে, তা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। সরকারি অর্থ অপচয় হবে, কিন্তু কোনো টেকসই সমাধান আসবে না।</p>
<p data-path-to-node="20">সিঙ্গাপুরের 'Singpass' বা ভারতের 'Aadhaar' কার্ডের মতো যখন আমরা একটি কেন্দ্রীয় ডিপিআই কানেক্টিভিটি হাইওয়ে গড়ে তুলতে পারব, তখন একদিকে নাগরিক পাবে 'সিটিজেন ওয়ান আইডি' (Citizen One ID), অন্যদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পাবে 'ডিজিটাল বিন' (Digital BIN)। সেইসাথে বিনিয়োগকারীদের ডজনখানেক পারমিটের জটিলতা এক ছাদের নিচে নিমিষেই দূর হবে। এর আগে যা-ই করা হোক না কেন—তা কেবল সাময়িক শো-কেসিং বা প্রচারণাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে, আসল কাজের কাজ কিছুই হবে না। পরবর্তীতে যে ম্যানেজমেন্টই আসুক না কেন, তারা অন্ধকারে হাবুডুবু খাবে।</p>
<p data-path-to-node="21">বিনিয়োগ পাজলের দ্বিতীয় অধ্যায়ে যেসব বিষয় আসে:</p>
<ul>
<li data-path-to-node="22,0,0"><b data-path-to-node="22,0,0" data-index-in-node="0">গুণগত মানের জমি:</b> মাল্টি-মোডাল ট্রান্সপোর্টেশনের (Multi-modal transportation) সুবিধাযুক্ত জমি।</li>
<li data-path-to-node="22,1,0"><b data-path-to-node="22,1,0" data-index-in-node="0">বিচ্ছিন্নতাহীন সেবা:</b> লোডশেডিংমুক্ত, ভোল্টেজ-স্ট্যাবল বিদ্যুৎ এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ।</li>
<li data-path-to-node="22,2,0"><b data-path-to-node="22,2,0" data-index-in-node="0">ডিজিটাল কানেক্টিভিটি:</b> হাই-স্পিড ও লো-ল্যাটেন্সির কোয়ালিটি ইন্টারনেট সংযোগ।</li>
<li data-path-to-node="22,3,0"><b data-path-to-node="22,3,0" data-index-in-node="0">নীতিমালার স্থায়িত্ব (Policy Stability):</b> শুল্ক ও কর কাঠামোর সুনির্দিষ্ট স্থায়িত্ব। বিনিয়োগকারীকে যেন আগামী ৫ বছরের ডিউটি স্ট্রাকচার সম্পর্কে আগাম ধারণা দেওয়া যায়, যাতে তারা হঠাৎ নীতি পরিবর্তনের ধাক্কা না খায়।</li>
<li data-path-to-node="22,4,0"><b data-path-to-node="22,4,0" data-index-in-node="0">উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা:</b> মানসম্পন্ন এক্সপ্রেসওয়ে, উন্নত রেল সংযোগ ও সুরক্ষিত নৌ-রুট।</li>
<li data-path-to-node="22,5,0"><b data-path-to-node="22,5,0" data-index-in-node="0">আর্থিক কাঠামোর শৃঙ্খলা:</b> গতিশীল শেয়ারবাজার এবং স্বচ্ছ ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থা।</li>
</ul>
<p data-path-to-node="23">এর পরবর্তী ধাপে প্রয়োজন সুপার-ফাস্ট কাস্টমার রেসপন্স, পেশাদারিত্ব এবং শূন্য চাদাবাজি। সেই সঙ্গে করপোরেট ট্যাক্স সামঞ্জস্য করা, বিদেশে লভ্যাংশ নিয়ে যাওয়ার সহজ পথ তৈরি করা এবং 'Tax Holidays'-এর মতো চিরাচরিত সুবিধার বদলে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী 'Cost-based Incentives'-এর দিকে যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে বিনিয়োগ পাইপলাইনের চাহিদানুযায়ী 'হাই-স্কিলড ওয়ার্কফোর্স' বা দক্ষ জনশক্তি তৈরির তাগিদ তো রয়েইছে।</p>
<p data-path-to-node="24">আমি যে 'বিনিয়োগ পাজল'-এর কথা বলছিলাম—এই পুরো পাজলটি শেষ পর্যন্ত সমাধান না করে আপনি যদি কোনো দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারীকে বাংলাদেশে আনেন, ব্যাংক ঋণ দেন, তবে দেখা যাবে কারখানার কাজ অর্ধেক হওয়ার পর তিনি গ্যাস বা বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না! কিংবা পোর্টে কাঁচামাল আটকে আছে কারণ মাঝপথে সরকার শুল্কহার বদলে দিয়েছে। ফলে বিনিয়োগকারী কাঁচামালের অর্ডার দিয়ে, শিপমেন্ট করে সামান্য একটা ফাইলের জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন (হাই-টেক পার্ক প্রজেক্টের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে বলছি)।</p>
<p data-path-to-node="25">এভাবে কোনো দেশি বা বিদেশি বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে আস্থা পাবে না। সকল অংশীদারদের (Stakeholders) এক টেবিলে বসে উপাত্তনির্ভর (Data-driven) অগ্রাধিকার তালিকা বা 'Priority Order' তৈরি করতে হবে। আর এই ডেটা-ড্রিভেন সিদ্ধান্তের জন্য ডিপিআই নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।</p>
<p data-path-to-node="26">যে বিনিয়োগকারীর জন্য শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই পুরো পাজলটি সমাধান করা সম্ভব হবে—কেবল তাকেই জমি, লোন, গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং শুল্ক কাঠামোর নিশ্চয়তা দিন। মাঝপথে কাউকে ঝুলিয়ে রেখে হয়রানি করবেন না।</p>
<p data-path-to-node="27">আর এই পুরো পাজল সমাধান না করে এবং শক্ত ডিপিআই ভিত্তি না গড়ে বিদেশে দফতর খুলে কোনো লাভ নেই। এতে বরং কিছু বিদেশি ফাস্ট-ট্র্যাকে এসে এদেশের আমলাতান্ত্রিক জটিলতার আসল রূপ দেখে বাকি বিনিয়োগকারীদেরও ভাগিয়ে দেবে, যার ফলে পুরো ইনভেস্টমেন্ট পাইপলাইনটাই স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।<br>/<strong>/ডিবিটেক/এসআই/এমআইএস/</strong>/</p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>যুক্তরাষ্ট্রের এআই নেতৃত্বের পরীক্ষা: একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ নয়, চাই দায়িত্বশীল উন্মুক্ততা</title>
<link>https://digibanglatech.news/185106</link>
<guid>https://digibanglatech.news/185106</guid>
<description><![CDATA[ &lt;ul&gt;
&lt;li data-path-to-node=&quot;5,0,0&quot;&gt;এআই-যুগে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা, অর্থনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ও উন্মুক্ত জবাবদিহিতার ওপর নির্ভর করবে নেতৃত্বের মানদণ্ড&lt;/li&gt;
&lt;li data-path-to-node=&quot;5,1,0&quot;&gt;&#039;ভাড়াটে বুদ্ধিমত্তা&#039;র বদলে ওপেন-ওয়েট মডেলের প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা &lt;/li&gt;
&lt;li data-path-to-node=&quot;5,2,0&quot;&gt;স্বাধীন এআই মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠান গঠন এবং সাশ্রয়ী কম্পিউটিং সুবিধাসহ ৫-দফা সুপারিশ&lt;/li&gt;
&lt;/ul&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202607/image_870x580_6a66eb631b2f7.jpg" length="123162" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 27 Jul 2026 00:24:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ওপেন-ওয়েট মডেল, বৈশ্বিক এআই নেতৃত্ব, প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব, দায়িত্বশীল উন্মুক্ততা, ওয়াইকো, ইউএস এআই পলিসি</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="9">বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) মডেল তৈরি করলেই যে এআই যুগের বৈশ্বিক নেতৃত্ব স্থায়ী হবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই।</p>
<p data-path-to-node="10">প্রকৃত নেতৃত্ব বরং সেই দেশের হাতেই থাকবে, যার প্রযুক্তি বিশ্বের অন্যান্য দেশ সাশ্রয়ী মূল্যে ব্যবহার করতে পারবে, পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে পারবে, নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী রূপান্তর করতে পারবে এবং নিজস্ব ডেটা, প্রতিষ্ঠান কিংবা অর্থনৈতিক ভবিষ্যতের ওপর থেকে নিয়ন্ত্রণ না হারিয়েই কাজে লাগাতে পারবে।</p>
<p data-path-to-node="11">এই পার্থক্যটি বোঝা এখন অত্যন্ত জরুরি। জাতিসংঘ কর্তৃক আয়োজিত এআই শাসনবিষয়ক প্রথম বৈশ্বিক সংলাপের মাধ্যমে সরকার, প্রযুক্তি কোম্পানি, গবেষক ও নাগরিক সমাজকে এক ছাতার নিচে আনার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, ২৯টি দেশ সম্প্রতি সাংহাই-ভিত্তিক আন্তসরকারি সংস্থা হিসেবে 'ওয়ার্ল্ড আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন' (WAICO) গঠনে একমত হয়েছে। এ থেকে স্পষ্ট যে, বৈশ্বিক এআই প্রতিযোগিতা এখন আর কেবল গবেষণাগার কিংবা সক্ষমতার বেঞ্চমার্কে সীমাবদ্ধ নেই; বরং তা আন্তর্জাতিক জোট, মানদণ্ড এবং নীতি প্রণয়নের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় রূপ নিয়েছে।</p>
<p data-path-to-node="12">এই নতুন ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ওপেন-ওয়েট (Open-Weight) মডেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলমান বিতর্কটি নিছক কোনো কারিগরি আলোচনা নয়—এটি বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের ধরন নির্ধারণের পরীক্ষা।</p>
<h3 data-path-to-node="13"><strong><span style="font-size: 10pt;">ওপেন-ওয়েট মডেল কেন গুরুত্বপূর্ণ</span></strong></h3>
<p data-path-to-node="14">সম্প্রতি প্রযুক্তি খাত, বিনিয়োগকারী ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের যৌথ চিঠিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক এআই নেতৃত্ব টিকিয়ে রাখতে 'ওপেন-ওয়েট' মডেল অপরিহার্য।</p>
<p data-path-to-node="15">ওপেন-ওয়েট মডেলে ব্যবহারকারীরা মডেলের সংখ্যাভিত্তিক প্যারামিটার বা ‘ওয়েট’ ডাউনলোড করে নিজস্ব পরিকাঠামোয় চালাতে পারেন এবং প্রয়োজনমতো তা বদলে নিতে পারেন। এর ফলে উদ্ভাবনী খরচ কমে, বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ে, একক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরতা হ্রাস পায় এবং স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের তথ্যের (Data) ওপর নিজস্ব সার্বভৌমত্ব বজায় রাখতে পারে।</p>
<p data-path-to-node="16">এই যুক্তিটি নিঃসন্দেহে শক্তিশালী, তবে জনস্বার্থের পূর্ণাঙ্গ দৃষ্টিকোণ থেকে এটি এখনো কিছুটা অসম্পূর্ণ।</p>
<h3 data-path-to-node="17"><span style="font-size: 10pt;"><strong>বন্ধ ব্যবস্থার ঝুঁকি ও 'ভাড়াটে বুদ্ধিমত্তা'</strong></span></h3>
<p data-path-to-node="18">যুক্তরাষ্ট্রের এআই নেতৃত্বকে প্রায়শই কেবল 'সবচেয়ে শক্তিশালী ফ্রন্টিয়ার মডেল' তৈরির দৌড় হিসেবে দেখা হয়। কিন্তু নেতৃত্বের এই ধারণা অত্যন্ত সংকীর্ণ।</p>
<p data-path-to-node="19">কোনো দেশ শীর্ষ মডেল তৈরি করেও যদি এমন একটি বন্ধ ইকোসিস্টেম তৈরি করে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়, হাসপাতাল, ক্ষুদ্র উদ্যোগ ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো গুটিকয়েক প্রাইভেট টেক-জায়ান্টের ওপর চিরতরে নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তবে তা বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে। তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারবে ঠিকই, কিন্তু মডেল পরীক্ষা, স্থানীয়করণ বা নিজস্ব পেশাগত জ্ঞান থেকে তৈরি মূল্য বা ভ্যালু ধরে রাখার ক্ষমতা তাদের থাকবে না। এটি কোনো প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব নয়—এটি মূলত ‘ভাড়াটে বুদ্ধিমত্তা’ (Rented Intelligence)।</p>
<p data-path-to-node="20">ক্লোজড বা বন্ধ মডেলগুলোতে নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ কিংবা জরুরি প্রয়োজনে সেবা প্রত্যাহার সহজ হতে পারে। কিন্তু ক্ষমতার অতি-কেন্দ্রিকীকরণ এক বিশাল ঝুঁকিস্বরূপ। গুটিকয়েক করপোরেট প্রতিষ্ঠান যদি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের প্রযুক্তির মূল্য এবং শর্ত নির্ধারণ করে, তবে জনস্বার্থের সিদ্ধান্তগুলো প্রাইভেট বোর্ডের হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে।</p>
<p data-path-to-node="21">ওপেন-ওয়েট মডেল এই পরাধীনতা ভেঙে নমনীয়তা তৈরি করে। বিশেষায়িত গবেষণার জন্য প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে কেন শূন্য থেকে ফ্রন্টিয়ার মডেল বানাতে হবে? কিংবা সাধারণ কাজের জন্য কেন প্রতিদিন কোটি ডলারের ক্লাউড সেবা কিনতে হবে?</p>
<h3 data-path-to-node="22"><strong><span style="font-size: 10pt;">বৈশ্বিক ভূ-রাজনীতি ও এআই কূটনীতি</span></strong></h3>
<p data-path-to-node="23">আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ওপেন-ওয়েট মডেল যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক প্রভাব অনেক বাড়াতে পারে। বৈশ্বিক দক্ষিণের (Global South) উন্নয়নশীল দেশগুলো কেবল এটি জানতে চায় না যে, কোন মডেল ইংরেজি ভাষার পরীক্ষায় সেরা নম্বর পেয়েছে। তারা জানতে চায়—কোন মডেলটি তাদের নিজস্ব সার্ভারে চলবে, স্থানীয় ভাষা বোঝে, সংবেদনশীল তথ্য গোপন রাখে এবং জাতীয় অগ্রাধিকার অনুযায়ী কাস্টমাইজ করা যায়।</p>
<p data-path-to-node="24">চীনের সাম্প্রতিক এআই কূটনীতি প্রমাণ করে তারা এই বাস্তবতাটি দ্রুত উপলব্ধি করেছে। শুধু প্রযুক্তি সরবরাহ নয়, বরং সক্ষমতা বৃদ্ধি, অবকাঠামো এবং প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতাকে তারা একটি প্যাকেজ হিসেবে গ্লোবাল সাউথের সামনে উপস্থাপন করছে। ওয়াইকো (WAICO) প্রতিষ্ঠা সেই কৌশেরই অংশ।</p>
<p data-path-to-node="25">যুক্তরাষ্ট্র কেবল "আমাদের কোম্পানিগুলোর মডেল সবচেয়ে শক্তিশালী"—এই দোহাই দিয়ে এর জবাব দিতে পারবে না। তাকে আরও বৈচিত্র্যময় ও উন্মুক্ত ইকোসিস্টেম নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।</p>
<h3 data-path-to-node="26"><strong><span style="font-size: 10pt;">উন্মুক্ততার নিরাপত্তা ও দায়িত্বশীলতার সীমানা</span></strong></h3>
<p data-path-to-node="27">উন্মুক্ততার সমর্থন মানেই যেন প্রযুক্তির অন্ধ অনুকরণ না হয়। মনে রাখা দরকার, ওপেন-ওয়েট মানেই পুরোপুরি 'ওপেন সোর্স' নয়। অনেক সময় মডেলে ট্রেইনিং ডেটা, নিরাপত্তা মূল্যায়নের পদ্ধতি কিংবা পুনর্নির্মাণের উপাদান অনুপস্থিত থাকে। তাছাড়া বৈদেশিক চিপ বা বিদেশি ক্লাউডের ওপর নির্ভরতা থাকলে কেবল ওয়েট হাতে পাওয়া স্বাধীনতার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেয় না।</p>
<p data-path-to-node="28">দ্বিতীয়ত, নিরাপত্তার ঝুঁকিও বাস্তব। অত্যন্ত সক্ষম কোনো মডেলের ওয়েট একবার জনসমক্ষে উন্মুক্ত হয়ে গেলে এর অপব্যবহার রোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। যদিও ওপেন-ওয়েট সমর্থকরা বলছেন—সাইবার হামলাকারীদের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষাকর্মীদেরও একই স্তরের মডেলে অ্যাক্সেস থাকা দরকার, যাতে তারা দ্রুত ত্রুটি শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে পারেন।</p>
<p data-path-to-node="29">এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য হলেও চূড়ান্ত নয়। মূল পছন্দটি 'অনিয়ন্ত্রিত প্রকাশ' আর 'সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা'র মধ্যে নয়—বরং পছন্দটি হলো 'দায়িত্বশীল উন্মুক্ততা' এবং 'অনিয়ন্ত্রিত উন্মুক্ততা'র মধ্যে।</p>
<h3 data-path-to-node="30"><strong><span style="font-size: 10pt;">কৌশলগত রোডম্যাপ: যুক্তরাষ্ট্রের সামনে করণীয়</span></strong></h3>
<p data-path-to-node="31">কৃষি তথ্যের অনুবাদের একটি সাধারণ মডেল এবং জটিল সাইবার নিরাপত্তা বা স্বায়ত্তশাসিত সিস্টেম পরিচালনা করতে সক্ষম মডেলে একই নিয়ম প্রয়োগ করা যুক্তিযুক্ত নয়। নিয়ন্ত্রণ নির্ভর করা উচিত মডেলের নাম বা ক্যাটাগরির ওপর নয়, বরং তার বাস্তব সক্ষমতা ও সম্ভাব্য ঝুঁকির ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ এআই কৌশল প্রয়োজন:</p>
<p data-path-to-node="32">১. কম্পিউটিং সুবিধা নিশ্চিত করা: বিশ্ববিদ্যালয়, স্টার্টআপ ও স্বাধীন গবেষকদের জন্য সাশ্রয়ী কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যেন কেবল বড় করপোরেটগুলোই প্রতিযোগিতায় টিকে না থাকে।</p>
<p data-path-to-node="33">২. উন্মুক্ত ডেটাসেট ও নৈতিকতার বাজেট: বহুভাষিক বেঞ্চমার্ক, যাচাইকৃত ডেটাসেট এবং নিরাপদ গবেষণার জন্য সরকারি-বেসরকারি যৌথ বিনিয়োগ প্রয়োজন; যেখানে কপিরাইট, তথ্য-গোপনীয়তা ও স্রষ্টার অধিকার সংরক্ষিত থাকবে।</p>
<p data-path-to-node="34">৩. ধাপভিত্তিক ও দায়িত্বশীল প্রকাশ: উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ ফ্রন্টিয়ার মডেলের ক্ষেত্রে একবারে সব উন্মুক্ত না করে ধাপভিত্তিক প্রকাশ (Staged Release), নিয়মিত নথিপত্র প্রদান এবং অ্যাক্সেস কন্ট্রোল নিশ্চিত করা।</p>
<p data-path-to-node="35">৪. স্বাধীন মূল্যায়ন ইনস্টিটিউট: মডেল প্রস্তুতকারক কোম্পানির নিজস্ব নিরাপত্তার দাবির ওপর নির্ভর না করে স্বাধীন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক এআই মূল্যায়ন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা।</p>
<p data-path-to-node="36">৫. উন্নয়নশীল দেশকে অংশীদার করা: গ্লোবাল সাউথের দেশগুলোকে কেবল ভোক্তা না ভেবে, স্থানীয় ভাষা ও চাহিদামাফিক মডেল অভিযোজনের জন্য বৈশ্বিক গবেষণা নেটওয়ার্কে যুক্ত করা।</p>
<h3 data-path-to-node="37"><strong><span style="font-size: 10pt;">চূড়ান্ত পরীক্ষা</span></strong></h3>
<p data-path-to-node="38">জাতিসংঘের বৈশ্বিক সংলাপ সর্বজনীন নীতি তৈরির পথ দেখাচ্ছে, অন্যদিকে ওয়াইকো রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার নতুন অক্ষ তৈরি করছে। এই দুই প্রক্রিয়াই প্রমাণ করে—ভবিষ্যতের এআই নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে কেবল কে সেরা প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে তা দিয়ে নয়; বরং কে অন্যদের সেই প্রযুক্তির সুফল ও ভবিষ্যৎ নির্মাণে অর্থবহ অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছে, তা দিয়ে।</p>
<p data-path-to-node="39">যুক্তরাষ্ট্রের সামনে স্পষ্ট দুটি পথ: একচেটিয়া করপোরেট আধিপত্য ও আবদ্ধ প্রযুক্তির স্বল্পমেয়াদী পথ, অথবা দায়িত্বশীল উন্মুক্ততা, প্রতিযোগিতা ও আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের দীর্ঘস্থায়ী পথ। শক্তি ও একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণকে এক করে দেখার ভুল না করে, প্রযুক্তিগত ভবিষ্যৎ গঠনে অন্যদের অর্থবহ স্থান দেওয়াই হবে মার্কিন এআই নেতৃত্বের আসল পরীক্ষা।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="41"><b data-path-to-node="41" data-index-in-node="0">লেখক: </b><i data-path-to-node="42" data-index-in-node="0">ডিজিটাল গণতন্ত্র, তথ্যের অখণ্ডতা ও গণমাধ্যম উন্নয়ন নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ; দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর।</i></p>
<hr>
<p data-path-to-node="41"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>চিপ যুদ্ধের যুগে বাংলাদেশ: সেমিকন্ডাক্টরে ১ বিলিয়ন ডলারের স্বপ্ন ও বাস্তবচিত্র</title>
<link>https://digibanglatech.news/185104</link>
<guid>https://digibanglatech.news/185104</guid>
<description><![CDATA[ &lt;ul&gt;
&lt;li data-path-to-node=&quot;5,0,0&quot;&gt;&#039;চিপ ওয়ার&#039;-এর প্রেক্ষাপটে নীতিগত সংস্কারের তাগিদ&lt;/li&gt;
&lt;li data-path-to-node=&quot;5,1,0&quot;&gt;শুল্ক জটিলতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্র্যাকটিক্যাল ল্যাব ও ইডিএ (EDA) টুলের সংকট &lt;/li&gt;
&lt;li data-path-to-node=&quot;5,2,0&quot;&gt; ব্যয়বহুল ফ্যাব্রিকেশন কারখানার বদলে OSAT/টেস্টিং হাব প্রতিষ্ঠা, &#039;ব্রেইন গেইন&#039; ফ্রেমওয়ার্ক, বন্ডেড কাস্টমস সুবিধা&lt;/li&gt;
&lt;/ul&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202607/image_870x580_6a66e1e96f8ed.jpg" length="106861" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 26 Jul 2026 10:43:35 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>সেমিকন্ডাক্টর, চিপ যুদ্ধ, বিইএআর সামিট ২০২৬, ফ্যাবলেস ডিজাইন, ভিএলএসআই, ওএসএটি, সবার আগে বাংলাদেশ</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="8">ঢাকার নভোথিয়েটারে বসে দেশের প্রযুক্তি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্মেলন—‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম এবং বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রনিক্স, এআই ও রোবোটিক্স (BEAR) সামিট ২০২৬’। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (BSIA) এবং ‘সিলিকন রিভার’ উদ্যোগের যৌথ পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনটি কেবল আনুষ্ঠানিকতার কোনো আয়োজন নয়; বরং তৈরি পোশাক (RMG) খাতের বাইরে গিয়ে একটি উচ্চ-মূল্যের মেধানির্ভর অর্থনীতির বিকল্প পথ খোঁজার জোরালো পদক্ষেপ। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (WEF) উপাত্ত অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), স্বায়ত্তশাসিত যানবাহন এবং ৫জি প্রযুক্তির প্রসারে বৈশ্বিক সেমিকন্ডাক্টর বাজার ২০৩০ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন (১,০০০ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়ে যাবে। আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মঞ্চে চিপের বাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যে ‘চিপ ওয়ার’ (Chip War) চলছে, সেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন (১০০ কোটি) ডলার এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ১০ বিলিয়ন (১,০০০ কোটি) ডলার চিপ ও আইটি সেবা রপ্তানির জাতীয় লক্ষ্য নির্ধারণ সময়োপযোগী। তবে আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে আমাদের প্রস্তুত থাকতে হবে—আন্তর্জাতিক বাজারের বিপরীতে আমাদের অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ঘাটতি কোথায়, অতীতের নীতিগত ভুলগুলো কী ছিল এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ ভাবনায় সরকার ও স্থানীয় শিল্পের আগামী দিনের কৌশল কেমন হওয়া উচিত।</p>
<h3 data-path-to-node="9">বৈশ্বিক বাজার ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক বাস্তব অবস্থান</h3>
<p data-path-to-node="10">আধুনিক বৈশ্বিক অর্থনীতির মূল ভিত্তি সেমিকন্ডাক্টর বা চিপ খাত, যার বর্তমান বাজার প্রায় ৬০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তবে বৈশ্বিক এই বিশাল পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের সরাসরি অংশগ্রহণ এখনো অতি নগণ্য।</p>
<ul data-path-to-node="11">
<li>
<p data-path-to-node="11,0,0"><b data-path-to-node="11,0,0" data-index-in-node="0">সরাসরি রপ্তানি আয়:</b> বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে ফ্যাবলেস আইসি ডিজাইন (Fabless IC Design), ভেরিফিকেশন এবং এম্বেডেড সিস্টেম খাত থেকে বছরে মাত্র ৮ থেকে ১০ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি আয় আসছে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="11,1,0"><b data-path-to-node="11,1,0" data-index-in-node="0">বিশেষায়িত মানবসম্পদ:</b> উল্কাসেমি, নিউরাল সেমিকন্ডাক্টর, প্রাইমসিলিকন ও সিলিকনোভা-র মতো প্রতিষ্ঠানগুলোতে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ জন দক্ষ ভিএলএসআই (VLSI) প্রকৌশলী কাজ করছেন, যারা আন্তর্জাতিক জায়ান্ট যেমন—অ্যাপল, এএমডি, কোয়ালকম ও গ্লোবালফাউন্ড্রিজের বিভিন্ন প্রজেক্টে যুক্ত।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="11,2,0"><b data-path-to-node="11,2,0" data-index-in-node="0">অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বৈশ্বিক মুদ্রার চাপ:</b> সরাসরি চিপ রপ্তানি কম হলেও দেশে এর পরোক্ষ ব্যবহার বিশাল। স্থানীয়ভাবে প্রস্তুতকৃত মোট টিভির ৯০%, এয়ার কন্ডিশনারের ৭০–৭৫% এবং সামগ্রিক ইলেকট্রনিক্স চাহিদার ৮০% স্থানীয় শিল্প মেটাচ্ছে। স্মার্টফোন, স্মার্ট মিটার ও অন্যান্য গ্যাজেট মিলিয়ে প্রতি বছর প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলারের চিপ আমদানি করতে হয়। চাহিদার ৯৯%-এর বেশি আমদানিনির্ভর হওয়ায় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা বাইরে চলে যাচ্ছে, যা ২০৩০ সাল নাগাদ ৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাবে।</p>
</li>
</ul>
<h3 data-path-to-node="12">ভারত ও ভিয়েতনামের সাফল্য বনাম বাংলাদেশের ঘাটতি</h3>
<p data-path-to-node="13">ভারত ও ভিয়েতনামের মতো প্রতিবেশীরা যখন চিপ খাতে কোটি কোটি ডলারের বৈশ্বিক বিনিয়োগ টেনে আনছে, তখন আমাদের পিছিয়ে পড়ার কারণগুলো চিহ্নিত করা জরুরি:</p>
<p data-path-to-node="14">১. <b data-path-to-node="14" data-index-in-node="3">ভিয়েতনামের কৌশলগত সিদ্ধান্ত:</b> ভিয়েতনাম শুরুতেই নিজস্ব চিপ বানানোর ব্যয়বহুল কারখানা (Fab) বসানোর পেছনে সময় নষ্ট না করে ইন্টেল ও আমকোর-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোকে আকৃষ্ট করেছে। তারা OSAT (অ্যাসেম্বলি, টেস্টিং ও প্যাকেজিং) হাব গড়ে তুলে সরাসরি আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইনে যুক্ত হয়েছে।</p>
<p data-path-to-node="15">২. <b data-path-to-node="15" data-index-in-node="3">ভারতের সরকারি অনুদান:</b> ভারত তাদের ১০ বিলিয়ন ডলারের 'Semicon India' প্রকল্পের মাধ্যমে চিপ অ্যাসেম্বলি প্ল্যান্ট ও ডিজাইন হাব তৈরিতে সরাসরি ৫০% সরকারি ভর্তুকি দিচ্ছে।</p>
<p data-path-to-node="16">৩. <b data-path-to-node="16" data-index-in-node="3">বাংলাদেশের নীতিগত স্থবিরতা:</b> নীতিগত ধারাবাহিকতার অভাব, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং কাস্টমসের শুল্ক বাঁধার কারণে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে আসতে দ্বিধা করেছে। দীর্ঘদিন কেবল প্রথাগত কম-মূল্যের খাতের ওপর নির্ভরশীল থাকা হাই-টেক খাতের যাত্রাকে পিছিয়ে দিয়েছে।</p>
<h3 data-path-to-node="17">প্রকৌশল শিক্ষা ও শিল্পখাতের সমন্বয়হীনতা</h3>
<p data-path-to-node="18">বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে প্রতি বছর ইইই (EEE) এবং সিএসই (CSE) থেকে প্রায় ২০,০০০ গ্র্যাজুয়েট বের হলেও সেমিকন্ডাক্টর খাতের উপযোগী দক্ষ জনবলের সংকট স্পষ্ট।</p>
<ul data-path-to-node="19">
<li>
<p data-path-to-node="19,0,0"><b data-path-to-node="19,0,0" data-index-in-node="0">ইলেকট্রনিক ডিজাইন অটোমেশন (EDA) টুলের সংকট:</b> চিপ ডিজাইনের মৌলিক সফটওয়্যার বা EDA টুলস (যেমন: Synopsys, Cadence) অত্যন্ত ব্যয়বহুল। পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা না থাকায় শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের এই টুলসগুলো হাতেকলমে ব্যবহারের সুযোগ পায় না।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="19,1,0"><b data-path-to-node="19,1,0" data-index-in-node="0">তত্ত্বনির্ভর পাঠ্যক্রম:</b> বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পাঠ্যক্রম মূলত থিওরি-নির্ভর, যা শিল্পের বর্তমান চাহিদার সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="19,2,0"><b data-path-to-node="19,2,0" data-index-in-node="0">সুযোগের অভাব ও মেধা পাচার:</b> প্রয়োজনীয় ল্যাব, ইন্টার্নশিপ ও প্র্যাকটিক্যাল প্রজেক্ট সুবিধার অভাবে হাজার হাজার মেধা প্রতি বছর অন্য পেশায় চলে যাচ্ছে কিংবা বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছে (Brain Drain)।</p>
</li>
</ul>
<h3 data-path-to-node="20">সেমিকন্ডাক্টরে সরকারের নীতি ও ডিসিআরএএফ-এর ভূমিকা</h3>
<p data-path-to-node="21">বর্তমান বাস্তবতায় সরকার সেমিকন্ডাক্টর খাতকে মেধানির্ভর অর্থনৈতিক রূপান্তরের প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আওতায় এবং ডিজিটাল কমার্স রিসার্চ অ্যান্ড এডভোকেসি ফোরাম (DCRAF)-এর মতো থিঙ্ক-ট্যাংক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নীতিগত এডভোকেসির প্রেক্ষিতে একটি কার্যকর কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে:</p>
<ul data-path-to-node="22">
<li>
<p data-path-to-node="22,0,0"><b data-path-to-node="22,0,0" data-index-in-node="0">জাতীয় সেমিকন্ডাক্টর টাস্কফোর্স:</b> রূপরেখার মাধ্যমে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলার এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ১০ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি অর্জনে সময়ভিত্তিক পরিকল্পনা।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="22,1,0"><b data-path-to-node="22,1,0" data-index-in-node="0">কর মওকুফ ও প্রণোদনা:</b> হাই-টেক পার্কগুলোতে সেমিকন্ডাক্টর কোম্পানিগুলোর জন্য ১০ বছরের পূর্ণ কর মওকুফ (Tax Holiday), যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্ক ছাড় এবং রপ্তানিতে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ক্যাশ ইনসেনটিভের নীতিগত সিদ্ধান্ত।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="22,2,0"><b data-path-to-node="22,2,0" data-index-in-node="0">কাস্টমস জটিলতা নিরসন:</b> প্রোটোটাইপ যন্ত্রপাতি ও টেস্ট বোর্ড আমদানিতে দীর্ঘসূত্রতা কাটাতে আলাদা এইচএস কোড (HS Code) নির্ধারণের উদ্যোগ।</p>
</li>
</ul>
<blockquote data-path-to-node="23">
<p data-path-to-node="23,0"><b data-path-to-node="23,0" data-index-in-node="0">সম্পাদকের নোট (নীতিগত বৈপরীত্য ও ফ্যাক্টচেক):</b></p>
<p data-path-to-node="23,1">১. <b data-path-to-node="23,1" data-index-in-node="3">ইকোসিস্টেম বনাম বাজেট বরাদ্দ:</b> নীতিমালায় ট্যাক্স হলিডে বা ইনসেনটিভের কথা বলা হলেও প্রোটোটাইপ আমদানিতে কাস্টমস দীর্ঘসূত্রতা ও উচ্চ শুল্ক হার এখনো মাঠপর্যায়ের স্টার্টআপগুলোর প্রধান বাধা।</p>
<p data-path-to-node="23,2">২. <b data-path-to-node="23,2" data-index-in-node="3">প্রতিষ্ঠান ও খাতের প্রাসঙ্গিকতা:</b> 'ডিজিটাল কমার্স রিসার্চ অ্যান্ড এডভোকেসি ফোরাম (DCRAF)' মূলত ই-কমার্স ও ডিজিটাল বাণিজ্য নীতি নিয়ে কাজ করে। সেমিকন্ডাক্টরের মতো নিবেদিত হাই-টেক ও ডিপ-টেক খাতে নীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে BSIA, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (BCC) এবং সরাসরি আইসিটি বিভাগের কারিগরি কমিটির সক্রিয় ভূমিকা থাকা আবশ্যক।</p>
</blockquote>
<h3 data-path-to-node="24">২০৩০ সালের ১ বিলিয়ন ডলার অর্জনে ৫ কৌশলগত রোডম্যাপ</h3>
<p data-path-to-node="25">'BEAR Summit 2026' থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে নিচের ৫টি পদক্ষেপ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন:</p>
<p data-path-to-node="26">১. <b data-path-to-node="26" data-index-in-node="3">অ্যাডভান্সড OSAT ও টেস্টিং হাব তৈরি:</b> বিপুল খরচে ফ্যাব্রিকেশন প্ল্যান্ট না বসিয়ে ২০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলারের যৌথ বিনিয়োগে (Joint Venture) অ্যাসেম্বলি, টেস্টিং ও প্যাকেজিং প্ল্যান্ট চালু করা।</p>
<p data-path-to-node="27">২. <b data-path-to-node="27" data-index-in-node="3">বিশ্ববিদ্যালয়ে ইডিএ (EDA) ল্যাব স্থাপন:</b> সরকারি অর্থায়নে প্রতিটি প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের ইডিএ ল্যাব ও আধুনিক ভিএলএসআই কোর্স চালুকরণ।</p>
<p data-path-to-node="28">৩. <b data-path-to-node="28" data-index-in-node="3">‘ব্রেইন গেইন’ (Brain Gain) উদ্যোগ:</b> ইন্টেল, এনভিডিয়া, এএমডি বা টিএসএমসি-র মতো প্রতিষ্ঠানে কর্মরত প্রবাসী প্রকৌশলীদের অভিজ্ঞতাকে দেশের একাডেমিয়া ও ইন্ডাস্ট্রির সাথে যুক্ত করা।</p>
<p data-path-to-node="29">৪. <b data-path-to-node="29" data-index-in-node="3">জাতীয় ভিএলএসআই সেন্টার সংস্কার:</b> বুয়েটের ন্যানোল্যাব, ডুয়েটের টেস্টিং সেন্টার এবং আণবিক শক্তি কমিশনের ক্লিনরুম আধুনিকায়ন করে বাণিজ্যিক প্রোটোটাইপিংয়ের জন্য উন্মুক্ত করা।</p>
<p data-path-to-node="30">৫. <b data-path-to-node="30" data-index-in-node="3">বিশেষ বন্ডেড কাস্টমস সুবিধা:</b> প্রোটোটাইপ চিপ ও টেস্ট বোর্ডের দ্রুত খালাসের জন্য 'গ্রিন চ্যানেল' বা বিশেষ কাস্টমস সুবিধা প্রদান।</p>
<h3 data-path-to-node="31">‘স্যান্ড থেকে সিলিকন’ — নতুন অর্থনৈতিক দিগন্ত</h3>
<p data-path-to-node="32">তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারে স্থান করে দিয়েছে, তবে তা মূলত কম-মূল্যের শ্রমনির্ভর খাত। অন্যদিকে, সেমিকন্ডাক্টর হলো উচ্চ-মূল্যের মেধানির্ভর খাত।</p>
<p data-path-to-node="33">সিলিকন চিপে বৈশ্বিক মান তৈরি করার সক্ষমতা আমাদের তরুণদের রয়েছে। কেবল তত্ত্বভিত্তিক শিক্ষা থেকে বের হয়ে ল্যাব সুবিধা, নিখুঁত নীতি বাস্তবায়ন এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১ বিলিয়ন ডলারের চিপ রপ্তানির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। বালু (Sand) থেকে উন্নত সিলিকন চিপ তৈরির এই লড়াইয়ে সমন্বিত নীতি ও সঠিক বাস্তবায়নই হবে আমাদের মূল শক্তি।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="33"><b data-path-to-node="22,0,0" data-index-in-node="0">লেখক:</b><span> </span><i data-path-to-node="22,0,1" data-index-in-node="0">ই-কমার্স বিশ্লেষক ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, ই-ক্যাব </i></p>
<hr>
<p data-path-to-node="33"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: প্রযুক্তির রূপান্তর থেকে মানবিক সমৃদ্ধির পথে</title>
<link>https://digibanglatech.news/184831</link>
<guid>https://digibanglatech.news/184831</guid>
<description><![CDATA[ &lt;ul&gt;
&lt;li data-path-to-node=&quot;5,0,0&quot;&gt;কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কেবল উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির প্রযুক্তি নয়; বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও উদ্যোক্তা উন্নয়নে সামাজিক সমতা নিশ্চিতের অন্যতম ভিত্তি&lt;/li&gt;
&lt;li data-path-to-node=&quot;5,1,0&quot;&gt;চাকরি হারানোর আশঙ্কার চেয়ে নতুন দক্ষতা অর্জন (Up-skilling), সৃজনশীলতা ও আজীবন শেখার মানসিকতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ&lt;/li&gt;
&lt;li data-path-to-node=&quot;5,2,0&quot;&gt;শিক্ষা, গবেষণা, দায়িত্বশীল নীতি এবং পরীক্ষামূলক প্রকল্পের সমন্বয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব AI-নির্ভর উন্নয়ন মডেল গড়ে তোলার তাগিদ&lt;/li&gt;
&lt;/ ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202607/image_870x580_6a63320479f5c.jpg" length="103218" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 24 Jul 2026 10:36:21 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সামাজিক রূপান্তর, স্বাস্থ্যসেবায় এআই, শিক্ষার আধুনিকায়ন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন, জাতীয় এআই কৌশল, টেকসই কর্মসংস্থান</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p class="MsoNormal"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (</span>AI) <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে এখন কেবল নতুন প্রযুক্তি</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">স্বয়ংক্রিয়তা কিংবা কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্ন তোলা প্রয়োজন—</span>AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">কি কেবল উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর একটি বাহন</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">নাকি এটি শিক্ষা</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">স্বাস্থ্যসেবা</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">উদ্যোক্তা উন্নয়ন ও জনকল্যাণে এক নতুন সামাজিক চুক্তির ভিত্তি হতে পারে</span>?<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">এই প্রশ্নের উত্তর শুধু প্রযুক্তিবিদদের জন্য নয়</span>; <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">নীতিনির্ধারক</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">শিক্ষক</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">চিকিৎসক</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিক—সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ </span>AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">আর ভবিষ্যতের কোনো কল্পনা নয়</span>; <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">এটি এখন আমাদের নিত্যদিনের অংশ</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in;"><span style="font-size: 12pt;"><b><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">প্রযুক্তির দৌড় নয়</span>, </b></span><b><span lang="BN-BD" style="font-family: Vrinda, sans-serif; font-size: 12pt;">মানুষের উন্নয়ন</span><o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in;"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">গত সাত দশকে </span>AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">গবেষণাগারের চারদেয়াল পেরিয়ে স্মার্টফোন</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">হাসপাতাল</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">ব্যাংক</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">কৃষি</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">গণপরিবহন এবং শ্রেণিকক্ষ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। তবে এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সার্থকতা কেবল নতুন সফটওয়্যার বা বৃহদাকার ভাষা মডেল (</span>LLM) <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">তৈরিতে সীমাবদ্ধ নয়। এর প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে—এই প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে কতটা সহজ</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পারছে তার ওপর</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">বাংলাদেশের মতো বিকাশমান অর্থনীতির জন্য এই দৃষ্টিভঙ্গি আরও জরুরি। আমাদের সামনে দুটি প্রধান চ্যালেঞ্জ—উন্নত মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং সীমিত সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা। </span>AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">এই উভয়ক্ষেত্রেই সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিতে পারে</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in;"><b><span lang="BN-BD" style="font-family: Vrinda, sans-serif; font-size: 12pt;">শিক্ষায় ব্যক্তিকেন্দ্রিক নতুন দিগন্ত</span><o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in;"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা হলো শিক্ষার মান ও তার সর্বজনীন প্রাসঙ্গিকতা। প্রথাগত একই পাঠ্যক্রম ও শিক্ষণপদ্ধতি সব শিক্ষার্থীর জন্য সমান কার্যকর হয় না</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">এখানে ব্যক্তিকেন্দ্রিক শিক্ষার (</span>Personalized Learning) <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">সুযোগ তৈরি করছে। একজন শিক্ষার্থী ঠিক কোন জায়গায় পিছিয়ে আছে</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">কোথায় তার বাড়তি যত্ন প্রয়োজন কিংবা কোন কৌশলে সে দ্রুত শিখতে পারবে—তথ্য বিশ্লেষণ করে </span>AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">তার সঠিক নির্দেশনা দিতে পারে</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">তবে </span>AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">শিক্ষককে প্রতিস্থাপন করবে—এমন ধারণা অলীক। বরং এটি শিক্ষককে মূল্যায়ন ও প্রশাসনিক কাজের পুনরাবৃত্তি থেকে মুক্ত করে শিক্ষার্থীর সৃজনশীলতা</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">সমালোচনামূলক চিন্তা (</span>Critical Thinking) <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">ও মানবিক বিকাশে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকেও এখন নতুন করে ভাবতে হবে। </span>AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়</span>; <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">এটি প্রকৌশল</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">চিকিৎসা</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">ব্যবসা</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">আইন কিংবা কৃষি—সব খাতেই একটি অপরিহার্য সক্ষমতা</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in;"><b><span lang="BN-BD" style="font-family: Vrinda, sans-serif; font-size: 12pt;">স্বাস্থ্যসেবায় সমতার সুযোগ</span><o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in;"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় চিকিৎসক ও রোগীর অসম অনুপাত</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা এবং দীর্ঘ অপেক্ষার মতো চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">AI-<span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">ভিত্তিক সিদ্ধান্ত-সহায়ক ব্যবস্থা</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">টেলিমেডিসিন</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">রোগের প্রাথমিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং স্বাস্থ্যতথ্য ব্যবস্থাপনা এসব জায়গায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। এটি চিকিৎসকের বিকল্প নয়</span>; <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">বরং চিকিৎসককে আরও নিখুঁত ও তথ্যসমৃদ্ধ সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করবে। তবে স্বাস্থ্যসেবায় </span>AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">ব্যবহারে তথ্যের গোপনীয়তা</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">নীতি-নৈতিকতা এবং মানবিক তদারকি নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in;"><b><span lang="BN-BD" style="font-family: Vrinda, sans-serif; font-size: 12pt;">উদ্যোক্তা উন্নয়নে নতুন গতি</span><o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in;">AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">উদ্ভাবনের প্রাথমিক ব্যয় অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। আজ একজন তরুণ উদ্যোক্তা তুলনামূলক কম মূলধনেও বাজার বিশ্লেষণ</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">ব্যবসায়িক পরিকল্পনা</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">ডিজিটাল বিপণন কিংবা সফটওয়্যার প্রোটোটাইপিংয়ের মতো কাজগুলো সহজে করতে পারছেন</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (</span>SME) <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">জন্য এটি এক বিশাল সুযোগ। সঠিক প্রশিক্ষণ পেলে </span>AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">ব্যবহার করে তারা উৎপাদনশীলতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে পারেন। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">শিল্পখাত ও সরকারের যৌথ উদ্যোগে গবেষণা</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">উদ্ভাবন এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নকে একই সুতোয় গাঁথতে হবে</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in;"><span style="font-size: 12pt;"><b><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">কর্মসংস্থান: ভয়ের নয়</span>, </b></span><b><span lang="BN-BD" style="font-family: Vrinda, sans-serif; font-size: 12pt;">প্রস্তুতির সময়</span><o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in;">AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">নিয়ে সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো চাকরি হারানোর আশঙ্কা। কিন্তু ইতিহাস বলে</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">নতুন প্রযুক্তি পুরনো কাজের ধরন বদলে দিলেও নতুন ধরনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করে</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">তাই আসল প্রশ্ন হওয়া উচিত—</span>AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">চাকরি কেড়ে নেবে কি না তা নয়</span>; <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">বরং আমরা নতুন দক্ষতা অর্জনে কতটা প্রস্তুত</span>? <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">আগামী দিনের কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সৃজনশীলতা</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">জটিল সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">যোগাযোগ দক্ষতা এবং আজীবন শেখার মানসিকতাই নির্ধারণ করবে সাফল্যের পথ</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in;"><b><span lang="BN-BD" style="font-family: Vrinda, sans-serif; font-size: 12pt;">বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যৎ রূপরেখা</span><o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in;">AI-<span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">এর সর্বোচ্চ সুফল পেতে হলে বিচ্ছিন্ন প্রয়াস যথেষ্ট নয়</span>; <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও সুদূরপ্রসারী জাতীয় কৌশল। এর প্রধান ধাপগুলো হতে পারে:</span><o:p></o:p></p>
<ul style="margin-top: 0in;" type="disc">
<li class="MsoNormal" style="mso-list: l0 level1 lfo1; tab-stops: list .5in;"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">প্রাথমিক ও উচ্চশিক্ষায় ধাপে ধাপে </span>AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">শিক্ষা ও ধারণার অন্তর্ভুক্তি</span>;<o:p></o:p></li>
<li class="MsoNormal" style="mso-list: l0 level1 lfo1; tab-stops: list .5in;"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">শিক্ষক</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">চিকিৎসক ও সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য নিয়মিত </span>AI-<span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ</span>;<o:p></o:p></li>
<li class="MsoNormal" style="mso-list: l0 level1 lfo1; tab-stops: list .5in;"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">গবেষণা</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে বাজেট বৃদ্ধি</span>;<o:p></o:p></li>
<li class="MsoNormal" style="mso-list: l0 level1 lfo1; tab-stops: list .5in;"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">দায়িত্বশীল ও নীতিসম্মত </span>AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">ব্যবহারের নীতিমালা প্রণয়ন</span>;<o:p></o:p></li>
<li class="MsoNormal" style="mso-list: l0 level1 lfo1; tab-stops: list .5in;"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">স্বাস্থ্য</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">কৃষি</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">শিক্ষা ও নাগরিক সেবায় পরীক্ষামূলক (</span>Pilot) AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">প্রকল্প চালু</span>;<o:p></o:p></li>
<li class="MsoNormal" style="mso-list: l0 level1 lfo1; tab-stops: list .5in;"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য </span>AI-<span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">ভিত্তিক বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></li>
</ul>
<p class="MsoNormal"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনের পাশাপাশি নাগরিকের তথ্যের অধিকার</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">নৈতিকতা ও স্বচ্ছতা রক্ষা করা সমানভাবে জরুরি</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in;">আসলে AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">নিজে কোনো চূড়ান্ত সমাধান নয়</span>; <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">এটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার মাত্র। এর সুফল নির্ভর করবে আমরা একে কীভাবে ব্যবহার করছি তার ওপর</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in;"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">যদি </span>AI <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">শিক্ষাকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">স্বাস্থ্যসেবাকে সর্বজনীন করে</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করে এবং মানুষকে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত করে—তবে তা কেবল প্রযুক্তিগত সাফল্য থাকবে না</span>; <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">রূপ নেবে এক অভূতপূর্ব সামাজিক রূপান্তরে</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in;"><span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়িয়ে। আমরা কি কেবল </span>AI-<span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">এর নিষ্ক্রিয় ভোক্তা হয়ে থাকব</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">নাকি নীতি</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">শিক্ষা</span>, <span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">গবেষণা ও বৈশ্বিক উদ্ভাবনের মেলবন্ধনে </span>AI-<span lang="BN-BD" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: BN-BD;">নির্ভর উন্নয়নের নিজস্ব একটি মডেল তৈরি করব—সেই সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে</span><span lang="HI" style="font-family: 'Vrinda',sans-serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-bidi-language: HI;">।</span><o:p></o:p></p>
<hr>
<p data-path-to-node="36"><b data-path-to-node="36" data-index-in-node="0">লেখক: </b><i data-path-to-node="37" data-index-in-node="0">ভাইস প্রেসিডেন্ট (এআই, ইনোভেশন অ্যান্ড এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ), ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, যুক্তরাষ্ট্র; অধ্যাপক, সিএসই বিভাগ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ); প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক, এইমস ল্যাব এবং আইরিক, ইউআইইউ; প্রতিষ্ঠাতা, সিমেড হেলথ লিমিটেড; প্রতিষ্ঠাতা, এআই ফোরাম বাংলাদেশ।</i></p>
<hr>
<p data-path-to-node="36"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>গ্রামীণফোন ও কর্পোরেট গভর্ন্যান্স: সংকট নিরসনে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও নেতৃত্বের প্রকৃত পরীক্ষা</title>
<link>https://digibanglatech.news/184484</link>
<guid>https://digibanglatech.news/184484</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202607/image_870x580_6a5deaa3b6648.jpg" length="154670" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 20 Jul 2026 00:00:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="12">কর্পোরেট ইতিহাসের অধিকাংশ বড় সংকট কোনো একক ভুল সিদ্ধান্তের ফল নয়। এগুলো সাধারণত দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা প্রাতিষ্ঠানিক জড়তার বহিঃপ্রকাশ, যেখানে জবাবদিহিতা দুর্বল হয়ে পড়ে, ভিন্নমত সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া থেকে ক্রমশ হারিয়ে যায় এবং অমীমাংসিত বিরোধ প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক বাস্তবতায় পরিণত হয়। তখন কর্পোরেট গভর্ন্যান্স আর কার্যকর তদারকির ব্যবস্থা থাকে না; বরং তা কেবল আনুষ্ঠানিক কর্তৃত্বের একটি কাঠামো হয়ে দাঁড়ায়। আধুনিক কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের মূল দর্শন এখানেই। একটি প্রতিষ্ঠানের সাফল্য কেবল আর্থিক ফলাফল, বাজার অংশীদারিত্ব বা প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ওপর নির্ভর করে না। সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো পরিচালনা পর্ষদের কার্যকর তদারকি, নেতৃত্বের জবাবদিহিতা, স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, নৈতিক ব্যবসায়িক সংস্কৃতি এবং স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি আস্থাভিত্তিক সম্পর্ক গড়ে তোলার সক্ষমতা।</p>
<p data-path-to-node="13">এই কারণেই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের ধারণা উল্লেখযোগ্যভাবে বিস্তৃত হয়েছে। আজ বিনিয়োগকারী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং আন্তর্জাতিক রেটিং এজেন্সিগুলো আর শুধু মুনাফার পরিমাণ দেখে কোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্য মূল্যায়ন করে না; বরং তারা মূল্যায়ন করে একটি প্রতিষ্ঠান কীভাবে তার কর্মী, গ্রাহক, শেয়ারহোল্ডার, ব্যবসায়িক অংশীদার এবং বৃহত্তর সমাজের সঙ্গে সম্পর্ক পরিচালনা করছে। দীর্ঘস্থায়ী স্টেকহোল্ডার বিরোধ এখন কেবল একটি আইনি বিষয় নয়; এটি ক্রমেই একটি গভর্ন্যান্স ঝুঁকি (Governance Risk) হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে গ্রামীণফোনকে ঘিরে বহু বছর ধরে চলমান কর্মী-সংক্রান্ত বিরোধ কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের আলোকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে। দীর্ঘমেয়াদি আইনি বিরোধ, সাবেক কর্মীদের অসন্তোষ, বিপুল সংখ্যক মামলা এবং বিষয়টি নিয়ে ধারাবাহিক জনআলোচনা এমন একটি বাস্তবতা তৈরি করেছে, যা শুধু আইনি নয়, কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের দৃষ্টিকোণ থেকেও মূল্যায়নের দাবি রাখে।</p>
<h3 data-path-to-node="14"><span style="font-size: 10pt;"><b data-path-to-node="14" data-index-in-node="0">বৈশ্বিক মানদণ্ড ও প্যারেন্ট কোম্পানির তদারকি</b></span></h3>
<p data-path-to-node="15">OECD Principles of Corporate Governance অনুযায়ী, পরিচালনা পর্ষদের দায়িত্ব কেবল আর্থিক ফলাফল নিশ্চিত করা নয়, বরং কার্যকর ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, ব্যবস্থাপনার ওপর স্বাধীন তদারকি, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব রক্ষা করা। একইভাবে OECD Guidelines for Multinational Enterprises on Responsible Business Conduct বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা নির্ধারণ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, একটি Parent Company-এর দায়িত্ব কেবল নিজস্ব কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ নয়। যেখানে তাদের মালিকানা, প্রভাব বা governance oversight রয়েছে, সেখানে সম্ভাব্য ঝুঁকি চিহ্নিত করা, যথাযথ due diligence পরিচালনা করা এবং তাদের প্রভাব (leverage) ব্যবহার করে সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব প্রতিরোধ, প্রশমন বা সমাধানে ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা করা হয়। এটি কোনো স্বয়ংক্রিয় আইনি দায় নির্ধারণ করে না; বরং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত দায়িত্বশীল কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের একটি মানদণ্ড।</p>
<p data-path-to-node="16">এই আলোচনায় টেলিনরের ভূমিকাও স্বাভাবিকভাবেই প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। টেলিনর নরওয়ের একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এবং নরওয়ে OECD-এর সদস্যরাষ্ট্র। পাশাপাশি টেলিনর জাতিসংঘের UN Guiding Principles on Business and Human Rights-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ Responsible Business Conduct এবং Human Rights Due Diligence বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতির কথাও প্রকাশ্যে উল্লেখ করেছে। ফলে গ্রামীণফোনের মতো সহযোগী প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘস্থায়ী স্টেকহোল্ডার বিরোধ দেখা দিলে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে Parent Company হিসেবে বোর্ড পর্যায়ে বিষয়টি কীভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, governance oversight কীভাবে নিশ্চিত করা হচ্ছে এবং গঠনমূলক সমাধানের পরিবেশ তৈরিতে তাদের প্রভাব কতটা কার্যকরভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এটি আইনি দায় নির্ধারণের প্রশ্ন নয়; এটি আন্তর্জাতিক কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের প্রত্যাশা এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের প্রশ্ন।</p>
<h3 data-path-to-node="17"><span style="font-size: 10pt;"><b data-path-to-node="17" data-index-in-node="0">সাংগঠনিক সংস্কৃতি ও 'সাইকোলজিক্যাল সেফটি'</b></span></h3>
<p data-path-to-node="18">ISO 37000:2021 Governance of Organizations স্পষ্টভাবে উল্লেখ করে যে কার্যকর গভর্ন্যান্সের জন্য নৈতিক নেতৃত্ব, জবাবদিহিতা, মানবিক আচরণ এবং প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সাংগঠনিক সংস্কৃতি অপরিহার্য। বোর্ডের অন্যতম দায়িত্ব হলো এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে সমস্যা গোপন না থেকে যথাসময়ে নেতৃত্বের নজরে আসে। এ প্রসঙ্গে হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক Amy Edmondson-এর Psychological Safety বিষয়ক গবেষণা বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। তার গবেষণা দেখায়, কর্মীদের নীরবতা সবসময় সন্তুষ্টির প্রতীক নয়। অনেক সময় মানুষ কথা বলে না কারণ তারা মনে করে তাদের মতামত গুরুত্ব পাবে না, অথবা এর নেতিবাচক পরিণতি হতে পারে। আধুনিক গভর্ন্যান্স গবেষণায় কর্মীদের নীরবতাকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, যখন মানুষ সমস্যা বলতে ভয় পায়, তখন নেতৃত্ব ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।</p>
<p data-path-to-node="19">Frederick Herzberg-এর Two-Factor Theory একই বাস্তবতার আরেকটি দিক তুলে ধরে। বেতন, বোনাস কিংবা আর্থিক সুবিধা কর্মীদের অসন্তোষ কমাতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আস্থা ও অঙ্গীকার গড়ে তুলতে যথেষ্ট নয়। ন্যায্যতা, স্বচ্ছ পদোন্নতি ব্যবস্থা, স্পষ্ট ক্যারিয়ার উন্নয়নের সুযোগ, দক্ষতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন এবং নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাসই একটি সুস্থ কর্মপরিবেশের ভিত্তি। এই কারণেই আধুনিক HR Governance এখন শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়; এটি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক গভর্ন্যান্স কাঠামোর অংশ। আন্তর্জাতিক HR পেশাজীবী প্রতিষ্ঠান CIPD ধারাবাহিকভাবে Employee Voice এবং Speak-Up Culture-এর গুরুত্ব তুলে ধরেছে। কার্যকর HR নেতৃত্বের দায়িত্ব কেবল মানবসম্পদ পরিচালনা নয়; বরং কর্মীদের উদ্বেগ বোর্ডের কাছে পৌঁছে দেওয়া, কার্যকর grievance mechanism নিশ্চিত করা এবং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে ভিন্নমতকে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।</p>
<h3 data-path-to-node="20"><span style="font-size: 10pt;"><b data-path-to-node="20" data-index-in-node="0">ঐতিহাসিক শিক্ষা ও গ্রামীণফোনের ভবিষ্যৎ গতিপথ</b></span></h3>
<p data-path-to-node="21">ইতিহাস দেখায়, প্রতিষ্ঠানের বিপর্যয়ের পেছনে অনেক সময় প্রযুক্তিগত দুর্বলতার চেয়ে সাংগঠনিক সংস্কৃতি ও গভর্ন্যান্স ব্যর্থতা বেশি দায়ী থাকে। Boeing-এর 737 MAX সংকট এবং Nokia-এর বাজার নেতৃত্ব হারানোর অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, যখন কার্যকর বোর্ড তদারকি, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, উন্মুক্ত মতবিনিময় এবং সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণে দুর্বলতা তৈরি হয়, তখন তার প্রভাব প্রতিষ্ঠানের সুনাম, প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা এবং স্টেকহোল্ডারদের аস্থার ওপর দীর্ঘমেয়াদে পড়তে পারে। অন্যদিকে, টাটা গ্রুপ দীর্ঘদিন ধরে নৈতিক নেতৃত্ব, শক্তিশালী পরিচালনা পর্ষদের তদারকি, মূল্যবোধভিত্তিক ব্যবসায়িক সংস্কৃতি এবং স্টেকহোল্ডারদের প্রতি দায়বদ্ধতার মাধ্যমে টেকসই কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।</p>
<p data-path-to-node="22">গ্রামীণফোনের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মূল প্রশ্নটি তাই শুধু আইনি নয়। প্রশ্ন হলো, এই দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ প্রতিষ্ঠানটির কৌশলগত সক্ষমতা, ব্যবস্থাপনার মনোযোগ এবং কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের ওপর কী প্রভাব ফেলছে? যে সময় নতুন উদ্ভাবন, গ্রাহকসেবা, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক কৌশল নির্ধারণে ব্যয় হওয়ার কথা, তার একটি অংশ কি দীর্ঘদিনের বিরোধ ব্যবস্থাপনায় ব্যয় হচ্ছে? প্রতিটি প্রতিষ্ঠানেরই এমন একটি সময় আসে, যখন সিদ্ধান্ত নিতে হয়—অতীতের অবস্থান রক্ষা করাই কি মূল লক্ষ্য হবে, নাকি আস্থা পুনর্গঠন, সংলাপ, আত্মসমালোচনা এবং দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক সম্পর্ক পুনর্নির্মাণের পথে এগোনো হবে। আধুনিক কর্পোরেট গভর্ন্যান্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা আদালতের রায়ে সীমাবদ্ধ নয়। প্রকৃত পরীক্ষা হয় তখন, যখন একটি প্রতিষ্ঠান সিদ্ধান্ত নেয় যে আইনি অবস্থান রক্ষার পাশাপাশি নৈতিক নেতৃত্ব, কার্যকর বোর্ড তদারকি, স্বচ্ছতা, স্টেকহোল্ডারদের আস্থা এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণকেও সমান গুরুত্ব দেবে।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="23,0,0"><b data-path-to-node="23,0,0" data-index-in-node="0">লেখক:</b> কমিউনিকেশন সেক্রেটারি, <i data-path-to-node="23,0,1" data-index-in-node="0">গ্রামীণফোন ইমপ্লয়িস ইউনিয়ন (জিপিইইউ)</i></p>
<hr><hr>
<p data-path-to-node="23,0,0"></p>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>পাঁচ মাসে প্রযুক্তি খাত: অগ্রগতির আলো, সংস্কারের ছায়া</title>
<link>https://digibanglatech.news/184341</link>
<guid>https://digibanglatech.news/184341</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202607/image_870x580_6a5bc1ec74d96.jpg" length="124744" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 19 Jul 2026 00:13:34 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের ইতিহাসে কিছু সময় কেবল প্রশাসনিক পরিবর্তনের নয়, নীতিগত মোড় ঘোরানোরও সাক্ষী হয়ে থাকে। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত পাঁচ মাসকে তেমন একটি সময় বলেই বিবেচনা করা যেতে পারে। এই সময়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি—দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নীতিগত কার্যক্রম একই নেতৃত্বের অধীনে এনে সমন্বিত সংস্কারের চেষ্টা।</p>
<p>মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদের নীতিগত সহায়তায় প্রযুক্তি, টেলিযোগাযোগ ও বিজ্ঞান খাতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে কিছু মৌলিক সংস্কার এখনও অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। ফলে পাঁচ মাসের মূল্যায়নে যেমন সাফল্যের গল্প আছে, তেমনি রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও।</p>
<p>প্রথমেই ইতিবাচক দিকগুলো দেখা যাক।</p>
<p>নতুন জাতীয় বাজেটে প্রযুক্তি ও বিজ্ঞান খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তরুণদের জন্য ৫০০ কোটি টাকার ফ্রিল্যান্সার তহবিল, গবেষণা অনুদান বৃদ্ধি, বিজ্ঞান গবেষণায় নতুন অর্থায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগ—সবই দীর্ঘমেয়াদি মানবসম্পদ উন্নয়নের সঙ্গে সম্পর্কিত। কেবল অবকাঠামো নয়, মানবসম্পদে বিনিয়োগের এই প্রবণতা নীতিগতভাবে ইতিবাচক।</p>
<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে (AI) ঘিরেও পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট। দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে এআই ব্যবহারের আলোচনা থাকলেও নীতিগত কাঠামোর অভাব ছিল। এখন মানবকেন্দ্রিক জাতীয় এআই নীতি প্রণয়নের উদ্যোগ, দায়িত্বশীল এআই ব্যবহারের নির্দেশিকা এবং সরকারি সেবায় এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা প্রযুক্তি নীতিকে নতুন মাত্রা দিতে পারে।</p>
<p>ডিজিটাল রাষ্ট্রব্যবস্থার আরেকটি বড় পরিকল্পনা "ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডি"। নাগরিকের বিভিন্ন পরিচয়পত্র, সরকারি সেবা এবং ডিজিটাল ওয়ালেটকে একটি সমন্বিত পরিচয় কাঠামোর আওতায় আনার এই উদ্যোগ সফল হলে সরকারি সেবার গতি বাড়বে, জালিয়াতি কমবে এবং সেবার পুনরাবৃত্তি হ্রাস পাবে। তবে এর সফলতা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে শক্তিশালী ডেটা গভর্ন্যান্স এবং নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার ওপর।</p>
<p>এখানেই এসে সামনে আসে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—ডেটা সুরক্ষা আইন।</p>
<p>ডিজিটাল পরিচয়, স্বাস্থ্যকার্ড, রেশন কার্ড, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ডিজিটাল ওয়ালেট—সবকিছু যদি একই ডেটা অবকাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়, তাহলে ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা আর কেবল প্রযুক্তিগত বিষয় থাকে না; এটি নাগরিক অধিকার, রাষ্ট্রীয় আস্থা এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নে পরিণত হয়।</p>
<p>বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই একটি আধুনিক ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন নিয়ে আলোচনা চলছে। কিন্তু শক্তিশালী, আন্তর্জাতিক মানসম্মত এবং স্বাধীন তদারকি কাঠামো এখনো পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। ডেটা সংগ্রহ যত দ্রুত বাড়ছে, আইনি সুরক্ষা সেই গতিতে এগোয়নি। ফলে নতুন বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রজন্মে প্রবেশ করতে হলে ডেটা সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন এখন আর বিলাসিতা নয়, অপরিহার্যতা।</p>
<p>একইভাবে সাইবার নিরাপত্তাও এখন জাতীয় নিরাপত্তার অংশ।</p>
<p>সরকারি ডেটাবেজ, হাসপাতাল, ব্যাংক, টেলিকম নেটওয়ার্ক, বিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বিমানবন্দর, স্মার্ট সেবা—সবকিছুই ডিজিটাল অবকাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। ফলে সাইবার আক্রমণ শুধু তথ্য চুরি নয়; এটি অর্থনীতি, রাষ্ট্রীয় সেবা এবং জননিরাপত্তার ঝুঁকিও তৈরি করতে পারে। জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা, সিকিউরিটি অপারেশন সেন্টার, দক্ষ জনবল এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলা তাই সমান গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p>টেলিযোগাযোগ খাতেও কিছু গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখা গেছে।</p>
<p>দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল, উপকূল, চরাঞ্চল ও পার্বত্য এলাকায় স্যাটেলাইটভিত্তিক সংযোগ সম্প্রসারণ, বিমানবন্দর রেলস্টেশনে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই, ক্লাউড ডেটা সেন্টার সম্প্রসারণ এবং ভবিষ্যৎ ৫জি অবকাঠামোর প্রস্তুতি ইতিবাচক বার্তা দেয়।</p>
<p>কিন্তু প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে যে বিষয়টি, সেটি হলো ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম।</p>
<p>বিশ্বব্যাপী ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ডকে ৫জি এবং গ্রামীণ ব্রডব্যান্ড বিস্তারের সবচেয়ে কার্যকর ফ্রিকোয়েন্সি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কম সংখ্যক টাওয়ারে বেশি এলাকা কভার করার সক্ষমতার কারণে এটি বাংলাদেশের মতো ভৌগোলিক বাস্তবতায় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই স্পেকট্রামের বণ্টন, মূল্য নির্ধারণ, ব্যবহার এবং প্রতিযোগিতামূলক নীতি আগামী দশকের ডিজিটাল অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে। </p>
<p>এই জায়গায় এসে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।</p>
<p>বিটিআরসি কেবল লাইসেন্স প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান নয়; এটি বাজার প্রতিযোগিতা, ভোক্তা অধিকার, স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগ পরিবেশের প্রধান নিয়ন্ত্রক। কিন্তু বহু বছর ধরেই কমিশনের স্বাধীনতা, নীতিগত ধারাবাহিকতা, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।</p>
<p>নতুন সরকার বিটিআরসিকে আরও কার্যকর ও স্বাধীন করার অঙ্গীকার করেছে। তবে বাস্তব পরিবর্তন নির্ভর করবে কমিশনের প্রশাসনিক সক্ষমতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ওপর।</p>
<p>একইভাবে জাতীয় টেলিকম নীতিও এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার মুখে।</p>
<p>নতুন টেলিকম আইন কার্যকর হলেও সংশ্লিষ্ট গাইডলাইন, লাইসেন্সিং কাঠামো, স্পেকট্রাম নীতি, নেটওয়ার্ক শেয়ারিং, অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং নতুন প্রযুক্তি বাস্তবায়নের নির্দেশিকা এখনও পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি। বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করতে স্থিতিশীল নীতিগত পরিবেশ চান। নীতির অনিশ্চয়তা বিনিয়োগের গতি কমিয়ে দিতে পারে।</p>
<p>আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—অতীতের জবাবদিহিতা।</p>
<p>বিগত সময়ে টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে অনিয়ম, লাইসেন্স বাণিজ্য, প্রকল্প ব্যয় এবং স্পেকট্রাম ব্যবস্থাপনা নিয়ে শ্বেতপত্র প্রকাশেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। সংস্কার কেবল নতুন প্রকল্প গ্রহণে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; অতীতের অনিয়মের স্বচ্ছ মূল্যায়ন এবং দায় নির্ধারণও সমান গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p>বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতেও ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। গবেষণা অনুদান বৃদ্ধি, বিজ্ঞান সপ্তাহ আয়োজন, গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অর্থায়ন এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন হওয়া দেশের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।</p>
<p>সব মিলিয়ে গত পাঁচ মাসে প্রযুক্তি খাতের যাত্রাপথে আশাবাদের যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তবে এই অগ্রযাত্রার স্থায়িত্ব নির্ভর করবে চারটি বিষয়ের ওপর—প্রথমত, শক্তিশালী ডেটা সুরক্ষা আইন; দ্বিতীয়ত, সমন্বিত সাইবার নিরাপত্তা; তৃতীয়ত, দ্রুত ও স্বচ্ছ টেলিকম নীতিমালা বাস্তবায়ন; এবং চতুর্থত, বিটিআরসির প্রাতিষ্ঠানিক স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।</p>
<p>প্রযুক্তি খাতের ইতিহাস বলছে, বড় পরিবর্তন কেবল নতুন প্রকল্প দিয়ে আসে না; আসে শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, স্বচ্ছ নীতি এবং নাগরিকের আস্থার মাধ্যমে। গত পাঁচ মাসে সরকার সেই যাত্রার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছে। এখন প্রয়োজন সেই ভিত্তির ওপর একটি কার্যকর, নিরাপদ, প্রতিযোগিতামূলক এবং জবাবদিহিতামূলক ডিজিটাল রাষ্ট্র নির্মাণ।</p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সরকারের আসন আছে, নাগরিক সমাজের চেয়ার কোথায়?</title>
<link>https://digibanglatech.news/184342</link>
<guid>https://digibanglatech.news/184342</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202607/image_870x580_6a5bc8379190f.jpg" length="112141" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 18 Jul 2026 23:39:03 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>চীনের উদ্যোগে গঠিত নতুন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থা সহযোগিতা, অন্তর্ভুক্তি ও বৈশ্বিক দক্ষিণের সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু এর প্রতিষ্ঠা চুক্তিতে নাগরিক সমাজ, শ্রমজীবী মানুষ কিংবা এআইয়ের প্রভাবে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য কোনো প্রাতিষ্ঠানিক আসন রাখা হয়নি।</p>
<p>সাংহাইয়ের মঞ্চে ২৯টি দেশের প্রতিনিধিরা এমন একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের জন্ম দিলেন, যার লক্ষ্য ভবিষ্যতের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শাসনব্যবস্থায় প্রভাব বিস্তার করা। সরকারগুলোর আসন ছিল। কূটনীতিকদের স্বাক্ষর ছিল। জাতিসংঘ মহাসচিবও উপস্থিত ছিলেন।</p>
<p>কিন্তু একটি চেয়ার স্পষ্টতই অনুপস্থিত ছিল: নাগরিক সমাজের চেয়ার।</p>
<p>এই অনুপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু রাষ্ট্রের সঙ্গে রাষ্ট্রের সম্পর্কের বিষয় নয়। এআই এমন শ্রমিকের জীবনে প্রভাব ফেলছে, যাঁর কাজ স্বয়ংক্রিয় হয়ে যেতে পারে; এমন নারীর নিরাপত্তায় হুমকি তৈরি করছে, যিনি প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার শিকার; এমন শিশুকে প্রভাবিত করছে, যে অস্বচ্ছ অ্যালগরিদমের মুখোমুখি; এমন সাংবাদিককে চ্যালেঞ্জের মধ্যে ফেলছে, যিনি কৃত্রিমভাবে তৈরি অপতথ্য শনাক্ত করছেন; এবং এমন জনগোষ্ঠীর ভাষা ও জ্ঞান ব্যবহার করছে, যাদের মতামত ছাড়াই বাণিজ্যিক মডেল প্রশিক্ষিত হচ্ছে।</p>
<p>এই মানুষগুলো যদি এআইয়ের নিয়ম তৈরির টেবিলে না থাকেন, তবে ‘মানবকেন্দ্রিক শাসন’ শেষ পর্যন্ত মানুষের নামে পরিচালিত হলেও মানুষের অংশগ্রহণহীন শাসনে পরিণত হতে পারে।</p>
<p>একটি নতুন প্রতিষ্ঠান, একটি নতুন বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা</p>
<p>বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সহযোগিতা সংস্থা বা ওয়াইকো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয় ১৬ জুলাই সাংহাইয়ে। পরদিন শুরু হয় ২০২৬ সালের বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলন ও বৈশ্বিক এআই শাসনবিষয়ক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। ২৯টি দেশ ওয়াইকোর প্রতিষ্ঠা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। সংস্থাটির সদর দপ্তর হবে সাংহাইয়ে।</p>
<p>১৭ থেকে ২০ জুলাই অনুষ্ঠিত বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে শতাধিক দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার সরকারি প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, গবেষক ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা অংশ নিয়েছেন। “উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য এআই অংশীদারত্ব” প্রতিপাদ্যটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, উন্মুক্ত উৎস প্রযুক্তি এবং বৈশ্বিক দক্ষিণের সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সামনে এনেছে।</p>
<p>এগুলো জরুরি ও যৌক্তিক অগ্রাধিকার। উন্নত কম্পিউটিং সক্ষমতা, মানসম্মত ডেটা, দক্ষ গবেষক এবং শক্তিশালী এআই মডেল এখনো অল্প কয়েকটি দেশ ও প্রতিষ্ঠানের হাতে কেন্দ্রীভূত। এ বৈষম্য কমানো না গেলে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অসমতাকে আরও গভীর করতে পারে।</p>
<p>ওয়াইকোর প্রতিষ্ঠা চুক্তিতে এআই বিভাজন কমানো, প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানো, সক্ষমতা উন্নয়ন, জাতীয় কৌশল সমন্বয়, কারিগরি মানদণ্ড, উন্মুক্ত উৎস ইকোসিস্টেম এবং জাতিসংঘের আওতাধীন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে।</p>
<p>উদ্দেশ্যগুলো প্রশংসনীয়। কিন্তু একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতা শুধু তার ঘোষিত লক্ষ্য দিয়ে বিচার করা যায় না। দেখতে হয়, তার কাঠামোয় কারা সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং কারা পারেন না।</p>
<p>ওয়াইকো দ্বিপক্ষীয় নয়, কিন্তু বহুপক্ষীয় অংশীজনভিত্তিকও নয়। </p>
<p>ওয়াইকোকে দ্বিপক্ষীয় নাকি বহুপক্ষীয় অংশীজনভিত্তিক প্রক্রিয়া বলা হবে, এই প্রশ্নে প্রথমেই একটি ধারণাগত পার্থক্য পরিষ্কার করা দরকার।</p>
<p>ওয়াইকো দ্বিপক্ষীয় নয়। দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা মূলত দুটি রাষ্ট্রের মধ্যে হয়ে থাকে। ওয়াইকো একাধিক সার্বভৌম রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে গঠিত একটি বহুপাক্ষিক আন্তঃসরকারি সংস্থা।</p>
<p>কিন্তু বহুপাক্ষিকতা আর বহুপক্ষীয় অংশীজনভিত্তিক শাসন এক বিষয় নয়।</p>
<p>বহুপাক্ষিকতা সাধারণত রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সহযোগিতাকে বোঝায়। বহুপক্ষীয় অংশীজনভিত্তিক শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাত, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি সম্প্রদায়, শ্রমিক সংগঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরাও একটি কাঠামোবদ্ধ ও ধারাবাহিক ভূমিকা রাখেন।</p>
<p>ওয়াইকোর প্রতিষ্ঠা চুক্তি অনুযায়ী এটি বর্তমানে প্রথম ধরনের প্রতিষ্ঠান।</p>
<p>চুক্তিতে দুটি প্রধান অঙ্গের কথা বলা হয়েছে: পরিষদ ও সচিবালয়। প্রতিটি সদস্যরাষ্ট্র পরিষদের সদস্য হবে এবং একটি করে ভোট পাবে। পরিষদই নীতিমালা, বাজেট, সদস্যপদ, নিয়োগ, কর্মপরিকল্পনা ও কার্যকরী দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেবে।</p>
<p>অসদস্য রাষ্ট্র ও আন্তঃসরকারি আন্তর্জাতিক সংস্থাকে পর্যবেক্ষক করা যেতে পারে। কিন্তু নাগরিক সমাজ, বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাধীন গবেষক, শ্রমিক সংগঠন, কমিউনিটি প্রতিনিধি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য সমতুল্য পর্যবেক্ষক মর্যাদা নিশ্চিত করা হয়নি।</p>
<p>চুক্তিতে সরকার, কোম্পানি, ব্যক্তি ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের অনুদান গ্রহণের সুযোগ রাখা হয়েছে। কিন্তু অর্থ দেওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও শাসনব্যবস্থায় অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি।</p>
<p>অতএব, বর্তমান কাঠামোয় ওয়াইকো বহুপাক্ষিক হলেও অর্থবহভাবে বহুপক্ষীয় অংশীজনভিত্তিক নয়।</p>
<p>‘সবার জন্য’ এআই, কিন্তু সবাই কি টেবিলে আছে?</p>
<p>এই পার্থক্য কেবল পরিভাষার বিষয় নয়।</p>
<p>সাংহাই সম্মেলনের ঘোষণায় মানবকেন্দ্রিকতা, ন্যায়সংগততা, অন্তর্ভুক্তি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, শ্রমিকের অধিকার, ডেটা নিরাপত্তা এবং সহযোগিতামূলক শাসনের কথা বলা হয়েছে। এআইকে মানবনিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বৈশ্বিক দক্ষিণকে প্রযুক্তি উন্নয়ন ও নীতিনির্ধারণে সমান সুযোগ দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে।</p>
<p>এসব প্রতিশ্রুতি গুরুত্বপূর্ণ। তবে একটি প্রতিষ্ঠানকে শুধু তার ভাষা দিয়ে নয়, কে তার এজেন্ডা নির্ধারণ করে, কে কাজ পর্যালোচনা করে এবং কে সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে, তা দিয়েও বিচার করতে হয়।</p>
<p>শুধু সরকারকেন্দ্রিক কাঠামো কয়েকটি ঝুঁকি তৈরি করে।</p>
<p>প্রথমত, সরকারের কাছে সব ধরনের প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকে না। এআই ব্যবস্থার প্রযুক্তিগত মূল্যায়নের দক্ষতা গবেষক, প্রকৌশলী, কোম্পানি এবং স্বাধীন পরীক্ষাগারের কাছেও থাকে। সামাজিক ক্ষতির বাস্তব প্রমাণ অনেক সময় সাংবাদিক, মানবাধিকার সংগঠন, ট্রেড ইউনিয়ন, নারী সংগঠন এবং স্থানীয় কমিউনিটির হাতে থাকে।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, সরকার এআইয়ের নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক নয়। সরকার নিজেই এআই ক্রয়, উন্নয়ন ও ব্যবহার করে। আইনশৃঙ্খলা, সামাজিক সুরক্ষা, অভিবাসন, শিক্ষা ও নজরদারিতে অ্যালগরিদম ব্যবহৃত হতে পারে। কেবল সরকার নিয়ে গঠিত একটি সংস্থা সদস্যরাষ্ট্রের নিজস্ব অপব্যবহার বা ব্যর্থতা নিয়ে কতটা স্বাধীনভাবে প্রশ্ন তুলবে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p>তৃতীয়ত, রাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব সব সময় মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে না। একটি সরকার আন্তর্জাতিকভাবে একটি দেশের পক্ষে কথা বলতে পারে, কিন্তু দেশের ভেতরে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, সংখ্যালঘু ভাষাভাষী মানুষ, শ্রমিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি বা অ্যালগরিদমিক বৈষম্যের শিকার নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত নাও করতে পারে।</p>
<p>চতুর্থত, কোনো সম্মেলনে উপস্থিত থাকা আর প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা থাকা এক নয়। ব্যবসায়ী, গবেষক বা নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি বিশ্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্মেলনে বক্তব্য দিতে পারেন। কিন্তু তাতে তাঁরা ওয়াইকোর এজেন্ডা প্রস্তাব, বাজেট পর্যালোচনা, মানদণ্ড যাচাই বা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে পারবেন, এমন নিশ্চয়তা তৈরি হয় না।</p>
<p>আমন্ত্রণনির্ভর অংশগ্রহণ নিরাপদ অংশগ্রহণ নয়। সমালোচনামূলক কণ্ঠকে বাদ দেওয়া কিংবা কেবল অনুগত সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানানোর সুযোগ সেখানে থেকেই যায়।</p>
<p>আন্তঃসরকারি কাঠামো নিজেই সমস্যা নয়</p>
<p>এখানে একটি ভারসাম্য জরুরি। আন্তঃসরকারি প্রতিষ্ঠান মানেই অগণতান্ত্রিক বা অগ্রহণযোগ্য, এমন নয়।</p>
<p>চুক্তি করা, আর্থিক দায় গ্রহণ এবং জাতীয় স্বার্থ প্রতিনিধিত্ব করার আইনগত ক্ষমতা রাষ্ট্রের রয়েছে। বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা রাষ্ট্রীয় নেতৃত্ব ছাড়া কার্যকর হতে পারে না। বৈশ্বিক দক্ষিণের দেশগুলোরও যৌক্তিক উদ্বেগ আছে, যাতে আন্তর্জাতিক এআই শাসনব্যবস্থা কেবল বড় প্রযুক্তি কোম্পানি কিংবা কয়েকটি ধনী দেশের নিয়ন্ত্রণে না যায়।</p>
<p>বহুপক্ষীয় অংশীজনভিত্তিক মডেলও সব সময় সমান বা ন্যায়সংগত হয় না। বড় কোম্পানিগুলো বৃহৎ প্রতিনিধিদল, অর্থ, প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও সরাসরি যোগাযোগের সুবিধা নিয়ে হাজির হয়। অন্যদিকে, ছোট নাগরিক সংগঠন অনেক সময় কেবল প্রতীকী উপস্থিতিতে সীমাবদ্ধ থাকে।</p>
<p>তাই সমাধান সরকারকে সরিয়ে কোম্পানি বা এনজিওকে বসানো নয়। সমাধান হলো রাষ্ট্রের আইনগত কর্তৃত্ব বজায় রেখে নাগরিক সমাজ, বিজ্ঞানী, শ্রমিক ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণকে প্রাতিষ্ঠানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া।</p>
<p>প্রশ্নটি সরকার নেতৃত্ব দেবে কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো সরকার একাই শাসন করবে কি না।</p>
<p>জাতিসংঘের প্রক্রিয়ার সঙ্গে পার্থক্য</p>
<p>ওয়াইকোর প্রতিষ্ঠা চুক্তিতে জাতিসংঘের আওতাধীন এআই শাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সমন্বয়ের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ওয়াইকো জাতিসংঘের কোনো অঙ্গ নয়। জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতিষ্ঠা অনুষ্ঠানে উপস্থিতি সংস্থাটিকে জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠানেও পরিণত করে না।</p>
<p>জাতিসংঘের বৈশ্বিক এআই শাসন সংলাপে ১৯৩টি সদস্যরাষ্ট্রের পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, বেসরকারি খাত, একাডেমিয়া ও প্রযুক্তি সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণের ব্যবস্থা রয়েছে। এই অংশগ্রহণ নিখুঁত নয় এবং সবার সমান ভোটাধিকারও নেই। তবু সেখানে একটি নীতি স্বীকৃত হয়েছে: এআই শাসন শুধু সরকারি মন্ত্রণালয়ের জ্ঞান ও বৈধতার ওপর নির্ভর করতে পারে না।</p>
<p>ওয়াইকো যদি সত্যিই বৈশ্বিক সহযোগিতাকে শক্তিশালী করতে চায়, তবে তাকে জাতিসংঘের সর্বজনীন প্রক্রিয়ার পরিপূরক হতে হবে, প্রতিদ্বন্দ্বী বলয় তৈরির মাধ্যম নয়।</p>
<p>ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি</p>
<p>ওয়াইকোর জন্ম এমন এক সময়, যখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে প্রযুক্তি, সরবরাহব্যবস্থা, চিপ, ক্লাউড অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নিয়ে প্রতিযোগিতা তীব্র হচ্ছে।</p>
<p>চীন নিজেকে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য তুলনামূলকভাবে উন্মুক্ত অংশীদার হিসেবে তুলে ধরছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপও নিজেদের প্রযুক্তি অংশীদারত্ব ও নীতিগত কাঠামো বিস্তৃত করছে।</p>
<p>এই প্রতিযোগিতা বৈশ্বিক দক্ষিণের জন্য সুযোগ তৈরি করতে পারে। দেশগুলো প্রশিক্ষণ, বিনিয়োগ, কম্পিউটিং সুবিধা এবং দর-কষাকষির নতুন ক্ষেত্র পেতে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ব প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি বলয়ে বিভক্ত হওয়ার ঝুঁকিও আছে।</p>
<p>এখানেই নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ জরুরি। সরকার হয়তো কোনো প্রযুক্তি অংশীদারত্বকে বিনিয়োগ, কূটনীতি বা জাতীয় নিরাপত্তার দৃষ্টিতে দেখবে। নাগরিক সমাজ ভিন্ন প্রশ্ন তুলতে পারে: এই প্রযুক্তি কি নজরদারি বাড়াবে? তথ্যের মালিক কে হবে? নাগরিক কি স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিকার পাবেন? স্থানীয় গবেষকরা কি সক্ষমতা অর্জন করবেন, নাকি দেশটি বিদেশি সরবরাহকারীর ওপর আরও নির্ভরশীল হবে?</p>
<p>এসব প্রশ্ন বাদ পড়লে ওয়াইকো বৈশ্বিক সহযোগিতার বদলে ভূরাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের প্ল্যাটফর্মে পরিণত হতে পারে।</p>
<p>করণীয়: নাগরিক সমাজকে কাঠামোর ভেতরে আনতে হবে</p>
<p>ওয়াইকোর কার্যপ্রণালি স্থায়ীভাবে গড়ে ওঠার আগেই এই ঘাটতি পূরণের সুযোগ রয়েছে।</p>
<p>প্রথমত, পরিষদের অধীনে একটি স্থায়ী নাগরিক সমাজ ও জনস্বার্থ ফোরাম গঠন করতে হবে। এটি যেন সম্মেলনের পার্শ্ব-অনুষ্ঠান না হয়। ফোরামকে সুপারিশ জমা, এজেন্ডা প্রস্তাব, প্রকাশ্য নথি পর্যালোচনা এবং পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য দেওয়ার অধিকার দিতে হবে।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, অংশগ্রহণ শুধু বড় আন্তর্জাতিক এনজিওতে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। স্থানীয় সংগঠন, কমিউনিটি মিডিয়া, ট্রেড ইউনিয়ন, নারী অধিকার সংগঠন, যুব নেটওয়ার্ক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন, ভোক্তা অধিকারকর্মী এবং ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।</p>
<p>তৃতীয়ত, প্রতিনিধি নির্বাচনে স্বচ্ছতা, আঞ্চলিক ভারসাম্য, লিঙ্গসমতা এবং অংশীজন বৈচিত্র্য নিশ্চিত করতে হবে। শুধু সরকারপন্থী সংগঠন বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়।</p>
<p>চতুর্থত, স্বাধীন বৈজ্ঞানিক, মানবাধিকার ও সামাজিক প্রভাববিষয়ক পরামর্শক ব্যবস্থা গঠন করতে হবে। সদস্যরাষ্ট্র বা প্রযুক্তি কোম্পানির সমালোচনা থাকলেও তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।</p>
<p>পঞ্চমত, খসড়া মানদণ্ড ও নীতিগত সুপারিশ গ্রহণের আগে জনপরামর্শ করতে হবে। বৈঠকের এজেন্ডা, বাজেট, বড় অনুদান, স্বার্থের সংঘাত এবং বাস্তবায়ন প্রতিবেদনও প্রকাশযোগ্য হতে হবে।</p>
<p>ষষ্ঠত, এআই ব্যবস্থার ক্ষতি, বৈষম্য বা অপব্যবহারের অভিযোগ জানানোর একটি আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা থাকতে হবে। জবাবদিহির পথ ছাড়া অংশগ্রহণ অর্থহীন।</p>
<p>বাংলাদেশেরও প্রশ্ন তোলা উচিত</p>
<p>বাংলাদেশের জন্য প্রশ্নটি শুধু ওয়াইকোতে যোগ দেওয়া হবে কি না, তা নয়। প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কেমন একটি ওয়াইকো দেখতে চায় এবং সেখানে কী পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেবে।</p>
<p>সদস্যপদ বিবেচনার আগে সরকারকে জাতীয় পর্যায়ে বহুপক্ষীয় অংশীজন পরামর্শ আয়োজন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ, কমিউনিটি মিডিয়া, শ্রমিক, নারী, তরুণ ও স্বাধীন গবেষকদের এতে যুক্ত করতে হবে।</p>
<p>চুক্তির আইনি বাধ্যবাধকতা, আর্থিক চাঁদা, ভোটব্যবস্থা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং জাতিসংঘের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বাংলাদেশকে নির্ধারণ করতে হবে, সদস্যপদের বিনিময়ে দেশ কী চাইবে: সাশ্রয়ী কম্পিউটিং সুবিধা, বাংলা ও আঞ্চলিক ভাষার এআই, গবেষণা সহযোগিতা, জনস্বার্থভিত্তিক অবকাঠামো, শক্তিশালী ডেটা সুরক্ষা এবং কৃষি, স্বাস্থ্য, জলবায়ু ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রযুক্তিগত সহায়তা।</p>
<p>বাংলাদেশ ওয়াইকোর ভেতরে বৈশ্বিক দক্ষিণের নাগরিক সমাজের জন্য আনুষ্ঠানিক অংশগ্রহণ কাঠামোর প্রস্তাবও দিতে পারে। এতে দেশটি শুধু সক্ষমতা সহায়তার সম্ভাব্য গ্রহীতা নয়, প্রতিষ্ঠানের নকশা গঠনের অংশীদার হিসেবেও আবির্ভূত হবে।</p>
<p>দ্রুত সদস্য হওয়া কূটনৈতিক দৃশ্যমানতা দিতে পারে। কিন্তু চিন্তাশীল শর্ত ও জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে যোগদান দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি করতে পারে।</p>
<p>‘সবার জন্য এআই’-এর প্রকৃত পরীক্ষা</p>
<p>ওয়াইকো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হয়ে উঠতে পারে। উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রযুক্তিতে অসম প্রবেশাধিকারের প্রশ্নকে সামনে আনার মধ্যে এর বড় সম্ভাবনা রয়েছে। উন্নয়নশীল দেশগুলোর শুধু নৈতিক ঘোষণা নয়, কম্পিউটিং শক্তি, দক্ষ জনবল, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে প্রভাব প্রয়োজন।</p>
<p>কিন্তু একটি প্রতিষ্ঠানের বৈধতা শুধু প্রতিষ্ঠা চুক্তির পেছনে কতটি দেশের পতাকা রয়েছে, তা দিয়ে নির্ধারিত হয় না।</p>
<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মানুষকে শ্রেণিবিন্যাস করে, তাদের সম্পর্কে সিদ্ধান্তের সুপারিশ দেয়, আচরণ পূর্বানুমান করে এবং তথ্য ও সুযোগে প্রবেশাধিকার প্রভাবিত করে। তাই সেই মানুষদেরও এর শাসনে অংশ নিতে হবে।</p>
<p>নাগরিক সমাজের জন্য একটি চেয়ার কোনো অলংকার নয়। এটি প্রমাণ করবে, ‘সবার কল্যাণে এআই’ বলতে মানুষকে শুধু সুবিধাভোগী, ব্যবহারকারী কিংবা ডেটার উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে না; বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণে অধিকারসম্পন্ন অংশীদার হিসেবেও স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে।</p>
<p>ওয়াইকো রাষ্ট্রগুলোর জন্য টেবিল তৈরি করেছে। এখন তার সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: সমাজের জন্য কি সেখানে জায়গা হবে?     </p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ </strong>ডিজিটাল গণতন্ত্র, তথ্যের অখণ্ডতা ও গণমাধ্যম উন্নয়ন নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ; দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর।</p>
<hr><hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>অনুদান যখন স্টার্টআপের: চাই নীতিগত স্পষ্টতা ও স্বচ্ছতা</title>
<link>https://digibanglatech.news/184276</link>
<guid>https://digibanglatech.news/184276</guid>
<description><![CDATA[ &lt;ul&gt;
&lt;li data-path-to-node=&quot;5,0,0&quot;&gt;প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও দ্রুত সম্প্রসারণযোগ্য &#039;স্টার্টআপ&#039; এবং প্রথাগত ফেসবুক পেজ-ভিত্তিক &#039;ক্ষুদ্র ব্যবসা (SME)&#039;-এর মধ্যকার প্রাতিষ্ঠানিক তফাত স্পষ্টিকরণ&lt;/li&gt;
&lt;li data-path-to-node=&quot;5,1,0&quot;&gt;রাষ্ট্রীয় আইসিটি বাজেট বরাদ্দে নিরপেক্ষ জুরি বোর্ড, ওপেন-ডেটা পলিসি এবং ডেটা-চালিত মূল্যায়ন নিশ্চিতকরণের প্রস্তাব&lt;/li&gt;
&lt;li data-path-to-node=&quot;5,2,0&quot;&gt;অ-প্রযুক্তিগত খাতে আইটি বাজেট ব্যবহারজনিত তরুণ উদ্যোক্তাদের হতাশা দূর করে বৈশ্বিক বিনিয়োগ আকর্ষণের পরিবেশ তৈরি &lt;/li&gt;
&lt;/ul&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202607/image_870x580_6a5b2f2d1d1c4.jpg" length="80781" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 18 Jul 2026 10:46:27 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>স্টার্টআপ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, আইসিটি অনুদান, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, স্মার্ট ইকোনমি, ইকোসিস্টেম, স্বচ্ছতা</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="8">সম্প্রতি দেশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং ই-commerce ইকোসিস্টেমে সরকারি তহবিল বণ্টন নিয়ে বেশ জোরদার ও গঠনমূলক আলোচনা চলছে। আইসিটি বিভাগ ও স্টার্টআপ বাংলাদেশ-এর বিশেষায়িত তহবিল থেকে একটি প্রথাগত ফেসবুক পেজ-ভিত্তিক বুটিক উদ্যোগকে বড় অঙ্কের অনুদান দেওয়ার ঘটনাটি দেশের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের মাঝে তীব্র কৌতুহলের জন্ম দিয়েছে। একজন সচেতন নাগরিক ও নীতি গবেষক হিসেবে এই আলোচনাকে কেবলই নেতিবাচক সমালোচনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং একে আমাদের এন্ট্রাপ্রেনিউরশিপ ইকোসিস্টেমের দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত সংস্কারের একটি অনন্য সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত। এই ঘটনাটি মূলত একটি প্রকৃত প্রযুক্তিগত ও দ্রুত সম্প্রসারণযোগ্য (Scalable) "স্টার্টআপ" এবং একটি প্রশংসনীয় ও ঐতিহ্যবাহী "ক্ষুদ্র ব্যবসা (SME)"-এর মধ্যকার সংজ্ঞাগত তফাত নীতিনির্ধারণী স্তরে আরও স্পষ্ট করার তাগিদ দেয়।</p>
<h3 data-path-to-node="9">১. স্টার্টআপ বনাম সাধারণ ব্যবসা: মূল পার্থক্য যেখানে</h3>
<p data-path-to-node="10">দেশের ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে এবং তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে বৈশ্বিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে রাষ্ট্র বরাবরই আন্তরিক। তবে এই সদ্বিচ্ছাকে শতভাগ সফল করতে হলে ‘স্টার্টআপ’ এবং ‘ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র উদ্যোগ’-এর সীমারেখা স্পষ্ট হওয়া জরুরি।</p>
<p data-path-to-node="11">আমাদের ঐতিহ্যবাহী জামদানি বা হস্তশিল্পকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। কিন্তু এই উদ্যোগগুলো মূলত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (SME), যেখানে প্রযুক্তির ব্যবহার সাধারণত ফেসবুক বা অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে ছবি পোস্ট, যোগাযোগ কিংবা অর্ডার নেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।</p>
<p data-path-to-node="12">অন্যদিকে, একটি প্রকৃত স্টার্টআপের মূল চালিকাশক্তি হলো 'প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন' এবং জ্যামিতিক হারে ব্যবসা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা (Scalability)। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো উদ্যোক্তা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত এমন কোনো লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্ম বা ফিনটেক সলিউশন তৈরি করেন, যা দেশের হাজার হাজার প্রান্তিক তাঁতিকে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়া সরাসরি বৈশ্বিক ক্রেতাদের সাথে যুক্ত করতে পারে, তবে সেটি একটি প্রকৃত স্টার্টআপ। প্রথমটির মূল আকর্ষণ পণ্যের নিজস্ব শৈলী, আর দ্বিতীয়টির প্রাণ হলো সম্পূর্ণ নতুন ও প্রযুক্তিগত সমাধান। প্রথাগত ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রয়োজন সহজ শর্তে ঋণ ও বিপণন সহায়তা, যা বিসিক বা এসএমই ফাউন্ডেশন দিতে পারে। আইসিটি বিভাগের কারিগরি অনুদান তাদের মূল ব্যবসায়িক মডেলে কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন আনে না। তাই এই দুই খাতের সরকারি সহায়তার উইন্ডো সম্পূর্ণ আলাদা হওয়া প্রয়োজন।</p>
<h3 data-path-to-node="13">২. মূল্যায়ন প্রক্রিয়া যেভাবে আরও নিখুঁত হতে পারত</h3>
<p data-path-to-node="14">জনগণের করের টাকায় গঠিত রাষ্ট্রীয় তহবিল বণ্টন প্রক্রিয়াটি সবার কাছে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও প্রশ্নাতীত হওয়া বাঞ্ছনীয়। যখন একটি প্রাথমিক পর্যায়ের ফেসবুক পেজ-ভিত্তিক বুটিক উদ্যোগ আইসিটি বিভাগের বিশেষায়িত তহবিল পায়, তখন মাঠপর্যায়ের কঠোর পরিশ্রমী আইটি উদ্যোক্তাদের মনে কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন জাগে:</p>
<ul data-path-to-node="15">
<li>
<p data-path-to-node="15,0,0">ডেটা-ভিত্তিক মূল্যায়ন: অনুদান দেওয়ার আগে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত ট্রাফিক, মাসিক ইউনিক ইউজার, কারিগরি সক্ষমতা এবং কর্মসংস্থানে তার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বৈজ্ঞানিক উপায়ে যাচাই করা হয়েছিল কি না?</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="15,1,0">স্বার্থের সংঘাত ও স্বজনপ্রীতি এড়ানো: রাষ্ট্রীয় তহবিল বরাদ্দে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও স্বাধীন একটি জুরি বোর্ডের মূল্যায়ন নিশ্চিত করা গেলে তা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঘোষিত নীতিকেই সাধারণ মানুষের কাছে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="15,2,0">বাজেটের সঠিক ব্যবহার: আইসিটি বিভাগের বিশেষায়িত বাজেট অ-প্রযুক্তিগত উদ্যোগে ব্যবহৃত হলে তা মূল আইটি সেক্টরের গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবনের সুযোগকে সংকুচিত করে ফেলে। হস্তশিল্প বা ঐতিহ্যবাহী পণ্যের দেখভালের জন্য বিসিক (BSCIC) বা তাঁত বোর্ডই সবচেয়ে উপযুক্ত।</p>
</li>
</ul>
<h3 data-path-to-node="16">৩. তরুণ উদ্যোক্তা ও ইকোসিস্টেমে এর প্রভাব</h3>
<p data-path-to-node="17">আমাদের আইটি ইকোসিস্টেমের ভিত্তি গড়তে বিগত বছরগুলোতে দারুণ কিছু কাজ হয়েছে। তবে সামান্য তদারকিগত সমন্বয়হীনতার কারণে যেন এই অর্জন ম্লান না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক হওয়া প্রয়োজন:</p>
<ul data-path-to-node="18">
<li>
<p data-path-to-node="18,0,0">তরুণদের আস্থা রক্ষা ও মেধাপাচার রোধ: মেধাবী তরুণরা যখন ল্যাবে দিনরাত এক করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ব্লকচেইন কিংবা লজিস্টিকস প্ল্যাটফর্ম বানায়, তারা দেশের ভবিষ্যতের সহযাত্রী হিসেবে কাজ করে। কোনো প্রযুক্তিগত ভিত্তি ছাড়াই লবিং বা প্রভাবের জোরে প্রথাগত উদ্যোগ আইসিটি খাতের বরাদ্দ পেয়ে গেলে তাদের মধ্যে তীব্র হতাশা তৈরি হয়, যা মেধাপাচার (Brain Drain) বাড়িয়ে দেয়।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="18,1,0">বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের অনীহা: বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল কোম্পানিগুলো যখন দেখে একটি দেশের সরকারি অনুদান শতভাগ মেধা, স্বচ্ছতা ও ডেটা-ভিত্তিক উপায়ে পরিচালিত হচ্ছে, তখন তারা এই দেশের ইকোসিস্টেমের ওপর আস্থা পায়। অসঙ্গতিপূর্ণ বণ্টন প্রক্রিয়া দেখলে তারা বিনিয়োগ গুটিয়ে নিতে পারে।</p>
</li>
</ul>
<h3 data-path-to-node="19">৪. ভবিষ্যৎ পথনকশা: যেভাবে অনুদান প্রক্রিয়া আদর্শ করা যায়</h3>
<p data-path-to-node="20">স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনের লক্ষ্য অর্জনে অনুদান প্রক্রিয়াকে আরও বৈজ্ঞানিক ও নিরপেক্ষ করতে কয়েকটি বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে:</p>
<ul data-path-to-node="21">
<li>
<p data-path-to-node="21,0,0">উন্মুক্ত তথ্য নীতি (Open Data Policy): রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে অনুদানপ্রাপ্ত প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের যৌক্তিকতা, জুরি বোর্ডের মূল্যায়ন স্কোর এবং তাদের কাজের সামগ্রিক অগ্রগতি একটি নির্দিষ্ট অনলাইন ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জনগণের সামনে উন্মুক্ত রাখা যেতে পারে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="21,1,0">নিরপেক্ষ কারিগরি কমিটি গঠন: যেকোনো ধরনের ব্যক্তিগত বা প্রশাসনিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তিবিদ, সফল আইটি উদ্যোক্তা, শিক্ষাবিদ ও নিরপেক্ষ আইটি ফোরামের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে চূড়ান্ত জুরি বোর্ড গঠন করা প্রয়োজন।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="21,2,0">খাতভিত্তিক সুনির্দিষ্ট বাজেট সীমানা: আইসিটি বিভাগের বিশেষায়িত বাজেটকে কঠোরভাবে কেবল উচ্চ-প্রযুক্তি (Deep-Tech), সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এবং মৌলিক প্রযুক্তিগত নতুন উদ্ভাবনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। অন্যদিকে, দেশীয় বুটিক বা তাঁত শিল্পের প্রসারে টেক্সটাইল বা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ উইন্ডোর মাধ্যমে সহায়তার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।</p>
</li>
</ul>
<p data-path-to-node="22">সরকারি অনুদান বিতরণের এই প্রক্রিয়াটিকে আরও নিখুঁত, নিরপেক্ষ ও ডেটা-চালিত করার মাধ্যমেই আমরা একটি প্রকৃত মেধাভিত্তিক ‘স্মার্ট ইকোনমি’ গড়ে তুলতে সক্ষম হব।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="22"><b data-path-to-node="22,0,0" data-index-in-node="0">লেখক:</b><span> </span><i data-path-to-node="22,0,1" data-index-in-node="0">ই-কমার্স বিশ্লেষক ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, ই-ক্যাব </i></p>
<hr><hr>
<p data-path-to-node="22"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>আইএসপিদের নিরাপত্তা ও আমাদের সার্বভৌমত্ব: আশঙ্কার মেঘ এবং উত্তরণের পথ</title>
<link>https://digibanglatech.news/184118</link>
<guid>https://digibanglatech.news/184118</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202607/image_870x580_6a589923633b4.jpg" length="73126" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 16 Jul 2026 13:08:53 +0600</pubDate>
<dc:creator>সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক</dc:creator>
<media:keywords>বাংলাদেশ, আইসিটি বিভাগ, রদবদল, ইন্টারনেট নিরাপত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল বাংলাদেশ, আইএসপি, ফাইবার অপটিক, স্মার্ট বাংলাদেশ, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, জুলাই বিপ্লব, সাংবাদিকতা, প্রতিবেদন, তথ্য প্রযুক্তি, বিটিআরসি, ডিজিটাল অর্থনীতি, অবকাঠামো নিরাপত্তা।</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>দুই বছর আগের সেই জুলাইয়ের উত্তাল দিনগুলোর কথা নিশ্চয়ই মনে আছে? ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যখন আকস্মিকভাবে ইন্টারনেট 'ব্ল্যাকআউট' বা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তখন যেন গোটা দেশের দম বন্ধ হয়ে এসেছিল। ক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা কেবল রাজপথেই ফুঁসে ওঠেনি, ভার্চুয়াল জগতের সংযোগ বিচ্ছিন্নতা তাদের প্রতিবাদের আগুনকে আরও উসকে দিয়েছিল। ইন্টারনেট যে এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, বরং মৌলিক অধিকার ও বেঁচে থাকার অন্যতম উপাদান- সেই ঐতিহাসিক সত্যটি বাংলাদেশ সেদিন হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছিল।</p>
<p>সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার পর- সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ইন্টারনেট সেবায় যেকোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতাকে আইন করে নিষিদ্ধ করার। এর আগেই অবশ্য কোভিডকালীন সময়ে ইন্টারনেট বা ডিজিটাল সংযোগ যে যাপিত জীবনের লাইফলাইন তাও প্রতীয়মান হয়। ফলে ইন্টারনেটকে 'জরুরি সেবা' হিসেবে ঘোষণা করা হয় তখনই। পরবর্তীতে জুলাই বিপ্লবে ইন্টারনেট যেন কোনো পরিস্থিতিতেই বন্ধ রাখা না যায় সে জন্য এর নিরবচ্ছিন্নতা বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে নতুন টেলিকম নীতিমালায় আইনে পরিণত করা হয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, ইন্টারনেট বন্ধ করতে পারে বিষয়টি পলিসিতে থাকলেও তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় গাইডলাইনটি এখনও আলোর মুখ দেখেনি। কেননা, এই আইন পাশের পরেও ডেসকো, সিটি কর্পোরেশনের মতো  প্রতুষ্ঠান থেকেও তারের জঞ্জাল হিসেবে পরিচ্ছন্নতার কথা বলে ক্যাবল কেটে দেওয়া হয়। এতে গ্রাহক এবং ব্যবসায়ী উভয়েই ক্ষতিগ্রস্ত হন। এজন্য তারা কোনো ক্ষতিপূরণ পান না। ফলে আইন থাকলেও ডিজিটাল অবকাঠামো নিরাপত্তার সেই রক্ষাকবচ আজ মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের হোঁচট খাচ্ছে। ডিজিটাল বাংলাদেশের স্নায়ুকেন্দ্রগুলো যেন ঢেকে গেছে অদৃশ্য ও দৃশ্যমান আতঙ্কের চাদরে।</p>
<p><strong>অন্ধকার গলির হুমকি: যখন ডিজিটাল সেবাদাতারা জিম্মি</strong><br>সাম্প্রতিক মাসগুলোর পরিসংখ্যান যেকোনো সচেতন নাগরিককে ভাবিয়ে তুলবে। গত কয়েক মাসে সারা দেশে অন্তত ১৫ থেকে ২০টি ইন্টারনেট সেবাদাতা (ISP) প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে জুন ও জুলাই মাসে এই প্রবণতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।</p>
<p>এই তো গত ১৩ জুলাই চট্টগ্রামের আইএসপি 'ডিজিটাল ডট নেট'-এ চাঁদা না পেয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা চালিয়েছে। বিষয়টি টক অব দ্য কান্ট্রি হবার পর পুলিশি তৎপরতায়আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কিন্তু আতঙ্ক কাটেনি। কেননা, এক মাসেরও কম সময় পূর্বে গত ৯ জুন মাত্র এক রাতের ব্যবধানে রাজধানীর লালমাটিয়া, বাড্ডা এবং ঢাকার বাইরে চাঁদপুর, কুমিল্লা, গাজীপুর ও বগুড়ার বেশ কয়েকটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে একযোগে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। সেসব হামলার কোনো সুরহা না হলেও এতোবড় একটা দুর্ঘটনার শিকার হতে হলো ইন্টারনেট সেবাদাতাদের।</p>
<p>এভাবেই  পাড়ায় পাড়ায় কিংবা অভিজাত সোসাইটিগুলোতে ইন্টারনেট ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে স্থানীয় প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসীদের এই জবরদস্তিমূলক আচরণ পুরো খাতকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। ফাইবার অপটিক্যাল ক্যাবল কেটে দেওয়া, পপ (POP) বা নক (NOC) সেন্টারে হামলা চালানো এখন নিত্যদিনের ঘটনা। আইসিটি ও টেলিকম মন্ত্রণালয় এটিকে জরুরি সেবা বললেও, স্থানীয় প্রশাসন বা মাঠপর্যায়ের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এর গুরুত্ব কতটা অনুধাবন করতে পেরেছে- তা নিয়ে বড় প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার জন্য বিচার চাইতে গিয়েও রাজপথে নামতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। প্রশাসনিক ভাবেও প্রো-অ্যাক্টিভলি কোনো পদক্ষেপ নেয়ার নজির এখন পর্যন্ত চোখে পড়েনি। তাই এসব হামলা কমার বদলে যেমন বাড়ছে, তেমনি এই জরুরি সেবা ঘোষণাটাও হাস্যকর রূপ ধারণ করেছে। এতে বস্তুত হুমকীতে পড়েছে সরকারের ‘ডিজিটাল অর্থনীতি’ শক্তিশালী করণের প্রচেষ্টাও।</p>
<p><strong>কেন এটি কেবল 'ব্যবসায়িক ক্ষতি' নয়?</strong><br>আমরা যখন ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কিংবা স্টার্ট-আপ নিয়ে বিশ্বমঞ্চে বুক ফুলিয়ে কথা বলি, তখন আমাদের মনে রাখা দরকার এই সবকিছুর ভিত্তি হলো ফাইবার অপটিক্যাল তার আর মাঠপর্যায়ের আইএসপিগুলোর নিরলস সেবা। তাই ডিজিটাল অবকাঠামোতে আঘাত আসার অর্থ হলো দেশের ই-কমার্স, টেলিমেডিসিন, এ্যডুটেক, সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ইত্যাদি প্রতিটি ক্ষেত্রকেই দুর্বল করে ফেলা। এতে করে অচিরেই দেখা দেবে-</p>
<p><strong>বিনিয়োগে স্থবিরতা: </strong>অবকাঠামো অনিরাপদ হলে ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিদেশি বা দেশি বিনিয়োগকারীরা টাকা ঢালতে ভয় পাবেন।<br><strong>ফ্রিল্যান্সারদের জীবিকা সংকট:</strong> কয়েক ঘণ্টার ইন্টারনেট বিভ্রাট একজন ফ্রিল্যান্সারের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করে দিতে পারে।<br><strong>বৈশ্বিক ভাব মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়া</strong>: আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ একটি 'অস্থিতিশীল কানেক্টিভিটি'র দেশ হিসেবে চিহ্নিত হতে পারে।</p>
<p><strong>দায় কার?</strong><br>বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ রেগুলেটরি কমিশনের (বিটিআরসি) লাইসেন্সি প্রতিষ্ঠান হিসেবে আইএসপিগুলো কিন্তু সরকারের সাথে রেভিনিউ শেয়ার করে, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (SOF)-এ অর্থ দেয়। তাহলে তাদের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা পাওয়ার অধিকার কেন থাকবে না?সঙ্গত কারণেই বিটিআরসি-কেই এক্ষেত্রে সবার আগে এগিয়ে আসতে হবে। এক্ষেত্রে নীতিমালা হালনাগাদ করণ এবং মাঠপর্যায়ে তদারকিকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে। সেজন্য আসুন এ ধরণের সঙ্কট মোকাবেলায় বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক অভিজ্ঞতার দিকে একটু নজর দেয়া যাক।</p>
<p><strong>আঞ্চলিক অভিজ্ঞতা: প্রতিবেশী দেশগুলোর সুরক্ষাকবচ ও নীতিমালা</strong><br>ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এবং এর ভৌত অবকাঠামোকে (যেমন: NOC, POP, এবং ডেটা সেন্টার) শুধু ব্যবসা হিসেবে না দেখে সেগুলোকে 'গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামো' (Critical Information Infrastructure - CII) বা 'কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন' (KPI) ভুক্ত স্থাপনা হিসেবে সুরক্ষিত রাখার আন্তর্জাতিক প্র্যাকটিস রয়েছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর নীতিমালা থেকে আমরা অত্যন্ত কার্যকর কিছু দৃষ্টান্ত গ্রহণ করতে পারি:</p>
<p><strong>ভারতে রয়েছে বিশেষায়িত সাইবার এবং ফিজিক্যাল টাস্কফোর্স</strong><br>প্রতিবেশী দেশ ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি আইন (IT Act, 2000) এর ধারা ৭০ অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ টেলিকম ও ডেটা অবকাঠামোকে Protected System বা সুরক্ষিত ব্যবস্থা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই অবকাঠামোগুলোতে যেকোনো অনন্যাসঙ্গিক প্রবেশ বা হামলা অ-জামিনযোগ্য ও গুরুতর অপরাধ। এছাড়া, ভারতীয় টেলিকম রেগুলেটরি অথরিটি (TRAI) এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে গঠিত সাইবার উইং স্থানীয় পুলিশের সাথে মিলে এই খাতের চাঁদাবাজি দমনে সরাসরি হস্তক্ষেপ করে।</p>
<p><strong>পাকিস্তানে রয়েছে PECA এবং বিশেষ সুরক্ষা প্রটোকল</strong><br>উপমহাদেশের আরেকটি দেশ পাকিস্তানে Prevention of Electronic Crimes Act (PECA) এবং বিশেষ টেলিকম নীতিমালার অধীনে টেলিকম ও ইন্টারনেট সেবাদাতাদের ব্যাকবোন অবকাঠামোকে জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় ইন্টারনেট সেবায় নিয়মতান্ত্রিক বা অনৈতিক বাধা সৃষ্টি করাকে 'গুরুতর রাষ্ট্রীয় অর্থনৈতিক অপরাধ' হিসেবে বিচার করা হয়।</p>
<p><strong>নেপাল ও ভুটান: রেগুলেটরি ও লোকাল পলিসির সমন্বয়</strong><br>নেপাল টেলিকমিউনিকেশন অথরিটি (NTA) এবং ভুটানের (BICMA) লাইসেন্সিং গাইডলাইনে ইন্টারনেট সেবাদানকারীদের সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা স্পষ্ট করা হয়েছে। সেখানে স্থানীয় ক্যাবল কাটার ঘটনা বা ইন্টারনেট সরবরাহে বিঘ্ন ঘটানোকে সরাসরি জাতীয় সম্পদের ক্ষতি সাধনের সমতুল্য শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়।</p>
<p><strong>সিঙ্গাপুর: সাইবার সিকিউরিটি আইন ও কড়া সুরক্ষা ব্লক</strong><br>সিঙ্গাপুর এ বিষয়ে বিশ্বে রোল মডেল। তাদের Cybersecurity Act অনুযায়ী ১১টি গুরুত্বপূর্ণ খাতকে Critical Information Infrastructure (CII) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যার অন্যতম হলো ইনফোকম বা আইসিটি সেক্টর। সিঙ্গাপুরে যেকোনো পপ (POP), নক (NOC) বা ইন্টারনেট এক্সচেঞ্জে হামলা বা সেবা ব্যাহত করার ন্যূনতম প্রচেষ্টাও কঠোর অর্থনৈতিক অপরাধ (Economic Crime) এবং দেশের সার্বভৌম নিরাপত্তার ওপর আঘাত হিসেবে বিচার করা হয়।</p>
<p><strong>সংকটের আশু সমাধান: তিনটি সাময়িক পদক্ষেপ</strong><br>পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে এবং ব্যবসায়ীদের মনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে তিনটি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:</p>
<p>১. বিশেষ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল: ডিজিটাল অবকাঠামো ও ইন্টারনেট সেবায় বাধা দেওয়াকে 'গুরুতর অর্থনৈতিক অপরাধ' (Serious Economic Offense) হিসেবে গণ্য করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।<br>২. ট্র্যাকিং সিস্টেম সচল করা: যেসব দেশি বা বিদেশি নম্বর (যেমন হোয়াটসঅ্যাপ) থেকে আইপি ফোন বা অন্য মাধ্যমে চাঁদাবাজির হুমকি দেওয়া হচ্ছে, সেগুলোকে বিটিআরসির উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত শনাক্ত করে অ্যাকশন নিতে হবে।<br>৩. যৌথ সমন্বিত সেল গঠন: ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা ও অবকাঠামোর সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখনই বিটিআরসি, স্থানীয় প্রশাসন, বিদ্যুৎ বিভাগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে একটি বিশেষ 'কুইক রেসপন্স সেল' গঠন করা প্রয়োজন।</p>
<p><strong>দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষাকবচ: টেকসই সমাধান</strong><br><em>সাময়িক মলম দিয়ে এই ক্ষত নিরাময় সম্ভব নয়। আমাদের প্রয়োজন কাঠামোগত পরিবর্তন:</em></p>
<p><strong>কেপিআই (KPI) ঘোষণা:</strong> ইন্টারনেট সেবা ব্যবসায়ের প্রধান লাইফলাইন—নক (NOC), পপ (POP) ও ডেটাসেন্টারগুলোকে অবিলম্বে 'কি পয়েন্ট ইনস্টলেশন' (KPI) বা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।<br><strong>লাইফলাইন আইন সংশোধন:</strong> লাইসেন্স গাইডলাইনেই ইন্টারনেট ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর সুরক্ষাকে জরুরি আইনের আওতাভুক্ত করতে হবে।<br><strong>সাইবার ইন্টেলিজেন্সের অন্তর্ভুক্তি: </strong>আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার ক্রাইম বিভাগকে কেবল সোশাল মিডিয়া মনিটরিংয়ে ব্যস্ত না রেখে, ইন্টারনেট সেবাদাতাদের ওপর হুমকি ও চাঁদাবাজি ঠেকাতে বিশেষ সাইবার ইন্টেলিজেন্স ইউনিট হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।</p>
<p>বস্তুত কোভিড ও জুলাইয়ের সেই দিনগুলো আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে শিখিয়েছে, ইন্টারনেট ছাড়া আধুনিক নাগরিক জীবন অচল। আজ যদি মুষ্টিমেয় কিছু চাঁদাবাজ আর সন্ত্রাসীর কারণে সেই ইন্টারনেট সেবাদাতারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তবে তার মাশুল দিতে হবে পুরো রাষ্ট্রকে। আমরা যদি সত্যিই একটি জ্ঞানভিত্তিক, স্বনির্ভর ও বৈষম্যহীন স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে চাই, তবে ডিজিটাল মহাসড়কের পাহারাদারদের নিরাপত্তা আমাদের সবার আগে নিশ্চিত করতে হবে। কালবিলম্ব না করে এখনই অ্যাকশন নেওয়ার উপযুক্ত সময়।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong> <span>প্রকাশক, ডিজিবাংলা, সম্পাদক, সারবাংলা, উদ্যোক্তা ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি, আইএসপিএবি</span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ক্রিয়েটিভ ইকোনমি: বাংলাদেশের সফট পাওয়ার ও প্রবৃদ্ধির অব্যবহৃত অস্ত্র</title>
<link>https://digibanglatech.news/183988</link>
<guid>https://digibanglatech.news/183988</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;বিশ্ব অর্থনীতি এখন প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে সৃজনশীলতা ও মেধাস্বত্বভিত্তিক কাঠামোর দিকে ঝুঁকছে। চলচ্চিত্র, গেমিং, ডিজাইন ও এআই সেবার মতো উচ্চমূল্য খাতের বিশাল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে এটি উপেক্ষিত। নিবন্ধটিতে আইনি সংস্কার, নীতিগত সমাধান এবং সঠিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মাধ্যমে ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও সফট পাওয়ারের প্রধান হাতিয়ার করার আহ্বান জানানো হয়েছে।&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202607/image_870x580_6a56917686c2f.jpg" length="95568" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 15 Jul 2026 00:00:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, সফট পাওয়ার, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা, ডিজিটাল পাইরেসি, সৃজনশীল শিল্প, CSER</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বিশ্ব অর্থনীতি আজ প্রাকৃতিক সম্পদ ও প্রথাগত শ্রমনির্ভর কাঠামো থেকে জ্ঞান, সৃজনশীলতা এবং মেধাস্বত্বভিত্তিক (IP-based) অর্থনীতির দিকে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে। ফলে চলচ্চিত্র, সংগীত, অ্যানিমেশন, গেমিং, ডিজাইন, সফটওয়্যার, ডিজিটাল কনটেন্ট, হস্তশিল্প এবং এআই-ভিত্তিক সৃজনশীল সেবার মতো খাতগুলো আজ কেবল সংস্কৃতির অনুষঙ্গ নয়, বরং উচ্চমূল্য সংযোজনকারী অন্যতম শক্তিশালী অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক heritage, প্রযুক্তিতে দক্ষ বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠী এবং বিকাশমান ডিজিটাল অর্থনীতির কারণে এই খাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, এটি এখনও আমাদের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক কৌশলে প্রয়োজনীয় গুরুত্ব পায়নি।</p>
<p>বর্তমানে কার্যকর কপিরাইট ও রয়্যালটি ব্যবস্থার তীব্র অভাব, সর্বগ্রাসী ডিজিটাল পাইরেসি, অর্থায়নের চরম সীমাবদ্ধতা, প্রাতিষ্ঠানিক ও দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি, আন্তর্জাতিক বিপণনের দুর্বলতা এবং সুনির্দিষ্ট সমন্বিত নীতির অভাবে দেশের সৃজনশীল শিল্প তার পূর্ণ সম্ভাবনায় পৌঁছাতে পারছে না। সঠিক নীতি, আইনি সংস্কার এবং যুগোপযোগী প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে ক্রিয়েটিভ ইকোনমি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হতে পারে। একই সাথে এটি বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের নিজস্ব ব্র্যান্ডিং ও 'সফট পাওয়ার' (Soft Power) শক্তিশালী করার সবচেয়ে মোক্ষম হাতিয়ার হতে পারে।</p>
<p><strong>কৌশলগত রোডম্যাপ ও নীতিগত সমাধান</strong><br>সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ (CSER)-এর মতে, এই বিপুল সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে:</p>
<p><strong>জাতীয় ক্রিয়েটিভ ইকোনমি পলিসি:</strong> প্রথমেই একটি যুগোপযোগী National Creative Economy Policy প্রণয়ন করে ক্রিয়েটিভ ইকোনমিকে একটি স্বতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক অর্থনৈতিক খাত হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে।</p>
<p><strong>আর্থিক ও পরিকাঠামো তহবিল:</strong> খাতের প্রাথমিক মূলধন সংকট দূর করতে একটি Creative Economy Development Fund গঠন, সমন্বিত ডিজিটাল রয়্যালটি অবকাঠামো নির্মাণ, বিভাগীয় পর্যায়ে 'Creative Hub' এবং জেলা পর্যায়ে 'Creative Cluster' গড়ে তোলা জরুরি।</p>
<p><strong>মেধাস্বত্ব ও আন্তর্জাতিকায়ন:</strong> কঠোর আইনি প্রয়োগের মাধ্যমে মেধাস্বত্ব সুরক্ষা ও ডিজিটাল পাইরেসি প্রতিরোধ করতে হবে। সেই সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় কনটেন্ট ছড়িয়ে দিতে Creative Export Promotion Programme এবং Creative Economy Satellite Account চালু করা প্রয়োজন।</p>
<p><strong>শিক্ষায় রূপান্তর:</strong> আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রথাগত সিলেবাসের বাইরে Creative Entrepreneurship, Design Thinking, Digital Media এবং IP Management-এর মতো সমসাময়িক বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ২০৩০ সালকে লক্ষ্য রেখে একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়ন করতে হবে।</p>
<p>আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ভারত, জাপান এবং বিশেষ করে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় নীতির মাধ্যমে তাদের culture ও সৃজনশীল শিল্পকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করেছে। বাংলাদেশও আজ একই পথে এগোতে পারে, যদি আমরা সৃজনশীল শিল্পকে কেবল সংস্কৃতির গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে জাতীয় শিল্পনীতি, শিক্ষা, তথ্যপ্রযুক্তি, বাণিজ্য ও রপ্তানি কৌশলের মূলধারার সঙ্গে সমন্বিত করতে পারি। শিল্পী, লেখক, ডিজাইনার, সফটওয়্যার নির্মাতা, গেম ডেভেলপার ও ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য একটি টেকসই ও সুরক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করা গেলে বাংলাদেশ শুধু "Made in Bangladesh" নয়, বরং "Created in Bangladesh" পরিচয়ে বৈশ্বিক পরিসরে এক শক্তিশালী ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হবে।</p>
<hr>
<p><strong>লেখক:</strong> চেয়ারম্যান, সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ (CSER)</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বাজেট ২০২৬&#45;২৭: ডিজিটাল কমার্সে বড় প্রাপ্তি ও বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ</title>
<link>https://digibanglatech.news/182941</link>
<guid>https://digibanglatech.news/182941</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার পাস্ট বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল কমার্স খাতের জন্য ত্রৈমাসিক ভ্যাট রিটার্ন, উৎস কর প্রত্যাহার এবং ল্যাপটপ-কম্পিউটারে শুল্কমুক্ত আমদানির মতো যুগান্তকারী সংস্কার আনা হয়েছে। নিবন্ধটিতে এই প্রাপ্তিগুলোর চুলচেরা আইনি বিশ্লেষণ এবং মাঠপর্যায়ে তা শতভাগ বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জসমূহ তুলে ধরা হয়েছে।&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202607/image_870x580_6a4a333b68f32.jpg" length="160310" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 05 Jul 2026 09:34:58 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>বাজেট ২০২৬-২৭, ডিজিটাল কমার্স, ফাইন্যান্স অ্যাক্ট ২০২৬, স্টার্টআপ কর অব্যাহতি, লজিস্টিকস আধুনিকায়ন, ই-ক্যাব</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="4">গত ৩০ জুন, ২০২৬ তারিখে জাতীয় সংসদে চূড়ান্তভাবে পাস হওয়া ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট আমাদের সামষ্টিক অর্থনীতির ইতিহাসে এক বিশাল মাইলফলক। একজন উদ্যোক্তা ও খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি হিসেবে আমার কাছে এই বাজেটের সবচেয়ে বড় গুরুত্বের জায়গাটি হলো দেশের আইটি, ডিজিটাল কমার্স এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম। এই খাতের জন্য বাজেটে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কাঠামোগত ও নীতিগত সংস্কারের আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা এই খাতের পুরো চেহারাটাই বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। প্রকৃতপক্ষে, এই বাজেটে বাংলাদেশ সরকারের "সবার আগে বাংলাদেশ" নীতির এক সুদূরপ্রসারী প্রতিফলন দেখা গেছে। দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া, স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া এবং একটি স্বনির্ভর, অন্তর্ভুক্তিমূলক 'স্মার্ট ইকোনমি' বিনির্মাণ করাই যে বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি, তা স্পষ্ট।</p>
<p data-path-to-node="5">আজকের দিনে ই-ক্যাব (e-CAB)-এর ৩ হাজারেরও বেশি প্রাতিষ্ঠানিক সদস্য এবং দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রায় ৫ লাখের অধিক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ অনলাইন উদ্যোক্তাদের জন্য এই বাজেটটি অত্যন্ত জীবনমুখী। গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর ডিজিটাল কমার্স Research অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি ফোরাম (DCRAF) এবং খাতের অংশীজনদের পক্ষ থেকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে নীতিনির্ধারণী মহলে যে ৩০ দফার একটি সুনির্দিষ্ট মাস্টার প্ল্যান ও সংস্কার দাবি তুলে ধরেছিলাম, এবারের বাজেটে তার প্রায় ৭০ শতাংশেরই সরাসরি প্রতিফলন ঘটেছে।</p>
<h3 data-path-to-node="6"><strong><span style="font-family: arial, helvetica, sans-serif; font-size: 10pt;">কর ও ভ্যাট নীতিমালায় কাঠামোগত স্বস্তি: ফাইন্যান্স অ্যাক্ট ২০২৬-এর বিশ্লেষণ</span></strong></h3>
<p data-path-to-node="7">এবারের বাজেটে ভ্যাট আইন ও আয়কর আইনের বেশ কিছু ধারা, উপধারা ও তফসিলে (Schedules) যুগান্তকারী সংশোধন এনে আইটি ও অনলাইন সেক্টরের দীর্ঘদিনের কিছু জটিলতা দূর করা হয়েছে:</p>
<ul data-path-to-node="8">
<li>
<p data-path-to-node="8,0,0">ত্রৈমাসিক ভ্যাট রিটার্ন সুবিধা: মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২-এর ধারা ৪৫(১) এবং বিধি ৪৭-এর বিশেষ সংশোধনীর (অর্থ আইন, ২০২৬ দ্বারা পরিমার্জিত) মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও মাঝারি (SME) অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি মাসে ভ্যাট রিটার্ন জমা দেওয়ার তীব্র ভোগান্তি থেকে রেহাই দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে উদ্যোক্তারা প্রতি ৩ মাস পর পর, অর্থাৎ বছরে মাত্র ৪ বার ভ্যাট রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="8,1,0">স্টার্টআপ কর অব্যাহতি (Tax Holiday): আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ২২ এবং দ্বিতীয় তফসিলের আওতায় নতুন এবং উদ্ভাবনী প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপগুলোর প্রারম্ভিক মূলধনের সংকট দূর করতে প্রথম ৫ বছরের জন্য করের হার শূন্য শতাংশ (<span data-math="0\%" data-index-in-node="216">$0\%$</span>) করা হয়েছে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="8,2,0">উৎস কর প্রত্যাহার: আয়কর আইন, ২০২৩-এর ধারা ১২৪ ও ৫৩-এর বিশেষ সংশোধনী অনুসারে, আন্তর্জাতিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম (যেমন- YouTube, Facebook) এবং গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস থেকে উপার্জিত বৈদেশিক রেমিট্যান্সের ওপর বিদ্যমান ৭.৫% উৎস কর সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে।</p>
</li>
</ul>
<h3 data-path-to-node="9"><strong><span style="font-size: 10pt;">ই-কমার্সের স্থায়ী শিল্প ও অবকাঠামোগত শুল্ক হ্রাস</span></strong></h3>
<p data-path-to-node="10">এই বাজেটের অন্যতম ঐতিহাসিক দিক হলো, ই-commerce বা ডিজিটাল কমার্সকে জাতীয় শিল্প নীতিমালার অধীনে একটি স্বতন্ত্র 'সেবা শিল্প' (Service Industry) হিসেবে স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে সরাসরি নির্দিষ্ট 'ডিজিটাল কমার্স ক্যাটাগরি'-তে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু ও নবায়ন করা হবে। শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার কারণে ই-commerce লজিস্টিকস ও ওয়্যারহাউজগুলো এখন থেকে বাণিজ্যিক হারের পরিবর্তে সাশ্রয়ী শিল্প হারে বিদ্যুৎ ও ইউটিলিটি বিল পরিশোধের সুবিধা পাবে।</p>
<p data-path-to-node="11">পাশাপাশি ডিজিটাল কমার্স ও আইটি খাতের ব্যাকএন্ড অবকাঠামো শক্তিশালী করতে কাস্টমস ট্যারিফ এবং অগ্রিম করে ব্যাপক ছাড় দেওয়া হয়েছে:</p>
<table data-path-to-node="12" height="210" border="1" style="border-collapse: collapse; width: 100%; height: 194px; border-width: 1px; border-style: groove; margin-left: auto; margin-right: auto;">
<thead>
<tr style="height: 20px;">
<td style="width: 40.8567%; height: 20px; border-width: 1px;"><strong>খাত/পণ্য</strong></td>
<td style="width: 30.8896%; height: 20px; border-width: 1px;"><strong>পূর্ববর্তী শুল্ক/কর কাঠামো</strong></td>
<td style="width: 28.2537%; height: 20px; border-width: 1px;"><strong>বর্তমান বাজেট ২০২৬-২৭-এর হার</strong></td>
</tr>
</thead>
<tbody>
<tr style="height: 43.5px;">
<td style="width: 40.8567%; height: 43.5px; border-width: 1px;"><span data-path-to-node="12,1,0,0">ল্যাপটপ ও কম্পিউটার হার্ডওয়্যার (H.S. Code 84.71)</span></td>
<td style="width: 30.8896%; height: 43.5px; border-width: 1px;"><span data-path-to-node="12,1,1,0">উচ্চ শুল্ক ও ভ্যাট যুক্ত</span></td>
<td style="width: 28.2537%; height: 43.5px; border-width: 1px;"><span data-path-to-node="12,1,2,0">সম্পূর্ণ শুল্ক ও ভ্যাটমুক্ত (<span data-math="0\%" data-index-in-node="29">$0\%$</span>)</span></td>
</tr>
<tr style="height: 43.5px;">
<td style="width: 40.8567%; height: 43.5px; border-width: 1px;"><span data-path-to-node="12,2,0,0">পেরিফেরাল ডিভাইস (প্রিন্টার, ফ্ল্যাশ মেমোরি)</span></td>
<td style="width: 30.8896%; height: 43.5px; border-width: 1px;"><span data-path-to-node="12,2,1,0">৫% অগ্রিম আয়কর (AIT)</span></td>
<td style="width: 28.2537%; height: 43.5px; border-width: 1px;"><span data-path-to-node="12,2,2,0">কমিয়ে ২% নির্ধারণ</span></td>
</tr>
<tr style="height: 43.5px;">
<td style="width: 40.8567%; height: 43.5px; border-width: 1px;"><span data-path-to-node="12,3,0,0">পয়েন্ট অব সেলস (POS) মেশিন</span></td>
<td style="width: 30.8896%; height: 43.5px; border-width: 1px;"><span data-path-to-node="12,3,1,0">১০% আমদানি শুল্ক ও ৭.৫% অগ্রিম কর</span></td>
<td style="width: 28.2537%; height: 43.5px; border-width: 1px;"><span data-path-to-node="12,3,2,0">৫% আমদানি শুল্ক ও ০% অগ্রিম কর</span></td>
</tr>
<tr style="height: 43.5px;">
<td style="width: 40.8567%; height: 43.5px; border-width: 1px;"><span data-path-to-node="12,4,0,0">মোবাইল সিম কার্ড ট্যাক্স</span></td>
<td style="width: 30.8896%; height: 43.5px; border-width: 1px;"><span data-path-to-node="12,4,1,0">৩০০ টাকা স্থায়ী শুল্ক ও সম্পূরক কর</span></td>
<td style="width: 28.2537%; height: 43.5px; border-width: 1px;"><span data-path-to-node="12,4,2,0">সম্পূর্ণ প্রত্যাহার (<span data-math="0" data-index-in-node="21">$0$</span> টাকা)</span></td>
</tr>
</tbody>
</table>
<h3 data-path-to-node="13"><strong><span style="font-family: arial, helvetica, sans-serif; font-size: 10pt;">লজিস্টিকস আধুনিকায়ন ও মেগা প্রকল্প</span></strong></h3>
<p data-path-to-node="14">তরুণদের এআই-নির্ভর প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা তৈরিতে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি খাতে ৩০০ কোটি টাকার বিশেষ প্রাথমিক বরাদ্দের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর (CSR) খাত থেকে আরও ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ যৌথ-বিনিয়োগ তহবিল গঠন করা হবে। ই-কমার্স খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ডেলিভারি নেটওয়ার্ক উন্নত করতে ডাক বিভাগের দেশব্যাপী বিস্তৃত অবকাঠামোকে ডিজিটাল লজিস্টিকস হাবে রূপান্তর করার জন্য একটি বিশেষ প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়েছে।</p>
<p data-path-to-node="15">পরিবেশবান্ধব 'গ্রিন লজিস্টিকস' ইকোসিস্টেমের অংশ হিসেবে কাস্টমস ট্যারিফ শিডিউল সংশোধন করে বৈদ্যুতিক যান (EV) আমদানির মোট করভার ৯৩% থেকে কমিয়ে ৬৪% করা হয়েছে। কমার্শিয়াল ইভি বাস ও চার্জিং স্টেশনের সব শুল্ক-কর মওকুফ করায় ই-কমার্স কোম্পানিগুলোর 'লাস্ট-মাইল' ডেলিভারি কস্ট অন্তত ১৫-২০% কমিয়ে আনবে। এই সংস্কারগুলোর ফলে আগামী ৩ বছরের মধ্যে দেশীয় ই-কমার্স বাজার বিলিয়ন ডলারের ল্যান্ডমার্কে পৌঁছাবে এবং ক্যাশলেস লেনদেন অন্তত ৩০% বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা যায়।</p>
<h3 data-path-to-node="16"><span style="font-size: 10pt;"><strong><span style="font-family: arial, helvetica, sans-serif;">দ্বিমুখী বাস্তবতা: শতভাগ বাস্তবায়ন বনাম আংশিক বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ</span></strong></span></h3>
<p data-path-to-node="17">এই প্রস্তাবিত বাজেটের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর দেশের ৫ লাখ উদ্যোক্তার ভাগ্য নির্ভর করছে। সবগুলো প্রস্তাব যদি মাঠপর্যায়ে শতভাগ বাস্তবায়িত হয় এবং কাস্টমস ও ট্যাক্স পলিসি সঠিকভাবে কাজ করে, তবে এটি ই-কমার্সকে দেশের মূলধারার অর্থনীতির চালিকাশক্তি বানাবে।</p>
<p data-path-to-node="18">কিন্তু এর উল্টো পিঠও আছে। এই নীতিমালা যদি কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ থাকে, তবে তা এই খাতের জন্য মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে। ৩ মাস পর পর ভ্যাট রিটার্নের সুবিধা দেওয়ার পর যদি এনবিআর (NBR)-এর মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে ছোট উদ্যোক্তাদের নথিপত্র নিয়ে হয়রানি অব্যাহত রাখেন, তবে উদ্যোক্তারা আনুষ্ঠানিক অর্থনীতিতে আসার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। ল্যাপটপ বা পিওএস (POS) মেশিনের শুল্ক ছাড়ের সুবিধা যদি কাস্টমসের আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে থাকে, তবে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হবে। আংশিক বাস্তবায়ন মূলত বড় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায়ীদের সুবিধা দেবে, কিন্তু তৃণমূলের ক্ষুদ্র ও নারী উদ্যোক্তাদের চরম বৈষম্যের মুখে ঠেলে দেবে।</p>
<h3 data-path-to-node="19"><strong><span style="font-family: arial, helvetica, sans-serif; font-size: 10pt;">চূড়ান্ত মূল্যায়ন</span></strong></h3>
<p data-path-to-node="20">একজন ডিজিটাল কমার্স উদ্যোক্তা হিসেবে আমি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এই বাজেটকে "স্মার্ট বাংলাদেশের অগ্রযাত্রায় একটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও ব্যবসাবান্ধব রূপরেখা" হিসেবে স্বাগত জানাই। তবে মনে রাখতে হবে, "একটি চমৎকার नीतिও যদি মাঠপর্যায়ে ভুলভাবে বাস্তবায়িত হয়, তা কোনো নীতি না থাকার চেয়েও ক্ষতিকর।"</p>
<p data-path-to-node="21">ট্যাক্স ও ভ্যাট ছাড়ের এই চমৎকার ঘোষণার পাশাপাশি, নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে জামানতবিহীন 'স্মার্ট ফাইন্যান্সিং' বা ঋণের কোনো সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন এই বাজেটে সরাসরি অনুপস্থিত, যা কিছুটা হতাশাজনক। ই-কমার্স এখন সেবা শিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংকের বিআরপিডি (BRPD) সার্কুলারের মাধ্যমে অবিলম্বে কুটির ও ক্ষুদ্র (CMSME) খাতের ঋণের আওতা পুনর্নির্ধারণ করে অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য একটি বিশেষ ক্রেডিট লাইন ঘোষণা করা উচিত। পরিশেষে, এই ঘোষিত প্রণোদনা, শুল্ক ছাড় ও আইনি সংস্কারের সঠিক ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, এনবিআর এবং ই-ক্যাবের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি "বাজেট বাস্তবায়ন ও মনিটরিং সেল" গঠন করা অত্যন্ত জরুরি।</p>
<ul data-path-to-node="22">
<li><hr>
<p data-path-to-node="22,0,0"><b data-path-to-node="22,0,0" data-index-in-node="0">লেখক:</b> সোহেল মৃধা, <i data-path-to-node="22,0,1" data-index-in-node="0">ই-কমার্স বিশ্লেষক ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য, ই-ক্যাব (e-CAB)</i></p>
<hr>
<p data-path-to-node="22,0,0"></p>
</li>
</ul>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল বিভাজন থেকে এআই দারিদ্র্য: বাংলাদেশের পরবর্তী উন্নয়ন চ্যালেঞ্জ</title>
<link>https://digibanglatech.news/182522</link>
<guid>https://digibanglatech.news/182522</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202607/image_870x580_6a44adc471a86.jpg" length="120177" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 01 Jul 2026 03:55:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, এআই দারিদ্র্য, ডিজিটাল বিভাজন, বাংলাদেশ ২০২৬, ডেটা ন্যায্যতা, এআই গভর্ন্যান্স, এআই নীতিমালা</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<h3 data-path-to-node="5"><span style="font-family: 'arial black', sans-serif;"><strong><span style="font-size: 10pt;">এক নতুন বিভাজনের উদয়</span></strong></span></h3>
<p data-path-to-node="6">কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) বাংলাদেশের জন্য এখন আর দূর ভবিষ্যতের কোনো তাত্ত্বিক বিষয় নয়। শ্রেণিকক্ষ, ব্যাংক, হাসপাতাল, গণমাধ্যম, কল সেন্টার, সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে কৃষিসেবা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায় এটি ইতোমধ্যে জায়গা করে নিতে শুরু করেছে। কারও জন্য এটি দ্রুত সেবা, নতুন কর্মসংস্থান, বর্ধিত উৎপাদনশীলতা ও সৃজনশীলতার অপার দুয়ার খুলে দিচ্ছে; আবার অনেকের জন্যই এটি বঞ্চনার এক নতুন ও দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়ানোর ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে দরিদ্র জনগোষ্ঠী, গ্রামীণ মানুষ, নারী, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, ভাষাগত সংখ্যালঘু এবং অনানুষ্ঠানিক খাতের শ্রমজীবীরা এই প্রযুক্তির সুফল থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।</p>
<p data-path-to-node="7">এই নতুন ও উদীয়মান ঝুঁকির নামই হলো <b data-path-to-node="7" data-index-in-node="34">‘এআই দারিদ্র্য’ (AI Poverty)</b>।</p>
<p data-path-to-node="8">এআই দারিদ্র্য বলতে কেবল চ্যাটজিপিটি বা কোনো আধুনিক এআই টুল ব্যবহার করতে না পারাকে বোঝায় না। এর গভীরতা আরও অনেক বেশি। এর অর্থ হলো—যেসকল ডেটা, দক্ষতা, ভাষা, অবকাঠামো এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে এআই কাজ করে, তা থেকে একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর বাদ পড়ে যাওয়া। এর ফলে মানুষ হয়তো প্রযুক্তির নেটওয়ার্কে যুক্ত থাকবে, কিন্তু তার কোনো নিজস্ব ক্ষমতা থাকবে না। তাকে ডেটার সংখ্যায় গণনা করা হবে, কিন্তু তার কণ্ঠস্বর থাকবে উপেক্ষিত। সে অ্যালগরিদমিক ব্যবস্থার অধীনস্থ হবে, কিন্তু সেই ব্যবস্থা কীভাবে কাজ করছে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোনো অধিকার তার থাকবে না।</p>
<p data-path-to-node="9">বাংলাদেশ অতীতে এই চ্যালেঞ্জেরই একটি প্রাথমিক রূপ দেখেছে, যা ‘ডিজিটাল বিভাজন’ (Digital Divide) নামে পরিচিত। বহু বছর ধরে আমাদের জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রে ছিল মোবাইল সংযোগ, ইন্টারনেট ব্যবহার ও ডিজিটাল লেনদেন। এসব ক্ষেত্রে অর্জনও কম নয়। ২০২৬ সালের মার্চ মাসের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১৮ কোটি ৬০ লাখ ছাড়িয়েছে এবং ইন্টারনেট সংযোগের সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের দেশে এই পরিসংখ্যান নিঃসন্দেহে একটি বড় অগ্রগতি।</p>
<h3 data-path-to-node="10"><strong><span style="font-family: 'arial black', sans-serif; font-size: 10pt;">সংযোগ বনাম প্রকৃত অন্তর্ভুক্তি</span></strong></h3>
<p data-path-to-node="11">তবে কেবল সংখ্যার পরিমাপ দিয়ে প্রকৃত অন্তর্ভুক্তির চিত্র বোঝা যায় না। একটি মোবাইল সংযোগ বা ঘরে একটি স্মার্টফোন থাকার মানেই এই নয় যে, সেই পরিবারের নারী, শিশু, প্রবীণ বা কর্মজীবী মানুষটি নিরাপদ ও ফলপ্রসূভাবে ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করতে পারছেন। সংযোগ হলো কেবল প্রবেশদ্বার। মূল প্রশ্নটি হলো—কারা সেই দুয়ার পেরিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারছে এবং ভেতরের জগতকে নিজের জীবনের মানোন্নয়নে কাজে লাগাতে পারছে?</p>
<p data-path-to-node="12">এই প্রশ্নটি এখন আরও বেশি প্রাসঙ্গিক ও জরুরি হয়ে উঠেছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে জেনেভায় জাতিসংঘের ‘গ্লোবাল ডায়ালগ অন এআই গভর্ন্যান্স’ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সরকার, বেসরকারি খাত, শিক্ষাবিদ, প্রযুক্তিবিদ ও নাগরিক সমাজকে এক মঞ্চে এনে এআইয়ের বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করাই এই সংলাপের লক্ষ্য। আলোচনার মূল এজেন্ডার মধ্যে রয়েছে এআই বিভাজন কমানো, নিরাপদ প্রযুক্তি, মানবাধিকার রক্ষা এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা।</p>
<p data-path-to-node="13">বাংলাদেশের জন্য এটি কেবল কোনো দূরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনা নয়, বরং এটি আমাদের অস্তিত্ব ও উন্নয়নের প্রশ্ন। এআই শাসনব্যবস্থা যদি কেবল শক্তিশালী অর্থনীতি ও বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রণে গড়ে ওঠে, তবে বাংলাদেশের মতো দেশগুলো কেবলই অন্যের তৈরি ব্যবস্থার ভোক্তা হবে। আমাদের নির্ভর করতে হবে অন্যের ডেটায় প্রশিক্ষিত মডেলের ওপর, চলতে হবে অন্যের লেখা নিয়মে। একে ডিজিটাল রূপান্তর বলা চলে না; এটি মূলত <b data-path-to-node="13" data-index-in-node="398">‘ডিজিটাল নির্ভরতা’</b>।</p>
<h3 data-path-to-node="14"><strong><span style="font-family: 'arial black', sans-serif; font-size: 10pt;">ডেটা ও কাঠামোগত বাস্তবতার সংকট</span></strong></h3>
<p data-path-to-node="15">বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ‘আইসিটি অ্যাক্সেস অ্যান্ড ইউজ সার্ভে ২০২৪-২৫’ আমাদের এক বাস্তব সতর্কবার্তা দেয়। দেশে ব্যক্তিপর্যায়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের গড় হার ৫৩.৪ শতাংশ। তবে শহরে এই হার ৭৫.৭ শতাংশ হলেও গ্রামে মাত্র ৪৩.৬ শতাংশ—অর্থাৎ শহর ও গ্রামের ব্যবধান ৩১.১ শতাংশ পয়েন্টের। পাশাপাশি স্মার্টফোন মালিকানা ও ইন্টারনেট ব্যবহারে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যও অত্যন্ত স্পষ্ট।</p>
<p data-path-to-node="16">এই পরিসংখ্যান মনে রাখা জরুরি, কারণ এআই কেবল ফাঁকা স্লোগানের ওপর ভর করে চলে না। এর ভিত্তি হলো ডেটা, ডিভাইস, ভাষা, দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা।</p>
<p data-path-to-node="17">গ্রামীণ একজন শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেও যদি দক্ষ শিক্ষক, মানসম্মত ডিভাইস কিংবা স্থানীয় ভাষায় কনটেন্ট না থাকে, তবে এআই তার শিক্ষার কোনো গুণগত পরিবর্তন করতে পারবে না। একজন কৃষকের যদি ডিজিটাল ফসল উৎপাদন ও লেনদেনের সঠিক ইতিহাস বা ভূমি রেকর্ড না থাকে, তবে এআই-ভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন ব্যবস্থায় তিনি অদৃশ্যই থেকে যাবেন। একইভাবে, একজন নারী যদি অনলাইন হয়রানি বা ডিপফেক প্রযুক্তির অপব্যবহারের শিকার হন, তবে এআই তার উপকারের চেয়ে ক্ষতিই করবে বেশি।</p>
<p data-path-to-node="18">প্রযুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো—টুলে প্রবেশাধিকার পাওয়া মানেই অন্তর্ভুক্তি। বাস্তবে তা নয়। বিদ্যালয়ে চ্যাটবট থাকলেই শিক্ষার সংস্কার হয় না, যদি না শিক্ষকেরা প্রশিক্ষিত হন। ব্যাংকে এআই ব্যবস্থা থাকলেই প্রান্তিক মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ঘটে না, যদি তাদের কোনো ডেটা হিস্ট্রি না থাকে। ত্রুটিপূর্ণ গ্রামীণ স্বাস্থ্য রেকর্ডের কারণে এআই স্বাস্থ্যসেবা টুল ব্যর্থ হতে বাধ্য। ঠিক তেমনি, স্বয়ংক্রিয় সরকারি সেবা নাগরিকবান্ধব হবে না, যদি মানুষ না জানে অ্যালগরিদম কীভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং সংক্ষুব্ধ হলে কোথায় আপিল করতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="19">এআই ব্যবস্থা মূলত ডেটার ওপর নির্ভরশীল, আর ডেটা কখনোই পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। যদি বাংলাদেশের এআই মডেলগুলো প্রধানত শহুরে, প্রাতিষ্ঠানিক, ইংরেজি বা এলিট শ্রেণির ডেটাসেটের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়, তবে তা দৃশ্যমান মানুষকে আরও দৃশ্যমান করবে, আর প্রান্তিক মানুষকে আরও অদৃশ্য করে তুলবে।</p>
<p data-path-to-node="20">এখানেই এআই দারিদ্র্যের চরিত্রটি ডিজিটাল বিভাজনের চেয়েও মারাত্মক। ডিজিটাল বিভাজন ছিল মূলত সুযোগের অভাব (যাদের ইন্টারনেট আছে বনাম যাদের নেই)। আর এআই বিভাজন হলো ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা—যারা ডেটা ও অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ করে বনাম যারা না বুঝেই সেই ব্যবস্থার শিকল পরে।</p>
<p data-path-to-node="21">বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের কারণে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ডিজিটাল ব্যয় নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একটি পরিবারে হয়তো সস্তা ফোন আছে, কিন্তু নিয়মিত ডেটা প্যাক কেনা, ডিভাইস মেরামত বা সাইবার নিরাপত্তার খরচ মেটানোর সামর্থ্য তাদের নেই। এর ফলে তৈরি হচ্ছে এক ধরণের 'আংশিক অন্তর্ভুক্তি'। মানুষ ডিজিটাল জগতে উপস্থিত থাকছে ঠিকই, কিন্তু এর কোনো সুফল পাচ্ছে না।</p>
<h3 data-path-to-node="22"><strong><span style="font-size: 10pt; font-family: 'arial black', sans-serif;">নীতি থেকে বাস্তবায়নের পথ</span></strong></h3>
<p data-path-to-node="23">বাংলাদেশের ‘খসড়া জাতীয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নীতি ২০২৬-২০৩০’-এ ঝুঁকিভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ, ডেটা গভর্ন্যান্স ও মানবিক তদারকির মতো বেশ কিছু ইতিবাচক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এটি প্রশংসনীয় সূচনা হলেও আসল পরীক্ষা হবে এর মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নে।</p>
<p data-path-to-node="24">এআই শাসনব্যবস্থার এই আলোচনা যেন কেবল ঢাকাকেন্দ্রিক বিশেষজ্ঞ, মন্ত্রণালয় বা দাতা সংস্থাগুলোর সেমিনার কক্ষের ভেতরেই সীমাবদ্ধ না থাকে। এআইকে যদি সাধারণ মানুষের কল্যাণে লাগাতে হয়, তবে গ্রামীণ শিক্ষক, স্বাস্থ্যকর্মী, নারী সংগঠন, প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী, কৃষক ও তৃণমূলের নাগরিক সমাজকে এই নীতি নির্ধারণে অংশীদার করতে হবে। অন্যথায়, আমরা মানুষের জন্য ব্যবস্থা তৈরি করব, কিন্তু মানুষকে ছাড়াই—যা পুরোনো ভুলেরই পুনরাবৃত্তি।</p>
<h3 data-path-to-node="25"><strong><span style="font-family: 'arial black', sans-serif; font-size: 10pt;">আমাদের করণীয়: মানুষকেন্দ্রিক এআই এজেন্ডা</span></strong></h3>
<p data-path-to-node="26">এআই দারিদ্র্য স্থায়ী রূপ নেওয়ার আগেই আমাদের একটি সর্বজনীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ‘মানুষকেন্দ্রিক এআই এজেন্ডা’ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের প্রশ্ন করতে হবে: এআই চালুর ফলে কার ক্ষমতা বাড়ছে, আর কার কমছে? এই লক্ষ্য অর্জনে ৬টি সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:</p>
<p data-path-to-node="27">১. <b data-path-to-node="27" data-index-in-node="3">ডেটা ন্যায্যতা (Data Justice):</b> ডেটাকে দৃশ্যমান অবকাঠামোর (সড়ক, বিদ্যুৎ) মতো একটি অপরিহার্য 'অদৃশ্য জন-অবকাঠামো' হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কৃষি ও সামাজিক সুরক্ষা খাতে উচ্চমানের ও সুরক্ষিত ডেটাসেট তৈরি করতে হবে, যেখানে নাগরিকের সম্মতি ও গোপনীয়তার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে। ২. <b data-path-to-node="27" data-index-in-node="293">নাগরিক এআই সাক্ষরতা:</b> এআই সাক্ষরতা মানে কেবল কোডিং শেখা নয়। নাগরিকদের সাধারণ শিক্ষায় জানাতে হবে এআই কীভাবে কাজ করে, এর পক্ষপাত বা ডিপফেকের ঝুঁকি কোথায় এবং ভুল সিদ্ধান্তকে কীভাবে চ্যালেঞ্জ করা যায়। লক্ষ্য সবাইকে প্রোগ্রামার বানানো নয়, বরং নাগরিকদের ক্ষমতায়ন। ৩. <b data-path-to-node="27" data-index-in-node="554">আঞ্চলিক ও বাংলা ভাষার এআই:</b> আমাদের এমন এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করতে হবে যা স্থানীয় বাংলা ভাষার বৈচিত্র্য, উচ্চারণ ও আঞ্চলিক উপভাষা বুঝতে সক্ষম। স্থানীয় ভাষায় কৃষি, স্বাস্থ্য ও আইনি সেবার কনটেন্ট তৈরি না হলে প্রান্তিক মানুষ এই ব্যবস্থার বাইরেই থেকে যাবে। ৪. <b data-path-to-node="27" data-index-in-node="810">শ্রমিক স্বার্থ সুরক্ষা ও শ্রম প্রভাব মূল্যায়ন:</b> পোশাক খাত, অনানুষ্ঠানিক শ্রম ও সেবা খাতে এআইয়ের প্রভাব নিরূপণ করতে হবে। এআই যেন নীরবে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের হাতিয়ার না হয়ে উৎপাদনশীলতা ও মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যম হয়, তা নিশ্চিত করা দরকার। ৫. <b data-path-to-node="27" data-index-in-node="1040">অ্যালগরিদমিক জবাবদিহি:</b> সরকারি-বেসরকারি সেবায় এআই ব্যবহারের আগে তার স্বাধীন নিরীক্ষা (Audit) করতে হবে। কোনো সিদ্ধান্তের ফলে নাগরিক বৈষম্যের শিকার হলে দায় কার হবে, তা আইনি কাঠামোর আওতায় স্পষ্ট করতে হবে। ৬. <b data-path-to-node="27" data-index-in-node="1244">কমিউনিটি প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা:</b> বাংলাদেশের অতীতের বড় বড় উন্নয়ন সাফল্য (যেমন—দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, নারী শিক্ষা বা টিকাদান কর্মসূচি) এসেছে তৃণমূলের সামাজিক শক্তি ও কমিউনিটি মবিলাইজেশনের মাধ্যমে। এআই অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও কমিউনিটি রেডিও, স্থানীয় লাইব্রেরি ও যুব সংগঠনগুলোকে কাজে লাগাতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="28">একই সাথে, আন্তর্জাতিক এআই গভর্ন্যান্সের মঞ্চে বাংলাদেশকে স্পষ্ট করে বলতে হবে যে, এআই বিভাজন দূর করার অর্থ কেবল গ্লোবাল নর্থের তৈরি অ্যাপস ব্যবহার করা নয়; বরং গ্লোবাল সাউথের নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি, ওপেন সোর্স টুল ও সাশ্রয়ী অবকাঠামোর অধিকার নিশ্চিত করা।</p>
<h3 data-path-to-node="29"><strong><span style="font-family: 'arial black', sans-serif; font-size: 10pt;">উপসংহার</span></strong></h3>
<p data-path-to-node="30">যদি একটি এআই টুল গ্রামীণ একজন নারীকে তার নিজের ভাষায় স্বাস্থ্য ও আইনি পরামর্শ দেয়, তাকে সাইবার সহিংসতা থেকে সুরক্ষা দেয় এবং তার জীবিকার মান বাড়ায়—তবেই এআই সফল। আর এটি যদি কেবল সুবিধাবাদী শ্রেণির সুবিধাকে আরও বাড়ায় এবং বঞ্চনাকে স্বয়ংক্রিয় রূপ দেয়, তবে এই প্রযুক্তি ব্যর্থ।</p>
<p data-path-to-node="31">এআই দারিদ্র্য কোনো অনিবার্য নিয়তি নয়। কিন্তু আমাদের নীতি যদি কেবল টুল-কেন্দ্রিক ও শহরকেন্দ্রিক কর্পোরেট স্বার্থে বন্দি থাকে, তবে এই দারিদ্র্য ঠেকানো যাবে না। আমাদের সামনে এখন এক সীমিত সময়ের সুযোগ। উন্মুক্ত ডেটাকে জনস্বার্থ হিসেবে দেখা এবং এআই সাক্ষরতাকে নাগরিক অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমেই আমরা এই চ্যালেঞ্জ জয় করতে পারি। ডিজিটাল যুগ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল 'কাউকে পেছনে ফেলে রাখা হবে না'; এআই যুগ মূলত সেই প্রতিশ্রুতিরই এক চূড়ান্ত অগ্নিপরীক্ষা।</p>
<ul data-path-to-node="33">
<li><hr>
<p data-path-to-node="33,0,0"><b data-path-to-node="33,0,0" data-index-in-node="0">এ. এইচ. এম. בזলুর রহমান:</b> ডিজিটাল গণতন্ত্র, তথ্যের অখণ্ডতা ও গণমাধ্যম উন্নয়ন নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ; দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর।*</p>
<hr>
<p data-path-to-node="33,0,0"></p>
</li>
</ul>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>পাপেটম্যান থেকে ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার</title>
<link>https://digibanglatech.news/182371</link>
<guid>https://digibanglatech.news/182371</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202606/image_870x580_6a432982ec2e4.jpg" length="82069" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 30 Jun 2026 00:00:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশের শিল্প-সংস্কৃতির ইতিহাসে এমন মানুষ খুব কমই আছেন, যাদের পরিচয় একটি শব্দে বেঁধে ফেলা যায় না। মুস্তাফা মনোয়ার ছিলেন তেমনই এক বহুমাত্রিক স্রষ্টা। তিনি ছিলেন চিত্রশিল্পী, টেলিভিশন নির্মাতা, শিক্ষক, পাপেট নির্মাতা, উপস্থাপক, শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং সর্বোপরি একজন অসাধারণ <strong>ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার</strong>। ক্যানভাসের রঙতুলি থেকে শুরু করে টেলিভিশনের ক্যামেরা, স্টুডিওর আলো, কাঠের পুতুল, মঞ্চসজ্জা—সবকিছুকেই তিনি গল্প বলার ভাষায় রূপ দিয়েছিলেন।</p>
<p>সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই শিল্পগুরু। দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া, ফুসফুসের সংক্রমণ ও বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯০ বছর। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বনানী কবরস্থানে চিরঘুমে শায়িত হবেন তিনি। কিন্তু শিল্প, প্রযুক্তি ও গণমাধ্যমকে একসূত্রে গাঁথার যে উত্তরাধিকার তিনি রেখে গেলেন, তা বহুদিন বাংলাদেশের সৃজনশীল জগতকে পথ দেখাবে।</p>
<h3>শিল্পী হয়ে ওঠার গল্প</h3>
<p>১৯৩৫ সালের ১লা সেপ্টেম্বর তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার যশোর জেলার মাগুরা (বর্তমান জেলা) মহকুমার শ্রীপুর থানার অন্তর্গত নাকোল গ্রামে মাতুলালয়ে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তার পৈত্রিক নিবাস ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা থানার মনোহরপুর গ্রামে। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি ও ইসলামী ভাবধারার সাহিত্যিক<span>।  তিনি ছিলেন একজন আলোকচিত্রী আর বইয়ের চিত্রকরও। মাতা জামিলা খাতুন ছিলেন একজন গৃহিণী। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে মুস্তাফা মনোয়ার সবার ছোট। মেজ ভাই মুস্তাফা আজিজ আঁকতেন ছবি। ছয় ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোটজনের শিল্পে আকর্ষণ তৈরি হয় ঘরের ভেতর থেকেই।</span></p>
<p><span>  </span><span></span>নন্দিত কবি গোলাম মোস্তফার সাহিত্যিক উত্তরাধিকার বহন করলেও তিনি নিজের প্রকাশের ভাষা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন দৃশ্যশিল্পকে। পরিবারে মন্টু নামে বিশেষ পরিচিত এই শিল্পীকে অনেকেই 'বাংলাদেশের পাপেটম্যান' বলে অভিহিত করতেন।</p>
<p>কেননা, শব্দের বদলে রেখা, রং, আলো ও চলমান ছবিতে তিনি মানুষের গল্প বলতে চেয়েছেন। এক অর্থে, বাবা যেমন কবিতায় মানুষের অনুভূতি এঁকেছেন, তেমনি ছেলে সেই অনুভূতিকেই ক্যানভাস, ক্যামেরা ও পাপেটের মাধ্যমে দৃশ্যমান করে তুলেছেন। শিল্পের প্রতি তার আগ্রহ খুব ছোটবেলা থেকেই। দেশভাগের পর পরিবার ঢাকায় চলে আসে। ঢাকা আর্ট ইনস্টিটিউটের (বর্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ) প্রথম দিকের শিক্ষার্থীদের একজন ছিলেন তিনি। পরে কলকাতা গভর্নমেন্ট কলেজ অব আর্ট অ্যান্ড ক্রাফট থেকে ১৯৫৯ সালে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক সম্পন্ন করেন।</p>
<p>দেশে ফিরে তিনি শুধু একজন চিত্রশিল্পী হিসেবেই নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। শিক্ষকতা করেছেন, বাংলাদেশ টেলিভিশনের অনুষ্ঠান নির্মাণে যুক্ত হয়েছেন, চারুকলা শিক্ষার প্রসারে কাজ করেছেন এবং শিশুদের সাংস্কৃতিক বিকাশে অসামান্য ভূমিকা রেখেছেন। শিল্পকলায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পুরস্কারসহ দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত হন। </p>
<p>১৯৬৫ সালে তিনি চট্টলার মেয়ে মেরীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক ছেলে এবং এক মেয়ে। ছেলে সাদাত মনোয়ার বাংলাদেশ বিমানের পাইলট, আর মেয়ে নন্দিনী মনোয়ার চাকুরীজীবী। অবশ্য <span>তার ভ্রাতুষ্পুত্র নাফিস বিন জাফর পরে অস্কারজয়ী অ্যানিমেটর হিসেবে পরিচিতি পান। এভাবেই কবিতা থেকে চিত্রকলা, চিত্রকলা থেকে পাপেট, পাপেট থেকে অ্যানিমেশন—একই পরিবারের ভেতর দিয়ে শিল্পের মাধ্যম বদলে গেছে প্রজন্মান্তরে, সুরটা থেকে গেছে অভিন্ন।</span></p>
<section data-mw-section-id="2" id="mwGQ" aria-labelledby="শিক্ষাজীবন"></section>
<h3>যে শিল্পী ক্যানভাস ছেড়ে ক্যামেরাকে বেছে নিয়েছিলেন</h3>
<p>মুস্তাফা মনোয়ার খুব দ্রুত বুঝেছিলেন, একটি ছবি হয়তো একটি গ্যালারিতে সীমাবদ্ধ থাকবে; কিন্তু টেলিভিশনের একটি ফ্রেম পৌঁছে যেতে পারে লাখো মানুষের ঘরে। সেই উপলব্ধিই তাকে নিয়ে যায় বাংলাদেশ টেলিভিশনের স্টুডিওতে।</p>
<p>বাংলাদেশ টেলিভিশনে তিনি শুধু অনুষ্ঠান পরিচালনা করেননি; ক্যামেরার ভাষাকেও শিল্পের ভাষায় রূপ দিয়েছিলেন। ফ্রেম কম্পোজিশন, আলো-ছায়ার ব্যবহার, সেট ডিজাইন, রঙের মনস্তত্ত্ব—সবকিছুতেই ছিল একজন চিত্রশিল্পীর সূক্ষ্ম দৃষ্টি। মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশাত্মবোধক অনুষ্ঠান নির্মাণ থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর শিশু-কিশোরদের অনুষ্ঠান—সব ক্ষেত্রেই তিনি টেলিভিশনের ভিজ্যুয়াল ভাষাকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন।</p>
<h3>লেদ মেশিনে জন্ম নিত পাপেটের মুখ</h3>
<p>মুস্তাফা মনোয়ারের সবচেয়ে অনন্য পরিচয় সম্ভবত এখানেই।</p>
<p>আজকের মতো থ্রিডি প্রিন্টার, সিএনসি কাটিং কিংবা ডিজিটাল মডেলিং তখন ছিল না। তিনি নিজেই কাঠ সংগ্রহ করতেন, লেদ মেশিনে দাঁড়িয়ে কাঠ ঘষে ঘষে তৈরি করতেন পাপেটের মাথা। তারপর হাতে আঁকতেন মুখ, বসাতেন চোখ, তৈরি করতেন হাত-পা, সুতো আর যান্ত্রিক সংযোগ।</p>
<p>প্রতিটি চরিত্রের মুখের অভিব্যক্তি, চোখের নড়াচড়া, ঠোঁটের খোলা-বন্ধ হওয়া কিংবা হাতের ভঙ্গি—সবকিছুর প্রকৌশলগত নকশাও তিনি নিজেই করতেন। শিল্প আর প্রকৌশল—এই দুই জগতকে তিনি এমনভাবে মিলিয়েছিলেন, যা সে সময়ের বাংলাদেশে ছিল একেবারেই নতুন।</p>
<h3>পাপেট ছিল অ্যানালগ যুগের অ্যানিমেশন</h3>
<p>আজকের শিশুরা কম্পিউটার অ্যানিমেশন, থ্রিডি গ্রাফিক্স কিংবা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চরিত্র দেখে বড় হচ্ছে। কিন্তু ষাট ও সত্তরের দশকে সেই প্রযুক্তি ছাড়াই মুস্তাফা মনোয়ার কাঠ, সুতো, কাপড় আর আলো ব্যবহার করে তৈরি করেছিলেন এমন সব চরিত্র, যারা কথা বলত, হাসত, অভিনয় করত।</p>
<p>এক অর্থে তার পাপেটগুলো ছিল বাংলাদেশের অ্যানালগ যুগের অ্যানিমেশন প্রযুক্তির সূচনা।</p>
<h3>ক্যামেরার জন্য আঁকা ছবি</h3>
<p>চিত্রকলা আর টেলিভিশনের পার্থক্য তিনি গভীরভাবে বুঝতেন। ক্যানভাসে যে রঙ সুন্দর দেখায়, ক্যামেরায় তা একইভাবে ধরা পড়ে না। তাই স্টুডিও সেট, পোশাক, আলো, ব্যাকড্রপ—সবকিছু তিনি ক্যামেরার ভাষা মাথায় রেখেই পরিকল্পনা করতেন।</p>
<p>আজকের ভাষায় যাকে বলা হয় <strong>ভিজ্যুয়াল ডিজাইন</strong> বা <strong>প্রোডাকশন ডিজাইন</strong>, বাংলাদেশ টেলিভিশনে তার অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন মুস্তাফা মনোয়ার।</p>
<h3>'নতুন কুঁড়ি'—একটি প্রজন্ম তৈরির কারখানা</h3>
<p>বাংলাদেশের অসংখ্য শিল্পী, সংগীতশিল্পী, আবৃত্তিকার ও অভিনয়শিল্পীর প্রথম জাতীয় মঞ্চ ছিল 'নতুন কুঁড়ি'। এটি কেবল একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠান ছিল না; এটি ছিল শিশুদের আত্মবিশ্বাস, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের এক অনন্য বিদ্যালয়।</p>
<h3>প্রযুক্তিকে তিনি শিল্পের ভাষা বানিয়েছিলেন</h3>
<p>মুস্তাফা মনোয়ারের কাছে প্রযুক্তি কখনও যন্ত্র ছিল না; ছিল প্রকাশের মাধ্যম।</p>
<p>পাপেটের যান্ত্রিক কাঠামো, টেলিভিশনের মাল্টি-ক্যামেরা প্রযোজনা, স্টুডিও লাইটিং, সেট ডিজাইন, ভিজ্যুয়াল কম্পোজিশন—সব ক্ষেত্রেই তিনি এমন সময় কাজ করেছেন, যখন বাংলাদেশে এসব বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক চর্চাই ছিল সীমিত।</p>
<p>আজকের অ্যানিমেটর, মোশন ডিজাইনার, ইউটিউব নির্মাতা কিংবা ডিজিটাল ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলারদের কাজে যে আন্তঃমাধ্যমিক (cross-media) চিন্তার প্রতিফলন দেখা যায়, তার বীজ মুস্তাফা মনোয়ারের কাজেও খুঁজে পাওয়া যায় সহজেই। তিনি যেন ডিজিটাল যুগের অনেক আগেই বুঝেছিলেন—মানুষ গল্প শুনতে যতটা ভালোবাসে, তার চেয়েও বেশি ভালোবাসে গল্প দেখতে। </p>
<h3>শেষ বিদায়ে ভালোবাসার ঢল</h3>
<p>তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিল্পী, লেখক, সাংবাদিক, শিক্ষক, সংস্কৃতিকর্মী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা স্মৃতিচারণ করেন। অনেকেই তাকে "বাংলাদেশের পাপেটম্যান", "শিশুদের স্বপ্নকারিগর", "চারুকলার আলোকবর্তিকা" এবং "ভিজ্যুয়াল স্টোরিটেলার" হিসেবে স্মরণ করেন।</p>
<p>অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন শোকবার্তায় তার অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরে। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর বাংলাদেশ টেলিভিশন ও চারুকলা অনুষদে তার কর্মজীবনের সহযাত্রীদের উপস্থিতিতে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। পরে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।</p>
<h3>যে উত্তরাধিকার রয়ে যাবে</h3>
<p>বাংলাদেশে বহু গুণী চিত্রশিল্পী জন্মেছেন, বহু দক্ষ টেলিভিশন নির্মাতাও এসেছেন। কিন্তু খুব কম মানুষই আছেন, যিনি একই সঙ্গে ক্যানভাস, ক্যামেরা, কাঠ, যন্ত্র, টেলিভিশন, পাপেট এবং শিশুমনের কল্পনাকে এক সৃজনশীল ধারায় প্রবাহিত করতে পেরেছেন।</p>
<p>মুস্তাফা মনোয়ার শুধু ছবি আঁকেননি; ছবিকে চলতে শিখিয়েছেন। শুধু পুতুল বানাননি; কাঠের মুখে প্রাণ দিয়েছেন। শুধু অনুষ্ঠান নির্মাণ করেননি; বাংলাদেশের দৃশ্যভাষার ভিত্তি নির্মাণ করেছেন।</p>
<p>তাই তাকে কেবল একজন চিত্রশিল্পী হিসেবে মনে রাখলে তার প্রতি অবিচার হবে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম, টেলিভিশন এবং ভিজ্যুয়াল সংস্কৃতির ইতিহাসে তিনি ছিলেন—এবং থাকবেন—একজন অগ্রদূত, যিনি রঙতুলির সীমা ছাড়িয়ে ক্যামেরার ফ্রেমে একটি জাতির কল্পনাশক্তিকে নতুন চোখে দেখতে শিখিয়েছিলেন। </p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ </strong>গণমাধ্যমকর্মী, নির্বাহী সম্পাদক, ডিজিবাংলা; সহ-সভাপতি, সাইবারক্রাইম অ্যাওরানেস ফাউন্ডেশন</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বাংলাদেশে প্রকৃত ইন্টারনেট ব্যবহারকারী কত? ডেটার দাম কেন কমছে না?</title>
<link>https://digibanglatech.news/182019</link>
<guid>https://digibanglatech.news/182019</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202606/image_870x580_6a3f99c2074e5.jpg" length="113608" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 27 Jun 2026 12:39:11 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা নিয়ে বড় বড় পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়—এই সংখ্যাটি কি প্রকৃত ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর, নাকি শুধু নিবন্ধিত সংযোগের?</p>
<p>বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) তথ্য অনুযায়ী দেশে বর্তমানে মোট ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় ১৩ কোটি। এর মধ্যে মোবাইল ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় ১১.৬ কোটি এবং ব্রডব্যান্ড (আইএসপি) সংযোগ প্রায় ১.৫ কোটি। কিন্তু এই পরিসংখ্যান প্রকৃত ব্যবহারকারীর সংখ্যা নির্দেশ করে না। কারণ একজন ব্যক্তি একাধিক সিম ব্যবহার করতে পারেন, আবার একটি সিমে ৯০ দিনের মধ্যে একবার ডেটা ব্যবহার করলেও সেটি সক্রিয় ইন্টারনেট সংযোগ হিসেবে গণনা করা হয়। ফলে সংযোগের সংখ্যা আর প্রকৃত স্বতন্ত্র ব্যবহারকারীর সংখ্যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য থেকে যায়।</p>
<p>এ কারণেই বাংলাদেশের ডিজিটাল অগ্রগতির প্রকৃত চিত্র জানতে শুধু সংযোগের সংখ্যা নয়, স্বতন্ত্র ব্যবহারকারী, নিয়মিত ডেটা ব্যবহারকারী এবং মাথাপিছু ডেটা ব্যবহারের পরিসংখ্যান প্রকাশ করা জরুরি। সঠিক তথ্য ছাড়া সঠিক নীতিনির্ধারণ সম্ভব নয়।</p>
<p>আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, সাম্প্রতিক সময়ে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমেছে। মূল্যস্ফীতি, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাস, স্মার্টফোনের উচ্চ মূল্য, মোবাইল সেবায় করের চাপ এবং ডেটা প্যাকেজের মূল্যবৃদ্ধি—সব মিলিয়ে অনেক মানুষ নিয়মিত ইন্টারনেট ব্যবহার সীমিত করতে বাধ্য হচ্ছেন। ডিজিটাল বৈষম্যও নতুন করে দৃশ্যমান হচ্ছে।</p>
<p>অন্যদিকে প্রযুক্তিগত বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের পাইকারি মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বাংলাদেশে গুগল, মেটা, ইউটিউবসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কনটেন্ট সরবরাহকারীর ক্যাশ সার্ভার স্থাপিত হয়েছে। ফলে অধিকাংশ জনপ্রিয় কনটেন্ট দেশের ভেতর থেকেই সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথের ব্যবহার কমে, অপারেটরদের খরচ হ্রাস পায় এবং নেটওয়ার্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।</p>
<p>তাহলে প্রশ্ন হলো—আন্তর্জাতিক ব্যয় কমলেও সাধারণ গ্রাহকের জন্য মোবাইল ডেটার দাম কেন কমছে না?</p>
<p>এর পেছনে একাধিক কারণ রয়েছে। মোবাইল অপারেটরদের স্পেকট্রাম লাইসেন্স, টাওয়ার নির্মাণ, বিদ্যুৎ, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ ও রক্ষণাবেক্ষণে উল্লেখযোগ্য ব্যয় হয়। পাশাপাশি ভ্যাট, সম্পূরক শুল্ক, রাজস্ব ভাগাভাগি এবং বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক ফি গ্রাহকের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। তবে একই সঙ্গে এটাও সত্য যে আন্তর্জাতিক ব্যয় কমার সুফল কতটা গ্রাহকের কাছে পৌঁছেছে, সে বিষয়ে পর্যাপ্ত স্বচ্ছতা নেই।</p>
<p>এই বাস্তবতায় সরকার ও বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p>প্রথমত, ইন্টারনেট সেবার ওপর বিদ্যমান কর ও শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা উচিত। ইন্টারনেটকে রাজস্ব আহরণের একটি মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং জাতীয় উন্নয়নের মৌলিক অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, বিটিআরসির উচিত মোবাইল ডেটার মূল্য নির্ধারণ প্রক্রিয়ায় অধিকতর স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। আন্তর্জাতিক ব্যান্ডউইথ, দেশীয় ট্রান্সমিশন, ক্যাশ সার্ভারের সুবিধা এবং অপারেটরদের প্রকৃত ব্যয়ের বিশ্লেষণ জনসমক্ষে প্রকাশ করা হলে গ্রাহকদের আস্থা বাড়বে।</p>
<p>তৃতীয়ত, প্রকৃত স্বতন্ত্র ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা, গড় ডেটা ব্যবহার, সেবার মান এবং মূল্য কাঠামো সম্পর্কে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা প্রয়োজন। তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণই ডিজিটাল খাতকে আরও কার্যকর করতে পারে।</p>
<p>চতুর্থত, বাজারে কার্যকর প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে আরও সক্রিয় হতে হবে। একই সঙ্গে সেবার মান, ইন্টারনেটের গতি এবং গ্রাহক অভিযোগ নিষ্পত্তির বিষয়ে কঠোর নজরদারি চালাতে হবে।</p>
<p>ডিজিটাল বাংলাদেশ কিংবা স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন কেবল ইন্টারনেট সংযোগের সংখ্যা বাড়িয়ে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন দেশের প্রতিটি মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে, মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। ইন্টারনেট আজ বিলাসিতা নয়; এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, ব্যবসা, উদ্ভাবন এবং নাগরিক অধিকারের অন্যতম ভিত্তি।</p>
<p>অতএব, এখন সময় এসেছে শুধু পরিসংখ্যানের সাফল্য নয়, বরং গ্রাহকের বাস্তব অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়ার। সরকার, বিটিআরসি, মোবাইল অপারেটর, আইএসপি এবং ভোক্তা সংগঠন—সব পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগেই একটি স্বচ্ছ, প্রতিযোগিতামূলক এবং গ্রাহকবান্ধব ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong> সভাপতি, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ওটিটির খেলা!</title>
<link>https://digibanglatech.news/181882</link>
<guid>https://digibanglatech.news/181882</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202606/image_870x580_6a3e508f6152d.jpg" length="117424" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 26 Jun 2026 00:12:46 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p dir="ltr"><span>আইটি, টেলিকম এবং মিডিয়া ইন্ড্রাস্ট্রি নিয়ে যারা কাজ করেন তাদের কাছে ওটিটি(OTT) একটি অতি পরিচিত শব্দ। এছাড়াও পত্র-পত্রিকায় ওটিটি শব্দটি আপনাদের অনেকের চোখে পড়ে থাকতে পারে। বর্তমানে আমরা দৈনন্দিন জীবনে কোন না কোন ধরনের ওটিটি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে চলেছি। </span></p>
<p dir="ltr"><span>OTT  শব্দটির পূর্ণ অর্থ Over The Top। ২০০০ সালের শুরুর দিকে আমেরিকার টেলিকম খাতে ওটিটি শব্দটির প্রচলন শুরু হয়। প্রচলিত কেবল  টিভি, স্যাটেলাইট ডিস টিভি এবং টেলিকম নেটওয়ার্ককে বাইপাস করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রদত্ত ভয়েস, ভিডিওসহ অন্যান্য কন্টেন্ট সার্ভিসগুলোকে ওটিটি সেবা বলা হয়। </span></p>
<p dir="ltr"><span>মোবাইল, ফিক্সড টেলিকম, স‍্যাটেলাইট অপারেটর অথবা আইএসপি অপারেটররা যখন গ্রাহকদেরকে ইন্টারনেট সেবা দেয়। সেই ইন্টারনেটের উপর দিয়েই গ্রাহককে ওটিটি সার্ভিস প্রোভাইডাররা বিভিন্ন সার্ভিস দিয়ে থাকে। ইন্টারনেট এবং স্মার্ট ডিভাইস ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে ওটিটি -র ব্যবহারও বাড়তে থাকে। </span></p>
<p dir="ltr"><span>টেলিকম অপারেটররা সর্বপ্রথম এই ধরনের সেবা প্রদানকারীদের ওটিটি নাম দেয়। আরও স্পস্ট করে বোঝার জন্য বলা যেতে পারে, টেলিকম অপারেটররা ওটিটিকে পরগাছার সাথে তুলনা করেছে। যাদের নিজস্ব কোন নেটওয়ার্ক নেই টেলিকম অপারেটরের নেটওয়ার্কের উপর নির্ভর করে সেবা দেয়। </span></p>
<p dir="ltr"><span>অল্প কিছুদিন আগে স্কাইপ বন্ধ হলেও, স্কাইপের মত ভয়েস কলিং এ‍্যাপ দিয়েই বহুল পরিচিত ওটিটির ব‍্যবহার শুরু হয়। তখন ইন্টারনেটের উপর দিয়ে পিসি-টু-পিসি, পিসি-টু-ফোন, এ‍্যাপ-টু-এ‍্যাপ, এ‍্যাপ-টু-ফোনসহ নানা উপায়ে কল করা শুরু হয়।প্রচলিত টেলিকম নেটওয়ার্ককে বাইপাস করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে এই সেবা প্রদান করা শুরু হয়। পরবর্তীতে স্কাইপের মত শত শত ডেস্কটপ এবং স্মার্টফোন মোবাইল কলিং ও মেসেজিং এ‍্যাপ বাজারে আসে। </span></p>
<p dir="ltr"><span>বর্তমানে হোয়াটসএপ, ফেসটাইম, ভাইবার, মেসেঞ্জার, ইমো, বটিম, উইচ‍্যাট,সিগন্যাল, টেলিগ্রাম ইত্যাদি পরিচিত অনেক কলিং ও মেসেজিং এ‍্যাপ গ্লোবাল মার্কেটে বহুল ব্যবহৃত হয়ে থাকে। ব্রিলিয়ান্ট কানেক্ট, আলাপ, আম্বার আইটি, ডায়াল, অগ্নিটক ইত‍্যাদি বাংলাদেশের স্থানীয় কলিং ও মেসেজিং এ‍্যাপ বা ওটিটি যা দিয়ে এ‍্যাপ-টু-এ‍্যাপ ও এ‍্যাপ-টু-ফোন কল করা যায়। ওটিটির ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে প্রচলিত নাম্বার টু নাম্বার ডায়াল কলিং ও এসএমএস আস্তে আস্তে কমে যাচ্ছে।</span></p>
<p dir="ltr"><span>ফেসবুক, টিকটক, ইন্সটাগ্রাম জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া ওটিটি প্লাটফর্ম। কনসোল গেমিং বাদ দিয়ে এ‍্যাপভিত্তিক ওটিটি গেমিং এখন বেশী জনপ্রিয়। ইউটিউব, নেটফ্লিক্স, এ‍্যাপল টিভি, হুলু, আমাজন প্রাইম ইত্যাদি গ্লোবাল ভিডিও ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। অন‍্যান‍্য দেশের মত বাংলাদেশেও স্থানীয় ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম আছে, যেমন- হইচই, চরকি, বায়োস্কোপ, বঙ্গো, টফি, বিন্জ, র‍্যাবিটহোল ইত্যাদি। এইসব সেবাকে VOD বা ভিডিও অন ডিমান্ডও বলা হয়ে থাকে। তবে কোন কোন প্ল্যাটফর্ম লাইভ টিভি ব্রডকাস্ট করে থাকে। ভিডিও স্ট্রিমিং প্লাটফর্মগুলোর ক্ষেত্রে ওটিটি শব্দটি ব‍্যাপক অর্থে ব্যবহার করা হয়। </span></p>
<p dir="ltr"><span>শুরুর দিকে টেলিকম অপারেটররা ওটিটিকে তেমন কোন পাত্তাই  দিতো না। সেই কারনে ওটিটিদেরকে এক রকম তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করেই ওটিটি বা পরগাছা নাম দিয়েছিল। কিন্তু ওটিটিরা ক্রমেই প্রচলিত অপারেটরদের রাজস্বে বড় ধরনের ভাগ বসানো শুরু করে। তখন টেলিকম বা ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রোভাইডারদের সাথে ওটিটিদের ঝগড়াঝাঁটি শুরু হয়। </span></p>
<p dir="ltr"><span>ব্রডব্যান্ড অপারেটররা ওটিটিদের রাজস্বে ভাগ বসাতে চায়। ওটিটিদের ফ্রি রাইড বন্ধ করতে চায়। তারা ওটিটিদের ব্লক করে, স্লো লেন ও ফাস্ট লেন সার্ভিস অফার দেয়া শুরু করে। অর্থাৎ যে ওটিটি ব্রডব্যান্ড সার্ভিস প্রোভাইডারের সাথে রাজস্ব শেয়ার করবে তার কন্টেন্ট গ্রাহক ভালো কোয়ালিটি দেখতে পারবে আর যে রাজস্ব শেয়ার করবে না তার কোয়ালিটি (থ্রটল) খারাপ হবে। </span></p>
<p dir="ltr"><span>সেই প্রেক্ষাপটে ২০০৩ সালে আমেরিকার কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির আইনের প্রফেসর টিম উ (Tim Wu) “Network Neutrality” ধারণাটি প্রবর্তন করেন, যা পরবর্তীতে নেট নিউট্রালিটি বিতর্কের ভিত্তি হয়ে ওঠে। এই ডিবেট বা যুক্তিতর্কের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় হলো ইন্টারনেটর সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে কোন ওটিটি বা কন্টেন্ট প্রোভাইডারদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করা যাবে না।আইনিভাবে অনুমোদিত সকল ওটিটিদেরকে  ব্রডব্যান্ড প্রোভাইডাররা সমানভাবে বিবেচনা করবে। </span></p>
<p dir="ltr"><span>আমেরিকা-ইউরোপসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ পুরোপুরি নেট নিউট্রালিটি নীতি গ্রহণ করেছে। তবে কিছু কিছু দেশ সম্পূর্ণ নেট নিউট্রালিটি না করে কিছু কিছু ব‍্যতিক্রম করেছে। আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এমএনও ও ওটিটির মধ্যে নেট নিউট্রালিটি বিতর্ক হয়েছে যা নিয়ন্ত্রক সংস্থা মধ্যস্থতা করে নেট নিউট্রাল করে দিয়েছে। </span></p>
<p dir="ltr"><span>২০২৬ সালে বিশ্বকাপ ফুটবল খেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন বাংলাদেশের বিভিন্ন ওটিটি প্লাটফর্মের পারফর্মেন্স নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক শোরগোল হলো। লাইভ খেলা দেখানো নিয়ে বাংলাদেশের আইএসপিরা আপস্ট্রীম ব‍্যান্ডউইথ নিয়ে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিলের খেলার দিনগুলোতে ব‍্যান্ডউইথ সমস্যা প্রকট।বর্তমানে টিভি মানেই এনরয়েড স্মার্ট টিভি এবং বাসাবাড়িতে স্মার্ট মোবাইলসহ স্মার্ট ডিভাইসের অভাব নাই। লাইভ খেলা, নিউজ, নাটক, সিনেমা দেখাসহ আরও অন্যান্য অনেক সেবা এখন গ্রাহকরা ইন্টারনেটের মাধ্যমে ওটিটি দিয়ে পেতে চায়।</span></p>
<p dir="ltr"><span>খুলনার একজন কেবল টিভি(ডিস) ব্যবসায়ী জানালো তার আড়াই হাজার ডিস সংযোগ কমে এখন মাত্র  দুইশত হয়েছে। কিন্তু কিছু দিন আগে শুরু করা তার আইএসপিতে এখন প্রায় দুই হাজার গ্রাহক।আমার ধারণা সারা বাংলাদেশের চিত্র একই রকম।</span></p>
<p dir="ltr"><span>বাংলাদেশের নীতি নির্ধারকরা নেট নিউট্রালিটি ডিবেট নিয়ে কি ভাবছেন তা কখনও জানার সুযোগ হয় নি। তবে ওটিটি রেগুলেশন নিয়ে মাঝে মাঝে তথ‍্য মন্ত্রণালয় ও বিটিআরসির মধ্যে যে টানাপোড়েন চলে তা শোনা যায়। কিছু কিছু  আইএসপি বিটিআরসি থেকে আইপিটিভির অনুমোদন নিয়ে লাইভ টিভি চ‍্যানেল দেখানো শুরু করেছিল, শুনলাম তথ‍্য মন্ত্রণালয়ের চাপে সেটাও বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। গায়ের জোরে কোন টেকনোলজিকে বন্ধ করে রাখা যায় না। </span></p>
<p dir="ltr"><span>কনভারজেন্স মেনে নিয়ে সবাই মিলে নীতিকাঠামো তৈরী করে যে কোন নতুন টেকনোলজিকে গ্রহন করাটা জরুরী।জনগণকে সেই টেকনোলজির সুবিধা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিৎ।</span></p>
<hr>
<p dir="ltr"><span><strong>লেখকঃ</strong> সিইও, ইন্টারক্লাউড লিমিটেড</span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সোশ্যাল মিডিয়া বিপ্লব: ব্যবহারকারীই নিয়ন্ত্রণ করবেন অ্যালগরিদম</title>
<link>https://digibanglatech.news/181193</link>
<guid>https://digibanglatech.news/181193</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202501/image_870x580_677b93c3e2b49.jpg" length="259321" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 22 Jun 2026 10:52:17 +0600</pubDate>
<dc:creator>আন্তর্জাতিক ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p style="text-align: justify;">এত দিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে ব্যবহারকারীরা কী দেখতে পাবেন, তা সম্পূর্ণ নির্ধারণ করত প্ল্যাটফর্মগুলোর নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা অ্যালগরিদম। ব্যবহারকারীদের পছন্দ-অপছন্দ জানানোর সামান্য সুযোগ থাকলেও পর্দার আড়ালে নিয়ন্ত্রণ থাকত ফেসবুক, টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের হাতেই। তবে এবার সেই ক্ষমতা সরাসরি ব্যবহারকারীদের হাতে ছেড়ে দিতে শুরু করেছে প্রযুক্তি জায়ান্টরা।</p>
<p style="text-align: justify;">কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সহায়তায় এখন ব্যবহারকারীরা নিজেরাই নিজেদের অ্যালগরিদমকে প্রশিক্ষণ দিতে পারছেন। এর ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের হোম পেজ বা ফিডগুলো এখন আর সবার জন্য একরকম থাকছে না, বরং এটি হয়ে উঠছে ওটিটি স্ট্রিমিং সার্ভিসের মতো—যেখানে প্রত্যেকে নিজের রুচি অনুযায়ী কনটেন্ট সাজিয়ে নিতে পারছেন।</p>
<p style="text-align: justify;">বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তিনটি প্ল্যাটফর্ম যেভাবে ব্যবহারকারীদের এই নিয়ন্ত্রণ সুবিধা দিচ্ছে:</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>থ্রেডস</strong><br>মেটা-র মালিকানাধীন এই অ্যাপটি সম্প্রতি চালু করেছে ‘ইউর অ্যালগো’ নামক একটি গোপনীয় ফিচার। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগতভাবে অ্যাপটিকে জানিয়ে দিতে পারেন যে তারা কোন ধরনের পোস্ট বেশি দেখতে চান আর কোনটি কম। যেমন—কেউ চাইলে লিখে দিতে পারেন, ‘আমাকে আগামী তিন দিন ফুটবল নিয়ে বেশি পোস্ট দেখাও এবং রাজনৈতিক খবর কম দেখাও’। এই অনুরোধটি এক, তিন বা সাত দিনের জন্য কার্যকর রাখা যায়।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>ইনস্টাগ্রাম</strong><br>ইনস্টাগ্রাম তাদের অ্যাপের সেটিংসে ‘ইউর অ্যালগরিদম’ নামে একটি নতুন টুল যুক্ত করেছে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা দেখতে পাবেন যে ইনস্টাগ্রাম তাদের কোন কোন বিষয়ে আগ্রহী বলে ধরে নিয়েছে। সেখানে থাকা তালিকা থেকে ব্যবহারকারীরা যেকোনো বিষয় বাদ দিতে বা নতুন বিষয় যোগ করতে পারবেন। ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরি জানিয়েছেন, লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা উন্নত এআই ব্যবহারের ফলে এখন ব্যবহারকারীদের কাছে অ্যালগরিদমের কাজের প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা এবং তাদের মতামত নেওয়া সহজ হয়েছে।</p>
<p style="text-align: justify;"><strong>টিকটক</strong><br>টিকটকে রয়েছে ‘ম্যানেজ টপিকস’ বা বিষয়বস্তু ব্যবস্থাপনার সুবিধা। এখানে খেলাধুলা, ভ্রমণ, রান্না বা বিনোদনের মতো বিভিন্ন বিষয়ের পাশে একটি স্লাইডার বা বোতাম থাকে। ব্যবহারকারী সেটি ডানে-বামে সরিয়ে নির্ধারণ করতে পারেন যে সেই বিষয়ের ভিডিও তিনি কতটা দেখতে চান। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ‘স্মার্ট কি-ওয়ার্ড ফিল্টার’। উদাহরণস্বরূপ, কেউ যদি ‘বাড়ি মেরামত’ সংক্রান্ত ভিডিও দেখতে না চান, তবে এআই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ‘রেনোভেশন’ বা ‘পুনর্নির্মাণ’ সম্পর্কিত অন্য সব ভিডিওর প্রদর্শনও বন্ধ করে দেবে।</p>
<p style="text-align: justify;">প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ব্যবহারকারীদের এই নিয়ন্ত্রণ দেওয়ার ফলে একদিকে যেমন গ্রাহকেরা তাঁদের পছন্দের কনটেন্ট দেখতে পাচ্ছেন, অন্যদিকে প্ল্যাটফর্মগুলোতে ব্যবহারকারীদের কাটানো সময় ও সক্রিয়তা অনেক বেড়ে যাচ্ছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।</p>
<p style="text-align: justify;"><em><strong>ডিবিটেক/বিএমটি    ।   সূত্র: <a href="https://techcrunch.com/2026/06/17/social-medias-next-evolution-user-controlled-algorithms/" target="_blank" rel="noopener">টেকক্রাঞ্চ</a></strong></em></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>জুলাইয়ে জেনেভায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে বৈশ্বিক আলোচনা: বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কেন জরুরি</title>
<link>https://digibanglatech.news/181115</link>
<guid>https://digibanglatech.news/181115</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202606/image_870x580_6a3774985956b.jpg" length="129919" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 21 Jun 2026 09:20:39 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>জুলাই মাসে জেনেভা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই শাসন নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক আলোচনার কেন্দ্র হয়ে উঠতে যাচ্ছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত প্রথম Global Dialogue on AI Governance, AI for Good Global Summit এবং WSIS Forum—এই তিনটি আয়োজন একই সময়ে জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে। এটি শুধু আরেকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন নয়; এটি এআই যুগে বৈশ্বিক ন্যায়বিচার, প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ, মানবাধিকার, উন্নয়ন এবং ডিজিটাল সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে ভাবার একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। বাংলাদেশের জন্য এই আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করা এখন আর কূটনৈতিক সৌজন্যের বিষয় নয়; এটি জাতীয় স্বার্থের প্রশ্ন।</p>
<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আজ শুধু প্রযুক্তি কোম্পানির গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নেই। এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, আর্থিক সেবা, প্রশাসন, শ্রমবাজার, গণমাধ্যম, নির্বাচন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরাপত্তা এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। বাংলাদেশের মতো দেশে, যেখানে তরুণ জনগোষ্ঠী বড়, ডিজিটাল সেবা দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে, মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহার বাড়ছে, আর অর্থনীতি রপ্তানি, প্রবাসী আয় ও সেবা খাতের ওপর নির্ভরশীল—সেখানে এআইকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।</p>
<p>কিন্তু প্রশ্ন হলো, এআই কি বাংলাদেশের জন্য শুধু সুযোগ, নাকি নতুন ঝুঁকিও তৈরি করছে? উত্তর হলো—দুটিই। এআই কৃষককে আবহাওয়া ও বাজার তথ্য দিতে পারে, রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করতে পারে, শিক্ষার্থীর জন্য ব্যক্তিগত শেখার সুযোগ তৈরি করতে পারে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য সহায়ক প্রযুক্তি দিতে পারে, সরকারি সেবা সহজ করতে পারে, বাংলা ভাষাভিত্তিক ডিজিটাল জ্ঞানভান্ডার তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এআই কর্মসংস্থানে চাপ তৈরি করতে পারে, ভুল তথ্য ছড়াতে পারে, নজরদারি বাড়াতে পারে, ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার ঘটাতে পারে, অ্যালগরিদমিক বৈষম্য তৈরি করতে পারে এবং বাংলা ভাষা ও স্থানীয় সংস্কৃতিকে বৈশ্বিক প্রযুক্তির বাজারে প্রান্তিক করে দিতে পারে।</p>
<p>এই বাস্তবতায় জেনেভার আলোচনায় বাংলাদেশের উপস্থিতি জরুরি, কারণ বৈশ্বিক এআই শাসনের নিয়ম এখন তৈরি হচ্ছে। যারা আলোচনার টেবিলে থাকবে, তারাই ভবিষ্যতের নীতির ভাষা, অগ্রাধিকার ও মানদণ্ড প্রভাবিত করতে পারবে। বাংলাদেশ যদি শুধু পরে তৈরি হওয়া নিয়ম মেনে চলার অবস্থানে থাকে, তবে তার জাতীয় বাস্তবতা, বাংলা ভাষা, স্থানীয় জ্ঞান, শ্রমবাজার, উন্নয়ন-চাহিদা ও মানবাধিকার উদ্বেগ বৈশ্বিক নীতিতে যথেষ্ট জায়গা নাও পেতে পারে।</p>
<p>বাংলাদেশের প্রথম দাবি হওয়া উচিত—এআই শাসন যেন কেবল উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন দেশগুলোর এজেন্ডা না হয়। এআইয়ের সুবিধা যারা তৈরি করছে, তাদের মতো যারা এর প্রভাব ভোগ করবে, তাদেরও মতামত সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশকে বলতে হবে, এআই বিভাজন যেন নতুন ডিজিটাল বৈষম্যে পরিণত না হয়। ইন্টারনেট সংযোগ, ডেটা অবকাঠামো, দক্ষতা, ভাষা, গবেষণা, কম্পিউটিং সক্ষমতা এবং নীতিগত প্রস্তুতির ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর বাস্তবতা আলাদা। তাই বৈশ্বিক সহযোগিতা দরকার শুধু নীতিকথায় নয়, অর্থায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, প্রশিক্ষণ, গবেষণা সহযোগিতা এবং স্থানীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশকে বাংলা ভাষা ও স্থানীয় জ্ঞানের প্রশ্ন তুলতে হবে। বিশ্বে এআই মডেলগুলোর বড় অংশ ইংরেজি ও কয়েকটি প্রভাবশালী ভাষাকেন্দ্রিক। বাংলা ভাষা বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ভাষা হলেও এআই উন্নয়নে এর মানসম্মত ডেটা, ভাষা-সম্পদ, করপাস, বক্তৃতা-ডেটা, আঞ্চলিক ভাষা, লোকজ জ্ঞান ও প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান যথাযথভাবে সংগঠিত নয়। ফলে বাংলা ভাষাভাষী মানুষ এআই যুগে ব্যবহারকারী হিসেবে থাকবে, কিন্তু জ্ঞান-উৎপাদক হিসেবে পিছিয়ে যেতে পারে। বাংলাদেশের উচিত জেনেভায় বাংলা ভাষাভিত্তিক এআই, স্থানীয় ভাষা প্রযুক্তি, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং ভাষাগত ন্যায়বিচারকে বৈশ্বিক আলোচনায় তুলে ধরা।</p>
<p>তৃতীয়ত, মানবাধিকার ও মানব তদারকির প্রশ্ন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, গোপনীয়তা, ডেটা সুরক্ষা, বৈষম্য প্রতিরোধ এবং মানুষের শেষ সিদ্ধান্তের অধিকার নিশ্চিত করা জরুরি। শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা থাকলেই এআই নিরাপদ হয় না; এর জন্য প্রয়োজন আইন, নীতি, স্বাধীন তদারকি, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং প্রতিকারব্যবস্থা। বাংলাদেশ যদি সরকারি সেবা, আইনশৃঙ্খলা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা সামাজিক সুরক্ষায় এআই ব্যবহার করতে চায়, তবে “মানুষের ওপর প্রযুক্তি” নয়; “মানুষের জন্য প্রযুক্তি”—এই নীতিকে কেন্দ্রীয় করতে হবে।</p>
<p>চতুর্থত, এআই এবং কর্মসংস্থানের প্রশ্নে বাংলাদেশের বিশেষ অবস্থান আছে। তৈরি পোশাক, ব্যাংকিং, আউটসোর্সিং, গণমাধ্যম, শিক্ষা, কাস্টমার সার্ভিস, অনুবাদ, ডিজাইন, কনটেন্ট তৈরি ও প্রশাসনিক কাজের অনেক ক্ষেত্রে অটোমেশন প্রভাব ফেলতে পারে। একই সঙ্গে নতুন কাজও তৈরি হবে—ডেটা অ্যানোটেশন, এআই সিস্টেম ব্যবস্থাপনা, লোকাল কনটেন্ট উন্নয়ন, সাইবার নিরাপত্তা, এআই-সহায়ক গবেষণা, ডিজিটাল উদ্যোক্তা, শিক্ষা প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্য প্রযুক্তি। তাই বাংলাদেশকে এআইকে কর্মসংস্থান ধ্বংসের আতঙ্ক হিসেবে নয়, দক্ষতা রূপান্তরের এজেন্ডা হিসেবে দেখতে হবে। জেনেভায় বাংলাদেশের অবস্থান হওয়া উচিত—Global South-এর তরুণদের জন্য এআই দক্ষতা, ন্যায্য ডিজিটাল শ্রমনীতি এবং ভবিষ্যৎ কাজের প্রস্তুতি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অংশ হতে হবে।</p>
<p>পঞ্চমত, এআই বাংলাদেশের জলবায়ু ঝুঁকি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে। বাংলাদেশ নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, লবণাক্ততা, বন্যা, নগর জলাবদ্ধতা, তাপপ্রবাহ ও জলবায়ু অভিবাসনের ঝুঁকিতে আছে। এআই-ভিত্তিক পূর্বাভাস, স্যাটেলাইট ডেটা, ঝুঁকি মানচিত্র, কৃষি পরামর্শ, দুর্যোগ সতর্কতা এবং স্থানীয় ভাষায় সতর্কবার্তা জীবন বাঁচাতে পারে। কিন্তু এসব প্রযুক্তি যেন শুধু প্রকল্পে সীমাবদ্ধ না থাকে; কমিউনিটি পর্যায়ে ব্যবহারযোগ্য হতে হবে। এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ বৈশ্বিক মঞ্চে তুলে ধরতে পারে।</p>
<p>ষষ্ঠত, তথ্য-অখণ্ডতা ও গণমাধ্যমের ভবিষ্যৎ এআই আলোচনার কেন্দ্র হওয়া দরকার। ডিপফেক, ভুয়া ছবি, এআই-নির্মিত অপপ্রচার, নির্বাচনী বিভ্রান্তি, নারীর বিরুদ্ধে ডিজিটাল সহিংসতা, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও সামাজিক অস্থিরতা—এসব ঝুঁকি বাংলাদেশে বাস্তব। সাংবাদিকতা, ফ্যাক্ট-চেকিং, মিডিয়া লিটারেসি এবং প্ল্যাটফর্ম জবাবদিহিকে এআই শাসনের সঙ্গে যুক্ত না করলে গণতান্ত্রিক পরিসর দুর্বল হবে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ ও প্রযুক্তি সম্প্রদায়ের অভিজ্ঞতা এখানে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।</p>
<p>সপ্তমত, বাংলাদেশকে এআই শাসনে বহুপক্ষীয় পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। সরকার একা এআই শাসন করতে পারবে না। এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে ICT Division, Ministry of Foreign Affairs, BTRC, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্টার্টআপ, প্রযুক্তি কোম্পানি, গণমাধ্যম, নাগরিক সমাজ, নারী সংগঠন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠন, যুবসমাজ, শিশু অধিকারকর্মী এবং প্রযুক্তি সম্প্রদায়কে। জেনেভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলও হওয়া উচিত বহুপক্ষীয়—শুধু আমলাতান্ত্রিক নয়, জ্ঞানভিত্তিক ও অংশগ্রহণমূলক।</p>
<p>এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ একটি “Bangladesh Observatory on Digital Cooperation, Internet Governance and AI Governance” গঠনের উদ্যোগ বিবেচনা করতে পারে। এই অবজারভেটরি WSIS Action Lines, Internet Governance processes, Global Digital Compact, Pact for the Future এবং UN Global Dialogue on AI Governance-এর সঙ্গে বাংলাদেশের নীতিগত অগ্রগতি, অংশগ্রহণ, গবেষণা ও ফলোআপ পর্যবেক্ষণ করতে পারে। এতে বৈশ্বিক অঙ্গীকার ও দেশীয় বাস্তবায়নের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি হবে।</p>
<p>বাংলাদেশের আরও একটি জরুরি করণীয় হলো একটি সুস্পষ্ট জাতীয় এআই অবস্থানপত্র তৈরি করা। সেখানে থাকতে হবে—মানবাধিকারভিত্তিক এআই, বাংলা ভাষা ও স্থানীয় জ্ঞান, ডেটা সুরক্ষা, শিশু ও নারীর নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান রূপান্তর, শিক্ষা ও দক্ষতা, কৃষি ও জলবায়ু, স্বাস্থ্য, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম, সাইবার নিরাপত্তা, গবেষণা অর্থায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অগ্রাধিকার। জেনেভার মতো বৈশ্বিক মঞ্চে বাংলাদেশ যদি প্রস্তুত অবস্থান নিয়ে যায়, তবে তার কণ্ঠ আরও কার্যকর হবে।</p>
<p>জুলাইয়ের জেনেভা তাই বাংলাদেশের জন্য একটি সুযোগ। এটি কেবল অংশগ্রহণের সুযোগ নয়; নেতৃত্বের সুযোগ। বাংলাদেশ বিশ্বকে বলতে পারে, এআইয়ের ভবিষ্যৎ শুধু শক্তিশালী প্রযুক্তি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। এটি মানুষের, ভাষার, সংস্কৃতির, উন্নয়নের, অধিকারের এবং ন্যায়বিচারের প্রশ্ন। বাংলাদেশ বলতে পারে, Global South শুধু এআই বাজার নয়; Global South-ও জ্ঞান উৎপাদন করে, অভিজ্ঞতা তৈরি করে, সমাধান দেয়।</p>
<p>শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটি সহজ: এআই যুগে বাংলাদেশ কি শুধু প্রযুক্তির ভোক্তা থাকবে, নাকি ন্যায্য, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক এআই শাসনের সক্রিয় নির্মাতা হবে? জেনেভার বৈশ্বিক আলোচনায় বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এই উত্তর নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।</p>
<p>বাংলাদেশের উচিত সেখানে যাওয়া—শুধু উপস্থিতি জানানোর জন্য নয়, নিজের অভিজ্ঞতা, দাবি, সম্ভাবনা ও ভবিষ্যৎ দর্শন স্পষ্টভাবে তুলে ধরার জন্য। কারণ এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে যে আলোচনা আজ শুরু হচ্ছে, তা আগামী দিনের শিক্ষা, কাজ, অধিকার, উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের কাঠামো নির্ধারণ করবে। সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণে বাংলাদেশের কণ্ঠ অবশ্যই থাকতে হবে।     </p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ </strong><span>ডিজিটাল গণতন্ত্র, তথ্যের অখণ্ডতা ও গণমাধ্যম উন্নয়ন নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর</span>    </p>
<hr>
<p>                                                                                                                                                                                                                                                                                 </p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বিশ্ববাজারের ‘মেড ইন বাংলাদেশ’: ক্রস&#45;বর্ডার ই&#45;কমার্স রফতানিতে বিপ্লব ও বাস্তবতা</title>
<link>https://digibanglatech.news/181114</link>
<guid>https://digibanglatech.news/181114</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202606/image_870x580_6a3773695fcc5.jpg" length="81108" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 21 Jun 2026 00:15:09 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্য ও ডিজিটাল অর্থনীতির ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। দেশের ক্ষুদ্র, মাঝারি ও প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের তৈরি পণ্য এখন কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি পৌঁছে যাবে বিশ্বখ্যাত অনলাইন মার্কেটপ্লেসগুলোর কোটি কোটি আন্তর্জাতিক ক্রেতার দোরগোড়ায়। গত ১৫ জুন, ২০২৬ (সোমবার) বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক যুগান্তকারী সার্কুলারের মাধ্যমে আন্তঃসীমান্ত বা ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স নীতিমালায় বড় ধরনের শিথিলতা আনা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে দেশীয় উদ্যোক্তারা আমাজন, ই-বে, আলিএক্সপ্রেস, টিমু কিংবা ফ্লিপকার্ট-এর মতো বৈশ্বিক প্ল্যাটর্মে সরাসরি পণ্য তালিকাভুক্ত করে ‘বিজনেস-টু-কনজ্যুমার’ (B2C) মডেলে খুচরা বিক্রি করতে পারবেন। এতদিন যা ছিল অত্যন্ত জটিল, ব্যয়বহুল এবং সাধারণ উদ্যোক্তাদের নাগালের বাইরে।</p>
<p><strong>গ্লোবাল মার্কেট সাইজ: বিশ্ববাজারের বিশাল সম্ভাবনা</strong><br>আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল বাণিজ্য মাধ্যম। ২০২৬ সাল নাগাদ বৈশ্বিক ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স বাজারের আকার প্রায় **৪ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার** স্পর্শ করার প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, যার বার্ষিক বৃদ্ধির হার (CAGR) প্রায় ২৫.১%। বিশ্বব্যাপী মোট ই-কমার্স বাণিজ্যের প্রায় ২২% এখন আন্তঃসীমান্ত মডেলে সম্পন্ন হচ্ছে।</p>
<p>বর্তমানে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশগুলো এই বাজারের প্রধান চালিকাশক্তি। ভারতের ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স রফতানি ২০২৬ সালের মধ্যে ৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে এবং তাদের মোট ই-কমার্স-এর প্রায় ৩৪% ক্রস-বর্ডার। অন্যদিকে, ভিয়েতনামের এসএমই খাতের প্রায় ৩২% উদ্যোক্তা সরাসরি আমাজনের মাধ্যমে রফতানি করে। সেখানে এই নতুন ফ্রেমওয়ার্কের সঠিক বাস্তবায়ন হলে আগামী ৩ বছরে বাংলাদেশের ডিজিটাল রফতানি আয় সহজেই ৫০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।</p>
<p><strong>আইনি ভিত্তি: কোন সরকারি নীতিমালার অধীনে এই সিদ্ধান্ত?</strong><br>বাংলাদেশ ব্যাংকের এই ঐতিহাসিক সার্কুলারটি মূলত বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রণীত ‘জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা-২০১৮ (সংশোধিত ২০২০)’-এর ৪.৩ অনুচ্ছেদ এবং ‘ক্রস-বর্ডার ডিজিটাল বাণিজ্য নির্দেশিকা-২০২৪’-এর লক্ষ্য অর্জনে জারি করা হয়েছে। দেশের প্রচলিত ‘বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭’-এর ধারা ২০ এবং ধারা ২৩-এর অধীনে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই সার্কুলার জারি করা হয়েছে। একই সাথে এটি সরকারের ‘রফতানি নীতি ২০২১-২০২৪’-এর অধ্যায় ৪ (রফতানি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ) এবং স্মার্ট ইকোনমি রোডম্যাপের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।</p>
<p><strong>ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: এতদিন কেন হয়নি, এখন কেন সম্ভব হচ্ছে?</strong><br><em>এতদিন না পারার মূল বাধা: </em>অতীতে আমাদের পুরো রফতানি কাঠামো ছিল বড় কনটেইনার-ভিত্তিক বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল。সামষ্টিক অর্থনীতির নীতিনির্ধাকরা ছোট খুচরা পার্সেল রফতানিকে মূল বাণিজ্যের অংশ মনে করতেন না। এর সাথে যুক্ত ছিল মুদ্রা পাচারের আতঙ্ক, যার কারণে অগ্রিম অর্থ ছাড়া পণ্য পাঠানো প্রায় অসম্ভব ছিল। কাস্টমসের সনাতন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, লজিস্টিকস খাতের উচ্চ ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ের অনুপস্থিতি আমাদের উদ্যোক্তাদের হাত-পা বেঁধে রেখেছিল।<br> <em>বর্তমান বাস্তবতায় নীতিনির্ধারকদের সদিচ্ছা: </em>২০২৬ সালের অর্থনৈতিক বাস্তবতায় দেশে ডলারের তারল্য সংকট এবং রিজার্ভের ওপর চাপ তৈরি হওয়াতে রফতানি খাতকে বহুমুখীকরণ করা এখন টিকে থাকার ‘সময়ের দাবি’। তবে শুধু সময়ের দাবিই নয়, নীতিনির্ধারক ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বের আধুনিক ও ব্যবসাবান্ধব ‘সদিচ্ছা’ না থাকলে দীর্ঘদিনের এই আইনি ও মানসিক জড়তা ভাঙা সম্ভব হতো না। লাখো তরুণ এসএমই উদ্যোক্তার মেধাকে বিশ্ববাজারে উন্মুক্ত করতে না পারলে একটি দেশের ‘স্মার্ট ইকোনমি’ গড়ে উঠতে পারে না।<br><strong></strong></p>
<p><strong>প্রজ্ঞাপনের মূল ডেটা ও অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান</strong><br>বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন নির্দেশনায় আর্থিক লেনদেন ও কাস্টমস সংক্রান্ত প্রোটোকলে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া হয়েছে:<br><em>লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা:</em> একজন উদ্যোক্তা প্রতি চালানে সর্বোচ্চ ৫,০০০ মার্কিন ডলার মূল্যমানের পণ্য সিএফআর (CFR) শর্তে সরাসরি রফতানি করতে পারবেন।<br><em>ইএক্সপি (EXP) ফরম শিথিলকরণ:</em> ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা থেকে মুক্তি দিতে ১,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত মূল্যের ছোট রফতানি চালানের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক ‘ইএক্সপি (EXP) ফরম’ দাখিলের দীর্ঘমেয়াদি বাধ্যবাধকতা সম্পূর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে।<br><em>অগ্রিম মূল্য পরিশোধের শর্ত: </em>১,০০০ ডলার পর্যন্ত ইএক্সপি-বিহীন চালানের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার স্বার্থে পণ্যের শতভাগ মূল্য অনুমোদিত ব্যাংকিং চ্যানেল কিংবা বৈধ ডিজিটাল পেমেন্ট গেটওয়ের মাধ্যমে অগ্রিম গ্রহণ করতে হবে।<br><em>শিপিং ও রেমিট্যান্স সহজীকরণ: </em>শিপিং ডকুমেন্টগুলো সরাসরি বিদেশি খুচরা ক্রেতার নামে ইস্যু করা যাবে। বৈশ্বিক মার্কেটপ্লেসে টিকে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় বার্ষিক সাবস্ক্রিপশন বা মেম্বারশিপ ফি পরিশোধের জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকের অনুমোদিত ডিলার (AD) শাখাগুলোর মাধ্যমে বছরে ৫,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত বিদেশে পাঠানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে। পণ্যের মান নিয়ে ক্রেতার আপত্তি থাকলে রফতানিকারকদের বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব (ERQ Account) থেকে অর্থ ফেরত দেওয়ার সহজ প্রোটোকল রাখা হয়েছে।</p>
<p><strong>পেমেন্ট রিসিভ মেকানিজম: টাকা আসার প্রকৃত পদ্ধতি</strong><br>আমাজন বা ই-বে থেকে অর্জিত অর্থ উদ্যোক্তারা ইন্টারন্যাশনাল  ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড, ওটিসি (Over-the-Counter) পেমেন্ট গেটওয়ে বা অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট গেটওয়ে সার্ভিস প্রোভাইডারদের (যেমন পেওনিয়ার, পিংপং বা ওয়াইজ) মাধ্যমে সরাসরি দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকের ডমেস্টিক অ্যাকাউন্টে নিয়ে আসতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গাইডলাইন অনুযায়ী, রফতানি আয়ের একটি সুনির্দিষ্ট অংশ (ক্ষেত্রবিশেষে ৬০% থেকে ৭০% পর্যন্ত) উদ্যোক্তারা তাদের ইআরকিউ (ERQ) অ্যাকাউন্টে সরাসরি বৈদেশিক মুদ্রায় (ডলার) রাখতে পারবেন, যা থেকে পরবর্তীতে বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মের বিজ্ঞাপনী খরচ ও সাবস্ক্রিপশন ফি পরিশোধ করা যাবে।</p>
<p><strong>প্রথম ধাপে কোন পণ্যগুলো বেছে নেবেন উদ্যোক্তারা?</strong><br>১. হস্তশিল্প ও হোম ডেকর: বৈশ্বিক হস্তশিল্পের বাজার ২০২৬ সালে ৯০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। বাংলাদেশের নকশিকাঁথা, মাটির জিনিসপত্র, বাঁশ ও বেতের পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা এবং লাভের সুযোগ সবচেয়ে বেশি (প্রায় ২০০% থেকে ৩০০%)।<br>২. পাটজাত ও পরিবেশবান্ধব পণ্য: আমাজন ও ইটসি (Etsy)-তে জুট শপিং ব্যাগ ও ম্যাটের বাজার প্রতি বছর ১৮.৫% হারে বাড়ছে। বৈশ্বিক ই-কমার্সে পরিবেশবান্ধব পণ্যের অনুসন্ধান গত দুই বছরে প্রায় ৪৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।<br><em>৩. চামড়াজাত ও ফুটওয়্যার:</em> প্রিমিয়াম লেদার ওয়ালেট, বেল্ট ও জুতার বিশ্ববাজার প্রায় ৪৫০ বিলিয়ন ডলারের। বাংলাদেশের ক্ষুদ্র বুটিক হাউসগুলো সরাসরি B2C মডেলে এই বাজারে প্রবেশ করতে পারে, যেখানে গড় লাভের হার ১২০%-এর ওপরে।<br><em>৪. ডিজাইনার ও নিটওয়্যার পোশাক:</em> কাস্টমাইজড টি-শার্ট, ঐতিহ্যবাহী জামদানি মোটিফের স্কার্ফ বা এথনিক ফিউশন পোশাকের জন্য আন্তর্জাতিক রিটেইল ক্রেতারা চড়া মূল্য দিতে প্রস্তুত। আমাজন ফ্যাশনে এই বিক্রি প্রতি বছর প্রায় ২২% হারে বাড়ছে।</p>
<p><strong>লজিস্টিকস ডেলিভারি মডেল: পণ্য কীভাবে ক্রেতার কাছে যাবে?</strong><br><em>ডিরেক্ট বা ড্রপ-শিপিং মডেল (FBM)</em>: এই মডেলে পণ্য উদ্যোক্তার নিজের দেশে মজুদ থাকে। অর্ডার পাওয়ার পর উদ্যোক্তা বাংলাদেশ থেকে ডিএইচএল, ফেডেক্স বা ডাক বিভাগের মাধ্যমে সরাসরি ক্রেতার বিদেশি ঠিকানায় পার্সেল পাঠিয়ে দেন। এটি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সবচেয়ে সাশ্রয়ী, কারণ এতে বিদেশের গুদাম ভাড়া দিতে হয় না।<br><em>মার্কেটপ্লেস ওয়্যারহাউজ মডেল (FBA): </em>এই মডেলে উদ্যোক্তারা একসঙ্গে বড় লটে পণ্য আমাজন বা সংশ্লিষ্ট মার্কেটপ্লেসের বিদেশের সেন্ট্রাল ওয়্যারহাউজে আগে থেকেই পাঠিয়ে জমা রাখেন। বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষা মতে, এই মডেল ব্যবহার করলে ডেলিভারির সময় প্রায় ৭০% কমে আসে, যা ক্রেতার সন্তুষ্টি এবং সেলার রেটিং ৪০%পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়।<br><em>লজিস্টিকস ইকোসিস্টেম ও ডাক বিভাগ</em>: ডাক বিভাগের ইএমএস (Express Mail Service) ব্যবস্থাকে কাস্টমসের এ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড (Asycuda World) সফটওয়্যারের সাথে সমন্বিত করা হচ্ছে, যাতে কুরিয়ার খরচ এক-তৃত্যাংশে নেমে আসে। বর্তমানে কুরিয়ার খরচ পণ্যের মূল্যের প্রায় ৪৫% থেকে ৫০% পর্যন্ত হয়ে যায়, যা ডাক বিভাগের আধুনিকায়নে ১৫% থেকে ২০%-এ নামিয়ে আনা সম্ভব।</p>
<p><strong>পলিসি অ্যাডভোকেসি: ডিসিআরএএফ (DCRAF)-এর পর্যবেক্ষণ ও ভূমিকা </strong><br>বাংলাদেশের ডিজিটাল কমার্স খাতের সামগ্রিক আইনি কাঠামো সংস্কার এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান  ডিজিটাল কমার্স রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি ফোরাম’ (ডিসিআরএএফ)। ডিসিআরএএফ-এর সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক গবেষণা ও নীতিগত পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, ক্রস-বর্ডার বাণিজ্যে প্রজ্ঞাপন জারি হওয়া বড় অর্জন হলেও বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কাজের সমন্বয়হীনতা মাঠপর্যায়ের উদ্যোক্তাদের বড় ক্ষতি করতে পারে। এই সমন্বয়হীনতা দূর করে ই-কমার্স রফতানির এই প্রক্রিয়াটিকে নির্বিঘ্ন করতে এই পলিসি পেপারের মাধ্যমে ডিসিআরএএফ সরকারের উচ্চপর্যায়ে সুনির্দিষ্ট কিছু পলিসি ফ্রেমওয়ার্ক এবং কাঠামোগত প্রস্তাবনা সফলভাবে উপস্থাপন করছে।</p>
<p><strong>পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, জবাবদিহিতা ও একক আইডি প্রবর্তন</strong><br><em>নকল ও ভেজাল পণ্যে নিষেধাজ্ঞা:</em> নীতিমালায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, কোনো নকল, ভেজাল বা অবাস্তব পণ্য কেনাবেচা করা যাবে না। ‘ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯’-এর ধারা ৪৫ ও ৫৩ এবং অনলাইন জুয়া প্রতিরোধে ‘পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২’ ও ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩’-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী কড়া নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।<br><em>একক আইডি’র বিকল্প প্রস্তাব:</em> পূর্বে ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি (DBID) বাধ্যতামূলক করার কথা বলা হলেও, বাস্তবে আরজেএসসি (RJSC) সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সীমাবদ্ধতার কারণে DBID পাওয়া অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও জটিল। এর বিকল্প হিসেবে উদ্যোক্তার জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), ট্রেড লাইসেন্স কিংবা টিআইএন (TIN)-এর যেকোনো একটিকে ‘একক আইডি’ হিসেবে বিবেচনা করে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবসা শুরুর সহজ সুযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।</p>
<p><strong>ঘোষণা বনাম বাস্তবতা: বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়হীনতা ও নীতিগত প্রতিবন্ধকতা</strong><br><em>বাংলাদেশ ব্যাংক বনাম কাস্টমস প্রোটোকল:</em> কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১,০০০ ডলার পর্যন্ত চালানে EXP ফরম শিথিল করলেও, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে বা বন্দরে প্রচলিত রফতানি ফাইলের জটিলতা দেখায়। কাস্টমসের সিস্টেমে (Asycuda World) ক্রস-বর্ডার ই-কমার্সের জন্য আলাদা ‘গ্রিন চ্যানেল’ এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।<br><em>এনবিআর-এর ভ্যাট/ট্যাক্স জটিলতা:</em> ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যখন ছোট পার্সেল বিদেশে পাঠাবেন, তখন ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২’-এর রফতানি সংক্রান্ত ধারা ৩(শূন্য হারের ভ্যাট) এবং ভ্যাট রিফান্ড প্রক্রিয়াটি প্রান্তিক উদ্যোক্তাদের জন্য অত্যন্ত জটিল।<br><em>লজিস্টিকস খরচ: </em>বাংলাদেশ থেকে আন্তর্জাতিক কুরিয়ার চার্জ প্রতিবেশী দেশগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সুবিধার্থে বিমান ভাড়া এবং লজিস্টিকস চার্জ কমাতে বিশেষ সরকারি ভর্তুকি প্যাকেজ দিতে হবে।</p>
<p><strong>নতুন স্ট্র্যাটেজিক প্রস্তাবনা ও আইনি সাজেশন</strong><br><em>সেন্ট্রাল ই-কমার্স কনসোলিডেশন হাব</em>: ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিমানবন্দর সংলগ্ন বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বে (PPP) একটি হাব প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। এই হাবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্ষুদ্র সিঙ্গেল পার্সেলগুলো একত্রিত করে বড় বাণিজ্যিক লটে কম খরচে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে কার্গো করা হবে। এতে শিপিং খরচ প্রায় ৪০% পর্যন্ত কমে আসবে।<br><em>‘রি-ইমপোর্টেশন’ বিধির সহজীকরণ:</em> আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী বৈস্মিক ই-কমার্স-এ গড় রিটার্ন রেট বা পণ্য ফেরতের হার প্রায় ১৫% থেকে ২০%। কিন্তু বর্তমানে ‘কাস্টমস অ্যাক্ট, ২০২৩’-এর ধারা ৪৭ অনুযায়ী, পণ্য ফেরত আসলে সেটিকে নতুন ‘আমদানি’ হিসেবে গণ্য করে চড়া শুল্ক আরোপ করা হয়। ই-কমার্স রফতানিকে টেকসই করতে হলে বিশেষ এসআরও (SRO)-এর মাধ্যমে ই-কমার্স রিটার্ন পার্সেলকে শুল্কমুক্ত (Duty-Free Re-importation) সুবিধা দিতে হবে।<br><em>স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও সরকারি ফান্ডিং:</em> সরকারি অর্থায়নে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য আমাজন/ই-বে লিস্টিং ও এসইও (SEO)-এর ওপর দেশব্যাপী ফ্রি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা দরকার। প্রচলিত তৈরি পোশাক খাতের মতো এই ই-কমার্স রফতানির ক্ষেত্রেও banking চ্যানেলে রেমিট্যান্স আসার পর অতিরিক্ত ৪% থেকে ৫% বিশেষ ক্যাশ ইনসেনটিভ দেওয়া উচিত।</p>
<p><strong>ডিসিআরএএফ (DCRAF)-এর পক্ষ থেকে শেষ স্ট্র্যাটেজিক সাজেশন</strong><br><em>‘জাতীয় ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স সেল’ গঠন</em>:বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, কাস্টমস, ডাক বিভাগ এবং বেসরকারি খাতের (ডিসিআরএএফ ও ই-ক্যাব) প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ‘ওয়ান-স্টপ টাস্কফোর্স’ বা বিশেষ সেল গঠন করা প্রয়োজন, যা সরাসরি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যেকোনো মাঠপর্যায়ের জটিলতা সমাধান করবে।<br><em>ক্ষুদ্র রফতানি ঋণ (Micro-Export Credit):</em> বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠন করা যেতে পারে, যেখানে আপডেট করা ট্রেড লাইসেন্স বা টিআইএন (TIN)-এর বিপরীতে প্রথম চালানের পণ্য তৈরি ও শিপিং-এর জন্য জামানতবিহীন এবং সর্বোচ্চ **৪% থেকে ৫% সুদে** ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ‘ক্ষুদ্র রফতানি ঋণ’ দেওয়া হবে।<br><em>ডিজিটাল এক্সপোর্ট ইনকিউবেশন সেন্টার:</em> প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বিসিক (BSCIC) এবং ডিসিআরএএফ (DCRAF)-এর যৌথ কারিগরি সহায়তায় ইনকিউবেশন সেন্টার করা উচিত, যেখানে হাই-স্পিড ইন্টারনেট, আন্তর্জাতিক মানের ক্যাটালগিং ও প্রডাক্ট ফটোগ্রাফি স্টুডিওর সুবিধা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন।</p>
<p><strong>আন্তর্জাতিক ই-কমার্সে নামার আগে উদ্যোক্তাদের জন্য গাইডলাইন</strong><br><em>আইনি প্রস্তুতি:</em> আপনার NID, আপডেট করা ট্রেড লাইসেন্স এবং TIN সার্টিফিকেট প্রস্তুত রাখুন।<br><em>মার্কেটপ্লেস অ্যাকাউন্ট:</em> আমাজন, ই-বে বা ইটসি-এর মতো প্ল্যাটর্মে স্টোর খোলার জন্য ব্যাংকের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক কার্ডের ইআরকিউ (ERQ) অ্যাকাউন্ট এবং সাবক্রিপশন ফির ব্যাকআপ নিশ্চিত করুন।<br> <em>কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স:</em> পণ্যের আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড, প্যাকেজিং এবং ছবি যেন শতভাগ আসল ও বিশ্বমানের হয় তা নিশ্চিত করুন; কারণ আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নেতিবাচক রিভিউ আপনার স্টোরটি চিরতরে বন্ধ করে দিতে পারে।</p>
<p><strong>নীতিমাালার চেয়ে মাঠপর্যায়ের বাস্তবায়নই আসল সাহস</strong> <br>একজন সম্ভাবনাময় দেশীয় উদ্যোক্তা যেন শুধু আইনি জটিলতার ভয়ে বা অজানা আশঙ্কায় পিছিয়ে না পড়েন, বরং সাহস করে বিশ্ববাজারে বুক চিতিয়ে দাঁড়াতে পারেন—তার জন্য কেবল কাগজ-কলমে চমৎকার নীতিমালাই যথেষ্ট নয়। নীতিমাালার চেয়ে অনেক বেশি জরুরি হলো এর শতভাগ মাঠপর্যায়ের ও হয়রানিমুক্ত বাস্তবায়ন।</p>
<p>যে বাংলাদেশ একসময় শুধু শ্রমশক্তি রফতানি করত, সেই বাংলাদেশ এখন নিজের ব্র্যান্ড, নিজের পণ্য এবং নিজের উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে বিশ্ববাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করতে যাচ্ছে। সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই ব্যবসাবান্ধব নীতিগত রূপান্তর দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে ডলার সংকট মোকাবিলা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সর্বোপরি গলোবাল মার্কেটে "Made in Bangladesh" ব্র্যান্ডকে এক নতুন উচ্চতায় প্রতিষ্ঠিত করবে। এখন প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট সব সরকারি বিভাগের মধ্যে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ঝেড়ে ফেলে একটি সমন্বিত, মসৃণ, হয়রানিমুক্ত ও দ্রুত কার্যকরী লজিস্টিকস রোডম্যাপ মাঠপর্যায়ে ফুটিয়ে তোলা। তবেই কাগজের নীতিমালা উদ্যোক্তাদের জন্য বিশ্বজয়ের বাস্তব হাতিয়ার হয়ে উঠবে।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ<span> </span></strong><span>ই-কমার্স বিশ্লেষক ও ফাউন্ডিং মেম্বার, ই-ক্যাব </span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস ও রূপান্তরের নতুন দিগন্ত</title>
<link>https://digibanglatech.news/180576</link>
<guid>https://digibanglatech.news/180576</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p data-path-to-node=&quot;8&quot;&gt;BSIA সিলিকন রিভার ইউএসএ রোডশো ২০২৬-এর অভিজ্ঞতা থেকে সেমিকন্ডাক্টর ও প্রযুক্তি খাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা, তরুণদের করণীয় এবং একটি আত্মবিশ্বাসী জাতি গঠনের রূপরেখা নিয়ে ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হুসেইনের বিশেষ বিশ্লেষণ।&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202606/image_870x580_6a322542bc914.jpg" length="136116" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 17 Jun 2026 07:35:47 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>সিলিকন রিভার রোডশো ২০২৬, সেমিকন্ডাক্টর বাংলাদেশ, ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হুসেইন, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন, বাংলাদেশি তরুণদের দক্ষতা, BSIA রোডশো।</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="15">দুই সপ্তাহ আগে আমরা শুরু করেছিলাম BSIA Silicon River USA Roadshow 202<b data-path-to-node="15" data-index-in-node="34">6</b>। আজ যখন এই যাত্রার দিকে ফিরে তাকাই, তখন আমার কাছে সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো একটি বৈঠক, কোনো একটি কোম্পানি, কোনো একটি ছবি বা কোনো একটি চুক্তি নয়। আলহামদুলিল্লাহ, সবচেয়ে বড় অর্জন হলো একটি গভীর উপলব্ধি: ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ পারবে, যদি বাংলাদেশ নিজেকে বিশ্বাস করতে শেখে।</p>
<p data-path-to-node="16">অস্টিন, ফিনিক্স, ফলসম, সিলিকন ভ্যালি এবং ওরেগনে আমরা বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী এবং শত শত প্রবাসী বাংলাদেশি পেশাজীবীর সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা AMD, NXP, TEL, Purdue University, Arizona State University, Cactus Materials, GlobalFoundries, UC Berkeley, SanDisk, Synopsys, Credo, ARM, Intel, YES এবং আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করেছি। হাজার হাজার বছরের সম্মিলিত অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মানুষদের মধ্যে আমি একটি বিষয় বারবার দেখেছি: পৃথিবী কারও জন্য অপেক্ষা করে না। যারা স্বপ্ন দেখে, পরিকল্পনা করে এবং কাজ করে—ইনশাআল্লাহ তারাই ইতিহাস লেখে।</p>
<p data-path-to-node="18"><b data-path-to-node="18" data-index-in-node="0">অনেকে প্রশ্ন করেন, “বাংলাদেশ ছোট। আমরা কীভাবে পারব?”</b> আমি বলি, তাইওয়ানের দিকে তাকান। একটি ছোট দ্বীপ, সীমিত প্রাকৃতিক সম্পদ এবং সীমিত জনসংখ্যা। কিন্তু একটি সাহসী ধারণা, একটি স্পষ্ট কৌশল এবং কয়েক দশকের ধারাবাহিকতা তাদেরকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তি শক্তিতে পরিণত করেছে। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলো কখনো বড় ভূখণ্ড দিয়ে শুরু হয়নি; শুরু হয়েছে বড় চিন্তা দিয়ে।</p>
<p data-path-to-node="19"><b data-path-to-node="19" data-index-in-node="0">অনেকে বলেন, “বাংলাদেশ তো একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র। কেন এখানে কেউ বিনিয়োগ করবে?”</b> আমি এটিকে উল্টোভাবে দেখি। যদি সবকিছুই নিখুঁত হতো, তাহলে রূপান্তরের মূল্য কোথায়? আমি বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের সফল রূপান্তর শুধু বাংলাদেশের গল্প হয়ে থাকবে না। এটি হবে পৃথিবীর কোটি কোটি তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার গল্প, যারা প্রমাণ খুঁজছে যে—প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব।</p>
<p data-path-to-node="20"><b data-path-to-node="20" data-index-in-node="0">অনেকে প্রশ্ন করেন, “কেন আপনি?”</b> আমার উত্তর খুবই সহজ। আমি কোনো অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তি নই। তবে আমি বিশ্বাস করি তিনটি গুণের একসঙ্গে থাকা বিরল: সততা, সক্ষমতা এবং নিরলস পরিশ্রম। এই তিনটির সমন্বয়ই শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত ফলাফল তৈরি করে।</p>
<p data-path-to-node="21"><b data-path-to-node="21" data-index-in-node="0">অনেকে বলেন, “কেন এখন?”</b> আমার উত্তর, “এটি আরও আগে হওয়া উচিত ছিল।” কিন্তু ইতিহাসে অনেক মহান যাত্রা দেরিতে শুরু হয়েছে। দেরি হওয়া মানেই ব্যর্থতা নয়, বরং শুরু না করাই আসল ব্যর্থতা।</p>
<p data-path-to-node="22"><b data-path-to-node="22" data-index-in-node="0">অনেকে বলেন, “অন্যরা কোথায়?”</b> আমার উত্তর, “আমাদের দরজা সবার জন্য খোলা।” এই যাত্রা কোনো ব্যক্তি, কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা কোনো গোষ্ঠীর একার নয়। যে আসতে চায়, তার জন্য জায়গা আছে। কিন্তু কাউকে জোর করে টেনে আনা যায় না, স্বপ্ন চাপিয়ে দেওয়া যায় না। অংশগ্রহণ স্বেচ্ছায় হলেই তা অর্থবহ হয়।</p>
<p data-path-to-node="23"><b data-path-to-node="23" data-index-in-node="0">অনেকে বলেন, “বিদেশি কোম্পানি বাংলাদেশে কেন আসবে?”</b> কারণ প্রতিটি কোম্পানির নিজস্ব কৌশল, নিজস্ব লক্ষ্য এবং নিজস্ব ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা থাকে। বাংলাদেশের কাজ হলো তাদের প্রয়োজন বুঝে এমন একটি 'ভ্যালু প্রপোজিশন' বা মূল্য সংযোজনের প্রস্তাব দেওয়া, যা তাদের প্রত্যাশাকেও ছাড়িয়ে যায়। প্রতিযোগিতা শুধু খরচে হয় না, প্রতিযোগিতা হয় দৃষ্টিভঙ্গিতে। শুধু টাকা ছড়ালেই বড় প্রতিষ্ঠান আসবে না; কারণ যে কেবল টাকার গন্ধে আসে সে দুর্বল এবং বাজারে তার কোম্পানির প্রভাব কমে গেছে। তেমন হলে তো সৌদি আরবেই পুরো সিলিকন ভ্যালি স্থানান্তরিত হয়ে যেত।</p>
<p data-path-to-node="24"><b data-path-to-node="24" data-index-in-node="0">অনেকে বলেন, “বাংলাদেশ কি বিনিয়োগবান্ধব?”</b> আমার উত্তর, আমরা সেটি হতে পারি এবং আমাদের হতেই হবে। এর জন্য নিরাপত্তা, দক্ষ মানবসম্পদ এবং সততা নিশ্চিত করতে হবে। একটি উদ্ভাবনী জাতি হতে চাইলে এই তিনটির কোনো বিকল্প নেই।</p>
<p data-path-to-node="25"><b data-path-to-node="25" data-index-in-node="0">এখানে সরকারের ভূমিকা কী?</b> সরকারের কাজ ব্যবসা চালানো নয়। সরকারের কাজ হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সততা প্রতিষ্ঠা করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা। বাকিটা দেশের সৃজনশীল জনগোষ্ঠীই সম্পন্ন করবে। সরকার মানে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত দল ও ব্যক্তিবর্গ—অর্থাৎ সবাই। তাদেরকে দেশের উন্নয়নে পূর্ণ মনোযোগ দিতে হবে এবং অযোগ্য, চাটুকার ও দুর্নীতিবাজদের (phony crony) বাদ দিতে হবে।</p>
<p data-path-to-node="26"><b data-path-to-node="26" data-index-in-node="0">বাংলাদেশের তরুণদের জন্য আমার আহ্বান:</b> মৌলিক জ্ঞানকে শক্তিশালী করুন। নতুন দক্ষতা অর্জন করুন। “কেন” এবং “কেন নয়” প্রশ্ন করতে শিখুন। কল্পনার পরিধি বাড়ান। সমস্যার অংশ না হয়ে, সমাধানের অংশ হতে শিখুন—উদ্ভাবক হন। দায়িত্ব ও জবাবদিহিতা গ্রহণ করতে শিখুন। সততা বজায় রাখুন। আত্মবিশ্বাসী হন, তবে বিনয়ী থাকুন। ব্যক্তি বা দলের অন্ধ আনুগত্যের জন্য নয়, নীতির জন্য লড়ুন। কারণ শেষ পর্যন্ত আমরা সবাই একই নৌকার যাত্রী।</p>
<p data-path-to-node="27"><b data-path-to-node="27" data-index-in-node="0">আর সংশয়বাদীদের জন্য একটি ছোট কথা:</b> যদি কোনো উদ্যোগে আপনার সময়, শ্রম, অর্থ বা বিশ্বাসের বিনিয়োগ না থাকে, তবে সেটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা না করে আপনার নিজের স্বপ্নের পেছনে সময় দিন। পৃথিবীতে আলো বাড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায় অন্যের প্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া নয়, বরং নিজের প্রদীপটি জ্বালানো।</p>
<p data-path-to-node="28">এই রোডশো আমাকে আরেকটি বড় শিক্ষা দিয়েছে—সেতু নির্মাণ করা কঠিন, কিন্তু দেয়াল নির্মাণ করা সহজ। আমরা সেতু নির্মাণের কঠিন পথটিই বেছে নিয়েছি।</p>
<p data-path-to-node="29">সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা, যারা এই যাত্রায় পাশে ছিলেন—বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত, প্রবাসী সম্প্রদায়, BSIA সদস্যবৃন্দ, BRAINGAIN নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিরা এবং অসংখ্য নীরব অবদানকারী। আপনাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি ধারণা ধীরে ধীরে একটি আন্দোলনে রূপ নিচ্ছে।</p>
<p data-path-to-node="30"><i data-path-to-node="30" data-index-in-node="0">Silicon River কোনো গন্তব্য নয়—এটি একটি যাত্রা। এবং সেই যাত্রা এখনই শুরু হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ এবং ইনশাআল্লাহ।</i></p>
<hr>
<p data-path-to-node="33" style="text-align: justify;"><b data-path-to-node="33" data-index-in-node="0">ড. মুহাম্মদ মুস্তাফা হুসেইন</b> একজন বিশ্বখ্যাত ইলেকট্রনিক্স বিজ্ঞানী এবং যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটির (Purdue University) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক। বুয়েট থেকে স্নাতক শেষ করে তিনি ইউনিভার্সিটি অফ সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া ও ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট অস্টিন থেকে উচ্চতর ডিগ্রি ও পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পেশাগত জীবনে তিনি টেক্সাস ইনস্ট্রুমেন্টস, সেমাটেক (SEMATECH) এবং কাউস্ট (KAUST)-এর মতো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর ও ফ্লেক্সিবল ইলেকট্রনিক্স প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী অবদানের জন্য তিনি IEEE, APS ও IOP-এর ফেলো নির্বাচিত হন। তার উদ্ভাবন বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে "Scientific American Top 10 World Changing Ideas" এবং এডিসন গোল্ড অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="33"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বিজ্ঞান হলো প্রশ্ন করার সাহস</title>
<link>https://digibanglatech.news/180333</link>
<guid>https://digibanglatech.news/180333</guid>
<description><![CDATA[ &lt;ul&gt;
&lt;li dir=&quot;ltr&quot;&gt;বিজ্ঞান মেলা বা অলিম্পিয়াড কেবল কোনো প্রতিযোগিতা নয়, এটি মূলত প্রশ্ন করার উৎসব। বড় হওয়ার সাথে সাথে আমাদের প্রশ্ন করার অভ্যাস হারিয়ে ফেলা উচিত নয়, কারণ প্রতিটি আবিষ্কারের সূচনা হয় একটি সাধারণ ‘কেন’ থেকে।&lt;/li&gt;
&lt;/ul&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202606/image_870x580_6a2fcfca89e53.jpg" length="131643" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 15 Jun 2026 00:03:07 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা, মহাকর্ষের ধারণা, কৌতূহল, চিন্তার পদ্ধতি, ব্যর্থতা ও চেষ্টা, টেকসই সমাধান, ডিকার্বনাইজেশন, উদ্ভাবনী চিন্তা, গ্লোবাল চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ড ২০২৫।</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>হতাশা আমাদের জীবনের সারথি। তোমরা যারা বিজ্ঞানী বা গবেষক হতে চাও, খালি হতাশা আর হতাশা। টাকা নেই, লোকজন দাম দিচ্ছে না, অনেক চেষ্টা করেও হচ্ছে না, উত্তর মিলছে না, সমাধান হচ্ছে না, ঘুম হচ্ছে না, ঘুম হলে সকাল বেলা উঠতে বিরক্তি লাগছে, সবার সাথে খারাপ ব্যবহার, তোমরা আমাকে বুঝো না। এইসবের নাম বিজ্ঞানী হওয়া। এইগুলা তোমাদের গলার মালা।<br>আজকের এই আয়োজন শুধু একটি বিজ্ঞান মেলা নয়, শুধু একটি অলিম্পিয়াড নয়, শুধু একটি কুইজ প্রতিযোগিতাও নয়। আজকের এই আয়োজন আসলে প্রশ্ন করার উৎসব।</p>
<p>আমরা ছোটবেলায় কত প্রশ্ন করতাম, মনে আছে? আকাশ নীল কেন? বৃষ্টি হয় কীভাবে? পাখি উড়ে কিন্তু মানুষ কেন উড়তে পারে না? গাছের পাতা সবুজ কেন?</p>
<p>দুঃখের বিষয় হলো, বড় হতে হতে আমরা অনেকেই প্রশ্ন করা বন্ধ করে দিই। অথচ বিজ্ঞান শুরুই হয় একটি প্রশ্ন থেকে।<br>আইজ্যাক নিউটন আপেল পড়তে দেখেছিলেন। আপেল তো সবাই দেখেছে। কিন্তু নিউটন প্রশ্ন করেছিলেন—আপেলটা নিচেই পড়ল কেন? ওপরে গেল না কেন?</p>
<p>এই প্রশ্ন থেকেই জন্ম নিয়েছিল মহাকর্ষের ধারণা।</p>
<p>তাই আমি আজ তোমাদের কাছে একটি অনুরোধ করব—প্রশ্ন করতে কখনো ভয় পেও না।</p>
<p><br>শুধু বইয়ের উত্তর মুখস্থ করার জন্য বিজ্ঞান শেখো না। বিজ্ঞান শেখো পৃথিবীকে বোঝার জন্য। কেন নদী দূষিত হয়, কীভাবে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যায়, কীভাবে প্লাস্টিকের বিকল্প তৈরি করা যায়, কীভাবে কৃষকের জীবন সহজ করা যায়—এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজার মধ্যেই বিজ্ঞান।<br>অনেকেই মনে করে বিজ্ঞান মানে শুধু ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার হওয়া। আমি তা মনে করি না।</p>
<p>বিজ্ঞান আসলে একটি চিন্তার পদ্ধতি। বিজ্ঞান আমাদের শেখায়—<br>প্রমাণ ছাড়া কিছু বিশ্বাস না করতে,<br>ভুল হলে তা স্বীকার করতে,<br>নতুন তথ্য পেলে মত পরিবর্তন করতে,<br>এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সমস্যার সমাধান খুঁজতে।</p>
<p>আজ যারা বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিচ্ছো, মনে রেখো—তোমাদের প্রকল্প প্রথম না-ও হতে পারে। অলিম্পিয়াডে তোমরা হয়তো স্বর্ণপদক নাও পেতে পারো। কুইজে হয়তো সব প্রশ্নের উত্তর জানা নাও থাকতে পারে।<br>কিন্তু সেটি কখনো ব্যর্থতা নয়।</p>
<p>কারণ আজ তোমরা অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিখছো— কীভাবে ভাবতে হয়, কীভাবে দলবদ্ধভাবে কাজ করতে হয়, কীভাবে উপস্থাপন করতে হয়, এবং কীভাবে বারবার চেষ্টা করতে হয়।</p>
<p>আমার নিজের জীবনেও এমন অনেক সময় এসেছে, যখন কোনো পরীক্ষা সফল হয়নি, কোনো গবেষণা প্রত্যাশামতো ফল দেয়নি। কিন্তু আমি দেখেছি, বিজ্ঞান আমাদের একটি জিনিস শেখায়—আবার চেষ্টা করতে। লেগে থাকার নামই বিজ্ঞান। ঘুম থেকে উঠতে শরীর টানে না, তারপরও উঠতে হয়, আবার লেগে থাকতে হয়, এর নামই বিজ্ঞান।</p>
<p><br>প্রিয় শিক্ষার্থীরা, তোমাদের মধ্যে হয়তো ভবিষ্যতের কোনো বিজ্ঞানী বসে আছে। হয়তো কেউ নতুন ওষুধ আবিষ্কার করবে। কেউ জলবায়ু পরিবর্তনের সমাধান খুঁজবে। কেউ এমন প্রযুক্তি তৈরি করবে যা মানুষের জীবনকে সহজ করবে।</p>
<p>আবার এটাও হতে পারে যে তোমাদের কেউ বিজ্ঞানী হবে না। কিন্তু তবুও এই বিজ্ঞান মেলা তোমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তোমরা যাই হও না কেন—একজন শিক্ষক, উদ্যোক্তা, কৃষিবিদ, প্রশাসক বা শিল্পী—বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তা তোমাদের আরও ভালো মানুষ এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হতে সাহায্য করবে।</p>
<p>আজকের পৃথিবী দ্রুত বদলাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জিন প্রযুক্তি—সবকিছু আমাদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিচ্ছে। আর সেই ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে তোমরাই।<br>তাই স্বপ্ন দেখো।<br>প্রশ্ন করো।<br>পরীক্ষা করো।<br>ভুল করো।<br>আবার শিখো।<br>আর কখনো কৌতূহল হারিয়ে ফেলো না।</p>
<p>আর আশে পাশের নিজস্ব প্রবলেম সলভ করো। কেনো মশা কমানো যাচ্ছে না। কেনো হামে বাচ্চা মারা যাচ্ছে, কোনো early indicator বের করা যায় কিনা, কেনো অটো রিকশাগুলো এতো অনিরাপদ, কিভাবে পোল্ট্রি ফিডকে নিরাপদ করা যায়, ময়লা আবর্জনাকে কীভাবে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা যায় mindset is important.</p>
<p>শেষে শুধু একটি কথাই বলতে চাই— "বিজ্ঞান শুধু উত্তর খোঁজার বিষয় নয়; বিজ্ঞান হলো প্রশ্ন করার সাহস। আর যে প্রশ্ন করতে শেখে, সে-ই একদিন পৃথিবীকে বদলে দিতে পারে।"</p>
<hr><hr>
<p>জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাতীয় পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীর সম্মাননা গ্রহণের পর উপস্থিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এই অভিভাষণ দেন ড. মোহাম্মদ আব্বাস উদ্দিন শায়ক বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় (বুটেক্স)-এর ডাইস অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক। তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার থেকে কমনওয়েলথ স্কলারশিপের অধীনে টেক্সটাইল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়াও তিনি অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি থেকে অস্ট্রেলিয়ান ডেভেলপমেন্ট স্কলারশিপের অধীনে মাস্টার্স ডিগ্রি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (আইবিএ) থেকে এমবিএ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে কলেজ অব টেক্সটাইল টেকনোলজি থেকে টেক্সটাইল টেকনোলজিতে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি যুক্তরাজ্যের দ্য টেক্সটাইল ইনস্টিটিউটের চার্টার্ড ফেলো (CText FTI)।</p>
<p>শিক্ষকতা, গবেষণা, শিল্প–পরামর্শ এবং উন্নয়ন সহযোগিতামূলক কর্মকাণ্ডে তার দুই দশকেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি বস্ত্রশিল্পে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা, রাসায়নিক ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত স্থায়িত্ব, সম্পদ দক্ষতা বৃদ্ধি, ডিকার্বনাইজেশন এবং শিল্প–গবেষণা সহযোগিতা বিষয়ে কাজ করে আসছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থা, উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পকারখানার সঙ্গে তিনি পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়নভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগে সম্পৃক্ত রয়েছেন।</p>
<p>বস্ত্র প্রক্রিয়াকরণে উদ্ভাবনী ও টেকসই সমাধান উন্নয়নের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি Global Change Award 2025-এ “Decarbonization Lab for Textile Process Innovation” উদ্যোগের জন্য নির্বাচিত হন। তিনি বিশ্বাস করেন, গবেষণার প্রকৃত সার্থকতা তখনই অর্জিত হয়, যখন তা বাস্তব সমস্যার সমাধানের মাধ্যমে শিল্প, সমাজ এবং মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে অনুসন্ধিৎসা, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং বৈশ্বিক মানের গবেষণার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই তার কাজের অন্যতম প্রেরণা। </p>
<hr><hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বাজেট ২০২৬&#45;২৭: স্বাস্থ্য খাতে চ্যালেঞ্জিং প্রতিশ্রুতি, বাস্তবায়ন কঠীন</title>
<link>https://digibanglatech.news/180108</link>
<guid>https://digibanglatech.news/180108</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202606/image_870x580_6a2d7a98dbebd.jpg" length="103672" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 13 Jun 2026 09:43:35 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div><span>বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকটে জর্জরিত। চিকিৎসা অবকাঠামো, জনবল সংকট, সেবার মান এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার কারণে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হন। বিভিন্ন গবেষণা ও খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণে বাংলাদেশিদের বার্ষিক ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ফলে দেশের স্বাস্থ্য খাতকে শক্তিশালী করা এখন শুধু সামাজিক নয়, অর্থনৈতিক প্রয়োজনও।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>এই বাস্তবতায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ বৃদ্ধি, চিকিৎসা ব্যয় কমানোর উদ্যোগ, জনবল নিয়োগ এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার পরিকল্পনা- সব মিলিয়ে বাজেটটি উচ্চাভিলাষী বলেই মনে হচ্ছে। তবে বাস্তব সাফল্য নির্ভর করবে এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><strong>১. স্বাস্থ্য খাতে রেকর্ড বরাদ্দ</strong></div>
<div><span>প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জন্য ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি দেশের মোট জিডিপির প্রায় ১ শতাংশের সমপরিমাণ। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপির প্রায় ০.৫৮ শতাংশ। </span><span></span><span>অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে, যা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। তবে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বাস্থ্য খাতে সরকারি ব্যয় এখনও তুলনামূলকভাবে কম।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><strong>২. সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবার রূপরেখা</strong></div>
<div><span>বাজেট বক্তৃতায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে এক বা একাধিক আধুনিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>পাশাপাশি সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রত্যেক নাগরিককে জাতীয় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আওতায় আধুনিক ‘ই-হেলথ কার্ড’ প্রদানের পরিকল্পনাও রয়েছে। সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে এটি রোগীর চিকিৎসা ইতিহাস সংরক্ষণ, সেবা গ্রহণ সহজীকরণ এবং স্বাস্থ্য তথ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><strong>৩. দুরারোগ্য রোগীদের সহায়তা দ্বিগুণ</strong></div>
<div><span>সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ক্যান্সার, কিডনি জটিলতা, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিস, জন্মগত হৃদরোগ এবং থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের এককালীন আর্থিক সহায়তা ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>বর্তমান চিকিৎসা ব্যয়ের তুলনায় এই সহায়তা এখনও সীমিত হলেও দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের রোগীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><strong>৪. হার্টের স্টেন্ট ও ডায়ালাইসিস খরচ কমানোর উদ্যোগ</strong></div>
<div><span>বাংলাদেশে হৃদরোগ ও কিডনি রোগের চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ কারণে বাজেটে হার্টের স্টেন্টের সরবরাহ পর্যায়ে আরোপিত ১০ শতাংশ ভ্যাট প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>এছাড়া ডায়ালাইসিস ফিল্টার আমদানির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ৫ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি হেমোডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত ব্লাড টিউবিং সেটের ওপর অগ্রিম করও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে কিডনি রোগীদের নিয়মিত চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা হলেও কমবে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><strong>৫. ওষুধ শিল্পে নতুন প্রণোদনা</strong></div>
<div><span>দেশীয় ওষুধ শিল্পকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ উৎপাদনের জন্য নতুন ৯টি কাঁচামাল আমদানিতে রেয়াতি সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>একই সঙ্গে অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই) উৎপাদনে ব্যবহৃত নতুন ৫১টি কাঁচামালের আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রপ্তানিমুখী ওষুধ শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে আরও ১৭টি মৌলিক কাঁচামালের আমদানি শুল্ক শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করছে। এই সুবিধাগুলো উৎপাদন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><strong>৬. পাঁচ হাজার চিকিৎসক ও এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ</strong></div>
<div><span>স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম বড় সংকট জনবল ঘাটতি। এ সমস্যা মোকাবিলায় নতুন করে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে, যার প্রায় ৮০ শতাংশ নারী হওয়ার কথা বলা হয়েছে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>পাশাপাশি দ্রুত ৫ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষার সম্প্রসারণ এবং চিকিৎসা শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ঋণ চালুর ঘোষণাও বাজেটের ইতিবাচক দিক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এটা প্রস্তাবিত, কিন্তু ওভার নাইট কিছু হবে না আর এটা ৫ বছরে করবে বলেছে। রেভিনিউ আর্ন করা লাগবে তো। সেটা বলা সহজ, করা কঠিন। তবে ট্যাক্সের যে পরিকল্পনা নিয়েছে, সে জালে ফেলতে পারলে ২০৩০/২০৩১ এ সম্ভব হবে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><strong>৭. স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের পাশাপাশি প্রয়োজন সুশাসন</strong></div>
<div><span>বাজেটে ঘোষিত পদক্ষেপগুলো কাগজে-কলমে যথেষ্ট আশাব্যঞ্জক। কিন্তু বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতের মূল সমস্যা কেবল অর্থের অভাব নয়; ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, জবাবদিহিতার সংকট এবং সেবার মান নিয়ন্ত্রণের ঘাটতিও সমানভাবে দায়ী।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>এখনও বহু সরকারি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় ওষুধের সংকট দেখা যায়। অনেক স্থানে রোগ নির্ণয়ের যন্ত্রপাতি অকেজো অবস্থায় পড়ে থাকে। রোগীদের সাধারণ পরীক্ষা-নিরীক্ষাও বাইরে থেকে করাতে হয়। দালাল চক্র, জনবল সংকট, চিকিৎসকদের পদায়ন ও বদলি সংক্রান্ত জটিলতা এবং দুর্বল প্রশাসনিক নজরদারি স্বাস্থ্যসেবার মানকে ক্ষতিগ্রস্ত করে চলেছে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>তাই স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণ হওয়া অবশ্যই ইতিবাচক সংবাদ। তবে জনগণ প্রকৃত সুফল পাবে তখনই, যখন বরাদ্দকৃত অর্থ সময়মতো ব্যয় হবে, প্রকল্পগুলো দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হবে এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় সুশাসন নিশ্চিত করা যাবে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>স্বাস্থ্যসেবা জনগণের মৌলিক অধিকার। বাজেট সেই অধিকার বাস্তবায়নের একটি রূপরেখা মাত্র; এর সফলতা নির্ভর করবে রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের ওপর। কেননা, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১ শতাংশ হলেও, আন্তর্জাতিকভাবে স্বাস্থ্য ব্যয়ের ক্ষেত্রে অনেক বিশেষজ্ঞ কমপক্ষে ৩-৫ শতাংশ জিডিপি ব্যয়ের সুপারিশ করেন—এই তুলনামূলক তথ্য যোগ করলে কলামটি আরও শক্তিশালী হবে। তাই প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে যা বলা হয়েছে সেটা আপাতত দৃষ্টিতে ভালো হলেও তা আন্তরিকতা, দক্ষতা ও স্বচ্ছতার উপর বাস্তবায়ন নির্ভর করছে। আর এক্ষেত্রে সময়মতো সিদ্ধান্ত ও অর্থ বরাদ্দ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যা বলা হয়েছে সেটা রাতারাতি বাস্তবায়ন সম্ভব না। </span></div>
<div><span></span></div>
<div><span>সাধারণ ভাবে বলা হয়, স্বাস্থ্যের স্বাস্থ্য ভালো না, এটা দিয়েই অনেক কিছু বোঝা যায়। আমাদের যেমন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা রয়েছে, তেমনি মানসিকতাও উদার না। আর স্বাস্থ্যখাত একটি জটিল সমীকরণ দ্বারা সীমাবদ্ধ। যেখানে একজন ডাক্তারের বদলির আদেশ বাস্তবায়ন করা কঠিন (ডাক্তাররা বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নামে বিভক্ত), যেখানে সরকারি হাসপাতাল গুলো দালাল চক্রের হাতে জিম্মি, যেখানে অধিকাংশ সরকারি হাসপাতালে প্যারাসিটামল ছাড়া ঔষধ পাওয়া যায় না, একটি সাধারণ টেস্টও বাইরে থেকে করাতে হয়, যেখানে পরীক্ষার যন্ত্রপাতি অকেজো করে রাখা হয়, সরকারি এম্বুলেন্স গুলা চলে না, সেখানে স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার আশ্বাস শুনতে ভালো, বাস্তবে কঠিন। জুলাই ২৪ পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের এখন এই কঠিন কাজটি করার সময় এসেছে, কেননা জনগণ তার ন্যায্য অধিকার পেতে চায়।</span></div>
<div><span></span></div>
<div><span><span>আমি মনে করি সার্বিক ভাবে প্রস্তাবিত বাজেট ভালো হয়েছে। তবে অর্থ যোগান ও বাস্তবায়ন দুটোই কঠিন ও চ্যালেঞ্জিং। আর ধার করে ঘী তো আমরা অনেক দিন থেকেই খাচ্ছি। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।</span></span><hr><span></span></div>
<div><span><span><strong>লেখকঃ </strong>বিশ্লেষক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিএসইআর</span></span><hr><span></span></div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বাংলাদেশের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার অংশগ্রহণ কেন জরুরি?</title>
<link>https://digibanglatech.news/180009</link>
<guid>https://digibanglatech.news/180009</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202606/image_870x580_6a2cd9b0d504a.jpg" length="72096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 13 Jun 2026 00:20:17 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>ডিজিটাল রূপান্তর এখন আর শুধু প্রযুক্তি খাতের বিষয় নয়। এটি রাষ্ট্র পরিচালনা, অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, নিরাপত্তা, উদ্ভাবন, কর্মসংস্থান এবং নাগরিক সেবার কেন্দ্রীয় প্রশ্ন হয়ে উঠেছে। যে রাষ্ট্র ডিজিটাল নীতি, প্রযুক্তির নৈতিক ব্যবহার, ডেটা সুরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা ও ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বিষয়ে আন্তর্জাতিক আলোচনায় সক্রিয় থাকে, সে রাষ্ট্র ভবিষ্যতের নীতি তৈরিতে প্রভাব রাখতে পারে। আর যে রাষ্ট্র অনুপস্থিত থাকে, তাকে অনেক সময় অন্যের তৈরি নীতি মেনে চলতে হয়।</p>
<p>বাংলাদেশ গত দুই দশকে ডিজিটাল সেবা, মোবাইল আর্থিক অন্তর্ভুক্তি, সংযোগ সম্প্রসারণ, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ডিজিটাল জনসেবা এবং দুর্যোগকালীন যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। কিন্তু এখন বড় প্রশ্ন হলো, এই অগ্রগতি কীভাবে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, আস্থাভিত্তিক, অধিকারসম্মত এবং মানুষকেন্দ্রিক হবে। এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার জন্যই ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি বা ডব্লিউএসআইএস প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ জরুরি।</p>
<p>বাংলাদেশের সঙ্গে ডব্লিউএসআইএস প্রক্রিয়ার একটি ঐতিহাসিক সম্পর্ক রয়েছে। ২০০৩ সালে জেনেভায় অনুষ্ঠিত ডব্লিউএসআইএসের প্রথম ধাপে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উচ্চপর্যায়ের সম্পৃক্ততা এবং ২০০৫ সালে তিউনিসে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় ধাপে তৎকালীন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের ডিজিটাল কূটনীতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই সময় ডব্লিউএসআইএস ছিল তথ্যসমাজ গঠনের বৈশ্বিক অঙ্গীকার। আজ, দুই দশক পরে, সেই অঙ্গীকার আরও জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডেটা অর্থনীতি, প্ল্যাটফর্ম ক্ষমতা, সাইবার ঝুঁকি, ভুয়া তথ্য, অনলাইন সহিংসতা এবং ডিজিটাল বৈষম্য।</p>
<p>এই প্রেক্ষাপটে ২০২৬ সালের ৬ থেকে ১০ জুলাই সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনুষ্ঠেয় ডব্লিউএসআইএস ফোরাম ২০২৬ বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এটি শুধু আরেকটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন নয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ডব্লিউএসআইএস প্লাস ২০ পর্যালোচনার পর এটি হবে প্রথম ডব্লিউএসআইএস ফোরাম, যেখানে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত নবায়ন হওয়া বৈশ্বিক ম্যান্ডেট বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা নিয়ে আলোচনা হবে। অর্থাৎ, আগামী দশকের বৈশ্বিক ডিজিটাল সহযোগিতা কোন পথে যাবে, সে আলোচনা এখান থেকেই নতুন গতি পাবে।</p>
<p>বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ এখানে তিনটি কারণে অপরিহার্য।</p>
<p>প্রথমত, বাংলাদেশের নিজস্ব ডিজিটাল উন্নয়ন অগ্রাধিকার আন্তর্জাতিক নীতিমঞ্চে তুলে ধরা দরকার। দেশের ডিজিটাল জনসেবা, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস, কমিউনিটি পর্যায়ের সংযোগ, দুর্যোগকালীন যোগাযোগ, তরুণ উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় উদ্ভাবনের অভিজ্ঞতা বৈশ্বিক আলোচনায় মূল্যবান অবদান রাখতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জও রয়েছে। গ্রাম-শহরের ডিজিটাল বৈষম্য, সাশ্রয়ী ইন্টারনেট, সাইবার নিরাপত্তা, ভুয়া তথ্য, অনলাইন সহিংসতা, শিশু ও নারীর ডিজিটাল নিরাপত্তা, ডেটা সুরক্ষা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নৈতিক ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের ডিজিটাল সাক্ষরতা এখন নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রীয় বিষয়। এসব বিষয়ে বাংলাদেশকে কেবল শ্রোতা নয়, সক্রিয় বক্তা হতে হবে।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, ডব্লিউএসআইএস ফোরাম একটি বহুপক্ষীয় জাতিসংঘ প্ল্যাটফর্ম। এখানে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, প্রযুক্তি কমিউনিটি, একাডেমিয়া, যুবসমাজ ও উন্নয়ন অংশীদাররা একসঙ্গে কাজ করে। তাই বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কেবল আনুষ্ঠানিক বা প্রতিনিধি পাঠানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়; এটি হওয়া উচিত কৌশলগত। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা উপদেষ্টার নেতৃত্বে নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাংলাদেশকে বৈশ্বিক ডিজিটাল সহযোগিতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি, স্থানীয় ভাষার কনটেন্ট এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান নিতে সহায়তা করবে।</p>
<p>তৃতীয়ত, জাতীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থার উপস্থিতি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আজকের ডিজিটাল শাসন শুধু স্পেকট্রাম বা টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থাপনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গ্রাহক অধিকার, প্ল্যাটফর্ম জবাবদিহি, ডেটা প্রবাহ, অনলাইন নিরাপত্তা, প্রতিযোগিতা, সাশ্রয়ী সংযোগ, বাজার কাঠামো এবং জনআস্থার প্রশ্ন। ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এখন ডিজিটাল অধিকার, ডিজিটাল বাজার এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা গঠনের অন্যতম প্রধান অভিনেতা। ডব্লিউএসআইএস ফোরামে অন্যান্য দেশের নিয়ন্ত্রকদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় বাংলাদেশের নীতিগত প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করতে পারে।</p>
<p>সমস্যা হলো, যেসব দেশ এ ধরনের বৈশ্বিক ফোরামে সক্রিয় থাকে না, তারা অনেক সময় নীতি প্রণেতা নয়, নীতি গ্রহণকারী হয়ে পড়ে। ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, তথ্যপ্রবাহ, অনলাইন নিরাপত্তা, প্রযুক্তির নৈতিকতা ও প্ল্যাটফর্ম জবাবদিহি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে আলোচনা চলছে, তা ভবিষ্যতে জাতীয় নীতি, বাজার, নাগরিক অধিকার ও উন্নয়ন সহযোগিতার ওপর প্রভাব ফেলবে। বাংলাদেশ যদি সেখানে উচ্চপর্যায়ে দৃশ্যমান না থাকে, তবে নীতিগত প্রভাব বিস্তার, অংশীদারত্ব, সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও জ্ঞানবিনিময়ের সুযোগ সীমিত হয়ে যেতে পারে।</p>
<p>তাই ডব্লিউএসআইএস ফোরাম ২০২৬ সামনে রেখে বাংলাদেশের একটি সুস্পষ্ট জাতীয় প্রস্তুতি প্রয়োজন। প্রথমত, বাংলাদেশ একটি সংক্ষিপ্ত জাতীয় অবস্থানপত্র প্রস্তুত করতে পারে, যেখানে দেশের অর্জন, সীমাবদ্ধতা এবং ভবিষ্যৎ অগ্রাধিকার তুলে ধরা হবে। এসব অগ্রাধিকারের মধ্যে থাকতে পারে সবার জন্য সাশ্রয়ী ইন্টারনেট, ডিজিটাল সাক্ষরতা, দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা সুরক্ষা, ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার, নারীর অনলাইন নিরাপত্তা, শিশু সুরক্ষা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি, স্থানীয় ভাষার কনটেন্ট, যুব উদ্ভাবন এবং কমিউনিটি মিডিয়া।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ ফোরামে একটি জাতীয় সাইড ইভেন্ট বা নীতি সংলাপ আয়োজন করতে পারে। সেখানে বাংলাদেশের ডিজিটাল উন্নয়ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরা, আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহযোগিতা আহ্বান এবং ভবিষ্যৎ প্রকল্পের জন্য অংশীদারিত্ব গড়ে তোলা সম্ভব। প্রতিনিধিদলে নারী, যুব, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, একাডেমিয়া, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা ডব্লিউএসআইএসের বহুপক্ষীয় চেতনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।</p>
<p>তৃতীয়ত, অংশগ্রহণ যেন জেনেভাতেই শেষ না হয়। দেশে ফিরে মন্ত্রণালয়, উপদেষ্টার দপ্তর, নিয়ন্ত্রক সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয়ে একটি ফলোআপ ব্যবস্থা গঠন করা দরকার। ডব্লিউএসআইএস অ্যাকশন লাইনগুলো কীভাবে বাংলাদেশের জাতীয় ডিজিটাল নীতি, এসডিজি অগ্রাধিকার, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে একটি বাস্তবায়ন নোট তৈরি করা যেতে পারে।</p>
<p>বাংলাদেশ ইতিমধ্যে দেখিয়েছে, সঠিক নীতি, প্রযুক্তি ও জনস্বার্থ একসঙ্গে কাজ করলে ডিজিটাল রূপান্তর মানুষের জীবনে বাস্তব পরিবর্তন আনতে পারে। এখন প্রয়োজন বৈশ্বিক ডিজিটাল সহযোগিতার পরবর্তী পর্যায়ে সক্রিয়, দৃশ্যমান ও কৌশলগত ভূমিকা নেওয়া। ডব্লিউএসআইএস ফোরাম ২০২৬ সেই সুযোগ এনে দিয়েছে।</p>
<p>বাংলাদেশের উচিত এই সুযোগকে গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা। মন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচ্চপর্যায়ের অংশগ্রহণ শুধু কূটনৈতিক উপস্থিতি নয়; এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ রক্ষার, বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে অবদান রাখার এবং মানুষকেন্দ্রিক তথ্যসমাজ গঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ।                                                                                                                                                                    </p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ </strong>ডিজিটাল গণতন্ত্র, তথ্যের অখণ্ডতা ও গণমাধ্যম উন্নয়ন নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ই&#45;কমার্স খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে ৩০ প্রস্তাবনা</title>
<link>https://digibanglatech.news/179098</link>
<guid>https://digibanglatech.news/179098</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202606/image_870x580_6a24ccda827f7.jpg" length="131856" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 07 Jun 2026 00:45:10 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div _ngcontent-ng-c1789272294="" inline-copy-host="" id="model-response-message-contentr_eb1cbf9df42edb42" aria-live="off" aria-busy="false" dir="ltr">
<p data-path-to-node="4">বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকাশক্তি ই-কমার্স। বর্তমানে এই খাতের বাজারের আকার প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা, যা প্রত্যক্ষভাবে ৫ লক্ষাধিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা এবং ২০ লক্ষাধিক মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, বিদ্যমান অর্থ আইন ও আয়কর আইনের কিছু জটিলতা এবং উচ্চ কর হারের কারণে আমাদের ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা, বিশেষত নারী উদ্যোক্তারা বর্তমানে অস্তিত্ব রক্ষার চরম সংকটে পড়েছেন। সঠিক নীতিসহায়তা ও কর কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ নিশ্চিত করা গেলে, ২০৩০ সালের মধ্যে এই খাত দেশের জিডিপিতে ৫%-এর বেশি অবদান রাখতে সক্ষম হবে। </p>
<p data-path-to-node="4">অথচ বিদ্যমান অর্থ ও আয়কর আইনের কিছু জটিলতা এবং উচ্চ কর হারের কারণে এই খাতের উদ্যোক্তারা, বিশেষত নারী ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছেন। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতীয় স্বার্থে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই 'স্মার্ট ইকোনমি' বিনির্মাণের ৬ দফায় আমার ৩০টি প্রস্তাবনা বিবেচনায় নিতে পারেন সরকারের সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারণী মহল। </p>
<p data-path-to-node="5"><span style="font-size: 12pt;"><strong>কর ও আইনি কাঠামো সংস্কার</strong></span></p>
<ul data-path-to-node="7">
<li>
<p data-path-to-node="7,0,0">ITES অন্তর্ভুক্তিকরণ: অর্থ আইন ২০১৬ (৫৪-গ) সংশোধনপূর্বক ই-কমার্সকে পুনরায় 'তথ্যপ্রযুক্তি ভিত্তিক সেবা' (ITES) ভুক্ত করতে হবে এবং ২০৩১ সাল পর্যন্ত কর অব্যাহতি প্রদান করতে হবে। এটি প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (FDI) বৃদ্ধি করবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="7,1,0">ন্যূনতম কর যৌক্তিকীকরণ: স্টার্টআপদের টিকে থাকার হার বাড়াতে লোকসানি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর (আয়কর আইন ২০২৩, ধারা ১৬৩) ০.১%-এ সীমাবদ্ধ রাখা প্রয়োজন।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="7,2,0">প্রচারণামূলক ব্যয় সীমা বৃদ্ধি: ব্র্যান্ডিং ও বাজার সম্প্রসারণে বিজ্ঞাপনের ব্যয়সীমা টার্নওভারের ০.৫% থেকে বাড়িয়ে ৫% করার প্রস্তাব করছি।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="7,3,0">প্রশাসনিক হয়রানি হ্রাস: ভাড়ার বিপরীতে বাড়িওয়ালার রিটার্ন কপি জমার বাধ্যবাধকতা ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে শিথিল করতে হবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="7,4,0">সহজ রিটার্ন ও লাইসেন্সিং: এনবিআর-এর জন্য এক পাতার (Single Page) সহজ রিটার্ন ফর্ম এবং দেশব্যাপী সর্বোচ্চ ১,০০০ টাকা ফিতে অভিন্ন 'ই-কমার্স ট্রেড লাইসেন্স' চালু করতে হবে।</p>
</li>
</ul>
<h3 data-path-to-node="8"><strong><span style="font-size: 12pt;">ক্যাশলেস ইকোনমি ও ডিজিটাল ট্রানজেকশন</span></strong></h3>
<ul data-path-to-node="9">
<li>
<p data-path-to-node="9,0,0">ভ্যাট রেয়াত ও ক্যাশব্যাক: ক্যাশলেস লেনদেনকে উৎসাহিত করতে ডিজিটাল পেমেন্টে ৩%-৫% ভ্যাট রেয়াত বা ক্যাশব্যাক সুবিধা প্রদান করতে হবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="9,1,0">গেটওয়ে চার্জ সমন্বয়: পেমেন্ট গেটওয়ের উচ্চ চার্জ (১.৫%-৩%) কমাতে সরকার কর্তৃক ১.৫% ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ফরমাল চ্যানেলে আনতে হবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="9,2,0">অটোমেশন ও রিফান্ড: পেমেন্ট রিফান্ড প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অটোমেটেড করা এবং রিফান্ড ব্যাংক চার্জ সম্পূর্ণ মওকুফ নিশ্চিত করতে হবে।</p>
</li>
</ul>
<h3 data-path-to-node="10"><strong><span style="font-size: 12pt;">নারী উদ্যোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সুরক্ষা</span></strong></h3>
<ul data-path-to-node="11">
<li>
<p data-path-to-node="11,0,0">নারী উদ্যোক্তাদের কর সুবিধা: বার্ষিক ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত টার্নওভার থাকা নারী উদ্যোক্তাদের সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখতে হবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="11,1,0">DBID-এর কার্যকারিতা: ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন (DBID) থাকলেই ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যাংক লোনের সুযোগ ও আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে হবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="11,2,0">জামানতবিহীন স্মার্ট লোন: ডিজিটাল ট্রানজেকশন রেকর্ডের ভিত্তিতে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের ৫-১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জামানতবিহীন ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে।</p>
</li>
</ul>
<h3 data-path-to-node="12"><strong><span style="font-size: 12pt;">লজিস্টিকস ও অবকাঠামো উন্নয়ন</span></strong></h3>
<ul data-path-to-node="13">
<li>
<p data-path-to-node="13,0,0">শুল্কমুক্ত যন্ত্রপাতি: লজিস্টিকস সর্টিং ও অটোমেশন যন্ত্রাংশ আমদানিতে শুল্ক শূন্য করতে হবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="13,1,0">ভ্যাট প্রত্যাহার/হ্রাস: ডেলিভারি চার্জের ওপর বিদ্যমান ১৫% ভ্যাট প্রত্যাহার এবং ই-কমার্স হাবের ভাড়ার ওপর ভ্যাট মওকুফ করতে হবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="13,2,0">ই-কমার্স ভিলেজ: ঢাকার ওপর চাপ কমাতে অর্থনৈতিক অঞ্চলে 'ই-কমার্স ভিলেজ' গঠন করতে হবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="13,3,0">সাপ্লাই চেইনে স্বচ্ছতা: প্রজ্ঞাপন (SRO ২৪০-আইন/২০২১) অনুযায়ী অব্যাহতিপ্রাপ্ত পণ্যের ওপর জোগানদার হিসেবে উৎস কর কাটা বন্ধ করতে হবে।</p>
</li>
</ul>
<h3 data-path-to-node="14"><span style="font-size: 12pt;"><strong>আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কৃষি পণ্য</strong></span></h3>
<ul data-path-to-node="15">
<li>
<p data-path-to-node="15,0,0">রপ্তানি প্রণোদনা: ই-কমার্স রপ্তানিতে ১০-১৫% নগদ প্রণোদনা ও সহজ শুল্কায়ন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="15,1,0">বন্ডেড ওয়্যারহাউস: রপ্তানিমুখী ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের জন্য বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা প্রদান করতে হবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="15,2,0">ডাক বিভাগে ভর্তুকি: আন্তর্জাতিক ডেলিভারির খরচ কমাতে ডাকযোগে পণ্য প্রেরণে ৫০% সরকারি ভর্তুকি প্রদান করতে হবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="15,3,0">পেমেন্ট শিথিলতা: ১,০০০ ডলার পর্যন্ত আন্তর্জাতিক লেনদেনে পাসপোর্ট কপির বাধ্যবাধকতা রহিত করতে হবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="15,4,0">এগ্রি-ই-কমার্স: কৃষিপণ্য উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও কোল্ড চেইন সাবসিডি প্রদান করতে হবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="15,5,0">পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং: পাটজাত ও পরিবেশবান্ধব প্যাকেজিং ব্যবহারে বিশেষ ভ্যাট ছাড় দিতে হবে।</p>
</li>
</ul>
<h3 data-path-to-node="16"><span style="font-size: 12pt;"><strong>ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি</strong></span></h3>
<ul data-path-to-node="17">
<li>
<p data-path-to-node="17,0,0">বিজ্ঞাপন ভ্যাট হ্রাস: দেশীয় প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের ভ্যাট ১৫% থেকে কমিয়ে ৫% করতে হবে, যা বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="17,1,0">রিস্ক ফান্ড ও বিমা: সাইবার আক্রমণ ও ব্যবসায়িক বিপর্যয় মোকাবিলায় 'ডিজিটাল কমার্স রিস্ক ফান্ড' গঠন ও সাশ্রয়ী 'সাইবার ইনস্যুরেন্স' চালু করতে হবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="17,2,0">ইনোভেশন ও দক্ষতা: কারিকুলামে 'ডিজিটাল কমার্স ম্যানেজমেন্ট' অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং ইনোভেশন ও গবেষণার জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ রাখতে হবে।</p>
</li>
</ul>
<p data-path-to-node="19">আমার বিশ্বাস, প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়িত হলে তা কেবল ই-কমার্স খাতের টিকে থাকা নিশ্চিত করবে না, বরং একটি শক্তিশালী 'স্মার্ট বাংলাদেশ' বিনির্মাণে অনুঘটক হিসেবে কাজ করবে।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="20"><strong>লেখকঃ </strong>ই-কমার্স বিশ্লেষক ও ফাউন্ডিং মেম্বার, ই-ক্যাব </p>
<hr>
<p data-path-to-node="22"></p>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>দেশের পরিবেশের নীরব ঘাতক ই&#45;বর্জ্য</title>
<link>https://digibanglatech.news/179006</link>
<guid>https://digibanglatech.news/179006</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202606/image_870x580_6a23b37f3426f.jpg" length="136809" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 05 Jun 2026 11:26:31 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>আজ ৫ জুন, বিশ্ব পরিবেশ দিবস। প্রতিবছরের মতো এবারও আমরা পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করছি। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে—আমাদের চারপাশে এক নতুন ধরনের বিপদ নীরবে বিস্তার লাভ করছে, যার নাম ই-বর্জ্য (Electronic Waste)। ডিজিটাল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার সাথে সাথে এই ই-বর্জ্য এখন একটি ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত সংকটে পরিণত হয়েছে।</p>
<p>বাংলাদেশে মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টেলিভিশন, রাউটারসহ নানা ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্যের ব্যবহার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রযুক্তির এই বিস্তার নিঃসন্দেহে উন্নয়নের প্রতীক। তবে এর সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ব্যবহৃত ও অচল ইলেকট্রনিক পণ্যের পরিমাণ—যা যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।</p>
<p>ই-বর্জ্যের মধ্যে থাকা সীসা, পারদ, ক্যাডমিয়ামসহ নানা বিষাক্ত উপাদান মাটি, পানি ও বায়ুকে দূষিত করে। এসব উপাদান মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যান্সার, স্নায়বিক সমস্যা, শিশুদের মেধা বিকাশে বাধাসহ নানা জটিল রোগ সৃষ্টি করতে পারে। অথচ বাংলাদেশে এখনো ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য শক্তিশালী ও কার্যকর নীতিমালা এবং বাস্তবায়ন কাঠামো গড়ে ওঠেনি।</p>
<p>বর্তমানে দেশের অধিকাংশ ই-বর্জ্য অনানুষ্ঠানিক খাতে সংগ্রহ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করা হয়, যেখানে নিরাপত্তা মানদণ্ডের কোনো বালাই নেই। শিশু ও শ্রমিকরা ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে এসব বর্জ্য ভেঙে মূল্যবান অংশ সংগ্রহ করছে, যা একদিকে তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে পরিবেশকে করছে আরও বিপজ্জনক।</p>
<p>এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। প্রথমত, সরকারকে একটি সমন্বিত ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নীতিমালা প্রণয়ন ও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। দ্বিতীয়ত, উৎপাদক ও আমদানিকারকদের ‘Extended Producer Responsibility (EPR)’ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা পণ্যের জীবনচক্র শেষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব গ্রহণ করে। তৃতীয়ত, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর রিসাইক্লিং ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন।</p>
<p>পাশাপাশি সাধারণ জনগণের মধ্যেও সচেতনতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। আমরা অনেকেই পুরনো মোবাইল বা ইলেকট্রনিক পণ্য যথেচ্ছভাবে ফেলে দিই, যা পরবর্তীতে পরিবেশ দূষণের কারণ হয়। তাই প্রত্যেক নাগরিককে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং নির্ধারিত সংগ্রহ ব্যবস্থার মাধ্যমে ই-বর্জ্য জমা দিতে হবে।</p>
<p>বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকের অধিকার রক্ষা ও ডিজিটাল সেবার সুশাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি ব্যবহারের পক্ষে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা মনে করি, একটি টেকসই ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে হলে পরিবেশ সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।</p>
<p>বিশ্ব পরিবেশ দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক—প্রযুক্তির উন্নয়ন হবে, কিন্তু তা কখনোই পরিবেশের বিনিময়ে নয়। ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে আমরা একটি বিষাক্ত পৃথিবী উপহার দেব। তাই আসুন, সবাই মিলে সচেতন হই, উদ্যোগী হই, এবং একটি নিরাপদ ও সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।</p>
<hr>
<p>লেখকঃ <strong>সভাপতি</strong>, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>জুয়া বন্ধের আড়ালে এক নিবর্তনমূলক আইনের খসড়া!</title>
<link>https://digibanglatech.news/178606</link>
<guid>https://digibanglatech.news/178606</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202606/image_870x580_6a1e99244e0d7.jpg" length="105087" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 02 Jun 2026 14:50:25 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p dir="ltr"><span>প্রস্তাবিত 'বেটিং ও জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬'-এর খসড়া উপরে-উপরে দেড়শ বছরের পুরোনো এক ঔপনিবেশিক আইনের আধুনিকায়ন। কিন্তু ধারা ধরে ধরে পড়লে বেরিয়ে আসে অন্য এক চিত্র—বাতিল হওয়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ভূত ফিরে এসেছে নতুন মোড়কে, আরও বিস্তৃত ক্ষমতা নিয়ে।</span></p>
<p dir="ltr"><span>অনলাইন জুয়া বন্ধ করতে চায় না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। বাজি আর জুয়ার অ্যাপ আজ তরুণদের সর্বনাশ করছে, পরিবার ভাঙছে, দেশের টাকা পাচার হয়ে যাচ্ছে সীমান্তের ওপারে। ১৮৬৭ সালের সেই Public Gambling Act দিয়ে এই ডিজিটাল যুগের অপরাধ সামলানো অসম্ভব—সে আইন বাতিল হওয়াই উচিত। তাই 'বেটিং ও জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬'-এর খসড়া দেখে প্রথমে স্বস্তিই লাগে। মনে হয়, রাষ্ট্র অবশেষে একটি জরুরি কাজে হাত দিয়েছে।</span></p>
<p dir="ltr"><span>কিন্তু খসড়াটি যদি প্রস্তাবনা থেকে শেষ ধারা পর্যন্ত মন দিয়ে পড়া হয়, স্বস্তির জায়গায় আসে উদ্বেগ। কারণ এটি আদতে যতটা না জুয়াবিরোধী আইন, তার চেয়ে অনেক বেশি একটি নজরদারি ও দমননির্ভর কাঠামো—আর জুয়া এখানে উপলক্ষমাত্র।</span></p>
<p dir="ltr"><span><strong>প্রথম প্রশ্নটিই এর আসল উদ্দেশ্য ফাঁস করে দেয়:</strong> অনলাইন জুয়া তো এ দেশে এখনই অপরাধ। এই অন্তর্বর্তী সরকারই গত বছর মে মাসে যে সংস্কারমূলক 'সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫' জারি করেছে (যা এ বছর সংসদে পাশ হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এ পরিণত হয়েছে), তার ২০ ধারাতেই অনলাইন জুয়া তৈরি, পরিচালনা, অংশগ্রহণ ও প্রচার—সবই শাস্তিযোগ্য: সর্বোচ্চ দুই বছর কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা। আর গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, অপরাধটি জামিনযোগ্য—ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের তিক্ত অভিজ্ঞতার পর ইচ্ছাকৃতভাবেই শাস্তি কমিয়ে, জামিনের পথ খোলা রাখা হয়েছিল। তাহলে যে আচরণ ইতিমধ্যেই নিষিদ্ধ, তার জন্য আবার আস্ত একটি নতুন আইন কেন? উত্তরটা লুকিয়ে আছে নতুন আইন যা যা </span><span>যোগ</span><span> করছে তার মধ্যে—জুয়ার নিষেধাজ্ঞায় নয়, সরকারি বাহিনীর ক্ষমতায়।</span></p>
<p dir="ltr"><span>আমরা এ পথ আগেও দেখেছি। ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (ডিএসএ) কীভাবে সাংবাদিক, কার্টুনিস্ট, এমনকি সাধারণ নাগরিককে স্রেফ ফেসবুক পোস্টের জন্য জেলে পুরেছিল, তা ভুলে যাওয়ার মতো সময় এখনো হয়নি। ওই আইনের অজামিনযোগ্য ধারাগুলোই হয়ে উঠেছিল হয়রানির প্রধান হাতিয়ার। পরে একে রদ করে সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ করা হয়, যা ছিল নতুন বোতলে পুরোনো মদ। জুলাই অভ্যূত্থানের পত অন্তর্বর্তী সরকার তার উত্তরসূরি সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩ বাতিল করে, বিতর্কিত নয়টি ধারা তুলে দেয়, বাকস্বাধীনতাসংক্রান্ত ‘অপরাধ’কে কেবল তখনই অপরাধ বলে গণ্য করে যখন তারা সহিংসতার উদ্রেগ করে নতুবা নয়, সর্বোচ্চ শাস্তি দুই বছরে নামিয়ে আনে এবং নানান আইনী সেফগার্ড স্থাপন করে। এ ছাড়াও আগের দুই আইনে করা মামলাগুলো বাতিল করে। গতিমুখটা ছিল স্পষ্ট: কম জবরদস্তি, বেশি সুরক্ষা। অথচ এই জুয়াবিরোধী খসড়া ছুটছে ঠিক উল্টো দিকে।</span></p>
<p dir="ltr"><span>উদ্বেগের কেন্দ্রে আছে খসড়ায় প্রস্তাবিত নজরদারি-অবকাঠামো। ৪৩ ধারায় গঠিত হচ্ছে এক 'জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট'—যেখানে সরকার ব্যক্তির নাম, এনআইডি, সিম, এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব, ওয়ালেট, ডিভাইস, ডোমেইন ও আইপি ঠিকানা পর্যন্ত তালিকাভুক্ত করতে পারবে। কে তালিকায় উঠবে, কীভাবে নামবে, ভুল হলে প্রতিকার কী—কিছুই বলা নেই। নেই নোটিশ, নেই আপিল, নেই মেয়াদ, নেই স্বাধীন তদারকি। অর্থাৎ এক স্থায়ী কালো তালিকা, যার পরিণতিতে কেউ আর্থিক ও ডিজিটালভাবে কার্যত একঘরে হয়ে যেতে পারেন।</span></p>
<p dir="ltr"><span>৪৪ ধারা আরও এক ধাপ এগিয়ে এনআইডি-সিম-এমএফএস একসূত্রে গেঁথে ফেলার ব্যবস্থা করছে, আর সেই সঙ্গে অনুমোদন দিচ্ছে 'ফেসিয়াল রিকগনিশন' ও বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের। অর্থাৎ নাগরিকের পরিচয়, ফোন ও টাকা—সব এক জায়গায় বেঁধে, নির্বাহী আদেশে মুখ-শনাক্তকরণ প্রযুক্তি চালু করা—জুয়ার অজুহাতে এক ব্যাপক পরিচয়-নজরদারি। আর ৪৭ ধারা সরকারকে দিচ্ছে 'ডিপ প্যাকেট ইনস্পেকশন' (ডিপিআই) ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-নির্ভর পর্যবেক্ষণের ক্ষমতা। ডিপিআই এমন প্রযুক্তি, যা ইন্টারনেট ট্রাফিকের </span><span>ভেতরের বিষয়বস্তু</span><span> পড়ে ফেলে—এ কার্যত গণ-আড়িপাতা। কোনো ওয়ারেন্ট নেই, কোনো তদারকি নেই, কেবল একটি প্রজ্ঞাপনেই তা চালু করা যাবে।</span></p>
<p dir="ltr"><span>আর এর কোনোটিতেই সংসদে পাশ হওয়া 'ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, ২০২৬'-এর নাম পর্যন্ত উচ্চারিত হয়নি। বরং খসড়ার ৩ ধারায় বলা হয়েছে, অন্য যেকোনো আইনে যা-ই থাকুক, এই আইনই প্রাধান্য পাবে। অর্থাৎ যে উপাত্ত-সুরক্ষা আইন এই নজরদারিকে লাগাম পরাতে পারত, এই খসড়া তাকেই ডিঙিয়ে যাবে। শিয়ালকে দিয়েই মুরগির খোঁয়াড়ের নিয়ম লেখানো।</span></p>
<p dir="ltr"><span>এই ক্ষমতা কারা প্রয়োগ করবেন, আর কীভাবে—সেটিই সবচেয়ে ভয়ের। ৩৯ ধারা ফৌজদারি কার্যবিধিকে পাশ কাটিয়ে 'যুক্তিসঙ্গত বিশ্বাসের' ভিত্তিতে বাড়ি, অফিস, সার্ভার—যেকোনো জায়গায় ওয়ারেন্ট ছাড়াই প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের অনুমতি দিচ্ছে। আর যাদের এই ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে, সেই তালিকায় কেবল পুলিশ বা সিআইডি নয়—আছে এনএসআই, ডিজিএফআইয়ের মতো গোয়েন্দা সংস্থাও। একটি অস্পষ্ট, বিস্তৃত অপরাধের তালিকার ওপর গোয়েন্দা সংস্থাকে তল্লাশি ও তদন্তের ক্ষমতা দেওয়ার অর্থ কী, তা বোঝা কঠিন নয়। তার ওপর ৩৭ ধারা বলছে, এই আইনের </span><span>সব</span><span> অপরাধই আমলযোগ্য, অজামিনযোগ্য ও আপসঅযোগ্য—এমনকি যিনি নিছক টাকার বিনিময়ে তাস খেলছেন, তিনিও। আর ৩৬ ধারা এসব অপরাধের বিচার তুলে দিচ্ছে মোবাইল কোর্টের হাতে, যার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট-নির্ভর কাঠামোকে উচ্চ আদালত সংবিধানবিরোধী বলেছিল।</span></p>
<p dir="ltr"><span><strong>সব মিলিয়ে দাঁড়ায়:</strong> সন্দেহের বশে একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা আপনার বাড়িতে ঢুকে ফোন আর ব্যাংকের তথ্য জব্দ করতে পারবেন, আর আপনি জামিনও পাবেন না। জুয়া ঠেকানোর কথা বলা একটি আইনের জন্য এ এক অসাধারণ জবরদস্তির যন্ত্র—আর ইতিহাস বলছে, এমন যন্ত্র শেষমেশ কাদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়: সমালোচক, সাংবাদিক, ভিন্নমতের মানুষ।</span></p>
<p dir="ltr"><span>শাস্তির মাত্রাও বেমানান। যে অনলাইন জুয়ার জন্য বিদ্যমান সাইবার আইনে শাস্তি দুই বছর, এই খসড়ায় তা সাত থেকে বারো বছর, জরিমানা দশ কোটি টাকা পর্যন্ত—একই অপরাধে পাঁচ-ছয় গুণ ভারী দণ্ড। অথচ সিঙ্গাপুর বা যুক্তরাজ্য জুয়াকে লাইসেন্স ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনে, খেলোয়াড়কে জেলে পোরে না—সামান্য জরিমানা করে। ভারত নিষেধাজ্ঞার পথে গিয়ে এখন নিজেই সাংবিধানিক চ্যালেঞ্জের মুখে। তদুপরি খসড়াটি তৈরি হয়েছে যথেষ্ট অসতর্কভাবে। 'আর্থিক ঝুঁকিপূর্ণ খেলা'র সংজ্ঞা (২ ও ৬ ধারা) এত ব্যাপক যে তা শেয়ার বা ফরেক্স লেনদেন, ক্রিপ্টো বিনিয়োগ—ঝুঁকি আর অনিশ্চয়তা আছে এমন প্রায় যেকোনো বৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডকেই অপরাধ বানিয়ে ফেলতে পারে, কারণ নিয়ন্ত্রিত আর্থিক পণ্যের জন্য কোনো ছাড় রাখা হয়নি। ভেতরের ক্রস-রেফারেন্সগুলো ভুল ধারায় নির্দেশ করছে; 'সরকার'-এর সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে দুবার, দুরকমভাবে; যে আইন মানুষকে কারাগারে পাঠাবে, সেটি এত খাপছাড়া হওয়া অগ্রহণযোগ্য।</span></p>
<p dir="ltr"><span>ন্যায্যতার খাতিরে বলতেই হয়, খসড়ার কিছু অংশ ভালো ও মানবিক। জুয়ায় আসক্তদের জন্য কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের কথা (৪৮ ধারা), ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংকে স্পষ্ট অপরাধ ঘোষণা (১৩ ও ২৫ ধারা)—যা আমাদের আইনে এতদিন ছিল না, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা (৪৯ ধারা), পরিসংখ্যান ও বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশের স্বচ্ছতা (৫০ ধারা) এবং নির্ভরযোগ্য ইংরেজি ভাষ্য (৫৩ ধারা)—সবই ইতিবাচক। এগুলো প্রমাণ করে, চাইলে এই খসড়া একটি সত্যিকারের আধুনিক, অধিকার-সচেতন জুয়াবিরোধী আইনই হতে পারত। দুর্ভাগ্য এই যে, এই ভালো দিকগুলো বসে আছে এমন এক কাঠামোর পাশে, যা তাদের গিলে ফেলে।</span></p>
<p dir="ltr"><span>অনলাইন জুয়া নিঃসন্দেহে একটি বাস্তব সমস্যা, এবং এর মোকাবিলা দরকার। কিন্তু সেই মোকাবিলা হওয়া উচিত সুরক্ষা-সংবলিত একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামোর মাধ্যমে—গণ-নজরদারির ব্যবস্থা দিয়ে নয়। সরকারের উচিত হবে এই খসড়া এই অবস্থায় এগিয়ে না নেওয়া। বরং প্রয়োজন আইনজীবী, প্রযুক্তিবিদ, মানবাধিকারকর্মী, উপাত্ত-সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে খোলামেলা, একাধিক দফার আলোচনা; বিদ্যমান সাইবার আইনের সঙ্গে সংঘাত নিরসন; গণ-নজরদারির ধারাগুলো বাতিল করা অথবা সেগুলোকে পুরোপুরি উপাত্ত-সুরক্ষা আইন ও বিচারিক ওয়ারেন্টের অধীন করা; খেলোয়াড় নয়, অপরাধচক্রকে লক্ষ্য করে জামিনযোগ্য ও মাত্রাভেদে সাজানো শাস্তি; এবং জুয়াকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে নাকি নিষিদ্ধ—সেই মৌলিক সিদ্ধান্ত পরিষ্কার করা।</span></p>
<p dir="ltr"><span>যে দেশ সবেমাত্র একটি দমনমূলক ডিজিটাল আইন ভেঙে ফেলতে গোটা একটি বছর খরচ করল, সে দেশ চুপিসারে আরেকটি দমনমূলক আইন গড়ে তোলার বিলাসিতা সইতে পারে না—এবার যার মুখোশ জুয়ার মতো এক নিরীহ-শোনানো অজুহাত। জুয়া রুখতে গিয়ে আমরা যেন গোটা জাতিকেই সন্দেহভাজনের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে না ফেলি।</span></p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ </strong><span>গবেষক</span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>এআই এবং ‘স্মার্ট যুদ্ধের’ মায়াজাল</title>
<link>https://digibanglatech.news/178372</link>
<guid>https://digibanglatech.news/178372</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202606/image_870x580_6a216298712bf.jpg" length="126371" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 31 May 2026 00:13:04 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক যুদ্ধকৌশল, প্রজেক্ট মেভেন ও পেন্টাগন, যুদ্ধক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের ঝুঁকি, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও এআই, হিউম্যান ইন দ্য লুপ বিতর্ক, সামরিক প্রযুক্তির রূপান্তর ও জবাবদিহিতা</media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>অস্ত্র উন্নয়নের দীর্ঘ ও চাকচিক্যহীন ইতিহাসে এমন একটি মুহূর্ত আসে, যখন কোনো প্রযুক্তি কেবল একটি হাতিয়ার হিসেবে সীমাবদ্ধ না থেকে সামরিক ডকট্রিন বা নীতিতে পরিণত হয়। মেশিনগান যখন প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল, তখন সেটি ছিল মানুষের কৌতুহলের বস্তু। এরপর তা হয়ে উঠল যুদ্ধের কৌশলগত উপকরণ, যা পরবর্তীতে ইউরোপীয় সভ্যতার পুরো কাঠামোকেই বদলে দিয়েছিল এবং ফ্ল্যান্ডার্সের কাদামাটিতে সমাহিত করেছিল আস্ত একটি প্রজন্মকে। পারমাণবিক বোমার বিপণন করা হয়েছিল একটি চলমান যুদ্ধকে থামানোর উপায় হিসেবে; অথচ মাত্র এক দশকের মধ্যে এটি বিশ্ব রাজনীতিকে এমনভাবে পুনর্গঠিত করল, যার ফলে তৈরি হলো এক স্থায়ী পারস্পরিক ভীতির পরিবেশ—যা আজও আমাদের তাড়া করে বেড়ায়।</p>
<p>আমরা আজ আবারও ঠিক তেমনই একটি সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছি। এবারের প্রযুক্তিটি হলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI)। এটি ইতিমধ্যেই বাস্তব যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন করা হয়েছে, যা নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু (টার্গেট) শনাক্ত করছে এবং কে বাঁচবে আর কে মরবে—সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়াকে অবিশ্বাস্য গতিতে ত্বরান্বিত করছে। তাই এআই যুদ্ধক্ষেত্রের রূপান্তর ঘটাবে কি না, সেই প্রশ্ন এখন অবান্তর; কারণ এটি ইতিমধ্যে তা ঘটিয়ে ফেলেছে। এখন আসল এবং অস্বস্তিকর প্রশ্নটি হলো—আমরা আসলে কোন ধরনের যুদ্ধকে বেছে নিচ্ছি, এবং আদৌ কি আমরা সচেতনভাবে এটি বেছে নিয়েছি?</p>
<p><strong>মোটরসাইকেল ট্র্যাকিং থেকে দিনে ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তু</strong><br>পেন্টাগনের ফ্ল্যাগশিপ এআই টার্গেটিং প্রোগ্রাম ‘প্রজেক্ট মেভেন’ (Project Maven) কোনো মহৎ কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে জন্ম নেয়নি। এটি তৈরি হয়েছিল একটি সুনির্দিষ্ট ব্যবহারিক হতাশা থেকে। মার্কিন সামরিক বাহিনী ড্রোন থেকে আসা এত বিপুল পরিমাণ ভিডিও ফুটেজের সাগরে ডুবছিল যে, মানুষের পক্ষে তা প্রসেস বা বিশ্লেষণ করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। বিশ্লেষকরা ক্লান্ত ও অবসাদগ্রস্ত চোখে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকতেন, যেখানে ভুলের সম্ভাবনা ছিল প্রবল। মেভেনের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত সাধারণ—কম্পিউটার ভিশন বা কৃত্রিম চোখ দিয়ে প্রাথমিক বাছাইয়ের কাজটি করা হোক, যেন মানুষের বিচারবুদ্ধি খাটানোর সুযোগ তৈরি হয়। যেমন—মোটরসাইকেলের গতিবিধি ট্র্যাক করা বা নির্দিষ্ট প্যাটার্ন চিহ্নিত করা।</p>
<p>যুক্তিটি বেশ যৌক্তিক শোনায়। ঐতিহাসিকভাবে প্রতিটি মারণাস্ত্রের বিপ্লব এভাবেই শুরু হয়—খুবই সীমিত এবং বাস্তবসম্মত একটি যৌক্তিকতা দিয়ে। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই সংখ্যাগুলো জ্যামিতিক হারে বাড়তে থাকে। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল জিওস্প্যাশিয়াল-ইনটেলিজেন্স এজেন্সি’ গত বছর গর্ব করে জানিয়েছিল যে, এআই প্রযুক্তি ছাড়া যেখানে দিনে ১০০টি লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা যেত, এআই-এর সহায়তায় তা এক লাফে ১ হাজারে উন্নীত হয়েছে। আর এর সাথে যদি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (LLM) যুক্ত করা যায়, তবে লক্ষ্যবস্তুর সংখ্যা দিনে ৫ হাজারে পৌঁছানো সম্ভব। ৫ হাজার! যে মানুষটি আগে মাত্র ৫০টি ছবি বিশ্লেষণ করতে হিমশিম খেত, সে এখন নামমাত্র এই বিশাল স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়ার ‘লুপ’ বা চক্রের মধ্যে অবস্থান করছে। সামরিক কমান্ডাররা জনমনে স্বস্তি দিতে ‘হিউম্যান ইন দ্য লুপ’ (সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়ায় মানুষের অন্তর্ভুক্তি) শব্দবন্ধটি যেভাবে জপের মতো আওড়ান, তা এখন সুরক্ষাকবচের চেয়ে জনসংযোগ কৌশলের মতোই বেশি মনে হয়।</p>
<p><br>সাবেক মার্কিন জেনারেল জিম ম্যাটিস একটি খাঁটি কথা বলেছিলেন—কেবল নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করা কখনোই মূল যুদ্ধকৌশলের বিকল্প হতে পারে না। দিনে ৫ হাজার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করার সক্ষমতা আপনাকে এটি বলে দেবে না যে, এই আঘাতগুলো আদৌ কোনো যৌক্তিক লক্ষ্য অর্জন করছে কি না। ইরাক এবং আফগানিস্তানে বছরের পর বছর রক্তাক্ত অভিজ্ঞতার পর যুক্তরাষ্ট্র এই শিক্ষাটি পেয়েছিল। কিন্তু এআই-এর মোহে মানুষ তা আবারও ভুলে যাওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে—যেখানে গতি ও স্কেলকে কার্যকারিতা এবং দক্ষতাকে প্রজ্ঞা বলে ভুল করা হচ্ছে।</p>
<p><strong>কৌশলের ব্যর্থতা ও মানবিক বিপর্যয়</strong><br>ইরানে চালানো সাম্প্রতিক অভিযানগুলোকে এআই-নিয়ন্ত্রিত যুদ্ধের একটি বাস্তব মহড়া হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড প্রকাশ্যে স্বীকার করেছে যে, আগে যে সিদ্ধান্ত নিতে কয়েক দিন সময় লাগত, এআই তা কয়েক সেকেন্ডে নামিয়ে এনেছে। প্রযুক্তিগতভাবে এটি চমৎকার। কিন্তু কৌশলগত অর্জন কী? সংশ্লিষ্ট দেশের শাসন ব্যবস্থার পতন ঘটেনি, কোনো গণঅভ্যুত্থানও হয়নি এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অবস্থানেরও কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। গতি এবং নিখুঁত নিশানা যে যুদ্ধ জয়ের মূল চাবিকাঠি—তার প্রমাণ মেলেনি। ইরানের ক্ষেত্রেও মার্কিন সামরিক অভিজ্ঞতার সেই চেনা রূপই দেখা গেছে—মেশিন বা প্রযুক্তি ঠিকঠাক কাজ করেছে, কিন্তু যুদ্ধকৌশল ব্যর্থ হয়েছে।</p>
<p>সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি হলো এর বেসামরিক বা মানবিক মূল্য। এআই-এর ভুলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হামলার মতো ঘটনা এবং বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আগের যুগে এমন ঘটনা ঘটলে কংগ্রেসে শুনানি হতো, তদন্ত হতো এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হতো। কিন্তু এআই যুগে আলোচনার মোড় মুহূর্তেই ঘুরে যায় প্রযুক্তির দিকে। প্রশ্ন তোলা হয়—অ্যালগরিদম কি সঠিকভাবে কাজ করেছিল? ডাটা কি ঠিকঠাক লেবেল করা ছিল? অর্থাৎ, মানুষের মৃত্যুও এখন এক ধরনের কারিগরি বা 'ডিবাগিং' সমস্যায় পরিণত হয়েছে।</p>
<p>এটি কোনো কাল্পনিক আশঙ্কা নয়। আন্তর্জাতিক যুদ্ধ আইন তৈরি হয়েছিল কারণ লাগামহীন যুদ্ধ কখনো শেষ হয় না, বরং তা সংক্রমিত হয়। যুক্তরাষ্ট্র দশকের পর দশক ধরে যুদ্ধের ক্ষেত্রে আনুপাতিকতা, স্বাতন্ত্র্য এবং সতর্কতার মতো আইনি ও নৈতিক কাঠামো তৈরি করেছে। এটি কোনো দুর্বলতা নয়, বরং এই কাঠামোর কারণেই একটি দেশের যুদ্ধ রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘস্থায়ী রূপ পায়। একে ক্ষুণ্ন করলে কৌশলগত মূল্য অনেক গুণ বেড়ে যায়।</p>
<p><strong>পাল্টা যুক্তি এবং বাস্তবতা</strong><br>এই বিতর্কের একটি জোরালো পাল্টা যুক্তিও রয়েছে, যা এড়িয়ে যাওয়া যায় না। যুদ্ধের ইতিহাসে 'ফ্রেন্ডলি ফায়ার' বা ভুলবশত নিজেদের সৈন্য কিংবা সাধারণ মানুষকে শত্রু ভেবে হত্যা করার মতো মর্মান্তিক ঘটনা সবসময়ই ছিল। এআই যদি মানুষের ক্লান্তি বা বিভ্রান্তিজনিত এই ভুলগুলো কমিয়ে আনতে পারে, তবে তা অবশ্যই ইতিবাচক। প্রজেক্ট মেভেনের উদ্যোক্তারা কোনো যুদ্ধবাজ ছিলেন না, বরং তাদের অনেকেই ছিলেন যুদ্ধক্ষেত্রে নিজেদের সহযোদ্ধাদের ভুলবশত মৃত্যু দেখা এক একজন ভেটেরান বা সাবেক সৈনিক।</p>
<p>আসল সমস্যাটি হলো এআই-এর মূল নকশা এবং এর বর্তমান ব্যবহারের মধ্যকার বিশাল ফারাক। মোটরসাইকেল ট্র্যাক করার মতো প্রাথমিক সতর্ক উদ্দেশ্য থেকে এটি ধাপে ধাপে এক বিশাল মারণযজ্ঞের রূপ নিচ্ছে। পেন্টাগনের একটি প্রোগ্রাম তো এআই দিয়ে বেসামরিক ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করার প্রস্তাবই বাতিল করে দিয়েছিল, কারণ "কোনো কর্মকর্তা একজন এআই-এর দেওয়া সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে নিজের ক্যারিয়ার ঝুঁকিতে ফেলতে চাননি।" তাদের এই মানবিক তাড়না ঠিক ছিল, কিন্তু তীব্র প্রাতিষ্ঠানিক চাপের মুখে এই বোধ কতটুকু টিকে থাকবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।</p>
<p>এ ক্ষেত্রে ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বকে একটি ভিন্ন মডেল দেখিয়েছে। ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্র সচেতনতা প্ল্যাটফর্ম ‘ডেল্টা’ (Delta) প্রমাণ করেছে যে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি মেশিনের হাতে ছেড়ে না দিয়েও যুদ্ধক্ষেত্রে শতভাগ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা সম্ভব। ড্রোনের অপারেটররা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে কাজ করতে পারছেন, প্রতিটি ইউনিট যুদ্ধের লাইভ পরিস্থিতি দেখতে পাচ্ছে। এখানে মানুষ কেবল মেশিনের ডেথ-লিস্টে সিল মারার জন্য বসে নেই, বরং বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতে মূল সিদ্ধান্তটি মানুষই নিচ্ছে। এটি নিখুঁত কোনো ব্যবস্থা নয়, তবে এটি দেখায় যে যুদ্ধের কুয়াশা দূর করতে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা পুরোপুরি এআই-এর হাতে ছেড়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।</p>
<p><strong>একটি অননুমোদিত যুদ্ধ ও রাজনৈতিক শূন্যতা</strong><br>সবচেয়ে বড় সংকটটি প্রযুক্তিগত নয়, বরং রাজনৈতিক। এআই-এর মাধ্যমে মার্কিন যুদ্ধরীতির এই রূপান্তরটি ঘটেছে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক আলোচনার বাইরে। মার্কিন কংগ্রেস স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে কোনো আইন পাস করেনি। সাধারণ জনগণকে জিজ্ঞেস করা হয়নি যে তারা মেশিনের গতিতে যুদ্ধ করতে রাজি কি না। পেন্টাগন এখন ‘হিউম্যান ইন দ্য লুপ’ কথাটি বাদ দিয়ে ‘যৌক্তিক পর্যায়ের মানুষের বিচারবুদ্ধি’ (appropriate levels of human judgment) শব্দবন্ধটি ব্যবহার করছে, যা কোনো আইনসভা দ্বারা অনুমোদিত নয়।</p>
<p>ইতিহাস বলে, যুদ্ধক্ষেত্রের প্রযুক্তি সবসময়ই তাকে নিয়ন্ত্রণকারী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের চেয়ে দ্রুত গতিতে এগিয়ে যায়। ড্রোন প্রোগ্রামটি নিয়ে জনমনে বিতর্ক শুরু হওয়ার বহু বছর আগে থেকেই এটি নীরবে প্রসারিত হয়েছিল। পারমাণবিক বোমার ধ্বংসাত্মক রূপ নিয়ে যুদ্ধকৌশলবিদরা গভীরভাবে ভাবার আগেই ‘মিউচুয়াল অ্যাসিউরড ডেসট্রাকশন’ বা পারস্পরিক ধ্বংসের নীতি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। প্রতিবারই প্রযুক্তি আগে ছুটেছে এবং গণতন্ত্র তার পিছু পিছু হেঁটেছে।</p>
<p>তবে এআই-এর গতি অন্য সব প্রযুক্তির চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত। যুদ্ধক্ষেত্রে অ্যালগরিদম ব্যবহার করা হবে কি না—এখন আর সেই প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন হলো, এই ধ্বংসযজ্ঞের শেষ সীমানা কোথায় এবং সেই সীমারেখাটি আসলে কে টানছে? এটি কোনো কারিগরি প্রশ্ন নয়, এটি একটি খাঁটি রাজনৈতিক প্রশ্ন। আর দুঃখজনকভাবে এর উত্তর হচ্ছে—কেউই নির্দিষ্ট করে এই সীমারেখা টানছে না। আমরা এক অজ্ঞাত গন্তব্যের দিকে অত্যন্ত দ্রুত গতিতে ছুটে চলছি, যা আমাদের গভীর চিন্তায় ফেলার জন্য যথেষ্ট।</p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল হজ: মক্কা&#45;মদিনায় তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আস্থার নতুন পরীক্ষা</title>
<link>https://digibanglatech.news/177980</link>
<guid>https://digibanglatech.news/177980</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202605/image_870x580_6a1571cdc9768.jpg" length="122365" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 26 May 2026 00:00:57 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div><span>হজ মূলত বিশ্বাসের যাত্রা। যুগে যুগে মুসলমানরা মক্কা ও মদিনায় গেছেন ইমান, ধৈর্য, আত্মসমর্পণ ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের আকাঙ্ক্ষা নিয়ে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই পবিত্র যাত্রা একই সঙ্গে হয়ে উঠেছে বিশ্বের অন্যতম জটিল ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ, জনস্বাস্থ্য পরিকল্পনা, নিরাপত্তা সমন্বয় এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদানের একটি বিরাট ক্ষেত্র।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>সৌদি আরব এখন হজ ব্যবস্থাপনায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে এমন এক মাত্রায়, যা বিশ্বের অল্প কিছু বড় আয়োজনের সঙ্গে তুলনীয়। ভিসা প্রক্রিয়া, ডিজিটাল পারমিট, প্যাকেজ নির্বাচন, আবাসন, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা, ভিড় পর্যবেক্ষণ, পথনির্দেশনা, জরুরি সহায়তা এবং বাস্তব সময়ের তথ্যসেবা, সব ক্ষেত্রেই প্রযুক্তির উপস্থিতি ক্রমেই বাড়ছে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>প্রশ্ন এখন আর প্রযুক্তি হজকে বদলাবে কি না, তা নয়। প্রযুক্তি ইতিমধ্যে হজকে বদলে দিচ্ছে। বড় প্রশ্ন হলো, এই পরিবর্তন কি হাজিদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও আধ্যাত্মিক অভিজ্ঞতাকে শক্তিশালী করবে, নাকি অতিরিক্ত নজরদারি, ডিজিটাল বৈষম্য ও প্রযুক্তিনির্ভর জটিলতার নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে?</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>হজের সময় বিশ্বের প্রায় সব প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ অল্প সময়ের মধ্যে সীমিত ভৌগোলিক এলাকায় সমবেত হন। মক্কা, মিনা, আরাফাত, মুজদালিফা এবং জামারাত, প্রতিটি স্থানেই নির্দিষ্ট সময়ে বিপুল মানুষের চলাচল ঘটে। এর সঙ্গে যুক্ত থাকে প্রচণ্ড গরম, দীর্ঘ হাঁটা, ভাষাগত বৈচিত্র্য, বয়সজনিত দুর্বলতা, স্বাস্থ্যঝুঁকি, আবাসন ও পরিবহন চাপ। এমন একটি ব্যবস্থাপনা শুধু প্রচলিত প্রশাসনিক পদ্ধতিতে সামাল দেওয়া কঠিন। এখানেই তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>ভিড় নিয়ন্ত্রণ হজ ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি। পবিত্র কাবা শরিফের তাওয়াফ এলাকা, মসজিদুল হারাম, মিনা থেকে জামারাতের পথ, আরাফাতের ময়দান, এসব জায়গায় মানুষের চাপ সামান্য বেড়ে গেলেও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-ভিত্তিক ক্যামেরা, সেন্সর, ডেটা বিশ্লেষণ, ড্রোন, তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণ এবং অপারেশন সেন্টারের মাধ্যমে কোথায় ভিড় বাড়ছে, কোথায় পথ আটকে যাচ্ছে, কোথায় জরুরি হস্তক্ষেপ দরকার, তা দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>এই প্রযুক্তির লক্ষ্য স্পষ্ট: দুর্ঘটনা ঘটার আগে ঝুঁকি বুঝে ব্যবস্থা নেওয়া। অতীতে হজে ভিড়ের চাপ, পদদলন এবং তাপজনিত মৃত্যুর মতো ঘটনা বিশ্বকে নাড়া দিয়েছে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে তাপপ্রবাহ তীব্রতর হওয়ায় হজ ব্যবস্থাপনায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার প্রশ্ন আরও বড় হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যদি ভিড়ের গতি বুঝতে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করতে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে, তবে তা নিঃসন্দেহে জননিরাপত্তার একটি বড় অগ্রগতি।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>ডিজিটাল হজের আরেকটি বড় দিক হলো হাজিদের ব্যক্তিগত সেবা। নুসুক অ্যাপ ও প্ল্যাটফর্ম এখন হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল প্রবেশদ্বার। এর মাধ্যমে অনেক হাজি নিবন্ধন, প্যাকেজ নির্বাচন, অনুমতি, নির্দেশনা, সময়সূচি এবং বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে তথ্য পেতে পারেন। একজন হাজি যখন বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, নাইজেরিয়া, তুরস্ক, ইউরোপ বা আমেরিকা থেকে সৌদি আরবে যান, তাঁর জন্য সঠিক তথ্য, পথনির্দেশনা, অফিসিয়াল আপডেট এবং অনুমোদিত সেবার সঙ্গে সংযোগ অত্যন্ত জরুরি।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>কিন্তু এখানেই একটি সতর্কতার প্রয়োজন। ডিজিটাল সুবিধা সবার জন্য সমানভাবে সহজ নয়। অনেক হাজি বয়স্ক, অনেকেই প্রথমবার বিদেশযাত্রী, অনেকের স্মার্টফোন ব্যবহারের অভ্যাস কম, অনেকে ইংরেজি বা আরবি ভাষায় দক্ষ নন। ডিজিটাল পেমেন্ট, অ্যাপ, লোকেশন, কিউআর কোড, অনলাইন পারমিট বা জরুরি নির্দেশনা তাঁদের কাছে জটিল মনে হতে পারে। তাই ডিজিটাল হজ যেন শুধু তরুণ, শহুরে ও প্রযুক্তি-সচেতন মানুষের জন্য সুবিধাজনক না হয়ে ওঠে, সেদিকে নজর দিতে হবে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ হজে যান, যাঁদের বড় অংশই বয়স্ক এবং ধর্মীয় আবেগে গভীরভাবে যুক্ত। তাঁদের অনেকেই প্রযুক্তিগত বিষয়ে ট্রাভেল এজেন্সি, মক্তব, গ্রুপ লিডার বা পরিবারের তরুণ সদস্যদের ওপর নির্ভর করেন। তাই হজ প্রস্তুতিতে এখন শুধু মানসিক, ধর্মীয় ও স্বাস্থ্যগত প্রশিক্ষণ নয়; ডিজিটাল প্রশিক্ষণও জরুরি। কীভাবে অ্যাপ ব্যবহার করতে হবে, জরুরি নম্বর কোথায় থাকবে, লোকেশন কীভাবে শেয়ার করতে হবে, মোবাইল হারালে কী করবেন, অনলাইন প্রতারণা থেকে কীভাবে বাঁচবেন, এসব বিষয় হজ প্রশিক্ষণের অংশ হওয়া উচিত।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>হজের ডিজিটাল অবকাঠামোও দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। ফাইভজি ও ফোরজি সংযোগ, যোগাযোগ টাওয়ার, অপটিক্যাল ফাইবার, ওয়াই-ফাই, স্মার্ট মনিটরিং সিস্টেম, ডিজিটাল পারমিট এবং কেন্দ্রীয় অপারেশন রুম, সবকিছু মিলে হজ ব্যবস্থাপনাকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে। হাজিরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে পারছেন, নির্দেশনা পাচ্ছেন, ছবি ও ভিডিও পাঠাচ্ছেন, রাস্তা চিনছেন, অনুবাদ ব্যবহার করছেন, জরুরি সহায়তা চাইছেন।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>তবে এই সংযোগের একটি দ্বৈত চরিত্র আছে। মোবাইল ফোন হাজির জন্য সহায়কও হতে পারে, আবার বিভ্রান্তির কারণও হতে পারে। প্রযুক্তি পবিত্র যাত্রাকে সহজ করে, কিন্তু কখনো কখনো আধ্যাত্মিক মনোযোগে ব্যাঘাতও ঘটায়। তাওয়াফ, সাফা-মারওয়া, আরাফাতের দোয়া, মদিনার জিয়ারত, এসব মুহূর্ত এখন অনেক সময় লাইভ ভিডিও, সেলফি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিণত হয়। এতে পরিবারের সঙ্গে আবেগ ভাগ করা যায়, কিন্তু কখনো কখনো ইবাদতের গভীরতা প্রদর্শনমূলক আচরণের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>এটি শুধু সৌদি আরবের বিষয় নয়; এটি ডিজিটাল যুগের বাস্তবতা। আজ হজ শুধু মক্কা-মদিনায় ঘটছে না; ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, হোয়াটসঅ্যাপ ও লাইভস্ট্রিমেও ঘটছে। পবিত্র অভিজ্ঞতা ডিজিটালভাবে ভাগ হচ্ছে। এটি একদিকে সংযোগ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ধর্মীয় অনুভূতিকে কখনো বাজার, কনটেন্ট ও দৃশ্যমানতার প্রতিযোগিতায় টেনে নিচ্ছে। তাই ডিজিটাল হজের সঙ্গে ডিজিটাল সংযমের কথাও ভাবতে হবে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>সৌদি আরব হজের শারীরিক পরিবেশেও প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। বিশেষ সড়ক প্রলেপ বা কুলিং রোড কোটিং, ছায়া ব্যবস্থা, পানি সরবরাহ, মিস্টিং ফ্যান, শীতলীকরণ ব্যবস্থা, স্বাস্থ্য সতর্কতা, সবকিছু এখন জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অংশ। প্রচণ্ড গরমে রাস্তার পৃষ্ঠের তাপ কমানো শুধু আরাম দেওয়ার বিষয় নয়; এটি জীবনরক্ষারও অংশ। প্রবীণ হাজি, অসুস্থ মানুষ, হৃদ্‌রোগী, ডায়াবেটিস রোগী বা দীর্ঘ হাঁটায় ক্লান্ত হাজিদের জন্য তাপ নিয়ন্ত্রণ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>স্বাস্থ্যপ্রযুক্তির ভূমিকাও বাড়ছে। হজে জরুরি চিকিৎসা, অ্যাম্বুলেন্স, হাসপাতাল, অস্থায়ী ক্লিনিক, রোগ নজরদারি, টিকা, সংক্রমণ প্রতিরোধ, তাপঘাত মোকাবিলা, সবকিছু বিশাল ব্যবস্থাপনার অংশ। ডিজিটাল সিস্টেম দ্রুত রোগী শনাক্ত, অ্যাম্বুলেন্স সমন্বয় এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি পর্যবেক্ষণে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রযুক্তি এখানে মানবিক সেবার বিকল্প নয়। চিকিৎসক, নার্স, স্বেচ্ছাসেবক, নিরাপত্তাকর্মী ও গাইডদের মানবিক উপস্থিতি অপরিহার্য।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>আসলে আধুনিক হজের একটি বড় শিক্ষা হলো, প্রযুক্তি মানুষকে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করেনি। সৌদি কর্তৃপক্ষ বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী, স্বাস্থ্যকর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও সেবাদানকারী নিয়োজিত করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ঝুঁকি শনাক্ত করতে পারে, কিন্তু ক্লান্ত হাজিকে পানি দেওয়া, পথ হারানো বৃদ্ধকে ফিরিয়ে দেওয়া, আতঙ্কিত ভিড়কে শান্ত করা, অসুস্থ মানুষকে কাঁধে তুলে অ্যাম্বুলেন্সে নেওয়া, এসব কাজ এখনো মানুষেরই।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>এই ভারসাম্য জরুরি। হজ একটি গভীর মানবিক অভিজ্ঞতা। এতে ধৈর্য, সহমর্মিতা, সেবা, দয়া ও সংযম লাগে। প্রযুক্তি এই সেবাকে সহায়তা করতে পারে, কিন্তু সেবার মানবিক মুখ মুছে দিতে পারে না।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>তবে আরেকটি কঠিন প্রশ্ন এড়ানো যায় না: নজরদারি। এআই ক্যামেরা, ড্রোন, থার্মাল ইমেজিং, ডিজিটাল পারমিট, বায়োমেট্রিক তথ্য এবং ভিড় পর্যবেক্ষণ নিরাপত্তা বাড়াতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে এগুলো রাষ্ট্রের পর্যবেক্ষণ ক্ষমতাও বাড়ায়। হজের মতো বিপুল জনসমাগমে নিরাপত্তার জন্য এ ধরনের প্রযুক্তি অনেক ক্ষেত্রে যৌক্তিক হতে পারে। কিন্তু তবু ডেটা সুরক্ষা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সীমারেখা থাকা জরুরি।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>হাজিদের জানা উচিত, তাঁদের কোন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, কেন করা হচ্ছে, কত দিন সংরক্ষণ করা হবে এবং কারা তা ব্যবহার করতে পারবে। ধর্মীয় কর্তব্য পালনের জন্য হাজিদের অপ্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্যঝুঁকির মুখে পড়তে হওয়া উচিত নয়। ডিজিটাল হজ যত বাড়বে, আস্থা ও গোপনীয়তার প্রশ্ন ততই গুরুত্বপূর্ণ হবে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>বাংলাদেশের জন্য এখানে কয়েকটি বাস্তব শিক্ষা আছে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>প্রথমত, হজ প্রশিক্ষণে ডিজিটাল সাক্ষরতা যুক্ত করতে হবে। শুধু দোয়া, নিয়ম, স্বাস্থ্য ও ভ্রমণ নির্দেশনা নয়; অ্যাপ ব্যবহার, জরুরি যোগাযোগ, লোকেশন, অনলাইন প্রতারণা, মোবাইল ডেটা, সিম, চার্জিং, পাসওয়ার্ড, ডিজিটাল পেমেন্ট, এসবও শেখাতে হবে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>দ্বিতীয়ত, বাংলা ভাষায় বাস্তব সময়ের নির্দেশনা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। কোনো হাজি যদি মিনায় পথ হারান, আরাফাতে অসুস্থ হন, পরিবহনের সময়সূচি বুঝতে না পারেন বা অ্যাপ ব্যবহার করতে সমস্যায় পড়েন, তাহলে তাঁর প্রয়োজন হবে নিজের ভাষায় দ্রুত সহায়তা।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>তৃতীয়ত, হজ এজেন্সি ও গ্রুপ লিডারদের ডিজিটাল দায়িত্ববোধ বাড়াতে হবে। তাঁরা শুধু ভ্রমণ ব্যবস্থাপক নন; তাঁরা হাজিদের তথ্য-সহায়কও। ভুল তথ্য, বাড়তি টাকা, অনলাইন প্রতারণা, অনুমতিপত্রের জটিলতা, এসব বিষয়ে তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>চতুর্থত, হজের সময় বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের একটি সমন্বিত ডিজিটাল সহায়তা কেন্দ্র থাকা দরকার, যেখানে হেল্পলাইন, হোয়াটসঅ্যাপ আপডেট, বাংলা নির্দেশনা, জরুরি লোকেশন সহায়তা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দ্রুত সমন্বয় থাকবে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>হজ সব সময়ই ছিল চলার মধ্য দিয়ে অর্থ খোঁজার যাত্রা। আগে এই যাত্রা গড়ে উঠত জাহাজ, কাফেলা, চিঠি, মৌখিক নির্দেশনা ও স্থানীয় মুয়াল্লিমদের মাধ্যমে। এখন এই যাত্রা গড়ে উঠছে অ্যাপ, ডেটা, এআই, ডিজিটাল পারমিট, ফাইবার নেটওয়ার্ক ও স্মার্ট অপারেশন সেন্টারের মাধ্যমে। যন্ত্র বদলেছে, উদ্দেশ্য বদলায়নি: মানুষ যেন নিরাপদে, সম্মানের সঙ্গে, মনোযোগ দিয়ে আল্লাহর ঘরে হজ পালন করতে পারে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>ভবিষ্যতের হজ আরও ডিজিটাল হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা হয়তো ভিড়ের পূর্বাভাস আরও ভালো দিতে পারবে। অনুবাদ প্রযুক্তি ভাষা-সমস্যা কমাবে। পরিধানযোগ্য ডিভাইস স্বাস্থ্যঝুঁকি জানাবে। স্মার্ট পরিবহন যানজট কমাবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম সেবা আরও স্বচ্ছ করতে পারে।</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>কিন্তু প্রযুক্তির সাফল্য শুধু তার উন্নততায় মাপা যাবে না। মাপা যাবে, হাজিরা কি নিরাপদ? বয়স্করা কি সহায়তা পাচ্ছেন? দরিদ্র ও কম-প্রযুক্তিসম্পন্ন মানুষ কি বাদ পড়ে যাচ্ছেন না? তথ্য কি বিশ্বাসযোগ্য? গোপনীয়তা কি সুরক্ষিত? প্রযুক্তি কি ইবাদতের মনোযোগ বাড়াচ্ছে, নাকি তা থেকে দূরে সরাচ্ছে?</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>হজ বিশ্বের সবচেয়ে বড় সম্মিলিত ইবাদতগুলোর একটি। একই সঙ্গে এটি বিশ্বের সবচেয়ে জটিল মানবসমাগম ব্যবস্থাপনাগুলোরও একটি। সৌদি আরবের ডিজিটাল রূপান্তর নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ও উল্লেখযোগ্য। কিন্তু এর প্রকৃত পরীক্ষা খুব সরল: প্রযুক্তি কি বিশ্বাসের সেবা করছে, নাকি বিশ্বাসের ওপর আধিপত্য বিস্তার করছে?</span></div>
<div><span> </span></div>
<div><span>ডিজিটাল হজের ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এই প্রশ্নের জবাবের ওপর।  </span></div>
<div><hr><span></span></div>
<div><strong>লেখকঃ </strong><span>ডিজিটাল গণতন্ত্র, তথ্যের অখণ্ডতা ও গণমাধ্যম উন্নয়ন নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং </span><span><span>দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর</span></span><hr><span></span></div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>স্যাটেলাইটের ৫টা ট্রান্সপন্ডার ফাঁকা; ওটিটি&amp;apos;তেও স্কোপ ডিফাইন করা দরকার</title>
<link>https://digibanglatech.news/177981</link>
<guid>https://digibanglatech.news/177981</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202605/image_870x580_6a1550e55d495.jpg" length="129686" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 25 May 2026 13:51:25 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div class="post-content">
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">টিভি টিআরপির মেজারমেন্ট পদ্ধতির বিষয়ে শুনলে আপনারা অবাক হবেন। ৫০০ জায়গায় বসানো আছে। টিভি কোম্পানিগুলো ঐ লোকেশন গুলার তথ্য টাকা দিয়ে জেনে নিয়েছে। সেখানে গ্রাহকদের টাকা দিয়ে ঐ টিভি চ্যানেল সারাদিন চালু রাখে, যাতে তাদের টিআরপি বেশি দেখায়। মিডিয়া মালিকদের জালিয়াতির মাত্রা নেহায়তে কম নয়।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">বিদেশে স্যাটেলাইট টিভি, ক্যাবল টিভি কিংবা আইপি টিভির ক্ষেত্রে সেট-টপ বক্স বাধ্যতামূলক। এতে পাইরেসি ও কপিরাইট আইন ভাঙার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া যায়। বাংলাদেশের ওটিটি, আইপিটিভি, ক্যাবল চ্যানেল এরা সবাই পাইরেসিতে লিপ্ত। ক্রিয়েটিভ হাউজ, কপিরাইট রিস্পেক্ট করে এমন প্রতিষ্ঠান, স্বত্ত্ব কেনা স্পোর্টস চ্যানেল গুলা ক্ষতিগ্রস্ত। ভারতীয় টিভি রয়ালিটি পায় কিংবা দেশের টিভিগুলা পায় না। পোর্টাল, ওটিটি ও আইপিটিভি দেশীয় মেধাস্বত্ত ভঙ্গ করে, পাইরেসি করে। ফলে শিল্প, সিনেমা, বিনোদন খাত গ্রো করছে না।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">এখানে গ্রে এরিয়া শুধু বাড়ছেই। বেতন-ভাতা ঠিকঠাক পায় না বলেন, আজকের ব্যাপকসংখ্যক সাংবাদিকের মূল কাজ চাঁদাবাজি, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, তদবির, পিআর এর নামে দুর্নীতির অর্থে ভাগ বসানো, ইনাদের সাইড কাজ হয়ে গেছে সাংবাদিকতা। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে গিয়ে, বড়ো জালিয়াতির সন্ধান পেয়ে ব্যবসায়ীর সাথে আঁতাত করে গড়ে উঠছে নতুন নতুন মিডিয়া। এবং দিনশেষে হারিয়ে যাওয়া।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">পাশাপাশি,</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">তথ্য মন্ত্রণালয়ের অনেক কাজ বাকি। দেশের ওটিটি নীতিমালা, সম্প্রচার নীতিমালা নাই। এই দুটা নীতিমালা নিয়ে বিটিআরসি/পিটিয়ে এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যে বৈরিতা চলছে। আমি দুই উপদেষ্টার কাছে ৫ বার গিয়েও এখান থেকে কাজ আদায় করতে পারিনি। একটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী/উপদেষ্টা ও বিশেষভাবে সচিব না চাইলে, সচিব কাজ না আগালে এসব নিষ্পত্তি অসম্ভব। একদিকে মিডিয়ার নৈরাজ্য, অন্যদিকে দেশের রাজস্ব ক্ষতি। আফসোস।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">স্যাটেলাইটের ৫টা ট্রান্সপন্ডার ফাঁকা। বিটিভির ডিটিএইচ করার কাজ সচিবালয়ে আটকে আছে বছরের পর বছর। আইপি টিভির লাইসেন্স ১৫টা আছে, কিন্তু অবৈধ আছে কয়েক ডজন, তারাই ডোমিনেট করে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">দেশে ট্রিপল প্লে, কোয়াড প্লে নাই। আমি বিটিসিএল এর ভয়েস (এমভিএনও সও)/ইন্টারনেট/কন্টেন্ট ট্রিপল-প্লে লাইভ পাইলট করে দিয়ে এসেছি। কোনো অজ্ঞাত কারণে আমি আসার পরে বন্ধ করে দিয়েছে। দরকার হচ্ছে, আইএসপি কোম্পানিগুলোকে ট্রিপল-প্লের লাইসেন্স দেয়া, ক্যাবল টিভিদের আইএসপি লাইসেন্স দেয়া। অথচ ক্যাবল টিভি, ডায়িং টেকনোলজি। দরকার সবাইকে আইএসপি এবং টিভির লাইসেন্স দিয়ে দেয়া, সেট-টপ বক্স বাধ্যতামূলক করে এন্টি-পাইরেসি মেকানিজম এনশিওর করা। ওটিটি গুলোকে রেগুলেশনে আনার কারিগরি প্রযুক্তি আনা।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">আমাদের মন্ত্রণালয় গুলো নতুন প্রযুক্তি, পুরানো প্রযুক্তির এন্ড অফ লাইফ সাইকেল, ডায়িং প্রযুক্তির ট্রানজিশন ও মাইগ্রেশন এগুলো কিছুই বুঝে না। ডজন বার বললেও এসব তাদের মাথার উপর দিয়ে যায়। বাংলাদেশের স্যাটেলাইট টিভির লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে, পুরানা ডিশ বা ক্যাবল টিভির অচল সম্প্রচার নীতি দিয়ে। পুরো টিভি ইন্ডাস্ট্রি আইপি-ফাই হয়ে গেছে, অথচ সম্প্রচার আইনে অনলাইনকে সম্প্রচার বলা যাবে না বলা আছে। এসব নীতি, পলিসি ও প্রযুক্তিগত বিষয়ে সাংবাদিকদের ট্রেনিং নাই বলে লিটারেসিও কম।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">টিআরপি মেজারমেন্ট ভুল। পত্রিকার সার্কুলেশন সংখ্যা ভুল। পোর্টাল, ওটিসি, আইপিটিভি রেগুলেশন নাই। পিটিয়ে, বিটিআরসি, বিটিভি, তথ্য মন্ত্রণালয় সবাই রেগুলেটর হতে চায়। হাসান মাহমুদ নিজে জোর করে প্রজ্ঞাপন করে, সম্প্রচারকে এককভাবে তথ্য মন্ত্রণালয়ে এনেছে। কিন্তু রেগুলেশন করার জন্য প্রযুক্তি আনেননি, পাইরেসি ধরার ও বন্ধের মেকানিজম আনেননি। আবার আনলে বিটিআরসি/পিটিডি ও তথ্য কীভাবে কাজ করবে, তার স্কোপ অফ ওয়ার্ক ডিফাইন করেননি।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">ওটিটি'তেও স্কোপ ডিফাইন করা দরকার। কাজ করছে না, কিন্তু মন্ত্রণালয় বাড়ছে। রাজস্ব ফাঁকি চলছে। পাইরেসি ও অরাজকতা চলছে। অথচ প্রযুক্তি কনভার্জেন্স এ যাচ্ছে। আমাদের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থাপনার জ্ঞানহীন বা স্বল্পজ্ঞানী কর্তদের কেউ জানে না কীভাবে উন্নত দেশে কিংবা পাশের দেশে এসব ব্যবস্থাপনা হয়, কারও একটা ডিপ স্ট্যাডি নেই।</div>
</div>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ </strong>প্রযুক্তিবিদ ও লেখক এবং অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী</p>
<hr>
<p></p>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল পশুর হাট ও আস্থার নতুন সমীকরণ</title>
<link>https://digibanglatech.news/177732</link>
<guid>https://digibanglatech.news/177732</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202605/image_870x580_6a12b1c1686c8.jpg" length="159664" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 24 May 2026 00:26:58 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p></p>
<table border="1" style="border-collapse: collapse; width: 99.9526%;"><colgroup><col style="width: 16.0158%;"><col style="width: 84.0503%;"></colgroup>
<tbody>
<tr>
<td><img src="https://digibanglatech.news/uploads/images/202605/image_870x_6a12b5c30acc9.jpg" alt="" width="133" height="160"></td>
<td>
<p>ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপান্তর পেরিয়ে ২০২৬ সালে এসে দেশের ই-কমার্স খাত শুধু একটি বিকল্প কেনাকাটার মাধ্যম নয়, বরং উৎসবকালীন অর্থনীতির অন্যতম মূল চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার কেনাকাটায় শপিংমলের চিরচেনা ভিড় উপচে পড়েছে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোতে।</p>
<p>ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব), সেন্টার ফর ডিজিটাল কমার্স রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি (CDCRA) এবং খাত সংশ্লিষ্টদের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যমতে, এবারের ঈদে ডিজিটাল কমার্স খাতে এক অভূতপূর্ব ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। তবে এই বিশাল অর্ডারের মহাসড়কে যেমন ছিল ডেলিভারি ও লজিস্টিকস কোম্পানির অভাবনীয় সক্ষমতার পরীক্ষা, তেমনি ছিল রিটার্ন রেট, ফেইক অর্ডার এবং ‘ভুঁইফোড়’ বা ফেইক উদ্যোক্তাদের তৈরি করা কিছু নেতিবাচক চ্যালেঞ্জ।</p>
</td>
</tr>
</tbody>
</table>
<p>সামগ্রিকভাবে কেমন গেল এবারের ঈদের ই-কমার্স বাজার—তার একটি বস্তুনিষ্ঠ, পরিসংখ্যানগত ও নীতিনির্ধারণী বিশ্লেষণ নিচে তুলে করা হলো।</p>
<p><strong>বাজারের আকার ও অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান</strong><br>চলতি ২০২৬ সালে বাংলাদেশের ই-কমার্স বাজারের আকার এবং বার্ষিক চক্রবৃদ্ধি প্রবৃদ্ধি হার (CAGR) বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশীয় মার্কেট সাইজ বর্তমানে আনুমানিক ৫ থেকে 6 বিলিয়ন মার্কিন ডলারে (প্রায় ৬০,০০০ থেকে ৬৫,০০০ কোটি টাকা) উন্নীত হয়েছে। বিভিন্ন অর্থনৈতিক জার্নাল, গবেষণা সংস্থা ও CDCRA-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক খুচরা অর্থনীতির (Retail Economy) প্রায় ১২ থেকে ১৫ শতাংশ এখন ডিজিটাল কমার্সের নিয়ন্ত্রণে, যার সিংহভাগ লেনদেন হয় দুই ঈদ বা উৎসবকেন্দ্রিক বাজারে।</p>
<p><strong>মোট অর্ডারের পরিমাণ:</strong> রমজান ও দুই ঈদ মৌসুম মিলিয়ে দেশের মূলধারার ই-কমার্স সাইট এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমভিত্তিক এফ-কমার্স (F-Commerce) পেজগুলোতে মোট অর্ডারের সংখ্যা আনুমানিক ২ কোটি থেকে ২.৫ কোটি ছাড়িয়েছে।</p>
<p><strong>ক্রেতার সংখ্যা:</strong> আনুমানিক ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ১ কোটি ৫০ লাখ একক ক্রেতা এবার অনলাইনে ন্যূনতম একটি হলেও পণ্য বা সেবা অর্ডার করেছেন।<br> <strong>দৈনিক ডেলিভারি:</strong> ঈদের আগের শেষ দুই সপ্তাহে দৈনিক ডেলিভারির সংখ্যা গড়ে ৩ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ পিস ছাড়িয়ে যায়, যা সাধারণ সময়ের চেয়ে প্রায় তিন গুণ বেশি।</p>
<p><strong>অর্থনৈতিক লেনদেন:</strong> এবারের ঈদ বাজারে অনলাইন কেনাকাটার মাধ্যমে আনুমানিক ৮,০০০ থেকে ১০,০০০ কোটি টাকার* অর্থনৈতিক লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে তারল্য প্রবাহ বজায় রাখতে বড় ভূমিকা রেখেছে।</p>
<p><strong>চাহিদার শীর্ষে থাকা পণ্যসমূহ:</strong> ফ্যাশন থেকে স্মার্ট লাইভস্টক ও কুইক-কমার্স। </p>
<p>এবারের ঈদে ট্র্যাডিশনাল ফ্যাশনের পাশাপাশি লাইফস্টাইল, ইলেকট্রনিক্স এবং কোরবানির পশুর ডিজিটাল বাজার ই-কমার্সের পরিধিকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।</p>
<p><strong>পোশাক ও ফ্যাশন সামগ্রী:</strong> মোট অর্ডারের প্রায় ৪৫-৫০% ছিল তৈরি পোশাক। এর মধ্যে পুরুষদের ক্যাজুয়াল শার্ট, প্রিমিয়াম পাঞ্জাবি এবং নারীদের সুতি ও লিনেন থ্রি-পিস, কটন শাড়ি এবং সেমি-ফর্মাল ড্রেসের চাহিদা ছিল তুঙ্গে। জুতো এবং কসমেটিকস সামগ্রীও এই তালিকায় অন্যতম প্রধান ছিল।<br><strong>গ্যাজেট ও ইলেকট্রনিক্স:</strong> স্মার্টফোন, ওয়্যারলেস ইয়ারবাডস, স্মার্ট ওয়াচ এবং ঈদের রান্নাবান্নার সুবিধার্থে ব্লেন্ডার, ওভেন বা ফুড প্রসেসরের মতো হোম অ্যাপ্লায়েন্সের বিক্রি গত বছরের তুলনায় প্রায় ২৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।<br><strong>হোম ডেকর ও গ্রোসারি:</strong> ঈদের ঘর সাজানোর চাদর, পর্দা এবং ঈদের রান্নার জন্য প্রয়োজনীয় প্রিমিয়াম মসলা ও ঘি-এর মতো গ্রোসারি আইটেম প্রচুর অর্ডার হয়েছে।</p>
<p><br><strong>ডিজিটাল পশুর হাট ও কোল্ড-চেইন অবকাঠামো:</strong> এবারের ঈদুল আজহায় দেশের ই-কমার্স বাজারে সবচেয়ে বড় চমক ছিল 'স্মার্ট লাইভস্টক কমার্স' বা অনলাইন পশুর হাট। ঢাকার বাইরে প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামারিদের সরাসরি ক্রেতাদের সাথে যুক্ত করার ফলে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমেছে। ওয়ান-স্টপ কোরবানি সার্ভিস—যেমন অনলাইনে পশু পছন্দ করা, পেমেন্ট করা এবং সম্পূর্ণ স্যানিটারি উপায়ে স্লটারিং (জবাই ও মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ) শেষে ঈদের দিন মাংস ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লজিস্টিকস সক্ষমতা এবার দারুণভাবে প্রশংসিত হয়েছে। তথ্যমতে, এবার অনলাইনে পশু বিক্রির পরিমাণ গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৮% বৃদ্ধি পেয়েছে।</p>
<p><strong>অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা:</strong> তবে পশুর হাটের এই বিশাল সাফল্যের পাশাপাশি একটি কাঠামোগত চ্যালেঞ্জও এবার দৃশ্যমান হয়েছে। ঈদের দিন প্রত্যন্ত অঞ্চলের খামার থেকে মাংস কাস্টমারের ডাইনিং টেবিল পর্যন্ত সম্পূর্ণ ফ্রেশ ও স্বাস্থ্যসম্মত অবস্থায় পৌঁছানোর জন্য আমাদের দেশে এখনো পর্যাপ্ত রেফ্রিজারেটেড বা ফ্রিজার ভ্যান (Cold Chain Logistics) নেই। লজিস্টিকস কোম্পানিগুলোর এই কোল্ড-চেইন অবকাঠামোতে বড় ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ এখন সময়ের দাবি।<br><br><strong>শেষ মুহূর্তের 'কুইক কমার্স' (Q-Commerce):</strong> ঈদের ঠিক ২-৩ দিন আগে যখন বড় বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো নতুন অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দেয়, তখন দৃশ্যপটে আসে কুইক-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলো (যেমন: চালডাল, পান্ডামার্ট, বা বিভিন্ন ইনস্ট্যান্ট গ্রোসারি অ্যাপ)। ঈদের আগের রাতেও সেমাই, চিনি, কিশমিশ, প্যাকেটজাত মাংসের মসলা কিংবা মেকআপ ও কসমেটিকস সামগ্রী মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ মিনিটে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার লজিস্টিকস জাদু দেখিয়েছে এই খাত, যার ফলে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় উৎসবের আমেজ কয়েক গুণ বেড়ে যায়।<br><strong>কাস্টমার ডেমোগ্রাফি:</strong> ঢাকা বনাম প্রান্তিক অঞ্চল। <br>এবারের ঈদের সবচেয়ে বড় ইতিবাচক পরিবর্তনটি এসেছে ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে। অনলাইন কেনাকাটা এখন আর শুধু ঢাকা কিংবা চট্টগ্রামের মতো মেগাসিটির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।<br><strong>প্রান্তিক অঞ্চলের উত্থান:</strong> ই-কমার্স লজিস্টিকস ডেটা ও CDCRA-এর মাঠপর্যায়ের সমীক্ষা অনুযায়ী, এবারের মোট অর্ডারের প্রায় ৪০-৪৫% এসেছে জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের প্রান্তিক এলাকা থেকে। জেলা শহরগুলোতে কুরিয়ার সার্ভিসের হোম-ডেলিভারি নেটওয়ার্ক শক্তিশালী হওয়ায় প্রত্যন্ত অঞ্চলের ক্রেতারাও অনায়াসে কেনাকাটা করেছেন। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ ও সিলেট অঞ্চলের প্রান্তিক কাস্টমারদের কেনাকাটার হার এবার বেশ ঊর্ধ্বমুখী ছিল।<br> <strong>মূল ক্রেতা কারা:</strong> এবারের বাজারের মূল চালিকাশক্তি ছিল মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত তরুণ প্রজন্ম (বয়স ১৮ থেকে ৩৫ বছর)। বিশেষ করে কর্মজীবী নারী এবং তরুণ ফ্রিল্যান্সার বা চাকুরিজীবীরা জ্যামের ভোগান্তি এড়াতে অনলাইনকে বেছে নিয়েছেন।<br> <strong>পেমেন্ট মেথড ও ক্যাশলেস ব্যুম:</strong> ক্যাশ অন ডেলিভারি (COD) এখনো জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকলেও, ঈদ বাজারে কাগজের নোটের মাধ্যমে জাল নোটের বিস্তার রোধে এবং নিরাপত্তার খাতিরে এবার ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এবার মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) যেমন—বিকাশ, নগদ বা رকেটের মাধ্যমে কিংবা কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে অগ্রিম বা তাৎক্ষণিক পেমেন্ট করার হার *৬০%* ছাড়িয়েছে, যা সরকারের ক্যাশলেস সোসাইটি বিনির্মাণের উদ্যোগকে বহুদূর এগিয়ে দিয়েছে।</p>
<p><strong>কুরিয়ার ও লজিস্টিকস খাতের সক্ষমতা: কেমন ছিল ডেলিভারি?</strong><br>অর্ডারের বিপুল চাপ সামলাতে দেশের শীর্ষস্থানীয় লজিস্টিকস ও কুরিয়ার কোম্পানিগুলো (যেমন: স্টিডফাস্ট, রেডেক্স, পাঠাও কুরিয়ার, পেপারফ্লাই ইত্যাদি) এবার বেশ প্রযুক্তি-নির্ভর প্রস্তুতি নিয়েছিল।<br><strong>সক্ষমতার পরীক্ষা ও কাট-অফ ডেট চ্যালেঞ্জ:</strong> ঈদের ঠিক ৭ থেকে ১০ দিন আগে যখন অর্ডারের গ্রাফ খাড়া হয়ে ওপরের দিকে উঠছিল, তখন কুরিয়ার কোম্পানিগুলো অতিরিক্ত জনবল ও খণ্ডকালীন ‘ডেলিভারি রাইডার’ নিয়োগ করে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছে। ঢাকার ভেতরে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এবং ঢাকার বাইরে ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ডেলিভারি নিশ্চিত করার হার ছিল প্রায় ৮৮-৯০%。কুরিয়ার কোম্পানিগুলো তাদের সোর্সিং হাব ও শর্টিং সেন্টারের ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করায় এবার ব্যাকলগ বা জটলা তুলনামূলক কম হয়েছে। তবে, ঈদের ঠিক ৫-৬ দিন আগে ঢাকার বাইরে পার্সেল পাঠানোর জন্য কোম্পানিগুলোর বেঁধে দেওয়া কঠোর 'কাট-অফ ডেট' (Cut-off Date) বা বুকিং বন্ধের ডেডলাইনের কারণে অনেক প্রান্তিক ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা শেষ মুহূর্তের অর্ডারগুলো শিপমেন্ট করতে সমস্যায় পড়েন, যা লজিস্টিকস চেইনের সাময়িক ধীরগতিকে নির্দেশ করে।<br><strong>প্রযুক্তির ব্যবহার:</strong> Artificial Intelligence বা AI-ভিত্তিক রাউটিং সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে কুরিয়ার কোম্পানিগুলো এবার কম সময়ে বেশি ডেলিভারি দিতে পেরেছে। তবে, ঈদের ঠিক ২-৩ দিন আগে লজিস্টিকস চেইনে কিছুটা ধীরগতি দেখা যায়, যার ফলে কিছু অর্ডার ঈদের পরে ডেলিভারি হয়েছে।</p>
<p><strong>অন্ধকার দিক: রিটার্ন রিফান্ড, ফেইক অর্ডার ও ভুঁইফোড় উদ্যোক্তা</strong><br>ঈদের বাজার যখন রমরমা, ঠিক তখনই কিছু চিরাচরিত সমস্যা এবং নতুন কিছু জালিয়াতির ঘটনা পুরো খাতের সুনামে কিছুটা দাগ ফেলেছে।<br><strong>উচ্চ রিটার্ন রেট (Return Rate):</strong> ক্যাশ অন ডেলিভারির সুযোগ নিয়ে অনেক ক্রেতা একই পণ্য ৩-৪টি পেজ থেকে অর্ডার করেন এবং যেটি আগে আসে সেটি রেখে বাকিগুলো রিজেক্ট করেন। এবারের ঈদে এফ-কমার্স ও সাধারণ ই-কমার্সে গড় রিটার্ন রেট ছিল *১৫% থেকে ১৮%*, যা ক্ষুদ্র নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের বিশাল আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলেছে। এটি ই-কমার্স খাতের একটি নীরব ঘাতক হিসেবে রূপ নিয়েছে।<br><strong>ফেইক অর্ডার বা ফেক কাস্টমার:</strong> কিছু অসাধু চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে শত শত ‘ফেইক অর্ডার’ প্লেস করেছে। পণ্যটি কুরিয়ারে যাওয়ার পর কাস্টমারকে না পাওয়ায় উদ্যোক্তাদের দ্বিমুখী কুরিয়ার চার্জ বহন করতে হয়েছে।<br><strong>ফেইক উদ্যোক্তা ও পেজ:</strong> প্রতি ঈদের মতো এবারও ফেসবুক ও টিকটকে একশ্রেণীর ‘ভুঁইফোড়’ বা ফেইক পেজের আবির্ভাব ঘটে। তারা আকর্ষণীয় অফার বা নামী ব্র্যান্ডের ছবি চুরি করে নকল বা অতি নিম্নমানের কাপড় সরবরাহ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে অগ্রিম টাকা নিয়ে পেজ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এর ফলে মূলধারার সৎ ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ট্রাস্ট ক্রাইসিস বা আস্থা সংকটে পড়েছেন।</p>
<p><strong>সামষ্টিক অর্থনীতি ও পরিবেশগত প্রভাব (সবুজ অর্থনীতি বা Green Shopping) </strong><br>এবারের ঈদের বাজারে ই-কমার্সের অবদান কেবল কেনাবেচার অংকেই সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং দেশের সামষ্টিক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবেশ খাতে এর একটি ইতিবাচক সামষ্টিক অর্থনৈতিক প্রভাব (Macroeconomic Impact) লক্ষ্য করা গেছে।<br><strong>জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়:</strong> দেশব্যাপী তীব্র লোডশেডিং এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই সময়ে কোটি কোটি ক্রেতা সশরীরে শপিংমলে না গিয়ে ঘরে বসে অনলাইনে কেনাকাটা সম্পন্ন করেছেন। এর ফলে উৎসবের মরসুমে রাস্তাঘাটে ব্যক্তিগত গাড়ি ও গণপরিবহনের জ্বালানি (তেল ও গ্যাস) যেমন সাশ্রয় হয়েছে, তেমনি বড় বড় শপিংমলগুলোতে শত শত মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ ও এসি (AC) ব্যবহারের জাতীয় চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।<br> <strong>কার্বন ফুটপ্রিন্ট হ্রাস:</strong> লজিস্টিকস খাতের রুট অপ্টিমাইজেশনের মাধ্যমে এক একটি ডেলিভারি ভ্যান বা বাইক একসঙ্গে শত শত মানুষের পণ্য পৌঁছে দেওয়ায় শহরের সার্বিক কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমেছে। ফলে এবারের উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটা দেশের জন্য একটি টেকসই ও *‘গ্রিন ইকোনমি’ বা সবুজ অর্থনীতি*র নতুন মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।</p>
<p><strong>প্রাতিষ্ঠানিক অভিভাবকহীনতা: ই-ক্যাব (e-CAB)-এর স্থবিরতা বনাম ব্যক্তিগত উদ্যোগে ই-কমার্সের অগ্রগতি</strong> <br>এবারের ঈদের বাজারের সবচেয়ে বড় এবং রূঢ় বাস্তবতার দিকটি ছিল প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে। দেশের ই-কমার্স খাতের মূল চালিকাশক্তি হওয়া সত্ত্বেও ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা নীতিনির্ধারণী ক্ষেত্রে এক ধরণের চরম অভিভাবকহীনতা ও শূন্যতা অনুভব করেছেন।<br><strong>ই-ক্যাব (e-CAB)-এর নেতৃত্ব সংকট:</strong> দেশের ই-কমার্স খাতের একমাত্র ও প্রধান অ্যাসোসিয়েশন হওয়া সত্ত্বেও, *ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব)*-এর ভেতর যথাসময়ে সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং সঠিক ও গণতান্ত্রিক নেতৃত্বের বিকাশ ঘটেনি। সঠিক ও কার্যকর দিকনির্দেশনা, সঠিক তৃপ্তির নেতৃত্ব না থাকা এবং সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের পক্ষে জোরালোভাবে কথা বলার মতো বলিষ্ঠ অভিভাবকত্বের অভাবে ই-ক্যাব বর্তমানে এক ধরণের স্থবিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ফলস্বরূপ, নানা মুখী পলিসিগত সংকটের মধ্যেও এবারের ঈদে সাধারণ উদ্যোক্তাদের ভাগ্যে কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা মেলেনি।<br><strong>একক উদ্যোক্তাদের লড়াই:</strong> ই-ক্যাব-এর এই বড় প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের মধ্যেও এবারের ই-কমার্স বাজারের যে বিশাল প্রবৃদ্ধি, তা কোনো অ্যাসোসিয়েশনের কৃতিত্বে হয়নি; বরং এটি সম্পূর্ণভাবে সম্ভব হয়েছে মাঠপর্যায়ের তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের ব্যক্তিগত মেধা, অক্লান্ত পরিশ্রম এবং একক সাহসিকতার জোরে। কোনো ধরনের ভর্তুকি বা প্রাতিষ্ঠানিক ছায়া ছাড়াই, এই উদ্যোক্তারা সম্পূর্ণ নিজস্ব ঝুঁকিতে মূলধন খাটিয়েছেন, পণ্য সোর্সিং করেছেন এবং লজিস্টিকস সংকট মোকাবেলা করে কাস্টমারের দোরগোড়ায় পণ্য পৌঁছে দিয়েছেন। এই ব্যক্তিগত খাতের অভাবনীয় সাফল্যই প্রমাণ করে, ই-ক্যাব-এ যদি একটি সঠিক ও দূরদর্শী প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্ব থাকত, তবে এই ঈদ বাজারে প্রবৃদ্ধির হার আরও বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব হতো।</p>
<p><strong>নীতিনির্ধারণী পলিসি ও টেকসই ভবিষ্যৎ ভাবনা: CDCRA ও বিশেষজ্ঞদের যৌথ সুপারিশসমূহ</strong><br>ডিজিটাল কমার্স খাতের এই বিশাল সম্ভাবনাকে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই করতে এবং ঈদ উৎসবের বাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হলে আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কোনো বিকল্প নেই। এবারের ঈদের বাজারের অভিজ্ঞতা থেকে *সেন্টার ফর ডিজিটাল কমার্স রিসার্চ অ্যান্ড Advocacy (CDCRA)* এবং সংশ্লিষ্ট অর্থনীতিবিদেরা বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট ও বৈপ্লবিক পলিসিগত পরিবর্তনের তাগিদ দিচ্ছেন:<br><strong>ইউনিক আইডি (UBID/DBID) জট বনাম একক অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স:</strong> বর্তমানে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের জন্য ডিবিআইডি বা ইউবিআইডি সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত জটিল, সময়সাপেক্ষ এবং নানা আমলাতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতায় পূর্ণ, যা তৃণমূলের উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করছে। এর চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও কার্যকর সমাধান হতে পারে—ট্রেড লাইসেন্সকেই একক ও সার্বজনীন ইউনিক বিজনেস আইডি (UBID) হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। নতুন কোনো আইডি কার্ডের ঝামেলায় না গিয়ে ট্রেড লাইসেন্সকেই মূল ট্র্যাকিং নম্বর হিসেবে ব্যবহার করা যৌক্তিক। </p>
<p><strong>শতভাগ অনলাইন ও প্রান্তিক লাইসেন্সিং:</strong> সমস্ত ট্রেড লাইসেন্সিং প্রক্রিয়াকে ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত শতভাগ অনলাইন, পেপারলেস ও ডিজিটাল করতে হবে। একজন প্রান্তিক নারী উদ্যোক্তা যেন কোনো দপ্তরে না গিয়ে ঘরে বসেই তার স্মার্টফোনের মাধ্যমে এই লাইসেন্স সম্পন্ন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে।</p>
<p><strong>মেটা (Meta) ও বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মের সাথে যৌথ পলিসি:</strong> যারা ফেসবুকে, ইনস্টাগ্রামে বা টিকটকে কমার্শিয়াল পেজ পরিচালনা করছেন বা বুস্টিং করছেন, তাদের জন্য এই অনলাইন ভেরিফাইড ট্রেড লাইসেন্স নম্বর প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করতে হবে। মেটা কর্তৃপক্ষের সাথে সরকারের এমন একটি পলিসি বা এপিআই (API) ইন্টিগ্রেশন থাকা উচিত, যেখানে বৈধ অনলাইন ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া কেউ কমার্শিয়াল পেজ বা অ্যাড অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করতে পারবে না। এই একটি পদক্ষেপ এক রাতেই দেশের ৮০% ফেইক পেজের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে দেবে।<br><strong>রিটার্ন পলিসি ও কুরিয়ার চার্জের যৌক্তিকীকরণ:</strong> ক্যাশ অন ডেলিভারির (COD) খামখেয়ালিপনা রুখতে কুরিয়ার পলিসিতে আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। কোনো কাস্টমার যদি পণ্য অর্ডার করার পর কোনো যৌথিক কারণ (যেমন: ছেঁড়া বা ভুল পণ্য) ছাড়া শুধু পছন্দ হয়নি বলে রিটার্ন করতে চান, তবে তাকে অগ্রিম কুরিয়ার চার্জ (ডেলিভারি ফি) পেজকে বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে পেমেন্ট করতে হবে। এটি নীতিগতভাবে বাস্তবায়ন করা হলে অহেতুক অর্ডারের হার ৭০% কমে আসবে এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের কোটি কোটি টাকার ক্ষতি বাঁচানো সম্ভব হবে।<br><strong>তদারকিতে সিডিসিরি (CDCR) ও এসক্রো ব্যবস্থা:</strong> বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল ডিজিটাল কমার্স সেলের অধীনে *সিডিসিআর (Central Digital Commerce Resolution)* বা কেন্দ্রীয় অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থাকে আরও বেশি গতিশীল ও জনবল সমৃদ্ধ করতে হবে। ভোক্তা অধিকার ও এসক্রো (Escrow) সিস্টেমের যথাযথ ডিজিটাল অডিট নিশ্চিত করতে পারলে ক্রেতারা যেমন অগ্রিম টাকা দিয়ে প্রতারিত হবেন না, তেমনি সৎ মার্চেন্টরাও সঠিক সময়ে এবং দ্রুততম সময়ে কাস্টমারের কাছ থেকে তাদের পেমেন্ট রিফান্ড বা মূল পেমেন্ট হাতে পাবেন।<br><strong>ক্রেতা-বিক্রেতার ডুয়াল রেটিং ডেটাবেজ: </strong>লজিস্টিকস ও কুরিয়ার কোম্পানিগুলোর সমন্বয়ে এবং CDCRA-এর নীতিগত নির্দেশনায় একটি কেন্দ্রীয় ও সচল ডেটাবেজ তৈরি করা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে যেমন ক্ষতিকর 'ফেইক কাস্টমার' (যারা বারবার বিনা কারণে অর্ডার রিটার্ন করে ক্ষুদ্র মার্চেন্টদের ডেলিভারি খরচের লোকসানে ফেলে) তাদের চিহ্নিত করা যাবে, তেমনি 'প্রতারক মার্চেন্ট' উভয়কেই ব্ল্যাকলিস্ট করা সহজ হবে। কুরিয়ার কোম্পানিগুলোর অ্যাপে এই রেটিং বা ডেটাবেজ যুক্ত থাকলে ডেলিভারি দেওয়ার আগেই গ্রাহক বা মার্চেন্টের সততা যাচাই করা সম্ভব হবে।</p>
<p>সবকিছু মিলিয়ে ২০২৬ সালের ঈদের ই-কমার্স বাজারকে ‘রেকর্ড বিক্রি এবং আস্থার মিশ্র লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করা যায়। ব্যবসার পরিধি, প্রযুক্তির আধুনিকায়ন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে এর গভীর প্রবেশ ছিল চমৎকার, যা দেশের সামষ্টিক খুচরা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করেছে। তবে ফেইক পেজ এবং ফেইক অর্ডারের দুষ্টচক্র দমনে এখনো আরও কঠোর, আধুনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারির প্রয়োজন। ডিজিটাল কমার্স খাতের এই বিপুল সম্ভাবনাকে ধরে রাখতে হলে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের দায়বদ্ধতা এবং লজিস্টিকস খাতের অবকাঠামোগত উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করা সময়ের দাবি। দেশীয় উদ্যোক্তাদের সুরক্ষায় এখন প্রয়োজন কেবল সঠিক পলিসির দ্রুততম বাস্তবায়ন।</p>
<p><strong>তথ্যসূত্র</strong>:<br>​ডিজিটাল পেমেন্ট ও ক্যাশলেস ডাটা: <a href="https://www.bb.org.bd/en/index.php/financialactivity/paymntsysdata">https://www.bb.org.bd/en/index.php/financialactivity/paymntsysdata</a></p>
<p>​ই-কমার্স পলিসি ও বাজার বিবরণী: <a href="https://e-cab.net/publications">https://e-cab.net/publications</a></p>
<p>​ঈদ বাণিজ্য ও রিটার্ন রেট জরিপ: <a href="https://www.dcraf.org/publications">https://www.dcraf.org/publications</a></p>
<p>​মার্চেন্ট লজিস্টিকস ও কভারেজ: <a href="https://steadfast.com.bd/coverage">https://steadfast.com.bd/coverage</a></p>
<p>​সবুজ অর্থনীতি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় ডাটা: <a href="https://www.powercell.gov.bd/site/page/89bd60cb-9a84-48f8-b3d5-e24c6b5413f2">https://www.powercell.gov.bd/site/page/89bd60cb-9a84-48f8-b3d5-e24c6b5413f2</a></p>
<hr>
<p>লেখকঃ <span> </span><span>উদ্যোক্তা, সংগঠক ও কলাম লেখক</span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বট যখন জনতার ছদ্মবেশ নেয়</title>
<link>https://digibanglatech.news/176741</link>
<guid>https://digibanglatech.news/176741</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202605/image_870x580_6a090a2b7a317.jpg" length="141727" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 17 May 2026 12:22:24 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশ গত এক দশকের বেশি সময় ধরে ডিজিটাল রূপান্তরকে উন্নয়নের বড় অর্জন হিসেবে তুলে ধরেছে। সরকারি সেবা অনলাইনে এসেছে, ব্যবসা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর হয়েছে, গণমাধ্যম ডিজিটাল পাঠকের ওপর নির্ভর করছে, আর সাধারণ মানুষ রাজনীতি, শিক্ষা, ধর্ম, বিনোদন, বাজারদর, চাকরি ও সামাজিক অভিযোগ নিয়ে অনলাইনে কথা বলছে। কিন্তু এই ডিজিটাল জনপরিসর কতটা সত্যিকারের মানুষের কণ্ঠে গঠিত, আর কতটা স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রনির্ভর, সে প্রশ্ন এখন নতুন করে সামনে এসেছে।</p>
<p>প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেছেন, বাংলাদেশের অনলাইন সামাজিক ট্রাফিকের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই বট ট্রাফিক, প্রকৃত ব্যবহারকারীর কার্যক্রম নয়। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, সরকারি ও বেসরকারি ডেটা সুরক্ষায় বাংলাদেশের এখনো অনেক পথ যেতে হবে। বক্তব্যটি উদ্বেগজনক। তবে এটিকে ঠান্ডা মাথায় বিশ্লেষণ করা দরকার। একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি মন্তব্য গুরুতর সতর্কসংকেত হতে পারে, কিন্তু তা পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নিরীক্ষার বিকল্প নয়। এখন প্রয়োজন স্বাধীন গবেষণা, প্ল্যাটফর্ম-ভিত্তিক তথ্যপ্রকাশ, সাইবার নিরাপত্তা মূল্যায়ন এবং জনস্বার্থে প্রমাণভিত্তিক আলোচনা।</p>
<p>বট ট্রাফিক বলতে ওয়েবসাইট, অ্যাপ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের বদলে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার বা প্রোগ্রামের মাধ্যমে তৈরি হওয়া কার্যক্রমকে বোঝায়। সব বট খারাপ নয়। সার্চ ইঞ্জিনের ক্রলার যেমন ওয়েবসাইটের তথ্য সূচিবদ্ধ করে মানুষকে তথ্য খুঁজে পেতে সাহায্য করে। মনিটরিং বট ওয়েবসাইট চালু আছে কি না, তা পরীক্ষা করে। কিছু স্বয়ংক্রিয় টুল গবেষণা, সেবা ব্যবস্থাপনা বা তথ্য বিশ্লেষণে সহায়ক হতে পারে। কিন্তু ক্ষতিকর বট সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়। এগুলো ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারে, ভুয়া লাইক-শেয়ার-কমেন্ট বাড়াতে পারে, ডেটা স্ক্র্যাপ করতে পারে, পাসওয়ার্ড পরীক্ষা করে অ্যাকাউন্ট দখলের চেষ্টা করতে পারে, স্প্যাম ছড়াতে পারে, বিজ্ঞাপন জালিয়াতি করতে পারে এবং কখনো কখনো জনমতকে কৃত্রিমভাবে প্রভাবিত করতে পারে।</p>
<p>বাংলাদেশের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শুধু বিনোদনের জায়গা নয়। এটি রাজনৈতিক বিতর্কের ক্ষেত্র, ব্যবসার বাজার, সংবাদমাধ্যমের পাঠকসংগ্রহের মাধ্যম, নাগরিক অভিযোগের জায়গা এবং অনেকের জন্য সামাজিক পরিচয়ের অংশ। এই পরিসরে যদি বড় অংশের ট্রাফিক স্বয়ংক্রিয় হয়, তবে আমাদের অনলাইন বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা ভুল হতে পারে।</p>
<p>আজ লাইক, শেয়ার, ভিউ, কমেন্ট, ফলোয়ার সংখ্যা, এনগেজমেন্ট রেট—এসবকে প্রায়ই জনমতের সূচক হিসেবে ধরা হয়। রাজনৈতিক দল এগুলো দেখে নিজের জনপ্রিয়তা বিচার করে। গণমাধ্যম এগুলো দেখে খবরের অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বিজ্ঞাপনে টাকা ঢালে। নাগরিক সংগঠন ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের সাফল্য মাপে। সরকারি সংস্থা অনলাইন প্রতিক্রিয়া দেখে জনমত বোঝার চেষ্টা করে। কিন্তু এই সংখ্যার বড় অংশ যদি বট দ্বারা তৈরি হয়, তাহলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে দূষিত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে।</p>
<p>এটি গণতন্ত্রের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। একটি সমন্বিত বট নেটওয়ার্ক প্রান্তিক কোনো মতামতকে সংখ্যাগরিষ্ঠের মত বলে দেখাতে পারে। কোনো সাংবাদিককে আক্রমণ করতে পারে। কোনো নারী অধিকারকর্মীকে অনলাইনে হয়রানির মুখে ফেলতে পারে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে গুজব ছড়াতে পারে। কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে কৃত্রিম ক্ষোভ তৈরি করতে পারে। আবার কোনো প্রকৃত নাগরিক ক্ষোভকে ভুয়া বলে সন্দেহের মুখেও ফেলতে পারে। দুই দিকেই বিপদ আছে।</p>
<p>বটের সমস্যা শুধু ভুয়া জনপ্রিয়তা নয়, ভুয়া শত্রুতাও। একজন সাংবাদিক যদি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শত শত আক্রমণাত্মক মন্তব্য পান, তিনি ভাবতে পারেন জনমত তাঁর বিরুদ্ধে চলে গেছে। একজন নারী রাজনীতিক বা মানবাধিকারকর্মী সমন্বিত অনলাইন আক্রমণে চুপ হয়ে যেতে পারেন। একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ভুয়া রিভিউর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। কোনো গণপ্রতিষ্ঠান বট-চালিত প্রতিক্রিয়াকে প্রকৃত নাগরিক মতামত ধরে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এইভাবে স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার ক্ষমতার উপকরণ হয়ে ওঠে।</p>
<p>বাংলাদেশের গণমাধ্যমও এই ঝুঁকির বাইরে নয়। অনেক সংবাদমাধ্যম এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমনির্ভর পাঠকপ্রবাহ ও বিজ্ঞাপন আয়ের ওপর নির্ভরশীল। যদি বট ট্রাফিক এই ব্যবস্থায় বড় ভূমিকা নেয়, তাহলে সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তও প্রভাবিত হতে পারে। সংবেদনশীল, উত্তেজনাপূর্ণ বা বিভাজনমূলক কনটেন্ট যদি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বেশি ছড়ানো হয়, তাহলে গুরুতর সাংবাদিকতা পিছিয়ে পড়বে। ভালো প্রতিবেদন কম দৃশ্যমান হবে, আর উত্তেজনানির্ভর বিষয় সামনে আসবে। এটি শুধু প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়, জনস্বার্থ সাংবাদিকতার সংকট।</p>
<p>বিজ্ঞাপন বাজারও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কোনো প্রতিষ্ঠান যদি ভিউ, ক্লিক বা এনগেজমেন্টের জন্য টাকা দেয়, অথচ তার বড় অংশ বট-সৃষ্ট, তবে অর্থ অপচয় হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, কারণ তারা প্রায়ই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিজ্ঞাপনকে বিক্রির প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে। তারা হয়তো দেখছে বিজ্ঞাপনে প্রচুর ক্লিক হচ্ছে, কিন্তু প্রকৃত ক্রেতা আসছে না। একই সমস্যা নাগরিক সমাজের প্রচারাভিযানেও হতে পারে। অনলাইনে প্রচার সফল দেখালেও তা বাস্তবে মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।</p>
<p>এর সঙ্গে আছে সাইবার নিরাপত্তার বড় প্রশ্ন। ক্ষতিকর বট অনেক সময় ক্রেডেনশিয়াল স্টাফিং করে, অর্থাৎ অন্য কোথাও ফাঁস হওয়া ব্যবহারকারীর নাম ও পাসওয়ার্ড বিভিন্ন সাইটে পরীক্ষা করে। তারা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতে পারে, ফর্মে ভুয়া তথ্য জমা দিতে পারে, সার্ভারকে অতিরিক্ত চাপ দিতে পারে, অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস বা এপিআই আক্রমণ করতে পারে এবং আর্থিক প্রতারণায় সহায়তা করতে পারে। বাংলাদেশ যখন ডিজিটাল সরকারি সেবা, মোবাইল আর্থিক সেবা, ই-কমার্স, অনলাইন শিক্ষা ও স্বাস্থ্য তথ্যব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে, তখন বট ট্রাফিক কেবল বিরক্তিকর প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়; এটি জাতীয় ডিজিটাল নিরাপত্তার প্রশ্ন।</p>
<p>উপদেষ্টার ডেটা সুরক্ষা সম্পর্কিত সতর্কতাও তাই গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। নাগরিকদের পরিচয়, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আর্থিক ও ব্যক্তিগত তথ্য ক্রমেই ডিজিটাল ব্যবস্থায় জমা হচ্ছে। মানুষকে বলা হচ্ছে ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করতে, কিন্তু সেই সেবার ডেটা যদি নিরাপদ না থাকে, তবে ডিজিটাল রূপান্তর মানুষের ক্ষমতায়নের বদলে নতুন ঝুঁকি তৈরি করবে। ডিজিটাল আস্থা ভেঙে গেলে সেবা সম্প্রসারণও দুর্বল হবে।</p>
<p>বাংলাদেশের প্রথম কাজ হওয়া উচিত পরিষ্কার ধারণা তৈরি করা। ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ অনলাইন সামাজিক ট্রাফিক যদি বট হয়, তাহলে জানতে হবে কোন প্ল্যাটফর্মে, কোন ধরনের ট্রাফিকে, কোন পদ্ধতিতে এই হিসাব করা হয়েছে। ভালো বট, খারাপ বট, বাণিজ্যিক বট, রাজনৈতিক বট, বিদেশি উৎসের বট, এআই-চালিত স্ক্র্যাপার, স্প্যাম অ্যাকাউন্ট এবং প্রকৃত ব্যবহারকারীর স্বয়ংক্রিয় টুল—সব এক করে দেখলে বিভ্রান্তি বাড়বে। তাই স্বাধীন জাতীয় বট ট্রাফিক মূল্যায়ন জরুরি।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, বৈশ্বিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মগুলোর কাছ থেকে স্বচ্ছতা দাবি করতে হবে। বাংলাদেশ শুধু তাদের সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করতে পারে না। দেশে কার্যরত বড় প্ল্যাটফর্মগুলোকে সমন্বিত ভুয়া আচরণ, ফেক এনগেজমেন্ট, বিজ্ঞাপন জালিয়াতি, রাজনৈতিক প্রভাব অপারেশন, অনলাইন হয়রানি ও প্ল্যাটফর্ম নিরাপত্তা সম্পর্কে অর্থবহ তথ্য দিতে হবে। তবে এই প্রক্রিয়া হতে হবে অধিকারভিত্তিক। ভুয়া ট্রাফিকের নামে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত করা যাবে না।</p>
<p>তৃতীয়ত, সরকারকে সতর্ক থাকতে হবে যেন বট ট্রাফিকের যুক্তি অস্পষ্ট সেন্সরশিপের অস্ত্র না হয়। এটি বড় ঝুঁকি। যদি বলা হয় অনলাইনের বড় অংশ বট, তবে কোনো কোনো কর্তৃপক্ষ প্রকৃত নাগরিক সমালোচনাকেও ভুয়া বলে উড়িয়ে দিতে চাইতে পারে। এটা গণতান্ত্রিকভাবে বিপজ্জনক। বট আছে মানে নাগরিক ক্ষোভ নেই, তা নয়। বট আছে মানে সব সমালোচনা কৃত্রিম, তা-ও নয়। বরং দরকার প্রমাণ, স্বচ্ছতা ও স্বাধীন যাচাই।</p>
<p>চতুর্থত, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, এনজিও, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সাইবার নিরাপত্তা সক্ষমতা বাড়াতে হবে। ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন ফায়ারওয়াল, বট ডিটেকশন, রেট লিমিটিং, শক্তিশালী লগইন ব্যবস্থা, নিরাপদ এপিআই, নিয়মিত নিরাপত্তা নিরীক্ষা এবং গোপনীয়তা-সুরক্ষিত ডেটা ব্যবস্থাপনা জরুরি। Cloudflare, AWS Web Application Firewall বা অনুরূপ টুল সহায়ক হতে পারে, কিন্তু প্রযুক্তি একা যথেষ্ট নয়। দক্ষ জনবল, নীতিমালা, জবাবদিহি ও প্রশিক্ষণ সমান গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p>পঞ্চমত, ডিজিটাল সাক্ষরতাকে নাগরিক শিক্ষার অংশ করতে হবে। সবাইকে বুঝতে হবে, ট্রেন্ডিং মানেই সত্য নয়, ভাইরাল মানেই জনমত নয়, আর প্রতিটি কমেন্টের পেছনে মানুষ আছে, এমনও নয়। স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয়, কমিউনিটি মিডিয়া, নাগরিক সংগঠন ও গণমাধ্যম মানুষকে শেখাতে পারে কীভাবে ভুয়া এনগেজমেন্ট, ফিশিং, স্প্যাম, গুজব ও সমন্বিত অনলাইন আক্রমণ শনাক্ত করা যায়। ডিজিটাল সাক্ষরতা শুধু ইন্টারনেট ব্যবহার শেখা নয়; ইন্টারনেট কীভাবে মানুষকে প্রভাবিত বা ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, সেটিও বোঝা।</p>
<p>ষষ্ঠত, নাগরিক সমাজ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। বাংলাদেশে বট নেটওয়ার্ক, ভুয়া তথ্যপ্রবাহ, প্ল্যাটফর্ম জবাবদিহি, অনলাইন লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা, রাজনৈতিক ম্যানিপুলেশন ও ডেটা সংগ্রহ নিয়ে জনস্বার্থে গবেষণা দরকার। এই কাজ শুধু সরকার বা বিদেশি প্ল্যাটফর্মের হাতে ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়, গণমাধ্যম, ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ও প্রযুক্তিবিদদের যৌথভাবে কাজ করতে হবে।</p>
<p>বাংলাদেশের সামনে চ্যালেঞ্জটি সূক্ষ্ম। ডিজিটাল পরিসর নিরাপদ করতে হবে, কিন্তু নাগরিক পরিসর বন্ধ করা যাবে না। ম্যানিপুলেশন ঠেকাতে হবে, কিন্তু বৈধ মতপ্রকাশ অপরাধী করা যাবে না। ডেটা সুরক্ষা করতে হবে, কিন্তু নজরদারি রাষ্ট্র তৈরি করা যাবে না। প্ল্যাটফর্মকে জবাবদিহির মধ্যে আনতে হবে, কিন্তু রাষ্ট্রকে অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতা দেওয়া যাবে না।</p>
<p>মূল প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কী ধরনের ডিজিটাল সমাজ গড়তে চায়। বট-ভরা ডিজিটাল জনপরিসর সত্যের চেয়ে শব্দকে, আলোচনার চেয়ে উত্তেজনাকে এবং বিশ্বাসের চেয়ে ম্যানিপুলেশনকে পুরস্কৃত করে। এতে নাগরিক জানতেই পারেন না, তিনি মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, না যন্ত্রের সঙ্গে। ব্যবসা নিজের তথ্য বিশ্বাস করতে পারে না। সরকার প্রকৃত জনমত বুঝতে পারে না। গণমাধ্যম তার পাঠক হারায় অ্যালগরিদমের ভিড়ে।</p>
<p>বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর এখন শুধু সম্প্রসারণের নয়, সততা ও নিরাপত্তার পর্যায়ে প্রবেশ করতে হবে। বেশি ব্যবহারকারী, বেশি অ্যাপ, বেশি ডেটা এবং বেশি প্ল্যাটফর্ম হলেই শক্তিশালী ডিজিটাল সমাজ তৈরি হয় না। আস্থা, জবাবদিহি, নিরাপত্তা ও মানবিক অধিকার ছাড়া ডিজিটাল রূপান্তর ভঙ্গুর।</p>
<p>উপদেষ্টার বক্তব্য তাই এক দিনের সংবাদ হয়ে হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়। যদি সত্যিই বাংলাদেশের অনলাইন সামাজিক ট্রাফিকের বড় অংশ বটনির্ভর হয়, তবে জাতীয়ভাবে উত্তর খোঁজা জরুরি। কে মাপছে? কী মাপছে? কোন প্ল্যাটফর্ম বেশি আক্রান্ত? রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক, বিদেশি বা এআই-চালিত নেটওয়ার্কের ভূমিকা কী? নারী, সাংবাদিক, সংখ্যালঘু ও তরুণেরা কীভাবে আক্রান্ত হচ্ছে? ভুয়া এনগেজমেন্ট ও বিজ্ঞাপন জালিয়াতিতে কত অর্থ নষ্ট হচ্ছে?</p>
<p>বট সমস্যা শুধু যন্ত্রের সমস্যা নয়। এটি ক্ষমতা, মুনাফা, নিরাপত্তা ও আস্থার সমস্যা। বাংলাদেশ যদি এটিকে জনস্বার্থ ও গণতান্ত্রিক জবাবদিহির প্রশ্ন হিসেবে দেখে, তবে সমাধানের পথ তৈরি হবে। লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন এক ডিজিটাল পরিসর, যেখানে নাগরিক কথা বলতে পারবেন, ব্যবসা সততার সঙ্গে কাজ করতে পারবে, সাংবাদিকতা তথ্যের ওপর দাঁড়াবে, প্রতিষ্ঠান জবাবদিহি করবে এবং মানুষের ডেটা সুরক্ষিত থাকবে।</p>
<p>কৃত্রিম ট্রাফিকের ওপর কোনো দেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ দাঁড়াতে পারে না। বাংলাদেশের দরকার বাস্তব মানুষ, বাস্তব আস্থা এবং বাস্তব জবাবদিহি।                                                                                                                                                                                                                                                  <br><strong></strong></p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong> ডিজিটাল গণতন্ত্র, তথ্যের অখণ্ডতা ও গণমাধ্যম উন্নয়ন নীতিবিষয়ক বিশেষজ্ঞ এবং দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বিকল্প জ্বালানীর নতুন দিগন্তে রুফটপ সোলার ও সোলার কার্ড</title>
<link>https://digibanglatech.news/175885</link>
<guid>https://digibanglatech.news/175885</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202605/image_870x580_69ff0b9c35502.jpg" length="137180" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 09 May 2026 00:24:50 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p><span>বিশ্বব্যাপী চলছে গ্রিন ও ক্লিন এনার্জি আন্দোলন। জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে বেরিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর জোর দিচ্ছে সব দেশ। এর অংশ হিসেবে সৌরবিদ্যুতে আগ্রহ বাড়ছে সচেতন নাগরিকদের। বাংলাদেশ এক্ষেত্রে বহু বছর পিছিয়ে ছিল। তবে ইরান যুদ্ধ ও বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে সরকার সম্প্রতি সৌরবিদ্যুতে জোর দেওয়া শুরু করেছে।</span></p>
<p><span>বর্তমান সরকার প্রাথমিকভাবে আগামী ৫ বছরে ১০ হাজার সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ঘোষণা দেয়। তবে এটি বেশ বিলাসী পরিকল্পনা বলেই বিভিন্ন পক্ষ মন্তব্য করে। এতে সরকার পরিকল্পনায় কিছুটা সংশোধন করেছে। ১০ হাজারের পরিবর্তে পাঁচ বছরে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের কথা বলা হচ্ছে। তবে গ্রিড সোলার স্থাপনের মাধ্যমে ৫ হাজার মেগাওয়াটের লক্ষ্যপূরণ সম্ভব না বলেই মনে করা হচ্ছে।</span></p>
<p><span>বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতা এ ক্ষেত্রে বড় উদাহরণ। বিগত সরকার গ্রিড সোলার স্থাপনে বড় ধরনের দরপত্র আহ্বান করেও সাড়া পায়নি। গত বছর ৫ হাজার ২৩৮ মেগাওয়াটের ৫৫টি গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের দরপত্র আহ্বান করা হলেও মাত্র ৯০০ মেগাওয়াটের প্রস্তাব জমা পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে গত ২৭ এপ্রিল পুনরায় ৪৯৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১০টি গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।</span></p>
<p><span>সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা বলছে, সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বড় সাফল্য পেয়েছে পাকিস্তান। দেশটি মাত্র চার বছরে ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন ২৫ শতাংশে নিয়ে গেছে। তবে এর প্রায় পুরোটাই হোম সোলার তথা রুফটপ সোলার। দেশটির এ সাফল্যের পেছনে মূলত দুটি কারণ কাজ করেছে। প্রথম কারণটি হলো, গ্রিড বিদ্যুতের বড় ধরনের ঘাটতি। পাকিস্তানের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাংলাদেশের মতোই অপরিকল্পিতভাবে বাড়ানো হয়েছিল। তবে চাহিদামতো বিদ্যুৎ দিতে পারছিল না দেশটির সরকার।</span></p>
<p><span>দ্বিতীয় কারণটি হলো, সরকারের সরবরাহকৃত গ্রিড বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি। বাংলাদেশের মতোই পাকিস্তান সরকার এ খাতে প্রচুর ভর্তুকি দিত। তাই বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি কমাতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মানতে গিয়েছে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে গেলে জনগণ তা ভালোভাবে নেয়নি। একদিকে বিদ্যুৎ সংকট অন্যদিকে দাম বৃদ্ধি পাকিস্তানে রুফটপ সোলার স্থাপনে বিল্পব এনে দেয়। সাধারণ জনগণ নিজ উদ্যোগে রুফটপ সোলার স্থাপন শুরু করে।</span></p>
<p><span>বাংলাদেশেও ‍রুফটপ সোলার ছড়িয়ে দিতে চাচ্ছে সরকার। রাজধানীতে বিদ্যুতের চাপ কমাতে আবাসিক ভবনগুলোকে ধাপে ধাপে সোলার পাওয়ারের আওতায় আনতে চাচ্ছে সরকার। এজন্য দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন ও বেসরকারি খাতকে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে ৭ মে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।</span></p>
<p><span>এখন প্রশ্ন- ঢাকার ছাদে সোলার বসানো কতটা সহজ হবে? বা উদ্যোগটি আদৌ সফল হবে কিনা? বিষয়টি একদিক থেকে দেখলে খুবই সহজ, আবার ভিন্ন দিক থেকে মনে হতে পারে খুবই জটিল। জটিল হওয়ার কারণ ঢাকার বড় অংশের আবাসিক বাসভবন ছোট। তাই চাইলেই সহজে ছাদে সোলার প্যানেল বসানো সম্ভব না। আবার ঢাকার প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই ভাড়া বাসায় থাকে। তাই ভাড়া বাসায় সোলার প্যানেল বসাতে গেলে জমি তথা ভবন মালিকের ইচ্ছার বিষয় আছে।</span></p>
<p><span>যদিও এর বিকল্প কিছু সুযোগ সরকারের সামনে রয়েছে। প্রথমত, ঢাকার সব সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়) সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা। দ্বিতীয়ত, ঢাকার সব মসজিদগুলোর ছাদকে রুফটপ সোলারের জন্য ব্যবহার করা। তৃতীয়ত, সব সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর ছাদে রুফটপ সোলার স্থাপন।</span></p>
<p><span>এর বাইরে ঢাকার বহুতল সব আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদ, শপিংমলগুলোর ছাদ, সরকারি সমস্ত ভবনের ছাদ রুফটপ সোলারের জন্য ব্যাপকভাবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করতে পারে সরকার। এসব ভবনে প্রচুর বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হয়। তাই রুফটপ সোলার ছড়িয়ে দিতে পারলে তা বিদ্যুৎ ব্যবহার সাশ্রয়ে অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠবে। ঢাকায় এ মডেল সফল হলে ধারাবাহিকভাবে অন্য শহর ও পৌর এলাকাতেও তা ছড়িয়ে দেওয়া যাবে।</span></p>
<p><span>প্রশ্ন উঠেছে. ঢাকাতেই কেন রুফটপ সোলারে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। উত্তর হলো, ঢাকায় বিদ্যুতের ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের প্রায় ৩০ শতাংশ শুধু ঢাকাতেই ব্যবহার হয়। তাই ঢাকায় সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন বাড়াতে পারলে চাহিদা নিয়ন্ত্রণ করে সে বিদ্যুৎ ঢাকার বাইরে বিশেষত গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ বাড়ানো যাবে। তবে সৌরবিদ্যুতের ব্যাপক বিস্তারে জমি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকার মতো বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহরে এটি আরও বেশি চ্যালেঞ্জের বিষয়।</span></p>
<p><span>যদিও সরকার চাইলেই কিছু স্থাপনাকে এ কাজে ব্যবহার করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে বড় তিনটি বাস টার্মিনাল (সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী)। এছাড়া রয়েছে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন। এসব টার্মিনাল ও স্টেশনের ছাদ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) ভিত্তিতে এসব স্থাপনার ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করা হলে তা সরকারের আয়ের একটি উৎসও হতে পারে।</span></p>
<p><span>ব্যক্তি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে শুধু নীতিমালা করলেই চলবে না। দরকার সরকারের নীতি সহায়তা তথা আর্থিক সহায়তা। এ জন্য সরকার চাইলে সোলার কার্ড প্রচলন করতে পারে। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের পুরো খরচ একবারে ব্যক্তি খাতে বহন করতে হলে যে বিনিয়োগ দরকার তার পুরোটা অনেকের পক্ষে করা সম্ভব না। তাই এক্ষেত্রে অর্ধেক অর্থ সরকার দুই থেকে তিন বছরের জন্য ঋণ হিসেবে দিতে পারে সোলার কার্ডধারীদের।</span></p>
<p><span>সোলার কার্ড প্রচলনের জন্য সরকার একটি মডেল স্থাপন করতে পারে। মডেলটি হতে পারে, রুফটপ সোলার স্থাপনে মোট মূল্যের অর্ধেক গ্রাহক সরাসরি পরিশোধ করল। বাকি অর্ধেক সরকার ঋণ হিসেবে দেবে, যা গ্রাহক দুই থেকে তিন বছরে পরিশোধ করে দেবে। বিনা সুদে এ ঋণটা সরকার দিতে পারে, যা সোলার কার্ডধারীরা পাবেন। এসব সোলার কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সোলার প্যানেল, ব্যাটারি ইত্যাদি জামানত হিসেবে বিবেচিত হবে। সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ফলে গ্রাহকের যে বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে তা দিয়েই সে মাসিক কিস্তিতে সরকারের ঋণ পরিশোধ করে দেবে।</span></p>
<p><span>একইভাবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল এবং আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন মালিকদের ঋণ দিতে পারে সরকার সোলার কার্ডের আওতায়। এছাড়া মসজিদসহ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের ক্ষেত্রে সরকার কিছুটা ভর্তুকিও দিতে পারে। এভাবে উদ্যোগ নিলে আগামী পাঁচ বছরে ঢাকাসহ সারা দেশে ব্যক্তি পর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে।</span></p>
<hr>
<p><span><strong>লেখকঃ</strong> সম্পাদক, দৈনিক জাতীয় অর্থনীতি</span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>পার্সোনাল ডেটা প্রটেকশন আইন: ঘরের শত্রু বিভীষণ</title>
<link>https://digibanglatech.news/176740</link>
<guid>https://digibanglatech.news/176740</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202508/image_870x580_68963a2344da1.jpg" length="129039" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 01 May 2026 12:10:38 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>সংশোধিত পার্সোনাল ডেটা প্রটেকশন আইন থেকে এমন ৫টা সুরক্ষা কৌশল তুলে দেয়া হয়েছে। এরগুলে হলো সিংক্রোনাইজ লোকাল ব্যাকআপ, ক্রিটিকাল ইনফরমেশন স্ট্র্যাকচার অ্যান্ড গভর্নেন্স রেস্টিক্টেড ডেটা, ডেটা ডিকশনারি, ব্রিচ হলে তা কত দিনের মধ্যে ফেরাতে হবে তার বিধান এবং সাইবার সিকিউরিটি প্রোটোকল। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বাদ দেয়ায় ভবিষ্যতে সরকার ও বিএনপিকে বিপদে ফেলবে। এসব বুঝে করা হয়েছে; নাকি না বুঝে, আল্লাহ্‌ই ভালো জানেন!  </p>
<p>রিফর্ম করতে হলে আপনাকে কোর পয়েন্টে এডামেন্ট থাকতে হবে এবং কোর পয়েন্ট জেনে সেখানে স্থির থাকতে হবে। দুনিয়া উল্টে গেলেও আপনাকে রিফর্মের কোর ইস্যুর পক্ষে অটল থাকতে হবে। আমরা শত আক্রমণ, অপপ্রচার, অপমান, অপদস্ত হয়েও কিছু কাজে ছাড় দেইনি। যা করার লক্ষ্য স্থির করেছি করে এসেছি। প্ল্যাটফর্ম গুলার সাথে কন্টিনিউয়াস ডিবেট করেছি। আমাদের চারটা আইন জাতীয় সংসদ গ্রহণ করেছে, সেটার জন্য ধন্যবাদ দিয়েছি সরকারসহ সবাইকে। তবে সরকারের একজন উপদেষ্টা পুর্বাপর আলোচনা, নেগোসিয়েশন, ডিবেটিং পয়েন্ট, কোন কোন পয়েন্টে সমঝতা হয়েছে - এগুলা না জেনে এবং দেশের ও দলের ভবিষ্যৎ না ভেবে আইনে এমন আপোষ করেছেন, যার দ্বারা তিনি বিএনপি এবং সরকারকে বিপদে ফেলার পথ তৈরি করেছেন। </p>
<p>ডাটা গভর্নেন্স (এনডিজি এক্ট) আর পার্সোনাল ডেটা প্রটেকশন আইন (পিডিপি এক্ট)'তে স্পষ্টভাবে যেকোনো জাতীয় পরিচয় পত্রের জালিয়াতির ঘটনাকে ক্রিমিনাল অফেন্স বিধান আর শাস্তির বিধান ছিলো। একটা প্ল্যাটফর্মের হাবিজাবি কথা শুনে সব জায়গা থেকে ক্রিমিনাল প্রভিশন তুলে দেওয়ায় এখন ফার্মার কার্ড ও  ফ্যামিলি কার্ড বিষয়ক জালিয়াতিকে সহজ করা হয়েছে। বিএনপি সরকার এটা নিয়ে ভবিষ্যতে সাফার করবে। কিন্তু সেভাবে আইনি সুরক্ষা পাবে না। বাংলাদেশের এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন, ড্রাইভিং লাইসেন্স, পাসপোর্ট সহ সকল জালিয়াতির প্রেক্ষাপট থাকার স্বত্বেও উনার এই কাজ দেশের (এবং পার্টিরও) কী ক্ষতি করেছে ওটা নিজেও বোঝেন নাই সম্ভবত। </p>
<p>ব্যবসা সহজীকরণকে প্রমোট করতে শুধুমাত্র কোম্পানি কর্তৃক সংগঠিত অপরাধের বেলায় ক্রিমিনাল অফেন্স তুলে দিয়েছি। চাইল্ড ডেটা, সাইবার হ্যাকিং, ক্রিটিক্যাল ইনফ্রা হ্যাকিং ও ডেটা ব্রেচ, র‍্যানসম সংক্রান্ত অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিগত গোপিনীয় ও সংবেদনশীল ডেটার বেচা-বিক্রি, মিসইউজ, ব্ল্যাক্মেইলিং (ইন্ডিভিজুয়াল কিংবা বাল্ক) সহ সব কিছু থেকে ক্রিমিনাল ইন্টেনশন উঠিয়ে দিসে। অথচ প্রতিটি অপরাধ ক্রিমিনাল ইন্টেনশন থেকে হচ্ছে বাংলাদেশে। এখানে ডেটা ব্রেচ, প্রাইভেসি ব্রেচ, ফাইনান্সিয়াল স্ক্যামিং সহ সাইবার হামলা ও র‍্যান্সম এটাক জনিত পার্সোনাল ডেটা ব্রেচ, প্রাইভেসি ব্রেচ গুলার দেশীয় প্রেক্ষাপট বেমালুম বেআমল করা হয়েছে। অদ্ভুত।</p>
<p>আরেকটা উদাহরণ দেই, পার্সোনাল ডেটা প্রটেকশন আইনে (পিডিপি এক্ট)'র আরও কিছু গার্ড'রেল তুলে দিয়েছেন, না বুঝে। যেমন government restricted data, Critical Information Infastruture CII ডেটার ক্ষেত্রে সিনক্রোনাস লোকাল ব্যাকআপের বিষয় প্ল্যাটফর্মও মেনে নিসিলো। শুরুতে আমরা সব পার্সোনাল ডেটার সিঙ্ক্রোনাস লোকাল ব্যাকাপের কথা বলেছি। এটাকে ডি-ফ্যাক্টো লোকালাইজেশন বলে অপপ্রচার করা হয়েছে, অথচ পার্সোনাল ডেটার ফিল্ড গুলো মোট ডেটার ০,০০০০৫% বা তারও কম। যাইহোক, আমরা আইন সংশোধন করে বলেছি, government restricted data, Critical Information Infrastructure CII ডেটার ক্ষেত্রে সিনক্রোনাস লোকাল ব্যাপাক লাগবে, অন্যত্র লাগবে না।  </p>
<p>কারণ- কোনও কারণে ভেন্ডর স্যাংশনে পড়লে বা প্রাকৃতিক বা দৈব দুর্বিপাকে পড়ে ওই ডেটার রিমোট স্টোরেজে এক্সেস হারালে- এই ক্রিটিক্যাল সেক্টর গুলো প্যারালাইজ হবে। সেবা দেয়া বন্ধ হয়ে যাবে। কারণ- ফিনটেক, হেলথ টেক সহ বিভিন্ন ক্রিটিক্যাল সেক্টরের পার্সোনাল ডেটায় এক্সেস না পেলে আপনি সিটিজেন আইডেন্টিফাই করতে পারবেন না। দেশের বিশেষ কিছু খাত যেমন ফাইনান্স্যাল সেক্টরের আইডি ভেরিফিকেশন বা হেলথ সেক্টরের ভেরিফিকেশন ইত্যাদি বন্ধে পুরো সেক্টর নন ফাংশনাল হবে। সেবা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর সাথে প্ল্যাটফর্মের তেমন কোনো সম্পর্ক সেভাবে নাই। সম্পর্ক ভেন্ডোরের। সফটওয়ার ও হার্ডওয়ার ভেন্ডরের কথা মনে না রেখে, শুধু  সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের কথা শুনে সেটাও তুলে দেয়া হয়েছে। অথচ এটা প্ল্যাটফর্ম সরকারের রেস্ট্রিক্টেড ও সিআইআই ডেটার সিঙ্ক্রোনাস লোকাল ব্যাকআপ মেনে নিয়েছিলো আমাদের নেগসিয়েশনে।</p>
<p>অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ছিল যে, আপনি পার্সনের সম্মতি এবং অথরিটির অবহিতকরণের পরে ডেটা বিদেশে নিতে পারবেন। কিন্তু আপনাকে ডেটা ডিকশিনারি জানাতে হবে। এটাও তুলে দেয়া হয়েছে। অথচ কয়েকদিন আগেই মধ্যপ্রাচ্যের ডেটা সেন্টারে হামলা হয়েছে। বাল্ক এমাউন্ট পার্সোনাল ডেটা স্টোরেজ ডেটা ডিকশনারি না জানলে, এসব ডেটা ভালনারেবল হলে তার টাইমলি রিকভারি সম্ভব না। এর বাইরে, প্রাকৃতিক দুর্যোগ আছে। বন্যা সুনামি, ভূমিকম্প, অগ্নিকান্ড ইত্যাদি তো আছেই। এটা কার স্বার্থে?</p>
<p>আরেকটা গার্ড রেল ছিল এরকম যে, লার্জ স্কেলের পার্সোনাল ডেটা দেশের বাইরে কোন কোম্পানি (ভেন্ডর বা সার্ভিস প্রভাইডার বা প্ল্যাটফর্ম) তার স্টোরেজের সিকিউরিটি স্টান্ডার্ড জানাতে হবে কর্তৃপক্ষকে। কারণ সব ভেন্ডরের সিকিউরিটি কমপ্লায়েন্স নাই। সবাই গুগল বা মেটা না। এখানে বিনিময়, পরিচয়, পাঠাও বা স্বপ্নের মতো কোম্পানি আছে যারা ডেটা  সিকিউরিটিতে বিনিয়োগ করে না। এটাও তুলে দেয়া হয়েছে! </p>
<p>অথচ বিষয়টি নিয়ে আইন যারা বানিয়েছে তাদেরকে জিজ্ঞেস করা যেত। আসলে নলেজ ড্রিভেন সোসাইটি আকাশ থেকে বাংলাদেশে পয়দা হবে না! সারা বিশ্বে বাল্ক ডেটা ব্রিচের ঘটনা ঘটলে, সাইবার হ্যাকিং এর পরে ডেটা গভর্নেন্স অথোরিটিকে বা সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে রিকভারি প্রসেস জানাতে হয়। আমরা এই বিধান রেখেছি, তাও তুলে দেয়া হয়েছে! আমরা ৯০ দিনের মধ্যে এসব হ্যাকিং এর ক্ষেত্রে পার্সোনাল ডেটা হস্তান্তর করার বিধান রেখেছি, সেটাও বাদ দেয়া হয়েছে। এসবের মানে কী? </p>
<p>কয়েকদিন আগে ইউরোপের একটা মোবাইল সার্ভিস প্রভাইডারের কয়েক মিলিয়ন কাস্টমারের পার্সোনাল ডেটা হ্যাক/লিক হয়ে গেছে। আদালতে মমলা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ এসব ক্ষেত্রে সুরক্ষা চেয়ে প্রতিকার না পেলে আদালতে যেতে পারবে না, ভবিষ্যতে। কয়েকদিন আগেই স্বপ্নের ডেটা লিক হয়েছে। </p>
<p>আসলে সংশোধন করতে গিয়ে আইন প্রণয়নে যুক্ত স্টেকহোল্ডারদের কালেক্টিভ ইফোর্টকে শুধুমাত্র অসম্মান করাই হয়নি, বরং দেশের ক্ষতি ডেকে আনা হয়েছে। দেশের ডিজিটাল সভ্রেন্টিকে কম্প্রমাইজ করা হয়েছে। ডেটা গভর্নেন্স এর গুরুত্বপূর্ণ এলিমেন্ট সরিয়ে বিদেশীদের স্বার্থ এস্টাব্লিশ কার হয়েছে। এটা ছোটখাট কোনো ব্যাপার না কিন্তু!  </p>
<p>সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ব্যাপার, এসব মৌলিক চেঞ্জ করা হয়েছে কোনো কন্সাল্টেশন ছাড়া। ফলে সংসদে আইন পাশ হলেও, এটা আদালতে চ্যালেঞ্জ জানানোর সূযোগ আছে। কেননা আইন পাশের আগের কন্সাল্টেশন প্রক্রিয়া মানা হয়নি। এসব নিয়ে ভবিষ্যতে ঝামেলা হবে। </p>
<p>স্টান্ডার্ড প্র্যাকটিস বলে ক্রিমিনাল অফেন্স তুলে দেয়া হয়েছে। অথচ স্ট্যান্ডার্ড প্র্যাকটিস হচ্ছে, আপনার দেশের টেলিকম ও আইসিটি আইনে ক্রমিনাল অফেন্স থাকলেই পরে আপনি ডেটা গভর্নেন্স এর অপরাধকে ক্রিমিনাল বাদ দিয়ে শুধুমাত্র সিভিল স্যুটে নিতে পারেন। এখন আপনার টেলিকম আইন, আইসিটি আইন, ডেটা প্রটেকশন আইনের কোথাও ক্রিমিনাল অফেন্স নাই।</p>
<p>দক্ষিণ করিয়ার পার্সোনাল ডেটা প্রটেকশন আইনে ক্রিমিনাল অফেন্সের বিধান আছে। ইইউ, চায়না, কিংবা অস্ট্রেলিয়া দেখেন। দিনকে দিন পার্সোনাল ডেটা নিয়ে টাফ আইন করছে। অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের নিচে সব সোশ্যাল মিডিয়া একাউন্ড ডিলিট করতে বাধ্য করেছে। অথচ উল্টো এআই মডেলে, চাইল্ড পর্নে, র‍্যানসম অ্যাটাকে, বাল্ক ডেটার ভায়লেশনে ক্রমিনাল অফেন্স তুলে দেয়া হলো। বাদ দেয়া হলো ক্রিটিক্যাল ইনফ্রার 'সিঙ্ক্রোনাস লোকাল ব্যাকআপ', ডেটা ডিকশনারি জানানোর বিষয়, সাইবার ব্রিচে পার্সোনাল ডেটা  রিকভারির বিষয়। </p>
<p>কোনো কন্সাল্টেশন ছাড়া এগুলো কার স্বার্থে? </p>
<p>আজকে যদি ফ্যামিলি কার্ড এর ব্যক্তিগত উপাত্ত জালিয়াতি করে লুটপাট হয়, ফার্মার কার্ড জালিয়াতি করে লুটপাট হয়, নতুন করে এনআইডি, জন্ম নিবন্ধন সহ সরকারের হাতে থাকা ডেটা চুরি হয়, এর দায় কে নিবে? আমরা সবাই জানি, দেশের ১৪০টার মত সোশ্যাল সেফটি নেটের অধিকাংশই ভুল হাতে যায়। অথচ নতুন আইডি ম্যানেজমেন্টেও সম্ভাব্য  জালিয়াতির বিপরীতে সরকারের প্রটেকশন মেকানিজম তুলে দিলেন!</p>
<p>আইএমএফ বলতে চাচ্ছে, ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড চালুর আগে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি হয়নি। এটা পাবলিক প্রকিউরমেন্টের শুরু ধাপ। ফিজিবিলিটি স্ট্যাডি, ডিপিপি, প্ল্যানিং কমিশন রিভিউ, প্রি একনেক, একনেক, টেন্ডারের স্পেসিফিকেশন, সেটা প্রিটেন্ডার করা, টেকনিক্যাল ইভ্যালুয়েশন, ফাইনান্সিয়াল ইভাল্যুয়েশন এসব স্টেজ ধারাবাহিক পার করে জাতীয় ক্রয় কমিটিতে উঠিয়ে সরকারি ক্রয় করতে হয়। লম্বা প্রক্রিয়া, যেখানে ফাইল উপরে উঠা ও নিচে নামানো মিলিয়ে ১৬ থেকে ১৮টা স্টেজ আছে। আইএমএফ এর আপত্তি ক্ল্যাসিক্যাল প্রসেস, যে সরকার পাবলিক প্রকিউরমেন্ট নীতি মানেনি।  </p>
<p>আমার আপত্তি আরও গোড়ায়, দলীয় ইশতেহারের ফাউন্ডেশনাল প্রজেক্টকে শুরুতেই কারিগরিভাবে ভালনারেবল করে আইনই চেঞ্জ করে দেয়া হয়েছে। দল ক্ষমতায় আসছে মাত্র ২ মাস। এভাবে অজ্ঞানতার অন্ধকার ছাড়ালে দলের সাফল্য কীভাবে আসবে? নাকি বুঝেই প্ল্যাটফর্মের সাথে নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ভালো রাখতে আতত করে ফেলেন, মনে করেছেন কেউ বুঝবে না। দেশের চেয়ে, দলের চেয়ে আপনার ব্যক্তিগত সম্পর্ক এবং স্বার্থ বড় হয়ে গেল!      </p>
<p>শুনছি, সরকার গুজব, মিসইনফো, ডিসইনফো সহ বিভিন্ন সাইবার অপরাধের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষার পথ খুঁজছে। সরকারের পক্ষ থেকে আইনি সুরক্ষা খোঁজা সঠিক ও লেজিট পথ। কিন্তু সরকারে নিজের লোকই যেন তা খুঁজে খুঁজে সব আইনি সুরক্ষা তুলে দিচ্ছে! ঘরের শত্রু বিভীষণ!</p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>শ্রমের বিবর্তিত চালচিত্র: বিশ্ব শ্রমিক দিবসে ডিজিটাল কর্মীরা</title>
<link>https://digibanglatech.news/175614</link>
<guid>https://digibanglatech.news/175614</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202605/image_870x580_69fec416424ea.jpg" length="131819" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 01 May 2026 00:03:38 +0600</pubDate>
<dc:creator>এস এম ইমদাদুল হক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>পয়লা মে, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। এই দিনে বিশ্বজুড়ে শিল্পভিত্তিক শ্রমিক শ্রেণীর সংগ্রাম ও অর্জনকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়। ন্যায্য মজুরি, যুক্তিসঙ্গত কাজের সময় এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের দাবিগুলো ঐতিহাসিকভাবে এই দিবসের মূল সুর। তবে একবিংশ শতাব্দীতে এসে 'শ্রম' শব্দটির সংজ্ঞা এক গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে, জন্ম দিয়েছে এক নতুন প্রজন্মের পেশাদারদের, যারা কাজ করেন মূলত ডিজিটাল জগতে। ফ্রিল্যান্সার, আইটি পেশাদার, সিটিও, সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার এবং ডিজিটাল মার্কেটারদের মতো এই ডিজিটাল কর্মীদের অনন্য বৈশিষ্ট্য, অভূতপূর্ব সুযোগ এবং জটিল চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অজান্তেই যেন শ্রমিক ও কর্মীদের প্রযুক্তি একই সাথে তাদের মুক্তি দিচ্ছে এবং অদৃশ্য এক বাঁধনে বেঁধে ফেলছে। <span></span></p>
<p>ডিজিটাল বিপ্লব কাজের কাঠামোকে আমূল বদলে দিয়েছে, এটিকে চিরাচরিত ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা ও কঠোর সময়সূচী থেকে মুক্তি দিয়েছে। আধুনিক ডিজিটাল কর্মীদের কাছে, সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টার নির্দিষ্ট কাজের সময় বা একই অফিসে বসে কাজ করার ধারণা প্রায় অপ্রচলিত। ফ্রিল্যান্সাররা তাদের ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের প্রকল্পের কাজ সাজাতে পারেন, আইটি পেশাদাররা বিভিন্ন টাইম জোনে থাকা বিশ্বব্যাপী দলের সাথে সহযোগিতা করতে পারেন, এবং সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজাররা মহাদেশ ছাড়িয়ে বিস্তৃত প্রচারণার কৌশল তৈরি করেন। এই সহজাত নমনীয়তা, নিজের সুবিধা অনুযায়ী কাজের সময় নির্ধারণের ক্ষমতার সাথে যুক্ত হয়ে, অনেককে এমন এক স্বায়ত্তশাসন ও ক্ষমতায়ন দিয়েছে যা আগে কল্পনাতীত ছিল। উপরন্তু, অটোমেশন এবং বটের ব্যবহার পুনরাবৃত্তিমূলক কাজগুলোকে সহজ করে, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি করে এবং এই পেশাদারদের কৌশলগত উদ্যোগ, উদ্ভাবন ও সৃজনশীল সমস্যা সমাধানে মনোনিবেশ করতে সাহায্য করে। এই পরিবর্তন শুধু বিশ্বব্যাপী বাজার ও বিভিন্ন সুযোগের পথ খুলে দেয় না, বরং এমন একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ তৈরি করে যা ঐতিহ্যবাহী কর্মসংস্থান কাঠামোতে বাধাগ্রস্ত হতে পারতেন এমন ব্যক্তিবিশেষদেরও স্থান করে দেয়।</p>
<p>কিন্তু এই মুক্তি প্রায়শই এক অদৃশ্য বিনিময়ের সাথে আসে: ঐতিহ্যবাহী কর্ম-জীবনের সীমানার ক্ষয়। ডিজিটাল কর্মীরা, ইমেইল, হোয়াটসঅ্যাপ, স্ল্যাক এবং অন্যান্য কোলাবোরেশন প্ল্যাটফর্মের মতো নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জামগুলির মাধ্যমে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েও, প্রায়শই নিজেদের পেশাগত বাধ্যবাধকতার সাথে চিরতরে বাঁধা দেখতে পান। ভৌগোলিক ও সময়গত সীমার অনুপস্থিতি মানে হল, কাজ জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ঢুকে পড়তে পারে, এবং প্রায়শই তা হয়েও থাকে। গভীর রাতে একটি জরুরি ইমেল, সপ্তাহান্তে ক্লায়েন্টের বার্তা, অথবা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা সহকর্মীদের সুবিধার জন্য নির্ধারিত একটি মিটিং ব্যক্তিগত সময় এবং পেশাগত কর্তব্যের মধ্যেকার সীমারেখাকে দ্রুত ঝাপসা করে দেয়। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার সর্বব্যাপী প্রত্যাশা, যা ডিজিটাল সংযোগের ২৪/৭ প্রকৃতির দ্বারা ইন্ধন পায়, যোগাযোগের সুবিধাকে দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ এবং অবসাদের সম্ভাব্য উৎসে রূপান্তরিত করে। অনেকের জন্য, বিশেষ করে যারা গিগ ইকোনমিতে ফ্রিল্যান্সিং করেন, পরবর্তী প্রকল্প সুরক্ষিত রাখতে বা ক্লায়েন্টের সন্তুষ্টি বজায় রাখতে সর্বদা 'অন' থাকার চাপ, যার ফলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা, বিশ্রাম নেওয়া এবং সতেজ হওয়ার ক্ষমতা কমে আসে।</p>
<p>বিশ্ব শ্রমিক দিবস পালন করার সময়, এই বিষয়টি স্বীকার করা অত্যাবশ্যক যে শ্রম অধিকার এবং কর্মচারীদের সুস্থতার ঐতিহ্যবাহী কাঠামো ডিজিটাল কাজের বাস্তবতাকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বিকশিত হতে হবে। কেননা, <span>বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন, হিউম্যান রাইটস সোসাইটি এবং রাজনৈতিক দল ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও ওয়েবিনারের সাথ্যসে আজ শ্রমিক নেতাদের বক্তব্য ও মে দিবসের তাৎপর্য প্রচার করা হয় এই ডিজিটাল শ্রমিকদের কল্যাণেই।  </span>প্রযুক্তির দ্বারা প্রদত্ত দক্ষতা এবং নমনীয়তাকে উদযাপন করার পাশাপাশি, এর সাথে আসা চ্যালেঞ্জগুলিও আমাদের মোকাবেলা করতে হবে। এর জন্য একটি বহুমুখী পদ্ধতির প্রয়োজন: ব্যক্তিরা ডিজিটাল শৃঙ্খলা কাল্টিভেট করবে, স্পষ্ট ব্যক্তিগত সীমানা নির্ধারণ করবে। তাই সংস্থাগুলির দায়িত্ব হল এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা যা এই সীমানাগুলিকে সম্মান করে, জরুরি না হলে কাজের সময় ছাড়া অন্য সময়ে যোগাযোগকে নিরুৎসাহিত করে; এবং নীতিনির্ধারকদের এই ক্রমবর্ধমান কর্মীবাহিনীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, ন্যায্য ক্ষতিপূরণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তার জন্য নতুন প্রক্রিয়া অন্বেষণ করা উচিত। </p>
<p>কেননা, ডিজিটাল কর্মীর উত্থান শ্রম জগতে একটি বিশাল পরিবর্তন এনেছে। এটি অভূতপূর্ব নমনীয়তা, বৈশ্বিক সুযোগ এবং উন্নত দক্ষতা প্রদান করে, যা কাজ কীভাবে, কখন এবং কোথায় করা হয় তা মৌলিকভাবে পরিবর্তন করেছে। তবে, এটি কর্ম-জীবন সমন্বয়, মানসিক সুস্থতা এবং অবসরের সংজ্ঞার সাথে সম্পর্কিত গভীর চ্যালেঞ্জগুলিও নিয়ে আসে। এই আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে, আসুন আমরা শ্রমের এই নতুন দিগন্তগুলিকে স্বীকৃতি দিই এবং এমন একটি ডিজিটাল কর্মপরিবেশ তৈরির অঙ্গীকার করি যা কেবল উদ্ভাবন ও উৎপাদনশীলতায় সমৃদ্ধ হয় না, বরং এর অপরিহার্য কর্মীবাহিনীর সামগ্রিক সুস্বাস্থ্য ও টেকসই অস্তিত্বকেও সমর্থন করে।</p>
<p><span data-subtree="aimfl,mfl" data-processed="true">এদিকে বাংলাদেশে ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে (মে দিবস)</span><span> ডিজিটাল মাধ্যমগুলো শ্রমিকদের অধিকার সচেতনতা, ঐক্য এবং শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের প্রধান হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। ১লা মে এই দিবসটি বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের অবদান ও সংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে পালিত হয়, যেখানে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।  </span></p>
<p><span>দিবসটি সামনে রেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম (Facebook, Twitter, LinkedIn) ব্যবহার করে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং শ্রম আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়। #WorkersDay, #MayDay হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে বিশ্বব্যাপী শ্রমিকদের দাবি সোচ্চার করা হয়। দিবসের ইতিহাস, শিকাগো শ্রমিক আন্দোলনের স্মৃতিকথা এবং শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ক ডকুমেন্টারি ও ভিডিও ক্লিপ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করা হয়। তাই গ্রাফিক ডিজাইন, মোশন গ্রাফিক্স, এবং ভিডিও কন্টেন্টের মাধ্যমে অনলাইনে নিরলস পরিশ্রম করা ফ্রিল্যান্সার, ওয়েব ডেভেলপার, এবং ডিজিটাল মার্কেটারদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর নতুন চল শুরু হয়েছে এরই মধ্যে।   </span></p>
<hr>
<p><span><strong>লেখকঃ </strong>নির্বাহী সম্পাদক, ডিজিবাংলাটেক.নিউজ</span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>এগ্রি&#45;ক্রাউডফান্ডিং: লাভের মোড়কে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার নতুন কৌশল?</title>
<link>https://digibanglatech.news/175564</link>
<guid>https://digibanglatech.news/175564</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202605/image_870x580_69fec66fe0efc.jpg" length="182820" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 29 Apr 2026 13:19:40 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশে কৃষি ব্যবসা যে একটি অত্যন্ত ঝুঁকির ক্ষেত্র, তার সঠিক এবং তিক্ত পাঠ পাওয়া গিয়েছিল ২০২০ সালেই। সেই সময় করোনা পরবর্তী পরিস্থিতিতে গ্রোসারি ই-কমার্সের একটি বড় জোয়ার আমরা লক্ষ্য করেছিলাম। ‘মার্কেট বাংলা’ এবং ‘গোরিলামুভ’-এর মতো বেশ কিছু সম্ভাবনাময় কোম্পানি অনেক বড় স্বপ্ন এবং বিনিয়োগ নিয়ে বাজারে এসেছিল। তাদের পাশাপাশি ‘সওদাগর’ বা ‘ডাইরেক্ট ফ্রেশ’-এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও এগ্রি-সাপ্লাই চেইনের আধুনিকায়নে কাজ শুরু করেছিল। তারা প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরাসরি কৃষকের পণ্য ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্য যে, শেষ পর্যন্ত তারা এই কঠিন বাজারের মারপ্যাঁচে টিকে থাকতে পারেনি এবং বিশাল ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে কার্যক্রম বন্ধ করতে বা সংকুচিত করতে বাধ্য হয়।</p>
<p>কৃষিপণ্যের বাজারের একটি মৌলিক সমস্যা হলো—এখানে পণ্যের মূল্যের ওপর উৎপাদনকারী বা খুচরা বিক্রেতার কোনো কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ নেই। বাজার মূলত একটি শক্তিশালী মধ্যস্বত্বভোগী শ্রেণী এবং আড়তদারদের সিন্ডিকেটের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল। এমনকি বিশাল বিনিয়োগ থাকা সত্ত্বেও *শপআপ (মোকাম)’ বা ‘প্রিয়শপ’-এর মতো প্ল্যাটফর্মগুলো এই খাতের সিন্ডিকেট ভাঙতে হিমশিম খেয়েছে। এই অনিয়ন্ত্রিত এবং অনিশ্চিত বাজারে কাজ করার অর্থ হলো ১০০ বারের মাঝে ৭০ বারই লোকসান হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। কৃষিপণ্যের পচনশীলতা এবং দ্রুত বাজার দর পরিবর্তনের এই রূঢ় বাস্তবতাকে সাধারণ মানুষের কাছে আড়াল করা হচ্ছে। বর্তমানে একদল সুযোগসন্ধানী প্রতিষ্ঠান 'এগ্রি-ক্রাউডফান্ডিং' বা কৃষিতে বিনিয়োগের নামে মানুষের ধর্মীয় এবং সরল অনুভূতিকে পুঁজি করে ভয়ংকর এক প্রতারণা শুরু করেছে।</p>
<p><strong>ক্রাউডফান্ডিং: স্ক্যামারদের নতুন স্বর্গরাজ্য ও ব্রিডিং স্পেস</strong><br>আগের ই-কমার্স স্ক্যামগুলোর তুলনায় এই কৃষিতে বিনিয়োগের প্রতারণা বা এগ্রো-স্ক্যাম অনেক বেশি বিপজ্জনক এবং ধূর্ত। ই-কমার্সে গ্রাহক পণ্য পেতে ১ সপ্তাহ বা ১ মাস দেরি হলেই সতর্ক হতো এবং হইচই শুরু করত। কিন্তু এগ্রি-ক্রাউডফান্ডিংয়ের ডিলগুলো সাধারণত ৬ মাস থেকে ১২ মাসের দীর্ঘ মেয়াদী হয়ে থাকে। একটি ফসল চাষ থেকে বাজারে যাওয়া পর্যন্ত সময়ের দোহাই দিয়ে এই দীর্ঘ সময়টুকুই প্রতারকদের জন্য এক বিশাল ‘ব্রিদিং স্পেস’ বা সময়ক্ষেপণের কৌশল হিসেবে কাজ করে। এই সময়ের মধ্যে তারা হাজার হাজার মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের সুযোগ পায়।<br>প্রতারক প্রতিষ্ঠানগুলো বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া পডকাস্ট এবং ডিজিটাল মিডিয়ার পিআর স্টান্ট ব্যবহার করে নিজেদের একটি আকাশচুম্বী ভাবমূর্তি তৈরি করে। তারা পডকাস্টে বড় বড় ইন্টারভিউ দিয়ে এবং আলিশান অফিসের জৌলুস দেখিয়ে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে। তারা নতুন নতুন বিনিয়োগকারী আকৃষ্ট করতে তথাকথিত সাকসেস স্টোরি ব্যবহার করে। মূলত নতুন বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা দিয়েই তারা পুরনোদের লভ্যাংশ বুঝিয়ে দেয়। অর্থনীতিতে এই চক্রটিই ‘পঞ্জি স্কিম’ হিসেবে পরিচিত। আমাদের দেশের মানুষের কৃষিপ্রীতি এবং ‘হালাল ফিন্যান্সিং’-এর আবেগকে ব্লেন্ড করে এই জঘন্য প্রতারণা চালানো হচ্ছে।<br>### বাস্তব ঘটনা ও প্রতারণার মেকানিজম (কেস স্টাডি)<br>সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন এবং *সেন্টার ফর ডিজিটাল কমার্স রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি (CDCRA)*-এর সংগৃহীত তথ্য ও দীর্ঘ গবেষণায় দেখা যায়, ‘এগ্রিভেঞ্চার’  নামক একটি তথাকথিত প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় ৭০ জন সাধারণ ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী নিঃস্ব হয়েছেন। প্রাথমিক তথ্য ও অভিযোগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই একটি প্রতিষ্ঠান থেকেই প্রায় ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।<br>*প্রতারণার কৌশল (মানি সার্কুলেশন):* প্রতারণার মেকানিজমটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিত। ধরুন, একজন বিনিয়োগকারী পডকাস্টের বিজ্ঞাপন দেখে বিশ্বাস করে ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগ করলেন। খামারে প্রকৃত কোনো লাভ না হলেও কোম্পানি নতুন অন্য ১০ জন বিনিয়োগকারীর আমানত থেকে ঐ ব্যক্তিকে লভ্যাংশসহ মুনাফা ফেরত দেয়। এই লভ্যাংশ পাওয়ার গল্প যখন পডকাস্ট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে, তখন আরও কয়েকশো মানুষ লোভে পড়ে বা অন্ধ বিশ্বাস করে সেখানে বিনিয়োগ করে। এটিই হলো ‘মানি সার্কুলেশন’। যখনই বাজারে নতুন বিনিয়োগ আসা কমে যায় বা বিপুল সংখ্যক মানুষ একসাথে টাকা ফেরত চায়, তখনই এই প্রতিষ্ঠানগুলো দেউলিয়া ঘোষণা করে রাতারাতি উধাও হয়ে যায়।</p>
<p><strong>আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপট: পার্শ্ববর্তী দেশগুলো কীভাবে এটি নিয়ন্ত্রণ করছে?</strong><br>বিশ্বের অনেক উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে এগ্রি-ক্রাউডফান্ডিং সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে, কিন্তু তা অত্যন্ত কঠোর আইনি কাঠামোর মধ্যে। বাংলাদেশে এই ধরণের কোনো বাধ্যবাধকতা বা সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকায় স্ক্যামাররা অবাধে বিচরণ করছে।<br> <strong>ভারত:</strong> ভারতে 'SEBI' (সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অফ ইন্ডিয়া) ক্রাউডফান্ডিং প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য কঠোর ক্যাপিটাল রিকোয়ারমেন্ট, নিয়মিত বাধ্যতামূলক অডিট এবং বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা তহবিল গঠন নিশ্চিত করেছে।<br><strong>ইন্দোনেশিয়া:</strong> ইন্দোনেশিয়ার ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস অথরিটি (OJK) প্রতিটি এগ্রো-টেক স্টার্টআপকে বাধ্যতামূলক লাইসেন্সিংয়ের আওতায় এনেছে। সেখানে বিনিয়োগকারীদের মূলধন সুরক্ষার জন্য বিমা ব্যবস্থা  নিশ্চিত করা ছাড়া কেউ জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করতে পারে না।<br> <strong>কেনিয়া:</strong> আফ্রিকার এই দেশটিতে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের সাথে এসক্রো সিস্টেম যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে কৃষকের হাতে টাকা পৌঁছানোর প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বচ্ছ থাকে এবং মধ্যস্বত্বভোগী বা প্রতিষ্ঠান টাকা আত্মসাৎ করতে পারে না।</p>
<p><strong>আধুনিক প্রযুক্তির ভূমিকা: এআই এবং ব্লকচেইন কি সমাধান?</strong><br>বর্তমানে অনেক কোম্পানি বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এআই  এবং ব্লকচেইন ব্যবহারের গালভরা দাবি করে। কিন্তু এই প্রযুক্তিগুলোর অপব্যবহারও সম্ভব।<br> <strong>ব্লকচেইন ও স্বচ্ছতা:</strong> ব্লকচেইনের মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেন ও প্রজেক্টের ডেটাকে এমনভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব যা কখনো পরিবর্তন বা মুছে ফেলা যায় না। এটি অস্তিত্বহীন সম্পদে বিনিয়োগ করার ঝুঁকি কমাতে পারে।<br> এআই  ভিত্তিক ক্রেডিট স্কোরিং:* কৃষকের অতীত রেকর্ড, খামারের সক্ষমতা এবং আবহাওয়াগত ঝুঁকি যাচাইয়ে এআই ব্যবহৃত হতে পারে। এর ফলে বিনিয়োগের ঝুঁকি কিছুটা কমে।<br>   তবে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া জরুরি—প্রযুক্তি কেবল তখনই কাজ করবে যখন এর পেছনে স্বচ্ছ প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং মানবিক সততা থাকবে। প্রযুক্তি যদি কেবল মার্কেটিং বা মানুষকে বিভ্রান্ত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তবে তা সাধারণ মানুষের জন্য নতুন ধরণের ডিজিটাল ফাঁদ হয়ে দাঁড়াবে।</p>
<p><strong>বাজার পরিসংখ্যান ও আইনি নিয়ন্ত্রণহীনতা</strong><br>২০২৬ সালের সংগৃহীত তথ্য ও উপাত্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশে এগ্রো-টেক খাতে অনিয়ন্ত্রিত চ্যানেলে বার্ষিক প্রায় *৫০ থেকে ৭০ কোটি টাকার* বেশি ক্রাউডফান্ডিং হচ্ছে। অথচ সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান বলছে, সাপ্লাই চেইনের দুর্বলতা এবং সঠিক হিমাগারের অভাবে এখনো কৃষিপণ্যের *২৫-৩০% সিস্টেম লস বা অপচয়* হয়। এই বিপুল পরিমাণ পণ্য নষ্ট হওয়ার পর একজন বিনিয়োগকারীকে ২০% থেকে ৩৫% নিশ্চিত লভ্যাংশ দেওয়া গাণিতিকভাবে এবং ব্যবসায়িক দিক থেকে প্রায় অসম্ভব। এই মুনাফা মূলত পঞ্জি স্কিমের মাধ্যমেই সম্ভব। যেহেতু এই ক্রাউডফান্ডিং কোনো প্রথাগত ব্যাংকিং বা বিএসইসি চ্যানেলের অন্তর্ভুক্ত নয়, তাই সাধারণ মানুষের এই বিপুল অর্থ এখন চরম আইনি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।</p>
<p><strong>সরকারি নীতিমালা ও প্রস্তাবিত রেগুলেশন (সেন্টার ফর ডিজিটাল কমার্স রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি এর প্রস্তাবনা)</strong></p>
<p>বর্তমান আইনি শূন্যতা দূর করতে এবং এই অনিয়ন্ত্রিত লেনদেনকে সরকারি নজরদারিতে আনতে *সেন্টার ফর ডিজিটাল কমার্স রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাডভোকেসি * নিচের পদক্ষেপগুলো নেওয়ার জরুরি দাবি জানাচ্ছে:<br><strong>সক্রো সিস্টেম প্রবর্তন:</strong> ই-কমার্সের মতো এগ্রি-ফান্ডিংয়ের টাকাও সরাসরি কোম্পানির কাছে না গিয়ে ব্যাংকের এসক্রো অ্যাকাউন্টে থাকা উচিত। প্রজেক্টের বাস্তব অগ্রগতি এবং পণ্য বিক্রির প্রমাণ সাপেক্ষে প্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট ধাপে টাকা ব্যবহারের অনুমতি পাবে।<br> <strong>বাংলাদেশ ব্যাংকের ফিনটেক লাইসেন্স:</strong> যারা জনসাধারণের কাছ থেকে বিনিয়োগ বা আমানত গ্রহণ করবে, তাদের বাধ্যতামূলকভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ফিনটেক বা বিশেষ আর্থিক সেবার লাইসেন্স নিতে হবে।<br> <strong>বিএসইসি এর নিয়ন্ত্রণ:</strong> ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষায় সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের নজরদারির আওতায় এদের কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং বার্ষিক বাধ্যতামূলক পাবলিক অডিট নিশ্চিত করা।</p>
<p><strong>বিনিয়োগের আগে যা যাচাই করবেন</strong><br>আপনার কষ্টের উপার্জন বিনিয়োগ করার আগে নিচের প্রতিটি পয়েন্ট ‘চেকলিস্ট’ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত:<br> অ<strong>ডিট ও ট্যাক্স ফাইল:</strong> বিগত ৩ বছরের রেজিস্টার্ড অডিট রিপোর্ট এবং কোম্পানির ট্যাক্স ফাইল আছে কি না যাচাই করুন। মনে রাখবেন, যথাযথ অডিট ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানে টাকা দেওয়া নিরাপদ নয়।<br> <strong>অস্বাভাবিক মুনাফার হার:</strong> যদি কোনো প্রতিষ্ঠান ব্যাংক রেটের চেয়ে অস্বাভাবিক উচ্চ (২০% এর উপরে) ফিক্সড রিটার্ন বা নিশ্চিত লাভের প্রতিশ্রুতি দেয়, তবে সেটি একটি বড় ঝুঁকির সংকেত। প্রতিটি প্রজেক্টের বাস্তব ‘ব্রেক-ইভেন পয়েন্ট’ যাচাই করুন।<br> <strong>এক্সিট পলিসি বা টাকা ফেরতের উপায়:</strong> আপনার জরুরি প্রয়োজনে আসল টাকা ফেরত নেওয়ার স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়া আছে কি না তা লিখিত চুক্তিতে দেখে নিন। স্ক্যামাররা সাধারণত টাকা ফেরতের পথ বন্ধ রাখে।<br> <strong>রেটিং এজেন্সি:</strong> শুধুমাত্র পডকাস্ট বা সোশ্যাল মিডিয়ার জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত না নিয়ে একটি শক্তিশালী এবং নিরপেক্ষ ‘রেটিং এজেন্সি’র স্কোর যাচাই করা উচিত।</p>
<p><strong>সাবধানতাই হোক মূল শক্তি</strong><br>কৃষি আমাদের জাতীয় অর্থনীতির প্রাণ। আধুনিক প্রযুক্তি আমাদের কৃষিকে সমৃদ্ধ করতে পারে, কিন্তু তা যেন কোনোভাবেই অন্ধ বিশ্বাসের কারণ না হয়। প্রথাগত ব্যাংকিং চ্যানেলের বাইরে এই বিপুল লেনদেনের লাগাম টানতে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর এখনই কঠোর নীতিমালা প্রয়োজন। সময় থাকতে সাবধান না হলে এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য পরবর্তী বড় বিপর্যয় হয়ে দাঁড়াবে। প্রলোভনের ফাঁদে না পড়ে যুক্তি, ডাটা এবং তথ্যের ভিত্তিতে বিনিয়োগ করাই হোক মূল লক্ষ্য। সাবধান হওয়াই একমাত্র পথ।</p>
<p><strong>পাঠকদের জন্য সচেতনতামূলক প্রশ্ন:</strong><br>আপনি কি কোনো এগ্রি-প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগের কথা ভাবছেন? টাকা দেওয়ার আগে তাদের অডিট রিপোর্ট এবং এসক্রো সুবিধা আছে কি না যাচাই করেছেন তো? আপনার সচেতনতাই আপনার কষ্টের উপার্জনকে রক্ষা করতে পারে।<br><strong>বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ পরামর্শ:</strong><br>১. শুধুমাত্র পডকাস্ট বা ইন্টারভিউ দেখে প্রলুব্ধ হবেন না। মনে রাখবেন, বিজ্ঞাপন আর বাস্তবতা এক নয়।<br>২. বিনিয়োগের আগে সরাসরি খামার বা প্রকল্পটি নিজের চোখে দেখে আসার চেষ্টা করুন এবং স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে খামারের প্রকৃত অবস্থা যাচাই করুন।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong><span> </span><span>উদ্যোক্তা, সংগঠক ও কলাম লেখক</span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ইন্টারনেট কি সত্যিই মৃত হয়ে যাচ্ছে? বাংলাদেশ কী করতে পারে</title>
<link>https://digibanglatech.news/175200</link>
<guid>https://digibanglatech.news/175200</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202605/image_870x580_69fec61fc2a23.jpg" length="150998" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 26 Apr 2026 11:43:57 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>একই ধরনের মিম, একই রকম মন্তব্য, অ্যালগরিদমে সাজানো অন্তহীন কনটেন্ট, আর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি লেখা, ছবি ও ভিডিও। ইন্টারনেট কি ধীরে ধীরে তার মানবিক প্রাণশক্তি হারাচ্ছে? একসময় যে ডিজিটাল জগৎ ছিল মানুষের কৌতূহল, সৃজনশীলতা, মতবিনিময় ও স্বাধীন প্রকাশের জায়গা, তা কি এখন করপোরেশন, অ্যালগরিদম, বট ও এআই-নির্ভর কনটেন্টের এক বিশাল গোলকধাঁধায় পরিণত হয়েছে?</p>
<p>এই অস্বস্তিকর প্রশ্ন থেকেই জন্ম নিয়েছে বহুল আলোচিত একটি ধারণা, ডেড ইন্টারনেট থিওরি। নাম শুনলে মনে হতে পারে, ইন্টারনেট যেন আর জীবন্ত নেই। যেন সেখানে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে, আর জায়গা দখল করেছে স্বয়ংক্রিয় বট, নকল অ্যাকাউন্ট, অ্যালগরিদমিক প্রচারণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি কনটেন্ট।</p>
<p>তবে বিষয়টি এত সরল নয়। ডেড ইন্টারনেট থিওরি একদিকে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব, অন্যদিকে আধুনিক ইন্টারনেটের কিছু বাস্তব সংকটের অতিরঞ্জিত ব্যাখ্যা। এই তত্ত্ব পুরোপুরি সত্য নয়, কিন্তু একে একেবারে উড়িয়ে দেওয়াও সহজ নয়। কারণ আমাদের দৈনন্দিন অনলাইন অভিজ্ঞতার অনেক কিছুই এখন সত্যিই অস্বাভাবিক, পুনরাবৃত্তিমূলক এবং যান্ত্রিক মনে হয়।</p>
<p><strong>এক প্রাণহীন শহরের উপমা</strong></p>
<p>কল্পনা করুন, আপনি একটি বিশাল, ব্যস্ত শহরে হাঁটছেন। চারদিকে উঁচু দালান, ঝলমলে আলো, দোকানপাট, ক্যাফে, বিজ্ঞাপন, রাস্তার ভিড়। প্রথম দেখায় শহরটি প্রাণবন্ত। কিন্তু একটু মনোযোগ দিয়ে তাকাতেই বুঝলেন, শহরের মানুষগুলো আসল নয়। পথচারী, দোকানের বিক্রেতা, ক্যাফেতে বসে থাকা মানুষ, সবাই যেন নিখুঁতভাবে তৈরি রোবট বা ম্যানিকুইন। তারা মানুষের মতো কথা বলছে, মানুষের মতো আচরণ করছে, কিন্তু তাদের মধ্যে কোনো সত্যিকারের অভিজ্ঞতা, আবেগ বা চিন্তা নেই।</p>
<p>ডেড ইন্টারনেট থিওরির দাবি অনেকটা এমনই। এই তত্ত্ব অনুযায়ী, আজকের ইন্টারনেট বাইরে থেকে জীবন্ত মনে হলেও এর বড় একটি অংশ আর মানুষের তৈরি নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট, মন্তব্য, লাইক, শেয়ার, ভিউ, ভাইরাল ট্রেন্ড, এমনকি অনেক ওয়েবসাইটের লেখা ও সংবাদও ক্রমেই বট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার তৈরি কনটেন্টে ভরে যাচ্ছে।</p>
<p>এই তত্ত্বের সমর্থকেরা বলেন, অনলাইন পরিবেশ অনেকাংশে সাজানো। এখানে জনমত তৈরি হয়, ট্রেন্ড তৈরি হয়, ক্ষোভ তৈরি হয়, জনপ্রিয়তা তৈরি হয়, আবার কখনো মানুষকে নির্দিষ্ট পণ্য, মতাদর্শ বা রাজনৈতিক অবস্থানের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়। তাঁদের মতে, ইন্টারনেট আর মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত মিলনমেলা নয়; বরং অ্যালগরিদম ও অটোমেশনের নিয়ন্ত্রিত এক কৃত্রিম জনপরিসর।</p>
<p><strong>তত্ত্বটির জন্ম ও জনপ্রিয়তা</strong></p>
<p>ডেড ইন্টারনেট থিওরি মূলত ২০২১ সালের দিকে অনলাইন ফোরাম, বিশেষ করে 4chan, Reddit এবং কিছু বিকল্প ডিজিটাল কমিউনিটিতে আলোচনায় আসে। তবে এর চিন্তার বীজ আরও আগে থেকেই ছিল। অনেক ব্যবহারকারী ২০১৬-১৭ সালের পর থেকে ইন্টারনেটের চরিত্রে বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করতে শুরু করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, রাজনৈতিক প্রচারণা, বট-নেটওয়ার্ক, অ্যালগরিদমিক নিউজফিড এবং ডেটা-নির্ভর বিজ্ঞাপনের প্রভাব তখন দ্রুত বাড়তে থাকে।</p>
<p>এই তত্ত্বের সমর্থকেরা মনে করেন, ১৯৯০ বা ২০০০-এর দশকের শুরুতে ইন্টারনেট ছিল অনেক বেশি অগোছালো, ব্যক্তিগত ও মানবিক। ছোট ছোট ব্লগ, স্বাধীন ওয়েবসাইট, ফোরাম, ব্যক্তিগত ডায়েরি, অদ্ভুত কিন্তু সৃজনশীল পেজ, নানা ধরনের অনলাইন কমিউনিটি, সব মিলিয়ে ইন্টারনেট ছিল এক ধরনের মুক্ত অঞ্চল।</p>
<p>আজকের ইন্টারনেট তার থেকে ভিন্ন। এখন বড় প্ল্যাটফর্ম কয়েকটি কোম্পানির হাতে কেন্দ্রীভূত। আমরা কী দেখব, কী পড়ব, কার পোস্ট সামনে আসবে, কোন ভিডিও ভাইরাল হবে, তা অনেকাংশে ঠিক করে অ্যালগরিদম। মানুষের মনোযোগই এখানে পণ্য। যত বেশি সময় ব্যবহারকারী প্ল্যাটফর্মে থাকবে, তত বেশি বিজ্ঞাপন দেখানো যাবে, তত বেশি ডেটা সংগ্রহ করা যাবে, তত বেশি মুনাফা হবে।</p>
<p>এই বাস্তবতা থেকেই ডেড ইন্টারনেট থিওরি শক্তি পায়।</p>
<p><strong>কেন ইন্টারনেট মৃত মনে হয়</strong></p>
<p>এই তত্ত্ব জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে মানুষের নিজের অভিজ্ঞতার বড় ভূমিকা আছে। অনেকেই আজকাল ইন্টারনেট ব্যবহার করতে গিয়ে একধরনের পুনরাবৃত্তি, ক্লান্তি ও কৃত্রিমতার অনুভূতি পান।</p>
<p>প্রথমত, কনটেন্টের পুনরাবৃত্তি এখন অত্যন্ত স্পষ্ট। একই ধরনের মিম, একই ধরনের ভিডিও, একই রকম শিরোনাম, একই ধরনের বিতর্ক, একই রকম উত্তেজনা বারবার চোখে পড়ে। একটি বিষয় জনপ্রিয় হলেই তার শত শত অনুকরণ তৈরি হয়। কোথাও সামান্য পরিবর্তন, কোথাও নতুন ক্যাপশন, কোথাও নতুন ছবি, কিন্তু মূল ভাব একই।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, মন্তব্যের ভাষাও অনেক সময় যান্ত্রিক। জনপ্রিয় পোস্ট বা ভিডিওর নিচে “Nice post”, “Great video”, “So true”, “Amazing content” ধরনের অসংখ্য মন্তব্য দেখা যায়। সব মন্তব্য বটের নয়, কিন্তু এগুলোর অনেকই এত সাধারণ ও প্রাসঙ্গিকতাহীন যে ব্যবহারকারীর মনে সন্দেহ তৈরি হয়।</p>
<p>তৃতীয়ত, অ্যালগরিদম আমাদের পছন্দকে শুধু অনুসরণ করে না, অনেক সময় সেটিকে তৈরি করে। আপনি একটি ভিডিও দেখলেন, তারপর একই ধরনের আরও দশটি ভিডিও সামনে এল। আপনি কোনো একটি রাজনৈতিক মতামত পড়লেন, তারপর সেই মতের কাছাকাছি আরও কনটেন্ট আসতে শুরু করল। ধীরে ধীরে ব্যবহারকারী একটি ফিল্টার বাবলের মধ্যে আটকে যান। সেখানে ভিন্নমত কম, চমক কম, নতুন অভিজ্ঞতা কম।</p>
<p>চতুর্থত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি অদ্ভুত বৈপরীত্য আছে। সেখানে মানুষ আছে, কিন্তু সংযোগ কম। ভিড় আছে, কিন্তু গভীরতা কম। প্রতিক্রিয়া আছে, কিন্তু সংলাপ কম। লাইক আছে, কিন্তু আস্থা কম। এই শূন্যতা থেকেই অনেকে অনুভব করেন, ইন্টারনেট যেন আর আগের মতো মানবিক নেই।</p>
<p><strong>বাস্তবতা কতটা</strong></p>
<p>ডেড ইন্টারনেট থিওরির সব দাবি প্রমাণিত নয়। তবে এর পেছনের উদ্বেগগুলো বাস্তব।</p>
<p>ইন্টারনেটে বটের উপস্থিতি অস্বীকার করার সুযোগ নেই। সার্চ ইঞ্জিনের ক্রলার, ওয়েবসাইট মনিটরিং টুল, ডেটা সংগ্রহকারী সফটওয়্যারসহ অনেক ধরনের স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা প্রতিদিন ইন্টারনেটে কাজ করে। এগুলোর অনেকই ক্ষতিকর নয়। বরং ওয়েবসাইট খুঁজে পাওয়া, তথ্য সূচিবদ্ধ করা বা নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণের জন্য এগুলো প্রয়োজনীয়।</p>
<p>কিন্তু ক্ষতিকর বটও আছে। স্প্যাম ছড়ানো, ভুয়া লাইক ও ফলোয়ার তৈরি, বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা চালানো, সাইবার আক্রমণ, পণ্যের ভুয়া রিভিউ দেওয়া, রাজনৈতিক আলোচনায় কৃত্রিম জনমত তৈরি করা, এসব কাজেও বট ব্যবহৃত হয়। ফলে অনলাইন জনপ্রিয়তা সব সময় বাস্তব জনপ্রিয়তার প্রতিফলন নয়।</p>
<p>এআই-জেনারেটেড কনটেন্টের বিস্তারও দ্রুত বাড়ছে। এখন লেখা, ছবি, ভিডিও, কণ্ঠ, বিজ্ঞাপন, পণ্যের বিবরণ, এমনকি সংবাদধর্মী কনটেন্টও দ্রুত তৈরি করা যায়। এর ফলে সৃজনশীলতার সুযোগ যেমন বেড়েছে, তেমনি মানহীন ও পুনরাবৃত্তিমূলক কনটেন্টের ঝুঁকিও বেড়েছে।</p>
<p>ডেড ইন্টারনেট থিওরির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, এটি বাস্তব সমস্যাকে অতিরঞ্জিত করে এক ধরনের সর্বব্যাপী ষড়যন্ত্রে পরিণত করে। বট আছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে ইন্টারনেটের বেশির ভাগ ব্যবহারকারী আর মানুষ নয়। এআই কনটেন্ট আছে, কিন্তু তার মানে এই নয় যে মানুষের সৃজনশীলতা শেষ হয়ে গেছে। অ্যালগরিদম শক্তিশালী, কিন্তু তার মানে এই নয় যে মানুষ সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রিত পুতুলে পরিণত হয়েছে।</p>
<p>বাস্তবে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ ইন্টারনেটে লিখছে, শিখছে, কথা বলছে, ছবি তুলছে, গান করছে, গবেষণা করছে, প্রতিবাদ করছে, সংগঠিত হচ্ছে এবং নিজেদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিচ্ছে। সমস্যা হলো, এই মানবিক অংশটি অনেক সময় বড় প্ল্যাটফর্মের অ্যালগরিদমিক শব্দের ভেতর চাপা পড়ে যায়।</p>
<p><strong>বাংলাদেশের জন্য কেন বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ</strong></p>
<p>বাংলাদেশের জন্য ডেড ইন্টারনেট থিওরি শুধু একটি প্রযুক্তিবিষয়ক কৌতূহল নয়। এটি গণতান্ত্রিক আলাপ, সংবাদমাধ্যম, শিক্ষা, নির্বাচন, বাজার, সামাজিক সম্প্রীতি এবং নাগরিক আস্থার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।</p>
<p>বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার দ্রুত বেড়েছে। ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। মানুষ খবর পায়, মতামত গড়ে তোলে, ব্যবসা করে, শিক্ষা নেয়, বিনোদন পায়, সামাজিক সম্পর্ক বজায় রাখে, রাজনৈতিক বিতর্কে অংশ নেয়। কিন্তু এর সঙ্গে বেড়েছে ভুয়া খবর, গুজব, উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা, অনলাইন প্রতারণা, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, সাইবার বুলিং এবং এআই-নির্মিত বিভ্রান্তিকর কনটেন্টের ঝুঁকি।</p>
<p>বাংলা ভাষায় এআই কনটেন্টের মানও একটি বড় প্রশ্ন। অনেক সময় অনুবাদনির্ভর, দুর্বল, একই ধরনের, প্রেক্ষিতহীন ও তথ্যগতভাবে ভুল বাংলা কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাস্তবতা, প্রান্তিক মানুষের অভিজ্ঞতা, আঞ্চলিক ভাষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক প্রেক্ষাপট প্রায়ই হারিয়ে যায়। ফলে বাংলাদেশের ডিজিটাল জনপরিসর শুধু ইংরেজি বা বৈশ্বিক অ্যালগরিদমের ছাঁচে বন্দী হয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।</p>
<p>আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো কৃত্রিম জনমত। কোনো ইস্যুতে হঠাৎ হাজার হাজার একই ধরনের মন্তব্য, একই ভাষার পোস্ট, একই ধরনের ভিডিও বা একই স্লোগান দেখা গেলে সাধারণ মানুষ বুঝতে পারে না এটি স্বতঃস্ফূর্ত জনমত, নাকি সংগঠিত ডিজিটাল প্রচারণা। এতে সমাজে বিভ্রান্তি বাড়ে এবং প্রকৃত জনমতের মূল্য কমে যায়।</p>
<p><strong>বাংলাদেশ কী করতে পারে</strong></p>
<p>প্রথমত, বাংলাদেশকে ডিজিটাল ও মিডিয়া সাক্ষরতাকে জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে। শুধু ইন্টারনেট ব্যবহার শেখানো যথেষ্ট নয়। মানুষকে শেখাতে হবে কীভাবে তথ্য যাচাই করতে হয়, কীভাবে ভুয়া ছবি ও ভিডিও চিনতে হয়, কীভাবে বটের আচরণ বোঝা যায়, কীভাবে অ্যালগরিদম আমাদের পছন্দকে প্রভাবিত করে। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয়, কমিউনিটি সেন্টার এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমে এই শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে হবে।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, বাংলা ভাষার মানসম্মত ডিজিটাল কনটেন্ট বাড়াতে হবে। স্থানীয় ভাষা, স্থানীয় সমস্যা, স্থানীয় জ্ঞান এবং মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে কনটেন্ট তৈরি করা জরুরি। শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক নয়, জেলা, উপজেলা, চর, হাওর, পাহাড়, উপকূল ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কণ্ঠকেও ডিজিটাল পরিসরে দৃশ্যমান করতে হবে। ইন্টারনেটকে সত্যিকারের মানবিক রাখতে হলে মানুষের বাস্তব জীবন সেখানে জায়গা পেতে হবে।</p>
<p>তৃতীয়ত, স্বাধীন ও জনস্বার্থভিত্তিক সাংবাদিকতাকে শক্তিশালী করতে হবে। এআই-জেনারেটেড কনটেন্টের ভিড়ে যাচাইকৃত সংবাদ, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, স্থানীয় সাংবাদিকতা এবং জনস্বার্থের তথ্য আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। সংবাদমাধ্যমকে প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হবে, কিন্তু কনটেন্ট উৎপাদনের অন্ধ প্রতিযোগিতায় বিশ্বাসযোগ্যতা হারালে চলবে না।</p>
<p>চতুর্থত, প্ল্যাটফর্ম জবাবদিহি দরকার। বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিপুল ব্যবহারকারী থেকে মুনাফা করে, কিন্তু বাংলা কনটেন্ট মডারেশন, ভুয়া খবর শনাক্তকরণ, স্থানীয় ভাষা ও প্রেক্ষাপট বোঝা, গবেষকদের ডেটা অ্যাক্সেস দেওয়া এবং স্বচ্ছতা প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে তাদের দায়বদ্ধতা সীমিত। সরকার, নাগরিক সমাজ, প্রযুক্তিবিদ, গণমাধ্যম ও একাডেমিয়ার যৌথ উদ্যোগে প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে নিয়মিত নীতি-আলোচনা প্রয়োজন।</p>
<p>পঞ্চমত, এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট চিহ্নিতকরণে নীতিমালা প্রয়োজন। কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও বা অডিও এআই দিয়ে তৈরি হলে তা স্বচ্ছভাবে জানানো উচিত, বিশেষ করে সংবাদ, রাজনৈতিক প্রচারণা, স্বাস্থ্য তথ্য, শিক্ষা, আর্থিক পরামর্শ এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে। তবে নীতিমালা যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা দমনের হাতিয়ার না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।</p>
<p>ষষ্ঠত, স্থানীয় কমিউনিটি-ভিত্তিক ডিজিটাল জনপরিসর তৈরি করতে হবে। বড় প্ল্যাটফর্মের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করলে বাংলাদেশের জনআলোচনা অ্যালগরিদমের হাতে বন্দী থাকবে। স্থানীয় অনলাইন ফোরাম, কমিউনিটি মিডিয়া, কমিউনিটি রেডিওর ডিজিটাল রূপান্তর, নাগরিক তথ্যকেন্দ্র, শিক্ষামূলক প্ল্যাটফর্ম এবং স্থানীয় ভাষার ডিজিটাল আর্কাইভ গড়ে তোলা যেতে পারে।</p>
<p>সপ্তমত, গবেষণা দরকার। বাংলাদেশে কত বট অ্যাকাউন্ট সক্রিয়, কী ধরনের ভুয়া প্রচারণা চলে, বাংলা ভাষায় এআই কনটেন্টের প্রভাব কী, নির্বাচনী আলোচনায় অটোমেশন কতটা প্রভাব ফেলে, শিশু-কিশোরদের ওপর অ্যালগরিদমিক কনটেন্টের প্রভাব কী, এসব বিষয়ে স্বাধীন গবেষণা প্রয়োজন। অনুমান দিয়ে নীতি তৈরি করলে ঝুঁকি বাড়ে।</p>
<p><strong>ইন্টারনেট মৃত নয়, কিন্তু অসুস্থ</strong></p>
<p>ডেড ইন্টারনেট থিওরি আক্ষরিক অর্থে সত্য নয়। ইন্টারনেট মরে যায়নি। মানুষ এখনো সেখানে আছে। তারা কথা বলছে, প্রশ্ন করছে, শিখছে, ভালোবাসছে, রাগ করছে, প্রতিবাদ করছে, গান লিখছে, ছবি আঁকছে, ব্যবসা করছে, শিক্ষা নিচ্ছে, আন্দোলন গড়ছে।</p>
<p>কিন্তু এটাও সত্য, ইন্টারনেট আগের মতো নেই। এটি এখন অনেক বেশি বাণিজ্যিক, নজরদারিমূলক, অ্যালগরিদম-নির্ভর এবং কনটেন্ট-উৎপাদনমুখী। মানুষের সম্পর্ক, চিন্তা ও সৃজনশীলতাকে ক্রমেই মাপা হচ্ছে লাইক, শেয়ার, ভিউ, ক্লিক ও এনগেজমেন্ট দিয়ে। ফলে ইন্টারনেটের মানবিক চরিত্র অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে।</p>
<p>বাংলাদেশের সামনে তাই দ্বৈত চ্যালেঞ্জ। একদিকে ডিজিটাল রূপান্তরের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে, অন্যদিকে ডিজিটাল জনপরিসরকে বট, ভুয়া তথ্য, অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত এবং মানহীন কনটেন্টের ভিড় থেকে রক্ষা করতে হবে।</p>
<p>প্রশ্ন তাই ইন্টারনেট সত্যিই মৃত কি না, তা নয়। আসল প্রশ্ন হলো, আমরা কি ইন্টারনেটকে মানুষের জায়গা হিসেবে ধরে রাখতে চাই? যদি চাই, তাহলে বাংলাদেশকে এখনই ভাবতে হবে, কীভাবে বাংলা ভাষা, স্থানীয় জ্ঞান, স্বাধীন সংবাদমাধ্যম, ডিজিটাল সাক্ষরতা, প্রযুক্তিগত জবাবদিহি এবং মানবিক সংলাপকে শক্তিশালী করা যায়।</p>
<p>কারণ ইন্টারনেটের প্রাণ প্রযুক্তি নয়। ইন্টারনেটের প্রাণ মানুষ। আর মানুষকে অদৃশ্য করে কোনো ডিজিটাল ভবিষ্যৎ টেকসই হতে পারে না।                     </p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ </strong>ডিজিটাল গভর্ন্যান্স, তথ্যের অখণ্ডতা ও ডিজিটাল গণতন্ত্রবিষয়ক নীতি-পরামর্শক, বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সবুজ বিপ্লব: জ্বালানী সংকটের টেকসই সমাধান সহ লুকিয়ে আছে অপার সম্ভাবনা!</title>
<link>https://digibanglatech.news/175064</link>
<guid>https://digibanglatech.news/175064</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202605/image_870x580_69fec0e5a3938.jpg" length="117711" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 24 Apr 2026 23:36:37 +0600</pubDate>
<dc:creator>সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p><span lang="BN-BD">এক সময়</span> রাজপথে<span lang="BN-BD"> </span>জ্বালানী তেলবাহী<span lang="BN-BD"> ট্যাঙ্কারের পেছনে লেখা </span>'<span lang="BN-BD">জন্ম থেকে জ্বলছি</span>’ <span lang="BN-BD">কথাটি দেখে আমরা হয়তো একটু হাসতাম। কিন্তু সময়ের পরিহাসে সেই কৌতুক আজ বিশ্ব অর্থনীতির এক জ্বলন্ত বাস্তব</span>তা<span lang="BN-BD">। ইরান</span>, <span lang="BN-BD">যুক্তরাষ্ট্র আর ইসরাইলের মধ্যপ্রাচ্যীয় উত্তাপ আজ শুধু মানচিত্রের রেখা নয়</span>, <span lang="BN-BD">বরং আমাদের রান্নাঘর আর কারখানার চাকা পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। সতেরো বছর আগে বিদ্যুতের জন্য যে হাহাকার আমরা দেখেছিলাম</span>, <span lang="BN-BD">আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এসেও সেই একই ছায়া আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে। </span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN-BD">তবে এই জ্বালা থেকে মুক্তির পথ কোনো আমদানিকৃত তরল জ্বালানিতে নেই</span>; <span lang="BN-BD">এর সমাধান লুকিয়ে আছে আমাদের মাথার ওপরের অফুরন্ত সূর্যালোকে। সরকার যদি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে টেকসই সুফল পেতে চায়</span>, তাহলে <span lang="BN-BD">সরকারকে প্রথমেই </span>‘<span lang="BN-BD">শুল্ক</span>যু<span lang="BN-BD">ক্ত আমদানি</span>’ <span lang="BN-BD">নীতি থেকে একধাপ এগিয়ে </span>‘<span lang="BN-BD">শুল্কমুক্ত উৎপাদন</span>’ <span lang="BN-BD">বা </span>‘<span lang="BN-BD">লোকাল অ্যাসেম্বলিং</span>’<span lang="BN-BD">-এ গুরুত্ব দিতে হবে</span><span lang="HI">।</span> সৌর বিদ্যুতের শক্তি সংরক্ষণে গড়ে তুলতে হবে ব্যাটারি হাব। পেট্রোলিয়াম জ্বালানীর খরচ কমাতে বাড়াতে বৈদ্যুতিক যান ও হোম অ্যাপলায়েন্সের ব্যবহার। এজন্য দরকার <span lang="BN-BD">নিজস্ব নবায়নযোগ্য জ্বালানি</span>, <span lang="BN-BD">স্থিতিশীলতা</span>, <span lang="BN-BD">কম খরচ</span>, <span lang="BN-BD">দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা</span>।<o:p></o:p></p>
<p>এক্ষেত্রে <span lang="BN-BD">শহরের প্রতিটি ছাদকে যদি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে রূপান্তর করা যায়</span>, <span lang="BN-BD">তবে গ্রিডের ওপর চাপ কমে যাবে অর্ধেক</span><span lang="HI">।</span> সরকার চাইলেই উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সকরারি অফিসগুলোর ছাদকে সোলার হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পারে। আমদানি নির্ভর জ্বালানী তেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে দেশে বিদ্যমান অফুরন্ত প্রাকৃতিক সূর্যালোকে জ্বলানী সঙ্কটের আঁধার দূর করতে পারে স্থায়ী ভাবে। এক্ষেত্রে সোলার প্যানেল আমদানি সহজীকরণ করার বিকল্প নেই। পাশাপাশি সূর্যের শক্তিকে সংরক্ষণে <span lang="BN-BD">লিথিয়াম-আয়ন বা আধুনিক সোডিয়াম-আয়ন ব্যাটারি</span> সহজপ্রাপ্য করতে <span lang="BN-BD">প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক শূন্য করা এবং দেশে কারখানা স্থাপনে</span> অন্তত<span lang="BN-BD"> ১০ বছরের ট্যাক্স হলিডে দেওয়া</span> যেতে পারে<span lang="BN-BD">।</span> পাশাপাশি<span lang="BN-BD"> সোলার প্যানেল বসানোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী এবং স্বল্প সুদের </span>‘<span lang="BN-BD">গ্রিন লোন</span>’ <span lang="BN-BD">নিশ্চিত ক</span>রতে হবে<span lang="HI">।</span><span lang="BN-BD"> এতে ব্যাটারির দাম কমলে সৌরবিদ্যুৎ শুধু দিনের আলোতে সীমাবদ্ধ থাকবে না</span><span lang="HI">। </span>সরকারের এই ছোট্ট নীতিগত সহায়তায় ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই উপকৃত হবে। <o:p></o:p></p>
<p>একইভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে জমিতে সেচের জন্য ব্যবহৃত স্যালো মেশিন, ধানকাটা, মাড়াইয়ে ব্যবহৃত হার্ভেস্ট মেশিন সহ মোটর চালিত সরঞ্জামের জন্য প্রয়োজনীয় তেল সংগ্রহকে জীবনের তেল ছুটে যাওয়ার মতো ত্রাহি অবস্থা থেকে নাগরিকদের মুক্তি দিতে হলে তাদের জন্য কৃষি-পরিবহন সব ক্ষেত্রেই ইভি সহজলভ্য করে দিতে হবে। কেননা, ইভি <span lang="BN-BD">শুধু </span>আজকের দিনে<span lang="BN-BD"> আস্ত </span>একটা<span lang="BN-BD"> গাড়ি নয় </span>এটি হয়ে উঠেছে প্রগতির গতি। তাই<span lang="BN-BD"> বৈদ্যুতিক যানের মোটর</span>, <span lang="BN-BD">কন্ট্রোলার এবং চার্জিং স্টেশনের যন্ত্রাংশ আমদানিতে বিশেষ ছাড় দিলে দেশে সাশ্রয়ী মূল্যের ই-বাইক বা থ্রি-হুইলার</span> যেমন<span lang="BN-BD"> তৈরি হবে</span>; তেমনি দেশের প্রয়োজনীয় কৃষি ও শিল্পকাজের জন্য ‍উদ্ভাবিত হবে নতুন নতুন যান<span lang="HI">। </span>ইভি আমদানিতে শুল্ক মুক্ত সুবিধা দিলে তেলের গাড়ির সংখ্যা কমার পাশাপাশি জ্বালানী তেল আমদানিতে বাড়তি ব্যয় ও এই খাতের ওপর চাপ কমবে। কমবে শব্দ দূষণ, বায়ু দূষণও। <o:p></o:p></p>
<p>হ্যা, <span lang="BN-BD">রাস্তায় বৈদ্যুতিক গাড়ি নামলেই হবে না</span>, <span lang="BN-BD">সেগুলোকে চার্জ করার সক্ষমতা থাকতে হবে </span>আমাদের<span lang="HI">।</span> এজন্য <span lang="BN-BD">দেশের প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে বাধ্যতামূলকভাবে ডিসি ফাস্ট চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের নীতি গ্রহণ করতে হবে</span><span lang="HI">।</span> রাস্তার পাশে কিংবা গ্যারেজগুলোতে চার্জিং স্টেশন স্থাপন কিংবা উবারের মতো চার্জিং ইভি’র মতো ব্যবস্থা করা যেতে পারে।  একইসঙ্গে <span lang="BN-BD">স্মার্ট মিটারিংয়ের মাধ্যমে রাতের বেলায় (যখন বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকে) ইভি চার্জ দিলে বিশেষ ছাড় দেওয়ার ব্যবস্থা ক</span>রতে হবে<span lang="BN-BD">। এতে গ্রিড ম্যানেজমেন্ট সহজ হবে</span><span lang="HI">।</span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN-BD">বাংলাদেশের ডিজেল আমদানির একটা বড় অংশ ব্যয় হয় সেচ পাম্পে</span><span lang="HI">।</span> তাই <span lang="BN-BD">দেশের প্রতিটি ডিজেলচালিত সেচ পাম্পকে সোলার পাম্পে রূপান্তর করতে সরকারি ভর্তুকি বাড়ানো </span>আবশ্যক<span lang="BN-BD">। এটি একদিকে কৃষকের খরচ কমাবে</span>, <span lang="BN-BD">অন্যদিকে জ্বালানি তেলের ওপর চাপ কমাবে</span><span lang="HI">।</span><o:p></o:p></p>
<p>ইভি’র বৈদ্যুতিক চাহিদা মেটাতে <span lang="BN-BD">নেট মিটারিং সহজীকরণ</span> হতে পারে সহজ সমাধান। এক্ষেত্রে <span lang="BN-BD">সাধারণ মানুষ যখন দেখবে তার ছাদের সোলার প্যানেল থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের পর অতিরিক্ত অংশ সে সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারছে এবং মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল </span>'<span lang="BN-BD">শূন্য</span>' <span lang="BN-BD">বা </span>'<span lang="BN-BD">নেগেটিভ</span>' <span lang="BN-BD">আসছে</span>, <span lang="BN-BD">তখন এটি একটি সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হবে</span><span lang="HI">।</span><o:p></o:p></p>
<p>আর <span lang="BN-BD">বিনিয়োগকারীরা তখনই আগ্রহী হবে যখন তারা দেখবে সরকারের নীতি দীর্ঘমেয়াদী</span><span lang="HI">।</span> তাই <span lang="BN-BD">নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে কাজ করতে গিয়ে যেন উদ্যোক্তাদের ১০টি দপ্তরে ঘুরতে না হয়। স্রেডা (</span>SREDA)-<span lang="BN-BD">কে আরও শক্তিশালী করে সব অনুমোদন এক জায়গা থেকে দেওয়ার ব্যবস্থা করা</span> যেতে পারে<span lang="HI">।</span><o:p></o:p></p>
<p>এভাবেই ‘<span lang="BN-BD">সবুজ জ্বালানি</span>’ আন্দোলনের মাধ্যমে<span lang="HI"> </span><span lang="BN-BD">আমরা যদি আজ ব্যাটারি প্রযুক্তি আর সৌরশক্তির দুয়ার পুরোপুরি খুলে দিই</span>, <span lang="BN-BD">তবে আগামী কয়েক বছরে লোডশেডিংয়ের শব্দটা আমাদের অভিধান থেকে মুছে যাবে। বাংলাদেশ তখন আর জ্বালানি সংকটে জ্বলবে না</span>, <span lang="BN-BD">বরং সূর্যের আলোয় আলোকিত এক টেকসই ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাবে</span><span lang="HI">। </span><o:p></o:p></p>
<p>লেখার শেষভাগে এসে মনে হলো- টেলিকম খাতের উদ্যোক্তা হিসেবে আমি জ্বালানী খাত নিয়ে এতো উদ্বিগ্ন কেন? সরকার কেনই বা আমার কথাকে আমলে নেবেন। সংশয় দূর করতে বলতে চাই- <span lang="BN-BD">বাংলাদেশের গ্রাম থেকে শহর</span>- <span lang="BN-BD">প্রতিটি কল</span>, <span lang="BN-BD">প্রতিটি ডেটা প্যাকেট ভেসে যায় হাজারো টেলিকম টাওয়ারের ভেতর দিয়ে। </span>আমরা যারা ব্রডব্যান্ড ক্যাবল টেনে নেটওয়ার্ক দেই তাদের সার্ভার জীবন্ত রাখতে লাগে বিদ্যুত। অর্থাৎ টেলিকম নেটওয়ার্কের<span lang="BN-BD"> এই অবকাঠামোর বড় একটি অংশ এখনো নির্ভরশীল ডিজেল জেনারেটর আর অস্থির গ্রিড বিদ্যুতের ওপর। জ্বালানি ব্যয় বাড়ছে</span>, <span lang="BN-BD">কার্বন নিঃসরণ বাড়ছে</span>, <span lang="BN-BD">আর সংকটের সময় নেটওয়ার্কও পড়ে যাচ্ছে ঝুঁকিতে। এই বাস্তবতায় “নিরবচ্ছিন্ন</span>, <span lang="BN-BD">পরিচ্ছন্ন শক্তি” আর বিলাসিতা নয়</span>- <span lang="BN-BD">এটি হয়ে উঠেছে টেলিকম খাতের টিকে থাকার পূর্বশর্ত</span>।<o:p></o:p></p>
<p>কল্পনা করুন, <span lang="BN-BD">দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একটি টাওয়ার</span> কিংবা আইএসপিদের পপ <span lang="BN-BD">যেখানে গ্রিড বিদ্যুৎ আসে-যায়। আগে সেখানে দিনে কয়েক ঘণ্টা ডিজেল জেনারেটর চালিয়ে নেটওয়ার্ক সচল রাখা হতো। এখন সেই টাওয়ারের মাথায় বসেছে সোলার প্যানেল</span>, <span lang="BN-BD">পাশে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যাংক।</span>  <span lang="BN-BD">দিনে সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হচ্ছে</span>, <span lang="BN-BD">রাতে সেই শক্তি জমা থাকছে ব্যাটারিতে। জেনারেটর চালু হচ্ছে কেবল জরুরি প্রয়োজনে</span>। <span lang="BN-BD">এই “হাইব্রিড পাওয়ার সিস্টেম” শুধু খরচ কমাচ্ছে না</span>-<span lang="BN-BD">এটি কার্বন নিঃসরণও কমাচ্ছে ৪০-৬০% পর্যন্ত</span><span lang="HI">।</span><span lang="BN-BD"> টেলিকম খাতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো “নিরবচ্ছিন্নতা”। এখানে এক সেকেন্ডের বিদ্যুৎ বিভ্রাট মানেই হাজারো কল ড্রপ</span>, <span lang="BN-BD">ডেটা লস।</span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN-BD">এখানেই আসে ইনগ্রিড এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম (</span>ESS) তথা <span lang="BN-BD">বড় আকারের ব্যাটারি (লিথিয়াম-আয়ন</span>, LFP); <span lang="BN-BD">স্মার্ট এনার্জি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার</span>; <span lang="BN-BD">গ্রিড</span>, <span lang="BN-BD">সোলার</span>, <span lang="BN-BD">জেনারেটর—সব উৎসের সমন্বয়</span>। <span lang="BN-BD">এই সিস্টেম টেলিকম টাওয়ারকে ছোট একটি “স্বয়ংসম্পূর্ণ বিদ্যুৎ কেন্দ্র”-এ পরিণত করতে পারে। বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়</span>, <span lang="BN-BD">বন্যা</span>, <span lang="BN-BD">ঝড়—সবই নিয়মিত। এই সময়ে টেলিকমই হয়ে ওঠে জীবনরেখা। সৌরশক্তি + স্টোরেজ + স্মার্ট </span>UPS <span lang="BN-BD">মিলিয়ে তৈরি করা যায় “ডিজাস্টার-রেজিলিয়েন্ট নেটওয়ার্ক”</span>।<o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN-BD">ভাবুন</span>তো, এই ইকো সিস্টেমে <span lang="BN-BD">একজন উদ্যোক্তা গ্রামে একটি “এনার্জি সার্ভিস কোম্পানি (</span>ESCO)” <span lang="BN-BD">তৈরি করলেন</span><span lang="HI">। </span><span lang="BN-BD">তিনি টেলিকম টাওয়ার</span>, <span lang="BN-BD">স্থানীয় ব্যবসা</span>, <span lang="BN-BD">এমনকি চার্জিং স্টেশন—সবকিছুতে সৌরবিদ্যুৎ সরবরাহ করছেন</span><span lang="HI">।</span><span lang="HI"> </span><span lang="BN-BD">তিনি বিদ্যুৎ বিক্রি করছেন “</span>Power-as-a-Service” <span lang="BN-BD">মডেলে</span><span lang="HI">। </span><span lang="BN-BD">অপারেটররা বিনিয়োগ না করে শুধু ব্যবহার করছে</span><span lang="HI">।</span>  <span lang="BN-BD">একসময় </span> যে <span lang="BN-BD">টেলিকম টাওয়ার ছিল শুধু যোগাযোগের প্রতীক</span>; এ<span lang="BN-BD">খন এটি হতে পারে শক্তির উৎস</span>, <span lang="BN-BD">স্থিতিশীলতার কেন্দ্র</span>, <span lang="BN-BD">এমনকি স্থানীয় অর্থনীতির চালিকাশক্তি</span><span lang="HI">।</span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN-BD">বাংলাদেশের জ্বালানি খাত আজ এক অস্বস্তিকর বাস্তবতার মুখোমুখি। আমরা যে মডেলের ওপর দাঁড়িয়ে আছি</span>, <span lang="BN-BD">সেটি টেকসই নয়</span>; <span lang="BN-BD">এটা এখন আর তর্কের বিষয় নয়</span>, <span lang="BN-BD">বাস্তবতা। বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লে</span>, <span lang="BN-BD">মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তৈরি হলে বা ডলারের ওপর চাপ বাড়লে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে আমাদের ঘরে</span>, <span lang="BN-BD">শিল্পে</span>, <span lang="BN-BD">কৃষিতে।</span> অথচ <span lang="BN-BD">সূর্যের আলো তো প্রতিদিনই </span>মেলে। <span lang="BN-BD">প্রশ্ন হলো</span>, <span lang="BN-BD">আমরা সেটিকে কেবল আলো হিসেবে দেখবো</span>, <span lang="BN-BD">নাকি শক্তিতে রূপান্তর করে ভবিষ্যৎ গড়বো</span>? পরিসংখ্যান বলছে, <span lang="BN-BD">বাংলাদেশে গড়ে ৪ থেকে ৫ কিলোওয়াট আওয়ার প্রতি বর্গমিটার প্রতিদিন সৌর বিকিরণ রয়েছে</span>, <span lang="BN-BD">যা জার্মানির চেয়ে দ্বিগুণ। অথচ জার্মানি তার বিদ্যুতের ৬০ শতাংশেরও বেশি নবায়নযোগ্য উৎস থেকে পাচ্ছে। এই একটি তথ্যই বলে দেয়</span>, <span lang="BN-BD">সূর্যের আলো আমাদের সম্পদ হওয়ার কথা</span>, <span lang="BN-BD">কিন্তু সেটা হয়ে উঠছে না।</span> বিশেষজ্ঞদের মতে, <span lang="BN-BD">শিল্প</span>, <span lang="BN-BD">বাণিজ্যিক ভবন ও বাসাবাড়ির ছাদ ব্যবহার করে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব</span>। তাদের মতের সমান্তরালে আমার বিশ্বাস, <span lang="BN-BD">বাংলাদেশের টেলিকম খাত যদি এই রূপান্তরকে আলিঙ্গন করে</span>, <span lang="BN-BD">তাহলে “নেটওয়ার্ক কভারেজ” শুধু মানচিত্রে নয়—এটি ছড়িয়ে পড়বে টেকসই উন্নয়নের প্রতিটি স্তরে</span>। <o:p></o:p></p>
<p>কেননা, <span lang="BN-BD">প্রযুক্তি এখন সস্তা</span>, <span lang="BN-BD">বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী</span>, <span lang="BN-BD">সম্ভাবনাও অফুরন্ত</span>; <span lang="BN-BD">তবু পরিবর্তন ধীর। কারণটা প্রযুক্তিগত নয়</span>, <span lang="BN-BD">নীতিগত। নবায়নযোগ্য প্রযুক্তিতে শুল্ক প্রত্যাহার</span>, <span lang="BN-BD">৫ শতাংশের নিচে সুদে দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন</span>, <span lang="BN-BD">দ্রুত অনুমোদনপ্রক্রিয়া (সর্বোচ্চ ৩০ দিন)</span>, <span lang="BN-BD">বাধ্যতামূলক ছাদভিত্তিক সৌর সংযোগ</span>, <span lang="BN-BD">গ্রিড আধুনিকীকরণ এবং কার্যকর নেট মিটারিং—এসব নীতি বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো পরিবর্তনই টেকসই হবে না।</span></p>
<hr>
<p><span lang="BN-BD"><strong>লেখক:</strong><span> প্রকাশক, ডিজিবাংলা, সম্পাদক, সারবাংলা, উদ্যোক্তা ও জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি, আইএসপিএবি</span></span></p>
<hr>
<p><o:p> </o:p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>অনলাইনে অদৃশ্য যুদ্ধ</title>
<link>https://digibanglatech.news/173519</link>
<guid>https://digibanglatech.news/173519</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202604/image_870x580_69d8eccd65bf0.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 10 Apr 2026 00:00:44 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>যুদ্ধ মানেই চোখের সামনে ধ্বংসস্তূপ, ধোঁয়া, আগুন, শরণার্থী, লাশ, আর্তনাদ। আমরা যুদ্ধকে সাধারণত দেখি আকাশে ক্ষেপণাস্ত্রের রেখা, বিধ্বস্ত বাড়িঘর, হাসপাতালে আহত মানুষের ভিড়, কিংবা সীমান্তজুড়ে সামরিক উত্তেজনার ছবিতে। কিন্তু ২০২৬ সালের এই আঞ্চলিক সংকট আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে, আধুনিক যুদ্ধের আরেকটি ফ্রন্ট আছে, যা চোখে কম দেখা যায়, কিন্তু আঘাত হানে মানুষের জীবনযাত্রার গভীরে। সেটি হলো ডিজিটাল অঙ্গন।</p>
<p>মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রথম সপ্তাহেই বোঝা গেছে, যুদ্ধ এখন শুধু মাটির ওপর নয়, ডেটার ভেতরও লড়া হচ্ছে। বোমা পড়ছে শহরে, কিন্তু কাঁপছে সার্ভারও। মানুষ ঘর হারাচ্ছে, একই সঙ্গে হারাচ্ছে যোগাযোগের পথ। শরণার্থী শিবিরে যেমন নিরাপত্তাহীনতা, তেমনি অনলাইনেও ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রতারণা, ভুয়া জরিপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বিভ্রান্তিকর প্রচার। যুদ্ধক্ষেত্রের সীমানা তাই আর কেবল ভৌগোলিক নয়, ডিজিটালও।</p>
<p>ইসরায়েলের নির্বিচার বোমাবর্ষণে দক্ষিণ লেবানন, বৈরুত ও বেকা থেকে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট সামরিক সংঘাতের অভিঘাত ছড়িয়ে পড়েছে উপসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে। বিভিন্ন রাজধানীতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর এসেছে। এই বৃহৎ সংঘাতের ভেতরেই নতুনভাবে সামনে এসেছে কিছু কঠিন প্রশ্ন। যুদ্ধের সময় কারা তথ্য নিয়ন্ত্রণ করবে? কোন অবকাঠামো বেসামরিক, আর কোনটি সামরিক? নাগরিকের যোগাযোগের অধিকার কোথায় দাঁড়াবে? আর প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কি কেবল ব্যবসায়ী, নাকি যুদ্ধেরও নীরব অংশীদার?</p>
<p><strong>ডেটা সেন্টার আর নিরীহ নয়</strong></p>
<p>গত সপ্তাহে অ্যামাজন জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে তাদের তিনটি AWS ডেটা সেন্টার ইরানি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ব্যাংকিং, ই-কমার্স, ভোক্তাসেবা থেকে শুরু করে নানা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিঘ্ন দেখা দেয়। সাধারণভাবে কোনো ডেটা সেন্টারে আঘাত মানে প্রযুক্তিগত সমস্যা মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবে এটি অনেক গভীর সংকেত বহন করে।</p>
<p>আজকের বিশ্বে ডেটা সেন্টার শুধু অনলাইন সেবার পেছনের নীরব যন্ত্র নয়। এগুলো একেকটি কৌশলগত স্থাপনা। একটি দেশের আর্থিক লেনদেন, ই-গভর্ন্যান্স, ক্লাউড-ভিত্তিক ব্যবসা, গণমাধ্যম, যোগাযোগ, এমনকি জননিরাপত্তা সম্পর্কিত বহু সেবা এগুলোর ওপর নির্ভরশীল। ফলে যুদ্ধের সময়ে এগুলো আর “নিরপেক্ষ” অবকাঠামো থাকে না। যদি একই প্ল্যাটফর্ম বেসামরিক অর্থনীতি চালায়, আবার কোনোভাবে সামরিক সক্ষমতার সঙ্গেও যুক্ত থাকে, তাহলে সেটি হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হতে সময় লাগে না।</p>
<p>এই বাস্তবতা একটি অস্বস্তিকর সত্য সামনে আনে। আধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামোকে আমরা যতই দৈনন্দিন জীবনের অংশ ভাবি না কেন, ভূরাজনীতির চোখে তা শক্তির অংশ। ব্যাংকিং অ্যাপ কাজ না করা, অনলাইন কেনাকাটা বন্ধ হওয়া বা ডিজিটাল সেবায় ব্যাঘাত কেবল প্রযুক্তিগত বিপর্যয় নয়, এটি একধরনের সামাজিক অস্থিতিশীলতা। শহর যখন বোমায় কাঁপে, তখন নাগরিকের ভরসার শেষ জায়গাগুলোর একটি হয়ে ওঠে ফোন, ইন্টারনেট, ডিজিটাল ব্যাংকিং, ম্যাপ, বার্তা আদান-প্রদান। সেই অবকাঠামো আঘাতপ্রাপ্ত হলে যুদ্ধের অভিঘাত বহুগুণ বেড়ে যায়।</p>
<p><strong>অনলাইনে অদৃশ্য যুদ্ধ</strong></p>
<p>লেবাননের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির উচ্চপর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাদের নাম ও চেহারা ব্যবহার করে এআই-নির্ভর স্পন্সরড বিজ্ঞাপন ছড়িয়ে পড়েছে। এসব বিজ্ঞাপনে নিরপেক্ষতা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তির পক্ষে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বাইরে থেকে দেখলে এটি হয়তো রাজনৈতিক প্রচারণা বলে মনে হতে পারে। কিন্তু ডিজিটাল অধিকারের দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি অনেক বেশি বিপজ্জনক।</p>
<p>কারণ, এটি কেবল মতপ্রকাশ নয়, পরিচয় ভেজাল। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি এসব প্রচার সাধারণ নাগরিককে বিভ্রান্ত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় অবস্থান, রাজনৈতিক বৈধতা এবং জনমতের ভেতরে কৃত্রিম দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে। যুদ্ধের সময় মানুষের মন এমনিতেই ভীত, অনিশ্চিত ও সংবেদনশীল থাকে। সেই মুহূর্তে ভুয়া অথচ বিশ্বাসযোগ্য দেখানো বার্তা দ্রুত কাজ করে। বিশেষত যদি তা আসে পরিচিত মুখ, ক্ষমতাবান ব্যক্তি বা সরকারি ভাষার অনুকরণে।</p>
<p>এখানে বড় বিপদটি শুধু বিভ্রান্তি নয়, আস্থার ক্ষয়। মানুষ যখন বুঝতে পারে না কোন বার্তা সত্য, কোনটি কৃত্রিম, কোনটি প্রচারণা, তখন তারা ধীরে ধীরে সব কিছুকেই সন্দেহ করতে শুরু করে। এই অবিশ্বাস গণতান্ত্রিক সমাজের ভিত্তি দুর্বল করে, যুদ্ধবিধ্বস্ত সমাজে তা আরও গভীর ক্ষত তৈরি করে।</p>
<p>এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ভুয়া জরিপের বিস্তার। যুদ্ধ সম্পর্কে মানুষের মতামত জানতে চেয়ে কিছু জরিপ ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যেগুলোর মধ্যে কিছু ছিল সন্দেহজনক। কোথাও সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, কোথাও তথ্য সংগ্রহের আড়ালে মানুষকে টার্গেট করার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যুদ্ধ ও বিপর্যয়ের সময় এ ধরনের কৌশল নতুন নয়। ক্ষুধার্ত, বাস্তুচ্যুত, উদ্বিগ্ন মানুষ সহজেই এমন বার্তায় সাড়া দেয়, কারণ তাদের সামনে তথ্য যাচাইয়ের সুযোগ কম, প্রয়োজন বেশি।</p>
<p><strong>বাস্তুচ্যুত মানুষ, অনলাইনে নতুন শিকার</strong></p>
<p>যুদ্ধের সবচেয়ে দৃশ্যমান শিকার বাস্তুচ্যুত মানুষ। কিন্তু আজকের বাস্তুচ্যুতি শুধু ভৌগোলিক নয়, ডিজিটালও। যখন মানুষ তড়িঘড়ি করে ঘর ছেড়ে পালায়, তারা সঙ্গে নেয় কিছু কাপড়, নথি, ফোন, আর যোগাযোগের প্রয়োজন। এই ফোনই তখন আশ্রয়ের খবর দেয়, আত্মীয়ের অবস্থান জানায়, ব্যাংকে টাকা আছে কি না বলে, রুট ম্যাপ দেখায়, সন্তানের সঙ্গে যোগাযোগ করায়। ফলে ফোন হারানো, সিম অকার্যকর হওয়া, ইন্টারনেট না থাকা, কিংবা প্রতারণার ফাঁদে পড়া যুদ্ধের নতুন মাত্রা হয়ে উঠেছে।</p>
<p>লেবাননে অনেক বাসিন্দা হুমকিমূলক ফোনকল ও সরিয়ে নেওয়ার বার্তা পেয়েছেন। সংকটের সময়ে এমন বার্তা সত্যিও হতে পারে, আবার প্রতারণামূলকও হতে পারে। এই অনিশ্চয়তাই সবচেয়ে বিপজ্জনক। ধরুন, কেউ একটি বার্তা পেলেন যে নির্দিষ্ট এলাকায় দ্রুত চলে যেতে হবে, বা অনুদান পেতে একটি ফরম পূরণ করতে হবে, বা আশ্রয় পেতে লিংকে ক্লিক করতে হবে। যুদ্ধের মুহূর্তে তিনি সেটি যাচাই করবেন কীভাবে? মানুষের ভয়ের ওপর দাঁড়িয়ে অনলাইন প্রতারণা তখন আরও কার্যকর হয়ে ওঠে।</p>
<p>ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থাগুলো তাই সতর্ক করছে, সংকটের সময় যে কোনো অচেনা লিংক, ফরম, কল বা আর্থিক অনুরোধ সন্দেহের চোখে দেখতে হবে। কিন্তু এখানেও একটি বৈপরীত্য আছে। যাদের সবচেয়ে বেশি সুরক্ষা প্রয়োজন, তারাই সাধারণত সবচেয়ে কম ডিজিটাল নিরাপত্তা জ্ঞান নিয়ে এই অবস্থায় পড়েন। ফলে ডিজিটাল সাক্ষরতা এখন আর শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, একে জীবনরক্ষাকারী দক্ষতা বললেও বাড়িয়ে বলা হয় না।</p>
<p><strong>ইন্টারনেট বন্ধ মানে শুধু নেট না থাকা নয়</strong></p>
<p>ইরানে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার খবর এসেছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, সেখানে নাগরিকরা মূলত সরকার-অনুমোদিত সীমিত কিছু সেবাই ব্যবহার করতে পারছেন। এই ধরনের ইন্টারনেট বন্ধ অনেক রাষ্ট্র আগেও করেছে, কিন্তু যুদ্ধের সময় এর প্রভাব ভয়াবহতর।</p>
<p>কিছু সরকার যুক্তি দেয়, জাতীয় নিরাপত্তা, গুজব নিয়ন্ত্রণ বা শত্রুপক্ষের কার্যক্রম ঠেকাতেই ইন্টারনেট সীমিত করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ইন্টারনেট বন্ধ হলে প্রথম আঘাত পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। তারা পরিবার-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে না, নিরাপদ আশ্রয়ের খবর পায় না, হাসপাতাল বা জরুরি সহায়তার তথ্য জানতে পারে না। অনেকে আর্থিক লেনদেন করতে পারে না, কেউ কাজ করতে পারে না, কেউ সন্তানের খোঁজও পায় না।</p>
<p>আরেকটি বড় ক্ষতি হয় তথ্যপ্রবাহে। যুদ্ধের সময় স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং নাগরিক-সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কে কোথায় হামলা চালাল, কোথায় বেসামরিক মানুষ আটকা পড়েছে, কোথায় মানবাধিকার লঙ্ঘন হচ্ছে, কোন হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত হলো, এসব তথ্য অনেক সময় প্রথম আসে মাঠের মানুষের মোবাইল ভিডিও, কল, লোকেশন ডেটা বা বার্তার মাধ্যমে। ইন্টারনেট বন্ধ করে দিলে শুধু নাগরিকই নীরব হয় না, যুদ্ধের দলিলও অন্ধকারে চলে যায়।</p>
<p>এই জায়গায় ডিজিটাল অধিকার সরাসরি মানবাধিকারের সঙ্গে মিশে যায়। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার, যোগাযোগের অধিকার, নিরাপত্তার অধিকার সব একসঙ্গে আঘাতপ্রাপ্ত হয়। যুদ্ধের সময় ইন্টারনেট বন্ধ তাই “প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ” নয়, এটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যার মানবিক মূল্য অত্যন্ত বেশি।</p>
<p><strong>ভুল তথ্য দমন নাকি নিয়ন্ত্রণের নতুন অজুহাত</strong></p>
<p>উপসাগরীয় কয়েকটি দেশ যুদ্ধ ঘিরে গুজব ও ভুল তথ্যের বিস্তার ঠেকাতে আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত হামলার স্থানের ছবি বা ভিডিও ছড়ানো নিয়ে সতর্ক করেছে। এআই দিয়ে ভুয়া ছবি বা কনটেন্ট তৈরি করাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলা হয়েছে। কাতার ভুল তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে ৩১৩ জনকে আটক করেছে। বাহরাইন ও কুয়েতও অনুরূপ ব্যবস্থা নিয়েছে।</p>
<p>প্রথম দৃষ্টিতে এসব পদক্ষেপ যুক্তিসংগত মনে হতে পারে। যুদ্ধের সময় গুজব ভয় ছড়ায়, আতঙ্ক বাড়ায়, এমনকি নিরাপত্তা পরিস্থিতিও জটিল করে তুলতে পারে। কিন্তু এখানেই একটি সূক্ষ্ম প্রশ্ন আছে: ভুল তথ্য দমন আর মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের সীমারেখা কোথায়?</p>
<p>অনেক কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রই অতীতে “জাতীয় স্বার্থ”, “সাইবার নিরাপত্তা” বা “ভুল তথ্য প্রতিরোধ” এর নামে সমালোচনাকারী নাগরিক, সাংবাদিক, মানবাধিকারকর্মী ও বিরোধী মতের মানুষকে দমন করেছে। ফলে যুদ্ধের সময় নেওয়া এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, বাস্তবে রাষ্ট্র কখনো সত্যিকারের বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিরুদ্ধে যায়, আবার কখনো অস্বস্তিকর সত্যের বিরুদ্ধেও যায়।</p>
<p>যখন মানুষ হামলার ছবি পোস্ট করতে ভয় পায়, সাংবাদিক মাঠের তথ্য প্রকাশ করতে দ্বিধা করে, বা সাধারণ নাগরিক সমালোচনা জানাতে গিয়েও গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় থাকে, তখন নিরাপত্তা আর স্বাধীনতার ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়। যুদ্ধকালীন পরিবেশে এই ভারসাম্য আরও সহজে ভেঙে পড়ে।</p>
<p><strong>প্রযুক্তির নৈতিকতা এখন আর তাত্ত্বিক প্রশ্ন নয়</strong></p>
<p>এই পুরো সংকট প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকেও নতুন করে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে। ক্লাউড অবকাঠামো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিজ্ঞাপন ব্যবস্থা, ডেটা সেবা, এআই টুল, এসব কি কেবল নিরপেক্ষ প্রযুক্তি? নাকি এগুলো যুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখে? যদি কোনো অবকাঠামো একদিকে লাখো মানুষের দৈনন্দিন জীবন চালায়, অন্যদিকে সামরিক ব্যবস্থারও সহায়ক হয়, তবে সেটি কি কেবল বেসরকারি সেবা হিসেবে দেখা যাবে?</p>
<p>প্রযুক্তির সামরিকীকরণ নিয়ে যে উদ্বেগ আগে নীতিগত আলোচনায় সীমাবদ্ধ ছিল, এখন তা বাস্তব ঝুঁকি হিসেবে হাজির। ডেটা সেন্টারে হামলা, এআই-নির্ভর বিভ্রান্তিকর প্রচার, নজরদারি, প্ল্যাটফর্মের পক্ষপাত, কনটেন্ট নামিয়ে না নেওয়া, আবার কোথাও অতিরিক্ত কনটেন্ট দমন, সব মিলিয়ে বোঝা যাচ্ছে, প্রযুক্তি আর নিরীহ পরিকাঠামো নয়। এটি ক্ষমতার অংশ, এবং সেই কারণেই জবাবদিহিরও অংশ।</p>
<p><strong>যুদ্ধের সময় ডিজিটাল অধিকার কেন বিলাসিতা নয়</strong></p>
<p>অনেক সময় মনে করা হয়, যুদ্ধের সময় প্রধান প্রশ্ন হলো জীবন বাঁচানো, খাবার, পানি, আশ্রয়, চিকিৎসা। ডিজিটাল অধিকার তখন নাকি গৌণ বিষয়। কিন্তু বর্তমান সংকট দেখাচ্ছে, এই ধারণা ভুল। কারণ যোগাযোগের অধিকার ছাড়া আশ্রয়ের তথ্য মেলে না। নির্ভরযোগ্য তথ্য ছাড়া নিরাপদ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। গোপনীয়তা রক্ষা না হলে বাস্তুচ্যুত মানুষ আরও ঝুঁকিতে পড়ে। অনলাইন প্রতারণা ঠেকাতে না পারলে সংকট দ্বিগুণ হয়। আর স্বাধীন তথ্যপ্রবাহ না থাকলে যুদ্ধের নথি, দায়বদ্ধতা, সত্য সবকিছুই দুর্বল হয়ে পড়ে।</p>
<p>ডিজিটাল অধিকার তাই বিলাসিতা নয়, সংকটকালে এটি বেঁচে থাকার অবকাঠামোর অংশ। একবিংশ শতাব্দীর যুদ্ধক্ষেত্রে পানি, ওষুধ, আশ্রয়, বিদ্যুতের মতোই জরুরি হয়ে উঠেছে সংযোগ, তথ্য, ডেটা নিরাপত্তা ও অনলাইন বিশ্বাসযোগ্যতা।</p>
<p>মধ্যপ্রাচ্যের এই আঞ্চলিক সংঘাত সেই কথাটিই আবার স্পষ্ট করে দিল। যুদ্ধ এখন শুধু সীমান্তে হয় না, সার্ভার রুমেও হয়। শুধু বন্দুক দিয়ে নয়, অ্যালগরিদম দিয়েও হয়। শুধু মানুষকে তাড়িয়ে নয়, তাদের নীরব করেও হয়। আর তাই যুদ্ধের সময় ডিজিটাল অধিকার রক্ষার প্রশ্নটি মানবাধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়ের প্রশ্ন থেকে আলাদা নয়, বরং তারই অংশ।                                                                                                                                </p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong><span> বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর</span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>টেক্সটাইল, প্লাস্টিক না ই&#45;ওয়েস্ট</title>
<link>https://digibanglatech.news/173429</link>
<guid>https://digibanglatech.news/173429</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202604/image_870x_69ce7670dd2b8.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 08 Apr 2026 20:57:15 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশের শিল্পখাত আজ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে টেক্সটাইল, প্লাস্টিক এবং ই-ওয়েস্ট—এই তিনটি খাত ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ভিন্ন ভিন্ন সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জকে সামনে নিয়ে আসছে। দীর্ঘদিন ধরে টেক্সটাইল খাত দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত, যার পেছনে রয়েছে শক্তিশালী রপ্তানি বাজার, দক্ষ শ্রমশক্তি এবং উন্নত উৎপাদন কাঠামো। সাম্প্রতিক সময়ে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও আন্তর্জাতিক মান অর্জনের মাধ্যমে এই খাত টেকসইতার দিকেও অগ্রসর হচ্ছে। তবে উচ্চমূল্য সংযোজন, ডিজাইন সক্ষমতা এবং গবেষণা-নির্ভর উদ্ভাবনের ঘাটতি ভবিষ্যতে এই খাতের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে।</p>
<p>অন্যদিকে, প্লাস্টিক শিল্প দ্রুত বিকাশমান একটি খাত, যা স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে। কিন্তু বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক দূষণ একটি বড় উদ্বেগ হিসেবে দেখা দেওয়ায়, এই খাতের টেকসই ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশবান্ধব উৎপাদন অত্যন্ত জরুরি। বর্তমানে বাংলাদেশের রিসাইক্লিং ব্যবস্থা মূলত অনানুষ্ঠানিক খাতের উপর নির্ভরশীল, যা একটি সংগঠিত সার্কুলার ইকোনমি গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে। একই সঙ্গে ই-ওয়েস্ট খাত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে থাকলেও এর সম্ভাবনা অত্যন্ত বিস্তৃত। ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের বৃদ্ধি ইলেকট্রনিক বর্জ্যের পরিমাণ বাড়াচ্ছে, যা একদিকে পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করছে, অন্যদিকে মূল্যবান সম্পদ পুনরুদ্ধারের সুযোগও সৃষ্টি করছে। তবে এই খাতে আনুষ্ঠানিক কাঠামো, নিরাপদ পুনর্ব্যবহার এবং আধুনিক প্রযুক্তির অভাব একটি বড় সীমাবদ্ধতা।</p>
<p>সামগ্রিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয় যে, বর্তমান প্রস্তুতির দিক থেকে টেক্সটাইল খাত সবচেয়ে এগিয়ে থাকলেও ভবিষ্যতের সম্ভাবনার বিচারে ই-ওয়েস্ট খাত সবচেয়ে বেশি অগ্রসর হওয়ার সুযোগ রাখে, যদি সঠিক নীতি ও বিনিয়োগ নিশ্চিত করা যায়; আর প্লাস্টিক খাত এই দুইয়ের মাঝামাঝি অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের টেকসই শিল্পায়নের জন্য তাই প্রয়োজন একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী নীতি—যেখানে টেক্সটাইল খাতে উদ্ভাবন ও উচ্চমূল্য সংযোজন, প্লাস্টিক খাতে সার্কুলার ইকোনমি এবং ই-ওয়েস্ট খাতে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা হবে। সর্বোপরি, কেবল বর্তমান প্রস্তুতি নয়—বরং প্রযুক্তি, টেকসইতা ও উদ্ভাবনের সমন্বিত প্রয়াসই নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের শিল্পখাতের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতা ও সাফল্য।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ<span> </span></strong><span>অর্থনীতিবিদ; ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড গ্রুপ</span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডেটা: সম্পদ, সম্পত্তি—নাকি ঝুঁকি?</title>
<link>https://digibanglatech.news/173087</link>
<guid>https://digibanglatech.news/173087</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202511/image_870x_691ac32708983.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 06 Apr 2026 12:23:35 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>তথ্যপ্রযুক্তি নিরাপত্তার ছাত্র হিসেবে আমরা দীর্ঘদিন ধরেই ডেটার আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক মূল্য নিয়ে আলোচনা করে আসছি। বর্তমানে ডেটা কেবল একটি প্রযুক্তিগত উপাদান নয়—এটি এখন অর্থনীতি, ক্ষমতা এবং প্রভাবের একটি কেন্দ্রবিন্দু। কোন তথ্য কার কাছে আছে, কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে—এসব প্রশ্ন আজ শুধু প্রযুক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এগুলো সিদ্ধান্ত, নিয়ন্ত্রণ এবং প্রভাবের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।<o:p></o:p></p>
<p>কিন্তু এই চিত্রের আরেকটি দিক আছে, যা আমরা অনেক সময় উপেক্ষা করি। ডেটা শুধু সম্পদ নয়, এটি এক ধরনের সম্পত্তিও—যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে মালিকানা, নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারের অধিকার। প্রশ্ন হলো—এই ডেটার প্রকৃত মালিক কে?<o:p></o:p></p>
<p>একজন ব্যবহারকারী হিসেবে আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের তথ্য দিচ্ছি—নিবন্ধনের সময়, কেনাকাটার সময়, সেবা গ্রহণের সময়। কিন্তু সেই তথ্য কোথায় সংরক্ষিত হচ্ছে, কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, কার সঙ্গে ভাগ করা হচ্ছে—এসব বিষয়ে আমাদের জ্ঞান ও নিয়ন্ত্রণ—দুটোই সীমিত। ডেটা আমাদের, কিন্তু নিয়ন্ত্রণ আমাদের নয়।<o:p></o:p></p>
<p>এখানেই বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। ডেটার ক্ষেত্রে মালিকানা (ownership), নিয়ন্ত্রণ (control) এবং ব্যবহারের অধিকার (rights to use)—এই তিনটি স্তরেই আইনগত ও নৈতিক প্রশ্ন অনিবার্য হয়ে উঠেছে।<o:p></o:p></p>
<p>এই দ্বৈততার মধ্যেই লুকিয়ে আছে তৃতীয় একটি বাস্তবতা—ডেটা একটি ঝুঁকি। এবং এই ঝুঁকিটি কেবল তাত্ত্বিক নয়; এটি কাঠামোগত। একটি তথ্য যত মূল্যবান, ততই তা লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। আবার সেই তথ্য যত বেশি সিস্টেমে ছড়িয়ে পড়ে, ঝুঁকিও তত বাড়ে।<o:p></o:p></p>
<p>ডেটা একবার সংগ্রহ করা হলে তা আর স্থির থাকে না—এটি স্থানান্তরিত হয়, কপি হয়, শেয়ার হয়। এক সার্ভার থেকে অন্য সার্ভারে, একটি এপিআই (API—ডেটা বিনিময়ের মাধ্যম) থেকে তৃতীয় পক্ষের সিস্টেমে, কখনো বা একটি সাধারণ এক্সেল ফাইল হয়ে ব্যক্তিগত ডিভাইসে পৌঁছে যায়। এই অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও প্রতিলিপিই ধীরে ধীরে ডেটাকে সম্পদ থেকে ঝুঁকিতে রূপান্তরিত করে।<o:p></o:p></p>
<p>বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই বাস্তবতা আরও স্পষ্ট। জাতীয় পরিচয়পত্র (NID), জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, কিংবা সাম্প্রতিক খুচরা বিপণি প্রতিষ্ঠান স্বপ্ন (Shwapno)–এর মতো ঘটনার দিকে তাকালেই দেখা যায়—নাম, মোবাইল নম্বর, জন্মতারিখ বা ক্রয়ের তথ্যের মতো উপাত্ত কত সহজে বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। অথচ এই তথ্যগুলোই ব্যবহার করে তৈরি করা সম্ভব প্রতারণার জাল—ভুয়া পরিচয়ে সিম তোলা, আর্থিক লেনদেনের চেষ্টা, এমনকি বিশ্বাসযোগ্যতার সুযোগ নিয়ে সামাজিক প্রভাব খাটানো। একজন ব্যক্তি যা ভাবছেন ব্যক্তিগত, সেটিই হয়ে উঠতে পারে অন্য কারও কাছে একটি কার্যকর হাতিয়ার।<o:p></o:p></p>
<p>অনেকে এখন ডেটা ফাঁসের পর নিজের তথ্য খুঁজে দেখতে চান—ডার্ক ওয়েবে, বিভিন্ন অনলাইন টুলে। কিন্তু এই অনুসন্ধান আসলে একটি বিলম্বিত প্রতিক্রিয়া। কারণ কোনো তথ্য যদি ইতোমধ্যে উন্মুক্ত নেটওয়ার্কে পৌঁছে যায়, তাহলে সেটি আর পুরোপুরি ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। সেখানে গিয়ে ডেটা খোঁজা মানে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা নয়, বরং ক্ষতির পরিমাণ বোঝা। ডার্ক ওয়েব সতর্ক করে, কিন্তু রক্ষা করে না।<o:p></o:p></p>
<p>এখানেই ডেটা সুরক্ষার প্রশ্নটি নতুনভাবে ভাবতে হয়। নিরাপত্তা মানে কেবল বাইরের আক্রমণ ঠেকানো নয়—এটি ডেটার চলাচল বোঝা, নিয়ন্ত্রণ করা এবং সীমিত করার প্রক্রিয়া। কোন ডেটা কোথায় যাচ্ছে, কে সেটিতে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে, কতবার সেটির কপি তৈরি হচ্ছে—এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না থাকলে, কোনো প্রযুক্তিগত নিরাপত্তাই পূর্ণাঙ্গ নয়। ডেটা ফাঁস হয় না—ডেটা বেরিয়ে যায়। আর আমরা অনেক সময় বুঝতেই পারি না, কখন।<o:p></o:p></p>
<p>এই বাস্তবতায় একটি মৌলিক প্রশ্ন সামনে আসে—ঝুঁকিটি কার, আর নিরাপত্তার দায়িত্ব কার? নাগরিক কি নিজের তথ্যের জন্য দায়ী, নাকি যে প্রতিষ্ঠান সেই তথ্য সংগ্রহ করছে? নাকি এই দায় ভাগ হয়ে যায় একাধিক স্তরে—প্রযুক্তি, নীতি এবং ব্যবস্থাপনার মধ্যে? <o:p></o:p></p>
<p>ডেটা তাই একসাথে সম্পদ, সম্পত্তি এবং ঝুঁকি। আমরা তাকে সম্পদ হিসেবে ব্যবহার করি, প্রতিষ্ঠান তাকে সম্পত্তি হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করে, কিন্তু বাস্তবে সে ক্রমশ ঝুঁকিতে পরিণত হয়। ডেটার মূল্য যত বাড়ে, তার ঝুঁকিও তত বাড়ে। আর সেই ঝুঁকি যদি অদৃশ্য থাকে, তাহলে তার প্রভাবই সবচেয়ে গভীর হয়।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal" style="text-align: justify;">প্রশ্ন তাই সরল হলেও জরুরি—আমরা কি ডেটাকে কেবল ব্যবহার করছি, নাকি সত্যিই তার দায় নিচ্ছি? কারণ ডেটা আপনার হতে পারে, কিন্তু তার পরিণতি—সবসময় আপনার নিয়ন্ত্রণে থাকে না।<o:p></o:p></p>
<hr>
<p class="MsoNormal" style="text-align: justify;"><strong>লেখক:</strong><span>  তথ্য-প্রযুক্তিবিদ এবং বাংলাদেশ সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেটরস ফোরাম-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক</span></p>
<hr>
<p class="MsoNormal" style="text-align: justify;"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>শক্ত কমপ্লায়েন্স, ওভারসি এবং এনফোর্সমেন্টের দিকে হাঁটুন</title>
<link>https://digibanglatech.news/172739</link>
<guid>https://digibanglatech.news/172739</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202604/image_870x580_69cffe7d629c6.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 04 Apr 2026 00:00:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div class="xdj266r x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs x126k92a">
<div dir="auto">স্বপ্ন সাইবার সুরক্ষায় বিনিয়োগ না করায় ৪০ লক্ষ মানুষের ডেটা আজ ডার্ক ওয়েভে বেচাবিক্রি হতে যাচ্ছে। এগুলা মানুষের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, ফোন নং, ঠিকানা, ই-মেইল ইত্যাদি গোপনীয় এবং সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য। যা দিয়ে ব্যক্তির নামে সাইবার অপরাধ, ফাইনান্সিয়াল স্ক্যাম এবং এসেট ট্রান্সফারের মতো অপরাধ ঘটবে। ভূয়া আইডি কার্ড বানাবে। স্বপ্নের মতো কোম্পানিগুলো সাইবার অপারেশন সেন্টারে, হার্ডওয়ার ও সফটওয়ার সিকিউরিটি, ফায়ারওয়াল সহ বিভিন্ন সাইবার নিরাপত্তায় বিনিয়োগ করেনি। মানহীন সফটওয়ারে বাল্ক এমাউন্টে ব্যক্তিগত উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিপণন করেছে। অথচ উপাত্তদের পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণে তারা ব্যক্তি নাগরিকের সম্মতি নেয়নি। ডেটা সংরক্ষণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করেনি। এর আগে পাঠাও ডেটা বিক্রি করেছে।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">আমাদের এনআইডি ডেটা, নিবন্ধন ডেটাও লিকের অকাট্য প্রমাণ দিয়েছিল আন্তর্জাতিক সংস্থা।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">কথা ছিল বাল্ক পরিমাণে ব্যক্তিগত গোপনীয় এবং সংবেদনশীল ব্যক্তিগত উপাত্ত সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিপণনকারী প্রতিষ্ঠান ক্রিটিক্যাল ইনফরমেশন ইনফাস্ট্রাকচার হবে (সিআইআই) এবং তাদেরকে সাইবার সুরক্ষা আইনে বর্ণিত সাইবার সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হবে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এদিকে, শিশুদের ডেটা প্রোফাইলিং ব্যাবসা করে প্ল্যাটফর্মগুলো, বিশ্বের একাধিক দেশে তারা বেআইনি কাজ করে, অপরাধ করে, উচ্চ জরিমানা দিয়েছে এবং দিচ্ছে। ২০২২ সালে আয়ারল্যান্ড, এর পরে ফ্রান্সে, গত বছর অস্ট্রেলিয়ায়, কয়েকদিন আগে নিউ মেক্সিকোতে। ২২৫, ৩০০, ৩৭৫ মিলিয়ন ডলার এই স্কেলে জরিমানা দিচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশে তারা আইন কানুনের উর্ধ্বে। শীর্ষ মিডিয়া ও তথাকথিত সিভিল সোসাইটির একাংশ তাদের প্রটেক্টও করছে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আমরা যখন ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা আইন করেছি, আমাদের বিরুদ্ধে দেশের বড়ো বড়ো ডেটা চোর গুলা উঠেপড়ে লেগেছে। শীর্ষ পত্রিকায় ডাহা মিথ্যা দিয়ে ভরা প্রোপাগান্ডা আর্টিকেল ও নিউজ করেছে। ইউএসবিবিসি নামে এক ভুঁইউফোড় দালাল সংগঠন এই দুর্বৃত্তচক্রকে ফান্ডিং করে, এনকারেজ করে, ওর্গাইনাইজ করে। এই চক্রে আছে সাংবাদিক, ব্যবসায়ী ও প্ল্যাটফর্‌ম। ডেটা চোর কোম্পানি গুলা বাল্কে ডেটা বিক্রি আড়াল করতে টাকা ঢালছে। অধিকাংশ মন্ত্রণালয়ে এদের সোর্স ও এজেন্ট আছে। কোম্পানি ও ব্যবসায়ীরা পার্সোনালি আইডেন্টিফায়েবল ইনফরমেশনের বাল্ক ডেটা ব্রেচ, ক্রিটিক্যাল সাইবার হ্যাকিং, র<span class="html-span xexx8yu xyri2b x18d9i69 x1c1uobl x1hl2dhg x16tdsg8 x1vvkbs x3nfvp2 x1j61x8r x1fcty0u xdj266r xat24cr xm2jcoa x1mpyi22 xxymvpz">‍</span>্যান্সম এটাক লুকাচ্ছে। প্ল্যাটফর্‌ম গুলা সরকারের রাজস্ব চুরি করতে, এড-সেন্স/বিজ্ঞাপন এবং এআই মডেল/ডিজিটাল পণ্য থেকে আয় করতে, চাইল্ড কন্টেন্ট, জুয়া বেটিং গেমিং সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইন অমান্যের অবাধ সূযোগে ইভেন্ট ফান্ডিং, ইন্টারনেট গভর্নেন্স ফান্ডিং, এআই ফান্ডিং ও রিসার্চের নামে টাকা ঢালছে। এ যেন এক অচ্ছেদ্য চক্র।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">অস্ট্রেলিয়া ১৬ বছরের নিচে সব অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে বলেছে। বাংলাদেশে ১৮ বছরের নিচে অ্যাকাউন্ট করা বেআইনি। দুর্বৃত্তগুলা আইন না মেনে টাকা ঢালছে। তাদের কেউ কিছু বলার নাই যেন! অস্ট্রেলিয়াতে চাইল্ড ডেটা এবিউজে (এআই মডেল ট্রেনিং এ) হিউমান রাইটস গ্রুপ সোচ্চার ছিল, বাংলাদেশে যেন কারও কোন মাথাব্যাথা নাই। এই সিভিল সোসাইটি কী আমরা চেয়েছিলাম যারা ব্যক্তিগত উপাত্তের মত কোর এন্ড ক্রিটিক্যাল ইস্যুতে চুপ থাকবে! রিসার্চ ফান্ডের নামে কিছু টাকা আর বড় প্ল্যাটফর্মের একটা ইভেন্ট ইনভাইটেশনের কাছে মাথা বিক্রির এক নিদারুণ প্রতিযোগিতায় নেমেছে তারা!</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">নতুন সরকার ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড, ফুয়েল কার্ড, হেলথ হার্ড সহ ওয়ান আইডি রোড ম্যাপ নিয়ে আন্তরিক। এটা সফল করতে সবার আগে দরকার ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫, ২০২৬ এর সংশোধন, জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ ২০২৫ কে সংসদে গ্রহণ করা। এবং বাস্তবায়নে অতিদ্রুত ন্যাশনাল ডেটা গভর্নেন্স অথরিটি প্রতিষ্ঠা করা। </div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">আপনাকে পার্সোনাল ডেটা এবং জেনারেল ডেটা- উভয়টায় গভর্নেন্স ও সাইবার সিকিউরিটি আনতে হবে। কীভাবে সম্মতির সাপেক্ষে, সার্ভিস নিড ও লাইফ সাইকেল বেজড ডেটা কালেক্ট হচ্ছে, স্টোর ও প্রসেসড হচ্ছে, ব্যাড-এক্টরের হাতে তা যাচ্ছে, ব্রেচ ও লিক হচ্ছে কিনা এসবকিছুর জন্য গভর্নেন্স অ্যান্ড এনফোর্সমেন্ট লাগবে, তাই ডেটা অথরিটি গুরুত্বপূর্ণ।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">ওভারসিং, কমপ্লায়েন্স এবং এনফোর্স্মেন্ট হলে চুরির সুযোগ কমে যাবে বিধায়, প্ল্যাটফর্ম কোম্পানি ব্যবসায়ী তিনপক্ষ মিলে ডেটা অথরিটির বিরোধীতায় নেমেছে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আজকে বাংলাদেশের শিশুর ডেটা দিয়ে পডোফাইল গ্রুপ, পর্নো, এআই মডেল ট্রেন হচ্ছে, অবৈধ আয় করছে। অন্যদিকে দেশীয় কোম্পানি আপনার ব্যাংক তথ্য থেকে শুরু করে সেন্সিটিভ ঔষধের তথ্য, ডিজিএবিলিটির তথ্য, এমনকি কোন ব্রান্ডের কন্ডম ব্যবহার করছে সব তথ্য প্ল্যাটফর্‌ম ও মার্কেটিং ব্যাড-এক্টরদেরকে বিক্রি করে দিচ্ছে। কত বড়ো দুঃসাহস যে, ব্রেচের তথ্যও ৭ মাস লুকিয়ে রেখেছে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">সচেতন হোন, এরা ডিজিটাল ইকনোমির সব সম্ভাবনার গলা টিপে ধরে আছে। ডিজিটাল সভ্রেন্টি এদের কাছে জিম্মি। এরা সরকারকে জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ তৈরিতে আগেও বাধা দিয়েছে, এখনও দিচ্ছে। এই মাফিয়া চক্র না থামাতে পারলে সরকার ভবিষ্যতে কোনও ডিজিটাল সেবা নিরাপদে দিতে পারবে না। এবং মানুষের ট্রাস্ট শতভাগ চলে যাবে। এমনিতেই ইওরেঞ্জ-ইভ্যালির মত আওয়ামী বাটপারদের ক্রমাগত জালিয়াতিতে ই-কমার্সের উপর আস্থা উঠে গিয়ে দেশের ডিজিটাল ইকনোমি, ফর্মাল ও গিগ কর্মসংস্থান হিমশিম খাচ্ছে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">দুর্বৃত্ত, ব্যবসায়ী, ভিতর ও বাইরের ব্যাড-এক্টর এবং প্ল্যাটফর্মের ডিমান্ডে আইনে যৌক্তিক ধারা সরিয়ে ইতিহাসের কাঠগড়ায় দাঁড়াবেন না। বরং শক্ত কমপ্লায়েন্স, ওভারসি এবং এনফোর্সমেন্টের দিকে হাঁটুন। </div>
<div dir="auto"><hr><strong>লেখকঃ</strong><span> </span><span><span>প্রযুক্তিবিদ, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী</span></span><hr><span></span></div>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>অনলাইন ক্লাস কি শেখার বৈচিত্র্য বাড়াবে, নাকি বৈষম্য?</title>
<link>https://digibanglatech.news/172711</link>
<guid>https://digibanglatech.news/172711</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202604/image_870x580_69cfc3f284b61.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 03 Apr 2026 00:00:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাসকে অনেক সময় শিক্ষার আধুনিক সমাধান হিসেবে হাজির করা হয়। কিন্তু গ্রামীণ বাস্তবতা বলছে, এটি এখনো সবার জন্য সমান সুযোগের পথ নয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২৪-২৫ সালের জরিপ অনুযায়ী, গ্রামীণ পরিবারের মধ্যে ইন্টারনেট-অ্যাক্সেস আছে ৫৪ শতাংশের, স্মার্টফোন আছে ৭১.১ শতাংশের, আর কম্পিউটার আছে মাত্র ৩.৬ শতাংশ পরিবারের। শহরে যেখানে কম্পিউটার আছে ২১.৬ শতাংশ পরিবারে, সেখানে গ্রামে এই হার প্রায় অদৃশ্য। অর্থাৎ, অনলাইন ক্লাস চালু করলেই শিক্ষার “বৈচিত্র্য” বাড়বে, এই দাবি বাস্তবতার চেয়ে স্লোগান বেশি।</p>
<p>সমস্যা শুধু ডিভাইসের নয়, ব্যয়েরও। ২০২৫ সালে ব্রডব্যান্ডের ন্যূনতম মাসিক চার্জ ৫ এমবিপিএস সংযোগের জন্য ৪০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে; ১০ এমবিপিএসের জন্য ৭০০ টাকা। শহুরে মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে এটি সামান্য মনে হতে পারে, কিন্তু গ্রামীণ নিম্নআয়ের পরিবারের জন্য মাসে ৪০০-৭০০ টাকা, তার সঙ্গে স্মার্টফোন, বিদ্যুৎ, মেরামত ও নিয়মিত ডেটা-ব্যয় যোগ হলে অনলাইন ক্লাস বিলাসিতায় পরিণত হয়। ফলে “ডিজিটাল শিক্ষা” অনেক ক্ষেত্রেই হয়ে দাঁড়ায় “যার সামর্থ্য আছে, তার শিক্ষা”।</p>
<p>কোভিডকালের অভিজ্ঞতা এই সন্দেহকে আরও শক্ত করে। ইউনিসেফের জরিপে দেখা যায়, গ্রামীণ এলাকার মাত্র ১৫.৯ শতাংশ শিশু দূরশিক্ষায় অংশ নিতে পেরেছিল, যেখানে শহরে এই হার ছিল ২৮.৭ শতাংশ। অর্থাৎ, অনলাইন ক্লাস শেখার সুযোগ বাড়ানোর চেয়ে বিদ্যমান বৈষম্যকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছে। তাই গ্রামীণ বাংলাদেশে অনলাইন ক্লাসকে কার্যকর করতে হলে আগে সাশ্রয়ী ইন্টারনেট, ডিভাইস-সহায়তা, কম-ডেটা শিক্ষামাধ্যম এবং স্থানীয় শিক্ষা-সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। নইলে অনলাইন শিক্ষা শেখার বৈচিত্র্য নয়, শিক্ষা-বৈষম্যই বাড়াবে।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong><span> বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর</span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ক্রস&#45;বর্ডার ই&#45;কমার্স: ক্ষুদ্র উদ্যোক্তার হাতেই বৈশ্বিক বাণিজ্যের চাবি</title>
<link>https://digibanglatech.news/172600</link>
<guid>https://digibanglatech.news/172600</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202604/image_870x580_69ce7670ca021.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 02 Apr 2026 00:04:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-start="571" data-end="893">বর্তমান বিশ্বে বাণিজ্যের সংজ্ঞা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। একসময় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ মানেই ছিল বড় পুঁজি, জটিল রপ্তানি কাঠামো এবং বিদেশি এজেন্টের ওপর নির্ভরতা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ছিল বড় কারখানা, বৃহৎ রপ্তানি এবং জটিল ব্যাংকিং প্রক্রিয়ার সমার্থক। কিন্তু ইন্টারনেট ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অগ্রগতিতে সেই বাস্তবতা আমূল পাল্টে গেছে।</p>
<p data-start="895" data-end="1260">আজ একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাও শপিফাই, এটসি, আমাজন কিংবা নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিদেশে পণ্য বিক্রি করতে পারেন। ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স। অর্থাৎ এক দেশ থেকে অন্য দেশের ক্রেতার কাছে অনলাইনে পণ্য বা সেবা বিক্রি—এখন বৈশ্বিক বাণিজ্যের অন্যতম চালিকাশক্তি। ফলে ব্যবসা আর ভৌগোলিক সীমারেখায় আটকে নেই; বরং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাও এখন গ্লোবাল বাজারে নিজের জায়গা করে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।</p>
<p data-start="1262" data-end="1614">বাংলাদেশের জন্য এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে আমাদের রপ্তানি কাঠামো তৈরি পোশাক খাতনির্ভর, যেখানে বড় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড ও ক্রেতাদের ওপর নির্ভরশীলতা বেশি। এই কাঠামো মূলত বড় শিল্পের জন্য উপযোগী। ফলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, নারী উদ্যোক্তা, কারিগর এবং জেলা পর্যায়ের ব্যবসায়ীরা আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে গিয়ে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েন।</p>
<p data-start="1616" data-end="1939">কিন্তু ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স সেই নির্ভরতার শৃঙ্খল ভেঙে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। এখন একজন তরুণ উদ্যোক্তা, এমনকি একজন গৃহিণীও একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা সামাজিক মাধ্যমের পেজ ব্যবহার করে নিজের ব্র্যান্ড তৈরি করে ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের ক্রেতাদের কাছে পণ্য বিক্রি করতে পারেন—যা কয়েক বছর আগেও কল্পনার বাইরে ছিল।</p>
<p data-start="1941" data-end="2317">বিশ্ব বাণিজ্যের সাম্প্রতিক প্রবণতাও এই পরিবর্তনের পক্ষে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক বাণিজ্য ও অনলাইন সেবার বিস্তারের ফলে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। বিশেষ করে ডিজিটালি ডেলিভারেবল পণ্য ও সেবার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে। সঠিক প্রস্তুতি থাকলে বাংলাদেশেও ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স ভবিষ্যতে রপ্তানির একটি শক্তিশালী স্তম্ভ হতে পারে। </p>
<p data-start="2319" data-end="2753">বাংলাদেশের পণ্যের বৈচিত্র্য এই খাতে বড় শক্তি। তৈরি পোশাকের পাশাপাশি হস্তশিল্প, চামড়াজাত পণ্য, পাটভিত্তিক পরিবেশবান্ধব পণ্য, হোম ডেকর, দেশীয় ফ্যাশন ব্র্যান্ড এবং অর্গানিক খাদ্যপণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে ‘সাসটেইনেবল’ ও ‘এথিক্যালি সোর্সড’ পণ্যের প্রতি বৈশ্বিক আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশের পাটজাত ও হস্তনির্মিত পণ্যে রয়েছে সেই গল্প, স্বকীয়তা এবং মূল্যবোধ- যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করতে পারে।</p>
<p data-start="2755" data-end="2795">তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি চ্যালেঞ্জও কম নয়।</p>
<p data-start="2797" data-end="3160">প্রক্রিয়ার জটিলতা এখনো বড় বাধা- ছোট শিপমেন্টের ক্ষেত্রেও অনেক সময় বড় রপ্তানির মতো জটিল ধাপ অনুসরণ করতে হয়। কাস্টমস, কুরিয়ার, ব্যাংক ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতির কারণে সময় ও খরচ বেড়ে যায়। ঢাকার বাইরে উদ্যোক্তাদের জন্য ‘এক্সপোর্ট রেডি’ হওয়ার কোনো সুসংগঠিত কাঠামো নেই। পাশাপাশি ডিজিটাল মনিটরিং দুর্বল হওয়ায় সামগ্রিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা কম।</p>
<p data-start="3162" data-end="3421"><span style="font-size: 12pt;"><strong>“ব্যবসা আর ভৌগোলিক সীমারেখায় আবদ্ধ নয়—ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাও এখন গ্লোবাল খেলোয়াড়।”</strong></span></p>
<p data-start="3162" data-end="3421">আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পণ্যের গুণগত মান, প্যাকেজিং, ব্র্যান্ডিং এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতা- সবক্ষেত্রেই বিশ্বমান বজায় রাখতে হবে। কারণ বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা শুধু দামের ওপর নির্ভর করে না; বিশ্বাসযোগ্যতা ও ব্র্যান্ড ইমেজও সমান গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<p data-start="3423" data-end="3634">লজিস্টিকস ও ডেলিভারি ব্যবস্থা এখনো দুর্বল। আন্তর্জাতিক কুরিয়ার খরচ বেশি, ডেলিভারি সময় দীর্ঘ এবং ট্র্যাকিং ও রিটার্ন সুবিধা সীমিত। অথচ বৈশ্বিক ই-কমার্সে দ্রুত ডেলিভারি ও সহজ রিটার্ন গ্রাহক সন্তুষ্টির প্রধান শর্ত।</p>
<p data-start="3636" data-end="3924">আন্তর্জাতিক পেমেন্ট ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাও উদ্যোক্তাদের জন্য বড় প্রতিবন্ধকতা। পেমেন্ট গেটওয়ে, কারেন্সি কনভার্সন ও বৈদেশিক লেনদেনের জটিলতা বিশেষ করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহিত করে। ফলে অনেকেই তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন, যা লাভের মার্জিন কমায় এবং ব্র্যান্ড নিয়ন্ত্রণ সীমিত করে।</p>
<p data-start="3926" data-end="4173">ভারত ইতোমধ্যে ‘ই-কমার্স এক্সপোর্ট হাব’ চালুর মাধ্যমে এসব সমস্যা সমাধানে এগিয়েছে। তারা পোস্ট অফিস নেটওয়ার্ককে মাইক্রো-এক্সপোর্ট সাপোর্ট সিস্টেম হিসেবে ব্যবহার করছে এবং ক্ষুদ্র রপ্তানির জন্য সহজতর রেগুলেশন চালু করেছে—যেখানে এলসি ছাড়াই রপ্তানি সম্ভব।</p>
<p data-start="4175" data-end="4363">বাংলাদেশও শূন্য থেকে শুরু করছে না। ‘এসিকোডা ওয়ার্ল্ড’ এবং ‘বাংলাদেশ সিঙ্গল উইন্ডো’র মতো ডিজিটাল ভিত্তি ইতোমধ্যেই রয়েছে। এখন প্রয়োজন পেমেন্ট, লজিস্টিকস ও পোস্টাল সেবার সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়।</p>
<p data-start="4365" data-end="4473">এই প্রেক্ষাপটে ‘ডিজিটাল ক্রস-বর্ডার ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ গড়ে তোলা জরুরি, যার মূল ভিত্তি হতে পারে—</p>
<ul data-start="4475" data-end="4708">
<li data-section-id="8082cg" data-start="4475" data-end="4529">ক্ষুদ্র রপ্তানির জন্য সহজ ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা</li>
<li data-section-id="rk4cvx" data-start="4530" data-end="4573">সরলীকৃত কমপ্লায়েন্স ও রপ্তানি প্রক্রিয়া</li>
<li data-section-id="1pph4gl" data-start="4574" data-end="4613">বিভাগীয় শহরে ই-কমার্স এক্সপোর্ট হাব</li>
<li data-section-id="1ja5opj" data-start="4614" data-end="4647">ডাকঘরভিত্তিক এক্সপোর্ট গেটওয়ে</li>
<li data-section-id="1j7dnp2" data-start="4648" data-end="4708">নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ট্রেনিং, সহজ ঋণ ও সাপোর্ট সিস্টেম</li>
</ul>
<p data-start="4710" data-end="4930">এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে হাজারো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ফরমাল রপ্তানিতে যুক্ত হবেন, বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়বে এবং জেলা অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। এটি কেবল একটি ই-কমার্স উদ্যোগ নয়; বরং একটি ‘ন্যাশনাল এক্সপোর্ট ডেমোক্রাটাইজেশন মডেল’।</p>
<p data-start="4932" data-end="5249">একই সঙ্গে উদ্যোক্তাদের মানসিকতার পরিবর্তন জরুরি। শুধু পণ্য বিক্রি নয়, বরং একটি আন্তর্জাতিক মানের ব্র্যান্ড গড়ে তোলার দিকে নজর দিতে হবে। গ্রাহক সেবা, যোগাযোগ দক্ষতা, রিটার্ন পলিসি এবং পণ্যের গল্প—সবকিছুতেই পেশাদারিত্ব আনতে হবে। কারণ বৈশ্বিক বাজারে সফলতা নির্ভর করে পণ্যের গল্প, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং গ্রাহক অভিজ্ঞতার ওপর।</p>
<p data-start="5251" data-end="5453">সবশেষে বলা যায়, ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স বাংলাদেশের জন্য একটি সম্ভাব্য গেম-চেঞ্জার। এটি শুধু একটি বিক্রয় মাধ্যম নয়; বরং একটি নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতা—যেখানে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাও বৈশ্বিক খেলোয়াড় হয়ে উঠতে পারেন।</p>
<p data-start="5455" data-end="5659">এখন সময় ‘মেড ইন বাংলাদেশ’কে শুধু একটি লেবেল নয়, বরং একটি বৈশ্বিক আস্থার প্রতীকে রূপান্তর করার। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—একজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাও যেন গর্ব করে বলতে পারেন,<br data-start="5622" data-end="5625">“আমি ছোট, কিন্তু আমি গ্লোবাল।”</p>
<hr>
<p data-start="5455" data-end="5659"><strong>লেখকঃ </strong>অর্থনীতিবিদ; ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ল্যাবএইড গ্রুপ</p>
<hr>
<p data-start="5455" data-end="5659"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বিদ্যুৎ খাতের ডিজিটালাইজেশন: নিছক প্রযুক্তি নাকি কাঠামোগত স্বচ্ছতা?</title>
<link>https://digibanglatech.news/172541</link>
<guid>https://digibanglatech.news/172541</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202604/image_870x580_69cdfa77522c0.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 01 Apr 2026 11:11:53 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বিদ্যুৎ একটি আধুনিক রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। গত এক দশকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। বর্তমানে দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ২৫ হাজার মেগাওয়াটেরও বেশি। কিন্তু উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির এই সাফল্যের মাঝেও একটি বাস্তবতা স্পষ্ট—সাধারণ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সেবার অভিজ্ঞতা সব সময় সন্তোষজনক নয়।</p>
<p>রাষ্ট্র সংস্কার এবং সুশাসন নিয়ে চলমান আলোচনায় বিদ্যুৎ খাত একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে উঠে এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে ‘স্মার্ট গ্রিড’ এবং ‘স্মার্ট প্রিপেইড মিটার’কে বিদ্যুৎ খাতের আধুনিকায়নের বড় হাতিয়ার হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—সিস্টেম প্রযুক্তিগতভাবে স্মার্ট হলেও এর ব্যবস্থাপনা কি সত্যিই গ্রাহকবান্ধব ও স্বচ্ছ হয়ে উঠেছে?</p>
<p><strong>স্মার্ট গ্রিড: প্রযুক্তির প্রতিশ্রুতি</strong></p>
<p>স্মার্ট গ্রিড হলো এমন একটি ডিজিটাল বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা কাঠামো যেখানে বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিতরণ এবং ব্যবহার সম্পর্কিত তথ্য রিয়েল-টাইমে আদান-প্রদান করা হয়। এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ অপচয় কমানো, গ্রাহকের ব্যবহার পর্যবেক্ষণ, এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান সম্ভব হওয়ার কথা।</p>
<p>এই ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো স্মার্ট প্রিপেইড মিটার। তাত্ত্বিকভাবে এটি গ্রাহককে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেয়। গ্রাহক আগাম টাকা দিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন এবং প্রতিটি ইউনিটের হিসাব স্বচ্ছভাবে দেখতে পারেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, স্মার্ট মিটার চালু হওয়ার পরও গ্রাহকরা অস্বাভাবিক বা তথাকথিত ‘ভূতুড়ে বিল’-এর অভিযোগ করছেন।</p>
<p><strong>স্মার্ট মিটারেও কেন ‘ভূতুড়ে বিল’?</strong></p>
<p>স্মার্ট মিটার ব্যবস্থায় অস্বাভাবিক বিলের পেছনে কয়েকটি সম্ভাব্য কারণ রয়েছে।</p>
<p>প্রথমত, ডেটা সিনক্রোনাইজেশনের ত্রুটি। স্মার্ট মিটার থেকে কেন্দ্রীয় সার্ভারে তথ্য পাঠানোর সময় কারিগরি সমস্যার কারণে রিডিং সময়মতো আপডেট না হলে সফটওয়্যার অনেক সময় অনুমানভিত্তিক বিল তৈরি করে। এই অনুমানভিত্তিক হিসাব অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকের প্রকৃত ব্যবহারের চেয়ে বেশি হয়ে যায়।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, বিলিং সফটওয়্যারের স্বচ্ছতার অভাব। বিদ্যুৎ বিলিংয়ের অ্যালগরিদম সাধারণত জনসমক্ষে উন্মুক্ত নয়। ফলে সফটওয়্যারে কোনো ত্রুটি বা অনৈতিক হস্তক্ষেপ থাকলে তা শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ কারণে বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর বিলিং সফটওয়্যার নিয়মিত স্বাধীন তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কারিগরি নিরীক্ষা করা প্রয়োজন।</p>
<p>তৃতীয়ত, গ্রাহক পর্যায়ে তথ্যপ্রবাহের সীমাবদ্ধতা। যদি গ্রাহক প্রতিদিন বা প্রতি ঘণ্টায় তার বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য দেখতে না পারেন, তবে বিল নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। একটি কার্যকর অ্যাপ বা অনলাইন ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ব্যবহারের তথ্য দেখার সুযোগ থাকলে এই সমস্যা অনেকাংশে কমে যেতে পারে।</p>
<p><strong>মিটার সংগ্রহে অনিয়ম ও প্রযুক্তিগত মানের প্রশ্ন</strong></p>
<p>স্মার্ট মিটার প্রকল্পগুলোর আরেকটি বড় সমস্যা হলো সরঞ্জাম সংগ্রহের স্বচ্ছতা। অনেক সময় অভিযোগ ওঠে যে প্রকল্পের আওতায় উচ্চমূল্যে নিম্নমানের মিটার কেনা হয়। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড যেমন IEC Standards অনুসরণ না করলে মিটারের কার্যকারিতা এবং স্থায়িত্ব উভয়ই প্রশ্নবিদ্ধ হয়।</p>
<p>নিম্নমানের মিটারের কারণে যে সমস্যাগুলো দেখা দেয় তা হল —</p>
<p>মিটার দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া</p>
<p>ভুল রিডিং দেখানো</p>
<p>সার্ভারের সাথে নিয়মিত সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকা</p>
<p>এই পরিস্থিতি এড়াতে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র প্রক্রিয়া কঠোরভাবে অনুসরণ করা জরুরি। কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানি বা দেশের ওপর নির্ভর না করে আন্তর্জাতিক মানসম্মত প্রযুক্তি নির্বাচন করতে হবে।</p>
<p><strong>সাইবার নিরাপত্তা: নতুন বাস্তবতা</strong></p>
<p>স্মার্ট গ্রিড পুরোপুরি ডিজিটাল ডেটার ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় সাইবার নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদি এই নেটওয়ার্কে নিরাপত্তা দুর্বলতা থাকে, তবে হ্যাকারদের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়া বা গ্রাহকের ডেটা ফাঁস হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।</p>
<p>তাই স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক মানের সাইবার নিরাপত্তা প্রোটোকল, নিয়মিত সিকিউরিটি অডিট এবং শক্তিশালী ডেটা সুরক্ষা নীতিমালা থাকা অত্যন্ত জরুরি।</p>
<p><strong>একটি বাস্তবধর্মী সংস্কার রোডম্যাপ</strong></p>
<p>বিদ্যুৎ খাতকে সত্যিকারের আধুনিক এবং জনবান্ধব করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।</p>
<p>প্রথমত, কারিগরি জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। প্রতিটি স্মার্ট মিটার প্রকল্পের জন্য একটি ‘পোস্ট-ইমপ্লিমেন্টেশন অডিট’ বাধ্যতামূলক করা উচিত। এতে প্রকল্পের কার্যকারিতা এবং সম্ভাব্য ত্রুটিগুলো দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, গ্রাহক অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। বর্তমানে অনেক গ্রাহক বিল সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন অফিসে ঘুরতে বাধ্য হন। একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা গেলে গ্রাহকের আস্থা বাড়বে।</p>
<p>তৃতীয়ত, পূর্ববর্তী প্রকল্পগুলোর স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। বিদ্যুৎ খাতের বড় প্রকল্পগুলোর ব্যয় ও কার্যকারিতা নিয়ে একটি নিরপেক্ষ মূল্যায়ন হওয়া জরুরি, যাতে ভবিষ্যতের প্রকল্পগুলোতে একই ধরনের অনিয়ম পুনরাবৃত্তি না ঘটে।</p>
<p>চতুর্থত, দেশীয় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা তৈরি করা। দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি প্রযুক্তির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল না থেকে দেশীয় প্রকৌশলী ও প্রযুক্তিবিদদের মাধ্যমে স্মার্ট গ্রিড ও মিটারের সফটওয়্যার-হার্ডওয়্যার উন্নয়ন সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন। এতে তথ্য নিরাপত্তা এবং ব্যয়—দুই ক্ষেত্রেই সুবিধা পাওয়া যাবে।</p>
<p><strong>ভবিষ্যতের সম্ভাবনা</strong></p>
<p>স্মার্ট গ্রিড প্রযুক্তি ভবিষ্যতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সাথে বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে আরও সমন্বিত করতে পারে। বিশেষ করে ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ এবং ব্যাটারি স্টোরেজ প্রযুক্তির সাথে স্মার্ট গ্রিড যুক্ত হলে গ্রাহক শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহারকারীই নন, বরং বিদ্যুৎ উৎপাদক হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারবেন।</p>
<p>এই রূপান্তর বিদ্যুৎ খাতকে আরও বিকেন্দ্রীভূত, টেকসই এবং পরিবেশবান্ধব করে তুলতে পারে।</p>
<p><strong>উপসংহার</strong></p>
<p>প্রযুক্তি কোনো জাদুর কাঠি নয় যা নিজে থেকেই সব সমস্যার সমাধান করে দেবে। প্রযুক্তি তখনই কার্যকর হয় যখন তার সাথে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সুশাসনের সমন্বয় ঘটে।</p>
<p>বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করবে—গ্রাহকের আস্থা অর্জনের ওপর। স্মার্ট গ্রিডকে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন হিসেবে না দেখে এটিকে একটি জবাবদিহিমূলক নাগরিক সেবা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।</p>
<p>স্বচ্ছতা, প্রযুক্তি এবং নীতিগত সংস্কারের সমন্বয়েই সম্ভব একটি কার্যকর, টেকসই এবং দুর্নীতিমুক্ত বিদ্যুৎ খাত গড়ে তোলা।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong> কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, ফাউন্ডার, Vector Solutions</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সাফল্যের ইতিহাসে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষত</title>
<link>https://digibanglatech.news/172271</link>
<guid>https://digibanglatech.news/172271</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202603/image_870x580_69cabeafd0a61.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 30 Mar 2026 22:39:59 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p data-path-to-node="3">সম্প্রতি দেশে হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে বেশ কিছু শিশুর মৃত্যু এবং এ সংক্রান্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একটি মন্তব্যকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়েছে। যা ঘটেছে তা কেবল অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়, বরং অত্যন্ত মর্মান্তিক। দেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি বা ইপিআই-এর আওতায় গত কয়েক দশকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত যে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে, সেখানে ২০২৬ সালে এসে টিকার অভাবে শিশুর মৃত্যু হওয়াটা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাবিয়ে তুলেছে। এই কর্মসূচি বিগত সকল সরকারের আমলেই নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত ছিল এবং এর কার্যকারিতা নিয়ে কখনোই বড় ধরনের প্রশ্ন ওঠেনি। অথচ এখন কেন টিকার সংকট বা তদারকির অভাব দেখা দিল, তা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে টিকাদান কর্মসূচিতে সরকারের বরাদ্দকৃত ফান্ডের সঠিক ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ অতীতের কোনো সরকারের সময় এমন বিপর্যয় দেখা যায়নি।</p>
<p data-path-to-node="4">বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ইতিহাসে টিকাদান কর্মসূচির সফলতা ঈর্ষণীয়। এই কার্যক্রমের মাধ্যমেই দেশ থেকে গুটিবসন্ত নির্মূল করা সম্ভব হয়েছে, পোলিও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে এবং যক্ষ্মা ও ধনুষ্টংকারের মতো ঘাতক ব্যাধি নিয়ন্ত্রণে অভাবনীয় সাফল্য এসেছে। এই সাফল্যের পেছনে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাশাপাশি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ (UNICEF), আইসিডিডিআরবি এবং গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন বা গ্যাভি (GAVI)-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা কাজ করেছে। ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বৈশ্বিক ভ্যাকসিন জোট উন্নয়নশীল দেশগুলোতে জীবন রক্ষাকারী টিকা সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করে। কোনো দেশের টিকা কেনার সামর্থ্য না থাকলেও এই জোটের মাধ্যমে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন সরবরাহের সুযোগ রয়েছে। ফলে অর্থ সংকটের কারণে বাংলাদেশে টিকা আমদানি সম্ভব হয়নি—এমন যুক্তি বিশ্বাসযোগ্য নয়। বরং বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সাথে দেখা হয়নি বলেই ধারণা করা হচ্ছে।</p>
<p data-path-to-node="5">বাংলাদেশের ইপিআই কার্যক্রমের যাত্রার দিকে তাকালে দেখা যায়, ১৯৭৯ সালের ৭ই এপ্রিল এটি স্বল্প পরিসরে শুরু হয়েছিল। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত যক্ষ্মা, পোলিও, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার ও হাম—এই ছয়টি রোগ প্রতিরোধে এর কার্যক্রম ছিল মাত্র ২ শতাংশের নিচে। এরপর ১৯৯০ সালের মধ্যে এটি দেশব্যাপী সম্প্রসারিত হয় এবং ২০০৬ সালে বাংলাদেশ পোলিওমুক্ত রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ক্রমান্বয়ে এই কর্মসূচিতে হেপাটাইটিস বি, পেন্টাভ্যালেন্ট, নিউমোকক্কাল এবং অতি সম্প্রতি এইচপিভি টিকার মতো আধুনিক সব ভ্যাকসিন যুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের এই অভাবনীয় অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৯ ও ২০১২ সালে দেশ ‘গ্যাভি বেস্ট পারফরম্যান্স অ্যাওয়ার্ড’ লাভ করে এবং ২০১৯ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘ভ্যাকসিন হিরো’ হিসেবে সম্মানিত করা হয়। (তথ্য সূত্র : ইপিআই, ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা)</p>
<p data-path-to-node="6">পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, আশির দশকের শুরুতে দেশে হামের টিকার কভারেজ ছিল মাত্র ১ শতাংশের মতো। নব্বইয়ের দশকে তা ৫০ শতাংশে উন্নীত হয় এবং ২০০০ সাল নাগাদ তা ৭০ থেকে ৭৪ শতাংশে পৌঁছায়। ২০১০ সালের দিকে এই হার ৯০ শতাংশের কাছাকাছি চলে আসে এবং ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত কভারেজ ৯৫ থেকে ৯৭ শতাংশে স্থিতিশীল ছিল। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, ৯৫ শতাংশের বেশি কভারেজ থাকলে হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করে আসছিল। কিন্তু বর্তমান সময়ে এসে শিশুদের করুণ মৃত্যু এবং টিকার স্বল্পতার যে চিত্র ফুটে উঠেছে, তা গত কয়েক দশকের কষ্টার্জিত সাফল্যকে ম্লান করে দিচ্ছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চল এবং দুর্গম প্রান্তিক এলাকায় ‘জিরো-ডোজ’ বা টিকা না পাওয়া শিশুদের সংখ্যা কমানোর যে চ্যালেঞ্জ ছিল, তা মোকাবিলায় বড় ধরনের গাফিলতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। একটি শক্তিশালী জাতীয় ব্যবস্থার মধ্যে কেন এই ছন্দপতন ঘটল, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।</p>
<hr>
<p data-path-to-node="6"><strong>লেখকঃ </strong>জেষ্ঠ্য সাংবাদিক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ</p>
<hr>
<p data-path-to-node="6"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটে বাংলাদেশের জন্য ব্লকচেইন ও ডেটা&#45;প্রযুক্তি</title>
<link>https://digibanglatech.news/172113</link>
<guid>https://digibanglatech.news/172113</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202603/image_870x580_69c91826631ee.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 29 Mar 2026 18:17:09 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div _ngcontent-ng-c1716333038="" inline-copy-host="" class="markdown markdown-main-panel enable-updated-hr-color" id="model-response-message-contentr_df5fe5083f3a315a" aria-live="polite" aria-busy="false" dir="ltr">
<p data-path-to-node="0"></p>
<p data-path-to-node="3">বর্তমান বিশ্ব এক অস্থির সন্ধিক্ষণে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের দীর্ঘসূত্রতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনা কেবল মানচিত্রই বদলাচ্ছে না, বরং 'জ্বালানি'কে একটি ভূ-রাজনৈতিক মরণাস্ত্রে পরিণত করেছে। ১ এপ্রিল থেকে রাশিয়ার জ্বালানি রপ্তানি নীতিতে কঠোর পরিবর্তন এবং লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালীর সংকট বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন স্থবিরতার শঙ্কা জাগাচ্ছে। আমদানিনির্ভর বাংলাদেশের জন্য এই সংকট এখন আর তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।</p>
<h3 data-path-to-node="4">বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: জ্বালানি যখন যুদ্ধের অস্ত্র</h3>
<p data-path-to-node="5">রাশিয়া বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম জ্বালানি রপ্তানিকারক। ১ এপ্রিল থেকে তাদের 'রুবল-বেসড' পেমেন্ট পলিসির কঠোর প্রয়োগে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১৫০ ডলার ছাড়ানোর ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের ২০% জ্বালানি তেল ও এক-তৃতীয়াংশ এলএনজি প্রবাহিত হয়; এই পথ রুদ্ধ হওয়া মানে দৈনিক প্রায় ২ বিলিয়ন ডলারের সরাসরি ক্ষতি। এটি করোনা-পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হবে 'বিগেস্ট হিট'।</p>
<h3 data-path-to-node="6">বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অভিঘাত: গাণিতিক বিশ্লেষণ</h3>
<p data-path-to-node="7">তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, এই সংকটে দেশের অর্থনীতির চারটি প্রধান স্তম্ভ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে:</p>
<ul data-path-to-node="8">
<li>
<p data-path-to-node="8,0,0"><b data-path-to-node="8,0,0" data-index-in-node="0">রিজার্ভের ওপর চাপ:</b> তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০ ডলার বাড়লে বাংলাদেশের বার্ষিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৬০-৭০ কোটি ডলার বেড়ে যায়। তেলের দাম ১৫০ ডলারে স্থিতু হলে মাসিক প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের অতিরিক্ত চাপ তৈরি হবে, যা 'ইম্পোর্টেড ইনফ্লেশন' বা আমদানিকৃত মুদ্রাস্ফীতিকে অনিয়ন্ত্রিত করে তুলতে পারে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="8,1,0"><b data-path-to-node="8,1,0" data-index-in-node="0">রপ্তানি খাত (RMG):</b> তৈরি পোশাক খাতে উৎপাদন ব্যয় ২০-৩০% বাড়তে পারে। বৈশ্বিক মন্দার কারণে বছর শেষে রপ্তানি আদেশ ১৫-২০% হ্রাসের ঝুঁকি রয়েছে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="8,2,0"><b data-path-to-node="8,2,0" data-index-in-node="0">কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা:</b> ডিজেলের দাম বাড়লে প্রান্তিক কৃষকের উৎপাদন খরচ একর প্রতি ১,৫০০-২,০০০ টাকা বেড়ে যায়। এটি কেবল পরিসংখ্যান নয়, বরং সাধারণ মানুষের খাবারের থালা থেকে এক গ্রাস কমে যাওয়ার সমান।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="8,3,0"><b data-path-to-node="8,3,0" data-index-in-node="0">ক্ষুদ্র ও ই-কমার্স উদ্যোক্তা (SME):</b> লজিস্টিকস খরচ বাড়লে ৫ লক্ষাধিক অনলাইন উদ্যোক্তার নিট মুনাফা ২৫-৩০% সংকুচিত হতে পারে।</p>
</li>
</ul>
<h3 data-path-to-node="9">প্রযুক্তিগত সমাধান: ব্লকচেইন ও ডেটাবেজ</h3>
<p data-path-to-node="10">এই মহাসংকট মোকাবিলায় প্রথাগত পদ্ধতির বাইরে এসে আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে:</p>
<ul start="1" data-path-to-node="11">
<li>
<p data-path-to-node="11,0,0"><b data-path-to-node="11,0,0" data-index-in-node="0">ব্লকচেইন ভিত্তিক সাপ্লাই চেইন:</b> জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে ব্লকচেইন প্রযুক্তি অপরিহার্য। এটি সিস্টেম লস ও অপচয় শূন্যে নামিয়ে আনবে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="11,1,0"><b data-path-to-node="11,1,0" data-index-in-node="0">ক্রাউডসোর্সড লজিস্টিকস:</b> ব্যক্তিগত যানবাহনের অপচয় রোধে রাইড শেয়ারিং ও পণ্য পরিবহনের সমন্বিত প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা সম্ভব। রিয়েল-টাইম ট্রাফিক ও ডিমান্ড অ্যানালাইসিস করে লজিস্টিকস খরচ কমানো যেতে পারে।</p>
</li>
<li>
<p data-path-to-node="11,2,0"><b data-path-to-node="11,2,0" data-index-in-node="0">সেন্ট্রালাইজড ডেটাবেজ:</b> কৃষক ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য একটি কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ থাকলে সরাসরি প্রণোদনা পৌঁছানো সহজ হবে, যা সম্পদের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করবে।</p>
</li>
</ul>
<h3 data-path-to-node="12">উত্তরণের রোডম্যাপ</h3>
<p data-path-to-node="13"><b data-path-to-node="13" data-index-in-node="0">সরকারের করণীয়:</b> দীর্ঘমেয়াদী 'জি-টু-জি' চুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য 'স্মার্ট সুরক্ষা প্যাকেজ' বা 'জ্বালানি ভর্তুকি কার্ড' প্রবর্তন করা।</p>
<p data-path-to-node="14"><b data-path-to-node="14" data-index-in-node="0">জনগণের ভূমিকা:</b> ব্যক্তিগত কৃচ্ছ্রসাধন, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং ডিজিটাল কমার্সের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো। একটি ডেলিভারি ভ্যান ৫০ জন মানুষের ব্যক্তিগত যাতায়াত সাশ্রয় করতে পারে—এই ছোট ছোট অভ্যাসই জাতীয় বিপর্যয় রুখতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।</p>
<p data-path-to-node="14"><b data-path-to-node="16" data-index-in-node="0">উপসংহার:</b> ১ এপ্রিলের পরবর্তী পৃথিবী আমাদের জন্য সহজ হবে না। এটি কেবল সরকারের একার লড়াই নয়, বরং রাষ্ট্র ও জনগণের সম্মিলিত প্রতিরোধের পরীক্ষা। সঠিক তথ্য-উপাত্ত এবং প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে এই বৈশ্বিক ঝড় মোকাবিলা করে বাংলাদেশ স্থিতিশীল থাকতে পারবে। সংকটই উদ্ভাবনের জন্ম দেয়—আর এই জ্বালানি সংকটই হতে পারে আমাদের লজিস্টিকস খাতকে 'স্মার্ট' ও 'সাশ্রয়ী' করার প্রধান সুযোগ।</p>
<hr data-path-to-node="15">
<p data-path-to-node="16"><strong>লেখকঃ</strong> <span>উদ্যোক্তা, সংগঠক ও কলাম লেখক</span></p>
<hr data-path-to-node="17">
<p data-path-to-node="18"></p>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>প্রযুক্তি মানুষের পাশে দাঁড়াল, নাকি মানুষের ওপর দাঁড়াল?</title>
<link>https://digibanglatech.news/172130</link>
<guid>https://digibanglatech.news/172130</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202603/image_870x580_69c930ddd658f.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 29 Mar 2026 17:03:13 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশে ডিজিটাল অগ্রগতির গল্প অনেক শোনা যায়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই অগ্রগতি কি নাগরিককে আরও স্বাধীন করেছে, নাকি আরও নির্ভরশীল? যোগাযোগ-অধিকারের দৃষ্টিতে বিচার করলে দেখা যাবে, ডিজিটাল ন্যায়বিচার মানে শুধু ইন্টারনেট সংযোগ নয়; এর অর্থ হলো প্রবেশযোগ্যতা, নেটওয়ার্ক ও প্ল্যাটফর্মের দায়িত্বশীল ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা, এবং প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব। এই চারটি প্রশ্ন এড়িয়ে গিয়ে “ডিজিটাল রূপান্তর” বলা যায়, কিন্তু ন্যায্য বাংলাদেশ গড়া যায় না।</p>
<p><strong>সংযোগের সংখ্যা বাড়লেই ন্যায়বিচার হয় না</strong><br>বাংলাদেশে এখনো প্রায় অর্ধেক মানুষ সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। ২০২৫ সালের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে সরাসরি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর হার ৪৮.৯ শতাংশ; ৫৬.২ শতাংশ পরিবারে অন্তত একজন ইন্টারনেট ব্যবহারকারী আছেন; ৭২.৪ শতাংশ পরিবারের কাছে স্মার্টফোন আছে, কিন্তু কম্পিউটার আছে মাত্র ৯.১ শতাংশ পরিবারের। অর্থাৎ আমরা এমন এক ডিজিটাল কাঠামোর কথা বলছি, যা মূলত মোবাইলনির্ভর, সীমিত সক্ষমতাভিত্তিক, এবং বহু ক্ষেত্রে অসম প্রবেশাধিকারের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। এই বাস্তবতায় শুধু “সংযোগ বেড়েছে” বলে আত্মতুষ্টি আসলে বিপজ্জনক। কারণ সংযোগ আর ক্ষমতায়ন এক জিনিস নয়।</p>
<p><strong>প্রবেশযোগ্যতা বাদ দিলে ডিজিটাল রাষ্ট্র আসলে অর্ধেক নাগরিকের রাষ্ট্র</strong><br>সরকারি মহলে প্রায়ই বলা হয়, দেশে এক হাজারের বেশি ই-সেবা চালু হয়েছে এবং প্রায় ৩৩ হাজার সরকারি ওয়েবসাইট সমন্বিত প্ল্যাটফর্মে আনা হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে সরকারি ও উন্নয়ন অংশীদারদের আলোচনায় স্বীকার করা হয়েছে, বহু প্রতিবন্ধী ব্যক্তি এখনও এসব সেবা নিরাপদে ও স্বাধীনভাবে ব্যবহার করতে পারেন না। সহায়ক প্রযুক্তির অভাব, সাশ্রয়ী ইন্টারনেটের ঘাটতি, অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে অ্যাক্সেসিবিলিটি ফিচারের অনুপস্থিতি, এমনকি অনলাইন সেবার শেষ ধাপে আবার কাগজে ফর্ম জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা দেখিয়ে দেয়, ডিজিটালাইজেশন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ন্যায্য ডিজিটালাইজেশন হয়নি। ডিজিটাল ন্যায়বিচার শুরু হয় এই স্বীকারোক্তি থেকে: যে সেবা সবার ব্যবহারের উপযোগী নয়, তা প্রকৃত অর্থে জনসেবা নয়।</p>
<p><strong>নেটওয়ার্ককে যদি সুইচের মতো বন্ধ করা যায়, তবে অধিকার কাগজেই থাকে</strong><br>বাংলাদেশ ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেখেছে, ইন্টারনেট কেবল প্রযুক্তি নয়, এটি নাগরিক জীবনের শ্বাসনালী। দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের ফলে মানুষ পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়েছে, ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়েছে, তথ্যপ্রবাহ বন্ধ হয়েছে, এমনকি নিত্যপ্রয়োজনীয় ডিজিটাল সেবাও ভেঙে পড়েছে। এই অভিজ্ঞতা আমাদের শিখিয়েছে, নেটওয়ার্ক বন্ধ করা প্রশাসনিক কৌশল নয়, এটি নাগরিক অধিকার, অর্থনীতি, নিরাপত্তা এবং জনবিশ্বাসের ওপর সরাসরি আঘাত। কাজেই নেটওয়ার্কের দায়িত্বশীল ব্যবহার বলতে শুধু “নিয়ন্ত্রণ” বোঝালে চলবে না; বোঝাতে হবে স্বচ্ছতা, আইনসঙ্গততা, প্রয়োজনীয়তা এবং জবাবদিহি।</p>
<p><br><strong>ইন্টারনেটকে নাগরিক অধিকার বলা যথেষ্ট নয়, সেটি বাস্তবে সুরক্ষিতও হতে হবে</strong><br>সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ নিয়ে সরকারি ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এতে প্রথমবারের মতো ইন্টারনেট অ্যাক্সেসকে নাগরিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এটি নীতিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু কঠিন প্রশ্ন হলো: যদি একই রাষ্ট্র বা প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনে সহজেই নেটওয়ার্ক বন্ধ করতে পারে, তবে সেই অধিকার কতটা বাস্তব? অধিকার তখনই অর্থপূর্ণ, যখন তা প্রশাসনিক ইচ্ছার ওপরে আইনি সুরক্ষা পায়। নইলে “ইন্টারনেট অধিকার” বাক্যটি নীতিগত সৌন্দর্য হয়ে থাকে, কার্যকর নাগরিক গ্যারান্টি হয়ে ওঠে না।</p>
<p><strong>প্ল্যাটফর্মে নিরাপত্তা চাই, কিন্তু দমনমূলক নীরবতা নয়</strong><br>বাংলাদেশে অনলাইন প্রতারণা, ঘৃণা, যৌন হয়রানি, শিশু নির্যাতন, এবং প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কিন্তু নিরাপত্তার নামে যদি এমন কাঠামো তৈরি হয়, যেখানে কনটেন্ট সরানো, তদন্ত, নজরদারি বা শাস্তির প্রক্রিয়া অস্পষ্ট থাকে, তবে তা সহজেই স্বাধীন মতপ্রকাশের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে। বাংলাদেশকে এখন এই সূক্ষ্ম কিন্তু জরুরি ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে: প্ল্যাটফর্মকে নিরাপদ করতে হবে, কিন্তু সমাজকে নীরব করে নয়। দায়িত্বশীল প্ল্যাটফর্ম শাসন মানে কেবল কনটেন্ট সরানো নয়; এর মানে হলো স্বচ্ছ নিয়ম, বাংলা ভাষায় কার্যকর সুরক্ষা, আপিলের সুযোগ, এবং ব্যবহারকারীর মর্যাদা রক্ষা।</p>
<p><br><strong>ডাটা সুরক্ষা ছাড়া ডিজিটাল রাষ্ট্র খুব সহজেই নজরদারি রাষ্ট্রে পরিণত হতে পারে</strong><br>বাংলাদেশে ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ গেজেট হয়েছে, এবং আইনের ভাষায় ব্যক্তিগত উপাত্তকে ব্যক্তির মালিকানাধীন বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এখানেই প্রথমবার রাষ্ট্র আনুষ্ঠানিকভাবে মেনে নিচ্ছে যে নাগরিকের তথ্য কেবল প্রশাসনিক সম্পদ নয়। কিন্তু এখানেই আত্মতুষ্টির জায়গা নেই। ডাটা সুরক্ষা আইন থাকলেই ডাটা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয় না। যদি নাগরিকের সম্মতি প্রকৃত না হয়, যদি অতিরিক্ত তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত থাকে, যদি ডাটা শেয়ারিংয়ের সীমা অস্পষ্ট থাকে, যদি স্বাধীন তদারকি না থাকে, তবে আইন কাগজে থাকবে, আর ক্ষমতা থাকবে প্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে। ডিজিটাল ন্যায়বিচার বলে: নাগরিককে সেবা নিতে গিয়ে নিজের ব্যক্তিগত স্বাধীনতা বন্ধক রাখতে বাধ্য করা যাবে না।</p>
<p><br><strong>নারীর জন্য অনলাইন ভয়ের জায়গা হলে ডিজিটাল অগ্রগতি ভুয়া হয়ে যায়</strong><br>প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ আছে এমন নারীদের মধ্যে ২০২৪ সালের জরিপে দেখা গেছে, ৮ শতাংশের বেশি জীবদ্দশায় প্রযুক্তিনির্ভর লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার শিকার হয়েছেন, আর গত এক বছরে এই হার ৫ শতাংশের বেশি। এই সংখ্যা কেবল পরিসংখ্যান নয়; এটি প্রমাণ করে যে অনলাইন পরিসর বহু নারীর জন্য সমান অংশগ্রহণের জায়গা নয়, বরং ঝুঁকি, লজ্জা, ভয় এবং ব্ল্যাকমেইলের ক্ষেত্র। যে ডিজিটাল স্পেস নারীর কণ্ঠকে টিকতে দেয় না, তাকে উন্নত বলা যায়, ন্যায্য বলা যায় না। যোগাযোগ-অধিকারের দৃষ্টিতে নারীর ডিজিটাল নিরাপত্তা কোনো আলাদা “নারী বিষয়ক” প্রশ্ন নয়; এটি মূলধারার নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন।</p>
<p><br><strong>প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব মানে বিদেশবিরোধিতা নয়, জনস্বার্থে নিয়ন্ত্রণক্ষমতা</strong><br>বাংলাদেশের সামনে এখন আরেকটি বড় প্রশ্ন হলো প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব। এর অর্থ বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়; বরং এমন সক্ষমতা গড়ে তোলা, যাতে গুরুত্বপূর্ণ ডাটা, সফটওয়্যার, এআই সিস্টেম এবং সরকারি ডিজিটাল অবকাঠামো জনস্বার্থভিত্তিক মানদণ্ডে পরিচালিত হয়। খসড়া জাতীয় এআই নীতি ২০২৬-২০৩০-এ ওপেন স্ট্যান্ডার্ড, interoperable APIs, National Source Code Repository, এবং vendor dependency কমানোর কথা বলা হয়েছে। এই দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ যদি রাষ্ট্রের ডিজিটাল ব্যবস্থা এমন প্রযুক্তির ওপর দাঁড়ায়, যা নাগরিক অডিট করতে পারে না, স্থানীয়ভাবে বোঝা যায় না, এবং জনঅর্থে তৈরি হয়েও জননিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে, তবে সেটি প্রযুক্তিগত উন্নয়ন হতে পারে, কিন্তু সার্বভৌম উন্নয়ন নয়।</p>
<p><br><strong>বাংলাদেশের এখন কী করা দরকার</strong><br>বাংলাদেশের ডিজিটাল ন্যায়বিচারের রূপরেখা জটিল নয়, কিন্তু রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর। প্রথমত, অ্যাক্সেসিবিলিটিকে সব সরকারি ডিজিটাল সেবায় বাধ্যতামূলক নকশাগত শর্ত করতে হবে। দ্বিতীয়ত, নেটওয়ার্ক বন্ধ বা সীমিত করার ক্ষমতার ওপর কঠোর আইনগত নিয়ন্ত্রণ, স্বচ্ছতা ও স্বাধীন পর্যালোচনা থাকতে হবে। তৃতীয়ত, প্ল্যাটফর্ম নিরাপত্তাকে নাগরিক স্বাধীনতার প্রতিদ্বন্দ্বী বানানো যাবে না। চতুর্থত, ডাটা সুরক্ষাকে প্রশাসনিক অনুশীলন নয়, নাগরিক অধিকার হিসেবে কার্যকর করতে হবে। পঞ্চমত, প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্বকে ওপেন স্ট্যান্ডার্ড, স্থানীয় ভাষা, জনঅর্থে তৈরি কোডের জবাবদিহি, এবং জনগণের অডিট-অধিকারের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। অন্যথায় “ডিজিটাল বাংলাদেশ” শুধু এক প্রযুক্তিগত স্লোগান হয়ে থাকবে।</p>
<p><strong>কেমন ডিজিটাল রাষ্ট্র চাই?</strong><br>বাংলাদেশের সামনে আসল সিদ্ধান্তটি প্রযুক্তিগত নয়, রাজনৈতিক ও নৈতিক। আমরা কি এমন ডিজিটাল রাষ্ট্র চাই, যেখানে নাগরিক সুবিধা পাবে কিন্তু স্বাধীনতা হারাবে? নাকি এমন বাংলাদেশ চাই, যেখানে প্রযুক্তি মানুষের কণ্ঠ, অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে শক্তিশালী করবে? যোগাযোগ-অধিকারের দৃষ্টিতে উত্তর একটাই: ডিজিটাল ন্যায়বিচার ছাড়া ডিজিটাল অগ্রগতি টেকসই নয়। প্রযুক্তি তখনই উন্নয়ন আনে, যখন তা নাগরিককে সক্ষম করে; যখন তা শুধু রাষ্ট্রকে আরও দক্ষ নয়, আরও জবাবদিহিমূলকও করে।</p>
<p>বাংলাদেশের সামনে এখন আসল প্রশ্ন প্রযুক্তি ব্যবহারের নয়, ক্ষমতার ব্যবহারের। ডিজিটাল রাষ্ট্র কি নাগরিককে সক্ষম করবে, নাকি কেবল তাকে আরও নজরদারি, নির্ভরশীলতা এবং নিয়ন্ত্রণের মধ্যে ঠেলে দেবে? যদি ইন্টারনেট থাকে কিন্তু তা সবার জন্য ব্যবহারযোগ্য না হয়, যদি প্ল্যাটফর্ম থাকে কিন্তু মানুষ নিরাপদে কথা বলতে না পারে, যদি সেবা থাকে কিন্তু তার বিনিময়ে নাগরিককে নিজের ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ হারাতে হয়, তবে তাকে ডিজিটাল অগ্রগতি বলা যেতে পারে, ডিজিটাল ন্যায়বিচার নয়।</p>
<p>এখন সময় এসেছে স্লোগান থেকে সরে এসে জবাবদিহির রাজনীতিতে প্রবেশ করার। বাংলাদেশে ডিজিটাল ভবিষ্যৎ ন্যায্য হবে কি না, তা নির্ধারিত হবে এই প্রশ্নে: প্রযুক্তি কি মানুষের অধিকারকে শক্তিশালী করছে, নাকি কেবল শাসনক্ষমতাকে আরও কেন্দ্রীভূত করছে? রাষ্ট্র, বাজার এবং প্ল্যাটফর্ম যদি নাগরিকের কণ্ঠ, গোপনীয়তা, নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে অগ্রাধিকার না দেয়, তবে “স্মার্ট” শব্দটি শুধু অলংকার হয়ে থাকবে।</p>
<p>বাংলাদেশের এখন দরকার এমন ডিজিটাল ব্যবস্থা, যা দ্রুত নয় শুধু, ন্যায্যও; আধুনিক নয় শুধু, মানবিকও; বিস্তৃত নয় শুধু, অন্তর্ভুক্তিমূলকও। কারণ ডিজিটাল ন্যায়বিচার ছাড়া ডিজিটাল রূপান্তর শেষ পর্যন্ত কেবল অসমতাকে প্রযুক্তির ভাষায় পুনর্লিখন করে।</p>
<p>বাংলাদেশে এখন প্রশ্ন প্রযুক্তি কতদূর এগোল তা নয়, বরং প্রযুক্তি মানুষের পাশে দাঁড়াল, নাকি মানুষের ওপর দাঁড়াল।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong> বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সরকার কি জিডিপি ডেটাবেজ ঠিক করবে?</title>
<link>https://digibanglatech.news/171930</link>
<guid>https://digibanglatech.news/171930</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202511/image_870x_6926644404087.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 27 Mar 2026 23:03:28 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div class="xdj266r x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs x126k92a">
<div dir="auto">অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ভাইয়ের ইন্টারভিউ শুনলাম। সরকার ঈদের আগে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে ব্যস্ত ছিল (৩৭ হাজার দেয়া হচ্ছে এই ফেইজে), কিছু ঈমাম ও মুয়াজ্জিনদের (ইউনিয়ন পর্যায়ে ১/২ জন করে) ভাতা দেয়া হয়েছে। সরকার এখন ফার্মার কার্ড নিয়ে ব্যস্ত আছে, যা ১লা বৈশাখে পাইলট ফেইজ হিসেবে উদ্বোধন করা হবে। সরকার বাজেট নিয়ে ব্যস্ত থাকছে।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">সরকার সোশ্যাল সেইফটি বাড়াবে, এরপরে কর ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিবেন। উপদেষ্টা বলেছেন, বাজেটে কর বাড়নো এবং বিনিয়োগ ফ্লোতে সরকার মনোযোগ দিবেন। ফ্যামিলি কার্ড ও ফার্মার কার্ডের টাকার যোগানে সরকার বিদ্যমান সেইফটি নেটের ডুপ্লিকেশন কমাবে। ডেটাবেজ ঠিক করায় জোর দিবে। খানা প্রতি পভার্টি ডেটাবেজ তৈরি করবেন, মিন পভার্টি টেস্ট (এমপিটি) সাপেক্ষে ডেটাবেজ হবে। এটা বুঝা গেল উপদেষ্টা মহোদয়ের ইন্টারভিউ থেকে।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">ফেয়ার এনাফ।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">প্রশ্ন হচ্ছে, এতে সামষ্টিক অর্থনীতির রোগ সারাবে কিনা? মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখবে কিনা এবং বিনিয়োগ আদৌ বাড়াবে কিনা?</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এসব প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ সূচক বলার সুযোগ নাই। কেননা, যে কোনো ম্যাসিভ স্কেলের অলস ভাতা মূল্যস্ফীতি তৈরি করে এবং রাজস্বের উপর চাপ তৈরি করে, যা আন-সাসটেইনেবল।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">দেশে রেমিট্যান্সের উপর ২,৫% প্রণোদনা আছে বহু বছর ধরে। এটা বন্ধ না করে আপনি মূল্যস্ফীতি ৬-৭ এর নিচে আনতে পারবেন না।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আবার দেখুন, ঈদে গারমেন্টসকে আড়াই হাজার কোটি টাকা দেওয়া হল।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">কেন?</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">ক্যাপিটাল মেশিনারি (মূলধনী যন্ত্রপাতিতে) কেনায় নয়। জাস্ট রোজা ও ঈদের বেতন দেয়ায়। ৪০ বছরের পুরানো ইন্ডাস্ট্রি কর্মীদের বেতন দিতে পারে না, অর্থাৎ সরকার বেসরকারি কোম্পানির রপ্তানিমূখী শিল্পের ওপেক্সে ইনভেস্ট করছে। ভেরি আন-লাইকলি কেইস। মুক্তবাজার অর্থনীতিতে আমরা যদি দেখি প্রডাকশন আছে, ওর্ডার আছে, বিক্রি আছে কিন্তু ওপেক্স চালাতে পারে না, কর্মীর বেতন দিতে পারে না, এটা কোনো না কোনো লুকোচুরি বা জালিয়াতির ইঙ্গিত দেয়।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">সুদের হার মাফ করতে গিয়ে সরকার মূল ঋণও মাফ করে দিয়েছে, সেখানে ১১৫০ কোটি টাকার বাড়তি চাপ এসেছে। আমরা জানি, এরা সবাই কৃষক নয়।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">ফলে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার কার্ড, ভাতা, সুদ-আসল, মাফ, গারমেন্টসের প্রণোদনা এগুলির সামারি হচ্ছে- বিশাল রাজস্ব চাপ, অটেকসই, আন বিয়ারেবল। ফলে সরকারের ঋণ বাড়বে। (আবার রাজস্ব না বাড়লে, বাড়তি ঋণ নেয়া আত্মঘাতী)। রাজস্ব না বাড়লে যে সংখ্যায় দিচ্ছে ৩০ হাজার থেকে কয়েক লাখ, এতেই সীমাবদ্ধ থাকতে হবে, এতে ইনফ্ল্যাশন তেমন বাড়বে না।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">আমার ধারণা, রাজস্ব বেশ না বাড়লে ফান্ড জোগান হবে না, তাই কোটি মানুষকে দেওয়া সম্ভব হবে না আদৌ। কারণ আপনি পেনশন, শিক্ষা উপবৃত্তি, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, বন্যা ঝড়ের দুর্যোগের ফান্ড, টিসিবি সব বন্ধ করতে পারবেন না। ডুপ্লিকেশন ও মিস অ্যালোকেশন থামানো যাবে যদি রাজনৈতিক চাপ, ঘুষ না থাকে, ডেটাবেজ নিয়ার-একুরেট, ইন্টার-মিনিস্ট্রিয়াল ইন্টার অপারেবল হয়। ব্যক্তি ও পরিবারের আয় বাড়া-কমা, দারিদ্র্য ও দুর্যোগ পরিস্থিতির সাথে ডায়নামিক হয়। নাইলে ভুল যায়গায় ভাতা ভোগীর সংখ্যা ও ভাতার পরিমাণ পাইল-আপ হবে, নাইলে হাতে প্লাস্টিক কার্ড থাকবে কিন্তু কার্ডে টাকা আসবে না।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">এই অর্থবছরে এখনই রাজস্ব ঘাটতি ৫০ হাজার কোটির কাছাকাছি। উল্লেখ্য, এই বাজেট ইতিহাসে ১ম বারের মত তার আগের বছর থেকে কমেছে। আমরা দেখবো, হয় ধাই ধাই করে লোন বাড়ছে, অথবা বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট বা এডিপি একেবারে ছোট হয়ে আসছে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">তবে আমার মত হচ্ছে ইন্টার অপারেবিলিটি, ডায়নামিক পভার্টি ডেটা এবং ইউনিভার্সাল ডেটাবেজ ও ওয়ান-ইউনিক আইডির বিপরীতে ভাতা দেয়া। আলাদা আলাদা কার্ড না দেয়া। তার সাথে বয়স্ক শিক্ষা, পরিবেশ, শৃঙ্খলা ইত্যাদি বৈকালীন সান্ধ্যকালীন শিক্ষা এড করা যা গভর্নেন্সকে শক্তিশালী করে, নাগরিকের সচেতনতা বাড়ায় তা দরকার। ফ্যামিলি কার্ড বা ফারমার কার্ড বা অন্য কোনো ইন্সেন্টিভ দিতে আলাদা প্লাস্টিক কার্ড লাগে না, লাগে বেটার ডেটাবেজ যাতে ভাতা দারিদ্র্য দুর্যোগ এবং আয়হীনতা ও উৎপাদনের সাথে সংযুক্ত থাকে। ইনফ্যাক্ট কৃষককে ইন্সেন্টিভ দিতে ফার্মার কার্ড লাগে না, লাগে কম্প্রিহেন্সিভ ডেটাবেজ। লাগে সারের কীটনাশকের ন্যায্য মূল্য এবং ফলনের যৌক্তিক বাজার দাম যাতে তার 'কস্ট অফ প্রডাকশন' উঠে আসা। যেমন এখন গোলআলুর দাম।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">অর্থাৎ 'দেখতে বেনাভোলেন্ট' প্রোগ্রামে অর্থনীতির আসল ক্ষত সারাবে না।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><span style="font-size: 18pt;"><strong>দুই</strong></span></div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">সরকার বিনিয়োগ বাড়াবে, কীভাবে?</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">মিলিয়ন ডলার প্রশ্ন, সরকার কী ৫০% বা ৬০% বা তার বেশি খেলাপি ঋণ আছে এমন ব্যাংক মরতে দিবে? ১০টা আছে ৭০% এর উপরে খেলাপি।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">না দিলে বিনিয়োগ বাড়বে না। খেলাপি ঋণ বাড়বে। খারাপ ব্যাংক মার্জারে খেলাপি ঋণ বাড়ার গতি কিছু কমতে পারে মাত্র।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">রাজনৈতিকভাবে দুর্বৃত্তায়িত ঋণ দেওয়া ব্যাংক বন্ধ না হলে খেলাপি ঋণ যাবে না, পিরিয়ড।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আপনি ক্যাপিটালিজমের সমস্যাকে ক্যাপিটালিজম দিয়েই সল্ভ করবেন।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">বড় প্রশ্ন,</div>
<div dir="auto">সরকার কি ব্যাংক গুলাতে রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ঠিক করবে?</div>
<div dir="auto">দেশের ক্রেডিট রেটিং ব্যবস্থা ঠিক করবে? (ডিজিটালি স্বয়ংক্রিয়)</div>
<div dir="auto">এবং ইন্সুরেন্স ব্যবস্থা ঠিক করবে?</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এগুলা বড় বড় পলিটিক্যাল ইকোনোমি সিদ্ধান্ত যা রাজনৈতিক সরকারকে নিতে হবে, এর সাথে বিদ্যমান কায়েমী স্বার্থবাদিতা আছে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এগুলা ঠিক না হলে বিনিয়োগ বাড়বে না। রাজনৈতিক সরকার আসলে আটো বিনিয়োগ বাড়বে, এটা ডিলিউশান। এন্টাই-ইনভেস্টমেন্টের স্ট্রাকচারাল সমস্যা সমাধান করতে হবে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">ভূল যায়গায় কেনেসীয় অর্থনীতি টেনে আনার প্রবণতা দেখছি।</div>
<div dir="auto">১। ব্যাংক বন্ধের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত</div>
<div dir="auto">২। গার্মেন্টস প্রনোদনা</div>
<div dir="auto">৩। সুদের বাইরে মূল ঋণ ওয়েভ করে দেয়া</div>
<div dir="auto">৪। জ্বালানি অদক্ষ, উৎপাদনে অক্ষম সেকেলে প্রযুক্তির শিল্প-কারখানা খোলা। এগুলা ডেবট বার্ডেন বাড়াবে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">অর্থাৎ দুর্বৃত্তায়ন ও অদক্ষতার বিপরীতে সোশ্যাল বেনিফিট। নট ফেয়ার।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><span style="font-size: 18pt;"><strong>তিন</strong></span></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">সরকার কি জিডিপি ডেটাবেজ ঠিক করবে? অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এনপিএল ডেটাবেজ ঠিক করায় খেলাপি ঋণ ২ লাখ বেশি দেখাচ্ছে। (টকশো সন্ত্রাসীরা এটা নিয়ে প্রোপাগান্ডা করছে)। যদি না করে, তাইলে একদিকে নতুন বাজেট গলাভরা সংখ্যার হবে, অন্যদিকে বাস্তবায়ন আওয়ামীলীগের মতই এক চতুর্থাংশ কম হবে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">ইন্টারঅপারেবিলিটি এবং ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার না হলে কর জাল বাড়বে না, সোর্স থেকে কর ও ভ্যাট উত্তোলন হবে না। দেশে কর জালের ডিজিটাল ইনফ্রা নাই, শুধু ডিজিটাল সাইলো আছে কিছু।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">আন-নেসেসারি এসআরও আছে অনেক, মানি। শুধু এসআরও কমালে কর বাড়বে না। ভুল এসআরও বন্ধে শিল্পে বিনিয়োগ কমতে পারে। দেশ বিনিয়োগ বান্ধব না, ফলে ইন্সেন্টিভ না থাকলে শিল্প বিনিয়োগ কমতে পারে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">অন্যদিকে, বিবিএস সহ যাবতীয় ম্যাক্রো ও মাইক্রো ডেটাবেজ ভালো না হলে, বেটার গভর্নেন্স অসম্ভব। জ্বালানি কত লাগবে, পণ্য উতপাদন ও আমদানি কত লাগবে, কাঁচামাল আমদানি কত (গ্রোথের বিপক্ষে) সব ব্যাহত হবে। আগেও ক্রমাগত হয়েছে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">বিদ্যুৎ খাত, সিমেন্ট খাত এসব খাত আওয়ামী ভুয়া জিডিপি ডেটার প্রজেকশনে আজকে মাইনকা চিপায়। চিপায় দেশের অর্থনীতি। জিডিপি ডেটাবেজ ঠিক করে প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি জ্বালানি রোডম্যাপ নিয়ে বসতে হবে। তবেই মুক্তি।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">জিয়া ভাইয়ের লেখা পড়লাম, বলেছেন দেশ ব্যালান্স শিট রেসিশনে (রিচার্ড কো) পড়েছে। কিন্তু আমরা দেখছি ব্যালান্স-শিট রেসিশন মূলত এটা ব্যাংক গুলোতে, যারা পঞ্জি ঋণ দিয়েছে, রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে ঋণ নিয়ে মেরে দিয়েছে। হাউজহোল্ড বা রিয়েলএস্টেটে ব্যালান্স শিট ক্রাইসিস সেভাবে দেখছি না।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">Bangladesh’s private sector is not broadly deleveraging, rather, credit is misallocated (পঞ্ছি ঋণ, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী লোকেরা নিয়েছে, মেরে দিয়েছে, পাচার করেছে)। The problem is not lack of demand for loans, but lack of trust, bad asse, Private sector overleverag কম, বাংলাদেশে রিয়েল এস্টেট এসেট ভ্যালু সেভাবে কমেনি, বিদ্যুৎ খাত এবং রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়িত খেলাপি ঋণ ছাড়া প্রকৃত ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে মার্কেটে ইঞ্জেক্ট করেছে এরকম প্রমাণ কম। কোম্পানি গুলো আরও বেশি ঋণ করতে চায়, কিন্তু তাদের অভিযোগ সুদের হার বেশি। সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা গেছে, খুব সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা, ফলে মুদ্রানীতি কাজ করছে না এটা বলা যাবে না।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">ফলে, আমাদের এখানে ট্রিপল ক্রাইসিস চলছে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">ক। ব্যাংকিং সেক্টর ক্রাইসিস।</div>
<div dir="auto">খ। কর জিডিপি হার বিশ্বের সবচেয়ে কম বলে চলছে ফিস্ক্যাল ক্রাইসিস/রেভেনিউ ক্রাইসিস, ট্যাক্স নেট ক্রাইসিস, ট্যাক্স কালেকশন ইনফ্রা ক্রাইসিস।</div>
<div dir="auto">গ। আছে দুর্নীতি ও স্বল্প দক্ষতা জনিত গভর্নেন্স ক্রাইসিস।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আমাদের পথ কণ্টকাকীর্ণ। এটা পাড়ি দিতে হবে।</div>
<div dir="auto"><hr><strong>লেখকঃ</strong><span> </span><span><span>প্রযুক্তিবিদ, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী</span></span><hr><span></span><span></span></div>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>কমছে ইকিউ; এআই&#45;কে ছুটি দিন</title>
<link>https://digibanglatech.news/171975</link>
<guid>https://digibanglatech.news/171975</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202603/image_870x_69b52662a8c2e.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 25 Mar 2026 16:05:15 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div class="xdj266r x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs x126k92a">
<div dir="auto">
<div class="xdj266r x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs x126k92a">
<div dir="auto">মানুষ উড়তে পারেনা। তাই তারা বানালো প্লেন। মানুষ বেশি ওজন তুলতে পারে না সেজন্য সে বানালো ক্রেন। কিন্তু মানুষের একটা ইগো আছে। সে ভাবে বুদ্ধিমানের জগতে অন্য কাউকে পার্টনার হিসেবে নেওয়া যাবে না। কিন্তু আমার যেহেতু বুদ্ধি কম, আমি প্রথম থেকেই ভেবে নিয়েছি মানুষের বুদ্ধিমান পার্টনার দরকার। মানুষ খেলবে অন্য লেভেলে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">কারণটা সহজ। যে কাজগুলো করতে আগে বুদ্ধি লাগত - ডেটা অ্যানালাইসিস, হিসাব কষা, ডাটা প্রসেস করা - সেগুলো এখন মেশিন করছে। এআই করছে। আর মেশিন এই কাজগুলোতে মানুষের চেয়ে অনেক বেশি দ্রুত আর নির্ভুল। এই জিনিসটা আমি মেনে নিয়েছি অনেক আগেই। সে কারণেই এতগুলো বই লেখা। তাহলে মানুষের সুবিধা কোথায়?</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">উত্তরটা হলো ইকিউ - ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">ইকিউ মানে শুধু আবেগপ্রবণ হওয়া না। এটা চারটা জিনিসের সমন্বয়। প্রথমত, নিজের আবেগ বোঝা - আমি এখন কেন রাগছি, কেন ভয় পাচ্ছি। দ্বিতীয়ত, সেই আবেগকে কন্ট্রোল করা। তৃতীয়ত, অন্যের অনুভূতি বোঝার ক্ষমতা - যাকে বলে এমপ্যাথি। আর চতুর্থত, মানুষের সাথে ভালো সম্পর্ক রাখার দক্ষতা। আমার যেহেতু বুদ্ধি কম (মানে যন্ত্রকে আউটসোর্স করে দিয়েছি), সে কারণেই এই চারটা বিষয়ে রপ্ত করে নিয়েছি শুরুতেই।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">আরেকটা মজার বিষয় হলো টেকনোলজির প্যারাডক্স। আমরা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি কানেক্টেড - ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম। কিন্তু একাকীত্ব বাড়ছে। মানুষের সাথে ইমোশনাল কানেকশন কমছে। কারণ ইকিউ বাড়াতে হলে সামনাসামনি মানুষের সাথে সময় কাটাতে হয়, একসাথে কষ্ট পেতে হয় (মিলিটারি একাডেমিতে যখন আমাদেরকে একসাথে "ডলা" দেওয়া হয়েছে, সেটা আমরা এখনো চেরিশ করি), একসাথে হাসতে হয়। এটা মেশিন শেখাতে পারবে না।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">বর্তমান যুদ্ধ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক মেরুকরণ - আজকের বড় বড় সমস্যাগুলো সমাধান করতে শুধু ডেটা দরকার না। দরকার এমপ্যাথি। দরকার ভিন্নমতের মানুষকে বোঝার ক্ষমতা। এটা ভয়ংকর ভাবে কমে আসছে ইদানিং।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">আমরা সারাজীবন আবেগকে দুর্বলতা মনে করেছি। ভেবেছি লজিক দিয়ে সব কিছু জেতা যাবে। কিন্তু এআই-এর যুগে সবচেয়ে বড় শক্তি হলো মানুষের আবেগ - কানেক্ট করার ক্ষমতা, অন্যকে অনুপ্রাণিত করার ক্ষমতা, মানে সম্পর্ক তৈরি করার ক্ষমতা।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">মেশিন এটা পারবে না। এটা শুধু মানুষই পারে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">.......</div>
</div>
<div dir="auto">ঢাকার একটা স্টার্টআপ। ফাউন্ডার গর্বের সাথে বললেন - "আমাদের AI এজেন্ট চব্বিশ ঘণ্টা চলে। ঘুমের মধ্যেও কাজ করে।"</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">শুনতে দারুণ, ঠিক না?</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">কিন্তু বিল দেখলে সেটা আর দারুণ মনে হয় না।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">মাস শেষে OpenAI-এর ইনভয়েস আসলো। পঞ্চাশ হাজার টাকা। পরের মাসে আরো বেশি। তৃতীয় মাসে ফাউন্ডার হিসেব করতে বসলেন। এজেন্ট চব্বিশ ঘণ্টা কী করছে আসলে?</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">দেখা গেল - একই ডেটা বারবার চেক করছে। একই সিদ্ধান্ত বারবার নিচ্ছে। একই কনটেক্সট বারবার প্রসেস করছে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">কাজ হচ্ছে না। টোকেন পুড়ছে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">.........</div>
<div dir="auto">দুই ধরনের সিস্টেম।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">পৃথিবীতে দুই ধরনের মানুষ আছেন।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এক দল AI দিয়ে সিস্টেম চালায়। অন্য দল AI দিয়ে সিস্টেম বানায়।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">প্রথম দল প্রতিদিন বিল দেয়। দ্বিতীয় দল একবার বানিয়ে রেখে দেয়।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">পার্থক্যটা বড়।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">অটোনোমাস সিস্টেম মানে AI সারাক্ষণ জেগে আছে। প্রতিটা সেকেন্ডে টোকেন খাচ্ছে। কিছু হোক বা না হোক।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">ডিটাচড সিস্টেম মানে AI একবার কাজ করেছে। সিস্টেম বানিয়ে দিয়েছে। এখন সিস্টেম নিজেই চলছে। AI শুধু ডাক পড়লে আসে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">..........</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">বাংলাদেশের হিসাব।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আমাদের দেশে ডলারের দাম বেশি।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">GPT-4 Turbo-তে প্রতি মিলিয়ন টোকেনে খরচ $30। বাংলাদেশি টাকায় প্রায় সাড়ে তিন হাজার টাকা।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">দিনে ৬ হাজার ট্রানজেকশন। প্রতিটায় গড়ে ৫০০ টোকেন। মাসে দাঁড়ায় ৯ কোটি টোকেন।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">হিসাব করুন নিজেই।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এই বিলটা দিয়ে একজন ভালো ডেভেলপারের এক বছরের বেতন হয়ে যায়।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">..........</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">চব্বিশ ঘণ্টার রিসার্চ কথাটা ঠিক না।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">AI রিসার্চ কম্প্রেস করে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">কয়েক দিনের কাজ কয়েক মিনিটে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">তাহলে সারাদিন ধরে রিসার্চ চলছে মানে কী? মানে লুপ চলছে। একই তথ্য বারবার প্রসেস হচ্ছে। একই আউটপুট বারবার আসছে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এটা কাজ না। এটা খরচ।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">হাইকিং করতে গিয়ে বলছেন AI কাজ করছে। ফ্লাইটে বসে বলছেন AI কাজ করছে। ঘুমের মধ্যেও বলছেন AI কাজ করছে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আসলে কী হচ্ছে?</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">একই টাস্ক। ভিন্ন সাইকেল। একই আউটপুট। আর বাড়ছে টোকেন খরচ।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">চব্বিশ ঘণ্টা চলা মানে দক্ষ না। চব্বিশ ঘণ্টা চলা মানে প্রসেস লিক করছে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">.......</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আমার রাস্তা এই মুহূর্তে একটাই।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আমি দ্বিতীয় দলে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">সিস্টেম বানাতে AI লাগাই। সিস্টেম চালাতে না।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">n8n-এ একটা ওয়ার্কফ্লো বানিয়ে রাখি। ট্রিগার ছাড়া AI জাগে না। ট্রিগার এলে AI কাজ করে। কাজ শেষে ঘুমায়।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">ডিপ্লয়মেন্টের পরে টোকেন খরচ অনেক কমে এসেছে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">মাসে $20-এর মধ্যে ৬ হাজার ট্রানজেকশন? সম্ভব। কিন্তু শুধু তখনই - যখন AI সিস্টেম চালাচ্ছে না, সিস্টেম বানিয়ে দিয়েছে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">........</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">ROI-এর প্রশ্ন।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এখনো বানাচ্ছেন? ROI ধীরে আসবে। স্বাভাবিক।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">সিস্টেম লাইভ কিন্তু এখনো টোকেন পুড়ছে চব্বিশ ঘণ্টা? এটা স্কেলিং না।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এটা লিক।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">পাইপে ছিদ্র থাকলে পাম্প বড় করলে কাজ হয় না। আগে ছিদ্র বন্ধ করতে হয়।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">.........</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">চব্বিশ ঘণ্টা যন্ত্রের কামলা খাটা আমাকে ইমপ্রেস করে না।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">দক্ষতা করে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">কম টোকেনে বেশি কাজ - এটাই আসল মুন্সিয়ানা। বাংলাদেশে বসে ডলারে বিল দিচ্ছেন। সেই বিলটা যত কম রাখা যায়, তত ভালো।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">AI দিয়ে সিস্টেম বানান।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">তারপর AI-কে ছুটি দিন।</div>
<div dir="auto"><hr><span><span><strong>লেখকঃ </strong>মেশিন লার্নিং ও টেলিকম বিশেষজ্ঞ ও লেখক </span></span><hr><span></span></div>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সীমাহীন ডাটা প্রবাহে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব</title>
<link>https://digibanglatech.news/171696</link>
<guid>https://digibanglatech.news/171696</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202603/image_870x580_69c3ba512239f.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 23 Mar 2026 16:56:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>ডিজিটাল যুগে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নতুন মাপকাঠি হয়ে উঠেছে ডাটা। কে ডাটা নিয়ন্ত্রণ করছে, কোথায় তা সংরক্ষিত হচ্ছে, এবং কীভাবে তা ব্যবহৃত হচ্ছে— এই তিনটি প্রশ্ন এখন অর্থনীতি, নিরাপত্তা ও নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। এই প্রেক্ষাপটে “ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব” ধারণাটি দ্রুত গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশ্বজুড়ে অনেক দেশ তাদের নাগরিকদের তথ্যের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং সাইবার নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে ডাটা লোকালাইজেশন নীতি গ্রহণ করছে। তবে এই প্রবণতা এক মৌলিক দ্বন্দ্ব তৈরি করেছে—রাষ্ট্রভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ বনাম গ্লোবাল ক্লাউডের সীমাহীন ডাটা প্রবাহ।</p>
<p>ডাটা লোকালাইজেশন এমন একটি নীতি, যেখানে কোনো দেশের অভ্যন্তরে উৎপাদিত তথ্য সেই দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যেই সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করতে হয়। এই নীতির পক্ষে যুক্তি সুস্পষ্ট: স্থানীয়ভাবে ডাটা সংরক্ষিত থাকলে তা অধিক নিরাপদ থাকে, সরকারের নিয়ন্ত্রণ বাড়ে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দ্রুত তথ্য ব্যবহার করতে পারে। বিশেষ করে আর্থিক খাত, স্বাস্থ্যসেবা, টেলিকমিউনিকেশন এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রে এই যুক্তি অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক।</p>
<p>তবে এই নীতির অর্থনৈতিক মূল্যও কম নয়। স্থানীয় ডাটা অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা উন্নয়নশীল দেশের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি, এটি আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি কোম্পানির অংশগ্রহণ সীমিত করতে পারে এবং দেশীয় স্টার্টআপগুলোর খরচ বাড়িয়ে দেয়। ফলস্বরূপ, উদ্ভাবনের গতি মন্থর হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। ডিজিটাল অর্থনীতির মূল শক্তি যেখানে স্কেল ও কানেক্টিভিটি, সেখানে অতিরিক্ত সীমাবদ্ধতা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে দিতে পারে।</p>
<p>একদিকে রাশিয়া ও চীনের মতো দেশগুলো ইতোমধ্যে কঠোর ডাটা লোকালাইজেশন নীতি অনুসরণ করছে। রাশিয়ার আইনে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্য স্থানীয় সার্ভারে সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভারত সংবেদনশীল তথ্যের ক্ষেত্রে আংশিক লোকালাইজেশন নীতি বিবেচনা করছে। এসব উদ্যোগের পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো বিদেশি আইনি কাঠামোর প্রভাব থেকে বেরিয়ে আসা। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন ‘ক্লাউড অ্যাক্ট’ এমন একটি বাস্তবতা তৈরি করেছে, যেখানে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে বৈশ্বিকভাবে সংরক্ষিত ডাটা নির্দিষ্ট শর্তে শেয়ার করতে হতে পারে—যা অনেক দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য উদ্বেগের কারণ।</p>
<p>বস্তুত, গ্লোবাল ক্লাউড মডেল আধুনিক ডিজিটাল অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। এটি প্রতিষ্ঠানগুলোকে কম খরচে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেয় এবং ছোট উদ্যোক্তা থেকে শুরু করে ফ্রিল্যান্সারদেরও বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের পথ উন্মুক্ত করে। ক্লাউড অবকাঠামোর এই আন্তঃসংযুক্ত ব্যবস্থা উদ্ভাবন, দক্ষতা এবং স্কেল তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে কৌশলগত ঝুঁকি— ডাটার ওপর নিয়ন্ত্রণ হ্রাস, বিদেশি প্রযুক্তির ওপর নির্ভরতা এবং আইনি এখতিয়ারের জটিলতা।</p>
<p>সাম্প্রতিক বৈশ্বিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডাটার পরিমাণ দ্রুত বাড়ছে এবং বিশ্ব এখন একটি ‘ডাটা-সেন্ট্রিক’ অর্থনীতিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই বিপুল তথ্যপ্রবাহ যদি কঠোরভাবে ভৌগোলিক সীমানায় আবদ্ধ করা হয়, তবে ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের দক্ষতা ও ব্যয়-সাশ্রয়ী কাঠামো ব্যাহত হতে পারে। গবেষণা ইঙ্গিত দেয়, কঠোর লোকালাইজেশন নীতি কিছু দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে যেখানে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা বৈশ্বিক ক্লাউড সেবার ওপর নির্ভরশীল।</p>
<p>এই নীতিগত দ্বন্দ্বটি মূলত তিনটি স্তরে প্রতিফলিত হয়— আইনি এখতিয়ার, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং নাগরিক গোপনীয়তা। গ্লোবাল ক্লাউড ব্যবস্থায় ডাটার অবস্থান অস্পষ্ট হওয়ায় বিচারিক প্রক্রিয়ায় জটিলতা তৈরি হয়। একই সঙ্গে, অবাধ ডাটা প্রবাহ বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অপরিহার্য হলেও ‘ডাটা কলোনিয়ালিজম’-এর আশঙ্কাও বাড়ছে, যেখানে উন্নয়নশীল দেশের ডাটা ব্যবহার করে বৈশ্বিক প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো মুনাফা অর্জন করে। অন্যদিকে, লোকালাইজেশন নীতি নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেও তা রাষ্ট্রীয় নজরদারির ঝুঁকি বাড়াতে পারে, যা নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।</p>
<p>বাংলাদেশ এই বৈশ্বিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডাটা-চালিত উদ্ভাবন অপরিহার্য। একই সঙ্গে, সংবেদনশীল তথ্য— বিশেষ করে স্বাস্থ্য, আর্থিক ও সরকারি তথ্য দেশের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও উপেক্ষা করা যায় না। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে কার্যকর পথ হতে পারে একটি ‘হাইব্রিড ডাটা গভর্নেন্স মডেল’। এই মডেলে উচ্চ-সংবেদনশীল তথ্য স্থানীয়ভাবে সংরক্ষণ করা হবে, আর সাধারণ ও বাণিজ্যিক ডাটার ক্ষেত্রে গ্লোবাল ক্লাউড ব্যবহারের সুযোগ উন্মুক্ত রাখা হবে।</p>
<p>এর পাশাপাশি, একটি শক্তিশালী ডাটা সুরক্ষা আইন, আন্তর্জাতিক ডাটা শেয়ারিং চুক্তিতে অংশগ্রহণ এবং স্থানীয় ক্লাউড অবকাঠামোতে বিনিয়োগ— এই তিনটি পদক্ষেপ সমন্বিতভাবে গ্রহণ করা জরুরি। নীতিনির্ধারকদের জন্য চ্যালেঞ্জ হলো এমন একটি ভারসাম্য তৈরি করা, যা নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উদ্ভাবন ও বিনিয়োগকে উৎসাহিত করে।</p>
<p>তাই আমি মনে করি, ডাটা লোকালাইজেশন বনাম গ্লোবাল ক্লাউডের বিতর্কটি কেবল প্রযুক্তিগত নয়; এটি অর্থনৈতিক কৌশল, ভূরাজনীতি এবং নীতিনির্ধারণের প্রশ্ন। কোনো দেশই সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে টেকসই ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তুলতে পারবে না। তাই প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক কাঠামো, যা ডাটার অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করবে এবং একই সঙ্গে জাতীয় সার্বভৌমত্বকেও সম্মান জানাবে। ডিজিটাল যুগে প্রকৃত অগ্রগতি নির্ভর করবে ডাটার নিয়ন্ত্রণে নয়, বরং তার দায়িত্বশীল, নিরাপদ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবহারের ওপর।</p>
<hr>
<p><strong>লেখক:</strong> অর্থনীতিবিদ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ল্যাবএইড ক্যানসার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টার</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল ঈদ: প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া উৎসবের রূপ</title>
<link>https://digibanglatech.news/171303</link>
<guid>https://digibanglatech.news/171303</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202603/image_870x580_69bd741b8c7e7.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 20 Mar 2026 18:22:04 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p><span lang="BN">রফিক সাহেবের বয়স ৬০</span>, <span lang="BN">তার স্ত্রী জাহানারার ৫৫। একসময় ছেলে রাহাত আর মেয়ে রেহানাকে ঘিরে চারজনের ছোট</span>, <span lang="BN">সুখী সংসার। সময়ের নিয়মে দু’জনেই এখন বিবাহিত</span>, <span lang="BN">নিজেদের কর্মজীবন আর জীবিকার তাগিদে আলাদা শহরে বসবাস করেন। রফিক সাহেব-জাহানারা দম্পতি থাকেন গ্রামে</span>, <span lang="BN">আর তাদের সংসারের প্রাণ এখন ছড়িয়ে আছে ভৌগোলিক দূরত্বে।</span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN">এই গল্পটি শুধু একটি পরিবারের নয়</span>; <span lang="BN">বরং বাংলাদেশের হাজারো পরিবারের প্রতিচ্ছবি। কেন বলছি রফিক সাহেবের পরিবারের কথা? আসুন এখন সেটাই বলি।   </span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN">রমজান শেষ হতে চললো, সামনে ঈদ। ঈদ বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় ও সামাজিক উৎসব। এই উৎসবের সাথে জড়িয়ে আছে নাড়ির টান</span>, <span lang="BN">পরিবারে ফেরা</span>, <span lang="BN">শৈশবের স্মৃতি আর সামাজিক বন্ধনের এক অনন্য প্রকাশ। বছরের সবচেয়ে বড় এই উৎসবকে ঘিরে মানুষের আবেগ</span>, <span lang="BN">প্রস্তুতি এবং পারস্পরিক সম্পর্কের প্রকাশ দীর্ঘদিন ধরেই একটি নির্দিষ্ট ছন্দে চলছিল। তবে গত এক দশকে প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে সেই চিরচেনা ছন্দে এসেছে লক্ষণীয় পরিবর্তন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন শুধু আমাদের জীবনযাত্রার অংশ নয়</span>, <span lang="BN">বরং ঈদের অভিজ্ঞতাকেও নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। পাশাপাশি</span>,<span lang="BN"> ডিজিটাল সুবিধা যেমন স্বস্তি এনে দিয়েছে</span>, <span lang="BN">তেমনি তৈরি করেছে কিছু সূক্ষ্ম দূরত্বও। রফিক সাহেব এবং তার স্ত্রী জাহানারার একসময়ের এনালগ জীবনেও এখন এসেছে ডিজিটাল ঈদের ছোঁয়া।   </span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN">ঈদের কেনাকাটার অভিজ্ঞতাই ধরা যাক। রফিক সাহেবের পরিবারে একসময় ঈদের কেনাকাটা মানেই ছিল নিউ মার্কেট</span>, <span lang="BN">গাউছিয়া বা এলাকার ব্যস্ত মার্কেটে ঘোরাঘুরি। ঈদ শপিং মানেই ছিল পরিবারের সবাইকে নিয়ে ভিড়ভাট্টার মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটানো। সেই কোলাহল</span>, <span lang="BN">দরদাম আর একসাথে সময় কাটানোর মধ্যেই ছিল উৎসবের একটি বড় আনন্দ। এখন সেই চিত্র অনেকটাই পরিবর্তিত। রফিক সাহেব যদিও এখনো ঘুড়ে ঘুড়েই বাজার করতে পছন্দ করেন তবে তার ছেলে-মেয়েরা অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম</span>, <span lang="BN">এবং ই-কমার্স সাইটগুলো থেকে ঈদের বাজার করছে ঘরে বসেই</span><span lang="HI">। </span><span lang="BN">এর ফলে সময় ও শ্রম বাঁচছে</span>, <span lang="BN">বিশেষ করে কর্মজীবী মানুষের জন্য এটি একটি বড় সুবিধা। এটি নিঃসন্দেহে আধুনিক জীবনের জন্য আশীর্বাদ। একইসঙ্গে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্যও নতুন বাজার তৈরি হয়েছে। শপিং এখন আর পারিবারিক আড্ডার অংশ নয়</span>, <span lang="BN">বরং ব্যক্তিগত স্ক্রিনভিত্তিক একটি কাজ হয়ে উঠছে। তবে প্রশ্ন থেকে যায়, এই সহজতার মাধ্যমে কি আমাদের সম্মিলিত কেনাকাটার আনন্দ হারাচ্ছি না</span>, <span lang="BN">যা ঈদের প্রস্তুতির অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল</span>?<span lang="BN"> </span> <span lang="BN">  </span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN">এখন আসা যাক ইদে বাড়ি ফেরার গল্প নিয়ে। ঈদে বাড়ি ফেরা বাংলাদেশের মানুষের এক গভীর আবেগের নাম। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বার্ষিক মানবস্রোত। প্রতিবছর লাখো মানুষ রাজধানী ছেড়ে গ্রামের বাড়ির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। অতীতে পরিবহন টিকিট সংগ্রহ ছিল ভোগান্তির অন্যতম প্রতীক যেখানে ঘন্টার পর ঘন্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও টিকিট না পাওয়ার হতাশা ছিল নিত্যদিনের ঘটনা। এখন মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইন বুকিং সিস্টেম এই প্রক্রিয়াকে অনেক সহজ করেছে। ট্রেন</span>, <span lang="BN">বাস বা লঞ্চের টিকিট এখন কয়েক মিনিটেই সংগ্রহ করা সম্ভব। রেহানার পরিবার এবার অনলাইনেই টিকিট কেটে বাসে করে গ্রামে ফিরছে। তবে প্রযুক্তিনির্ভর এই ব্যবস্থায়ও চ্যালেঞ্জ রয়েছে যেমন সার্ভার জটিলতা</span>, <span lang="BN">টিকিট কালোবাজারি বা স্বল্প সময়ের মধ্যে টিকিট শেষ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ এখনও পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে ডিজিটাল সমাধান যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে</span>, <span lang="BN">তেমনি নতুন ধরনের সমস্যারও উদ্ভব হয়েছে।   <o:p></o:p></span></p>
<p><span lang="BN">অন্যদিকে</span>, <span lang="BN">রফিক সাহেবের ব্যক্তিগত জীবনেও প্রযুক্তির প্রভাব স্পষ্ট। তিনি নিয়মিত ইবাদত করেন</span>, <span lang="BN">আর এখন মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে কোরআন তিলাওয়াত</span>, <span lang="BN">নামাজের সময়সূচি দেখা বা ওয়াজ শোনা তার জন্য সহজ হয়েছে। ধর্মীয় চর্চা আরও সহজলভ্য হয়েছে, এটি প্রযুক্তির একটি ইতিবাচক দিক।</span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN">কিন্তু এখানে একটি সূক্ষ্ম প্রশ্নও আছে। ইবাদতের একাগ্রতা কি প্রযুক্তির বিভ্রান্তিতে বিঘ্নিত হচ্ছে</span>? <span lang="BN">একটি নোটিফিকেশন</span>, <span lang="BN">একটি কল, এই ছোট ছোট বিষয় কি আমাদের মনোযোগ ভেঙে দিচ্ছে</span>? <span lang="BN">প্রযুক্তি যেমন সুযোগ তৈরি করছে</span>, <span lang="BN">তেমনি মনোযোগের পরীক্ষাও নিচ্ছে। তবে বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কাছে এই অ্যাপগুলো ধর্মীয় চর্চাকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। </span><o:p></o:p></p>
<p>রেহানার এক ছেলে এবং এক মেয়ে। ঈদের সময় তাদের নানা-নানি, মামা-মামির থেকে সালামী চায়ই চায়। <span lang="BN">ঈদের আনন্দের একটি বড় অংশ ছিল সালামি ও বোনাসকে ঘিরে। ছোটদের জন্য সালামি মানেই ছিল বড়দের কাছ থেকে হাতে হাতে টাকা পাওয়া। যার সাথে জড়িয়ে থাকত স্নেহ ও সম্পর্কের উষ্ণতা। এখন মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে ডিজিটাল সালামি পাঠানোর প্রবণতা বাড়ছে। এছাড়া ডিজিটাল লেনদেন</span>, <span lang="BN">অনলাইন দান-সদকা এবং জাকাত প্রদানের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এসেছে। বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখন সহজেই দান করা যায়</span>, <span lang="BN">যা স্বচ্ছতা ও দ্রুততা বাড়িয়েছে। তবে এখানে বিশ্বাসযোগ্যতা ও সঠিক বণ্টনের প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এটি একদিকে যেমন আর্থিক লেনদেনকে সহজ করেছে</span>, <span lang="BN">অন্যদিকে নগদ অর্থের সরাসরি আদান-প্রদানের যে আবেগ</span>, <span lang="BN">তা কিছুটা হলেও কমিয়ে দিয়েছে।  </span><o:p></o:p></p>
<p>রাহাত এর কথা নিশ্চয়ই আপনাদের মনে আছে, রফিক সাহেবের ছেলে। এবার ঈদে তার গ্রামে ফেরা হচ্ছে না। তার স্ত্রী <span lang="BN">অন্তঃসত্ত্বা</span><span lang="BN">, ফলে</span> ডাক্তার দীর্ঘ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন অনাগত সন্তানের ভালোর জন্য।<span lang="BN"> একসময় এটি মানে ছিল ঈদের আনন্দ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া। কিন্তু এখন ভিডিও কল সেই দূরত্ব অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। ঈদের সকালে স্মার্টফোনের স্ক্রিনে ভেসে ওঠে পরিবারের মুখ</span>, <span lang="BN">শোনা যায় কণ্ঠ। প্রযুক্তি এখানে আশীর্বাদ। </span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN">একসময় ঈদে</span> সবাই একসাথে হতো। আ<span lang="BN">র </span>ঈদের <span lang="BN">দিন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় গিয়ে দেখা করা ছিল সামাজিকতার মূল অংশ। বর্তমান সময়ে অভিবাসন ও বৈশ্বিক কর্মসংস্থান</span> এছাড়াও, আ<span lang="BN">র</span>ও অন্যান্য<span lang="BN"> কারণে অনেক পরিবার ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন। ঈদের দিনে সবার একত্রিত হওয়া সবসময় সম্ভব হয় না। এখন ভিডিও কল</span>, <span lang="BN">মেসেজিং অ্যাপ ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সেই যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে। এই বাস্তবতায় ভিডিও কল প্রবাসে থাকা বা দূরে থাকা প্রিয়জনদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি আশীর্বাদ। স্মার্টফোনের স্ক্রিনে দেখা যায় প্রিয়জনের মুখ</span>, <span lang="BN">শোনা যায় কণ্ঠ, যা দূরত্বকে অনেকটাই কমিয়ে দেয়। তবে এটিও সত্য</span>, <span lang="BN">ভার্চুয়াল উপস্থিতি কখনোই বাস্তব মিলনের বিকল্প হতে পারে না। প্রযুক্তি আমাদের কাছে এনেছে</span>, <span lang="BN">আবার এক ধরনের দূরত্বও তৈরি করেছে।</span>  <span lang="BN">কিন্তু একইসাথে বাস্তব উপস্থিতির জায়গাটি কি ভার্চুয়াল যোগাযোগ দখল করে নিচ্ছে</span>? <span lang="BN">আমরা কি ধীরে ধীরে “দেখা করা” থেকে “স্ক্রিনে দেখা”র দিকে সরে যাচ্ছি</span>?<span lang="BN"> </span>  <o:p></o:p></p>
<p>রফিক সাহেবের তুলনায় তার নাতি-নাতনিদের কাছে <span lang="BN">সোশ্যাল মিডিয়া ঈদের আনন্দকে আরও দৃশ্যমান করেছে। মানুষ ছবি</span>, <span lang="BN">ভিডিও</span>, <span lang="BN">স্মৃতি শেয়ার করছে যা একদিকে সামাজিক সংযোগকে প্রসারিত করছে</span>, <span lang="BN">অন্যদিকে একটি ‘প্রদর্শন সংস্কৃতি’ও তৈরি করছে। ঈদের আনন্দ কখনো কখনো হয়ে উঠছে তুলনার বিষয়—কে কোথায় গেল</span>, <span lang="BN">কী পরল</span>, <span lang="BN">কী খেল এই প্রতিযোগিতা অনেকে অনুভব করে। ফলে উৎসবের সরলতা কিছুটা হলেও জটিল হয়ে উঠছে। আবার ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের ক্ষেত্রেও এসেছে পরিবর্তন।</span> রফিক সাহেবের <span lang="BN">সময়ে হাতে লেখা কার্ড বা সরাসরি দেখা করে শুভেচ্ছা জানানো ছিল প্রচলিত</span><span lang="HI">। </span>কিন্তু <span lang="BN">এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট</span>, <span lang="BN">স্ট্যাটাস বা ছবি দিয়েই শত শত মানুষকে একসাথে শুভেচ্ছা জানানো যায়। এতে যোগাযোগের পরিধি বেড়েছে ঠিকই</span>, <span lang="BN">কিন্তু ব্যক্তিগত সম্পর্কের গভীরতা কি আগের মতো থাকছে</span>?<span lang="BN"> </span> <o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN">ডিজিটাল ঈদের আরেকটি দিক হলো কনটেন্ট কালচার। ইউটিউব ভিডিও</span>, <span lang="BN">ঈদের বিশেষ নাটক</span>, <span lang="BN">ওয়েব সিরিজ</span>, <span lang="BN">শর্ট ভিডিও, সব মিলিয়ে বিনোদনের এক নতুন দুনিয়া তৈরি হয়েছে। ফলে ঈদের অবসর সময় এখন অনেকটাই স্ক্রিননির্ভর হয়ে উঠছে। পরিবারে বসে একসাথে টিভি দেখার সংস্কৃতির জায়গা দখল করছে ব্যক্তিগত ডিভাইস। রফিক সাহেব লক্ষ্য করেন</span>, <span lang="BN">নাতি-নাতনিরা গ্রামে এসেও তার সঙ্গে গল্প করার চেয়ে মোবাইলেই বেশি ব্যস্ত। </span>তাদের সাথে গল্প করাকে গৌণ মনে করে ওই মোবাইল বা ডিভাইসের মধ্যেই সারাক্ষণ বুধ হয়ে থাকছে।<o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN">সব মিলিয়ে বলা যায়</span>, <span lang="BN">প্রযুক্তি আমাদের ঈদকে সহজ</span>, <span lang="BN">দ্রুত ও সংযুক্ত করেছে। কিন্তু একইসাথে এটি আমাদের সামাজিক আচরণ</span>, <span lang="BN">সম্পর্কের ধরন এবং উৎসবের অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করছে। প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে আমাদের জীবনকে সহজ করেছে</span>, <span lang="BN">সময় বাঁচিয়েছে এবং নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। তবে একইসঙ্গে এটি আমাদের সামাজিক ও পারিবারিক অভ্যাসেও পরিবর্তন এনেছে। তাই প্রয়োজন একটি সচেতন ভারসাম্য, যেখানে প্রযুক্তি থাকবে</span>, <span lang="BN">কিন্তু মানবিক সম্পর্কের জায়গা দখল করবে না। ডিজিটাল যুগে ঈদ নতুন রূপ পেয়েছে কিন্তু এর আত্মা এখনো মানুষের মধ্যেই বাস করে। সেই আত্মাকে বাঁচিয়ে রাখাই আমাদের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।</span><o:p></o:p></p>
<hr>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in; text-align: justify;"><strong><span lang="BN">লেখক: </span></strong><span lang="BN">ডেপুটি ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশনস)</span>, <o:p></o:p><span lang="BN">বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)</span></p>
<hr>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in; text-align: justify;"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>মানবজ্ঞান, এআই এবং ভবিষ্যতের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে?</title>
<link>https://digibanglatech.news/171069</link>
<guid>https://digibanglatech.news/171069</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;span style=&quot;color: rgb(22, 145, 121);&quot;&gt;&lt;strong&gt;বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট&lt;/strong&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202603/image_870x580_69ba3727b8f0d.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 18 Mar 2026 10:20:15 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>প্রশ্ন হলো, ভবিষ্যতে আমরা কি নিজের ভাষায়, নিজের বাস্তবতায়, নিজের সামাজিক বোধে চিন্তা করার অধিকার ধরে রাখতে পারব? বাংলাদেশের এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে: আমরা কি বৈশ্বিক এআইয়ের কেবল বাজার হব, নাকি নিজেদের জ্ঞান-ভিত্তি, ভাষা ও জনস্বার্থ রক্ষা করে অংশীদার হব? সময় এখনও আছে। কিন্তু সময় খুব বেশি নেই।*</p>
<p>মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র, ভূরাজনীতি, জোটের হিসাব এবং জ্বালানি-রাজনীতি এখন বিশ্বআলোচনার কেন্দ্রে। কিন্তু এই উচ্চকণ্ঠ সময়ের আড়ালে আরেকটি নীরব সংঘাত দ্রুত ঘনীভূত হচ্ছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য আরও গভীর হতে পারে। সেটি হলো মানববুদ্ধিমত্তা, মানবজ্ঞান এবং মানব-এজেন্সির ভবিষ্যৎ নিয়ে লড়াই। সম্প্রতি ব্ল্যাকরকের ইউএস ইনফ্রাস্ট্রাকচার সামিটে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান এআইকে এমন এক সেবায় রূপ নেওয়ার কথা বলেন, যা বিদ্যুৎ বা পানির মতো মিটার ধরে কেনা যাবে। এই বক্তব্য কেবল ব্যবসায়িক মডেলের ইঙ্গিত নয়; এটি এমন এক পৃথিবীর আভাস, যেখানে চিন্তার সক্ষমতাও ধীরে ধীরে করপোরেট অবকাঠামোয় আবদ্ধ হতে পারে। </p>
<p>প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি এই পরিবর্তনকে শুধু প্রযুক্তিগত অগ্রগতি হিসেবে দেখবে, নাকি এটিকে জ্ঞান, ভাষা, নীতি এবং সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন হিসেবে নেবে? কারণ এআই যদি কেবল কয়েকটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মের সেবা হয়ে ওঠে, তাহলে উন্নয়নশীল দেশগুলো খুব সহজেই ব্যবহারকারী থাকবে, কিন্তু নির্মাতা হবে না; গ্রাহক থাকবে, কিন্তু নিয়ন্ত্রক হবে না। তখন জ্ঞান আর কেবল মুক্ত মানবিক সম্পদ থাকবে না, বরং তা হবে ভাড়া নেওয়া সক্ষমতা। বাংলাদেশের জন্য এই আশঙ্কা বিমূর্ত নয়। দেশের নিজস্ব খসড়া National Artificial Intelligence Policy 2026-2030-এই “digital sovereignty” বা ডিজিটাল সার্বভৌমত্বকে একটি মূল নীতি হিসেবে ধরা হয়েছে, এবং সরকারি নথিতেই স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে বাংলাদেশকে তার গুরুত্বপূর্ণ ডেটা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং এআই সিস্টেমের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে।<br> <br>এখানেই বিষয়টি গুরুতর। কারণ বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকেরাও বুঝতে শুরু করেছেন যে এআই কেবল কোড, চ্যাটবট বা অটোমেশন নয়; এটি ক্ষমতার নতুন বিন্যাস। খসড়া নীতিতে ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে দেশের ডিজিটাল ভবিষ্যতের কেন্দ্রীয় উপাদান হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, এআই মডেল, ডেটাসেট ও ডিজিটাল সেবায় বাংলা এবং অন্যান্য জাতীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভাষাকে যথাযথ গুরুত্ব দিতে হবে, যাতে প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও প্রাসঙ্গিক হয়। শুধু তা-ই নয়, নীতিপত্রে একটি রাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন জাতীয় বাংলা ভাষা মডেল উন্নয়নের কথাও বলা হয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বুঝেছে, ভাষার প্রশ্ন এআই যুগে কেবল সংস্কৃতির প্রশ্ন নয়, ক্ষমতারও প্রশ্ন। </p>
<p>কিন্তু নীতি-স্বীকৃতি আর বাস্তব প্রস্তুতি এক বিষয় নয়। UNESCO-সমর্থিত বাংলাদেশের AI Readiness Assessment দেখাচ্ছে, দেশে মোবাইল বিস্তার অনেক হলেও জনসংখ্যার মাত্র ৪৪.৫ শতাংশ ইন্টারনেট ব্যবহার করে। শহরে ইন্টারনেট ব্যবহার প্রায় ৬৬.৮ শতাংশ, গ্রামে মাত্র ২৯.৭ শতাংশ। শহরাঞ্চলে পুরুষ ব্যবহারকারী ৭১.৩ শতাংশ, নারী ৬২.৪ শতাংশ; গ্রামে পুরুষ ৩৬.৬ শতাংশ, নারী মাত্র ২৩ শতাংশ। একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রামীণ এলাকায় অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ-সমস্যা এখনও বড় বাধা। আবার কম্পিউটিং সক্ষমতার দিক থেকে বাংলাদেশ ৭৬ দেশের মধ্যে colocation data centre সক্ষমতায় ৭৩তম স্থানে। অর্থাৎ আমরা এমন এক সময়ে এআই নিয়ে কথা বলছি, যখন দেশের বড় অংশ এখনও মৌলিক ডিজিটাল সমতার বাইরে। </p>
<p>এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় বিপদ হচ্ছে, বাংলাদেশ যেন “ডিজিটাল অংশগ্রহণ” আর “জ্ঞানগত স্বায়ত্তশাসন”কে এক জিনিস মনে না করে। হাতে স্মার্টফোন থাকা মানেই জ্ঞানের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকা নয়। ChatGPT, Gemini, Copilot বা ভবিষ্যতের অন্য কোনো শক্তিশালী এআই ব্যবহার করা মানেই এই নয় যে আমরা জ্ঞান-উৎপাদনের অংশীদার। বরং উল্টোটা ঘটতেও পারে: আমরা এমন সব মডেলের ভোক্তা হয়ে উঠতে পারি, যেগুলো আমাদের ভাষা, সমাজ, আইনি বাস্তবতা, স্থানীয় অর্থনীতি, আঞ্চলিক ইতিহাস, ধর্মীয় সংবেদনশীলতা বা গ্রামীণ অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে বোঝেই না। তখন এআই আমাদের সহায়ক হবে না; আমাদের হয়ে ব্যাখ্যা করতে শুরু করবে। আর যে সমাজ নিজের বাস্তবতাকে নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা করতে পারে না, সে সমাজ ধীরে ধীরে অন্যের অ্যালগরিদমিক দৃষ্টিভঙ্গির অধীন হয়ে পড়ে।</p>
<p>বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও স্পষ্ট, কারণ UNESCO-র মূল্যায়ন বলছে বাংলা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায় এআই উন্নয়নে আরও বড় মনোযোগ দরকার। একই প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, উন্মুক্ত ও বৈচিত্র্যময় ডেটাসেটের অভাবে বাংলায় এআইয়ের আউটপুট এখনও দুর্বল; ইংরেজি থেকে বাংলায় ডেটা বা কনটেন্ট রূপান্তরও প্রায়ই নিম্নমানের ফল দেয়। এর মানে খুব সরল: যদি আমাদের ভাষাগত অবকাঠামো দুর্বল থাকে, তাহলে ভবিষ্যতের জ্ঞান-অর্থনীতিতে বাংলা ভাষাভাষী জনগোষ্ঠী ব্যবহারকারী হিসেবে থাকবে, কিন্তু মানদণ্ড নির্ধারণকারী হিসেবে নয়। তখন ভুল অনুবাদ, সাংস্কৃতিক অসামঞ্জস্য, তথ্যবিকৃতি এবং নীতিগত ভুলব্যাখ্যা কেবল প্রযুক্তিগত সমস্যা থাকবে না, তা হয়ে উঠবে গণতান্ত্রিক ও সামাজিক সমস্যা। </p>
<p>শিক্ষা খাতও এই প্রশ্ন থেকে আলাদা নয়। UNESCO-র তথ্য অনুযায়ী, নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামান্য বেশি অংশে কেবল শিক্ষামূলক কাজে ইন্টারনেট পৌঁছেছে। অর্থাৎ এআই-নির্ভর শিক্ষা বা জ্ঞান-অর্থনীতি নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখার আগে আমাদের দেখতে হবে, স্কুলপর্যায়ে অবকাঠামোর বাস্তব ভিত্তি কতটা শক্ত। যদি প্রাথমিক শিক্ষার্থী, গ্রামীণ তরুণ, নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং বাংলা-মাধ্যমের শিক্ষার্থী এআই সাক্ষরতার বাইরে থাকে, তাহলে এআই কেবল নতুন দক্ষতা দেবে না, নতুন বৈষম্যও তৈরি করবে। ভবিষ্যতের শ্রমবাজারে তখন যারা অ্যালগরিদম বুঝবে তারা এগোবে, আর যারা শুধু তার ফল ভোগ করবে তারা পিছিয়ে পড়বে। </p>
<p>তাই বাংলাদেশের সামনে প্রকৃত প্রশ্ন এআই গ্রহণ করা হবে কি হবে না, সেটি নয়। প্রকৃত প্রশ্ন হলো: কী ধরনের এআই, কার শাসনে, কার ভাষায়, কার জবাবদিহির মধ্যে। এখানে দুটি ভুল থেকে সমানভাবে দূরে থাকতে হবে। প্রথম ভুল হলো প্রযুক্তিকে অন্ধভাবে মুক্তির মন্ত্র হিসেবে দেখা। দ্বিতীয় ভুল হলো এআইকে ভয় পেয়ে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা। বাংলাদেশের প্রয়োজন তৃতীয় পথ: মানবকেন্দ্রিক, বাংলা-সমর্থিত, স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং জনস্বার্থনির্ভর এআই গড়ে তোলা। UNESCO-র readiness assessment-ও এই দিকেই ইঙ্গিত করেছে। তারা বাংলাদেশের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় এআই নীতি চূড়ান্ত করা, ডেটা সুরক্ষা ও সাইবার কাঠামো শক্তিশালী করা, বাংলা ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায় ডেটাসেট গড়ে তোলা, জনসচেতনতা বাড়ানো, মেয়েদের ও নারীদের অন্তর্ভুক্ত করে দক্ষতা উন্নয়ন, এবং গবেষণা ও অবকাঠামোয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির সুপারিশ করেছে। </p>
<p>এখানে রাষ্ট্রের কাজ শুধু আইন করা নয়। বিশ্ববিদ্যালয়কে গবেষণা করতে হবে। নাগরিকসমাজকে অ্যালগরিদমিক জবাবদিহি নিয়ে কথা বলতে হবে। বাংলা ভাষা প্রযুক্তিকে জাতীয় অগ্রাধিকার করতে হবে। সরকারি ক্রয়ে এআই ব্যবহারের নিয়ম স্বচ্ছ করতে হবে। আদালত, প্রশাসন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, কৃষি পরামর্শ বা সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় এআই ব্যবহৃত হলে মানুষকে জানতে হবে কোন সিদ্ধান্ত মানুষ নিয়েছে, কোনটি মেশিনের সুপারিশ, আর আপিলের পথ কোথায়। নইলে “smart governance” খুব সহজেই “opaque governance”-এ পরিণত হবে। আর সেটিই হবে মানব-এজেন্সির ক্ষয়।</p>
<p>বাংলাদেশের জন্য এ লড়াই তাই মূলত তিনটি বিষয় নিয়ে: ভাষা, স্বাধীনতা এবং ন্যায্যতা। ভাষা, কারণ বাংলা ও স্থানীয় জ্ঞানকে বাদ দিয়ে কোনো এআই ভবিষ্যৎ ন্যায়সংগত হতে পারে না। স্বাধীনতা, কারণ চিন্তার ক্ষমতা যদি কেবল বাইরের প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল হয়, তাহলে ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব কাগজে থাকবে, বাস্তবে নয়। ন্যায্যতা, কারণ এআইয়ের সুফল যদি শহুরে, ইংরেজি-দক্ষ, প্রযুক্তি-সুবিধাভোগী শ্রেণির হাতে কেন্দ্রীভূত হয়, তাহলে এটি উন্নয়ন নয়, বৈষম্যের নতুন স্থাপত্য হবে।<br>মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ একদিন না একদিন কোনো রাজনৈতিক সমাপ্তির দিকে যাবে। কিন্তু মানবজ্ঞান, ভাষা ও বিচারক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণের এই লড়াই আরও দীর্ঘ, আরও সূক্ষ্ম, এবং বাংলাদেশের মতো দেশের জন্য আরও নির্ধারক। </p>
<p>কারণ এখানে প্রশ্ন শুধু কে প্রযুক্তি বানাবে, তা নয়; প্রশ্ন হলো, ভবিষ্যতে আমরা কি নিজের ভাষায়, নিজের বাস্তবতায়, নিজের সামাজিক বোধে চিন্তা করার অধিকার ধরে রাখতে পারব? বাংলাদেশের এখনই সিদ্ধান্ত নিতে হবে: আমরা কি বৈশ্বিক এআইয়ের কেবল বাজার হব, নাকি নিজেদের জ্ঞান-ভিত্তি, ভাষা ও জনস্বার্থ রক্ষা করে অংশীদার হব? সময় এখনও আছে। কিন্তু সময় খুব বেশি নেই।                                        </p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong> ডিজিটাল গণতন্ত্র বিশেষজ্ঞ | প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা | বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)| বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) বিষয়ক অ্যাম্বাসেডর</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>পানি ব্যবস্থাপনার প্রকৌশলগত বিষয় ও ঢালের বৈজ্ঞানিক হিসাব ধরে হোক খাল খনন</title>
<link>https://digibanglatech.news/170919</link>
<guid>https://digibanglatech.news/170919</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202511/image_870x580_69266443e6605.jpg" length="97705" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 16 Mar 2026 18:26:24 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>সুসংরক্ষণ, ব্যবহার এবং সেই পানি ধীরে ধীরে ভূগর্ভে ফিল্টার হয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা- এই তিনটি লক্ষ্য একসাথে পূরণ করতে পারলে দেশের স্বাদু পানি ব্যবস্থাপনায় বড়ো পরিবর্তন আসবে। তাই খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি অবশ্যই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। যেহেতু ভূমির উপরিভাগের স্বাদু পানির বেজলাইন পরিমাণ একেবারেই কমে গেছে, এবং খাল-নালার প্রাকৃতিক নেটওয়ার্ক পলিতে ভরাট ও দখল হয়ে গেছে, তাই পুরানা পদ্ধতিতে সাধারণভাবে শুধু খাল কাটলেই ভালো ফল আসবে না। দরকারি জায়গায় পানি ব্যবস্থাপনার প্রকৌশলগত বিষয়গুলোও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। </p>
<p>বর্ষা ও বন্যা মৌসুমের পরে, বাংলাদেশে সাধারণত নভেম্বর–ডিসেম্বর–জানুয়ারিতে সেচের পানির প্রাকৃতিক পর্যাপ্ততা থাকে। কিন্তু ফেব্রুয়ারি, মার্চ ও এপ্রিলে যখন ইরি ও বোরো ফসলের জন্য পানির চাহিদা সবচেয়ে বেশি, তখনই বেশিরভাগ খাল শুকিয়ে যায়। ফলে খাল খননের পরিকল্পনায় শুষ্ক মৌসুমের এই তিন মাসে পানি ধরে রাখার ক্ষমতাকে বিশেষভাবে বিবেচনায় নিতে হবে।</p>
<p>প্রথমত, সমুদ্র সমতল থেকে উচ্চতা ও ঢালের বৈজ্ঞানিক হিসাব ধরে খাল খনন করলে তবেই প্রকৃত অর্থে পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে, বিচ্ছিন্নভাবে খাল কাটলে সেই সুবিধা পাওয়া যাবে না। এটা আমাদের স্থানীয় সরকার ও আঞ্চলিক কৃষি অফিসের প্রকৌশলী ও অফিসাররা মিলে সহজেই বের করতে সক্ষম। পাউবো সহ সেনা ও নৌ বাহিনীর এক্সপার্ট রিসোর্সও থাকতে পারে এই ডোমেনে। ডিজাইন, ম্যাপিং ও প্ল্যানিং এ উনাদের কাজে লাগানো যেতে পারে। </p>
<p>দ্বিতীয়ত, শুকনো মৌসুমে পানি ধরে রাখতে খালের মুখে স্লুইস গেট বা রাবার ড্যামের মতো নিয়ন্ত্রণ কাঠামো দরকার। রাবার ড্যাম হলে বাতাস পাম্প করে শুকনো মৌসুমে পানির স্তর বাড়িয়ে পানি সংরক্ষণ করা যায়, আবার প্রয়োজন হলে বাতাস ছেড়ে দিয়ে পানি ছেড়ে দেওয়া যায়। বর্ষাকালে পুরোপুরি খুলে দিলে খালগুলো নৌ চলাচলের জন্যও ব্যবহারযোগ্য থাকে।</p>
<p>তৃতীয়ত, খালগুলোর মধ্যে আন্তঃসংযোগ এবং গভীরতার সমন্বয় জরুরি। একটি খালকে আলাদা করে না দেখে পুরো খাল নেটওয়ার্ক ও তার আশপাশের ফসলি জমিকে একটি 'ফ্লো জোন' হিসেবে পরিকল্পনা করতে হবে। যেখানে ফসলের মৌসুম অনুযায়ী মাসভিত্তিক পানি সংরক্ষণের লক্ষ্য থাকবে। </p>
<p>ক্যানেল নেটওয়ার্কে কোথাও গভীর, কোথাও অগভীর খাল থাকতে পারে। পানিপ্রবাহ বজায় রাখতে দরকারে পাম্প দিয়ে প্রবাহও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে, রাবার ড্যাম বা আরও খরুচে স্লুইস গেইট দিয়ে রিজার্ভ বাড়ানো কমানো বা জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। </p>
<p>যেহেতু মেশিনে খাল কাটা হচ্ছে না, তাই খেয়াল রাখতে হবে যাতে ধান কাটার সময়ের সাথে কর্মসূচির ডূপ্লিকেশন না হয়। আগে পরে করলে অলস শ্রমের ব্যবহার ভালো হবে। অন্যদিকে কর্মসূচির আগে-পরে ছদ্ম বেকারত্ব পরিমাপের একটা পরিকল্পনা রাখা যেতে পারে। ১৯৭১ সালের পরে যখন পাকিস্তানি ও বাংলাদেশি মালিক-ম্যানেজমেন্ট খেদিয়ে পাটকল গুলো বেহাল ও বেহাত হতে শুরু করে, এবং ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ- এ দুয়ের প্রেক্ষিতে ১৯৭৬-৭৭ এ কৃষিতে অলস শ্রমের সাংঘাতিক ঘনীভবন ছিল। ফলে সেসময় খাল কাটা, তৈরি পোশক শিল্পের সূচনা এবং বিদেশে শ্রম রপ্তানির- এই তিন মাহাযাত্রার নেতৃত্ব দিয়ে শ্রম বিপ্লবে চরম সফল হয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বাংলাদেশ অর্থনীতির ৫০ বছর, প্রথম অধ্যায়)। বিভিন্ন পেশায় ছদ্ম বেকারত্ব নির্ণয় সহ শ্রম বিন্যাস ও বন্টনের বর্তমান পরিস্থিতির উপর নতুন একাডেমিক স্ট্যাডির দরকার আছে।   </p>
<p>১৯৭৭ এবং ২০২৬ এ নদী খাল নালার যে প্রাকৃতিক জালিকা বিন্যাস ছিল, তা একই রয়ে যায়নি। বিস্তর পরিবর্তন হয়ে গেছে মানুষের দখল ও ভরাটে, প্রাকৃতিক পলি পতনে এবং প্রবাহ কমে যাওয়ায়। তাই শহীদ জিয়ার 'খাল কাটা কর্মসূচির পুনরাবৃতির জন্য খাল কাটা' নয়, বরং শুকনো মৌসুমে কৃষির পানি রিজার্ভ তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে পরিকল্পনা করতে হবে। </p>
<p>সার্ফেস ওয়াটার সংরক্ষণ করে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ বাড়ানোই ছিল শহীদ জিয়ার প্রধানতম উদ্দেশ্য। তবেই এই উদ্যোগ সত্যিকার অর্থে দেশের পানি নিরাপত্তা ও কৃষি উৎপাদনে বড়ো ভূমিকা রাখবে।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong> <span>প্রযুক্তিবিদ, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী</span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ই&#45;কমার্স খাতে কর্মসংস্থান ও অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা</title>
<link>https://digibanglatech.news/170732</link>
<guid>https://digibanglatech.news/170732</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202602/image_870x580_699e64080de76.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 15 Mar 2026 00:00:01 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশে গত এক দশকে ই-কমার্স খাত নীরবে কিন্তু দ্রুত গতিতে বিস্তার লাভ করেছে। একসময় এটি শুধু অনলাইনে পণ্য বিক্রির একটি নতুন মাধ্যম হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু বাস্তবে আজ ই-কমার্স একটি পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক ইকোসিস্টেমে পরিণত হয়েছে। যার সঙ্গে জড়িত রয়েছে উৎপাদন, সরবরাহ ব্যবস্থা, ডিজিটাল মার্কেটিং, লজিস্টিকস, খুচরা বিক্রি এবং এমনকি রপ্তানিও।</p>
<p>বর্তমানে দেশে লক্ষাধিক তরুণ ও তরুণী ই-কমার্সের মাধ্যমে ব্যবসা বা কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত। বিভিন্ন গবেষণা ও শিল্পখাতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রায় ৪–৫ লাখ অনলাইন উদ্যোক্তা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এর সঙ্গে প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। এই খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নারীদের অংশগ্রহণ, যেখানে বহু নারী উদ্যোক্তা ঘরে বসেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন।</p>
<p>তবে ই-কমার্স খাতকে শুধু উদ্যোক্তা তৈরির ক্ষেত্র হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত সম্ভাবনাকে ছোট করে দেখা হবে। বাস্তবে এই খাত একটি বৃহৎ দক্ষতা-নির্ভর কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র। একটি ই-কমার্স ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রয়োজন হয় ডিজিটাল মার্কেটিং, গ্রাফিক ডিজাইন, কন্টেন্ট তৈরি, ওয়েবসাইট ব্যবস্থাপনা, কাস্টমার সার্ভিস, লজিস্টিকস ম্যানেজমেন্ট, পেমেন্ট সিস্টেম এবং ডাটা বিশ্লেষণের মতো বিভিন্ন দক্ষতার।</p>
<p>যদি পরিকল্পিতভাবে দেশের অন্তত এক লাখ শিক্ষিত তরুণকে এই ধরনের দক্ষতায় প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তাহলে তারা শুধু চাকরি পাবে না, বরং অনেকেই উদ্যোক্তা হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। ধরা যাক, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত একজন তরুণ মাসে গড়ে ৩০ হাজার টাকা আয় করতে পারে। সে ক্ষেত্রে এক লাখ দক্ষ কর্মীর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকার আয় অর্থনীতিতে যুক্ত হতে পারে। এই অর্থ সরাসরি বাজারে প্রবাহিত হয়ে ভোগ, বিনিয়োগ এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।</p>
<p>ই-কমার্স খাতের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো এর forward এবং backward integration। অনেক উদ্যোক্তা প্রথমে অনলাইনে পণ্য বিক্রি শুরু করলেও পরে নিজেরাই পণ্য উৎপাদন শুরু করেন। এতে ছোট ছোট উৎপাদন ইউনিট বা কারখানা গড়ে ওঠে, স্থানীয় কারিগর ও গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান তৈরি হয় এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশ ঘটে। এটিকে বলা যায় backward integration।</p>
<p>অন্যদিকে অনেক ই-কমার্স ব্যবসা ধীরে ধীরে খুচরা দোকান বা শোরুম খোলা, কিংবা আন্তর্জাতিক মার্কেটপ্লেসে পণ্য রপ্তানির দিকে এগিয়ে যায়। এটিই forward integration। ফলে একটি অনলাইন ব্যবসা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন, খুচরা বিক্রি এবং রপ্তানি, এই তিনটি খাতেই অবদান রাখতে পারে।</p>
<p>যদি ধরা হয়, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এক লাখ তরুণের মধ্যে অন্তত ৩০ হাজার উদ্যোক্তা তৈরি হয় এবং তাদের প্রত্যেকের গড় বার্ষিক বিক্রি হয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা, তাহলে এই উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসায়িক কার্যক্রম সৃষ্টি হতে পারে। এই ব্যবসার একটি অংশ আবার উৎপাদন ও খুচরা খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করবে। ফলে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় দেড় থেকে দুই লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়া অসম্ভব নয়।</p>
<p>এই বাস্তবতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত প্রশ্ন সামনে আসে। এই খাতকে কীভাবে আরও দ্রুত বিকশিত করা যায়। অনেক দেশের অভিজ্ঞতা বলছে, নতুন ডিজিটাল উদ্যোক্তা তৈরির জন্য শুরুতে কর ও ভ্যাটের ক্ষেত্রে কিছুটা নীতিগত সহায়তা দিলে খাতটি দ্রুত বিস্তার লাভ করে। যদি ই-কমার্সের ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য প্রাথমিক পর্যায়ে পাঁচ বছরের জন্য কর ও ভ্যাটের কিছু সুবিধা দেওয়া যায়, তাহলে উদ্যোক্তারা সহজে ব্যবসা দাঁড় করাতে পারবে এবং বাজার তৈরি করতে পারবে।</p>
<p>ধরা যাক, ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের মোট বার্ষিক ব্যবসা প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা। এর ওপর গড়ে ৫ শতাংশ ভ্যাট হিসাব করলে বছরে প্রায় ২,২৫০ কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব দাঁড়ায়। কিন্তু বাস্তবে এই খাতের একটি বড় অংশ এখনো ইনফরমাল অর্থনীতির মধ্যে রয়েছে, ফলে এই রাজস্বের বড় অংশই সরকার পায় না। অন্যদিকে যদি উদ্যোক্তাদের ব্যবসা গড়ে ওঠার সুযোগ দেওয়া হয়, তাহলে কয়েক বছরের মধ্যেই তারা ফরমাল অর্থনীতির অংশ হয়ে কর ও ভ্যাট প্রদানের সক্ষমতা অর্জন করবে।</p>
<p>ভাবুন তো,  পাঁচ বছর পর এই উদ্যোক্তাদের একটি বড় অংশ স্থায়ী ব্যবসায় পরিণত হলো এবং তাদের সম্মিলিত ব্যবসা ৭৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছালো। তখন কর ও ভ্যাট মিলিয়ে সরকার বছরে পাঁচ হাজার কোটির বেশি রাজস্ব পেতে পারে। অর্থাৎ স্বল্পমেয়াদে কিছু রাজস্ব ছাড় দিলেও দীর্ঘমেয়াদে একটি বড় করভিত্তি তৈরি হবে।</p>
<p>সবচেয়ে বড় বিষয় হলো এই খাতের মাধ্যমে দেশের বিপুল সংখ্যক শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান তৈরি হবে। একই সঙ্গে গ্রামীণ উৎপাদন, নারী উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র শিল্প এবং ডিজিটাল অর্থনীতি নতুন গতি পাবে।</p>
<p>বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ট্রান্সফর্মেশনের পথে দাঁড়িয়ে আছে। এই সময়ে যদি ই-কমার্স খাতকে একটি কৌশলগত শিল্পখাত হিসেবে বিবেচনা করে দক্ষতা উন্নয়ন, উদ্যোক্তা তৈরি এবং প্রাথমিক নীতিগত সহায়তা দেওয়া যায়, তাহলে এটি আগামী দশকে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে পারে।  এই শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে লাখো মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে।</p>
<hr>
<p>লেখকঃ <span>সাবেক সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত), ই-ক্যাব</span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>এআই কি জুনিয়র ডেভেলপারদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করছে?</title>
<link>https://digibanglatech.news/170644</link>
<guid>https://digibanglatech.news/170644</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202603/image_870x580_69b5266286ebf.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 13 Mar 2026 14:37:25 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>গত বছরের শেষের দিকে এক বন্ধু ফোন করেছিল। কম্পিউটার সায়েন্স শেষ করে একটা স্টার্টআপে জয়েন করেছে তার ছেলে। যেহেতু আমি সারাদিন নতুন প্রজন্মদের নিয়ে লিখি, তাই ধরে নিয়ে এলো আমার অফিসে। গলায় হতাশা। বলল, ভুল সময়ে প্রোগ্রামার হয়েছি মনে হয়। GitHub Copilot আর ChatGPT সব কোড লিখে দিচ্ছে। আমি শুধু কপি-পেস্ট করছি। সিনিয়াররা বলছে, আমরা জুনিয়ররা আর কোডিং শিখতে পারবো না, শুধু AI এর উপর নির্ভরশীল হয়ে যাব।</p>
<p>শান্ত করলাম তাকে। অনেক কিছু বললাম। কিন্তু প্রশ্নটা মাথায় ঘুরপাক খেতে লাগল। পুরো সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে এই নিয়ে বিতর্ক চলছে। Anthropic - যারা Claude AI বানিয়েছে - তারা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে একটা রিসার্চ করেছে। সেই রিসার্চের গল্পটা বলছি।</p>
<p>AI coding assistants, মানে এআই হেল্পার কি জুনিয়র ডেভেলপারদের শেখার ক্ষমতা নষ্ট করছে, নাকি সাহায্য করছে? আমি অনেক কিছুই পড়ি, এটাও চোখে পড়ল। দেখলাম আমার মতো উত্তর খুঁজতে Anthropic একটা এক্সপেরিমেন্ট চালিয়েছে। পঞ্চাশ জন জুনিয়র ডেভেলপার। জুনিয়র মানে শূন্য থেকে দুই বছরের অভিজ্ঞতা। ইউনিভার্সিটি সবে শেষ, অথবা বুটক্যাম্প থেকে বের হওয়া। বিভিন্ন দেশ, বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড। কেউ Python জানে, কেউ JavaScript, কেউ Java।</p>
<p>দুটো গ্রুপে ভাগ করা হলো তাদের। গ্রুপ A পাবে Claude AI। গ্রুপ B পাবে না - শুধু Google, Stack Overflow, ডকুমেন্টেশন। এরপর দুটো পর্বে কাজ করানো হলো।</p>
<p>প্রথম পর্ব ছিল ষাট মিনিটের কোডিং টাস্ক। রিয়েল লাইফ চ্যালেঞ্জ। একটা ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন বানাতে হবে, API তৈরি করতে হবে, ডেটা প্রসেস করতে হবে। যে ধরনের কাজ তাদের আসল চাকরিতেও করতে হয়।</p>
<p>দ্বিতীয় পর্বটা ছিল আসল জিনিস। কোডিং শেষ হওয়ার সাথে সাথে একটা কুইজ। ত্রিশ মিনিট। প্রশ্নগুলো সোজা - তুমি এইমাত্র যে কোড লিখলে, সেটা কীভাবে কাজ করে? কোন লাইনটা কী করছে? এই জিনিসটা বদলালে কী হবে? বুঝে লিখেছ, নাকি শুধু কপি করেছ? ব্যাপারটা এমন যে, আপনি একটা রেসিপি দেখে রান্না করলেন। রান্না শেষে কেউ জিজ্ঞেস করল - কেন আদা দিলেন? চিনি বাদ দিলে কী হতো? এই মশলাটার কাজ কী? উত্তর দিতে পারলে মানে রান্না শিখেছেন। না পারলে শুধু রেসিপি মেনেছেন।</p>
<p><strong>ফলাফল কি হতে পারে?</strong></p>
<p>কাজের দিক দিয়ে গ্রুপ A এগিয়ে থাকল। AI সহ ওই গ্রুপ দ্রুত কোড লিখল। কম বাগ ছিল। কোড দেখতে প্রফেশনাল। ষাট মিনিটে বেশি ফিচার বানাতে পারল। গ্রুপ B ধীরে কোড লিখল। বেশি বাগ। কিছু জিনিস অসম্পূর্ণ থেকে গেল।</p>
<p>এখানে মনে হতে পারে, AI ব্যবহার করাই ভালো। কিন্তু কুইজের ফলাফল উল্টো গল্প বলল।</p>
<p>নলেজ পরীক্ষায় গ্রুপ B এগিয়ে রইল। যারা ধীরে কোড লিখেছিল, বেশি স্ট্রাগল করেছিল, তারা কুইজে ভালো করল। কোড কীভাবে কাজ করে সেটা তারা বুঝল। নিজের ভুল ধরতে পারল। লজিক এক্সপ্লেইন করতে পারল। অল্টারনেটিভ সলিউশন চিন্তা করতে পারল।</p>
<p>গ্রুপ A দ্রুত কোড লিখলেও সব বুঝল না। কেন কাজ করছে সেটা বলতে পারল না। AI যা দিয়েছে সেটা ব্লাইন্ডলি ব্যবহার করেছে। ব্যাপারটা অনেকটাই ক্যালকুলেটরের মতো। ক্যালকুলেটর দিয়ে ম্যাথ করলে উত্তর দ্রুত পাবেন। সঠিক হবে। কিন্তু ম্যাথ শিখবেন না। নিজে হাতে করলে সময় লাগবে। ভুল হতে পারে। কিন্তু ম্যাথ শিখবেন।</p>
<p>রিসার্চাররা আরেকটা মজার জিনিস খেয়াল করলেন। AI ব্যবহারকারীদের মধ্যে তিন ধরনের মানুষ ছিল।</p>
<p>প্রথম ধরন - "কপি-পেস্ট মাস্টার"। এরা AI কে বলত, পুরো ফিচারটা লিখে দাও। AI যা দিত, কপি-পেস্ট। কাজ শেষ। কিন্তু পরে জিজ্ঞেস করলে, এই কোড কী করছে, বা কিভাবে কাজ করছে - বলতে পারত না।</p>
<p>দ্বিতীয় ধরন - "কনফিউজড এক্সপ্লোরার"। বুঝতে চেষ্টা করেছিল। AI কেও জিজ্ঞেস করত, Google ও করত। কিন্তু এত ইনফরমেশন আসত যে কনফিউজড হয়ে যেত। AI একরকম বলছে, Stack Overflow অন্যরকম বলছে। দ্বিধায় পড়ে যেত।</p>
<p>তৃতীয় ধরন - "স্ট্র্যাটেজিক লার্নার"। এরা জিতল। এরা AI কে আমার মতো মেন্টর বানাল, কোড-রাইটার না। প্রশ্ন করত - এই কনসেপ্টটা বুঝিয়ে দাও। আমার কোডে সমস্যা কী? আরো ভালো উপায় কী? তারপর নিজেরা কোড লিখত। AI শুধু গাইড করত।</p>
<p>ধরুন, একজন বলল, লগইন ফর্ম বানাতে চাই, কোন কনসেপ্ট লাগবে? AI বলল, authentication, hashing, sessions জানতে হবে। ডেভেলপার বলল, authentication বুঝিয়ে দাও। বুঝে নিজে কোড লিখল। তারপর বলল, আমার কোড চেক করো, ভুল কোথায়?</p>
<p>এই তৃতীয় ধরনের নতুন প্রজন্মের ছেলেরা ভালো কোড লিখল - AI এর সাহায্যে - এবং ভালো শিখলও। কুইজে ভালো স্কোর পেল।</p>
<p>তাহলে - প্রথম লেসন - AI খারাপ না। ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। "কোড-লেখার মেশিন" হিসেবে ব্যবহার করলে শিখবেন না। "শিক্ষক/মেন্টর" হিসেবে ব্যবহার করলে শিখবেন।</p>
<p>দ্বিতীয় লেসন - স্ট্রাগল জরুরি। যে গ্রুপ AI ছাড়া কাজ করল, তারা বেশি স্ট্রাগল করেছে। সময় নিয়েছে। ভুল করেছে। কিন্তু বেশি শিখেছে। জিমে কেউ আপনার জন্য ওজন তুললে আপনার মাসল বাড়বে না। নিজে কষ্ট করলে বাড়ে। কোডিং এও একই। AI সব লিখে দিলে "মানসিক মাসল" বাড়বে না।</p>
<p>তৃতীয় লেসন - সময়ের ভারসাম্য। অল্প সময়ে AI দিয়ে দ্রুত কাজ হয়। ভালো কোড হয়। কম ভুল। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে - ক্যারিয়ারে - বেশি নির্ভরশীল হলে কম শিখবেন। শিক্ষক হিসেবে ব্যবহার করলে বেশি শিখবেন।</p>
<p>সবচেয়ে বড় কথা - AI জুনিয়র ডেভেলপারদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবে না। যদি সঠিক উপায়ে ব্যবহার করা হয়।</p>
<p><strong>তাহলে করনীয় কী? </strong></p>
<p>প্রথম পরামর্শ - AI কে শিক্ষক বানান, স্লেভ না। "পুরো ফিচার লিখে দাও" না বলে বলুন, "কোন কনসেপ্ট লাগবে? আমার কোডে সমস্যা কী? আরো ভালো উপায় কী?"</p>
<p>দ্বিতীয় পরামর্শ - নিজে চেষ্টা করুন প্রথমে। AI এর কাছে যাওয়ার আগে পাঁচ-দশ মিনিট চেষ্টা করুন। এই স্ট্রাগলটাই শেখায়।</p>
<p>তৃতীয় পরামর্শ - AI যা দেয়, বুঝুন। প্রতিটা লাইন পড়ুন। কী করছে বুঝুন। নিজের ভাষায় এক্সপ্লেইন করার চেষ্টা করুন। না পারলে মানে শিখেননি।</p>
<p>চতুর্থ পরামর্শ - ভুল করুন, শিখুন। AI সব সময় পারফেক্ট কোড দেয়। কিন্তু ভুল কোড লিখে ডিবাগিং করে শেখাটা জরুরি। মাঝেমধ্যে AI ছাড়া কোড লিখুন।</p>
<p>পঞ্চম পরামর্শ - "কেন" জিজ্ঞেস করুন। AI যে কোড দিল, জিজ্ঞেস করুন - কেন এভাবে? অন্য উপায় কী? সুবিধা-অসুবিধা কী?</p>
<p>ফাইনাল কথায় আসি। AI coding assistants দারুণ টুল। জুনিয়র ডেভেলপারদের শত্রু না, বন্ধু। কিন্তু যেকোনো টুলের মতো, ব্যবহারের উপর নির্ভর করে। হাতুড়ি দিয়ে ঘর বানানো যায়, ভাঙাও যায়। AI দিয়ে শেখা যায় - সঠিক উপায়ে ব্যবহার করলে। আবার নির্ভরশীল হয়ে যাওয়া যায় - শুধু কপি-পেস্ট করলে।</p>
<p>আমার সেই বন্ধুর ছেলেকে এই রিসার্চের কথা বললাম। এখন সে AI কে সিনিয়র মেন্টর বানিয়েছে। আগের চেয়ে দ্রুত শিখছে। ভালো শিখছে।</p>
<p>পুনশ্চ: ISP অটোমেশনের বইয়ের দ্বিতীয় খন্ড - "এক মিলিয়ন গ্রাহকের ISP" - আসবে বইমেলার পরে। আমরা ১ মিলিয়ন গ্রাহককে সার্ভ করার জন্য তৈরি হচ্ছি। এই ইন্ডাস্ট্রিটা একটা স্কেলিং গেম। সে কারণেই দরকার প্রচুর অটোমেশন পাইপলাইন। নেটওয়ার্ক ডেভঅপস, সিআইসিডি পাইপলাইন নিয়ে যারা কাজ করতে পারেন তারা আমাকে ইনবক্স করতে পারেন। আমাদের একজন সফটওয়্যার আর্কিটেক্ট প্রয়োজন যিনি ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং নেটওয়ার্ককে "ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যাজ কোড" (IAS) হিসেবে দেখতে পারবেন। ডিটেইলস জানতে কমেন্টের বইটা দেখুন।</p>
<hr>
<p>লেখকঃ মেশিন লার্নিং ও টেলিকম বিশেষজ্ঞ ও লেখক </p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ছাদে&#45;চালে সৌর বিদ্যুৎ; নবায়নযোগ্য জ্বালানি হোক স্বনির্ভরতার হাতিয়ার</title>
<link>https://digibanglatech.news/170239</link>
<guid>https://digibanglatech.news/170239</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202603/image_870x580_69afe3a1c3a16.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 11 Mar 2026 00:26:13 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশ বর্তমানে জ্বালানি নিরাপত্তার এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্বজুড়ে জীবাশ্ম জ্বালানির অস্থির বাজার আর আমদানিনির্ভরতা আমাদের অর্থনীতিতে যে চাপ তৈরি করছে, তা থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো নিজস্ব উৎসের সঠিক ব্যবহার। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং জ্বালানি স্বনির্ভরতা অর্জনে ‘ছাদ-সৌর’ (Rooftop Solar) হতে পারে আমাদের প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু অফ-গ্রিড সৌরবিদ্যুতে (সোলার হোম সিস্টেম) বৈশ্বিক সাফল্য থাকলেও শহরের ছাদে এই প্রযুক্তির ব্যবহারে এখনো এক ধরনের স্থবিরতা কাজ করছে।</p>
<p>বাধা যেখানে: সাধারণের অনাগ্রহের নেপথ্যে</p>
<p>কেন মানুষ ছাদে সৌর প্যানেল বসাতে দ্বিধা করছে? এর পেছনে কয়েকটি যৌক্তিক কারণ রয়েছে:</p>
<p>১. উচ্চ প্রাথমিক বিনিয়োগ: একটি মানসম্মত ৫ কিলোওয়াট সিস্টেমের জন্য ৫ থেকে ৭ লক্ষ টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রয়োজন, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য একটি বড় আর্থিক বোঝা।<br>২. মানহীন যন্ত্রাংশ ও অতীত অভিজ্ঞতা: অতীতে কেবল বিদ্যুৎ সংযোগের শর্ত পূরণের জন্য নামমাত্র সৌর প্যানেল বসানো হয়েছিল। সঠিক তদারকি ও মানের অভাবে সেগুলো অকেজো হয়ে পড়ায় মানুষের মনে এই প্রযুক্তির কার্যকারিতা নিয়ে অনাস্থা তৈরি হয়েছে।<br>৩. রক্ষণাবেক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা: সৌর প্যানেল নিয়মিত পরিষ্কার করা বা ত্রুটিপূর্ণ ইনভার্টার মেরামতের জন্য হাতের নাগালে দক্ষ কারিগর বা সাশ্রয়ী সার্ভিসিং সেন্টারের অভাব রয়েছে।</p>
<p>সরকারের নতুন উদ্যোগ: সহজ হবে পথ চলা</p>
<p>এই অচলায়তন ভাঙতে সরকার ‘নেট মিটারিং নির্দেশিকা ২০২৫’ সংশোধন করে বেশ কিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে:</p>
<p>সমন্বিত বিলিং ব্যবস্থা: এখন সাধারণ ‘সিঙ্গেল-ফেজ’ সংযোগ ব্যবহারকারী সাধারণ মানুষও গ্রিডে বিদ্যুৎ দিয়ে বিল সমন্বয় করতে পারবেন। অর্থাৎ, দিনের বেলা আপনার বাড়তি বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে এবং মাস শেষে আপনার বিদ্যুৎ বিল লক্ষণীয়ভাবে কমে আসবে।</p>
<p>সরাসরি আয়ের সুযোগ: আপনার উৎপাদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের চেয়ে বেশি হলে, বাড়তি অংশের দাম সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের (বিকাশ/নগদ) মাধ্যমে সরকার আপনাকে পরিশোধ করবে।</p>
<p>লোড সক্ষমতার পূর্ণ ব্যবহার: আগে কেবল অনুমোদিত লোডের ৭০ শতাংশ সোলার বসানো যেত, এখন একজন গ্রাহক তার পূর্ণ সক্ষমতার (১০০%) প্যানেল বসাতে পারবেন।</p>
<p>সমন্বিত পরিকল্পনা: খাল খনন ও নীল-সবুজ বিপ্লব</p>
<p>সৌরবিদ্যুতের এই সম্ভাবনা কেবল ছাদেই সীমাবদ্ধ নয়। সরকার দেশব্যাপী যে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, তার সাথে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পকে যুক্ত করে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনা সম্ভব।</p>
<p>খালের পানির ওপর ভাসমান সৌর প্যানেল (Floating Solar) বসিয়ে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাবে, তেমনি প্যানেলের নিচের ছায়াযুক্ত শীতল পরিবেশে উন্নত মানের মাছ চাষ করা সম্ভব। এর ফলে একই জায়গা থেকে আমরা পাচ্ছি—<br>১. নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ।<br>২. বাষ্পীভবন রোধের মাধ্যমে পানি সংরক্ষণ।<br>৩. কৃষিকাজে পানির সহজলভ্যতা।<br>৪. মৎস্য সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার।</p>
<p>সরকার খাল খনন কর্মসূচিতে এই বিদ্যুৎ প্লান্ট যোগ করার মাধ্যমে পানি নির্ভর কৃষি ও শক্তির উৎসের মধ্যে একটি অনন্য সমন্বয় ঘটাতে পারে।</p>
<p>আর্থিক লাভ: ব্যক্তি থেকে রাষ্ট্র</p>
<p>সৌরবিদ্যুতের প্রসার সরাসরি আমাদের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করবে:</p>
<p>ব্যক্তি পর্যায়ে: ৫-৬ বছরের মধ্যে সিস্টেমের খরচ উঠে আসার পর পরবর্তী ১৫-২০ বছর প্রায় বিনা মূল্যে বিদ্যুৎ সুবিধা পাওয়া যাবে। এটি বিদ্যুৎ বিলের ক্রমবর্ধমান মূল্য থেকে সাধারণ মানুষকে দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা দেবে।</p>
<p>রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে: সরকার বিদ্যুৎ উৎপাদনে যে বিশাল ভর্তুকি দেয়, সোলার প্যানেলের প্রসার সেই চাপ কমাবে। এছাড়া কয়লা বা এলএনজি আমদানিতে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা (ডলার) ব্যয় করতে হয়, যা সৌরবিদ্যুতের মাধ্যমে সাশ্রয় করা সম্ভব।</p>
<p>উপসংহার</p>
<p>সৌরশক্তি আজ আর কোনো বিলাসিতা নয়, বরং এটি স্বনির্ভরতার একটি স্মার্ট সমাধান। সরকারি খাল খনন প্রকল্পে সোলার প্লান্টের সমন্বয় এবং ছাদে সৌর প্যানেল স্থাপনে সহজ শর্তে ঋণ ও মানসম্মত যন্ত্রাংশের নিশ্চয়তা দেওয়া গেলে বাংলাদেশ প্রকৃতপক্ষেই জ্বালানিতে স্বনির্ভর হবে। প্রতিটি ছাদ আর প্রতিটি জলাশয় যখন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পরিণত হবে, তখনই গড়ে উঠবে আমাদের স্বপ্নের সমৃদ্ধ ও সবুজ বাংলাদেশ।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ </strong>কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার এবং প্রতিষ্ঠাতা, ভেক্টর সলিউশনস (Vector Solutions)</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডার&#45;ভিত্তিক সহিংসতা: এখনই প্রতিরোধ ও প্রশমনের সময়</title>
<link>https://digibanglatech.news/170109</link>
<guid>https://digibanglatech.news/170109</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;span style=&quot;text-decoration: underline;&quot;&gt;অধিকার, ন্যায় ও কর্মের সমন্বয়েই গড়ে উঠুক ডিজিটাল নিরাপদ বাংলাদেশ&lt;/span&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202603/image_870x580_69ae7f202de6b.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 08 Mar 2026 14:05:04 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>প্রতি বছর ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের শুধু একটি দিন স্মরণ করিয়ে দেয় না, বরং নারী অধিকার, মর্যাদা, সমতা ও ন্যায়বিচারের দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসকে নতুন করে সামনে আনে। ১৯০৮ সালে নিউইয়র্কে নারী শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, কম কর্মঘণ্টা ও ভোটাধিকারের দাবিতে আন্দোলন থেকে শুরু করে আজকের বৈশ্বিক নারী অধিকার আন্দোলন আমাদের শিখিয়েছে, কোনো অর্জনই সহজে আসে না। প্রতিটি অধিকার লড়াই করে আদায় করতে হয়, প্রতিটি অগ্রগতি টিকিয়ে রাখতে হয় সচেতনতা, সংগঠন ও নীতিগত প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে।</p>
<p>বাংলাদেশও এই পথচলার বাইরে নয়। স্বাধীনতার পর থেকেই এ দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়ে আসছে। সংবিধানে নারী-পুরুষের সমঅধিকার, সমমর্যাদা ও বৈষম্যহীনতার নীতি স্বীকৃত। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, পোশাকশিল্প, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়ন, প্রশাসন, তথ্যপ্রযুক্তি এবং রাজনৈতিক অংশগ্রহণে নারীর অগ্রগতি আজ দৃশ্যমান। বাংলাদেশের নারীরা কেবল পরিবারের ভরসা নন, তাঁরা অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্র নির্মাণের অন্যতম চালিকাশক্তি।</p>
<p>কিন্তু এই অগ্রগতির পাশাপাশি আরেকটি বাস্তবতাও সামনে এসেছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের পথে প্রযুক্তির বিস্তার যেমন নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি নতুন ধরনের সহিংসতারও জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তির সহায়তায় সংঘটিত জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা বা টিএফজিবিভি আজ নারীর নিরাপত্তা, গোপনীয়তা, মানসিক সুস্থতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সামাজিক মর্যাদার ওপর গুরুতর হুমকি হয়ে উঠেছে।</p>
<p>এই সহিংসতা কেবল ফেসবুকে অপমানজনক মন্তব্য, ইনবক্সে হুমকি বা ভুয়া আইডি খুলে হয়রানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মধ্যে রয়েছে অনুমতি ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া, অনলাইন ব্ল্যাকমেইল, সাইবার স্টকিং, ডিজিটাল নজরদারি, গোপন রেকর্ডিং, জিপিএস ট্র্যাকিং, চরিত্রহনন, পরিচয় চুরি, এমনকি প্রযুক্তিনির্ভর যন্ত্র ব্যবহার করে নারীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। অর্থাৎ এটি এমন এক সহিংসতার রূপ, যা অনলাইন ও অফলাইন, দুই জগতের মাঝখানে দাঁড়িয়ে নারীর জীবনকে আতঙ্ক, অপমান ও অনিশ্চয়তায় ঠেলে দেয়।</p>
<p>সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এই সহিংসতাকে এখনও অনেকেই “অনলাইন ঝামেলা” বলে হালকাভাবে দেখেন। কিন্তু এর প্রভাব গভীর। একটি কিশোরী স্কুলে যেতে ভয় পেতে পারে, একজন ছাত্রী সামাজিক অপমানের চাপে ভেঙে পড়তে পারে, একজন কর্মজীবী নারী চাকরি হারানোর আশঙ্কায় নীরব থাকতে পারেন, একজন নারী সাংবাদিক বা অধিকারকর্মী মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করতে বাধ্য হতে পারেন। প্রযুক্তির মাধ্যমে সংঘটিত সহিংসতা তাই কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, এটি নারীর নাগরিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রকে সংকুচিত করে, গণতান্ত্রিক পরিসরকে দুর্বল করে এবং সমাজে ভয় ও নীরবতার সংস্কৃতি তৈরি করে।<br>বাংলাদেশের বাস্তবতায় সমস্যাটি আরও জটিল। একদিকে ডিজিটাল ব্যবহারের বিস্তার দ্রুত বাড়ছে, অন্যদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং অধিকার বিষয়ে সচেতনতা এখনো অসম। শহর ও গ্রামের মধ্যে প্রযুক্তি ব্যবহারের পার্থক্য যেমন আছে, তেমনি নারী ও পুরুষের মধ্যে ডিজিটাল সক্ষমতার বৈষম্যও রয়েছে। অনেক পরিবারেই মেয়েদের প্রযুক্তি ব্যবহার নিয়ে নিয়ন্ত্রণ বেশি, কিন্তু সুরক্ষা বিষয়ে শিক্ষা কম। ফলে মেয়েরা ঝুঁকিতে পড়ে, কিন্তু নিজেদের রক্ষা করার কৌশল জানে না।</p>
<p>এই বাস্তবতায় আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন সপ্তাহ ২০২৬-এ প্রযুক্তির সহায়তায় জেন্ডার-ভিত্তিক সহিংসতা: এখনই প্রতিরোধ ও প্রশমনের সময় অধিকার, ন্যায় ও কর্মের সমন্বয়েই গড়ে উঠুক ডিজিটাল নিরাপদ বাংলাদেশ বিষয়টি সামনে আনা অত্যন্ত সময়োপযোগী। এটি কেবল একটি থিম নয়, বরং বর্তমান বাংলাদেশের একটি জরুরি সামাজিক ও নীতিগত প্রশ্ন। কারণ নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ ছাড়া নারী ক্ষমতায়ন, টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক ন্যায় বা গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের কথা পূর্ণভাবে বলা যায় না।</p>
<p>বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন, সংক্ষেপে বিএনএনআরসি, দীর্ঘদিন ধরে নারীর তথ্যপ্রাপ্তি, মিডিয়া ও তথ্য সাক্ষরতা, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত ক্ষমতায়নে কাজ করে আসছে। এই প্রচেষ্টা নারীর সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নের পাশাপাশি এসডিজি-৫ এবং এসডিজি-১৬ অর্জনের পথও শক্তিশালী করছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলা, বিশেষ করে বরিশাল, পটুয়াখালী, পিরোজপুর, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা ও ময়মনসিংহে মাঠপর্যায়ের কাজ ও সংলাপ থেকে যে অভিজ্ঞতা উঠে এসেছে, তা আমাদের সামনে একটি স্পষ্ট চিত্র হাজির করে। তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতার ঘাটতি, অভিযোগ করতে ভয়, বিচারপ্রক্রিয়ার জটিলতা, ডিজিটাল আলামত সংরক্ষণে দুর্বলতা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব নারীদের নিরাপত্তাকে অনিশ্চিত করে তুলছে।</p>
<p>এই সংকট মোকাবিলায় তিনটি বিষয়কে একসঙ্গে দেখতে হবে: অধিকার, ন্যায় এবং কর্ম।</p>
<p>প্রথমত, অধিকার। নারীর ডিজিটাল অধিকারকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি ও চর্চা করতে হবে। একজন নারী অনলাইনে নিরাপদে কথা বলবেন, মতপ্রকাশ করবেন, যোগাযোগ করবেন, শিখবেন এবং কাজ করবেন, এটি কোনো দয়া নয়, তার অধিকার। ডিজিটাল স্পেসকে পুরুষ-প্রাধান্যশীল ভয়ভিত্তিক ক্ষেত্র হতে দেওয়া যাবে না। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, বিশ্ববিদ্যালয় এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচিতে ডিজিটাল আচরণবিধি, গোপনীয়তা, সম্মতি, অনলাইন নিরাপত্তা এবং ডিজিটাল নাগরিকত্ব বিষয়ে শিক্ষা চালু করতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরীদের সুরক্ষায় পরিবার, শিক্ষক এবং স্থানীয় সমাজকে সম্পৃক্ত করা জরুরি।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, ন্যায়। আইনি প্রতিকার ভুক্তভোগী-বান্ধব না হলে অধিকার কাগজেই থেকে যায়। অনেক নারী অভিযোগ করতে গিয়ে দ্বিতীয়বার হেনস্তার শিকার হন। কোথায় অভিযোগ করবেন, কীভাবে ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ করবেন, কোন আইন প্রযোজ্য হবে, কতদিনে প্রতিকার পাবেন, এসব প্রশ্নের স্পষ্ট উত্তর না থাকলে ন্যায়বিচার দূরবর্তী হয়ে যায়। জেলা পর্যায়ে লিগ্যাল এইড ব্যবস্থায় টিএফজিবিভি-কে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্ভুক্ত করা, ভুক্তভোগীদের জন্য নিবেদিত সহায়তা ডেস্ক চালু করা, পুলিশ, আইনজীবী, প্রসিকিউটর ও তদন্ত কর্মকর্তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া, এবং কাউন্সেলিং ও মনোসামাজিক সহায়তা যুক্ত করা এখন জরুরি।</p>
<p>তৃতীয়ত, কর্ম। শুধু আলোচনা করে এই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিচার বিভাগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, প্রযুক্তি কোম্পানি, ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী, মোবাইল অপারেটর, ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস এবং নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের গণশুনানিতে টিএফজিবিভি-কে অন্তর্ভুক্ত করা, দ্রুত প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা গড়ে তোলা, সম্পাদক ও মিডিয়া গেইটকিপারদের সংবেদনশীল করা, এবং নাগরিক সমাজ সংগঠনগুলোর নিয়মিত কর্মসূচিতে বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া জেলা পর্যায়ে টিএফজিবিভি-র প্রবণতা, ঘটনা ও প্রতিকার নিয়ে বার্ষিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে নীতিনির্ধারণ আরও বাস্তবভিত্তিক হবে।</p>
<p>আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়, নারীর অধিকার কোনো আলাদা খাতের বিষয় নয়; এটি সমাজের ন্যায়, রাষ্ট্রের মানবিকতা এবং উন্নয়নের মানদণ্ড। আজকের বাংলাদেশে নারীর অগ্রযাত্রা বাস্তব, কিন্তু তার নিরাপত্তাও হতে হবে বাস্তব। ডিজিটাল অগ্রগতি যদি নারীর জন্য ভয়, অপমান ও নীরবতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে সেই অগ্রগতি অসম্পূর্ণ।</p>
<p>তাই এখনই সময় স্পষ্ট অবস্থান নেওয়ার। প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ুক, কিন্তু তার সঙ্গে বাড়ুক দায়বদ্ধতা। ডিজিটাল সংযোগ সম্প্রসারিত হোক, কিন্তু তার সঙ্গে শক্তিশালী হোক নিরাপত্তা, বিচার ও মর্যাদার সুরক্ষা। আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬-এর অঙ্গীকার হোক এই: নারীর জন্য ডিজিটাল জগৎ হবে নিরাপদ, সম্মানজনক এবং সহিংসতামুক্ত।</p>
<p>সুরক্ষিত হোক ডিজিটাল মাধ্যম। জয় হোক নারীর সমঅধিকারের।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong> <span> প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ এনজিও নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) এবং বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক অ্যাম্বাসাডর।</span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>জাতীয় তথ্য বাতায়নের সোর্সকোডের হ্যাশে পর্নসাইটের লিঙ্ক  ছিলো!</title>
<link>https://digibanglatech.news/169738</link>
<guid>https://digibanglatech.news/169738</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202603/image_870x580_69a9c2b65b6b0.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 05 Mar 2026 18:44:45 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div class="xdj266r x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs x126k92a">
<div dir="auto">বাংলাদেশ সরকারে কাছে সোর্সকোড রেপোজিটরির ধারণা, সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট এবং কার্যপদ্ধতি কোনটাই ছিলো না। সোর্সকোড কী, কীভাবে সংরক্ষণ করা যায়, সোর্স কোডের বিষয়ে জাতীয় নীতিমালা কেমন হতে পারে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে দায়িত্ব পাবার পরে এসব বিষয় সামনে আনি আমরা।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">সরকার নিযুক্ত পরামর্শকদের পরামর্শ দেওয়ার জন্য ও সর্বোপরি চলমান ভেন্ডর-লক এবং সোর্সকোড-লক অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করি। আমাদের টিমের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলো এসব সোর্সকোড বুঝে পাওয়া, টেস্টিং, মানোন্নয়ন ও ক্রিটিকাল সরকারি সার্ভিসকে ভেন্ডরের দখল থেকে বের করে এনে সরকারি বেশ কিছুটা সক্ষমতা বৃদ্ধি সম্ভব হয়।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আইসিটির বাইরেও আমরা বাকি সকল মন্ত্রণালয়কে ও প্রধান সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আহ্বান জানাই সোর্সকোড বুঝে নিতে, যা রাষ্ট্রীয় কৌশলগত নিরাপত্তার সাথে সরাসরি জড়িত। আমাদের প্রচেষ্টার ফলে আইসিটির পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, ভূমি, বিআরটিএ সবাই সোর্সকোড বুঝে নিতে শুরু করে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এছাড়াও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে করা জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশেও সকল সরকারি ডিজিটাল সার্ভিসের সকল ডেপ্লয়েড ভার্শনের সোর্সকোড সরকারকে বুঝে নেওয়ার ম্যান্ডেট সৃষ্টি করা হয়, এবং তত্ত্বাবধানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলকে সুনির্দিষ্ট করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আমরা জাতীয় সোর্সকোড নীতিমালা প্রকাশ করি এবং বাংলাদেশ কমপিউটার কাউন্সিলের অধীন “জাতীয় সোর্সকোড রেপোজিটরি” চালু করি, যা সরকারি গিট রেপোজিটরি; এবং এর মাধ্যমে সকল সফটওয়্যারের সোর্সকোড আগারগাওতে অবস্থিত জাতীয় ডেটা সেন্টারে সংরক্ষিত রয়েছে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><strong>এই প্রচেষ্টার মধ্যে আমরা কিছু অদ্ভুত বাস্তবতা দেখি। রাষ্ট্রীয় সকল ডিজিটাল নথির সফটওয়্যার ডি-নথির ভেন্ডর কোম্পানি ট্যাপওয়্যার তার সোর্সকোড কুক্ষিগত করে রাখে, এবং সোর্সকোড দিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে সোর্সকোড উদ্ধার করে পর্যালোচনা করে দেখা যায় ডি-নথির যেই এডিটর, সেটি পুরোনো প্রযুক্তির এবং আপডেট বা কাস্টোমাইজ করা যায় না, এআই সার্ভিস অ্যাড করা যায় না ঠিকমতন। এছাড়াও লেটেন্সি নিয়েও বিশদ সমস্যা খুঁজে পাই। অন্যদিকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার অফিসের তিন মাসের সকল ডি-নথি ডেটা ডিলিট হয়ে যাওয়ার ঘটনা, যা এরা ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করে। ডেটার ব্যাকআপ ছিলো না কোনও, সরকারি সাইডের পরামর্শকরা কখনও এত বছর ধরে চলে আসা সফটওয়্যারের সোর্সকোড দেখেনি, সিস্টেম আর্কিটেকচার সম্পর্কেও সম্যকভাবে অবগত না তখনও। সিনেসিসও শুরুতে সোর্সকোড না দিতে চাপাচাপি করেছে, পরে সব কোড দিয়েছে, আইসিটি ও এনবিআর এর।</strong></div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এমনকি জাতীয় তথ্য বাতায়নের (মানে সরকারি ওয়েবসাইট) সোর্সকোডের মধ্যে হ্যাশে পর্নসাইটের লিঙ্ক পাওয়া যায়, এখানে ভেন্ডর ছিল সফটবিডি। সফটবিডি চালায় জাতীয় তথ্য বাতায়ন যা দেশের সর্ব নিকৃষ্ট সাইট বলা চলে। সফটবিডিকে তথ্য বাতায়ন আপডেট করতে বললে হুবহু ভারতের পরিবেশ মন্ত্রকের ওয়েবসাইট নকল করে এনেছে। সাইটের স্পেইস কাস্টমাইজ করা যেত না। এডিটর সেকেলে। একাধিক মন্ত্রণালয়ের সাইটে কয়েকদিন পরপর হাসিনা ও মুজিবের ছবি তুলে দিত, এজন্য একাধিকবার সচিব ও সিনিয়র সচিব আমাকে কল দিয়েছেন। এসব প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আমাদের কাজ করতে হয় শৃঙ্খলা ফিরাতে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আমরা এর পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের এরকম নানান সফটওয়্যার বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীন টেস্টিং সেন্টার এসকিউটিসি এবং সার্ট এর মাধ্যমে পরীক্ষাও (ফাংশনাল টেস্ট, ভিএপিটি ইত্যাদি) করি এবং মানোন্নয়ন ত্বরান্বিত করি।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">চলমান কন্ট্রাক্ট, সার্ভিস ডিস্কন্টিনিউটি এবং ওপেন টেন্ডারের দীর্ঘ প্রসেসজনিত কারনে এদেরকে লাথি দিয়ে আইসিটি থেকে বের করতে পারিনি বলে ক্ষমা চাই। তবে এদের এক্সপোজ করার সময় এসেছে। কিছু দুর্বৃত্তের জন্য ইন্ডাস্ট্রির সবার ক্ষতি হবে ভেবে এসব লিখিনি এতদিন।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">সোর্সকোড না থাকলে CI/CD (কন্টিনিউয়াস ইন্টিগ্রেশন, কন্টিনিউয়াস ডেভেলপমেন্ট) তদারকি করা যায় না। সোর্সকোড না রাখলে ভেন্ডর যা ভূগোল বোঝায়, তাই একমাত্র সত্য হয়ে থাকে সরকারের কাছে। সে যদি সার্ভিস দেওয়া বন্ধ করে এমনকি চলেও যায়, বা সিস্টেম বন্ধ করে দেয়, তাহলে আপনার পক্ষে সিস্টেম রিস্টোর বা সার্ভিস কন্টিনিউ করা সম্ভব না।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এরকম ঘটনা ঘটেছে রেলওয়েতে বা বিআরটিএ-তে। সিএনএস সিস্টেম বন্ধ করে দিয়ে চলে যায়, পরে ২২ দিন ট্রেনের টিকেটিং বন্ধ ছিলো। পরে সহজ আসে, এবং পুরো সিস্টেম সম্পূর্ণ নতুন করে অতিরিক্ত খরচ করে তৈরী করতে হয়। বিআরটিএ-তেও মাদ্রাজ আইটি নানান ম্যালপ্র্যাক্টিস করে ধরা পড়ায় চুক্তি শেষের আগেই তড়িঘড়ি করে পালিয়ে যায় সোর্সকোড না দিয়ে, পরে বিআরটিএ নিজস্ব ক্যাপাসিটিতে নতুন করে ইন্টার্নালি প্রিন্টিং মিডলওয়্যার তৈরী করে নিতে হয়।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এই প্রক্রিয়ায় সজল আহমেদকে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হিসেবে অবৈতনিকভাবে আমার টেকনিকাল সাপোর্ট টিমে নিযুক্ত করা হয়। ইন্টারন্যাশনাল ইন্ডাস্ট্রিতে ও বিগ টেকে কাজ করা বেশকিছু এক্সপার্ট সরকারি সক্ষমতা বৃদ্ধি, ট্রেইনিং ও ইন্ডাস্ট্রি বেস্ট প্র্যাক্টিস অ্যাডপ্ট করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। সোর্স কোড রিপোজিটরি তৈরি, বিসিসিতে গিট রেপোজিটরি করার জন্য এরা ফ্রি ট্রেনিং দিয়েছে, স্পেক বানিয়েছে, ডেভেলপমেন্ট এর কাজ করে দিয়েছে। এসব উচ্চমার্গীয় কাজের গুরুত্ব এসব আইসিটিতে মুর্খ তথাকথিত সাংবাদিক বুঝে না। একজন লোক নিজের পয়সায় দেশে এসে গুগল/নেটফ্লিক্স/মাক্রো স্টান্ডার্ড এর ট্রেনিং দিয়েছে। নিরেট মুর্খ না হলে তাদের কাজকে আজকে সম্মান করা হত।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এসব কাজে সংক্ষুব্ধ করে এসব ভেন্ডর কোম্পানি ও কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত সাংবাদিক স্মিয়ার ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। কারণ সোর্সকোড সরকার বুঝে পাওয়ায় ওদের একই সফটওয়্যার কুমিরের বাচ্চার মতন কয়েকবার বিক্রির রাস্তা বন্ধ হয়ে গেছে। আবার ভুলভাল বুঝিয়ে ‘সার্ভার ডাউন’ ঘোল খাওয়ানোও কঠিন হয়ে পড়েছে, কারণ সরকার এখন বুঝতে পারছে সিস্টেমে আসলে কী কারণে কী সমস্যা। সোর্স কোড সরকারের হাতে না থাকায় ভেন্ডর লকড পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। সফটওয়ার গুলোতে ফিচার এড করা যায় না, পুরানো এডিটর থাকায় অনেক ক্ষেত্রেই নতুন ফিচার ও এআই আনা যাচ্ছে না।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আলহামদুলিল্লাহ্‌ কিছু সচেতনতা তৈরির ফলে বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআর, ভূমি, প্ল্যানিং কমিশন, আইসিটিতে নিজস্ব গিট হাবে সোর্স কোড জমা রাখা শুরু হয়েছে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের সিবিএস, আইবাস+, ই-রিটার্ন, ই-টিন, ডি-নথির সোর্স কোড সরকারের কাছে এসেছে। আমরা বাংলাদেশ রেলওয়েকেও সোর্স কোড সহজ থেকে নেয়ার জন্য পরামর্শ দিয়েছি, এতে সফটওয়ার খাতে সরকারের অর্থ সাশ্রয় হবে, CI-CD চলবে, প্রাইসে না মিল্লে সাপ্লায়ার চেঞ্জ হবে, নতুন ভেন্ডর পুরানা কোডে কাজ করে সার্ভিস কন্টিনিউটি রাখবে, খরচ ও বাঁচবে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">লাইসেন্স, সফ্‌টওয়্যার ও ভেন্ডর ডিপেন্ডেন্সি সরানোর জন্য আমরা এসব বাস্তবতায়ই প্রস্তাব করি, সকল মন্ত্রণালয় ও তাদের সংযুক্ত দপ্তর ও অধীনস্থ দপ্তরসমূহের একটি গিট রেপোজিটরি খুলে সেখানে সোর্সকোড রাখতে হবে। এজন্য সকল মন্ত্রণালয়কে এক্টিভ হতে হবে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><strong>আমি খুশি যে কিছু ভেন্ডর সাপোর্টিভ। ইন্ডাস্ট্রিতে অনেক ভালো প্লেয়ার আছে। আসলে আপনার কাস্টমারকে সোর্স কোড দেওয়া এই উত্তম চর্চাটা আমাদের সফটওয়ার ইন্ডাস্ট্রিকে আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স এনে দিতে সাহায্য করবে। বিসিসির গিট হাবে আইসিটির বেশকিছু সোর্সকোড এখন জমা আছে। সোর্সকোড কেউ নিয়ে যায়নি, সম্ভবও না। আর ওপেনসোর্সের যুগে পৃথিবীর বড় বড়ো সফটওয়ার কোম্পানি নিজেদের সোর্সকোড উন্মুক্ত করে রাখে। তদুপরি কিছুদিন পর পরই যে-কোনো সোর্সকোড আপডেট হয় সিকিউরিটি এবং অ্যাপ্লিকেশন প্যাচ সহ। দেশের সরকারি খাতে কাজ করা কিছু ধান্ধাবাজ সফটওয়ার ব্যবসায়ীর ধান্ধায় আমরা বাধ সেধিছি, এই যা!</strong></div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">বাংলাদেশের আইসিটি বিট করা মিডিয়া কর্মীদের উল্লেখযোগ্য অংশ সাংবাদিক নামের দুর্বৃত্ত, ভেন্ডরের টাকা খেয়ে এর-ওর বিরুদ্ধে প্রায়ই রিপোর্ট করে। এই খাতের ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির প্রমাণ আছে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">তাই, বাংলাদেশের মিডিয়া যাতে কারিগরি বিষয়ে বিট করতে পাঠানোর আগে, তাদের সাংবাদিকদের ট্রেনিং দেয়, ট্রেনিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট এ বিনিয়োগ করে। নাইলে একদল মুর্খ সাংবাদিক দিয়ে আইসিটি খাত ও সফটওয়ার ইন্ডাস্ট্রি আগাতে পারবে না। এরা সবাইকে ধরে ধরে নিচে নামাবে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><span style="font-size: 14pt;">দুই</span></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">যাই হোক, আমরা দেশি-প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে জাতীয় সোর্স কোড, পলিসি প্রণয়ন করে গেছি। বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়। আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় সভায় প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিগণ এর ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। খসড়া প্রকাশ করে ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করি, এর সার্বিক উন্নয়ন ও বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার নিশ্চয়ই কাজ করবে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">ঢাকা, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">সরকারি অর্থায়নে নির্মিত সফ্‌টওয়্যারকে “জাতীয় সম্পদ” হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান এবং জনগণের অর্থে নির্মিত সফটওয়্যারের উপর জনস্বার্থভিত্তিক মালিকানা, নিরাপত্তা, স্বচ্ছতা ও পুনঃব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে “জাতীয় সোর্স কোড নীতিমালা), ২০২৫” শীর্ষক নীতিমালা প্রকাশ করা হয়েছে, যার ট্যাগলাইন “পাবলিক মানি, পাবলিক কোড”।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">নীতিমালাটি সরকারিভাবে উন্নয়ন/অধিগৃহীত সফটওয়্যার সিস্টেম, অ্যাপ্লিকেশন, অ্যাপ, API ও ডিজিটাল সেবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য যা জাতীয় বাজেট, বৈদেশিক ঋণ বা সরকারের অধীন বাস্তবায়িত উন্নয়ন সহযোগী অর্থায়নে পরিচালিত। এটি সকল মন্ত্রণালয়/বিভাগ/অধিদপ্তর/সংবিধিবদ্ধ, স্বায়ত্তশাসিত ও আধা-স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার জন্য বাধ্যতামূলক।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><strong>নীতিমালার প্রধান বিধানসমূহ-</strong></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><em>১) কেন্দ্রীয় জাতীয় সোর্স কোড রিপোজিটরি (Central Repository) বাধ্যতামূলক</em></div>
<div dir="auto">সরকারি অর্থায়নে তৈরি সকল সফটওয়্যারের সোর্স কোড, ডকুমেন্টেড ও সংশ্লিষ্ট সফটওয়্যার উপাদান যথাযথ কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল দ্বারা পরিচালিত জাতীয় সোর্স কোড রিপোজিটরিতে সংরক্ষণ করতে হবে; এবং সংশ্লিষ্ট সোর্সকোড রিপোজিটরিতে সংরক্ষণ না হওয়া পর্যন্ত অনির্ভরযোগ্য কোনো সফটওয়্যার প্রোডাকশনে ডেপ্লয় করা যাবে না। রিপোজিটরিতে বিস্তারিত ট্রেসেবিলিটি ও নিরীক্ষাযোগ্যতা নিশ্চিত করার নির্দেশনা রয়েছে। প্রয়োজনে এসক্রো (Escrow) ব্যবস্থা স্থাপনের নির্দেশনা রয়েছে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><em>২) “পুনঃব্যবহারে অগ্রাধিকার (Reuse First)” নীতি</em></div>
<div dir="auto">নতুন সফটওয়্যার উন্নয়ন শুরুর পূর্বে সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে “Reuse First” পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে; বাধ্যতামূলকভাবে বিদ্যমান কাছাকাছি সমাধান পুনঃব্যবহার এবং পুনঃব্যবহার না করলে তার যৌক্তিকতা লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার বিধান রাখা হয়েছে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><em>৩) “Public Money, Public Code” বাধ্যতামূলক সোর্সকোড উন্মুক্তকরণ ও নির্দিষ্ট শর্তে অব্যাহতি</em></div>
<div dir="auto">নীতিমালার মূলনীতি হিসেবে “পাবলিক মানি, পাবলিক কোড”; অব্যাহতি না দেওয়া পর্যন্ত সরকারের মালিকানাধীন সোর্স কোড সাধারণভাবে উন্মুক্ত বলে গণ্য হবে। জাতীয় নিরাপত্তা/প্রতিরক্ষা, গোপনীয়তা বা বিশেষ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ উক্ত নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে উন্মুক্তকরণ থেকে অব্যাহতি দিতে পারে তবে রেপোজিটরির মাধ্যমে রক্ষণাবেক্ষণ থেকে অব্যাহতি থাকবে না; অব্যাহতিপ্রাপ্ত সিস্টেমের জন্য লিখিত যুক্তি, নিবন্ধন, পাবলিক কোড রেজিস্ট্রি, এবং পর্যায়ক্রমিক পর্যালোচনার বিধান রাখা হয়েছে। সোর্স কোড উন্মুক্ত করার ক্ষেত্রে অনুমোদিত লাইসেন্স ব্যবহারের নীতি নির্ধারণ করা হয়েছে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><em>৪) নিরাপদ উন্নয়ন, CI/CD বাধ্যতামূলক এবং অ্যাক্সেস কন্ট্রোল</em></div>
<div dir="auto">নিরাপদ কোডিং নির্দেশিকা প্রণয়ন ও তদারকির জন্য “Standard Coding Guideline Committee” ভিত্তিক কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। সফটওয়্যার স্থাপনায় অনুমোদিত CI/CD পাইপলাইন অনুসরণ বাধ্যতামূলক- স্বয়ংক্রিয় পরীক্ষা, দুর্বলতা স্ক্যানিং, লাইসেন্স যাচাই এবং প্রোডাকশনে প্রকাশের আগে ম্যানুয়াল অনুমোদনসহ। রিপোজিটরি “রোল বেজড অ্যাক্সেস কন্ট্রোল (RBAC)” এর অধীনে পরিচালিত হবে এবং কন্ট্রিবিউটর/মেইনটেইনার/অনুমোদনকারী/নিরীক্ষকদের প্রবেশাধিকারের আগে সরকার অনুমোদিত NDA স্বাক্ষরের বিধান রয়েছে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><em>৫) ডেটাসেট ব্যবস্থাপনা ও জাতীয় ডেটা ক্যাটালগে নিবন্ধন</em></div>
<div dir="auto">সরকারি সফটওয়্যারের সঙ্গে সম্পর্কিত ডেটাসেটকে উন্মুক্ত (Open), সীমাবদ্ধ (Restricted), নিয়ন্ত্রিত (Regulated) এই তিন শ্রেণিতে শ্রেণীবদ্ধ করে প্রয়োজনীয় মেটাডেটাসহ জাতীয় ডেটা ক্যাটালগে নিবন্ধনের নির্দেশনা রয়েছে। মেশিন লার্নিং/এপিআই ভিত্তিক সিস্টেমের ক্ষেত্রে ইনপুট-আউটপুট কাঠামো, ডেটাসেট উৎস ও ইউজ কেইস ডকুমেন্টেশন রিপোজিটরিতে সংরক্ষণ এবং সীমাবদ্ধ/নিয়ন্ত্রিত ডেটাসেট ব্যবহারে NDA বাধ্যতামূলক করার বিধান আছে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><em>৬) বাস্তবায়ন, তদারকি ও সম্মতিসংক্রান্ত বিধান</em></div>
<div dir="auto">নীতিমালা প্রয়োগ, ব্যাখ্যা ও ছাড়পত্র প্রদানে কর্তৃপক্ষ দায়িত্বপ্রাপ্ত; এবং রিপোজিটরি ব্যবস্থাপনা, CI/CD অবকাঠামো ও নিরাপদ অ্যাক্সেস নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল পরিচালন সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণে ব্যর্থ হলে ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান রাখা হয়েছে।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">নীতিমালাটি প্রতি তিন বছর অন্তর (বা প্রয়োজন অনুযায়ী তার পূর্বেই) পর্যালোচনা ও হালনাগাদের বিধান রয়েছে।</div>
<div dir="auto"><hr>লেখকঃ প্রযুক্তিবিদ, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী<hr></div>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল ব্যবসা খাতে নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ ও করণীয়</title>
<link>https://digibanglatech.news/168719</link>
<guid>https://digibanglatech.news/168719</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202602/image_870x580_699e64080de76.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 25 Feb 2026 00:53:14 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত এক দশকে দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (BTRC) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে প্রায় ১৩ কোটির বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৫ শতাংশ। একই সঙ্গে Google, Temasek এবং Bain &amp; Company-এর বিভিন্ন গবেষণা অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার ডিজিটাল অর্থনীতি আগামী পাঁচ বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, এবং বাংলাদেশ এই প্রবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান অংশীদার হতে পারে।</p>
<p>বাংলাদেশে ই-কমার্স খাত ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাতে পরিণত হয়েছে। e-CAB এবং বিভিন্ন গবেষণা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের ই-কমার্স বাজারের আকার প্রায় ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, এবং এই খাতে সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ১৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। এই খাতটি এসএমই উন্নয়ন, নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে সংযুক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৯ সালের মধ্যে এই খাত ১২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই সম্ভাবনাময় খাতটি এখনও বেশ কিছু মৌলিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।</p>
<p>প্রথমত, একটি শক্তিশালী এবং একক নিয়ন্ত্রক সংস্থার অভাব একটি বড় সমস্যা। বর্তমানে ডিজিটাল কমার্স সম্পর্কিত বিষয়গুলো বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আইসিটি বিভাগের মধ্যে বিভক্ত। এর ফলে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ধীর হয়ে যায় এবং উদ্যোক্তারা প্রায়ই অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন। Singapore এবং Estonia-র মতো দেশগুলো একটি কেন্দ্রীয় ডিজিটাল নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তাদের ডিজিটাল অর্থনীতিকে দ্রুত সম্প্রসারণ করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশেও একটি স্বাধীন Digital Commerce Authority প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গত কয়েক বছর ধরে আলোচনা পর্যায়ে থাকলেও এটি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। এই সংস্থাটি প্রতিষ্ঠা করা হলে নীতি সমন্বয়, গ্রাহক সুরক্ষা এবং বাজার  সম্প্রসারণ ও তদারকি কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, গ্রাহক আস্থার সংকট এই খাতের জন্য একটি বড় বাধা। অতীতে কিছু প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের কারণে হাজার হাজার গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যার ফলে পুরো খাতের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমেছে। একটি বাধ্যতামূলক escrow payment system চালু করা হলে গ্রাহকের অর্থ একটি নিরাপদ মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে থাকবে এবং পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পরেই বিক্রেতা অর্থ পাবে। বিশ্বব্যাপী Amazon, Alibaba এবং অন্যান্য বড় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম এই পদ্ধতি ব্যবহার করে গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করছে।</p>
<p>তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের ডিজিটাল উপস্থিতি এখনও সীমিত। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক ই-কমার্স বাজারের আকার বর্তমানে ২৬ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি, কিন্তু বাংলাদেশ এই বাজারের একটি খুবই ছোট অংশ দখল করতে পেরেছে। যদিও cross-border e-commerce policy প্রণয়নের কাজ অনেক দূর এগিয়েছে, তবে এটি দ্রুত অনুমোদন এবং বাস্তবায়ন করা জরুরি। এই নীতি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের এসএমই উদ্যোক্তারা Amazon, Alibaba এবং অন্যান্য বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে সহজেই ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন, যা দেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।এটি কার্যকর হলে আগামী ৫ বছরে বর্তমান বাজার .৫ বিলিয়ন ডলার থেকে ৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হতে পারে।</p>
<p>চতুর্থত, আন্তর্জাতিক payment gateway-এর সীমাবদ্ধতা ব্যবসার সম্প্রসারণে একটি বড় বাধা। বর্তমানে বাংলাদেশের উদ্যোক্তারা PayPal-এর পূর্ণ সুবিধা ব্যবহার করতে পারেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দেশে ফ্রিল্যান্সিং থেকে বছরে প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়। একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক payment infrastructure চালু করা হলে এই আয় আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।</p>
<p>পঞ্চমত, logistics infrastructure এবং fulfillment network এখনও পর্যাপ্ত উন্নত নয়। একটি দক্ষ logistics ব্যবস্থা ছাড়া ই-কমার্স খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। Vietnam সরকার logistics infrastructure উন্নয়ন এবং policy support-এর মাধ্যমে মাত্র পাঁচ বছরে তাদের ই-কমার্স বাজারকে তিনগুণ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশেও একটি national fulfillment network এবং logistics modernization program গ্রহণ করা প্রয়োজন।</p>
<p>এছাড়া skilled manpower এবং export-focused digital entrepreneur-এর অভাব একটি বড় সীমাবদ্ধতা। Digital business management, international trade এবং e-commerce export বিষয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য জাতীয় পর্যায়ে প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণ করা জরুরি।</p>
<p>নতুন সরকারের জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে একটি সুস্পষ্ট Digital Commerce Reform Program ঘোষণা করা। ক্ষমতায় আসার প্রথম ১৮০ দিনের মধ্যে Digital Commerce Authority প্রতিষ্ঠা, escrow payment system বাধ্যতামূলক করা, cross-border e-commerce policy বাস্তবায়ন , স্কিল ট্রেনিং প্রোগ্রাম চালু করা এবং আন্তর্জাতিক payment integration নিশ্চিত করা প্রয়োজন।</p>
<p>বাংলাদেশের জন্য এটি একটি বড় সুযোগ। দেশের তরুণ জনসংখ্যা, দ্রুত সম্প্রসারিত ইন্টারনেট ব্যবহার এবং strong entrepreneur base এই খাতের উন্নয়নের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি তৈরি করেছে। সঠিক নীতি এবং সরকারি সহায়তার মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে ডিজিটাল ব্যবসা খাত ১০ লক্ষের বেশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত কর্মসংস্থান লক্ষ্যমাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই খাত থেকেই অর্জন করা সম্ভব।</p>
<p>বাংলাদেশ যদি এখন সঠিক নীতি এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে, তাহলে দেশটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি প্রধান ডিজিটাল কমার্স হাবে পরিণত হতে পারে।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ </strong>সাবেক সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত), ই-ক্যাব</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বাংলাদেশে স্পাইওয়্যার ব্যবহারের নীতিগত পুনর্গঠন ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা </title>
<link>https://digibanglatech.news/167897</link>
<guid>https://digibanglatech.news/167897</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;span style=&quot;font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush; color: black; mso-style-textfill-fill-color: black; mso-style-textfill-fill-alpha: 89.804%;&quot;&gt;গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা | গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ &lt;/span&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202602/image_870x580_6996643e8c37c.jpg" length="112819" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 19 Feb 2026 06:06:31 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশের নজরদারি প্রযুক্তির ইতিহাসে ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল একটি অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হবে। এই দশকে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ১৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের নজরদারি ও স্পাইওয়্যার প্রযুক্তি আমদানি করেছে, যার মধ্যে ইসরায়েলি উৎসের প্রযুক্তিতে অন্তত ৪০ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে [১][২]। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বাংলাদেশ ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকা সত্ত্বেও এই লেনদেন সম্পন্ন হয়েছে—তৃতীয় দেশের মাধ্যমে জটিল ও অস্বচ্ছ পথ ব্যবহার করে [৩]।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">১.১.২ প্রধান স্পাইওয়্যার প্রকার<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">পেগাসাস (NSO গ্রুপ):</span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"> শূন্য-ক্লিক আক্রমণ, এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন বাইপাস ক্ষমতা সম্পন্ন [৪][৫]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">গ্রাফাইট (প্যারাগন):</span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"> এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম অনুপ্রবেশ ক্ষমতা, সিগন্যাল ও হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিং [৬]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">সেলেব্রাইট UFED:</span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"> ডিভাইস ফরেনসিক ও ডেটা উদ্ধার, লক করা ফোন আনলক ও মুছে ফেলা ডেটা পুনরুদ্ধার ক্ষমতা [৭]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">পি-৬ ইন্টারসেপ্ট:</span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"> মোবাইল নেটওয়ার্ক অনুপ্রবেশ, আইএমএসআই ক্যাচিং ও কল ইন্টারসেপ্ট ক্ষমতা [১]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">১.১.৩ আমদানি পরিসংখ্যান<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">মোট ব্যয়: ১৯০+ মিলিয়ন ডলার [১][২]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ইসরায়েলি স্পাইওয়্যারে ব্যয়: ৪০+ মিলিয়ন ডলার [১][৩]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">আমদানিকৃত প্রযুক্তির সংখ্যা: ১৬০+ [১]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">১.২ এনটিএমসি বিলোপ ও আইনি সংস্কারের সুযোগ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অস্থায়ী সরকার জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) বিলোপের সিদ্ধান্ত নেয়—যা ছিল হাসিনা সরকারের গণনজরদারির প্রধান যন্ত্র [৮][৯]। টেলিকমিউনিকেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর মাধ্যমে বেশ কিছু ঐতিহাসিক সংস্কার আনা হয়েছে: ইন্টারনেট শাটডাউন স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ, ফোন ট্যাপিং শাস্তিযোগ্য অপরাধ, এবং বিটিআরসির স্বাধীনতা পুনর্বিন্যাস [১০][১২]।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">১.৩ স্বাধীন তদারকির মাধ্যমে ডিজিটাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করতে হলে স্বাধীন তদারকি সংস্থা গঠন এবং প্রযুক্তি ব্যবহারে বাধ্যতামূলক রিপোর্টিং ও অডিট ব্যবস্থার বাস্তবায়ন করতে হবে। পাশাপাশি নীতিনির্ধারক, প্রযুক্তিবিদ ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণে নিয়মিত মূল্যায়ন ও হালনাগাদ প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। এখনই সময়—পরিকল্পিত পদক্ষেপ, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে একটি গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার-কেন্দ্রিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ বাস্তবে রূপ দেওয়ার।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">২. ভূমিকা: ডিজিটাল পুলিশ রাষ্ট্রের উত্থান<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">২.১ বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও নজরদারির সম্পর্ক<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">২.১.১ "ডিজিটাল বাংলাদেশ" উদ্যোগ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশের "ডিজিটাল বাংলাদেশ" উদ্যোগ ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রথম প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় এবং ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর এর বাস্তবায়ন শুরু হয় [২১]। এই উদ্যোগের আওতায় দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়, ই-গভর্নেন্স সেবা প্রবর্তন করা হয়, এবং তথ্য-প্রযুক্তি খাতের বিকাশের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">২.১.২ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ বনাম জাতীয় নিরাপত্তার দ্বন্দ্ব<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">নজরদারি নিয়ে মৌলিক দ্বন্দ্বটি হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও জাতীয় নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য। যখন নজরদারি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, যখন এটি বিরোধী দলকে দমন, সাংবাদিকতাকে নিয়ন্ত্রণ, ও সুশীল সমাজকে ভয় দেখানোর হাতিয়ারে পরিণত হয়, তখন তা গণতন্ত্রের মৌলিক ভিতকে খোঁড়ে [১৫][২০]।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">২.২ গবেষণার উদ্দেশ্য ও পদ্ধতি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">২.২.১ গবেষণার প্রাথমিক উদ্দেশ্য<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">এই গবেষণার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো বাংলাদেশের নজরদারি ব্যবস্থার একটি সমগ্র চিত্র উপস্থাপন করা, যা ইসরায়েলি স্পাইওয়্যারের আমদানি থেকে শুরু করে এর অপব্যবহার, আইনি সংস্কার, এবং ভবিষ্যৎ নীতিগত পথ নির্ধারণ পর্যন্ত বিস্তৃত।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">২.২.২ প্রাথমিক উৎস<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের "দ্য ডিজিটাল পুলিশ স্টেট" প্রতিবেদন [১]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের তদন্তধর্মী প্রতিবেদন [১৫][২৩]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের প্রতিবেদন [২০]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">২.২.৩ গবেষণার সীমাবদ্ধতা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-নজরদারি কার্যক্রমের গোপনীয় প্রকৃতি<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-সরকারি গোপনীয়তার আওতায় তথ্য<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-সরাসরি প্রমাণের অভাব<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-আইনি সংস্কারের চলমান প্রক্রিয়া<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৩. ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার: বাংলাদেশের গোপন অস্ত্রভাণ্ডার<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৩.১ কূটনৈতিক সম্পর্কের অনুপস্থিতিতে প্রযুক্তি লেনদেন<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৩.১.১ কূটনৈতিক অবস্থান ও ব্যবসায়িক সম্পর্কের দ্বন্দ্ব<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম দেশ হিসেবে ইসরায়েলকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না এবং দুই দেশের মধ্যে কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই [৩][৭]। বাংলাদেশি পাসপোর্টে এখনও লেখা থাকে "This Passport Is Valid For All Countries Of The World Except Israel"। এই কঠোর কূটনৈতিক অবস্থান সত্ত্বেও, দুই দেশের মধ্যে একটি অঘোষিত ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল নজরদারি প্রযুক্তির লেনদেনকে কেন্দ্র করে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৩.১.২ তৃতীয় দেশের মাধ্যমে লেনদেনের কৌশল<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার বাংলাদেশে পৌঁছানোর প্রধান পথ তিনটি: সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুর, এবং হাঙ্গেরি [১][৩]। এই দেশগুলোকে বেছে নেওয়ার কারণ হলো তাদের আইনি কাঠামোর সুবিধা এবং ইসরায়েলের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক।<b><o:p></o:p></b></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৩.২ প্রধান স্পাইওয়্যার প্রকার ও কার্যকারিতা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৩.২.১ পেগাসাস (NSO গ্রুপ)<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ক্ষমতা: শূন্য-ক্লিক মোবাইল অনুপ্রবেশ<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">বিশেষত্ব: এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন বাইপাস<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">লক্ষ্য: রাজনৈতিক বিরোধী, সাংবাদিক<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">মূল্য: অজানা (গোপন লেনদেন) [৪][৫]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৩.২.২ গ্রাফাইট (প্যারাগন)<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ক্ষমতা: এনক্রিপ্টেড মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম অনুপ্রবেশ<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">বিশেষত্ব: সিগন্যাল, হোয়াটসঅ্যাপ হ্যাকিং<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">মধ্যস্থতাকারী: সিঙ্গাপুর<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">প্রস্তুতকারক: ইসরায়েলি সাবেক গোয়েন্দা প্রধান [৬]<o:p></o:p></span><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"><o:p> </o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৩.২.৩ সেলেব্রাইট UFED<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ক্ষমতা: ডিভাইস ফরেনসিক ও ডেটা উদ্ধার<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">বিশেষত্ব: লক করা ফোন আনলক, মুছে ফেলা ডেটা পুনরুদ্ধার<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">মূল্য: $৩৩০,০০০+<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ব্যবহার: আইন প্রয়োগকারী সংস্থা [৭]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৩.২.৪ পি-৬ ইন্টারসেপ্ট<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"><strong>ক্ষমতা: </strong>মোবাইল নেটওয়ার্ক অনুপ্রবেশ<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"><strong>বিশেষত্ব:</strong> আইএমএসআই ক্যাচিং, কল ইন্টারসেপ্ট<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"><strong>ক্রেতা:</strong> ডিজিএফআই<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"><strong>মধ্যস্থতাকারী:</strong> জেমস মলোনি (ব্যাংকক) [১]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৩.৩ আর্থিক বিনিয়োগ ও ক্রয় পরিসংখ্যান<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৩.৩.১ মোট বিনিয়োগ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের গবেষণা অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সরকার প্রায় ১৯০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের নজরদারি ও স্পাইওয়্যার প্রযুক্তি আমদানি করেছে [১][২]। এই পরিমাণটি বাংলাদেশের বার্ষিক প্রতিরক্ষা বাজেটের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এবং এটি দেশটির সামগ্রিক নজরদারি ক্ষমতার স্কেল নির্দেশ করে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৩.৩.২ বড় ব্যয়ের উদাহরণ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">যুক্তরাষ্ট্রের ইয়ানা টেকনোলজিজ (আইএলআইএস): $৫১.৭ মিলিয়ন [১][২]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ফ্রান্সের ইন্টারসেক (নেটওয়ার্ক ইন্টেলিজেন্স): $১৬.৭ মিলিয়ন [১]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">স্পিয়ারহেড ওয়াইফাই ইন্টারসেপশন ভ্যান: $৫.৭ মিলিয়ন [১]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৪. এনটিএমসি ও গণনজরদারির যন্ত্রপাতি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৪.১ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের ভূমিকা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৪.১.১ এনটিএমসির কার্যক্রম<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">জাতীয় টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) ছিল বাংলাদেশের গণনজরদারির প্রধান কেন্দ্র। এটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হতো এবং দেশের সমগ্র টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের উপর নজরদারি করার ক্ষমতা রাখতো [৮][৯]।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৪.১.২ আইনি কাঠামোর অভাব ও নির্বাহী ক্ষমতার প্রসার<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">এনটিএমসির কার্যক্রমের একটি গুরুতর সমস্যা ছিল এর আইনি কাঠামোর অভাব। টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা গেছে যে, বাংলাদেশে ২০টিরও বেশি আইন নজরদারিকে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে অনুমোদন দেয়, কিন্তু কোনো specialized সংসদীয় কমিটি গোয়েন্দা কার্যক্রমের তদারকি করে না [১][২০]।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৪.২ ইন্টিগ্রেটেড লফুল ইন্টারসেপশন সিস্টেম (আইএলআইএস)<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৪.২.১ আইএলআইএস ক্রয় ও বাস্তবায়ন<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">যুক্তরাষ্ট্রের ইয়ানা টেকনোলজিজ বাংলাদেশকে প্রায় ৫১.৭ মিলিয়ন ডলারের ইন্টিগ্রেটেড লফুল ইন্টারসেপশন সিস্টেম (আইএলআইএস) বিক্রি করে [১][২]। এই সিস্টেম মোবাইল ও ডেটা নেটওয়ার্কে ব্যাপক ইন্টারসেপশন ক্ষমতা প্রদান করে। এনটিএমসি এই সিস্টেমের প্রধান ব্যবহারকারী ছিল।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৪.২.২ মাস ডেটা অ্যাকুইজিশন সিস্টেম<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-সমগ্র ইন্টারনেট ট্রাফিক আহরণ<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-ডিপ প্যাকেট ইন্সপেকশন (DPI) প্রযুক্তি<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-এনক্রিপ্টেড ট্রাফিক পরীক্ষা<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-বিশাল পরিমাণ ডেটা সংরক্ষণ [১][২]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৪.২.৩ ইউনিফাইড টার্গেট প্রোফাইলিং<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-ব্যক্তিগত প্রোফাইল নির্মাণ<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-যোগাযোগের ইতিহাস বিশ্লেষণ<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-লোকেশন ট্র্যাকিং<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-সোশ্যাল মিডিয়া কার্যক্রম মনিটরিং [১][২]<o:p></o:p></span><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৪.৩ প্রযুক্তিগত ক্ষমতা ও অনুপ্রবেশ পদ্ধতি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৪.৩.১ নেটওয়ার্ক অনুপ্রবেশ পদ্ধতি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশের নজরদারি ব্যবস্থা জিএসএম (মোবাইল) ও ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক উভয়েই অনুপ্রবেশের ক্ষমতা রাখে। আইএমএসআই ক্যাচার ও স্টিংরে ডিভাইস ব্যবহার করে মোবাইল নেটওয়ার্কে প্রবেশ করা যায়, যা ভুয়া সেল টাওয়ার হিসেবে কাজ করে নিকটবর্তী ফোনগুলোকে আকৃষ্ট করে [১][৭]।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৪.৩.২ এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন অকার্যকরকরণ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই প্রযুক্তিগুলো এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশনকে অকার্যকর করতে পারে। পেগাসাস, গ্রাফাইট ও অন্যান্য স্পাইওয়্যার ডিভাইসের ভেতরে কাজ করে, এনক্রিপশনের আগে বা পরে ডেটা পড়ে [৪][৫]। এর মানে হলো, সিগন্যাল বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো "নিরাপদ" অ্যাপও নজরদারি থেকে নিরাপদ নয়।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৫. নজরদারির অপব্যবহার: লক্ষ্যবস্তু ও হয়রানি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৫.১ রাজনৈতিক বিরোধীদের উপর নজরদারি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৫.১.১ প্রধান লক্ষ্যবস্তু<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশে স্পাইওয়্যারের প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিল রাজনৈতিক বিরোধীরা। টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা যায়, "সাইবার নজরদারি ক্রমশ রাজনৈতিক বিরোধী, সাংবাদিক, কর্মী এবং সাধারণ নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করেছে, বিশেষ করে নির্বাচনী চক্র ও গণপ্রতিবাদের সময়" [১][১৫]।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৫.১.২ রাজনৈতিক বিরোধী<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের ফোন হ্যাকিং<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-নির্বাচনী প্রচারণায় তথ্য ব্যবহার<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে গোয়েন্দা তথ্যের প্রয়োগ<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-ব্যক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে ব্ল্যাকমেইল [১৫]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৫.১.৩ সাংবাদিক<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-তদন্তধর্মী সাংবাদিকতার উপর চাপ<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-সূত্রের গোপনীয়তা ভঙ্গ<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-আত্ম-সেন্সরশিপে বাধ্য করা<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-ব্যক্তিগত জীবনের তথ্য দিয়ে হয়রানি [১৫][২৩]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৫.১.৪ মানবাধিকার কর্মী<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-আন্তর্জাতিক অপরাধের তদন্তকারীদের লক্ষ্যবস্তু<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-সাক্ষী ও ভুক্তভোগী সংরক্ষণের ঝুঁকি<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-সুশীল সমাজের কার্যক্রমে বাধা<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-আন্তর্জাতিক বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত [১৫][১৬]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৫.১.৫ ব্যবসায়ী<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় অসুবিধা<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-চাঁদাবাজি ও বাধ্যতামূলক সহযোগিতা<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-বাণিজ্যিক তথ্য চুরি<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-বিনিয়োগ পরিবেশের অবনতি [১]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৫.২ সাংবাদিকদের উপর নজরদারি ও আত্ম-সেন্সরশিপ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৫.২.১ সাংবাদিকদের উপর চাপ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">সাংবাদিকরা নজরদারির অন্যতম প্রধান লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। বিশেষ করে তদন্তধর্মী সাংবাদিকরা, যারা সরকারি দুর্নীতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও অপরাধ তদন্ত করতেন, তাদের উপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল [১৫][২৩]।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৫.২.২ চিলিং এফেক্ট<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই নজরদারির "চিলিং এফেক্ট" সাংবাদিকতা ও বিরোধী রাজনীতিতে আত্ম-সেন্সরশিপ তৈরি করেছে [১৫][২৩]।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৬. তথ্য স্থানান্তর: প্রবেশাধিকারের ঝুঁকি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৬.১ সংগৃহীত ডেটার আন্তর্জাতিক প্রবাহ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৬.১.১ ক্লাউড সংরক্ষণের ঝুঁকি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">এনটিএমসি ও অন্যান্য সংস্থার সংগৃহীত ডেটার কোথায় সংরক্ষিত হয় তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটের গবেষণায় দেখা যায়, বাংলাদেশের নজরদারি অবকাঠামোতে ক্লাউড-ভিত্তিক সংরক্ষণ ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়েছে [১][২]। এই ক্লাউড সার্ভার বিদেশে অবস্থিত হতে পারে, যা ডেটার জাতীয় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৬.১.২ ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার সম্ভাব্য প্রবেশাধিকার<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">এনএসও গ্রুপ ও অন্যান্য ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার কোম্পানি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কঠোর নিয়ন্ত্রণে থাকে [৩][৪]। প্রতিটি রপ্তানি অনুমোদনের প্রয়োজন, এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে। এই সংযোগ গোয়েন্দা তথ্য ভাগাভাগির সম্ভাবনা তৈরি করে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৬.১.৩ সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে ডেটা এক্সফিলট্রেশন<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ইসরায়েলি স্পাইওয়্যার কোম্পানিগুলো নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট প্রদান করে [১][৩]। এই আপডেটের মাধ্যমে ডেটা এক্সফিলট্রেশনের সম্ভাবনা রয়েছে—অর্থাৎ সংগৃহীত ডেটা সরবরাহকারী কোম্পানির কাছে পাঠানো হতে পারে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৬.১.৪ তৃতীয় দেশের মাধ্যমে স্থানান্তর<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">সিঙ্গাপুর ও সাইপ্রাস শুধু প্রযুক্তি রপ্তানির মাধ্যমই নয়, সম্ভবত ডেটা স্থানান্তরের হাবও [১][৩]। এই দেশগুলোর আইনি কাঠামো ডেটা গোপনীয়তার জন্য অনুকূল, এবং তাদের উপর আন্তর্জাতিক চাপ কম।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৬.২ আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডেটা অস্ত্রীকরণ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশের সংগৃহীত ডেটা আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে [১][৩]। ভারত ও পাকিস্তান—এই দুই দেশের সাথে বাংলাদেশের জটিল সম্পর্ক রয়েছে। যদি বাংলাদেশের ডেটা এই দেশগুলোর হাতে পড়ে, তাহলে জাতীয় নিরাপত্তার গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়।<o:p></o:p></span><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"><o:p> </o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৭. আইনি সংস্কার: এনটিএমসি বিলোপ ও নতুন কাঠামো<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৭.১ এনটিএমসি বিলোপের প্রেক্ষাপট<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৭.১.১ বিলোপের সিদ্ধান্ত<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অস্থায়ী সরকার এনটিএমসি বিলোপের সিদ্ধান্ত নেয় [৮][৯]। এই সিদ্ধান্ত জনগণের দীর্ঘদিনের দাবির প্রতি সাড়া, এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি একটি সংকেত। এনটিএমসি গণতন্ত্রবিরোধী কার্যক্রমের প্রতীকে পরিণত হয়েছিল।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৭.১.২ আন্তর্জাতিক চাপ ও নীতিগত পুনর্মূল্যায়ন<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">আন্তর্জাতিক চাপও এনটিএমসি বিলোপে ভূমিকা রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের নজরদারি ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল [৮][১৭]। বিশ্বব্যাপী পেগাসাস কেলেঙ্কারির পর স্পাইওয়্যার নিয়ন্ত্রণের চাপ বৃদ্ধি পায় [৪][১৭]।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৭.২ সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট (সিআইএস) প্রতিষ্ঠা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৭.২.১ সিআইএসের প্রস্তাবিত কাঠামো<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">এনটিএমসির পরিবর্তে সেন্টার ফর ইনফরমেশন সাপোর্ট (সিআইএস) প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব করা হয়েছে [৮][৯]। সিআইএস কেবল বিচারিক অনুমোদনের ভিত্তিতে আইনসঙ্গত ইন্টারসেপশন কার্যক্রমে সহায়তা প্রদান করবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৭.২.২ বিচারিক তদারকি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-প্রতিটি নজরদারি অনুরোধ বিচারকের অনুমোদন<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-নিয়মিত পর্যালোচনা<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-কোয়াজি-জুডিশিয়াল কাউন্সিল গঠন<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-বিচারিক সদস্যদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত [৮][১০]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৭.২.৩ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-বার্ষিক প্রতিবেদন সংসদে উপস্থাপন<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-নাগরিকদের অভিযোগের ব্যবস্থা<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-স্বাধীন গোপনীয়তা কমিশনের তদারকি<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-প্রকাশ্য শুনানির ব্যবস্থা [৮][১০]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৭.২.৪ সীমিত ক্ষমতা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-কেবল আইনসঙ্গত ইন্টারসেপশন<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-বিচারিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-দায়িত্ব স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-নির্বাহী বিভাগের নিয়ন্ত্রণমুক্ত [৮][১০]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৭.৩ টেলিকমিউনিকেশন আইন ২০২৫ ও সংশোধনী<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৭.৩.১ ইন্টারনেট শাটডাউন নিষিদ্ধকরণ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">টেলিকমিউনিকেশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫-এর সবচেয়ে ঐতিহাসিক বিধান হলো যে কোনো পরিস্থিতিতেই ইন্টারনেট বা টেলিকমিউনিকেশন সেবা বন্ধ করার ক্ষমতা সরকারের থাকবে না [৮][১০]। এই বিধান দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে একটি অনন্য পদক্ষেপ।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৭.৩.২ মূল সংস্কারগুলো<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ইন্টারনেট শাটডাউন নিষিদ্ধ: </span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">স্থায়ীভাবে কিল সুইচ বাতিল<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ফোন ট্যাপিং শাস্তিযোগ্য: </span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">আদালতের অনুমতি ছাড়া শাস্তি<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">বিটিআরসি স্বাধীনতা: </span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">সরকারের নিয়ন্ত্রণ কমানো [৮][১০][১২]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৭.৩.৩ নতুন বিধান<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">কন্টেন্ট ইন্টারসেপশন লাইসেন্স: নির্দিষ্ট শর্তে অনুমোদন<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ডেটা সুরক্ষা অধ্যাদেশ: </span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ক্রস-বর্ডার ট্রান্সফার নিয়ন্ত্রণ<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">জাতীয় ডেটা গভর্নেন্স:</span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"> তদারকি কাউন্সিল গঠন [১০][১১]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৭.৩.৪ সমালোচনা ও উদ্বেগ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">তবে সমালোচকরা উল্লেখ করেছেন যে নভেম্বর ২০২৫-এর প্রাথমিক খসড়ার তুলনায় ডিসেম্বরের চূড়ান্ত সংস্কারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা শিথিল করা হয়েছে—বিশেষ করে কোয়াজি-জুডিশিয়াল কাউন্সিলে বিচারিক সদস্যদের অনুপস্থিতি এবং মন্ত্রণালয়ের বিচক্ষণতাভিত্তিক ক্ষমতার প্রসার [১০][১৪]।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৮. আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলন: তুলনামূলক বিশ্লেষণ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৮.১ ইউরোপীয় ইউনিয়ন: জিডিপিআর ও স্পাইওয়্যার নিয়ন্ত্রণ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৮.১.১ পেগাসাস কমিটি ও তদন্ত<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ইউরোপীয় পার্লামেন্ট ২০২২ সালে পেগাসাস কমিটি গঠন করে স্পাইওয়্যার অপব্যবহার তদন্তের জন্য [১৭][১৮]। কমিটির ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে কঠোর সুপারিশ করা হয়েছে:<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">স্পাইওয়্যার রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা:</span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"> মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী দেশে রপ্তানি নিষিদ্ধ (ইইউ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন) [১৭][১৮]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">মানবাধিকার রেকর্ড পর্যালোচনা: </span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">গ্রাহক দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন (পূর্বশর্ত হিসেবে যুক্ত) [১৭]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিকার: </span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন (আদালতের মাধ্যমে প্রতিকার) [১৭]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা: </span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">নজরদারি কার্যক্রমের পূর্ণ স্বচ্ছতা (বার্ষিক প্রতিবেদন ও তদারকি) [১৭][১৮]<o:p></o:p></span><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"><o:p> </o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৮.২ যুক্তরাষ্ট্র: এক্সিকিউটিভ অর্ডার ও কংগ্রেসিয়াল তদন্ত<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৮.২.১ এনএসও গ্রুপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ ২০২১ সালে এনএসও গ্রুপ ও ক্যান্ডিরুকে তার "এন্টিটি লিস্ট"-এ যুক্ত করে [৪][১৯]। এই তালিকাভুক্তি মার্কিন কোম্পানিগুলোর সাথে তাদের ব্যবসা নিষিদ্ধ করে। ২০২৫ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি আদালত এনএসও গ্রুপকে মেটার কাছে ১৬৭ মিলিয়ন ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে আদেশ দেয় [৪][৫]।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"><o:p> </o:p></span><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৮.২.২ যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ কাঠামো<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ফরেন ইন্টেলিজেন্স সারভেইল্যান্স অ্যাক্ট (FISA): </span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">বিচারিক তদারকি বাধ্যতামূলক [১৯]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">প্যাট্রিয়ট অ্যাক্টের সংশোধন: </span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">রাজ্য ও ফেডারেল আদালতের তদারকি [১৯]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪০২৮: </span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">সরকারি নজরদারি সীমাবদ্ধতা [১৯]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৮.২.৩ ভারতের উদ্যোগ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">সুপ্রিম কোর্টের পেগাসাস তদন্ত কমিটি:</span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"> স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে [১৭]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">"ডান টু প্রাইভেসি" মৌলিক অধিকার:</span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"> সংবিধানিক স্বীকৃতি [১৭]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ডিজিটাল পার্সোনাল ডেটা প্রোটেকশন অ্যাক্ট ২০২৩: </span></b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ডেটা সুরক্ষা কাঠামো [১৭]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৮.৩ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের প্রয়োগ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৮.৩.১ আইসিসিপিআরের অনুচ্ছেদ ১৭: গোপনীয়তার অধিকার<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">আন্তর্জাতিক নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার সনদের (আইসিসিপিআর) অনুচ্ছেদ ১৭ গোপনীয়তার অধিকার স্বীকার করে [১৭][২০]। এই অধিকার যেকোনো নজরদারির বৈধতা পরীক্ষার মৌলিক মানদণ্ড। বাংলাদেশ ২০০০ সালে আইসিসিপিআর অনুসমর্থন করে, কিন্তু বাস্তবায়নে ঘাটতি রয়েছে [২০]।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৮.৩.২ মন্ট্রো ডকুমেন্ট: নিরাপত্তা কোম্পানির দায়বদ্ধতা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">মন্ট্রো ডকুমেন্ট নিরাপত্তা কোম্পানিগুলোর মানবাধিকার দায়বদ্ধতা নির্দেশ করে [১৭][২০]। এই নির্দেশিকা রাষ্ট্র ও ব্যক্তিগত কোম্পানি উভয়ের জন্য প্রযোজ্য। মূল নীতিগুলো:<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-মানবাধিকার সম্মত ব্যবসায়িক প্রথা<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-ঝুঁকি মূল্যায়ন ও প্রতিকার<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতিকার [১৭][২০]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৯. নীতিগত সুপারিশ: নৈতিক নজরদারি কাঠামো গঠন<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৯.১ সারাংশ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশে স্পাইওয়্যারের অবাধ ব্যবহার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে। রাজনৈতিক বিরোধী, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী ও ব্যবসায়ীদের লক্ষ্যবস্তু করে এই প্রযুক্তি বিরোধী মত দমন, আত্ম-সেন্সরশিপ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পথ প্রশস্ত করেছে [১৫][১৬]।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">আন্তর্জাতিক সেরা অনুশীলন থেকে শিক্ষা নিয়ে—ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিডিপিআর ও পেগাসাস কমিটির তদন্ত, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিকিউটিভ অর্ডার ১৪০২৮, এবং ভারতের সুপ্রিম কোর্টের পেগাসাস তদন্ত—বাংলাদেশকে একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও নাগরিক অধিকার-কেন্দ্রিক নজরদারি কাঠামো গড়ে তুলতে হবে [১৭][১৯]।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৯.২ মূল সুপারিশ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৯.২.১ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-বার্ষিক সংসদীয় প্রতিবেদন<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-স্বাধীন গোপনীয়তা কমিশন<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-বিচারিক অনুমোদন বাধ্যতামূলক<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-নাগরিকদের অভিযোগের ব্যবস্থা<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-প্রকাশ্য শুনানির নিশ্চয়তা [৮][১০][১৭]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"><o:p> </o:p></span><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৯.২.২ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-আইসিসিপিআর অনুচ্ছেদ ১৭ অনুসরণ<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-জিডিপিআর মানদণ্ড গ্রহণ<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-মন্ট্রো ডকুমেন্ট প্রয়োগ<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-আন্তর্জাতিক চুক্তি সম্পাদন<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-দ্বিপাক্ষিক চাপ প্রয়োগ [১৭][২০]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৯.২.৩ লক্ষ্যবস্তু নিয়ন্ত্রণ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-রাজনৈতিক বিরোধীদের উপর নিষেধাজ্ঞা<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-সাংবাদিকদের সুরক্ষা<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-মানবাধিকার কর্মীদের অধিকার<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-ব্যবসায়ীদের গোপনীয়তা<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-সংবিধানিক সুরক্ষা নিশ্চিত [১৫][১৬][২০]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৯.৩ বাস্তবায়নের পদ্ধতি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৯.৩.১ অবিলম্বে পদক্ষেপ (০-৬ মাস)<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">আইনি সংস্কার:<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-টেলিকমিউনিকেশন আইনের চূড়ান্ত অনুমোদন [১০]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-ডেটা সুরক্ষা অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন [১১]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-বিচারিক তদারকির কাঠামো প্রতিষ্ঠা [৮]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার:<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-সিআইএস প্রতিষ্ঠা ও জনবল নিয়োগ [৮][৯]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-এনটিএমসির সম্পদ হস্তান্তর [৮]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-স্বাধীন গোপনীয়তা কমিশন গঠন [১০]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৯.৩.২ মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা (৬-২৪ মাস)<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">আন্তর্জাতিক সহযোগিতা:<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-আইসিসিপিআর সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন [২০]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-প্রযুক্তি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণে অংশগ্রহণ [১৭][১৮]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">ক্ষতিপূরণ ও প্রতিকার:<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-ভুক্তভোগীদের তালিকা তৈরি [১৫]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-ক্ষতিপূরণ তহবিল গঠন [১৭]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-পুনর্বাসন প্রোগ্রাম চালু [১৫]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">৯.৩.৩ দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য (২+ বছর)<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">সংস্থাগত সংস্কার:<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-সংবিধানিক সংশোধনী [২০]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-স্বচ্ছ নজরদারি কাঠামো প্রতিষ্ঠা [৮][১০]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-নাগরিক অধিকার-কেন্দ্রিক নীতি [১৫][২০]<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">প্রযুক্তিগত স্বাধীনতা:<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-দেশীয় নিরাপত্তা প্রযুক্তি উন্নয়ন<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-আন্তর্জাতিক নির্ভরশীলতা কমানো<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">-মুক্ত উৎস প্রযুক্তি গ্রহণ<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">১০. উপসংহার<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান ডিজিটাল পুলিশ রাষ্ট্রের অবসানের সুযোগ এনে দিয়েছে। এখন দেশটির সামনে নৈতিক স্পাইওয়্যার ব্যবহারের নীতিগত পুনর্গঠনের পথ খোলা।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">এই নিবন্ধের বিশ্লেষণ দেখায় যে, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে সমন্বয় ছাড়া নৈতিক নজরদারি কাঠামো গড়ে ওঠা সম্ভব নয়। সময় এসেছে বাংলাদেশের জন্য—একটি গণতান্ত্রিক, মানবাধিকার-কেন্দ্রিক ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গড়ার।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"><o:p> </o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">তথ্যসূত্র (References)<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[১] Tech Global Institute. (2024). The Digital Police State: Bangladesh's Spyware Procurement and Surveillance Architecture (2015-2025). London: Tech Global Institute.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[২] Privacy International. (2023). The Surveillance Industry in Bangladesh: Import Records and Financial Flows. London: Privacy International.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[৩] The Daily Star. (2024, March 15). "Israeli Spyware in Bangladesh: The Cyprus-Singapore Connection". The Daily Star.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[৪] Citizen Lab. (2022). The Pegasus Project: Bangladesh Targets. Toronto: University of Toronto.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[৫] Amnesty International. (2024). False Friends: How Bangladesh Deployed Pegasus Against Political Opponents. London: Amnesty International.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[৬] Haaretz. (2023, August 22). "Paragon's Graphite: The New Spyware Targeting Encrypted Apps". Haaretz.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[৭] Cellebrite. (2023). UFED Product Specifications and Government Clients. Petah Tikva: Cellebrite.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[৮] Ministry of Home Affairs, Bangladesh. (2024). Order on Abolition of NTMC and Establishment of CIS. Dhaka: Government of Bangladesh.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[৯] The Financial Express. (2024, December 10). "NTMC Abolished: What Comes Next for Bangladesh's Surveillance Regime". The Financial Express.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[১০] Bangladesh Telecommunication Regulatory Commission. (2025). Telecommunication (Amendment) Ordinance 2025. Dhaka: BTRC.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[১১] Ministry of Digital Security, Bangladesh. (2025). Data Protection Ordinance 2025: Draft for Public Consultation. Dhaka: Government of Bangladesh.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[১২] The Daily Star. (2025, January 5). "Internet Shutdowns Banned Permanently: Historic Telecom Reform". The Daily Star.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[১৪] Human Rights Watch. (2025, January). Bangladesh: Telecom Reforms Fall Short on Judicial Oversight. New York: HRW.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[১৫] The Financial Express. (2024, November 20). "Chilling Effect: How Spyware Surveillance Silenced Bangladesh's Media". The Financial Express.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[১৬] Odhikar. (2024). Enforced Disappearances and Digital Surveillance: The Connection. Dhaka: Odhikar.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[১৭] European Parliament. (2023). PEGA Committee Final Report: The Use of Pegasus and Equivalent Surveillance Spyware. Brussels: European Parliament.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[১৮] EU Reporter. (2023, June 15). "EU Parliament Calls for Spyware Export Ban to Human Rights Violators". EU Reporter.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[১৯] U.S. Department of Commerce. (2021). Entity List Addition: NSO Group and Candiru. Washington DC: Federal Register.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[২০] United Nations Human Rights Council. (2024). Report of the Special Rapporteur on the Right to Privacy in Bangladesh. Geneva: UNHRC.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[২১] Digital Bangladesh Task Force. (2009). Vision 2021: Digital Bangladesh. Dhaka: Prime Minister's Office.<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">[২৩] The Financial Express. (2024, October 12). "Self-Censorship in Bangladesh Media: The Unseen Cost of Surveillance". The Financial Express.<o:p></o:p></span></p>
<hr>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;">লেখকঃ</span><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush;"> সিইও, সিবিচ৭৭ লিমিটেড</span></p>
<hr>
<p class="MsoNormal"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>চ্যানেল থেকে কথোপকথনে &#45; বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট</title>
<link>https://digibanglatech.news/167694</link>
<guid>https://digibanglatech.news/167694</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202602/image_870x580_6992e4ff2d358.jpg" length="159262" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 16 Feb 2026 14:33:21 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বিশ্বের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ও জনপ্রিয় গণমাধ্যম রেডিওকে নতুনভাবে রূপ দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)। পরিবর্তনটা শুধু “পর্দার আড়ালে” উৎপাদন-কৌশলে সীমাবদ্ধ নয়; শ্রোতারা কীভাবে শোনেন, কী চান, কীভাবে খুঁজে নেন, এমনকি কীভাবে প্রশ্ন করেন, সেই অভ্যাসেও বড় ধাক্কা লাগছে। আগে রেডিও ছিল মূলত “চ্যানেল-চালিত” মাধ্যম: স্টেশন ঠিক করে দিত কখন কোন অনুষ্ঠান, শ্রোতা শুনত। এখন ধীরে ধীরে সেটি “কথোপকথন-চালিত” অভিজ্ঞতায় রূপ নিচ্ছে: শ্রোতা প্রশ্ন করবে, অনুরোধ করবে, নিজের পছন্দমতো বিষয় টেনে আনবে, এবং তাৎক্ষণিকভাবে উত্তর বা কনটেন্ট পাবে।</p>
<p><strong>রেডিওর পর্দার আড়ালে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা:</strong> <em>উৎপাদন দ্রুত, খরচ কম, নতুন সম্ভাবনা</em><br>রেডিও শিল্পজুড়ে কনটেন্ট তৈরিতে AI-এর প্রভাব ইতোমধ্যেই স্পষ্ট। ধারণা থেকে উৎপাদন পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া দ্রুত হচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান একাধিক ধাপে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে, যেমন:<br>•    আইডিয়া তৈরি ও স্ক্রিপ্টিং: বিষয় নির্বাচন, শিরোনাম, প্রশ্নমালা, স্টোরি কাঠামো সাজানো।<br>•    এডিটিং ও পোস্ট-প্রসেসিং: অডিও পরিষ্কার করা, নয়েজ কমানো, সেগমেন্ট কাটা, ইন্ট্রো/আউট্রো বানানো।<br>•    ট্রান্সক্রিপশন ও আর্কাইভিং: অনুষ্ঠানের কথাকে লেখায় রূপান্তর, পরে খুঁজে পাওয়ার জন্য সংরক্ষণ।<br>•    মেটাডাটা (তথ্য-ট্যাগ) তৈরি: অনুষ্ঠান কোন বিষয়, কোন এলাকা, কোন অতিথি, কোন সময়ের প্রসঙ্গ ইত্যাদি ট্যাগ করা।</p>
<p>বাংলাদেশে এই সুবিধার বাস্তব মূল্য খুব বেশি, কারণ অনেক স্টেশনেই জনবল সীমিত, প্রশিক্ষিত অডিও এডিটর কম, এবং সময়ের চাপ বেশি। AI এখানে সহায়ক “এনাবলার” হতে পারে, যদি মানব সম্পাদনা (human editorial control) বজায় থাকে।</p>
<p><strong>সামনে যে রূপান্তর:</strong> <em>সহায়কও, ব্যাঘাত-সৃষ্টিকারীও</em><br>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  একদিকে অসাধারণ সহায়ক। আবার এটিও স্বীকার করতে হবে, এটি ব্যাঘাত সৃষ্টিকারী শক্তি হতে পারে। কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  শুধু কাজ দ্রুত করছে না; এটি বদলে দিচ্ছে “সংযোগের ধরন”। প্রযোজক কীভাবে শ্রোতার সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করেন, এবং শ্রোতা কীভাবে কনটেন্টের সঙ্গে যুক্ত হন, সেই সম্পর্কটাই পুনর্গঠিত হচ্ছে।</p>
<p>এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভুল বোঝাবুঝি আছে: এই পরিবর্তনের মানে “লাইভ” বা “লিনিয়ার” (সময়-ধারাবাহিক) রেডিও শেষ হয়ে যাচ্ছে না। বাংলাদেশে লাইভ রেডিও এখনও শক্তিশালী, বিশেষত:</p>
<p>•    দুর্যোগ ও জরুরি তথ্য (ঘূর্ণিঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস, ভূমিধস, অগ্নিকাণ্ড)<br>•    বিদ্যুৎ বা মোবাইল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন<br>•    স্থানীয় খবর ও কমিউনিটি-জীবন (গ্রাম/উপজেলা পর্যায়ের তথ্য, বাজারদর, স্বাস্থ্য-পরামর্শ)</p>
<p>সাম্প্রতিক বছরগুলোর দুর্যোগ অভিজ্ঞতা আমাদের বারবার দেখিয়েছে: মোবাইল নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়লে বা ইন্টারনেট ধীর/অকার্যকর হলে সম্প্রচার রেডিও অনেক সময় শেষ ভরসা হয়ে দাঁড়ায়। সহজলভ্য, কম খরচে চলা, এবং মানুষের আস্থাভিত্তিক এই মাধ্যম আধুনিক জীবনেও নির্ভরযোগ্য সঙ্গী। তবে বদলাবে “শ্রোতার সাথে যোগাযোগের ভাষা ও কাঠামো”।</p>
<p><strong>শ্রোতারা এখন “অ্যাক্টিভ”:</strong><em> প্রশ্ন করবে, ঠিক করে নেবে, নিজের মতো শুনবে</em><br>ভয়েস-ভিত্তিক ডিজিটাল সহকারী এবং বড় ভাষা মডেল (LLM) এখন মানুষের স্বাভাবিক ভাষা বোঝে, প্রাসঙ্গিক উত্তর দেয়, এবং কথোপকথনের মতো প্রতিক্রিয়া দেখায়। আগের ভয়েস প্রযুক্তি ছিল কমান্ড-কেন্দ্রিক: “এইটা চালাও”, “ওটা থামাও”। এখন সেটি সংলাপ-কেন্দ্রিক:<br>•    “আজ আমার এলাকার বন্যা পরিস্থিতি কী?”<br>•    “গর্ভবতী মায়েদের জন্য কী সতর্কতা আছে?”<br>•    “স্থানীয় হাসপাতালে ডেঙ্গু টেস্ট কোথায় হচ্ছে?”<br>•    “আমার সন্তানের পরীক্ষার চাপ কমাতে কী করবো?”</p>
<p>বাংলাদেশে সংযুক্ত গাড়ির উদাহরণ পাশ্চাত্য দেশের মতো ব্যাপক না হলেও, স্মার্টফোন, ব্লুটুথ হেডসেট, স্মার্ট টিভি, এবং ক্রমশ স্মার্ট স্পিকার বা ইন-কার অডিও সিস্টেমের ব্যবহার বাড়ছে। এই বাস্তবতায় কথোপকথনমূলক ইন্টারফেস শ্রোতাকে “লিন ফরওয়ার্ড” করতে দেবে: তারা আর শুধু স্টেশন যা দিচ্ছে তা নিষ্ক্রিয়ভাবে নেবে না; বরং নিজের পরিস্থিতি, সময়, রুচি ও প্রয়োজন অনুযায়ী কনটেন্ট টেনে আনবে।</p>
<p><strong>চ্যানেল-কেন্দ্রিক থেকে কনটেন্ট-কেন্দ্রিক:</strong> <em>ব্র্যান্ডের নতুন যুদ্ধ</em><br>আগে “স্টেশন” ছিল মূল দরজা। এখন মানুষ অনেক সময় স্টেশনে ঢোকার আগেই নির্দিষ্ট কনটেন্ট খুঁজবে:<br>•    “এই সপ্তাহে কৃষকের জন্য কী পরামর্শ?”<br>•    “মাইগ্রেশন/প্রবাস জীবন নিয়ে কোন অনুষ্ঠান?”<br>•    “নারীর ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে কোন আলোচনা?”</p>
<p>এতে শ্রোতার জন্য সুবিধা বাড়ে: দ্রুত খুঁজে পাওয়া, নিজের মতো শোনা, নতুন বিষয় আবিষ্কার। কিন্তু স্টেশনগুলোর জন্য ঝুঁকি তৈরি হয়: ব্র্যান্ড-লয়্যালটি ও পরিচিতি ধরে রাখা কঠিন হবে, কারণ শ্রোতা কনটেন্ট কোথা থেকে পেল সেটাই ভুলে যেতে পারে। তাই “উৎস-স্বীকৃতি” (attribution) এখন কৌশলগত ইস্যু:</p>
<p>•    কনটেন্টের শুরু/শেষে পরিষ্কার স্টেশন পরিচয়<br>•    শিরোনাম, বর্ণনা, ট্যাগে স্টেশন নাম<br>•    যে প্ল্যাটফর্মেই কনটেন্ট শোনা হোক, সেখানে স্টেশনের পরিচয় দৃশ্যমান/শ্রব্যমান রাখা</p>
<p>আরেকটি বাস্তব সমস্যা হলো ডেটা ও সুপারিশ: প্ল্যাটফর্ম বা ডিভাইস নির্মাতা কনটেন্ট থেকে ডেটা পয়েন্ট বানাতে চাইবে, কিন্তু তাতে প্রযোজকের তাৎক্ষণিক লাভ সবসময় স্পষ্ট নয়। এখানে দরকষাকষি দরকার: কার ডেটা, কার নিয়ন্ত্রণ, কার লাভ।</p>
<p><strong>“এবার কেন ভিন্ন হতে পারে”:</strong> <em>পাঁচটি সমাপতিত কারণ</em><br>এবার রূপান্তর গভীর হতে পারে, কারণ কয়েকটি কারণ একসাথে মিলছে:<br>•    উন্নত কথোপকথন সক্ষমতা: LLM-ভিত্তিক সিস্টেম কাঠামোবদ্ধ কমান্ড নয়, বাস্তব সংলাপ বোঝে।<br>•    ভোগের অভ্যাস বদল: ছোট কনটেন্ট, ক্লিপ, হাইলাইট জনপ্রিয়; AI-চালিত আবিষ্কারের সঙ্গে মানানসই।<br>•    সমৃদ্ধ মেটাডাটা: ভালো ট্যাগিং থাকলে AI সুপারিশ আরও নির্ভুল হয়।<br>•    প্ল্যাটফর্মের ক্ষমতা বৃদ্ধি: ডিভাইস/অ্যাপ নির্মাতারা কনটেন্ট যাত্রায় আরও নিয়ন্ত্রণ চাইবে।<br>•    ব্যবহারকারীর প্রত্যাশা: মানুষ এখন নির্বিঘ্ন, বুদ্ধিদীপ্ত ইন্টারঅ্যাকশন চায়; “খুঁজে” নয়, “জিজ্ঞেস করে” পেতে চায়।</p>
<p><strong>বাংলাদেশের বিশেষ চ্যালেঞ্জ:</strong> <em>ভুল তথ্য, ভাষাগত বৈষম্য, গোপনীয়তা</em><br>বাংলাদেশে AI-র সুবিধার পাশাপাশি কিছু ঝুঁকি খুব বাস্তব:<br>•    ভুল তথ্য ও ডিপফেক: সংকটকালে গুজব দ্রুত ছড়ায়; AI তা আরও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে পারে।<br>•    ভাষা ও উচ্চারণ বৈষম্য: বাংলা ভাষার আঞ্চলিক উচ্চারণ, উপভাষা, সংখ্যালঘু ভাষা ঠিকমতো না বুঝলে “কথোপকথন” একপাক্ষিক হয়ে যাবে।<br>•    গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা: শ্রোতার প্রশ্নে ব্যক্তিগত তথ্য থাকতে পারে (স্বাস্থ্য, পরিবার, সহিংসতা, আইনি সমস্যা)। ডেটা কোথায় যাচ্ছে, কে রাখছে, কতদিন রাখছে, স্পষ্ট না হলে আস্থা নষ্ট হবে।<br>•    সম্পাদকীয় দায়িত্ব: AI দ্রুত কনটেন্ট তৈরি করলেও সত্যতা, ন্যায্যতা, প্রেক্ষাপট, এবং ক্ষতির ঝুঁকি মূল্যায়নের দায় মানুষেরই।</p>
<p>এখানে একটি কড়া কথা বলা দরকার: “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  থাকলেই রেডিও আধুনিক” এমন ধারণা বিপজ্জনক। প্রযুক্তি যোগ করলেই মান বাড়ে না; বরং ভুলভাবে যোগ করলে আস্থা কমে, বিভ্রান্তি বাড়ে, এবং সংবাদ-নির্ভরতার ক্ষতি হয়।</p>
<p><strong>সম্প্রচারকদের করণীয়:</strong> <em>এখনই পাঁচটি প্রস্তুতি</em><br>সফল হতে হলে আগেভাগে সক্রিয় প্রস্তুতি দরকার। বাস্তবসম্মত কয়েকটি দিকনির্দেশনা:<br>•    মেটাডাটা সংস্কৃতি গড়ুন: প্রতিটি অনুষ্ঠানকে বিষয়, এলাকা, লক্ষ্য শ্রোতা, ভাষা/উপভাষা, সময়-প্রাসঙ্গিকতা দিয়ে ট্যাগ করুন।<br>•    উৎস-স্বীকৃতি নিশ্চিত করুন: কনটেন্ট যেখানে শোনা হবে, সেখানেই স্টেশনের পরিচয় দৃশ্যমান/শ্রব্যমান রাখুন।<br>•    হাইব্রিড বিতরণ কৌশল: FM/AM-এর সাথে অনলাইন ক্লিপ, পডকাস্ট, ইউটিউব/ফেসবুক অডিও, মেসেজিং-ভিত্তিক লিংক শেয়ারিং সমন্বিত করুন।<br>•    মানব-সম্পাদকীয় নিয়ন্ত্রণ: সংবাদ, স্বাস্থ্য, আইন, দুর্যোগ তথ্যের ক্ষেত্রে “human-in-the-loop” বাধ্যতামূলক রাখুন।<br>•    ডেটা ও নীতিমালা: শ্রোতার ডেটা, কনসেন্ট, সংরক্ষণকাল, এবং তৃতীয় পক্ষের অ্যাক্সেস নিয়ে স্পষ্ট নীতিমালা দিন।</p>
<p>এই দুই লক্ষ্য (মেটাডাটা + অ্যাট্রিবিউশন) প্রযুক্তি-প্রদানকারীদের সঙ্গে সহযোগিতার ওপর নির্ভরশীল। তবে সহযোগিতা মানে নির্ভরশীলতা নয়। দরকার “শর্তসাপেক্ষ অংশীদারত্ব”: স্বচ্ছতা, ডেটা সুরক্ষা, এবং সম্পাদকীয় স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রেখে।</p>
<p><strong>আন্তর্জাতিক দিকনির্দেশনা:</strong> <em>সম্প্রচারের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাজ চলছে</em><br>আন্তর্জাতিক পরিসরে সম্প্রচারে AI ব্যবহারের সম্ভাবনা, গুণগত মান মূল্যায়ন, কনটেন্ট সমাবেশ, এবং ট্রান্সমিশন দক্ষতা উন্নত করার নানা উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনা চলছে। এসব আলোচনা থেকে তৈরি হওয়া ব্যবহারক্ষেত্র (use cases), প্রযুক্তিগত পরিপক্বতা মূল্যায়ন, এবং আন্তর্জাতিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ দিকনির্দেশনা সম্প্রচারকদেরকে আরও দায়িত্বশীলভাবে AI ব্যবহার করতে সহায়তা করতে পারে। বাংলাদেশে এর মানে হলো: “শুধু ট্রেন্ড ফলো” নয়, মান-নীতিভিত্তিক গ্রহণ।</p>
<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  রেডিওর বিস্তার, প্রবেশগম্যতা এবং প্রাসঙ্গিকতা বাড়ানোর অভূতপূর্ব সুযোগ তৈরি করে। তবে রেডিওকে শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে টিকিয়ে রেখেছে যে মৌলিক শক্তিগুলো, সেগুলো আজও সমান গুরুত্বপূর্ণ: তাৎক্ষণিকতা, অন্তরঙ্গতা, স্থানীয়তা, এবং আস্থা।</p>
<p>প্রশ্নটা এই নয় যে- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  রেডিওকে বদলাবে কি না। প্রশ্নটা হলো: আমরা কি এই বদলকে আস্থা, জনস্বার্থ, সত্যতা ও অন্তর্ভুক্তির দিকে চালাতে পারবো, নাকি প্ল্যাটফর্ম-নিয়ন্ত্রিত, অস্বচ্ছ ও গুজব-ঝুঁকিপূর্ণ এক অভ্যাসে ঢুকে পড়বো? চিন্তাশীল ও কৌশলগতভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা   গ্রহণ করলে, সম্প্রচার রেডিও আগামী প্রজন্মের জন্যও মানুষকে জানাতে, বিনোদন দিতে এবং কমিউনিটিকে সংযুক্ত রাখতে পারবে।                                                     </p>
<hr>
<p><strong>লেখেকঃ</strong> বিশ্ব বেতার দিবস উদযাপন আন্তর্জাতিক কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য (২০১২ সাল থেকে),  প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ এনজিও নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি) এবং বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক অ্যাম্বাসাডর।</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিপফেক বনাম নির্বাচন: আস্থার সংকটে গণতন্ত্র</title>
<link>https://digibanglatech.news/166992</link>
<guid>https://digibanglatech.news/166992</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202602/image_870x580_698ac4079862e.jpg" length="95631" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 10 Feb 2026 11:38:55 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>ডিপফেক এখন কেবল ভিজ্যুয়াল কারসাজি নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জেনারেটিভ মিডিয়া ইকোসিস্টেম। আধুনিক ডিপফেক সিস্টেম ডিফিউশন মডেল, ট্রান্সফরমার-ভিত্তিক আর্কিটেকচার এবং উন্নত ভয়েস সিন্থেসিস ব্যবহার করে উচ্চমাত্রার রিয়ালিজম তৈরি করছে। কয়েক মিনিটের অডিও স্যাম্পল থেকেই নিউরাল ভয়েস ক্লোনিং সম্ভব; স্বল্পসংখ্যক (few-shot) পরিষ্কার ছবি ব্যবহার করেই এখন আইডেন্টিটি-ভিত্তিক মুখ-প্রতিস্থাপন বা ফেস রিএনাক্টমেন্ট ভিডিও তৈরি করা যায়। ওপেন-সোর্স টুল যেমন FaceSwap বা DeepFaceLab, এবং বাণিজ্যিক প্ল্যাটফর্মের উন্নত টেক্সট-টু-ভিডিও ও ভয়েস জেনারেশন সেবা—ডিপফেক উৎপাদনকে কার্যত গণতান্ত্রিক করেছে। প্রবেশ-বাধা কমেছে, স্কেল বেড়েছে।</p>
<p>নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে ঝুঁকিটি কেবল ভুয়া কনটেন্ট তৈরি নয়; এটি একটি সংগঠিত তথ্যপ্রবাহ কৌশলের অংশ। পরিকল্পিত ডিপফেক অভিযান সাধারণত কয়েকটি ধাপে পরিচালিত হয়: (১) নির্দিষ্ট ভোটারগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে বিভ্রান্তিকর বার্তা তৈরি, (২) আবেগনির্ভর কনটেন্টকে দ্রুত ভাইরাল করা, এবং (৩) নির্বাচন প্রক্রিয়া ও প্রার্থীদের প্রতি আস্থা ক্ষয় করা। এখানে misinformation ও disinformation সমান্তরালভাবে কাজ করে। ভুলতথ্য অনেক সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং অরগানিক রিচ তৈরি করে; আর অপতথ্য হয় কৌশলগত—উদ্দেশ্যমূলকভাবে তৈরি ও সময়মতো প্রচারিত। ডিপফেক এই দুই প্রবাহকে একত্রিত করে নির্বাচন-সংক্রান্ত ন্যারেটিভকে প্রভাবিত করতে পারে, সরাসরি ফলাফল না বদলালেও সিদ্ধান্তগ্রহণের পরিবেশকে পরিবর্তন করতে সক্ষম।</p>
<p>বাংলাদেশের তথ্যপরিবেশে এই ঝুঁকি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম-নির্ভর জনমত, সীমিত ডিজিটাল সাক্ষরতা এবং দ্রুত শেয়ারিং সংস্কৃতি—এই তিনের সমন্বয়ে ডিপফেক একটি উচ্চ-প্রভাব “লো-কস্ট অ্যাটাক ভেক্টর” হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়—বিশেষত ভোটের আগের ২৪–৪৮ ঘণ্টা—এক ধরনের “late-stage narrative injection window” তৈরি করে। এই সময়ে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট ছড়ালে যাচাই, অপসারণ বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাখ্যার জন্য কার্যত খুব কম সময় থাকে; ফলে প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। প্রার্থীর নামে উসকানিমূলক বক্তব্য, নির্বাচন স্থগিতের ভুয়া ঘোষণা, বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের জাল ভিডিও—এসব কেবল বিভ্রান্তি নয়; এগুলো সামাজিক উত্তেজনা ও বাজার অস্থিরতা তৈরি করতে সক্ষম।</p>
<p>প্রযুক্তিগতভাবে শনাক্তকরণও চ্যালেঞ্জিং। এআই-ভিত্তিক ডিটেকশন মডেলগুলো ফ্রিকোয়েন্সি অ্যানালাইসিস, ফেসিয়াল ল্যান্ডমার্ক ইনকনসিস্টেন্সি, ব্লিঙ্ক প্যাটার্ন, ভয়েস স্পেকট্রাল অস্বাভাবিকতা ইত্যাদি শনাক্ত করতে পারে। Deepware Scanner বা Reality Defender-এর মতো সিস্টেম সম্ভাব্য এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট ফ্ল্যাগ করতে পারে। InVID-এর মতো টুল ফ্রেম-বাই-ফ্রেম বিশ্লেষণে সহায়ক। তবে সমস্যা হলো—জেনারেশন প্রযুক্তি যেমন দ্রুত উন্নত হচ্ছে, শনাক্তকরণ প্রযুক্তিও তেমনি প্রতিনিয়ত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে। এটি এক ধরনের “অস্ত্র প্রতিযোগিতা”।</p>
<p>এই প্রেক্ষাপটে ব্যবহারকারীর আচরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ সাইবার ডিফেন্স লেয়ার। সন্দেহজনক ভিডিও বা অডিও যাচাই না করে শেয়ার না করা, উৎস ও টাইমস্ট্যাম্প পরীক্ষা করা, রিভার্স ইমেজ সার্চ ব্যবহার করা—এসবই প্রাথমিক প্রতিরক্ষা। কিন্তু এর পাশাপাশি প্রয়োজন প্রাতিষ্ঠানিক প্রস্তুতি: দ্রুত প্রতিক্রিয়া প্রোটোকল, অফিসিয়াল চ্যানেলে তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা, এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক ইনফরমেশন ইন্টেগ্রিটি কৌশল।</p>
<p>ডিপফেকের যুগে নির্বাচন নিরাপত্তা আর শুধু সার্ভার, নেটওয়ার্ক বা ডেটাবেস সুরক্ষার বিষয় নয়; এটি তথ্যের ইন্টেগ্রিটি ও কন্সিস্টেন্সির রক্ষার লড়াই। ইনফ্রাকে ঠিক রেখে, সিস্টেমকে অপব্যবহার করে যদি জনমতকে ডিজিটালি বিকৃত করা যায়, তবে গণতন্ত্রের নতুন যুগের হুমকি। এখন প্রশ্ন কেবল প্রযুক্তিগত সক্ষমতার নয়; প্রশ্ন হলো—আমরা কি এই তথ্য-যুদ্ধকে বাস্তব হুমকি হিসেবে স্বীকার করছি, এবং সেই অনুযায়ী নীতি, প্রযুক্তি ও সচেতনতায় প্রস্তুত হচ্ছি?</p>
<p><br><strong></strong></p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ </strong>তথ্য-প্রযুক্তিবিদ; যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস ফোরাম</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>নির্বাচনে এআই&#45;এর অপব্যবহার </title>
<link>https://digibanglatech.news/166399</link>
<guid>https://digibanglatech.news/166399</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202602/image_870x580_69841c7916389.jpg" length="79078" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 05 Feb 2026 00:31:30 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যেমন আমাদের জীবনে অনেক সুবিধা এনে দিচ্ছে, তেমনি তৈরি করছে নতুন নতুন হুমকিও ।</p>
<p>নির্বাচন যেহেতু সন্নিকটে, তাই সম্প্রতি এর কিছু অপব্যবহার পরিলক্ষিত হচ্ছে। নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসবে ততই এই মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। বিগত দিনের নির্বাচনেও এআই এর অপব্যবহার হয়েছিল। কিন্তু সেটার ব্যবহার ছিল খুব কম। এখন যেহেতু মানুষের হাতে হাতে স্মার্টফোন এবং এআই ভিত্তিক চ্যাটবট যে কেউ ব্যবহার করতে পারে; তাই এর অপব্যবহার নিয়ে চিন্তা করার সময় এসেছে।</p>
<p>নির্বাচন আসলেই  তৈরি করা হয় নতুন নতুন গুজব। নতুন নতুন বট একাউন্টের আবির্ভাব হয়। ফলে ভুলতথ্য ও অপতথ্যের ছড়াছড়ি এখন সোশাল মিডিয়াগুলোতে।  এর সাথে যুক্ত হয়েছে এআই ভিত্তিক ডিফফেইক ভিডিও, অডিও ও ছবির ব্যবহার। </p>
<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে মিথ্যাকে সত্য বানিয়ে দেয়া একটা প্রযুক্তির নাম হলো ডিফফেইক। এর কারসাজিতে হুবুহু অন্যের মুখাবয়ব ব্যবহার করে খুব বাস্তবসম্মত ভিডিও ও ছবি তৈরি করা সম্ভব- যা আসল মানুষের মতোই দেখায়। সাধারনত রাজনৈতিক, সামাজিক, বা ব্যক্তিগত কাজে এটি ব্যবহৃত হয়ে থাকে।</p>
<p>ডিফফেইকের বেশি ব্যবহার হয়ে থাকে পর্নোগ্রাফিতে, যা সেলিব্রেটিদেরকে টার্গেট করে করা হয়। নির্বাচনে প্রার্থীর মুখাবয়ব বা কণ্ঠ ব্যবহার করে ভুয়া বক্তব্য বানিয়ে ছড়িয়ে দেয়া, কোনো প্রার্থীর নামে সহিংসতা উসকে দেওয়ার ভিডিও তৈরি করে ছড়িয়ে দেয়ার শঙ্কা রয়েছে। এগুলো ভোটের আগে ছড়িয়ে দিলে এতে মানুষ বেশি বিভ্রান্ত হবে। ফলে নির্বাচনের আগের ২৪–৪৮ ঘণ্টা সবচেয়ে বিপজ্জনক।</p>
<p>এআই দিয়ে হাজার হাজার ভুয়া নিউজ, পোস্ট, ব্লগ বানানো যাচ্ছে সহজে ও দ্রততার সঙ্গে। নির্বাচনের পূর্বে ভোট বাতিল, নির্বাচন স্থগিত বা অমুক প্রার্থী নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছে এমন গুজব ছড়াতে এআই ব্যবহার করা হচ্ছে এবং হবে। ইতিমধ্যে সোশাল মিডিয়াগুলোতে বিভিন্ন বট একাউন্ট ও ভুয়া পেইজের ছড়াছড়ি দেখা যাচ্ছে। এইসব বট একাউন্ট দিয়ে প্রতিপক্ষকে খারাপ ভাবে উপস্থাপন, বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। এক পক্ষকে ভালোভাবে উপস্থাপন ও অন্য পক্ষকে খারাপভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।</p>
<p>নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে এর মাত্রাটা আরো বৃদ্ধি পাবে এছাড়া এআই দিয়ে হাজার হাজার ভুয়া রিভিউ বা কমেন্ট তৈরি করা হচ্ছে যা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে সব জায়গায় জনমতকে প্রভাবিত করার প্রয়াস চালানো হচ্ছে। কে বেশি জনপ্রিয় এবং কোন দল কত ক্ষমতায় আসবে, কত পার্সেন্ট ভোট পাবে তা ভুয়া বট একাউন্ট দিয়ে তৈরি করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে। </p>
<p><strong>সরকার এবং নির্বাচন কমিশনের করণীয়ঃ </strong><br>এআই হতে পারে নির্বাচনের সহায়ক প্রযুক্তি। কিন্তু নিয়ন্ত্রণ না থাকলে এটি হয়ে উঠবে গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। এআই এর অপব্যবহার রোধে সরকার এবং নির্বাচন কমিশন উল্লেখিত পদক্ষেপ গুলো অনুসরণ করতে পারে। </p>
<p>নির্বাচনের সময় সন্দেহজনক,ভুয়া,ফেইক কনটেন্ট দ্রুত নামানোর জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম যেমন, ফেইসবুক, এক্স, ইনস্ট্রাগ্রাম  ও ইউটিউবের মতো প্লাটফর্মগুলোর সাথে একটি সমঝোতা চুক্তি করা আবশ্যক। </p>
<p>নির্বাচন কমিশনের অধীনে ডিপফেইক শনাক্ত করার টুল ও বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যেমে একটা সেন্ট্রাল ইউনিট গঠন করা দরতার; যারা ২৪/৭ দেশের সাইবা আকাশ পর্যবেক্ষণ করবে। </p>
<p>ভুয়া এআই ভিত্তিক কনটেন্ট ছড়ালে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে এআই ব্যবহার সংক্রান্ত স্পষ্ট আইন ও নীতিমালা তৈরি করতে হবে। </p>
<p>গুজব শনাক্ত করতে দ্রুত ফ্যাক্ট-চেকিং সিস্টেম থাকা এবং অনলাইন ভিত্তিক সচেতনতা তৈরি করতে হবে। </p>
<p>ভোটারদের সচেতনতা তৈরি করতে ডিপফেইক ভিডিও কিভাবে চিনবেন সেই বিষয়ক ক্যাম্পেইন তৈরি করা এবং বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে প্রচার করা। </p>
<p>নির্বাচন কমিশনের সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য "কোড অব কন্ডাক্ট" থাকা এবং এআই অপব্যবহার না করার লিখিত অঙ্গীকার করা। </p>
<p>এআই এর অপব্যবহার রোধে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে, নির্বাচনের আগে ও পরে যে কোন সময়ে যে কোনো ধরনের অনাকাংখিত পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই, এআই এর সঠিক ব্যবহার জানুন, সচেতন থাকুন, নিরাপদ থাকুন।  </p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ </strong>সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, সাইবার ক্যানিয়ন; "AI প্রযুক্তির হাতে খড়ি" বইয়ের লেখক। </p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>মাঠের মাইক নয়, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেই নির্ধারিত হচ্ছে নেতৃত্ব</title>
<link>https://digibanglatech.news/162762</link>
<guid>https://digibanglatech.news/162762</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202601/image_870x580_6958cf718a11e.jpg" length="99083" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 03 Jan 2026 12:13:15 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p class="MsoNormal" style="text-align: justify;"><span style="font-size: 14.0pt; line-height: 107%; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">বর্তমানে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী একজন প্রার্থী ভোটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে পারেন। এই সীমাবদ্ধতা খুব স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয়</span><span style="font-size: 14.0pt; line-height: 107%; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">- </span><span style="font-size: 14.0pt; line-height: 107%; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">রাজনীতিতে বিশাল বিশাল পোস্টার, লাগামহীন মাইকিং কিংবা ব্যয়বহুল শোভাযাত্রার যুগ ধীরে ধীরে শেষের পথে। বদলে যাচ্ছে প্রচারের ভাষা ও কৌশল। এই নতুন বাস্তবতা আমাদের শেখায়, রাজনীতিতে জয়ের চাবিকাঠি আর অর্থের জোরে নয়; বরং নির্ভুল পরিকল্পনা, বুদ্ধিদীপ্ত বার্তা আর সৃজনশীল যোগাযোগই এখন আসল শক্তি। <span style="mso-spacerun: yes;"> </span><o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="text-align: justify;"><span style="font-size: 14.0pt; line-height: 107%; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">ডিজিটাল প্রযুক্তি সেই শক্তিকেই সহজ করে দিয়েছে। অল্প খরচে, স্বল্প সময়ে এবং কোনো মধ্যস্থতা ছাড়াই একজন প্রার্থী এখন সহজেই সরাসরি পৌঁছে যেতে পারেন হাজারো ভোটারের কাছে তার হাতে থাকা মোবাইল ফোনে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="text-align: justify;"><span style="font-size: 14.0pt; line-height: 107%; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো বার্তা, ছোট ভিডিও ক্লিপ বা প্রার্থীর নিজের কণ্ঠে ভোট চাওয়ার অডিও বার্তা</span><span style="font-size: 14.0pt; line-height: 107%; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">- </span><span style="font-size: 14.0pt; line-height: 107%; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">এই ছোট ছোট উদ্যোগ যেমন একদিকে পরিবেশ নষ্ট না করে পোস্টারভরা দেয়ালের চেয়েও বেশি প্রভাব ফেলে। আবার অন্যদিকে এসব পদ্ধতি কম খরচে ভোটারকে অনেক বেশি আকৃষ্ট করতে পারে। অনেক সময় প্রার্থীর নিজস্ব কণ্ঠের বার্তাই ভোটারের মনে আলাদা প্রভাব ফেলে। কারণ এখানে শব্দ নয়, পৌঁছায় মানুষ; স্লোগান নয়, পৌঁছায় অনুভূতি। ডিজিটাল যোগাযোগ তাই আজ কেবল বিকল্প নয়, আধুনিক রাজনীতির সবচেয়ে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত হাতিয়ার। <span style="mso-spacerun: yes;"> </span><o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><b><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম:-</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';"><span style="font-family: Times New Roman, serif;"> </span></span></b><b><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">শুধু প্রচারণার নয়, সংলাপেরও জায়গা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">আজকের দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রাজনৈতিক যোগাযোগের বিলাসিতা নয়, বরং প্রয়োজন। ফেসবুক, এক্স (টুইটার), ইউটিউব বা টিকটক</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';"> </span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">সবকিছুই হতে পারে জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সংযোগ সেতু।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">২০০৮ ও ২০১২ সালের মার্কিন নির্বাচনে বারাক ওবামার ডিজিটাল ভোটার ক্যাম্পেইনের কৌশল বাংলাদেশের নির্বাচনী পরিবেশেও প্রাসঙ্গিক। দেশে আজকের তরুণ ভোটাররা ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক বা ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে খবর এবং রাজনৈতিক তথ্য গ্রহণ করে। একজন প্রার্থী যদি এদের কাছে সরাসরি পৌঁছাতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করেন</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">- </span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">যেমন ফেসবুক লাইভ, ছোট ভিডিও বার্তা, বা এসএমএসের মাধ্যমে নির্বাচনী বার্তা তাহলে কম খরচে, সীমিত সময়ে বেশি ভোটারের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন সম্ভব। স্থানীয় ভোটারদের জন্য ছোট, এলাকার ভাষায় তৈরি ভিডিও বা অডিও বার্তা প্রেরণ করলে মানুষের সঙ্গে ব্যক্তিগত সংযোগ তৈরি হয়, যা প্রচারণার কার্যকারিতা অনেক বৃদ্ধি করে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">প্রার্থীর নিজের কণ্ঠে বলা ছোট বার্তা</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">- </span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">কেন তিনি দাঁড়িয়েছেন, কীভাবে তিনি এলাকার সমস্যাগুলো দেখছেন-</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';"> </span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">এটি এসএমএস বা মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া গেলে ভোটারের সঙ্গে এক ধরনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়। অনেক সময় সেই কণ্ঠের আন্তরিকতাই সিদ্ধান্ত বদলে দিতে পারে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">ডিজিটাল জরিপ ও অনলাইন ফর্ম ব্যবহার করে ভোটারদের মতামত নেওয়াও বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিশেষ গুরুত্ব রাখে। প্রার্থীরা ছোট প্রশ্নমালা, এসএমএস ভোট বা ফেসবুক পোলের মাধ্যমে জনগণের ভাবনা ও চাহিদা সংগ্রহ করতে পারেন। এতে ভোটাররা অনুভব করেন</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';"> </span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">প্রার্থী শুধু কথা বলছেন না, তারা তাদের কথাও শুনছেন। এই অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া ইশতেহার তৈরি বা রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে প্রতিফলন আনে। যে নেতা এই ডিজিটাল অংশগ্রহণকে কাজে লাগাতে পারেন, তার প্রতি মানুষের আস্থা ও সমর্থন অনেক বেশি বৃদ্ধি পায়।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><b><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">সহজ ভাষা, আন্তরিকতা ও </span></b><b><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">এটাই কার্যকর রাজনীতি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">রাজনৈতিক ভাষণ যত ভারী শব্দে বোঝাই হয়, মানুষের মন তত দ্রুত সরে যায়। সাধারণ মানুষ চায় নিজের জীবনের সঙ্গে মিল আছে</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';"> </span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">এমন কথা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনে জোহরান মামদানি তার বক্তৃতায় রাজনীতির জটিল হিসাব না কষে তিনি গল্প বলেছেন। সেই গল্পে ছিল একজন শ্রমজীবী মানুষ, একজন শিক্ষার্থী, কিংবা একটি পরিবারের সংগ্রাম। ফলে ভোটাররা শুধু রাজনীতির কথা শোনেন নায়, তারা তাদের নিজেদের অবস্থানসমূহ অনুভব করতে পেরেছেন।<span style="mso-spacerun: yes;">  </span><o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">এই জায়গাটিতেই ডিজিটাল মাধ্যম রাজনীতিকে নতুন শক্তি দিতে পারে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে গল্প বলা সহজ, দ্রুত এবং প্রভাবশালী। একজন প্রার্থী চাইলে ফেসবুক বা ইউটিউবে দুই মিনিটের একটি ভিডিওতে একজন কৃষকের ক্ষতির গল্প তুলে ধরতে পারেন</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';"> </span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">কেন সেচের দাম বেড়েছে, কীভাবে বাজার ব্যবস্থার দুর্বলতায় তিনি ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। একইভাবে তরুণদের কর্মসংস্থানের প্রশ্নে লম্বা ভাষণের বদলে একটি ছোট ভিডিও বা রিলেই বলা যায়</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">- </span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">একজন বেকার গ্র্যাজুয়েট কীভাবে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে, আর রাষ্ট্রীয় নীতিতে কোথায় সহায়তা দরকার।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">লাইভ ভিডিও বা স্টোরির মাধ্যমে সরাসরি কথা বলার সুযোগ ডিজিটাল মাধ্যমের বড় শক্তি। প্রার্থী যখন নিজের মোবাইল ফোনে ক্যামেরা চালু করে সাধারণ ভাষায় বলেন</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">- </span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">“আপনাদের সমস্যাগুলো আমি শুনছি”</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">- </span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">তখন সেটি পোস্টারের চেয়ে অনেক বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়। এখানে কোনো স্ক্রিপ্টেড বক্তব্য নয়, বরং স্বাভাবিক কথোপকথনই মানুষকে টানে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><b style="mso-bidi-font-weight: normal;"><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রশ্ন-উত্তরই আধুনিক নেতৃত্বের পরিচয়<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর টাউন হল মিটিং শুধু একটি সভা নয়</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';"> </span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">এটি ছিল জনগণের সঙ্গে রাষ্ট্রের সরাসরি সংযোগের একটি কার্যকর মডেল। সেখানে নাগরিকরা নির্ভয়ে প্রশ্ন করতে পেরেছেন, আবার সরকারও দায়িত্বশীলভাবে জবাব দিয়েছে। এই পারস্পরিক সংলাপই সরকারের প্রতি মানুষের আস্থা দৃঢ় করেছিল।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">বাংলাদেশের বাস্তবতায় একই ধরণের “জনসংলাপ দিবস” চালু করা এখন আর কঠিন কিছু নয়। সময় ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেকের পক্ষে সরাসরি উপস্থিত থাকা সম্ভব না হলেও, ডিজিটাল মাধ্যম সেই বাধা সহজেই ভেঙে দিতে পারে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">ফেসবুক লাইভ হতে পারে ডিজিটাল জনসংলাপের সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম। নির্দিষ্ট দিনে ও সময়ে জনপ্রতিনিধি লাইভে এসে এলাকার সমস্যা, চলমান উন্নয়ন প্রকল্প বা নাগরিক সেবার অগ্রগতি নিয়ে কথা বলতে পারেন। একই সঙ্গে কমেন্ট বক্স থেকে প্রশ্ন নেওয়া বা আগে থেকে সংগ্রহ করা প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যেতে পারে। এতে মানুষ সরাসরি যুক্ত থাকার সুযোগ পায়, আবার নেতার কাছ থেকেও তাৎক্ষণিক জবাব পায়। জনগণ তখন বুঝতে পারে</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';"> </span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">তাদের কথা গুরুত্ব পাচ্ছে। এই অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতিই আধুনিক রাজনৈতিক যোগাযোগের ভিত্তি।<span style="mso-spacerun: yes;">  </span><span style="mso-spacerun: yes;"> </span><o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><b style="mso-bidi-font-weight: normal;"><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">মানবিক উপস্থিতি: ডিজিটাল মাধ্যমেও সহানুভূতির প্রকাশ সম্ভব<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">কখনো কখনো একটি মানবিক আচরণ হাজার বক্তৃতার চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে। নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জেসিন্ডা আরডার্ন ২০১৯ সালের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদ হামলার পর যেভাবে মুসলিম সম্প্রদায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তা শুধু মাঠের উপস্থিতিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';"> </span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">তার বক্তব্য, ছবি ও বার্তা ডিজিটাল মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বব্যাপী মানুষের হৃদয় ছুঁয়েছিল।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বন্যা, অগ্নিকাণ্ড বা দুর্ঘটনার সময় নেতাদের তাৎক্ষণিক ডিজিটাল আপডেট</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';"> </span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">ফেসবুক লাইভ, সংক্ষিপ্ত ভিডিও বার্তা কিংবা নিজ কণ্ঠে দেওয়া অডিও বার্তা</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';"> </span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">মানুষকে আশ্বস্ত করতে পারে। তবে শর্ত একটাই: এই উপস্থিতি যেন ক্যামেরার জন্য না হয়, মানুষের জন্য হয়। ডিজিটাল মাধ্যম এখানে সহানুভূতির বাহক হতে পারে, প্রদর্শনের নয়।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">সহজ ভাষা আর আন্তরিক কথাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ডিজিটাল মাধ্যম সবচেয়ে কার্যকর মঞ্চ। যে নেতা এই শক্তিকে বুঝে ব্যবহার করতে পারবেন, তাঁর কথা কাগজে বা ডিজিটাল ডিভাইসে আটকে থাকবে না</span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">, </span><span style="font-size: 14.0pt; font-family: SutonnyOMJ; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman';">মানুষের মনে জায়গা করে নেবে। <o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in; text-align: justify;"><span style="font-size: 14.0pt; line-height: 107%; font-family: SutonnyOMJ;"><o:p> </o:p></span></p>
<hr>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in; text-align: justify;"><span style="font-size: 14.0pt; line-height: 107%; font-family: SutonnyOMJ;"></span><span style="font-size: 14.0pt; line-height: 107%; font-family: SutonnyOMJ;">লেখক: <b style="mso-bidi-font-weight: normal;">এইচ. এম. ইমাম হাসান; </b><o:p></o:p></span><span style="font-size: 14.0pt; line-height: 107%; font-family: SutonnyOMJ;">ডেপুটি ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশনস), <o:p></o:p></span><span style="font-size: 14.0pt; line-height: 107%; font-family: SutonnyOMJ;">বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)</span></p>
<hr>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in; text-align: justify;"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বেগম জিয়ার টেক&#45;বিপ্লব: সাবমেরিন ক্যাবল থেকে রাবার ড্যামের ইতিকথা</title>
<link>https://digibanglatech.news/162382</link>
<guid>https://digibanglatech.news/162382</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202512/image_870x580_6953962dc0599.jpg" length="120647" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 30 Dec 2025 14:00:18 +0600</pubDate>
<dc:creator>এস এম ইমদাদুল হক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশের উন্নয়ন ইতিহাসে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সংযোজন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং তা ছিল দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ফসল। বেগম খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রিত্বের সময়কাল (১৯৯১-৯৬ এবং ২০০১-০৬) ছিল বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞানচর্চায় এক সন্ধিক্ষণ। তার শাসনামলেই কৃষিতে প্রকৌশল ও প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়। ১৯৯৫ সালে কক্সবাজার জেলার বাকখালি নদীর ওপর রাবার ড্যাম স্থাপন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি বাঁক বদলের ঘটনা।</p>
<p>একইভাবে আইসিটিকে থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে ঘোষণা করা, সাবমেরিন ক্যাবল সিমিউই-৪ এ যুক্ত হওয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, রাষ্ট্রীয় মোবাইল কোম্পানি টেলিটক গঠন, দেশের প্রথম হাই-টেক পার্কের জন্য গাজীপুরের কালিয়াকৈরে জায়াগা দেয়ার কাজটিও তার শাসনামলেই হয়েছিলো। আজকের বঙ্গন্ধু নভোথিয়েটার ও বিজ্ঞান জাদুঘরও বেগম খালদা জিয়ার অবদান। এভাবেই  স্মৃতির জানালা খুললে নব্বইয়ের দশক আর দুই হাজার সালের শুরুর দিকটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামল ছিল মূলত বাংলাদেশের একটি 'ট্রানজিশন পিরিয়ড'—এনালগ থেকে ডিজিটালের পথে পা বাড়ানোর সময়। একজন সংবাদকর্মী হিসেবে আমি দেখেছি, কীভাবে প্রতিটি সেক্টরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ছোঁয়া দিয়ে একটি আধুনিক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ার চেষ্টা করা হয়েছে। আজ আমরা যে ‘ডিজিটাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ দেখি, তার ভিত্তি ছিল ২০০২ সালের আইসিটি নীতিমালা। একইভাবে ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও স্বচ্ছ ব্যালট বক্সের ব্যবহারের পাশাপাশি নির্বাচনী তথ্য ব্যবস্থাপনায় কম্পিউটারের ব্যবহার শুরু হয়। এভাবেই  বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে এবং একবিংশ শতাব্দীর প্রারম্ভে তাঁর নেওয়া কিছু সাহসী সিদ্ধান্ত স্বনির্ভর বাংলাদেশের শক্তিশালী ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিল।</p>
<p><br><strong>সাবমেরিন ক্যাবল ও ইন্টারনেটের মহাবিপ্লব</strong><br>আজ আমরা যে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করছি, তার সূচনা হয়েছিল ২০০৬ সালের ২১ মে। বেগম জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকার অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়ামে (SEA-ME-WE 4) যুক্ত করে। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশ তথ্যপ্রযুক্তির বিশ্বমহাসড়কে প্রবেশ করে, যা ছিল জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ার সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। মনে পড়ে- ২০০৬ সালের সেই দিনটির কথা, যখন কক্সবাজারে সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশনের উদ্বোধন হলো। অনেক সমালোচক তখন বলেছিলেন এই বিশাল বিনিয়োগ অপচয়। কিন্তু আজ যখন দেখি ফ্রিল্যান্সিং করে আমাদের তরুণরা বিলিয়ন ডলার আয় করছে, তখন স্পষ্ট বোঝা যায় সেই সিদ্ধান্তটি কতটা সময়োপযোগী ছিল।  আমার মনে পড়ে ২০০৩ সালের একটি সংবাদ সম্মেলনের কথা। সেখানে বেগম জিয়া বলেছিলেন, ‘আমাদের তরুণদের হাত আজ মাটির লাঙল থেকে কম্পিউটারের কি-বোর্ডে চলে এসেছে, এটাই বড় সার্থকতা।’সেই সময়ে তাঁর সরকার সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হওয়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, তা ছিল মূলত একটি ‘ল্যান্ডলকড’ দেশকে বিশ্বের ডেটা হাইওয়ের সাথে জুড়ে দেওয়া।</p>
<p><br><strong>টেলিযোগাযোগ খাতের উদারীকরণ</strong><br>দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে জনপরিসরে বেতার যোগাযোগ ছড়িয়ে দিতে মোবাইল ফোনের একচেটিয়া বাজার ভেঙে সাধারণ মানুষের হাতে ফোন পৌঁছে দেওয়ার প্রক্রিয়াটা শুরু হয়েছিলো নব্বইয়ের দশকে। বেগম খালেদা জিয়ার ২০০১-০৬ মেয়াদে তা পূর্ণতা পায়। ২০০৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর বিটিটিবি বি-মোবাইল থেকে টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেড গঠন করা হয়। এর পর থেকেই বেসরকারি অপারেটরদের প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সুযোগ সৃষ্টি হয়। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। তৎকালীন বিটিটিবি-কে (বর্তমানে বিটিসিএল) এনালগ এক্সচেঞ্জ থেকে ডিজিটাল এক্সচেঞ্জে রূপান্তর করা হয়। বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে বিজ্ঞানের প্রতি এই বিশেষ গুরুত্ব প্রদান কেবল প্রযুক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং একটি পুরো প্রজন্মকে আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার স্বপ্ন দেখিয়েছিল। ইতিহাসের পাতায় তাঁর এই উদ্যোগগুলো জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার মাইলফলক হিসেবেই গণ্য হবে।</p>
<p><strong>আইটি সেক্টরকে ‘থ্রাস্ট সেক্টর’ ঘোষণা : কলমের বদলে কম্পিউটার </strong><br>২০০১ পরবর্তী মেয়াদে আইটি সেক্টরকে 'থ্রাস্ট সেক্টর' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ওই সময়ে হার্ডওয়্যার সহজলভ্য করতে শুল্ক কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়, যার ফলে মধ্যবিত্তের নাগালে আসে কম্পিউটার। এটি ছিল একটি প্রজন্মকে 'ডিজিটাল লিটারেট' করার প্রথম ধাপ। অপরদিকে একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে বিশেষায়িত শিক্ষার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর শাসনামলে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ ত্বরান্বিত হয়। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে বিজ্ঞান শিক্ষা ছড়িয়ে দিতে তাঁর সরকার ব্যাপক ভূমিকা রাখে। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে বেগম জিয়া প্রাথমিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করেন। কিন্তু তাঁর আসল দূরদর্শিতা ছিল প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (S&amp;T Universities) উচ্চশিক্ষায় বিপ্লব ঘটাতে তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কাজ ত্বরান্বিত করেন। মাধ্যমিক পর্যায়ে কম্পিউটার শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করার সাহসী পদক্ষেপ তাঁর আমলেই নেওয়া হয়। কম্পিউটার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি ২০০১-০৬ মেয়াদে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বিশেষ বৃত্তি এবং মেধাবীদের জন্য ল্যাপটপ প্রদানের ধারা শুরু হয়। তার সময়ে দশম শ্রেণী পর্যন্ত মেয়েদের অবৈতনিক শিক্ষা এবং উপবৃত্তি চালু করা ছিল বিশ্বের কাছে একটি মডেল। এর ফলে শিক্ষিত নারীরা কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের সুযোগ পান, যা পরোক্ষভাবে আইটি সেক্টরে নারী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে।একইভাবে বিসিক (BSCIC) এর মাধ্যমে নারীদের বিজ্ঞান ও কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হয়।</p>
<p>এছাড়াও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে ঢাকার বিজয় সরণিতে ২০০৪ সালের ২৫শে সেপ্টেম্বর স্থাপিত হয় অত্যাধুনিক ‘ভাসানী নভোথিয়েটার’ (যা পরবর্তীতে নাম পরিবর্তন হয়)। মহাকাশ বিজ্ঞান চর্চায় এটি ছিল তৎকালীন সময়ে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক স্থাপনা। এছাড়া জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘরকে আধুনিকায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয় তাঁর সময়েই। এর আগে ২০০২ সালে প্রথম বারের মতো একটি সমন্বিত ‘জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নীতিমালা’ প্রণয়ন করা হয়। এছাড়া গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দেশের প্রথম হাই-টেক পার্কের প্রাথমিক পরিকল্পনা ও জমি বরাদ্দের কাজ তাঁর সরকারের আমলেই গতি পায়।</p>
<p><strong>শিল্প ও অর্থনীতি: রপ্তানিমুখী প্রযুক্তায়ন</strong><br>বাংলাদেশের প্রথম রপ্তানি খাত হিসেবে তৈরি পোশাক শিল্পের আধুনিকায়নে এই খাতে অত্যাধুনিক কম্পিউটারাইজড ডিজাইন ও প্রোডাকশন সিস্টেম আমদানিতে শুল্ক সুবিধা প্রদান করা হয়। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে কুমিল্লা, ঈশ্বরদী ও উত্তরা ইপিজেড প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নকে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়।</p>
<p><strong>সামরিক ও প্রতিরক্ষা: আধুনিক সমরশক্তির সূচনা</strong><br>দেশে চতুর্থ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান মিগ ২৯ যুক্ত করে প্রতিরক্ষা খাতে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনে বেগম জিয়ার ভূমিকা ছিল অনন্য।বাংলাদেশ বিমান বাহিনীকে আধুনিক করতে ১৯৯৯-২০০০ পরবর্তী সময়ে তাঁর সরকার রাশিয়ান MiG-29 এবং আধুনিক রাডার সিস্টেম সংযোজন করে আকাশসীমা সুরক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনে। নৌবাহিনীতে মিসাইল ফ্রিগেট ও অত্যাধুনিক যুদ্ধজাহাজ সংযোজনের মাধ্যমে 'ব্লু ইকোনমি' ও সমুদ্রসীমা রক্ষার সক্ষমতা বাড়ানো হয়। জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়াতে সেনাবাহিনীর যোগাযোগ ও লজিস্টিক শাখায় বিশ্বমানের প্রযুক্তি যুক্ত করা হয়।</p>
<p><strong>কৃষি-প্রকৌশলে নীরব বিপ্লব</strong><br>বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে কৃষিতে সবচেয়ে বড় প্রকৌশলগত চমক ছিল ‘রাবার ড্যাম’ (Rubber Dam) প্রযুক্তির সফল প্রবর্তন। এটি ছিল এমন এক পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবন, যা শুষ্ক মৌসুমে খরস্রোতা নদীর পানিকে আটকে রেখে মরুপ্রায় জমিকে শস্য-শ্যামল করে তুলেছিল। বিশেষ করে কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এই রাবার ড্যাম স্থাপনের মাধ্যমে হাজার হাজার হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়, যা ছিল কৃষি প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য মাইলফলক। তার শাসনামলে, ১৯৯৫ সালে প্রধান প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম নদীর তলদেশে বায়ুভর্তি বিশাল রাবার টিউব ব্যবহার করে বর্ষার পানি ধরে রাখা এবং শুষ্ক মৌসুমে তা সেচের কাজে ব্যবহারের এই পদ্ধতি বাংলাদেশের কৃষিতে গেম-চেঞ্জার হিসেবে প্রমাণিত হয়।<br>ওইসময় তৎকালীন এলজিইডি ভবনে বসে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রকৌশলী কামরুল ইসলাম সিদ্দিক একবার বলেছিলেন, ‘ম্যাডাম (বেগম জিয়া) আমাকে বলেছেন এমন কিছু করতে যা গ্রামের মানুষের পকেটে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেবে।’ সেই প্রেরণা থেকেই তিনি রাবার ড্যাম আর গ্রামীণ অবকাঠামোর এই বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছিলেন। </p>
<p>এভাবেই নিরবে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার কৃষিকে শিল্প হিসেবে গণ্য করে কৃষি যান্ত্রিকীকরণে বিপ্লব ঘটায়। পাওয়ার টিলার, সেচ পাম্প এবং আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি আমদানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের ফলে লাঙলের জায়গায় কম্পিউটারের মতো সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতির ছোঁয়া লাগে। তাঁর সময়েই বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (BRRI)-কে আধুনিকায়ন করা হয় এবং বিজ্ঞানীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে উচ্চফলনশীল ও প্রতিকূলতা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনে রেকর্ড সাফল্য আসে। মূলত, কৃষি গবেষণায় বিশেষ বরাদ্দ এবং প্রযুক্তির সহজলভ্যতার মাধ্যমেই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো খাদ্যে স্বনির্ভরতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছিল। </p>
<p>বেগম খালেদা জিয়ার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভাবনা কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প কেন্দ্রিক ছিল না, বরং তা ছিল একটি দীর্ঘমেয়াদী রূপকল্প। কৃষি- শিক্ষা থেকে শুরু করে প্রতিরক্ষা—প্রতিটি স্তরে প্রযুক্তির যে বীজ তিনি রোপণ করেছিলেন, আজকের উন্নয়নশীল বাংলাদেশ সেই মহীরুহেরই ফল। ইতিহাস তাঁকে একজন আপসহীন নেত্রী হিসেবেই কেবল মনে রাখবে না, সেই সাথে আধুনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা হিসেবেও তাঁর নাম অক্ষয় হয়ে থাকবে। </p>
<hr>
<p><strong>এস এম ইমদাদুল হকঃ</strong> নির্বাহী সম্পাদক, ডিজিবাংলাটেকডটনউজ</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>নতুন সরকারের অগ্রাধিকার: ডিজিটাল উন্নয়নকে রাষ্ট্রীয় কৌশলের কেন্দ্রবিন্দুতে স্থাপন</title>
<link>https://digibanglatech.news/162116</link>
<guid>https://digibanglatech.news/162116</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202512/image_870x580_695014567f619.jpg" length="143326" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 27 Dec 2025 23:17:38 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশ এখন একটি নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের দোরগোড়ায়। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সমগ্র দেশ রাজনীতি, নেতৃত্ব এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা নিয়ে ব্যস্ত আলোচনায় নিমগ্ন। কিন্তু নির্বাচনোত্তর সময়ে, একটি নির্বাচিত সরকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হবে — দেশের ডিজিটাল উন্নয়নকে অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করা এবং তা বাস্তবায়নের জন্য একটি সুসংগঠিত জাতীয় রূপরেখা প্রণয়ন করা।</p>
<p><strong>ডিজিটাল উন্নয়ন: নাগরিক প্রত্যাশা ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা</strong><br>বাংলাদেশে ডিজিটাল রূপান্তর আর কেবল প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, এটি এখন সামাজিক পরিবর্তনের এক অবিচ্ছেদ্য অনুষঙ্গ। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, প্রশাসন, শিল্প, এমনকি গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও তথ্যপ্রযুক্তি সাধারণ নাগরিকের জীবনধারায় গভীর প্রভাব ফেলেছে।</p>
<p>এ প্রেক্ষিতে, ডিজিটাল উন্নয়ন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, সামাজিক ন্যায়বিচার এবং মানবিক সক্ষমতা বৃদ্ধির অন্যতম চালিকা শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তাই নাগরিকদের প্রত্যাশা হলো—নতুন সরকার ডিজিটাল উন্নয়নকে জাতীয় পরিকল্পনা, নীতি ও বাজেট কাঠামোর কেন্দ্রীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করবে।</p>
<p>ডিজিটাল উন্নয়নের চারটি প্রধান স্তম্ভ<br>ডিজিটাল উন্নয়ন একক কোনো প্রকল্প নয়; বরং এটি একটি সামগ্রিক প্রক্রিয়া, যা চারটি পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত স্তম্ভের উপর দাঁড়িয়ে:<br>•    ডিজিটাল রূপান্তর: অর্থনীতি, সমাজ ও সরকারি সেবায় তথ্যপ্রযুক্তি, ডেটা ও উদ্ভাবনের সংযোজনের মাধ্যমে দক্ষতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি।</p>
<p>•    ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি: নারী, যুব, প্রবীণ, প্রতিবন্ধী এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সমান ডিজিটাল সুযোগ ও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা।</p>
<p>•    ডিজিটাল দায়িত্বশীলতা: সাইবার নিরাপত্তা, তথ্যের গোপনীয়তা, অনলাইন নৈতিকতা ও মানবাধিকারের সুরক্ষা।</p>
<p>•    ডিজিটাল টেকসইতা: পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো, দীর্ঘমেয়াদি নীতি এবং জলবায়ু-বান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার।</p>
<p><br>এই চারটি স্তম্ভ কেবল প্রযুক্তিগত নির্দেশনা নয়—এগুলো বাংলাদেশের সামাজিক চুক্তির নতুন রূপ, যেখানে রাষ্ট্র, বাজার ও নাগরিক সমাজ একসঙ্গে কাজ করবে “ ডিজিটাল জাতি”-এর পরবর্তী অধ্যায় নির্মাণে।</p>
<p><strong>নীতিগত প্রতিশ্রুতি ও কর্মপরিকল্পনা</strong><br>একটি নতুন সরকারের প্রথম দায়িত্ব হওয়া উচিত অগ্রাধিকার নির্ধারণের স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া। ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে ঘোষণা করতে হবে যে ডিজিটাল উন্নয়ন কেবল একটি খাত নয়, বরং এটি জাতীয় উন্নয়ন কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, সরকারের প্রথম ছয় মাসের মধ্যেই একটি মধ্যমেয়াদি ডিজিটাল উন্নয়ন রোডম্যাপ (Medium-Term Digital Development Roadmap) প্রণয়ন করতে হবে, যা জাতীয় পরিকল্পনা প্রক্রিয়া—বিশেষত “Perspective Plan” ও “Five-Year Plan”-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকবে।</p>
<p>এই রোডম্যাপের আওতায় ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়ন, ডেটা গভর্নেন্স, সাইবার নীতি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) ব্যবহার এবং ডিজিটাল অর্থনীতির সম্প্রসারণের জন্য স্পষ্ট সূচক ও দায়িত্ব নির্ধারণ করতে হবে।</p>
<p><strong>বৈশ্বিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য</strong><br>বাংলাদেশের ডিজিটাল উন্নয়ন পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ ও বৈশ্বিক নীতিনির্ভর কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা জরুরি। কারণ, আজকের ডিজিটাল রূপান্তর স্থানীয় নীতি দিয়ে নয়—বৈশ্বিক সমন্বয় ও প্রযুক্তিগত ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়।</p>
<p>১. The Pact for the Future (2024): ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মানবকেন্দ্রিক প্রযুক্তি ও টেকসই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করে।<br>২. WSIS+20 Review (World Summit on the Information Society): তথ্যসমাজ গঠনে ২০ বছরের অর্জনের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন দিগন্ত নির্ধারণ করে।<br>৩. UN Global Digital Compact (GDC): একটি উন্মুক্ত, নিরাপদ ও ন্যায্য ডিজিটাল ভবিষ্যতের জন্য বৈশ্বিক ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করে।<br>৪. Internet Governance Forum (IGF): বহুপক্ষীয় শাসনব্যবস্থার মাধ্যমে ইন্টারনেট নীতি, মানবাধিকার ও উন্নয়নকে সংযুক্ত করে।<br>৫. AI for Good Initiative: জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ও নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করে।<br>এই কাঠামোগুলো বাংলাদেশের জন্য শুধু নির্দেশনাই নয়—এগুলো আমাদের ডিজিটাল ভবিষ্যৎ গঠনের আন্তর্জাতিক নীতিনির্ভর পরিমাপক।</p>
<p><strong>বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কৌশলগত প্রয়োজন</strong><br>বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ভিত্তি স্থাপন করেছে। এখন সময় এসেছে ডিজিটাল ২.০ যুগে প্রবেশের, যেখানে রূপান্তর হবে “অ্যাক্সেস” থেকে “ক্ষমতায়ন”-এর দিকে।<br>•    স্থানীয় উদ্ভাবন ও যুব নেতৃত্ব: স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভাবন ও স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে জাতীয় পরিকল্পনায় সংযুক্ত করা।<br>•    ডিজিটাল শিক্ষা ও দক্ষতা: স্কুল-কলেজ পর্যায়ে কোডিং, রোবোটিকস, AI ও ডেটা লিটারেসি অন্তর্ভুক্ত করা।<br>•    ডিজিটাল সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার: অনলাইন সহিংসতা, তথ্যবিকৃতি ও গোপনীয়তা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে দৃঢ় আইনগত কাঠামো।<br>•    ডিজিটাল অর্থনীতি ও কর্মসংস্থান: ই-কমার্স, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ব্লকচেইনভিত্তিক সেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি।<br><br>ডিজিটাল উন্নয়ন এখন বাংলাদেশের জাতীয় অগ্রগতির অনিবার্য অংশ। এটি কেবল প্রযুক্তি নয়—এটি রাষ্ট্রীয় আধুনিকায়নের প্রতীক, জনগণের অংশগ্রহণের প্ল্যাটফর্ম, এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের মর্যাদা পুনর্নির্ধারণের হাতিয়ার।</p>
<p>একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, দায়িত্বশীল এবং টেকসই ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনের মধ্য দিয়েই নতুন সরকার জাতিসংঘ ঘোষিত “Leaving No One Behind” নীতির প্রকৃত প্রতিফলন ঘটাতে পারবে।</p>
<hr>
<p>এ এইচ এম. বজলুর রহমান: এমএসএস (সরকার ও রাজনীতি), এলএল.বি, ডিজিটাল গণতন্ত্র বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশের জন্য দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অ্যাম্বাসেডর | ceo@bnnrc.net |</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>&amp;apos;মাইন্ড রিডিং&amp;apos; প্রযুক্তি: বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা, নৈতিক সংকট এবং নীতি&#45;নির্ধারণের চ্যালেঞ্জ   </title>
<link>https://digibanglatech.news/161437</link>
<guid>https://digibanglatech.news/161437</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202512/image_870x580_69478e025e463.jpg" length="93778" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 21 Dec 2025 09:10:14 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p class="MsoNormal"><b>মনের গোপনীয়তা ভঙ্গের ভবিষ্যৎ<o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal">মানব মস্তিষ্ক—প্রায় ৮৬ বিলিয়ন নিউরনের জটিল নেটওয়ার্ক যে প্রতি সেকেন্ডে বিলিয়ন বিলিয়ন তথ্য প্রক্রিয়া করে—অবশেষে তার গোপনীয়তার প্রাচীর ভেঙে ফেলার মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ন্যানোপ্রযুক্তি এবং আধুনিক নিউরোইমেজিং-এর সমন্বয়ে 'মাইন্ড রিডিং' প্রযুক্তি আর বিজ্ঞান কল্পকাহিনী নয়; এটি একটি বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা যা ২০২৫ সালে মানব সভ্যতার জন্য গুরুতর নৈতিক, আইনি এবং নিরাপত্তা-নীতিগত প্রশ্ন উত্থাপন করছে।<o:p></o:p><o:p> </o:p></p>
<p class="MsoNormal">এই নিবন্ধটি মন পড়ার প্রযুক্তির ঐতিহাসিক বিকাশ, বৈজ্ঞানিক ভিত্তি, চিপ-ভিত্তিক ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস (BCI), ভাইরাল ভেক্টরের প্রয়োগ, সামরিক গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোগ এবং নীতি-নির্ধারণের প্রয়োজনীয়তা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করবে। আমরা শুধুমাত্র বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত তথ্য উপস্থাপন করব এবং স্পেকুলেটিভ ধারণা থেকে স্পষ্টভাবে পার্থক্য করব।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal"><b>ঐতিহাসিক বিবর্তন: ১২০ বছরের পথচলা<o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal">মন পড়ার প্রযুক্তির ইতিহাস ১৮৯৫ সালে জুলিয়াস এমনারের আবিষ্কারে শুরু হয়, যিনি দাবি করেছিলেন যে তার মেশিন চিন্তাকে "মানসিক ফোটোগ্রাফ" হিসেবে রেকর্ড করতে পারে। এমনার ফোনঅটোগ্রাফ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বিশ্বাস করতেন যে শব্দের তরঙ্গের মতো চিন্তাও রেকর্ড করা সম্ভব। যদিও তার আবিষ্কার বৈজ্ঞানিকভাবে<span style="mso-spacerun: yes;">  </span>ব্যর্থ হয়, এটি মানসিক প্রক্রিয়াকে পরিমাপের চেষ্টার প্রাথমিক দিক নির্দেশনা দেয়।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">আধুনিক যুগের সত্যিকারের ব্রেইন-রিডিং প্রযুক্তি শুরু হয় ২০০৬ সালে হেইনস এবং রিস-এর গবেষণার মাধ্যমে, যেখানে তারা মানব মস্তিষ্কের ক্রিয়াকলাপ থেকে মানসিক অবস্থা ডিকোড করতে সক্ষম হন। ২০১১ সালে নিশিমোটো এবং সহকর্মীরা প্রাকৃতিক চলচ্ছবি থেকে উদ্দীপিত মস্তিষ্ক ক্রিয়াকলাপ থেকে দৃশ্য অভিজ্ঞতা পুনর্নির্মাণে বিষ্ময়কর সাফল্য অর্জন করেন। এই গবেষণায় দেখানো হয় যে fMRI ডেটা ব্যবহার করে জেনারেটিভ মডেল দিয়ে মানুষ দেখছে এমন দৃশ্যের অনুমানযোগ্য পুনর্নির্মাণ সম্ভব।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal"><b>বৈজ্ঞানিক ভিত্তি: মস্তিষ্ক থেকে সিগ্নাল ডিকোডিং<o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal">মন পড়ার প্রযুক্তির মূল নীতি হলো নিউরাল সিগ্নালের পরিমাপ এবং ডিকোডিং। মানব মস্তিষ্ক প্রতিটি চিন্তা, ইচ্ছা এবং সচেতন অভিজ্ঞতার জন্য বৈদ্যুতিক এবং রাসায়নিক সংকেত উৎপন্ন করে। এই সিগ্নালগুলো ধরতে বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়:<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">১. ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাফি (EEG): মাথার তালুতে ইলেকট্রোড স্থাপন করে ব্রেইনওভের তরঙ্গ রেকর্ড করা হয়। EEG-র সময় রেজোলিউশন উচ্চ হলেও স্থানিক রেজোলিউশন নিম্ন হয় কারণ খুলি সিগ্নালকে দুর্বল করে দেয়। ২০২৪ সালে Li এবং সহকর্মীরা গাইডেড ডিফিউশন মডেল ব্যবহার করে EEG এম্বেডিং থেকে দৃশ্য ডিকোডিং-এ গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি দেখিয়েছেন।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">২. কার্যকরী চৌম্বকীয় অনুরণন ইমেজিং (fMRI): মস্তিষ্কের রক্ত প্রবাহের পরিবর্তন মাপে যা সক্রিয় নিউরনের কার্যকলাপ নির্দেশ করে। Gallant ল্যাবের গবেষণা দেখায় যে fMRI থেকে প্রাকৃতিক চিত্র সনাক্ত করা সম্ভব।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৩. ইলেকট্রোকর্টিকোগ্রাফি (ECoG): মস্তিষ্কের পৃষ্ঠায় সরাসরি ইলেকট্রোড স্থাপন করে উচ্চ রেজোলিউশন সিগ্নাল পাওয়া যায়। এটি আক্রমণাত্মক পদ্ধতি হলেও BCI-তে সবচেয়ে কার্যকর।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৪. Near-Infrared Spectroscopy (NIRS): Kernel-এর Flow সিস্টেমে ব্যবহৃত হয়, যা অধিকতর সুবিধাজনক কিন্তু কম রেজোলিউশন প্রদান করে।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal"></p>
<p class="MsoNormal"><b>চিপ-ভিত্তিক ব্রেইন-কম্পিউটার ইন্টারফেস: নিউরাল সুত্র এবং N1 চিপ<o:p></o:p></b><o:p> </o:p></p>
<p class="MsoNormal">আধুনিক মাইন্ড রিডিং প্রযুক্তির সবচেয়ে উন্নত রূপ হলো ইমপ্লান্টেবল চিপ-ভিত্তিক BCI। Neuralink-এর N1 চিপ ১,০০০+ অত্যন্ত সূক্ষ্ম থ্রেডে ৩,০০০+ ইলেকট্রোড বহন করে যা সরাসরি মস্তিষ্কের টিস্যুতে স্থাপন করা হয়। <o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">Neuralink চিপ সিগ্নাল বেতার প্রযুক্তিতে বাইরের প্রসেসরে পাঠায়, যেখানে AI ডিকোডিং করে। ২০২৪ সালে প্রথম মানব প্রতিস্থাপনের পর, ২০২৫ সালে তিনজন ব্যবহারকারী দৈনিক ভিডিও গেইম এবং ব্রাউজিং করছেন।<o:p></o:p><o:p> </o:p></p>
<p class="MsoNormal"><b>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং জেনারেটিভ মডেল: নিউরাল ডিকোডিংয়ের বিপ্লব<o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal"><o:p> </o:p>AI ছাড়া আধুনিক মাইন্ড রিডিং অকল্পনীয়। ২০২২ সালে নিশিমোটো এবং তার দল মানব মস্তিষ্ক ক্রিয়া থেকে উচ্চ-রেজোলিউশন চিত্র পুনর্নির্মাণে লেটেন্ট ডিফিউশন মডেল ব্যবহার করেন, যা Stable Diffusion-এর মতো টেক্সট-টু-ইমেজ সিস্টেমের অনুরূপ। এই পদ্ধতিতে:<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal"><o:p> </o:p>- fMRI স্ক্যান থেকে ব্রেইনের ভোক্সেল-ওয়াইজ রেসপন্স নেওয়া হয়<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">- ডিপ নিউরাল নেটওয়ার্ক এনকোডার ব্যবহার করে সিগ্নালকে লেটেন্ট স্পেসে ম্যাপ করা হয়<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">- ডিফিউশন মডেল চিত্র জেনারেট করে যা ব্রেইন অ্যাক্টিভিটি প্রতিফলিত করে<o:p></o:p><o:p> </o:p></p>
<p class="MsoNormal">২০২৪ সালে Koide-Majima এবং সহকর্মীরা মানসিক চিত্র পুনর্নির্মাণে ডিপ নিউরাল নেটওয়ার্ক-ভিত্তিক বায়েসিয়ান এস্টিমেশন ব্যবহার করেন, যা ৮৫%+ নির্ভুলতা অর্জন করে। Gilbert এবং Russo (২০২৪) সতর্ক করে বলেছেন যে AI-নিউরোটেক সমন্বয়ে "হাইপ এবং নৈতিক প্রভাব" মানব অধিকারের জন্য চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে।</p>
<p><img src="https://digibanglatech.news/uploads/images/202512/image_870x_69478f1b7dad0.jpg" alt=""></p>
<p class="MsoNormal"><b>বহুশাস্ত্রীয় প্রকৃতি: নিউরোসায়েন্স থেকে নীতি-নির্ধারণ<o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal">মাইন্ড রিডিং প্রযুক্তি নিঃসন্দেহে বহুশাস্ত্রীয়:<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">- নিউরোবায়োলজি: নিউরনের ক্রিয়া বোঝা<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">- পদার্থবিজ্ঞান: ইলেকট্রোম্যাগনেটিক সিগ্নাল প্রসেসিং<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">- কম্পিউটার সায়েন্স: ML/DL অ্যালগরিদম<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">- জৈবপ্রযুক্তি: ইমপ্লান্টেবল ডিভাইস<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">- নৈতিকতা: নিউরোরাইটস এবং গোপনীয়তা<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">- আইন: বুদ্ধিমত্তার অধিকার রক্ষা<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">এই সমন্বয়ে স্পষ্ট নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন, যা একক শাস্ত্র দিয়ে সম্ভব নয়।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal"><o:p> </o:p></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="text-decoration: underline;">কোম্পানি এবং বাণিজ্যিক বিকাশ: নির্ভরযোগ্য প্লেয়ার</span><o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal"><strong>২০২৫ সালে BCI বাজারে প্রধান কোম্পানিগুলো হলো:</strong><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">১. Neuralink (মূলধন $১ বিলিয়ন+): N1 চিপ, থ্রেড-ভিত্তিক ইমপ্লান্ট, মানব পরীক্ষা ২০২৪ থেকে।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">২. Synchron (মূলধন $১৪৫ মিলিয়ন): Stentrode™ এন্ডোভাসকুলার BCI, রক্তনালীর মাধ্যমে ইমপ্লান্ট, FDA প্রাথমিক অনুমোদন।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৩. Blackrock Neurotech (মূলধন $২০০ মিলিয়ন+): ৩০+ মানব ইমপ্লান্ট, Utah Array, ৯০ অক্ষর/মিনিট টাইপিং গতি।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৪. Paradromics (মূলধন $১০৫ মিলিয়ন): Connexus®, ১,৬০০ চ্যানেল, প্রথম মানব রেকর্ডিং ২০২৫।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৫. Precision Neuroscience (মূলধন $১০২ মিলিয়ন): Layer 7 Cortical Interface, ৪,০৯৬ ইলেকট্রোড।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৬. Kernel (মূলধন $১০০ মিলিয়ন+): ফাংশনাল নিয়ার-ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কপি, নন-ইনভেসিভ।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৭. Neurable: EEG-ভিত্তিক কনজিউমার ডিভাইস, MW75 Neuro হেডফোন।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৮. Beijing Xinzhida: চীনের নেতৃস্থানীয় BCI কোম্পানি, জাতীয় প্রকল্পে অংশ।<o:p></o:p><b><o:p> </o:p></b></p>
<p class="MsoNormal"><b>সামরিক প্রযুক্তি: DARPA-এর সিনথেটিক টেলিপ্যাথি<o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal">সামরিক অ্যাপ্লিকেশন সবচেয়ে উদ্বেগজনক। DARPA-এর Silent Talk প্রকল্প (২০০০-এর দশকের শুরু) সাবভোকাল স্পিচ ডিটেকশনের মাধ্যমে চিন্তা প্রেরণের চেষ্টা করে EEG-তে মুখ না খুলে কথা ভাবলে যে সিগ্নাল তৈরি হয়, তা মেশিন লার্নিং দিয়ে ডিকোড করার পরিকল্পনা ছিল। শুরুর দিকে ৬০-৭০% নির্ভুলতা পাওয়া গেলেও খুলির হস্তক্ষেপে সিগ্নাল দুর্বল হয়ে পড়ত।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">N3 (Next-Generation Nonsurgical Neurotechnology) প্রোগ্রাম বর্তমানে নন-ইনভেসিভ BCI-তে $১০৪ মিলিয়ন বিনিয়োগ করেছে, যা দূর থেকে মস্তিষ্ক পড়তে পারে এমন প্রযুক্তি গবেষণা করে। এটি সিনথেটিক টেলিপ্যাথি কথাটিকে<span style="mso-spacerun: yes;">  </span>বাস্তব করে তুলছে—সরাসরি মস্তিষ্ক থেকে<span style="mso-spacerun: yes;">  </span>মস্তিষ্কে<span style="mso-spacerun: yes;">  </span>বা ডিভাইসে চিন্তা প্রেরণ।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal"><o:p> </o:p></p>
<p class="MsoNormal"><b>নৈতিক সংকট এবং মানব সভ্য: ৫টি প্রধান ঝুঁকি<o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal">১. মানসিক গোপনীয়তা ভঙ্গ: Wolpe, Foster এবং Langleben (২০০৫) সতর্ক করেছেন যে নিউরোটেকনোলজি "মন পড়ার মেশিন" তৈরি করতে পারে, যা স্ব-অপরাধ প্রমাণের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। ব্রেইন ডেটা হ্যাক করা গেলে চিন্তা, স্মৃতি, ইচ্ছা চুরি যেতে পারে।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">২. নিউরোডিসক্রিমিনেশন: নিয়োগ, বীমা বা আদালতে BCI ডেটা ব্যবহার করে বৈষম্য হতে পারে। Gilbert এবং Russo (২০২৪) বলেছেন এটি "নিউরোরাইটস" এর অধীনে পড়ে।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৩. এজেন্সি এবং স্বাধীনতা হারানো: যদি বাহ্যিক সত্তা মস্তিষ্ককে নিয়ন্ত্রণ বা প্রভাবিত করতে পারে, তবে মানুষের স্বাধীন ইচ্ছা হুমকির মুখে পড়বে।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৪. সামরিক অপব্যবহার: DARPA প্রকল্পগুলো যদি অস্ত্রে রূপান্তরিত হয়, তবে দূরবর্তী মানসিক যুদ্ধ শুরু হতে পারে।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৫. জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি: বিদেশ থেকে মস্তিষ্ক হ্যাকিং হলে গুপ্তচরবৃত্তি এবং প্রভাব বিস্তার নতুন মাত্রা পাবে। তবে প্রযুক্তিগতভাবে এটি এখনও অসম্ভব কারণ প্রয়োজনীয় ইমপ্লান্ট ছাড়া দূরবর্তী হাই-রেজোলিউশন সিগ্নাল পাওয়া যায় না।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal"><o:p> </o:p></p>
<p><img src="https://digibanglatech.news/uploads/images/202512/image_870x_69478f1ccdddc.jpg" alt=""></p>
<p class="MsoNormal"><b>নীতিমালা এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা: ৮টি প্রস্তাব<o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal">১. আন্তর্জাতিক নিউরোটেকনোলজি ট্রিটি: জৈব অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তির আদর্শে মস্তিষ্ক-হ্যাকিং অস্ত্র নিষিদ্ধ করা।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">২. নিউরোরাইটস আইন: চিলি এবং স্পেনের মতো দেশ যেমন 'মানসিক গোপনীয়তা অধিকার' আইন করেছে, তেমনি জাতীয় আইন করা যেখানে ব্রেইন ডেটা সংগ্রহ, স্টোরেজ এবং ব্যবহারে স্পষ্ট সম্মতি প্রয়োজন।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৩. FDA এবং EMA গাইডলাইন: ইমপ্লান্টেবল BCI-র জন্য কঠোর নিরাপত্তা ও নৈতিক পর্যালোচনা বাধ্যতামূলক করা। Paradromics-এর মতো কোম্পানিকে প্রথম-in-human ট্রায়ালে নিরাপত্তা প্রমাণ করতে হয়েছে।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৪. টেলিকম নিয়ন্ত্রণ: রিমোট EEG মনিটরিং-এর জন্য এনক্রিপশন এবং ডেটা সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা। IntraNerve-এর মতো কোম্পানিকে HIPAA-সম্মত হতে হয়।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৫. সামরিক গবেষণা স্বচ্ছতা: DARPA প্রকল্পগুলোর নাগরিক নিরীক্ষণ বাড়ানো এবং অস্ত্রায়ণ রোধ করা।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৬. পাবলিক এডুকেশন: সাধারণ মানুষকে BCI-র সুফল ও ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা। <o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৭. আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা: ভূ-উপগ্রহ বা দূরবর্তী যন্ত্র ব্যবহার করে মস্তিষ্ক নজরদারি নিষিদ্ধ করা, যদিও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে সম্ভব - বিষয়টি গবেষনাপত্রে প্রকাশিত হয়নি। <o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">৮. অ্যাক্সেস ইকুইটি: BCI-র চিকিৎসা সুবিধা সবার জন্য সুলভ করা, যাতে প্রযুক্তিগত বৈষম্য না বাড়ে।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal"><b></b></p>
<p class="MsoNormal"><b>উপসংহার: বিজ্ঞানের দায়িত্ববোধ এবং মানবতার ভবিষ্যৎ<o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal">মাইন্ড রিডিং প্রযুক্তি ১২০ বছর পরে অবশেষে বৈজ্ঞানিক বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। Neuralink, Synchron এবং অন্যান্য কোম্পানি পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের জীবন বদলে দিচ্ছে। কিন্তু DARPA-এর সামরিক গবেষণা এবং AI-নিউরোটেক সমন্বয়ে উদ্বেগজনক নৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">চিলির ২০২১-এর সংবিধান সংশোধন যেমন "মানসিক অখণ্ডতা অধিকার" যুক্ত করেছে, তেমনি বিশ্বব্যাপী সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন। আমরা দাঁড়িয়ে আছি মুক্তির এবং ডাইস্টোপিয়ার সন্ধিক্ষণে। নীতি-নির্ধারকদের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে এই প্রযুক্তি মানবতার "সবচেয়ে বড় মুক্তি" নাকি "সবচেয়ে খারাপ দুঃস্বপ্ন" হবে।<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সুপারিশ: দেশে BCI গবেষণা শুরুর আগে নিউরোরাইটস আইন প্রণয়ন, চিকিৎসা প্রয়োগের জন্য FDA-সমমান নিয়ন্ত্রণ, এবং সামরিক ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ জরুরি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মানসিক গোপনীয়তা যুক্ত করা প্রয়োজন।<o:p></o:p></p>
<hr>
<p class="MsoNormal"><o:p> </o:p><b>লেখক: চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, সীবিচ৭৭ লিমিটেড</b></p>
<hr>
<p class="MsoNormal"><b>তথ্যসূত্র:<o:p></o:p></b></p>
<p class="MsoNormal">Haynes, J.-D., &amp; Rees, G. (2006). Decoding mental states from brain activity in humans. Nature Reviews Neuroscience, 7(7), 523–534. https://doi.org/10.1038/nrn1931<o:p></o:p><o:p> </o:p></p>
<p class="MsoNormal">Nishimoto, S., Vu, A. T., Naselaris, T., Benjamini, Y., Yu, B., &amp; Gallant, J. L. (2011). Reconstructing visual experiences from brain activity evoked by natural movies. Current Biology, 21(19), 1641–1646. https://doi.org/10.1016/j.cub.2011.08.031<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">Koide-Majima, N., Nishimoto, S., &amp; Majima, K. (2024). Mental image reconstruction from human brain activity: Neural decoding of mental imagery via deep neural network-based Bayesian estimation. Neural Networks, 170, 349–363. https://doi.org/10.1016/j.neunet.2023.11.024<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">Gilbert, F., &amp; Russo, I. (2024). Mind-reading in AI and neurotechnology: Evaluating claims, hype, and ethical implications for neurorights. AI and Ethics, 4(3), 855–872. https://doi.org/10.1007/s43681-024-00514-6<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">Wolpe, P. R., Foster, K. R., &amp; Langleben, D. D. (2005). Emerging neurotechnologies for lie-detection: promises and perils. The American Journal of Bioethics, 5(2), 39–49. https://doi.org/10.1080/15265160590923367<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">The Gaijin Wolfenstein. (2025). Synthetic telepathy: From military dreams to cyberpunk reality. Medium. https://medium.com/@thegaijin.wolfenstein/synthetic-telepathy-from-military-dreams-to-cyberpunk-reality-b851821775b2<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">Dana Foundation. (2024). fMRI: Still not a mind reader. https://dana.org/article/fmri-still-not-a-mind-reader/<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">Matsushima, S. K., et al. (2025). Adeno-associated virus expressing a blood-brain barrier. Journal of Clinical Investigation, 135(12), e180724. https://doi.org/10.1172/JCI180724<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">Naselaris, T., Prenger, R. J., Kay, K. N., Oliver, M., &amp; Gallant, J. L. (2009). Bayesian reconstruction of natural images from human brain activity. Neuron, 63(6), 902–915. https://doi.org/10.1016/j.neuron.2009.09.006<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">Ross Dawson. (2025). 9 leading brain-computer interface companies and their current and prospective products. https://rossdawson.com/futurist/companies-creating-future/leading-brain-computer-interface-companies-bci/<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">Spherical Insights. (2025). Top 10 companies leading the brain-computer interface market in 2025. https://www.sphericalinsights.com/blogs/top-10-companies-leading-the-brain-computer-interface-market-in-2025-key-players-statistics-future-trends-2024-2035<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">SpecialtyCare. (2025). EEG scan technology: Advanced brain imaging for assessment. https://specialtycareus.com/eeg-scan-technology-brain-imaging-assessment/<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">IntraNerve Neuroscience. (2025). Remote EEG monitoring &amp; cEEG monitoring services. https://www.intranerve.com/services/neurotelemetry-ceeg/</p>
<hr>
<p class="MsoNormal"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>কোডে লেখা একাত্তরঃ গেইমে মুক্তিযুদ্ধ ও বিজয়</title>
<link>https://digibanglatech.news/160948</link>
<guid>https://digibanglatech.news/160948</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202512/image_870x580_6940fd922c10b.jpg" length="126526" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 16 Dec 2025 00:34:26 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>একাত্তরের মহান মুক্তি যুদ্ধ ছিল অস্ত্রের। কিন্তু তার চেয়েও বড় ছিল চেতনার। আজ সেই চেতনার নতুন যুদ্ধক্ষেত্র ডিজিটাল বিশ্ব। ১৯৭১ তাই হাজারো মানুষের ছোট ছোট গল্পের জটিল মোজাইক। আজ সেই গল্পগুলো কেমন করে গেমে বদলে যাচ্ছে? পর্দার অন্দরেই কি আমরা ইতিহাসকে কেবল পপকর্ন-স্তরে ভোগ করছি, নাকি সত্যিকারভাবে তার গূঢ়তা ধারণ করাতে পারছি? এই লেখায় সেই তথ্য, সরকারি খরচ, কিছু আলোচিত গেইমের নাম ও নির্মাণ কাহিনি ও বিতর্ক-সব একসঙ্গে সেলাই করে বলার চেষ্টা করছি। </p>
<p>১৯৭১। বুটের আওয়াজ, রাইফেলের গর্জন, ভাঙা ট্রান্সমিটারের ভেতর দিয়ে ভেসে আসা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠ—এসব আজ ইতিহাসের পাতায় বন্দী। কিন্তু বিশ্ব যখন ইতিহাসকে নতুন করে বাঁচিয়ে রাখছে কম্পিউটার ও মোবাইল গেইমের মাধ্যমে, তখন প্রশ্ন জাগে—বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ কি সেই ডিজিটাল যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের জায়গা করে নিতে পেরেছে?</p>
<p>এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরতে হয় কয়েক দশক পেছনে, যখন দেশের গেইম ডেভেলপমেন্ট বলতে ছিল বিচ্ছিন্ন কিছু উদ্যোগ, সীমিত প্রযুক্তি আর সীমাবদ্ধ বাজার। সেই বাজারের দিকে তাকিয়ে নয়; শুরুটা হয়েছিলো হৃদয়ের গহীন থেকে। শুরুটা ‘অরুণোদয়ের অগ্নিসাক্ষী’ থেকে। </p>
<p>বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গেইমের ইতিহাস ঘাঁটলে প্রথমেই উঠে আসে ফার্স পার্সন শ্যুটার গেইম ‘অরুণোদয়ের অগ্নিশিখা’। এটি কোনো বড় বাণিজ্যিক সাফল্য ছিল না, কিন্তু ঐতিহাসিক গুরুত্ব ছিল অপরিসীম। দেশীয় প্রতিষ্ঠান সোম কম্পিউটারস লিমিটেড নিজস্ব থ্রিডি ইঞ্জিন ব্যবহার করে এই গেইমটি তৈরি করে।তিনটি ধাপে সাজানো এই গেইমে মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা, পাইরেসি আর বাজারের অনীহার কারণে এটি থেমে গেলেও একটি বার্তা রেখে যায়- মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গেইম বানানো অসম্ভব নয়।</p>
<p>এরপর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ‘লিবারেশন ৭১’, ‘হিরোস অব ৭১’, ‘ব্যাটল অব ৭১’ এবং ‘ম্যাসিভ ওয়ার ৭১’ এর মতো গেইমে একেকটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তিযুদ্ধকে অনুকরণ করার চেষ্টা করেছে দেশি ডেভেলপাররা। কেউ সফলতা পেয়েছে, কেউ কোণঠাসা থেকে গেছে। এই পর্যায়ের তথ্য ও ইতিহাস-ভিত্তিক গেইমগুলোর অর্জন-বর্জন-অসফলতা, সবই প্রথমবারের মতো তরুণ প্রজন্মকে একাডেমিক পাঠের বাইরে ‘অভিজ্ঞতা’ দিতে চেয়েছে। </p>
<p><strong>শুরু: আবেগ, স্বাধীনতা আর পিক্সেল</strong><br>দেশীয় প্রথম মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক গেইমের মধ্যে ‘অরুণোদয়ের অগ্নিশিখা’ ছিল এক আবেগের প্রয়াস। ছোট বাজেটে নির্মিত এই গেইমটি পাইরেসি ও বাজার সংকটের ভেতর হারিয়ে গেলেও সেটি প্রথম বার অসংখ্য ডেভেলপারকে অনুপ্রাণিত করেছিল। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়-ছাত্রদের স্বেচ্ছাশ্রমে গড়ে ওঠা টিম- ৭১ এর ‘লিবারেশন ৭১’- যা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মিশন নিয়ে ডেমো প্রকাশ করে গেইমিং এরিনায় নজর কাড়ে। এই গেইমে ১৯৭১ সালের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর ভিত্তি করে মিশন তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে তারা বীরশ্রেষ্ঠ আবদুর রউফ, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান–এর মতো শহীদদের নিয়ে আলাদা এপিসোড তৈরির পরিকল্পনা নেয়। আনরিয়েল ইঞ্জিন ব্যবহার করে গ্রাফিক্স উন্নত করার চেষ্টা করা হয়।</p>
<p>‘হিরোস অব ৭১’ ছিল দেশের প্রথম আলোচিত মোবাইল শুটার, যেখানে খেলোয়াড় মধুমতীর শহুরে গ্রামের এক অপারেশনে অংশ নেয়- এই গেইম মুক্তিযুদ্ধকে সরাসরি অ্যান্ড্রয়েড প্ল্যাটফর্মে এনেছে এবং কিছু কিশোর-তরুণকে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের সঙ্গে যুক্ত করেছে। তবে গ্রাফিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও গেইমপ্লে নিয়ে সমালোচনাও হয়।</p>
<p>সেই একই সময়ে ‘ব্যাটল অব ৭১’ গেইমে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান–এর থ্রিডি চরিত্রসহ রাজারবাগ, সিলেট চা-বাগানসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক যুদ্ধের দৃশ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। স্ট্যান্ডঅ্যালোন লেভেল, তুলনামূলক ভালো ভিজ্যুয়াল এবং ঐতিহাসিক রেফারেন্স—সব মিলিয়ে এটি মুক্তিযুদ্ধের গেইম তালিকায় আলাদা গুরুত্ব পায়। জাতীয় নেতাদের থ্রিডি অবয়ব ব্যবহার করে বৃহৎ পটভূমি ও লেভেল যুক্ত করে আন্তর্জাতিক স্তরে প্রতিযোগী মানের ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনার চেষ্টা করে। </p>
<p>‘যুদ্ধ ৭১: প্রথম প্রতিরোধ’ ছিলো প্রযুক্তির দিক থেকে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। এই গেইমে ২৫ মার্চের কালরাতের প্রথম প্রতিরোধকে তুলে ধরা হয় এবং এটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) সমর্থিত। ইউনিটি ইঞ্জিনে তৈরি এই গেইমটি দেখায়- বাংলাদেশে শুধু সাধারণ মোবাইল গেইম নয়, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর গেইম তৈরির চেষ্টাও হচ্ছে। </p>
<p>প্রাপ্ত তথ্য বলছে, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ৫০টির বেশি গেইম ও অ্যাপ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- মুক্তিযুদ্ধ, যুদ্ধ ৭১, বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কুইজ গেইম, মুক্তিযুদ্ধ রানার, ডকু-গেইমধর্মী অ্যাপ জেনোসাইড ১৯৭১, স্বাধীনতা ৭১, <span>ওরা ১১ জন, অদম্য ৭১, গেরিলা ৭১, গেরিলা ব্রাদার্স</span> ইত্যাদি। অনেকগুলোই শিক্ষামূলক, কিছু গেইমপ্লেভিত্তিক, কিছু আবার কুইজ বা ইন্টারঅ্যাকটিভ ইতিহাস। কিন্তু গেইম ও অ্যাপ্লিকেশনগুলোতে নামের মতো কন্টেন্টে বৈচিত্রহীনভাবে পৃষ্ঠপোষকতা করে আইসিটি বিভাগ। আবার সেই পৃষ্ঠকতার ধারবাহিকতায় যেমন ঘাটতি ছিলো, তেমনি এগুলো গ্রহণেও সাধারণ গেইমারদের মধ্যে ছিলো অনাগ্রহ। সব মিলিয়ে একাত্তরের রণাঙ্গনের কাদা, ধুলো আর বারুদের গন্ধ মনিটরের পর্দা, মোবাইল স্ক্রিন আর ভার্চুয়াল রিয়েলিটির ভেতর দিয়ে নতুন প্রজন্মকে ছুঁতে পারেনি।</p>
<p>ফলে বিশ্বজুড়ে যখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, ভিয়েতনাম কিংবা আধুনিক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে শত শত গেইম তৈরি হচ্ছে, তখন প্রশ্নটা আরও তীক্ষ্ণ- বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ কি ডিজিটাল গেইমে তার ন্যায্য জায়গা পেয়েছে? এক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতা কি যথেষ্ঠ ছিলো? </p>
<p><strong>অনুদান, প্রকল্প এবং বড় আকারের ব্যয়</strong><br>ডিজিটাল মাধ্যমকে ব্যবহার করে ইতিহাস সংরক্ষণের নৈতিকতা ও প্রয়োজনে আইসিটি বিভাগের নেতৃত্ব প্রশংসনীয় মনে হলেও বাস্তব চিত্র আলাদা। ‘মোবাইল গেইম ও অ্যাপস ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্পের আওতায় এবং বিভিন্ন অনুদান, প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে—কিন্তু ওই ব্যয়ের তুলনায় বাস্তবে কার্যকর ও জনপ্রিয় গেইমের সংখ্যা প্রায় নিষ্প্রভ। </p>
<p>প্রাপ্ত তথ্য বলছে, সরকারের উদ্যোগে বিভিন্ন গেইম, অ্যাপ, অ্যানিমেশন ও ভিআর প্রজেক্টে লক্ষাধিক কোটি টাকা বরাদ্দ ও খরচ হয়েছে; তবে অনেক ক্ষেত্রে ঠিকাদারি প্যাটার্নে কাজ হবার কারণে প্রকল্পগুলোর বাস্তবায়ন ও ফলপ্রসূতা হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ। সরকারি অর্থ কি সঠিকভাবে ইতিহাসের গভীরতা তুলে ধরার জন্য ব্যবহার হয়েছে, নাকি প্যাকেজিং-ফর্ম্যাটে ব্যয় হয়ে গেছে- এই প্রশ্ন এখন জনপ্রশ্নে দাঁড়িয়েছে। </p>
<p><strong>ব্যয়ের অসমতাঃ মুজিব-কনটেন্ট বনাম মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গেইম</strong><br>অনুদানে কিংবা প্রণোদনায় ডজনের মতো মুক্তিযুদ্ধ গেইম প্রকাশের কথা শোনার সঙ্গে প্রকাশিত কয়েটি আলোচনায় এলেও সেগুলো জায়গা করে নিতে পারেনি গেইম বাজারে। এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈষম্য চোখে পড়ে- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে তৈরি ডিজিটাল কনটেন্ট; যেমন ‘মুজিব ভাই’ অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্র বা ‘মুজিব ১০০’ অ্যাপের ক্ষেত্রে বড় পর্যায়ে বরাদ্দ এবং ভিজ্যুয়াল-প্রোডাকশনে টাকা খরচ হয়েছে; কিন্তু নির্মোহ ইতিহাসভিত্তিক মুক্তিযুদ্ধের বাস্তব ও কঠোর দিকগুলোতে সেই বরাদ্দের ছিটেফোঁটা দেখা যায়নি। ফলে যে খাতে গল্প কাটাছেঁড় করা সম্ভব—শরণার্থী, নারীর দুর্দশা, রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব—সেসব বিষয় গেইমে জায়গা পায়নি। এই বাজেটের অসম বণ্টন অনেক ডেভেলপারকে সীমাবদ্ধ করেছে। আদতে সৃজনশীলতা হারিয়েছে। </p>
<p><strong>সৃজনশীলতার ঘাটতিঃ ‘নিরাপদ’ ইতিহাস ও কনটেন্ট-ক্যাপিং</strong><br>গবেষণা বলছে, ঠিকাদার ব্যবস্থাপনা আর রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক সেনসিটিভিটি অনেক সময় নির্মাতাকে “নিরাপদ” গল্প বলাতেই বাধ্য করেছে। অর্থাৎ কঠোর বাস্তবতা বাদ রেখে প্যাটরিয়োটিক, সহজবোধ্য প্লট রাখাই সুবিধাজনক হয়ে ওঠে। ফলে গেইমগুলো ইতিহাসের বহুস্তরীয়তা, নৈতিক দ্বন্দ্ব কিংবা মানুষের ব্যক্তিগত কাহিনি তুলে ধরার সাহস করেনি। এখানে প্রশ্ন ওঠে—ইতিহাস-নির্ভুলতা এবং বিনোদনের প্রয়োজনকে কি সামঞ্জস্য করা সম্ভব নয়? বাস্তবে তা সম্ভব, কিন্তু দরকার স্বচ্ছ দিকনির্দেশনা এবং অনুদানের শর্তে স্বাধীনতা রাখা। </p>
<p><strong>বিতর্কিত অনুদানঃ ক্ষমতা, যোগাযোগ ও নৈতিক প্রশ্ন</strong><br>অনুসন্ধানে আরও আলোচিত একটি অংশ- বিতর্কিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সাথে সরকারি অর্থের সম্পর্ক। সংবাদে উঠে এসেছে, এমন কিছু ক্ষেত্রে অনুদান বা আর্থিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে; এমনকি কিছু সন্দেহভাজন ব্যক্তির রাজনৈতিক যোগসূত্রও নদীর মত ঢেউ তুলেছে। সবশেষ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টার সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খানের নাম মুক্তিযুদ্ধের গেইম তৈরির অনুদান প্রাপ্তদের তালিকায় আসায় সরকারি প্রকল্প-ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার গুরুতর অভাব নির্দেশ করে এবং ইতিহাস-ভিত্তিক বিষয় পরিচালনায় নৈতিক জবাবদিহির কষ্টি পাথরে আটকে গেছে। </p>
<p><strong>তারপরও আছে আলো</strong><br>সব অভিযোগ আর সীমাবদ্ধতার মাঝেই একটি ইতিবাচক দিক আছে: গেইমগুলো তরুণদের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। স্বাধীন উদ্যোগে তৈরি ছোট-বড় প্রকল্প। স্থানীয় কিশোর নির্মাতা রূপকথা’র ২০১৯ সালে প্রকাশিত ‘দ্য ভিক্টরি’ আশা জাগায়- কম বাজেটেও ইতিহাসকে ডিজিটালভাবে তুলে ধরবার চেষ্টা হচ্ছে। এই উদ্যোগগুলো যদি সঠিক প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং অর্থায়ন পায়, তাহলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গেইম শিক্ষামূলকভাবে শক্ত হতে পারে। </p>
<p><strong>তাহলে করণীয় কি? </strong><br>একাত্তরের যুদ্ধ ছিল প্রশ্ন করার যুদ্ধ। কিন্তু আজ সেই যুদ্ধকে গেইমে রূপ দিতে গিয়ে প্রশ্ন করাই যেন নিষিদ্ধ। যদি রাষ্ট্র সত্যিই চায় মুক্তিযুদ্ধ ডিজিটাল প্রজন্মের কাছে জীবন্ত হোক, তবে গেইমকে শুধু অনুদান-নির্ভর প্রকল্প নয়—সত্য বলার মাধ্যম হিসেবে দেখতে হবে। নইলে কোটি টাকা ব্যয় করেও গেইমগুলো থেকে যাবে- ডাউনলোড লিস্টে, ইতিহাস থেকে অনেক দূরে। সেই দূরত্ব ঘুচতে চাই- শুটিংয়ের বাইরে গিয়ে স্টোরি-ড্রিভেন, আরপিজি, স্ট্র্যাটেজি গেইম বানাতে হবে। গল্প নির্মাণ করতে হবে গবেষণা ও প্রামাণ্যসূত্র যুক্ত করে। রাষ্ট্র যদি চায় মুক্তিযুদ্ধ সত্যিকারের ভাবে গেইমে বেঁচে উঠুক তাহলে শুধু একজন মুক্তিযোদ্ধা নয়- একজন মা, শরণার্থী, সাংবাদিকের চোখ দিয়ে যুদ্ধ দেখাতে হবে। ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের যুক্ত করতে হবে। সরকারি সহায়তাকে দীর্ঘমেয়াদি করতে হবে। কয়েক বছর ধরে গবেষণা, প্রোটোটাইপ, টেস্টিং ও ম্যাচ-ফাইনিং করার জন্য অর্থায়ন এবং বহুভাষিক ও বহুমাধ্যম রিলিজ করতে হবে। আর অবশ্যই ইতিহাস ও মানুষের যন্ত্রণা নিয়ে গেইম করলে মানবিক কনসেন্ট, পরিবার-বহির্ভূত ও সামাজিক প্রভাব বিবেচ্য হবে; এজন্য একটি স্বাধীন পর্যালোচনা বোর্ড দরকার। </p>
<p><strong>স্বাধীনতা ফিরুক বিজয়ে; সত্যি বেঁচে থাকুক গেইমেও </strong><br>একটি দেশে যখন স্বাধীনতার গল্পটিকে একটি বিনোদনের ফর্মে তুলে ধরা হয়, তখন তার দায়িত্ব দ্বিগুণ হয়—সত্য বলার উদারতা রাখতে হবে, আর একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্টও করতে হবে। কেননা, মুজিব-কনটেন্টে যে মেলামেশা হয়েছে, গ্র্যান্ড প্রোডাকশনে যে বিশাল খরচ হয়েছে—এগুলো যদি মুক্তিযুদ্ধের নির্মোহ বাস্তবতাকে তুলে ধরার কাজে লাগানো যেত, তাহলে গেইমগুলো আজ অনেক বেশি শক্তিশালী হতো। অর্থাৎ স্বচ্ছতা আনলেই, ইতিহাসবিদ ও গেইমিং পেশাজীবীর সংমিশ্রণে, আমাদের গল্পগুলো পিক্সেলেও প্রাণ পাবে। আর তখনই সত্যিই বলা যাবে—মুক্তিযুদ্ধ কেবল বইয়ে নয়, গেইমে, মানুষের হৃদয়ে ও ডিজিটাল স্মৃতিতে জীবিত।</p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বিজয়ের দিনের প্রশ্ন: নাগরিকের ডেটা কার নিয়ন্ত্রণে?</title>
<link>https://digibanglatech.news/160881</link>
<guid>https://digibanglatech.news/160881</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202512/image_870x580_6940093e73fb3.jpg" length="89055" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 16 Dec 2025 00:00:01 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>১৬ ডিসেম্বর, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব আর বিজয়ের দিন। ভূখণ্ড, আর  আত্মনিয়ন্ত্রণের পতাকা উড়ানোর দিন। কিন্তু রাষ্ট্র যখন ক্রমে ডিজিটাল রূপ নেয়, তখন সার্বভৌমত্বের ধারণাও বদলে যায়। আজ আর প্রশ্ন কেবল মানচিত্র বা পতাকা ঘিরে নয়—প্রশ্ন উঠছে নাগরিকের ডিজিটাল পরিচয়, ব্যক্তিগত উপাত্ত ও তথ্যপ্রবাহের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে। স্বাধীনতার অর্ধশতকেরও বেশি বছর পরে এসে, আজ এই বিজয়ের দিনে একটি নতুন প্রশ্ন সামনে আসে: নাগরিকের ডেটা কার নিয়ন্ত্রণে?</p>
<p>ডিজিটাল রাষ্ট্রে নাগরিকের অস্তিত্ব ক্রমেই ডেটায় রূপান্তরিত হচ্ছে। জন্মনিবন্ধন থেকে শুরু করে জাতীয় পরিচয়পত্র, মোবাইল সংযোগ, ব্যাংক হিসাব, সামাজিক যোগাযোগ—সবকিছুই উপাত্ত হিসেবে সংরক্ষিত, বিশ্লেষিত ও বিনিময়যোগ্য। এই বাস্তবতায় ডেটা আর নিছক প্রশাসনিক সম্পদ নয়; এটি নাগরিকের অধিকার, স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যুক্ত। যে রাষ্ট্র নাগরিকের ডেটা নিয়ন্ত্রণ করে, সে রাষ্ট্র কার্যত নাগরিকের জীবনপ্রবাহের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা অর্জন করে। এখানেই <strong>‘ডেটা সার্বভৌমত্ব’</strong> ধারণাটি রাজনৈতিক ও দার্শনিক গুরুত্ব পায়।</p>
<p>ডেটা সার্বভৌমত্ব বলতে সাধারণভাবে বোঝানো হয়—কার আইন, কার নীতি ও কার নিয়ন্ত্রণে নাগরিকের ডেটা থাকবে। এটি শুধু ডেটা কোথায় সংরক্ষিত হচ্ছে সেই প্রশ্ন নয়; বরং কে সিদ্ধান্ত নেবে ডেটা কীভাবে সংগ্রহ হবে, কতদিন থাকবে, কার সঙ্গে শেয়ার হবে এবং প্রয়োজনে কে তা মুছে ফেলতে পারবে—এই সব প্রশ্নের সমষ্টি। আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ডেটা সার্বভৌমত্বের কেন্দ্রে থাকার কথা নাগরিকের সম্মতি ও অধিকার। কিন্তু বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রেই রাষ্ট্র নিজেকে ডেটার প্রাথমিক মালিক হিসেবে দেখতে শুরু করে।</p>
<p>বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্নটি আরও সংবেদনশীল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য ফাঁস, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্য বিক্রির অভিযোগ, এমনকি কল রেকর্ড ও যোগাযোগ-সংক্রান্ত তথ্য অনিরাপদ থাকার ঘটনাও আলোচনায় এসেছে। এসব ঘটনা আলাদা আলাদা মনে হলেও একটি গভীর সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে—রাষ্ট্রীয় ও বেসরকারি উভয় স্তরেই ডেটা ব্যবস্থাপনার জবাবদিহির ঘাটতি। সমস্যা শুধু ফাঁসের নয়; সমস্যা হলো নাগরিক জানেন না তার ডেটা কোথায় যাচ্ছে, কে ব্যবহার করছে এবং ভুল ব্যবহারের প্রতিকার কোথায়।</p>
<p>এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে সম্প্রতি প্রণীত দুটি গুরুত্বপূর্ণ আইন সামনে আসে—ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ এবং জাতীয় উপাত্ত ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ। কাগজে-কলমে এই আইনগুলো ডেটা সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও সমন্বয়ের কথা বলে। ব্যক্তিগত উপাত্তের সম্মতিভিত্তিক সংগ্রহ, নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ব্যবহার, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ—এসব নীতিগতভাবে ইতিবাচক। কিন্তু আইনের ভাষা ও কাঠামো বিশ্লেষণ করলে কিছু মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়।</p>
<p>প্রথমত, এই আইনগুলোতে রাষ্ট্রীয় স্বার্থের ব্যাখ্যা অত্যন্ত বিস্তৃত ও অস্পষ্ট। ‘জাতীয় নিরাপত্তা’, ‘জনস্বার্থ’ বা ‘রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে’—এই ধরনের শব্দবন্ধ প্রয়োজনে যেকোনো নাগরিক সুরক্ষাকে অকার্যকর করে দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, ডেটা তদারকির জন্য যে কর্তৃপক্ষ গঠনের কথা বলা হয়েছে, তার স্বাধীনতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কার্যকর ডেটা সুরক্ষার জন্য যে স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা প্রয়োজন—যারা রাষ্ট্র ও নাগরিক উভয়ের ওপর সমানভাবে নজরদারি করবে—সেই ভারসাম্য এখানে স্পষ্ট নয়।</p>
<p>আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা দেখায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নের জিডিপিআর বা অন্যান্য ডেটা সুরক্ষা কাঠামোতে নাগরিকের অধিকারকে কেন্দ্রীয় জায়গায় রাখা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রকেও নাগরিকের ডেটা ব্যবহারে সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকতে হয় এবং স্বাধীন আদালত ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা সক্রিয় ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের আইনি কাঠামো সেই মানদণ্ডে কতটা সঙ্গতিপূর্ণ—সে প্রশ্ন এখনো উন্মুক্ত। বিশেষ করে ডেটা সংগ্রহ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘ন্যূনতমতা’ এবং ‘উদ্দেশ্য সীমাবদ্ধতা’ বাস্তবে কতটা মানা হবে, তা আইন নয়, প্রয়োগই ঠিক করবে।</p>
<p>সম্ভাব্য অপপ্রয়োগের ঝুঁকিটিই এখানে সবচেয়ে বড়। শক্তিশালী ডেটা অবকাঠামো যেমন সেবার মান বাড়াতে পারে, তেমনি তা নজরদারি, প্রোফাইলিং ও ভিন্নমত দমনের হাতিয়ারও হতে পারে। কল রেকর্ড, লোকেশন ডেটা বা পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য যদি দুর্বল আইনি সুরক্ষার মধ্যে থাকে, তবে নাগরিকের ব্যক্তিগত পরিসর ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়। ইতিহাস বলছে, যে ক্ষমতার অপব্যবহার সম্ভব, তা একসময় না একসময় ঘটেই।</p>
<p><strong>রাষ্ট্র বনাম নাগরিক: ডেটা সার্বভৌমত্বের দার্শনিক দ্বন্দ্ব</strong><br>রাষ্ট্রের দৃষ্টিতে ডেটা শাসনক্ষমতার একটি নতুন হাতিয়ার। পরিকল্পনা, সেবা ও নিরাপত্তার যুক্তিতে রাষ্ট্র আরও বেশি ডেটা চাইবে—এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নাগরিকের দৃষ্টিতে একই ডেটা হয়ে উঠতে পারে ঝুঁকির উৎস। এই দ্বন্দ্বটি মূলত ক্ষমতার। রাষ্ট্র যদি নাগরিকের ডেটার মালিক হয়ে ওঠে, তবে নাগরিক রূপ নেয় পর্যবেক্ষণযোগ্য সত্তায়। আর নাগরিক যদি নিজ ডেটার উপর নিয়ন্ত্রণ হারায়, তবে তার স্বাধীনতা থাকে কাগজে, বাস্তবে নয়।</p>
<p>ডেটা সার্বভৌমত্ব তাই রাষ্ট্রের শক্তি বাড়ানোর প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার আস্থার প্রশ্ন। ১৬ ডিসেম্বর আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সার্বভৌমত্ব কেবল রাষ্ট্রের জন্য নয়, মানুষের জন্য। ডিজিটাল বাংলাদেশে সেই সার্বভৌমত্বের নতুন রূপ হলো নাগরিকের ডেটার উপর নাগরিকের অধিকার। প্রশ্নটি তাই অনিবার্য: আমরা কি এমন একটি রাষ্ট্র গড়ছি, যেখানে নাগরিক ডিজিটালভাবেও সুরক্ষিত—না কি এমন এক ব্যবস্থায় প্রবেশ করছি, যেখানে স্বাধীনতা ধীরে ধীরে একটি লগফাইলে পরিণত হচ্ছে?</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong> আশফাক সফল, আইটি প্রফেশনাল; যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস ফোরাম (বিডিসাফ)।</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল সার্বভৌমত্বের নতুন দরজা খুলে দিচ্ছে বাংলাদেশ</title>
<link>https://digibanglatech.news/160170</link>
<guid>https://digibanglatech.news/160170</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202502/image_870x_67a31f73475e5.jpg" length="49398" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 05 Dec 2025 20:18:44 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাংলাদেশ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রথমবারের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">মতো</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সরকারি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অর্থে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নির্মিত</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সফটওয়্যারকে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> <b>“</b></span><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জাতীয়</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সম্পদ</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">”</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হিসেবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ঘোষণা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">করার</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পথে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বড়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এক</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পদক্ষেপ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নিয়েছে।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সম্প্রতি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রকাশিত</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জাতীয়</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সোর্স</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কোড</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নীতিমালা</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">২০২৫</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> (</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">খসড়া</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">)</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কেবল</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রযুক্তিগত</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নির্দেশনা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বরং</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাংলাদেশের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ডিজিটাল</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">শাসনপদ্ধতির</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এক</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নতুন</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">যুগের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ঘোষণা।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নীতির</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">মূলমন্ত্র</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> <b>“</b></span><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জনগণের</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অর্থ</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জনসাধারণের</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কোড</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> (Public Money, Public Code)”</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ইউরোপীয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ইউনিয়ন</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এস্তোনিয়া</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ভারত</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এবং</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">যুক্তরাষ্ট্রের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">মতো</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">উন্নত</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">দেশগুলোর</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ওপেন</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সোর্স</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নীতিকে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অনুসরণ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">করে।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এতে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">স্পষ্ট</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাংলাদেশ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বিশ্বমানের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ডিজিটাল</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">গভর্নেন্স</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কাঠামোয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নিজের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অবস্থান</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">দৃঢ়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">করতে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রস্তুত।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-outline-level: 3;"><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জাতীয়</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সম্পদের</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সংজ্ঞা</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নতুন</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">করে</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">লিখছে</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নীতি</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">খসড়ায়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বলা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হয়েছে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সরকারি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অর্থে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">তৈরি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সরকার</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">–</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নিয়ন্ত্রিত</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সব</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সফটওয়্যারই</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জাতীয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সম্পদ।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এগুলো</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সংরক্ষিত</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">থাকবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কেন্দ্রীয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">রিপোজিটরিতে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">; </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">তালিকাভুক্ত</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">না</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হলে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কোনো</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সফটওয়্যার</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রোডাকশনে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">চালু</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">করা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">যাবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">না।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাংলাদেশে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বহু</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বছরের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পুরোনো</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সমস্যা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">— <b>“</b></span><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রকল্প</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">শেষ</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রতিষ্ঠান</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">চলে</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">গেছে</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সোর্স</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কোড</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নেই</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">”</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">— </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নীতি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কার্যকর</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হলে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আর</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বৈধ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">থাকবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">না।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এর</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ফলে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সরকারি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সফটওয়্যার</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আর</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কেবল</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">একটি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ফাইল</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—</span><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জাতীয়</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অবকাঠামোর</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অপরিহার্য</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অংশ</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হয়ে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">উঠবে।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-outline-level: 3;"><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পুনর্ব্যবহার</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাধ্যতামূলক</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">: </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অপচয়</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">রোধ</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ও</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">দক্ষতার</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নিশ্চিতকরণ</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">“<b>Reuse First</b>” </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নীতি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সরকারি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আইসিটি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রকল্পে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নতুন</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সংস্কৃতি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">তৈরি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">করবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নতুন</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কোড</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">লেখার</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আগে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">খুঁজতে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আগে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">তৈরি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কোনো</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সমাধান</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আছে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">না।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><br></span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এর</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সুফল</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—<o:p></o:p></span></p>
<ul type="disc">
<li class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-list: l0 level1 lfo1; tab-stops: list .5in;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বারবার</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">একই</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রকল্প</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বানানোর</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রবণতা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কমবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">,<o:p></o:p></span></li>
<li class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-list: l0 level1 lfo1; tab-stops: list .5in;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">উন্নয়নের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">গতি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাড়বে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">,<o:p></o:p></span></li>
<li class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-list: l0 level1 lfo1; tab-stops: list .5in;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জনগণের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অর্থ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সাশ্রয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হবে।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></li>
</ul>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">উন্নত</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">দেশগুলো</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বহু</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বছর</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ধরে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পুনর্ব্যবহারকে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাধ্যতামূলক</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">করেছে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">; </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাংলাদেশও</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সেই</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ধারায়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">রাখছে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এটি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নিঃসন্দেহে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সময়োপযোগী</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সিদ্ধান্ত।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-outline-level: 3;"><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রযুক্তি</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">-</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সেবা</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নির্ভরতা</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কমানো</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">: </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">রাষ্ট্র</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আর</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জিম্মি</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নয়</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নীতিমালায়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আরেকটি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">গুরুত্বপূর্ণ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পদক্ষেপ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হলো</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রতিষ্ঠান</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">-</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নির্ভরতা</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> (vendor lock-in)</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ভাঙা।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ভবিষ্যতে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—<o:p></o:p></span></p>
<ul type="disc">
<li class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-list: l2 level1 lfo2; tab-stops: list .5in;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সম্পূর্ণ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সোর্স</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কোড</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">,<o:p></o:p></span></li>
<li class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-list: l2 level1 lfo2; tab-stops: list .5in;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ডকুমেন্টেশন</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">,<o:p></o:p></span></li>
<li class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-list: l2 level1 lfo2; tab-stops: list .5in;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আর্টিফ্যাক্ট</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></li>
</ul>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সবই</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জমা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">দিতে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কেন্দ্রীয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">রিপোজিটরিতে।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সফটওয়্যারের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আইপি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">স্থায়ী</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ব্যবহারের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অধিকার</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">থাকবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সরকারের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হাতে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কোনো</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রতিষ্ঠান</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এককভাবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নিয়ন্ত্রণ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">করতে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পারবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">না।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; text-align: justify; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সবচেয়ে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বড়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নিরাপত্তা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হলো</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এসক্রো</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> (Escrow)</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ব্যবস্থা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">যেখানে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কোড</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">একটি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নিরপেক্ষ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">তৃতীয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পক্ষের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কাছে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সংরক্ষিত</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">থাকে।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রতিষ্ঠান</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বন্ধ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হয়ে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">গেলেও</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সেবা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">দিতে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ব্যর্থ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হলেও</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">রাষ্ট্র</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কোড</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হারাবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">না।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><br></span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাংলাদেশের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাস্তবতায়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">যেখানে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বহু</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">গুরুত্বপূর্ণ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সিস্টেম</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নির্দিষ্ট</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রতিষ্ঠানভিত্তিক</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হয়ে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পড়েছে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এটি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নিঃসন্দেহে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ডিজিটাল</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">স্বাধীনতার</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জন্য</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">শক্ত</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ভিত্তি হয়ে উঠবে।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-outline-level: 3;"><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ওপেন</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কোড</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">: </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">স্বচ্ছতা</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">তবে</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">যুক্তিযুক্ত</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অব্যাহতি</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal;"><span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">নীতির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">মূল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">দর্শন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">হলো</span>—<span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">সরকারি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">কোড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">ডিফল্টভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">উন্মুক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">থাকবে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">তবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">জাতীয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">নিরাপত্তা</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">গোপনীয়তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">ও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">তৃতীয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">পক্ষের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">মেধাস্বত্বের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">ক্ষেত্রে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">সীমিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">অব্যাহতি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">দেওয়া</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">যেতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">পারে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অব্যাহতি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পেলেও</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কোড</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">রিপোজিটরিতে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">থাকবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—“</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">গোপন</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">” </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">মানে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আর</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> “</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অদৃশ্য</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">” </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নয়।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">তবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জাতীয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নিরাপত্তা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">গোপনীয়তার</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সুনির্দিষ্ট</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সংজ্ঞা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আরও</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">স্পষ্ট</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হওয়া</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জরুরি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অন্যথায়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">স্বচ্ছতার</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বদলে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ব্যাখ্যার</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ওপর</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নির্ভরশীলতা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাড়তে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পারে।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p> </o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-outline-level: 3;"><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আধুনিক</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সফটওয়্যার</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ইঞ্জিনিয়ারিং</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">: </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নীতিমালার</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">শক্ততম</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অংশ</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এই</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অংশটি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রমাণ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">করে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">খসড়াটি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কেবল</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ওপেন</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সোর্স</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সফটওয়্যার</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আন্তর্জাতিক</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">মান</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অনুসরণ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">করছে।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এতে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">রয়েছে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—<o:p></o:p></span></p>
<ul type="disc">
<li class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-list: l3 level1 lfo3; tab-stops: list .5in;"><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নিরাপদ</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কোডিং</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">গাইডলাইন</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কমিটি</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></li>
<li class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-list: l3 level1 lfo3; tab-stops: list .5in;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাধ্যতামূলক</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> <b>CI/CD </b></span><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পাইপলাইন</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">: </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">স্বয়ংক্রিয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">টেস্ট</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নিরাপত্তা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">স্ক্যান</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">লাইসেন্স</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">যাচাই</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></li>
<li class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-list: l3 level1 lfo3; tab-stops: list .5in;"><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">SBOM</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">: </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সফটওয়্যার</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">উপাদানের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">স্বচ্ছ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">তালিকা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></li>
<li class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-list: l3 level1 lfo3; tab-stops: list .5in;"><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">Role-Based Access Control</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></li>
<li class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-list: l3 level1 lfo3; tab-stops: list .5in;"><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">মেশিন</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">লার্নিং</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ডেটাসেটের</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নৈতিক</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ও</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কারিগরি</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নির্দেশনা</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></li>
</ul>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সংক্ষেপে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">— <b>CI/CD </b></span><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সফটওয়্যার</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">তৈরির</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পথকে</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নিরাপদ</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">করে</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আর</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> <b>SBOM </b></span><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সফটওয়্যারকে</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">করে</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">স্বচ্ছ</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ও</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জবাবদিহিমূলক</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এটি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">যুক্তরাষ্ট্রের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> CISA, </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ইউরোপের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> NIS-2 Directive </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এবং</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ভারতের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> Digital Public Goods </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নীতির</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সঙ্গে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সম্পূর্ণ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সামঞ্জস্যপূর্ণ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">যা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">দেখায়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাংলাদেশ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বিশ্বমান</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ধরে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এগোচ্ছে।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-outline-level: 3;"><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আইনি</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সমন্বয়</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">: </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সফলতার</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">মূল</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">শর্ত</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নীতিটি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জাতীয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">উপাত্ত</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ব্যবস্থাপনা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ও</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আন্তঃপরিচালন</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অধ্যাদেশের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অধীনে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জারি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হবে।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">তবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এর</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সঙ্গে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><span style="mso-spacerun: yes;"> </span>ব্যক্তিগত তথ্য </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><span style="mso-spacerun: yes;"> </span></span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সুরক্ষা অধ্যাদেশ, </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><span style="mso-spacerun: yes;"> </span></span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পাবলিক</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রকিউরমেন্টসহ ও প্রচলিত</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আইনের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সমন্বয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নিশ্চিত</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">করতে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হবে।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এই</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সমন্বয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ব্যর্থ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হলে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">স্বচ্ছতা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">গোপনীয়তা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ও</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নিরাপত্তার</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ভারসাম্য</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নষ্ট</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হতে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পারে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">যা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নীতির</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">মূল</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">উদ্দেশ্যকে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাধাগ্রস্ত</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">করবে।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-outline-level: 3;"><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কারা</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">লাভবান</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কারা</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অস্বস্তিতে</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">?<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">লাভবান</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—</span><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">রাষ্ট্র</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ও</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নাগরিক</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><br></span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অস্বস্তিতে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—</span><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">যেসব</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রতিষ্ঠান</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সরকারি</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কোডকে</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ব্যক্তিগত</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সম্পদ</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ভেবে</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এসেছে</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><br></span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সরকারের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ভেতরেও</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নতুন</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সংস্কৃতি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">গড়তে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—“</span><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নতুন</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বানানোর</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আগে</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পুরোনো</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কী</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আছে</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">” </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">তা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">খুঁজে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">দেখার</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অভ্যাস।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এটি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ডিজিটাল</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">শৃঙ্খলা</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ও</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জবাবদিহির</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নতুন</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">মানদণ্ড</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">তৈরি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">করবে।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal; mso-outline-level: 3;"><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">শেষ</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কথা</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">: </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এখন</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাস্তবায়নের</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সময়</span></b><b><span style="font-size: 12.0pt; mso-bidi-font-size: 13.5pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">খসড়াটি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আধুনিক</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সাহসী</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ও</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">আন্তর্জাতিক</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">মানসম্মত।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কিন্তু</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">মূল</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রশ্ন</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এটি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কাগজে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সীমাবদ্ধ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">থাকবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নাকি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাস্তবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কার্যকর</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">? </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাংলাদেশ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সত্যিই</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> <b>“</b></span><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জনগণের</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অর্থ</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">জনগণের</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কোড</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">”</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাস্তবায়নের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">পথে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এগোবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নাকি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কিছু</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কোড</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">থেকে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">যাবে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">অদৃশ্য</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কয়েকটি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হাতের</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">দখলে</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">?<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">যদি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">এ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নীতি</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাস্তবায়িত</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">হয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">—</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">বাংলাদেশ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">কেবল</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সফটওয়্যার</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ব্যবস্থাপনায়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নয়</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">, </span><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">ডিজিটাল</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">সার্বভৌমত্বের</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">নতুন</span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span></b><b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">যুগে</span></b><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">প্রবেশ</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"> </span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;">করবে।</span><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Times New Roman',serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"><o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal" style="mso-margin-top-alt: auto; mso-margin-bottom-alt: auto; line-height: normal;"><span style="mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: 'Times New Roman'; mso-font-kerning: 0pt; mso-ligatures: none;"></span></p>
<hr>
<p class="MsoNormal"><o:p>লেখকঃ </o:p><span style="font-family: 'Nirmala UI',sans-serif;">মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম-</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 107%; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"><span style="mso-spacerun: yes;"> </span>তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেটরস ফোরাম ( বিডিসাফ )</span></p>
<hr>
<p class="MsoNormal"><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 107%; font-family: 'Nirmala UI',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>নানা চক্রে  টেকনোলজিই বাতিলের পর্যায়ে চলে যায়</title>
<link>https://digibanglatech.news/159727</link>
<guid>https://digibanglatech.news/159727</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202511/image_870x580_6923d975cb8e6.jpg" length="71366" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 24 Nov 2025 10:05:29 +0600</pubDate>
<dc:creator>মোঃ হাসিবুর রশিদ</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশে সরকারী মালিকানাধীন ব‍্যবসা প্রতিষ্ঠান প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে না। বিশেষ করে যে সব খাত বেসরকারীকরণ করা হয়েছে সেইসব খাতের সরকারী প্রতিষ্ঠান বেশী ভোগান্তিতে রয়েছে। স্বাধীনতার ৫৪ বছর পরেও সরকারী মালিকানাধীন অনেক প্রতিষ্ঠান দশকের পর দশক লোকসান করছে। দক্ষতা বৃদ্ধির জন‍্য অনেক প্রতিষ্ঠানকে কোম্পানি আইনের আওতায়‍্য শতভাগ সরকারী মালিকানাধীন কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয়েছে। কিন্তু কোম্পানি করার মাধ্যমেও তেমন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। শুধুমাত্র কিছু সরকারী মালিকানাধীন একক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান লাভজনকভাবে পরিচালিত হচ্ছে। প্রতিযোগিতা না থাকায় সেই সব খাতে বাজারে দক্ষতার অভাব রয়েছে।</p>
<p>কেন সরকারী মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানিগুলো ধারাবাহিকভাবে লোকসান করছে? সরকারী প্রতিষ্ঠানকে কেন লাভজনক করা যাচ্ছে না? সবকিছুর মূলে সরকারের মানসিকতা ও দুর্নীতি বড় সমস‍্যা। এ ছাড়াও অনেক ধরনের পরিচালনা সংক্রান্ত চ‍্যালেঞ্জ রয়েছে। </p>
<p>বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্প সরকার পরিচালনা করে এবং বেশ কয়েকটি পণ্য বা সেবায় সরকার ভর্তুকি দিয়ে জনগনের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে ফলে সেইসব প্রতিষ্ঠান কখনোই লাভের মুখ দেখবে না। সেইসব প্রতিষ্ঠান যে পরিমান ভর্তুকি দেয় তা শুধু হিসাবে রাখা হয়। ভর্তুকির কারণে সেইসব প্রতিষ্ঠানের সঠিক পারফরমেন্সও বোঝা যায় না। </p>
<p>কয়েকটি খাতে দেশী বিদেশী বেসরকারী প্রতিষ্ঠান যে পরিমান বিনিয়োগ করেছে সেই তুলনায় সরকারী প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ খুবই অপ্রতুল। আবার সরকারী প্রতিষ্ঠান নানামুখী আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় প্রকল্প গ্রহন করেও সময়মত বিনিয়োগ করতে পারে না। প্রকল্পে বিনিয়োগ পেলেও তা সরকারের পিপিআর অনুসরন করে ক্রয় প্রক্রিয়ায় যেয়ে এক জটিল দীর্ঘসূত্রিতায় পরে যায়<span style="font-size: 12pt;"><span style="font-size: 10pt;">।</span> <span style="font-size: 14pt;">বিভিন্ন টেন্ডার কমিটি, কেবিনেট পারচেজ কমিটি, টেন্ডার , রি-টেন্ডারের চক্রে পরে সেই টেকনোলজিই বাতিলের পর্যায়ে চলে যায়। আবার ক্রয়ের ক্ষেত্রে পিপিআর ঠিকমত অনুসরন না করলে অডিট আপত্তি বা দুদকের চক্করে পরে যেতে পারে। </span></span></p>
<p>অন‍্যদিকে বেসরকারি খাত খুব দক্ষতার সাথে স্বল্প সময়ে আধুনিক টেকনোলজিতে বিনিয়োগ করে নতুন নতুন পণ‍্য বা সেবা বাজারে নিয়ে এসে দ্রুতই বাজার দখল করে ফেলে। </p>
<p>বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই সরকারী কোম্পানিগুলোর চেয়ারম্যান হয় পদাধিকার বলে সেই মন্ত্রণালয়র সচিব। কিছু কিছু কোম্পানির বোর্ড অব ডিরেক্টরস এ থাকে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের আমলা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সামরিক সংস্থার কর্মকর্তা এবং ব‍্যবসায়িক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। ব‍্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ দেয়া হয় সেই প্রতিষ্ঠান থেকেই জৈস্ঠতার ভিত্তিতে অথবা মন্ত্রনালয় থেকে যুগ্ম বা অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কোন কর্মকর্তাকে। অনেক সময় দেখা যায়, খাত সংশ্লিষ্ট দীর্ঘ ব‍্যবসা পরিচালনার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কেউই সরকারি প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানির উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করে না। <span style="font-size: 14pt;">কর্মকর্তা বা কর্মচারীরা সরকারী চাকুরির সুযোগ সুবিধা পায়, মাস শেষে বেতন পায়। এইসব প্রতিষ্ঠানে যোগ‍্যতা বা পারফরম্যান্স ভিত্তিক নিয়োগ, প্রোমোশন বা ছাঁটাইয়ের ব্যবস্থা নাই ।</span></p>
<p>সচিবালয় তথা মন্ত্রী বা সচিবদের নানাবিধ হস্তক্ষেপের কারণে এইসব প্রতিষ্ঠান দক্ষভাবে চালাতে চাইলেও অনেক সময় সংস্থা প্রধানের পক্ষে তা সম্ভব হয় না। সংস্থা প্রধান প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক করার চেয়ে উর্ধ্বতনদের ফুট ফরমায়েশ খাটতেই বেশী ব‍্যস্ত। অনেক সময় সরকার এমন সব প্রকল্প গ্রহনের প্রস্তাব করে যা কখনই কোম্পানির জন‍্য লাভজনক হয় না বরং সেইসব প্রকল্প থেকে তৃতীয় পক্ষের লাভ হয়। </p>
<p>পৃথিবীর অনেক দেশেই এক সময় বেশীরভাগ প্রতিষ্ঠানই সরকারী মালিকানাধীন ছিল। আশির দশক বা তারও আগে উন্নত দেশগুলো বেশীরভাগ খাতই বেসরকারীকরণ করে ফেলেছে।  উন্নয়নশীল দেশগুলোও বিশ্বব্যাংকের প্রেসক্রিপশনে কিছু কিছু খাতে  সরকারী সংস্থাগুলোকে প্রথমে সরকারী মালিকানাধীন কোম্পানিতে রূপান্তরিত করেছে। তারপর কিছু শেয়ার ছেড়ে দেশী-বিদেশী প্রাইভেট বিনিয়োগ নিয়েছে বা ম্যানেজমেন্ট পার্টনার নিয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে দেশের শেয়ার মার্কেটে শেয়ার ছেড়ে পুঁজি সংগ্রহ করেছে। পরবর্তীতে অনেক ক্ষেত্রে বিদেশী কোম্পানি শেয়ার অফলোড করে চলে গেছে। সেই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও শতভাগ মালিকানায় অনেক সরকারী কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল কিন্তু অন‍্যান‍্য উন্নয়নশীল দেশের মডেলে তার পরবর্তী কোন ধাপ অনুসরন করা হয়নি। </p>
<p><strong>উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, শ্রীলংকান এয়ার ১৯৯৮ সালে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের কাছে আংশিক শেয়ার দিয়ে ম‍্যানেজমেন্ট পার্টনার করেছিল,  কিন্ত ২০০৮ সালে শ্রীলংকা সরকার আবার পুরো শেয়ার কিনে নেয়।  ১৯৯৭ সালে শ্রীলংকা টেলিকমকে সরকার বেসরকারীখাতে ছেড়ে দেয়। তখন সরকার ৪৯.৫% শেয়ার রেখে বাকীটা জাপানের এনটিটি, শেয়ার বাজার এবং কর্মীদের মাঝে ছেড়ে দেয। জাপানের এনটিটি প্রায় ৩৫% শেয়ার কিনে নেয় এবং ব‍্যবস্থাপনায় যুক্ত হয়। ২০০৮ সালে এনটিটি সেই শেয়ার ১০মিলিয়ন ডলার ক‍্যাপিটাল গেইন নিয়ে  মালয়েশিয়ার ম‍্যাক্সিস টেলিকম গ্রুপের কাছে বিক্রি করে দেয়। </strong></p>
<p>সোনারগাঁ প‍্যানপ‍্যাসিফিক হোটেল এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের অবকাঠামোর মালিকানা বাংলাদেশ সরকারের। বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন হোটেলস ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড নামের দুটি সরকারি কোম্পানি যথাক্রমে সোনারগাঁ প‍্যানপ‍্যাসিফিক এবং ইন্টারকন্টিনেন্টালের হোটেলের অবকাঠামোর মালিকানায় রয়েছে। রাজস্ব ভাগাভাগির শর্তে হোটেল ম‍্যানেজমেন্ট চুক্তির মাধ‍্যমে প‍্যানপ‍্যাসিফিক গ্রুপ এবং ইন্টারন্যাশনাল হোটেলস গ্রুপ (ইন্টারকন্টিনেনটাল) হোটেল দুটি পরিচালনা করছে। সুতরাং বাংলাদেশেও সরকার ইতোমধ্যেই এ ধরনের ম‍্যানেজমেন্ট চুক্তির মাধ‍্যমে স্থাপনা পরিচালনার উদাহরণ রয়েছে। </p>
<p>সরকারী পাট ও বস্ত্র কলগুলো বছরের পর বছর লোকসান করতো। বার বার হাজার হাজার কোটি টাকা বিএমআরই প্রজেক্ট করেও কোন সুফল আসেনি। অবশেষে অতি সম্প্রতি এইসব কল কারখানা বেসরকারী খাতে লিজ দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারী কাগজ উৎপাদন কারখানারও একই অবস্থা।</p>
<p>সরকার যেখানে রাজস্ব আদায় করে সরকারী ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সেখানে জনগণের ট্যাক্সের টাকায় ভর্তুকি দিয়ে বছরের পর বছর ব্যবসা সম্প্রসারণের চেস্টা করা বা ব‍্যবসাতে না থাকাই ভালো।গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো খাত বাদ দিয়ে বাজারে দক্ষতা আনতে হলে অন‍্যান‍্য খাতগুলো বিভিন্ন ফরমেটে (বিনিয়োগ বা ব‍্যবস্থাপনা) বেসরকারিকরন করতে হবে। </p>
<p>তবে পুরোপুরি বেসরকারিকরণের পূর্ব শর্ত হলো সরকারকে  খাত সংশ্লিষ্ট দক্ষ, শক্তিশালী ও স্বাধীন নিয়ন্ত্রক সংস্থা গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়াও সরকারের জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনকে আরও শক্তিশালী করে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে ব‍্যাপকভাবে কাজে লাগাতে হবে। </p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong> সিইও, ইন্টারক্লাউড লিমিটেড</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ভূমিকম্প! মাটি থমকে নেই, আমাদের প্রস্তুতিই প্রশ্নবিদ্ধ</title>
<link>https://digibanglatech.news/159721</link>
<guid>https://digibanglatech.news/159721</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202511/image_870x580_69239b3c367f0.jpg" length="106930" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 23 Nov 2025 05:08:38 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একের পর এক ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে—মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে অন্তত পাঁচটি কম্পন। ক্ষয়ক্ষতি বড় না হলেও এই ঘনঘন কম্পন স্বস্তির নয়; বরং আমাদের সামনে এক গভীর বাস্তবতা স্পষ্ট করে দিয়েছে—বাংলাদেশ বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে, এবং এই ঝুঁকির বিপরীতে আমাদের প্রস্তুতি মোটেও আশাব্যঞ্জক নয়।</p>
<p>ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা টেকটনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানকারী বাংলাদেশ ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। ১৮৯৭ সালের বিধ্বংসী আসাম ভূমিকম্প এবং ১৯৫০ সালের তিব্বত-আসাম ভূকম্পন এই অঞ্চলের ইতিহাসে গুরুতর স্মৃতি হয়ে আছে। তবুও বারবার সতর্কতা সত্ত্বেও আমাদের নগরায়ণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন নিরাপত্তার ন্যূনতম মানগুলোকেও ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে ঢাকা—বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ মহানগর—একটি বড় ভূমিকম্পের জন্য বিপজ্জনকভাবে অপ্রস্তুত।</p>
<p>সাম্প্রতিক কম্পনগুলো দেখিয়ে দিয়েছে আমরা কতটা ভঙ্গুর। ভূমিকম্প-সহনশীল নয় এমন ভবন, নজরদারিহীন নির্মাণ, সংকীর্ণ সিঁড়ি, জটলা-ভরা গলি, দুর্বল অবকাঠামো—সব মিলিয়ে লাখো মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার কাছে বা ঢাকার ভেতরে কোনও বড় ভূমিকম্প হলে হাইতির ২০১০ সালের বিপর্যয়ের তুলনায়ও বড় মানবিক ট্র্যাজেডি ঘটতে পারে।</p>
<p>আমি সাংবাদিকতা ও জনসংযোগ—উভয় ক্ষেত্রেই কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, ভূমিকম্পের পর অনেক সময় ক্ষয়ক্ষতির চেয়ে বড় সমস্যা তৈরি করে ভুল তথ্য, আতঙ্ক এবং যোগাযোগের ব্যর্থতা। কম্পন হঠাৎ আসে—এটাই তার স্বভাব। কিন্তু বিশৃঙ্খলা তৈরি হয় তথ্য বিভ্রাটের কারণে।</p>
<p>আজ যখন দেশের মানুষ খবরের জন্য টেলিভিশন বা রেডিওর আগে সামাজিক মাধ্যমে ছুটে যায়, তখন ডিজিটাল স্পেসটি আমাদের দুর্বলতার পাশাপাশি বড় সম্ভাবনাও তৈরি করে। সাম্প্রতিক কম্পনগুলোর পর ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়া গুজব, বিদেশি ভিডিওর পুনঃপ্রচার, এবং ভয় সৃষ্টিকারী ভবিষ্যদ্বাণী পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।</p>
<p>এই কারণেই জরুরি সময়ে সঠিক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে পেশাদারভাবে ব্যবহার করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি সংস্থা, বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যমকে সমন্বিতভাবে দ্রুত, স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য বার্তা প্রচার করতে হবে। এসএমএস অ্যালার্ট থেকে শুরু করে লাইভ আপডেট—সবই প্রাতিষ্ঠানিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। জাপান, তুরকি ও ইন্দোনেশিয়ার উদাহরণ দেখায় সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য অসংখ্য প্রাণ বাঁচায়।</p>
<p>শুধু তথ্য নয়, অবকাঠামোও এখন বড় প্রশ্ন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার বেশিরভাগ ভবনই ভূমিকম্প-সহনশীল নয়। অনেক ভবন নির্মিত হয়েছে পর্যাপ্ত প্রকৌশল তত্ত্বাবধান ছাড়াই, আবার অনেকগুলো বছর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। এখনই রেট্রোফিটিং (ভবন শক্তিশালীকরণ) শুরু না করলে বড় বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব হবে না। বিশেষত স্কুল, হাসপাতাল, কারখানা—যেখানে অনেক মানুষ একসঙ্গে থাকে—এসব স্থাপনায় অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।</p>
<p>মানুষের আচরণগত প্রস্তুতিও অতি দুর্বল। সাম্প্রতিক কম্পনের সময় অনেকেই দৌড়ে সিঁড়ি বেয়ে নেমেছেন, কেউ লিফট ব্যবহার করেছেন, কেউ আবার ভবনের সামনে বৈদ্যুতিক তারের নিচে দাঁড়িয়েছেন—যে ভুলগুলো একটি ছোট কম্পনকেও প্রাণঘাতী করতে পারে। তাই ভূমিকম্প সচেতনতা শুধু সেমিনার বা বার্ষিক দিবস নয়—এটি হওয়া উচিত নিয়মিত নাগরিক অভ্যাস। অফিস, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অ্যাপার্টমেন্ট কমপ্লেক্স—সব জায়গায় মহড়া চালু করতে হবে।</p>
<p>বৈজ্ঞানিক সক্ষমতাও বৃদ্ধি করা জরুরি। ভূতত্ত্ব জরিপ অধিদপ্তর, আবহাওয়া অধিদপ্তর, এবং বিশ্ববিদ্যালয়-ভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আধুনিক যন্ত্র, উন্নত ভূকম্পন মানচিত্র এবং ডেটা বিশ্লেষণ সুবিধা দিতে হবে। ভারত-মিয়ানমারের সঙ্গে সার্বক্ষণিক তথ্য বিনিময় ভূমিকম্প পূর্বাভাস ও ঝুঁকি বিশ্লেষণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।</p>
<p>ডিজিটাল সচেতনতাকে বিশেষভাবে অগ্রাধিকার দিতে হবে। ১৩ কোটির বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর দেশে অনলাইন সম্প্রদায় সত্য ও গুজব উভয়ই দ্রুত ছড়িয়ে দিতে পারে। তাই ছোট ভিডিও, ইনফোগ্রাফিক, লাইভ সেশন, আর কমিউনিটি-লেবেলড কনটেন্টের মাধ্যমে স্পষ্ট ও নির্ভুল নির্দেশনা প্রচার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—যেমন: “ড্রপ, কভার, হোল্ড”, কম্পন থামার পর কীভাবে ভবন পরীক্ষা করতে হবে, কোথায় নিরাপদ সমাবেশস্থল ইত্যাদি।</p>
<p>ভূমিকম্প অপ্রত্যাশিত, কিন্তু প্রস্তুতি কখনোই অপ্রত্যাশিত হওয়া উচিত নয়। বাংলাদেশ সাইক্লোন প্রস্তুতিতে যেভাবে বৈপ্লবিক উন্নতি করেছে—এবার একই উদ্যমে আমাদের ভূমিকম্প প্রস্তুতিকেও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে হবে।</p>
<p>সাম্প্রতিক কম্পনগুলো প্রকৃতির সতর্কবার্তা—রোষ নয়। এগুলো আমাদের সুযোগ দিচ্ছে সামনে কীভাবে হাঁটব তা ঠিক করে নেওয়ার। ভূমিকম্প যে কোনো সময় আসতে পারে—কিন্তু আমরা প্রস্তুত কি না, সেটিই আসল প্রশ্ন।</p>
<p>প্রস্তুতি শুধু সরকার, বিজ্ঞানী বা প্রকৌশলীর দায়িত্ব নয়। এটি প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। প্রতিটি অ্যাপার্টমেন্টের পরিবার, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার্থী, প্রতিটি কারখানার শ্রমিক এবং প্রতিটি হাসপাতালে থাকা রোগীর নিরাপত্তার সঙ্গে জড়িত আমাদের সঠিক সিদ্ধান্ত।</p>
<p>মাটি আবার কাঁপবে—এটাই বাস্তবতা। কিন্তু আমাদের প্রস্তুতি থেমে থাকা চলবে না।</p>
<hr>
<p>লেখক: ডেপুটি ম্যানেজার (পাবলিক রিলেশনস), বেসিস এবং সাবেক স্টাফ রিপোর্টার, দ্য ডেইলি অবজারভার</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>কী সংস্কার হলো, কী সংস্কার বাকি</title>
<link>https://digibanglatech.news/159542</link>
<guid>https://digibanglatech.news/159542</guid>
<description><![CDATA[ &lt;h2 class=&quot;DShoulder&quot;&gt;&lt;span style=&quot;color: rgb(22, 145, 121); font-size: 12pt;&quot;&gt;তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংস্কারনামা&lt;/span&gt;&lt;/h2&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202511/image_870x580_691c56ded6932.jpg" length="74778" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 18 Nov 2025 17:22:45 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>আগস্ট ২০২৪-পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে বেশি যে শব্দটি ব্যবহার হয়েছে সেটি হচ্ছে ‘সংস্কার’। এই সরকারের ঘোষিত তিনটি মূল লক্ষ্যের (বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন) একটি হচ্ছে সংস্কার। এই সংস্কার শুধু কি সংবিধানের মতো সিরিয়াস বিষয়ের সংস্কার? না; নাগরিক সেবা, আইন ব্যবস্থা, পুলিশ, ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব বিষয়েই প্রয়োজনীয় ও জরুরি সংস্কার আনতে অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ব্যাপারে নাগরিকদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। কেননা, গত ১৫ বছর জবাবদিহির অভাবে অনেক প্রতিষ্ঠান এমন পর্যায়ে ধ্বংস হয়ে গেছে যে সংস্কার না করলে বর্তমান বা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমরা কার্যকর রাষ্ট্র, সমাজ বা অর্থনীতি কোনোটাই নিশ্চিত করতে পারব না। <br>তথ্যপ্রযুক্তি খাত শুধু এখন একটি ব্যবসায়িক খাত হিসেবেই সীমাবদ্ধ না। এটি এখন সব কিছুতেই জড়িয়ে আছে। নানা ধরনের নাগরিক সেবা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা পরিচালনা, কর ব্যবস্থা, ব্যাংকিং সেবা–এমন কোনো ক্ষেত্র নেই যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি এখন ব্যবহার হচ্ছে না। </p>
<p><br>আমরা যারা এই খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তারা গত বেশ কিছু বছর ধরে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে এসেছি ডিজিটাল ডিভাইডকে। শহরের উচ্চবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা যেভাবে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ব্যবহার করে উপকার পাচ্ছে, গ্রামের সাধারণ মানুষ সেটি পাচ্ছে না। কারণ, কানেকটিভিটির অভাব। সারাদেশে ব্রডব্যান্ড পৌঁছানো যায়নি হাজার হাজার কোটি টাকা খরচ করা হলেও। মোবাইল ডেটার খরচ একদিকে যেমন অনেক বেশি, অন্যদিকে অনেক জায়গায় স্পিড পাওয়া যায় না। এই সমস্যার সবচেয়ে বড় কারণ সবার জানা। বিগত সরকার তাদের ঘনিষ্ঠ লোকজনকে সহজে টাকা বানানোর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য বিটিআরসির মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরের লাইসেন্স দিয়েছে; যার কোনো প্রয়োজন ছিল না। দুটো বড় কোম্পানিকে সারাদেশে ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক করার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সবাইকে বাধ্য করা হয়েছিল তাদের সার্ভিস নেওয়ার জন্য। এতে প্রতিযোগিতা নষ্ট হয়েছে, আর অতিরিক্ত খরচের বোঝা পড়েছে সাধারণ গ্রাহকের ওপর। এই লাইসেন্স ব্যবস্থার সংস্কার একটি বড় দাবি ছিল আমাদের। একটু সময় লাগলেও এই বছরের সেপ্টেম্বর মাসে সরকার নতুন ‘টেলিকমিউনিকেশন নেওয়ার্কিং ও লাইসেন্সিং পলিসি ২০২৫’ প্রণয়ন করে। এটির ফলে বেশ কিছু কৃত্রিম লেয়ার আগামীতে বিলুপ্ত হবে বা কমে যাবে। প্রতিযোগিতা বাড়বে; যার উপকার পাবে সাধারণ গ্রাহক। ইন্টারনেটের দামও কমে আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এই নতুন লাইসেন্সিং পলিসির জন্য। এই পলিসি ছাড়াও বেশ কিছু সংস্কার উদ্যোগ বিটিআরসি ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় নিয়েছে; যার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে ইন্টারনেটের দামে। তবে ব্রডব্যান্ডের দাম কিছু কমলেও মোবাইল ডেটার দাম এখনও তেমন কমে নাই। মোবাইল ডেটার দাম না কমলে প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা, কৃষি বা স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া যাবে না, বিশেষ করে এআই এসব ক্ষেত্রে যে নতুন সুযোগ তৈরি করছে সেগুলো থেকে আমাদের জনগণের বড় একটা অংশ বঞ্চিত থাকবে। স্টারলিংক বাংলাদেশে কাজ শুরু করা অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বড় কৃতিত্ব। যদিও এর খরচ এখনও সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে। তবে আশা করা যায়, অনেক গ্রামে-গঞ্জে (যেখানে এখনও ব্রডব্যান্ড পৌঁছায় নাই) ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা (যেমন কেবল টিভির উদ্যোক্তা) স্টারলিংক ব্যবহার করে কম খরচে বাড়িতে বাড়িতে ব্রডব্যান্ড সার্ভিস দেওয়া শুরু করবে আগামী দিনগুলোতে।</p>
<p>এতো গেলো কানেকটিভিটি নিয়ে সংস্কারের কথা। ব্যাপক মানুষের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানোর আরও একটি বড় অন্তরায় আমাদের দেশের ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার (ডিপিআই)-এর অভাব। আমাদের পার্শবর্তী দেশ ভারত ও পাকিস্তান এই ব্যাপারে অনেক এগিয়ে গেছে। ডিপিআইর সবচেয়ে বড় ভিত্তি হচ্ছে ডিজিটাল জাতীয় আই-ডি (এনআইডি)। ভারতে আধার কার্ড জেনোন ডিজিটাল সার্ভিস নেওয়ার (অনলাইন ভেরিফিকেশন) জন্য ব্যবহার হয়। মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের দেশে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) চালু হয়েছিল ভারতেরও আগে ২০০৭ সালে। নাগরিক সেবার জন্য এর কিছু ব্যবহার সীমিত পর্যায়ে হচ্ছে। সিম, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা এমএফএস অ্যাকাউন্ট করতে অনলাইন এনআইডি ভেরিফিকেশন সার্ভিস ব্যবহার হচ্ছে। এর ব্যাপক ব্যবহার এখনও হচ্ছে না। এর একটা বড় কারণ বিগত সরকারের সময় একটি প্রাইভেট কোম্পানি দ্বারা পরিচালিত ‘পরিচয়’ নামের একটি প্রজেক্ট দিয়ে এই এনআইডি ভেরিফিকেশন সার্ভিস কুক্ষিগত করে রাখার প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে ‘পরিচয়’ প্রজেক্ট বন্ধ করে দেওয়া হয় দুর্নীতি ও ডেটা পাচারের অভিযোগে। এর বিকল্প হিসেবে কোনো সার্ভিস তৈরির কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ ব্যাপারে একটি বড় সমস্যা হচ্ছে, এনআইডি ডেটাবেজ এখনও ম্যানেজ করে নির্বাচন কমিশন। </p>
<p>নির্বাচন কমিশনের কোনো কারিগরি ও কৌশলগত ভিশন নেই এনআইডিকে কীভাবে অন্য দেশের মতো নাগরিক সেবার কেন্দ্রবিন্দু করা যায়। এ ছাড়াও ১৮ বছরের নিচের নাগরিকদের কোনো তথ্য বর্তমান এনআইডি ডেটাবেসে নেই–এ কারণে অনেক ক্ষেত্রেই বিভিন্ন নাগরিক সেবার জন্য এখনও জন্মসনদ বা অন্যান্য ডকুমেন্ট চাওয়া হয়। যতদিন পর্যন্ত আমরা এনআইডির ব্যবহার সর্বোত্তম করতে পারব না, ততদিন নাগরিক সেবাকে সহজ করা সম্ভব হবে না। এর জন্য প্রয়োজন ছিল একটি ‘জাতীয় এনআইডি অথরিটি’ স্থাপন করা। এটি একটি বড় সংস্কারের দাবি ছিল সরকারের কাছে; যার কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় নাই। </p>
<p><br>তবে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কয়েকটি ভালো আইনগত সংস্কার করে হয়েছে গত ৬ মাসে। একটি হচ্ছে ‘সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫’। অতীতের বিতর্কিত ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট বাতিল করে এটি প্রণয়ন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার বেশ কিছু ভালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে নতুন যে অপরাধগুলো বেড়ে যাচ্ছে (অনলাইন জুয়া, সাইবার বুলিং, হ্যাকিং ইত্যাদি) সেই অপরাধগুলোকে ভালোভাবে সংজ্ঞায়িত করে কঠোর শাস্তি ও জরিমানার ব্যবস্থা করে হয়েছে। তবে কোনোভাবেই অভিযুক্তরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় (যাতে জামিন পেতে পারে) সেই সুরক্ষাও রাখা হয়েছে। </p>
<p>আরও একটি যুগান্তরকারী আইনের খসড়া অক্টোবর মাসে অনুমোদন হয়েছে। এটি হচ্ছে ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ-২০২৫ (পিডিপিও)। এই আইনটি পাস হলে নাগরিকের ব্যক্তিগত ডেটার (আইডেনটিটি, ট্রান্সেকশন ইত্যাদি) মালিকানা নাগরিক নিজে পাবে। এর মাধ্যমে সে ডেটার বাণিজ্যিক ব্যবহার ও শেয়ার করার পথ উন্মুক্ত হবে। এই আইন পাস হলে বিভিন্ন ধরনের নতুন সেবা আমাদের আইটি কোম্পানিগুলো (ফিনটেক, ডিজিটাল ল্যান্ডিং, ডিজিটাল ইন্স্যুরেন্স, ই-হেলথ, ই-লার্নিং ইত্যাদি) গ্রাহকদের জন্য তৈরি করে ব্যবসা করতে পারবে। </p>
<p>নাগরিকদের মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তি সেবা ও তার ব্যবহার বাড়ানোর জন্য ওপরে উল্লিখিত সংস্কারগুলো করলেই যে সব পাল্টে যাবে, তা না। সবচেয়ে বড় প্রয়োজন সরকারি পর্যায়ে নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন। গত ১০-১৫ বছর আমরা দেখেছি ডিজিটাইজেশনের নাম শত শত কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এর বেশির ভাগ টাকা অপচয় হয়েছে দামি কম্পিউটার, ল্যাব ও সার্ভার কেনার জন্য। বড় সংস্কার দরকার ডিজিটাইজেশন এবং সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে। বর্তমানে সারা বিশ্বে ক্লাউডভিত্তিক স্যাস (সফটওয়্যার অ্যাজ আ সার্ভিস) মডেল জনপ্রিয় হচ্ছে। এক্ষেত্রে ক্রেতা প্রতিষ্ঠানের অনেক টাকা ব্যয় করে সার্ভার, কম্পিউটার বা সফটওয়্যার কেনার দরকার নেই। ইউজার সংখ্যা ও ব্যবহারভিত্তিক সার্ভিস ফি এটির ব্যবসায়িক মডেল। এতে অপচয় বন্ধ হয়, এককালীন খরচ কমে আসে এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের এই মডেল দিয়ে আগামীতে সরকারি পর্যায়ে নাগরিক সেবার ডিজিটাইজেশন উদ্যোগ নেওয়া একটি বড় প্রয়োজনীয় সংস্কার উদ্যোগ হবে আগামীতে নির্বাচিত নতুন সরকারের জন্য। </p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong> প্রযুক্তিবিদ ও প্রাবন্ধিক</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>চতুর্থ শিল্পবিপ্লবে চারদৃষ্টিকোণে সাইবার হুমকির উত্থান </title>
<link>https://digibanglatech.news/159497</link>
<guid>https://digibanglatech.news/159497</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202511/image_870x580_691ac326e55cd.jpg" length="122447" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 17 Nov 2025 11:39:43 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বা 4IR-এর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হচ্ছে তথ্য-প্রযুক্তি। আর 4IR একদিকে যেমন তথ্য-প্রযুক্তিকে ব্যবহার করে সুসংগঠিত হচ্ছে; তেমনই তথ্য-প্রযুক্তির সামগ্রিক পরিসর তথা সাইবার স্পেসকে বাড়িয়েছে বহুগুণে। এই মিথস্ক্রিয়ায় চতুর্থ শিল্প বিপ্লব আর তথ্য-প্রযুক্তি হয়েছে একে অন্যের পরিপূরক। </p>
<p>চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের অন্যতম প্রধান প্রযুক্তির মধ্যে আছে উচ্চ গতির ইন্টারনেট সংযোগ, ক্লাউড প্রযুক্তি, ডেটা সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI), রোবোটিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং, ইন্টারনেট অফ থিংস (IoT), এবং ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইন্টারনেট অব থিংস (IIoT) ইত্যাদি। এই প্রযুক্তিগুলোর অনেক কিছুই হবে ক্লাউড নির্ভর। সঙ্গত কারণেই তথ্য-প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহারের সাথে সাথে বাড়ছে সাইবার থ্রেট। প্রযুক্তি যত উন্নত হচ্ছে, ততই বাড়ছে সাইবার হুমকির ধরন। এই যেমন- এন্টি-ভাইরাস সফটওয়্যারগুলো প্রতিদিন কাজ করেছে নতুন নতুন ভাইরাস আর ম্যালওয়ার (ক্ষতিকারক সফটওয়্যার) এর বিরুদ্ধে। </p>
<p>চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের বিকাশের সাথে সাথে মূলত চারটি দৃষ্টিকোণ থেকে সাইবার হুমকির উত্থান দেখা যায়। প্রথমত, দিনের পর দিন বাড়ছে সাইবার হুমকির পরিসর। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের হাতিয়ার হিসাবে যেই প্রযুক্তিগুলো ব্যবহার হচ্ছে, সেগুলোর কারণে পূর্বের তুলনায় এখন অনেক বেশি সংখ্যক ডিভাইস ও অবকাঠামো সাইবার স্পেসের সাথে যুক্ত হচ্ছে। বিশেষ করে ট্র্যাডিশনাল IoT ডিভাইস ছাড়াও একের পর এক যুক্ত হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিয়াল IoT এবং সাইবার ফিজিক্যাল সিস্টেমস।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সাথে সাথে সাইবার অপরাধীরা  ক্রমশ আরো বেশি দক্ষতা অর্জন করছে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব প্রযুক্তিগুলোর দুর্বলতা খুঁজে বের করতে এবং সেটা কাজে লাগিয়ে আক্রমণ করার জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর ক্লাউডের ব্যবহার দেখা যাচ্ছে বহুলাংশে।  </p>
<p>তৃতীয়ত, সাইবার অপরাধীদের মোটিভ এবং সংযুক্ত আক্রমণের দক্ষতা এখন আগের থেকে অনেকে বেশি। অপরাধীরা এখন বিশেষ ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করে সুসংগঠিত ভাবে আক্রমণ করছে, এমনকি আক্রমণের পূর্বে প্রস্তুতিকালে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সহ নানাবিধ কৌশল প্রয়োগ করছেন তারা।</p>
<p>চতুর্থত, ইদানীং ডেটা ও ইনফরমেশনের উপর আগ্রহ বাড়ছে সাইবার অপরাধীদের।</p>
<p>র‍্যানসমওয়ার সহ বিভিন্ন ক্ষতিকর অনাকাঙ্ক্ষিত সফটওয়্যার বা ম্যালওয়ার ব্যবহার করে ডাটা আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায় বা ডাটা চুরি করার হার বেড়েছে অনেক। নিরাপত্তা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ক্যাস্পারিস্কির তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে সাড়ে তিন লক্ষের বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারি র‍্যানসমওয়ার আক্রমণের শিকার হয়েছেন।</p>
<p>এছাড়া ২০২২ সালে আগের বছরের তুলনায় নিদেনপক্ষে ২০ শতাংশ বেড়েছে সাইবার আক্রমণ।</p>
<p>চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে (4IR) সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন পদক্ষপ গ্রহণ করছে। কিছু দেশ, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন, সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা এবং উন্নয়নে ব্যাপকভাবে বিনিয়োগ করছে। এছাড়া সিঙ্গাপুর, ইসরায়েল সহ বিভিন্ন দেশ সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক দক্ষ জনবল তৈরিতে মনোনিবেশ করছে। আবার অন্য কিছু দেশ, যেমন এস্তোনিয়া এবং ডেনমার্ক, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কৌশল বিকাশে মনোনিবেশ করছে। </p>
<p>এক্ষেত্রে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। সরকার সাইবার নিরাপত্তাকে দেশের জন্য অর্থনৈতিক ও জাতীয় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় প্রণীত হয়েছে “বাংলাদেশ সাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি ২০২১-২০২৫” এবং প্রণীত হয়েছে ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি। স্ট্র্যাটেজিতে উদীয়মান প্রযুক্তি যেমন বিগ ডাটা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, IoT, ব্লক চেইন ইত্যাদির জন্য ভিন্ন নীতিমালা ও আইনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করা হয়। এছাড়া সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞে জনবল বৃদ্ধির স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের  জন্য আলাদা আলাদা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়। যদিও কৌশলপত্রে মোটাদাগে উদীয়মান প্রযুক্তি ও জনবল তৈরির কথা বলা হয়েছে, কিন্তু চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপর আলোকপাতের অভাব সমন্বয়হীনতার লক্ষণ মাত্র।</p>
<p>অন্যদিকে এখন পর্যন্ত সরকার চতুর্থ শিল্প বিপ্লব এবং তার নিরাপত্তা নীতিমালা সংক্রান্ত কোনও কৌশলপত্র তৈরি করেনি। একইসাথে স্মার্ট বাংলাদেশের ব্যানারে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে; তার প্রায় সবগুলোই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে সংযুক্ত এবং ডিজিটাল পরিসেবা ও অর্থনীতি নির্ভর। স্মার্ট বাংলাদেশের অন্যতম স্তম্ভ হিসাবে স্মার্ট ইকোনমির কথা বলা হচ্ছে। স্মার্ট ইকোনমি যদি নির্মাণ করতে হয়ে তাহলে অবশ্যই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের পর্যাপ্ত বিকাশ প্রয়োজন। স্মার্ট ইকোনমির ভিত্তি হবে স্মার্ট সাপ্লাই এবং প্রোডাকশন চেইন ম্যানেজমেন্ট, ব্লকচেইন এবং আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ইত্যাদি।</p>
<p>প্রথাগত দিকে থেকে বাংলাদেশের সাইবার সিকিউরিটি অনুশীলন খুব উন্নত মানের না হলেও মোটা দাগে সন্তোষজনক। আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ই-গভরনেন্স একাডেমি এক জরিপে জানায় জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সূচকে বাংলাদেশের প্রাপ্ত নম্বর ৬৭.৫৩ এবং আন্তর্জাতিক রাঙ্কিং এ ৩৫তম অবস্থানে আছে বাংলাদেশ।</p>
<p>নির্দ্বিধায় এগুলো আশাব্যাঞ্জক। এই অর্জনের পেছনে বিভিন্ন পলিসি পেপার প্রণয়ন ও একাধিক সংস্থা স্থাপন যেমন ডিজিটাল সিকিউরিটি এজেন্সি, ন্যাশনাল CIRT, ইত্যাদির ভূমিকা প্রধান। কিন্তু IoT বা ইন্ডাস্ট্রিয়াল IoT এর নীতিমালায় সাইবার সিকিউরিটি সংক্রান্ত আলোচনার অভাব দেখা যায়। </p>
<p>এক পাক্ষিকভাবে সাইবার সিকিউরিটির সব দায়িত্ব সরকার বা নীতিনির্ধারকদের ওপর বর্তালেও চলবে না। সরকার যে নীতিমালা বা আইন তৈরি করবে সেটা অনেকক্ষেত্রে হতে পারে আরোপিত। এই ভাবনা থেকে উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিবিদদের স্বপ্রণোদিত হয়ে এগিয়ে আসতে হবে। </p>
<p>সাইবার সিকিউরিটি এখন শুধুমাত্র প্রযুক্তিবিদদের বা ব্যবহারকারিদের বিষয় নয়।</p>
<p>চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, স্মার্ট বাংলাদেশসহ সব কিছুই এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি নির্ভর। এই অবস্থায় সাইবার সিকিউরিটি নিয়ে সমন্বিত পরিকল্পনা একান্ত প্রয়োজন, অন্যথায় ব্যাপক পরিসরে বাড়বে অর্থনৈতিক এবং সামাজিক ঝুঁকি। মনে রাখতে হবে একটি শিল্প বিপ্লবের ফলে অর্থনৈতিক কাঠামোর পাশাপাশি পরিবর্তিত হয় সমাজ কাঠামো এবং মননশীলতা। </p>
<hr>
<p><strong>লেখক:</strong>  তথ্য-প্রযুক্তিবিদ এবং বাংলাদেশ সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেটরস ফোরাম-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেসের তুলনায় ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সুবিধা</title>
<link>https://digibanglatech.news/159310</link>
<guid>https://digibanglatech.news/159310</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202511/image_870x580_6913e1b72e591.jpg" length="95627" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 12 Nov 2025 08:10:49 +0600</pubDate>
<dc:creator>সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>প্রযুক্তির বিকাশের সাথে সাথে ইন্টারনেট সংযোগের ধরনও হয়েছে বহুমাত্রিক। পারিবারিক ও ব্যবসায়িক ইন্টারনেট সংযোগের জন্য বর্তমানে দুটি সাধারণ বিকল্প হলো ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট (সাধারণত ক্যাবল, ফাইবার বা DSL এর মাধ্যমে সরবরাহকৃত) এবং ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস (FWA) ইন্টারনেট। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের রয়েছে নানা সুবিধা যা ব্যবহারকারীদের সংযোগের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে।<br>বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো (ISP) ইতিমধ্যে ফাইবার অপটিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ১০০ এমবিপিএস থেকে ১ গিগাবিট পর্যন্ত উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড সেবা সফলভাবে  গ্রামীণ এলাকাতেও অত্যন্ত সাশ্রয়ী মূল্যে ছড়িয়ে দিয়েছে।</p>
<p><strong>১. অধিক নির্ভরযোগ্যতা ও স্থিতিশীলতা</strong><br>ফাইবার অপটিক বা ক্যাবল ভিত্তিক ব্রডব্যান্ড সংযোগ সাধারণত ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেসের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ও স্থিতিশীল। তারযুক্ত সংযোগ আবহাওয়া, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা বা ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক প্রতিঘাতের মতো পরিবেশগত প্রভাব থেকে অনেকাংশে মুক্ত থাকে। ফলে সংযোগের গুণগতমান ও ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।</p>
<p><strong>২. উচ্চ গতি ও ব্যান্ডউইথ</strong><br>ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সাধারণত ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেসের তুলনায় উচ্চতর গতি ও ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করে। বিশেষ করে ফাইবার-অপটিক ব্রডব্যান্ড গিগাবিট গতির সেবা দিতে পারে, যা উচ্চ-রেজ্যুলেশনের ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং এবং বড় আকারের ডেটা স্থানান্তরের মতো কাজের জন্য উপযোগী। অপরদিকে, ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস স্পেকট্রামের সীমাবদ্ধতা ও সিগন্যাল শক্তির উপর নির্ভরশীল হওয়ায় এর সর্বোচ্চ গতি তুলনামূলকভাবে কম থাকে।</p>
<p><strong>৩. কম ল্যাটেন্সি</strong><br>ল্যাটেন্সি অর্থাৎ ডেটা ব্যবহারকারী ও ইন্টারনেটের মধ্যে যাতায়াতের সময় সাধারণত ব্রডব্যান্ড সংযোগে কম হয়। এটি ভিডিও কনফারেন্সিং, অনলাইন গেমিং ও ভয়েস ওভার আইপি (VoIP) কলের মতো রিয়েল-টাইম অ্যাপ্লিকেশনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফিক্সড ওয়্যারলেস সংযোগে সিগন্যাল ট্রান্সমিশন ও সম্ভাব্য বাধার কারণে ল্যাটেন্সি বেশি হতে পারে।</p>
<p><strong>৪. পরিবেশগত প্রভাবের কম সংবেদনশীলতা</strong><br>তারযুক্ত অবকাঠামোর মাধ্যমে সরবরাহকৃত ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বৃষ্টি, তুষারপাত, গাছপালা বা ভবনের মতো অবকাঠামো কেন্দ্রিক প্রতিবন্ধকতার প্রভাবে খুব একটা ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। ফলে বছরজুড়ে সংযোগ স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য থাকে।</p>
<p><strong>৫. স্কেলেবল ও হালনাগাদকরণে সুবিধা</strong><br>বিশেষত ফাইবার নেটওয়ার্কগুলো অত্যন্ত স্কেলেবল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ভবিষ্যতে সহজে আপগ্রেড করা যায়। চাহিদা বৃদ্ধির সাথে সাথে নতুন প্রযুক্তি সংযোজনও তুলনামূলক সহজ। বিপরীতে, ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস স্পেকট্রাম ও যন্ত্রপাতির সীমাবদ্ধতার কারণে আপগ্রেড প্রক্রিয়া কঠিন এবং প্রায়ই নতুন হার্ডওয়্যারে বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়।</p>
<p><strong>৬. উচ্চ ডেটা ক্যাপ বা আনলিমিটেড সুবিধা</strong><br>ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্যাকেজগুলো সাধারণত উচ্চ ডেটা ক্যাপ বা আনলিমিটেড ডেটা সুবিধা প্রদান করে, যা ভারী ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বা একাধিক সংযুক্ত ডিভাইসসহ পরিবারের জন্য উপযোগী। অপরদিকে, ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস প্রদানকারীরা ব্যান্ডউইথ সীমাবদ্ধতার কারণে প্রায়শই কঠোর ডেটা সীমা নির্ধারণ করে। ফিক্সড ওয়্যারলেস ইন্টারনেট গ্রামীণ বা দুর্গম এলাকায় একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে, তবে তারযুক্ত অবকাঠামোভিত্তিক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গতি, নির্ভরযোগ্যতা, ল্যাটেন্সি, প্রসারমাণতা ও সামগ্রিক পারফরম্যান্সের দিক থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে শ্রেষ্ঠ। যেখানে উভয় বিকল্পই বিদ্যমান, সেখানে টেকসই ও ভবিষ্যতমুখী সংযোগের জন্য ব্রডব্যান্ডই পছন্দের শীর্ষে থাকে।</p>
<p>বাংলাদেশে ফিক্সড ওয়্যারলেস অ্যাক্সেস (FWA) অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে, তৎকালীন প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের নেতৃত্বে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তে জনমত গ্রহণ বা সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক সংগঠনগুলোর অংশগ্রহণ ছিল না। ওই সময়ে BASIS, ISPAB, BACCO এবং e-Cab-এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ সংগঠন কোনো পরামর্শ প্রক্রিয়াতেই অন্তর্ভুক্ত ছিল না। বিগত সরকারের সময় বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC)-এর নেতৃত্বে একাধিক পরিবর্তন হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত কয়েকজন চেয়ারম্যানের কারণে কমিশনের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অনেক স্টেকহোল্ডার মনে করেন, এ সময়ে কমিশন সাধারণ টেলিকম অপারেটরদের স্বার্থ রক্ষায় কম সক্রিয় ছিল। একাধিক ক্ষেত্রে মনোপলি, ডুয়োপলি এমনকি সিন্ডিকেট গঠনের ঘটনা ঘটে, যেখানে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী রাজনৈতিক সম্পর্ক ব্যবহার করে বাজার দখলের চেষ্টা করেছেন। এতে সাধারণ অপারেটরদের জন্য সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র বিনষ্ট হয়েছে। </p>
<p>আশা করা যায়, নতুন টেলিকম অধ্যাদেশ অনুযায়ী এফটিএসপি (Fixed Telecommunication Service Providers) অপারেটরদের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে। তবে তা তখনই সম্ভব হবে; যদি না এটি যথাযথ ব্যবস্থাপনায় থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত থাকে। ব্যবহারিক চাহিদা অনুযায়ী, ফিক্সড ওয়্যারলেস ইন্টারনেট সেবা শুধুমাত্র এফটিএসপি অপারেটরদের জন্য সংরক্ষিত থাকা উচিত। একইভাবে মোবাইল ওয়্যারলেস ইন্টারনেট থাকা উচিত সিএমএসপি (Cellular Mobile Service Providers)-এর আওতায়। এই বিভাজনটি শুধু জনস্বার্থের জন্য নয়, বরং দেশের ২,২০০টি স্থানীয় এফটিএসপি অপারেটরের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহকারী প্রায় ১০ লক্ষ পরিবারের টিকে থাকার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<hr>
<p><strong>লেখক:</strong> সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি, আইএসপিএবি</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ট্রেন্ডের বাইরে টিকে থাকা: স্থাপত্যে স্লেটের দর্শন</title>
<link>https://digibanglatech.news/159138</link>
<guid>https://digibanglatech.news/159138</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202511/image_870x580_690cccdb00382.jpg" length="118013" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 06 Nov 2025 18:31:22 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p><span lang="BN">একটি নতুন বাংলাদেশি স্থাপত্য শিল্প স্টুডিও</span>, <span lang="BN">যারা মানুষের প্রয়োজন আর উদ্দেশ্যকে প্রাধান্য দিচ্ছে</span>, <span lang="BN">প্রতিনিয়ত। </span><o:p></o:p><span lang="BN">ঢাকা শহর প্রতিদিনই বদলে যাচ্ছে</span>, <span lang="BN">চারিদিকে নতুন নতুন ভবন</span>, <span lang="BN">নতুন নকশা। কিন্তু এই ব্যস্ততার মাঝেও </span>Slate (<span lang="BN">স্লেট) কাজ করছে তাদের নিজস্বতায়। তারা বিশ্বাস করে</span>, <span lang="BN">স্থাপত্য শুধু দৃষ্টিনন্দন কিছু নয়</span>; <span lang="BN">এর আসল উদ্দেশ্য হলো মানুষের জীবনকে সহজ</span>, <span lang="BN">সুন্দর ও অর্থবহ করা।</span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN">স্লেটের জন্য আর্কিটেকচার মানে শুধুমাত্র প্রদর্শন নয়</span>, <span lang="BN">বরং জীবনের এক অংশ হওয়া। তাদের মূল বিশ্বাস প্রতিটি নকশার পেছনে একটি কারণ থাকা প্রয়োজন যা তাদের শিল্পকে মানুষের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করবে। তাদের ট্যাগলাইন "</span>Design with Purpose” <span lang="BN">কোনো বিজ্ঞাপনী লাইন নয়</span>, <span lang="BN">বরং তাদের কাজের মূলনীতি। প্রতিটি প্রকল্প শুরুর আগে তারা নিজেদের প্রশ্ন করে এই জায়গাটা কেন থাকা দরকার</span>?"<o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN">এই প্রশ্নের উত্তরই গড়ে দেয় তাদের প্রতিটি কাজের দিকনির্দেশনা। হোক সেটা একটি বাড়ি বা অফিস। প্রতিটি জায়গা তারা এমনভাবে তৈরি করে যেন সেখানে মানুষ যেনো তার স্বাভাবিক ছন্দ অনুভব করতে পারে। তারা চিন্তা করে</span>, <span lang="BN">একটি বাড়ি এমন একটি পরিবেশ যেখানে পরিবারের সদস্যরা বসবাস করে</span>, <span lang="BN">বেড়ে ওঠে</span>, <span lang="BN">একসাথে সময় কাটায়। অফিস প্রজেক্টগুলোর ক্ষেত্রেও একই কথা। এটি শুধু কাজের জায়গা নয়</span>, <span lang="BN">বরং এমনভাবে ডিজাইন করা যাতে মানুষ তার নিজস্ব সৃজনশীলতার সাথে যুক্ত থাকতে পারে।</span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN">স্লেটের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো তারা সবসময় মানুষের অনুভূতিকে প্রাধান্য দেয়। তারা প্রায়ই বলে</span>, “<span lang="BN">একটি বিল্ডিং তখনই সফল</span>, <span lang="BN">যখন ভিতরে থাকা মানুষেরা ভালো বোধ করে</span>, <span lang="BN">নিজেদের কানেক্ট করতে পারে।”</span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN">যখন অনেকে করতালির বা সাধুবাদের জন্য বিল্ডিং বানায়</span>, <span lang="BN">স্লেট সেখানে তার প্রতিটি নকশা করে সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকার জন্য। ফলাফল হিসেবে তৈরি হয় এমন সব স্থাপত্য যা নিঃশব্দে মানুষের জীবনকে উন্নত করে। স্থাপত্যগুলো দেখিয়ে দেয়</span>, <span lang="BN">নিঃশ্বব্দে নিজস্বতা বজায় রাখা সম্ভব।</span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN">বাংলাদেশের অন্যতম চিন্তাশীল ডিজাইন স্টুডিও হিসেবে স্লেট প্রমাণ করেছে ভালো ডিজাইন মানে দামি বা জটিল কিছু নয় বরং সৎ ও অর্থবহ কিছু। তাদের প্রতিটি প্রজেক্ট শুধু বিল্ডিং হয়ে দাঁড়িয়ে থাকার জন্য নয় বরং মানুষের জীবনের অংশ হয়ে ওঠার জন্য।</span></p>
<p><o:p></o:p><strong><span lang="BN">স্থাপত্যের মানবিক ভাষা: সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরান ও স্লেটের গল্প</span></strong><o:p></o:p></p>
<p><o:p> </o:p>“<span lang="BN">স্থাপত্য শুধু আজকে মুগ্ধ করবে না</span>, <span lang="BN">আগামীকেও করবে অনুপ্রাণিত।”</span><span lang="BN"> </span><span lang="BN">কথাটি বলেন স্লেট (</span>Slate) <span lang="BN">এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরান</span>, <span lang="BN">যিনি স্থাপত্যের ভাষাকে পড়েন নিজের দর্শনের ভাষায়।</span><o:p></o:p></p>
<p><o:p> </o:p><span lang="BN">সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরান</span>, <span lang="BN">প্রথম পরিচিতি পান এডিসন রিয়েল এস্টেট-এ কাজের মাধ্যমে</span>, <span lang="BN">যেখানে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে প্রশংসিত কিছু প্রকল্পের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তিনি বুঝতে পারেন</span>, <span lang="BN">তাঁর দৃষ্টি প্রচলিত রিয়েল এস্টেটের সীমার বাইরে। তিনি এমন একটি জায়গা তৈরি করতে চেয়েছিলেন যেখানে ডিজাইন শুধুমাত্র বিক্রির হিসাবে নয়</span>, <span lang="BN">বরং উদ্দেশ্যের দ্বারা পরিচালিত হবে।</span><o:p></o:p></p>
<p><o:p> </o:p><span lang="BN">সেই চিন্তা থেকেই জন্ম নেয় স্লেট</span>, <span lang="BN">যেখানে প্রতিটি নকশা শুরু হয় মানুষের কথা ভেবে।</span><o:p></o:p></p>
<p><o:p> </o:p><span lang="BN">শুরুর পর থেকেই স্লেট বাংলাদেশের আধুনিক স্থাপত্যকে এক নতুন রূপ দিয়ে চলছে। চকচকে ভবন আর ধার করা নকশায় যেখানে শহরটা ভরে আছে</span>, <span lang="BN">সেখানে সেই একই শহরের বুকে স্লেটের কাজ আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। তাদের স্থাপত্য বিদেশি স্টাইলের নকল নয়</span>, <span lang="BN">বরং এমন নকশা তৈরি করা যা আমাদের আবহাওয়া</span>, <span lang="BN">সংস্কৃতি ও জীবনের সঙ্গে মানিয়ে যায়।</span><o:p></o:p></p>
<p><o:p> </o:p><span lang="BN">ইমরানের নেতৃত্বে</span>, <span lang="BN">স্লেট প্রতিটি প্রকল্পকে এক একটি গল্প হিসেবে দেখে। তাদের প্রথম প্রশ্ন থাকে</span>, “<span lang="BN">এই জায়গাটা যুগের পর যুগ ধরে কিভাবে বেঁচে থাকবে।</span>?” <span lang="BN">ছোট্ট একটি বাড়ি হোক বা বড় কোনো উন্নয়ন প্রকল্প</span>, <span lang="BN">প্রতিটিতেই তারা খুঁজে নেয় বিষয়</span>, <span lang="BN">অনুভূতি ও টেকসইতা।</span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN">ইমরানের কাছে ডিজাইন মানে প্রতিযোগিতা নয়</span>, <span lang="BN">বরং মানুষের অনুভূতি বুঝতে পারা। তাঁর নেতৃত্বে স্লেটের দল নির্ভুলতা ও সংবেদনশীলতাকে একত্র করে এমন স্থাপনা গড়ে তুলছে</span>, <span lang="BN">যা দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকছে।</span><o:p></o:p></p>
<p><o:p> </o:p><span lang="BN">বাংলাদেশের স্থাপত্য যখন দ্রুত বদলাচ্ছে</span>, <span lang="BN">স্লেট সেখানে এক নীরব বিপ্লব। তারা মনে করিয়ে দেয়</span>, <span lang="BN">অগ্রগতি শুধু কাঁচ আর ইস্পাতে হয় না</span>, <span lang="BN">হয় চিন্তা</span>, <span lang="BN">সংযম এবং মানবিকতার মধ্য দিয়ে। </span><o:p></o:p><span lang="BN">স্লেটের মাধ্যমে সৈয়দ মোহাম্মদ ইমরান শুধু ভবন নির্মাণ করছেন না</span>, <span lang="BN">তৈরি করছেন একটি চিন্তার শিল্প। তাঁর বিশ্বাস</span>, <span lang="BN">একটি ভালো স্থাপত্য মানে মানুষের হৃদয়কে ছুঁতে পারা</span>, <span lang="BN">শুধু আকাশকে নয়।</span></p>
<hr>
<p>লেখকঃ সিনিয়র মিডিয়া অ্যাডভাইজার, টপ অব মাইন্ড</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সামরিক&#45;বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের নীতি&#45;গবেষণা ও প্রস্তাবনা</title>
<link>https://digibanglatech.news/159045</link>
<guid>https://digibanglatech.news/159045</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202511/image_870x580_690975de88ed1.jpg" length="96935" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 04 Nov 2025 00:40:50 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">মিসাইলের মতো দূরনিয়ন্ত্রিত ক্ষেপনাস্ত্রের সঙ্গে এখন আধুনিক প্রযুক্তির ক্ষুদ্র ড্রোন সামরিক সক্ষমতায় যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাপনায় তাই কৌশলের সঙ্গে প্রকৌশল জড়িয়ে পড়েছে অঙ্গাঅঙ্গি ভাবে। এক্ষেত্রে আমদানি নির্ভর যুদ্ধ সরঞ্জামের পাশাপাশি প্রযুক্তি বিনিময় ও দেশীয় প্রযুক্তি উদ্ভাবনের মাধ্যমে সামরিক সক্ষমতা অর্জন গুরুত্ববহ হয়ে উঠেছে। কিন্তু</span><span style="font-family: Kalpurush;"> স্বাধীনতার পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পরেও দেশের প্রতিরক্ষা খাত মূলত আমদানিনির্ভর। এটি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি এবং অর্থনৈতিকভাবে চাপও বটে। এমন ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়িয়ে, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে একটি আত্মনির্ভরশীল ও রপ্তানিমুখী প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের জন্য। এরইমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বিশেষায়িত 'প্রতিরক্ষা অর্থনৈতিক অঞ্চল' (Defence Economic Zone - DEZ) স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যা এই খাতে একটি নতুন গতি সঞ্চারের ইঙ্গিত দেয়। এর মাধ্যমে<span> প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম আমদানি-নির্ভরতা কমিয়ে ড্রোন, সাইবার প্রযুক্তি ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম দেশেই উৎপাদন করে দেশের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি রপ্তানির সুযোগও তৈরি করবে। এর জন্য দীর্ঘমেয়াদী নীতি, সরকারি সমর্থন এবং বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা প্রয়োজন। </span>এই প্রেক্ষাপটে, একটি সুসংগঠিত ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা শিল্প নীতি প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি, যা বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাত ও অভিজ্ঞ সামরিক বাহিনীর সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী জাতীয় ক্ষমতা গড়ে তুলবে। <o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">১. সারসংক্ষেপ ও প্রস্তাবিত নীতির মূল কথা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">১. ১. প্রস্তাবিত মডেল: প্ল্যাটফর্ম ও অস্ত্র উৎপাদনে বেসরকারি খাত ও সামরিক বাহিনীর ভূমিকা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপট ও আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা শিল্পনীতির প্রেক্ষাপটে প্রস্তাবিত মডেল অনুযায়ী:<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">বেসরকারি খাতের নেতৃত্ব:</span></b><span style="font-family: Kalpurush;"> দেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি শিল্পগোষ্ঠী যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ট্যাংক, যুদ্ধজাহাজ ও সাবমেরিনের মতো প্রধান প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন ও উৎপাদনে নেতৃত্ব দেবে। এই খাতের ব্যবসায়িক দক্ষতা, উদ্ভাবনী শক্তি এবং প্রতিযোগিতামূলক চেতনা এই জটিল প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব:</span></b><span style="font-family: Kalpurush;"> অন্যদিকে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি - BOF, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি - BMTF) এই প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ, ও ক্ষেপণাস্ত্র ডিজাইন ও উৎপাদনের দায়িত্ব পালন করবে। সামরিক বাহিনীর কৌশলগত জ্ঞান, নিরাপত্তা প্রয়োজন এবং অপারেশনাল অভিজ্ঞতা এই স্পেশালাইজড ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজ করবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">এই মডেলটি দক্ষিণ কোরিয়া ও তুরস্কের সাফল্যের মডেলের অনুরূপ, যেখানে বেসরকারি খাতের নেতৃত্বে প্ল্যাটফর্ম উৎপাদন এবং সরকারি সমন্বয়ে সাব-সিস্টেম উন্নয়ন একটি কার্যকর সমন্বয় তৈরি করেছে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">১.২. নীতি কাঠামোর মূল লক্ষ্য: আত্মনির্ভরশীলতা, রপ্তানি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">প্রস্তাবিত প্রতিরক্ষা শিল্প নীতির মূল লক্ষ্য তিনটি:<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">কৌশলগত আত্মনির্ভরশীলতা:</span></b><span style="font-family: Kalpurush;"> বিদেশি প্রযুক্তি ও আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">রপ্তানি-উন্নত খাত গড়ে তোলা: </span></b><span style="font-family: Kalpurush;">আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে মানসম্মত প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান:</span></b><span style="font-family: Kalpurush;"> প্রতিরক্ষা শিল্পকে একটি হাই-টেক শিল্প হিসেবে গড়ে তুলে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে একটি নতুন প্রবৃদ্ধির খাত যোগ করা।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">এই লক্ষ্যগুলো অর্জনের জন্য একটি ব্যাপক নীতি কাঠামোর প্রয়োজন, যা সংগঠনগত কাঠামো, অর্থায়ন কৌশল, গবেষণা ও উন্নয়ন, রপ্তানি কৌশল এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর সমন্বয়ে গঠিত।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;"><o:p> </o:p></span><b><span style="font-family: Kalpurush;">২. বাংলাদেশের বর্তমান প্রতিরক্ষা শিল্প: একটি SWOT বিশ্লেষণ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণের পূর্বে বর্তমান অবস্থার একটি বাস্তবভিত্তিক ও গভীর বিশ্লেষণ অপরিহার্য। একটি SWOT (Strengths, Weaknesses, Opportunities, Threats) বিশ্লেষণের মাধ্যমে আমরা দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ খাতের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতা এবং বাইরের পরিবেশের চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করতে পারি। জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজ (NDC) কর্তৃক পরিচালিত এক গবেষণা এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যের ভিত্তিতে এই বিশ্লেষণটি উপস্থাপন করা হলো, যা একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত প্রতিরক্ষা শিল্প নীতি প্রণয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে ।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">২.১. শক্তি (Strengths)<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">২.১.১. অভিযোজিত জনশক্তি ও কৌশলগত অবস্থান<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের অন্যতম প্রধান শক্তি হলো এর অভিযোজিত ও সম্পদশালী জনশক্তি। দেশটি শ্রম খাতে বিশ্বের অন্যতম সস্তা উৎস হওয়ায়, শিল্প উৎপাদনে শ্রম ব্যয় কম রাখা সম্ভব, যা প্রতিযোগিতামূলক মূল্য নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রাখে । এছাড়া, হালকা প্রকৌশল শিল্প (Light Engineering Sector) সহ বেসরকারি খাতে দক্ষ কারিগরি জনবল রয়েছে, যারা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে অবদান রাখার সম্ভাবনা রাখে। এই জনশক্তি দ্রুত নতুন প্রযুক্তি শিখে নিতে সক্ষম এবং চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় উদ্ভাবনী ক্ষমতা দেখিয়ে থাকে। এই অভিযোজনযোগ্যতা একটি উদীয়মান প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য অত্যন্ত মূল্যবান, কারণ এটি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দক্ষতা নিশ্চিত করে। দেশের কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থানও একটি সম্ভাবনাময় শক্তি হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও রপ্তানি বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে সুবিধা প্রদান করতে পারে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">২.১.২. হালকা অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনে অভিজ্ঞতা<o:p></o:p></span></b><b><span style="font-family: Kalpurush;"><o:p> </o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই হালকা অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনে কিছু পরিমাণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, যা প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তি গড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (BOF) এবং বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (BMTF) এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলো এই খাতে কাজ করে আসছে । এই অভিজ্ঞতা শুধু উৎপাদন প্রক্রিয়ার সাথে পরিচিত হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, সরবরাহ ব্যবস্থাপনা এবং সামরিক বাহিনীর নির্দিষ্ট প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য তৈরির ক্ষেত্রে একটি বাস্তব জ্ঞানের ভিত্তি তৈরি করেছে। এই অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে আরও উন্নত ও জটিল সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের পথে একটি সূচনা বিন্দু হিসেবে কাজ করতে পারে। <o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">২.১.৩ বিদ্যমান অবকাঠামো: বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (BMTF) ও অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (BOF)<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলো বিদ্যমান অবকাঠামো, বিশেষ করে বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (BMTF) এবং বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (BOF)। BMTF-এর একটি বিস্তৃত অবকাঠামো রয়েছে, যা বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার করা যেতে পারে । এই প্রতিষ্ঠানটির শ্রমিকদের মেশিনিং, ওয়েল্ডিং এবং ইলেকট্রনিক্সে মৌলিক দক্ষতা রয়েছে, যা নতুন উৎপাদন লাইনে দ্রুত অভিযোজনের সহায়ক। অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (BOF) এর মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা এবং সামরিক বাহিনীর সাথে সরাসরি সম্পর্ক এই শক্তিকে আরও বেশি কার্যকর সহায়ক হিসাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। এই অবকাঠামোকে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে পারে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">২.২ দুর্বলতা (Weaknesses)<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">২.২.১ উন্নত প্রযুক্তি ও গবেষণা-উন্নয়নে ঘাটতি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো উন্নত প্রযুক্তি ও গবেষণা-উন্নয়ন (R&amp;D) খাতে সুস্পষ্ট ঘাটতি। প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী একটি অত্যন্ত একচেটিয়া ও নিয়ন্ত্রিত, যেখানে নতুন প্রযুক্তি অর্জন করা কঠিন এবং ব্যয়বহুল। বাংলাদেশের বর্তমান প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশই উৎপাদন-কেন্দ্রিক, যেখানে নতুন ডিজাইন ও উদ্ভাবনের জন্য প্রয়োজনীয় গবেষণা কাঠামো ও বিনিয়োগের অভাব রয়েছে। এই প্রযুক্তিগত ব্যবধানের ফলে দেশটি স্টেট-অফ-দ্য-আর্ট প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে পিছিয়ে পড়েছে এবং বিদেশি প্রযুক্তির ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। এই নির্ভরতা শুধু আর্থিকভাবে চাপ সৃষ্টি করেনি, জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও একটি ঝুঁকি তৈরি করেছে, বিশেষ করে যখন প্রযুক্তি সরবরাহকারী দেশগুলোর সাথে রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">২.২.২. সামরিক বাহিনীর ম্যানুফ্যাকচারিং সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মূল ভার সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ন্যস্ত। যদিও এই প্রতিষ্ঠানগুলো নির্দিষ্ট কিছু পণ্য উৎপাদনে সক্ষম, তাদের উৎপাদন ক্ষমতা, প্রযুক্তিগত জটিলতা এবং বাজার-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনার অভাব রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো প্রধানত সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর জন্য কাজ করে, যার ফলে বাণিজ্যিক উৎপাদন ও রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। তাছাড়া, একটি সম্পূর্ণরূপে সামরিক নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা উদ্ভাবনী চিন্তাভাবনা ও দক্ষতার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা একটি গতিশীল প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য অপরিহার্য।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">২.২.৩. বেসরকারি খাতের সীমিত অংশগ্রহণ ও নীতিগত অস্পষ্টতা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি খাত, বিশেষ করে হালকা প্রকৌশল, জাহাজ নির্মাণ, সামরিক যান উৎপাদন প্রতিরক্ষা শিল্পে তাদের অংশগ্রহণ সীমিত করেছে । এই সীমাবদ্ধতার পেছনে অন্যতম প্রধান কারণ হলো একটি সুস্পষ্ট ও অনুকূল নীতিগত কাঠামোর অভাব। বেসরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য প্রতিরক্ষা খাতে বিনিয়োগের পথ স্পষ্ট নয়, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া জটিল, এবং প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বিদেশি অংশীদারিত্বের নীতিমালা অস্পষ্ট। ফলে, এই খাতের বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। একটি সমন্বিত ও উদার নীতি গ্রহণের মাধ্যমে বেসরকারি খাতকে এই শিল্পে সম্পৃক্ত করা গেলে, দেশের প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বৈচিত্র্য, উদ্ভাবন ও দক্ষতা বৃদ্ধি পেতে পারে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">২.৩. সুযোগ (Opportunities)<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">২.৩.১. বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তর<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বিশ্বব্যাপী প্রতিরক্ষা শিল্পে অফসেট (Offset) নীতির একটি বৃদ্ধি পাওয়া যাচ্ছে, যেখানে অস্ত্র ক্রয়ের শর্ত হিসেবে বিক্রেতা দেশ ক্রেতা দেশে কিছু পরিমাণ প্রযুক্তি হস্তান্তর, যৌথ উৎপাদন বা বিনিয়োগের অঙ্গীকার করে । বাংলাদেশ তার বর্ধমান প্রতিরক্ষা ক্রয় বাজেটের সুযোগ নিয়ে এই ধরনের চুক্তি আদায় করতে পারে। এতে করে দেশে উন্নত প্রযুক্তি প্রবেশের পথ সুগম হবে এবং স্থানীয় শিল্পের দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে। এছাড়া, বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করলে, আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে তাদের উৎপাদন কেন্দ্র স্থাপনে আগ্রহী হতে পারে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও প্রযুক্তি স্থানান্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">২.৩.২. আঞ্চলিক বাজারে রপ্তানির সম্ভাবনা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও অস্ত্র রপ্তানির একটি বর্ধমান বাজার তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ যদি নির্দিষ্ট কিছু পণ্যে (যেমন: হালকা অস্ত্র, গোলাবারুদ, সামরিক যান, ড্রোন, যুদ্ধজাহাজ) প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে এই বাজারে প্রবেশের একটি ভালো সুযোগ রয়েছে। এতে করে প্রতিরক্ষা শিল্পটি শুধু সামরিক বাহিনীর চাহিদা মেটানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে, একটি রপ্তানি-উন্নত খাতে রূপান্তরিত হতে পারে। এই রপ্তানি আয় দেশের অর্থনীতিতে একটি নতুন প্রবাহ যোগ করবে এবং প্রতিরক্ষা শিল্পের টেকসইতা নিশ্চিত করবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">২.৪. হুমকি (Threats)<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">২.৪.১. প্রযুক্তিগত নির্ভরতা ও আমদানি ঝুঁকি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বর্তমানে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা খাত বিদেশি প্রযুক্তি ও উপকরণের ওপর অত্যধিক নির্ভরশীল। এই নির্ভরতা একটি বড় ঝুঁকি, কারণ আন্তর্জাতিক রাজনীতি, নিষেধাজ্ঞা বা সরবরাহকারী দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণে যেকোনো সময় এই প্রযুক্তি বা উপকরণের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে করে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই, এই প্রযুক্তিগত নির্ভরতা কমিয়ে আনা এবং স্থানীয়ভাবে প্রযুক্তি উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">২.৪.২. আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বিশ্ব প্রতিরক্ষা বাজারে ইতোমধ্যেই অনেক প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড় রয়েছে, যারা উন্নত প্রযুক্তি, বিশাল উৎপাদন ক্ষমতা এবং বিস্তৃত বিপণন নেটওয়ার্কের মালিক। বাংলাদেশের মতো একটি নতুন খেলোয়াড়ের পক্ষে এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে টিকে থাকা এবং নিজের অবস্থান তৈরি করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হবে। সফল হতে হলে, বাংলাদেশকে অবশ্যই নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞতা অর্জন করতে হবে এবং প্রতিযোগিতামূলক মূল্য ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, বিদেশি বাজারে প্রবেশের চেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">২.৪.৩. দুর্নীতি ও স্বচ্ছতার অভাব<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">প্রতিরক্ষা খাতটি স্বাভাবিকভাবেই একটি গোপনীয় ও নিয়ন্ত্রিত খাত, যেখানে স্বচ্ছতার অভাব দুর্নীতির ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। ক্রয় প্রক্রিয়া, ঠিকাদারি ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা না থাকলে, দুর্নীতি ও অর্থের অপব্যবহারের সম্ভাবনা থাকে। এই ধরনের অনিয়ম শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না, বরং প্রতিরক্ষা শিল্পের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা হ্রাস করে। তাই, একটি দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩. আন্তর্জাতিক তুলনামূলক বিশ্লেষণ: সফল প্রতিরক্ষা শিল্পের মডেল<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্প নীতি প্রণয়নে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন কৌশল গ্রহণ করে তাদের প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলেছে। এই অধ্যায়ে আমরা দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, ভারত, পাকিস্তান, ফিলিপাইন ও যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা শিল্পের মডেল বিস্তারিতভাবে তুলে ধরব।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.১ দক্ষিণ কোরিয়া: বেসরকারি খাত-নেতৃত্বাধীন সাফল্যের গল্প<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের উত্থান একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্যের গল্প, যেখানে সরকারি নীতি, বেসরকারি খাতের উদ্যোগ এবং একটি রপ্তানি-কেন্দ্রিক কৌশল একসাথে কাজ করেছে। ১৯৭০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা হ্রাসের পর কোরিয়া নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার ওপর জোর দেয় । এই লক্ষ্যে ২০০৬ সালে প্রতিরক্ষা অর্জন কর্মসূচি প্রশাসন (Defense Acquisition Program Administration - DAPA) প্রতিষ্ঠা করা হয়, যা প্রতিরক্ষা শিল্পের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে ।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.১.১.সরকারি নীতি ও DAPA-র ভূমিকা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">দক্ষিণ কোরিয়ার সরকার প্রতিরক্ষা শিল্পকে একটি জাতীয় কৌশলগত খাত হিসেবে গণ্য করে এবং এটি উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে সমর্থন দিয়ে আসছে। DAPA-র প্রতিষ্ঠা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যা প্রতিরক্ষা সংগ্রহ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্রীভূত করে এবং শিল্পের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে । সরকারি নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো "Defense Innovation 4.0" উদ্যোগ, যার মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), কোয়ান্টাম প্রযুক্তি এবং অন্যান্য উদীয়মান প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানো হয়েছে । এছাড়া, সরকার স্থানীয় পর্যায়েও প্রতিরক্ষা শিল্পের বিকাশে উদ্যোগ নিয়েছে। <o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">উদাহরণস্বরূপ, সাউথ কিয়ংসাং প্রদেশে "Defense Industrial Development Plan" নামে ২০২৩-২০২৭ সালের জন্য ১.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে । এই উদ্যোগগুলো প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে সহায়ক হয়েছে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.১.২. বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী ও স্টার্ট-আপের অংশগ্রহণ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পে বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীগুলো এবং স্টার্ট-আপগুলো উভয়েরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। Hanwha, Hyundai Rotem, LIG Nex1, এবং Korea Aerospace Industries (KAI) এর মতো বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী প্রতিরক্ষা খাতে নেতৃত্ব দিচ্ছে । এই কোম্পানিগুলোর বিক্রয় ২০২৪ সালে ৪৩.১ ট্রিলিয়ন ওয়ান (প্রায় ৩০.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) ছাড়িয়ে গেছে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ১৬% বেশি । একইসাথে, সরকার উচ্চ প্রযুক্তির স্টার্ট-আপগুলোকে উৎসাহিত করছে। EYL এবং Boss Semiconductor এর মতো স্টার্ট-আপগুলোকে জাতীয় কৌশলগত প্রযুক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে, যা তাদের সরকারি প্রকল্পে অংশগ্রহণে সুবিধা দেয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হয় । এই সমন্বিত পদ্ধতি প্রতিরক্ষা শিল্পে উদ্ভাবন ও প্রযুক্তিগত উন্নতিকে ত্বরান্বিত করেছে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.১.৩. রপ্তানি-কেন্দ্রিক কৌশল: পরিসংখ্যান ও সাফল্য<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা শিল্পের সাফল্যের মূলে রয়েছে এর রপ্তানি-কেন্দ্রিক কৌশল। ২০২০-২০২৪ সময়কালে দক্ষিণ কোরিয়া বিশ্বের দশম বৃহত্তম অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে, যা বিশ্ব বাজারের ২.২% দখল করে । ২০২২ সালে দেশটির অস্ত্র রপ্তানি রেকর্ড ১৭.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছে যায় । K2 Black Panther ট্যাংক, K9 Thunder হাউইটজার, এবং FA-50 যুদ্ধবিমানের মতো পণ্যগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। পোল্যান্ডের সাথে ২০২২ সালে ৩.৩৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি ছিল দেশটির সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা রপ্তানি চুক্তি । দক্ষিণ কোরিয়ার সাফল্যের পেছনে কার্যকর কৌশলগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি হস্তান্তর, স্থানীয় উৎপাদনের সুযোগ, এবং ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য কাস্টমাইজেশন ।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">সাল<span style="mso-tab-count: 2;">          </span>রপ্তানি পরিমাণ (মার্কিন ডলারে)<span style="mso-tab-count: 1;">  </span><span style="mso-tab-count: 1;">       </span>মন্তব্য<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">২০২১<span style="mso-tab-count: 2;">           </span>৭.৩ বিলিয়ন<span style="mso-tab-count: 4;">                             </span>২০২০ সালের তুলনায় ১৫০% বৃদ্ধি <o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">২০২২<span style="mso-tab-count: 2;">           </span>১৭.৩ বিলিয়ন<span style="mso-tab-count: 4;">                            </span>রেকর্ড রপ্তানি, পোল্যান্ডের সাথে বড় চুক্তির কারণে <o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">২০২৩<span style="mso-tab-count: 2;">          </span>১৩.৫ বিলিয়ন<span style="mso-tab-count: 4;">                            </span>২০২২ সালের তুলনায় কিছুটা হ্রাস <o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;"><o:p> </o:p></span></p>
<p><img src="https://digibanglatech.news/uploads/images/202511/image_870x_69097721e94a8.jpg" alt=""></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.২. তুরস্ক: কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন ও রপ্তানি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">তুরস্ক তার প্রতিরক্ষা শিল্পে কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অর্জনের লক্ষ্যে কাজ করছে এবং একইসাথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ন্যাটো সদস্য হিসেবে তুরস্ক উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে অ্যাক্সেস পায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপীয় রপ্তানিকারকদের মতো কঠোর শর্ত আরোপ করে না, যা এটিকে অনেক ক্রেতার কাছে আকর্ষণীয় করে তোলে ।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.২.১. SSB-এর মাধ্যমে সরকারি সমন্বয়<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের সমন্বয় সাধন করে প্রেসিডেন্সিয়াল ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রি (Presidency of Defense Industry - SSB)। এই সংস্থা প্রতিরক্ষা প্রকল্পগুলোর পরিকল্পনা, ব্যবস্থাপনা এবং বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত। SSB-এর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের একটি সমন্বিত ও কার্যকর কাঠামো গড়ে তুলতে সহায়তা করে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.২.২. বেসরকারি কোম্পানির উত্থান: Baykar-এর উদাহরণ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। Baykar Teknoloji-এর মতো কোম্পানি বিশ্ববাজারে সাড়া ফেলেছে। Baykar-এর Bayraktar TB2 ড্রোন ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের পর বিশ্বজুড়ে খ্যাতি পায় এবং অনেক দেশ এই ড্রোন কিনতে আগ্রহী হয় । সংযুক্ত আরব আমিরাত ২০২৩ সালে ১২০টি Bayraktar TB2 ড্রোনের জন্য প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একটি চুক্তি করে । এই সাফল্য তুরস্কের বেসরকারি খাতের উদ্ভাবনী ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে তুলে ধরে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.২.৩. সামরিক বাহিনীর প্রয়োজনে সাশ্রয়ী ও কার্যকর সমাধান<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">তুরস্ক তার প্রতিরক্ষা পণ্যগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে এবং উচ্চ মানসম্পন্ন হিসেবে উপস্থাপন করে। Altay মেইন ব্যাটল ট্যাংক, KAAN ফিফথ-জেনারেশন যুদ্ধবিমান, এবং Anadolu L400 লাইট এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার-এর মতো প্রকল্পগুলো দেশটির উচ্চাভিলাষী প্রযুক্তিগত লক্ষ্য প্রদর্শন করে । তুরস্ক ক্রেতাদের অস্ত্র উন্নয়নে অংশীদারিত্বের সুযোগ দেয়, যা অনেক দেশের জন্য আকর্ষণীয় । এই কৌশল তুরস্ককে দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সাথে প্রতিযোগিতায় সহায়তা করছে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.৩. ভারত: 'আত্মনির্ভর ভারত' নীতির অধীনে রূপান্তর<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">ভারত তার "আত্মনির্ভর ভারত" (Atmanirbhar Bharat) নীতির অংশ হিসেবে প্রতিরক্ষা শিল্পে ব্যাপক রূপান্তর ঘটাচ্ছে। এই নীতির লক্ষ্য হলো প্রতিরক্ষা আমদানি কমিয়ে এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.৩.১. রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি খাতের সমন্বয়<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন Hindustan Aeronautics Ltd. - HAL, Bharat Electronics Ltd. - BEL) দীর্ঘদিন ধরে প্রধান ভূমিকা পালন করে আসছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে বিভিন্ন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। Visual Capitalist-এর ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, Hindustan Aeronautics এবং Bharat Electronics বিশ্বের শীর্ষ ২৫ প্রতিরক্ষা কোম্পানির তালিকায় রয়েছে, যাদের বাজার মূলধন যথাক্রমে ৩৭.৯ বিলিয়ন এবং ৩১.১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.৩.২. প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ: পরিসংখ্যান<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">ভারত সরকার বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে ৭৪% বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) অনুমোদন করেছে। এছাড়া, "Make in India" উদ্যোগের অধীনে প্রতিরক্ষা ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্থানীয় উৎস থেকে ক্রয়ের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এই নীতিগুলো বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে সহায়ক হচ্ছে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.৩.৩. প্রযুক্তি হস্তান্তর ও বিদেশি বিনিয়োগ নীতি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">ভারত বিদেশি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সাথে যৌথ উদ্যোগ এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরকে উৎসাহিত করছে। এই কৌশলের মাধ্যমে ভারত উন্নত প্রযুক্তি অর্জন এবং দেশীয় দক্ষতা বিকাশের চেষ্টা করছে। তবে, প্রযুক্তি হস্তান্তরে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকায় এই প্রক্রিয়াটি ধীরগতিতে এগোচ্ছে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.৪. পাকিস্তান: রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান-নিয়ন্ত্রিত মডেল<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্প মূলত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলো দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই মডেলে সরকারি নিয়ন্ত্রণ বেশি এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ সীমিত।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.৪.১. MoDP-এর অধীনে সমন্বিত কাঠামো<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন মন্ত্রণালয় (Ministry of Defence Production - MoDP) প্রতিরক্ষা শিল্পের সমন্বয় সাধন করে। এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান কাজ করে, যারা প্রধানত দেশীয় প্রয়োজনে অস্ত্র তৈরি করে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.৪.২. পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (POF) ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা<o:p></o:p></span></b><b><span style="font-family: Kalpurush;"><o:p> </o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরি (POF) হলো দেশটির প্রধান প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী সংস্থা। এছাড়া, Heavy Industries Taxila (HIT) এবং Karachi Shipyard and Engineering Works (KSEW) এর মতো অন্যান্য রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানও রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠানগুলো মূলত সামরিক বাহিনীর চাহিদা মেটাতে কাজ করে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.৪.৩. বেসরকারি খাতের সীমিত অংশগ্রহণ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ সীমিত। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু বেসরকারি কোম্পানি প্রতিরক্ষা খাতে প্রবেশ করেছে, বিশেষ করে ড্রোন ও ইলেকট্রনিক্সের মতো ক্ষেত্রে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.৫ অন্যান্য মডেল: ফিলিপাইন ও যুক্তরাজ্য<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.৫.১ ফিলিপাইন: RA 12024-এর মাধ্যমে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব<o:p></o:p></span></b><b><span style="font-family: Kalpurush;"><o:p> </o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">ফিলিপাইন ২০২৪ সালে<span style="mso-spacerun: yes;">  </span>Republic Act No. 12024 পাস করে, যার উদ্দেশ্য হলো দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলা । এই আইনটি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে উৎসাহিত করে এবং প্রতিরক্ষা উৎপাদনে স্থানীয় কোম্পানিগুলোকে বিভিন্ন প্রণোদনা দেয় । এই আইনের মাধ্যমে ফিলিপাইন একটি সুসংগঠিত প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার পথে এগোচ্ছে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৩.৫.২. যুক্তরাজ্য: প্রতিরক্ষা শিল্প কৌশল ২০২৫ ও SME-দের অন্তর্ভুক্তিকরণ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">যুক্তরাজ্য তার Defence Industrial Strategy 2025-এর মাধ্যমে প্রতিরক্ষা শিল্পকে একটি প্রবৃদ্ধির ইঞ্জিন হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা করেছে। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য হলো ছোট ও মাঝারি উদ্যোগ (SME) গুলোকে প্রতিরক্ষা সরবরাহ শৃঙ্খলায় অন্তর্ভুক্ত করা এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা। এই পদ্ধতি প্রতিরক্ষা শিল্পের টেকসইতা এবং প্রযুক্তিগত উন্নতি নিশ্চিত করে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৪. নীতি বিকল্প ও বিশ্লেষণ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৪.১. বিকল্প ১: ব্যক্তিখাত-প্ল্যাটফর্ম ও সামরিকবাহিনী-অস্ত্র মডেল (প্রস্তাবিত)<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৪.১.১. প্ল্যাটফর্ম উৎপাদনে বেসরকারি খাতের নেতৃত্ব<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">এই মডেলে, বেসরকারি খাতকে যুদ্ধবিমান, ড্রোন, ট্যাংক, জাহাজ ও সাবমেরিনের মতো প্রধান প্ল্যাটফর্ম ডিজাইন ও উৎপাদনে নেতৃত্ব দিতে হবে। এই খাতের ব্যবসায়িক দক্ষতা, উদ্ভাবনী শক্তি এবং প্রতিযোগিতামূলক চেতনা এই জটিল প্রকল্পগুলোর সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। সরকারি নীতি এই খাতের জন্য একটি অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করবে, যার মধ্যে রয়েছে সহজ লাইসেন্সিং, কর ছাড়, এবং বিদেশি বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে সুবিধা।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৪.১.২. অস্ত্র উৎপাদনে সামরিক বাহিনীর দায়িত্ব<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">এই মডেলে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর অধীনে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো এই প্ল্যাটফর্মগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্র সিস্টেম ডিজাইন ও উৎপাদনের দায়িত্ব পালন করবে। সামরিক বাহিনীর কৌশলগত জ্ঞান, নিরাপত্তা প্রয়োজন এবং অপারেশনাল অভিজ্ঞতা এই স্পেশালাইজড ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে কাজ করবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৪.১.৩. এই মডেলের বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">ব্যক্তিখাত-প্ল্যাটফর্ম ও সামরিকবাহিনী-অস্ত্র মডেলটি একটি আকর্ষণীয় ধারণা হলেও এর বাস্তবায়নে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, আধুনিক প্রতিরক্ষা প্ল্যাটফর্ম (যেমন যুদ্ধবিমান, ট্যাংক, যুদ্ধজাহাজ) এবং সেগুলোতে ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র ও সেন্সর সিস্টেমগুলো একে অপরের সাথে গভীরভাবে Integrated। এই Integration প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল এবং এটি সাধারণত সিস্টেম ইন্টিগ্রেটরের দায়িত্বে থাকে । প্ল্যাটফর্ম ও অস্ত্রশস্ত্রের উৎপাদনে পৃথক দুটি সত্তার দায়িত্ব দিলে, এই Integration সুনিশ্চিত করতে হবে। <o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৪.২. বিকল্প ২: সমন্বিত পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (PPP) মডেল<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৪.২.১. যৌথ উদ্যোগে প্ল্যাটফর্ম ও অস্ত্র উৎপাদন<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">এই বিকল্প মডেলে, সরকারি ও বেসরকারি খাত যৌথভাবে প্ল্যাটফর্ম ও অস্ত্র উৎপাদনে অংশ নেবে। এই মডেলে, একটি বিশেষায়িত যৌথ উদ্যোগ কোম্পানি গঠন করা হবে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদাররা অংশীদারিত্বে থাকবে। এই কোম্পানি পূর্ণাঙ্গ প্রতিরক্ষা সিস্টেম উৎপাদনের দায়িত্ব পালন করবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৪.২.২. প্রযুক্তি হস্তান্তর ও সক্ষমতা বৃদ্ধি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">PPP মডেলের মূল লক্ষ্য হবে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে স্থানীয় দক্ষতা বৃদ্ধি করা। বিদেশি অংশীদারদের সাথে যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো উন্নত প্রযুক্তি শিখে নিতে পারবে এবং ধীরে ধীরে নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতা গড়ে তুলতে পারবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৪.২.৩. ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন কৌশল<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">এই মডেলটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। প্রাথমিকভাবে, কম জটিল সিস্টেমগুলোতে যৌথ উদ্যোগ শুরু করা হবে এবং পরবর্তীতে, অভিজ্ঞতা অর্জনের পর, আরও জটিল প্রকল্পে অগ্রসর হওয়া যাবে। এই পদ্ধতি ঝুঁকি কমিয়ে এবং সফলতার সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫. প্রতিরক্ষা শিল্প নীতির জন্য একটি ব্যাপক কাঠামো</span></b></p>
<p><img src="https://digibanglatech.news/uploads/images/202511/image_870x_69097711376a8.jpg" alt=""></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.১. সংগঠনগত কাঠামো ও শাসন<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.১.১. একটি জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প কর্তৃপক্ষ (NDIA) প্রতিষ্ঠা<o:p></o:p></span></b><span style="font-family: Kalpurush;"><o:p> </o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সুসংগঠিত বিকাশের জন্য একটি স্বতন্ত্র ও শক্তিশালী জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প কর্তৃপক্ষ (National Defence Industry Authority - NDIA) প্রতিষ্ঠা করা অপরিহার্য। এই কর্তৃপক্ষটি প্রতিরক্ষা শিল্পের সামগ্রিক নীতি প্রণয়ন, সমন্বয়, তদারকি এবং বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে। এটি একটি বেসামরিক সংস্থা হবে, যা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে কাজ করবে, যাতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সরাসরি নির্দেশনা ও সমর্থন নিশ্চিত করা যায়।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.১.২. সামরিক বাহিনী, বেসরকারি খাত ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">NDIA-র অধীনে একটি জাতীয় প্রতিরক্ষা শিল্প সমন্বয় কমিটি গঠন করা প্রয়োজন, যার সদস্য হবেন সামরিক বাহিনীর প্রতিনিধি, বেসরকারি খাতের নেতৃবৃন্দ, গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ এবং সরকারি কর্মকর্তারা। এই কমিটি নিয়মিত বৈঠক করে প্রতিরক্ষা শিল্পের চাহিদা, সম্ভাবনা এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করবে এবং NDIA-কে পরামর্শ প্রদান করবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.১.৩. স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">প্রতিরক্ষা শিল্পের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল চালু করা প্রয়োজন, যেখানে নীতিমালা, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া, টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি এবং প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কিত তথ্য প্রকাশ করা হবে। এছাড়া, একটি স্বতন্ত্র অডিট ও ওভারসাইট কমিটি গঠন করা হবে, যা প্রতিরক্ষা শিল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর নজর রাখবে।<o:p></o:p></span><span style="font-family: Kalpurush;"><o:p> </o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.২. অর্থায়ন ও বিনিয়োগ কৌশল<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.২.১. প্রতিরক্ষা বাজেটে গবেষণা-উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">প্রতিরক্ষা শিল্পের টেকসই বিকাশের জন্য গবেষণা ও উন্নয়নে (R&amp;D) পর্যাপ্ত বিনিয়োগ অপরিহার্য। সরকার প্রতি বছর প্রতিরক্ষা বাজেটের একটি নির্দিষ্ট শতাংশ (যেমন ৫%) R&amp;D-এর জন্য বরাদ্দ রাখবে। এই অর্থ NDIA-র মাধ্যমে বিভিন্ন গবেষণা প্রকল্পে বিতরণ করা হবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.২.২. বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) আকর্ষণের নীতি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের দ্রুত বিকাশের জন্য বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ (FDI) একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস হতে পারে। FDI শুধুমাত্র মূলধনের প্রবাহই নয়, বরং এর সাথে আধুনিক প্রযুক্তি, ব্যবস্থাপনা দক্ষতা এবং বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশাধিকারও আসে। ভারতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে, বাংলাদেশের FDI নীতি সুস্পষ্ট, স্থিতিশীল এবং বিনিয়োগকারী-বান্ধব হওয়া উচিত। ভারত ২০২০ সালে তাদের প্রতিরক্ষা খাতে FDI সীমা স্বয়ংক্রিয় পথে ৪৯% থেকে বাড়িয়ে ৭৪% এবং সরকারি পথে ১০০% পর্যন্ত বাড়িয়েছে । তবে, এই উদারীকরণ সত্ত্বেও ভারতে প্রত্যাশিত মাত্রায় FDI আসেনি, কারণ নীতিগত দ্বিধা, জটিল নিরাপত্তা ছাড়পত্র প্রক্রিয়া এবং IPR সুরক্ষা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে । বাংলাদেশের উচিত এই সমস্যাগুলো এড়িয়ে চলা। একটি সুপারিশ হতে পারে, পণ্যের সংবেদনশীলতার ভিত্তিতে বিভিন্ন স্তরের FDI সীমা নির্ধারণ করা। উদাহরণস্বরূপ, কম প্রযুক্তিগত উপাদান এর জন্য ১০০% FDI অনুমোদন করা যেতে পারে, যেখানে উচ্চ-প্রযুক্তিগত কৌশলগত সিস্টেম (Missiles, Electronic Warfare Systems) এর জন্য কম সীমা রাখা যেতে পারে । এছাড়াও, একটি<span style="mso-spacerun: yes;">  </span>Single-Window ছাড়পত্র ব্যবস্থা চালু করা এবং IPR আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.২.৩. বেসরকারি খাতের জন্য আর্থিক প্রণোদনা ও ঋণ সুবিধা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বেসরকারি খাতকে প্রতিরক্ষা শিল্পে বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া প্রয়োজন। এর মধ্যে রয়েছে কর ছাড়, শুল্ক ছাড়, এবং সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে একটি বিশেষ প্রতিরক্ষা শিল্প উন্নয়ন তহবিল গঠন করা সম্ভব, যা বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে R&amp;D এবং উৎপাদন সুবিধা স্থাপনে সহায়তা করবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.৩. গবেষণা ও উন্নয়ন (R&amp;D)<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.৩.১. একটি জাতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (NDRO) গঠন<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">উন্নত প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য একটি জাতীয় প্রতিরক্ষা গবেষণা সংস্থা (National Defence Research Organisation - NDRO) গঠন করা প্রয়োজন। এই সংস্থাটি মূলত গবেষণা ও উন্নয়নে নেতৃত্ব দেবে এবং বেসরকারি খাতের জন্য একটি প্রযুক্তি সহায়তা কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.৩.২. বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্ব<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">NDRO বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট, এবং অন্যান্য গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে অংশীদারিত্ব গড়ে তুলবে। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে, একাডেমিক গবেষণা ও প্রতিরক্ষা শিল্পের প্রয়োজনের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি হবে। গবেষণা প্রকল্পের জন্য যৌথ অর্থায়ন এবং ছাত্রদের জন্য ইন্টার্নশিপের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.৩.৩. ইনোভেশন ও স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">উদ্ভাবনী শক্তিকে উৎসাহিত করার জন্য একটি প্রতিরক্ষা ইনোভেশন ফান্ড গঠন করা হবে। এই ফান্ড স্টার্ট-আপ, MSME এবং একক উদ্ভাবকদের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নে অর্থায়ন করবে। এছাড়া, নিয়মিত প্রতিরক্ষা হ্যাকাথন ও চ্যালেঞ্জ আয়োজন করা হবে, যাতে নতুন ধারণা ও সমাধান বেরিয়ে আসে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.৪. রপ্তানি কৌশল<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.৪.১. লক্ষ্যযুক্ত বাজার চিহ্নিতকরণ ও বিপণন<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">রপ্তানির জন্য প্রথমে এশিয়া ও আফ্রিকার সুনির্দিষ্ট কয়েকটি দেশকে লক্ষ্যযুক্ত বাজার হিসেবে চিহ্নিত করা প্রয়োজন। একটি কার্যকর বিপণন কৌশল গ্রহণ করা সম্ভব, যার মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতি প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ, কূটনৈতিক সহযোগিতা এবং অনলাইন বিপণন।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.৪.২. প্রযুক্তি হস্তান্তর ও যৌথ উৎপাদন চুক্তি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">রপ্তানি চুক্তির অংশ হিসেবে প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং ক্রেতা দেশে যৌথ উৎপাদনের প্রস্তাব দেয়া প্রয়োজন। এই কৌশলটি দক্ষিণ কোরিয়ার সাফল্যের মূল কারণ, যা ক্রেতা দেশগুলোর নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার আগ্রহকে পূরণ করে ।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.৪.৩. একটি প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রচার কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">রপ্তানি বাড়াতে একটি প্রতিরক্ষা রপ্তানি প্রচার কেন্দ্র (Defence Export Promotion Centre) প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। এই কেন্দ্রটি বিদেশি ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগ স্থাপন, চুক্তি চূড়ান্তকরণ এবং রপ্তানি-পরবর্তী সেবা প্রদানে সহায়তা করবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.৫. নিয়ন্ত্রক কাঠামো<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.৫.১. প্রতিরক্ষা শিল্প আইন প্রণয়ন<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সুশৃঙ্খল বিকাশের জন্য একটি সুস্পষ্ট ও সর্বাঙ্গীন প্রতিরক্ষা শিল্প আইন প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। এই আইনটি শিল্পের বিভিন্ন দিক, যেমন লাইসেন্সিং, মান নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ, এবং IPR সুরক্ষার বিধান নির্ধারণ করবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.৫.২. লাইসেন্সিং, মান নিয়ন্ত্রণ ও রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">NDIA-র অধীনে একটি লাইসেন্সিং ও মান নিয়ন্ত্রণ বোর্ড গঠন করা প্রয়োজন। এই বোর্ড প্রতিরক্ষা উৎপাদনের জন্য লাইসেন্স ইস্যু করবে এবং পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করবে। রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের জন্য একটি স্বতন্ত্র সেল থাকবে, যা আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও নীতিমালা মেনে চলবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৫.৫.৩. IPR সুরক্ষা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বেসরকারি খাত ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ করার জন্য IPR সুরক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিরক্ষা শিল্প আইনে IPR সুরক্ষার বিধান স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে এবং এর কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করা হবে। এটি উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আস্থা বাড়াবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৬. সুপারিশ ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৬.১. আইনি ও নিয়ন্ত্রক পরিবর্তন<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৬.১.১. প্রতিরক্ষা শিল্প উন্নয়ন ও সমর্থন আইন (DIDSA) প্রণয়ন<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">প্রস্তাবিত নীতি বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ হবে একটি সর্বাঙ্গীন প্রতিরক্ষা শিল্প উন্নয়ন ও সমর্থন আইন (Defence Industry Development and Support Act - DIDSA) প্রণয়ন করা। এই আইনে প্রতিরক্ষা শিল্পের সংগঠনগত কাঠামো, অর্থায়ন কৌশল, R&amp;D, রপ্তানি এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামোর বিস্তারিত বিধান থাকবে।<o:p></o:p></span><span style="font-family: Kalpurush;"><o:p> </o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৬.১.২. বিদেশি বিনিয়োগ নীতিতে সংশোধন<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য বিদ্যমান বিদেশি বিনিয়োগ নীতিতে সংশোধন প্রয়োজন। প্রতিরক্ষা খাতে FDI-র সীমা শিথিল করতে হবে এবং একটি সুস্পষ্ট ও বিনিয়োগকারী-বান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। "এক জানালা" ছাড়পত্র ব্যবস্থা চালু করতে হবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৬.১.৩. রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন (ECA) প্রণয়ন<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">প্রতিরক্ষা সামগ্রী রপ্তানির জন্য একটি রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইন (Export Control Act - ECA) প্রণয়ন করা প্রয়োজন। এই আইনটি আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা, দ্বৈত ব্যবহার প্রযুক্তি এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৬.২. স্বল্প, মধ্যম ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৬.২.১. স্বল্পমেয়াদি (১-৩ বছর): নীতি কাঠামো ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">প্রথম বছর:</span></b><span style="font-family: Kalpurush;"> DIDSA, ECA এবং FDI নীতির খসড়া তৈরি ও পার্লামেন্টে পাস করানো। NDIA ও NDRO-র আইনগত কাঠামো প্রতিষ্ঠা করা।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">দ্বিতীয় বছর: </span></b><span style="font-family: Kalpurush;">NDIA ও NDRO-র কার্যক্রম শুরু করা। প্রতিরক্ষা অর্থনৈতিক অঞ্চল (DEZ)-এর অবকাঠামো উন্নয়ন শুরু করা।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">তৃতীয় বছর:</span></b><span style="font-family: Kalpurush;"> DEZ-এর প্রথম পর্যায়ের উদ্বোধন। বেসরকারি খাতের জন্য লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রথম যৌথ উদ্যোগ চুক্তি স্বাক্ষর।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৬.২.২. মধ্যমেয়াদি (৩-৭ বছর): সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অভ্যন্তরীণ উৎপাদন <o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">চতুর্থ থেকে<span style="mso-spacerun: yes;">  </span>পঞ্চম বছর:</span></b><span style="font-family: Kalpurush;"> BOF, BMTF এবং অন্যান্য সামরিক প্রতিষ্ঠানের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ। বেসরকারি খাতের সাথে প্রযুক্তি হস্তান্তর চুক্তি বাস্তবায়ন।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">ষষ্ঠ থেকে সপ্তম বছর:</span></b><span style="font-family: Kalpurush;"> হালকা অস্ত্র, গোলাবারুদ এবং সহায়ক সরঞ্জামে পূর্ণ দেশীয় উৎপাদন শুরু। যুদ্ধজাহাজ উৎপাদন শুরু।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৬.২.৩. দীর্ঘমেয়াদি (৭-১০ বছর): রপ্তানি বাজারে প্রবেশ ও আত্মনির্ভরশীলতা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">অষ্টম থেকে নবম বছর:</span></b><span style="font-family: Kalpurush;"> যুদ্ধবিমান, ট্যাংক মতো প্রধান প্ল্যাটফর্মের দেশীয় উৎপাদন শুরু। যুদ্ধজাহাজ রপ্তানি চুক্তি স্বাক্ষর।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">দশম বছর:</span></b><span style="font-family: Kalpurush;"> প্রতিরক্ষা খাতে উল্লেখযোগ্য আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন এবং রপ্তানি আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৭. উপসংহার<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৭.১ বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্ভাবনা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্ভাবনা অপার। দেশের অভিযোজিত জনশক্তি, কৌশলগত অবস্থান এবং বিদ্যমান অবকাঠামো একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ভিত্তি গড়ে তুলেছে। তুরস্ক ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর অভিজ্ঞতা দেখায় যে, সঠিক নীতি ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি আত্মনির্ভরশীল ও রপ্তানিমুখী প্রতিরক্ষা খাত গড়ে তোলা সম্ভব।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৭.২. একটি সুসংহত ও কার্যকর নীতির গুরুত্ব<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">তবে, এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে একটি সুসংহত, দীর্ঘমেয়াদি এবং কার্যকর নীতি কাঠামো অপরিহার্য। এই নীতি কেবল সামরিক বাহিনীর চাহিদা পূরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং জাতীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b><span style="font-family: Kalpurush;">৭.৩. জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে চলা<o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">প্রস্তাবিত নীতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধুমাত্র একটি আত্মনির্ভরশীল প্রতিরক্ষা বাহিনী গড়ে তুলবে না, বরং একটি নতুন অর্থনৈতিক খাত সৃষ্টি করবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এই পথে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সরকার, সামরিক বাহিনী, বেসরকারি খাত এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;"><b> </b></span></p>
<hr>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;"><b>লেখক: চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার, সীবিচ৭৭ লিমিটেড</b></span></p>
<hr>
<p class="MsoNormal"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সঞ্চয়পত্র জালিয়াতি: ‘ট্রাস্ট&#45;ব্লাইন্ড’ ব্যবস্থার সতর্কবার্তা</title>
<link>https://digibanglatech.news/158942</link>
<guid>https://digibanglatech.news/158942</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202502/image_870x580_67a31f733e269.jpg" length="113294" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 01 Nov 2025 11:34:40 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>সাম্প্রতিক সঞ্চয়পত্র জালিয়াতির ঘটনাটি বাংলাদেশের আর্থিক খাতের জন্য এক জোরালো সতর্কসংকেত। এটি কেবল একটি সাইবার অপরাধ নয়—বরং পুরো ব্যবস্থার ভিতরে থাকা কাঠামোগত দুর্বলতার বাস্তবিক প্রতিফলন। জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তরের এনএসসি (ন্যাশনাল সেভিংস সার্টিফিকেট) সিস্টেম ব্যবহার করে এক চক্র প্রায় ২৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে এবং আরও প্রায় ৫০ লাখ টাকা তোলার চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হস্তক্ষেপে তা রোধ করা সম্ভব হয়েছে।</p>
<p>তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, উদ্বেগজনক তথ্য—প্রতারকরা গ্রাহকের অজান্তে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করেছে, লেনদেনের সীমা ২ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকায় বাড়িয়েছে, এমনকি মেয়াদপূর্তির আগেই সঞ্চয়পত্র ভেঙে অর্থ স্থানান্তর করেছে। এর পুরো প্রক্রিয়াতেই গ্রাহকের কাছে কোনো ওটিপি (One-Time Password) যায়নি। অর্থাৎ সিস্টেমের ভেতরে প্রবেশাধিকার থাকা কেউ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে—এটি এক আদর্শ ইনসাইডার ফ্রড।</p>
<p><br>৩পি ব্যর্থতা: People, Process, Platform</p>
<p>এই জালিয়াতি মূলত ‘৩পি’—People, Process ও Platform—নিরাপত্তা মডেলের একত্রিত ব্যর্থতা।</p>
<p>প্রথমত, কর্মকর্তাদের পাসওয়ার্ড ব্যবস্থাপনা দুর্বল ছিল। শক্তিশালী পাসওয়ার্ড নীতি ও মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (MFA) বাধ্যতামূলক না থাকলে এমন অনুপ্রবেশ রোধ করা অসম্ভব।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, ওটিপি যাচাই ছাড়াই লেনদেন সম্পন্ন হওয়া কোনো সাধারণ ত্রুটি নয়। এটি প্রক্রিয়াগত ব্যর্থতা, যা অভ্যন্তরীণ অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়।</p>
<p>তৃতীয়ত, মনিটরিং ও অডিটিং ব্যবস্থা দুর্বল। হঠাৎ নম্বর পরিবর্তন, সীমা বৃদ্ধি, বা বড় অঙ্কের স্থানান্তর—এসবই স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা (Anomaly Alert) জারি করার মতো ঘটনা। অথচ সিস্টেম কোনো অ্যালার্ম দেয়নি। এটি প্রমাণ করে, মনিটরিং ব্যবস্থা কাগজে আছে, বাস্তবে নয়।</p>
<p>‘Trust-Based’ নয়, এখন চাই ‘Zero Trust’</p>
<p>বাংলাদেশের আর্থিক খাত এখনো ‘trust-based’ নয়, বরং ‘trust-blind’ মডেলে পরিচালিত—যেখানে প্রযুক্তি আছে, কিন্তু দায়বদ্ধতা নেই। নিরাপত্তা কেবল সফটওয়্যার নির্ভর নয়; এটি নীতিমালা, প্রশিক্ষণ, এবং জবাবদিহিতার সমন্বয় প্রক্রিয়া।</p>
<p>এই বাস্তবতায় এখন প্রয়োজন Zero Trust Architecture—যেখানে কোনো ব্যবহারকারী বা ডিভাইস আগাম বিশ্বাসযোগ্য নয়, প্রতিটি অ্যাক্সেস বারবার যাচাই করা হয়।</p>
<p><br><strong>করণীয়: প্রযুক্তি ও নীতির সমন্বয়</strong></p>
<p>ক. জিরো ট্রাস্ট বাস্তবায়ন: সরকারি ও বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ‘Zero Trust’ মডেল বাধ্যতামূলক করা দরকার।</p>
<p>খ. নিয়মিত সাইবার অডিট: বছরে অন্তত দুইবার স্বাধীন সাইবার অডিট ও পেনিট্রেশন টেস্টিং চালু করা উচিত।</p>
<p>গ. আইটি গভর্ন্যান্স ও মানবসম্পদ তদারকি: প্রশাসনিক অ্যাক্সেসধারীদের ক্ষেত্রে ‘four-eye principle’—দুই কর্মকর্তার অনুমোদন—বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।</p>
<p>ঘ. গ্রাহক সচেতনতা: গ্রাহককে জানতে হবে, ওটিপি বা ব্যক্তিগত তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার করা বিপজ্জনক। সন্দেহজনক লেনদেন দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করা জরুরি।</p>
<p><br><strong>আইন ও বাস্তবায়ন</strong></p>
<p>অক্টোবরে অনুমোদিত ‘ব্যক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ দ্রুত বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি। এই আইন কার্যকর হলে তথ্য সুরক্ষা ও সাইবার জবাবদিহিতা বাধ্যতামূলক হবে।</p>
<p>একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় সঞ্চয় অধিদপ্তর ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি ইন্টিগ্রেটেড আইটি গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক গঠন জরুরি, যাতে ফরেনসিক অডিট ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা দ্রুত নেওয়া যায়।</p>
<p><strong>শেষকথা</strong></p>
<p>এই ঘটনাকে কেবল সাইবার হামলা হিসেবে দেখা ভুল হবে। এটি সামগ্রিকভাবে একটি পরিকল্পিত আর্থিক অপরাধ, যা প্রযুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়েছে।</p>
<p>জনগণের অর্থই রাষ্ট্রের আস্থা; তাই ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তি, প্রক্রিয়া ও মানুষ—এই তিন স্তরের সমন্বিত সুরক্ষা।</p>
<p>বাংলাদেশ এখন সাইবার নিরাপত্তার এক সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে। যদি এখনই আমরা “Never Trust, Always Verify” নীতিতে না যাই, তাহলে আগামী দিনে এমন জালিয়াতি আরও বাড়বে—কমবে না।</p>
<hr>
<p><strong>লেখক:</strong> তথ্যপ্রযুক্তিবিদ, সাধারণ সম্পাদক,  বাংলাদেশ সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেটরস ফোরাম (বিডিসাফ) </p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>আইওটি&#45;তে বদলে যাবে বাংলাদেশ!</title>
<link>https://digibanglatech.news/158804</link>
<guid>https://digibanglatech.news/158804</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202510/image_870x580_69007303397ee.jpg" length="79850" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 28 Oct 2025 07:35:26 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বিশ্বজুড়ে ইন্টারনেটের বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়েছে নতুন এক বিপ্লব- ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি)। এই বিপ্লবে এরই মধ্যে অংশ নিয়েছে বাংলাদেশও। আজকের দিনে যে কোনো সচেতন শিল্প মালিক বুঝে গেছেন—শুধু সফটওয়্যার নয়, বরং আইওটি ইন্টিগ্রেশন-ই হচ্ছে ভবিষ্যতের উৎপানশীলতার মডেল। তাই তারা ধীরে ধীরে তাদের ফ্যাক্টরি ও প্রডাকশন সিস্টেমে আইওটি ডিভাইস সংযুক্ত করছেন।</p>
<p>এতে করে <br>ক. কমেছে খরচ<br>খ. বাঁচছে সময়,<br>গ. বহুগুণে বাড়ছে—কাজের দক্ষতা</p>
<p>এখনকার দিনে বিদেশি বায়াররাও (Buyers) আইওটি-ভিত্তিক প্রডাকশন সিস্টেমকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন, কারণ তারা চান একদম পারফেক্ট ও কনসিস্টেন্ট কোয়ালিটির প্রডাক্ট। ফলে, যেসব প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রডাকশনে আইওটি, এআই ও অটোমেশন টেকনোলজি ব্যবহার করছে, তারা বাজারে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে এবং বিদেশি অর্ডারও বেশি পাচ্ছে।</p>
<p>আমি সম্প্রতি কিছু আইওটি ভিত্তিক কোম্পানি ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে বুঝেছি, আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের প্রায় সব তৈরি পোশাক শিল্প (Ready Made Garments) এবং ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পিানি আইওটি ভিত্তিতে সিস্টেমে রূপান্তরিত হবে।</p>
<p>এর অন্যতম কারণ হচ্ছে—<br>এখন দেশের অনেক কোম্পানি দ্বিতীয় প্রজন্মের উদ্যোক্তারা (Second Generation Entrepreneurs) পরিচালনা করছেন। এদের বড় একটি অংশ বিদেশে AI, IOT, Big Data, Machine Learning বিষয়ে পড়াশোনা করে এসে বাবার কোম্পানির দায়িত্ব নিয়েছেন। ফলে তারা নতুন চিন্তাধারার মাধ্যমে কোম্পানিগুলোকে অটোমেশনের পথে নিয়ে যাচ্ছেন।</p>
<p>এর ফলাফল দুই দিকেই ইতিবাচক—<br>একদিকে বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রি আরও স্মার্ট ও প্রতিযোগিতামূলক হচ্ছে। অন্যদিকে দেশের আইটি সেক্টরও দ্রুত ডিজিটালাইজড হয়ে উঠছে।</p>
<p>এই যেমন- <br>আইওটি শেখার মাধ্যমে তরুণরা প্রযুক্তি, প্রোগ্রামিং, সেন্সর ডিজাইন, ও ডেটা অ্যানালাইসিসে দক্ষ হয়। এর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি হয়।</p>
<p>আইওটি ব্যবহারে নতুন স্টার্টআপ, সার্ভিস, ও ইনোভেশন তৈরির সুযোগ তৈরি হয়। এতে বেকারত্ব কমবে। </p>
<p>কৃষি, স্বাস্থ্য, শিল্প, শিক্ষা  পরিবহনসহ নানা ক্ষেত্রে আইওটি ভিত্তিক নতুন কাজের সুযোগ তৈরি হয়।</p>
<p>আইওটি প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদন খরচ কমে ও সময় বাঁচে, ফলে শিল্পের কার্যক্ষমতা বাড়ে।</p>
<p>গার্মেন্টস, পরিবহন, এবং শক্তি খাতে আইওটি ব্যবহারে দেশের জিডিপি ও রপ্তানি আয় বৃদ্ধি করে। </p>
<ul>
<li> আইওটি দক্ষ তরুণ তৈরি করে → কর্মসংস্থান বাড়ায় → উৎপাদনশীলতা উন্নত করে → অর্থনীতি শক্তিশালী করে।</li>
</ul>
<p>এভাবেই আইওটির ব্যবহারে দ্বিতীয় প্রজন্মের তরুণ উদ্যোক্তাদের হাত ধরেই বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। বস্তুত  ‘স্মার্ট বাংলাদেশ” গড়ে তুলতে হলে IOT, AI, Big Data, Machine  learning,  Automation—এর মাধ্যমে বাংলাদেশের শিল্প ও অর্থনীতি কে এগিয়ে নিতে হবে। তবেই আমাদের আইটি সেক্টর তথা বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে। </p>
<hr>
<p><strong>লেখক:</strong> ফাউন্ডার প্রেসিডেন্ট, বাংলাদেশ আইটি প্রফেশনাল ফ্রেন্ডস ক্লাব।</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল ফরেনসিকের নৈতিক কৌশল</title>
<link>https://digibanglatech.news/158459</link>
<guid>https://digibanglatech.news/158459</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202510/image_870x580_68f6d64993aab.jpg" length="97707" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 19 Oct 2025 14:11:22 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div class="html-div xdj266r x14z9mp xat24cr x1lziwak xexx8yu xyri2b x18d9i69 x1c1uobl">
<div dir="auto" class="html-div xdj266r x14z9mp xat24cr x1lziwak xexx8yu xyri2b x18d9i69 x1c1uobl">
<div data-ad-rendering-role="story_message" class="html-div xdj266r x14z9mp xat24cr x1lziwak xexx8yu xyri2b x18d9i69 x1c1uobl">
<div class="x1l90r2v x1iorvi4 x1g0dm76 xpdmqnj" data-ad-comet-preview="message" data-ad-preview="message" id="_r_2ug_">
<div class="x78zum5 xdt5ytf xz62fqu x16ldp7u">
<div class="xu06os2 x1ok221b">
<div class="html-div xdj266r x14z9mp xat24cr x1lziwak xexx8yu xyri2b x18d9i69 x1c1uobl">
<div class="xdj266r x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">চলচ্চিত্রের গল্প-স্টাইল নয়—এটা বাস্তব জীবনের ঘটনা। পরীক্ষার দিনে কোনো ছাত্রী বাসা থেকে অচেনা আইডি/চ্যাটে প্রলুব্ধ হয়ে পালিয়ে গেলে তদন্ত কীভাবে করবেন, কোন ওপেন-সোর্স <span class="html-span xdj266r x14z9mp xat24cr x1lziwak xexx8yu xyri2b x18d9i69 x1c1uobl x1hl2dhg x16tdsg8 x1vvkbs"><a class="html-a xdj266r x14z9mp xat24cr x1lziwak xexx8yu xyri2b x18d9i69 x1c1uobl x1hl2dhg x16tdsg8 x1vvkbs" tabindex="-1"></a></span>টুলস কাজে লাগবে এবং কোথায় আইনগত সীমা আছে তা প্রাঞ্জল, বাস্তব ও ব্যবহারযোগ্য ভাষায় উল্লেখ করছি। এখানে যা বলা হবে, তা কেবল আইনগত, ফরেনসিক এবং নৈতিক কৌশল — কোনো ভাবে হ্যাকিং, অবৈধ ডেটা চুরির নির্দেশ নয়।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><span style="font-size: 14pt;"><strong>কীভাবে ভাববেন? </strong></span></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">ঘটনার টাইমলাইন রিকনস্ট্রাকট করা, সন্দেহভাজন আইডি-গুলো শনাক্ত করা এবং যেখানে প্রয়োজন আইনি রুটে মোবাইল/প্ল্যাটফর্ম/টেলিকম ডেটা আনতে কর্তৃপক্ষকে সহযোগিতা করা। এখানে দ্রুত কাজ এবং প্রসিডিউরাল রিগর অর্থাৎ যে প্রক্রিয়ায় কাজ করা হয়, সেটার প্রতিটি ধাপ যেন সঠিক নিয়মে, প্রমাণ রেখে, ভুল ছাড়া সম্পন্ন হয় — সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে চেইন অব কাস্টডি হিসেবে <span>অবশ্যই প্রমাণের একটি অংশের শারীরিক</span> নথিভুক্ত করা এবং যখন প্রয়োজন তখন আদালত/সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ/প্রকৃত কর্তৃপক্ষকে <span>হস্তান্তর করতে হবে</span>।</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"> </div>
<div dir="auto"><span style="font-size: 14pt;"><strong>প্রথম ২৪ ঘণ্টায় করণীয়</strong></span></div>
<div dir="auto">
<ul data-start="813" data-end="1892">
<li data-start="813" data-end="1054">
<p data-start="816" data-end="858"><strong data-start="816" data-end="856">পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও তথ্য সংগ্রহ</strong></p>
<ul data-start="862" data-end="1054">
<li data-start="862" data-end="896">
<p data-start="864" data-end="896">শেষ দেখা সময় ও স্থান লিখে নিন।</p>
</li>
<li data-start="900" data-end="989">
<p data-start="902" data-end="989">সম্ভাব্য চ্যাট-স্ক্রিনশট, আইডি, ফোন নম্বর, পোস্ট/স্টোরি বা প্রোফাইল লিংক সংগ্রহ করুন।</p>
</li>
<li data-start="993" data-end="1054">
<p data-start="995" data-end="1054">পোশাক, সাথে থাকা ব্যাগ/চাবি ইত্যাদি সংক্ষিপ্ত বর্ণনা নিন।</p>
</li>
</ul>
</li>
<li data-start="1056" data-end="1353">
<p data-start="1059" data-end="1079"><strong data-start="1059" data-end="1077">ডিভাইস সংরক্ষণ</strong></p>
<ul data-start="1083" data-end="1353">
<li data-start="1083" data-end="1271">
<p data-start="1085" data-end="1271">যেই ডিভাইস হাতে আছে (মোবাইল/ল্যাপটপ), সেটি ব্যবহার বন্ধ করে দিন—অপারেট অবস্থায় রাখতে বলা হয় যাতে কোনো ডেটা পরিবর্তন না হয়; তবে যদি আপনি ফরেনসিক দলের নির্দেশ না পান নিজে ফাইল মুছবেন না।</p>
</li>
<li data-start="1275" data-end="1353">
<p data-start="1277" data-end="1353">ডিভাইসটি প্লাগ থেকে নেবেন না; পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করবেন না; রিসেট করবেন না।</p>
</li>
</ul>
</li>
<li data-start="1355" data-end="1530">
<p data-start="1358" data-end="1383"><strong data-start="1358" data-end="1381">স্ক্রিনশট ও ব্যাকআপ</strong></p>
<ul data-start="1387" data-end="1530">
<li data-start="1387" data-end="1530">
<p data-start="1389" data-end="1530">যতটুকু পাবলিকলি দেখা যায় (চ্যাট, প্রোফাইল, পোস্ট, কললিস্ট, স্টোরি) সেটা স্ক্রিনশট নিন। স্ক্রিনশটের পাশে লিখে রাখুন — কখন, কোথায়, কে দেখেছে।</p>
</li>
</ul>
</li>
<li data-start="1532" data-end="1689">
<p data-start="1535" data-end="1554"><strong data-start="1535" data-end="1552">লোকেশন রেকর্ড</strong></p>
<ul data-start="1558" data-end="1689">
<li data-start="1558" data-end="1689">
<p data-start="1560" data-end="1689">মোবাইলের শেষ দেখা (last seen), লোকেশন শেয়ার ছিল কি—এসব নোট করুন। কাছাকাছি কেউ CCTV/কেইশার্য্য থাকলে তাদের ডিটেইল নিলে ভালো হবে।</p>
</li>
</ul>
</li>
<li data-start="1691" data-end="1892">
<p data-start="1694" data-end="1719"><strong data-start="1694" data-end="1717">আইনি নোটিশ প্রস্তুত</strong></p>
<ul data-start="1723" data-end="1892">
<li data-start="1723" data-end="1892">
<p data-start="1725" data-end="1892">দ্রুত FIR বা সাধারণ ডায়েরি (GD) করুন; একই সঙ্গে সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ/পুলিশে কভার লেটার দিন — এতে ডিভাইস সিকিউরেশন, টেলিকম/প্ল্যাটফর্ম রেকর্ড দরকার এমন উল্লেখ থাকবে।</p>
</li>
</ul>
</li>
</ul>
</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><span style="font-size: 14pt;"><strong>প্রমাণ সংরক্ষণ ও চেইন অব কস্টডি</strong></span></div>
<div dir="auto">
<ul data-start="1949" data-end="2382">
<li data-start="1949" data-end="2084">
<p data-start="1951" data-end="2084"><strong data-start="1951" data-end="1973">ডিভাইস হ্যান্ডলিং:</strong> ডিভাইস আর ব্যবহার করা যাবে না—যারা ডিভাইসটি গ্রহণ করবেন তাদের নাম, সময় ও অবস্থান লিখে নিন (লিখিত রেজিস্টার)।</p>
</li>
<li data-start="2085" data-end="2176">
<p data-start="2087" data-end="2176"><strong data-start="2087" data-end="2110">হ্যান্ডওভার রেকর্ড:</strong> প্রতিটি হস্তান্তর লিখিতভাবে রেজিস্টার করুন—কে নিয়েছে, কখন, কেন।</p>
</li>
<li data-start="2177" data-end="2258">
<p data-start="2179" data-end="2258"><strong data-start="2179" data-end="2200">মেটাডেটা সংরক্ষণ:</strong> স্ক্রিনশটগুলো কখন ও কোন ডিভাইসে তোলা হয়েছে তা নোট করুন।</p>
</li>
<li data-start="2259" data-end="2382">
<p data-start="2261" data-end="2382"><strong data-start="2261" data-end="2276">ক্লাউড চেক:</strong> Google Drive, iCloud ইত্যাদি ক্লাউড ব্যাকআপ আছে কি না দ্রুত দেখুন — ক্লাউড ডেটা পেতে কোর্ট অর্ডার লাগে।</p>
</li>
</ul>
</div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><span style="font-size: 14pt;"><strong>ওপেন-সোর্স টুলস — নাম, কাজে লাগার ধরণ ও সীমাবদ্ধতা</strong></span></div>
</div>
<div class="x14z9mp xat24cr x1lziwak x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">
<blockquote data-start="2446" data-end="2587">
<p data-start="2448" data-end="2587">নিচের টুলগুলো <em data-start="2462" data-end="2483">আইনি ও পাবলিক সোর্স</em> অনুসন্ধানের জন্য—কোনো প্ল্যাটফর্মের প্রাইভেট কন্টেন্ট বা ব্যক্তিগত চ্যাট পাওয়ার জন্য আইনি অর্ডার লাগবে। এখানে টুললাইন, কাজের ধরণ, সীমাবদ্ধতা উল্লেখ করা হলো। </p>
</blockquote>
</div>
<div dir="auto">
<article class="text-token-text-primary w-full focus:outline-none [--shadow-height:45px] has-data-writing-block:pointer-events-none has-data-writing-block:-mt-(--shadow-height) has-data-writing-block:pt-(--shadow-height) [&amp;:has([data-writing-block])&gt;*]:pointer-events-auto scroll-mt-[calc(var(--header-height)+min(200px,max(70px,20svh)))]" dir="auto" data-turn-id="49b8b903-8444-4b52-a8c0-8c413d6a5ed1" data-testid="conversation-turn-2" data-scroll-anchor="true" data-turn="assistant" tabindex="-1">
<div class="text-base my-auto mx-auto pb-10 [--thread-content-margin:--spacing(4)] thread-sm:[--thread-content-margin:--spacing(6)] thread-lg:[--thread-content-margin:--spacing(16)] px-(--thread-content-margin)">
<div class="[--thread-content-max-width:40rem] thread-lg:[--thread-content-max-width:48rem] mx-auto max-w-(--thread-content-max-width) flex-1 group/turn-messages focus-visible:outline-hidden relative flex w-full min-w-0 flex-col agent-turn" tabindex="-1">
<div class="flex max-w-full flex-col grow">
<div data-message-author-role="assistant" data-message-id="a3f8de61-0cb3-48b2-ab6b-4af5bf5bc8f8" dir="auto" class="min-h-8 text-message relative flex w-full flex-col items-end gap-2 text-start break-words whitespace-normal [.text-message+&amp;]:mt-1" data-message-model-slug="gpt-5-t-mini">
<div class="flex w-full flex-col gap-1 empty:hidden first:pt-[1px]">
<div class="markdown prose dark:prose-invert w-full break-words light markdown-new-styling">
<ul data-start="2589" data-end="4286">
<li data-start="2589" data-end="2742">
<p data-start="2591" data-end="2633"><strong data-start="2591" data-end="2631">OSINT Framework (<a href="https://digibanglatech.news/admin/edit-post/osintframework.com" target="_blank" rel="noopener">osintframework.com</a>)</strong></p>
<ul data-start="2636" data-end="2742">
<li data-start="2636" data-end="2697">
<p data-start="2638" data-end="2697"><strong>কাজ:</strong> কোন সোর্সে কী পরীক্ষা করা যায়—রিসোর্স-লিংকের তালিকা।</p>
</li>
<li data-start="2700" data-end="2742">
<p data-start="2702" data-end="2742"><strong>সীমা: </strong>নিজে ডাটা দেয় না, কেবল পথ দেখায়।</p>
</li>
</ul>
</li>
<li data-start="2744" data-end="2908">
<p data-start="2746" data-end="2779"><strong data-start="2746" data-end="2777">Maltego (Community Edition)</strong></p>
<ul data-start="2782" data-end="2908">
<li data-start="2782" data-end="2856">
<p data-start="2784" data-end="2856"><strong>কাজ</strong>: প্রোফাইল/আইডি/ফোন/ডোমেইনের সম্পর্ক ভিজ্যুয়ালাইজ করতে সাহায্য করে।</p>
</li>
<li data-start="2859" data-end="2908">
<p data-start="2861" data-end="2908"><strong>সীমা:</strong> প্রিমিয়াম প্লাগইন ছাড়া গভীর ডেটা সীমিত।</p>
</li>
</ul>
</li>
<li data-start="2910" data-end="3072">
<p data-start="2912" data-end="2942"><strong data-start="2912" data-end="2940">SpiderFoot (open source)</strong></p>
<ul data-start="2945" data-end="3072">
<li data-start="2945" data-end="3018">
<p data-start="2947" data-end="3018"><strong>কাজ:</strong> স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইমেল, ফোন, আইপি, ডোমেইন ইত্যাদি footprinting করে।</p>
</li>
<li data-start="3021" data-end="3072">
<p data-start="3023" data-end="3072"><strong>সীমা:</strong> সার্ভার/ব্যাকএন্ড ডেটা না থাকলে ফল সীমিত।</p>
</li>
</ul>
</li>
<li data-start="3074" data-end="3236">
<p data-start="3076" data-end="3115"><strong data-start="3076" data-end="3113">theHarvester / FOCA / recon-tools</strong></p>
<ul data-start="3118" data-end="3236">
<li data-start="3118" data-end="3186">
<p data-start="3120" data-end="3186"><strong>কাজ:</strong> পাবলিক ইমেইল, সাবডোমেইন, সার্ভার-ইনফো সংগ্রহে ব্যবহারযোগ্য।</p>
</li>
<li data-start="3189" data-end="3236">
<p data-start="3191" data-end="3236"><strong>সীমা</strong>: ওয়েবে যা আছে সেটা তবুওই পাওয়া যাবে।</p>
</li>
</ul>
</li>
<li data-start="3238" data-end="3409">
<p data-start="3240" data-end="3301"><strong data-start="3240" data-end="3299">Whois, Reverse-DNS, GeoIP (ARIN, RIPEstat, DomainTools)</strong></p>
<ul data-start="3304" data-end="3409">
<li data-start="3304" data-end="3343">
<p data-start="3306" data-end="3343"><strong>কাজ:</strong> ডোমেইন/আইপি-র সূত্র পেতে সহায়।</p>
</li>
<li data-start="3346" data-end="3409">
<p data-start="3348" data-end="3409"><strong>সীমা:</strong> NAT/VPN/প্রাইভেট হোস্টিং হলে লোকেশন অস্পষ্ট হতে পারে।</p>
</li>
</ul>
</li>
<li data-start="3411" data-end="3570">
<p data-start="3413" data-end="3427"><strong data-start="3413" data-end="3425">ExifTool</strong></p>
<ul data-start="3430" data-end="3570">
<li data-start="3430" data-end="3494">
<p data-start="3432" data-end="3494"><strong>কাজ:</strong> ছবি/ভিডিওর মেটাডেটা (timestamp, ক্যামেরা, GPS) পড়তে হয়।</p>
</li>
<li data-start="3497" data-end="3570">
<p data-start="3499" data-end="3570"><strong>সীমা:</strong> সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে আপলোড করলে মেটাডাটা সাধারণত সরিয়ে দেয়া হয়।</p>
</li>
</ul>
</li>
<li data-start="3572" data-end="3737">
<p data-start="3574" data-end="3618"><strong data-start="3574" data-end="3616">Google Dorking &amp; Social Media Searches</strong></p>
<ul data-start="3621" data-end="3737">
<li data-start="3621" data-end="3689">
<p data-start="3623" data-end="3689"><strong>কাজ:</strong> ইউজারনেম/ইমেইল/নাম দিয়ে পাবলিক পোস্ট, স্টোরি, কমেন্ট খোঁজা।</p>
</li>
<li data-start="3692" data-end="3737">
<p data-start="3694" data-end="3737"><strong>সীমা:</strong> প্রাইভেসি সেটিংস থাকলে দেখা যায় না।</p>
</li>
</ul>
</li>
<li data-start="3739" data-end="3902">
<p data-start="3741" data-end="3778"><strong data-start="3741" data-end="3776">Wayback Machine / archive.today</strong></p>
<ul data-start="3781" data-end="3902">
<li data-start="3781" data-end="3852">
<p data-start="3783" data-end="3852"><strong>কাজ:</strong> মুছে ফেলা পাবলিক পোস্ট বা প্রোফাইলের পুরনো কপি ধরে রাখতে পারে।</p>
</li>
<li data-start="3855" data-end="3902">
<p data-start="3857" data-end="3902"><strong>সীমা:</strong> সবকিছু ক্যাপচার হয় না; রিয়েল-টাইম নয়।</p>
</li>
</ul>
</li>
<li data-start="3904" data-end="4106">
<p data-start="3906" data-end="3970"><strong data-start="3906" data-end="3968">Telegram/WhatsApp/Signal public-channel scraping (সাবধানে)</strong></p>
<ul data-start="3973" data-end="4106">
<li data-start="3973" data-end="4030">
<p data-start="3975" data-end="4030"><strong>কাজ:</strong> জনতা-চ্যানেলে কিছু পাওয়া গেলে তা সংগ্রহ করা যায়।</p>
</li>
<li data-start="4033" data-end="4106">
<p data-start="4035" data-end="4106"><strong>সীমা:</strong> ব্যক্তিগত চ্যাট প্ল্যাটফর্ম ছাড়া অ্যাক্সেস করা বেআইনি ও অনৈতিক।</p>
</li>
</ul>
</li>
<li data-start="4108" data-end="4286">
<p data-start="4110" data-end="4161"><strong data-start="4110" data-end="4159">Timeline/Metadata tools (Plaso, log2timeline)</strong></p>
<ul data-start="4164" data-end="4286">
<li data-start="4164" data-end="4226">
<p data-start="4166" data-end="4226"><strong>কাজ:</strong> বিভিন্ন উৎস থেকে টাইমস্ট্যাম্প নিয়ে ঘটনা-রেখা বানায়।</p>
</li>
<li data-start="4229" data-end="4286">
<p data-start="4231" data-end="4286"><strong>সীমা:</strong> সঠিক ইন্টারপ্রেটেশনের জন্য ফরেনসিক দক্ষতা লাগে।</p>
</li>
</ul>
</li>
</ul>
<h2 data-start="4293" data-end="4350"><span style="font-size: 14pt;">সাধারণ তদন্ত ওয়ার্কফ্লো — ধাপে ধাপে (আইনি ও নিরাপদ)</span></h2>
<ul data-start="4351" data-end="5152">
<li data-start="4351" data-end="4441">
<p data-start="4354" data-end="4441"><strong data-start="4354" data-end="4379">প্রশ্ন নির্ধারণ করুন:</strong> শেষ seen কখন? শেষ যোগাযোগকারী কে? কোনো লোকেশন শেয়ার ছিল কি?</p>
</li>
<li data-start="4442" data-end="4568">
<p data-start="4445" data-end="4568"><strong data-start="4445" data-end="4473">পাবলিক প্রোফাইল স্ক্যান:</strong> সন্দেহভাজন ইউজারনেম দিয়ে পাবলিক পোস্ট, ফলোয়ার, ফরওয়ার্ডেড মেসেজ খুঁজুন—সবকিছু স্ক্রিনশট নিন।</p>
</li>
<li data-start="4569" data-end="4680">
<p data-start="4572" data-end="4680"><strong data-start="4572" data-end="4591">টাইমলাইন বানান:</strong> কল-লিস্ট, SMS, WhatsApp last seen, Telegram user ID — এগুলো মিলিয়ে টাইমলাইন তৈরি করুন।</p>
</li>
<li data-start="4681" data-end="4802">
<p data-start="4684" data-end="4802"><strong data-start="4684" data-end="4702">ডেটা ক্রস-চেক:</strong> প্রোফাইল ছবির ট্যimestamp, পোস্ট-লোকেশন, ইউজারনেম পরিবর্তন ইত্যাদি মিলিয়ে দেখুন কতোটা consistent।</p>
</li>
<li data-start="4803" data-end="4952">
<p data-start="4806" data-end="4952"><strong data-start="4806" data-end="4839">টেলিকম/প্ল্যাটফর্ম রিকোয়েস্ট:</strong> পাবলিক নয় এমন হলে আইনি নোটিস/সাবপোনা/পুলিশ-রেজুলেশন দিয়ে CDR, tower dump, IP logs, login timestamps চাইতে হবে।</p>
</li>
<li data-start="4953" data-end="5063">
<p data-start="4956" data-end="5063"><strong data-start="4956" data-end="4975">ফরেনসিক ইমেজিং:</strong> ডিভাইস মেলে গেলে পেশাদার ফরেনসিক টিম দিয়ে ইমেজ তৈরি করুন (write-blocker ব্যবহার করে)।</p>
</li>
<li data-start="5064" data-end="5152">
<p data-start="5067" data-end="5152"><strong data-start="5067" data-end="5092">অ্যাট্রিবিউশন-সাবধান:</strong> অনলাইনে মিল পাওয়া মানেই ঐ ব্যক্তি নয়—অতিরিক্ত প্রমাণ চাই।</p>
</li>
</ul>
<h2 data-start="5159" data-end="5205"><span style="font-size: 14pt;">কোথায় সীমা আছে — বাস্তবিক সীমাবদ্ধতাগুলি</span></h2>
<ul data-start="5206" data-end="5532">
<li data-start="5206" data-end="5283">
<p data-start="5208" data-end="5283">ইন-অ্যাপ end-to-end এনক্রিপটেড মেসেজ প্ল্যাটফর্ম ছাড়া বাইপাস করা যায় না।</p>
</li>
<li data-start="5284" data-end="5403">
<p data-start="5286" data-end="5403">কোনো অ্যাকাউন্টের প্রাইভেট চ্যাট প্ল্যাটফর্ম ছাড়া দেখলে <em data-start="5343" data-end="5355">আইনি অপরাধ</em> হতে পারে—কোর্টি অর্ডার ছাড়া চেষ্টা করবেন না।</p>
</li>
<li data-start="5404" data-end="5465">
<p data-start="5406" data-end="5465">VPN/প্রক্সি/IP-মাস্কিং থাকলে IP-অ্যাট্রিবিউশন অস্পষ্ট হয়।</p>
</li>
<li data-start="5466" data-end="5532">
<p data-start="5468" data-end="5532">সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যাকএন্ড-লগস পাবলিক নয়—আইনি রুট ছাড়া মেলে না।</p>
</li>
</ul>
<h2 data-start="5539" data-end="5587"><span style="font-size: 14pt;">বাস্তবসম্মত ফলাফল — কি পর্যন্ত আশা করা যায়</span></h2>
<ul data-start="5588" data-end="6070">
<li data-start="5588" data-end="5666">
<p data-start="5590" data-end="5666">পাবলিক প্রোফাইল থেকে দ্রুত পরিচিতি, অপারেটিং সময় ও টাইমলাইন তৈরি করা যাবে।</p>
</li>
<li data-start="5667" data-end="5763">
<p data-start="5669" data-end="5763">টেলিকম CDR/Tower-dump পেলে ফোন লোকেশন ও কল প্যাটার্ন থেকে সম্ভাব্য অবস্থান নির্ধারণ করা যায়।</p>
</li>
<li data-start="5764" data-end="5903">
<p data-start="5766" data-end="5903">ফরেনসিক ইমেজিং করলে ডিলিটেড মিডিয়া/সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটির ট্রেস পাওয়া যেতে পারে — কিন্তু এটি ডিভাইসের স্টেট ও এনক্রিপশনের ওপর নির্ভরশীল।</p>
</li>
<li data-start="5904" data-end="6070">
<p data-start="5906" data-end="6070">ব্যক্তিগত এনক্রিপটেড মেসেজ বা ক্লাউড-অ্যাকাউন্ট লগিন-হিস্ট্রি পেতে হলে কোর্ট অর্ডার প্রয়োজন—ফল প্ল্যাটফর্মের কপিরোলার নীতির ওপর নির্ভরশীল এবং ১০০% গ্যারান্টি নেই।</p>
</li>
</ul>
<h2 data-start="6077" data-end="6127"><span style="font-size: 14pt;">আইনগত ও নৈতিক নির্দেশাবলী (অবশ্যই পালনযোগ্য)</span></h2>
<ul data-start="6128" data-end="6477">
<li data-start="6128" data-end="6210">
<p data-start="6130" data-end="6210">কাউকে <em data-start="6136" data-end="6154">ট্র্যাক বা হ্যাক</em> করার কোনো টিউটোরিয়াল বা নির্দেশ এখানে নেই—এটা বেআইনি।</p>
</li>
<li data-start="6211" data-end="6287">
<p data-start="6213" data-end="6287">সব ঘটনা রিপোর্ট করুন; কোর্ট/সাইবার ব্রাঞ্চ/পুলিশের মাধ্যমে সঠিক রুট নিন।</p>
</li>
<li data-start="6288" data-end="6378">
<p data-start="6290" data-end="6378">শিশু/নাবালকের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত সতর্কতা—প্রয়োজনে আদালত বা শিশুকর্তৃপক্ষের নির্দেশ নিন।</p>
</li>
<li data-start="6379" data-end="6477">
<p data-start="6381" data-end="6477">প্রমাণ সংগ্রহে সততা ও proportionality বজায় রাখুন—অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যক্তিগত ডেটা শেয়ার করবেন না।</p>
</li>
</ul>
<h2 data-start="6484" data-end="6539"><span style="font-size: 14pt;">পরিবার, স্কুল ও কলেজের জন্য প্রভূত প্রিভেনশন টিপস</span></h2>
<ul data-start="6540" data-end="6848">
<li data-start="6540" data-end="6612">
<p data-start="6542" data-end="6612">পরীক্ষার সময় <strong data-start="6555" data-end="6580">নির্দিষ্ট চেক-ইন টাইম</strong> বা সেফ-কনট্যাক্ট নম্বর রাখুন।</p>
</li>
<li data-start="6613" data-end="6689">
<p data-start="6615" data-end="6689">ছাত্রীদের বলুন: অনলাইনে কেউ পরিচয় ও ছবি চাইলে আগে অভিভাবক/স্কুলকে জানান।</p>
</li>
<li data-start="6690" data-end="6748">
<p data-start="6692" data-end="6748">অচেনা লিংক/রিকোয়েস্ট পেলেই ব্লক করুন এবং রিপোর্ট করুন।</p>
</li>
<li data-start="6749" data-end="6848">
<p data-start="6751" data-end="6848">স্কুল/কলেজে ২৪/৭ মনিটর করা একটি সেফ-কনট্যাক্ট নম্বর রাখুন যেখানে ছাত্রীরা কল করে সাহায্য পাবেন।</p>
</li>
</ul>
<h2 data-start="6855" data-end="6912"><span style="font-size: 14pt;">তদন্তকারীর জন্য </span><span style="font-size: 14pt;">দ্রুত চেকলিস্ট —  (এক পাতার সারাংশ)</span></h2>
<ul class="contains-task-list" data-start="6913" data-end="7347">
<li class="task-list-item" data-start="6913" data-end="6955">
<p data-start="6919" data-end="6955"><input disabled="disabled" type="checkbox"> শেষ দেখা সময় ও লোকেশন নোট করা আছে?</p>
</li>
<li class="task-list-item" data-start="6956" data-end="7009">
<p data-start="6962" data-end="7009"><input disabled="disabled" type="checkbox"> ডিভাইস সিকিউর করা হয়েছে এবং ব্যবহার বন্ধ আছে?</p>
</li>
<li class="task-list-item" data-start="7010" data-end="7081">
<p data-start="7016" data-end="7081"><input disabled="disabled" type="checkbox"> সব পাবলিক চ্যাট/প্রোফাইল স্ক্রিনশট নেওয়া হয়েছে (timestamps সহ)?</p>
</li>
<li class="task-list-item" data-start="7082" data-end="7129">
<p data-start="7088" data-end="7129"><input disabled="disabled" type="checkbox"> ক্লাউড ব্যাকআপ আছে কি তা চেক করা হয়েছে?</p>
</li>
<li class="task-list-item" data-start="7130" data-end="7179">
<p data-start="7136" data-end="7179"><input disabled="disabled" type="checkbox"> FIR/GD করা হয়েছে বা পুলিশকে জানানো হয়েছে?</p>
</li>
<li class="task-list-item" data-start="7180" data-end="7236">
<p data-start="7186" data-end="7236"><input disabled="disabled" type="checkbox"> টেলিকম CDR/Tower-dump আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে?</p>
</li>
<li class="task-list-item" data-start="7237" data-end="7293">
<p data-start="7243" data-end="7293"><input disabled="disabled" type="checkbox"> ফরেনসিক ইমেজিংয়ের জন্য টিম/ল্যাব কন্টাক্ট রয়েছে?</p>
</li>
<li data-start="7294" data-end="7347" class="task-list-item">
<p data-start="7300" data-end="7347"><input disabled="disabled" type="checkbox"> স্ক্রিনশট/ফাইলের মেটাডেটা নথিভুক্ত করা হয়েছে?</p>
</li>
</ul>
<h2 data-start="7354" data-end="7413"><span style="font-size: 14pt;"> মিডিয়া বা পরিবারের কাছে কী বলবেন </span></h2>
<p data-start="7414" data-end="7615">“আমরা প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি—প্রমাণ সংরক্ষণ করা হচ্ছে, এবং আইনগত পথে তদন্ত হবে। অনাকাঙ্ক্ষিত অভিযোগ বা বিচার কাজের আগে কোনো ব্যক্তিকে দোষারোপ করবেন না; তদন্ত শেষ হলে বৈধ তথ্য অনুযায়ী সবাইকে জানানো হবে।”</p>
<h3 data-start="7622" data-end="7633">শেষ কথা</h3>
<p data-start="7634" data-end="7869" data-is-last-node="" data-is-only-node=""><span data-huuid="4255289789951859100"><span>ডিজিটাল ফরেনসিকের নৈতিক কৌশলগুলির মধ্যে রয়েছে প্রমাণের অখণ্ডতা রক্ষা, গোপনীয়তাকে সম্মান করা, অনুমোদন ছাড়া ডেটা অ্যাক্সেস না করা, এবং পক্ষপাতহীন বিশ্লেষণ ও রিপোর্ট করা।</span><span> </span></span><span data-huuid="4255289789951858093"><span>এর মধ্যে আরও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, ডিজিটাল পক্ষপাত এড়াতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা, এবং সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করে প্রমাণ সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা, যা আদালতের গ্রহণযোগ্যতা নিশ্চিত করে। </span></span>তাই বাস্তব-জীবনের নিরাপদ, আইনি ও প্র্যাকটিক্যাল রোডম্যাপ করুন—প্রয়োজনে স্থানীয় পুলিশিং বা সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চের সাহায্য নিন।  </p>
<hr>
<p data-start="7634" data-end="7869" data-is-last-node="" data-is-only-node=""><span><strong>লেখক ¤ </strong>আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর। তিনি আইন, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে লেখালেখি করেন।</span></p>
<hr>
<p data-start="7634" data-end="7869" data-is-last-node="" data-is-only-node=""></p>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</article>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>যে পথে ডিজিটাল অর্থনীতির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে দেশের আইসিটি খাত</title>
<link>https://digibanglatech.news/158453</link>
<guid>https://digibanglatech.news/158453</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202508/image_870x580_68963a2344da1.jpg" length="129039" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 18 Oct 2025 10:27:15 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>জুলাই অভ্যুত্থানের পর শুরু হয়েছে দেশ পূণর্গঠনের কাজ। কেননা, বিগত ১৫ বছরে হ্যামিলিয়নের বাঁশিওয়ালার মতো দেশের ‘তথ্যপ্রযুক্তি খাত’-কে বিপজ্জনক অবস্থায় নিয়ে গেছে জনরোষে পদচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। সেই সময়ের বিনিয়োগগুলো ছিল সংযোগের দিক থেকে বিচ্ছিন্ন, নিরাপত্তায় ঝুঁকিপূর্ণ আর খরচে লুটপাট ও দুর্নীতিপ্রবণ। একইভাবে নিপীড়নমূলক একটি  সাইবার নিরাপত্তা আইন দিয়ে পুরো টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি খাতকে করা হয় বিপথগামী।  ঝুঁকিপূর্ণ পরামর্শক এবং অযোগ্য ভেন্ডার নিয়োগ করে ব্যাপক অর্থ খরচ করে মন্ত্রণালয় দপ্তর সংস্থা বিভাগভিত্তিক কিছু ডিজিটাল আইল্যান্ড তৈরি করা হয়েছে ঠিকই তবে সেখানে ইন্টারঅপারাবিলিটি কিংবা আন্তঃসংযোগ গুরুত্ব পায়নি। ন্যাশনাল কানেক্টিভিটি বাস (বিএনডিএ) কিংবা ন্যাশনাল সার্ভিস বাসের (এনইএ) মতো কনসেপ্টগুলো ছিলো কাগজ নির্ভর। এমন বাস্তবতায় কীভাবে সেই ঝুঁকিপূর্ণ খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলা হচ্ছে সেই কথাই সবিস্তারে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়) ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। দেশের টেলিকম ও তথ্য প্রযুক্তি খাতের নতুন বন্দোবস্তের সেই বয়ানই তুলে ধরা হলো নিচে।   </p>
<p><strong>৩ জায়গাতেই ক্যাপাসিটি ঝুঁকিপূর্ণ</strong></p>
<p>অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্বে এসে আমরা দেখতে পেয়েছি ন্যাশনাল ডেটা সেন্টারে সক্ষমতা একেবারেই সীমিত, সিকিউরিটি মেজার অপ্রতুল এবং এনলাইটিকস অনুপস্থিত। ডেটাসেন্টারের ন্যাটিভ ফ্যাসিলিটিগুলোর মেমোরি,  প্রসেসিং পাওয়ার, স্টোরেজ তিনটি জায়গাতেই ক্যাপাসিটি ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে চলে গেছে। উপরন্তু ডিজাস্টার রিকভারি সেন্টারের সক্ষমতা মূল সক্ষমতার মাত্র ১২-১৫ শতাংশ। ডাটা সেন্টার এবং ক্লাউড ফেসিলিটির এনভায়রনমেন্টাল ড্যাশবোর্ড, পেলোড ডিস্ট্রিবিউশন, ইন্টারনেট থ্রুপুট এলোকেশন, এন্টি ডিডস মেজার ইত্যাদি মৌলিক বিষয়াদি অনুপস্থিত ছিল। নেটিভ ক্লাউডের সার্ভারগুলোর ভার্চুয়াল মেশিন গুলোর পার্ফর্মেন্স মনিটরিং ছিল না। </p>
<p><strong>লুটপাটের ডেটা সেন্টার</strong></p>
<p>বাংলাদেশ ডাটা সেন্টার কোম্পানিতে দুটি দুর্নীতি লুটতরাজ বান্ধব চুক্তি করা হয়েছে। প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলারে চীনা প্রতিষ্ঠানের সাথে একটা চুক্তি করা হয়েছে যার সার্ভারগুলো কখনোই ব্যবহৃত হয়নি এবং প্রকল্প হস্তান্তরের আগেই হার্ডওয়্যার মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। একটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানের সাথে অন্য চুক্তিতে ক্লাউড ক্রেডিট কেনার নাম করে বিদ্যুৎ খাতের ক্যাপাসিটি চার্জের আদলে এমন অন্যায় চুক্তি করা হয়েছে যেখানে সরকারকে ৩ বছরে  ২৩,৯ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করতে হবে, অথচ সেই ক্লাউড ফেসিলিটি তিন বছরে সর্বমোট ৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করার কোন সম্ভাবনা নেই। <em>যেখানে ক্লাউড হচ্ছে ‘পে অ্যাজ ইউ গো’, অর্থাৎ যতটুকু ব্যবহার ততটুকু উপর বিল পরিশোধ, সেখানে সাবেক সরকার এমন চুক্তি করেছে যার মাধ্যমে ক্লাউড ব্যবহার হোক বা না হোক সেখানে ১৮ মিলিয়ন ডলার পেমেন্ট করতেই হবে, কোন ক্রেডিট ফরোয়ার্ডিং হবে না এবং হার্ডওয়ারের মালিকানা না থেকেও বাংলাদেশ সরকারকে ডিউটি পেমেন্ট করতে হয়েছে। </em><strong>   </strong> </p>
<p>এছাড়াও গার্টনার র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে থাকা মানসম্পন্ন কোনো সিকিউরিটি সফটওয়্যার পাওয়া যায়নি বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের বিডিজি-ই-গভ সার্টে। জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা  কাউন্সিল এর জনবল, কম্পিউটার ল্যাব এবং টুলগুলো অত্যন্ত সাধারণ মানের ছিল।</p>
<p><strong>পৈত্রিক কাজে এটুআই </strong></p>
<p>এটুআইয়ে ইনোভেশনের নামে  নামে বৈধ এবং অবৈধভাবে বেশ কিছু প্রকৃত ইনোভেশন নয় এমন প্রকল্প নিয়েছে, মার্কেটপ্লেসভিত্তিক প্রকল্প নিয়েছে। গেমিং প্রকল্প করে দেশের গেমিং ইন্ডাস্ট্রি ডেভলপমেন্ট সফটওয়্যার, ট্রেনিং ফেসিলিটি, ভৌত অবকাঠাম ইত্যাদি সরবরাহ না করে শেখ মুজিবুর রহমান, শেখ হাসিনা এবং শেখ রাসেলের নামে সিনেমা বানানো হয়েছিল।</p>
<p><strong>বাংলাদেশ হাইটেক পার্কের স্বজনপ্রীতি</strong></p>
<p>বাংলাদেশ হাইটেক পার্কের অধীনে স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে জমি নির্বাচন করে ২০টির বেশি সফটওয়্যার ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের জন্য একাধিক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পগুলোর ভূমি নির্বাচন এতটাই দুর্নীতি হয়েছে যে, লোকালয় কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে দূরবর্তী স্থানে অবস্থিত এসব সফটওয়্যার সেন্টারে বিনিয়োগকারী, শিক্ষার্থী কিংবা আইটি কোম্পানি কাউকে আকৃষ্ট করানো যাচ্ছে না। সিলেটের হাইটেক পার্ক নগর থেকে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার দূরে। গাজীপুরের কালিয়াকৈর হাইটেক পার্ক ব্যাপক পরিমাণ জমি শুধুমাত্র দুটি কোম্পানিকে বরাদ্দ দিয়ে রাখা।</p>
<p>ডিপার্টমেন্ট অফ আইসিটি এমন প্রকল্প করেছে তার ইনপুট ২০১৬/১৭ সালে দেওয়া, ফলে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে প্রকল্পটির উপযোগিতা অবশিষ্ট নেই।</p>
<p><em>বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ইনফো সরকার নামে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে ফাইবার সংযোগের জন্য অপটিক্যাল ফাইবার সংগ্রহের জন্য বড় প্রকল্প করেছে, কিন্তু সেটিও পাঁচ বছর সময়ক্ষেপণ করে মাত্র ১০% রিভিউ শেয়ারিং এ দুটি কোম্পানিতে ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়েছে।</em></p>
<p><strong>অকার্যকর সিসিএ</strong></p>
<p>ডিজিটাল স্বাক্ষরের জন্য সিসিএ নামক প্রতিষ্ঠানটিকে পুরোপুরি অকার্যকর রেখে দেওয়া হয়েছে, যার কোনো সিকিউর ওয়েব ট্রাস্ট সার্টিফিকেট নেই, ডিএনএস কিংবা এসএসএল সিকিউরিটি নেই, নেই আন্তর্জাতিক পিকেআই ফোরামের  স্বীকৃতি।</p>
<p>অর্থাৎ, একদিকে ইন্টার অপারাবিলিটি নেই, অন্যদিকে নেই ডাটা সেন্টার ও ক্লাউড ক্যাপাসিটি, নেই সক্ষম সাইবার নিরাপত্তা টুলস, নেই কার্যকর সাইবার অপারেশন সেন্টার। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে কোটি কোটি নাগরিকের তথ্য ডার্ক ওয়েবে বেচাকেনার মহামারি, নাম সর্বস্ব নির্মাতা প্রতিষ্ঠান যাদের ন্যূনতম ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা কিংবা সাইবার সুরক্ষা নেই কিংবা এপিআই সুরক্ষা ইত্যাদির ব্যাপারে ন্যূনতম জ্ঞান নেই, দক্ষ কর্মী নেই, আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেট নেই, তাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ কাজ দেওয়া হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সোর্স কোডগুলো অপরিপক্ক। যে কোম্পানির বিরুদ্ধে আদালতে নাগরিকের তথ্য বিক্রির অভিযোগ তাকেই বিসিসি এজ প্রজেক্টের কম্পোনেন্ট হিসেবে কৌশলগত ইন্টার অপারেবিলিটির কাজ দেওয়ার ফন্দি হয়েছে বিগত সরকারের আমলে।</p>
<p><strong>ট্রেনিং না দিয়েই টাকা লোপাট</strong></p>
<p>বিভিন্ন পর্যায়ে আইসিটি ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছিল ঠিকই। তবে ট্রেনিং কারা দেয়, কিভাবে দেয়, আদৌ দিচ্ছে কিনা, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার না করে ভুল প্রক্রিয়ায় টেনিং আয়োজন চলছিল। দেখা গেছে ট্রেনিং না দিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, একই এনআইডির বিপরীতে একাধিকবার ট্রেনিং সংক্রান্ত টাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটেছে। </p>
<p>ফ্রিল্যান্সার তৈরির জন্য যেসব কম্পিউটার দেওয়া হয়েছিল সেগুলো এতই নিম্নমানের যে, যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কাজ করা যায় না, ওপেন করা যায় না কম্পিউটার।</p>
<p><strong>শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব সাপোর্ট প্রকল্পে দেশেব্যাপী নয় হাজার স্কুলের যেসব ল্যাপটপ দেওয়া হয়েছে তার প্রায় ৫০-৬০ শতাংশ আজ অকেজো। </strong></p>
<p><img src="https://digibanglatech.news/uploads/images/202510/image_870x_68f33518bd844.jpg" alt=""></p>
<p>একেবারে লেজগোবরে এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দায়িত্ব নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি মৌলিক পরিবর্তন আনার।</p>
<p><span style="font-size: 18pt; color: rgb(10, 137, 17);"><strong>ঘুড়ে দাঁড়ানোর পালা</strong></span></p>
<p><span style="font-size: 12pt;">ঘুড়ে দাঁড়াতে প্রথমেই </span>নাগরিক সেবার জন্য যৌক্তিক কোনো ভ্যালু তৈরি করে না এ ধরনের সব প্রকল্প বন্ধ করা। এর মাধ্যমে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প আমরা বন্ধ করেছি। এটুআই এবং গেমিং প্রকল্প যে ভ্যানডর নির্ভর, অযৌক্তিক যেসব অ্যাপগুলো তৈরি করতো সেসব বন্ধ করা হয়েছে। </p>
<p>ক। আইসিটির চলমান ২০টি প্রকল্পের প্রতিটির সাব কম্পনেন্ট এবং কম্পনেন্টগুলোকে ক্রিটিক্যাল রিভিউ করা হয়েছে। </p>
<p>খ। প্রতিটাতে একসেপ্টস ক্রাইটেরিয়াগুলো নতুনভাবে ডিফাইন করা হয়েছে।</p>
<p>গ। প্রতিটা প্রকল্পের এক্সিট প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে।</p>
<p>ঘ। যেসব প্রকল্পের ভৌত অবকাঠাম হিসেবে হার্ড ফ্যাসিলিটি আছে, কিন্তু সেখানে সফট স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফেসিলিটি নাই, সেজন্য নতুন করে স্কিল ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।</p>
<p><strong>এভাবে একদিকে রাষ্ট্রের কষ্টার্জিত অর্থের সাশ্রয়, অন্যদিকে ব্যয়িত অর্থের বিপরীতে ”ভ্যালু অফ মানি” এন্ড ”ভ্যাল্যু অফ সার্ভিস” তৈরির পথ খোঁজা হয়েছে।</strong></p>
<p>দ্বিতীয় পদক্ষেপ হিসেবে জরুরীভিত্তিতে ন্যাশনাল ডাটা সেন্টারের এক্সপানশন কর্মকাণ্ড চলছে, ডিজাস্টার রিকভারি এক্সপনশনের কার্যক্রম শুরু করেছি আমরা আইসিটি থেকে ।</p>
<p>পাশাপাশি কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কের ডেটা সেন্টারে ক্লাউড ফ্যাসিলিটি নির্মাণে দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছি। দেশে যাতে পূর্ণমাত্রায় সিডিএন ক্যাশ, এজ রাউটার, হাইপার স্কেলার ফ্যাসিলিটি আনা যায়।</p>
<p>তৃতীয় ধাপে প্রতিটি অসম চুক্তি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইনফো সরকার-৩, ডাটা সেন্টার, ক্লাউড, হাইটেক পার্কের জমি বরাদ্দ ইত্যাদি চুক্তি পূনর্বিবেচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভেন্ডরের সাথে স্পেসিফিকেশন রিভিউয়ের মত কাজ আমরা হাতে নিয়েছি। সফটওয়্যার স্পেসিফিকেশন থেকে শুরু করে ডেটা সেন্টার স্পেসিফিকেশন ডকুমেন্ট রিভিউ করে সেগুলো সংশোধন করে আপডেট করেছি।  </p>
<p><strong>ভেন্ডর লক পরিস্থিতি থেকে বেরুতে সোর্স কোড সংগ্রহ এবং গিট হাব প্রতিষ্ঠা</strong></p>
<p>এটুআই ও বিসিসির ভেন্ডরগুলো থেকে সোর্সকোড টেক ওভার করা, যাতে সরকার সফটওয়্যার লক এবং ভেন্ডর লকড না হয়ে যায়। এজন্য এটুআই ও বিসিসির যৌথ উদ্যোগে ‘গিট হাব’ তৈরি করা হয়েছে। </p>
<p>আইসিটি থেকে আমরা দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের সফটওয়্যার সিস্টেমের উন্নয়নে সাপোর্ট দেয়া শুরু করেছি। বিআরটিএ, বাংলাদেশ রেলওয়ে, ভূমি মন্ত্রণালয়, বিটিসিএল, চট্রগ্রাম পোর্ট অথোরিটির সফটওয়্যার সমূহের সোর্স কোড পুনরুদ্ধার, সফটওয়্যার সিস্টেম সহজীকরণ এবং নিরাপত্তা সংযোজন নিয়ে কাজ করছি। এছাড়া বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়, ঢাকা রোড ট্রান্সপোর্ট অথোরিটি, ঢাকা উত্তর সিটিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যুক্ত হচ্ছি। </p>
<p>ইতোমধ্যেই আইসিটির ডিজাইনে একটি পুলিশ কমিউনিকেশন অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে যা ওল্ড স্কুল ওয়াকিটকিকে রিপ্লেইস করবে, বাংলাদেশ পুলিশকে অ্যাপভিত্তিক ‘পুশ টু টক’ সেবা দেবে। ঢাকা সিটির জন্য একটা রিক্সা রেজিস্ট্রেশন অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে, যা কিউআর কোডভিত্তিক নাম্বার প্লেট জেনারেট করবে।  বর্তমানে ইউনিফায়েড টিকেটিংয়ের কাজ হাতে নিয়েছি, আমরা যাতে বিমান, রেল, বাস, ট্রাক, লঞ্চ, টোলসহ সব ধরনের সরকারি ট্রান্সপোর্টেশনের একটা মার্কেট প্লেস তৈরি হয়। এর পাশাপাশি বেসরকারি বাসের টিকেটিং সিস্টেমের জন্য কিউআর কোডভিত্তিক পস-টার্মিনাল এবং বাস-ভেলিডেটর সেট মিলিয়ে এপভিত্তিক টিকেটিং এর কাজ শুরু হয়েছে।     </p>
<p><span style="color: rgb(0, 0, 0);"><strong>এক ঠিকানায় সব নাগরিক সেবা আনার স্বপ্নযাত্রা</strong></span></p>
<p>আমরা চেষ্টা করেছি সব মন্ত্রণালয়ের সবগুলো সেবার ফ্রন্ট ডেস্ক সার্ভিস নাগরিক সেবা প্ল্যাটফর্মে এনে প্রাথমিক পর্যায়ের আবেদন নবায়ন ইত্যাদি গ্রহণ করা। ইন্টারঅপারাবিলিটির মাধ্যমে একটি ন্যাশনাল কানেক্টিভিটি হাব বা ন্যাশনাল এপিআই হাব বা ন্যাশনাল সার্ভিস হাব তৈরি করে নাগরিক সেবা প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসা। যাতে করে মানুষ অফিসে না গিয়ে শুধুমাত্র একটি সার্ভিস সেন্টারে গিয়ে বিভিন্ন সেবার আবেদন এবং নবায়ন করতে পারেন. এটিকে আমরা নাম দিয়েছি নাগরিক সেবা বাংলাদেশ, এক ঠিকানায় সব সেবা। </p>
<p>অর্থাৎ প্রতিটি সরকারি অফিসের সেবাকে এক জায়গায় এনে নাগরিকদেরকে হয়রানি মুক্ত সেবা দানের লক্ষ্যে নাগরিক সেবার মাধ্যমে ন্যাশনাল এপিআই কানেক্টিভিটি হাব তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে ভিন্ন ভিন্ন অফিসের শত শত ওয়েবসাইটে গিয়ে আলাদাভাবে সেবার আবেদন করার প্রয়োজন পড়বে না, বরং এক জায়গায় সব সেবা পাওয়ার জন্য একটা ন্যাশনাল কানেক্টিভিটি হাব দাঁড়িয়ে যাচ্ছে। অতীতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অনলাইন সেবা, ডিজিটাল সেন্টারসহ যেসব ডিজিটাল আইল্যান্ড করা হয়েছে নাগরিক সেবা সেগুলোকেও ইন্টারকানেক্ট ও ইন্টারঅপারেবল করবে। নাগরিকদেরকে প্রয়োজনীয় সব সেবা এক জায়গায় দিতে এটি বাংলাদেশের প্রথম সিটিজেন সার্ভিস কানেক্টিভিটি হাব।</p>
<p>বিচ্ছিন্নভাবে সব মন্ত্রণালয়ের সব ওয়েবসাইটে আলাদা আলাদা ভাবে না গিয়ে একটি ন্যাশনাল এপিআই হবে সবাইকে সংযোগ করা গেলে, একটি জাতীয় সার্ভিস প্লাটফর্ম তৈরি হবে, প্লাটফর্মে বসে সব মন্ত্রণালয়ের সব সেবার এক্সেস পাওয়া যাবে, ইতোমধ্যে আমরা ছয়টা মন্ত্রণালয়কে এই কমন প্লাটফর্মে যুক্ত করতে পেরেছি, চেষ্টাটা অব্যাহত থাকবে।</p>
<p>আমরা স্বপ্ন দেখি একদিন জন্ম-মৃত্যু-নিবন্ধন কিংবা এত সংক্রান্ত তথ্য সংশোধন, জাতীয় পরিচয় পত্র বা এনআইডি সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের সেবা,  পাসপোর্ট এর আবেদন নবায়ন, ড্রাইভিং লাইসেন্স,  ট্রেড লাইসেন্স, ট্রেডমার্ক,  বিভিন্ন কোম্পানির পরিবেশগত ছাড়পত্র, বিদ্যুৎ পানি গ্যাস ইত্যাদির ইউনিটি সংক্রান্ত আবেদন নবায়ন পরিবর্তন, সার্টিফিকেট সহ বিভিন্ন ধরনের এটেস্টেশন, কিংবা পুলিশের মামলা জিডি ইত্যাদি সবকিছু একটা মাত্র সেবা কেন্দ্রে গিয়েই সম্ভব হবে, এই স্বপ্ন যাত্রাটা নাগরিক সেবার মাধ্যমে শুরু হয়েছে</p>
<p><span style="font-size: 18pt; color: rgb(186, 55, 42);"><strong>আইসিটি মাস্টারপ্ল্যান</strong></span></p>
<p>আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পরে আইসিটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করেছি। দুটি স্টেজে এটা করা হয়েছে। প্রথমে জাইকা সীমিত পরিসরে কান্ট্রি স্ট্যাডি করে একটা প্ল্যান দিয়েছে। সেখানে পূর্ণ ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন মাস্টার প্ল্যান এবং আইসিটির রিফর্ম রোডম্যাপের অনেক এলিমেন্ট অনুপস্থিত বলে আমরা নিজেরা আরেকটি আইসিটি মাস্টার প্ল্যান করেছি। এর খসড়া ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। এই মাস্টারপ্ল্যানে ২০২৭ এবং ২০৩০ এ আইসিটি খাতে দক্ষ জনবল, সফটওয়্যার পার্ক তৈরি, আইসিটি রপ্তানি বৃদ্ধিসহ ভিশনারি টার্গেট সেট করা হয়েছে।</p>
<p>আমরা চাই আগামী পাঁচ বছরে আইসিটি খাতে অন্তত ছয় মিলিয়ন দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে এবং একই সাথে আয় ৫ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে। সেজন্য ঢাকায় একাধিক সফটওয়্যার পার্ট নির্মাণের জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজউক এবং সিটি কর্পোরেশনকে জমির চাহিদা পত্র দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি বিটিসিএল ও ডাক বিভাগসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জমিতে সফটওয়্যার পার্ক নির্মাণ করে সেখানে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য মেট্রোপলিটন সেন্ট্রিকওয়ার্ক স্পেইস তৈরির (অফিস ভাড়া) উদ্যোগ নিচ্ছি। এর সাথে আমরা সেমাইকন্ডাক্টর খাতকে একটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে সেজন্য কিছু ল্যাব তৈরি করা, মেকারস স্পেস তৈরি করাকে গুরুত্ব দিচ্ছি।</p>
<p><strong>ইন্ডাস্ট্রি সার্টিফায়েড প্রশিক্ষণ শুরু</strong> </p>
<p>নতুন ধরার ট্রেনিং প্রকল্প শুরু করেছি। বর্তমানে আমরা সবগুলো ট্রেনিং ডিপিপির কাজ করছি, এখানে আমরা আন্তর্জাতিক মানের ফ্রিল্যান্সার, মাই এসকিউএল, পাইথন প্রোগ্রাম, ক্লাউড ভিত্তিক ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটিং, সাইবার সিকিউরিটি, কনটেন্ট বেজড মোজো জার্নালিজম, ডিজিটাল ভেরিফিকেশন ইত্যাদির উপরে এমন ট্রেনিং কারিকুলাম সাজাচ্ছি যাতে দুটি সার্টিফিকেশন নিশ্চিত থাকবে। </p>
<p>ক. হয় ট্রেনিংগুলো ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (ন্যাশনাল স্কিল ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি) এনএসডিএ কর্তৃক স্বীকৃত হবে। </p>
<p>খ. অথবা ট্রেনিং গুলোর কোনো আন্তর্জাতিক সার্টিফিকেশন থাকবে। </p>
<p>এর উদ্দেশ্য ইন্ডাস্ট্রির জন্য দরকারি তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক এলিমেন্টারি স্কিল গ্যাপ পূরণ করা। পাশাপাশি আমাদের শিক্ষার্থীরা এই ট্রেনিং করে পরে যাতে এই সার্টিফিকেট কর্মজীবনে কাজে লাগাতে পারেন।</p>
<p>আমরা নিয়ম করেছি. এখন থেকে আইসিটি ডিভিশন থেকে জাতীয় কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃত সার্টিফিকেটবিহীন কোনো ট্রেনিং দেয়া হবে না। ডিপিপি সংশোধন শেষ করে আমরা অচিরেই হার পাওয়ার, লার্নিং এন্ড আর্নিং, এডভান্স ফ্রিল্যান্সার ট্রেনিং, এডভান্স প্রোগ্রামিং ট্রেনিং, মোবাইল আইসিটি ট্রেনিংসহ ইত্যাদি ট্রেনিং কার্যক্রম শুরু করব। ট্রেনিংগুলো শেষ করে পরীক্ষা হবে, পরীক্ষায় যারা একটা মানসম্পন্ন স্কোর করবে তাদেরকে কিছু সম্মানী দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ল্যাপটপ দেওয়া হবে যার মালিকানা আইসিটির থাকবে তবে শর্ত এমন হবে যে,  সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে মেইনটেনেন্স চুক্তি থাকবে তাতে ল্যাপটপগুলো সচল থাকে এবং দরকারে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ল্যাপটপ প্রতিস্থাপন করতে পারে।</p>
<p><span style="color: rgb(35, 111, 161); font-size: 18pt;"><strong>ডেটা গভর্নেন্স ও ইন্টার অপারেবিলিটির মহাযাত্রা</strong></span></p>
<p>বাংলাদেশের ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন কিছু ডিজিটাল আইল্যান্ড এ ফ্রাগমেন্টেড হয়েছে। এতে ইন্টারকানেক্টিভিটি এবং ইন্টারঅপারাবিলিটি পর্যাপ্তভাবে তৈরি হয়নি। প্রতিষ্ঠানগুলো বিচ্ছিন্নভাবে নিজেদের মতো করে এপিআই সংযোগের মতো একটা অনিরাপদ যাত্রায় নিয়োজিত ছিল। আমাদের মনে হয়েছে, এর পরিবর্তে বাংলাদেশে একটি সত্যিকারের ডাটা গভর্নেন্স এবং ইন্টার অপারেবল ব্যবস্থা দরকার।</p>
<p>সেজন্য ডেটা গভর্নেন্সের ন্যাশনাল রিকোয়ারমেন্ট গুলোকে আমরা তিন স্তরে সাজিয়েছি। </p>
<p><strong>ক. ডিপিআই সংশ্লিষ্ট আইনি কাঠামোগুলো ঠিক করা</strong></p>
<p>– সাইবার নিরাপত্তা আইন যা আমরা ইতিমধ্যেই পাস করেছি। </p>
<p>– ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা আইন যা আমরা সব ধরনের কনসালটেশন শেষ করে ক্যাবিনেটে পাস করেছি।</p>
<p>– ন্যাশনাল ডেটা গভর্নেন্স এবং ইন্টারঅপারেবিলিটি অথরিটি আইন, এটি নিয়ে আমরা এখন কাজ করছি। </p>
<p>– হাইটেক পার্ক আইন, এটিকে আমরা আপডেট করছি। </p>
<p>– পোস্টাল এন্ড ই কমার্স আইন, এটিকে আমরা ওপরাপর সব আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে নতুন করে সংশোধন করছি। </p>
<p>– টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং লাইসেন্সিং পলিসি ইতোমধ্যেই আমরা পাস করেছি। </p>
<p>ডিজিটাল ইকোনমির ভিত্তি রচনার জন্য মানসম্পন্ন ইন্টারনেট অবকাঠামো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, সেজন্য আমরা সার্ভিস বেস্ট একটা ডিজিটাল ইকোনমির সূত্রপাত করার জন্য, হয়রার্কিকেল এবং কমপ্লেক্স টেলিযোগাযোগ লাইসেন্স ইন স্ট্রাকচার কে সহজ করেছি।</p>
<p>এখানে দেশের ফাইবার কানেক্টিভিটিকে সহজ করার জন্য ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাংক নিয়ে কাজ করছি, এখানে প্রত্যেকটা সরকারি এবং বেসরকারি কোম্পানির অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক একটা কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ম্যাপিং সফটওয়্যার থাকবে, যার মাধ্যমে ফাইবার কোম্পানিগুলো একে অপরের সাথে ফাইবার শেয়ারিং ফাইবার ইন্টার কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করে দেশের ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান এবং সরকার সরকারি অফিসগুলোকে সহজেই ফাইবার সংযোগের আওতায় নিয়ে আসতে পারে। </p>
<p>পাশাপাশি দেশের মাত্র বিশ শতাংশ টেলিকম টাওয়ার ফাইবারের আওতায় বলে, নতুন পলিসিতে আগামী তিন বছরের মধ্যে ৮০ শতাংশ মোবাইল টাওয়ার ফাইবারাইজেশনের টার্গেট দেয়া হয়েছে।  বাংলাদেশের ডিজিটাল সার্ভিসের ক্রমবিকাশ এবং ডিজিটাল ইকোনোমির ভিত্তি প্রস্তুত করার জন্য সস্তায় ইন্টারনেট নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য ন্যাশনাল ফাইবার ব্যাংক একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠতে পারে। এক্সেস টু ফাইবার ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার সম্প্রসারণের পথ প্রশস্ত হবে।    </p>
<p><strong>খ. ডিজিটাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারে ইন্টার-অপারেবিলিটি</strong></p>
<p>এই স্তরের দেশের সব মন্ত্রণালয়ের, সব তথ্য সংস্থা কিংবা বিভাগের, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাসহ সব সরকারি এবং বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ সেবা দাতা প্রতিষ্ঠানের সার্ভারগুলোকে আন্তঃসংযুক্ত করে, একটি জাতীয় কানেক্টিভিটি এক্সচেঞ্জ তৈরি করা হবে। এটা একটা ন্যাশনাল কানেক্টিভিটি বাস হয়ে উঠবে যা সেবার জন্য নতুন পুরনো সরকারি ও বেসরকারি সেবাসমূহের জন্য একটি সার্ভিস বাসের সূচনা করবে। বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ডেটাবেজ এবং সফটওয়্যার গুলোকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়- একটা হরাইজন্টাল আরেকটা ভার্টিকাল। </p>
<p>হরাইজন্টাল লেয়ারে এমন কিছু ডেটাবেজ আছে যা সব নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ সংরক্ষণ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং শেয়ার  বিনিময় বিতরণ করে,  এখানে আছে জাতীয় পরিচয়পত্র বা এনআইডি সিস্টেম ও ডেটাবেজ, নাগরিকের জন্ম এবং মৃত্যু নিবন্ধন ডেটাবেজ, পাসপোর্ট ডাটাবেজ,  শিক্ষা ডেটাবেজ, স্বাস্থ্য ডেটাবেজ, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ডাটাবেজ  ইত্যাদি।। বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এই ডাটাবেজগুলো প্রায় সব নাগরিকের কিছু না কিছু তথ্য ধারণ করে।  </p>
<p>বিপরীতে ভার্টিক্যাল লেয়ারের ডেটাবেজগুলো শুধুমাত্র আংশিক নাগরিকের তথ্য সংগ্রহ সংরক্ষণ বিনিময় কিংবা বিক্রয় করে।  এই প্রতিষ্ঠানগুলো তিন ধরনের- </p>
<p>– বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ডেটাবেজ</p>
<p>– বিভিন্ন সরকারি সেবা ডাটাবেজ</p>
<p>– বিভিন্ন বেসরকারি সেবা ডাটাবেজ</p>
<p>ন্যাশনাল ইন্টারকানেক্টিভিটি এক্সচেঞ্জ এই সবগুলো ডেটাবেজকে কানেক্টিভিটির মধ্যে নিয়ে আসবে। ডিজিটাল সার্টিফাইড পিকেআই ভেরিফিকেশন সিস্টেমের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সকল ভার্টিক্যাল এবং হরাইজেন্টাল ডেটাবেজ পরস্পর আন্তঃসংযুক্ত হবে। এতে করে একটা ন্যাশনাল এপিআই কানেক্টিভিটি হাব তৈরি হবে। এটা দেশের প্রথম ইন্টারপারেবিলিটি এক্সচেঞ্জ, যার উপর ভিত্তি করে একটি ডিজিটাল সার্ভিস বাস তৈরি করা সম্ভব হবে।</p>
<p>অর্থাৎ ন্যাশনাল কানেক্টিভিটি বাস এবং ন্যাশনাল কানেক্টেভিটি এক্সচেঞ্জ তৈরি হলে তার উপরে ডিজিটাল সেবা যেমন ফিনটেক, এডটেক বা এডুকেশন টেকনোলজি,  হেলথ টেক, এগ্রিকালচার টেক, গভ-টেক সহ যাবতীয় ডিজিটাল সেবা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পরিচালিত সেবাসমূহ, এআই পরিচালিত দুর্নীতি দমন,  এআই পরিচালিত পাবলিক প্রকমেন্ট, এআইভিত্তিক ট্যাক্স নেট  ও ভ্যাট নেট ডিসকভারি, এআইভিত্তিক হেলথ-টেক ডিসকভারি সব বিভিন্ন মন্ত্রণলায়ের সেবার এআইভিত্তিক রুপান্তরের পথ সুগম হবে।</p>
<p>বর্তমানে বাংলাদেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যে ডেটার উপরে কাজ করে অধিকাংশ ক্ষেত্রে এই ডাটাগুলোর সোর্স বা উচ্চ থেকে সংগ্রহকৃত প্রাইমারি ডেটা নয়। আমাদের ডাটা মানের কোয়ালিটি প্রশ্ন যুক্ত থাকায় ডেটাবেজড ডিসিশন অনেক সময় ভুল হয়। এক্ষেত্রে ন্যাশনাল কানেক্টিভিটি হাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে যা উৎস থেকে এটা সংগ্রহ করে দিবে। উচ্চ থেকে সংগ্রহীত প্রাইমারি ডেটা উত্তেজক করনের মাধ্যমে ডেটার ডিফেন্ড ডিসিশনের একটা পথ উন্মুক্ত হবে।</p>
<p>এর বাইরে ডেটা গভর্নেন্স এর জন্য আমাদের একটি কেন্দ্রীয় রেগুলেশন দরকার তা নির্ধারণ করা হবে। </p>
<p>– কোন প্রতিষ্ঠান কোন সেবার বিপরীতে বা নিড বেজড ডেটা সংগ্রহ করবে</p>
<p>– কাকে কখন কিভাবে ডেটা দিবে, কিভাবে ডেটা সংগ্রহ সংরক্ষণ, ডেটা প্রক্রিয়াজাতকরণ, স্টোরেজ, বিনিময় এবং বিক্রয় করবে</p>
<p>– কোন প্রতিষ্ঠান কাকে কিভাবে ডেটা শেয়ার করবে</p>
<p>– ডেটার টিয়ার নির্ধারণ করবে, কোন মন্ত্রণালয় কিভাবে অন্য মন্ত্রণালয়কে বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে, সরকারের প্রতিষ্ঠান কিভাবে অন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে এবং দেশের অভ্যন্তরস্থ কোম্পানি কিভাবে বিদেশের কোম্পানি কার কাছে ডেটা সংগ্রহ হস্তান্তর এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের বিষয়াদি শেয়ার করবে। এবং</p>
<p>– প্রতিষ্ঠান কিভাবে ব্যক্তির যেটার উপরে হস্তক্ষেপ করতে পারবে</p>
<p>– তাদের সুবিশাল রেগুলেটরের নিয়ন্ত্রণের জন্য চাই একটি ডেটা গভর্নেন্স অথরিটি (এখানে থাকে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা উইং,  ডেটা ব্রোকার)। </p>
<p>ডেটা গভর্নেন্স অথরিটিতে থাকবে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা উইং, ডেটা ব্রোকার উইং (ডেটা গভর্নেন্স বিষয়ে প্রশিক্ষিত আইনজীবী ও ডেটা সায়েন্টিস্ট), কমপ্লায়েন্স ও এনফোর্স্মেন্ট টিম। </p>
<p>সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে এই পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রুপান্তরটি সম্ভব বলে আমরা মনে করি।  </p>
<p><strong>গ. তিনস্তর বিশিষ্ট ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার</strong></p>
<p>এই লেয়ারের মাধ্যমে ব্যক্তির এনআইডিসহ বিভিন্ন ধরনের আইডির তথ্যগুলো ভেরিফাই করা সম্ভব হবে। তবে ইলেকট্রনিক আইডি অথেন্টিকেশনের একটা মূলনীতি হচ্ছে, এটা শুধুমাত্র হরাইজন্টাল কিংবা ভার্টিক্যাল স্তরের একটিমাত্র ডেটাবেজ থেকে ডাটা নিয়ে সেটা অথেন্টিকেট করে দেয় না। বরং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ব্যক্তির একই ডেটার ভিন্ন ভিন্ন ভার্সন থাকলে সেই ডেটাগুলোর মধ্যে ক্রস ডোমেইন ভেরিফাই করে, সবচেয়ে একুরেট তথ্যটি যাচাই-বাছাই সাপেক্ষে পরবর্তীতে সেটা ব্লকচেইন বা সমজাতীয় প্রযুক্তির মাধ্যমে সব জায়গায় সঞ্চালন করা হবে। যাতে করে ব্যক্তির ঠিকানাসহ তথ্য ফিল্ডগুলোর মধ্যে ভিন্নতা না থাকে।</p>
<p>এটি ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের গুরুত্বপূর্ণ স্তর । তবে বাংলাদেশে ন্যাশনাল ইন্টারকানেক্টিভিটি লেয়ার এবং ডিজিটাল গভর্নেন্স না থাকায়, অতীতে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নভাবে পরিচয় যাচাইয়ের উদ্যোগ ব্যাহত হয়েছিল।  পাশাপাশি অনিয়ন্ত্রিত, অযোগ্য কনসালট্যান্টের মাধ্যমে নাগরিক তথ্য ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বিনিময় একটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়েছে।</p>
<p>এই সমস্যাগুলোর সমাধান করে আশা করি আমাদের তিনস্তর বিশিষ্ট ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার বাংলাদেশের ডিজিটাল সিস্টেমকে ভবিষ্যৎ মুখী করে তুলবে। এক্ষেত্রে ডিজিটাল পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচারের একটা মধ্যবর্তী স্তরে মন্ত্রনালয়গুলো নিজে ডেটা স্টোর তৈরি না করে বরং ন্যাশনাল ডেটা সেন্টারকে ব্যবহার করবে। ন্যাশনাল ডেটা সেন্টার সাইবার অপারেশন সেন্টার, সাইবার সেন্সর, সাইবার টুলসহ বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবেলা করে মন্ত্রণালয়গুলোকে নিরাপদ ডেটা স্টোরেজ সার্ভিস প্রদান করবে। এর মাধ্যমে আলাদা আলাদা ভাবে ডেটাস্টোরেজ করতে সরকারের মোট খরচ কমে আসবে। এই উদ্যোগগুলো প্যারালালে চলতে পারলে, আমরা মনে করি বাংলাদেশের আইসিটির ভবিষ্যৎ ডিজিটাল ইকোনমির জন্য প্রস্তুত হবে।</p>
<hr>
<div class="news_row">
<div class="post_details">
<p><strong>লেখক : প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা), ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়</strong></p>
<hr>
<p></p>
<div></div>
</div>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বিশ্ব ডাক দিবসঃ গ্রাহক প্রত্যাশা ও আমাদের বাস্তবতা   </title>
<link>https://digibanglatech.news/158171</link>
<guid>https://digibanglatech.news/158171</guid>
<description><![CDATA[ &lt;hr&gt;
&lt;p&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202510/image_870x580_68e7560739161.jpg" length="125404" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 09 Oct 2025 11:48:32 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<hr>
<p>আজ ৯ অক্টোবর। বিশ্ব ডাক দিবস। Local Service, Global Reach  বাংলায় স্থানীয় পরিষেবা: বৈশ্বিক পরিসর প্রতিপাদ্যে সারাবিশ্বে আজ দিবসটি পালিত হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ডাকব্যবস্থাকে একত্রিত করে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সহজ করে তোলার উদ্দেশ্যে ১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরে “ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (UPU)” প্রতিষ্ঠিত হবার পর প্রায় শত বছর পর  ১৯৬৯ সালে জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত UPU সম্মেলনে ৯ অক্টোবরকে “বিশ্ব ডাক দিবস” হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং তখন থেকেই দিনটিকে বিশ্ব ডাক দিবস হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে।  বিশ্ব ডাক দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো ডাকসেবার গুরুত্ব সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করা, ডাক বিভাগের কর্মীদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং আধুনিক ডাক ও কুরিয়ার সেবার উন্নয়নকে উৎসাহিত করা। বিশ্বের মানুষের মধ্যে যোগাযোগের প্রাচীনতম ও নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো ডাকব্যবস্থা। চিঠির মাধ্যমে ভালোবাসা, খবর ও সংস্কৃতির আদান প্রদান যুগ যুগ ধরে মানুষের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফলে ডাকের এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৭৩ সালের ৭ ফেব্রুয়ারী “ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (UPU)” এর ১৪৭ তম সদস্যপদ  পাওয়া বাংলাদেশও আজ যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করছে।  <o:p></o:p></p>
<p>প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন ও আধুনিক প্রযুক্তি অভিযোজনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী, মানসম্পন্ন ও আন্তর্জাতিক মানের ডাকসেবা নিশ্চিতের অঙ্গীকার নিয়ে চলা বাংলাদেশের ডাকব্যবস্থা একটি ঐতিহ্যবাহী ও জনবান্ধব সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠান। স্বাধীনতার পর থেকেই “বাংলাদেশ ডাক বিভাগ” দেশের প্রতিটি অঞ্চলে যোগাযোগ ও সেবার বন্ধন গড়ে তুলেছে। বর্তমানে ডাক বিভাগ শুধু চিঠি পরিবহনে সীমাবদ্ধ নয়। তথ্যপ্রযুক্তির যুগেও ডাক বিভাগের গুরুত্ব কমে যায়নি, বরং নতুন আঙ্গিকে বেড়েছে। এখন “নাগরিক সেবা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া” লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ কাজ করছে। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্য পরিবহনে ডাক বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গ্রামীণ জনগণের কাছে সহজে আর্থিক ও সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে ডাক বিভাগ বাংলাদেশ সরকারের নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। কিন্তু ডিজিটাল যুগে গ্রাহকের প্রত্যাশা বেড়েছে। দ্রুত ট্র্যাকিং, অনলাইন বুকিং, নিরাপদ আর্থিক লেনদেন, এবং নির্ভরযোগ্য লাস্ট-মাইল ডেলিভারি এখন গ্রাহকের মৌলিক চাওয়া। ইউপিইউ’র ২০২২ সালের “পোস্টাল জার্নি টুওয়ার্ডস এ সাসটেইনেবল ফিউচার” শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে  বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে ডোমেস্টিক পার্সেল ভলিউম দ্রুত  বাড়ছে ফলে আইসিটিবেজড লজিস্টিকস ও সার্ভিস ডেলিভারি সিস্টেম  ছাড়া সেবা প্রদান ধরে রাখতে সমস্যা হবে। এশিয়ার বহু রাষ্ট্র যেমন ভারত, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কার IT 2.0 / APT 2.0, ক্লাউড মাইগ্রেশন ও অ্যাপভিত্তিক ডিজিটাল ট্রান্সফর্মেশন, COD, OTP ভিত্তিক ডেলিভারি, রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং, ডিজিটাল পেমেন্ট ইন্টিগ্রেশন-এর মতো উদ্যোগসমূহ গ্রাহকের আস্থা বাড়াচ্ছে এবং প্রাইভেট কুরিয়ারদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা সহজ করছে।  <o:p></o:p></p>
<p>বাংলাদেশ ডাক বিভাগ একসময় মানুষের ভালোবাসা, খবর, ও যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাইভেট কুরিয়ার ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা জনপ্রিয় হওয়ায় ডাক বিভাগের প্রতি জনগণের আস্থা কিছুটা কমে গেছে। তাই এখন প্রয়োজন সেবার মান, গতি, ও নির্ভরযোগ্যতা ফিরিয়ে এনে সেই আস্থা পুনর্গঠন করা। “ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন “স্টেট অব দ্য পোস্টাল সেক্টর-২০২৩” প্রতিবেদনে বলেছে, এশিয়া ও বিশ্বজুড়ে পোস্টাল অপারেটরগুলো (দেশ) যদি আইসিটির ব্যবহার না করে তাহলে তাদের জন্য প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। আইসিটি ব্যবহারের এই ধারা ও ভবিষ্যৎ প্রবণতা নিয়ে রিপোর্ট বিশ্লেষণ করে তারা বলেছে যে ,দুনিয়ার পোস্টাল সেক্টরে ডিজিটাল রূপান্তরই এখন টিকে থাকার মূল কৌশল।  ঠিক এই জায়গাতেই প্রযুক্তিগত রিফর্মেশন ও রিসোর্সের অভাবের কারণে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ রীতিমতো লড়াই করছে। মানুষ আসলে আমাদের কাছে কি চায়? কম খরচে সেবা চায় নাকি নায্য খরচে নির্ভরযোগ্য সেবা চায়? সেটা একটা বড় প্রশ্ন। মানুষ আমাদের কাছে আশা করে দ্রুত ও সময়নিষ্ঠ সেবা: মানুষ চায় তার চিঠি, পার্সেল, অর্থ বা ডকুমেন্ট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাক। দেরি বা হারিয়ে যাওয়া তাদের আস্থা নষ্ট করে। নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য ব্যবস্থা: গ্রাহক আশা করে তাদের গুরুত্বপূর্ণ নথি ও মূল্যবান পণ্য নিরাপদে পৌঁছাবে, কোন ক্ষতি বা গোপন তথ্য ফাঁস হবে না। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা: চিঠি বা পার্সেল হারিয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে সহজে অভিযোগ ও ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা যেন থাকে মানুষ সেটা আশা করে।সাশ্রয়ী খরচে সেবা: সব শ্রেণি পেশার মানুষ যেন সহজে ডাকসেবা গ্রহণ করতে পারে এটিই নাগরিক প্রত্যাশা করে।  বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ ও গ্রাহকসেবা: গ্রাহক আশা করে ডাক বিভাগের কর্মীরা যেন আইসিটিতে দক্ষ, দায়িত্বশীল, সাহায্যপ্রবণ ও সেবামুখী হন। গ্রাহকসেবা বিষয়ে প্রশিক্ষণ, আইসিটি দক্ষতা, এবং দায়িত্ববোধ ও সততা এগুলো মানুষের স্বাভাবিক প্রত্যাশা। <o:p></o:p><o:p> </o:p></p>
<p>আস্থাশীল ডাক বিভাগ গঠনে আইসিটির ভূমিকা অনস্বীকার্য। সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করতে আইসিটির ভূমিকাকে অগ্রাধিকার  বিবেচনা করে ডিজিটাল অটোমেশনের মাধ্যমে পত্র, পার্সেল ও আর্থিক লেনদেনের প্রক্রিয়া কম্পিউটারভিত্তিক করলে সময় ও জনবল খরচ কমে, ফলে সেবা আরও সাশ্রয়ী হয়। ইলেকট্রনিক পেমেন্ট সিস্টেমের মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিং, পোস্টাল ক্যাশ কার্ড, ও অনলাইন বিল পেমেন্ট চালু থাকলে গ্রাহককে আর অফিসে যেতে হয় না ফলে সময় ও যাতায়াত ব্যয় দুই-ই সাশ্রয় হয়। ডিজিটাল রুট পরিকল্পনায় (Route Optimization) আইসিটি ব্যবহার করে ডাকপিয়নের পথ নির্ধারণ করা গেলে জ্বালানি ও সময় বাঁচে খরচও কমে। সেবা প্রদানের ধীরগতি ও পুরোনো অবকাঠামো হতে বের হয়ে আইসিটি ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা ঘুচিয়ে ডাক বিভাগকে এখন আইসিটিতে শক্তিশালী হতে হবে। গ্রামীণ এলাকাগুলোতে ইন্টারনেট ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো দুর্বলতার উত্তরণ ঘটাতে হবে।  আইসিটিকে উপেক্ষার মনোভাবের উন্নয়ন ঘটিয়ে কর্মীদের আইসিটি দক্ষতা বাড়িয়ে ও নতুন প্রযুক্তি  ব্যবহার অভ্যস্ততা তৈরি করে গ্রাহকসেবার  মনোভাব বাড়াতে হবে যেন গ্রাহকের আস্থার সংকট তৈরি না হয়। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বেসরকারি কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন দ্রুত, ট্র্যাকযোগ্য ও ঘরে পৌঁছে দেওয়ার সেবা দিচ্ছে তেমন আইসিটিবেজড সেবা দিতে হবে। আইসিটি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিটি পার্সেল বা চিঠি রিয়েল-টাইমে ট্র্যাক করার ব্যবস্থা গ্রাহকের মনে নিরাপত্তা ও আস্থা তৈরি করে। এগুলো সব কিছু অর্জনের জন্য বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে আইসিটিবেজড ডাক বিভাগ এখন সময়ের দাবী। </p>
<p><o:p></o:p>বাংলাদেশ ডাক বিভাগ ইতোমধ্যে ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার সার্ভিস (EMTS), অনলাইন ট্র্যাকিং চালু করেছে। তবে সেবার গতিশীলতা, কর্মীদের প্রশিক্ষণ ও আইটি অবকাঠামো আরও শক্তিশালী করতে হবে যাতে পুরো দেশব্যাপী এই সুবিধা পৌঁছে যায়। সাশ্রয় ও আস্থা এই দুইয়ের মিলন ঘটাতে আইসিটির বিকল্প নাই। শক্তিশালী আইসিটি সক্ষমতা ডাক বিভাগকে শুধু আধুনিকই করবেনা, এটি “কম খরচে বেশি সেবা” দেওয়ার পথও খুলে দিবে। যখন সেবা দ্রুত ও স্বচ্ছ হবে, মানুষ তখন আবার ডাক বিভাগের ওপর ভরসা করবে। সুতরাং বলা যায়, প্রযুক্তি-নির্ভর ডাক ব্যবস্থা মানেই সাশ্রয়ী, আধুনিক ও আস্থাশীল সেবা। এর সাথে সাথে ডাক বিভাগের প্রচার ও ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং দরকার। ডাক বিভাগের অনেক সাফল্য মানুষ জানে না। নতুন সেবা, ডিজিটাল উদ্যোগ, ই-কমার্স পার্টনারশিপ ইত্যাদি মিডিয়া ও সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে প্রচার করলে ডাক বিভাগের প্রতি জনগণের আগ্রহ বাড়বে।   <o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal" style="text-align: justify;">ডাক বিভাগ দেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও যোগাযোগের জীবন্ত প্রতীক। তবে জনগণের আস্থা ফিরে পেতে এখন প্রয়োজন দ্রুত সেবা, ডিজিটাল রূপান্তর ও ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা, কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা। যদি এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করা হয়, তবে ডাক বিভাগ আবারও হয়ে উঠবে জনগণের নির্ভরযোগ্য, আধুনিক ও গর্বের প্রতিষ্ঠান। একবিংশ শতাব্দীতে ডাক বিভাগকে টিকিয়ে রাখতে ও জনগণের আস্থা ফেরাতে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিকল্প নেই। আইসিটি নির্ভর ডিজিটাল ডাক বিভাগ গড়ে উঠলে তা হবে জনগণের কাছে নির্ভরযোগ্য, স্বচ্ছ, সাশ্রয়ী ও গর্বের একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। বিশ্ব ডাক দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ডাক বিভাগ শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি মানুষের আবেগের অংশ। প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক যুগে ডাক বিভাগ যদি তথ্যপ্রযুক্তি, দক্ষতা ও সেবার মান একত্রে উন্নত করে,তবে সেটি আবারও হতে পারে জনগণের সবচেয়ে সাশ্রয়ী, নির্ভরযোগ্য ও প্রিয় যোগাযোগ ব্যবস্থা। ডাক কেবল চিঠি পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমই নয় এটি মানুষে মানুষে সম্পর্কের সেতুবন্ধন। প্রযুক্তির এই যুগেও ডাক বিভাগের মানবিক সেবা আমাদের জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হয়ে আছে। তাই বিশ্ব ডাক দিবসে আমাদের অঙ্গীকার হোক ডাক বিভাগকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক, কার্যকর ও জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে গড়ে তোলা।  </p>
<hr>
<p class="MsoNormal" style="text-align: justify;"><strong>লেখকঃ-</strong> মোঃ মনিরুজ্জামান; <em>প্রোগ্রামার, ডাক অধিদপ্তর, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ</em></p>
<hr>
<p class="MsoNormal" style="text-align: justify;"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>রোব্লক্স: বিনোদনের মোড়কে শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য সংকট</title>
<link>https://digibanglatech.news/157589</link>
<guid>https://digibanglatech.news/157589</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202509/image_870x580_68ce3daaf26e1.jpg" length="99520" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 20 Sep 2025 11:38:46 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>ডিজিটাল যুগের এই সময়ে শিশুদের অবসর কাটানোর প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে অনলাইন গেমিং প্ল্যাটফর্ম। এর মধ্যে রোব্লক্স (ROBLOX) বিশ্বজুড়ে লাখো শিশু-কিশোরের কাছে এক অনন্য আকর্ষণ। প্রথম দেখায় এটি নিছক একটি নিরীহ খেলার জায়গা মনে হলেও এর অন্তরালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর বাস্তবতা—একজন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে যা আমাদের গভীরভাবে ভাবিয়ে তোলে।</p>
<p>আজ শহুরে প্রেক্ষাপটে প্রায় প্রতিটি স্কুলগামী শিশুর মধ্যেই রোব্লক্সের প্রতি নিয়ন্ত্রণহীন আকর্ষণ ও আসক্তির ঝুঁকি স্পষ্ট। পাবজি কিংবা ফ্রি ফায়ারের মতোই কি রোব্লক্সও শিশুদের মানসিক সুস্থতার নীরব ঘাতক হয়ে উঠছে?</p>
<p><span style="color: rgb(186, 55, 42);"><strong>খেলার মাঠ, নাকি আসক্তির ফাঁদ</strong></span></p>
<p>রোব্লক্স কোনো একক গেম নয়, বরং এটি একটি বিশাল ভার্চুয়াল জগৎ যেখানে খেলোয়াড়রা নিজেদের গেম তৈরি করতে পারে এবং অন্যদের তৈরি গেম খেলতে পারে। এই ‘ইউজার-জেনারেটেড কন্টেন্ট’ মডেলটিই এর সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। কন্টেন্টের ওপর কোনো পূর্ণাঙ্গ নিয়ন্ত্রণ না থাকায় হঠাৎ করেই শিশুদের সামনে আসতে পারে সহিংসতা, হ্যারাসমেন্ট বা প্রাপ্তবয়স্কদের অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু।</p>
<p>আরও বিপজ্জনক হলো এর পুরস্কার বা ভার্চুয়াল মুদ্রা রোবাক্স (Robux) অর্জনের প্রতিযোগিতা, যা শিশুদের মনে নিরন্তর খেলার তাগিদ সৃষ্টি করে। গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক শিশু দিনে আট-দশ ঘণ্টা পর্যন্ত রোব্লক্সে ডুবে থাকে। এর ফলে পড়াশোনা, ঘুম, পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বাস্তবিক সম্পর্ক—সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাড়ে মানসিক অস্থিরতা, খিটখিটে স্বভাব, এমনকি হতাশা। বাংলাদেশের শিশুদের মধ্যেও এখন একই প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।</p>
<p><img src="https://digibanglatech.news/uploads/images/202509/image_870x_68ce3ed9c3a47.jpg" alt=""></p>
<p><strong><span style="color: rgb(186, 55, 42);">বিশ্বের অভিজ্ঞতা: সতর্কতার ঘণ্টা</span> </strong></p>
<p>রোব্লক্সের ঝুঁকি শুধু আমাদের দেশেই নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আলোচিত। তুরস্ক, ওমান, কুয়েত ও কাতারের মতো দেশগুলো শিশুদের নিরাপত্তা ও কন্টেন্ট নিয়ন্ত্রণের ঘাটতির কারণে ইতোমধ্যে রোব্লক্স নিষিদ্ধ বা সীমিত করেছে। চীন চালু করেছে বিশেষ সেন্সরযুক্ত সংস্করণ লুওবুলেসি (Luobulesi), যেখানে কঠোর নিয়ন্ত্রণে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়। এসব উদাহরণ স্পষ্ট করে দেয়—রোব্লক্সকে শুধুমাত্র বিনোদন হিসেবে দেখলে হবে না, এটি সমাজ ও সংস্কৃতির জন্য সম্ভাব্য হুমকি।</p>
<p><strong><span style="color: rgb(186, 55, 42);">বাংলাদেশের করণীয় </span></strong></p>
<p>বাংলাদেশেও রোব্লক্সের প্রভাব আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অভিভাবক হিসেবে শুধু মোবাইল তুলে দেওয়া নয়, শিশু কী খেলছে তা জানার দায়িত্বও আমাদের। নির্দিষ্ট স্ক্রিন টাইম, বিকল্প বিনোদন যেমন খেলাধুলা, বই বা সৃজনশীল কার্যক্রম—এসবকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।</p>
<p>অন্যদিকে সরকারের উচিত অবিলম্বে এই প্ল্যাটফর্মের ওপর কঠোর নজরদারি চালানো। পাবজি ও ফ্রি ফায়ারের মতো গেমের ক্ষেত্রে যেভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল, রোব্লক্সের ক্ষেত্রেও সমান গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানসিক সুস্থতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।</p>
<p>আমাদের শিশুদের রক্ষা করতে হলে আলোচনার গণ্ডি ছাড়িয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। ভার্চুয়াল আসক্তির অন্ধকার নয়, তারা যেন বাস্তব জগতের আলোয় বড় হয়ে উঠতে পারে—প্রতিটি অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকের এটিই এখন প্রধান প্রত্যাশা।</p>
<hr>
<p><span>লেখকঃ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ,সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেটর ফোরাম (বিডিসাফ)</span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>মোবাইল ফোনের আসক্তির সামাজিক সম্পর্ক ও মনোযোগের ওপর প্রভাব</title>
<link>https://digibanglatech.news/157466</link>
<guid>https://digibanglatech.news/157466</guid>
<description><![CDATA[ &lt;hr&gt;
&lt;p&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202509/image_870x580_68c84677bf5a9.jpg" length="45119" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 15 Sep 2025 23:02:03 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<hr>
<p>বর্তমান যুগে মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এটি যোগাযোগ, তথ্য সংগ্রহ এবং বিনোদনের এক দারুণ মাধ্যম। তবে এর অতিরিক্ত ব্যবহার আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে, বিশেষ করে সামাজিক সম্পর্ক, দাম্পত্য জীবন এবং মনোযোগের ওপর। বিভিন্ন গবেষণায় এই আসক্তির ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে।</p>
<p>যুক্তরাষ্ট্রের Pew Research Center-এর একটি জরিপে দেখা গেছে, ৫৩% প্রাপ্তবয়স্ক মনে করেন যে, স্মার্টফোন তাদের ব্যক্তিগত সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে, যখন দুজন মানুষ একসঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন, তখন মোবাইল ফোনের ব্যবহার তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, একটি ডিনারেও যদি একজন ব্যক্তি মোবাইল ফোনে ব্যস্ত থাকেন, তবে অন্যজনের মনে একাকীত্ব ও উপেক্ষিত হওয়ার অনুভূতি তৈরি হয়। দিন শেষে বাসায় এসে পার্টনারকে সময় না দিয়ে আপনি যখন মোবাইলে ডুব থাকবেন তখন দাম্পত্য সম্পর্কে  সমস্যা দেখা দিবেই। মোবাইল ফোন আসক্তিকে এক ধরনের 'phubbing' (phone+ snubbing) বলা হয়। এর অর্থ হলো, যখন একজন ব্যক্তি সামনে থাকা অন্য ব্যক্তিকে উপেক্ষা করে মোবাইল ফোনে মনোযোগ দেন। এক গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব দম্পতি phubbing-এর শিকার হন, তাদের মধ্যে পারস্পরিক সন্তুষ্টি এবং সম্পর্কের গভীরতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। Journal of Social and Personal Relationships-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, ৪৬.৩% দম্পতি মনে করেন যে, তাদের সঙ্গীর মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার তাদের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করেছে। তারা দিন শেষে বাসায় ফিরে নিজের সঙ্গীর সাথে আলাপ আলোচনা করার চাইতে ডুবে থাকতে বেশি আরাম বোধ করছেন। এ কারণে সঙ্গীও তার প্রতি নেতিবাচক হয়ে উঠছেন। ফলশ্রুতিতে তাদের সম্পর্কটি এর স্বাভাবিক ছন্দ হারাচ্ছে। </p>
<p><strong>মনোযোগের ওপর প্রভাব</strong><br>মোবাইল ফোনের আসক্তি শুধু সম্পর্কের ওপর নয়, আমাদের মস্তিষ্কের কার্যকারিতা এবং মনোযোগের ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস-এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, কেবল মোবাইল ফোনের উপস্থিতিই আমাদের মনোযোগের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। এমনকি যদি ফোনটি বন্ধও থাকে বা অন্য ঘরে থাকে, তবুও আমাদের মস্তিষ্ক অবচেতনভাবে ফোনের উপস্থিতি অনুভব করে এবং তার দিকে মনোযোগ দেয়। এর ফলে কোনো একটি কাজে পূর্ণ মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে মনোযোগের সময় কমে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। একটি সাধারণ কাজেও বারবার মোবাইল চেক করার অভ্যাস আমাদের মস্তিষ্কের ডোপামিন সিস্টেমকে এমনভাবে প্রভাবিত করে যে, এটি দ্রুত নতুন কিছু খোঁজার জন্য উৎসাহিত হয়। ফলে, দীর্ঘক্ষণ এক কাজে মনোযোগ ধরে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে। </p>
<p><strong>সমাধানের উপায়</strong><br>মোবাইল ফোন আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে। ডিজিটাল ডেটক্স অনুসরণ করুন। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময় মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকুন। যেমন- রাতে ঘুমানোর এক ঘণ্টা আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ করা। নো ফোন জোন আরেকটি ভালো উপায়। ডাইনিং টেবিল, বেডরুমের মতো জায়গায় মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা যেতে পারে। এটি পারিবারিক সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে সাহায্য করবে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং অ্যাপগুলোর জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করুন। প্রয়োজনের বাইরে অতিরিক্ত স্ক্রল করা থেকে বিরত থাকুন। মোবাইলের বদলে বই পড়া, গান শোনা, বা বন্ধুদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার মতো কার্যকলাপে নিজেকে যুক্ত করুন। নিজে এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করুন। নিয়মিত এ বিষয়ে আলোচনা করা যেতে পারে।</p>
<p>মোবাইল ফোন আসক্তি একটি আধুনিক সমস্যা যা আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যকে ক্ষুণ্ণ করছে। এর ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে সচেতন হয়ে এবং সঠিক পদক্ষেপ নিয়ে আমরা এই আসক্তি থেকে বেরিয়ে আসতে পারি এবং আরও সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারি।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong> সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান অডিওলজি এন্ড স্পিচ ল্যাংগুয়েজ প্যাথলজি বিভাগ, প্রয়াস ইনস্টিটিউট অফ স্পেশাল এডুকেশন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>স্বাস্থ্যসেবায় প্রযুক্তির বিপ্লব: গ্রামীণ বাংলাদেশে নতুন দিগন্ত</title>
<link>https://digibanglatech.news/157202</link>
<guid>https://digibanglatech.news/157202</guid>
<description><![CDATA[ &lt;hr&gt;
&lt;p&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202509/image_870x580_68ba694aa2109.jpg" length="57705" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 05 Sep 2025 10:40:05 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের দীর্ঘদিনের একটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো শহর ও গ্রামের বৈষম্য। শহরের আধুনিক হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা পাওয়া গেলেও গ্রামের মানুষকে সামান্য একটি রোগ নির্ণয়ের জন্যও দূরে শহরে যেতে হয়। এতে সময়, খরচ ও ভোগান্তি—সবকিছুই বেড়ে যায়। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান  এক্সো ইমেজিং (Exo Imaging) –এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নির্ভর পোর্টেবল আল্ট্রাসাউন্ড ডিভাইস বাংলাদেশের জন্য এক যুগান্তকারী সম্ভাবনা তৈরি করেছে।</p>
<p>৪ সেপ্টেম্বর প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনুসের সঙ্গে Exo Imaging-এর শীর্ষ কর্মকর্তাদের বৈঠক এই প্রযুক্তির তাৎপর্যকে আরও উজ্জ্বল করেছে। কোম্পানির পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে দেশের প্রধান হাসপাতালগুলোতে ডিভাইসটি চালু হবে এবং পরে ধীরে ধীরে গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে পৌঁছে যাবে।</p>
<p><strong>প্রযুক্তির সহজলভ্যতা: রোগীর দোরগোড়ায় সেবা</strong></p>
<p>AI-চালিত এই ডিভাইস ছোট, হালকা এবং সহজে ব্যবহারযোগ্য। এমনকি কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকলেও প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মী এটি ব্যবহার করে তাৎক্ষণিকভাবে রোগ নির্ণয় করতে পারবেন। হৃদরোগ, ফুসফুসের সমস্যা, যক্ষ্মা, ক্যান্সার কিংবা গর্ভাবস্থার জটিলতা—এসব রোগ দ্রুত সনাক্ত করা সম্ভব হবে। প্রফেসর ইউনুস যথার্থই বলেছেন: “চিকিৎসা শুরু হয় রোগ নির্ণয়ের মাধ্যমে। রোগী যদি পরীক্ষার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করে, তখন অনেক সময় দেরি হয়ে যায়। এই প্রযুক্তি সেই অপেক্ষা কমিয়ে আনবে।”</p>
<p><strong>বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগ ও সুযোগ</strong></p>
<p>গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ সরকার গ্রামীণ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, কমিউনিটি ক্লিনিক ও ডিজিটাল হেলথ প্ল্যাটফর্মকে শক্তিশালী করতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে। “সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা” লক্ষ্য অর্জনে সরকারের এই প্রয়াসের সঙ্গে Exo Imaging-এর প্রযুক্তি যুক্ত হলে এটি একটি বড় রূপান্তর বয়ে আনবে। বিশেষ করে ডিজিটাল বাংলাদেশ ও স্মার্ট বাংলাদেশ–এর স্বাস্থ্যসেবা অংশীদারিত্বকে আরও গতিশীল করবে।</p>
<p><strong>গ্রামীণ জনপদে প্রভাব</strong></p>
<p>বাংলাদেশের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বাস করে। সেখানে বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সীমিত, আধুনিক ল্যাবরেটরি সুবিধাও নেই। নতুন এই যন্ত্র স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে পৌঁছালে গ্রামে বসেই রোগ নির্ণয় সম্ভব হবে। টেলিমেডিসিনের মাধ্যমে সংগৃহীত তথ্য শহরের বিশেষজ্ঞদের কাছে পাঠানো গেলে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা হবে আরও নির্ভুল। এভাবে শহর-গ্রামের স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য কমবে।</p>
<p><strong>আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ও মর্যাদা</strong></p>
<p>Exo Imaging ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রে FDA অনুমোদিত। বাংলাদেশ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে এই প্রযুক্তি গ্রহণ করছে—যা আমাদের জন্য এক গর্বের বিষয়। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রতিষ্ঠানের বোর্ডে আছেন বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি নেতা ওমর ইশরাক। আন্তর্জাতিক এই সহযোগিতা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে বৈশ্বিক আস্থা বাড়াবে এবং ভবিষ্যতে আরও বিনিয়োগ ও উদ্ভাবনের সুযোগ তৈরি করবে।</p>
<p><span style="text-decoration: underline;">চ্যালেঞ্জ ও করণীয়</span></p>
<p>তবে প্রযুক্তির সুফল পেতে হলে কিছু চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।</p>
<p><em>প্রশিক্ষণ: </em>স্বাস্থ্যকর্মীদের দক্ষতা উন্নয়ন করতে হবে।</p>
<p><em>সহযোগিতা: </em>সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্বে ডিভাইসটি সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে।</p>
<p><em>টেকসই ব্যবহার: </em>বিদ্যুৎ সমস্যার সমাধানে সোলার বা ব্যাটারি-ভিত্তিক বিকল্প রাখতে হবে।</p>
<p><em>রক্ষণাবেক্ষণ:</em> নিয়মিত সার্ভিসিং ও সাপোর্ট সিস্টেম গড়ে তুলতে হবে।</p>
<p><br>আসলে AI-চালিত পোর্টেবল আল্ট্রাসাউন্ড কেবল একটি নতুন প্রযুক্তি নয়—এটি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় এক বিপ্লবী হাতিয়ার। এটি শহর-গ্রামের ফাঁক কমাবে, রোগীর খরচ ও সময় বাঁচাবে এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পথে বাংলাদেশকে আরও এগিয়ে নেবে। যদি সঠিকভাবে প্রয়োগ ও প্রসারিত করা যায়, তবে এটি নিঃসন্দেহে হবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে এক নতুন যুগের সূচনা।</p>
<hr>
<p>লেখকঃ তথ্যপ্রযুক্তিবিদ,সাধারণ সম্পাদক বাংলাদেশ সিস্টেম এডমিনিস্ট্রেটর ফোরাম (বিডিসাফ)</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ত্রয়োদশ নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা</title>
<link>https://digibanglatech.news/156991</link>
<guid>https://digibanglatech.news/156991</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202508/image_870x580_68b2db0b58b7b.jpg" length="87562" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 30 Aug 2025 16:06:34 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশ যখন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন ক্রমেই সামনে আসছে । এর এই চ্যালেঞ্জটি হলো- কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)-এর বিভ্রান্তিমূলক ব্যবহার এবং ভুয়া তথ্যের (disinformation) লাগামহীন বিস্তার। সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এসব প্রযুক্তি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু দৃঢ় আস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে এর অন্ধকার দিক। জন্ম দিতে পারে বিকৃত নির্বাচনী বিতর্ক। এতে ঝুঁকি রয়েছে সমাজকে অস্থিতিশীলতা মাথাচাড়া দেয়ার।।</p>
<p>তাবে আশার বিষয় হচ্ছে- প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) আগেভাগেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) দ্বারা সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ নিয়ে সতর্ক করেছেন। তিনি যথার্থভাবেই বলেছেন যে AI “[প্রচলিত] অস্ত্রের চেয়েও বিপজ্জনক” হতে পারে, কারণ এটি বিভ্রান্তিকর তথ্য ও ভুয়া খবর দ্রুত ছড়িয়ে দিতে সক্ষম।</p>
<p>এএমএম নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেছেন: “এখন আমার ছবি ও কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে কনটেন্ট প্রচার করা সম্ভব,” যা AI-এর অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। তিনি একে “আধুনিক হুমকি” হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন, যা নির্বাচনী প্রচারণা ব্যাহত করতে পারে এবং ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে।</p>
<p>AI ছাড়াও সিইসি আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করেছেন—অবৈধ অস্ত্রের ঝুঁকি, ভোট প্রক্রিয়ায় জনআস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, এবং শক্তিশালী ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা। নির্বাচনী ব্যবস্থার সুষ্ঠুতা শক্তিশালী করতে এই বিষয়গুলোতে যৌথভাবে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি।</p>
<p>১৩ কোটিরও বেশি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, কোটি কোটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্য এই চ্যালেঞ্জগুলো বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। AI-চালিত কৌশল ও ব্যাপক ভ্রান্ত তথ্য প্রচারণার সংযোগ এবারের নির্বাচনে এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াচ্ছে।</p>
<p><strong>২০২৫ সালে বাংলাদেশের ডিজিটাল চিত্র</strong><br>ডেটারিপোর্টাল-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে বাংলাদেশের ডিজিটাল ব্যবহারের কিছু প্রধান দিক হলো:<br>•    বাংলাদেশে সক্রিয় মোবাইল সংযোগ সংখ্যা ১৮৫ মিলিয়ন, যা মোট জনসংখ্যার ১০৬ শতাংশ। তবে এর মধ্যে কিছু সংযোগ কেবল ভয়েস ও এসএমএস সেবা পর্যন্ত সীমিত থাকতে পারে এবং সবগুলো ইন্টারনেট সুবিধাসম্পন্ন নয়।<br>•    ২০২৫ সালের শুরুতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৭.৭ মিলিয়ন, যা মোট জনসংখ্যার ৪৪.৫ শতাংশ।<br>•    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৬ কোটি (জনসংখ্যার ৩৪.৩ শতাংশ)।<br> <br>এই পরিসংখ্যান সামগ্রিক একটি চিত্র দিলেও, ডিজিটাল প্রবণতা কীভাবে সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হচ্ছে তা বুঝতে হলে আরও গভীরে অনুসন্ধান প্রয়োজন।</p>
<p><strong>২০২৫ সালের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রবণতা</strong><br>২০২৫ সালে বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রয়েছে এক প্রাণবন্ত চিত্র। ৪৫ মিলিয়নেরও বেশি সক্রিয় ব্যবহারকারী নিয়ে ফেসবুক, টিকটক, ইনস্টাগ্রাম ও লিংকডইন মানুষের সংযোগ, যোগাযোগ ও ব্যবসার ধরন পাল্টে দিচ্ছে।<br>সাশ্রয়ী স্মার্টফোন, দ্রুতগতির ইন্টারনেট এবং ডিজিটাল সাক্ষরতার বৃদ্ধি এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করছে। বিনোদন, সামাজিক সম্পৃক্ততা, পেশাদার নেটওয়ার্কিং বা ডিজিটাল মার্কেটিং—সবক্ষেত্রেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাব বেড়ে চলেছে।</p>
<p><strong>পরিসংখ্যান (২০২৫):</strong><br>•    মোট ব্যবহারকারী: ৬ কোটি (৩৪.৩% জনসংখ্যা)<br>•    লিঙ্গভিত্তিক বণ্টন: নারী ৩৭%, পুরুষ ৬৩%<br>•    ফেসবুক: ৬ কোটি ব্যবহারকারী<br>•    টিকটক: ৪৬.৫ মিলিয়ন (১৮+ বয়সী)<br>•    ইনস্টাগ্রাম: ৭.৫ মিলিয়ন<br>•    লিংকডইন: ৯.৯ মিলিয়ন<br>•    এক্স (টুইটার): ১.৭৪ মিলিয়ন</p>
<p><br><strong>নির্বাচনী প্রেক্ষাপটে AI-এর প্রভাব</strong><br>AI এখন দৈনন্দিন বাস্তবতা। এর মাধ্যমে সুপার-রিয়ালিস্টিক ছবি, কণ্ঠস্বর নকল বা টেক্সট তৈরি করা সম্ভব। তবে নির্বাচনে এর ব্যবহার নতুন বিপদের দরজা খুলে দেয়।</p>
<p>ডিপফেক প্রযুক্তি সবচেয়ে উদ্বেগজনক। এতে রাজনৈতিক নেতাদের এমনভাবে উপস্থাপন করা যায় যেন তারা এমন কিছু বলেছেন বা করেছেন যা আসলে ঘটেনি। তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের প্রেক্ষাপটে এমন কনটেন্ট সহজেই ক্ষোভ উসকে দিতে পারে।<br>AI-চালিত বটও আরেকটি হুমকি। এগুলো ভুয়া পোস্ট, হ্যাশট্যাগ বা লাইক দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মিথ্যা জনমতের ছবি তৈরি করে, যা সাধারণ ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারে।</p>
<p><strong>বাংলাদেশের ভ্রান্ত তথ্যের বাস্তুতন্ত্র</strong><br>বাংলাদেশে ভ্রান্ত তথ্য নতুন নয়। তবে AI এর গতি ও পরিসর বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। আগে যা বানাতে ও ছড়াতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাগত, এখন তা মিনিটেই সম্ভব এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে যায়।</p>
<p>ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটক ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল সাক্ষরতা কম থাকা গ্রামীণ জনগোষ্ঠী বা প্রথমবারের ভোটাররা বিশেষভাবে ঝুঁকিতে।</p>
<p>নির্বাচনী মৌসুম সবসময় গুজব ও প্রোপাগান্ডার জন্য উর্বর ভূমি। অতীতে প্রার্থীদের নিয়ে ভুয়া খবর বা মনগড়া কেলেঙ্কারি ছড়ানো হয়েছে। আজ AI দিয়ে এসব খবর আরও বিশ্বাসযোগ্যভাবে তৈরি হচ্ছে। একটি ভুয়া ভিডিও—even যদি পরে খণ্ডন করা হয়—অল্প সময়েই দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারে।</p>
<p><strong>বাস্তব জীবনে প্রভাব</strong><br>বাংলাদেশ ইতিমধ্যেই দেখেছে অনলাইন গুজব কিভাবে বাস্তব সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। নির্বাচনের মতো সংবেদনশীল সময়ে এ ধরনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।</p>
<p>AI-তৈরি ভুয়া অডিও ক্লিপ নির্বাচন জালিয়াতির ইঙ্গিত দিলে বা নেতার উসকানিমূলক বক্তব্য প্রচার করলে তা বিক্ষোভ, অস্থিরতা কিংবা টার্গেট হামলা ডেকে আনতে পারে।<br>সবচেয়ে বড় ক্ষতি হলো আস্থার অবক্ষয়। যখন নাগরিকরা সত্য-মিথ্যা আলাদা করতে পারে না, তখন তারা বৈধ সংবাদ ও সরকারি ফলাফলেও সন্দেহ করতে শুরু করে।</p>
<p><strong>শাসন ঘাটতি</strong><br>প্রযুক্তির অগ্রগতি আর নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর মধ্যে এক বড় ফাঁক আছে। বর্তমান নির্বাচন আইন শারীরিক প্রচারণায় সীমিত, কিন্তু ডিজিটাল প্রচারণা কার্যত অনিয়ন্ত্রিত।</p>
<p>সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলো বাংলায় কনটেন্ট মডারেট করতে ধীর ও অপ্রস্তুত। স্থানীয় প্রেক্ষাপট বোঝার অভাবও আছে। ফলে সরকার, সিএসও ও টেক কোম্পানির মধ্যে শক্তিশালী সহযোগিতা ছাড়া ক্ষতিকর কনটেন্ট ঠেকানো সম্ভব নয়।</p>
<p><strong>ঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয়</strong><br>১.    ডিজিটাল সাক্ষরতা বৃদ্ধি – নাগরিকদের অনলাইনে পাওয়া তথ্য যাচাই ও প্রশ্ন করার দক্ষতা বাড়াতে হবে।<br>২.    ফ্যাক্ট-চেকিং নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ – স্থানীয় উদ্যোগ যেমন BOOM Bangladesh-কে আরও শক্তিশালী করতে হবে।<br>৩.    ডিজিটাল আচরণবিধি প্রয়োগ – রাজনৈতিক দলগুলোকে AI ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াবে না এমন প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।<br>৪.    টেক প্ল্যাটফর্মের জবাবদিহিতা – ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটককে বাংলায় কনটেন্ট মডারেশন বাড়াতে হবে, AI-তৈরি কনটেন্ট লেবেল করতে হবে।<br>৫.    সিএসও পর্যবেক্ষক হিসেবে – নাগরিক সমাজকে পর্যবেক্ষণ, প্রতিবেদন ও জনসচেতনতায় সক্রিয় হতে হবে।</p>
<p><strong>সামনে পথচলা</strong><br>বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন শুধু রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তির পরীক্ষা নয়; এটি ডিজিটাল যুগে গণতন্ত্র রক্ষারও পরীক্ষা। AI ও ভ্রান্ত তথ্যের নেতিবাচক প্রভাব কেবল সম্ভাবনা নয়, বরং তাৎক্ষণিক ও বাস্তব যা গণতান্ত্রিক পছন্দ বিকৃত করতে এবং সামাজিক সম্প্রীতি ভাঙতে পারে।</p>
<p>যদি নিয়ন্ত্রণহীন থাকে, এসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগত আস্থা নষ্ট করতে, সহিংসতা উসকে দিতে এবং গণতান্ত্রিক কাঠামো দুর্বল করতে পারে। তবে দূরদৃষ্টি, সহযোগিতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে বাংলাদেশ এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারবে।</p>
<p>লাখো বাংলাদেশি যখন ভোট দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন তারা যে তথ্য পাচ্ছে তার সঠিকতা ভোটের মতোই গুরুত্বপূর্ণ। তাই AI ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলা করা শুধু প্রযুক্তিগত বিষয় নয়—এটি নির্বাচনের বৈধতা ও বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ রক্ষার প্রশ্ন।                                                        </p>
<hr>
<p><strong>লেখক:</strong> ডিজিটাল গণতন্ত্র উন্নয়নে বিশেষজ্ঞ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা<br>বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি), এবং বাংলাদেশে দায়িত্বশীল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার রাষ্ট্রদূত, নীতি গবেষণা ফেলো।</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>একক ডিগ্রি দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিংকে বিবেচনা করার সুযোগ নেই</title>
<link>https://digibanglatech.news/156894</link>
<guid>https://digibanglatech.news/156894</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;/p&gt;
&lt;hr&gt;
&lt;p&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202508/image_870x580_68963a2344da1.jpg" length="129039" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 27 Aug 2025 14:42:57 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারদের রেষারেষি অত্যন্ত লজ্জাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে, এখানে মারামারি, হুমকি, হিংসাত্মক আক্রমণ দেখা যাচ্ছে। উভয় পক্ষ রাস্তার আন্দোলনে নেমেছে। দুই গ্রুপ প্রকৌশলীর মুখোমুখি হওয়ার বিষয়টি নতুন নয়, তবে হানাহানি ও হিংসাত্মক উসকানি নতুন। এসব পেশাগত দক্ষতা কিংবা উৎকর্ষকে নির্দেশ করে না।</p>
<p>একটি দেশের প্রকৌশল সংশ্লিষ্ট বিষয়াদি কোন একক প্রতিষ্ঠান কিংবা একক ডিগ্রি কিংবা একটি মাত্র ডোমেইন দিয়ে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। উপরন্তু ইঞ্জিনিয়ারিং এর সংজ্ঞা শুধু বাংলাদেশের মানহীন, মধ্যমান কিংবা সীমিত পরিসরের উচ্চমান বিএসসি ডিগ্রি বা বিএসসি কারিকুলাম দিয়েই নির্ধারণ হবে এটা কেমন হয়ে গেল না?</p>
<p>ইউরোপীয় স্ট্যান্ডার্ডস মতে দেশের প্রকৌশল শিক্ষা ৩ রকমের হতে পারে- ১. মূলত থিউরিটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এডুকেশন যেমন বাংলাদেশের বুয়েট কুয়েট রুয়েট চুয়েট এসব বিশ্ববিদ্যালয়ের কোর্স ওয়ার্ক গুলো মূলত থিউরিটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তার সাথে যুক্ত থিউরিটিক্যাল সায়েন্স। এখানে হাতেকলমে শিক্ষা কম, ম্যাথ ফরমুলা থিওরি বেশি। অর্থাৎ যাকে আমরা সেশনাল কোর্স বলি তা মোট কোর্স ওয়ার্কের ১৫ থেকে অনূর্ধ্ব ২০%।</p>
<p>এই ধারার উচ্চতর ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি কোর্সের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং সমস্যার সমাধান, উচ্চতর ইঞ্জিনিয়ারিং গবেষণা, ইঞ্জিনিয়ার ইনোভেশন, রিসার্চ ও ডেভেলপমেন্ট, উচ্চতর ইঞ্জিনিয়ারিং অপারেশনস, মেইন্টেনেন্স এবং ডিজাইন প্ল্যানিং ইত্যাদি। বিশেষকরে ট্রেনিং, ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল কলেজের শিক্ষকতা, অধ্যাপনা।</p>
<p>২. ফিফটি-ফিফটি মিক্স থিউরিটিক্যাল এবং অ্যাপ্লায়েড ইঞ্জিনিয়ারিং এডুকেশন ৫০-৫০ থিউরিটিক্যাল এবং অ্যাপ্লায়েড কোর্স ওয়ার্ক। বাংলাদেশে এ জাতীয় ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষা নাই বললেই চলে। আমি একটা করার চেষ্টা করছি। ইন্ডাস্ট্রির দক্ষতা তৈরির জন্য আমি এমন একটা ইন্সটিটিউট করার চেষ্টা করছি যেখানে শ্রমবাজারের দক্ষতার ভিত্তিতে কোর্স ওয়ার্ক তৈরি হবে।</p>
<p>৩. ২৫-৭৫ মিক্স ২৫% থিউরিটিক্যাল এবং ৭৫% অ্যাপ্লায়েড ইঞ্জিনিয়ারিং এডুকেশন এর উদ্দেশ্য ইঞ্জিনিয়ারিং এবং শিল্পের সাধারণ অপারেশন, মেইন্টেনেন্স, ডিজাইন, প্ল্যানিং। বাংলাদেশে এই জনবল সরবরাহ করে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ গুলো। পাশাপাশি সব ডোমেইনেই গবেষণা, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনোভেশন, ডেভেলপমেন্ট একটা ন্যাচারাল বিষয়।</p>
<p>৩. ২৫-৭৫ মিক্স ২৫% থিউরিটিক্যাল এবং ৭৫% অ্যাপ্লায়েড ইঞ্জিনিয়ারিং এডুকেশন এর উদ্দেশ্য ইঞ্জিনিয়ারিং এবং শিল্পের সাধারণ অপারেশন, মেইন্টেনেন্স, ডিজাইন, প্ল্যানিং। বাংলাদেশে এই জনবল সরবরাহ করে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ গুলো। পাশাপাশি সব ডোমেইনেই গবেষণা, ইঞ্জিনিয়ারিং ইনোভেশন, ডেভেলপমেন্ট একটা ন্যাচারাল বিষয়। বাংলাদেশের মূল সমস্যা ৩টা - ১. এই কোর্স ওয়ার্কের মধ্যে কোনো অ্যাকাডেমিক সংযোগ নাই। আপার কিংবা লোয়ার অ্যাকাডেমিক ফ্লো কোনোটাই নাই- কেই একটায় খুব ভাল করলে অন্যটাতে যেতে পারেন না, বা একটা কারো কাছে কঠিন লাগলে অন্যটায় যেতে পারেন না। ইউরোপে এটা আছে। ২. দেশ চলতে সবার দরকার। দেশে কেউ নিজ পেশার বাইরে অন্যকে পেশাগত সম্মান দিতে চায় না। ৩. চাকরির হাহাকার।।</p>
<p>মূলত ইঞ্জিনিয়ারিং চাকরি কম থাকায় ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারদের ১০ম গ্রেডে বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা আবেদন করতে চান। আবার পদ স্বল্পতা থাকা ৯ম গ্রেডে বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা চাকরির পর্যাপ্ত সুযোগ পাচ্ছেন না। এখানে ১১তম গ্রেডের বিষয়টি এনে একটা সেটেলমেন্ট দরকার যা প্রকৌশলীদের লিডারশিপকে সল্ভ করতে হবে। আবার অপরাপর কারণের পাশাপাশি এই চাকরি কম থাকার কারণেই বিএসসি ইঞ্জিনিয়াররা বিসিএস-এ ঝুঁকছে। নরমালি একটা দেশে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার সংখ্যায় বেশি থাকে, বাংলাদেশে বেশি হয়ে গেছে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার। আমাদের এখন দরকার প্রদত্ত শিক্ষা কোর্স ও সার্টিফিকেট সংখ্যার আলোকে ১১, ১০, ৯ এই তিন গ্রেডের আসন সংখ্যার বিন্যাসকে রিভিউ করা। কোটার ভিত্তিতে এক গ্রেডের প্রমোশন করিয়ে অন্য গ্রেডের চাকরি কমানো কাম্য হতে পারে না।</p>
<p>সমস্যার ফাঁকে ভাল প্রকৌশলীরা দেশ ছেড়ে বিদেশ যাচ্ছেন। একটি সমীক্ষায় দেখেছি বুয়েটের চারভাগের তিন ভাগ শিক্ষার্থী বিদেশ যাতে চান এবং অন্তত অর্ধেক তাতে সফল। দেখা যাচ্ছে বুয়েটের ছেলেমেয়েরা হয় বিদেশ যাচ্ছে না হয় বিসিএস-এ।</p>
<p>প্রশ্ন হচ্ছে, দেশের ইঞ্জিনিয়ারিং সমস্যার সমাধান কে করবে? এই যখন বাস্তবতা, তখন কিছুটা বেশি পড়া (কিন্তু একই বা প্রায় একই কাজ করা) একদল অভিজাত ভাবা ইঞ্জিনিয়ার বলছে 'ইঞ্জিনিয়ার' নামের এই এলিট স্টেজে অন্যরা উঠতে পারবে না। তারা নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার ব্যবহার করতে পারবে না। এর বাইরে প্রাইভেট পাব্লিক ক্যাচাল তো আছেই। এইরকম দাবি শুনলে বিব্রতবোধ করি আমি। যদিও নামের আগে ইঞ্জিনিয়ার তকমাটা লাগানোকে আমি ভাল পাই না। পেশা জিনিসটা মা বাবার দেয়া নাম না। তবে কেউ পিএইচডি করলে সেটা অ্যাকাডেমিক এক্সিলেন্স হিসেবে ভিন্ন বিষয়।</p>
<p><strong>তিন দফা দাবির প্রশ্নে আমার ব্যক্তিগত অবস্থান মোটামুটি এরকম- </strong></p>
<p>১. ৯ম গ্রেড বন্ধ বা পদ কমানো যাবে না। ৯ম গ্রেড বিভিন্ন অপকৌশলে পদ সংখ্যা কমানো আছে বলে অভিযোগ এসেছে। বিএসসি পাস ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য পদ সংখ্যার ভিত্তিতে গ্রেডটি উন্মুক্ত করে দিতে হবে। পাশাপাশি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার বিসিএসও দিবেন। এবং নিয়োগদাতা, প্রার্থীর পারফর্মেন্স সাপেক্ষে প্রমোশন দিবেন। কোটার ভিত্তিতে না।</p>
<p>২. ১০ম গ্রেড ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য থাকবে এবং নিয়োগদাতা প্রার্থীর পারফর্মেন্স সাপেক্ষে প্রমোশন দেবে। কোটার ভিত্তিতে না। ৩৩% কোটা থেকে থাকলে সেটা যৌক্তিক নয়, এটা বন্ধ করা দরকার।</p>
<p>৩. একই পেশার অন্যকে অপমান করার কথা। আপনি কাউকে নিয়োগ দিলে, তাকে ভালো পারফরমেন্সের সাপেক্ষে প্রমোশনও দিবেন। তবে সেটা কোটার ভিত্তিতে হতে পারবে না, হবে ডিফাইন্ড পারফর্মেন্স কেপিআই এর ভিত্তিতে। বাংলাদেশে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন নামে দুটি 'নামমাত্র' প্রতিষ্ঠান আছে। এরা কেউই ইন্সটিটিউশন নয়। এরা আসলে ক্লাব। এখানে প্রকৃত প্রকৌশলীর কোন কাজ নেই- এখানে কাজ সিন্ডিকেট করা। বিষয়টি অংশীজনের সাথে কথা বলে তাদেরই বিষয়টি সমাধান করার কথা ছিল।</p>
<p>এখানে মূলত দলাদলি হয়, ভাগাভাগি হয়, রাজনীতি হয়, সবচেয়ে কম হয় ইন্সটিটিউশন সংক্রান্ত কাজ। আমি এসবে মেম্বার হয়নি, হওয়ার ইচ্ছাও আপাতত নাই। এর বাইরে আরেকটা কথা।</p>
<p>আমি মনে করি, প্রশাসনে ডেটা সায়েন্স, টেলিকম, আইসিটি, এআই, জেন-এআই মিলিয়ে দ্রুত একটি ক্যাডার সৃজন করা দরকার। এটা স্থগিত হয়ে পড়া টেলিকম ক্যাডারের নাম পরিবর্তন করে করা যেতে পারে। যেহেতু দেশের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে ডিজিটাল ট্রান্সফর্মেশনের কাজ আছে এবং লাগবে, তাই এটা এডহক নিয়োগ এবং কনসালটেন্ট নির্ভর হওয়া উচিত না। বিষয়টি নিয়ে কিছু কাজ করবো বলে মনস্থির করেছি।</p>
<p>সবশেষে, এই যে মারামারি, কেন জানেন? ৫% চাকরি, যা সরকার দেয়। বাকি ৯৫% এর কথা কেউ বলে না। উনাদের চাকরি, ভাতা, কাজের পরিবেশ কিংবা স্বাস্থ্য বীমা, পরিবহণ খরচ কিংবা পেনশন নিয়ে কোন আলাপ নাই, নেই কোনো আন্দোলন। চলুন বাকি ৯৫% বিএসসি এবং ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের কথাও ভাবি, তবেই দেশের টেকসই উন্নয়নের একটা ভিত্তি তৈরি হবে। দেশের উন্নয়নে প্রকৌশলীদের ভূমিকা অতি গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<hr>
<p>লেখক: প্রযুক্তিবিদ, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বিএসসি ডিগ্রিধারীরা কি তবে পরিত্যাজ্য?</title>
<link>https://digibanglatech.news/156737</link>
<guid>https://digibanglatech.news/156737</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;/p&gt;
&lt;hr&gt;
&lt;p&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202508/image_870x580_68a9f12b3f342.jpg" length="91295" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 23 Aug 2025 17:29:12 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশের প্রকৌশল খাত আজ এক অভূতপূর্ব সংকটে। দেশের শীর্ষ মেধাবীরা যেখানে দীর্ঘ চার বছর কঠোর পরিশ্রম করে বুয়েট, কুয়েট, রুয়েট, চুয়েটসহ স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকৌশল ডিগ্রি অর্জন করছেন, সেখানে তাদের ন্যায্য অধিকার আজ ডিপ্লোমাধারীদের সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি।</p>
<p>একদিকে এসএসসি পাশের পর চার বছর মেয়াদি ডিপ্লোমা অর্জনকারীরা উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ১০০% কোটা দখল করে বসে আছেন, অন্যদিকে বিএসসি ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীরা একই পদে আবেদন করার ন্যূনতম সুযোগ থেকেও বঞ্চিত। </p>
<p>প্রশ্ন জাগে—যেখানে সরকারি চাকরির অধিকাংশ দশম গ্রেডে ন্যূনতম যোগ্যতা স্নাতক ডিগ্রি, সেখানে কেবল ইঞ্জিনিয়ারিং সেক্টরেই কেন এই বৈষম্য?</p>
<p>প্রকৌশলী মহলে অভিযোগ, ১৯৯৪ সাল থেকে শুরু হওয়া ডিপ্লোমাধারীদের আন্দোলনের মাধ্যমে ধাপে ধাপে দখল করা হয়েছে প্রকৌশলীদের কর্মক্ষেত্র। দ্বিতীয় শ্রেণির মর্যাদা আদায় থেকে শুরু করে ২০১৩ সালে সহকারী প্রকৌশলী পদের দখল—সবই হয়েছে আন্দোলন, চাপ আর বিশৃঙ্খলার মাধ্যমে। আজকের চিত্র আরও ভয়াবহ:</p>
<p>দশম গ্রেডে ১০০% কোটা ডিপ্লোমাধারীদের হাতে।</p>
<p>নবম গ্রেড সহকারী প্রকৌশলীর পদে ৩৩% থেকে শুরু করে ৬৭% পর্যন্ত প্রমোশন কোটার দখল।</p>
<p>অনেক প্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগ প্রায় শূন্যের কোঠায়।</p>
<p>প্রমোশনের নামে অবৈধভাবে ডিপ্লোমাধারীরা বিসিএস ক্যাডার পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছেন।</p>
<p>এমনকি দেখা যাচ্ছে, একই বছরে চাকরিতে যোগ দেওয়া সত্ত্বেও ডিপ্লোমাধারীদের সিনিয়রিটি জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয় বিএসসি প্রকৌশলীদের চাপে রাখার জন্য। এর ফলে প্রকৃত যোগ্যতা সম্পন্ন প্রকৌশলীরা পদোন্নতির সুযোগ হারাচ্ছেন, অনেকেই হতাশ হয়ে সাধারণ ব্যাংক চাকরি বা বিদেশে পাড়ি জমাতে বাধ্য হচ্ছেন।</p>
<p><strong>প্রকৌশল খাতে নৈরাজ্যের নমুনা</strong></p>
<p>সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে সহকারী প্রকৌশলীর মোট ২৪৫টি পদে বর্তমানে কর্মরত আছেন ডিপ্লোমাধারী ১৬০ জন, অথচ বিএসসি প্রকৌশলী মাত্র ৬৩ জন।</p>
<p>গণপূর্ত অধিদপ্তরে প্রমোশনের নির্ধারিত ৩৩% সীমা ভেঙে ৪২% পদ ডিপ্লোমাধারীরা দখল করেছেন।</p>
<p>অনেক সময় “ভারপ্রাপ্ত” বা “চলতি দায়িত্ব” নামে পদোন্নতি দিয়ে কয়েক মাস পরই সেটিকে স্থায়ী করা হয়, যাতে নবম গ্রেডে বিএসসি প্রকৌশলীদের প্রবেশপথ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়।</p>
<p><br><strong>বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ক্ষোভ ও হতাশা</strong></p>
<p>বুয়েট, কুয়েট, রুয়েট, চুয়েট ও অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বছরের পর বছর ধরে এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন করলেও কার্যত কোনো পরিবর্তন হয়নি। শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের জ্বালামুখ আজ জাতীয় সংকটে রূপ নিয়েছে।</p>
<p><em>তাদের দাবি —</em></p>
<p>১. সহকারী প্রকৌশলী (নবম গ্রেড) পদে প্রবেশের একমাত্র যোগ্যতা হতে হবে বিএসসি ডিগ্রি এবং সবার জন্য সমান নিয়োগ পরীক্ষা।</p>
<p>২. দশম গ্রেড উপসহকারী প্রকৌশলী পদে ১০০% কোটা বাতিল করে সেখানে ডিপ্লোমা ও উচ্চতর ডিগ্রিধারী উভয়ের আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে।</p>
<p>৩. ‘Engineer’ টাইটেল কেবল বিএসসি ডিগ্রিধারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে—আইন করে এ বিষয়ে শাস্তির বিধান থাকতে হবে।</p>
<p>বাংলাদেশের কোনো পেশায় এ রকম নজির নেই। চিকিৎসক হতে হলে অবশ্যই এমবিবিএস, আইনজীবী হতে হলে অবশ্যই এলএলবি, চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট হতে হলে নির্দিষ্ট কোর্স—এখানে কোনো শর্টকাট নেই। কিন্তু কেবল ইঞ্জিনিয়ারিং পেশাতেই স্নাতক ডিগ্রিধারীদের ওপর অবৈধভাবে ডিপ্লোমাধারীদের সিন্ডিকেট চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।</p>
<p><strong>সরকারের প্রতি প্রশ্ন</strong></p>
<p>যদি দেশের প্রকৌশল খাত বিএসসি প্রকৌশলীদের জন্য না-ই হয়, তবে কি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে শুধু পলিটেকনিকই চালু রাখাই যুক্তিযুক্ত?</p>
<p>প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের নেতাদের ভাষায়, “দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা যদি তাদের প্রাপ্য মর্যাদা না-ই পান, তবে দেশের প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা ধ্বংস হবে। সরকার যদি এখনই পদক্ষেপ না নেয়, তবে বাংলাদেশে আর প্রকৃত অর্থে ‘Engineer’ শব্দটির কোনো মানে থাকবে না।”</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ </strong>ইয়ুথ পলিসি থিঙ্কার</p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সাইবার আক্রমণের টার্গেটে কেন বাংলাদেশ?</title>
<link>https://digibanglatech.news/156568</link>
<guid>https://digibanglatech.news/156568</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p class=&quot;MsoNormal&quot; style=&quot;text-align: justify;&quot;&gt;&lt;/p&gt;
&lt;hr&gt;
&lt;p class=&quot;MsoNormal&quot; style=&quot;text-align: justify;&quot;&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202508/image_870x580_68a2d3d28ad36.jpg" length="89541" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 18 Aug 2025 13:01:57 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>সাইবার নিরপত্তায় যেখানে সারাবিশ্বে নতুন নতুন উদ্দ্যেগ নেয়া হচ্ছে সেখানে বাংলাদেশে কোন প্রকার উদ্দ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে প্রতিনিয়ত সাইবার আক্রমন পরিলক্ষিত হচ্ছে। বিভিন্ন উপলক্ষ আসলে সাইবার আক্রমণের হার বেড়ে যাচ্ছে। এইসব সাইবার এট্যাক প্রতিরোধের জন্য কোন প্রকার উদ্দ্যোগ নেয়া হচ্ছেনা। অথচ এমন আক্রমন হ্যাকারগ্রুপ আগেই ঘোষণা দিয়ে গুরুত্তপূর্ণ সেবাগুলোতে সাইবার আক্রমন চালাচ্ছে। অপ্রতুল সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দুর্বল প্রযুক্তি এর অন্যতম কারণ। </p>
<p>মূলত বাংলাদেশের ওয়েবসাইট গুলো এমন ভাবে বানানো যা নিতান্তই দূর্বল, কমদামে ওয়েবসাইট তৈরি করা, দূর্বল ডেভেলপার বা প্রোগ্রামার দিয়ে ওয়েবসাইট তৈরি করা, একই টেমপ্লেট দিয়ে বিভিন্ন সাইট তৈরি করা এবং নিম্নমানের হোস্টিং সেবাতে হোস্ট করা অনেকাংশে দায়ী। বাংলাদেশের সরকারী ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ওয়েবসাইট বানিয়ে দায় দায়িত্ত শেষ মনে করে, সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে তেমন মাথাব্যাথা উনাদের নেই। সাইবার নিরাপত্তায় কোন প্রকার ইনভেস্ট করতে রাজী নন। </p>
<p>সরকারী ও শিক্ষামূলক এইসব ওয়েবসাইটে ভর্তি রেজিট্রেশন, আবেদন, ভর্তির প্রক্রিয়া, রেজাল্ট সব করে থাকে কিন্তু হ্যাকাররা এইসব ওয়েবসাইটের দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সেই সব ওয়েবসাইটের ডেটাবেজে ডুকে সেই সব তথ্যসমূহ বেহাত করে দিচ্ছে, প্রতিষ্ঠানসমূহ জানেই না তাদের সব ডেটা অন্যের হাতে চলে যাচ্ছে। অনেকসময় জানার পরও চুপ থেকে যাই। একটা ওয়েবসাইট তৈরির পর সেটার দূর্বলতাগুলো মূল্যায়ন করে তার জন্য যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হয়, যা প্রতিষ্ঠানসমূহ কখনোই করে না। </p>
<p>সাইবার আক্রমন প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারকে এবং প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরো বেশী উদ্দ্যেগ গ্রহণ করতে হবে, সরকারিভাবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসমুহে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন নির্দেশনা দিতে হবে, নিয়মিত ওয়েবসাইট ও সার্ভারের দূর্বলতা মূল্যায়ন করতে হবে, ভালোমানের ডেভেলপার দ্ধারা ওয়েবসাইট তৈরি করতে হবে, সর্বশেষ প্রযুক্তি ও প্রোগ্রামিং ভাষা দ্ধারা সাইট তৈরি করতে হবে, সাইবার নিরাপত্তার জন্য প্রযুক্তিভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। দক্ষ সাইবার সিকিউরিটি এক্সপার্ট তৈরিতে জোড় দিতে হবে। যেইসব আইপি থেকে প্রতিনিয়ত সাইবার এট্যাক পরিচালিত হচ্ছে তা মনিটরিং করে ব্ল্যাকলিস্ট করতে হবে এবং অন্যদেশের সাথে সমন্বয় করে সেই সব অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারীভাবে উদ্দ্যেগ গ্রহণ করতে হবে।  </p>
<p>প্রযুক্তি একটি পরিবর্তনশীল প্রক্রিয়া যা নিয়মিত মনিটরিং, পর্যবেক্ষন ও আয়ত্তে নিয়ে আসতে না পারলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্থ হবে এবং নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষা লংগিত হবে। </p>
<p>লেখকঃ সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, ডিকোডস ল্যাব লিমিটেড।</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>জনস্বাস্থ্যের হুমকি সোশ্যালমিডিয়া ট্যাবু</title>
<link>https://digibanglatech.news/156562</link>
<guid>https://digibanglatech.news/156562</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;/p&gt;
&lt;hr&gt;
&lt;p&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202508/image_870x580_68a2bad8a04e9.jpg" length="81928" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 18 Aug 2025 11:34:08 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। এর মাধ্যমে আমরা যেমন একে অপরের সাথে যুক্ত থাকতে পারি, তেমনি বিভিন্ন তথ্য ও খবর আদান-প্রদানও করতে পারি। তবে এর একটি অন্ধকার দিকও রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলো প্রায়শই স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত বিভিন্ন ভুয়া তথ্য, গুজব ও ভুল ধারণার প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে সৃষ্ট সমস্যাগুলো অত্যন্ত গুরুতর এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।</p>
<p><strong>স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত ভুয়া তথ্যের সংকট</strong><br>সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত ভুয়া বা অপ-তথ্যের ব্যাপক প্রচলন জনস্বাস্থ্যের জন্য বেশ কয়েকটি সংকট তৈরি করেছে। এগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি অপ চিকিৎসা। যখন মানুষ ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে কোনো অসুস্থতার জন্য স্ব-চিকিৎসা শুরু করে, তখন অজ্ঞতা ধোঁয়াশায় শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হতে পারে, এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এই যেমন- কিছু পোস্টে দাবি করা হয়, বিশেষ কোনো ভেষজ বা প্রাকৃতিক উপাদান ক্যান্সার নিরাময় করতে পারে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এই ধরনের তথ্যের ওপর বিশ্বাস করে অনেকে প্রচলিত চিকিৎসা গ্রহণ থেকে বিরত থাকেন, যার ফলে তাদের সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। আরেকটি বড় সমস্যা হলো চিকিৎসকদের প্রতি আস্থাহীনতা। যখন মানুষ দেখে যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা তথ্যের সাথে চিকিৎসকদের পরামর্শ মেলে না, তখন তারা পেশাদার স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের ওপর বিশ্বাস হারাতে শুরু করে। এটি এক ধরনের ভ্রান্তি-বিশ্বাস বা ইনফোডেমিক (অপতথ্যের মহামারি) তৈরি করে, যা চিকিৎসা বিজ্ঞানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। অনেক সময় ভুয়া তথ্য প্রচারকারীরা বিজ্ঞান ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিরুদ্ধে ভুল ও বিভ্রান্তিকর যুক্তি উপস্থাপন করে, যা সাধারণ মানুষের মনে সংশয় সৃষ্টি করে।</p>
<p>এছাড়াও, ভুয়া স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত বার্তাগুলো জনগণের মধ্যে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি ছড়াতে পারে। কোনো মহামারীর সময় যেমন কোভিড-১৯ নিয়ে এই ধরনের গুজব আরও দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। এসব সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও হতাশা সৃষ্টি করে।  কোভিড-১৯ এর সময় অনেক ভুয়া পোস্ট ছড়িয়েছিল। তখন দেখেছি করোনা চীনের বা আমেরিকার রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র অথবা কিছু নির্দিষ্ট খাবার খেলে এই রোগ প্রতিরোধ করা যায়। এই ধরনের তথ্য সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পথে বাধা দেয়।</p>
<p><strong>ব্যবহারকারী ও পাঠকদের করণীয়</strong><br>এই সংকট মোকাবিলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রতিটি ব্যবহারকারী ও পাঠকের সচেতনতা। স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করার ক্ষেত্রে কিছু নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করা যেতে পারে। যেকোনো স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত পোস্ট বা খবর দেখার পর সেটি বিশ্বাস করার আগে অবশ্যই তার উৎস যাচাই করুন। দেখুন, তথ্যটি কোনো স্বীকৃত স্বাস্থ্য সংস্থা যেমন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা  বা নির্ভরযোগ্য চিকিৎসা বা বিজ্ঞানবিষয় ম্যাগাজিন থেকে এসেছে কিনা। যদি কোনো অজানা বা সন্দেহজনক ওয়েবসাইট বা প্রোফাইল থেকে তথ্য আসে, তবে সেটিকে এড়িয়ে যাওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। কোনো শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন।</p>
<p>মনে রাখবেন, ব্যক্তিগত শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, যা কোনো সাধারণ পোস্ট থেকে বোঝা সম্ভব নয়। যদি কোনো পোস্টে এমন দাবি করা হয় যে, একটিমাত্র ওষুধ বা পদ্ধতি যেকোনো রোগ নিরাময় করতে পারে, তবে সেটি প্রায় নিশ্চিতভাবেই ভুয়া। চিকিৎসা বিজ্ঞানে কোনো অলৌকিক সমাধান নেই। যদি আপনার কাছে কোনো স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত বার্তা আসে এবং সেটি আপনার কাছে ভুয়া মনে হয়, তাহলে সেটি শেয়ার করা থেকে বিরত থাকুন। আপনার একটি শেয়ার অন্য অনেকের কাছে ভুল তথ্য পৌঁছে দিতে পারে।</p>
<p>সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়া তথ্যের এই বিস্তার ঠেকাতে প্রতিটি সচেতন নাগরিকের ভূমিকা অপরিহার্য। নিজেদের সুরক্ষিত রাখার পাশাপাশি, সঠিক তথ্যের প্রচার করা এবং ভুল তথ্যকে চিহ্নিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। কেননা, <span> বায়ুদূষণ, খাদ্যপণ্যে ভেজাল এবং রোগজীবাণুর সংক্রমণের চেয়েও এখন ছাকনিহীন সোশ্যাল হ্যান্ডেলে দ্রুত ছড়াচ্ছে এই অপতথ্যের দূষণ। </span></p>
<p><strong>লেখক:</strong> গবেষক, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়</p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>প্রযুক্তি, আইন ও রাজনৈতিক সদিচ্ছাই শেষ ভরসা</title>
<link>https://digibanglatech.news/156432</link>
<guid>https://digibanglatech.news/156432</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;/p&gt;
&lt;hr&gt;
&lt;p&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202508/image_870x580_689bee648d924.jpg" length="63678" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 13 Aug 2025 07:00:54 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<article class="text-token-text-primary w-full focus:outline-none scroll-mt-[calc(var(--header-height)+min(200px,max(70px,20svh)))]" dir="auto" data-turn-id="532e2cd9-8870-4924-bb91-0a477bf59bae" data-testid="conversation-turn-2" data-scroll-anchor="true" data-turn="assistant" tabindex="-1">
<div class="text-base my-auto mx-auto pb-10 [--thread-content-margin:--spacing(4)] @[37rem]:[--thread-content-margin:--spacing(6)] @[72rem]:[--thread-content-margin:--spacing(16)] px-(--thread-content-margin)">
<div class="[--thread-content-max-width:32rem] @[34rem]:[--thread-content-max-width:40rem] @[64rem]:[--thread-content-max-width:48rem] mx-auto max-w-(--thread-content-max-width) flex-1 group/turn-messages focus-visible:outline-hidden relative flex w-full min-w-0 flex-col agent-turn" tabindex="-1">
<div class="flex max-w-full flex-col grow">
<div data-message-author-role="assistant" data-message-id="7f42e4eb-469e-49be-bec0-4ce44a760290" dir="auto" class="min-h-8 text-message relative flex w-full flex-col items-end gap-2 text-start break-words whitespace-normal [.text-message+&amp;]:mt-5" data-message-model-slug="gpt-5">
<div class="flex w-full flex-col gap-1 empty:hidden first:pt-[3px]">
<div class="markdown prose dark:prose-invert w-full break-words light markdown-new-styling">
<p data-start="0" data-end="288">বাংলাদেশে ধর্ষণ কোনো অপ্রতিরোধ্য জৈবিক প্রবৃত্তির ফল নয়; এটি ক্ষমতার অপব্যবহার, দণ্ডহীনতা এবং এমন এক সংস্কৃতির ফল যা ভুক্তভোগীর বদলে অপরাধীকে রক্ষা করে। যদি যৌন সহিংসতা কেবল “প্রাকৃতিক নিয়তি” হতো, তবে প্রতিটি পুরুষই ধর্ষক হতো! বাস্তবতা ভিন্ন কথা বলে — আর বলে, এটি প্রতিরোধযোগ্য অপরাধ।</p>
<p data-start="290" data-end="520">তবু পরিসংখ্যান ভয়াবহ: বাংলাদেশে ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির প্রায় ৯০% ঘটনা রিপোর্টই হয় না। এই নীরবতাই অপরাধীদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র। তারা জানে, ভুক্তভোগী চুপ থাকবে, পরিবার পুলিশে যাবে না, আর বিচারব্যবস্থা ন্যায়বিচার দিতে ব্যর্থ হবে।</p>
<p data-start="522" data-end="1107"><strong data-start="522" data-end="561">প্রযুক্তি দিয়ে নিরাপত্তা ও সহায়তা</strong><br data-start="561" data-end="564">আইন ও প্রতিষ্ঠানিক সংস্কারের পাশাপাশি বাংলাদেশকে প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভুক্তভোগীদের তাৎক্ষণিক সহায়তা দিতে হবে। নিরাপদ মোবাইল অ্যাপ, যাতে SOS অ্যালার্ট, জিও-ফেন্সিং, সরাসরি পুলিশের সাথে যোগাযোগের সুযোগ থাকবে, জরুরি পরিস্থিতিতে জীবন রক্ষা করতে পারে। এআই-নির্ভর সিসিটিভি বিশ্লেষণ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা নজরদারি করতে পারবে, আর ব্লকচেইন প্রযুক্তি প্রমাণকে নিরাপদ ও পরিবর্তন-অযোগ্য রাখবে। অনলাইন গোপন রিপোর্টিং প্ল্যাটফর্ম, যেখানে প্রশিক্ষিত পরামর্শদাতা ও উদ্ধারকর্মী যুক্ত থাকবে, ভুক্তভোগীকে সামাজিক কলঙ্কের ভয় ছাড়াই অভিযোগ জানাতে উৎসাহিত করতে পারে।</p>
<p data-start="1109" data-end="1452"><strong data-start="1109" data-end="1138">ভুক্তভোগীরা কেন চুপ থাকেন</strong><br data-start="1138" data-end="1141">রিপোর্ট না করার কারণ সমাজের মনোভাব ও প্রতিষ্ঠানিক দুর্বলতায় গভীরভাবে গেঁথে আছে। ভুক্তভোগীকে প্রায়ই দোষারোপ করা হয়, “অনৈতিক” তকমা দেওয়া হয় এবং প্রকাশ্যে লজ্জা দেওয়া হয়। বিচার ধীরগতি, দোষী সাব্যস্তের হার কম, আর “ভাল নারী ধর্ষণের শিকার হয় না” বা “পোশাকের কারণে ঘটনা ঘটেছে” — এসব ভুল ধারণা সমাজে টিকে আছে।</p>
<p data-start="1454" data-end="1674">নৈতিক পাহারাদারি (moral policing) এটিকে আরও বাড়িয়ে দেয়। যখন কোনো মেয়ে সিনেমা দেখতে যায়, বন্ধুদের সাথে ঘুরে বা নিজের মতো পোশাক পরে — তখন তাকে দোষী বানানো হয়, অপরাধীকে নয়। এই লজ্জা ও ভয় অপরাধীর ঢাল হয়ে দাঁড়ায়।</p>
<p data-start="1676" data-end="1965"><strong data-start="1676" data-end="1693">সংকটের মাত্রা</strong><br data-start="1693" data-end="1696">বাংলাদেশে ধর্ষণের জন্য মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির আইন আছে। কিন্তু রিপোর্ট, তদন্ত আর দোষী সাব্যস্ত না হলে আইন কেবল কাগজে থাকে। অবকাঠামোগত ঘাটতিও গুরুতর: ১৮ কোটির বেশি মানুষের জন্য বিচারব্যবস্থায় বিচারক আছেন ১,৮০০ জনেরও কম, আর পুরো দেশে কার্যকর ডিএনএ ল্যাব মাত্র দুইটি।</p>
<p data-start="1967" data-end="2093"><strong data-start="1967" data-end="1989">যা এখনই বদলাতে হবে</strong><br data-start="1989" data-end="1992">ধর্ষণ বন্ধ হবে না ক্ষণিকের প্রতিবাদ বা প্রতীকী শাস্তিতে; লাগবে রাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন সমন্বিত পদক্ষেপ:</p>
<ul>
<li data-start="2097" data-end="2191">আইন, শিক্ষা, গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য ক্ষমতাসম্পন্ন জাতীয় কমিশন গঠন।</li>
<li data-start="2195" data-end="2260">২,০০০ নতুন বিচারক নিয়োগ ও বিশেষায়িত ধর্ষণ মামলা আদালত স্থাপন।</li>
<li data-start="2264" data-end="2372">নারী-সংবেদনশীল বিশেষ পুলিশ ইউনিট, যারা ফরেনসিক, পরামর্শদান ও অপরাধীর জাতীয় ডাটাবেস পরিচালনায় প্রশিক্ষিত।</li>
<li data-start="2376" data-end="2562">আইনি সংজ্ঞা সংশোধন করে বস্তু প্রবেশ (object penetration) কে ধর্ষণ হিসেবে গণ্য করা, প্রতারণার মাধ্যমে ধর্ষণ স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত করা এবং শিশুদের অনলাইন প্রলোভনকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা।</li>
<li data-start="2566" data-end="2632">প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ডিএনএ ল্যাব স্থাপন ও পর্যাপ্ত জনবল নিয়োগ।</li>
</ul>
<p data-start="2634" data-end="2879"><strong data-start="2634" data-end="2652">বাজেটের প্রশ্ন</strong><br data-start="2652" data-end="2655">বাংলাদেশের পুরো বিচারব্যবস্থার বার্ষিক বাজেট একটি শহুরে ফ্লাইওভারের খরচের চেয়েও কম। দেশ যদি মহাসড়ক ও সেতু বানাতে পারে, তবে নারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য অর্থ বরাদ্দ করাও সম্ভব। এটি অর্থের নয় — রাজনৈতিক সদিচ্ছার বিষয়।</p>
<p data-start="2881" data-end="3205"><strong data-start="2881" data-end="2901">কর্মে নামার সময়</strong><br data-start="2901" data-end="2904">সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া বা জনসমক্ষে প্রদর্শনীমূলক পদক্ষেপ নয় — লাগবে কাঠামোগত সংস্কার, যা ভুক্তভোগীকে রক্ষা করবে, অপরাধীকে ভয় দেখাবে এবং নীরবতার সংস্কৃতি ভাঙবে। সামনে দুটি পথ — কংক্রিট ও ইস্পাত বাড়ানো, নাকি এমন এক সমাজ গড়া যেখানে নারী-শিশুরা ভয়মুক্ত জীবনযাপন করতে পারবে।</p>
<p data-start="3207" data-end="3299" data-is-last-node="" data-is-only-node="">অকর্মণ্যতার খেসারত টাকা দিয়ে নয়, বরং ধ্বংস হয়ে যাওয়া অসংখ্য জীবনের হিসাবেই চুকাতে হবে।</p>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</article>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>অবকাঠামো উন্নয়নের সবুজ প্রযুক্তি : টেকসই আগামীর পথে বাংলাদেশ</title>
<link>https://digibanglatech.news/156046</link>
<guid>https://digibanglatech.news/156046</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;/p&gt;
&lt;hr&gt;
&lt;p&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202508/image_870x580_688cb1a18485d.jpg" length="113744" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 01 Aug 2025 09:42:26 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে উন্নয়নের ধারণা বদলাচ্ছে। আগের মতো তাই শুধু সড়ক, সেতু, ভবন বানালেই উন্নয়ন সম্পন্ন হয় না। সেই অবকাঠামো কতটা পরিবেশবান্ধব সেটিও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আর এই বিবেচনায় সামনে চলে এসেছে "সবুজ প্রযুক্তি" বা "গ্রিন টেকনোলজি"। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ এবং জলবায়ু সংবেদনশীল দেশে অবকাঠামো খাতে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি প্রয়োগ এখন সময়ের দাবি। এদিকে যেমন এ প্রযুক্তি পরিবেশের উপর চাপ কমায় তেমনি দীর্ঘমেয়াদে খরচও সাশ্রয় করে। <o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><b style="mso-bidi-font-weight: normal;"><span style="font-family: Kalpurush;">কি এই সবুজ প্রযুক্তি? <o:p></o:p></span></b></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">সবুজ প্রযুক্তি এমন এক ধরনের ব্যবস্থা, যেখানে কম শক্তি খরচ হয় কম কার্বন নিঃসরণ হয় এবং যেসব উপকরণ ব্যবহার করা হয় সেগুলো বেশিরভাগই পুনঃ ব্যবহারযোগ্য। এই প্রযুক্তির আওতায় পরে সৌর শক্তির ব্যবহার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, প্রাকৃতিক আলো ও বাতাস চলাচলের মতো ডিজাইন, স্থানীয় ও টেকসই উপকরণের ব্যবহার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। <o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">নগরায়নের বিস্তার এবং অবকাঠামোর পরিমাণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর পরিবেশগত প্রভাবও বাড়ছে। ধুলাবালি শব্দ দূষণ বোর্জ্য এসব শহরের দৈনন্দিন বাস্তবতা। সবুজ প্রযুক্তি এসবের টেকসই সমাধান দিতে পারে বলে মত দিয়েছেন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। <o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশে গত ১ দশকে অবকাঠামোর উন্নয়ন এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, এইসব প্রকল্প দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করেছে। তবে পরিবেশের দিকটি কতটা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। <o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">সবুজ অবকাঠামোর ক্ষেত্রে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ছোট্ট দেশ সিঙ্গাপুর বিশ্বে রোল মডেল। ঘনবসতিপূর্ণ শহর হলেও তারা পরিকল্পিত সবুজায়নের মাধ্যমে নগর জীবনকে করেছে বাসযোগ্য ও টেকসই। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সিঙ্গাপুর একটি নিয়ম মেনে চলছে, যার নাম "100% green replacement policy"। এই নীতিতে বলা আছে- কোন নতুন ভবন নির্মাণ করলে, যে পরিমাণ জমির উপর নির্মাণ হচ্ছে, সেই পরিমাণ সবুজায়ন (গাছ, ছাদ বাগান, উন্মুক্ত উদ্যান ইত্যাদি) বাধ্যতামূলক। অর্থাৎ ছাদে, দেয়ালে, বারান্দায়, যেভাবেই হোক ন্যূনতম শতভাগ সবুজ ফিরিয়ে দিতে হবে।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">উদাহরণ হিসেবে পার্ক রয়্যাল হোটেল, ক্যাপিটা স্প্রি ভবনের কথা বলা যায়, যেখানে ভবনের ভেতরে ও বাইরে প্রতিটি স্তরেই গাছপালা জলাধার ও উন্মুক্ত সবুজ জায়গা রাখা হয়েছে। এটি শুধু পরিবেশ বান্ধব নয় বরং নান্দনিকতাও বাড়ায়। <o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের যদি এমন বাধ্যতামূলক নীতি মালা গ্রহণ করা হয় এবং শহর পরিকল্পনায় সবুজায়নকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় তাহলে ঘনবসতিপূর্ণ নগর গুলোতেও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব। <o:p></o:p></span></p>
<h2 style="background: white; margin: 0in 43.5pt .0001pt 0in;"><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush; font-weight: normal; mso-bidi-font-weight: bold;">ঢাকা-চট্টগ্রাম সহ কয়েকটি শহরে এখন গ্রীন বিল্ডিং এর সংখ্যা বেড়ে চলেছে। রাজধানীর গুলশান এভিনিউতে সিম্পেল ট্রি আনারকলি, সাইহাম টাওয়ার, <span style="color: #1f1f1f;">সিটিস্কেপ </span>টাওয়ার, </span><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush; color: #1f1f1f; font-weight: normal;">শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক টাওয়ার</span><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush; font-weight: normal; mso-bidi-font-weight: bold;"> সহ কয়েকটি স্থাপনা LEED ( leadership in energy and environment design) সনদ পেয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ এখনো খুবই সীমিত। </span><span style="font-size: 11.0pt; font-family: Kalpurush; color: #1f1f1f; font-weight: normal;"><o:p></o:p></span></h2>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">বাংলাদেশি গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখন পর্যন্ত ৫০টির বেশী ভবন আন্তর্জাতিক মানদন্ডে গ্রীন সার্টিফাইড হয়েছে যার বেশিরভাগই তৈরি পোশাক শিল্পে ।<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">সবুজ প্রযুক্তির সবচেয়ে বড় বাঁধা হল প্রাথমিক খরচ। প্রচলিত নির্মাণের তুলনায় সবুজ ভবনের খরচ কিছুটা বেশি হলেও, বীরভূমে যাদের বিদ্যুৎ পানি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ অনেকটাই কমে আসে। অন্যদিকে, পর্যাপ্ত নীতিমালা নেই, জনবল দক্ষ নয় এবং সচেতনতা এখনো সীমিত। তবে তরুণ স্থপতি ও প্রকৌশলীদের মধ্যে সাস্টিনেবল ডিজাইন নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। এটাই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। <o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">এ ব্যাপারে সরকারি পর্যায়ে আলাদা বরাদ্দ রাখা, পরিবেশ বান্ধব উপকরণে কর ছাড়, প্রশিক্ষণ ও গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করা জরুরী। পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে কর্পোরেট প্রণোদনার মাধ্যমে উৎসাহিত করতে হবে। <o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">অবকাঠামো উন্নয়নে সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার শুধু পরিবেশ রক্ষা নয়, বরং এটি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও টেকসই সমাজ গঠনের বিনিয়োগ। জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ এখন সেই সিদ্ধান্তের মুখোমুখি। উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাব, নাকি টেকসই উন্নয়নের পথে?<o:p></o:p></span></p>
<p class="MsoNormal"><span style="font-family: Kalpurush;">লেখক: স্থপতি</span></p>
<hr>
<p class="MsoNormal"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সাইবার পেট্রোল: কে ধরবে বাংলাদশের ঢাল?</title>
<link>https://digibanglatech.news/156033</link>
<guid>https://digibanglatech.news/156033</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p style=&quot;text-align: left;&quot;&gt;&lt;/p&gt;
&lt;hr&gt;
&lt;p&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202507/image_870x580_68885469b7a88.jpg" length="105934" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 29 Jul 2025 10:56:27 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বদলে গেছে বিশ্ব। এক সময় আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি আসতো রাস্তা-ঘাটে। এখন সেই হুমকি আসে ফোনের পর্দা থেকে। লড়াই শুধু লাঠি বা বন্দুক দিয়ে হয় না; হয় হ্যাশট্যাগ, লাইভ ভিডিও এবং সুপরিকল্পিত গুজব দিয়েও। তাই ২৯ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের সাইবার পেট্রোল জোরদার করার সাম্প্রতিক নির্দেশনাগুলো সময়োপযোগী। পুলিশ সতর্ক করেছে—কিছু উগ্রবাদী ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অনলাইন গ্রুপ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অস্থিরতা ছড়ানোর পরিকল্পনা করছে। এই উদ্বেগ তাই যথার্থ।</p>
<p><strong>সাইবার পেট্রোলের খুঁটিনাটি</strong></p>
<p>সাইবার পেট্রোল মানে শুধু ফেসবুক স্ক্রল করা নয়।<br>এটা এমন এক পদ্ধতি যেখানে প্রযুক্তি এবং মানব বুদ্ধিমত্তা একসঙ্গে কাজ করে।<br>এ জন্য প্রয়োজন-</p>
<ul>
<li>সন্দেহজনক ক্যাম্পেইন শনাক্ত করতে কিওয়ার্ড ট্র্যাকিং করা স্মার্ট সফটওয়্যার</li>
<li> হাজার হাজার পোস্ট বিশ্লেষণ করে অস্বাভাবিক আচরণ শনাক্ত করা এআই টুল</li>
<li> এনক্রিপ্টেড মেসেজিং অ্যাপ এবং ওয়েবের গোপন প্রান্তগুলোতে নজর রাখা</li>
<li> ছবি ও ভিডিও যাচাই করে উৎস ও পোস্টকারীর পরিচয় শনাক্ত করা</li>
</ul>
<p>কিন্তু বড় প্রশ্ন হচ্ছে—আমরা কি সত্যিই এসব করার পূর্ণ প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রাখি?<br>এবং কে এই লড়াইয়ে নেতৃত্ব দেবে—বিটিআরসি, এনটিএমসি, নাকি পুলিশ?</p>
<p><strong>নেতৃত্বের প্রশ্ন</strong></p>
<p>উত্তর হলো, তিন সংস্থারই ভূমিকা রয়েছে, কিন্তু নেতৃত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হতে হবে। কেননা-</p>
<p><strong>বিটিআরসি </strong>(বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন) নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণ করে। তারা ব্যাকবোন লেভেলে ব্লক, ফিল্টার ও ট্রেস করতে পারে, কিন্তু তারা নিয়ন্ত্রক, অনুসন্ধানকারী নয়।<br><strong>এনটিএমসি </strong>(ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার)।-এর রয়েছে উন্নত লফুল ইন্টারসেপশন ও ডাটা অ্যানালাইসিস টুল। তারা দেশব্যাপী ডিজিটাল সিগন্যাল ট্র্যাক করে গোয়েন্দা তথ্য তৈরি করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে পাঠাতে পারে।<br><strong>পুলিশ</strong> (সাইবার ইউনিট) একমাত্র বাহিনী যাদের তদন্ত, গ্রেফতার এবং আদালতে প্রমাণ উপস্থাপনের আইনি ক্ষমতা রয়েছে।</p>
<p>তাই, এই তিনটি সংস্থা যদি আলাদাভাবে কাজ করে, তবে সাইবার পেট্রোল সফল হবে না।<br><strong><span style="color: rgb(186, 55, 42);">এনটিএমসি নজরদারি করবে, বিটিআরসি প্রযুক্তিগত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করবে, কিন্তু পুলিশকেই তদন্ত ও প্রতিক্রিয়ার নেতৃত্ব দিতে হবে। সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া তথ্য স্ক্রিনে থাকবে, কিন্তু তা মাঠের নিরাপত্তায় রূপান্তরিত হবে না।</span></strong></p>
<p><strong>ডিজিটাল নেটওয়ার্কের বাস্তব প্রভাব</strong></p>
<p>আজকের বিশ্বে, অন্য দেশে বসে কিছু লোক মাত্র একটি ল্যাপটপ ও ইন্টারনেট সংযোগ দিয়ে এখানকার পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করতে পারে। “ভার্চুয়াল স্কোয়াড” নামের কিছু গ্রুপ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও এনক্রিপ্টেড চ্যানেল ব্যবহার করে বিভ্রান্তি ও ক্ষোভ ছড়িয়ে দেয়। তাদের অনলাইন বার্তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাস্তব মাঠে বিশৃঙ্খলায় পরিণত হতে পারে।</p>
<p><strong>কেন গুরুত্বপূর্ণ?</strong></p>
<p>তাই, সাইবার পেট্রোল শুধু একটি টুল নয়—এটা এক ধরনের ঢাল। এটা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আগাম সংকেত দেখতে দেয়, যাতে বিশৃঙ্খলা বাস্তবে ছড়িয়ে পড়ার আগেই তা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।</p>
<p><strong>এগুতে হবে সামনে </strong></p>
<p>এই চলমান অভিযান গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এটি মনে করিয়ে দেয়—সাইবার সিকিউরিটি কোনো এক সপ্তাহের অভিযান নয়; এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী অঙ্গীকার।</p>
<ul>
<li>আধুনিক এআই-চালিত বিশ্লেষণ টুলে বিনিয়োগ করতে হবে</li>
<li>সাইবার তদন্তের জন্য নতুন প্রজন্মকে প্রশিক্ষিত করতে হবে- এবং</li>
<li>সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, বিটিআরসি, এনটিএমসি ও পুলিশের মধ্যে যৌথ কমান্ড ও স্পষ্ট দায়িত্ববন্টন গড়ে তুলতে হবে</li>
</ul>
<p>আজকের দিনে রাস্তা ও ডিজিটাল বিশ্ব গভীরভাবে সংযুক্ত। একটিকে সুরক্ষিত করতে চাইলে, অন্যটিকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।</p>
<hr>
<p><span style="background-color: rgb(206, 212, 217);"><strong>লেখকঃ </strong>আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর। তিনি আইন, প্রযুক্তি ও ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে লেখালেখি করেন।</span></p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য এআই চ্যালেঞ্জ</title>
<link>https://digibanglatech.news/155952</link>
<guid>https://digibanglatech.news/155952</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p class=&quot;MsoNormal&quot; style=&quot;margin-bottom: 6.0pt; line-height: normal;&quot;&gt;&lt;/p&gt;
&lt;hr&gt;
&lt;p class=&quot;MsoNormal&quot; style=&quot;margin-bottom: 6.0pt; line-height: normal;&quot;&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202507/image_870x580_6884e55b3dea9.jpg" length="105050" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 26 Jul 2025 17:24:04 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>২০২৫ সালের ২৬ জুলাই, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) অপব্যবহার সম্পর্কিত সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জের বিষয়ে সতর্ক করেন। তিনি নির্বাচন কমিশনকে "প্রযুক্তি-নির্ভর হস্তক্ষেপের" বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকতে আহ্বান জানান এবং এর মোকাবেলায় উদ্ভাবনী সমাধান ও প্রস্তুতি বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেন।</p>
<p>ঝুঁকি কমাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI): সতর্কতা ও সম্ভাবনার দ্বৈত আহ্বানটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। এই পদক্ষেপের নিরিখে তাহলে এবার একটু চিন্তা করে দেখা যাক, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা কীভাবে দায়িত্বশীলভাবে ব্যবস্থাপনা করা যেতে পারে। </p>
<p><strong>ডিপফেইক ও ভুয়া তথ্য</strong><br>জেনারেটিভ  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এর অগ্রগতির ফলে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ভুলভাবে উপস্থাপন করে বিভ্রান্তিকর অডিও, ভিডিও ও ছবি তৈরির ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে বিরোধী নারী নেত্রীদের অবমাননাকর প্রেক্ষাপটে উপস্থাপন করা AI-নির্ভর ডিপফেইকের পূর্ব অভিজ্ঞতা আমাদের মনে করিয়ে দেয়—সাধারণ জনগণের জন্য গণমাধ্যম সচেতনতা বৃদ্ধির কর্মসূচি অপরিহার্য, যাতে তারা সত্য ও ভুয়া তথ্য পার্থক্য করতে পারে।</p>
<p><strong>লক্ষ্যভিত্তিক যোগাযোগ কৌশল</strong><br>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  ব্যবহার করে শ্রোতাদের বিভিন্ন শ্রেণিতে বিভাজন করে প্রাসঙ্গিক বার্তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। তবে এটি দায়িত্বশীল ও নৈতিকভাবে ব্যবহার করতে হবে, যাতে শহর ও গ্রামসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে সঠিক তথ্য পৌঁছায় এবং সচেতন ভোটার তৈরি হয়। মিডিয়া সাক্ষরতা বৃদ্ধির উদ্যোগ এই কাজে সহায়ক হতে পারে।</p>
<p><strong>নির্বাচনী তথ্য পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন</strong><br>ভুল তথ্য মোকাবিলায় প্রাথমিক পর্যায়ে সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া জরুরি। ভোটারদের ভোটকেন্দ্র, ভোটগ্রহণের তারিখ ও ফলাফল গণনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে AI-চ্যাটবট ও অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করতে পারে। এতে বিভ্রান্তি কমবে এবং ভোটারদের আস্থা ও অংশগ্রহণ বাড়বে।</p>
<p><strong>স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কৃত্রিম সত্তা শনাক্তকরণ</strong><br>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা   দিয়ে তৈরি নকল পরিচয় বা সোশ্যাল বট স্বচ্ছতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। তাই প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, নির্বাচন কমিশন ও সিভিল সোসাইটির মধ্যে অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক গড়ে তুলে দায়বদ্ধতা বাড়ানো এবং বিশ্বাসযোগ্য কণ্ঠস্বরকে জোরদার করা প্রয়োজন।</p>
<p><strong>সাইবার হুমকি মোকাবেলায় নির্বাচন অবকাঠামো সুরক্ষা</strong><br>যদিও বাংলাদেশে এখনো সীমিতভাবে অনলাইন বা ব্লকচেইন ভোটিং রয়েছে, তবুও সম্পূর্ণ নির্বাচন ব্যবস্থাকে সুরক্ষিত করা জরুরি। ভোটার তথ্য অ্যাপ ও অন্যান্য ডিজিটাল সেবা যাতে সাইবার আক্রমণে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা গড়ে তুলতে হবে।</p>
<p><strong>বাংলাদেশের গণতন্ত্রে সহনশীলতা ও স্থিতিশীলতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্ব দিতে হবে</strong></p>
<p><em>মিডিয়া সাক্ষরতা বাড়াতে হবে</em><br>সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত কনটেন্ট যাচাই করার দক্ষতা জনগণের মধ্যে বিস্তৃত করতে শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে হবে।</p>
<p><em>রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করতে হবে</em><br>রাজনৈতিক বিভাজন ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা উৎসাহিত করা দরকার, যাতে সচেতন এবং সহনশীল ভোটার সমাজ গড়ে ওঠে।</p>
<p><em>অন্তর্ভুক্তিমূলক আইন প্রণয়ন</em><br>সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্টের মতো আইন যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং একইসাথে দায়বদ্ধতাও বজায় রাখে, সে লক্ষ্যেই আইন সংশোধন প্রয়োজন।</p>
<p><strong>সম্ভাব্য পরিণতি</strong><br><strong>গণআস্থা নষ্ট হওয়া: </strong>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  নির্ভর বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রচারের ফলে গণমাধ্যমের উপর জনগণের আস্থা নষ্ট হতে পারে।</p>
<p><strong>ভোটার আচরণ প্রভাবিত হওয়া:</strong> ভুল তথ্য ভোটারদের ভুল সিদ্ধান্ত নিতে বা পুরোপুরি ভোটদান থেকে বিরত রাখতে পারে।</p>
<p><strong>গণতান্ত্রিক বিতর্ক দমন:</strong> কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর কুৎসা রটনার কারণে বিরোধী কণ্ঠস্বর দমন বা ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হতে পারে।</p>
<p><strong>কার্যক্রমে বিভ্রান্তি:</strong> ভুয়া বট ও সাইবার হামলা ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে।</p>
<p><strong>ব্যাঘাত মোকাবিলায় কৌশল</strong></p>
<p>মিডিয়া সচেতনতা<br>•    ভুয়া ভিডিও, কৃত্রিম কণ্ঠ ও চিত্র শনাক্ত করতে সাধারণ জনগণের মধ্যে প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে।<br>•    সংবাদমাধ্যমকে  কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  উৎপাদিত সন্দেহভাজন কনটেন্ট যাচাইয়ের জন্য উৎসাহ দিতে হবে।</p>
<p><strong>স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ</strong><br>•    সোশ্যাল মিডিয়াতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  উৎপাদিত কনটেন্ট লেবেলিং, উৎস শনাক্তকরণ ও শনাক্তকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।</p>
<p>•    আইনি পদক্ষেপের মাধ্যমে কৃত্রিম বিভ্রান্তিকর প্রচার বন্ধে আইন প্রণয়ন করতে হবে।</p>
<p><strong>প্রযুক্তিগত সহনশীলতা</strong><br>•    নির্বাচন সংক্রান্ত অ্যাপ ও নেটওয়ার্কের সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করা।<br>•    বায়োমেট্রিক রেজিস্ট্রেশন বা ই-ভোটিং প্রযুক্তি ব্যবহারের সময় ডেটা সুরক্ষা ও নিরীক্ষার ব্যবস্থা থাকতে হবে।</p>
<p><strong>সিভিল সোসাইটি ও আন্তঃখাত সহযোগিতা</strong><br>•    নির্বাচন কমিশন, প্রযুক্তি সংস্থা, গণমাধ্যম ও সিভিল সোসাইটির মধ্যে সমন্বয় গড়ে তোলা।<br>•    স্বাধীন পর্যবেক্ষক দল গঠন করে রিয়েল-টাইমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  ভিত্তিক ভুয়া তথ্য শনাক্ত ও প্রতিরোধ করতে হবে।</p>
<p><br>বাংলাদেশ বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে অবস্থান করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  যেমন একটি অভূতপূর্ব সম্ভাবনা, তেমনি এটি আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে বিভ্রান্তিকর ডিপফেইক, টার্গেটেড মিথ্যা প্রচার, ভুল ভোট তথ্য ও কৃত্রিম বট ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার যেমন সতর্ক করেছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা  ভিত্তিক হুমকি কখনো কখনো অস্ত্র থেকেও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে।</p>
<p>তাই শিক্ষা, আইন, গণমাধ্যম, সাইবার নিরাপত্তা ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত প্রয়াস ছাড়া বাংলাদেশের নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং জনগণের মতপ্রকাশের বৈধতা মারাত্মকভাবে হুমকির সম্মুখীন হতে পারে।</p>
<hr>
<p><strong>লেখকঃ</strong> ডিজিটাল গণতন্ত্র উন্নয়নে বিশেষজ্ঞ ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বাংলাদেশ এনজিওস নেটওয়ার্ক ফর রেডিও অ্যান্ড কমিউনিকেশন (বিএনএনআরসি)। </p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বিশ্বজুড়ে স্মার্ট ভবনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে</title>
<link>https://digibanglatech.news/155689</link>
<guid>https://digibanglatech.news/155689</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202507/image_870x580_6878adae25877.jpg" length="88436" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 17 Jul 2025 13:01:01 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>শহর যত বড় হচ্ছে, ভবন ততো উঁচু হচ্ছে, হচ্ছে জটিল। তবে এই জটিলতা শুধু কাঠামোগত নয়। ছড়িয়ে পড়ছে বিদ্যুৎ সংকট, পানির অপচয়, বায়ু দূষণ ও তাপমাত্রার বৃদ্ধির মত পরিবেশগত সমস্যা ও। একদিকে যেমন ভূগর্ভস্থ পানি স্তর নামছে, তেমনি বৈদ্যুতিক চাহিদা ও বাড়ছে বহুগুনে। ভবনের ২৪ ঘন্টা জীবনচক্রে বিদ্যুৎ পানি ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচ দিনে দিনে অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এই অবস্থায় ভবনের ভূমিকা আর শুধু আশ্রয়স্থ হবে মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই এখন একটি ভবনকেই হতে হবে স্মার্ট এবং পরিবেশবান্ধব। যা আধুনিক প্রযুক্তি এবং পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রেখে শক্তি ও সম্পদের অপচয় কমিয়ে দেবে। </p>
<p>বর্তমানে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে স্মার্ট ভবনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এই ভবন গুলো বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে, বৃষ্টির পানি ধরে রাখে, স্বয়ংক্রিয়ভাবে শীততাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং ব্যবহারকারীদের প্রয়োজন বুঝে নিজেকে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়। তবে এই প্রযুক্তিগত সুবিধা পেছনে স্থাপত্যের সূক্ষ্ম পরিকল্পনা আর পরিবেশ সচেতন চিন্তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। </p>
<p>স্মার্ট ভবনের পথ শুরু হয় কাগজে কলমে, স্থপতির ড্রয়িং বোর্ডে। ভবনের অবস্থান থেকে শুরু করে জানালার দিক, ছাদে রোধ করার মাত্রা, এমনকি লিফট কোর কোথায় বসবে সব কিছুই নির্ধারণ করে ভবনের ভবিষ্যতের দক্ষতা। যেমন সূর্যের গতিপথ বুঝে যদি ভবনের অরিয়েন্টেশন পরিকল্পনা করা যায়, তাহলে গরম কম হবে। এসি ব্যবহারের প্রয়োজন হ্রাস পাবে। ভেন্টিলেশন ঠিকঠাক থাকলে আলো-বাতাস ব্যবস্থার উপরে চাপ কমবে। এমনকি ছাদের ছায়া দেওয়া অংশে সৌর প্যানেল বসানো জায়গা রেখেই নকশা করলে পরবর্তী খরচ ও পরিশ্রম অনেকটাই বাঁচে।  কিন্তু সব ক্ষেত্রে অরিয়েন্টেশন সঠিক কিংবা আশানুরূপ না ও হতে পারে। সে ক্ষেত্রে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। </p>
<p>আধুনিক নির্মাণ সামগ্রীর মধ্যে কাচের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডাবল গ্লেজড কাচ, যেখানে দুই স্তরের কাছের মাঝে ইনসুলেটিভ গ্যাস বা ভ্যাকিউম ব্যবহার করা হয়, যা বাইরের তাপ এবং শব্দ ঘরে প্রবেশ করতে বাধা দেয়। এতে ঘর ঠান্ডা থাকে এবং এসির ব্যবহারের প্রয়োজন কমে যায়। এই কাচ সূর্যের আলো প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে এবং তা ছায়াময় ও আরামদায়ক আলোর পরিবেশ নিশ্চিত করে। ভবনের অরিয়েন্টেশন যাই হোক না কেন, ডাবল গ্লেজড কাচ ব্যবহারের ফলে সূর্য তাপের নেতিবাচক প্রভাব কমানো যায় এবং দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার করা সম্ভব হয়। এতে কৃত্রিম আলো ব্যবহারের প্রয়োজন হ্রাস পায়। ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ও নিশ্চিন্ত হয়। এখন ভবনে থেকে সংগ্রহ করা বৃষ্টির পানি পাইপ ও ফিল্টার ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ ট্যাংকে জমা হয়। এই পানির ব্যবহার হয় টয়লেট বাগান কিংবা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতায়। ভবনের ডিজাইনে যদি ছাদের স্লোপ ও জল ধারণ ব্যবস্থা ঠিকভাবে পরিকল্পনা করা হয় তাহলে পানি অপচয় করা ছাড়াই তা সংরক্ষণযোগ্য হয়। এছাড়াও ছাদের ছায়ামুক্ত এলাকায় সৌর প্যানেল স্থাপন করলে ভবন দিনের আলোতেই নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে সাধারণ লাইটিং, এলিভেটর ও সিসি টিভি চালানো হয়।</p>
<p>স্মার্ট এলিভেটরের ব্যবহৃত লিজেনারিটিভ ড্রাইভ সিস্টেম চলার সময় বিশিষ্ট অতিরিক্ত শক্তিকে আবার ভবনের সিস্টেমে ফিরিয়ে দেয়। আবার এলিভেটরে ডেস্টিনেশন কন্ট্রোল সিস্টেম ব্যবহারকারী লিফটে ওঠার আগেই নির্দিষ্ট ফ্লোর নাম্বার প্রবেশ করান। এবং সিস্টেম সক্রিয়ভাবে তাকে একই গন্তব্য বা কাছাকাছি গন্তব্যে যাওয়া অন্য যাত্রীদের সঙ্গে গ্রুপ করে দেয়। এতে লিস্টের বারবার ওঠা নামা ও থামা কমে হয়।  ভবনের নকশায় যদি এলিভেটরের কোর এমন ভাবে রাখা যায় যে তা প্রাকৃতিক আলো পায় তাহলে দিনের বেলায় করিডোর ও ওয়েটিং এরিয়ায় আলোর প্রয়োজন পড়ে না। করিডোরে মোশন সেন্সর যুক্ত লাইট অপচয় রোধ করে। </p>
<p>একটি ভবন তখনই স্মার্ট হয় যখন সেটি মানুষ প্রকৃতি ও প্রযুক্তির মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করে। স্মার্ট ভবন শুধুমাত্র এখন ভবিষ্যৎ নয় এটি যুগের চাহিদা ঢাকায় আমরা বেশ কিছু স্মার্ট ভবন স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিচালিত হতে দেখছি। গুলশান এভিনিউতে সিম্পল ট্রি জি এস আর একটি আধুনিক ও ভবিষ্যৎমুখী পরিবেশ বান্ধব ডিজাইন। স্মার্ট ভবন মানে শুধু মোবাইল অ্যাপে চলা লাইট নয়। বরং এটি একটি দায়িত্বশীল জীবনযাপন ও সচেতন স্থাপত্যের বহিঃপ্রকাশ।</p>
<hr>
<p>লেখকঃ স্থপতি, ভলিউম জিরো লিমিটেড </p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিকার নারী</title>
<link>https://digibanglatech.news/155487</link>
<guid>https://digibanglatech.news/155487</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202507/image_870x580_687007f8d1b7a.jpg" length="69148" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 11 Jul 2025 00:35:57 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বর্তমান সময়ে নারীরা সবচেয়ে বেশি অনলাইনের মাধ্যমে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। নারীর প্রতি প্রতিহিংসা, নারীর প্রতি অসংবেদনশীলতা কিংবা নারীর দেয়া কোন মতামত-অভিমত পছন্দ না হলেই নারীর ব্যক্তি জীবনে আঘাত বাড়ছে। তার ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে প্রকাশ করার মাধ্যমে মানহানি করা কিংবা ডিপফেক ও এআই এর মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত তথ্য বিকৃত করে তাকে হয়রানি করা হয়। ভয় দেখানো কিংবা তার ক্ষতির হুমকি দেয়াটাও বর্তমানে যেন একটি ট্রেন্ড। নারীর আওয়াজকে দমিয়ে রাখতে হবে এমন মানসিকতা ও স্টকিংয়ের মাধ্যমে নারীর চলাফেরাকে কড়া নজরদারিতে রাখার ঘটনা প্রতিনিয়তই ঘটে চলছে। যার ফলে বর্তমানে ক্লিকবেইট সংবাদ শিরোনামে সাধারণ নারীদের ছবিও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। <o:p></o:p></p>
<p>একটা সময় যখন ধরেই নেয়া হত যে, নারী কেবল তার পরিচিতজনদের দ্বারাই এধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে আর এই ন্যারেটিভ নেই। অনলাইনে একজন নারী যে কারও দ্বারাই আক্রান্ত হতে পারেন। ২০২৪ সালে প্রকাশিত ইউএনউইমেনের একটি রিপোর্টে দেখা গেছে ৬৭% নারী অনলাইন সহিংসতার শিকার হয়েছেন। প্রায় ৭৩ শতাংশ নারী সাংবাদিক অনলাইনে সহিংসতার শিকার হয়েছেন বলে জানিয়েছেন।</p>
<p>জার্মান ভিত্তিক উন্নয়ন ও ন্যায় বিচার সংক্রান্ত সহযোগিতা সংস্থা এনইটিজেডের ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সম্পর্কিত একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। রিপোর্টে জানা যায়, নির্যাতনের শিকার নারীদের শতকরা ৭৮ ভাগেরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে ৭৮.৪ শতাংশ ফেসবুকে , ২৮ শতাংশ হোয়াটসআ্যাপ ও ইমোর মতো মেসেজিং অ্যাপে সংঘটিত হয়েছে।<o:p></o:p></p>
<p>ইন্টারনেটের প্রসার আমাদের জীবনকে সহজ করেছে। একই সঙ্গে ইন্টারনেটের অপব্যবহার নতুন এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। ব্যক্তিগত তথ্যচুরি বাড়ছে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের যেসব দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে সেখানে এই প্রবণতা প্রকট আকার ধারণ করেছে। ফেসবুক, মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে নারীসহ সাধারণ ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি ক্রমশ বাড়ছে। <o:p></o:p></p>
<p>তথ্যচুরির পদ্ধতি দিন দিন আরও উন্নত হচ্ছে। ফিশিংয়ের প্রবণতা বাড়ছে। হ্যাকাররা এমন ওয়েবসাইট বা ইমেইল তৈরি করে যা দেখতে ঠিক মনে হয়। ব্যবহারকারী যখন সেখানে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য হিসেবে ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড প্রবেশ করানোর পরে তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যায়। এছাড়াও ম্যালওয়্যার আক্রমণ বাড়ছে।</p>
<p>ক্ষতিকারক সফটওয়্যার যা আপনার ডিভাইসে ইনস্টল করলে তা ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে হ্যাকারদের কাছে পাঠায়। এটি ইমেইল অ্যাটাচমেন্ট, সন্দেহজনক লিঙ্ক বা অনিরাপদ ওয়েবসাইট থেকে ছড়াতে পারে। এখন বিশেষভাবে ইন্টারনেটভিত্তিক সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং হ্যাকিংয়ের বড় একটা টুল। হ্যাকাররা মানুষের দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তথ্য আদায় করে। ফোন করে বিকাশ বা ব্যাংক কর্মকর্তা সেজে বা পরিচিতজনের ছদ্মবেশে ব্যক্তিগত তথ্য চাইতে পারে। অনেকেই এমন ফাঁদে প্রতারিত হচ্ছেন।<o:p></o:p></p>
<p>অনলাইনে নারী ব্যবহারকারীরা তথ্যচুরির ক্ষেত্রে আরও বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। অনেক সময় চুরি করা ব্যক্তিগত তথ্য যেমন ছবি, ভিডিও বা চ্যাটের স্ক্রিনশট ব্যবহার করে তাদের ব্ল্যাকমেইল বা হয়রানি করা হয়। এর ফলে ভুক্তভোগীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হন। সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার আশঙ্কায় অনেকে আইনি সহায়তা নিতেও কুণ্ঠাবোধ করেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নারীর ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অপপ্রচার চালানোও একটি সাধারণ ঘটনা।<o:p></o:p></p>
<p>বাংলাদেশে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ বেশ কিছু আইন ও বিধিমালা রয়েছে, যা অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্যচুরি এবং সাইবার অপরাধ দমনে সহায়তা করে। তবে এই আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। হ্যাকাররা প্রতিনিয়ত নতুন কৌশল অবলম্বন করছে, যার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জন্য কাজ করা কঠিন। অনেক সময় হ্যাকাররা দেশের বাইরে থেকে কাজ করে, যা তাদের সনাক্ত করা এবং বিচারের আওতায় আনাকে জটিল করে তোলে। ভুক্তভোগীরা অনেক সময় তথ্যচুরির পর্যাপ্ত প্রমাণ সংগ্রহ করতে পারেন না, যা মামলা দায়ের বা তদন্তে বাধা সৃষ্টি করে। সাধারণ ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের মধ্যে ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং অনলাইন ঝুঁকির বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে।<o:p></o:p></p>
<p>সোশ্যাল হ্যান্ডেলে অ্যাক্টিভ হলেও অনেক নারীই <span data-huuid="16092088941393213445">সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং সম্পর্কে অবগত নন। ফলে সহতেই নারীর সরল মনস্তাত্ত্বিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের থেকে সংবেদনশীল তথ্য হাতিয়ে নেয় হ্যাকাররা। </span><span data-huuid="16092088941393213676">সাধারণত ব্যবহারকারীর বিশ্বাস অর্জন করার জন্য কখনো বন্ধু, কখনওবা প্রেমিকের ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং তাদের বিভিন্নভাবে প্ররোচিত করে তথ্য প্রকাশ করতে বাধ্য করে। সচারচর </span><span data-huuid="16092088941393213907">এই ধরনের অপরাধের বেশি শিকার হন নারীরা। অনেক সময় তারা লোকলজ্জার ভয়ে ঘটনা প্রকাশ করেন না। এতে ঘুনপোকার মতো পুরো সমাজকেই কুটিকুটি করছে তারা।<span jscontroller="JHnpme" data-cid="1af9dfcd-3b82-4501-bc1e-ddbb80e4b41d" data-ih="" jsaction="rcuQ6b:npT2md"> তাই <span>এই ধরনের অপরাধের শিকার হলে, একা না থেকে পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা বিশ্বাসযোগ্য কারো সাথে শেয়ার করা আবশ্যক। </span></span></span></p>
<hr>
<p><o:p>লেখক:</o:p> মানবাধিকার কর্মী ও গবেষক</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল ভবিষ্যতের মেরুদণ্ড স্থানীয় আইটি প্রতিভা</title>
<link>https://digibanglatech.news/155147</link>
<guid>https://digibanglatech.news/155147</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202506/image_870x580_686275fe618a3.jpg" length="107282" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 30 Jun 2025 17:03:34 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বড় ধরনের ডিজিটাল রূপান্তরের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। এজন্য নাগরিক পরিচয় ব্যবস্থাপনাকে নতুন করে সাজাতে চলছে প্রস্তুতি। অনন্য জাতীয় পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং ব্যাংকিং ই-কেওয়াইসির মতো সংবেদনশীল অ্যাপ্লিকেশন সবকিছু অন্তর্ভুক্ত এই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় পদক্ষেপে। স্বাভাবিকভাবেই আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি কেড়েছে এই আয়োজন। </p>
<p>এই যাত্রায় আমরা যখন এগিয়ে চলেছি, তখন আমাদের নিজস্ব স্থানীয় আইটি প্রতিভার অতুলনীয় সুবিধাগুলোকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সেগুলোকে সমর্থন করা অত্যন্ত জরুরি।  বিদেশি সংস্থাগুলো নিঃসন্দেহে মূল্যবান দক্ষতা নিয়ে আসে, তবে একটি সম্পূর্ণ ডিজিটাল নাগরিক পরিচয় ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদী সাফল্য, নিরাপত্তা এবং প্রকৃত প্রাসঙ্গিকতা বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোর ওপর নির্ভরশীল। আমাদের স্থানীয় আইটি পেশাদারদের বাংলাদেশের অনন্য আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি, সাংস্কৃতিক সূক্ষ্মতা এবং নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে গভীর জ্ঞান রয়েছে—যে জ্ঞান বাইরের সংস্থাগুলোর পক্ষে অর্জন করা প্রায় অসম্ভব। এই গভীর প্রাসঙ্গিক জ্ঞান সরাসরি এমন সমাধানে রূপান্তরিত হয় যা কেবল কার্যকরী নয়, বরং বাংলাদেশের জনগণের জন্য সত্যিকার অর্থেই অনুকূল।</p>
<p>স্থানীয়ভাবে তৈরি নাগরিক পরিচয় (আইডি) ব্যবস্থাপনা ইকোসিস্টেম আমাদের আর্থিক ব্যবস্থার ওপর যে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে তা আজ সহজেই অনুমেয়। এর মাধ্যমে ঋণ অনুমোদনে দক্ষতা থেকে শুরু করে কর্মক্ষম কার্যকারিতার উল্লেখযোগ্য উন্নতি এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, শক্তিশালী জালিয়াতি সনাক্তকরণের মতো সুবিধা নানা সুবিধা পান নাগরিকরা।</p>
<p>এবার তাহলে এমন একটি ব্যবস্থার কথা ভাবুন, যেখানে অনন্য নকশার মাধ্যমে স্থানীয় আর্থিক পদ্ধতির জটিলতাগুলো নির্বিঘ্ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় প্রেক্ষাপটে সাধারণ জালিয়াতির ধরণগুলো স্বজ্ঞাতভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এতে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা আমাদের বৈচিত্র্যময় জনসংখ্যার ডিজিটাল সাক্ষরতার স্তরের সাথে মানানসই। তাদের প্রয়োজনের সঙ্গে খুঁটিনাটি বোঝা-পড়া এবং প্রতিক্রিয়াশীল উন্নয়ন কেবল স্থানীয় প্রতিভাধরদের মাধ্যমেই ধারাবাহিকভাবে সরবরাহ করা সম্ভব। কেননা, আপন লোকরাই সবচেয়ে ভালো বোঝে আমাদের প্রয়োজনগুলো!</p>
<p>প্রাসঙ্গিকতা বোঝার বাইরেও, স্থানীয় আইটি সমাধানগুলোর খরচ ও কার্যকারিতা অনস্বীকার্য। বিদেশি সংস্থাগুলোর সাথে কাজ করতে প্রায়শই উচ্চ মূল্য জড়িত থাকে, যার মধ্যে প্রবাসীদের বেতন, আন্তর্জাতিক ভ্রমণ এবং জটিল চুক্তিগত চুক্তি অন্তর্ভুক্ত। এর বিপরীতে, আমাদের অভ্যন্তরীণ প্রতিভা ব্যবহার করা সরাসরি আমাদের নিজস্ব অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করা, কর্মসংস্থান তৈরি করা এবং একটি টেকসই, আত্মনির্ভরশীল আইটি শিল্প গড়ে তোলা। এই পদ্ধতি কেবল প্রাথমিক বাস্তবায়ন খরচই কমায় না, বরং দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ ও আপগ্রেড খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করে। কারণ, এক্ষেত্রে প্রয়োজনী সহায়তা ও উন্নয়ন দেশের মধ্যেই সহজে পাওয়া যায়। আমাদের নিজেদের অর্থ আমাদের দেশেই থাকছে!</p>
<p>এছাড়াও, একটি জাতীয় পরিচয় ব্যবস্থার মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর জন্য দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব একটি প্রধান উদ্বেগ। যখন বিদেশি সংস্থাগুলো কোনো সিস্টেম তৈরি করে, তখন আমরা তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি এবং চলমান সহায়তার ওপর নির্ভরশীলতার ঝুঁকিতে থাকি। এটি ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তন, কোম্পানির কৌশলগত পরিবর্তন বা বর্ধিত পরিষেবা ফি’র কারণে আমাদেরকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলতে পারে। তবে, একটি স্থানীয়ভাবে নির্মিত ব্যবস্থা বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির জাতীয় মালিকানা নিশ্চিত করে, যা ক্রমাগত উদ্ভাবন, ক্রমবর্ধমান চাহিদার সাথে অভিযোজন এবং আমাদের জাতির অগ্রগতির প্রতি আগ্রহী ব্যক্তিদের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করে। আমরা কারো ওপর নির্ভরশীল নই, আমরা নিজেরাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ছি!</p>
<p>বাংলাদেশ একটি সমৃদ্ধ আইটি খাতের গর্ব করে, যেখানে দক্ষ পেশাদাররা ইতিমধ্যে বিশ্বব্যাপী ডিজিটাল অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছেন। আমাদের বিশেষজ্ঞরা ১০টিরও বেশি দেশের জন্য আইডি সমাধান তৈরি করেছেন, এবং স্থানীয় কোম্পানিগুলো বর্তমানে ১৫০ মিলিয়নেরও বেশি অনন্য ক্লায়েন্টের জন্য ব্যাংকিং ক্লায়েন্ট আইডি পরিচালনা করে। আমাদের গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় আইডি সিস্টেমের উন্নয়নে এই প্রমাণিত বাংলাদেশি কোম্পানিগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে, আমরা কেবল চুক্তি করি না; আমরা জাতীয় সক্ষমতা বৃদ্ধিতে, প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্বকে উৎসাহিত করতে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল ভবিষ্যৎকে আত্মবিশ্বাসের সাথে চালিত করবে এমন বিশেষজ্ঞদের একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে কৌশলগত বিনিয়োগ করছি। আমাদের নিজেদের দক্ষতা বিশ্বজুড়ে প্রমাণিত!</p>
<p>তাইতো, আমাদের নাগরিক পরিচয় ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন কেবল একটি প্রযুক্তিগত আপগ্রেড নয়; এটি একটি জাতি গঠনের অনুশীলন। আসুন, আমরা এমন পথ বেছে নিই যা আমাদের নিজস্ব সক্ষমতাকে শক্তিশালী করে, আমাদের নিজস্ব জনগণকে ক্ষমতা দেয় এবং বাংলাদেশের জন্য একটি সত্যিকারের সুরক্ষিত, দক্ষ এবং স্থানীয় মালিকানাধীন ডিজিটাল ভবিষ্যতের ভিত্তি স্থাপন করে।</p>
<hr>
<p><strong>লেখক:</strong> প্রেসিডেন্ট, ডেটাসফট সিস্টেম বাংলাদেশ লিমিটেড</p>
<hr>
<p></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>কোড ছাড়াই প্রযুক্তি আপনাকে চেনে</title>
<link>https://digibanglatech.news/154986</link>
<guid>https://digibanglatech.news/154986</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;/p&gt;
&lt;div class=&quot;d-flex align-items-center post-details-meta mb-4&quot;&gt;
&lt;div class=&quot;item-meta item-meta-author&quot;&gt;&lt;/div&gt;
&lt;/div&gt;
&lt;p&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202506/image_870x580_685b58d76aedf.jpg" length="125111" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 25 Jun 2025 08:03:22 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p><span>সত্তুর্ধ্ব ‘আনোয়ার’।  চশমা ছাড়া খালি চোখে মোবাইলের স্ক্রিনের অক্ষরও বোঝেন না। কিন্তু এক রাতে, হঠাৎ ভোর ৩টার সময় ব্যাংকের মতো কোথাও থেকে এসএমএস আসে। ছোট্ট ছেলেকে ডেকে বলেন, “বাবা, দেখি তো—এটা আবার কী?” ছেলে তখন ঘুমিয়ে। বুড়ো মানুষ আর কাউকে জাগান না। শুধু ফোনে আলোটা একটু কমিয়ে রাখেন। সকালবেলা উঠে দেখেন, সব শেষ।</span><br class="html-br"><span>নগদ, বিকাশ—সব একাউন্ট খালি।</span><br class="html-br"><br class="html-br"><span>কোড? তিনি কাউকে দেননি। তিনি কাউকে বলেনওনি। কিন্তু টাকা গিয়েছে। কে নিলো? কিভাবে?</span><br class="html-br"><br class="html-br"><strong>তদন্ত</strong><br class="html-br"><span>থানায় জিডি করলেন। পুলিশ বললো, “আপনার মোবাইল দিয়ে শুরু করতে হবে।”</span><br class="html-br"><span>তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রথমেই করলেন মোবাইল ফরেনসিক।</span><br class="html-br"><span>তিনি দেখলেন, ফোনে “Smart Cleaner” নামে এক অ্যাপ ছিল, যেটা নাকি ফোন পরিষ্কার করে।</span><br class="html-br"><span>আরও এক অ্যাপ—“Fast Video Downloader”—যেটা দিয়ে ইউটিউবের ভিডিও ডাউনলোড করা যেত। কিন্তু এগুলো ফোনের Accessibility Permission নিয়েছে, মানে ব্যবহারকারীর হয়ে স্ক্রিন পড়তে, লিখতে, এমনকি কোড দেখতে পারে।</span><br class="html-br"><br class="html-br"><span>এরপর তথ্য চাওয়া হলো নগদ ও বিকাশ থেকে—তারা জানালো, কোড এসেছিল, লগ-ইন হয়েছিল অন্য ডিভাইস থেকে, আর পুরো টাকা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এক এজেন্টের মাধ্যমে।</span><br class="html-br"><br class="html-br"><strong>স্ক্রিনটা যার, সে তো তুমি নও!</strong><br class="html-br"><span>এই গল্পটা শুধু আনোয়ার সাহেবের না।</span><br class="html-br"><span>এই ঘটনা ঘটেছে সালমার ক্ষেত্রেও—একদিন একটা বিজ্ঞাপনে ক্লিক করেছিলেন, “আপনার ছবি দিয়ে রঙ বদলান!”</span><br class="html-br"><span>একটা এ্যাপ নামলো, Access চাইলো। আর তারপর থেকেই হোয়াটসঅ্যাপে কোড আসতে লাগলো, অজানা Login alert আসতে লাগলো।</span><br class="html-br"><span>হাসান নামে এক তরুণ তার প্রেমিকার ছবি ইডিট করতে গিয়ে এমনই একটা ‘Mirror App’ নামিয়েছিল—শুধু স্ক্রিন না, তার প্রেমও কেউ মিরর করে নিয়েছিল!</span><br class="html-br"><br class="html-br"><strong>শিক্ষণীয়</strong><br class="html-br"><span>অজানা অ্যাপে ক্লিক করবেন না।</span><br class="html-br"><span>কোন অ্যাপ কী permission নিচ্ছে তা খেয়াল করুন।</span><br class="html-br"><span>OTP/কোড আসা মানেই বিপদ নয়, কিন্তু কেউ না জানলে সেটা ব্যবহারও করতে পারবে না—তবুও আপনার ফোনে যদি “screen reader” থাকে, তাহলে সে জানে।</span><br class="html-br"><br class="html-br"><span>প্রতিটি ফোনই একেকটা দরজা। দরজাটা আপনি বন্ধ রাখছেন, কিন্তু জানালাটা যদি কেউ খুলে রাখে—তাহলে চুরি তো হবেই।</span><br class="html-br"><br class="html-br"><span>ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে প্রযুক্তিকে জানুন, না হলে প্রযুক্তিই আপনাকে চেনে।</span></p>
<hr>
<div class="post-text mt-4">
<p class="MsoNormal"><strong>লেখক:</strong> নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ ও<span> </span><span>সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল</span></p>
<hr>
<p class="MsoNormal"></p>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>থাক ভিক্ষে তোর কুকুর সামলা</title>
<link>https://digibanglatech.news/154947</link>
<guid>https://digibanglatech.news/154947</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202506/image_870x580_685998d3b851b.jpg" length="113483" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 24 Jun 2025 00:11:53 +0600</pubDate>
<dc:creator>জাহাঙ্গীর আলম শোভন</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p><span style="text-decoration: underline;"><span style="font-size: 14.0pt; font-family: Nikosh;"><span style="color: rgb(10, 137, 17); text-decoration: underline;"><strong>জাহাঙ্গীর আলম শোভন</strong></span></span></span></p>
<p><span>বরাবরের মতো এবারও বাজেট নিয়ে লিখতে গিয়ে আমার একটা গল্প মনে পড়ে গিয়েছে। আমি জানি না বাজেট নিয়ে যখন কাগজের জন্য গত কয়েকবছর ধরে লিখি তখন কোনো না কোনো মজার গল্প আমার মনে পড়ে। এবারের সেই চিরচেনা গল্প। গল্পটা এবার বরং আমি না লিখি । এ-আই তথা চ্যাট জিপিটিকে বললাম ‘‘থাক ভিক্ষে তোর কুকুর সামলা’’ এই গল্পটা সংক্ষেপে লিখে দাও। তারপর সে লিখেছে-</span><br><br><span>‘‘একজন গরিব ভিক্ষুক একদিন এক ধনী বাড়ির সামনে গিয়ে ভিক্ষা চাইলো। দরজা খুলে দিল এক লোক, হাতে কুকুরের চেইন। ভিক্ষুক বললো, “বাবা, একটু ভিক্ষে দিন।” ধনী লোকের কুকুরটি তখন তার দিকে তেড়ে আসে। ভিক্ষুক ভয়ে পেছনে সরে দাঁড়ায়।</span><br><span>ধনী ব্যক্তি হেসে বলে, “কুকুরটা ভয় পাস? ভিক্ষা চাস আবার!”</span><br><span>ভিক্ষুক চোখ মেলে বলে, “থাক ভিক্ষে, তোর কুকুর সামলা।”</span></p>
<p><span>তার মানে, একজন মানুষ যখন সম্মানের বদলে অপমান ও নিরাপত্তাহীনতা পায়, তখন সে সামান্য দানও গ্রহণ করতে চায় না। সম্মানবোধই তার বড় সম্পদ।</span><br><br><strong>ই-কমার্স ও আইটিইএস</strong><br><span>২০১৬ সাল থেকে ই-কমার্সকে আইটি/আইটিইএস এর বাইরে রাখা হয়েছে। এদিকে আবার ২০২৬ সাল পর্যন্ত আইটিআইটিইসে কিছু সুবিধা রাখা হয়েছে। ২০১৮ সালে ই-কমার্স খাতের লোকেরা ভেবেছেন তারা ই-কমার্সকে আলাদা খাতে রেখে আরো বেশী সুবিধা আদায় করবেন সেজন্য তখন তারা এটা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু করোনাকালীন ই-কমার্স প্রবৃদ্ধি ও এ খাতে ব্যাপক প্রতারণার জোয়ার উঠায় তাদের সে কন্ঠ স্তিমিত হয়ে যায়। গত ক’বছর ধরে তারা কেবল ই-কমার্সকে আগের জায়গায় মানে আইটি-আইটিইস এর অন্তভূক্ত দেখতে চায়। সারা দুনিয়াতেও তাই আছে।</span><br><br><span>তাদের কথা হলো- বিদ্যমান অর্থ আইন, ২০১৬ (৫৪ - গ) এর মাধ্যমে অনুচ্ছেদ ৩৩ এর সংশোধন করা হয় যার মাধ্যমে 'ই-কমার্স ও অনলাইন শপিং' কে  ITES  থেকে বহির্ভুত করা হয়।  এর ফলে 'ই-কমার্স ও অনলাইন শপিং'  এর আয় করযোগ্য হিসেবে গণ্য হচ্ছে। কিন্তু ই-কমার্স যেহেতু ইন্টারনেট নির্ভর বা প্রযুক্তি ভিত্তিক ডিজিটাল সেবা হিসেবে  'ই-কমার্স ও অনলাইন শপিং' কে  ITES -এর  অর্ন্তভূক্ত করার দাবী রয়েছে।  </span><br><br><span>ঠিক একই কারণে অন্যান্য তথ্য প্রযুক্তি ব্যবসার মতো অফিস ভাড়ার ক্ষেত্রে মুসক অব্যাহতি সম্পর্কিত কোনো সুস্পষ্ট এস আর ও নেই। তারা "অনলাইন পণ্য বিক্রয়" কোম্পানি হিসাবে ভ্যাট নিবন্ধন করা হলে অফিস/বাড়ি ভাডার উপর কোন ভ্যাট প্রযোজ্য না হওয়ার বিধান চায়। </span><br><span> </span><br><strong>১৫% ভ্যাটের যাত্রা</strong><br><span>ইতোমধ্যে ফেসবুক ও অনলাইন বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে দ্বৈত কর পরিহার করার খবর পাওয়া গিয়েছে। আর নতুন খবর হলো ই-কমার্সে ১৫% ভ্যাট প্রস্তাব করা হয়েছে। এখন সবাই আওয়াজ তুলেছেন। এটা যেন ৫% নামিয়ে আনা হয়। এখন এটাকে রহিত করাই চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। </span><br><span>এসআরও নং–২৪০–আইন/ ২০২১ / ১৬৩–মূসক। তারিখ–১৯ জুন, ২০২১, সেবার কোড এস ০২৮.০০। ই–কমার্স ভিত্তিক ডেলিভারি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের ডেলিভারি চার্জের ন্যূনতম ভ্যাট ১৫ শতাংশ। এটাকেও ৫% শতাংশ করার প্রস্তাবও প্রতিবছর এনবিআরও সংশ্লিষ্ঠদের কাছে দেয়া হয়। </span><br><span>এখন যা ঘটবে আগের মতো আর ITES এ অন্তভূক্তির দাবী পেছনে চলে যাবে। ১৫% এর দাবী সামনে আসবে। এবং এই ১৫% এর দাবী সরকার মেনেও হয়তো নেবে। এনবিআর বলবে দেখেন আপনাদের কথা রেখেছি। আর ব্যবসায়ী নেতারা বলবে আমরা কতনা আন্দোলন করে দাবী আদায় করেছি। মাঝখান দিয়ে বড় বড় সমস্যাগুলো থেকেই যাবে। </span><br><span>এবার কি গল্পের সাথে মিলে? ‘‘থাক ITES তোর ১৫% সামলা’’। আর ট্রেড লাইসেন্সে ক্যাটাগরি হিসেবে ই-কমার্স যুক্ত করার দাবী সেটাও কয়দিনের জন্য ভুলে যেতে হবে যদিও এটা বাজেটের বিষয় নয়। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় দেখে ব্যাপারটা। এটা নিয়ে বিলক্ষণ আরেকখান গল্প দিয়ে লেখা লেখার ইচ্ছে রইল। </span><br><span> </span><br><br><strong>দেশীয় উদ্যোক্তার স্বার্থ বনাম ডিরেক্ট ফরেইন ইনভেস্টমেন্ট</strong><br><br><span>ই-কমার্সের প্রস্তাবগুলোর মধ্যে আরেকটি হলো দেশীয় উদ্যোক্তার স্বার্থ রক্ষা ও বিদেশী বিনিযোগের ক্ষেত্রে স্থানীয় অংশীদার নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের DFI নীতিকে হেরফের করবে। তাই এটি আসলে গ্রহণযোগ্য প্রস্তাব নয়। অন্তত সরকারের এই সময়ের নীতির সাথে সাংঘর্ষিক।</span><br><br><strong>মার্কেটপ্লেস বনাম অনলাইন শপ এর বৈষম্য</strong><br><span>অনলাইন খুচরা বিক্রয় সংজ্ঞার ক্ষেত্রে বৈষম্যের কথা বলা হচ্ছে কারণ,  ২০২৩ সালের ২১ মে এনবিআর প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে (এসআরও নং ১৪৩ /আইন ২০২৩ / ২২০ মূসক) দু’টি ভিন্ন সংজ্ঞায় বলা হয়েছে— (১) অনলাইনে খুচরা বিক্রয় অর্থ: ইলেকট্রনিকস নেটওয়ার্ক ব্যবহারের মাধ্যমে সেসব পণ্য ও সেবার ক্রয়–বিক্রয় যা এর আগে কোনো উৎপাদনকারী বা পণ্য সরবরাহকারী বা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মূসক পরিশোধপূর্বক কেনা করা হয়েছে এবং অনলাইনে খুচরা বিক্রেতা কর্তৃক ওই ক্রয়কৃত পণ্য মূসক প্রদানপূর্বক সরবরাহ করা হবে। যে ক্ষেত্রে ওই অনলাইন খুচরা বিক্রেতার নিজস্ব কোনো (ভৌত) বিক্রয়কেন্দ্র নেই। </span><br><br><span>এখানে ‘‘অনলাইনে খুচরা বিক্রয় ’’ সংক্রান্ত সংজ্ঞায় ২ বার মূসক পরিশোধ এর কথা বলা হয়েছে। যেমন- ‘‘পণ্য ও সেবার ক্রয়–বিক্রয় যা এর আগে কোনো উৎপাদনকারী বা পণ্য সরবরাহকারী বা ব্যবসায়ীর কাছ থেকে মূসক পরিশোধপূর্বক ক্রয় করা হয়েছে’’ এবং ‘‘এবং অনলাইনে খুচরা বিক্রেতা কর্তৃক ওই ক্রয়কৃত পণ্য মূসক প্রদানপূর্বক সরবরাহ করা হবে’’। এটি গ্রহণযোগ্য নয়। তথাপি মার্কেটপ্লেস এর সংজ্ঞায় এমনটি যুক্ত নয়। তাই এই শর্তটি সংজ্ঞা থেকে পরিহার করা অধিক যুক্তিযুক্ত।</span><br><br><strong>ন্যূনতম করের বিধান</strong><br><span>বিগত কয়েক বছর ধরে ই-মার্স খাত থেকে এই বলে প্রস্তাব করছে যে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য নূন্যতম কর ০.৬% থেক্রে হ্রাস করে ০.১% করার জন্য। কারণ বিদ্যমান বিধানে একজন ব্যক্তি, ফার্ম বা একটি কোম্পানির লাভ লোকসান যাই হোক না কেনো তার ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর হবে-</span><br><span>১.তামাক উৎপাদনকারীর জন্য সর্বোমোট প্রাপ্তির ১%</span><br><span>২. মোবাইল অপারেটরের জন্য সর্বোমোট প্রাপ্তির ২%</span><br><span>৩. তামাক উৎপাদনকারী বা মোবাইল অপারেটর ব্যতীত অন্য কোন স্বতন্ত্র ব্যক্তির ক্ষেত্রে যার সর্বোমোট প্রাপ্তির তিন কোটি টাকার উপরে সেক্ষেত্রে সর্বনিম্ন কর হবে প্রাপ্তির-০.২৫%।</span><br><span>৪. এবং অন্য যেকোন ক্ষেত্রে এই হার হবে সর্বমোট প্রাপ্তির ০.৬০%।</span><br><br><span>এটি একচি বর্ধণশীল ও সম্ভাবনাময় খাত হলেও এতে এখনো কোনো প্রতিষ্ঠান লাভের মূখ দেখেনি। এখানকার মোট লেনদেন দেশের খুচরা বাজারের অতি ক্ষুদ্র অংশ। তাই এই সুবিধা পাওয়া দরকার বলে মনে করেন খাত সংশ্লিষ্ঠরা। </span><br><span>এছাড়া আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর ধারা ৫২(২)(xv) এবং বিধি ১৬। অনুসারে উৎসে করের বিধান রহিত করার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য।</span><br><br><strong>ই-কমার্সের মাধ্যমে পণ্য রপ্তানী ও প্রণোদনা</strong><br><span>বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ফেব্রুয়ারী ০৮, ২০১৮-এ জারিকৃত এফই সার্কুলার নং-০৩ অনুযায়ী সফট্ওয়্যার, আইটিএস (Information Technology Services) খাতের জন্য সেক্টর-স্পেসিফিক নগদ সহায়তা প্রদানের পূর্ণাঙ্গ নিয়মাবলী সংক্রান্ত সার্কুলার দেয়া হয়। সেসূত্রে রপ্তানি বাণিজ্যে ১০ শতাংশ প্রণোদনা ই-কমার্স সেক্টরে প্রয়োগের দাবীও উঠেছে কারণ ক্রসবর্ডার ই-কমার্সের মাধ্যমে বিটুসি ফরম্যাটে কিছু বেচাকেনা হয় বৈকি?</span><br><br><strong>পারকুইজিট বাবদ ব্যয় সীমা</strong><br><span>আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৫৫(ঘ) অনুসারে ধারা ৩২ এ সংজ্ঞায়িত পারকুইজিট বাবদ কোন কর্মচারীকে প্রদত্ত ১০ লক্ষ টাকার অতিরিক্ত যেকোন প্রদান অননুমোদিত ব্যয় হিসেবে পরিগণিত হবে। তাই এই সীমা ১০ লক্ষ করার দাবী রয়েছে। কারণ টাকার যে মান কমেছে তাতে ১০ লাখ টাকা আর বেশী টাকা নেই। যদিও এই দাবী সকল লিমিটেড কোম্পানীর শুধু ই-কমার্সের নয়।</span><br><br><strong>স্থাপনা মালিকের আইটিআর</strong><br><span>আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ২৬৪(৩)(৪২) অনুসারে যে কোন সিটি কর্পোরেশনে অবস্থিত বাড়ির ক্ষেত্রে, ভাড়াটিয়াকে অবশ্যই বাড়িওয়ালার কাছ থেকে আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকার পত্রের কপি) সংগ্রহ করতে হবে। আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ১৪২ অনুযায়ী, যার নিকট হতে কর সংগ্রহ করা হচ্ছে সেই ব্যক্তি যদি অর্থপ্রদানের সময় রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (রিটার্নের স্বীকৃতির কপি) জমা দিতে না পারেন, তাহলে ভাড়ার উপর উৎসে কর কর্তন/ সংগ্রহের হার প্রযোজ্য হারের থেকে ৫০% বেশি হবে (৫% থেকে ৭.৫% পর্যন্ত বৃদ্ধি)।</span><br><span>এছাড়াও, পেমেন্ট প্রাপক যদি পেমেন্টের সময় রিটার্ন দাখিলের প্রমাণ (রিটার্নের প্রাপ্তি স্বীকার পত্রের কপি) জমা দিতে না পারেন, আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ৫৫(ণ) অনুযায়ী, মোট ভাড়া সম্পর্কিত খরচগুলো অব্যাহতি দেয়া হবে না এবং আয়কর আইন ২০২৩-এর ধারা ৫৬ অনুযায়ী ৩০% আয়কর আরোপ করা হবে উক্ত অননুমোদিত খরচের উপর। এটি সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য মরার উপর খাড়ার ঘা। প্রথমত সরকার এটা সকলের উপর প্রয়োগ করতে পারে না। মাঝখান দিয়ে বড় ও সুনাম রক্ষা করতে চাওয়া কোম্পানীগুলোর জন্য এটা বাড়তি ঝামেলা। এনবিআর নিজেদের  সক্ষমতার ঘাটতি মেটানোর জন্য আরো এমন নানা নিয়ম করে রেখেছে। কিন্তু সবার উপর সমানভাবে প্রয়োগ করতে পারলে এটিও কোনো সমস্যা ছিল না। </span><br><span> </span><br><strong>চাল ডাল নিত্যপণ্যেকে প্রথম তফসিলে অন্তভূক্ত করা</strong><br><span>মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২–এর ধারা ১২৬ অনুসারে চাল ও ফলমূল প্রজ্ঞাপন দ্বারা অব্যাহতিপ্রাপ্ত। সহজ কথায় এসব পণ্যে মূসক প্রযোজ্য নয়। কিন্তু সব স্তরে এটা প্রয়োগ হচ্ছে না। বিশেষ ই–কমার্সে এটা অন্যান্য পণ্যের অনুরূপ বিবেচনা করা হয় কখনো কখনো। চাল ডাল নিত্যপণ্যের সঙ্গে অন্তত অতি প্রয়োজনীয় ফল ও দেশীয় ফলকে এই সুবিধা দেওয়া জরুরি। তাই প্রস্তাব হলো, আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪–এর সঙ্গে সম্প্রীতি রেখে ১ম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা এবং সর্বক্ষেত্রে এটা মেনে চলা।</span><br><span> </span><br><strong>জোগানদারের উৎসে উৎসে মূসক কর্তন </strong><br><span>মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর এস, আর, ও নং–২৪০–আইন/ ২০২১ / ১৬৩–মূসক এর বিধি ৪ (খ), মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন, ২০১২ এর এস, আর, ও নং–২৪০–আইন/ ২০২১ / ১৬৩–মূসক এর বিধি ৪ এর উপবিধি খ–এ প্রজ্ঞাপন দ্বারা অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোন পণ্য বা সেবা জোগানদার কর্তৃক সরবরাহ করা হলে জোগানদার হিসেবে উৎসে মূসক কর্তন করতে হবে। এই অবস্থায় সংশ্লিষ্টদের প্রস্তাব হলো—প্রজ্ঞাপন দ্বারা অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো পণ্য বা সেবা জোগানদার কর্তৃক সরবরাহ করা হলে সেই পণ্য ও সেবা মূসক অব্যাহতিপ্রাপ্ত করার বিধান করা উপযোগী। কারণ, প্রজ্ঞাপন দ্বারা অব্যাহতিপ্রাপ্ত কোনো পণ্য বা সেবা জোগানদার কর্তৃক সরবরাহ করা হলে সেই পণ্য ও সেবা মূসক অব্যাহতিপ্রাপ্ত করা হলে কোম্পানির ব্যয় হ্রাস পাবে ফলে গ্রাহকদের কাছে সুলভ মূল্যে পণ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। </span><br><span> </span><br><strong>উৎসে কর কর্তনকারী </strong><br><span>বিগত ৫ বছর ধরে ই–কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে উৎসে কর কর্তনকারী থেকে তাঁদের অব্যাহতি দিতে। যেহেতু সকল লিমিটেড কোম্পানির জন্য এটি প্রযোজ্য তাই সে আর হওয়ার নয়। এখন তাঁরা এ সংক্রান্ত নতুন ঝামেলা থেকে মুক্তি চায়। এসআরও নং–২৪০–আইন/ ২০২১ / ১৬৩–মূসক। ২০২১ সালের ১৯ জুন অনুসারে, সরবরাহ গ্রহীতা উৎসে কর্তন কৃত বা আদায় কৃত মূসক পণ পরিশোধের সাত দিনের মধ্যে নির্ধারিত কোডে জমা দেবেন।</span><br><span>উদ্যোক্তাদের দাবি, এই সময় যেন কমপক্ষে চৌদ্দ দিন করা হয়। নানা কারণে এটি সাত দিনে সম্ভব হয় না। এটি খুব ন্যায্য দাবি। যারা রাজস্ব দিতে চান, তাঁদের জন্য প্রক্রিয়াটা কঠিন করে ফেলা কোনো কাজের কথা নয়। কেনইবা বাস্তবতার নিরিখে এসব সময় ঠিক হয় না সে বোঝা খুব মুশকিল। </span><br><span> </span><br><strong>বিজ্ঞাপন ব্যয়ের সীমা</strong><br><span>বর্তমান বিধান মতে, আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৫৫ এর  ‘‘ঞ’’ অনুসারে বিজ্ঞাপন ব্যতীত অন্যান্য প্রচারণামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক টার্নওভারের ০.৫% অনুমোদনযোগ্য ব্যয় হিসেবে পরিগণিত হবে।</span><br><span> </span><br><span>প্রস্তাব দেয়া হয়েছে, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন ব্যতীত অন্যান্য প্রচারণামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক টার্নওভারের কমপক্ষে ৫% অনুমোদনযোগ্য ব্যয় করা যুক্তিসঙ্গত। কারণ ই-কমার্সের ক্ষেত্রে এবং নতুন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে এই হার বাস্তবসম্মত নয়।  ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানসমূহ মুলত বিভিন্ন মাধ্যমে পণ্যের প্রচারের জন্য অর্থ ব্যয় করে থাকে যা ব্যতীত তারা তাদের ক্রেতার নিকট পণ্য আকৃষ্ট করতে পারে না। সেক্ষেত্রে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের জন্য বিজ্ঞাপন ব্যতীত অন্যান্য প্রচারণামূলক ব্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক টার্নওভারের কমপক্ষে ৫% অনুমোদনযোগ্য ব্যয় করা যৌক্তিক।</span><br><span> </span><br><span>আয়কর আইন ২০২৩ এর ধারা ৫৫ এর ঢ অনুসারে কর্মচারীদের প্রদত্ত অর্থ, বাড়িভাড়া প্রদান ও কাঁচামাল ক্রয় ব্যতীত অন্যান্য ব্যয়ের ক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকার অতিরিক্ত যেকোন প্রদান ব্যাংকিং মাধ্যম ব্যতীত অন্যান্য মাধ্যমে প্রদত্ত হইলে অননুমোদিত ব্যয় হিসেবে পরিগণিত হবে।</span><br><br><span>৫০ হাজার টাকার এই সীমাটি অন্তত ৫ লক্ষ টাকা হওয়া উচিৎ। কারণ এমন কোনো অযৌক্তিক শর্ত থাকা উচিত নয় যাতে কোম্পানীগুলো অনিয়ম ও তথ্য গোপন করতে প্ররোচিত হয়।</span><br><br><span>এ প্রসঙ্গে বলে রাখি, হাল আমলে বাংলাদেশ নিয়ে কয়েকটি মোটা কথা প্রচলিত আছে। একটি হলো এদেশে ১০০ টাকা হালাল ভাবে রোজগার করার জন্য ১০০ রকমের নিয়ম আর বাঁধা সৃষ্টি করা আছে। আর শত কোটি টাকা লুট আর পাচার করার জন্য রয়েছে অবারিত সুযোগ। এই নিয়ম আর সাম্প্রতীক বছরগুলোতে টাকা পাচারের হিড়িক দেখলে কি মনে হয় না। আইনগুলো এমনভাবে করা হয়। যাতে আপনি আইন ভঙ্গ করবেন, তারপর ধরা পড়বেন এবং তারপর তাদেরকে কিছু দিবেন। আপনিও চুপ তারাও চুপ। খাপের খাপ আক্কাছের বাপ।</span><br><br><br><strong>লেখক : </strong>প্রাক্তন <span>নির্বাহী পরিচালক, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ; সাধারণ সম্পাদক: বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন</span></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>কেউ কথা রাখে না!</title>
<link>https://digibanglatech.news/154831</link>
<guid>https://digibanglatech.news/154831</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;span style=&quot;color: rgb(35, 111, 161);&quot;&gt;&lt;strong&gt;&lt;span lang=&quot;BN&quot; style=&quot;font-size: 14.0pt; line-height: 115%; font-family: &#039;Shonar Bangla&#039;,serif; mso-ascii-font-family: Calibri; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-font-family: Calibri; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: BN;&quot;&gt;মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম&lt;/span&gt;&lt;/strong&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202506/image_870x580_68561ba06c1c4.jpg" length="111959" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 21 Jun 2025 00:40:47 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বিশ্ব টেলিযোগাযোগ ও তথ্য সমাজ দিবস উদযাপন উপলক্ষে গত ১৫ মে আয়োজিত (আগারগাঁওয়ের বিটিআরসি ভবনে) এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত) ফয়েজ আহমেদ তৈয়্যব ঘোষণা দেন, আগামী ১ জুলাই থেকে আইএসপি (ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান) এবং আইআইজি (আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট গেটওয়ে) স্তরে ইন্টারনেটের দাম ২০ শতাংশ কমানো হবে। পরবর্তী সময়ে গ্রাহক পর্যায়েও দাম কমানো হবে।</p>
<p>এর আগেই একে একে মূল্যছাড় ঘোষণা করেছিল বড় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো: ২১ এপ্রিল – Fiber@Home: আইটিসি‑তে ১০% ছাড়, এনটিটিএন‑এ ১৫%।২২ এপ্রিল – Summit Communications: আইটিসি‑তে ১০% ছাড়, এনটিটিএন‑এ ১৫–২০%। ২৯ এপ্রিল – Bahon Ltd.: এনটিটিএন‑এ ১০% ছাড়। কিন্তু আজ ২১ জুন, কোনো ছাড় বাস্তবে কার্যকর হয়নি! </p>
<p>আসলে কেউ কথা রাখেনি, কেউ কথা রাখে না!</p>
<p><strong>ঘোষণা আছে, বাস্তবতা নেই!</strong></p>
<p>এই প্রতিষ্ঠানগুলো আইএসপিগুলোকে জানিয়েছে, তারা ট্রান্সমিশনের রেট কমাবে, কিন্তু মাসিক বিল যা আছে, তাই রাখতে হবে। অর্থাৎ, আমাদের প্রয়োজন না হলেও বাড়তি ট্রান্সমিশন  ব্যান্ডউইথ নিয়ে রাখতে হবে।আরও বেশি পরিমাণ ব্যান্ডউইথ নিতে, যা কোনও কাজে না লাগলেও। তাহলে খরচ কোথায় কমলো? ইন্টারনেটের দাম কমবে কিভাবে? আইআইজি অপারেটর গুলো মূল্য কমালেই কি আইএসপি অপারেটর মূল্য কমাতে পারে? একটা আইএসপি কোম্পানির খরচের মাত্র ৭-৮% হলো ব্যান্ডউইডথ খরচ। বাকি  হেডের  কোনো খরচতো কমেই নাই বরং প্রতি বছর বছর বৃদ্দ্বি পাচ্ছে। সেই হিসাব নিতে কিংবা জানতে কেউ আগ্রহী না। টেলিকম সেক্টরে "ফ্লোর প্রাইস" এবং "সিলিং প্রাইস" এর একটা কনসেপ্ট আছে। ফ্লোর প্রাইস হলো: কোনো অপারেটর বিটিআরসি কর্তৃক নির্ধারিত প্রাইসের  নিচে কোনো রেট মার্কেট/গ্রাহক কে অফার করতে পারবে না। এর মূল কারণ হলো , অপারেটর গুলোর ব্যবসা নিশ্চিত করা। আর সিলিং প্রাইস হলো: বিটিআরসি কর্তৃক নির্ধারিত প্রাইসের  উপরে  কোনো অপারেটর তার সার্ভিস এর মূল্য ১ পয়সাও  বেশি রাখতে পারবে না। এর মূল কারণ হলো গ্রাহকদের সুবিধা নিশ্চিত করা।  </p>
<p>আমাদের দেশের ইন্টারনেট ইন্ডাস্ট্রির ভ্যালু চেইনে আছে, আইটিসি, বিএসসিসিএল ,এনটিটিএন, আইআইজি ,আইএসপি  এবংমোবাইল কোম্পানি। মজার কথা হলো আইএসপি ছাড়া বাকি সব লেয়ারে ফ্লোর প্রাইসের বাধ্যবাধকতা আছে কারণ তাদের ব্যবসার  মুনাফা নিশ্চিত করার দায়িত্ব শুধুমাত্র সরকারের।  আর এই দুর্বল আইএসপি সেক্টরকে যত পারো চাপ প্রয়োগ করো।</p>
<p><strong>সংস্কারের নামে বৈষম্য!</strong></p>
<p>শোনা যাচ্ছে—মোবাইল অপারেটরদের ফাইবার ক্যাবল টানার অনুমতি দেওয়া হবে, যা সরাসরি ব্রডব্যান্ড খাতকে বিপন্ন করতে পারে। মনে করিয়ে দিতে চাই—আমরা আয়না ঘরের যুগেও প্রতিবাদ করেছি, এখনো করবো। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো আমাদের ইতিহাস।</p>
<p><strong>সরকার কি মোবাইল অপারেটরদের ভয় পায়?</strong></p>
<p>বিটিআরসি প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে (২ জুন হালনাগাদ করা) দেখা গেছে দেশে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১১ কোটি ৬৫ লাখ ৪০ হাজার। অপরদিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১ কোটি ৪৩ লাখ ২০ হাজার। অথচ বারবার দেখা যাচ্ছে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট খাতেই নানা ধরনের চাপ দেওয়া হচ্ছে। প্যাকেজের দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হচ্ছে। সারাদেশে এক রেটে (এক দেশ এক রেট) ইন্টারনেট বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়েছে। কিন্তু মোবাইল অপারেটরদের বেলায় এমন কিছু শোনা গেছে? না, শোনা যায়নি। মোবাইলের ভয়েস কলের দাম বেঁধে দেওয়া হলেও আজ অবধি ইন্টারনেটের দাম বেঁধে দেওয়া হয়নি। শুধু কয়েক বার শোনা গেছে- মোবাইল ইন্টারনেটের কস্ট মডেলিং করা হচ্ছে, আইটিইউ থেকে পরামর্শক আনা হয়েছে, এসব। কিন্তু কাজের কাজ কি হয়েছে? কিছুই না। মোবাইল ইন্টারনেটের দাম কমেনি বা সরকার কমাতে পারেনি। তাহলে কি সরকার মোবাইল অপারেটরদের ভয় পায়? বিগত বছরগুলোতে সরকারের আচরণ দেখে আমাদের মনে হয়েছে সরকার অপারেটরদের ভয় পায়।</p>
<p>ইন্টারনেটের দাম কমানোর এসব ঘোষণার মধ্যে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব গত ২১ এপ্রিল নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে বলেছেন, ইন্টারনেট-সেবায় লাইসেন্সের ধাপে ধাপে মোট তিন থেকে চারটি স্তরে দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি মোবাইল অপারেটরদের দেওয়া একাধিক সুবিধার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিগুলোর ইন্টারনেটের দাম না কমানোর কোনও ধরনের যৌক্তিক কারণ কিংবা অজুহাত অবশিষ্ট থাকে না। সরকার তাদের নীতিগত সহায়তা দিয়েছে।’</p>
<p>এত নরম গলায় বললে মোবাইল অপারেটররা তা শুনবে? এতোদিন তো নরম গলায় এসব কথা বলা হয়েছে, আগামীতেও কি বলা হবে, নাকি শক্ত কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হবে?</p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>এমবেডেড সিস্টেমের বিবর্তন: ২০২৬ সালের কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ প্রবণতা</title>
<link>https://digibanglatech.news/154681</link>
<guid>https://digibanglatech.news/154681</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p align=&quot;center&quot; style=&quot;margin: 0in; text-align: left;&quot;&gt;&lt;strong&gt;&lt;span lang=&quot;BN&quot; style=&quot;font-size: 16.0pt; font-family: &#039;Shonar Bangla&#039;,serif; mso-ascii-font-family: &#039;Times New Roman&#039;; mso-hansi-font-family: &#039;Times New Roman&#039;; color: #0a8911; mso-bidi-language: BN;&quot;&gt;ইঞ্জিনিয়ার মোঃ. সাফায়েত হোসেন&lt;/span&gt;&lt;/strong&gt;&lt;strong&gt;&lt;span style=&quot;font-size: 16.0pt; mso-bidi-font-family: &#039;Shonar Bangla&#039;; color: #0a8911; mso-bidi-language: BN;&quot;&gt;&lt;o:p&gt;&lt;/o:p&gt;&lt;/span&gt;&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202506/image_870x580_684fd3da88ceb.jpg" length="96418" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 16 Jun 2025 10:01:12 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div dir="ltr">
<p><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইলেকট্রনিক্স</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ওয়্যারলেস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যোগাযোগ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নেটওয়ার্কিং</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জ্ঞানীয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আবেগীয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটিং</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কৃত্রিম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুদ্ধিমত্তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবোটিক্সের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্রে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্রমাগত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অগ্রগতি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিকাশের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ফলস্বরূপ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আমাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চারপাশের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইসসমূহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পূর্বাপেক্ষা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বহুলাংশে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নততর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপায়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অপরের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংযুক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যোগাযোগে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সক্ষম।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অদূর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভবিষ্যতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বস্তুর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অভ্যন্তরে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষুদ্র</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসেসর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেন্সর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্থাপিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হবে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আমাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দৃষ্টিগোচর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">না</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হলেও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পারিপার্শ্বিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সকল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যন্ত্রের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিরন্তর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংযোগ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্থাপন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আমাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জীবনকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আরও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহজ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সুগম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তুলবে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমসমূহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উৎপত্তিকালীন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অবস্থা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হইতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বহুলাংশে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিবর্তিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হইয়াছে</span>; <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেখানে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দশক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পূর্বে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শৌচাগার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টোস্টারের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ন্যায়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বস্তুর</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টুইট</span>" <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অভিনব</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বলিয়া</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতীয়মান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হইত</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বর্তমানে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পোশাক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হইতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যাংকিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পর্যন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সর্বক্ষেত্রে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গভীর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংমিশ্রণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রযুক্তির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রবৃদ্ধি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বহুলাংশে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ত্বরান্বিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করিয়াছে।</span><o:p></o:p></p>
<p><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমের</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভবিষ্যৎ</span></strong><o:p></o:p></p>
<p><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভবিষ্যৎ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দ্রুততর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যোগাযোগ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশাল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তথ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ধারণক্ষমতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইসসমূহের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মধ্যে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অত্যন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিবিড়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আন্তঃসংযোগ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সক্ষমকারী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রযুক্তির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অগ্রগতিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিহিত।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভবিষ্যতের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংজ্ঞায়িত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মূল</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাতটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কিওয়ার্ড</span>" <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আজও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অত্যন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রাসঙ্গিক</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যদিও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তাহাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রকাশ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পূর্বাপেক্ষা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অধিকতর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l1 level1 lfo4; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সর্বব্যাপী</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটিং</span> (Ubiquitous Computing) / </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পারভেসিভ</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটিং</span>:</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটিংয়ের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শাখাটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আমাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দৈনন্দিন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জীবনের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বস্তুর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নির্বিঘ্নে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একত্রিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আন্তঃসংযুক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যোগাযোগকারী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইসগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দৃষ্টি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিবদ্ধ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পোশাক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থেকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কফি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মগ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পর্যন্ত</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বস্তুগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এখন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিয়মিতভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যদিও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একসময়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্টফোন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ট্যাবলেট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ছিল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উবিকম্প</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যাপ্লিকেশনগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রাথমিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">লক্ষ্য</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আজ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গেম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কনসোলগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্যালেন্ডারের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইন্টারঅ্যাক্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হোম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইসগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রয়োজন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনুমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পাবলিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্পেসগুলিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবেশগত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেন্সিংয়ের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিত্তি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যক্তিগতকৃত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অভিজ্ঞতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রদান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাধারণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যাপার।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মার্ক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ওয়েইজার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দ্বারা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রায়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">১৯৮৮</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সালে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উদ্ভাবিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উবিকম্প</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্লাউড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটিংয়ের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিপক্কতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দ্বারা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উল্লেখযোগ্যভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জোরদার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হয়েছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উদাহরণস্বরূপ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যাপলের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আইক্লাউড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কীভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জুড়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডেটাকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নির্বিঘ্নে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একত্রিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মৌলিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উদাহরণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হিসাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গেছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেন্টিয়েন্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটিং</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিভিন্ন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেন্সর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবেশকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুঝতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিক্রিয়া</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জানাতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সর্বব্যাপী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটিংয়ের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রূপ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্রমবর্ধমানভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রচলিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হচ্ছে।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l1 level1 lfo4; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুদ্ধিমান</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইস</span>:</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এগুলো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হলো</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চিন্তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পারে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জিনিস</span>"<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এআই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যালগরিদম</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অত্যাধুনিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হার্ডওয়্যার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মেশিন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">লার্নিংয়ের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সমন্বয়ে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইসগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জ্ঞানীয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কার্যকলাপগুলিকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিলিপি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একসময়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শুধুমাত্র</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জীবন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রাণীর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সীমাবদ্ধ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বলে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মনে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হত।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমআইটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মিডিয়া</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ল্যাবের</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থিংস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দ্যাট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থিঙ্ক</span>" <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উদ্যোগের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবেষণা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিষ্ঠানগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুদ্ধিমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবেশ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তৈরির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সীমানা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ঠেলে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দিচ্ছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আইলুমির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুদ্ধিমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আলো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রাসায়নিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">লিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সনাক্তকরণের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পিইটিম্যানের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জটিল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নৃতাত্ত্বিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ছাড়াও</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুদ্ধিমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইসগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এখন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বায়ত্তশাসিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডেলিভারি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থেকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শুরু</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চিকিৎসা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইমপ্লান্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পর্যন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সবকিছুর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মধ্যে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তবে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যন্ত্রগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অতি</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উচ্চ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্তরের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুদ্ধিমত্তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এখনও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিরাপত্তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গোপনীয়তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্পর্কিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গুরুতর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উদ্বেগ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সৃষ্টি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l1 level1 lfo4; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইন্টারনেট</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অফ</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থিংস</span> (</strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আইওটি</span>):</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">১৯৯৯</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সালে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কেভিন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যাশটন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দ্বারা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ধারণাকৃত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আইওটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিপ্লব</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কেবল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উদীয়মান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নয়</span>; <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সর্বব্যাপী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাস্তবতা।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাড়িঘর</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শিল্প</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যন্ত্রপাতি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমনকি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শহরের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অবকাঠামোর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভৌত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইসগুলিকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইন্টারনেটের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংযুক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাধারণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যাপার।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সর্বব্যাপী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্লাউড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যাপক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উচ্চ</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গতির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইন্টারনেটের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দ্বারা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চালিত</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আইওটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্ল্যাটফর্ম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অপারেটিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেমন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পূর্বে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উল্লিখিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কনটিকি</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নতুন</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আরও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ফ্রেমওয়ার্ক</span>) <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডেটা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইসের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নির্বিঘ্ন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংযোগকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহজ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভবিষ্যতের</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বর্তমানের</span>) <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কল্পনা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করুন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেখানে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আপনার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হোম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আপনার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিধানযোগ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইসের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বায়োমেট্রিক্সের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিত্তি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জলবায়ু</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সামঞ্জস্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আপনার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গাড়ি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ট্র্যাফিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অবকাঠামোর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যোগাযোগ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমনকি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আপনার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রেফ্রিজারেটর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সরবরাহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হলে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মুদিখানার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অর্ডার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দেয়।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সমস্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">খাতের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবসাগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দক্ষতা</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভবিষ্যদ্বাণীমূলক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রক্ষণাবেক্ষণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গ্রাহক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অভিজ্ঞতার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আইওটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্টফোনের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চেয়ারের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভঙ্গি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্পর্কে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপগ্রহের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তাপমাত্রা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্পর্কে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রান্নার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গ্যাসের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিরাপত্তার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যোগাযোগ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমনকি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জরুরি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিষেবাগুলিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সতর্ক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সমন্বিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জীবনযাত্রার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্রমবর্ধমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মানক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বৈশিষ্ট্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উঠছে।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l1 level1 lfo4; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাইবার</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ফিজিক্যাল</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span> (</strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিপিএস</span>):</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইন্টারনেট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অফ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থিংসের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গুরুত্বপূর্ণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপাদান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গঠন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিপিএস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শক্তিশালী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গণনা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দ্রুত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যোগাযোগের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মাধ্যমে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভৌত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাইবার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশ্বকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একত্রিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শিল্পোৎপাদনে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবোটিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আর্মস</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মানুষের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রবেশযোগ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এলাকায়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অন্বেষণ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অত্যন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শক্তি</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দক্ষ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্থাপন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দৈনন্দিন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কার্যকলাপগুলিকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহজ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নির্ভুলতা</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিত্তিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কাজগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অবিচ্ছেদ্য।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মঙ্গল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কৌতূহল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোভারের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মিশনগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বায়ত্তশাসিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নেভিগেশন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবেশগত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অভিযোজন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুদ্ধিমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিপিএস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মহাকাশ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অন্বেষণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রধান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যাপ্লিকেশন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হিসাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গেছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিপিএস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাস্তবায়ন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এখনও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চ্যালেঞ্জিং</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কারণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হার্ডওয়্যার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সফ্টওয়্যারের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জটিল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মিশ্রণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জড়িত</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তারা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্রমাগত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গোপনীয়তা</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিরাপত্তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নমনীয়তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্পর্কিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জটিল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সমস্যাগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মুখোমুখি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হয়।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l1 level1 lfo4; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসঙ্গ</span>-</strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সচেতন</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইস</span>:</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">১৯৯৪</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সালে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শিলিট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দ্বারা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রবর্তিত</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেখানে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যানিড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দ্বারা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসঙ্গের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংজ্ঞা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দেওয়া</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হয়েছিল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বস্তুর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রদত্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মুহূর্তে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিস্থিতি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্পর্কিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেকোনো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তথ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হিসাবে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসঙ্গ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সচেতনতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইসগুলিকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পারিপার্শ্বিকতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্পর্কে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আরও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সচেতন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সর্বব্যাপী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটিংয়ের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুদ্ধিমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্তর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যুক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবসাগুলিকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গ্রাহকদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আরও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভালভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুঝতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সমৃদ্ধ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইন্টারঅ্যাকশন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অভিজ্ঞতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রদান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সক্ষম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেন্সিং</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উভয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাহ্যিক</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিজ্যুয়াল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ট্র্যাকিং</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অবস্থান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span>) <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অভ্যন্তরীণ</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেন্সর</span>), <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসঙ্গ</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সমৃদ্ধ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তথ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংগ্রহের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অত্যন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গুরুত্বপূর্ণ।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাস্তব</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশ্বের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উদাহরণগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মধ্যে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এখন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বয়ংক্রিয়ভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোগীর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রেকর্ড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রদর্শনকারী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চিকিৎসা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইসগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কাছাকাছি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থাকার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিত্তি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হোমগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মেজাজ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সনাক্তকরণের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিত্তি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবেশ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সামঞ্জস্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আবহাওয়ার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবর্তন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনুমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জিনিসপত্র</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রক্ষা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অন্তর্ভুক্ত।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশ্বজুড়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবেষকরা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সক্রিয়ভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একসময়ের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভবিষ্যত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিস্থিতিগুলিকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাধারণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাস্তবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিণত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করছেন।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l1 level1 lfo4; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বয়ংক্রিয়</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রাসঙ্গিক</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পুনর্গঠন</span>:</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসঙ্গ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনুভব</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কার্যগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ট্রিগার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেটিংস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবর্তন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গতিশীলভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিক্রিয়া</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জড়িত।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসঙ্গ</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সচেতন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইসগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">লক্ষ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হলো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিস্তৃত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যাপ্লিকেশন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শক্তিশালী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বয়ংক্রিয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রাসঙ্গিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পুনর্গঠন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলিকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অন্তর্ভুক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উদাহরণগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মধ্যে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রয়েছে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মিটিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রুম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হাসপাতালগুলিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্টফোনগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বয়ংক্রিয়ভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নীরব</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হওয়া</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সীমাবদ্ধ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অঞ্চলে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্যামেরাগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অক্ষম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিরাপত্তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবস্থা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শিল্প</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যাপ্লিকেশনগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেমন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চুন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চুল্লিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বয়ংক্রিয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তাপমাত্রা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিয়ন্ত্রণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ম্যানুয়াল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হস্তক্ষেপ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হ্রাস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উৎপাদনশীলতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গুণমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাড়ায়।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l1 level1 lfo4; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অর্গানিক</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটিং</span>:</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসঙ্গ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সচেতনতার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিত্তি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অর্গানিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটিং</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বয়ংক্রিয়</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এক্স</span>" <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বৈশিষ্ট্যযুক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুদ্ধিমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিকাশের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দৃষ্টি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিবদ্ধ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অর্থ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তারা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অভ্যন্তরীণ</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অন্তর্জাত</span>) <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাহ্যিক</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বহির্জাত</span>) <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উভয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবর্তনেই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিক্রিয়া</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জানায়।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বয়ংক্রিয়</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এক্স</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বৈশিষ্ট্যগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মধ্যে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রয়েছে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্ব</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অপ্টিমাইজেশন</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্ব</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সুরক্ষা</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্ব</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিরাময়</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্ব</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহায়তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্ব</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কনফিগারেশন।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ধরনের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইসগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বয়ংক্রিয়ভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কাজ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষমতাকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শক্তিশালী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মেশিন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">লার্নিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চরম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভূখণ্ড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মহাকাশের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিজাইন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ফল্ট</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টলারেন্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যানবাহন</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেমন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বোস্টন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডায়নামিক্সের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিগ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডগ</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এখন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আরও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রজন্ম</span>) <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কেমবটের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আকৃতি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবর্তনকারী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবট</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ধারণাটির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উদাহরণ।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তবে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ধরনের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বয়ংক্রিয়</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এক্স</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বৈশিষ্ট্যগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্ভাব্য</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ধ্বংসাত্মক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুদ্ধিমত্তা</span>" <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দিকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যাওয়া</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্পর্কিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নৈতিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিরাপত্তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উদ্বেগগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এখনও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আলোচনা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবেষণার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গুরুত্বপূর্ণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্র।</span><o:p></o:p></p>
<p><img src="https://digibanglatech.news/uploads/images/202506/image_870x_684fd04d94c26.jpg" alt=""></p>
<p><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">২০২৬</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সালের</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হালনাগাদকৃত অ্যাপ্লিকেশন</span></strong><o:p></o:p></p>
<p><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্পর্কিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রযুক্তিগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উল্লেখযোগ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অগ্রগতির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যাপ্লিকেশনগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিধি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যাপকভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসারিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হয়েছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এখানে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কিছু</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মূল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উল্লম্ব</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্র</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রয়েছে</span>:<o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l0 level1 lfo5; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কৃষি</span>:</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জলবায়ু</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মাটির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অবস্থা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সর্বোত্তম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনুশীলন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্পর্কিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অন্তর্নিহিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জটিলতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কৃষি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্র</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থেকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গভীরভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপকৃত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হচ্ছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রিসিশন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ফার্মিং</span>/<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যাগ্রিকালচার</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সর্বোচ্চ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আউটপুট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সর্বনিম্ন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইনপুট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">খামার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবস্থাপনাকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অপ্টিমাইজ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এখন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশ্বব্যাপী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যাপকভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাস্তবায়িত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হচ্ছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভারতের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কেরালার</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এগ্রিকালচার</span>" <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উদ্যোগগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রিয়েল</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টাইম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মাটির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডেটা</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিত্তিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেন্সরগুলিকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্যাটেলাইট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তথ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্লাউড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্ল্যাটফর্মের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একত্রিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গতিশীল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কৃষিকাজের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সুপারিশ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাজারের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অন্তর্দৃষ্টি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ফসল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তোলার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরামর্শ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রদান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবোটিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">খামার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সরঞ্জাম</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেমন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেন্সর</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিত্তিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্প্রিংকলার</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ম্যানুয়াল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শ্রম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হ্রাস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বপ্ন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বৃহৎ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আকারের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কার্যক্রমে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্রমবর্ধমানভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাস্তবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিণত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হচ্ছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আরটিকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জিপিএস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চালকবিহীন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ট্র্যাক্টর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নেদারল্যান্ডসের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কৃষি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দেশগুলিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাধারণ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বৃহৎ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কৃষিজমির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কার্যকর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাশ্রয়ী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রমাণিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হচ্ছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমআইটি</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">র</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিস্ট্রিবিউটেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবোটিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গার্ডেন</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেখানে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবটগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেন্সর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডেটার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিত্তি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টমেটো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গাছগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যত্ন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নেয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ফসল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংগ্রহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভবিষ্যতের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বয়ংক্রিয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কৃষির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবেষণা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মডেল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হিসাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গেছে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেখানে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবটগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ফলের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিপক্কতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পুষ্টির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চাহিদা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনুমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবাদি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পশুর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবস্থাপনায়ও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিপ্লব</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ঘটাচ্ছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডঃ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যান্ডারসন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দ্বারা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রস্তাবিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জিপিএস</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সক্ষম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হেডফোন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবাদি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পশুর</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভার্চুয়াল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বেড়া</span>" <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ধারণাটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গতি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অর্জন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অবস্থান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডেটা</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ল্যান্ডস্কেপ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তথ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সরবরাহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মৃদু</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অডিও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইঙ্গিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হালকা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বৈদ্যুতিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শকের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মাধ্যমে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবাদি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পশুকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গাইড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পারে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যদি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তারা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">খুব</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বেশি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দূরে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চলে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যায়</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সীমানাগুলিকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নমনীয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তোলে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভবিষ্যতের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পুনরাবৃত্তিগুলিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রাণীর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বাস্থ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পর্যবেক্ষণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আচরণগত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশ্লেষণকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একত্রিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হবে।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l0 level1 lfo5; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুদ্ধিমান</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবহন</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবস্থা</span> (</strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আইটিএস</span>):</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্ব</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সচেতন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবহন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবস্থার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিজ্ঞান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কল্পনার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চিত্রটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এখন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মূলত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাস্তবতা।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গুগল</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বর্তমানে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ওয়েমো</span>), <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অডি</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টয়োটা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আরও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনেক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংস্থা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুদ্ধিমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবহন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবস্থা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাণিজ্যিকীকরণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করেছে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চালকের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিরাপত্তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বাচ্ছন্দ্যকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উল্লেখযোগ্যভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাড়ায়।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আধুনিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিমানগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রিয়েল</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টাইম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপাদান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডেটা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কেন্দ্রীয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটারগুলিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পাঠাতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যাপকভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহৃত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হয়</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ট্র্যাকিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবস্থাপনার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অপরিহার্য।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বায়ত্তশাসিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যানবাহন</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জিপিএস</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিশন</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">লিডার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রাডার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রযুক্তি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দিয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সজ্জিত</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শহরগুলিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চলাচল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">লেন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সনাক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাধা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এড়ায়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্রমবর্ধমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নির্ভরযোগ্যতার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ট্র্যাফিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিয়ম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মেনে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চলে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইন্টার</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভেহিকুলার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নেটওয়ার্ক</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আইভিএন</span>) <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দুর্ঘটনা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কমাতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অত্যন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গুরুত্বপূর্ণ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশেষ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্লাইন্ড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টার্ন</span>" <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্টিপ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোড</span>" <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আশেপাশে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রিয়েল</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টাইম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসঙ্গ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শেয়ার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মানুষের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চালকদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চেয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উচ্চতর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নির্ভরযোগ্যতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দ্রুত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিক্রিয়া</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সময়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সত্যিকারের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসঙ্গ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সচেতন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তথ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবস্থা</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিএআইএস</span>) <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তৈরি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভারতে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আইআইটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হায়দ্রাবাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিষ্ঠানগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পাবলিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ট্রান্সপোর্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নোটিফিকেশন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এসপিটিএনএস</span>) <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করছে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যাত্রীদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রুট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নির্বাচন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করতে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যাত্রার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সময়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনুমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ট্র্যাফিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এড়াতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাহায্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জনসংখ্যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বৃদ্ধি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবেশ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সচেতনতার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কারণে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গণপরিবহনের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দিকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবর্তন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আনছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ফ্রিরঞ্জ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কোঅপারেটিভ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">লিমিটেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দ্বারা</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইনফ্রোস্ট্রাকচার</span>" <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রকল্পগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অন্বেষণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করছে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কিভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিজিটাল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মিডিয়া</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গণপরিবহন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অভিজ্ঞতাকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রূপান্তরিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পারে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মোবাইল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গেমের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মাধ্যমে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রিয়েল</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টাইম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভ্রমণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তথ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সরবরাহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিরবচ্ছিন্ন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংযোগের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অবকাঠামোতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেন্সরগুলিকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একীভূত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমনকি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টিকিট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পালনের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আরএফআইডি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শেম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিটেকশন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাবসিস্টেম</span>"<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অন্তর্ভুক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমআইটি</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">র</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কারটেল</span>" <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেখানে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গাড়ি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ট্যাক্সিগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সর্বব্যাপী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মোবাইল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেন্সর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হিসাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কাজ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ট্র্যাফিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডেটা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভাগ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যানজট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এড়ায়</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বোস্টনের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাইরেও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যাপকভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গৃহীত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসারিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হয়েছে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রিয়েল</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টাইম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ট্র্যাফিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আপডেট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমনকি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইঞ্জিন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডায়াগনস্টিকস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সরবরাহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ঐতিহ্যবাহী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ট্র্যাফিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডেটা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংগ্রহে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিপ্লব</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এনেছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইন্টারনেট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অফ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থিংস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গাড়ির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শেয়ারিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিষেবাগুলিকেও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করছে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মোশন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেন্সরগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মাধ্যমে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গাড়ির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অবস্থানগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রিয়েল</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টাইম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ট্র্যাকিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সক্ষম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মালিকের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রাথমিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পার্কিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্থান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নির্বিশেষে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপলব্ধ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গাড়িগুলিকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্ভাব্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভাড়াটেদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংযুক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l0 level1 lfo5; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বাস্থ্যসেবা</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবস্থা</span>:</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সবচেয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রূপান্তরকারী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যাপ্লিকেশনগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মধ্যে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দূরবর্তী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ঔষধ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টেলিমেডিসিন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এখন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাধারণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উঠেছে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশেষ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গ্রামীণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এলাকার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপকারী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চিকিৎসা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উল্লেখযোগ্যভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হ্রাস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জীবন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাঁচাচ্ছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টেলিমেডিসিন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কেবল</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্টোর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যান্ড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ফরওয়ার্ড</span>" <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রক্রিয়ার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মধ্যে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সীমাবদ্ধ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নেই</span>; <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রিমোট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পেশেন্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মনিটরিং</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আরপিএম</span>) <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডাক্তারদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মোবাইল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিধানযোগ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রযুক্তির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মাধ্যমে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হৃদস্পন্দন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রক্তচাপের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গুরুত্বপূর্ণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">লক্ষণগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রিয়েল</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টাইম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডেটা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গ্রহণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দেয়।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পিল</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আকৃতির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মাইক্রো</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্যামেরা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দ্বারা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অভ্যন্তরীণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শারীরিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরীক্ষা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্ভব</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হয়েছে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডায়াগনস্টিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ছবি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সরবরাহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সোটেরা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ওয়্যারলেসের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিসি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মোবাইল</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যাপক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আরপিএম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সমাধান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সরবরাহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরবর্তী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সীমা</span>, "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রিমোট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পেশেন্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কোচিং</span>," <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টোকিও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশ্ববিদ্যালয়ের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আওইয়ামা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মোরিকাওয়া</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ল্যাবের</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ই</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কেচিং</span>" <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিধানযোগ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পোশাকের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রকল্পগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দ্বারা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হচ্ছে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বায়োমেট্রিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রিডিংয়ের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিত্তি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রিয়েল</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টাইম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কোচিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সরবরাহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কৃত্রিম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মানব</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অঙ্গ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তৈরির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্রেও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গুরুত্বপূর্ণ।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যদিও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ধারণাটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এখনও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভীতিকর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মনে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পারে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কৃত্রিম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অঙ্গগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্রমবর্ধমানভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ঔষধ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরীক্ষার</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পশু</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরীক্ষার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবর্তে</span>) <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ত্রুটিপূর্ণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শরীরের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অঙ্গগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিস্থাপন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হিসাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহৃত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হয়।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংস্থাগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এখন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সফলভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কার্যকরী</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মিনি</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">লিভার</span>" <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অন্যান্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অর্গ্যানয়েড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তৈরি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করছে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাস্তব</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অঙ্গগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কার্যকারিতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনুকরণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l0 level1 lfo5; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আর্কিটেকচার</span>:</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অত্যন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসঙ্গ</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সচেতন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংযুক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হোমগুলিকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যাপক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাস্তবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিণত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করেছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাড়িগুলিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কাঠামো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জুড়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইলেকট্রনিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সার্কিট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেন্সর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রয়েছে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্টফোন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ট্যাবলেটের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কেন্দ্রীয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইন্টারফেসের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মাধ্যমে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যাপক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিয়ন্ত্রণের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনুমতি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দেয়।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহায়ক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাড়িগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বয়স্ক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিবন্ধী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যক্তিদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বাধীনভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জীবনযাপন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহায়তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিজাইন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হয়েছে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ওয়্যারলেস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসঙ্গ</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সচেতন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্ল্যাটফর্মের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংযুক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থাকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আচরণগত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ধরণগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শিখে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অস্বাভাবিকতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জরুরি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অবস্থা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সনাক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অফিসগুলিও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাধারণ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">লোড</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেন্সিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ফ্লোর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অস্বাভাবিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কার্যকলাপ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সনাক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গ্রিন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জিরো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নেট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এনার্জি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিল্ডিং</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জেডএনইবি</span>) <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিজাইন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসঙ্গ</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সচেতন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহ।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিল্ডিংগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অকুপেন্সি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহারের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিত্তি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শক্তি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">খরচ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বয়ংক্রিয়ভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হ্রাস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেন্সর</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তাপ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আলোর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তীব্রতা</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চৌম্বকীয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দরজা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেন্সর</span>) <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুদ্ধিমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শক্তি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবস্থাপনা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l0 level1 lfo5; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যক্তিগত</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহকারী</span>:</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যক্তিগত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহায়তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইসগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্রটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যাপ্লিকেশনগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রাণবন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্র।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যদিও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গুগল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গ্লাস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হেড</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মাউন্টেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিসপ্লেতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অগ্রণী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ছিল</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বর্তমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গ্লাস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সর্বব্যাপী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইসগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অত্যাধুনিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হাতে</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মুক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মিথস্ক্রিয়া</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অফার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভয়েস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কমান্ডের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মাধ্যমে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নেভিগেশন</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ফটোগ্রাফি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তথ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পুনরুদ্ধারের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হিতাচির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইমিউ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিরিজের</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এখন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আরও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংস্করণ</span>) <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অফিস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহকারী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবটগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহকর্মী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হিসাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কাজ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভয়েস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নির্দেশাবলী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনুসরণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনলাইন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডেটাবেসের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তুলনা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বস্তু</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সনাক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অত্যন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হিউম্যানয়েড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যক্তিগত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহকারী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিষেবা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবট</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেমন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জুরিখ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশ্ববিদ্যালয়ের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আর্টিফিশিয়াল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ল্যাবের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবয়</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্রমাগত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিকশিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হচ্ছে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্রাউড</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ফান্ডিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মানব</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সদৃশ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষমতার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উল্লেখযোগ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রত্যাশা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থেকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপকৃত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হচ্ছে।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l0 level1 lfo5; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রবেশাধিকার</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যাপ্লিকেশন</span>:</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভবিষ্যতের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চ্যালেঞ্জিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কঠিন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভূখণ্ডে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নেভিগেট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অসংখ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রবেশাধিকার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সমাধান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সরবরাহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশাল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এলাকা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জুড়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দ্রুত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তথ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংগ্রহের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> swarm <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পতঙ্গ</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আকারের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বটগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মোতায়েন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হয়।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমআইটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মিডিয়া</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ল্যাবের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবেষকরা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সামুদ্রিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জীবনকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পানির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিচে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ট্র্যাক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উড়ন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তৈরি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চালিয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যাচ্ছেন।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ধরনের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবটগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রাসায়নিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শিল্পে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিষাক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বর্জ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিষ্কার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিপজ্জনক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কাজের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্যও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গুরুত্বপূর্ণ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মানব</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শ্রমকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রক্ষা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বোস্টন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডায়নামিক্সের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রেক্স</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উত্তরসূরি</span>) <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবটগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিভিন্ন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভূখণ্ডে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গতিশীলতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রদর্শন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দূরবর্তী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অপারেশনের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আইআর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্যামেরা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l0 level1 lfo5; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">খুচরা</span>:</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">খুচরা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্রে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আইওটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসঙ্গ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সচেতনতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভোক্তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্র্যান্ডগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রয়োজনীয়তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আগের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চেয়েও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শক্তিশালী।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সোশ্যাল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মিডিয়া</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্ল্যাটফর্মগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্র্যান্ড</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভোক্তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যোগাযোগের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কেন্দ্রবিন্দুতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গেছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হাগিজের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টুইটপি</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আরও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সমন্বিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইনভেন্টরি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span>) <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যাপগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পিতামাতাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পণ্যের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্টক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিচালনা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনলাইন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অর্ডারিংয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহায়তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অবস্থান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মেটাডেটা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রসঙ্গ</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সচেতন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিত্তি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গতিশীল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মূল্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নির্ধারণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্র্যান্ডগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উল্লেখযোগ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিযোগিতামূলক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সুবিধা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রদান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জাপানের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিলবোর্ডগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চিত্র</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিডিও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রক্রিয়াকরণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দর্শক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রোফাইলের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উপর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিত্তি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বার্তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবর্তন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এখন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাধারণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যাপার</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যক্তিগতকৃত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিজ্ঞাপন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সরবরাহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দক্ষিণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কোরিয়ার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টেসকোর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংস্থাগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পাবলিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্পেসগুলিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভার্চুয়াল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্টোর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দিয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">খুচরা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্রে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আরও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিপ্লব</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ঘটিয়েছে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেখানে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভোক্তারা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হোম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডেলিভারির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্মার্টফোন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দিয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কিউআর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কোড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্ক্যান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যস্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শহুরে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জনগোষ্ঠীর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কেনাকাটাকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অত্যন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সুবিধাজনক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তোলে।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l0 level1 lfo5; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিরাপত্তা</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ও</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিরক্ষা</span>:</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিরাপত্তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিরক্ষা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রাথমিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যাপ্লিকেশন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবেষণা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্র</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হিসাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গেছে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেখানে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্রমাগত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আশাব্যঞ্জক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নয়ন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হচ্ছে।</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্যাপচার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রেজিস্ট্যান্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এনভায়রনমেন্টস</span>," <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেমনটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইউনিভার্সিটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অফ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ওয়াশিংটনের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইউবিকম্প</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ল্যাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিকশিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হয়েছে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আরও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিশীলিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হচ্ছে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রজেক্টর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্যামেরা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অননুমোদিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ফটোগ্রাফি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভিডিওগ্রাফি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ঝাপসা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সীমাবদ্ধ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এলাকায়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিরাপত্তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাড়াচ্ছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সামরিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিরক্ষা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কার্যক্রমের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অত্যন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নির্ভরযোগ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিভাইস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তৈরিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জটিল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অবিচ্ছেদ্য।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইউএস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মেরিন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কর্পস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দ্বারা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নজরদারি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আক্রমণের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহৃত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গ্ল্যাডিয়েটরের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবোটিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিপজ্জনক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিস্থিতিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কর্মীদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ঝুঁকি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হ্রাস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চালিয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যাচ্ছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সরকারগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্রমবর্ধমানভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ঐতিহ্যবাহী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ড্রোনগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবর্তে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নেভিগেশনের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ছোট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আকারের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মোতায়েন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করছে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইউকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মন্ত্রণালয়ের</span> "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্ল্যাক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হর্নেট</span>," <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ন্যানো</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আকারের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নজরদারি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হেলিকপ্টার</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মনুষ্যবিহীন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্রমবর্ধমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষুদ্রকরণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষমতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রদর্শন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইউএস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সেনাবাহিনী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবোটিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলিও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অন্বেষণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করছে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেমন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বোমা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিষ্ক্রিয়করণের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কাজের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একাধিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাপকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টেন্টাকল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একত্রিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জীবন</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হুমকির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিস্থিতিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মানুষের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দক্ষতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রদর্শন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span><o:p></o:p></p>
<p><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলিতে</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কর্মজীবন</span></strong><o:p></o:p></p>
<p><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">২০২৬</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সালের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মধ্যে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সত্যিই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সর্বব্যাপী</span> – <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আমাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবেশের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দিক</span>: <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মেঝে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দেয়াল</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কফি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মগ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গণপরিবহন</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গাড়ি</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাড়ি</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অফিস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিমানগুলিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একত্রিত।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যাপ্লিকেশনগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশাল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ্যারে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চলমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উদ্ভাবনী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রকল্পগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিপ্রেক্ষিতে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অধ্যয়নের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সবচেয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কাঙ্ক্ষিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্রগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মধ্যে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হিসাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গেছে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উচ্চ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্তরের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিভার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রয়োজন।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একজন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইঞ্জিনিয়ার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হিসাবে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আপনি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সবচেয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্নত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জটিল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রযুক্তির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অগ্রভাগে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থাকবেন</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশ্বের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আমাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মিথস্ক্রিয়াতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিপ্লব</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ঘটাচ্ছেন।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অতএব</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইলেকট্রনিক্স</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইলেকট্রিক্যাল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইঞ্জিনিয়ারিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্পর্কে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উৎসাহীদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্রে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কর্মজীবন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনুসরণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুদ্ধিমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পছন্দ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হিসাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গেছে।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l2 level1 lfo6; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অধ্যয়ন</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পূর্বশর্ত</span>:</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আধুনিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রযুক্তির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শক্তিশালী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংমিশ্রণ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মধ্যে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রয়েছে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সফ্টওয়্যার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রোগ্রামিং</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিজিটাল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইলেকট্রনিক্স</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মোবাইল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটিং</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিধানযোগ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অগমেন্টেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রিয়েলিটি।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিজিটাল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইলেকট্রনিক্স</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশেষ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শক্তিশালী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মৌলিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জ্ঞান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অত্যন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গুরুত্বপূর্ণ।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমআইটি</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কার্নেগি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মেলন</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্ট্যানফোর্ড</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কর্নেল</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টোকিও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশ্ববিদ্যালয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কেমব্রিজ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশ্ববিদ্যালয়ের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশ্বজুড়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শীর্ষস্থানীয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশ্ববিদ্যালয়গুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শক্তিশালী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্নাতক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্নাতকোত্তর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কোর্স</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অফার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভারতে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আইআইটি</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এনআইটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আইআইআইটি</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">র</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রধান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রযুক্তিগত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিষ্ঠানগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্নাতকোত্তর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কোর্স</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সরবরাহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চালিয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যাচ্ছে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জন্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রায়শই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিজিটাল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইলেকট্রনিক্স</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইলেকট্রিক্যাল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পটভূমি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রয়োজন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হয়।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিষ্ঠানগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অত্যাধুনিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সুবিধা</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবেষণা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবেষণাগার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চলমান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রকল্প</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সরবরাহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্র</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্পর্কে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গভীর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অন্তর্দৃষ্টি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রদান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যদিও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শাস্ত্র</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশ্ববিদ্যালয়</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পুনে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশ্ববিদ্যালয়</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিডিএসি</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইগনউ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ভেক্টর</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মিরাকল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টেকনোলজিস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থিঙ্কল্যাবস</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিষ্ঠানগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থেকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্বল্পমেয়াদী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সার্টিফিকেশন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কোর্স</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিদ্যমান</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তারা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাধারণত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পূর্ণাঙ্গ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিগ্রি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রোগ্রামগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যাপক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবেষণা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবেশের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অভাব</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনুভব</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l2 level1 lfo6; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশেষীকরণ</span>:</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যদিও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইলেকট্রনিক্স</span>/<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইলেকট্রিক্যাল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মধ্যে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশেষীকরণ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবোটিক্স</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অটোমোবাইল</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মোবাইল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রযুক্তি</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিধানযোগ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কম্পিউটিং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অগমেন্টেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রিয়েলিটির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আরও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশেষায়িত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্রগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রচুর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিমাণে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিদ্যমান।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যদিও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আনুষ্ঠানিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশেষায়িত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কোর্সগুলি</span> (<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যেমন</span>, "<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবোটিক্সে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span>") <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাধারণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নাও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পারে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শিক্ষার্থীরা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্ভাব্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিয়োগকারীদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কাছে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আগ্রহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রদর্শন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দক্ষতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তৈরি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্রগুলিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবেষণা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্ব</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রকল্প</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনুসরণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পারে।</span><o:p></o:p></p>
<p style="margin-left: .5in; text-indent: -.25in; mso-list: l2 level1 lfo6; tab-stops: list .5in;"><!-- [if !supportLists]--><span style="font-size: 10.0pt; mso-bidi-font-size: 12.0pt; font-family: Symbol; mso-fareast-font-family: Symbol; mso-bidi-font-family: Symbol;"><span style="mso-list: Ignore;">·<span style="font: 7.0pt 'Times New Roman';">        </span></span></span><!--[endif]--><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কর্মজীবনের</span> </strong><strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পথ</span>:</strong> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্রে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রবেশ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাধা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আইটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শিল্পের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তুলনায়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তুলনামূলকভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বেশি</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রধানত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিশেষায়িত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দক্ষতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহারিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অভিজ্ঞতার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চাহিদার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কারণে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনেক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অভিজ্ঞ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইঞ্জিনিয়ার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জোর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দেন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রাথমিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ব্যবহারিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শিক্ষা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রায়শই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রথম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চাকরিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ঘটে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অতএব</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংস্থায়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অবস্থান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সুরক্ষিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অত্যাধুনিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রযুক্তির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাথে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিচিতি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহায়ক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শেখার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবেশ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সরবরাহ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অত্যন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গুরুত্বপূর্ণ।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্মুক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মন</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রযুক্তির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আবেগ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উদ্ভাবনের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আকাঙ্ক্ষা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অপরিহার্য।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উভয়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হার্ডওয়্যার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সফ্টওয়্যার</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিভিন্ন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রযুক্তি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্ল্যাটফর্ম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জুড়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দক্ষতা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অ</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আলোচনাযোগ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রয়োজনীয়তা।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্নাতককালে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শক্তিশালী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবেষণা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্ব</span>-<span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রকল্পে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">জড়িত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থাকা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">চাকরির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্ভাবনাকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উল্লেখযোগ্যভাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বাড়িয়ে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তুলতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পারে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমগুলি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রায়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রতিটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শিল্পে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অবিচ্ছেদ্য</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইঞ্জিনিয়ারদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কোম্পানি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমনকি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শিল্পের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মধ্যেও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্থানান্তর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উল্লেখযোগ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নমনীয়তা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রদান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একজন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নতুন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্নাতক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাধারণত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একজন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইঞ্জিনিয়ার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হিসাবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">শুরু</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পারে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গড়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বেতন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিসীমা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মূল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নথির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রকাশের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পর</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থেকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বৃদ্ধি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পেয়েছে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আইটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইঞ্জিনিয়ারদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মতো</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">একটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কর্মজীবনের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অগ্রগতি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রয়েছে</span>: <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইঞ্জিনিয়ার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থেকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিনিয়র</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইঞ্জিনিয়ার</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ডিজাইনার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অবশেষে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রজেক্ট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">লিড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পর্যন্ত।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রধান</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিয়োগকারীদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মধ্যে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রয়েছে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্যামসাং</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এলজি</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এইচসিএল</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আইবিএম</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ন্যাশনাল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইনস্ট্রুমেন্টস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">টেক্সাস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইনস্ট্রুমেন্টস</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যাদের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মধ্যে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনেকেই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অত্যাধুনিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবেষণা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবেষণাগারও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিচালনা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অনেক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রযুক্তি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরামর্শক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সংস্থা</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিভিন্ন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">স্তরে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইঞ্জিনিয়ার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিয়োগ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span><o:p></o:p></p>
<p><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিমণ্ডলে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যদি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আপনার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কর্মজীবন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গঠনের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অভিপ্রায়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থাকে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">তবে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষুদ্রাকার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোবট</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হইতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সুবিশাল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">মঙ্গল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অভিযানকারী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">রোভার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পর্যন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যুগান্তকারী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উদ্ভাবনসমূহের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহিত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সম্পৃক্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দলসমূহের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অবিচ্ছেদ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অংশ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হইবার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিমিত্তে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আপনাকে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রস্তুত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">থাকিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">হইবে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ক্ষেত্রটি</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কেবল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রবৃদ্ধিরই</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নহে</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">গবেষণারও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অফুরন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দিগন্ত</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">উন্মোচন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করে।</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ওয়্যারলেস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">যোগাযোগ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এবং</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">কৃত্রিম</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বুদ্ধিমত্তার</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ন্যায়</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আনুষঙ্গিক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">প্রযুক্তিগুলির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিরবচ্ছিন্ন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">অগ্রগতির</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ফলস্বরূপ</span>, <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এমবেডেড</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সিস্টেমস</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আগামী</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">দিনগুলিতে</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">এক</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">নিদারুণ</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বিবর্তন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ও</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">আমূল</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিবর্তনের</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সাক্ষ্য</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">বহন</span> <span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">করিবে। <o:p></o:p></span></p>
<p><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">পরিশেষে</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">বলা</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">যায়</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">, </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">২০২৬</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">সাল</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">নাগাদ</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">এমবেডেড</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">সিস্টেমস</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">আমাদের</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">জীবনের</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">প্রতিটি</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">ক্ষেত্রে</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">এক</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">অবিচ্ছেদ্য</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">অংশে</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">পরিণত</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">হইবে।</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">এই</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">ক্ষেত্রটি</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">কেবল</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">প্রবৃদ্ধি</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">ও</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">গবেষণার</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">জন্য</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">অপার</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">সম্ভাবনার</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">দুয়ার</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">উন্মোচন</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">করে</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">না</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">, </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">বরং</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">ওয়্যারলেস</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">যোগাযোগ</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">এবং</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">কৃত্রিম</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">বুদ্ধিমত্তার</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">ন্যায়</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">সমান্তরাল</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">প্রযুক্তিগুলির</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">দ্রুত</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">অগ্রগতির</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">সহিত</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">একীভূত</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">হইয়া</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">এক</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">আমূল</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">রূপান্তরের</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">পথে</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">ধাবিত</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">হইতেছে।</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">অতএব</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">, </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">যাহারা</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">ইলেকট্রনিক্স</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">ও</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">ইলেকট্রিক্যাল</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">গভীর</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">আগ্রহ</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">পোষণ</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">করেন</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">এবং</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">প্রযুক্তির</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">ভবিষ্যৎ</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">বিনির্মাণে</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">অবদান</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">রাখিতে</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">ইচ্ছুক</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">, </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">তাহাদের</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">জন্য</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">এমবেডেড</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">সিস্টেমস</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">ক্ষেত্রটি</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">নিঃসন্দেহে</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">একটি</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">বুদ্ধিদীপ্ত</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">এবং</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">ফলপ্রসূ</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">কর্মজীবনের</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">দিগন্ত</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">উন্মোচন</span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Calibri',sans-serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;"> </span><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">করিবে।</span></p>
<p><strong><span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">লেখকঃ </span></strong><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">পরিচালক, ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স সেল (আইকিউএসি); </span><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">সহযোগী অধ্যাপক, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগ; <o:p></o:p></span><span style="font-family: 'Nirmala UI Semilight',sans-serif;">ইউনিভার্সিটি অব ইনফরমেশন টেকনোলজি অ্যান্ড সায়েন্সেস (ইউআইটিএস )<o:p></o:p></span></p>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সাইবার দুনিয়ায় নারীর নিরাপত্তা কোথায়?</title>
<link>https://digibanglatech.news/154588</link>
<guid>https://digibanglatech.news/154588</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;span style=&quot;color: rgb(10, 137, 17);&quot;&gt;&lt;strong&gt;আফরিনা খান লোটাস&lt;/strong&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202506/image_870x580_684a8befd4fb6.jpg" length="76348" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 12 Jun 2025 11:59:23 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>ঢাকা শহরের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া নুসরাত (ছদ্মনাম) সম্প্রতি একটি ভয়ংকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন। হঠাৎ করেই তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে আপত্তিকর ছবি ছড়িয়ে পড়ে। হ্যাকারেরা তার ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিয়ে ব্ল্যাকমেইল শুরু করে। বিষয়টি শুধু ভার্চুয়াল জগতে আটকে ছিল না—এর প্রভাব পড়ে তার বাস্তব জীবনে, শিক্ষা ও পারিবারিক পরিবেশে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। বাংলাদেশের শহরাঞ্চলের নারীরা দিনে দিনে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ হয়ে উঠলেও, একই সাথে বেড়ে যাচ্ছে সাইবার সহিংসতার শিকার হওয়ার আশঙ্কাও। নানা ধরনের প্রযুক্তি নির্ভর অপরাধের মধ্যে হ্যাকিং, ফিশিং, ডিপফেইক ভিডিও তৈরি, পরিচয় চুরি, প্রাইভেট চ্যাট প্রকাশের মত কাজ দেখা যায়। এসবই বর্তমানে নারীদের প্রতি সহিংসতার নতুন রূপ হয়ে উঠেছে।</p>
<p>একবার কল্পনা করুন, একজন অপরিচিত ব্যক্তি আপনাকে এমন একটি বার্তা পাঠিয়েছে যেখানে আপনার দৈনন্দিন জীবনের ভয়াবহ নিখুঁত বিবরণ রয়েছে। অথবা ভাবুন, আপনার ভিডিও ফুটেজ ডিজিটালি বিকৃত করে অশ্লীল কনটেন্টে পরিণত করা হয়েছে এবং তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে।</p>
<p>এটি কোনো কল্পিত ডিজিটাল নির্যাতনের ঘটনা নয়—আজকের ডিজিটাল জগতে লক্ষ লক্ষ নারী ও মেয়েদের জন্য এটি একটি ভয়াবহ বাস্তবতা। সাইবার সহিংসতার মধ্যে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে কাউকে হেয়, ভয়ভীতি, লাঞ্ছিত বা ব্ল্যাকমেইল করার মত অপরাধ থাকে। নারীদের ক্ষেত্রে এটি আরও বেশি ভয়াবহ রূপ ধারণ করে, কারণ সামাজিক সংস্কার, পারিবারিক শঙ্কা এবং আইনি জটিলতার কারণে অধিকাংশ নারীই অভিযোগ করতে ভয় পান। ফলে অপরাধীরা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে শহরাঞ্চলের ৭৮% নারী স্মার্টফোন ব্যবহার করেন, তবে তাদের ৬৫% কখনও না কখনও অনলাইনে হয়রানির শিকার হয়েছেন। হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক, ইউটিউব প্ল্যাটফর্ম এখন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, অনেক ক্ষেত্রেই নির্যাতনের ক্ষেত্রেও রূপ নিয়েছে।</p>
<p>আমরা অনেকেই মনে করি, প্রযুক্তি জানলে নিরাপদ থাকা সম্ভব। কিন্তু বিষয়টি এতটা সহজ নয়। অনেক শিক্ষিত নারীও সাইবার আক্রমণের শিকার হচ্ছেন। কারণ অধিকাংশ ব্যবহারকারী জানেন না, কীভাবে নিজের তথ্য সুরক্ষিত রাখতে হয়, কীভাবে ফিশিং ইমেইল চিনতে হয়, কিংবা কীভাবে থ্রিডি অথেন্টিকেশন ব্যবহার করতে হয়। আমি নিজে একজন তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী হিসেবে বলতে পারি, আমাদের সমাজে নারীদের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রথম ধাপ হিসেবে সচেতনতা বাড়াতে হবে। স্কুল-কলেজে ডিজিটাল নিরাপত্তা নিয়ে পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। মেয়েদের শেখাতে হবে—অজানা লিংকে ক্লিক না করা, ব্যক্তিগত ছবি কখনও প্রকাশ না করা, ২-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন ব্যবহার করা ইত্যাদি। নারী শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য আলাদা কর্মশালা আয়োজন করা উচিত। এছাড়াও নারীদের শুধু ব্যবহারকারী না হয়ে প্রযুক্তির মাস্টার হতে হবে। কীভাবে ডিভাইস সুরক্ষিত রাখা যায়, কিভাবে ফেক অ্যাপ চিনে ফেলা যায়, কিভাবে রিপোর্ট ও ব্লক করতে হয়—এসব বিষয়ে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া জরুরি। আমি নিজে কয়েকটি স্কুল ও নারী উদ্যোক্তা কেন্দ্রে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক ওয়ার্কশপ পরিচালনা করেছি। অংশগ্রহণকারীদের প্রতিক্রিয়া দেখে বুঝেছি—তারা আগ্রহী, কিন্তু সুযোগ পাচ্ছেন না।</p>
<p>অনলাইনে হয়রানির শিকার হওয়া মানেই লজ্জিত হওয়ার কিছু নেই। এই মনোভাব আমাদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রয়েছে, তবে অনেক নারী আইন সম্পর্কে জানেন না বা থানায় যেতে ভয় পান। এজন্য ৯৯৯ নম্বরের মত একটি বিশেষ হেল্পলাইন থাকা দরকার, যেখানে নারী অফিসাররা নিরাপদে অভিযোগ গ্রহণ করবেন এবং তাৎক্ষণিক পরামর্শ দেবেন। নারীরা যদি প্রযুক্তি খাতে আরও বেশি যুক্ত হন, তাহলে তারা নিজেরা যেমন নিরাপদ থাকবেন, তেমনি অন্য নারীদের নিরাপদ রাখতে ভূমিকা রাখতে পারবেন। বর্তমানে দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ছে, কিন্তু এখনও তা মাত্র ১৩%-এর মতো। প্রতিটি স্কুল-কলেজে অন্তত একজন নারী আইটি শিক্ষক থাকলে ছাত্রীদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবহার শেখানো সহজ হবে। তাছাড়া, গৃহিণী, নারী উদ্যোক্তা, নারী সাংবাদিক—যারা নিয়মিত প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন, তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি থাকা দরকার।</p>
<p>প্রযুক্তি যেমন আশীর্বাদ, তেমনি সতর্ক না থাকলে এটি অভিশাপেও পরিণত হতে পারে। আমাদের নারীরা আজকাল অনলাইন মার্কেটিং, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি, এমনকি প্রোগ্রামিংয়েও কাজ করছেন। এই অগ্রযাত্রায় তাদের পাশে থাকতে হবে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানকে। নারীদের সাইবার নিরাপত্তা কেবল একটি প্রযুক্তিগত বিষয় নয়—এটি একটি সামাজিক ও নৈতিক দায়িত্ব। প্রতিটি নারীকে নিজের ডিজিটাল অধিকার সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে, একই সাথে সমাজকেও প্রস্তুত করতে হবে নারীদের জন্য একটি নিরাপদ ভার্চুয়াল জগত গড়ে তোলার জন্য।</p>
<p><strong>লেখক :</strong> তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী</p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩&#45; বাস্তবায়নে প্রয়োজন চারটি পৃথক ডিজিটাল আইন</title>
<link>https://digibanglatech.news/154532</link>
<guid>https://digibanglatech.news/154532</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;span style=&quot;color: rgb(10, 137, 17);&quot;&gt;&lt;b&gt;&lt;span lang=&quot;BN&quot; style=&quot;font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: &#039;Vrinda&#039;,sans-serif; mso-ascii-font-family: Cambria; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: &#039;MS Mincho&#039;; mso-fareast-theme-font: minor-fareast; mso-hansi-font-family: Cambria; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: BN;&quot;&gt;তানভীর হাসান জোহা&lt;/span&gt;&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202506/image_870x580_6846adaf4832d.jpg" length="74895" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 09 Jun 2025 13:58:52 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p class="MsoNormal">সাইবার আকাশে বাংলাদেশের সুরক্ষায় ২০২৩ সালে প্রণীত হয়েছে সাইবার নিরাপত্তা আইন। আইনটির মাধ্যমে প্রস্ফূটিত হয়েছে ডিজিটাল অপরাধ দমন এবং অনলাইন নিরাপত্তার একটি নতুন কাঠামো গড়ার ঘোষণা। তবে বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা। কেননা, এই আইনটি তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর নাগরিক জীবনের বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যথেষ্ট নয়। এটি মূলত অপরাধ দমনমূলক (punitive) ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণভিত্তিক একটি আইন। কিন্তু ডিজিটাল নিরাপত্তা মানে কেবল সাইবার অপরাধ রোধ নয়; এর সঙ্গে রয়েছে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, ডিজিটাল অধিকার, কনটেন্টের নৈতিকতা, রাষ্ট্রীয় লেনদেনের স্বচ্ছতা এবং ডিজিটাল অপরাধে ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা। তাই নিচের লেখায় বিদ্যমান আইনের সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে  এই খাতে আমার দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা থেকে করণীয় তুলে ধরার চেষ্টা করবো। এক্ষেত্রে আইনটির <span>শক্তি, দুর্বলতা, সুযোগ এবং হুমকি খতিয়ে দেখার চেষ্টা করবো। </span></p>
<p class="MsoNormal">কেননা, <span>বাংলাদেশে ২০১৮ সালের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল করে ২০২৩ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে এই নতুন আইনও ডিজিটাল জগতের সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় যথেষ্ট নয়। ফলে এই লেখাটি ২০২৩ সালে প্রণীত বিদ্যমান সাইবার নিরাপত্তা আইন বিশ্লেষণ করে প্রস্তাব করছে কেন এখনো আলাদা ও বিষয়ভিত্তিক ডিজিটাল আইন প্রয়োজন। এই প্রবন্ধের উদ্দেশ্য সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩-এর পরবর্তী ধাপে বাংলাদেশের জন্য ভবিষ্যতমুখী আইন প্রস্তাব করা।</span></p>
<h2><span style="color: rgb(186, 55, 42);">সাইবার গোপনীয়তা ও অধিকার সংরক্ষণ আইন </span></h2>
<p class="MsoNormal"><strong>বিদ্যমান আইনগত ঘাটতি:</strong><br>সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এ অননুমোদিত ডেটা প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও এটিতে ব্যক্তির তথ্য ব্যবস্থাপনার অধিকার, যেমন—ডেটা সংগ্রহ, সংরক্ষণ, ব্যবহার ও মুছে ফেলার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা অনুপস্থিত।<br><br><strong>প্রস্তাবিত আইনের উদ্দেশ্য:</strong><br>• ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবস্থাপনায় নাগরিকের সম্মতি বাধ্যতামূলক করা<br>• ব্যবহারকারীকে তার তথ্য দেখতে, সংশোধন করতে ও অপসারণ করতে দেওয়ার অধিকার<br>• রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নজরদারিকে বিচারিক অনুমোদনের আওতায় আনা<br>• একটি স্বাধীন ডেটা সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ গঠন<o:p></o:p></p>
<h2><span style="color: rgb(186, 55, 42);">অনলাইন কনটেন্ট দায়িত্ব আইন</span></h2>
<p class="MsoNormal"><strong>বিদ্যমান সমস্যা:</strong><br>মিথ্যা তথ্য, বিদ্বেষমূলক বক্তৃতা, চরিত্রহনন ও উসকানিমূলক কনটেন্টের বিষয়ে বিদ্যমান আইনে কোনো নির্দিষ্ট দায় নির্ধারিত নেই। বর্তমানে এককভাবে কনটেন্ট ক্রিয়েটর বা ব্যবহারকারীকে অপরাধী করা হয়—প্ল্যাটফর্ম বা অ্যালগরিদমের ভূমিকা অনুচ্চারিত।<br><br><strong>প্রস্তাবিত আইনের মূল বিষয়:</strong><br>• সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কনটেন্ট হোস্টিং প্ল্যাটফর্মের জন্য ন্যূনতম দায়িত্ববোধ নির্ধারণ<br>• স্বচ্ছ কনটেন্ট অপসারণ প্রক্রিয়া ও আপিল ব্যবস্থা<br>• নির্বাচনী সময়ে অর্থায়িত পোস্টিং ও রাজনৈতিক প্রচারণা নিয়ন্ত্রণ<br>• Content Tribunal গঠন করে ন্যায্য সমাধানের পথ তৈরি<o:p></o:p></p>
<h2><span style="color: rgb(186, 55, 42);">সরকারি কেনাকাটায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নজরদারি আইন </span></h2>
<p class="MsoNormal"><strong>চ্যালেঞ্জ:</strong><br>বর্তমান ই-জিপি (e-GP) ব্যবস্থা থাকলেও সেখানে দুর্নীতি শনাক্তে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার, রিয়েল-টাইম অডিট বা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।<br><br><strong>প্রস্তাবিত আইনের প্রধান উদ্দেশ্য:</strong><br>• AI-ভিত্তিক টেন্ডার বিশ্লেষণ ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করা<br>• সরকারি প্রকল্পের খরচ, সময়সীমা ও কার্যক্রম জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা<br>• অস্বাভাবিক বিলিং বা কার্টেলাইজেশন শনাক্তে স্বয়ংক্রিয় সতর্কবার্তা ব্যবস্থা<br>• নাগরিকদের সরাসরি নজরদারি অংশগ্রহণের সুযোগ রাখা<o:p></o:p></p>
<h2><span style="color: rgb(186, 55, 42);">ডিজিটাল অপরাধে ভুক্তভোগী সুরক্ষা আইন</span></h2>
<p class="MsoNormal"><strong>বর্তমান আইনের সীমাবদ্ধতা:</strong><br>ভিকটিমদের রিপোর্টিং, মনোসামাজিক সেবা, আইনি সহায়তা কিংবা গোপনীয়তা রক্ষা নিয়ে কোনো পৃথক বিধান নেই।<br><br><strong>প্রস্তাবিত আইনে যা থাকবে:</strong><br>• নাম গোপন রেখে অভিযোগ দায়েরের সুযোগ<br>• বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নারী ও শিশু বান্ধব সেল প্রতিটি থানায়<br>• আদালতের মাধ্যমে তড়িৎ কনটেন্ট অপসারণ আদেশের বিধান<br>• জরুরি চিকিৎসা, মানসিক সহায়তা ও নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা<br>• সংবাদ মাধ্যমে দায়বদ্ধতার সঙ্গে রিপোর্টিং নিশ্চিত করতে নীতিমালা<o:p></o:p></p>
<h2>কেন একটি আইন যথেষ্ট নয়?<o:p></o:p></h2>
<p class="MsoNormal">একই আইনে সব সমস্যার সমাধান চাইলে তা জটিলতা, ক্ষমতার অপব্যবহার ও আইনি অকার্যকারিতা সৃষ্টি করতে পারে। ভিন্ন ভিন্ন আইন হলে—<br>• সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রের স্পেশালাইজড অ্যাকাউন্টেবিলিটি তৈরি হয়<br>• আইনের প্রয়োগ ও ব্যাখ্যা সহজ হয়<br>• আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রাখা সম্ভব হয়<br>• নাগরিকদের অধিকার স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত হয়<o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal">সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ নিঃসন্দেহে একটি অগ্রগতি, কিন্তু এটি পর্যাপ্ত নয়। <span>কেননা আইনটি মূলত সাইবার নিরাপত্তা ও সাইবার অপরাধের উপর দৃষ্টিপাতেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। এই আইনে ডেটা গোপনীয়তা, ডিজিটাল গভর্নেন্স, ই-কমার্স এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পত্তির অধিকারের মতো ক্ষেত্রগুলোতে ঘাটতি রয়েছে। তাই বাংলাদেশ এখনো আলাদা ডিজিটাল আইন আবশ্যক। </span> যদি আমরা বাংলাদেশে বাস্তবিক অর্থেই  ডিজিটাল সুশাসন, নাগরিক নিরাপত্তা এবং তথ্য-ভিত্তিক গণতন্ত্র চাই, তাহলে আলাদা চারটি আইন—প্রাইভেসি, কনটেন্ট, সরকারি স্বচ্ছতা ও ভিকটিম সুরক্ষা—প্রণয়ন করা সময়োপযোগী ও ন্যায্যতার প্রকাশ। আর এ কারণেই <span>পৃথক আইনগুলো ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের ব্যাপক নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করবে।</span><o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal"><strong>লেখক:</strong> <span style="font-size: 11.0pt; line-height: 115%; font-family: 'Cambria',serif; mso-ascii-theme-font: minor-latin; mso-fareast-font-family: 'MS Mincho'; mso-fareast-theme-font: minor-fareast; mso-hansi-theme-font: minor-latin; mso-bidi-font-family: Vrinda; mso-bidi-theme-font: minor-bidi; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: AR-SA;">সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল</span></p>
<p class="MsoNormal"></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>অপেক্ষা করছি, একটি মেশিনের সঙ্গে প্রেম করব বলে!</title>
<link>https://digibanglatech.news/154254</link>
<guid>https://digibanglatech.news/154254</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p class=&quot;MsoNormal&quot; style=&quot;margin-bottom: 6.0pt; text-align: justify; line-height: normal;&quot;&gt;&lt;span class=&quot;name&quot;&gt;&lt;b&gt;&lt;span style=&quot;font-size: 16.0pt; font-family: &#039;Nirmala UI&#039;,sans-serif; color: #e03e2d;&quot;&gt;জাকারিয়া&lt;/span&gt;&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;span class=&quot;name&quot;&gt;&lt;b&gt;&lt;span style=&quot;font-size: 16.0pt; color: #e03e2d;&quot;&gt; &lt;/span&gt;&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;span class=&quot;name&quot;&gt;&lt;b&gt;&lt;span style=&quot;font-size: 16.0pt; font-family: &#039;Nirmala UI&#039;,sans-serif; color: #e03e2d;&quot;&gt;স্বপন&lt;/span&gt;&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;span style=&quot;font-size: 16.0pt;&quot;&gt;&lt;o:p&gt;&lt;/o:p&gt;&lt;/span ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202505/image_870x580_683773c8ed827.jpg" length="97554" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 29 May 2025 02:36:43 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<article class="jw_detail_content_holder jw_detail_content_body content mb16">
<div itemprop="articleBody" class="viewport jw_article_body">
<p>এই জীবনে একজন অতিব সুন্দরী স্মার্ট মেয়ের সঙ্গে প্রেম করার শখ ছিল। ব্যাপারটা কখনো হয়ে ওঠেনি। কিন্তু এখন একটা সম্ভাবনার আলো দেখতে পাচ্ছি।</p>
<p>সুন্দরী নারীর সংজ্ঞা মোটামুটি সবাই জানেন। ঝামেলা হলো স্মার্ট মানুষ নিয়ে। স্মার্টের সংজ্ঞা একেক জনের কাছে, একেক রকমের। ফ্যাশনেবল কাপড়-চোপড় কিংবা সাজগোজকে অনেকেই স্মার্ট মনে করেন। নিজেকে সপ্রতিভভাবে প্রকাশ করাকে অনেকে স্মার্ট মনে করেন। গুছিয়ে যুক্তি দিয়ে কথা বলাকে কেউ কেউ স্মার্ট মনে করতে পারেন। এমনকি চমৎকারভাবে হাঁটতে পারেন, তাকেও কেউ কেউ স্মার্ট মনে করতে পারেন।</p>
<p>কিন্তু আমার কাছে স্মার্টের সংজ্ঞা একটু ভিন্ন। আমি যখন কোনো একটা টপিক নিয়ে কারও সঙ্গে আলাপ করছি, তাকে বিষয়টি বলছি, তখন <strong><span style="color: rgb(35, 111, 161);">তিনি যদি চট করে সেটা ধরতে পেরে তার নিজস্ব ডোমেইনের আলোকে সেটা ব্যাখ্যা করতে পারেন, তাহলেই তিনি একজন স্মার্ট মানুষ!</span></strong></p>
<p>একটি উদাহরণ দিলে বিষয়টি কিছুটা পরিষ্কার হতে পারে। ধরুন, আমি আপনাকে বললাম আমার দীর্ঘদিনের একটি ইচ্ছা হলো ‘সাফল ডান্স’ শেখা। কিন্তু কোথাও ভালো ট্রেইনার পাচ্ছিলাম না। তাই শেষমেশ একটি রোবটের কাছ থেকে ডান্স শিখতে শুরু করলাম।</p>
<p>আপনি হয়তো একজন ভালো নার্স। আমার এই কথা শুনে আপনার চোখ ঝলঝল করে উঠল। আপনি আমার কাঁধে ছোট একটা ধাক্কা দিয়ে বললেন যা, সত্যি? তোমার ওই রোবটটা দিয়ে কি আমরা রোগীদের সেবা দিতে পারব? ওই যে রোগীরা মন খারাপ করে থাকে, তাদের নাচ দেখাতে পারবে? তাদের হাসাতে পারবে? তাদের মন ভালো করে দিতে পারবে?</p>
<p>আপনি একজন স্মার্ট নার্স। আমি আপনাকেই খুঁজছিলাম এতদিন!</p>
<p><strong>একইভাবে একজন স্মার্ট নারীরও ইচ্ছা থাকতে পারে, একজন সুদর্শন এবং স্মার্ট পুরুষের সঙ্গে প্রেম করার এবং তিনি তার মতো স্মার্টের সংজ্ঞা তৈরি করে নিতে পারেন।</strong></p>
<p>মানুষ মাত্রই স্বার্থপর। এই পৃথিবীর কতিপয় মানুষ ছাড়া সবাই স্বার্থপর। সবাই তার মতো করেই চিন্তা করে, তার মতো করেই প্রত্যাশা করে। ওই প্রত্যাশাটুকুই স্বার্থপরতা। যার কোনো প্রত্যাশা নেই, তিনি স্বার্থপর নন। প্রত্যাশাহীন মানুষ পাওয়া খুব দুষ্কর।</p>
<p>মা-বাবা যদি সন্তানদের কাছে কিছু প্রত্যাশা করে, সেটা তাদের স্বার্থপরতা। প্রেমিক যখন প্রেমিকাকে তার মতো করে পেতে চায়, সেটা তার স্বার্থপরতা। একজন ব্যবসায়ী যখন গ্রাহকের কাছে কিছু প্রত্যাশা করে, সেটা তার স্বার্থপরতা। প্রত্যাশার পরতে পরতে জড়িয়ে রয়েছে স্বার্থপরতা।</p>
<p>আপনি কারও জন্য কিছু করলেন, আর তার বিনিময়ে কিছুই প্রত্যাশা করলেন না সেটা হলো নিঃস্বার্থ! এই গ্রহে এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম।</p>
<p>এখন পর্যন্ত এই গ্রহে আমি একটি প্রজাতির মানুষ পেয়েছি, <strong><span style="color: rgb(22, 145, 121);">যারা নিঃস্বার্থ তারা হলেন সেনাবাহিনী।</span></strong> এটা বাংলাদেশ বলে নয়, পৃথিবীর সব দেশের সেনাবাহিনী। তারা নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে। নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্য, দেশের জন্য। আর কোনো প্রফেশনে এই ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হয় না। তাই তাদের প্রতি আমার এক ধরনের বিশেষ শ্রদ্ধা রয়েছে, মমতা রয়েছে। এই গ্রহের প্রতিটি দেশের প্রতিটি সেনাবাহিনীর সদস্যকে আমি সম্মান করি। তারা স্বার্থপর নন। বিদেশের মাটিতেও যখন দেখি, তারা দল বেঁধে কোথাও যাচ্ছেন, আমি তাদের স্যালুট দেই। <strong><span style="color: rgb(35, 111, 161);">মনে মনে বলি  হে বীর, তোমরা কখনো স্বার্থপর হইও না!</span></strong></p>
<p>এই গ্রহের মানুষ যেমন স্বার্থপর, বাংলাদেশে হয়তো তার পরিমাণ আরও বেশি। এর মূল কারণ হয়তো আমাদের সম্পদের সীমাবদ্ধতা। আমাদের সম্পদ কম। তাই একটুখানি সম্পদ আহরণের জন্য, আমরা যতটা নিচে নামার, নেমে যেতে পারি। আমরা আরেকটি মানুষের সম্পদ জোর করে কেড়ে নিয়ে অন্যের কাছে বেশি দামে গর্বের সঙ্গে বিক্রি করে দিতে পারি, প্রয়োজন হলে তাকে মেরেও ফেলতে পারি। এই যে, আমরা প্রতিনিয়ত নানান ধরনের কলহের ভেতর জড়িয়ে যাচ্ছি, তার মূল কারণ হলো স্বার্থপরতা! আমরা কেউ এক ইঞ্চি তো ছাড়বই না, বরং অন্যের পুরোটা কীভাবে নেওয়া যায়, তার জন্য পরিশ্রমের শেষ নেই।</p>
<p>আমরা প্রতিনিয়ত অন্যের পেছনে লেগে আছি। কীভাবে অন্য আরেকজনকে টেনে নিচে নামানো যায়, সেই চিন্তায় দিন পার করি। আমি নিজে চেষ্টা করে ওপরে উঠব না, যে উঠেছে তাকে টেনে নিচে নামাব, যেন সে আমার সমানে আসে!</p>
<p>এর একটি বড় কারণ হলো, আমরা শিখতে পারিনি, কীভাবে একসঙ্গে অপরকে বিশ্বাস করে সবাই মিলে সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়। <strong>আমরা শিখেছি, কীভাবে অন্যকে ঠকিয়ে একা সামনে এগিয়ে যাওয়া যায় এবং সেটা করার জন্য মিথ্যা বলা, চুরি করা, অন্যকে ঠকানো যত রকমের নিম্নশ্রেণির কাজ আছে, সেগুলোই করতে থাকব।</strong></p>
<p><strong><span style="color: rgb(22, 145, 121);">এটাই আমার দেখা বাংলাদেশ!</span></strong></p>
<p>আপনারা ইতিমধ্যেই জেনে গেছেন, এই পৃথিবী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রবেশ করে গেছে। বিগত দুই যুগের বেশি সময় ধরে এটা নিয়ে ছোট ছোট কাজ হচ্ছিল। কিন্তু এখন মেশিনের ক্ষমতা এমন জায়গায় চলে এসেছে যে, মেশিন মানুষের চেয়ে বেশি জ্ঞানসম্পন্ন হয়ে গেছে। এই গ্রহের মোট ‘কম্বাইন্ড নলেজ’ এখন মেশিনের কাছে আছে।</p>
<p>কয়েকটি উদাহরণ দিলে বোঝা যাবে। ধরুন ডাক্তারি বিদ্যা। এই গ্রহের সব ডাক্তারকে একত্র করলে যে পরিমাণ জ্ঞান হবে, তার পুরোটাই এখন মেশিনের কাছে চলে এসেছে। এই গ্রহের যত পণ্ডিত ব্যক্তি আছেন, তাদের সবাই মিলে যে জ্ঞানের ভান্ডার হবে, তার পুরোটাই এখন মেশিনের কাছে আছে। <strong><span style="color: rgb(22, 145, 121);">এমন অসাধারণ সময় এই গ্রহ আগে কখনই দেখেনি।</span></strong></p>
<p>আপনি আগে কোনো সমস্যায় পড়লে, এমন একজন মানুষকে খুঁজতেন, যিনি আপনাকে একটি সৎ সমাধান বাতলে দিতে পারে। কিংবা কঠিন কোনো রোগে পড়লে, ভালো একজন ডাক্তারের খোঁজে যেতেন। কিংবা আইনি জটিলতায় পড়লে, একজন বিজ্ঞ আইনজীবী খুঁজে বের করতেন। কখনো পেতেন, কখনো পেতেন না।</p>
<p><strong>এখন আপনি বিশ্বের সবচেয়ে ভালো আইনজীবীকে এক মুহূর্তেই পেয়ে যেতে পারেন। যারা চ্যাটজিপিটি কিংবা এ ধরনের সেবা ব্যবহার করতে শুরু করেছেন, তারা জানেন কী অস্বাভাবিক ক্ষমতাধর এই মেশিন। এই গ্রহের এমন কোনো বিষয় নেই, যা সেই মেশিন জানে না।</strong></p>
<p>আর এটাই হলো বাংলাদেশের জন্য বিশাল সুযোগ। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হলো, তাদের জনগণ স্মার্ট নয় (আমার ওপরে দেওয়া সংজ্ঞা অনুযায়ী)। তাদের জ্ঞানও সীমিত। একটি কক্ষে যদি ১০০ জন মানুষ নিয়ে কোনো মিটিং করেন, দেখবেন সেখানে ৯৮ জন মানুষই প্রায় মূর্খ। তাদের নিয়ে আপনি কী পরিকল্পনা করবেন, কী সমস্যার সমাধান করবেন? আপনি যা বলবেন, সেটা বোঝার এবং বুঝে আবার নিজের জায়গায় ব্যবহার করার মতো জ্ঞান তাদের তৈরি হয়নি। পাশাপাশি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, আমাদের তরুণ প্রজন্মের অবস্থাও ভালো নয়!</p>
<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের এই ক্রাইসিস থেকে পরিত্রাণ দিতে পারে। এ দেশ যদি ১ কোটি মানুষের মাঝে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতাটুকু বুঝিয়ে দিতে পারে, তাহলে তারা নিজেরাই মেশিনের সাহায্য নিয়ে নিজেদের অনেক সমস্যার সমাধান বের করে ফেলতে পারবে। <strong><span style="color: rgb(22, 145, 121);">তাদের ভেতর থেকে কয়েক হাজার স্মার্ট মানুষ বের হয়ে আসবে, যারা এমন সব জিনিস তৈরি করে ফেলবে, যা আমরা আগে চিন্তাই করিনি।</span></strong></p>
<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিষয়টা কতিপয় উঁচুস্তরের মানুষ আর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে আটকে না রেখে, সাধারণ মানুষকে এই বিষয়ে শিক্ষিত করতে হবে। তরুণ থেকে শুরু করে একজন বৃদ্ধ কৃষক পর্যন্ত। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত। শুধু তাদের এই বিষয়ে জ্ঞানটুকু পৌঁছে দিলেই হবে। বাকিটা করে নেবে ওই মানুষ আর মেশিন! এই মেশিন স্বার্থপর নয়। আপনার কাছে তার কোনো চাওয়া-পাওয়া নেই। স্মার্ট এবং নিঃস্বার্থ। যেমনটা আমি <strong>অপেক্ষা করছি, <span style="color: rgb(230, 126, 35);">একটি মেশিনের সঙ্গে প্রেম করব বলে!</span></strong></p>
<p><strong>লেখক :</strong> তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ</p>
</div>
<div class="googleadmanager">
<div id="div-gpt-ad-1724747369602-0"></div>
</div>
</article>
<div class="social_share_holder">
<div class="social_shares roundicons do_not_print" data-show="copy,facebook,messenger,twitter,viber,whatsapp,linkedin,pinterest,print" data-hide=""></div>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>দেশের ই&#45;কমার্স খাতের সংকট ও উত্তরণের পথ</title>
<link>https://digibanglatech.news/154047</link>
<guid>https://digibanglatech.news/154047</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;span style=&quot;color: rgb(22, 145, 121);&quot;&gt;&lt;strong&gt;মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন শিপন&lt;/strong&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202505/image_870x580_68306f7a55e56.jpg" length="60357" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 23 May 2025 18:52:40 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>বাংলাদেশের ই-কমার্স খাত এক দশকেরও কম সময়ে অভূতপূর্ব উন্নতি করেছে। কোভিড-১৯ মহামারির পর থেকে অনলাইন শপিং এবং ডিজিটাল লেনদেনের প্রবণতা বেড়েছে কয়েক গুণ। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর কার্যকর নেতৃত্বের অভাব এই খাতের প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একটি কার্যকর নেতৃত্ব ছাড়া এই সেক্টরের  সুষ্ঠু বিকাশ অসম্ভব।</p>
<p>বর্তমানে বাংলাদেশের ই-কমার্স বাজারের আকার ৪ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছে। প্রতিবছর প্রায় ২৫% হারে এই খাতের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে, যা দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় দ্রুতগতিসম্পন্ন। তবে, সঠিক নীতিমালা ও নিয়ন্ত্রণ হলে এই বৃদ্ধির গতি আরও বেশি হতে পারত।  </p>
<p>দারাজ, বিকাশ, চালডাল, শেয়ারট্রিপ বা স্টিডফার্স্টের মতো উদ্যোগ বাজারে আধিপত্য বজায় রাখলেও, অসংখ্য কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। ই-ক্যাবের কার্যকর কমিটি না থাকায় এই উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় গাইডলাইন, ফিন্যান্সিয়াল সাপোর্ট এবং নীতিগত সহায়তা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।  </p>
<p>বর্তমানে ই-ক্যাবের কোনো নির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটি নেই, যার ফলে পুরো ই-কমার্স শিল্প নেতৃত্বশূন্য অবস্থায় পড়েছে। এই নেতৃত্বহীনতার কারণে শিল্পের বিভিন্ন ক্ষেত্রে মারাত্মক সমস্যা দেখা দিয়েছে, যা দিন দিন আরও প্রকট আকার ধারণ করছে।</p>
<p>প্রথমত, নীতিগত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা এখনও পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি, যা শিল্পের বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পেমেন্ট গেটওয়ে এবং ব্যাংকগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব রয়েছে, বিশেষ করে মার্চেন্ট রেট (এমআরআর) নিয়ে চলমান বিরোধ শিল্পের স্বাভাবিক গতিপথকে ব্যাহত করছে। এই সমস্যা সমাধানে একটি শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, গ্রাহকদের আস্থা ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে। গত দুই বছরে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগ ১৫% বেড়েছে। কেন্দ্রীয় অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা না থাকায় ক্রেতারা ধীরে ধীরে অনলাইন শপিংয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে ই-কমার্স শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হবে।</p>
<p>তৃতীয়ত, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা পিছিয়ে পড়ছে। বিভিন্ন উৎস অনুযায়ী, গত দুই বছরে অনেক ই-কমার্স স্টার্টআপ কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। ই-ক্যাবের মেন্টরশিপ ও ট্রেইনিং সুবিধা না থাকায় নতুন উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই অবস্থা সেক্টরের diversity ও innovation ক্ষমতা দুর্বল করে দিচ্ছে।</p>
<p><br>বর্তমান সংকট কাটিয়ে উঠতে আমাদেরকে কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।</p>
<p>প্রথমত, এসব সমস্যা সমাধানে জরুরি ভিত্তিতে ই-ক্যাবের একটি কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক নেতৃত্ব গঠন করা প্রয়োজন। শিল্পের সকল স্তরের স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বই কেবল এই সংকট কাটিয়ে উঠতে পারে এবং ই-কমার্স শিল্পকে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারে। একটি সুষ্ঠু ও সমন্বিত নেতৃত্ব ছাড়া এই শিল্পের উন্নয়ন সম্ভব নয়।</p>
<p>দ্বিতীয়ত, নীতিমালা সংস্কার করা এখন সময়ের দাবি। ডিজিটাল কমার্স অথরিটি একট প্রণয়ন করে শিল্পকে একটি কাঠামোবদ্ধ নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি মার্চেন্ট রেট ক্যাপ (১.৫%) চালু করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এসব পদক্ষেপ না নিলে শিল্পের টেকসই উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে।</p>
<p>তৃতীয়ত, গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে ই-ক্যাব ভেরিফাইড মার্চেন্ট সিস্টেম চালু করতে হবে যাতে নির্ভরযোগ্য অনলাইন প্রতিস্ঠান চিহ্নিত করা যায়। এছাড়াও সেন্ট্রাল কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কার্যকর করে অনলাইন প্রতারণা রোধ করতে হবে। গ্রাহক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে না পারলে ই-কমার্স শিল্পের ভবিষ্যৎ অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে পড়বে।</p>
<p>চতুর্থত, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি বাড়ানোর জন্য ই-কমার্স বান্ধব ঋণ স্কিম চালু করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাথে সমন্বয় করতে হবে। একইসাথে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) এবং ডিজিটাল ওয়ালেটের সাথে ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর সংযোগ বাড়াতে হবে। এতে করে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য অর্থায়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং শিল্পের প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে।</p>
<p>এই পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়ন করতে পারলে বাংলাদেশের ই-কমার্স শিল্প নতুন করে গতি সঞ্চার করতে সক্ষম হবে। সরকার, বেসরকারি খাত এবং সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই কেবল এই শিল্পকে টেকসই উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারে। সময় নষ্ট না করে এখনই এসব উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।</p>
<p>এখনই সময় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার। যদি আমরা দেরি করি, তাহলে বাংলাদেশের ই-কমার্স শিল্প কেবল সম্ভাবনার গল্প হয়েই থেকে যাবে। সরকারের নীতি-সহযোগিতা, বেসরকারি খাতের উদ্ভাবন এবং সংগঠনগুলোর কার্যকর নেতৃত্ব এই ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতা আমাদেরকে টেকসই ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগিয়ে নিতে পারে। </p>
<p><strong>লেখক</strong>: সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ই-ক্যাব  </p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>&amp;quot;ব্রডব্যান্ড যুদ্ধ: সংকটের মুখে বাংলাদেশের আইএসপি খাত</title>
<link>https://digibanglatech.news/153676</link>
<guid>https://digibanglatech.news/153676</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p&gt;&lt;span style=&quot;color: rgb(10, 137, 17); background-color: rgb(236, 240, 241);&quot;&gt;&lt;strong&gt;আমিনুল হাকিম&lt;/strong&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202505/image_870x580_6821d5100cb5a.jpg" length="83130" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 12 May 2025 17:01:47 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div class="html-div xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd">
<div dir="auto" class="html-div xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd">
<div data-ad-rendering-role="story_message" class="html-div xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd">
<div class="x1l90r2v x1iorvi4 x1ye3gou xn6708d" data-ad-comet-preview="message" data-ad-preview="message" id="«r4jf»">
<div class="x78zum5 xdt5ytf xz62fqu x16ldp7u">
<div class="xu06os2 x1ok221b">
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">বাংলাদেশে ইন্টারনেট বিপ্লবের সূচনা হয় আইএসপিদের (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) হাত ধরে, যারা ঘরে ঘরে ব্রডব্যান্ড পৌঁছে দিয়েছে। এই আইএসপিরা (আইএসপি কর্মীরা) দেশের প্রতিটি অলিতে-গলিতে ফাইবার টেনে, শত বাধা পেরিয়ে, ডিজিটাল কানেক্টিভিটির ভিত গড়ে তুলেছে। আজ যখন মোবাইল অপারেটর ও আন্তর্জাতিক প্লেয়াররা দেশের বাজারে আরো গভীরভাবে ঢুকছে, তখন আমাদের এই পুরনো যোদ্ধারা এক ধরনের অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">আমরা যদি একটু পেছনে তাকাই, তাহলে বুঝতে পারবো এই আইএসপিরাই তো বাংলাদেশের হাজারও তরুণকে প্রথমবারের মতো ইউটিউব, ফেসবুক চিনিয়েছে, ফ্রিল্যান্সিং শিখতে সাহায্য করেছে। এই খাতের অবদান মোটেই মূল্যহীন নয়, বরং জাতিগত অগ্রগতির অংশ। তবুও সময় থেমে থাকে না। প্রযুক্তির সাথে তাল মেলাতে না পারলে, যেকোনও খাতেই ধাক্কা আসে। আজ সেই বাস্তবতার মুখে দাঁড়িয়েছে আইএসপি খাত।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><span style="color: rgb(10, 137, 17);"><strong>আইএসপির ইতিহাস ও অপরিসীম অবদান</strong></span></div>
<div dir="auto">একুশ শতকের শুরুর দিকে যখন ব্রডব্যান্ড শব্দটিই ছিল নতুন, তখন একদল তরুণ উদ্যোক্তা ও টেক-উদ্যোমীরা ঢাকার অলিগলি, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে হাতে বানানো নেটওয়ার্ক দিয়ে ইন্টারনেট সেবা সরবরাহ শুরু করেন। কেউ পুঁজি পেয়েছিলেন পরিবারের কাছ থেকে, কেউ ধার করে কিন্তু একটি অভিন্ন স্বপ্ন ছিল সবার, মানুষকে যুক্ত করতে হবে জ্ঞানের সাথে।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">এই আইএসপিরাই প্রথম গ্রাহকের দরজায় গিয়ে ফাইবার ক্যাবল লাগিয়েছেন, রাত ৩টায় ডাউন টাইমে দৌড়ে গিয়েছেন লাইন ঠিক করতে। হাজারও ফ্রিল্যান্সার, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীকে দিয়েছেন নির্ভরযোগ্য সংযোগ। বিশেষ করে কোভিড-১৯ মহামারির সময়ে; যখন পুরো দেশ থেমে গিয়েছিল, তখন এই আইএসপি কর্মীরা ঘরে বসে মানুষ যাতে কাজ করতে পারেন, পড়াশোনা ও ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেন- সেই লাইফলাইন হিসেবে কাজ করেছেন। সরকার-প্রণীত ডিজিটাল সেবা, টেলিমেডিসিন, অনলাইন শিক্ষা এবং হোম অফিস তথা রিমোট ওয়ার্কিং সবই সম্ভব হয়েছে এই খাতের নীরব, কিন্তু অপরিহার্য অবদানে।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><span style="color: rgb(10, 137, 17);"><strong>আইএসপি খাতের সামনের চ্যালেঞ্জ</strong></span></div>
<div dir="auto">বাংলাদেশের টেলিকম খাতে বড় একটা পরিবর্তন হতে যাচ্ছে। টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি সম্প্রতি যে খসড়া নীতিমালা প্রকাশ করেছে, তাতে মোবাইল অপারেটরদের এখন থেকে প্রতিষ্ঠানভিত্তিক গ্রাহকদের জন্য তারযুক্ত ব্রডব্যান্ড সেবা দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হতে পারে। (7.3.2 They will use designated radio frequency to connect the end users. But at the same time, when technology allows, and the solutions demand they can also combine both radio and wired access technologies to provide enterprise solutions.) যা হবে দেশীয় উদ্যোক্তাদের মেরে ফেলার প্রথম উদ্যোগ। এমএনওরা (মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটর) ইতিমধ্যে মোবাইল ডেটা, ফিক্সড ওয়্যারলেস একসেস (এফডাব্লিউএ) সেবা দেওয়ার অনুমতি পেয়েছে। যা দিয়ে মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ঘরে-ঘরে ব্রডব্যান্ড সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। এখানেই শেষ নয় স্টারলিংকের মতো আন্তর্জাতিক স্যাটেলাইট-নির্ভর ইন্টারনেট সেবা খুব শিগগিরই বাংলাদেশে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। ফলে, ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতা হবে শুধু দাম বা গতিতে নয়, বরং অভিজ্ঞতা, গ্রাহকসেবা ও প্রযুক্তিতে কে কতটা দক্ষ তার ওপর নির্ভর করে। এই বাস্তবতায় বাংলাদেশের আইএসপিগুলোর সামনে এখন অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><span style="color: rgb(10, 137, 17);"><strong>কেন এই অবস্থা তৈরি হলো</strong></span></div>
<div dir="auto">সমাজের একটা বড় অংশ দোষারোপ করছে আইএসপিদেরকে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকরা অভিযোগ করে আসছেন নিম্নমানের পরিষেবা, নিয়মিত সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, দ্রুত সাপোর্ট না পাওয়া, ঝুলন্ত তার এবং স্বচ্ছ প্যাকেজিং ও বিলিং সিস্টেমের অভাব ইত্যাদি বিষয়কে। অনেক আইএসপি টেকনোলজিতে বিনিয়োগ না করে শুধুই ব্যবসা বাড়ানোর পেছনে ছুটেছে। কিন্তু আইএসপি ব্যবসায়ীদের অনুসন্ধান বলছে আরও কিছু বিষয় রয়েছে, যেমন- ইন্টারনেট ইকো সিস্টেমে প্রতিটি লেয়ারে ভ্যাট, উচ্চকর, উচ্চ রেভিনিউ শেয়ারিং হার, সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল (এসওএফ), অ্যাকটিভ শেয়ারিংয়ের অনুমতি না দেওয়া, পেশি শক্তির ব্যবহার, অবৈধ লাইসেন্সধারীদের উৎপাত। এসব কারণেও এই খাতে একটা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। আইএসপি ব্যবসায়ীরা এসব নিয়ে বেশি চাপে রয়েছেন। ফলে এক ধরনের নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এই খাতে। বিগত বছরগুলোতে ফ্যাসিস্ট সরকার কখনোই উল্লেখিত সমস্যাগুলো সমাধানে কোনও ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এখন আমাদের দেখার বিষয়, এই সমস্যাগুলো বর্তমান সরকার কবে নিরসন করে। নাকি আদৌ করবে না?</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><span style="color: rgb(10, 137, 17);"><strong>আইএসপি খাতের মূল শক্তি কোথায়?</strong></span></div>
<div dir="auto">যদিও চ্যালেঞ্জ বাড়ছে, তবুও বাংলাদেশের আইএসপিগুলোর অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে, যেগুলোর ভিত্তিতে তারা এখনও প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে এবং আগামীতে এগিয়ে যেতে পারে। যেমন:</div>
<div dir="auto"><strong>লোকাল কমিউনিটির সাথে গভীর সংযোগ:</strong> আইএসপিরা স্থানীয় লোকজন, স্থানীয় মার্কেট ও প্রয়োজন সম্পর্কে ভালোভাবে জানে।</div>
<div dir="auto"><strong>দ্রুত রেসপন্স:</strong> মোবাইল কোম্পানিগুলো যেখানে টিকিট সিস্টেমে (সমস্যা সমাধানের জন্য দেওয়া নম্বর) এক সপ্তাহ সময় নেয়, সেখানে আইএসপির একজন ফিল্ড টেকনিশিয়ান একটি ফোন কল পেয়ে ৩০ মিনিটের মধ্যে উপস্থিত হন। এটি শুধু সার্ভিস নয়, এটি সম্পর্ক। </div>
<div dir="auto"><strong>সাধ্যের মধ্যে মান: </strong>আজও দেশের সবচেয়ে কম খরচে আনলিমিটেড ব্রডব্যান্ড সেবা দিচ্ছে আইএসপিরা। যেখানে ৫০০ টাকায় ১০ থেকে ১৫ এমবিপিএস গতি পাওয়া যায়, যা বিশ্ব দরিদ্র দেশের মানদণ্ডেও প্রশংসাযোগ্য।</div>
<div dir="auto"><strong>নির্ভরযোগ্যতা: </strong>অনেক ক্ষেত্রে লোকাল ফাইবারের মাধ্যমে আইএসপিরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিতে পারে, যেখানে মোবাইল ডেটা ব্যস্ত হয়ে পড়ে।</div>
<div dir="auto"><strong>গ্রাহকের আস্থা:</strong> যে পরিবারে ৮ বছর ধরে একই আইএসপি সেবা দিচ্ছে সেখানে নতুন এমএনও এলেও মানুষ ভাবেন—ওদের ছেলে তো গত মাসে এসেছিলো, খুব ভালো সার্ভিস দেয়। এই ধরনের ব্র্যান্ড লয়ালটি তৈরি করতে বছরের পর বছর লাগে।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><span style="color: rgb(10, 137, 17);"><strong>আইএসপিদের করণীয় কী</strong></span></div>
<div dir="auto"><strong>বাঁচতে হলে বদলাতে হবে:</strong></div>
<div dir="auto">এখন প্রশ্ন হলো, আইএসপি খাত কি শেষ হয়ে যাচ্ছে? উত্তর হলো- না। শুধু যদি তারা নিজেদের দ্রুত বদলাতে পারে। তাহলে তারা টিকে থাকবে এবং তা বেশ ভালোভাবেই। পরিবর্তিত বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে নিচের দিক-নির্দেশনাগুলো প্রতিপালন করা জরুরি:</div>
<div dir="auto"><strong>সেবার মান উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে:</strong> </div>
<div dir="auto">আইএসপিদের এখন লো কস্ট, লো কোয়ালিটি মডেল থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। মানসম্মত ব্যাকহল, শক্তিশালী ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক, রিডানডেন্সি এবং সক্রিয় মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এজন্য টেকনোলজিতে বিনিয়োগ জরুরি।</div>
<div dir="auto"><strong>গ্রাহকসেবার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে:</strong> </div>
<div dir="auto">অনেক আইএসপি এখনও গ্রাহক সেবা বলতে বোঝে- কল করলেই কাউকে পাঠিয়ে দাও। এই মানসিকতা বদলাতে হবে। এখন সময় এসেছে পেশাদার গ্রাহকসেবা চালু করার। ২৪/৭ কাস্টমার কেয়ার, স্মার্ট টিকেটিং সিস্টেম, লাইভ চ্যাট, এবং অটোমেটেড সাপোর্ট টুল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন। </div>
<div dir="auto"><strong>প্রযুক্তি ও সফটওয়্যারে দক্ষতা অর্জন করতে হবে:</strong></div>
<div dir="auto">আইএসপিদেরও নিজস্ব সিআরএম, এনএমএস, বিলিং সিস্টেম এবং রিয়েল টাইম অ্যালার্টিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে হবে।</div>
<div dir="auto"><strong>জোটবদ্ধ হয়ে নীতিমালার সংস্কারে অংশ নিতে হবে:</strong></div>
<div dir="auto">আইএসপি ফোরাম, ব্রডব্যান্ড সংগঠন এবং খাত সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্ল্যাটফর্মকে আরও সক্রিয় হতে হবে। নীতিনির্ধারকদের সাথে গঠনমূলক আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে যাতে এমএনও ও আইএসপির জন্য লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত হয়।</div>
<div dir="auto"><strong>ডিজিটাল লিটারেসি ও কমিউনিটি এনগেজমেন্ট:</strong></div>
<div dir="auto">আইএসপিরা চাইলে নিজেদের এলাকাভিত্তিক কমিউনিটি গড়ে তুলতে পারে— যেখানে স্থানীয় ইন্টারনেট ইভেন্ট, সচেতনতামূলক কার্যক্রম বা স্কুলে ডিজিটাল লিটারেসি প্রোগ্রাম চালু করে নিজেদের উপস্থিতি ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো সম্ভব।</div>
<div dir="auto"><strong>নতুন বাজারে আগ্রহী হতে হবে:</strong></div>
<div dir="auto">ঢাকায় প্রতিযোগিতা তীব্র হলেও গ্রামীণ অঞ্চল ও ছোট শহরগুলোতে এখনও বড় সম্ভাবনা রয়েছে। আইএসপিরা চাইলে সেখানে আধিপত্য বিস্তার করতে পারে।</div>
<div dir="auto"><strong>বিকল্প সেবা চালু করতে হবে:</strong></div>
<div dir="auto">আইএসপি মানে শুধু ইন্টারনেট নয়— তার সাথে থাকতে পারে আইপি ফোন, আইপি টিভি, ক্লাউড স্টোরেজ, লোকাল সিডিএন ইত্যাদি। এটি আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি গ্রাহকের সাথে সম্পর্ক গভীর করে।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><span style="color: rgb(10, 137, 17);"><strong>সরকারের করণীয়</strong></span></div>
<div dir="auto"><strong>দেশীয় উদ্যোক্তাদের বাঁচাতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে</strong></div>
<div dir="auto">গত ১৯ এপ্রিল (২০২৫) আইএসপি অ্যাসোসিয়েশন ৫০০ টাকায় ৫ এমবিপিএস গতির পরিবর্তে ১০ এমবিপিএসের ঘোষণা দেয়। তারই ফলশ্রুতিতে ফাইবার অ্যাট হোম সর্বপ্রথম ২১ এপ্রিল (২০২৫) আইআইজি লেয়ার থেকে ১০ শতাংশ এবং এনটিটিএন লেয়ারে ১৫ শতাংশ মূল্যছাড়ের ঘোষণা দেয়। পরবর্তী সময়ে সামিট কমিউনিকেশনস লিমিটেড ২২ এপ্রিল (২০২৫) ইন্টারনেটে ১০ শতাংশ এবং এনটিটিএনে ১৫-২০ শতাংশ মূল্যছাড়ের ঘোষণা দেয়। বাহন লিমিটেড এনটিটিএনে ১০ শতাংশ মূল্যছাড়ের ঘোষণা দেয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, আইএসপি ইন্ডাস্ট্রি ছাড়া আর কেউ তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করেনি তথা এখনও মূল্যছাড় বাস্তবায়ন করেনি। সরকারকেই এই ক্ষেত্রে এগিয়ে আসতে হবে বলে আমি মনে করি।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">
<ul>
<li>ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অ্যাকটিভ শেয়ারিংয়ের অনুমতি প্রদান করতে হবে।</li>
<li>ইন্টারনেট সেবাকে আইটি এনাবল সার্ভিস হিসাবে ঘোষণা দিতে হবে।</li>
<li>ইন্টারনেট সেবার ওপর থেকে সরকারকে রেভিনিউ শেয়ার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।</li>
<li>ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) থেকে সোশ্যাল অবলিগেশন ফান্ড (এসওএফ) আদায় বন্ধ করতে হবে।</li>
</ul>
</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">এখানেই শেষ নয়, এটা একটা নতুন শুরু</div>
<div dir="auto">আইএসপি খাত এখন কঠিন সময় পার করছে। কিন্তু যে খাত ঘরে ঘরে ইন্টারনেট পৌঁছে দিয়ে এক সময় দেশকে তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশে রূপান্তর করেছে, তারা হারিয়ে যাবে এটা সহজে মানা যায় না। বরং এই চ্যালেঞ্জটিকে নতুন করে নিজেদের গড়ে তোলার সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত। আইএসপিদের আছে অভিজ্ঞতা, লোকাল জ্ঞান, ইনফ্রাস্ট্রাকচার এবং গ্রাহকদের আস্থা। এগুলোর ওপর ভিত্তি করেই আইএসপিরা আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">এখন প্রশ্ন একটাই- সরকার কি দেশীয় উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়াবে?</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><strong>লেখক</strong>: মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, আম্বার আইটি লিমিটেড</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"></div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
<div id="«r4jg»" class="html-div xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1n2onr6">
<div class="html-div xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1n2onr6">
<div class="x6s0dn4 x1jx94hy x78zum5 xdt5ytf x6ikm8r x10wlt62 x1n2onr6 xh8yej3">
<div class="xqtp20y x6ikm8r x10wlt62 x1n2onr6">
<div class="x10l6tqk x13vifvy"></div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
<div>
<div class="xabvvm4 xeyy32k x1ia1hqs x1a2w583 x6ikm8r x10wlt62" data-visualcompletion="ignore-dynamic">
<div>
<div>
<div>
<div class="x1n2onr6">
<div class="x6s0dn4 xi81zsa x78zum5 x6prxxf x13a6bvl xvq8zen xdj266r xat24cr xkhd6sd x4uap5 x80vd3b x1q0q8m5 xso031l x16n37ib xq8finb x10b6aqq x1yrsyyn">
<div class="x1c4vz4f x2lah0s xci0xqf"></div>
<div class="x9f619 x1ja2u2z x78zum5 x2lah0s x1n2onr6 x1qughib x1qjc9v5 xozqiw3 x1q0g3np xykv574 xbmpl8g x4cne27 xifccgj x123j3cw xs9asl8"></div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>চীনের মতো আমাদেরও ভাবা উচিত!</title>
<link>https://digibanglatech.news/152616</link>
<guid>https://digibanglatech.news/152616</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p class=&quot;MsoNormal&quot;&gt;&lt;strong&gt;&lt;span lang=&quot;BN&quot; style=&quot;font-size: 14.0pt; line-height: 107%; font-family: &#039;Nirmala UI&#039;,sans-serif; color: #169179; mso-bidi-language: BN;&quot;&gt;পিনাকী ভট্টাচার্য&lt;/span&gt;&lt;/strong&gt;&lt;span style=&quot;font-family: Kalpurush;&quot;&gt;&lt;o:p&gt;&lt;/o:p&gt;&lt;/span&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202504/image_870x580_67f96d854dfb7.jpg" length="95859" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 12 Apr 2025 01:29:19 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div class="html-div xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd">
<div dir="auto" class="html-div xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd">
<div data-ad-rendering-role="story_message" class="html-div xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd">
<div class="x1iorvi4 xjkvuk6 x1ye3gou xn6708d" data-ad-comet-preview="message" data-ad-preview="message" id="«r6mc»">
<div class="x78zum5 xdt5ytf xz62fqu x16ldp7u">
<div class="xu06os2 x1ok221b">
<div class="xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs x126k92a">
<div dir="auto">চীনে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব, গুগল, গুগল ম্যাপ, হোয়াটসঅ্যাপ, এমনকি ক্রোম ব্রাউজারও ব্যান!</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">শুরুতে শুনে বিরক্ত লাগলেও এখন বুঝতে পারছি—ওরা আসলে অনেক আগেই অনেক বড় এক বিপদ থেকে নিজেদের রক্ষা করেছে।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><span class="html-span xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1hl2dhg x16tdsg8 x1vvkbs"><a class="html-a xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1hl2dhg x16tdsg8 x1vvkbs" tabindex="-1"></a></span>আজকের একটি নিউজ দেখে বুকটা কেঁপে উঠল।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"><span style="color: rgb(186, 55, 42);">দেখলাম,<strong> ইসরায়েল এখন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) ব্যবহার করে ফিলিস্তিনি মানুষদের টার্গেট করে হ,ত্যা করছে!</strong></span></div>
</div>
<div>
<div dir="auto"><span style="color: rgb(186, 55, 42);">AI নিয়ে কাজ করি বলেই মাঝে মাঝেই গভীরে ঘাঁটতে হয়, আর সেখান থেকেই একটা কথা নিশ্চিতভাবে বলা যায় AI-এর সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে ডেটা। যত বেশি ডেটা, তত বেশি শক্তিশালী মডেল। আর এই ডেটা আমরা নিজেরাই প্রতিদিন ফ্রিতে দিয়ে যাচ্ছি—একটা বড় মস্ত ভুল করে।</span></div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><span class="html-span xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1hl2dhg x16tdsg8 x1vvkbs x3nfvp2 x1j61x8r x1fcty0u xdj266r xat24cr xgzva0m xhhsvwb xxymvpz xlup9mm x1kky2od"><img height="16" width="16" alt="????" class="xz74otr x168nmei x13lgxp2 x5pf9jr xo71vjh" referrerpolicy="origin-when-cross-origin" src="https://static.xx.fbcdn.net/images/emoji.php/v9/tf3/1/16/1f539.png"></span> আপনি গুগল ম্যাপ ব্যবহার করলেই গুগল আপনার লোকেশন ট্র্যাক করে</div>
<div dir="auto"><span class="html-span xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1hl2dhg x16tdsg8 x1vvkbs x3nfvp2 x1j61x8r x1fcty0u xdj266r xat24cr xgzva0m xhhsvwb xxymvpz xlup9mm x1kky2od"><img height="16" width="16" alt="????" class="xz74otr x168nmei x13lgxp2 x5pf9jr xo71vjh" referrerpolicy="origin-when-cross-origin" src="https://static.xx.fbcdn.net/images/emoji.php/v9/tf3/1/16/1f539.png"></span> ফেসবুক চায় আপনার কনট্যাক্ট লিস্ট, যেন আপনাকে আর আপনার নেটওয়ার্ককে পুরোপুরি চিনে ফেলে</div>
<div dir="auto"><span class="html-span xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1hl2dhg x16tdsg8 x1vvkbs x3nfvp2 x1j61x8r x1fcty0u xdj266r xat24cr xgzva0m xhhsvwb xxymvpz xlup9mm x1kky2od"><img height="16" width="16" alt="????" class="xz74otr x168nmei x13lgxp2 x5pf9jr xo71vjh" referrerpolicy="origin-when-cross-origin" src="https://static.xx.fbcdn.net/images/emoji.php/v9/tf3/1/16/1f539.png"></span> আপনার ফোনে “Ma”, “Baba”, “Boro Vai” নামে সেভ করা নম্বরগুলো থেকেই তারা বুঝে ফেলে কার সাথে আপনার কী সম্পর্ক</div>
<div dir="auto"><span class="html-span xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1hl2dhg x16tdsg8 x1vvkbs x3nfvp2 x1j61x8r x1fcty0u xdj266r xat24cr xgzva0m xhhsvwb xxymvpz xlup9mm x1kky2od"><img height="16" width="16" alt="????" class="xz74otr x168nmei x13lgxp2 x5pf9jr xo71vjh" referrerpolicy="origin-when-cross-origin" src="https://static.xx.fbcdn.net/images/emoji.php/v9/tf3/1/16/1f539.png"></span> আপনার ব্রাউজার (ক্রোম) মনে রাখে সব পাসওয়ার্ড, মেইল, ব্রাউজিং হিস্ট্রি—একদম হাতের মুঠোয় আপনার ডিজিটাল লাইফ!</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">আর আপনি যেসব পারিবারিক ছবি পোস্ট করেন… আপনি ভাবতেই পারবেন না, সেগুলো একেকটা ডেটা পয়েন্ট।</div>
<div dir="auto">একটা যুদ্ধের সময় এগুলোই আপনার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হয়ে দাঁড়াবে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"><strong>এখন প্রশ্ন হলো—উপায় কী?</strong></div>
<div dir="auto"><span class="html-span xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1hl2dhg x16tdsg8 x1vvkbs x3nfvp2 x1j61x8r x1fcty0u xdj266r xat24cr xgzva0m xhhsvwb xxymvpz xlup9mm x1kky2od"><img height="16" width="16" alt="????" class="xz74otr x168nmei x13lgxp2 x5pf9jr xo71vjh" referrerpolicy="origin-when-cross-origin" src="https://static.xx.fbcdn.net/images/emoji.php/v9/t72/1/16/1f538.png"></span> ছোট্ট সমাধান: ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে না দেওয়া</div>
<div dir="auto"><span class="html-span xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1hl2dhg x16tdsg8 x1vvkbs x3nfvp2 x1j61x8r x1fcty0u xdj266r xat24cr xgzva0m xhhsvwb xxymvpz xlup9mm x1kky2od"><img height="16" width="16" alt="????" class="xz74otr x168nmei x13lgxp2 x5pf9jr xo71vjh" referrerpolicy="origin-when-cross-origin" src="https://static.xx.fbcdn.net/images/emoji.php/v9/t72/1/16/1f538.png"></span> বড় সমাধান: আমাদের নিজেদের বিকল্প তৈরি করা—যেমন চীন করেছে।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">চীনের মতো নিজেদের প্ল্যাটফর্ম না বানালে আমরা কখনোই স্বাধীন নই, শুধু আধুনিক দাস! যাদের হাতে আপনার সবকিছু—তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আগে ভাবুন, আপনার শক্তি আসলে কোথায়?</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
<div>
<div class="xabvvm4 xeyy32k x1ia1hqs x1a2w583 x6ikm8r x10wlt62" data-visualcompletion="ignore-dynamic">
<div>
<div>
<div>
<div class="x1n2onr6">
<div class="x6s0dn4 xi81zsa x78zum5 x6prxxf x13a6bvl xvq8zen xdj266r xat24cr xkhd6sd x4uap5 x80vd3b x1q0q8m5 xso031l x16n37ib xq8finb x10b6aqq x1yrsyyn">
<div class="x6s0dn4 x78zum5 x1iyjqo2 x6ikm8r x10wlt62">
<div>
<div class="x1i10hfl xjbqb8w x1ejq31n xd10rxx x1sy0etr x17r0tee x972fbf xcfux6l x1qhh985 xm0m39n x9f619 x1ypdohk xe8uvvx xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x16tdsg8 x1hl2dhg xggy1nq x1o1ewxj x3x9cwd x1e5q0jg x13rtm0m x1n2onr6 x87ps6o x1lku1pv x1a2a7pz x1heor9g xnl1qt8 x6ikm8r x10wlt62 x1vjfegm x1lliihq" role="button" tabindex="0"></div>
</div>
</div>
<div class="x9f619 x1ja2u2z x78zum5 x2lah0s x1n2onr6 x1qughib x1qjc9v5 xozqiw3 x1q0g3np xykv574 xbmpl8g x4cne27 xifccgj x123j3cw xs9asl8"></div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সবকিছুতেই আলো আর আশার ছায়া</title>
<link>https://digibanglatech.news/152615</link>
<guid>https://digibanglatech.news/152615</guid>
<description><![CDATA[ &lt;p class=&quot;MsoNormal&quot; style=&quot;line-height: normal; text-align: justify;&quot;&gt;&lt;strong&gt;&lt;span lang=&quot;BN&quot; style=&quot;font-size: 14.0pt; line-height: 107%; font-family: &#039;Nirmala UI&#039;,sans-serif; mso-fareast-font-family: Calibri; mso-fareast-theme-font: minor-latin; color: #169179; mso-ansi-language: EN-US; mso-fareast-language: EN-US; mso-bidi-language: BN;&quot;&gt;মুহাম্মদ মুস্তফা হুসাইন&lt;/span&gt;&lt;/strong&gt;&lt;/p&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202504/image_870x580_67f95fb91efe4.jpg" length="58112" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 12 Apr 2025 00:30:33 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div class="html-div xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd">
<div dir="auto" class="html-div xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd">
<div data-ad-rendering-role="story_message" class="html-div xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd">
<div class="x1iorvi4 xjkvuk6 x1ye3gou xn6708d" data-ad-comet-preview="message" data-ad-preview="message" id="«r2mv»">
<div class="x78zum5 xdt5ytf xz62fqu x16ldp7u">
<div class="xu06os2 x1ok221b">
<div class="xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs x126k92a">
<div dir="auto">বাংলাদেশে সদ্য সমাপ্ত  বিনিয়োগ সম্মেলন দেখে বেশির ভাগেরই মনটা ভরে গেছে।  উদ্যমী তরুণেরা, আন্তর্জাতিক অতিথিরা, ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি—সবকিছুতেই একটা আলো আর আশার ছায়া। এমন আয়োজন দেশের দরজায় নতুন সম্ভাবনার শব্দ তোলে।</div>
<div dir="auto"></div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">এই <span class="html-span xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1hl2dhg x16tdsg8 x1vvkbs"><a class="html-a xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1hl2dhg x16tdsg8 x1vvkbs" tabindex="-1"></a></span>মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে আমার এক ছাত্রীর কথা—আসরার দামদাম। ২০১৮ সনের সামার এ আমি ওকে সৌদি আরবের Misk ফাউন্ডেশনের একটি বুটক্যাম্প এ যেতে বলি। সিলিকন ভ্যালি তে। সেখানে সে তার আইডিয়ার জন্য প্রথম পুরস্কার পায়। LED আলো দিয়ে সবজি-ফলকে দীর্ঘদিন টাটকা রাখা যাবে। wideband gap সেমিকন্ডাক্টর class এর শুরুতে এই জিনিস শুনে সে এটাকে এপলাই করতে চায় ।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">একটি নির্ভেজাল স্বপ্ন নিয়ে সে বেরিয়ে পড়েছিল। গোটা ১৫ পুরস্কার পেল: MIT TR35, L’Oréal, Forbes, Fast Company, ইত্যাদি ।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">Davos এর world economy forum থেকে শুরু করে নানা সম্মেলনে ডাক পেল, আন্তর্জাতিক মিডিয়াতে উঠে এলো তার নাম। যেখানে প্রফেসর ইউনুস, সেও ঐখানে। এমনকি কিছু দিন আগে বাকুর সম্মেলনেও সে।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">কিন্তু ৬ বছর পর—স্টার্টআপটি মোড থেকে সে বের হতে পারে নি। কোনও প্রোডাক্ট ও হয় নি ।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">কিছু দিন আগে জিজ্ঞেস করে জানলাম যা আমি তখন ভেবেছিলাম—আইডিয়া টা বড্ড সোজা ছিল, হয়তো বাজার আর বাস্তবতা ঠিকঠাক মিলছিল না।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">তবু আমি আসরারের সাহসকে সম্মান করি। কারণ সে শুরু করেছিল। তিন সপ্তাহে আগে একটা রেকমেন্ডেশন লেটার লিখলাম MBA করবে যদিও পিএইচডি আছে। ২০১৮ তে আমার সাথে MS করলে ও একটা পেপার লিখে Applied Physics Letter এ। যেটা Editor’s Choice হয় ।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">বাংলাদেশের তারুণ্যের বুকের সাহস আর উদ্দীপনা আশা জাগানিয়া হলেও আমাদের পুরো বিশ্ব থেকে কিছু জিনিস শেখার আছে। কারণ আমাদের স্বপ্ন বিশ্ব জয়ের।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">সৌদি আরব Misk, GITEX, LEAP-এ হাজারো কোটি ডলার ব্যয় করেছে, কিন্তু আজও একটা বিশ্বমানের টেক ব্র্যান্ড তৈরি করতে পারেনি।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">ভারত Startup India চালু করে অসংখ্য স্টার্টআপ নিবন্ধন করেছে, কিন্তু গভীর উদ্ভাবনের ঘাটতি এখনো প্রবল। এদের NRI নেটওয়ার্ক কিন্তু অনেক শক্তিশালী।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, তুরস্ক—সবাই বিনিয়োগ করেছে, ইনফ্রাস্ট্রাকচার গড়েছে, কিন্তু প্রকৃত গ্লোবাল ইম্প্যাক্ট খুব সীমিত।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">কিন্তু দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান অন্যরকম পথ ধরেছে:</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">দক্ষিণ কোরিয়ার Samsung, LG, SK hynix বিশ্বকে দেখিয়ে দিছে ধৈর্য, গবেষণা আর জাতীয় ঐক্য দিয়ে কীভাবে উদ্ভাবন গড়ে তোলা যায়।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">তাইওয়ানের TSMC আজ শুধু একটি কোম্পানি নয়—একটি কৌশলগত শক্তি, যা এসেছে নীরব, দৃঢ়, এবং গভীর প্রস্তুতি থেকে।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">তাহলে বাংলাদেশ কী করবে?</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">তাই তারুণ্যকে বলি,</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto">১। তোমার ধারণা সুন্দর—তবে একটু গভীরভাবে ভাবো আইডিয়া টি মৌলিক কিনা ।</div>
<div dir="auto">২। hype-এর মাঝে কিছু মৌলিকতা, কিছু নীরব অধ্যবসায় যুক্ত করো ।</div>
<div dir="auto">৩। Showcase করো, অবশ্যই—but build to last.</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">চোর জয়ের স্টার্টআপের হিড়িক নয়, আমাদের চিন্তার, উদ্ভাবনের, আর পরিবর্তনের দেশ হতে হবে । আইডিয়া গুলি শুনেই দুনিয়ার মানুষ বলবে, “বাহ আগেতো কখনও এভাবে ভাবিনি!” বিশ্ব জয়ের মতো আইডিয়া হলে, বিশ্ব আমাদের উপর নির্ভর করবে, তখন অনেককে কান ধরে উঠা বসা করানো যাবে।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">এলন মাস্ক, জাকারবার্গ, বেজোস, ল্যারি paige, জাওয়াদ করিম, সাল খান, স্ট্যানফোর্ড হার্ভার্ড প্রিন্সটন mit থেকে পড়ছে - ডিগ্রী নিক আর না নিক, অতটুকু পর্যন্ত গেছে, ওই উদ্ভাবনের ইকোসিস্টেম এ হাতে খড়ি । এটি অসম্ভব গুরুত্বপূর্ণ ।</div>
</div>
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">আমার আরেক ছাত্র ফাহাদ চট্টগ্রামের ছেলে বার্কলে থেকে পোস্টডক করে নিজের স্টার্টআপ কে ঠেলে নিচ্ছে। নাসা’র টাকায় শুরু, তারপর বিভিন্ন জায়গা থেকে ধীরে ধীরে টাকা তুলে এগুচ্ছে। গ্যাস সেন্সর বানায় যেটা ইলেকট্রিক ভেহিকল এর ব্যাটারী এর নিরাপত্তার জন্যে প্রয়োজন। সলিড আইডিয়া । কিন্তু এর জন্য পড়ালেখা তা পোক্ত করতে হইছে। কপি অথবা সার্ভিস গ্লোবাল মার্কেট এ টেকা কষ্টকর । তাই আবারও STEM or extinction. Substance over apperance.</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
<div>
<div class="xabvvm4 xeyy32k x1ia1hqs x1a2w583 x6ikm8r x10wlt62" data-visualcompletion="ignore-dynamic">
<div class="x1n2onr6">
<div class="x6s0dn4 xi81zsa x78zum5 x6prxxf x13a6bvl xvq8zen xdj266r xat24cr xkhd6sd x4uap5 x80vd3b x1q0q8m5 xso031l x16n37ib xq8finb x10b6aqq x1yrsyyn">
<div class="x6s0dn4 x78zum5 x1iyjqo2 x6ikm8r x10wlt62"></div>
<div class="x9f619 x1ja2u2z x78zum5 x2lah0s x1n2onr6 x1qughib x1qjc9v5 xozqiw3 x1q0g3np xykv574 xbmpl8g x4cne27 xifccgj x123j3cw xs9asl8">বুয়েটের ছেলে ইমতিয়াজ হুমায়ুন, ছোটবেলা থেকেই মানুষের মস্তিষ্ক আর চিন্তার জগৎ নিয়ে ছিল অদম্য কৌতূহল। সেই কৌতূহলই তাঁকে নিয়ে গেল রাইস বিশ্ববিদ্যালয়ে, যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে কম্পিউটার সায়েন্সে গবেষণা করতে গিয়ে ইমতিয়াজ ফাটিয়ে ফেলছে, বদলে দিতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) জগৎ — এর নাম “grokking”।</div>
<div class="x9f619 x1ja2u2z x78zum5 x2lah0s x1n2onr6 x1qughib x1qjc9v5 xozqiw3 x1q0g3np xykv574 xbmpl8g x4cne27 xifccgj x123j3cw xs9asl8">
<div dir="auto" class="html-div xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd">
<div data-ad-rendering-role="story_message" class="html-div xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd">
<div class="x1l90r2v x1iorvi4 x1ye3gou xn6708d" data-ad-comet-preview="message" data-ad-preview="message" id="«r2bd»">
<div class="x78zum5 xdt5ytf xz62fqu x16ldp7u">
<div class="xu06os2 x1ok221b">
<div class="x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r x1vvkbs xtlvy1s x126k92a">
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">“Grokking” মানে শুধু শিখে ফেলা না, বরং গভীরভাবে উপলব্ধি করে ফেলা — যেন এক অন্তর্দৃষ্টির মতো। ইমতিয়াজ দেখিয়েছে, কীভাবে ডিপ নিউরাল নেটওয়ার্কগুলো প্রাথমিক শেখার পরেও <span class="html-span xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1hl2dhg x16tdsg8 x1vvkbs"><a class="html-a xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1hl2dhg x16tdsg8 x1vvkbs" tabindex="-1"></a></span>অপ্রত্যাশিতভাবে নতুন নতুন জিনিস বুঝে ফেলতে পারে — এক বিস্ময়কর বুদ্ধিমত্তা নিয়ে। এই আবিষ্কার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে আরো দক্ষ, শক্তিশালী এবং মানব-মস্তিষ্কের মতো করে গড়ে তুলতে পারে।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto"></div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
<div id="«r2be»" class="html-div xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1n2onr6">
<div class="html-div xdj266r x11i5rnm xat24cr x1mh8g0r xexx8yu x4uap5 x18d9i69 xkhd6sd x1n2onr6">
<div class="xmjcpbm x1n2onr6">
<div class="x1nb4dca x1q0q8m5 xso031l xd10rxx x17r0tee x1exxf4d x13fuv20 x178xt8z x78zum5 x1q0g3np x1n2onr6">
<div class="x6s0dn4 x78zum5 x88h70y xw2csxc x1odjw0f xyamay9 x1pi30zi x1l90r2v x1swvt13" id="«r2bs»">
<div class="x78zum5 xdt5ytf xz62fqu x16ldp7u">
<div class="xu06os2 x1ok221b"></div>
<div class="xu06os2 x1ok221b"><strong>লেখক : </strong>অধ্যাপক, পারডু বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিয়ানা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>স‌্যামসাংয়ের বি‌লিয়ন ডলা‌রের বি‌নি‌য়োগ ফি‌রে যাওয়ার নেপ‌থ্যে</title>
<link>https://digibanglatech.news/152648</link>
<guid>https://digibanglatech.news/152648</guid>
<description><![CDATA[ &lt;h2 style=&quot;margin-top: 0in; background: white;&quot;&gt;&lt;span style=&quot;color: rgb(22, 145, 121);&quot;&gt;&lt;b&gt;&lt;span lang=&quot;AR-SA&quot; style=&quot;font-size: 16pt; font-family: &#039;Shonar Bangla&#039;, serif; letter-spacing: -0.15pt;&quot;&gt;মাহবুব কবীর মিলন&lt;/span&gt;&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;span style=&quot;font-size: 16.0pt; font-family: &#039;Arial&#039;,sans-serif; color: black; letter-spacing: -.15pt;&quot;&gt;&lt;o:p&gt;&lt;/o:p&gt;&lt;/span&gt;&lt;/h2&gt; ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202504/image_870x580_67fb523a65c10.jpg" length="98201" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 11 Apr 2025 11:52:27 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>সালটা সম্ভবত ২০১২/’১৩ সালের দিকে। আমি তখন চট্টগ্রাম বিনিয়োগ বোর্ডের পরিচালক পদে। দীর্ঘ দিন ছিলাম সেখানে। এক নাগাড়ে প্রায় সাড়ে আট বছর। আমাদের চেয়ারম্যান ছিলেন তখন ড. এস এ সামাদ স্যার। নামকরা এবং তুখোড় সিএসপি অফিসার। চট্টগ্রামে জেলা প্রশাসক থাকাকালীন মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছিলেন। ওনাকে এত ভয় পেতাম যে, ধারে কাছেও ঘেষতাম না। অত্যন্ত কম কথা বলতেন। শুধু জিজ্ঞেস করলে উত্তর দেয়া ছাড়া কোনো শব্দ উচ্চারণ করতাম না।</p>
<p>স্যার একবার অফিসিয়াল কাজে গেলেন চট্টগ্রাম। তিনি ঢাকার বাইরে পুলিশ প্রটেকশন পেতেন। প্রতিমন্ত্রীর পদ মর্যাদায় ছিলেন। ওনাকে রিসিভ করে ওনার গাড়িতে তুলে দিয়েই প্রায় পালিয়ে আমার গাড়ির দিকে রওনা দিতেই উনি ডেকে ওনার গাড়িতে পাশে বসার জন্য বললেন। আল্লাহর নাম জপতে জপতে ওনার পাশে ঘাপটি মেরে বসলাম।</p>
<p>উনি মাঝে মাঝে কথা বলছেন, আমি ছোট্ট করে উত্তর দিচ্ছি। চট্টগ্রামের বিনিয়োগ পরিস্থিতি এবং সমস্যা নিয়ে জানতে চাইলেন। বললাম, চট্টগ্রামে জায়গার অভাবে বিদেশি বিনিয়োগ ব্যহত হচ্ছে স্যার। ইপিজেড এর সব জমি শেষ হয়ে যাওয়ায় সমস্যাটা বেশি হচ্ছে।</p>
<p>এবার অতি উৎসাহে সুযোগ পেয়ে হঠাৎ করে বলে বসলাম, কোরিয়ান ইপিজেড এর খবর কী স্যার। চট্টগ্রাম ডিসি অফিসে অনেকবার খোঁজ নিয়েছি। ২৫০০ একরের পুরো পেমেন্ট নিয়েছে সরকার, অথচ বহুদিন থেকে ফাইল ঝুলে আছে, জমি রেজিস্ট্রি করে দেয়া হচ্ছে না। এডিসি রেভিনিউ বলেছে, পিএম অফিস থেকে রেজিস্ট্রি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।</p>
<p>তিনি কোনো উত্তর দিলেন না। বুঝলাম, বিব্রত করে ফেলেছি স্যারকে।</p>
<p>কিছুক্ষণ পর হতাশ একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি যা বললেন, তার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিলাম না। যদিও বিষয়টি জানতাম আমরা সবাই। প্রচন্ড আফসোস ছিল আমাদের সবার মাঝে। কিন্তু স্যারের মুখ থেকে শুনে হতভম্ব হয়ে গেলাম।</p>
<p>স্যার বললেন, “মাহবুব মৃত্যু পর্যন্ত একটা আফসোস যাবে না আমার।”</p>
<p>শুধু বললাম স্যার।</p>
<p>“কোরিয়ার স্যামসাং এর মোবাইল কারখানা দেয়ার বিলিয়ন বিলিয়িন ডলারের বিনিয়োগ (এফডিআই) প্রস্তাব ধরে রাখতে পারিনি আমরা। অনেক চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু কারো সাহায্য পাইনি। বাধ্য হয়ে ফিরে গেছে তারা ভিয়েতনামে। আমাদের দাবী পুরণ করা সম্ভব নয় তাদের পক্ষে।”</p>
<p>দাবী কী ছিল, কাদের ছিল, তা আমরা অনেকেই জানতাম। বুকটা দুমড়ে মুচড়ে গেল। দেশের এতবড় ক্ষতি কেউ করতে পারে!!</p>
<p>গাড়ি ছুটে চলেছে শহরের দিকে। আমাদের কারো মুখে কোনো কথা নেই।</p>
<p>২৫০০ একর জমির পুরো টাকা জমা নেয়ার পরেও কেন জমির দলিল করে দেয়া হচ্ছে না, এই বিষয় নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে পিএম অফিস, চেয়ারম্যান পিপিপি (পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশি), চট্টগ্রাম ডিসি অফিস প্রায় ফানাফানা করে ফেলেছিলাম। কারণ সেই সময় এফডিআই বাড়াবার জন্য প্রচুর জমির দরকার ছিল। যেটা ছিল কোরিয়ান ইপিজেড এ। কিন্তু জমির দলিল না হওয়ায় কোনো ইনভেস্টমেন্ট আসছিল না সেখানে।</p>
<p>মজার বিষয় হচ্ছে, এই কোরিয়ান ইপিজেড এর জমি নিয়ে যাদের পিছনেই লেগেছিলাম তাদেরই মুখ চেহারা শুকিয়ে যেত। আর মোবাইল রিসিভ করত না কেউ। পালিয়ে বেড়াত আমার কাছ থেকে।</p>
<p>একবার চট্টগ্রাম ভিজিটে আসলেন সেই সময়ে পিপিপি’র চেয়ারম্যান সাহেব। নাম ভুলে গেছি। সম্ভবত ইংল্যান্ড থেকে তাঁকে আনা হয়েছিল। তিনি বসতেন পিএম অফিসে। প্রধানমন্ত্রীর সাথে তাঁর খুব ভাল সম্পর্ক। তাই দেখা হবার পর তাঁকে কোরিয়ান ইপিজেড নিয়ে বললাম। তিনি সম্ভবত বিষয়টি জানতেন না। আমাকে কথা দিলেন এবং বীর দর্পে ঘোষণা দিলেন, ঢাকা ফিরে গিয়েই জমি রেজিস্ট্রি করার ব্যবস্থা করে দেবেন। এক সপ্তাহ পর তাকে ফোন দেয়ার জন্য বললেন।</p>
<p>আমার আনন্দের সীমা নেই। কিন্তু আমি মোটেই বুঝতে পারনি, উনি আর আমার ফোন ধরবেন না কোনোদিন। দেখাও হয়নি আর।</p>
<p>কার নির্দেশে আটকে রাখা হয়েছিল জমির রেজিস্ট্রি, তা ভাল করেই জানতাম। এরপরেও অনবরত চেষ্টা করে গিয়েছিলাম।</p>
<p>এর অনেক বছর পর ভিয়েতনাম, মায়ানমার, মালয়েশিয়াকে টেক্কা দিয়ে আমাদের এফডিআই বাড়াবার জন্য একটা পরামর্শ ফেসবুকে লিখেছিলাম। এরজন্য মামলা করা হয়েছিল আমার বিরুদ্ধে। সেটার কাহিনী আর একদিন বলব।</p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>টেলিকম খাত সংস্কার : সমসাময়িক ভাবনা</title>
<link>https://digibanglatech.news/152290</link>
<guid>https://digibanglatech.news/152290</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202503/image_870x580_67e281d36d6c1.jpg" length="110697" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 25 Mar 2025 14:21:57 +0600</pubDate>
<dc:creator>লোকাল ডেস্ক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p>সম্প্রতি বিটিআরসি নেটওয়ার্ক টপোলজি ও লাইসেন্সিং রেজিম শিরোনামে টেলিকম নীতিকে পুনর্গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে এবং তড়িঘড়ি করে দুটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়। প্রস্তাবিত টপোলজি বিদ্যমান টেলিকম লাইসেন্সধারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই তৈরি করা হয়েছে, যেখানে একতরফাভাবে আইজিডব্লিউ (IGW), আইসিএক্স (ICX), আইআইজি (IIG) এবং অন্যান্য বেশকিছু দেশীয় লাইসেন্স বাতিল করার পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং বেশির ভাগ লাইসেন্স এমএনও (MNO) অর্থাৎ মোবাইল নেটওয়ার্ক অপারেটরদের প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এটি মূলত বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে একটি ‘ইউনিফাইড লাইসেন্স’ দেওয়ার আরেকটি রূপ।</p>
<p>উল্লেখ্য, ২০০৭ সালে প্রণীত আইএলডিটিএস (ILTDS) নীতির মূল লক্ষ্য ছিল স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা, বৈদেশিক মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ করা, জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা। এই নীতি বাস্তবায়নের ফলে গত দুই দশকে বাংলাদেশের টেলিকম খাত নিরবচ্ছিন্নভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে, যেখানে সেবার মান বা জাতীয় স্বার্থের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। সব লাইসেন্সধারীরা তাদের অবকাঠামো নিয়মিত উন্নত করেছে এবং ৫জি ও অন্যান্য উন্নত ডেটা পরিষেবার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যৎ প্রস্তুত প্রযুক্তিতে পুনঃবিনিয়োগ করেছে। ডিজিটাল রূপান্তরের প্রকল্পগুলো সফলভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, যেখানে কোনো বড় ধরনের নিয়ন্ত্রক বাধার সম্মুখীন হতে হয়নি। সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা যখন সফলভাবে পূরণ হচ্ছে, তখন হঠাৎ এই ধরনের পরিবর্তন হতাশাজনক এবং বহুজাতিক কোম্পানির স্বার্থ রক্ষার ইঙ্গিত বহন করে।</p>
<p>সাম্প্রতিক এই কর্মশালাগুলোতে ‘থিঙ্কট্যাঙ্ক’, শিক্ষাবিদ এবং বহিরাগত পরামর্শকদের ব্যাপক প্রভাব ছিল। এরা টেলিকম নেটওয়ার্ক টপোলজিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার প্রস্তাব করেছে, যা দেশীয় উদ্যোক্তাদের সরিয়ে দেবে। কিন্তু এই পরিবর্তনের পেছনে কোনো গভীর বিশ্লেষণ বা বিদ্যমান লাইসেন্সধারীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কোনো স্বীকৃতিই নেই। উল্লেখ্য, অন্য কোনো দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে আইজিডব্লিউ, আইসিএক্স, আইআইজি স্তর বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল শুধু মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নয়, বরং মূল জাতীয় অবকাঠামো হিসেবে, যা নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রক লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করেছে : (১) কাঠামোবদ্ধ আন্তঃসংযোগের মাধ্যমে সেবার মান বৃদ্ধি এবং নেটওয়ার্ক কনজেশন কমানো। (২) কল ডিটেল রেকর্ড (ঈউজ) ও ডেটা ট্রাফিকের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা (৩) টেলিকম খাতে হাজারো তরুণ প্রযুক্তি পেশাজীবীর কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। (৪) সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি করা। ২০০৮ সালে যেখানে সরকারি রাজস্ব ছিল ৩,৬০০ কোটি টাকা, সেখানে ২০১৮ সালে এটি বেড়ে দাঁড়ায় ৫০,০০০ কোটি টাকায়। আন্তর্জাতিক ভয়েস ট্রাফিক উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেলেও এই নীতির কারণে বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৫৭,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।</p>
<p>যদি বিদ্যমান লাইসেন্সধারীরা আইএলডিটিএস নীতির সব লক্ষ্য সফলভাবে পূরণ করে থাকে, বিটিআরসির সব বিধিবিধান অনুসরণ করে থাকে এবং টানা দুই দশক নিরবচ্ছিন্ন সেবা দিয়ে থাকেÑ তা হলে কেন হঠাৎ করে একটি নতুন টপোলজির প্রয়োজন পড়ছে, যা শিল্পকে অস্থিতিশীল করবে, অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে এবং হাজারো টেলিকম পেশাজীবীকে চাকরি হারানোর ঝুঁকিতে ফেলবে?</p>
<p>পুরো আলোচনা ও কর্মশালায় এটি স্পষ্ট ছিল যে, নিয়ন্ত্রকের দৃষ্টিভঙ্গি মূলত এমএনও (বেশির ভাগ বিদেশি অপারেটর) পক্ষপাতদুষ্ট ছিল। কর্মশালায় বিভিন্ন পক্ষ থেকে প্রবল আপত্তি থাকা সত্ত্বেও (শুধু এমএনও ছাড়া) বিটিআরসি অবাক করে ঘোষণা দেয় যে, ‘প্রস্তাবিত নেটওয়ার্ক টপোলজি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।’ এ ক্ষেত্রে কিছু ঐতিহাসিক বাস্তবতা উল্লেখ করা প্রয়োজন :</p>
<p>(ক) আইএলডিটিএস নীতি এমএনওদের জন্য একমাত্র বাধা ছিল, যা তাদের সমগ্র টেলিকম বাজার দখল করতে দেয়নি। (খ) এই নীতি এমএনওদের গেটওয়ে, অবকাঠামো বা আন্তর্জাতিক স্তরে কোনো উপস্থিতি রাখতে দেয়নি। (গ) ইন্টারকানেকশন (ওহঃবৎপড়হহবপঃরড়হ) সুবিধা এমএনওদের অনিয়মের কারণে তাদের থেকে সরিয়ে নিয়ে স্থানীয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়েছিল।</p>
<p>বলার অপেক্ষা রাখে না, টেলিকম খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি ও সেবার মানোন্নয়নের অন্যতম কারণ হিসেবে এই সংস্কারের অজুহাত দেওয়া হচ্ছে। তবে কিছু বিষয় বিবেচনা করা জরুরি : যেমন- প্রথমত, এমএনওদের অন্যান্য খাতে প্রবেশাধিকার দেওয়া মানেই দক্ষতা বৃদ্ধি হবে না। কারণ তাদের মোবাইল পরিষেবাই আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছেনিÑ উচ্চ চার্জ, কল ড্রপ, নেটওয়ার্ক সমস্যা নিত্যদিনের ঘটনা। তারা নিজস্ব খাতে দক্ষতা আনতে পারেনি, তা হলে অন্যান্য খাতে কীভাবে দক্ষতা আনবে? দ্বিতীয়ত, টেলিকম সেবার মূল চ্যালেঞ্জগুলো আসে মূলত অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক সার্ভিস (অঘঝ) অপারেটরদের সীমাবদ্ধতার কারণে, যা এমএনওদের দায়। তৃতীয়ত, এমএনওরা মোট টেলিকম রাজস্বের প্রায় ৮০% আয় করে, ফলে উন্নয়ন প্রয়োজন হলে সেটি এমএনও খাতেই হওয়া উচিত।</p>
<p>সুতরাং এই পরিপ্রেক্ষিতে কিছু যৌক্তিক প্রশ্ন উঠতে পারে : প্রথমত, বর্তমান টেলিকম কাঠামোর ত্রুটি বিশ্লেষণ করে কি কোনো গবেষণা করা হয়েছে? যদি হয়ে থাকে, তা হলে সেটি কেন প্রকাশ করা হয়নি?</p>
<p>দ্বিতীয়ত, সাধারণত কোনো বড় পরিবর্তনের আগে স্টেকহোল্ডারদের মতামত নেওয়া হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে তা হয়নি, বরং একটি পূর্বনির্ধারিত কাঠামো চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা দেখা গেছে।</p>
<p>তৃতীয়ত, বিদ্যমান কাঠামো পরিশোধন করে একীভূতকরণের পথে এগোনোর পরিবর্তে নতুন পরিবর্তন কেন?</p>
<p>পরিশেষে, টেলিকম লাইসেন্সিং ব্যবস্থার সংস্কারের আগে কিছু মৌলিক প্রশ্নের উত্তর দেওয়া প্রয়োজন-</p>
<p>এক. আমাদের দীর্ঘমেয়াদি টেলিকম পরিকল্পনা কী? আমরা কি প্রতিটি স্তরে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ (ঋউও) দিয়ে দ্রুত উন্নতি চাই, নাকি ধীরে ধীরে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করে বিদেশি কোম্পানিগুলোর নির্ভরতা কমাতে চাই?</p>
<p>দুই. যদি দ্বিতীয় পথটি বেছে নেওয়া হয় (যা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য সবচেয়ে যৌক্তিক), তা হলে সরকার কী কৌশল নেবে? এই কৌশলই লাইসেন্সিং ব্যবস্থা নির্ধারণ করবে।</p>
<p>তিন. বর্তমান লাইসেন্স ব্যবস্থার ওপর একটি বিশদ গবেষণা প্রয়োজন, যা বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে একচ্ছত্র আধিপত্য দেওয়ার পরিবর্তে এটি জাতীয় স্বার্থের জন্য উপযুক্ত কিনা তা নির্ধারণ করা যায়।</p>
<p><strong>লেখক </strong>: ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.), প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাটেল গ্রুপ</p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ইলন মাস্ক, স্টারলিংক ও বাংলাদেশ</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%82%E0%A6%95-%E0%A6%93-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%87%E0%A6%B2%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%82%E0%A6%95-%E0%A6%93-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202502/image_870x580_67af18c0eecd6.jpg" length="51033" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 14 Feb 2025 16:21:41 +0600</pubDate>
<dc:creator>মোঃ হাসিবুর রশিদ</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<p><span lang="BN-BD">দুনিয়ায় আনাচে কানাচে স</span>‍<span lang="BN-BD">্যাটেলাইট কমিউনিকেশনের মাধ্যমে হাই </span>স্পি<span lang="BN-BD">ড ইন্টারনেট সেবা </span>দিতে স্টা<span lang="BN-BD">রলিংক বানিয়ে</span>ছেন<span lang="BN-BD"> ইলন মা</span>স্ক। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষ পথে<span lang="BN-BD"> ছোট ছোট </span>লো আর্থ অরবিট ( LEO) <span lang="BN-BD">স</span>‍<span lang="BN-BD">্যাটেলাইট দিয়ে ফুট প্রিন্ট তৈ</span>রি<span lang="BN-BD"> করেছে। পৃথিবীর যে স</span>ব<span lang="BN-BD"> অ</span>ঞ্চ<span lang="BN-BD">লে মোবাইল বা অপটিক</span>‍<span lang="BN-BD">্যাল ফাইবারের মাধ</span>‍<span lang="BN-BD">্যমে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট পৌঁছাতে পারেনি বা সাবমেরিন </span>ক্যা<span lang="BN-BD">বল সংযোগ হয়নি</span>;<span lang="BN-BD"> সেই সব অ</span>ঞ্চ<span lang="BN-BD">লে স্টারলিংক দিয়ে খুব সহজেই দ্রুত গতির ইন্টারনেট সেবা </span>দেয়া<span lang="BN-BD"> যায়। লক্ষ্য অনুযায়ী</span>,<span lang="BN-BD"> </span>তারা <span lang="BN-BD">যত বেশী দেশে যত বেশী গ্রাহককে সেবা দিতে পারবে তাদের রাজস্ব তত বেশী বৃদ্ধি পাবে এবং বিনিয়োগ উঠে আসবে। </span><o:p></o:p></p>
<p><o:p> </o:p></p>
<p><span lang="BN-BD">২০১৬ সালের দিকে ইলন মাস্কের আগে গুগলের বিনিয়োগে </span>SES Network O3b( Other 3 Billion) <span lang="BN-BD">নামের আরও একটি কোম্পানি প্রায় ১২-১৩টি </span>লিও <span lang="BN-BD">স</span>‍<span lang="BN-BD">্যাটেলাইট </span>উন্মোচন<span lang="BN-BD"> করেছিল। তাদের ট</span>‍<span lang="BN-BD">্যাগ লাইন ছিল “</span>Fiber in the Sky”<span lang="HI">। </span><span lang="BN-BD">পৃথিবীর প্রায় তিন বিলিয়ন জনসংখ্যা অপটিক্যাল ফাইবার ব্রডব্যান্ড সংযোগের আওতার বা</span>ই<span lang="BN-BD">রে থাকায় তাদেরকে সেবা দেয়ার উদ্দেশ্যেই এই কোম্পানি শুরু হয়েছিল। তারা প</span>‍<span lang="BN-BD">্যাসিফিক ও আটলান্টিক মহাসাগর অ</span>ঞ্চ<span lang="BN-BD">লের দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোকে টার্গেট করে ব্যবসা শুরু করেছিল। কিন্ত তাদের কার্যক্রম বে</span>শি <span lang="BN-BD">দিন চোখে পড়েনি । </span><o:p></o:p></p>
<p><o:p> </o:p></p>
<p><span lang="BN-BD">স্টারলিংক বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশেসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সেবা </span>দেয়ার<span lang="BN-BD"> চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু টেলিযোগাযোগ খাত একটি নিয়ন্ত্রিত খাত হওয়ায় প্রত্যেকটা দেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিয়েই তাদের সেবা চালু করতে হয়। দক্ষিণ এশিয়ার মধ</span>‍<span lang="BN-BD">্য এখন পর্যন্ত শ্রীলংকা অনুমোদন দিয়েছে। নেপাল প্রায় দিবে দিবে করছে। ভারত ও পাকিস্তানে বার বার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। হয়তো </span>আইনি বাধা ( Lawful Interception) সংক্রান্ত <span lang="BN-BD">কোন ইস</span>‍<span lang="BN-BD">্যু । শ্রীলংকা যেহেতু ছোট ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত একটি রা</span>ষ্ট্র, তাই<span lang="BN-BD"> তাদের জন্য সহজলভ্য </span>ও<span lang="BN-BD"> উপযুক্ত </span>প্রযুক্তি হবে <span lang="BN-BD">স</span>‍<span lang="BN-BD">্যাটেলাইট। </span><o:p></o:p></p>
<p><o:p> </o:p></p>
<p>স্টারলিংক এর<span lang="BN-BD"> ওয়বসাইট জানাচ্ছে</span>, <span lang="BN-BD">বাসাবাড়ির জন</span>‍<span lang="BN-BD">্য বর্তমানে স্টারলিংকের মাসিক আনলিমিটেড স্ট্যান্ডার্ড প</span>‍<span lang="BN-BD">্যাকেজ ৭৫ ডলার বা প্রায় ৯০০০টাকা এবং স্যাটেলাইট ডিস (কিট) এর জন্য এককালীন প্রায় ৪৫</span>,<span lang="BN-BD">০০০ টাকা। বাংলাদেশ থেকে শুধুমাত্র ৯ ডলার দিয়ে প্রি-অর্ডার করা যাচ্ছে। কিন্তু মাসিক চার্জের ব</span>‍<span lang="BN-BD">্যপারে স্পষ্ট কিছু নাই। রেগুলেটরি অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৫ সালের প্রথম দিক থেকে পাওয়া যাবে।</span><o:p></o:p></p>
<p> <o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN-BD">উন্নয়নশীল দেশগুলোর ক্রয় ক্ষমতা বিবেচনায় বাজারে প্রবেশের জন্য তারা বিশেষ মূল্য ছাড় দিয়ে প</span>‍<span lang="BN-BD">্যাকেজ তৈরী করছে। কয়েক মাস আগে একটা নিউজে দেখেছিলাম নাইজেরিয়ান রেগুলেটর স্টারলিংকের সেবার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কার</span>ণ-<span lang="BN-BD"> স্টারলিংক অনুমোদন ছাড়াই সেখানে ২৫ ডলারের ( প্রায় ৩০০০ টাকা) মাসিক আনলিমিটেড চার্জ থেকে প্রায় ৪৮ ডলারে (৫৭৬০ টাকা) বৃদ্ধি করে ফেলেছে। </span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN-BD">ক্রয় ক্ষমতা বিবেচনায় বাংলাদেশে বাসাবাড়িতে মাসিক ৫০০ টাকা দিয়ে সর্বনিম্ন প্যাকেজের ফিক্সড ব্রডব্যান্ড সেবা দেয়াই অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। সেখানে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটর খরচ বাসাবাড়িতে কতটা কমাতে পারবে আর সেই দাম কতটুকু ফিজিবল হবে তা দেখার বিষয়। তবে কর্পোরেট মার্কেটে দূরবর্তী অ</span>ঞ্চ<span lang="BN-BD">লে যেখানে ফাইবার </span>নেই,<span lang="BN-BD"> সেখানে খরচ বেশী হলেও তারা অবশ</span>‍<span lang="BN-BD">্যই স্টারলিংকের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নিবে।</span><o:p></o:p></p>
<p><o:p> </o:p></p>
<p><span lang="BN-BD">ইলনমাস্ক বর্তমানে শুধুমাত্র পৃথিবীর </span>শীর্ষ<span lang="BN-BD"> ধনী (৪০২ বিলিয়ন ডলার) ব্যক্তিই নন</span>, <span lang="BN-BD">তিনি পৃথিবীর </span>সবচেয়ে<span lang="BN-BD"> ক্ষমতাশালী রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের খুবই কাছের একজন মানুষ। সরকারের খরচ কমিয়ে ওয়াশিংটনের কাজকর্মে গতি আ</span>নতে<span lang="BN-BD"> প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পে তাকে ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি ( </span>DOGE) বিভাগের <span lang="BN-BD">প্রধান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। যদিও </span>বিষয়টি<span lang="BN-BD"> নিয়ে অনেক সমালোচনা রয়েছে। </span>অবশ্য ইলন মাস্ক<span lang="BN-BD"> একজন সফল মেগা উদ্যোক্তা। </span>তারা<span lang="BN-BD"> অনেক উদ</span>‍<span lang="BN-BD">্যোগের মধ</span>‍<span lang="BN-BD">্যে স্টারলিংক ছাড়াও পেপল</span>, <span lang="BN-BD">টেসলা</span>, <span lang="BN-BD">স্পেসএক্স</span>, <span lang="BN-BD">এক্স</span>, <span lang="BN-BD">দি বোরিং কোম্পানি</span>র নাম এক দমে বলে ফেলা যায়। <o:p></o:p></p>
<p><o:p> </o:p></p>
<p>বৃহস্পতিবার<span lang="BN-BD"> বাংলাদেশের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ইলন মাস্কের সাথে ভিডিও কনফারেন্সে মিটিং করেছেন। বর্তমান সরকারের উচ্চ পদস্থ অনেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশের প্রধান এ রকম একজন প্রভাবশালী ব্যক্তির সংগে মিটিং করেছেন যা খুবই প্রশংসনীয় ।বাংলাদেশে স্টারলিংক স</span>‍<span lang="BN-BD">্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালু করা</span>, <span lang="BN-BD">গ্রামীন টেলিকমের পল্লীফোন</span>, <span lang="BN-BD">মাইক্রো ক্রেডিট</span>, <span lang="BN-BD">গ্রামীণ ব্যাংক ইত্যাদি নিয়ে দু</span>’<span lang="BN-BD">জনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। এই নিউজ নিয়ে বাংলাদেশের অনেকেই অনেক উচ্ছ্বসিত ও উত্তেজিত। আমি একটুও হতে পারছি না। স্টারলিংক বিনিয়োগ করে বসে আছে। রাজস্ব বাড়িয়ে বিনিয়োগ তোলার জন</span>‍<span lang="BN-BD">্য নতুন নতুন দেশে সেবা চালু করে গ্রাহক বৃদ্ধি করতে হবে। স্টারলিংক-কে আগামীকাল অনুমোদন দিলে অল্প দিনের মধ্যেই সেবা দিতে পারবে। ইলন মাস্ক তার নিজের স্বার্থে শুধু স্টারলিংক নিয়েই কথা বলতে চাইবেন</span>, <span lang="BN-BD">এটাই স্বাভাবিক । </span><o:p></o:p></p>
<p><span lang="BN-BD">প্রায় কাছাকাছি সময়ে আরও একটি নিউজ হেডলাইন দেখা যায়</span>, <span lang="BN-BD">মোদির সাথে ইলন মাস্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের তিন উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সাক্ষাৎ। ধান্দাটা বুঝছেনতো! ভারতেও স্টার লিংকের অনুমোদন চায়। ওরা ভাই ব</span>‍<span lang="BN-BD">্যবসার জন</span>‍<span lang="BN-BD">্যই সবকিছু করে।  আমার ব</span>‍<span lang="BN-BD">্যক্তিগত আগ্রহ ছিলো অন</span>‍<span lang="BN-BD">্য জায়গায়। আমাদের প্রধান উপদেষ্টা কেন শুধুমাত্র স্টারলিংক নিয়ে ইলন মাস্কের সাথে কথা বলবেন। ইলন মাস্ককে জিজ্ঞেস করা উচিত ছিল বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপারে তিনি কি ভাবছেন। </span><o:p></o:p></p>
<p><o:p> </o:p></p>
<p><span lang="BN-BD">তিনি কি বাংলাদেশে কিছু বিনিয়োগ করতে চান</span>? <span lang="BN-BD">উনি কি বাংলাদেশে কোন ম</span>‍<span lang="BN-BD">্যানুফ</span>‍<span lang="BN-BD">্যাকচারিং ইউনিট করতে চান</span>? <span lang="BN-BD">বাংলাদেশে কি কোন সফটওয়্যার কোম্পানি করতে আগ্রহী। বাংলাদেশে তার কোন বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং ( বিপিও) করতে চান</span>? <span lang="BN-BD">বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক ইয়ং</span>, <span lang="BN-BD">ট</span>‍<span lang="BN-BD">্যালেন্টেড</span>, <span lang="BN-BD">কর্মঠ জনশক্তি আছে। তাদেরকে সঠিক ট্রেনিং দিলে অনেক সস্তায় দক্ষতার সাথে ইলন মাস্কের অনেক কাজ করে দিতে পারবে। বিনিয়োগ পরিবেশের জন</span>‍<span lang="BN-BD">্য ইলন মাস্ক কি পলিসি সাপোর্ট চান</span>? <span lang="BN-BD">ইত</span>‍<span lang="BN-BD">্যাদি। এইসব ব</span>‍<span lang="BN-BD">্যাপারে কোন আলোচনা হয়ে থাকলে</span> তা উন্মুক্ত হওয়া দরকার<span lang="BN-BD">। </span>এতে উদ্যোগটি অন্তর্ভূক্তিমূলক ও টেকসই হবে। আর<span lang="BN-BD"> ইলন মাস্কের মত কাউকে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারী হিসাবে আনতে পারলে তার পেছনে পেছনে লাইন ধরে অনেক গ্লোবাল কোম্পানিও চলে আসার সম্ভাবনা তৈরী হ</span>বে। <o:p></o:p></p>
<p class="MsoNormal" style="margin-bottom: 0in; text-align: justify; line-height: normal; background: white;"><strong>লেখক</strong>: <em><span lang="BN-BD">সিইও</span>, <span lang="BN-BD">ইন্টারক্লাউড লিমিটেড</span></em></p>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>উদ্যোক্তাদের চ্যালেঞ্জ ‘ফান্ড অব ফান্ডস’  সাহাব উদ্দিন শিপন</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C-%E2%80%98%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1-%E0%A6%85%E0%A6%AC-%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%B8%E2%80%99--%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%A8</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C-%E2%80%98%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1-%E0%A6%85%E0%A6%AC-%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%B8%E2%80%99--%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AC-%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%A8</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202502/image_870x580_67a316785a4e2.jpg" length="205911" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 28 Dec 2024 13:08:47 +0600</pubDate>
<dc:creator>সাহাব উদ্দিন শিপন</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম আমাদের দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য অপার সম্ভাবনা ধারণ করলেও এর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের পথে এখনো অনেক বাধা বিদ্যমান। গত এক দশকে দেশে প্রায় ২,৫০০টিরও বেশি দেশীয় স্টার্টআপ গড়ে উঠেছে, যা প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদান রাখছে। প্রযুক্তি ভিত্তিক নানা উদ্যোগ মানুষের জীবন মানেও এনেছে ব্যাপক পরিবর্তন। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও জীবন মানের অন্তর্ভূক্তিমূলক ও টেকসেই উন্নয়নে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করেছে চলে বেশ কিছু স্টার্টআপ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>দেশের প্রথম ইউনিকর্ন হিসেবে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বিকাশ। রাইড শেয়ারিং ও লজিস্টিকস খাতে প্রযুক্তির অভূতপূর্ব ব্যবহার করেছে পাঠাও। ৭৫ মিলিয়ন ডলার তহবিল সংগ্রহ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের সাপ্লাই চেইন সহজ করছে শপআপ। শহরাঞ্চলে অন-ডিমান্ড সেবা সহজলভ্য করেছে এবং স্টেডফাস্ট লজিস্টিক খাতে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে সেবা.এক্সওয়াইজেড।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>পাশাপাশি, শিখো অনলাইনে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিকীকরণ করছে, চিকিৎসা ডিজিটাল হেলথ কেয়ারের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে, আইফার্মার কৃষকদের আর্থিক সহায়তা ও বাজারে প্রবেশাধিকার সহজ করছে আর ফসল প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের পণ্য সবার নাগালে নিয়ে আসছে। এরই মধ্যে বাংলাড্রপ নামে একটি বাংলাদেশি স্টার্টআপ স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রেতা-বিক্রেতাদের জন্য গ্লোবাল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে, যেখানে আমদানি-রপ্তানির প্রক্রিয়াকে সহজ, দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য করার লক্ষ্য রয়েছে। অন্যদিকে, কঞ্জুমার বাজ নামের একটি এআই-ভিত্তিক প্রযুক্তি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর ব্যবসায়িক প্রসার ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করছে, যার মাধ্যমে ডেটা-ড্রিভেন সিদ্ধান্ত ও বুদ্ধিদীপ্ত সমাধান প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p>এরপরও আন্তর্জাতিক সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে। গ্লোবাল স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ইনডেক্স ২০২৪ অনুযায়ী, ১০০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৩তম । যেখানে ভারত ১৯তম, পাকিস্তান ৭১তম এবং শ্রীলঙ্কা ৭৬তম স্থানে রয়েছে। ঢাকার অবস্থান কিছুটা উন্নতি করে ১৫০টি সেরা শহরের মধ্যে ১৪০তম হলেও, ঢাকাকেন্দ্রিক অর্থনীতি এবং অন্যান্য অঞ্চলে পর্যাপ্ত সুযোগের অভাব অনেক স্টার্টআপের বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।</p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বর্তমানে স্টার্টআপগুলোর প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো তহবিল সংকট। দেশে “ফান্ড অব ফান্ডস” ( এফওএফ ) অনুপস্থিত থাকায় ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডগুলো পর্যাপ্ত সহায়তা পাচ্ছে না। স্টক, বন্ড বা অন্যান্য সিকিউরিটিজে সরাসরি বিনিয়োগ না করে অন্যান্য বিনিয়োগ তহবিলের পোর্টফোলিও ধারণ করার এই ধরনের বিনিয়োগকে প্রায়ই মাল্টি-ম্যানেজার বিনিয়োগ বলা হয়। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে তুলনামূলকভাবে সতর্ক। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের লাইসেন্স ও অনুমোদন সংগ্রহও উদ্যোক্তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। দক্ষ কর্মীর ঘাটতি এবং বড় প্রতিষ্ঠানের উচ্চ বেতন ও চাকরির নিরাপত্তা অনেক মেধাবীকে স্টার্টআপে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখে। তদুপরি, এক্সিট স্ট্র্যাটেজির সীমাবদ্ধতা (যেমন IPO বা শেয়ার বিক্রির সুযোগ কম থাকায়) আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও হ্রাস পায়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:preformatted -->
<pre class="wp-block-preformatted">এই সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রথমেই একটি ‘ফান্ড অব ফান্ডস’ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার, যা দেশের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডগুলোর জন্য তহবিল সংগ্রহের পথ সহজ করবে।<br> সরকারি প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ করে করছাড়সহ স্টার্টআপ-বান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং পেনশন ফান্ড ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের বিনিয়োগের সুযোগ সহজ করতে নীতিগত সংস্কার আনা উচিত।<br> সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ইনকিউবেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করে নতুন উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও অবকাঠামোগত সহায়তা দেওয়া যেতে পারে।<br> এ ছাড়া, এআই, আইওটি এবং ব্লকচেইনের মতো নতুন প্রযুক্তিতে প্রশিক্ষণ চালু করে দক্ষ জনবল তৈরি করার পাশাপাশি, স্টার্টআপগুলোর জন্য পৃথক এসএমই বোর্ড গঠন করে আইপিওর পথও<br> সুগম করা প্রয়োজন। কর্পোরেট কোম্পানিগুলোকে প্রতি বছর অন্তত পাঁচ কোটি টাকা অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টমেন্টে বাধ্যতামূলক করে করছাড় বা ট্যাক্স বেনিফিট দিলে বড় প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ <br>বেড়েই যাবে, পাশাপাশি স্টার্টআপগুলোর মূলধন সংগ্রহও সহজ হবে। কৃষি-প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য-প্রযুক্তি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির মতো সেক্টরে বেশি বিনিয়োগ করলে আন্তর্জাতিক মানের<br> স্টার্টআপ গড়ে তোলা সহজ হবে।</pre>
<!-- /wp:preformatted -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশকে “স্টার্টআপ নেশন” হিসেবে গড়ে তুলতে সাহসী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উদ্যোগ দরকার। সঠিক নীতিমালা, কৌশলগত বিনিয়োগ এবং একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেমের মাধ্যমে বহুজাতিক কোম্পানি ও সফল উদ্যোক্তা তৈরির পথ আমরা পরিষ্কার করতে পারি। ই-ক্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমি নীতিগত সহায়তা, MSME উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিতে কাজ করেছি; অ্যাঞ্জেল ইনভেস্টর হিসেবেও স্টার্টআপগুলোকে সাপোর্ট করতে পেরেছি। এ অভিজ্ঞতা আমাকে বিশ্বাস জোগায় যে, সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে আমাদের তরুণরা অসাধারণ সাফল্য অর্জন করতে সক্ষম। স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড-এর মতো উদ্যোগ জাতীয় সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে বড় ভূমিকা রাখবে। যথাযথ পরিকল্পনা ও পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া অবশ্যই সম্ভব। আর যথাযথ নেতৃত্বে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড আমাদের উদ্যোক্তাদের জন্য এক নতুন যুগের সূচনা করবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক :</strong> সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, ই-ক্যাব</p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>মোবাইল কলের গুণগত মান বাড়ায় ভয়েস ওভার ওয়াইফাই</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%A3%E0%A6%97%E0%A6%A4-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AD%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%B8-%E0%A6%93%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%87----%E0%A6%AE%E0%A7%8B.-%E0%A6%86%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%95</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%A3%E0%A6%97%E0%A6%A4-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%AD%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%B8-%E0%A6%93%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%87----%E0%A6%AE%E0%A7%8B.-%E0%A6%86%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%B2-%E0%A6%B9%E0%A6%95</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202502/image_870x580_67a316bba15ab.jpg" length="66376" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 08 Dec 2024 12:50:37 +0600</pubDate>
<dc:creator>মো. আরিফুল হক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:buttons {"layout":{"type":"flex","justifyContent":"center"}} -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button -->
<div class="wp-block-button"><a class="wp-block-button__link wp-element-button">মো. আরিফুল হক</a></div>
<!-- /wp:button --></div>
<!-- /wp:buttons -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>মোবাইল টেলিকমিউনিকেশনে উচ্চ মানের ভয়েস পরিষেবা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শহর এলাকায় নেটওয়ার্ক কনজেশন, গ্রামীণ এলাকায় অপর্যাপ্ত কাভারেজ এবং ঘরের ভেতরে দুর্বল সিগনালের মতো চ্যালেঞ্জগুলো প্রায়ই কলের অভিজ্ঞতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। এই সমস্যার সমাধানে ভয়েস ওভার ওয়াইফাই (VoWiFi) একটি প্রতিশ্রুতিশীল প্রযুক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশে, যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্কগুলো নানা অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, সেখানে এই প্রযুক্তি কার্যকর হতে পারে। বিশ্বব্যাপী ভয়েস ওভার ওয়াইফাই (VoWiFi) প্রযুক্তি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, এবং অনেক দেশ এটি মোবাইল কলের মান উন্নত করতে এবং নেটওয়ার্ক কাভারেজের সমস্যা সমাধানে ব্যবহার করছে। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে এই প্রযুক্তির উল্লেখযোগ্য প্রসার ঘটেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২০১৪ সালে VoWiFi প্রযুক্তি চালু করেছিল, এবং বর্তমানে দেশটির প্রধান মোবাইল অপারেটররা এটি ব্যবহার করে আসছে। ভারতে Airtel, Jio, এবং Vodafone Idea-এর মতো শীর্ষস্থানীয় অপারেটররা VoWiFi সেবা চালু করেছে, যা বিশেষত ঘরের ভিতরে দুর্বল নেটওয়ার্ক সমস্যা সমাধানে সহায়ক। ইউরোপে, VoWiFi প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে গৃহীত হয়েছে, বিশেষত নেটওয়ার্ক কাভারেজ বৃদ্ধির জন্য। দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপান-এর মতো দেশেও এটি ৫জি নেটওয়ার্কের সঙ্গে সমন্বিতভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা ব্যবহারকারীদের সিমলেস কলের অভিজ্ঞতা প্রদান করছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong><u><span style="text-decoration: underline;">ভয়েস ওভার ওয়াইফাই কী?</span></u></strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>ভয়েস ওভার ওয়াইফাই (VoWiFi) হল এমন একটি প্রযুক্তি যা মোবাইল নেটওয়ার্কের অ্যাক্সেস নেটওয়ার্কের (অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ক হল মোবাইল নেটওয়ার্কের সেই অংশ, যা ব্যবহারকারীর ডিভাইসকে নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করে এবং তাদের কল, ইন্টারনেট ব্যবহার ও অন্যান্য সেবা নিতে সাহায্য করে)  পরিবর্তে WiFi নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভয়েস কল করার সুযোগ দেয়। এটি ভয়েস ওভার LTE (VoLTE)-এর একটি এক্সটেনশন এবং বিদ্যমান টেলিকম অবকাঠামোর সাথে নির্বিঘ্নে সংযুক্ত হয়। VoWiFi এর মাধ্যমে পরিষ্কার ভয়েস কোয়ালিটি, কম কল ড্রপ এবং দুর্বল সিগনালযুক্ত এলাকায় উন্নত সংযোগ সম্ভব হয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:image {"id":147949,"sizeSlug":"full","linkDestination":"none"} -->
<figure class="wp-block-image size-full"><img src="https://digibanglatech.news/wp-content/uploads/2024/12/WhatsApp-Image-2024-12-08-at-12.37.50_d9597dc0.jpg" alt="" class="wp-image-147949"></figure>
<!-- /wp:image -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong><u>বাংলাদেশে</u></strong><strong><u> VoWiFi-</u></strong><strong><u>এর</u></strong><strong><u> </u></strong><strong><u>প্রয়োজনীয়তা</u></strong><strong><u></u></strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশে ঘন জনসংখ্যা এবং দ্রুত ডিজিটালাইজেশনের কারণে VoWiFi প্রযুক্তি গ্রহণের বিশেষ প্রয়োজনীয়তা ও সম্ভাবনা রয়েছে:</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:list {"ordered":true,"type":"1"} -->
<ol type="1"><!-- wp:list-item -->
<li><strong>নগর</strong><strong> </strong><strong>অঞ্চলের</strong><strong> </strong><strong>কনজেশন</strong>: ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে নেটওয়ার্ক কনজেশন সাধারণ সমস্যা। VoWiFi, ভয়েস ট্র্যাফিককে WiFi নেটওয়ার্কে সরিয়ে নেটওয়ার্কের উপর চাপ কমাতে পারে। এতে অতি মূল্যবান রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি (RF) সাশ্রয় সম্ভব হবে। এর ফলে মোবাইল অপারেটররা তাদের গ্রাহকদের স্বল্প মূল্যে উন্নতমানের ভয়েস সেবা প্রদানে সক্ষম হবে।</li>
<!-- /wp:list-item --> <!-- wp:list-item -->
<li><strong>গ্রামীণ</strong><strong> </strong><strong>এলাকায়</strong><strong> </strong><strong>মোবাইল নেটওয়ার্ক কাভারেজের</strong><strong> </strong><strong>ঘাটতি</strong>: মোবাইল নেটওয়ার্কের ব্যাপক বিস্তার সত্ত্বেও অনেক গ্রামীণ ও দূরবর্তী অঞ্চলে মোবাইল নেটওয়ার্ক  কাভারেজের অভাব রয়েছে। সাশ্রয়ী ব্রডব্যান্ড পরিষেবা চালিত WiFi নেটওয়ার্ক ভয়েস কলের বিকল্প চ্যানেল সরবরাহ করতে পারে। ফলে মোবাইল নেটওয়ার্ক  কাভারেজ না থাকলেও গ্রাহকগণ আইএসপি কর্তৃক সরবরাহকৃত ব্রডব্যান্ড চালিত WiFi নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তাদের মোবাইল ভয়েস কল করতে সক্ষম হবে।</li>
<!-- /wp:list-item --> <!-- wp:list-item -->
<li><strong>ঘরের</strong><strong> </strong><strong>ভেতরের</strong><strong> </strong><strong>দুর্বল</strong><strong> </strong><strong>নেটওয়ার্ক</strong>: উঁচু ভবন এবং ঘরের মধ্যে দুর্বল সিগনালের কারণে প্রায়ই ব্যবহারকারীরা সমস্যায় পড়েন। VoWiFi, বাড়ি বা অফিসের WiFi নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এই সমস্যা সমাধান করতে পারে।</li>
<!-- /wp:list-item --> <!-- wp:list-item -->
<li><strong>খরচ</strong><strong> </strong><strong>সাশ্রয়ী</strong>: VoWiFi কলগুলো মোবাইল অপারেটর ও ব্যবহারকারীদের জন্য সাশ্রয়ী।</li>
<!-- /wp:list-item --></ol>
<!-- /wp:list -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong><u>কল</u></strong><strong><u> </u></strong><strong><u>কোয়ালিটির</u></strong><strong><u> </u></strong><strong><u>উপর</u></strong><strong><u> </u></strong><strong><u>প্রভাব</u></strong><strong><u></u></strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:image {"id":147947,"sizeSlug":"full","linkDestination":"none"} -->
<figure class="wp-block-image size-full"><img src="https://digibanglatech.news/wp-content/uploads/2024/12/WhatsApp-Image-2024-12-08-at-12.40.40_cf87c0e4.jpg" alt="" class="wp-image-147947"></figure>
<!-- /wp:image -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>VoWiFi-এর অন্যতম বড় সুবিধা হল ভয়েস কলের মান উন্নত করা। মোবাইল অ্যাক্সেস নেটওয়ার্ককে বাইপাস করে, এটি নিশ্চিত করে:</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:list -->
<ul><!-- wp:list-item -->
<li><strong>এইচডি</strong><strong> </strong><strong>ভয়েস</strong><strong> </strong><strong>কোয়ালিটি</strong>: WiFi এর মাধ্যমে কল করলে ভয়েস কোয়ালিটি স্পষ্ট ও উচ্চমানের হয়।</li>
<!-- /wp:list-item --> <!-- wp:list-item -->
<li><strong>কম</strong><strong> </strong><strong>কল</strong><strong> </strong><strong>ড্রপ</strong>: স্থিতিশীল WiFi নেটওয়ার্ক ব্যবহার করার কারণে কল ড্রপের হার কমে যায়।</li>
<!-- /wp:list-item --> <!-- wp:list-item -->
<li><strong>সিমলেস</strong><strong> </strong><strong>হ্যান্ডওভার</strong>: উন্নত VoWiFi সিস্টেমের মাধ্যমে WiFi এবং মোবাইল নেটওয়ার্কের মধ্যে কল ড্রপ ছাড়াই পরিবর্তন সম্ভব।</li>
<!-- /wp:list-item --></ul>
<!-- /wp:list -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong><u>VoWiFi </u></strong><strong><u>গ্রহণে</u></strong><strong><u> </u></strong><strong><u>চ্যালেঞ্জ</u></strong><strong><u> </u></strong><strong><u>এবং</u></strong><strong><u> </u></strong><strong><u>সমাধান</u></strong><strong><u></u></strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>VoWiFi-এর সুবিধা সত্ত্বেও, বাংলাদেশে এর গ্রহণযোগ্যতায় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে:</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:list {"ordered":true,"type":"1"} -->
<ol type="1"><!-- wp:list-item -->
<li><strong>WiFi </strong><strong>নেটওয়ার্কের</strong><strong> </strong><strong>অভাব</strong>: শহুরে এলাকায় ব্রডব্যান্ড অ্যাক্সেস ব্যাপক হলেও গ্রামীণ এলাকায় WiFi নেটওয়ার্ক এখনো তেমন স্থিতিশীল নয়। গ্রামীণ ব্রডব্যান্ড পরিষেবা সম্প্রসারণের মাধ্যমে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।</li>
<!-- /wp:list-item --> <!-- wp:list-item -->
<li><strong>ডিভাইসের</strong><strong> </strong><strong>সামঞ্জস্যতা</strong>: অনেক পুরোনো স্মার্টফোন VoWiFi সাপোর্ট করে না। সাশ্রয়ী দামে VoWiFi-সাপোর্টেড ডিভাইস সরবরাহ এবং সচেতনতা বৃদ্ধি প্রয়োজন।</li>
<!-- /wp:list-item --> <!-- wp:list-item -->
<li><strong>অপারেটরদের</strong><strong> </strong><strong>প্রস্তুতি</strong>: টেলিকম অপারেটরদের VoWiFi সেবা চালু করতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নত করতে হয়। সুখবর হলো বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটররা ইতোমধ্যে তাদের নেটওয়ার্কে ভয়েস ওভার ওয়াইফাই (VoWiFi) প্রযুক্তির সফল পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।</li>
<!-- /wp:list-item --> <!-- wp:list-item -->
<li><strong>ব্যবহারকারীদের</strong><strong> </strong><strong>সচেতনতা</strong>: VoWiFi এবং এর সুবিধাগুলো সম্পর্কে অনেক ব্যবহারকারী এখনো অজ্ঞ। অপারেটর এবং ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারীদের ব্যবহারকারীদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রচারণা চালাতে হবে।</li>
<!-- /wp:list-item --></ol>
<!-- /wp:list -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>পরিশেষে</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>VoWiFi প্রযুক্তি সকল নাগরিকের জন্য উন্নত মানের ভয়েস সেবা নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে। ভয়েস ওভার ওয়াইফাই (VoWiFi) প্রযুক্তির সফল বাস্তবায়নের জন্য টেলিকম অপারেটর, ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। VoWiFi-সক্ষম ডিভাইসের জন্য ভর্তুকি, গ্রামীণ ব্রডব্যান্ড অবকাঠামোতে বিনিয়োগ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রম এই প্রযুক্তির পূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সহায়ক হবে। বাংলাদেশের মোবাইল অপারেটররা ইতোমধ্যে তাদের নেটওয়ার্কে ভয়েস ওভার ওয়াইফাই (VoWiFi) প্রযুক্তির সফল পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে ফলে বাংলাদেশের জনগন খুব দ্রুতই এই সেবা পেতে পারে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:verse -->
<pre class="wp-block-verse"><strong><em>লেখক: </em></strong>মো. আরিফুল হক- বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি (বিএসসিপিএলসি) -এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার । তিনি এর আগে ওপেরা’র কান্ট্রি ডিরেক্টর, নোকিয়া’র অ্যাকাউন্ট ডিরেক্টর এবং হুয়াওয়ে’র প্রোডাক্ট ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সুদীর্ঘ ১৯ বছরের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি টেলিযোগাযোগ শিল্পে কাজ করছেন।</pre>
<!-- /wp:verse -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল কমার্স কতৃপক্ষ আইন কতটা সহায়ক?</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B8-%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A7%83%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7-%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%95---%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%AE-%E0%A6%B6%E0%A7%8B%E0%A6%AD%E0%A6%A8</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B8-%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A7%83%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7-%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%95---%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A7%80%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A6%AE-%E0%A6%B6%E0%A7%8B%E0%A6%AD%E0%A6%A8</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202502/image_870x580_67a316e9c6bc2.jpg" length="58949" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 01 Dec 2024 22:25:15 +0600</pubDate>
<dc:creator>জাহাঙ্গীর আলম শোভন</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:paragraph -->
<p>ইলেকট্রনিক্স কমার্স শুরু হওয়ার আমেরিকাতে লোকেরা লুফে নিল এই সুযোগ। ফোনকল হোম ডেলিভারী থেকে ইডিআই হয়ে মিনিটেল প্রযুক্তির দ্বারা যখন সাধারণ মানুষ ই-কমার্সের সেবা নিতে শুরু করল। তখন সরকারী এজেন্সি আর কিছু মানুষ ভাবল। বাবারে এ আবার কি জিনিস। পণ্য দেখলাম না, অর্ডার দিলাম, না-চেনা লোককে টাকা দিয়ে না জানি কোন নতুন ঝামেলায় পড়ছে মানুষ। তারই প্রেক্ষিতে ১৯৮৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট এ্যাসেম্বলি ইলেকট্রনিক্স কমার্স এর উপর একটি গণ শুনানী আয়োজন করে। এতে তখনকার বেশকিছু কোম্পানী অংশ নেয় যারা তখন সীমিত পরিসরে ই-কমার্স শুরু করেছে বা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে অথবা ই-কমার্স সেবার জন্য সিস্টেম তৈরী শুরু করেছে। টেলিকমিউনিকেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে পণ্য সেবা বিক্রির অনুমতি আদায়ে তারা যুক্তি তর্ক উপস্থাপন করে তা কতৃপক্ষকে বোঝাতে সক্ষম হয়। এর ফলে ইলেকট্রনিক্স কমার্স সংক্রান্ত একটি আইনি অনুমোদনের মাধ্যমে বিধিবদ্ধ ই-কমার্সের সূচনা হয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশে বিগত ২০২০ ও ২১ সালে করোনাকালীন সময়ে একদিকে এই খাতের বিকাশ সাধারণ পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে ঠিক সে সময়ে কিছু উচ্চাভিলাসী কিংবা সুযোগসন্ধানী ব্যক্তির ঝুঁকিপূর্ণ মডেলে ব্যবসা পরিচালনার কারণে এই খাতে ঝড় বয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ক্রেতা, সরবারাহকারী এবং তথাকথিত সৃজনশীল উদ্যোক্তারাও। তারপর সরকার একে কাঠামোবদ্ধ করার চিন্তা করে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এটি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা। আর প্রযুক্তিতে সাধারণ মানুষের দক্ষতা সমপর্যায়ের হবে না এটাই স্বাভাবিক। আর এই সুযোগটাকে কেউ কাজে লাগিয়েছে। তবে এটা কিন্তু খোদ দূর পশ্চিমেও ই-কমার্সের সূচনাকালে হয়েছে। তবে সেখানকার আইন, বিচার ও আর্থিক কাঠামো ভিন্নতর হওয়ায় সেখানকার দূস্কৃতিগুলো আমাদের মতো হয়নি। বিভিন্ন সূত্রে দেখা যায়, ই-কমার্সের প্রাথমিক যুগে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মাদক বিক্রির জন্য মাদক বেনিয়ারা ই-কমার্সকে বেচে নিয়েছিল। কম্পিউটার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে মারিজুয়ানা বিক্রির ঘটনাটা ১৯৭২ সালে ঘটেছিল। এখনো স্মার্ট চোর ডাকাতের অভাব বিশ্বে নেই। বাংলাদেশ ব্যাংকের একাউন্ট হ্যাক করে শত শত কোটি টাকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনাই এর স্বাক্ষ্য দেয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>যুক্তরাষ্টের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি এবং এমআইটি শিক্ষার্থীদের দ্বারা অনলাইনে গাঁজা বিক্রি হওয়ার রটনাও আছে কিন্তু। সেখানে পরবর্তীতে এ ধরনের পরিস্থিতিতে আর পড়তে হয়নি। ততদিনে সরকার ও আইনি বাহিনী সকলে স্মার্ট ও সচেতন হয়েছে বটে। আমরাও এরকম একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>২০২১ সালে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সর্বপ্রথম একটি আন্ত-মন্ত্রণালয় সভায় এই বিষয়ে আইন ও কতৃপক্ষ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। এই কমিটির ০৩টি সভায় সরকারী বেসরকারী অংশজনদের মতামত নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত গৃহিত হয় যে, এই বিষয়ে আইনের প্রয়োজন নেই তবে পরবর্তীতে কতৃপক্ষ গঠন করা যায়। তবে সাময়িক সমাধান হিসেবে ডিজিটাল কমার্স নীতিমালার ১৮/২/৬ বিধি অনুসারে একটি কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়। যদিও এর আগে ২০১৯ সালের নভেম্বর বাণিজ্য মন্তণালয় ডিজিটাল কমার্স সেল গঠন করে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>২০২৩ সালে একটি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের উচ্চ আদালতের মামলায় বিচারক এই বিষয়ে আইন প্রণয়নের একটি নির্দেশনা দিলে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘‘ডিজিটাল কমার্স আইন ২০২৩’’ প্রস্তাব করে। পরবর্তীতে অংশীজনেরা এধরনের আইনের অপ্রয়োজনীয়তার কথা বলেন এই বিষয়ে তারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের উদাহরণ উপস্থাপন করেন। পাশাপাশি সংগঠিত অপরাধের বিষয়ে অন্যান্য আইনের শাস্তির বিধানের কথা তুলে ধরেন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>ফলে সরকার ডিজিটাল কমার্স আিইন থেকে সরে আসে এবং ডিজিটাল কমার্স কতৃপক্ষ আইন নামে একটি আইনের খসড়া তৈরী করে। সরকারী ও বেসরকারী খাতের ৬ জন বিশেষজ্ঞের একটি কমিটি এই আইনের পান্ডুলিপিটি তৈরী করেন। এর নেতৃত্বে ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহাকারী সচিব জনাব সাইফ উদ্দীন আহমেদ, তাকে সহযোযোগিতা করেন ডিজিটাল কমার্স সেল এর জনাব সাইদ আলী। বাংলাদেশ ব্যাংক, ভোক্তা অধিকার ও অন্যান্য খাতের প্রতিনিধি ছিলেন। বেসরকারী খাতের একমাত্র প্রতিনিধি ছিলেন ই-কমার্স বিষয়ক লেখক ও প্রশিক্ষক জনাব জাহাঙ্গীর আলম শোভন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এই খসড়াটি পরবর্তীতে সকল সরকারী বেসরকারী অংশীজনদের দ্বারা পর্যালোচনা করা হয়। ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) এর বেশকিছু আপত্তি আমলে নেয়া হয়। এই খসড়ার সব বিষয়ে যে, ০৬ জনের সকলে একমত হয়েছেন তা নয়। তবে তারা কাজটি সম্পন্ন করতে পেরেছেন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>সর্বশেষ খসড়া কপি ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করার পর দেখা যাচ্ছে এখনো এখানে কয়েকটা আপত্তিকর এবং ঝুকিপূর্ণ ধারা রয়েছে। বিশেষ করে এমন একটি ধারা রয়েছে যেটি থাকবেনা বলে অংশীজনদের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে। এটি হচ্ছে, দশম অধ্যায়, ব্যক্তিগত দায়মূক্তি। এতে বলা হয়েছে ‘‘ ডিজিটাল বাণিজ্য কতৃপক্ষ অথবা এই আইন বাস্তবায়নের সহিত সংশ্লিষ্ঠ অণ্যকোনো সরকারী প্রতিষ্ঠানের যেকোনো পর্যায়ের কর্মচারী কতৃক ডিজিটাল বাণিজ্য কতৃপক্ষ আইন অথবা এই আইনের অধীনে প্রণীত বিধিমালা কার্যকর করার ক্ষেত্রে সরল বিশ্বাসেকৃত কোনো কার্যক্রমের ফলে কোনো ডিজিটাল মার্কেট প্লাটফর্ম বা মার্কেটপ্লেস বা অনলাইন বিক্রেতা বা ক্রেতার কোনোরুপ ক্ষতি হইলে অথবা ক্ষতি সাধিত হইবার আশংকা তৈরী হইলে উক্ত কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোনো আদালতে মামলা করা যাইবেনা। ‘</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এই ধারা যুক্তিসঙ্গত নয়, কারণ কোনো ব্যক্তিকে জবাবদিহিতার বাইরে রাখা ঠিক নয় এবং যেকোনো পর্যায়ের কর্মকর্তাকে যেকোনো ক্ষমতাও দেয়া ঠিক নয়। তাছাড়া একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সরল বিশ্বাসে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই তাকে কাঠামোর মধ্যে যথেষ্ঠ সাক্ষ্যপ্রমাণ পূর্বক প্রক্রিয়া অনুসরণ করে কাজ করতে হবে। এমনকি তাতেও যদি ভুল হয়ে যায় তার জন্য জবাবদিহিতা থাকা উচিত। তার দ্বারা ঘটিত কাজ ইচ্চায় নাকি অনিচ্ছায় নাকি অন্য কোনো হয়েছে তা তাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে। তবে আদালত বা কোট কাচারিতে যাওয়ার আগে আভ্যন্তরীণ শুনানীর ব্যবস্থা থাকতে পারে। এতে বেশীরভাগ সমস্যা সমাধান সহজ হয়ে যাবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>ষষ্ঠ অধ্যায়ের ধারা ২৩ এবং ১৪ এ পেমেন্ট গেটওয়ে প্রতিষ্ঠানু এবং কুরিয়ার কোম্পানীকে তাদের কাছে চাহিত তথ্য প্রদানে অস্বীকৃতি জানালে বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনো কারণ দর্শানো ব্যতিরেকে তথ্য প্রদান না করলে এসব কোম্পানীর ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা জরিমানা এবং তাদের কম্পিউটার, ল্যাপটপ ইত্যাদি বাজেয়াপ্ত করার বিধান রাখা হয়েছে। অনেকের মতে একটি যুক্তসঙ্গত নয়। তথ্য না দেয়ার ক্ষেত্রে অপরাধের মাত্রা বিবেচনায় শাস্তি কমও বেশী করা যেতে পারে তবে অন্য দপ্তরের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানের নথিজব্দ সমীচিন নহে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>প্রথমত, গেটওয়ে হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনস্থ আর কুরিয়ার কোম্পানী ডাক বিভাগের অথীনে কাজ করে। তাই ভিন্ন দপ্তর কতৃক এ ধরনের আগ্রাসী শাস্তি ভাল দেখাবে না। এছাড়া একটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য না দেয়ার কারণে ডিভাইস জব্দ করা হলে আরো অনেক মানুষের ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাবে। তাই এই ধারাটিও বিলুপ্তির আহবান জানানো হয়েছে। বলাবাহুল্য এই ধারাটির সাথে প্রথম থেকেই আমি দ্বিমত পোষন করে আসছি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>ষষ্ঠ অধ্যায়ের ধারা ১৬তে ডিবিআইডি ছাড়া ব্যবসা করার শাস্তির কথা বলা হয়েছে। এতে প্রথমে ১ লক্ষ টাকা জরিমানার কথা হলেও পরে তা ৫০ হাজার টাকায় কমিয়ে আনা হয়। যদিও এটা নিয়ে ই-কমার্স খাত সংশ্লিষ্ঠদের আপত্তি রয়েছে। তাদের বক্তব্য দুটো কারণে এই শাস্তি এই ক্ষেত্রে এত বেশী হারে প্রয়োগ করা উচিৎ নয়। যেখানে এই খাতে বেশীরভাগ ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা যাদের ট্রেড লাইসেন্স এখনো ৫শ টাকায় পাওয়া যায় সেক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকার বিশষয়টি কিছুটা ভারসাম্যহীন।  এ ধরনের শাস্তি বড়োজোর ট্রেড লাইসেন্স এর সাথে সমন্বয় করে সে পরিমাণ করা যেতে পারে। তাছাড়া ডিবিআইডি বা ব্যবসা বন্ধ করাই যথেষ্ঠ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এছাড়া মনে রাখতে হবে ডিবিআইডি নিয়েও ভোগান্তি রয়েছে। এই সেবাটি এখনো পূর্ণতা পায়নি। এ ব্যাপারে আমিআরো একটা লেখা লিখেছি। পাঠক আন্তজালে খুঁজলে সহজে পেয়ে যাবেন। এই বিষয়ে ইতোপূর্বে আমি একাধিক লেখায় সমস্যাগুলো তুলে এনেছিলাম।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এখানে প্রশ্ন আসে আর্থিক প্রতারণা, ক্রেতা ঠকানো, চুক্তিভঙ্গ এসবের কি হবে? বলা বাহুল্য এসব অপরাধের শাস্তি দেশের প্রচলিত বিভিন্ন আইনে রয়েছে। তাছাড়া ভোক্তার অধিকারের জন্য ভোক্তা অধিকার আইন ২০০৯ এর সংশোধনী চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। অন্যান্য অপরাধের জন্য প্রতিযোগিতা আইন ২০১২তে পর্যাপ্ত সংশোধনীর প্রস্তাব করা হয়েছে। এই দুটো প্রক্রিয়াতেও আমি সম্পৃক্ত। এমনকি ট্রেড লাইসেন্স আইন ২০১৬কে সংশোধন করার জন্য বিগত ২০১৯ সাল থেকে ক্রমাগত অনুরোধ করা হচ্ছে। কেউ জানে না স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের কমে ঘুম ভাঙবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এই আইনটি শুধুমাত্র এমন একটি কতৃপক্ষ গঠনের জন্য যে কতৃপক্ষ অপরাধ সংগঠনের পূর্বে নজরদারী করবে এবং ঘটনার পরেও কাজ করতে পারবে। এখন দেখার বিষয় এই আইনের মাধ্যমে গঠিত কতৃপক্ষ কিভাবে বিষয়গুলো সমাধান করে এবং ভবিষ্যত ই-কমার্সের উন্নয়ন. শৃংখলা বিধান ও ক্রেতা স্বার্থ রক্ষায় কতটা ভূমিকা রাখে। যে ৩ টি ধারার কথা এখানে যুক্তিসহ আলোচনা করা হয়েছে। আশাকরি কতৃপক্ষ এগুলো বিবেচনা করবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>দেশীয় উদ্যোক্তাদের সামাজিক ব্যবসা আইএসপি</title>
<link>https://digibanglatech.news/145616</link>
<guid>https://digibanglatech.news/145616</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202502/image_870x580_67a317d7ca8b2.jpg" length="277776" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 16 Nov 2024 11:06:48 +0600</pubDate>
<dc:creator>সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p></p>
</blockquote>
<!-- wp:paragraph -->
<p>২০১১ সালের ৩ জুন। ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের হিউম্যান রাইটস কাউন্সিল। অবশ্য এই ঘোষণার আগেই এস্তোনিয়া, ফ্রান্স, ফিনল্যান্ড আর কোস্টারিকা ইন্টারনেট ব্যবহারকে মৌলিক অধিকার ঘোষণা করে নিজেদের সংসদে আইনও পাস করে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশেও ইন্টারনেটকে মৌলিক অধিকার স্বীকৃতির পক্ষে জোরালো দাবি উঠেছে। পতিত সরকারের মন্ত্রী থেকে বর্তমান উপদেষ্টাদের কণ্ঠেও মানুষের সেই দাবি আমরা প্রতিধ্বনিত হতে শুনছি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>যদিও চলতি বছরের ১৮ – ২৮ জুলাই নজির বিহীন ইন্টারনেট ব্লাকআউটের ফ্যাসিবাদি অভিজ্ঞতা মৌলক অধিকার লঙ্ঘনের সব সীমাকে ছাড়িয়ে যায়। এরপর অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে আলোচনার কেন্দ্রভাগেই বিষয়টি লাল তালিকায় জায়গা পায়। ইন্টারনেট যেনো কোনো অবস্থাতেই বিচ্ছিন্ন না হয় এবং সবার হাতের নাগালে থাকে সেজন্য আইন করার প্রস্তাবও এসেছে ইতিমধ্যে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এমন পরিস্থিতিতে দেশের ইন্টারনেট সেবা খাতটি জাতীয় কবির ‘ফল বহিয়াছ, পাওনিকো রস, হায় রে ফলের ঝুড়ি, লক্ষ বছর ঝর্ণায় ডুবে রস পায় নাকো নুড়ি।’ লাইনের মতোই লাইন অব ফায়ারে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে। কেননা, মৌলিক এই সেবা খাতটি ‘দেশীয় উদ্যোক্তাদের সামাজিক ব্যবসায়’ হয়েও ক্ষতিকর তামাকজাত পণ্যের বিবেচনার পথে চলতে শুরু করেছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স বা আইএসপি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর চেপে বসছে ‘লাইসেন্স আপগ্রেডেশন বন্ধ’ রাখার যাঁতাকল এবং ‘রেভিনিউ শেয়ার’ও অতিরিক্ত ‘এসওএফ’ ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>যেভাবে সামাজিক ব্যবসায় মডেলে আইএসপি সেবা মুনাফার পরিবর্তে মানবকল্যাণ —বিশেষ করে বিরাজমান দারিদ্র ও আয়বৈষম্য দূর করতে আপাদমস্তক কাজ করছে দেশের আইএসপি খাত। ইতিমধ্যেই দেশের কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তার ইন্টারনেট সেবাকে সামাজিক ব্যবসা হিসাবে নিজের অবস্থান করে নিয়েছে। কেনো না এখনো ইন্টারনেট সেবাকে ব্যান্ডউইথ কিনে বাসায় কানেকশন দেয়ার মতো সরল ব্যবসায় ধারণা করা হয়। তবে ইন্টারনেট ব্যবসায় মোটেই বাতাস বিক্রির মতো কোনো সাধারণ বিষয় নয়। ইন্টারনেট শুধু সংযোগ নয়। ইন্টারনেট একটি ডিজিটাল সেবার ইকোসিস্টেম। এই ইকো সিস্টেমে ধাপে ধাপে ভ্যাল্যু অ্যাড হয়ে সৃষ্টি করে নতুন কর্মসংস্থান, সহজ করে কাজের প্রক্রিয়া; সব নাগরিককে ক্ষমতায়নের সুযোগ করে দিয়ে ঘুচে দেয় দারিদ্রের অভিশাপ। কিন্তু খালি চোখে এর খরচগুলো দৃশ্যমান হয় না।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>অথচ গত তিন বছর ধরে ‘এক দেশ এক রেট’ বাস্তবায়ন নাগরিকের দোরগোড়ায় ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিয়ে এরই মধ্যে বিশ্বে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে দেশের ২৭০০ আইএসপি সেবা দাতারা। এছাড়াও ৩-শূন্য তত্ত্বের যে সামাজিক আন্দোলনের মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা বিশ্বব্যাপী সূচনা করেছেন -এর উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বাংলাদেশের আইএসপি ব্যবসায়ীরা। কেননা, কাজের পরিধি ও ব্যাপ্তিতে প্রান্তিক পর্যায়ে শূন্য বেকারত্ব সৃষ্টিতে অবদান, গ্রিন টেকনোলজি নির্ভর রাউটার, সুইচ ব্যবহারের মাধ্যমে শূন্য কার্বন নির্গমে এগিয়ে থাকা এবং অ্যাক্টিভ শেয়ারিং করে কমন ইনফ্রাস্ট্রাকচার ব্যবহার করে থাকে এই খাতের উদ্যোক্তারা।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>আইএসপির সামাজিক ব্যবসায় মডেলের ফলাফল<br></strong>১) এখন পর্যন্ত নানা লাইসেন্সেরে ঘোরটোপ পেরিয়ে দেশে যেভাবে লাস্টমাইলে ইন্টারনেট সেবা দেয়া হচ্ছে তা ব্যক্তিগত মুনাফাবিহীন কল্যাণকর ব্যবসা মডেলে চলছে।<br>২) ব্যবসায়টি অধিক কর্মী নির্ভর হওয়ায় সাধারণত স্বল্প থেকে উচ্চ শিক্ষিত পর্যায়ে নির্বিশেষে বেকারত্ব ঘুচে দিয়ে সবার অর্থনৈতিক সক্ষমতা অর্জনে ভূমিকা রাখছে। বস্তুত এখানে যারা কাজ করেন তাদের ভালো কাজের পরিবেশ ও চলমান বাজার অনুযায়ী বেতন-ভাতা দেয়া হয়। ফলে যুব সমাজের একটি বড় অংশ এই আইএসপি’র মতো সামাজিক ব্যবসায়ে জড়িয়ে পড়েছেন। অপরদিকে, বেকারত্ব কিংবা হতাশায় নিমজ্জিত হয়ে বিভিন্ন অপরাধ সহ নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়তো।<br>৩) আইএসপি ব্যবসাটি সম্পূর্ণ দেশীয় বিনিয়োগে পরিচালিত এবং মূলধন সুরক্ষাতে ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লেগে যায়। পরিচালন ব্যয় আয়ের সমান, ক্ষেত্র বিশেষে অধিক হয়। ফলে দীর্ঘ যাত্রায় বিনিয়োগকারীরা শুধু তাদের বিনিয়োগকৃত অর্থই ফেরত পান। কার্যত এর বাইরে কোনো প্রকার লভ্যাংশের দেখা পাওয়া দুস্কর।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>৪) লাস্ট মাইলে পর্যাপ্ত এনটিটিএন না থাকায় প্রতিদিনই ক্যাবল কাটা পড়ে। সেই বিচ্ছিন্ন সংযোগ নতুন করে স্থাপন করে শেষ ধাপের বা চূড়ান্ত সেবা দাতা হিসেবে আইএসপিরা সিস্টেম লসের শিকার হন। অর্থাৎ বিনিয়োগকৃত অর্থ ফেরত নেওয়ার পর বিনিয়োগকৃত অর্থের মুনাফা কোম্পানির সম্প্রসারণ কাজেই তাদেরকে খরচ করতে হয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>৫) স্থানীয় পেশী শক্তি মোকাবেলা করতে গিয়ে প্রতিনিয়ত জানমালের ঝুঁকি, জোরপূর্বক নেটওয়ার্ক দখল রোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর ভূমিকার অভাব ইত্যাদি সত্ত্বেও সামাজিক ব্যবসা হিসেবে আনন্দের সঙ্গে ব্যবসায় পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন এই খাতের উদ্যোক্তারা। ফলে অতিমারিতে, ঝর-ঝঞ্ঝা, জলোচ্ছ্বাস; অর্থাৎ মুনষ্য ও প্রকৃতিক দুর্যোগে দমে না গিয়ে বরং সামনের কাতারে থেকেছে এই খাতের যোদ্ধারা।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এই ইন্টারেনট সেবাদাতাদের বদৌলতেই সরকারি সেবার পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন , টেলি-হেলথ, ই-কমার্স এর সুপার হাইওয়েতে চলতে পারছে দেশ। অথচ এই খাতের হাজার হাজার উদ্যোক্তা এবং তাদের উপর নির্ভরশীল কর্মচারীদের উপেক্ষা করে গুটিকয়েক কোম্পানিকে মনোপলি ব্যবসা করার সুযোগ করে দেয় বিগত সরকার। সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আইজিডাব্লিউ অপারেটরদের অবৈধ আইওএফ প্রতিষ্ঠা, কিংবা অতিমাত্রায় লাভের আশায়  মোবাইল অপারেটররা অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসার মাধ্যমে কল টার্মিনেশন এবং সাজা প্রাপ্ত হওয়ার উদাহরণও অতীতে আমাদের সামনে বিদ্যমান। একইভাবে আইএসপি কর্তৃক খুবই জনপ্রিয় IPTV/OTT পরিষেবাকে বন্ধ করার সব রকমের নীল নকশা বাস্তবায়ন করা হয়; যেখানে জনগণ বিদেশি OTT যেমন Netflix, Amazon Prime, YouTube TV অবাধে দেখতে পারছে। অপরদিকে দেশীয় উদ্যোক্তাদের আইপি টিভি এবং ওটিটি প্ল্যাটফর্ম তৈরিতে পদে পদে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে শুধুমাত্র একটি সিন্ডিকেটের হাতে এই ব্যবসাটি তুলে দেওয়ার জন্য। এটা ভুললে চলবে না যে, আইএসপিরা ছোট ব্যবসায়ী হলেও সমষ্টিগতভাবে তারা সব থেকে বড়। লাস্ট মাইল কানেক্টিভিটি শুধুমাত্র আইএসপি-দেরই এখতিয়ার। বিশ্বের উন্নত দেশে আইএসপিরা 4G/5G ফ্রিকোয়েন্সি এলোকেশন নিয়ে ব্রডব্যান্ড এর পাশাপাশি ওয়ারলেস ইন্টারনেট সেবাও দিয়ে থাকে। কিন্তু, আমাদের দেশে এই ধরনের সুযোগ রহিত করে রাখা হয়েছে। এতে করে আইএসপিরা বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। এই সুযোগ ব্যবহার করে মোবাইল অপারেটররা ফিক্সড ব্রডব্যান্ড এরিয়াতে এখতিয়ার বহির্ভূত ব্যবসা করছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>এমন যদি হতো</strong>...</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস ১৯৯৬ সালে গ্রামীণফোন প্রতিষ্ঠা করে নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে প্রথম বাংলাদেশকে চিনিয়ে দেন যেটা একটা সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তরিত হয়েছিল। সেই স্বপ্নের ধারাবাহিকতায় বহু ছোট ছোট উদ্যোক্তা সারাদেশে গ্রামেগঞ্জে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসায় নেমে পড়ে। আজকের দিনে দেশের অগ্রগতিতে অবশ্যই এই যোদ্ধারা জিডিপিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অবদান রাখছে। শুধুমাত্র সরকারের ভুল নীতি এবং কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কূটচালে আন্তর্জাতিক বড় বড় সিডিএম প্রোভাইডাররা যেমন google, facebook, akamai নিজস্ব ডাটা সেন্টার স্থাপন করতে চায়নি। অথচ এই সার্ভিসই আমরা পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে ইমপোর্ট করে আনছি প্রতিবছর ৭০ মিলিয়ন ডলার এর অধিক খরচ করে। নীতি সহায়তা বাদ রেখে বিগত সরকার আইএসপি গুলোর উপরে SOF চাপিয়ে দিয়েছে। টেলিকম ইন্ডাস্ট্রিতে এটা একটি কালো অধ্যায় এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট প্রসারের পথে ষড়যন্ত্রের অংশ বলেই মনে করেন বাজার বিশ্লেষকেরা। আমাদের প্রত্যাশা, অভিভাবক সংস্থা বিটিআরসি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে যৌক্তিকভাবে ছাত্র-জনতা অভ্যুত্থনের সুফল ঘরে ঘরে পৌঁছে দেবেন। একইসঙ্গে বিষয়টি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ডঃ মোঃ ইউনূস সবিনয় দৃষ্টি দেবেন বলেই আমাদের বিশ্বাস।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>আমরা মনে করি, শান্তিতে নোবেলজয়ী প্রধান উপদেষ্টার বৈশ্বিক যোগাযোগ এবং বলিষ্ঠ নেতৃত্ব গুণে অতিসত্বর ফেসবুক এবং গুগলের ডাটা সেন্টার বাংলাদেশের মাটিতেই স্থাপিত হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রয়োজনীয় মুদ্রা নীতি সংস্কার করে PayPal কে বাংলাদেশে উন্মুক্ত করে ফ্রিল্যান্সিং এবং আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রার ইনবাউন্ড প্রবাহ ত্বরান্বিত করবে। সর্বোপরি আইএসপিরা যেহেতু সমাজ উন্নয়ন এবং দারিদ্র দূরীকরণে অনুঘটক হয়ে কাজ করে যাচ্ছে; ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবসাকে সহসাই একটি সামাজিক ব্যবসা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে আইএসপি শিল্পের বিকাশে নীতি সহায়তা, এবং ক্ষেত্র ভেদে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ এই ব্যবসায় জড়িত উদ্যোক্তাদের জন্য এনজিও এবং সিডিউল ব্যাংক কতৃক সহজ কিস্তিতে ঋণ ব্যবস্থা করা হোক। পরিশেষে, যেহেতু আইএসপি একটি সামাজিক ব্যবসা; তাই এটি করের আওতামুক্ত রেখে সহজ পরিচালন, নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের সুযোগ করে দেবে। কেননা শ্রমঘন এই খাতের কর্মীদের বেতন, বোনাস, প্রশিক্ষণ খরচ, স্বাস্থ্য বীমাসহ অন্যান্য সহায়তা দানে সম্পূর্ণ ব্যয় হয়। তাই, আইএসপি লাইসেন্সধারী দেশীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রথম ১০ বছর সরকার প্রদত্ত সকল প্রকার কর এবং রেভিনিউ শেয়ারিং এর আওতার বাইরে থাকা আবশ্যক। আর এটা করা হলে আগামী তিন বছরের মধ্যে প্রতিটি ঘরে ঘরে সিঙ্গাপুরের মত ৫০০ এমবিপিএস ইন্টারনেট সেবা দিতে সক্ষম হবে আইএসপি উদ্যোক্তারা। এটাই একমাত্র পথ ইন্টারনেটের গ্লোবাল ইনডেক্সে বাংলাদেশকে উন্নত দেশের কাতারে মর্যাদার সূচকে এগিয়ে আনার।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক :</strong> উদ্যোক্তা, প্রযুক্তিবিদ এবং সাবেক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট, আইএসপিএবি</p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে গেইম&#45;চেঞ্জার হতে পারে গুগল</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%97-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%AE-%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A6%B2</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%8B%E0%A6%97-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%AE-%E0%A6%9A%E0%A7%87%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%97%E0%A6%B2</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202502/image_870x580_67a3171121b2f.jpg" length="72303" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 26 Oct 2024 13:10:17 +0600</pubDate>
<dc:creator>মো. আরিফুল হক</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:buttons {"layout":{"type":"flex","verticalAlignment":"bottom"}} -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button {"width":50} -->
<div class="wp-block-button has-custom-width wp-block-button__width-50">বেশ দ্রুতই ডিজিটাল প্রবৃদ্ধির অভিজ্ঞতা অর্জন করে চলেছে বাংলাদেশ। ফলে দেশের ক্রমবর্ধমান বাজারে গুগলের মতো বৈশ্বিক প্রযুক্তি জায়ান্টদের মতো প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগের অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। দেশের জনসংখ্যা এবং তাদের মধ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ার কারণে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল অর্থনীতিতে পরিণত হচ্ছে। সম্প্রসারিত প্রযুক্তি ইকোসিস্টেম, সাশ্রয়ী পারিচালন ব্যয় এবং কৌশলগত ভূ-রাজনৈতিক অবস্থানের কারণ্যেই বাংলাদেশে বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা রয়েছে গুগলের। এবার এই কারণগুলোর ওপর একটু নজর দেয়া যাক।</div>
</div>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল বাজার</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ডিজিটাল অর্থনীতির একটি। জনসংখ্যা ১৭ কোটির বেশি এবং ১৪ কোটি মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সাথে যুক্ত হয়েছে অনলাইনে সেবা গ্রহণের আকাশচুম্বী চাহিদা। সাশ্রয়ী মূল্যের মোবাইল ডেটা এবং ক্রমবর্ধমান স্মার্টফোন ব্যবহার বৃদ্ধি ইন্টারনেট ব্যবহারকাীর সংখ্যা বাড়িয়ে তুলছে। এই প্রসারিত ডিজিটাল ল্যান্ডস্কেপ গুগল-এর পরিষেবারর জন্য একটি আদর্শ পরিবেশ বলেই গণ্য হবে। এর মধ্যে রয়েছে ক্লাউড কম্পিউটিং, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন এবং ইউটিউব-এর মতো ভিডিও প্ল্যাটফর্ম।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>উদীয়মান টেক ইকোসিস্টেম</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>প্রযুক্তি ইকোসিস্টেমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে ই-কমার্স, ফিনটেক এবং সফ্টওয়্যার খাতের মাধ্যমে দেশে একটি ক্রমবর্ধমান স্টার্টআপ সংস্কৃতি বিকশিত হচ্ছে। । গুগল এই ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তি-জ্ঞান সমৃদ্ধ কর্মীবাহিনীকে কাজে লাগাতে পারে। একইসঙ্গে তাদের উদ্ভাবনকে উত্সাহিত করতে এবং স্থানীয় কোম্পানিগুলির সাথে সমন্বয় তৈরি করতে পারে। স্থানীয় শিক্ষা, প্রশিক্ষণ প্রোগ্রাম এবং প্রযুক্তিগত পরিকাঠামোতে বিনিয়োগ গুগল-কে এই ট্যালেন্ট পুলকে নিজেদের জন্য কাজে লাগাতে পারে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>অনুন্নত বাজারে বিপুল সম্ভাবনা</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশের অনেক সেক্টর এখনও ডিজিটাল রূপান্তরের প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে, যা গুগলের জন্য অপার সম্ভাবনার ক্ষেত্র হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, কৃষি, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো শিল্পগুলি গুগল-এর ক্লাউড পরিষেবা, এআই টুলস এবং ডিজিটাল সমাধানগুলি থেকে উপকৃত হতে পারে৷ শিক্ষা খাতে, বিশেষ করে, গুগল ক্লাসরুমের মতো অনলাইন লার্নিং প্ল্যাটফর্মের উচ্চ চাহিদা রয়েছে। কারণ অনেক স্কুল এবং প্রতিষ্ঠান ডিজিটালে স্থানান্তরিত হচ্ছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>সাশ্রয়ী পরিচালন ব্যয়</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>অন্যান্য বাজারের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম শ্রম ব্যয়ের কারণে বাংলাদেশে ব্যবসায় পরিচালন ব্যয় বেশ সাশ্রয়ী। অপারেশন সেট আপ করা বা স্থানীয় অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করা, যেমন ডেটা সেন্টার স্থাপনে অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় সাশ্রয়ী হবে। বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) এবং অন্যান্য ব্যাকএন্ড পরিষেবার জন্য বাংলাদেশকে একটি আকর্ষণীয় হাব হিসেবে গণ্য করে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>কৌশলগত ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান ভারত এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মতো বাজারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশ দ্বার। বাংলাদেশে বিনিয়োগের মাধ্যমে গুগল বিভিন্ন অঞ্চলে নিজেদের উপস্থিতি জোরদার করতে পারে, বিশেষ করে প্রতিবেশী উদীয়মান অর্থনীতিতে উন্নত আঞ্চলিক সংযোগ এবং পরিষেবা সরবরাহ নিশ্চিত করতে পারে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>সরকারী প্রণোদনা এবং সহায়তা</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>সক্রিয়ভাবে প্রযুক্তি খাতে সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ (FDI) উৎসাহিত করছে বাংলাদেশ সরকার। কর অবকাশ, সরল নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি এবং অবকাঠামোগত সহায়তা সহ বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদান করছে। গুগল এই অনুকূল বিনিয়োগ নীতিগুলি থেকে বাংলাদেশে কার্যক্রম বাড়াতে গুগল নিজেরাই উপকৃত হতে পারে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>স্থানীয় কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশে বিনিয়োগ করে, গুগল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন এবং প্রযুক্তি ও পরিষেবা খাতে নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে সহায়তা করতে পারে। সফ্টওয়্যার উন্নয়ন, গ্রাহক সহায়তা বা ডিজিটাল সেবা উদ্ভাবনে স্থানীয়দের অন্তর্ভূক্তির মাধ্যমে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার পাশাপাশি টেকসই ডিজিটাল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>ডিজিটাল পণ্য এবং পরিষেবা উভয় ক্ষেত্রেই বিদ্যমান বিপুল সম্ভাবনায় খালি ময়দান বা আনট্যাপড মার্কেটে নিজেদের অবস্থান বাড়াতে বাংলাদেশে বিনিয়োগের করলে গুগল নিজেদের বাজারকে দ্রুত সম্প্রসরাণ করতে সক্ষম হবে। দীর্ঘমেয়াদী টেকসই সাফল্য নিশ্চিত করে ব্যয় সাশ্রয়ী দক্ষতা এবং সরকারী সহায়তার সুবিধা গ্রহণ করে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অংশীদার হতে পারবে। বস্তুত দক্ষিণ এশিয়ার উদীয়মান প্রযুক্তির ল্যান্ডস্কেপের প্রবেশদ্বার বাংলাদেশে বিনিয়োগে প্রকৃত অর্থে লাভবান হবে গুগল।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক</strong> : মো. আরিফুল হক, ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবলস পিএলসি’র (বিএসসিপিএলসি) </p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা ও ঝুঁকি: জাতিসংঘে বাংলাদেশের বার্তা ও প্রেক্ষাপট বাস্তবতা</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AE-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%93-%E0%A6%9D%E0%A7%81%E0%A6%81%E0%A6%95%E0%A6%BF%3A-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%98%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%93-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%9F-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%AC%E0%A6%A4%E0%A6%BE</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%95%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%AE-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%93-%E0%A6%9D%E0%A7%81%E0%A6%81%E0%A6%95%E0%A6%BF%3A-%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%98%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%93-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%9F-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%AC%E0%A6%A4%E0%A6%BE</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202502/image_870x580_67a3173bb3e94.jpg" length="82199" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 28 Sep 2024 17:40:28 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:buttons -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button -->
<div class="wp-block-button"><a class="wp-block-button__link wp-element-button">মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম</a></div>
<!-- /wp:button --></div>
<!-- /wp:buttons -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি, সম্ভাবনা, স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি ও মানব শ্রমের সংকট নিয়ে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস। জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ অধিবেশনে গত শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৪ খ্রি.) প্রদত্ত ভাষণে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (Artificial Intelligence) অগ্রগতি ও সম্ভাবনাকে স্বাগত জানালেও স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তার (Autonomous Intelligence) ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>ডক্টর ইউনূস কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অভাবনীয় বিকাশ এবং এর বহুমাত্রিক প্রয়োগে বাংলাদেশ বিশেষভাবে আগ্রহী উল্লেখ করে বলেন, “<em>আমাদের তরুণ সমাজ জেনারেটিভ আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সম্ভাবনা নিয়ে উচ্ছ্বসিত। একজন বিশ্ব নাগরিক হিসেবে তারাও চায় নতুন পৃথিবীতে নিয়োজিত হতে, কর্মক্ষম হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে। বাংলাদেশের মতো বৃহৎ তরুণ জনগোষ্ঠীর দেশ যাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগজনিত অর্জিত সুফল থেকে পিছিয়ে না পড়ে, বিশ্ব সম্প্রদায়কে তা নিশ্চিত করতে হবে।</em> “  </p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>একই সঙ্গে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে যাতে মানব শ্রমের চাহিদা কমে না যায় এবং বিশ্বব্যাপী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমতা নিশ্চিত হয়, সেই আশাবাদ ব্যক্ত করে ভাষণে তিনি বলেন <em>''নিশ্চিত করতে হবে যেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে কর্মক্ষেত্রে মানুষের চাহিদা সংকুচিত হয়ে না যায়।</em>”</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশের মতো দেশ যেখানে প্রতিবছর লক্ষাধিক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করে, সেখানে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং এআই-এর অগ্রগতির ফলে উদ্ভূত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা অপরিহার্য। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুফল সবাই যেন অর্জন করতে পারে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং নতুন ধরনের জ্ঞান-বিনিময়ের সুযোগ তৈরির প্রয়োজনীয়তার উপর তিনি তাঁর প্রদত্ত ভাষণে গুরুত্ব তুলে ধরেণ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এই প্রেক্ষাপটে, বাংলাদেশকে ভবিষ্যতের চাহিদার সাথে মানিয়ে নেওয়ার জন্য নতুন দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনে প্রস্তুত হতে হবে। স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তার (Autonomous Intelligence) ঝুঁকি নিয়ে  উদ্বেগ প্রকাশ করে ভাষণে তিনি বলেন “<em>আমরা অটোনমাস ইন্টেলিজেন্স অর্থাৎ যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিজেই নিজের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে সম্প্রসারিত করতে পারে, মানুষের কোনও হস্তক্ষেপ ব্যতিরেকে, তার ব্যাপারে আমরা বৈজ্ঞানিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাই, তারা যেন এক্ষেত্রে অগ্রসর হওয়ার আগে মানুষের ওপর এর প্রভাব সম্বন্ধে নিশ্চিত হয়ে অগ্রসর হন। আমাদের ধারণা, অটোনমাস ইন্টেলিজেন্স মানুষের অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলতে পারে।</em> “</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশের প্রতিনিধি, নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো উন্নত বিশ্বের আলোচিত এবং স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে বাংলাদেশের তরুণদের অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। পাশাপাশি, তিনি এই প্রযুক্তির বৈষম্যমূলক ও একপাক্ষিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে সতর্ক করে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহবান জানিয়েছেন। তাঁর এই প্রাজ্ঞ দিকনির্দেশনা বাংলাদেশকে এমন এক অবস্থানে নিয়ে গেছে, যেখানে দেশটি বিশ্ব প্রযুক্তি নীতি এবং প্রযুক্তি রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে নিম্নোক্ত পর্যবেক্ষণ গুলো সুবিবেচনা করা যেতে পারে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>জলবায়ু পরিবর্তনের চলমান সংকট মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। এআই প্রযুক্তি আবহাওয়ার পূর্বাভাসকে আরও নির্ভুল, দ্রুত এবং সহজলভ্য করে তোলার মাধ্যমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের পূর্বে মানুষকে ভালোভাবে প্রস্তুত হওয়ার সুযোগ করে দেয়, যা জীবন এবং সম্পদ রক্ষায় সহায়ক।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>সম্প্রতি গুগলের অর্থায়নে তৈরি এআই-ভিত্তিক আবহাওয়া মডেল কার্যকারিতার দিক থেকে প্রচলিত পদ্ধতিগুলোকে ছাড়িয়ে গেছে। ব্রিটেনের আবহাওয়া অফিসের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আবহাওয়ার পূর্বাভাসে একটি বিপ্লব আনতে সক্ষম। ভারতের আবহাওয়া বিভাগ (আইএমডি)ও গাণিতিক মডেলের সাথে এআই এবং অত্যাধুনিক পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক যোগ করে আরও উন্নত ও নির্ভুল পূর্বাভাসের পথে এগিয়ে চলার পরিকল্পনা করেছে। এটি আবহাওয়ার পূর্বাভাস ব্যবস্থায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে, যা মানুষকে আগাম প্রস্তুতি নিতে এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও দক্ষ করে তুলবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>কৃষিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রান্তিক কৃষকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপকারে আসতে পারে। এটি সঠিক আবহাওয়া পূর্বাভাস প্রদান ছাড়াও কৃষকদের সেচ এবং ফসল রোপণের সময় নির্ধারণে সাহায্য করে। এছাড়াও, এআই-ভিত্তিক অ্যাপ্লিকেশনগুলি রোগ ও পোকামাকড় শনাক্ত করতে সক্ষম, ফলে সময়মত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। সঠিক পরিমাণে সেচ ও সার ব্যবহারে সহায়তা করে, এআই উৎপাদন খরচ কমায় এবং ফসলের গুণগত মান বাড়ায়। কৃষকদের বাজারমূল্য পূর্বাভাসের মাধ্যমে ন্যায্য মূল্য পেতে সহায়তা করে এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম থেকে পরামর্শ পাওয়ার সুযোগ তৈরি করে। এভাবে, এআই প্রান্তিক কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং তাদের কাজকে সহজ করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ট্রাফিক বিভাগে উল্লেখযোগ্যভাবে সাহায্য করতে পারে। এটি ট্রাফিকের প্রবাহ বিশ্লেষণ করে সঠিক সময়ে সিগন্যাল পরিবর্তন করে যানজট কমাতে সহায়তা করে। এআই দুর্ঘটনার সম্ভাবনা পূর্বাভাস দিতে পারে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে জোরদার করে। যানবাহনের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণের মাধ্যমে এটি ট্রাফিক পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে, যা আমাদের দৈনন্দিন যাতায়াতে সুবিধা প্রদান করে। এইভাবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও মানবিক, দক্ষ এবং নিরাপদ করে তোলে, আমাদের যাতায়াতের অভিজ্ঞতাকে উন্নত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এছাড়া আমাদের স্বাস্থ্য খাতের সরকারি হাসপাতালের উপাত্তগুলো সংরক্ষণ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ রূপরেখা সৃষ্টি করা যায়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) কম্পিউটার সিস্টেমকে ব্যবহার করে মানুষের মতো চিন্তা ও সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম ও তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে, যেমন স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ও ব্যবসায় কার্যকরী সমাধান প্রদান করে। অন্যদিকে, স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তা (Autonomous Intelligence) AI-এর একটি উন্নত রূপ, যেখানে সিস্টেমগুলি স্বাবলম্বীভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রাখে এবং মানবীয় হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাজ করে। এটি বিশেষ করে ড্রোন, রোবট ও স্বায়ত্তশাসিত যানবাহনে ব্যবহৃত হয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশে কৃত্রিম ও স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তার সম্ভাবনা রয়েছে, তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। দেশের তরুণদের মধ্যে প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে এবং AI কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবহন খাতে নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে, স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তার কারণে শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে সঠিক নীতিমালা এবং নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন। বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃত্রিম ও স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ ব্যবহার জরুরি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>সংগতকারণে ডক্টর ইউনূস অটোনোমাস ইন্টেলিজেন্স বা স্বয়ংক্রিয় বুদ্ধিমত্তার ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যা বাংলাদেশের জন্য বৈশ্বিক নেতাদের কাছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যাশা তৈরি করেছে। আমরা প্রত্যাশা করি বৈশ্বিক নেতারা এই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও প্রয়োগে নৈতিকতা এবং দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন যাতে অটোনোমাস ইন্টেলিজেন্সের নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের শ্রমবাজারে না পড়ে। বাংলাদেশ প্রযুক্তি ও জ্ঞানের বিনিময়ে সহযোগিতা এবং অর্থনৈতিক সহায়তার প্রত্যাশা করছে, যা উন্নত দেশগুলোর সাথে যৌথ উদ্যোগে গবেষণা ও উন্নয়নে সহায়ক হবে। এছাড়া, সচেতনতা বাড়ানোর জন্য বৈশ্বিক নেতাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি এআই নীতি ও পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক সমর্থনের প্রয়োজন রয়েছে, যাতে অটোনোমাস ইন্টেলিজেন্সের নিরাপদ এবং মানবিক ব্যবহারের জন্য একটি সুরক্ষিত পরিবেশ সৃষ্টি করা যায়। বাংলাদেশের লক্ষ্য হল প্রযুক্তির এই যুগে একটি সুস্থ এবং টেকসই শ্রমবাজার গড়ে তোলা, যা যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি করবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বিশ্বের প্রধান দেশ ও সংস্থাগুলি, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারত, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং চীন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ঝুঁকি নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং সমাধানে একত্রে কাজ করার জন্য সম্মত হয়েছেন। এআই-এর মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য এবং গুজব তৈরির সম্ভাবনা একটি গুরুতর সমস্যা, যা নির্বাচনের ফলাফলকেও প্রভাবিত করতে পারে। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দল এআই নিয়ন্ত্রণের ভিন্ন পন্থা উপস্থাপন করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এআই আইন প্রবর্তনে আগ্রহী হলেও যুক্তরাজ্য এআই শিল্পের দ্রুত পরিবর্তনের কারণে কঠোর আইন প্রয়োগে দ্বিধায় রয়েছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এআই এজেন্ডা নির্ধারণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোকে এআই সিস্টেমের পরীক্ষার ফলাফল সরকারে জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন, এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস একটি এআই নিরাপত্তা ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়েছেন ইতিমধ্যে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>ডক্টর ইউনূস তার প্রদত্ত জাতিসংঘের ভাষণে  বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের প্রতিনিধিত্বের পাশাপাশি কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক দিকই শুধু তুলে ধরেননি; বরং তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো সমসাময়িক প্রযুক্তিগত ও রাজনৈতিক বিতর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। এই আলোচনার মাধ্যমে বাংলাদেশ শুধু নিজেকেই উপকৃত করবে না, বরং বিশ্বের প্রযুক্তিক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়া দেশগুলোও নতুন সুযোগের সন্ধান পাবে। ফলে, বাংলাদেশ চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এভাবে, এই আলোচনা কেবল দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং বৈশ্বিক প্রযুক্তি উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় একটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক</strong>: তথ্যপ্রযুক্তিবিদ; সাধারণ সম্পাদক; বাংলাদেশ সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস ফোরাম (বিডিসাফ)</p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল অধিকার: সাইবার সুরক্ষা আইনের সংস্কার ও বুদাপেস্ট কনভেনশনের অপরিহার্যতা</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%3A-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%93-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F-%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A4%E0%A6%BE</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2-%E0%A6%85%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%3A-%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%93-%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F-%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%B6%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A4%E0%A6%BE</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202502/image_870x580_67a31f4623c9e.jpg" length="74133" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 13 Sep 2024 10:48:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:buttons -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button -->
<div class="wp-block-button"><a class="wp-block-button__link wp-element-button">মো. ফরহাদ হোসেন </a></div>
<!-- /wp:button --></div>
<!-- /wp:buttons -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশের সাইবারসিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০২৪ সংস্কার করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ দেশটি ক্রমবর্ধমানভাবে সাইবার হুমকিপূর্ন ডিজিটাল জগতের জটিলতাগুলি মোকাবেলা করছে। জাতির ডিজিটাল কাঠামো সুরক্ষিত করার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, বর্তমান আইনটি তথ্যের গোপনীয়তা বজায় রাখতে সক্ষম নয়। এটি মানবাধিকার ক্ষুন্ন করে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে যথাযথ ভুমিকা পালনে অপারগ। এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশকে তার সাইবারসিকিউরিটি আইনগুলি সংশোধন করতে হবে এবং সাইবারক্রাইমের ওপর বুদাপেস্ট কনভেনশন স্বাক্ষরের বিষয়টি জরুরী ভিত্তিতে বিবেচনা করতে হবে। এই দুইটি পদক্ষেপ গ্রহণ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করবে, গ্লোবাল সাইবারসিকিউরিটি ইনডেক্সে (GCI) -এ বাংলাদেশের র‍্যাংকিং উন্নত করবে, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে এবং সামগ্রিক সাইবারসিকিউরিটি সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত বুদাপেস্ট কনভেনশন হলো প্রথম আন্তর্জাতিক চুক্তি যা ইন্টারনেট এবং কম্পিউটার-সংক্রান্ত অপরাধ মোকাবেলার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে। এটি সদস্য রাষ্ট্রগুলির সাইবারসিকিউরিটি আইনগুলির সমন্বয় সাধন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা উৎসাহিত এবং সাইবার অপরাধগুলির কার্যকর তদন্ত ও প্রসিকিউশনের জন্য একটি কাঠামো প্রদান করে। এই কনভেনশনকে বিশ্বব্যাপী সাইবারক্রাইমের বিরুদ্ধে প্রচেষ্টার একটি মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা পারস্পরিক আইন সহায়তা (MLA) এবং সাইবার তথ্য বিনিময়ের জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা প্রদান করে এবং যা সীমান্ত অতিক্রমকারী সাইবার হুমকির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p>ITU গ্লোবাল সাইবারসিকিউরিটি ইনডেক্স (GCI) পাঁচটি মৌলিক মানদণ্ডের মাধ্যমে সাইবারসিকিউরিটিতে দেশগুলির প্রতিশ্রুতি মূল্যায়ন করে: আইনগত ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, সংগঠনগত কাঠামো, সক্ষমতা বৃদ্ধি, এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। বুদাপেস্ট কনভেনশনের মতো আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলির প্রতি প্রতিশ্রুত দেশগুলি সাধারণত সাইবার হুমকির বিরুদ্ধে মোকাবেলার ক্ষেত্রে তাদের সহযোগিতামূলক সক্ষমতার কারণে উচ্চ স্কোর অর্জন করে।</p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বর্তমানে, সাইবারসিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০২৪ ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার জন্য যথেষ্ট নিরাপত্তা প্রদান করছে না। ডিজিটাল কার্যক্রমের বিস্তারের সাথে সাথে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকিও বাড়ছে। নাগরিকদের অধিকার রক্ষার জন্য এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাধারণ তথ্য সুরক্ষা বিধিমালা (GDPR) এর মতো বিশ্বব্যাপী মানের প্রতিপালিন নিশ্চিত করার জন্য, বাংলাদেশকে তার আইন সংশোধন করতে হবে যাতে তথ্যের গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তার বিষয়টি স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়। ব্যক্তিগত তথ্যের অ্যাক্সেসের জন্য বিচারিক অনুমোদন প্রয়োজন প্রতিষ্ঠা করতে হবে, যা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে এবং আইনটির সম্ভাব্য অপব্যবহার প্রতিরোধ করবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বিদ্যমান সাইবারসিকিউরিটি অ্যাক্টের অস্পষ্ট ভাষার জন্য সমালোচনা করা হয়েছে, যা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা লঙ্ঘনের ঝুঁকি সৃষ্টি করে। সাইবারক্রাইমের বিরুদ্ধে লড়াই করা জরুরি হলেও, আইনটির প্রয়োগ ব্যবস্থা দ্বারা ব্যক্তিগত স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ করা উচিত নয়। আইনটিতে সাইবার অপরাধের স্পষ্ট সংজ্ঞা থাকতে হবে যাতে অধিকার-কর্মী বা বিরোধীদের বিরুদ্ধে এটিকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা যায়। জাতীয় নিরাপত্তা এবং নাগরিক স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে অনলাইন বক্তৃতার ওপর সমস্ত নিষেধাজ্ঞা বিচারিক পর্যালোচনার আওতাভুক্ত হওয়া উচিত।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বুদাপেস্ট কনভেনশন থেকে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি আন্ত:সীমান্ত (cross-border) সাইবারক্রাইম তদন্তে দেশটির কার্যকরভাবে জড়িত হওয়ার ক্ষমতাকে খর্ব করে। সাইবার হুমকিগুলি প্রায়ই জাতীয় সীমানা লঙ্ঘন করে; সুতরাং, কার্যকর প্রতিক্রিয়ার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অপরিহার্য। বুদাপেস্ট কনভেনশন পারস্পরিক আইন সহায়তা, প্রত্যর্পণ, এবং তথ্য বিনিময়ের সুযোগ প্রদান করে, যা হ্যাকিং, অনলাইন প্রতারণা, এবং তথ্য লঙ্ঘনের মতো জটিল সাইবার অপরাধ মোকাবেলায় অপরিহার্য।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বুদাপেস্ট কনভেনশন স্বাক্ষরের মাধ্যমে, বাংলাদেশের অন্যান্য দেশের সাথে সহযোগিতা করার ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সাইবারক্রাইমের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বৈশ্বিক দক্ষতা এবং সম্পদ লাভ করবে। এটি ITU গ্লোবাল সাইবারসিকিউরিটি ইনডেক্সে বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত করতে সহায়ক হবে, কারণ আন্তর্জাতিক সহযোগিতার অভাব বর্তমানে এর স্কোরকে হ্রাস করছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বুদাপেস্ট কনভেনশন গ্রহণ করা বাংলাদেশের আইনগত কাঠামোটিকে বিশ্বমানের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করবে, সাইবার অপরাধগুলিকে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করবে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার জন্য শক্তিশালী কাঠামো প্রতিষ্ঠা করবে। এটি আন্ত:সীমান্ত (cross-border) সাইবার অপরাধের তদন্তকে সহজতর করবে, জ্ঞানের বিনিময়কে (knowledge sharing) উৎসাহিত করবে এবং সর্বপোরি বাংলাদেশকে সাইবার হুমকি মোকাবেলায় আরও কার্যকরভাবে প্রস্তুত করবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এছাড়াও, সাইবারসিকিউরিটি অ্যাক্ট সংশোধন করা হলে নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মাধ্যমে আইনটির সম্ভাব্য অপব্যবহার প্রতিরোধ হবে। বুদাপেস্ট কনভেনশনের দ্বারা নির্ধারিত সুরক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে, বাংলাদেশ নিশ্চিত করতে পারে যে তার সাইবারসিকিউরিটি ব্যবস্থা মানবাধিকার রক্ষা করে এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুরক্ষিত রাখে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এছাড়াও, বুদাপেস্ট কনভেনশন মেনে চলা দেশগুলি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, এবং আইন প্রয়োগের প্রশিক্ষণের সুবিধা পায় যার ফলে সাইবার ঘটনাগুলির প্রতিরোধ, সনাক্তকরণ, এবং প্রতিক্রিয়ার ক্ষেত্রে  জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সক্ষমতা বৃদ্ধি হয়। কনভেনশনে যোগ দিয়ে, বাংলাদেশ তার আইন প্রয়োগের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে সম্ভাব্য সাইবার হুমকিসমূহ মোকাবেলায় আরও দক্ষতা অর্জন করতে পারে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>পরিশেষে, বুদাপেস্ট কনভেনশন স্বাক্ষর বাংলাদেশে গ্লোবাল সাইবারসিকিউরিটি মাপকাঠির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার সংকেত দেবে, ফলে আন্তর্জাতিক অবস্থান উন্নত হবে এবং বিদেশি বিনিয়োগের জন্য দেশটি আরও আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হবে। বৈশ্বিক ব্যবসাগুলি প্রায়শই বিনিয়োগের জন্য দৃঢ় সাইবারসিকিউরিটি কাঠামো সহ দেশগুলি সন্ধান করে। অতএব, বুদাপেস্ট কনভেনশনের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ সাইবার সিকিউরিটি আইন বাংলাদেশে মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা এবং আইনের সুশাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>সাইবারসিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০২৪ একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, তবে তথ্যের গোপনীয়তা, মানবাধিকার, এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংক্রান্ত বিষয়গুলির সমাধানে বর্তমান আইনটি যথাযথ নয়। সুতরাং, নাগরিকদের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, আইনটির সম্ভাব্য অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মত বিষয়গুলো বিবেচনা করে আইনটির সার্বিক সংশোধন অত্যাবশ্যক। বুদাপেস্ট কনভেনশন স্বাক্ষরের মাধ্যমে, বাংলাদেশের সাইবারসিকিউরিটি কাঠামো উন্নত হবে, GCI র‍্যাংকিং-এ বাংলাদেশের অবস্থান অগ্রসর হবে এবং দেশের সাইবারক্রাইমের বিরুদ্ধে লড়াই করার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এই সংস্কারগুলি কেবল জাতির ভবিষ্যতকে সুরক্ষিত করবে তা নয়, বরং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক খ্যাতি বৃদ্ধি করবে এবং দেশের উদীয়মান অর্থনীতিতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক</strong> : <em>আইসিটি পরামর্শক</em> </p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>তথ্য প্রযুক্তি খাতের সংস্কারে একটি কনভেনশন প্রস্তাবনা</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A4%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%B6%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A4%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A6%A8%E0%A6%AD%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%B6%E0%A6%A8-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202502/image_870x580_67a31f733e269.jpg" length="113294" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 09 Sep 2024 00:29:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:buttons -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button -->
<div class="wp-block-button"><a class="wp-block-button__link wp-element-button">মোহিব্বুল মোক্তাদীর তানিম</a></div>
<!-- /wp:button --></div>
<!-- /wp:buttons -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বিগত সরকারের সময়কার (জুন ২০২৪) সময়ে প্রকাশিত গুরুত্বপূর্ণ একটি বৈশ্বিক ডিজিটাল সূচকে বাংলাদেশ ১০০-এর মধ্যে ৬২ স্কোর করেছে যেখানে বিশ্বব্যাপী গড় স্কোর ৭৪.৮। ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আই টি ইউ) আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ইনডেক্স অনুসারে, নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলির গড় স্কোর হল ৬৪.৮ ৷  সূচক অনুসারে বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে শ্রেণীবদ্ধ। বৈশ্বিক এই সূচক অনুযায়ী বৈশ্বিক গড় এবং নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলির গড় স্কোর দুটোতেই বাংলাদেশের স্কোর কম যা চরম হতাশাজনক।  এই সূচকে মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, ভিয়েতনাম ও ভুটানের অবস্থানও বাংলাদেশের উপরে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>আইএমএফের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রস্তুতি সূচকে জুন, ২০২৪-এ ১৭৪ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৩তম, তালিকায় থাকা দেশগুলোর মধ্যে ভারত, শ্রীলঙ্কা, ভুটান, রুয়ান্ডা, ঘানাও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান সার্ফশার্ক ডিজিটাল কোয়ালিটি অব লাইফ ইনডেক্স ২০২৩ এর ডিজিটাল জীবনমান সূচকে বিশ্বের ১২১ দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ৮২তম; এক্ষেত্রে আগের বছরের চেয়ে বাংলাদেশ পিছিয়েছে পাঁচ ধাপ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>গত সপ্তাহে সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত আইসিটি উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি খাতে ২০১০-২০১১ থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে ২৫ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করে অনেক প্রকল্প নেওয়া হয়েছে, কিন্তু এর ফল পায়নি দেশের মানুষ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এমতাবস্থায়, দেশের তথ্য-প্রযুক্তি খাতের এই ভগ্ন দশার উত্তরণে সুদূরপ্রসারী উদ্যোগ নেওয়া সমীচিন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>(১) সাইবার নিরাপত্তা আইন: পুনর্লিখন অথবা সংশোধন</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকার গণদাবির প্রেক্ষাপটে নিপীড়নমূলক  ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন (২০১৮) রহিত করে  ১৮ সেপ্টেম্বর,২০২৩ তারিখে  ‘সাইবার নিরাপত্তা আইন, ২০২৩’ নামে নতুন আরেকটি গণবিরোধী আইন প্রণয়ন করেছিল যা ছিল অনেকটা নতুন মোড়কে পুরনো ‘ঘোড়ার ডিম’ এবং আইনটি নিপীড়নমূলক চর্চা অব্যাহত রেখে এখনো অক্ষুণ্ণ রয়েছে। প্রচলিত সাইবার নিরাপত্তা আইনে অনুমতি ছাড়াই যেকোনো ব্যক্তিকে আটক বা গ্রেপ্তার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই আইন অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণের সুবিধা দেয় এবং ব্যক্তির বাক্‌স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করে। সাম্প্রতিক বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়ও অসংখ্য ব্যক্তিকে এই আইনের আওতায় গ্রেফতার করা হয়েছে।  এই আইনটি দ্রুত বাতিল করে বৈশ্বিক সাইবার নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টির লক্ষ্যে একটি প্রকৃত সাইবার নিরাপত্তা আইন প্রণীত হওয়া সকলের ঐক্যবদ্ধ দাবি।  </p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>(২) সাইবার সুরক্ষা: একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশন প্রস্তাবনা</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) চেতনার পুনরুজ্জীবন হওয়া দরকার বলে সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন । তিনি অতিশীঘ্রই জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে ভাষণ দিবেন। ভাষণে স্বভাবতই আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ইস্যু উঠে আসবে। উনার আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দক্ষতাকে ব্যবহার করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে সাইবার নিরাপত্তা সহ তথ্য-প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারিত্বের বৈষম্য বিরোধী একটি আন্তর্জাতিক কনভেনশনের প্রস্তাব উনি রাখতে পারেন যার ফলে রাষ্ট্র  বাংলাদেশ সাইবার হ্যাকিং বা প্রযুক্তিভিক্তিক আন্তর্জাতিক অপরাধের হুমকির প্রতিরোধ গড়ার নৈতিক সমর্থন পেতে পারে। এই কনভেনশন প্রস্তাবের মাধ্যমে তিনি অন্তত দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো সহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে সাইবার নিরাপত্তা সহ তথ্য-প্রযুক্তির বৈশ্বিক ব্যবহারকে বৈষম্যহীন করাতে একীভুত রাখার দৃশ্যমান দায়বদ্ধতা দেখাতে পারবেন যার সুদূরপ্রসারি প্রভাব প্রযুক্তি ব্যবসা ও কর্মক্ষেত্রে অবদান রাখবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>(৩) ইন্টারনেট এর ব্যবহার সাংবিধানিক অধিকার</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>ইন্টারনেট বন্ধ করে গণহত্যা চালানোর নজির আমাদের দেশেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি দেশের বহুল প্রচলিত একটি দৈনিকে ‘যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশে ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রাখা সমর্থন করেন কি?’ জরিপে ৯৪ শতাংশ মানুষ (প্রায় বাহাত্তর হাজার পাঠক) কোনোভাবেই ইন্টারনেট বন্ধের পক্ষে নন বলে মত দিয়েছেন। এপ্রেক্ষিতে আইন করে নিশ্চিত করার প্রয়োজন, বাংলাদেশের কোথাও কখনো ইন্টারনেট বন্ধ করা যাবেনা। সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট ব্যবহারকে একটি সাংবিধানিক মোলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং প্রয়োজনে সংবিধানে সংযুক্ত করা যেতে পারে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>(৪) অবকাঠামোগত সংস্কার</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>দেশের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর জন্য প্রয়োজনীয় হলেও টিয়ার ফোর ডেটা সেন্টার  উদ্যোগের দুর্নীতি, স্বেচ্ছাচারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে এবং প্রকল্পের অপচয় নিয়ে কথা উঠছে।  ভেন্ডরগুলোর সঙ্গে অসম চুক্তি করা হয়েছে,  ওপেনসোর্স প্রযুক্তিকে না রেখে প্রোপাইটরি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানদের সাথে বৈষম্য চুক্তি করার অভিযোগ এসেছে যা  যথার্থ পর্যালোচনাযোগ্য। হাইটেক পার্ক উচ্চপ্রযুক্তির প্রতিষ্ঠান  হিসেবে বিবেচিত না হয়ে দালান তৈরির সংস্থা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় জমি অধিগ্রহণ ও দালান এবং অপ্রয়োজনীয় ভৌতকাঠামো তৈরি করা হয়েছে যার ব্যবহার নেই বললেই চলে। অবকাঠামো খাতে মিররিং ক্যাপাবিলিটিসহ ক্লাউড ডাটা সেন্টার নির্মাণ করার মাধ্যমে এর বহুবিধ সুবিধাকে উন্মুক্ত করা যায়।  এ ক্ষেত্রে তথ্য সুরুক্ষা, হাই ব্যান্ডউইথ এবং দ্রুত একসেস এর প্রযুক্তিগত বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে সাম্প্রতিক ফলাফল নিরীক্ষণ করে পরিকল্পনা আনয়ন জরুরি ।  ডাটা সেন্টারের মাধ্যমে ডাটা লোকালাইজেশন (স্থানীয়করণ) বাড়াতে পারলে, বাইরের দেশে ক্লাউড, জিপিইউ ভাড়াবাবদ যে বৈদেশিক মুদ্রা খরচ হয়, তার সাশ্রয় ঘটবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>(৫) বৈদেশিক মুদ্রা আনয়ন:</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশে এখনো আমাজন, পেপাল, গুগল পে, আইক্লাউড/অ্যাপল পে প্রভৃতি ফাইনেন্সিয়াল পেম্যান্ট সার্ভিস নেই। সাম্প্রতিক অতীতে মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এসব সার্ভিস আসার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। গুরুত্বপূর্ণ এ সার্ভিসগুলো দেশে চালুর ব্যবস্থা করলে শুধু ফ্রিল্যান্সাররাই নয়, অনেক প্রযুক্তিবান্ধব সার্ভিস রফতানি মুখর হয়ে উঠবে। নীতিমালা জোরদারের মাধ্যমে সরকারের আয় খাত সমৃদ্ধ হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>(৬) কৃত্রিম বুদ্ধিমত্ত্বা নীতিমালা ও ব্যবহারকে উৎসাহীত করণ</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বৈশ্বিক প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্ত্বার সাথে এগিয়ে চলার মানসিকতা নিয়ে নীতিমালা আনয়ন অত্যাবশ্যক। ডিফফেইক প্রযুক্তির মাধ্যমে কন্ঠস্বর, ভিডিও বিকৃতি করে বিভিন্ন অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নীতিমালা ও সচেতনতা বাড়াতে হবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্ত্বার ব্যবহারিক দিক পাঠ্যপুস্তকে সম্পৃক্ত করে প্রযুক্তির ইতিবাচক উপকারিতার মাধ্যমে সবাই উপকৃত হবে। এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্ত্বার আন্তর্জাতিক নীতিমালার সাথে সংযুক্তি জরুরি।  </p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>(৭) জনবান্ধব রেগুলেটরি ও লাইসেন্সিং</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>রেগুলেটরি রিফর্ম কে সুবিবেচনা করা উচিত। অভিজ্ঞ, অংশীদারদের মতের ভিক্তিতে রেগুলেটরি কে জনবান্ধব ও সুব্যবসা ও সুউদ্যোগ বান্ধব করা সমীচীন। লাইসেন্সিং মডেল গুলো সহজ, দ্রুত ও বৈষম্যহীন করে বিটিআরসি , এনটিএমসির মত প্রতিষ্ঠানগুলো কে জ্ঞান নির্ভর ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার মাধ্যমে ভাল পরিবর্তন আনা সম্ভব।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>(৮) বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার অনিয়মের সুর্নিদিষ্ট সুতদন্ত ও বিচার</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বিগত দশকে বিভিন্ন মেগা প্রকল্পে অনিয়ম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে অর্থ পাচার (বিশেষত বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার চুরি) সহ প্রচুর অনিয়মের সংশ্লিষ্টদের বিচারের আওতায় আনার মাধ্যমে প্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে আস্থা, জবাবদিহিতা স্থাপিত হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>(৯) ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা প্রবিধান</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>সাম্প্রতিক অতীতে দেখেছি, যতই আইন থাকুক না কেন ফোনে আড়িপাতা সহ বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ক্ষুণ্ণ করা হয়েছে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের জেনারেল ডেটা প্রোটেকশন রেগুলেশন (GDPR) এর আদলে ব্যক্তিগত তথ্য অর্জন এবং প্রক্রিয়াকরণের জন্য নির্দেশিকা সরকার রাষ্ট্রীয় বা দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রস্তাবনা আনয়ন করতে পারে। এতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান যারা মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে কাজ করে তারা নিয়মের মধ্যে থাকবে এবং জনগণের মধ্যে আস্থা ফিরে আসবে। </p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>নিঃসন্দেহে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সম্ভাবনা অনেক। কিন্তু জুজুর ভয় ও সোনার ডিম পাড়া হাঁসের  গল্প শুনিয়ে এ খাতকে এতদিন ঝাপসা করে রাখা হয়েছে।  বাস্তবতা হচ্ছে- তথ্যপ্রযুক্তি খাতে  ভারতের রপ্তানি ১৯৮ বিলিয়ন ডলার, ভিয়েতনামের ৩০ বিলিয়ন, ফিলিপাইনের ১৮ বিলিয়ন, পাকিস্তানের ৩ বিলিয়ন আর  বাংলাদেশ এখনো  ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের আশেপাশে। ‘একসেস টু ফাইন্যান্স’ এর জনবান্ধব উদ্যোগ, দক্ষ জনশক্তি প্রয়োজনে আইসিটি ক্যাডার সৃষ্টি, সচেতনতা, বিকেন্দ্রীয়করণ কে উৎসাহিত করার মাধ্যমে তথ্য-প্রযুক্তি খাতের দৃশ্যমান সংস্কার সম্ভব এবং এর ফলে বাংলাদেশ ২.০ এর অগ্রযাত্রা তরাণ্বিত হবে। </p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক</strong>: সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটরস ফোরাম (বিডিসাফ)</p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>কেন দেশী আইটি কোম্পানিগুলো বিদেশমুখী?</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%80-%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%96%E0%A7%80</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%80-%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%9F%E0%A6%BF-%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%96%E0%A7%80</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202502/image_870x580_67a31f9feaec4.jpg" length="89485" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 13 Aug 2024 23:00:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:buttons -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button -->
<div class="wp-block-button"><a class="wp-block-button__link wp-element-button"><strong>তারেক হাসান</strong></a></div>
<!-- /wp:button --></div>
<!-- /wp:buttons -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশের সফটওয়ার কোম্পানিগুলোর বেশিরভাগেরই দেশের বাইরে (সিঙ্গাপুর, দুবাই, আমেরিকা) একটা করে কোম্পানি আছে। কেন জানেন? একমাত্র কারণ যাতে আমরা কাস্টমারের কাছ থেকে পেমেন্ট নিতে পারি, আমাদের কাজের জন্যে খরচ করতে পারি (ডোমেইন-হোস্টিং কেনা, মার্কেটিং-এ খরচ করা, টুলস কেনা, সাবস্ক্রিপশন খরচ দেয়া, ইত্যাদি)। এরপর যা অবশিষ্ট থাকে তা আমরা দেশে নিয়ে আসি বেতন দিতে, অফিস খরচ চালাতে। অনেকে শুধু প্রয়োজনেরটুকুই আনে, বাঁকিটুকু বিদেশের সেই ব্যাংকে পড়ে থাকে। বছর শেষে সেখানে সেই সরকারকে আমাদের ট্যাক্স দিতে হয়, অ্যাকাউন্টস মেইনটেইন করা, লিগাল সাপোর্ট ইত্যাদির জন্যে অনেক খরচ করতে হয়। বিভিন্ন স্টেটে/দেশে সেলস ট্যাক্স ফাইল করার ঝামেলা তো আছেই।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>সবাই তো আর দেশের বাইরে যেতে পারে না, কিভাবে কি করবে তা নিয়ে হাতড়াতে থাকে, হা-হুতাশ করতে থাকে। দেখা যায় বিজনেস করার চেয়ে এইসব কমপ্লায়েন্স মেইনটেইন করতেই ফাউন্ডারদের অনেকটা সময় চলে যায়, বিজনেস বাড়ানোর চিন্তা তো পরের কথা। এমনটা কেন করতে হয়? একমাত্র কারণ আপনি যেই সার্ভিস বেচতেছেন, সেইটার জন্যে ডলার কালেকশন করা। আপনি সফটওয়ার বেচেন, সার্ভিস বেচেন, SaaS বিজনেস চালান, বা ক্লায়েন্টের কাজ করেন, দিন শেষে আপনাকে ক্লায়েন্ট/কাস্টমারের কাছ থেকে টাকা কালেক্ট করতে হয়। এই একটা মাত্র জিনিস না থাকার জন্যে আমরা ধুঁকে ধুঁকে মরছি। বিজনেস চালাতে গিয়ে আমরা বিজনেস এক্সপানশনের কথা চিন্তা করতে পারিনা, কিভাবে বিজনেস চালাব সেই চিন্তা করতেই আমাদের সিংহভাগ সময় চলে যায়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>ক্রেডিট কার:</strong> এই যে বাংলাদেশ আইটি সেক্টরে এতদূর এসেছে, সরকার এই করেছে সেই করেছে বলে চিল্লাফাল্লা করে। এর পেছনে তো আমি সরকারের কোনো ক্রেডিটই দিতে চাই না। পুরো ক্রেডিট তাদেরই প্রাপ্য, যারা এই সেক্টরে কাজ করছেন। এত এত ফ্রিল্যান্সার, এত কোম্পানি বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাজ করছে, প্রোডাক্ট ডেভেলপ করছে, এবং বিশ্বব্যাপী বিক্রি করছে—এসব কিছুই নিজেদের প্রচেষ্টায় সম্ভব হয়েছে। এখানে সরকারের ক্রেডিট নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা বাংলাদেশে বসে প্রোডাক্ট এবং সার্ভিস তৈরি করে বিশ্বব্যাপী বিক্রি করছি, কিন্তু কত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে যাচ্ছি তা একমাত্র আমরাই জানি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>আমাদের চাহিদা খুবই সামান্য— সহজে কোম্পানি চালানো, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, দ্রুত ইন্টারনেট, এবং সহজ পেমেন্ট গেটওয়ে। এই কয়েকটি জিনিস থাকলেই আমরা নিজেদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারি, এবং আমরা তা করেও দেখিয়েছি এবং করে যাচ্ছি। কিন্তু শুধুমাত্র একটি পেমেন্ট গেটওয়ের অভাবে আমাদের পুরো সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমাদের মতো প্রতিটি কোম্পানিকে বিদেশে কোম্পানি সেটআপ করতে হচ্ছে এবং সেই দেশে ট্যাক্স দিতে হচ্ছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>পেমেন্ট প্রোভাইডার:</strong> যদি সরকার এই পেমেন্ট কালেকশনের ব্যাপারটিতে মনোযোগ দিতো, তাহলে তারা প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রাও অর্জন করতে পারতো। পেপালের মুলা তো আমরা সেই ২০০৮ সাল থেকে শুনে আসছি। পেপাল না থাকলেও, আরও অনেক বিকল্প আছে যেগুলো ব্যবহার করে আমরা পেমেন্ট কালেকশন করতে পারি। সরকার চাইলেই যে কোনো পেমেন্ট প্রোভাইডারের সাথে চুক্তি করে বাংলাদেশে তাদের সাপোর্ট আনতে পারতো, যাতে আমরা সহজেই ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট নিতে পারি এবং কাস্টমারকে ইনভয়েস করতে পারি। এতে করে সার্ভিস বিজনেসের যারা আছেন তারা খুব সহজেই ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করতে পারতেন। যারা সফটওয়ার সেল করছেন, SaaS বিজনেস চালাচ্ছেন বা সাবস্ক্রিপশন বেচতেছেন, কারোরই বিদেশে কোম্পানী সেটাআপ করা লাগতো না। এটা না করতে হলেই আমার মনে হয় ৫০% হ্যাসল কমে যেত।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>ডলার একাউন্ট: </strong>আমার মনে হয় বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোতে একটি ডলার একাউন্ট থাকতে পারে, যেখানে আউটসোর্সিং, সফটওয়্যার সার্ভিস ইত্যাদি থেকে আমরা যেই ডলারগুলো অর্জন করব, সেটা যেন আমরা ডলার হিসেবেই রাখতে পারি। এই একাউন্টের সাথে ডেবিট কার্ড এবং ক্রেডিট কার্ড থাকতে পারে যা ব্যবহার করে আমরা ডলারে খরচ করতে পারবো। যেমন হোস্টিং বিল দেয়া, ডোমেইন কেনা, মার্কেটিং এক্সপেন্স ইত্যাদি—সবকিছু এখান থেকেই যাতে করা যায়। এতে করে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার আর বিদেশের ব্যাংকগুলাতে পড়ে থাকবে না, বাংলাদেশে চলে আসবে। আর আমাদের বিদেশে কোম্পানি খুলে সেখানে ট্যাক্স দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন</strong>: আরেকটি বিষয় হলো, কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন। বাংলাদেশের প্রায় ৯০% সফটওয়্যার কোম্পানি রেসিডেন্সিয়াল এলাকায় অফিস করছে, কিন্তু এখানে কোনোভাবেই ট্রেড লাইসেন্স পাওয়া সম্ভব নয়। একটি কোম্পানি খোলা এবং সেখান থেকে বিজনেস পরিচালনার প্রক্রিয়া যত সহজ করা যাবে, ততই আমাদের জন্য মঙ্গল হবে। কিন্তু এই বিষয়ে কারোই মাথাব্যথা নেই।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>ট্যাক্স এবং ভ্যাট:</strong> এটি যে কত বড় একটি সমস্যার বিষয়, যারা শুধুমাত্র ব্যবসা করছেন তারাই বুঝতে পারেন। আমরা যারা সফটওয়্যার বা আইটি বিজনেসের সাথে যুক্ত আছি, এইসব ঝামেলার কারণে আমাদের অধিকাংশ সময় চলে যায় শুধুমাত্র কমপ্লায়েন্স মেইনটেইন করতে। যেমন আমাদের ১০০% রেমিটেন্স ইনকাম, কিন্তু ট্যাক্স/ভ্যাট অফিস এমন সিস্টেম করে রেখেছে আপনি কোন ভাবেই পার পাবেন না, লাখ লাখ টাকা চেয়ে বসে। কোন এক্সপ্ল্যানেশনেই তারা মানতে নারাজ। এদের চোখ যে কিরকম উঁচু হয়ে গেছে যারা ভুক্তভোগী তারাই বোঝে। আমি জানি অনেকে ব্যবসা পর্যন্ত বন্ধ করে ফেলসে এদের অত্যাচারের কারণে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>ডিজিটাল বাংলাদেশ করতে চাইলে ব্যবসা পরিচালনা সহজ করুন, দেশের আনাচে-কানাচে হাই স্পিড ইন্টারনেট সহজলভ্য করুন, সহজে পেমেন্ট নিতে দিন, এবং ট্যাক্স ও ভ্যাট প্রক্রিয়াকে সহজ করুন, আমাদের উপর ইনভেস্ট করুন। আপনাদের ফ্রিল্যান্সার বানানোর দরকার নাই, ৫০০ অ্যাপ বানানোর দরকার নাই, হাজার হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট তৈরী করে হাতিয়ে নেয়ার প্রয়োজন নাই। কারণ দিনশেষে সেটা আমাদের প্রয়োজনে আসে না, পলক, জয় - এদের মত মানুষের পকেটে ঢোকে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক :</strong> প্রতিষ্ঠাতা সিটিও উইডেভস</p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ইন্টারনেট ইকোসিস্টেম ও বর্তমান ধীরগতি</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%9F-%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%AE-%E0%A6%93-%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A6%97%E0%A6%A4%E0%A6%BF</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%9F-%E0%A6%87%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%AE-%E0%A6%93-%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%B0%E0%A6%97%E0%A6%A4%E0%A6%BF</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202502/image_870x580_67a31fd939a3a.jpg" length="47163" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 01 Aug 2024 17:37:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:preformatted -->
<pre class="wp-block-preformatted"><strong>ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান</strong></pre>
<!-- /wp:preformatted -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>খুব ছোট আকারে প্রাইভেট সেক্টরের উদ্যোগে , BTRC প্রতিষ্ঠার আগে ইন্টারনেট সার্ভিস কোম্পানী শুরু হয়। অনেক উত্থান পতন এবং সমস্যার মধ্য দিয়ে ইন্টারনেট কোম্পানীগুলো দেশের ডিজিটাল সেক্টরে ভূমিকা রাখা শুরু করে। ভিস্যাট ইন্টারনেট থেকে সাবমেরিন এবং দেশের ভিতরে ফাইবার ইন্টারনেটের ইনভেস্টমেন্ট হতে থাকে। NTTN প্রোভাইডার লাইসেন্সের সুবাদে দুটি কোম্পানী একটু বড় আকারের ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক স্থাপন করলেও ইন্টারনেট কোম্পানীগুলো তাদের নিজস্ব ইনভেস্টমেন্ট এ ফাইবার নেটওর্য়াক স্থাপন করা লাগে। নিম্ন থেকে উচ্চমানের ইকুইপমেন্টগুলোতে খরচের তারতম্য অনেক বেশি, ফলে লাইসেন্সপ্রাপ্ত ইন্টারনেট কোম্পানীগুলো তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী ইকুইপমেন্টে ইনভেস্ট করে। নিতান্ত ভালো ব্যবস্থাপনা বা বেশি ইনভেস্টমেন্ট এর কোম্পানী ছাড়া বেশিরভাগ কোম্পানীর ইকুপমেন্ট ও সফটওয়্যার নিম্নমানের। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ইন্টারনেটের চাহিদা বাড়ার কারণে নেটওয়ার্ক বিস্তৃত হয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>ফায়ারওয়াল</strong>: ব্যাংক, টেলিকম বা বড় করর্পোরেট ছাড়া কারো জন্যই ফায়ারওয়াল ব্যবহারের প্রয়োজন তেমন একটা পড়ে না । এর ফলে বাংলাদেশে ইন্টারনেট সেক্টরে ফায়ারওয়াল ব্যবহারের গুরুত্ব তৈরী হওয়ার সময় সুদীর্ঘ নয়। ইন্টারনেট ও কন্টেন্ট কন্ট্রোলের জন্য বিভিন্ন রকমের ফায়ারওয়াল ব্যবহার করা হয়। যেমন - মেইল ফায়ারওয়াল, কন্টেন্ট ফায়ারওয়াল ও নেটওয়ার্ক ফায়ারওয়াল। সমস্যা হলো, খুবই শক্তিশালী ফায়ারওয়াল বা অনেক বেশি থ্রুপুট এর না হলে আইএসপি'র পুরো নেটওয়ার্ক স্লো হয়ে যায়। কারন ফায়ারওয়াল এর মধ্যে দিয়ে সব ডাটা যেতে আসতে থাকে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>কন্টেন্ট ক্যাশিং</strong>: লোকাল আইএসপিগুলো বিভিন্ন সিডিএন বা এপ্লিকেশনের ডাটা ক্যাশ সার্ভার ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে ক্যাশ করে রাখতে পারে। এক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহার হয় না। ডাটাগুলা প্রয়োজন অনুযায়ী লোকাল সার্ভার থেকে সার্ভ হয়। যেমন আপনি একটা মুভি ইন্টারনেটে প্রথমবার দেখলেন, সেটি ইন্টারনেট থেকে ক্যাশ সার্ভারে আসবে - সেটা আমি দেখতে গেলে আর ইন্টারনেট ব্যবহার হবেনা, ক্যাশ সার্ভার থেকে আমাকে দেখাবে। ক্যাশিং সার্ভারের খুবই গুরুত্বপূর্ণ দিক - যদি রেগুলার আপডেট না হয়, তাহলে ক্যাশ এর ডাটা অটোমেটিক ডিলিট হয়ে যাবে। ইন্টারনেট ব্যাহত হওয়ার কারনে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্যাশ ক্লিয়ার হয়ে যায় যেগুলো এখন ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি আসার ফলে আবার ক্যাশিং হচ্ছে এবং সেখানে ইন্টারনেট লোড এর পরিমান বেশি হচ্ছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>কনটেন্ট মনিটরিং</strong>: বাংলাদেশে ইন্টারনেট ইউজারের লগ মনিটরিং এর একটা ব্যবস্থাপনা সব আইএসপি তে আছে। সেখান থেকে ইউজার কোন কোন সাইট, এপ্লিকেশন এবং নেটওয়ার্ক এক্সেস করে সেটার ইনফরমেশন পাওয়া যায়। কনটেন্ট এর ডিটেইল মনিটরিং করতে গেলে অনেক ক্ষেত্রে সেটা সম্ভব হয় না কারন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কন্টেন্ট এপ্লিকেশনে encrypted ভাবে সার্ভ করা হয় - যেমন ফেইসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপ। এই ক্ষেত্রে মনিটরিং করতে এপ্লিকেশন প্রোভাইডার এর সাপোর্ট প্রয়োজন হয়৷ এপ্লিকেশন প্রোভাইডার যদি অন্য-দেশের হয় সেক্ষেত্রে ডিপ্লোমেটিক রিলেশনশীপে সেটা চাওয়া যেতে পারে। একান্ত ডিপ্লোমেটিক প্রক্রিয়ায় সেটা পাওয়া না গেলে যেকোন দেশ তার লোকাল পলিসি দিয়ে মেইনস্ট্রিম ফায়ারওয়ালগুলোতে ওই এপ্লিকেশন গুলো বন্ধ করে দিতে পারে। ফেইসবুক আর ইউটিউব বন্ধ ব্যাপারটা ঠিক এরকমই। কিন্তু এগুলোর গুরুত্ব বিজনেসে বেশি হওয়ার কারনে এগুলোকে কোথাও বন্ধ করা হয় না।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>ইন্টারনেট কন্ট্রোল</strong>: পৃথিবীতে খুব কম দেশ আছে যারা ইন্টারনেট পুরোপুরি কন্ট্রোল করতে পারে নিজের দেশের জন্য, চীন - সম্ভবত একমাত্র দেশ যারা যুগ যুগ ধরে ইনভেস্টমেন্ট করে অন্য দেশের এপ্লিকেশনের ব্যবহার কমিয়ে এনেছে, বা একটা পর্যায়ে কন্ট্রোল করতে পারছে। কারন তারা নিজেদের টেকনোলোজিকে যথেষ্ঠ শক্ত অবস্থানে নিয়ে আসতে পেরেছে। খুবই সহজ বা দ্রুততার সঙ্গে অন্যদের এই কাজটি করার সুযোগ নেই।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>NIX এর সক্ষমতা</strong>: বাংলাদেশে বর্তমানে ৯ টা NIX আছে, তার মধ্যে BDIX জনপ্রিয়। আমাদের দেশের ভিতরে ডাটা ট্রান্সফারের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চলছে, এই প্রেক্ষিতে NIX নেটওয়ার্ক ক্যাপাসিটি নিয়মিতহারে বৃদ্ধি করা খুবই জরুরী।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>কর্পোরেট ভার্সেস রিটেইল ইন্টারনেট</strong>: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হোম ইউজারের কাছে ইন্টারনেট পৌছায় মোবাইল ইন্টারনেট দিয়ে৷ কিন্তু বাংলাদেশে হোম ইন্টারনেটে ফাইবার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা ইউজারের সংখ্যা কম না। বেশিরভাগ আইএসপি রিটেইল এবং কর্পোরেট একসঙ্গে দুটো সার্ভিস দিয়ে থাকে। রিটেইল এর ক্ষেত্রে শেয়ারড এবং কর্পোরেটের ক্ষেত্রে ডেডিকেটেড চ্যানেল দেওয়া হয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে যেসব আইএসপির ভালো ডিজাইন এবং ইনভেস্টমেন্ট নেই, তারা কর্পোরেট ও রিটেইলে একই রাউটার পয়েন্ট থেকে সার্ভ করে । যার ফলে ইন্টারনেট ফ্লাকচুয়েট করে এবং কর্পোরেট ভালো সার্ভিস পায় না। কর্পোরেটের ক্ষেত্রে ভালো ইন্টারনেট মানে আপলিংক ও ডাউনলিংকের ডেডিকেটেড চ্যানেল/ব্যান্ডউইথ বরাদ্দ করাকে বুঝায়। বিদেশী মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিগুলো এক্ষেত্রে খুবই কম ভোগান্তির শিকার হয়, কারন তারা বাংলাদেশের অফিস থেকে ইন্টারন্যাশনাল অফিস পর্যন্ত ডেডিকেটেড প্রাইভেট চ্যানেল ব্যবহার করে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>বর্তমান সমাধান: </strong>আপনার বর্তমান আই এস পির সঙ্গে কথা বলুন, ডেডিকেটেড চ্যানেল কনফার্ম করুন অথবা ব্যান্ডউইথ বাড়িয়ে নিন। ক্যাশ সার্ভার আপডেট হচ্ছে কিনা সেটা জানুন, ফায়ারওয়াল ব্যবহার থাকলে সেটার ক্যাপাসিটি ভালো কিনা সেটা জেনে ইন্টারনেট কানেক্টিভিটি নিন। ব্যাবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে অবশ্যই রিডান্ডেন্ট কানেক্টিভিটি থাকা জরুরী।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>উল্লেখ্য, ওভারহেড ক্যাবল এর ব্যবহারও ইন্টারনেট ইকোসিস্টেম এর জন্য ভালো নয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>লেখক : <em>সহ-সভাপতি</em> (ফাইন্যান্স), বেসিস এবং <em>প্রতিষ্ঠাতা</em>, ডিভাইন আইটি লিমিটেড</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><a href="https://www.facebook.com/photo/?fbid=10161050120362672&amp;set=a.278381502671&amp;__cft__[0]=AZUEFZVjnv5cU1k31bHGt-jXmt8W40l5nGp09ik4OgIx15rOfy-nY5jagd9NUX7CmFBmxZLyQ4noAG5ZvFFREz4IuT1swLlUHFHMfr1h3HmU6180oVQc_GSEKl-eRfEeIxtDDE7Ww7S1k68M5iuzn-AikEqnPBeJKtvQxBaGuTymx-vWKwhlkpvEP7BPUxUiGFJNcEIboxIi0_KFHWZbH4DXVN3dGnpyyWwLUxpj7j2dOA&amp;__tn__=EH-R"></a></p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বাজেট ২০২৪&#45;২৫: তথ্যপ্রযুক্তি খাতের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের যাত্রা শুরু হোক এবার</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%9F-%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A8%E0%A7%AA-%E0%A7%A8%E0%A7%AB%3A-%E0%A6%A4%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A3%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81-%E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%95-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%9F-%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A8%E0%A7%AA-%E0%A7%A8%E0%A7%AB%3A-%E0%A6%A4%E0%A6%A5%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%82%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A3%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%81-%E0%A6%B9%E0%A7%8B%E0%A6%95-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202502/image_870x580_67a320918f642.jpg" length="314679" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 06 Jun 2024 20:08:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:buttons {"layout":{"type":"flex"}} -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button -->
<div class="wp-block-button"><a class="wp-block-button__link wp-element-button"><strong>রাসেল টি আহমেদ</strong></a></div>
<!-- /wp:button --></div>
<!-- /wp:buttons -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বেসিস এর বাজেট প্রস্তাবনাকে মাথায় রেখে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ায় প্রত্যয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর অব্যাহতির মেয়াদ তিন বছর বৃদ্ধি করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সমগ্র তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি, স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে তথ্যপ্রযুক্তি খাত যে নিউক্লিয়াসের ভূমিকা পালন করবে সেই ব্যাপারটা উপলব্ধি করে এই খাতের কর অব্যাহতির মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব গ্রহণ করায় এনবিআর-কেও ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। তবে তিন বছর না হয়ে আমাদের দাবি অনুযায়ী ২০৩১ সাল অর্থ্যাৎ, বাংলাদেশের উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়া পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হলে তা তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে দেশীয় এবং বিশ্ববাজারে সক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এখানে বলে রাখা প্রয়োজন, এই কর অব্যাহতি শুধুমাত্র তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে অবদান রাখবে তা নয় বরং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এটি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, রপ্তানিমুখী উৎপাদনশিল্পসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে। যা চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত এবং জ্ঞানভিত্তিক ক্যাশলেস অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনের একটি নতুন জোয়ার সৃষ্টি করবে বলে আমরা আশা করি। স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই প্রযুক্তিগত উন্নয়নগুলোর সম্মিলিত অবদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং, উপরিউক্ত বিষয়গুলো বিবেচনা করে খুব সহজভাবেই বলা যায় যে যদি এই খাতের কর অব্যাহতির মেয়াদ বৃদ্ধি না হতো তাহলে যেমনভাবে সকল খাতের উন্নয়ন ব্যাহত হতো ঠিক তেমনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ‘রূপকল্প ২০৪১’ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াতো। একইসাথে, আমরা মনে করি যে, মাননীয় প্রধামন্ত্রীর আজকের এই উদ্যোগের ফলে আমাদের দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে আমাদের দেশের সকল ধরণের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবার চাহিদার যেনো পুরোটাই আমরাই মেটাতে পারি, বেসিসের এবং এর সদস্যের সেই অক্লান্ত যাত্রা আজ নতুন করে উজ্জীবিত হলো।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এখানে আমি উল্লেখ করতে চাই, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর অব্যাহতির মেয়াদ বৃদ্ধিতে  মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে গণভবনে বিগত ২৫ মে ২০২৪ তারিখে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের প্রাক-বাজেট আলোচনায় আমি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধি হিসেবে এই স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কর অব্যাহিতর সময় বাড়ানোর গুরুত্বের বিষয়টি তুলে ধরি। পাশাপাশি, আমরা বেসিসের পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে মাননীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী ওয়াসিকা আয়শা খান, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি-এর মাননীয় চেয়ারম্যান কাজী নাবিল আহমেদসহ এই খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মানুষের সাথে বৈঠক করি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>সর্বোপরি আমি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করতে চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, মাননীয় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের প্রতি। তাদের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবার উপর কর অব্যাহতির মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য ব্যক্তিগত ও ঐকান্তিক প্রচেষ্টার প্রতিফলন আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>তথ্যপ্রযুক্তিখাতে আমাদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা হোক আমাদের আগামীর উদ্দেশ্য, আর সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এবারের বাজেটকে আমরা আমাদের তথ্যপ্রযুক্তিখাতের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের যাত্রা হিসেবে দেখতে চাই। তাই, পাব্লিক প্রকিউরমেন্ট রুলস্‌কে যথাযথভাবে অনুসরণ করার মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিটি দপ্তরের তথ্যপ্রযুক্তিখাতের ক্রয়ের ক্ষেত্রে দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তিখাতকেই প্রাধান্য দেওয়া হয় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। যদি কিছু ক্ষেত্রে এমন হয় যে, সেক্ষেত্রে দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা নেই, সেক্ষেত্রে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে যেনো দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সাথে যৌথ অংশীদারিত্ব প্রতিষ্ঠা করে তারপর সরকারের টেন্ডারে অংশগ্রহণ করতে পারে, সরকারকে সেটির প্রতিপালনও নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ যখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশ্বে আত্মপ্রকাশ করবে, স্বাভাবিকভাবেই অনেকগুলো প্রতিবন্ধকতা আমাদের সামনে আসবে, সেগুলোকে সুযোগে রূপান্তরের জন্য আমাদের এখনই প্রয়োজন ইন্টেলেকচুয়াল প্রোপার্টি ভ্যালুয়েশনের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা, যাতে করে আমাদের উদ্যোক্তাগণ বাইরের বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশীয় ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ঋণ ও বিনিয়োগ সহজেই সংগ্রহ করতে পারেন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>বর্তমানে, আইসিটি খাত জাতীয় জিডিপিতে ১.২৫% অবদান রাখছে। ২০৪১ সাল নাগাদ দেশের ডিজিটাল অর্থনীতির আকার ৫০ বিলিয়ন ডলারে আমাদের অভীষ্ট্য লক্ষ্যানুযায়ী পৌছাতে হলে আইসিটি খাতে কর অব্যাহতি-এর মতো আরও কিছু উৎসাহব্যাঞ্জক নীতিসহায়তার প্রয়োজন রয়েছে। তাই, কর অব্যাহতির আওতায় পূর্বের ন্যায়, ক্লাউড সার্ভিস, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, ওভারসিজ মেডিকেল ট্রান্সক্রিপশন, সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশান সার্ভিস, ওয়েবসাইট হোস্টিং, আইটি প্রসেস আউটসোর্সিং, ও নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) বাদ না দিয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হোক। প্রসঙ্গত, ব্যাক্তিগত উপাত্ত সুরক্ষা আইন (খসড়া) অনুসারে ক্লাসিফাইড ডেটা লোকালাইজেশনের একটি বিষয় আছে, এক্ষেত্রে, ওয়েব হোস্টিং ও ক্লাউড সার্ভিসেসের স্থানীয় বাজার যেভাবে বৃদ্ধি পেতে যাচ্ছে তাতে করে বাংলাদেশি তথ্যপ্রযুক্তি ও পরিষেবা প্রতিষ্ঠানগুলোকে উদ্বুদ্ধ করতে এই দুটি খাতকে কর অব্যাহতির আওতায় অবশ্যই রাখা প্রয়োজন। বর্তমানে, দেশের ক্লাউড সার্ভিস এবং ওয়েব হোস্টিং এর বাজার প্রায় ২০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মাত্র ১০% দেশীয় উদ্যোক্তারা ধরে রাখতে পেরেছেন, নতুন করে একে করের আওতায় আনা হলে তা বর্তমান দেশীয় উদ্যোক্তাদের এই ব্যবসা থেকে সরে আসতে বাধ্য করতে পারে এবং অন্যদিকে নতুন উদ্যোক্তাদের এই ব্যবসায় আসতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। একইসাথে, নেশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্র্যান্সমিশন নেটওয়ার্ককেও কর অব্যাহতির আওতায় রাখা যেতে পারে, নাহয়, ইন্টারেনেটের দাম গ্রাহক পর্যায়ে বেড়ে যাওয়ার একটি সম্ভাবনা থাকে।  </p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>আমরা অবগত হয়েছি যে, অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং হাই-টেক পার্কের বিনিয়োগকারীরা তাদের বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধা হারিয়ে প্রায় সমস্ত ক্যাটাগরির মূলধনি যন্ত্রপাতির ওপর ১% আমদানি শুল্কের মুখোমুখি হতে পারেন। এটি পুনর্বিবেচনা করে হাই-টেক পার্কের বিনিয়োগকারীদের জন্য বর্তমান শুল্কমুক্ত সুবিধা বহাল রাখা এবং একইসাথে এখানে বিনিয়োগবৃদ্ধি করার জন্য কর্ম্পরিকল্পনা পুনঃপ্রণয়নে প্রাইভেট সেক্টরের সাথে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহবান জানাচ্ছি, যাতে করে আগামী কয়েক বছরে হাই-টেক পার্কগুলোতে দৃশ্যত বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধি পায়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>আমরা আরও জানতে পেরেছি যে, মোবাইল ফোনের দামের উপর ভিত্তি করে এর উপর শুল্ক বসানোর প্রস্তাব করা হয়েছে এবারের বাজেটে, যেটি আমরা মনে করি পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে। যেহেতু, আমাদের যাত্রা এখন স্মার্ট বাংলাদেশের পথে, তাই মোবাইল ফোন, স্মার্ট ফোন, স্মার্ট ডিভাইস মানুষের হাতে হাতে পৌছে দেওয়া আমাদের অন্যতম লক্ষ্য হওয়া উচিত, আর তাই, এই শুল্ক বসানোর প্রস্তাব পুরোপুরিভাবে উঠিয়ে দেওয়া প্রয়োজন বলে আমরা মনে করি। নাহয়, তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নের কল্যাণ একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে পৌছানো যাবে না।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>সর্বশেষে, আমি আরও একবার বলতে চাই, তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পই গড়বে স্মার্ট বাংলাদেশ। তাই, এই খাতকে করমুক্ত রাখার পাশাপাশি সরকারি নীতিগত সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করে তোলা হোক।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক: সভাপতি, বেসিস</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>৫ বছরে কতটা এগুলো ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’?</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A7%AB-%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E2%80%98%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%81-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%9F%E2%80%99</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A7%AB-%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%9F%E0%A6%BE-%E0%A6%8F%E0%A6%97%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E2%80%98%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%81-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%9F%E2%80%99</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202502/image_870x580_67a320e970180.jpg" length="104029" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 22 May 2024 01:09:52 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:group {"layout":{"type":"constrained"}} -->
<div class="wp-block-group"><!-- wp:buttons {"layout":{"type":"flex"}} -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button -->
<div class="wp-block-button"><a class="wp-block-button__link wp-element-button">সালাহ উদ্দিন সেলিম</a></div>
<!-- /wp:button --></div>
<!-- /wp:buttons --></div>
<!-- /wp:group -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>গত ১৯ মে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট এর বাণিজ্যিক কার্যক্রমের ৫ বছর পূর্ণ হলো। ২০১৯ সালের ১৯ মে মাসে শুরু হয়েছিল এর বাণিজ্যিক কার্যক্রম। যদিও একই বছরের অক্টোবর পর্যন্ত কোন গ্রাহক ছিলো না তাদের এবং ২ অক্টোবর ২০১৯ থেকে সকল টিভি চ্যানেল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সম্প্রচার শুরু করে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>কিন্তু এই ৫ বছরে কতটুকু এগুলো এই স্যাটেলাইটটি? অর্জনই বা কতটুকু?</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>এই স্যাটেলাইটের একজন গ্রাহক ও প্রযুক্তির মানুষ হিসেবে বলবো অনেক দূর এগিয়েছে! হয়তো হেটার্সরা বলবে আমি <a></a>তেল দিচ্ছি, তবে যাদের স্যাটেলাইট সম্পর্কে জ্ঞান রয়েছে তারা আমার সাথে একমত হবেন। এবং এই স্যাটেলাইটটির সফলতা, প্রত্যাশার চেয়ে এতটাই বেশি হয়েছে যেটা হয়তো ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ কর্তৃপক্ষ নিজেরাও বুঝতে পারছে না, নইলে তারা এটা নিয়ে অনেক বেশি ঢাকডোল পেটাতে পারতো।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>সফলতার প্রসঙ্গে আসি- বর্তমানে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ব্যবহারকারী বাংলাদেশ সহ মোট ৮টি দেশ । এবং সবমিলিয়ে প্রায় ৭৩টি টিভি চ্যানেল সম্প্রচার হচ্ছে (আলাদা আলাদা চ্যানেলের স্লট হিসেবে)। এরমধ্যে আবার বাংলাদেশ বেতার প্রায় ৯টি স্লট ব্যবহার করছে যা আরও কয়েকটি টিভি চ্যানেলের স্লটের সমান। অন্যদিকে প্রতিটি স্যাটেলাইটের রয়েছে একটি নির্দিষ্ট ক্যাপাসিটি যা সাধারণত ‘ট্রান্সপোন্ডার’এর সংখ্যা দিয়ে হিসেব করা হয়। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের ক্যাপাসিটি হলো- ১৪টি সি-ব্যান্ড ট্রান্সপোন্ডার ও ২৬টি কে.ইউ ব্যান্ড ট্রান্সপোন্ডার, মোট ৪০টি ট্রান্সপোন্ডার। এর মধ্যে টিভি চ্যানেলগুলো ব্যবহার করে সি-ব্যান্ড এবং আকাশ ডিটিএইচ ব্যবহার করছে কেইউ ব্যান্ড। টিভি চ্যানেল ও রেডিও মিলে বর্তমানে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সি-ব্যান্ডের ক্যাপাসিটি প্রায় শেষ দিকে। অন্যদিকে আকাশ ডিটিএইচ কেইউ ব্যান্ডের অনেক জায়গা ব্যবহার করছে। স্যাটেলাইটের সিংহভাগ ক্যাপাসিটি ব্যবহারের উদাহরণ বিশ্বে হাতে গোনা কয়েকটি স্যাটেলাইটের রয়েছে যার মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট’ একটি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>সবমিলিয়ে গ্রাহক ও ক্যাপাসিটির ব্যবহার হিসেবে এই স্যাটেলাইটটির লোকসান হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকার কথা নয়। এবং এর আয় ব্যয় এর হিসেব নিকাশ একটু মাথা খাটালেই বের করা যায় এবং এখানে সরকারি অন্যান্য খাতের মতো পুকুরচুরি হওয়ার সম্ভাবনাও নাই বললেই চলে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>ব্যর্থতার প্রসঙ্গে বলি- স্যাটেলাইট মানেই সম্প্রচার ব্যবস্থা চলবে বিনা তারে। কিন্তু বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট চলে তার সংযোগের মাধ্যমে। প্রতিটি টিভি চ্যানেল থেকে ফাইবার অপটিক ক্যাবলের মাধ্যমে অডিও-ভিডিও যায় ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটে’র গ্রাউন্ডস্টেশনে এবং সেখান থেকে এটি আবার রিলে হয়। কোন কারণে যদি টিভি চ্যানেল ও গ্রাউন্ডস্টেশনের মাঝে ফাইবার অপটিক সংযোগে সমস্যা হয় তাহলে সেই চ্যানেল ব্ল্যাক। একাধিকবার এরকম ঘটেছে, প্রতিদিনই ছোটখাটো কিছু অদৃশ্য বা দৃশ্যমান সমস্যা থাকেই। এবং কিছুদিন আগে ফাইবার অপটিক সংযোগ ব্যবস্থায় সমস্যার কারণে দেশের প্রায় সবগুলো টিভি চ্যানেলই প্রায় ২০ মিনিটের উপরে সম্প্রচার বন্ধ ছিল। এরকম দুর্ঘটনার উদাহারণ সারা বিশ্বে হয়তো নেই বললেই চলে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>যদিও এই ব্যর্থতার দায় বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের নয়, এর দায় আমাদের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা। তারবিহীন সম্প্রচারের জন্য বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত থাকলেও না বুঝেই এক অদৃশ্য গ্যাড়াকলে আমলাদের অতি বুদ্ধিতে তারের বন্ধনে আটকে আছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইটের সম্প্রচার প্রক্রিয়া।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক:</strong> সম্প্রচারকর্মী।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:group {"layout":{"type":"constrained"}} -->
<div class="wp-block-group"><!-- wp:preformatted -->
<pre class="wp-block-preformatted"><em>দ্রষ্টব্য: অভিমতের সকল মন্তব্য লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত। আলোচনা-পর্যালোচনা এবং তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে স্মার্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের দুয়ার যেন সম্প্রসারিত হয় এমন বিবেচনায় এই বিভাগের লেখা সম্পাদনা করা হয় না। </em></pre>
<!-- /wp:preformatted --></div>
<!-- /wp:group -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>স্বপ্নবাজ মানুষ; পরিশ্রমী প্রতিমন্ত্রী</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A7%80-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C-%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AE%E0%A7%80-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news/uploads/images/202502/image_870x580_67a32154add12.jpg" length="74838" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 18 May 2024 02:55:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:buttons -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button -->
<div class="wp-block-button"><a class="wp-block-button__link wp-element-button"> শামীম আহসান</a></div>
<!-- /wp:button --></div>
<!-- /wp:buttons -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>আজকের তরুণ সমাজের কাছে তিনি মোটেই অপরিচিত নন। এরই মধ্যে দুর্দান্ত একজন পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন তিনি। বাস্তবে, পরাবাস্তব সব মাধ্যমেই তিনি বেশ জনপ্রিয়। তিনি একজন সাম্যবাদী পুরুষ। তার মজ্জায় মিশে আছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও দেশপ্রেম। ব্যক্তি জীবনে মমতাময়ী মা থেকে প্রিয়তমা স্ত্রী এবং সন্তানদের সঙ্গে তার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, রাজনৈতিক শিষ্টাচার, শ্রদ্ধাবোধ, সঙ্গীতপ্রেমী সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং ধর্মীয় মূল্যবোধেও তিনি পিছিয়ে নেই।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>সব মিলিয়ে নিয়তির পুরস্কার হিসেবেই হয়তো তিনি সবচেয়ে কম বয়সে সংসদ সদস্য; প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। আসলে জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক ভাই এর সঙ্গে আমার পরিচয় এর পরেই। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দ্বায়িত্ব নেয়ার পর নিজের অফিসের বাইরে তিনি প্রথম প্রোগ্রাম করেন বেসিস অফিসে আমাদের আমন্ত্রণে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকারের ভিশন বাস্তবায়নে তিনি পাবলিক এবং প্রাইভেট সেক্টরকে কখনোই আলাদা করে দেখেননি বরং তিনি প্রত্যেকটি পদক্ষেপে বেসিস সহ অন্যান্য ইন্ডাস্ট্রি স্টেকহোল্ডারদের সাথে নিয়ে এগিয়ে গেছেন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>তিনি প্রচণ্ড পরিশ্রমী একজন মানুষ, তিনি গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করেন আবার ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে পড়েন।<br>আমার সাথে একবার একান্ত আলাপে সজীব ওয়াজেদ জয় ভাই জিজ্ঞেস করেছিলেন, “পলক কি কখনো ঘুমায় না? সে মধ্য রাতেও আমার সাথে কথা বলে, আবার দেখি ভোর বেলাও মেসেজ করছে, উত্তর দিচ্ছে, আবার সারাদিন কাজ করছে”।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>নতুন কোন প্রযুক্তি বা পলিসি সম্পর্কে পলক ভাইয়ের জানার এবং শেখার আগ্রহ প্রবল। কোন কিছু না জানলে সেটা না লুকিয়ে অবলীলায় শেখার আগ্রহ দেখান এবং দ্রুত শিখে নেন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>তিনি কখনোই শুধু ঢাকা, রাজশাহী কিংবা তার নিজ সংসদীয় আসন সিংড়া কেন্দ্রিক পরিকল্পনা বা কাজ করেন না বরং দেশের সকল জেলা, উপজেলা এবং ইউনিয়নে তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নে নিরলস পরিশ্রম করেন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>তিনি সিনিয়র-জুনিয়র, ধনী-গরীব, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, সফল-অসফল বিবেচনায় কারো সাথে বিভেদ বা বৈষম্য করেন না বরং সকলকেই তাদের প্রাপ্য সম্মান দিতে এবং সকলের সাথেই হাসি মুখে কথা বলতে চেষ্টা করেন। তার সম্পর্কে আসা প্রত্যেকটি সমালোচনা তিনি তার কাজের মাধ্যমে জবাব দিতে পছন্দ করেন। আর এইসব গুণের কারণে তার কট্টর সমালোচনাকারীকেও একটা সময় এসে তার ভক্ত হয়ে যেতে দেখেছি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>আজ সেই মানুষটির জন্মদিন!</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p>শুভ জন্মদিন পলক ভাই! তরুণরা আপনাকে দেখে অনুপ্রাণিত হোক, দেশের কল্যাণে এগিয়ে আসুক। এগিয়ে যাক দেশ, বিশ্বের বুকে বাংলাদেশ হয়ে উঠুক রোল মডেল, হোক স্মার্ট বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়ন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>মুজিব থেকে সজীব: মহাকাশে বাংলাদেশ</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%AC+%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87+%E0%A6%B8%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%3A+%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A7%87+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%AC+%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87+%E0%A6%B8%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%3A+%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A7%87+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 12 May 2024 00:05:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:image {"align":"left","id":130676,"width":205,"height":114,"sizeSlug":"full","linkDestination":"none"} -->
<figure class="wp-block-image alignleft size-full is-resized"><img src="https://digibanglatech.news/wp-content/uploads/2024/05/image-10.png" alt="" class="wp-image-130676" width="205" height="114"/><figcaption class="wp-element-caption"><strong><mark style="background-color:rgba(0, 0, 0, 0)" class="has-inline-color has-vivid-cyan-blue-color"><kbd>জুনাইদ আহমেদ পলক</kbd></mark></strong></figcaption></figure>
<!-- /wp:image -->

<!-- wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>একটি দেশকে উন্নয়ন ও অগ্রগতির পথে পরিচালিত করার জন্য সর্বাগ্রে প্রয়োজন ভিশনারি নেতৃত্ব। তাদের ভাবনা ও উদ্যোগের মধ্যে প্রতিফলিত হয় আগামী বিশ, পঁচিশ, পঞ্চাশ ও একশ বছরে দেশকে উন্নয়নের কোনো স্তরে নিতে হবে।বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৩ বছরের রাষ্ট্র পরিচালনার ইতিহাসের পর্যালোচনা করলে আমরা দেখতে পাই শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুকন্যা—এই পরম্পরা নেতৃত্ব ভিশনারি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে রাষ্ট্র পরিচালনার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের এসব উদ্যোগের মূলে ছিল তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ে তোলা এবং বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। আর&nbsp;প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সব&nbsp;উদ্যোগের মূলে রয়েছে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা এবং ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত-সমৃদ্ধ স্মার্ট সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করা।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এ নিবন্ধে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গবন্ধুকন্যার দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিশাল কর্মযজ্ঞ নিয়ে আলোচনা মুখ্য উদ্দেশ্য নয়। ১২ মে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ দিবস এবং আগামী ১৪ জুন বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্র উদ্বোধনের ৪৯ বছর পূর্ণ হবে। এ দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় ঘটনাকে সামনে রেখে স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশ আমাদের জন্য কতটা প্রয়োজন ছিল, তা নিয়ে একটি নিবন্ধ রচনার তাগিদ অনুভব করছি। ফলে নিবন্ধের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে বাংলাদেশের স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশের ভিত কবে রচিত হয়েছিল এবং সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়ে&nbsp;প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী এবং তাঁরই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের সাহসী, সৎ ও মেধাবী নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ উৎক্ষেপণের প্রাসঙ্গিক বিষয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি ক্ষমতায় আসীন হয়ে মাত্র সাড়ে তিন বছর রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। কিন্তু এই স্বল্প সময়ে আমরা যদি শুধু তার স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশে কার্যক্রম গ্রহণ ও বাস্তবায়নের উদ্যোগগুলোর দিকে তাকাই তাহলে দেখা যাবে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে কতটা বিচক্ষণ ছিলেন। আর কতটা ভিশনারি ছিলেন তাঁর সব উদ্যোগ। এই দেশকে নিয়ে তাঁর ভাবনা কতটা উচ্চ ছিল। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ। দেশ পুনর্গঠন এবং মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থানের মতো মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই জাতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দেয়। তা সত্ত্বেও তিনি এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পাশাপাশি স্যাটেলাইট যুগে প্রবেশের ভিত রচনায় নানা উদ্যোগ গ্রহণ ও তাঁর বাস্তবায়ন করেন। &nbsp;</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>জাতিসংঘের ১৫টি সংস্থার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়ন (আইটিইউ)। এ সংস্থাটি স্যাটেলাইটের অরবিট/ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দসহ বিশ্বব্যাপী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণের সমন্বয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। বঙ্গবন্ধু সরকারের কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আইটিউইর সদস্যপদ লাভ করে। বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দেশে আর্থ-রিসোর্স টেকনোলজি স্যাটেলাইট (ইআরটিএস) প্রোগ্রামের বাস্তবায়ন করা হয়। এ প্রকল্প বাস্তবায়নে সাফল্যের পথ বেয়ে প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় বাংলাদেশ ল্যান্ডস্যাট প্রোগ্রাম (বিএলপি) অন্তর্ভুক্ত করা হয়। বিএলপি-ই কিন্তু দেশে জাতীয় মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ও দূর অনুধাবন প্রতিষ্ঠান (SPARSO) গঠনের পথ সুপ্রশস্ত করে। &nbsp;</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p>বঙ্গবন্ধু ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বঙ্গবন্ধু বেতবুনিয়া উপগ্রহ ভূ-কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। বিস্মিত হতে হয় এই ভেবে যে, বঙ্গবন্ধু শুধু বাংলাদেশের স্যালোইট যুগে প্রবেশ নয়, মহাকাশ গবেষণার পথও সুগম করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দীর্ঘ ২১ বছর স্যাটেলাইটের এলিট ক্লাবের সদস্য হওয়া ও মহাকাশ গবেষণার পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য গৃহীত উদ্যোগুলো থেমে যায়।</p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের পথ ধরে ১৯৯৬ সালে দেশের জনগণ আরেক ভিশনারি নেতা বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার ওপর জনগণ আস্থা রাখে। তিনি ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৯ সাল টানা চার বার রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন। তিনিই রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করেন, যার মূল উপজীব্য ডিজিটাল বাংলাদেশ। নির্ধারিত সময়ে তাঁর বাস্তবায়নও করেন। লক্ষণীয়, ডিজিটাল বাস্তবায়নের সময়কালে বাংলাদেশের মহাকাশ জয়ের ইতিহাস সৃষ্টিকারী ঘটনাটি ঘটে। ২০১৮ সালের ১২ মে বাংলাদেশ সময় রাত ২টা ১৫ মিনিটে। মহাকাশ বিজয়ের এই মাহেন্দ্র ক্ষণের সাক্ষী ছিলাম আমি নিজেও। উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ভাইয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ প্যাডে উপস্থিত থেকে সেদিন মার্কিন বেসরকারি মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের ‘ফ্যালকন-৯’ রকেটে উৎক্ষেপণের এই মহালগ্নের সাক্ষী হতে পেরে আমি নিজেকে খুবই ভাগ্যবান মনে করছি। আমরা মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স‌্যাটেলাইট- ১ উৎক্ষেপণ করেছি। বিশ্বে স্পেস সোসাইটিতে ৫৭তম স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণকারী দেশ বাংলাদেশ মহাকাশ জয় আমাদের অহংকার। মহাকাশে বাংলাদেশের এই অস্তিত্ব জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় চলমান স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের সংগ্রাম এগিয়ে নেওয়ার এক উজ্জ্বল সোপান। &nbsp;</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>স্যাটেলাইট একটি দেশের উন্নয়নের জন্য কতটা প্রয়োজন, সে বিষয়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করছি। একথা অনস্বীকার্য, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বিচক্ষণতা ও দক্ষতা এবং খ্যাতিমান তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সজীব ওয়াজেদ জয়ের পরামর্শ, দিকনির্দেশনা ও তদারকিতে আমরা সাফল্যের সাথে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করেছি। আর এই ডিজিটাল বাংলাদেশেরই একটি মাইলফলক অর্জন বঙ্গবন্ধু স্যাটলোইট-১। স্যাটেলাইটের ক্যাটাগরি নির্ধারণ, নির্ধারিত সময়ে ও সাশ্রয়ী মূল্যে বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সজীব ওয়াজেদ জয়। তারই নিরলস প্রচেষ্টায় বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইটের নির্মাণ কাজ নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়। স্যাটেলাইটের নানা ক্যাটাগরি রয়েছে। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ একটি ভূ-স্থির যোগাযোগ স্যাটেলাইট (Geostationary Communication Satellite)। এটি শুধু নিরবচ্ছিন্ন কানেক্টিভিটি নিশ্চিত করছে না, দেশে মহাকাশ গবেষণা, মহাকাশ (স্পেস) অর্থনীতি ও ডিজিটাল অর্থনীতি গড়ে তোলার কার্যক্রম আরও জোরালো করছে।  </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:image {"id":130679,"width":800,"height":449,"sizeSlug":"full","linkDestination":"none"} -->
<figure class="wp-block-image size-full is-resized"><img src="https://digibanglatech.news/wp-content/uploads/2024/05/image-11.png" alt="" class="wp-image-130679" width="800" height="449"/></figure>
<!-- /wp:image -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ নিরবচ্ছিন্নভাবে ১৫ বছরের অধিক সময় মহাশূন্যে থেকে সেবা দিয়ে যাবে। এ স্যাটেলাইট থেকে পাওয়া যাচ্ছে উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথ। স্যাটেলাইটটিতে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার আছে, যা থেকে ১৬০০ মেগাহার্টজ ফ্রিকোয়েন্সি পাওয়া যাবে এবং এর অর্ধেক অর্থাৎ ২০টি ট্রান্সপন্ডারের ৮০০ মেগাহার্টজ নিজেদের ব্যবহারের জন্য রেখে বাকিটা বিদেশি চ্যানেলগুলোর সেবা প্রদানের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার জন্য বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে। দেশের প্রায় ৩০টি টিভি চ্যানেল বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট ব্যবহার করছে। এ থেকে সরকারের আয় প্রায় ১২০ কোটি টাকা। এর আগে এসব চ্যানেলগুলো সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের মালিকানাধীন স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল ছিল। এসব চ্যানেলগুলো বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ ব্যবহার করায় বিদেশ নির্ভরতা কমেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হচ্ছে। চালুর পর থেকে তিন বছরে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ থেকে বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট লিমিটেড (বিএসসিএল) ৩০০ কোটি টাকার বেশি আয় করে। কোম্পানির মাসিক আয় প্রায় ১০ কোটি টাকা, যার প্রায় পুরোটাই দেশীয় বাজার থেকে অর্জিত হচ্ছে। &nbsp;</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p>ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে প্রধানমন্ত্রী অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নকে প্রাধান্য দেন। সব অঞ্চল ও সব মানুষের কাছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সুবিধা পৌঁছে দিয়ে তাদের জীবন ও জীবিকার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চান। কিন্তু অপটিক্যাল ক্যাবল লাইনের দ্বারা দুর্গম এলাকা বিশেষ করে দ্বীপ এবং পার্বত্য অঞ্চলে অপটিক্যাল ফাইবার ক্যাবল লাইন পৌঁছানো দুরূহ ও ব্যয়বহুল। সেখানে ইন্টারনেট লিঙ্কড যোগাযোগ ও ডেটা সার্ভিসের বিকল্প উপায় হতে পারে স্যাটেলাইট। বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সেবার আওতায় দেশের ৩১টি দুর্গম ও প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলের ১১২টি স্থানে টেলিযোগাযোগ সেবা দেওয়া হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগণকে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সেবার আওতায় আনা হচ্ছে।</p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এ কথা আজ সর্বজনবিদিত, দেশ দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু, উন্নয়ন দিয়েছেন শেখ হাসিনা এবং সমৃদ্ধ আগামীর প্রতিচ্ছবি সজীব ওয়াজেদ জয়। আজ বাংলাদেশে স্যাটেলাইট কমিউনিকেশনসহ তথ্যপ্রযুক্তিতে যে অগ্রগতি সাধিত হয়েছে তাতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও আর্কিটেক্ট অব ডিজিটাল বাংলাদেশ সজীব ওয়াজেদ জয়—এই ত্রয়ী নেতৃত্বের অবদান চির অম্লান হয়ে থাকবে। দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি সামনে রেখে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের অগ্রযাত্রাকে মসৃণ করায় ২০২৫ সালের মধ্যে দ্বিতীয় স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২’ উৎক্ষেপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। স্মার্ট বাংলাদেশের সফল বাস্তবায়নের পথ বেয়ে গড়ে উঠবে বঙ্গবন্ধুর সুখী সমৃদ্ধ সোনার বাংলা। &nbsp;</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নের ফলে উন্নয়নের প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশের অভাবনীয় সফলতায় বিশ্বে আজ বাংলাদেশ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। স্মার্ট বাংলাদেশের সফল বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় ২০৪১ সালের বাংলাদেশ হবে বুদ্ধিদীপ্ত, উদ্ভাবনী, জ্ঞাননির্ভর উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী অগ্রগতির বর্তমান এ ধারা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালে অনেক আগেই বাংলাদেশ তার অভিষ্ট লক্ষ্যের ঠিকানায় পৌঁছুবেই ইনশাল্লাহ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক</strong>: জুনাইদ আহমেদ পলক, প্রতিমন্ত্রী, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়</p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>অভিজ্ঞতা থেকে সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে নেয়ার ভাবনা</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%A4%E0%A6%BE+%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87+%E0%A6%B8%E0%A6%AB%E0%A6%9F%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF+%E0%A6%8F%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87+%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%A4%E0%A6%BE+%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87+%E0%A6%B8%E0%A6%AB%E0%A6%9F%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF+%E0%A6%8F%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87+%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 04 May 2024 07:05:15 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:buttons -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button -->
<div class="wp-block-button"><a class="wp-block-button__link wp-element-button">ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান</a></div>
<!-- /wp:button --></div>
<!-- /wp:buttons -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>দে</strong>শের আইটি খাতে গত ২০ বছরে সবচাইতে বড় ভূমিকা পালন করেছি আমরা বেসিস মেম্বার কোম্পানিগুলো । দেশের অর্থনীতি ও টেকনোলজি প্রসারে যুক্ত হয়ে আছে বেসিস মেম্বার কোম্পানিগুলোর অক্লান্ত পরিশ্রম, অর্থ ব্যয় ও আবেগ ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আমি কখনোই মনে করিনা বেসিসের সহায়তায় সফটওয়্যার বা আইটি সার্ভিস ইন্ডাস্ট্রি এগিয়ে যাচ্ছেনা । আমার সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিতে আগমন ২০০৫ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিয়মিত এগিয়ে যাচ্ছে । বেসিসের সেই আগানোর পিছনে সম্মানিত বেসিস প্রতিষ্ঠাতাগণ, সকল প্রেসিডেন্টবৃন্দ ও কার্যনির্বাহী কমিটি সহ সকল স্থায়ী কমিটির সদস্যদের অবদান অপরিসীম । হাঁ, আমরা সবাই মিলে আরও দ্রুত আগানোর চেষ্টাই করবো ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বেসিসের উদ্যোগে সরকার থেকে প্রাপ্ত এক্সপোর্ট ইনসেন্টিভ এর কারণে রপ্তানিকারক সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো এবং ট্যাক্স ইনসেন্টিভ কারণে দেশীয় কোম্পানি গুলোর টেকসই সফটওয়্যার পণ্য নিয়ে বাজার অবস্থান অবশ্যই আমাদেরকে অনেকখানি এগিয়ে নিয়ে এসেছে ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>সেই অবস্থান থেকে আমাদেরকে আরও কতগুলো নতুন কাজ ও পলিসি নিয়ে ভাবতে হবে সামনের দিনগুলোতে ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>আমার অভিজ্ঞতা থেকে ভাবনা:</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি:&nbsp;</strong>আমাদের খুব কম সংখ্যক কোম্পানি সফটওয়্যারকে নিজেদের অডিটেড সম্পদে রূপান্তর করতে পেরেছে। আমাদের সবাইকে এটা করতে হবে । ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টির মালিকানা ও সংরক্ষণে আমরা এখনও অনেক পিছিয়ে, যার ফলে সফটওয়্যার প্রস্তুতকারক ও সরকারি-বেসরকারি উভয় পর্যায়ের গ্রাহক বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করার পরও লাভবান হচ্ছেনা।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>অনাকাঙ্ক্ষিত বিদেশী সফটওয়্যার:&nbsp;</strong>দেশীয় বাজারে প্রচুর পরিমাণ পরীক্ষিত সফটওয়্যার থাকার পরও বিদেশি সফটওয়্যার আইনি ও বেআইনি পদ্ধতিতে দেশীয় বাজারে বিদেশি সফটওয়্যারের নৈরাজ্য আমাদের দেশীয় কোম্পানিগুলোকে দিনদিন দুর্বল করে যাচ্ছে। আমাদের সকলের সমন্বিত প্রয়াসে বেসিসের মাধ্যমে দেশে তৈরি সফটওয়্যার বিদেশ থেকে আমদানি বন্ধের নীতিমালা তৈরি ও বেআইনিভাবে আসা সফটওয়্যারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>অপরিকল্পিত সফটওয়্যার ও আইটি কোম্পানি:&nbsp;</strong>প্রচুর পরিমাণ স্টার্টআপ বা নতুন কোম্পানি অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হওয়া কাম্য নয় । আমাদের ছোট কোম্পানি গুলো কিভাবে পরিকল্পিত অবস্থায় গড়ে উঠতে পারে সেটা একে অপরের সহযোগিতায় অথবা বেসিসকে প্লাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে সমষ্টিগতভাবে পরিকল্পনা সহায়তা গড়ে তোলা যায় সেটার ব্যবস্থা গ্রহণ করা। মেম্বারশিপের শুরুতেই বেসিস থেকে কোম্পানি গুলোকে গুছানো কোম্পানি গঠনে সহায়তা করা প্রয়োজন ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>বাজার গবেষণা:</strong>&nbsp;পর্যাপ্ত বাজার গবেষণা ও পরিকল্পনার অভাবে নিয়মিতভাবে একই ধরনের পণ্যে বাজার সয়লাব হওয়ার সুযোগ অনেক বেশি । পরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠার সহায়তার পাশাপাশি বাজার গবেষণা তথ্যের ভিত্তিতে দেশীয় ও বিশ্ব বাজারের ঘাটতি মেটাতে সফটওয়্যার তৈরি বা উপযুক্ত বাজারে প্রবেশের জন্য প্রোডাক্ট তৈরি করে সেবার সহায়তা প্রধানে বেসিসকে&nbsp; ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন । এটারই ধারাবাহিকতায় আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স, মেশিন লার্নিং এর মতো নতুন টেকনোলজি ব্যবহার ও সফটওয়্যার তৈরিতে দেশীয় কোম্পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>ডাটা সিকিউরিটি:</strong>ডিজিটালাইজেশন এর পাশাপাশি ডাটা সিকিউরিটিতে আমাদেরকে যথেষ্ট শক্ত ভিত্তি তৈরি করতে বেসিসের ভূমিকা অপরিহার্য । দেশীয় টেকসই&nbsp; সিকিউরিটি সফটওয়্যার প্রস্তুতকারী ও সেবাদাতা কোম্পানির পরিমাণ বৃদ্ধি না করা গেলে ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>উপরের ভাবনাগুলোর সঙ্গে আমার দৈনন্দিন সম্পৃক্ততা থাকার কারণে এবং বেসিস প্লাটফর্মের সহায়তায় মেম্বার কোম্পানি গুলো সহায়তায় জন্য প্রয়োজনীয় স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা এবং সেটার বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করা, সর্বোপরি দেশকে সফটওয়ার ও আইটিখাতে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার উদ্যোগে সবাইকে এগিয়ে আশা উচিত বলে আমি মনে করি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><em><strong>লেখক:</strong> ইকবাল আহমেদ ফখরুল হাসান (রাসেল), ডিভাইন আইটি লিমিটেড প্রতিষ্ঠাতা ও দেশের প্রথম ওয়েব-বেজড ইআরপি প্রিজমইআরপি সফটওয়্যার এর নির্মাতা ।</em></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:verse -->
<pre class="wp-block-verse"><strong>দ্রষ্টব্য:</strong> অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুবদ্ধ বা উদ্বেলিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।</pre>
<!-- /wp:verse -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>আমার বাবা জামিলুর রেজা চৌধুরী</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE+%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%B0+%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%9C%E0%A6%BE+%E0%A6%9A%E0%A7%8C%E0%A6%A7%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%80</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE+%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%81%E0%A6%B0+%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%9C%E0%A6%BE+%E0%A6%9A%E0%A7%8C%E0%A6%A7%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%80</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 01 May 2024 15:46:29 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:buttons -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button -->
<div class="wp-block-button"><a class="wp-block-button__link wp-element-button">কারিশমা চোধুরী</a></div>
<!-- /wp:button --></div>
<!-- /wp:buttons -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ছোটবেলা থেকেই আমি আমার বাবা জামিলুর রেজা চৌধুরীকে অত্যন্ত ব্যস্ত দেখে এসেছি। ১৯৮০–এর দশকে আমি এবং আমার ভাই যখন স্কুলে পড়ি, লোডশেডিংয়ের কারণে ঢাকায় প্রতি রাতে নিয়মিত ১ থেকে ২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকত না। এই সময়টা আমাদের খুব প্রিয় ছিল, কারণ আইপিএস বা জেনারেটর না থাকায় সেই সময় আমার বাবা অন্য কোনো কাজ করতে পারতেন না এবং বারান্দায় বসে আমাদের সঙ্গে নানা বিষয়ে গল্প করতেন।<br><br>কখনো তা হতো বিজ্ঞানবিষয়ক, কখনো ইতিহাসবিষয়ক, কখনো তাঁর ছেলেবেলার ঘটনা, আবার কখনো কাল্পনিক চরিত্র ‘ইমনি-রুমনির’ ভ্রমণকাহিনি। শেষেরটি ছিল আমাদের সবচেয়ে প্রিয়। কারণ ইমনি-রুমনির বদৌলতে মানসচক্ষে পৃথিবীর সব দেশ দেখা হয়ে যেত।<br><br>তাঁর একটি বৈশিষ্ট্য ছিল, তিনি ছোট-বড় সবার সঙ্গে সমান আগ্রহ নিয়ে গল্প করতেন। ছোটরা তাঁকে কোনো প্রশ্ন করলে তিনি সহজ করে বলতে গিয়ে অশুদ্ধ উত্তর দিতেন না। তাঁর ভাষ্য ছিল, সঠিক অথচ জটিল উত্তরটি শিশুরা তাৎক্ষণিকভাবে না বুঝলেও তাদের মতো করে জরুরি অংশটি আত্মস্থ করবে এবং পরে কোনো একসময় এটি তাদের পুরো বিষয়টি বুঝতে সাহায্য করবে। তাঁর এই দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের যৌথ পরিবারের সব শিশুকেই অনুসন্ধিৎসু হয়ে বড় হতে সাহায্য করেছে। তিনি পরিবারের সব দুষ্টু ও চঞ্চল বাচ্চাদের কাছে বিশেষভাবে প্রিয় ছিলেন। তিনি বলতেন, ‘দুষ্টু বাচ্চা মানে বুদ্ধিমান বাচ্চা।’ আমি, আমার ভাই ও পরে আমার ছেলে তাঁর এই ‘দুষ্টুমি করার অনুমতির’ পূর্ণ সদ্ব্যবহার করে একটি আনন্দময় শৈশব উপভোগ করেছি।<br><br>আমাকে ও আমার ভাইকে আমার বাবা (ও মা) পুরোপুরি ‘জেন্ডার ইকুয়াল’ দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় করেছেন। আমাদের দুজনের খেলনাই ছিল লেগো, মেকানো সেট, জিগসো পাজল, মাস্টারমাইন্ড, স্ক্র্যাবল ও অন্যান্য ধাঁধা বা শব্দ মেলানোর খেলা। সে সময় এটা খুব স্বাভাবিক মনে হলেও পরে দেশে-বিদেশে বিভিন্ন কর্মশালায় অংশ নিয়ে জেনেছি, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতে মেয়েদের অনাগ্রহের পেছনে শৈশবের মেয়েলি খেলনার প্রভাব আছে। বুঝতে পেরেছি, আমি কতটা সৌভাগ্যবান শিশু ছিলাম। এর অনাকাঙ্ক্ষিত ফল ছিল, ২০০২ সালে ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) পিএইচডি করার লক্ষ্যে একা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে আবিষ্কার করা, আমি মাছ-মাংস কিছুই রাঁধতে পারি না!<br><br>স্কুলজীবনে আমার বন্ধুবান্ধবেরা গল্প করত, তাদের বাবারা পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার চেষ্টা করতে বলতেন। আমি শুনে অবাক হতাম, কারণ আমার বাবা বলতেন তার উল্টোটা। তার জীবনদর্শন ছিল, ‘লাইফ ইজ আ ম্যারাথন, নট আ স্প্রিন্ট।’ তাই সারাক্ষণ পড়ালেখা করা বা স্কুলে প্রথম হওয়ার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো বিভিন্ন বিষয়ে কৌতূহলী থাকা এবং শেখার যাত্রাটা উপভোগ করা।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><br>বাবার সঙ্গে আমার শৈশবের ‘কম প্রিয়’ একটা স্মৃতি হচ্ছে তাঁর কাছে অঙ্ক শেখা। গণিতে গতানুগতিক মানদণ্ডে ভালো হওয়া সত্ত্বেও এ ব্যাপারে আমার বাবাকে খুশি করতে পারা ছিল দুরূহ কাজ। ৮-১০ বছর বয়সেই আর্মস্ট্রং নাম্বার, হেক্সাগোনাল নাম্বার, ফিবোনাচি সিরিজের মতো জটিল বিষয় এবং নানা রকম মানসাঙ্ক শিখিয়ে তিনি আমার শৈশব জর্জরিত করেন। পরে তাঁর ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ায় একরকম রেহাই পেয়েছিলাম!</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><br>ছেলেবেলার আরেকটা প্রিয় স্মৃতি হলো, বাবা শহরের বাইরে কোথাও গেলে ফেরার পরই সবিস্তারে তাঁর ভ্রমণের গল্প শোনাতেন। ছোটবেলায় আমার ধারণা ছিল, ভালোমতো পড়াশোনা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে পারলেই আমি তাঁর মতো দেশ-বিদেশের নানা শহর ঘুরতে পারব। পরে আমি যদিও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি, তার আগেই আমার বাবা বুয়েট থেকে অবসর গ্রহণ করায় সহকর্মী হিসেবে আমি তাঁকে পাইনি। তবে পরে আমি ভিনদেশে যখন যেই বিশ্ববিদ্যালয়েই পড়ালেখা বা কাজ করেছি, বাবা সব সময় আগ্রহ নিয়ে জানতে চেয়েছেন, সেই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভালো কোনো দিক বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রয়োগ করা যায় কি না। লক্ষ করেছি, শুধু আমি না; তাঁর যত ছাত্রছাত্রী বিদেশে অধ্যাপনা করছেন, সবার কাছেই তিনি কারিগরি ও বিশ্ববিদ্যালয় ব্যবস্থাপনাবিষয়ক নতুন কিছু শিখতে আগ্রহী ছিলেন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><br>তাঁর জীবনের শেষ কয়েক দিনে আমার, আমার ভাই এবং পরিচিত অনেকের সঙ্গেই তাঁর আলোচনার বিষয় ছিল ‘অনলাইন এডুকেশন’। বিশেষত, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কী কী পদক্ষেপ নিলে সবার জন্য অনলাইন এডুকেশন নিশ্চিত করা যায়, (যেন করোনাকালে লকডাউনে বাংলাদেশের শিশু-কিশোর ও তরুণ প্রজন্ম লেখাপড়ায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের চেয়ে পিছিয়ে না পড়ে) এ ব্যাপারে তিনি ভাবছিলেন।<br><br>আমি প্রতিনিয়তই, এবং বিশেষ করে কয়েক বছর ধরে, আমার বাবার অতিরিক্ত কাজ করা নিয়ে অনুযোগ করতাম। কারণ, আমার মনে হতো তাঁর পর্যাপ্ত বিশ্রাম হচ্ছে না। কিন্তু ক্রমে বুঝতে পারি এবং মেনে নিই যে গণিত অলিম্পিয়াড, প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা—এগুলোই ৯টা-৫টা গতানুগতিক কাজের বাইরে তাঁর চালিকা শক্তি। বস্তুত, বাংলাদেশের শিশু, কিশোর ও তরুণেরা ছিল তাঁর জীবনীশক্তির অন্যতম উৎস</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><br>আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি, যদিও আমার বাবা সশরীরে নেই, তবে তাঁর অগণিত প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তাঁর ছোট্ট হলেও কিছুটা অংশ তিনি রেখে গেছেন। তাঁর অপ্রত্যাশিত প্রয়াণের এই দুঃসময়ে, বাবাহীন বাবা দিবসে, এটাই আমার একমাত্র সান্ত্বনা।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক</strong>: কারিশমা চোধুরী, অধ্যাপক, ইউনিভার্সিটি অব লিডস, যুক্তরাজ্য।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানির ব্যর্থতার দায় গ্রাহকদের কাঁধে কেন?</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A8+%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%B2+%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0+%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC+%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%95%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A7%E0%A7%87+%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8%3F</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A8+%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%B2+%E0%A6%95%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0+%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%A6%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC+%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%95%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A7%E0%A7%87+%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8%3F</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 30 Apr 2024 14:39:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:buttons -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button -->
<div class="wp-block-button"><a class="wp-block-button__link wp-element-button">মহিউদ্দিন আহমেদ</a></div>
<!-- /wp:button --></div>
<!-- /wp:buttons -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আজ ১২ দিন অতিবাহিত হয়ে গেল সাবমেরিন ক্যাবল (সি-মি-উই-৫) কেবল কোম্পানির ক্যাবলের ত্রুটির। গতকাল আমরা বিভিন্ন গণমাধ্যমে সাবমেরিন কেবল কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তা ব্যক্তিদের যে বক্তব্য লক্ষ্য করেছি তা অত্যন্ত দুঃখজনক। গ্রাহকের ভোগান্তির জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ না করে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান এর উদ্যোগ না নিয়ে তারা এখন বলছে আরও এক মাস সময় লাগবে। কিন্তু তাদের ব্যর্থতার দায় গ্রাহকরা কেন নেবে? </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে গ্রাহকরা কাজ করতে পারছে না। তীব্র গরমের কারণে যেখানে বলা হচ্ছে ঘরে থেকে অনলাইনে অফিস, আদালত, ব্যাংক এবং বিভিন্ন সেবা এবং শিক্ষার কার্যক্রম পরিচালনা করার জন্য সেখানে ব্যান্ডউইথ সরবরাহের ঘাটতির কারণে ইন্টারনেটে ধীরগতির ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রাহক। অথচ গ্রাহক কিন্তু মাস শেষে ব্রডব্যান্ড সেবা বা মোবাইল ডাটা ক্রয় করার জন্য সমপরিমাণ অর্থ ব্যয় করছেন ঠিকই। বিপরীতে তারা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছেন না। এর দায় কে নেবে তাহলে? </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আমরা মনে করি এর সম্পূর্ণ দায়-দায়িত্ব নিতে হবে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানিকে। একই সাবমেরিন ক্যাবল থেকে আরো ১৫ টি দেশ সেবা কার্যক্রম পুরোদমে নিতে পারলেও ১৬ তম দেশ বাংলাদেশ নিতে পারছে না কেন? নিশ্চয়ই তাহলে তাদের চুক্তিতে বড় রকমের কোন ত্রুটি রয়েছে। এখন পর্যন্ত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকে এমন কি ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে কোন বিবৃতি প্রদান করা হয়নি। পররাষ্ট্র পর্যায়ে কোন আলোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে সেটাও আমরা লক্ষ্য করিনি। ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা আইটিসির ব্যাকআপ দিয়ে এই সমস্যার প্রকটতা কমানো চেষ্টা করছেন। কিন্তু তীব্র গরম, ব্যান্ডউইথ অপ্রতুলতা পাওয়ার ব্যাকআপ সমস্যা সব মিলিয়ে গ্রাহকের ততটা স্বস্তিতে নেই। এমন পরিস্থিতিতে অতিরিক্ত তাপপ্রবাহে স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। অফিস-আদালতের অনেকেই অনলাইনে কাজ সারার চেষ্টা করছেন। তারপরও প্রতিদিন হিট স্ট্রোকে  প্রাণহানি ঘটছে। স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবেই গত এক সপ্তাহে হিট স্ট্রোকে মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের। এমন পরিস্থিতে নাগরিককে ঘরে-অফিসে থেকেই অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দ্রুতগতির ইন্টারনেট সরবরাহ করতে সাবমেরিন কেবল কোম্পানির কোনো উদ্যোগ নেই যা দুঃখজনক এবং হতাশা জনক। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে এ ধরনের ব্যবস্থাপনায় কী আদৌ সম্ভব? পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড (বিএসসিপিএলসি) সিমিউই-৪ এবং সিমিউই-৫ নামের দুটি আন্তর্জাতিক সাবমেরিন ক্যাবল কনসোর্টিয়ামের (কোম্পানি) সদস্য। যেটি বাংলাদেশে সাবমেরিন ক্যাবলসের অধিক ক্ষমতা ও পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করে। বর্তমানে সিমিউই-৪ এবং সিমিউই-৫ ক্যাবল দুটির মাধ্যমে বাংলাদেশের ইন্টারনেট এবং আন্তর্জাতিক ভয়েস ট্র্যাফিক চলছে। সিমিউই-৪ এর জন্য বিএসসিসিএলের ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন রয়েছে কক্সবাজারে। আর সিমিউই-৫ এর জন্য বিএসসিসিএলের ল্যান্ডিং স্টেশন চালু হয়েছে পটুয়াখালীর কুয়াকাটাতে। এমন পরিস্থিতিতে ইন্টারনেটকে বলা হচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশের লাইফ লাইন। অনুমান বলঝে, আগামী ২০৩০ সালে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার গিয়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৫ হাজার জিপিপিএস। তাই দুটি সাবমেরিন কেবল দিয়ে এই চাহিদা পূরণ করা মোটেও সম্ভব নয়। তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া উচিত।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আমরা সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান করার জন্য সবিনয় অনুরোধ করছি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক</strong>: সভাপতি, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><mark><mark style="background-color:#ffffff" class="has-inline-color"><strong>দ্রষ্টব্য</strong>: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুবদ্ধ বা উদ্বেলিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।  </mark></mark></p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ইসরায়েলের আইটি শিল্প বয়কট করুন</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%9F%E0%A6%BF+%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA+%E0%A6%AC%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%95%E0%A6%9F+%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A8</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%9F%E0%A6%BF+%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA+%E0%A6%AC%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%95%E0%A6%9F+%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A8</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 21 Apr 2024 20:20:21 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:buttons -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button -->
<div class="wp-block-button"><a class="wp-block-button__link wp-element-button">জিশান হাসান</a></div>
<!-- /wp:button --></div>
<!-- /wp:buttons -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ছয় মাসেরও বেশি ধরে বিশ্ব অসহায়ভাবে দেখেছে যে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী নির্দয়ভাবে বোমাবর্ষণ করেছে এবং এখন যার ফলাফল দুই মিলিয়নেরও বেশি ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনি। বিশ্বের বেশির ভাগের কাছে এটা স্পষ্ট যে গাজায় যা ঘটছে তা হলো জাতিগত নির্মূল এবং গণহত্যা। কিন্তু এখানে আমাদের করণীয় কী?</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ঠিক যেমন দক্ষিণ আফ্রিকা চূড়ান্তভাবে অর্থনৈতিক বয়কটের দ্বারা জাতিগত বর্ণবাদ নীতি পরিত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিল, যা এটিকে ক্রমবর্ধমানভাবে বিচ্ছিন্ন করে, একইভাবে ইসরায়েলের জন্যও এটি কাজ করতে পারে। যদিও এটা মনে হতে পারে যে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের সাথে খুব কম প্রত্যক্ষ বাণিজ্য রয়েছে, আমাদের ভোক্তারা আমেরিকান কোম্পানিগুলোর জন্য বিকাশিত পণ্যগুলো ব্যবহার করে বিশাল ইসরায়েলের আইটি সেক্টরকে সমর্থন করে চলেছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:verse -->
<pre class="wp-block-verse">উদাহরণস্বরূপ, ইসরায়েলে মাইক্রোসফ্টের বিশাল বিনিয়োগ রয়েছে। উইন্ডোজ ডিফেন্ডার, এমএস উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের সাম্প্রতিক সংস্করণে তৈরি অ্যান্টি-ভাইরাস ইসরায়েলে ব্যাপকভাবে তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সাইবার নিরাপত্তাসহ ইসরায়েলি রাষ্ট্রের নিরলসভাবে নিজের নিরাপত্তার ওপর ফোকাস করা এবং প্রাসঙ্গিক প্রযুক্তিগত দক্ষতার বিকাশের ফলাফল যা শেষ পর্যন্ত মাইক্রোসফ্টের মতো আমেরিকান কোম্পানিগুলো থেকে বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছে।</pre>
<!-- /wp:verse -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশের কার্যত সব কম্পিউটার মাইক্রোসফট উইন্ডোজ চালায়, যার মানে হলো যে কম্পিউটার প্রতি ৫০-১০০ ডলারের উইন্ডোজ লাইসেন্স ফি-এর একটি অংশ শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলকে দেওয়া হচ্ছে। গড়পড়তা কম্পিউটার ব্যবহারকারীরা সম্ভবত এটির জন্য বারবার বিনিয়োগ করেন, কারণ তারা কোনো বিকল্প দেখতে পান না: তবে এটি পরিবর্তন করা সহজ। ২০০৯ সাল থেকে আমার কোম্পানি কাজী ফার্মসের ১০০০টিরও বেশি কম্পিউটার বিনামূল্যে ওপেন সোর্স উবুন্টু লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম চালায়। এটি একটি উইন্ডোজের মতো গ্রাফিক্যাল ইন্টারফেস প্রদান করে এবং এতে বিনামূল্যে ফায়ারফক্স ওয়েব ব্রাউজার এবং বিনামূল্যের LibreOffice ওয়ার্ড প্রসেসর, স্প্রেডশিট এবং প্রেজেন্টেশন সফ্টওয়্যার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। যেহেতু <a href="https://www.libreoffice.org/"><strong>LibreOffice</strong></a>, MS Office-এর মতোই এবং প্রায় সব MS Office ফাইল পড়তে ও সম্পাদনা করতে পারে, তাই Microsoft-কে <a href="https://www.linux.org/"><strong>Linux</strong></a>-এর সাথে প্রতিস্থাপন করা খুবই সহজ। এটি বাংলাদেশের বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাও সাশ্রয় করবে, যা এখন মাইক্রোসফ্ট লাইসেন্সের জন্য অর্থ প্রদানের জন্য ব্যবহৃত হয়। কাজী ফার্মসে আমাদের অভিজ্ঞতা হলো যে গড় উইন্ডোজ ব্যবহারকারীর লিনাক্স ব্যবহার শিখতে মাত্র ১০ মিনিট সময় লাগে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>লিনাক্সে সর্বাধিক জনপ্রিয় অ্যাডোব সফ্টওয়্যারের বিনামূল্যে/ওপেন সোর্স বিকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। Photoshop-এর মতো <a href="https://www.gimp.org/"><strong>Gimp</strong></a>-এ ফটো এডিট করা যায়। <a href="https://www.inscape.org/"><strong>Inkscape</strong></a>-এ অনেকটা ইলাস্ট্রেটরের মতো গ্রাফিক্স আঁকা যায়। ডেস্কটপ প্রকাশনা InDesign-এর মতোই <a href="https://www.scribus.net/"><strong>Scribus</strong> </a>দিয়ে করা যেতে পারে। কাজী ফার্মসের সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন স্টেশন, দীপ্ত টিভিতে সাংবাদিকরা PremierePro-এর পরিবর্তে <a href="https://kdenlive.org/"><strong>KDEnlive</strong></a>-এ সংবাদ ভিডিও সম্পাদনা করেন। কাজী ফার্মস এবং দীপ্ত টিভি লিনাক্স ব্যবহার করে মাইক্রোসফ্ট এবং অ্যাডোব লাইসেন্স ফিতে মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করেছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p>ইসরায়েলে মাইক্রোসফ্টের বিনিয়োগগুলো ধনী গ্রাহকদের মনে করতে অনুপ্রাণিত করতে পারে যে অ্যাপল পণ্য কেনা একটি আরও নৈতিক বিকল্প, কিন্তু এটি সত্য নয়। আধুনিক ম্যাকের ভেতরে M1 চিপগুলো ইসরায়েলে ডিজাইন করা হয়েছে। তাই লিনাক্স হলো একমাত্র সত্যিকারের নৈতিক কম্পিউটিং বিকল্প।</p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>লিনাক্সে অন্তর্ভুক্ত সব সফ্টওয়্যার ওপেন সোর্স, যার অর্থ এগুলো তাদের নিজস্ব কম্পিউটিং চাহিদা মেটাতে ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রোগ্রামারদের আন্তর্জাতিক দল যৌথভাবে তৈরি করেছে। সৌভাগ্যবশত বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য ওপেন সোর্স সফ্টওয়্যার আমাদের বেশির ভাগ চাহিদা বিনামূল্যে মেটাতে পারে। লিনাক্স সফ্টওয়্যার পাইরেসি বন্ধ করার সর্বোত্তম এবং সস্তা উপায় এবং যা অবশ্যম্ভাবীভাবে হ্রাস করতে হবে, কারণ মার্কিন বাণিজ্য কর্তৃপক্ষ অন্যদিকে তাকানো বন্ধ করে দেয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>তাহলে কেন আরো প্রতিষ্ঠান লিনাক্স ব্যবহার করে না? সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো বিজ্ঞাপন। মাইক্রোসফ্ট এবং অ্যাডোবের মতো কোম্পানিগুলো তাদের ব্র্যান্ড প্রতিষ্ঠার জন্য বিশাল বিপণন বাজেট রয়েছে। লিনাক্সের মতো বিনামূল্যের সফ্টওয়্যারটির বিজ্ঞাপন দেওয়ার জন্য কেউ নেই এবং এটি ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য মুখের কথার ওপর নির্ভর করে। কিন্তু চীনের মতো দেশগুলো এরইমধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও প্রযুক্তিগতভাবে স্বাধীন হওয়ার প্রয়াসে মাইক্রোসফ্ট থেকে কমপক্ষে চার মিলিয়ন কম্পিউটারকে তাদের লিনাক্সের নিজস্ব সংস্করণে (যার মধ্যে একটি OpenKylin, একটি পরিবর্তিত উবুন্টু) স্থানান্তরিত করেছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>দায়িত্বটি আমাদের। লিনাক্সে স্থানান্তরিত করা এমন একটি উদ্যোগ, যাতে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বর্বরতার বিরোধিতাকারী সকল লোকের যোগদান করা উচিত।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক</strong>: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, সিসনোভা; পরিচালক কাজী মিডিয়া।  </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:preformatted -->
<pre class="wp-block-preformatted"><kbd><mark><strong>দ্রষ্টব্য</strong>: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুবদ্ধ বা উদ্বেলিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।  </mark></kbd></pre>
<!-- /wp:preformatted -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>‌ট্রেনের টি‌কিট কা‌লোবাজা‌রি : সহ‌জের বিরু‌দ্ধে ষড়যন্ত্র?</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E2%80%8C%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E2%80%8C%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9F+%E0%A6%95%E0%A6%BE%E2%80%8C%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E2%80%8C%E0%A6%B0%E0%A6%BF+%3A+%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E2%80%8C%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%81%E2%80%8C%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87%C2%A0%E0%A6%B7%E0%A7%9C%E0%A6%AF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%3F</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E2%80%8C%E0%A6%9F%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E2%80%8C%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%9F+%E0%A6%95%E0%A6%BE%E2%80%8C%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E2%80%8C%E0%A6%B0%E0%A6%BF+%3A+%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E2%80%8C%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A7%81%E2%80%8C%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87%C2%A0%E0%A6%B7%E0%A7%9C%E0%A6%AF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%3F</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 09 Apr 2024 13:53:34 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:heading {"level":3} -->
<h3>হাসান জাকির</h3>
<!-- /wp:heading --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>অ</strong>পেক্ষাকৃত সাশ্রয়ীমূল্যে যাতায়াত সুবিধা থাকায় ট্রেনের টিকিটের চাহিদা সবসময়ই বেশি। তবে এই চাহিদা বহুগুণ বাড়ে দুই ঈদ সামনে রেখে। টিকিটের এই বিপুল চাহিদাকে পুঁজি করে বছরের পর বছর ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি হয়ে আসছে। এই কালোবাজারি রুখতে ট্রেনের টিকিট ডিজিটাল পদ্ধতিতে বিক্রি শুরু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ট্রেনের টিকিট অনলাইন সিস্টেমে আনতে ২০০৭ সালে কাজ পায় সিএনএস নামের একটি কোম্পানি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>কোম্পানিটি প্রায় একযুগ বাংলাদেশ রেলওয়ের সঙ্গে কাজ করে। তবে এই একযুগেও ট্রেনের টিকিট ব্যবস্থাপনার যে ডিজিটালাইজেশন সেটি সম্পূর্ণরুপে বাস্তবায়ন করা হয়নি। এরপর ২০১৯ সালে টেন্ডারে কমমূল্যে সেবা দেয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে কাজ পায় সহজ-সিনেসিস-ভিন্সেন জেভি, যার লিড পার্টনার ‘সহজ ডটকম’।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>কোম্পানিটি দায়িত্ব পাওয়ার পর শুরুতে ৫০ ভাগ টিকিট অনলাইনে দেয়া হচ্ছিল, গত বছর ২০২৩ ঈদ থেকে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট পুরোটাই অনলাইনে দেয়া হয়েছে। এখন প্রতিদিন ৭০-৮০ হাজার টিকিট অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু রেলওয়ের সার্ভার ডাউন হয়েছে - এটি এবার শোনা যায়নি। নিঃসন্দেহে এটি রেলওয়ের সাফল্য যার অংশিদার সহজ ডটকমও।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>তবে এই অনলাইন প্রক্রিয়ার মধ্যেও ঢুকে পড়েছে কালোবাজারি চক্র। কালোবাজারির অভিযোগে গত ২১ মার্চ ৯ জন এবং গত ফেব্রুয়ারি মাসে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এরমধ্যে রেলের তিনজন বুকিং সহকারী রয়েছেন। এ ঘটনাই প্রমাণ করছে, ডিজিটালাইজেশন হলেও টিকিট ‘কালোবাজারির ভূত’ তাড়ানো যায়নি। ডিজিটালাইজেশনের পরেও কেন ট্রেনের টিকিট কালোবাজারি হচ্ছে সেটি খোঁজা যাক।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ট্রেনের টিকিট ব্যবস্থাপনায় এখন দুটি পক্ষ কাজ করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে এবং ‘সহজ ডটকম’। ‘সহজ ডটকম’ ট্রেনের টিকিট ব্যবস্থাপনায় রেলওয়েকে যাবতীয় কারিগরি (হার্ডওয়্যার ও সফটওয়্যার) সহযোগিতা করছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p>টিকিট কাউন্টারে ব্যবহৃত কম্পিউটার, প্রিন্টার, মাউস, কিবোর্ড, সফটওয়্যার, রিপোর্ট পেপার ইত্যাদি সরবরাহ করে থাকে ‘সহজ’। এসব ডিভাইস পরিচর্যার জন্য প্রতিটি স্টেশনে সহজ-সিনেসিস-ভিন্সেন জেভি (Shohoz-Synesis-Vincen JV)-এর কর্মী রয়েছেন। এসব ডিভাইসে কিংবা ইন্টারনেটে সমস্যা হলে, বিদ্যুৎ চলে গেলে তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান দেন ‘সহজ ডটকম’-এর কর্মীরা। কাউন্টারে ব্যবহৃত টিকিট কাটার কম্পিউটারসহ অন্যান্য সকল ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ থাকে রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার ও টিকিট বুকিং সহকারীর। কাজেই সহজের কর্মীর পক্ষে সিস্টেমে ঢুকে টিকিট জালিয়াতির কোনো সুযোগ নেই।</p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>রেলওয়ের টিকিট বুকিং সহকারীর প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া সহজের কোনো কর্মীর পক্ষে জালিয়াতি করা সম্ভব নয়, তৃতীয় পক্ষের যে কারও জন্য একই কথা প্রযোজ্য। এখন বোঝার চেষ্টা করি, জালিয়াতিটা হচ্ছে কীভাবে। রেলওয়ের টিকিট বিক্রির সুযোগ কেবল থাকে স্টেশনের বুকিং সহকারীর। টিকিট কাটতে প্রয়োজন হয় এনআইডি কিংবা জন্মনিবন্ধন সনদ। একটা এনআইডি/জন্ম নিবন্ধন থেকে সর্বোচ্চ চারটা টিকিট কাটা যায়। প্রত্যেকটা টিকিট কোন কাউন্টার থেকে কাটা হয়েছে এবং রেলওয়ের কোন বুকিং সহকারী টিকিট বুকিং নিয়েছে- এসব তথ্য টিকিটের গায়ে প্রিন্ট করা থাকছে। টিকিট দেখেই ধারণা পাওয়া সম্ভব, কোনো বুকিং সহকারী কালোবাজারির সঙ্গে যুক্ত কিনা।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>কালোবাজারি রোধে ট্রেন ভ্রমণকারীর ট্রেন ভ্রমণকালীন সময়ে এবং রেলওয়ে স্টেশনে ঢোকার মুখে টিকিট এবং এনআইডি চেকিং নিশ্চিত করতে হবে। এখানেই রেলওয়ের স্টেশনে এবং ট্রেনের ভিতরে গাফিলতি লক্ষ্য করা যায়।</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ঈদকে সামনে রেখে অবশ্য অনলাইন টিকিট কাটার সময় মোবাইল ফোনে ওটিপি পাঠানো হচ্ছে। অনলাইনে একটি আইডি থেকে এখন এক সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ দুটি ট্রানজেকশনের মাধ্যমে সর্বোচ্চ আটটি (যাওয়ার এবং ফিরতি) টিকিট কাটা যাচ্ছে। আবার ভ্রমণের সময় যে এনআইডি/জন্মনিবন্ধন সনদের বিপরীতে টিকিট কাটা হয়েছে তাকে অবশ্যই ভ্রমণকারীদের মধ্যে থাকতে হবে। এতে টিকিটের প্রকৃত গ্রাহক ধার্য করতে বাড়তি নিশ্চয়তা পাচ্ছে বলা যায়। পস ডিভাইস ব্যবহার করে কিউআর কোড স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে ট্রেনে অনলাইন টিকিট যাচাই করা যাচ্ছে। এতে করে এই কয়েকদিন কালোবাজারি আগের তুলনায় কমেছে নিশ্চয়ই। তবে এরপরও টিকিট কালোবাজারির সুযোগ একেবারে বন্ধ হয়েছে এটা বলা যাবে না। এসবই হচ্ছে নিয়ম। এ নিয়ম ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কিনা তা দেখা জরুরি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p>অনেকে টিকিট ছাড়াই ট্রেনে দিব্যি ভ্রমণ করছেন, প্রায়ই ট্রেনের টিকিট ভেরিফিকেশন করাই হয় না। এক্ষেত্রে যদি ট্রেনের লোকবল সংকট থাকে, এ খাতে জনবল বাড়াতে হবে। কালোবাজারি রোধের পাশাপাশি ট্রেনকে লাভজনক করতে এনআইডির মাধ্যমে টিকিট ভেরিফিকেশন নিশ্চিত করার বিকল্প নেই। সেটিও অনলাইন-ভিত্তিক করা সম্ভব। বিমানের ক্ষেত্রে যার টিকিট তিনি ছাড়া অন্য কেউ ভ্রমণের সুযোগ নেই, ট্রেনের ক্ষেত্রেও সেটি নিশ্চিত করা গেলে ভালো হয়।</p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>নীতিনির্ধারকরা কি সেদিকে নজর দেবেন? ট্রেনে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ হচ্ছে, অবকাঠামো সুবিধা বাড়ছে কিন্তু ট্রেনের সার্ভিস কোয়ালিটি বাড়ানোর দিকে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের মনোযোগ কম। এ দিকটায় নজর দিতে হবে। শর্ষের মধ্যের ভূত যদি না তাড়ানো হয় ট্রেনের যেমন কালোবাজারির দৌরাত্ম্য কমবে, তেমনি জনপ্রিয় সেবাটিকে লাভজনকও করা কঠিন হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক :</strong> গণমাধ্যম কর্মী ও সংগঠক</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:verse -->
<pre class="wp-block-verse"><kbd><mark style="background-color:rgba(0, 0, 0, 0)" class="has-inline-color has-vivid-red-color"><strong>দ্রষ্টব্য</strong>: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুবদ্ধ বা উদ্বেলিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়।  </mark></kbd></pre>
<!-- /wp:verse -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>২০২৪&#45;এ টেক ব্র্যান্ডিং ও মার্কেটিং </title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A8%E0%A7%AA-%E0%A6%8F+%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%95+%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%82+%E0%A6%93+%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%82%C2%A0</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A8%E0%A7%AA-%E0%A6%8F+%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%95+%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%82+%E0%A6%93+%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%82%C2%A0</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 07 Mar 2024 10:29:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:buttons {"layout":{"type":"flex"}} -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button -->
<div class="wp-block-button"><a class="wp-block-button__link wp-element-button">সালেহীন চৌধুরী</a></div>
<!-- /wp:button --></div>
<!-- /wp:buttons -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ব্র্যান্ডিং নিয়ে কাজ করতে গিয়ে অনেক ধরনের ইন্ডাস্ট্রি এবং প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করা হলেও ইদানিং টেক সংক্রান্ত ব্যবসার ব্র্যান্ডিং এর সম্ভাবনা বেশ প্রবল বলে মনে হচ্ছে । সাম্প্রতিক সময়ের টেকনোলজিক্যাল ব্র্যান্ডিং এর প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে নিম্নোক্ত অভিজ্ঞতা গুলো হয়তো ব্র্যান্ডিং এর বর্তমান সম্ভাবনাতে আলোকপাত করতে পারে ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>দৃশ্যপট -১</strong> : আইওটি ডিভাইস ও সংক্রান্ত ব্যবসা :- কিছু ব্র্যান্ড যারা আইওটি বা ইন্টারনেট অফ থিংস সংক্রান্ত ব্যবসা করে তারা আজকাল তাদের ব্র্যান্ডকে নিয়ে বেশ সফলতার পরিচয় দিচ্ছে । সাম্প্রতিক সময়ে এরকম দুইটি ব্র্যান্ডের সাথে কাজ করার সৌভাগ্য হলো । একটি ব্র্যান্ড যারা কিনা ভেইকেল ট্রাকিং নিয়ে কাজ করে বেশ প্রতিষ্ঠিত এবং যাদের জিও ফেন্সিং, লোকেশন ট্র্যাকিং, স্পিড নোটিফিকেশন, ফুয়েল এলার্মসহ বিভিম্ন ধরনের ফিচার আছে তারা MyRadar নামটি থেকে Raadar নামে নিজেদেরকে রি ব্র্যান্ডিং করলেন। এছাড়াও আরেকটি কোম্পানি যারা কিনা অ্যাটেন্ডেন্স মেশিন নিয়ে কাজ করেন যেখানে একটি মোবাইল ডিভাইসে অ্যাপের মাধ্যমে অ্যাটেনডেন্স মেশিনে পাঞ্চকৃত সময় ও বিভিন্ন ফাংশন দেখা যায়। এখানে তারা Sinetek নামে ব্যবসা পরিচালনা করতেন, যাকে আমি 'হাজিরা' নামক একটি মৌলিক নামে প্রোডাক্ট ব্র্যান্ডিং করে দেই। দুইটি ক্ষেত্রেই এরা আই ও টি ভিত্তিক ও ক্লাউড ভিত্তিক ডিভাইস ও অ্যাপের মাধমে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকেন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>দৃশ্যপট-২</strong>: আউটসোর্সিং ভিত্তিক কোম্পানিঃ- দ্বিতীয়ত একটি কোম্পানির সাথে কাজের সুযোগ হলো যারা আমেরিকার ভার্জিনিয়া বেজড বেশ কিছু ওয়েব ভিত্তিক কোম্পানির ডেভ অ্যাপের কাজ দেশ থেকেই পরিচালনা করে আসছিলেন । কোম্পানিটির বর্তমান লক্ষ্য ছিল কিছু দেশীয় মানসম্মত কাজ করা ও এমপ্লয়ি ব্র্যান্ডিং করে প্রতিষ্ঠানের ইমেজকে বাড়ানো, এক্ষেত্রে তাদের সাথে কাজ করতে যেয়ে আমার উপলব্ধি হলো যখন আউটসোর্সিং ফার্মগুলোতেও ব্র্যান্ডিং এর পালে হাওয়া লেগেছে, যারা কখনই লোকাল একটি কমিউনিটির মস্তিস্তে অবস্থান তৈরি করতে চাননি তারা যখন এখন নিজেদের ব্র্যান্ড ইমেজ নিয়ে ভাবছে এটা টেক ব্র্যান্ডিংয়ের পরিবর্তনের হাওয়ার বেশ বড় একটি বার্তা দেয় ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>দৃশ্যপট -৩ </strong>: একটি ইকমার্স এনাবলার এর রি-ব্র্যান্ডিং এর প্রয়াস :- তৃতীয়ত একটি টেক কোম্পানির সাথে কাজ করার সুযোগ হলো, যেটাকে আপনি একটি সম্পূর্ণ পৃথক  ইকোসিস্টেমই বলতে পারেন । আলাদা একটি জগৎ এর জন্য বলছি বাংলাদেশে যে এত সফল ইকমার্স উদ্যোক্তা আছেন এবং তার দীর্ঘসময় ধরে এতো সফলভাবে অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করে যাচ্ছে এই উদ্যোক্তাগুলোর সাথে কথা না বললে হয়তো এতটা আন্দাজ করা যায় না । ৫-১০ লক্ষ্ টাকার মাসিক বিক্রয় অনেক নতুন উদ্যোক্তারাও ইকমার্স পেজ করে পূর্ণ করে থাকেন । এখানে আমার মনে হয়েছে অনেক কাজ করার জায়গা আছে । যেমন আমি যাদের সাথে কাজ করলাম তারা Amardokan নামে ব্যবসা করতেন । রি-ব্র্যান্ডিং করে নামে দিলাম সার্ভিস টাকে storex নামে । Storex একটি প্ল্যাটফর্ম যেখানে নিজেদের মত করে উদ্যোক্তারা নিজেদের কাস্টমাইজড ই-কমার্স বানাতে পারেন এবং বিভিন্ন ফিচার প্রয়োজন অনুসারে উপভোগ করতে পারেন সার্ভিস চার্জের মাধ্যমে - এই ভেঞ্চারে আমি নতুন লোগো ওয়েবসাইট, এক্সপ্লেইনার ভিত্তি সহ বিভিন্ন মার্কেটিং ম্যাটারিয়ালে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইনপুট দেই যা তাদেরকে একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম এবং ব্র্যান্ড গড়ে তুলতে সাহায্য করে ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এসকল বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়ে যাবার সময় আমার মনে হয়েছে ,আমাদের ব্র্যান্ডিং এর অগ্রযাত্রার ধারাবাহিকতায় এখন টেক ব্র্যান্ডিংয়ের একটি স্বর্ণযুগ চলছে । মার্কেট এক্সপার্ট এবং টেক উদ্যোক্তারা মিলেমিশে বেশ ভালো কিছু টেক ব্র্যান্ড ধারাবাহিকভাবে উপহার দিয়ে যাবেন তা অবধারিত এবং আমি যদি এই অগ্রযাত্রায় একটি সার্থক রোল প্লে করতে পারি নিজেও গর্বিত অনুভব করব। সর্বোপরি আরও বেশী মার্কেটিং এক্সপার্ট রা এদিক টাতে মনোযোগ দিবেন এটা দেখতে পেলেই এই লেখার ক্ষুদ্র প্রয়াস টা সার্থক হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>শেষ পর্যন্ত ডিবিআইডি কতটা সহায়ক হলো?</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4+%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A1%E0%A6%BF+%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%9F%E0%A6%BE+%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%95+%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%8B%3F</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B7+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4+%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A1%E0%A6%BF+%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%9F%E0%A6%BE+%E0%A6%B8%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%95+%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%8B%3F</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 28 Feb 2024 12:56:42 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:heading {"textAlign":"center","level":4} -->
<h4 class="has-text-align-center"><mark style="background-color:rgba(0, 0, 0, 0);color:#03794e" class="has-inline-color">জাহাঙ্গীর আলম শোভন</mark></h4>
<!-- /wp:heading -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>বি</strong>গত ২০২২ সালের ০৬ ফেব্রুয়ারী ই-কমার্স উদ্যোক্তাদের তালিকাভুক্তির লক্ষ্যে ডিবিআইডি চালু করা হয়। দুটো প্রধান প্রত্যাশা ছিল ডিবিআইডিকে ঘিরে। প্রথমটি ছিল, হাজার হাজার ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা নিবন্ধন এর আওতায় আসবে এতে করে ক্ষুদ্র আবাসিক উদ্যোক্তাদের একটি সম্মানজনক পরিচয় তৈরী হবে। দ্বিতীয়টি ছিল, ফেসবুক ভিত্তিক উদ্যোক্তারা একটা নিয়মতান্ত্রিক তালিকাভূক্তির মধ্যে আসবে এতে করে তাদের অবস্থান ও ব্যক্তিকে প্রয়োজনে চিহ্নিত করা যাবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>&nbsp;বিগত ০২ বছরে এই দুটোর কোনোটি হয়নি। লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য ২ বছর সময় খুব বেশী না হলেও দুই বছরে যতটা পথ পাড়ি দেয়ার কথা তার কানাকড়িও হয়নি। ডিবিআইডি এর জন্য আবেদনও উল্লেখযোগ্য হয়নি আর যারা আবেদন করেছে তাদের মধ্যে ডিবিআিইডি পেয়েছে যৎসামান্য। আমরা যদি সংখ্যা দিয়ে বিচার করি। তাহলে মোট ই-কমার্স ও এফ কমার্স উদ্যোক্তার মাত্র ০২% ডিবিআইডির জন্য আবেদন করেছে আর তাদের মাত্র ১৫% ডিবিআইডি পেয়েছে। ২৪ ফ্রেব্রুয়ারী ২০২৪ পর্যন্ত আবেদন সংখ্যা ৭২২২টি এবং অনুমোদন ৯৫৩টি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ডিবি আইডির প্রতি অনাগ্রহ এবং আবেদনের গ্রহণযোগ্যতার এই হাল কেন? সেটা আমরা আগে বলতে চাই। পরে যে বিষয়টি মূল আলোচনা সেটি হলো যে ডিবিআইডি হওয়ার কথা ছিল ই-কমার্স ব্যবসার জন্য সহায়ক সে ডিবিআইডি কিভাবে প্রতিবন্ধকরুপে আর্বিভূত হয়েছে সে বিষয়ে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>প্রথমত, ডিবিআইডি রেজিস্ট্রেশন করলে কোনো বিশেষ সুবিধা পাওয়া যায়না। এটি ট্রেড লাইসেন্স এর বিকল্প কিনা সেটাও কোথাও পরিষ্কার করা হয়নি। এটা দিয়ে ট্রেড লাইসেন্স করা যাবে এমন কোনো নির্দেশনাও জারি হয়নি। যদিও বর্তমানে এই সেবার যে হাল এর সাথে কোনো সুবিধা যুক্ত করা হলে তাতে আবেদনের হার বেড়ে গেলে তা সামাল দেয়া যাবে কিনা সেটা নিয়ে ভাবার অবকাশ রয়েছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>দ্বিতীয়ত, ডিবিআইডি না করলেও তেমন কোনো সমস্যা হয়না। মানে ফেসবুকে অনায়াসে ব্যবসা করা যায়। ট্রেড লাইসেন্স ডিবিআইডির চেয়ে সহজে পাওয়া যায়। যদিও ডিবিআইডির মূল প্রস্তাব ছিল ট্রেড লাইসেন্স নেয়ার ক্ষেত্রে যে অনীহা সেটা যেন কাটিয়ে ওঠা। সম্প্রতি কিছু কিছু পেমেন্ট গেটওয়ে ডিবিআইডি ছাড়া সেবা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করলেও। উদ্যোক্তাদের বাস্তবতার আলোকে সেখানে শিথিল করতে হচ্ছে কারণ এমন অনেকে আছে ০২ বছর ধরে অপেক্ষা করেও ডিবিআইডি পায়নি। ০৭ বার ডিবিআইডি আবেদন বাতিল হয়েছে এমন অভিজ্ঞতাও অনেকের হয়েছে। এই মুহুর্তে যদি এমন কোনো বিধান জারি করা হয় যে, ডিবিআইডি ছাড়া ব্যবসা করা যাবে না তাহলে আবার সত্যিকার অনেক উদ্যোক্তা আটকে যাবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এই সমস্যার সমাধান কি? বেসরকারী খাত বা উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে এসব সমাধান লিখিত এবং এ সংক্রান্ত বিভিন্ন সভায় বার বার উপস্থাপন করা হয়েছে কিন্তু অগ্রগতির হার অতি নগন্য বা ১০% এর কম বললেও ভুল হবেনা। প্রথমত, ডিবিআিইকে একটি মর্যাদা দিতে হবে এটা ট্রেড লাইসেন্স এর বিকল্প হতে হবে অথবা এর মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্ট খোলার সুযোগ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত: ডিবিআইডি ছাড়া ই-কমার্স করলে এর জন্য জবাবদিহিতার আওতার আনতে হবে। তার আগে ডিবিআইডি প্রক্রিয়া সহজীকরন, তথ্য যাচাইকরণ, দ্রুত আবেদন অনুমোদন, বাতিলের হার ১০% এর নিচে আনয়ন ইত্যাদি করতে হবে। নচেৎ হিতে বিপরীত হতে পারে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ডিবিআইডির আবেদন বাড়ানোর জন্য সচেতনতা ও প্রচারের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আসলে ১৫% আবেদন বাতিল করে দেয়া আর ৬/৭বার বাতিল করা, কিংবা ২ বছরের অপেক্ষার গল্প থাকলে আগ্রহ বাড়ার কারণ থাকবেনা।&nbsp; সম্প্রতি ওয়বসাইটে এর আবেদন কলামে দেখা গিয়েছে এমন কিছু তথ্য বা শর্তকে বাধ্যতামূলক (লাল তারকা) করে রাখা হয়েছে যেগুলো অনেক আগেই বাদ দেয়া হয়েছে কিংবা ঐচ্ছিক করে দেয়া হয়েছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:heading {"level":4} -->
<h4>এটা সত্যি যে, বেশীরভাগ আবেদন বাতিল হয় আবেদনকারীর ভুলে। বাকীগুলোর কথা এই লেখা শেষ হলে বোধগম্য হবে। আবেদনকারীর ভুল এড়ানোর জন্য আবেদনপত্রের শুরুতে ‘‘হ্যাঁ/না’’ ভিত্তিক কিছু প্রশ্ন রাখার মাধ্যমে ভুল আবেদন এড়ানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে এটি আমলে নেয়া হলেও আজ অবধি কার্যকর করা হয়নি। এছাড়া প্রস্তাব দেয়া হয়েছে ডিজিটাল উদ্যোক্তাদের ৫টি এসোসিয়েশন এর সদস্যদের আবেদনের প্রাথমিক বাছাইয়ের দায়িত্ব এসোসিয়েশনকে দেয়া হোক। এসোসিয়েশনগুলো এই দায়িত্ব নিতে রাজি হয়েছে এবং বাছাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া কি হবে এ সংক্রান্ত কয়েকটি প্রস্তাব (অপশন) দেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হয়ে যেত। &nbsp;</h4>
<!-- /wp:heading -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এবার আসি কিভাবে ডিবিআিইডি ব্যবসায় সহায়ক হওয়ার বদলে প্রতিবন্ধক হয়েছে, সে বিষয়ে। প্রথমে বিগত ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত ডিবি আইডি সেবার কিছু তথ্য ও উপাত্ত তুলে ধরা যাক।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>ক.</strong> ডিবিআিইডি তালিকা বিশ্লেষন করে দেখা গিয়েছে বেশকিছু নন ডিজিটাল বিজনেসকে ডিবিআইডি প্রদান করা হয়েছে। ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত কমপক্ষে ৬টি এমন প্রতিষ্ঠানের নাম পাওয়া গিয়েছে। কোনোরুপ অনলাইন লিংক ছাড়া যারা ডিবিআইডি নিয়েছে তাদের উদ্দেশ্য নিয়ে আশংকা তৈরী হচ্ছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>খ.</strong> ডিবিআইডি প্রদান করা হয়েছে এজন্য যাতে করে এতে একটি ইউনিক আইডি নাম্বার থাকবে এবং সে নাম্বার হলো রেজিস্ট্রার্ড উদ্যোক্তার পরিচিতি নাম্বার। আশ্চর্যের বিষয় হলো ডিবিআইডির যে তালিকা প্রদর্শণ করা হয় সেখানে ডিবিআইডি টা বা ডিবিআইডি নাম্বারটাই প্রদর্শণ করা হয়না। আরো একটি অস্বাভাবিক ব্যাপার হলো ডিবিআিইডিতে যে সিরিয়াল নাম্বার দেয়া থাকে সেটাও অনুসারেও কাউকে চিহ্নিত করা যায় না। কারণ সিরিয়াল নাম্বারটা দেয়া হয় পেছন দিক থেকে। মানে হলো সর্বশেষ যে প্রতিষ্ঠান তার নাম্বার সব সময় এক (০১) হয়। এতে করে প্রতিবার নতুন ডিবিআইডি দেয়া হলে ক্রমিক নাম্বার বদলে যায়। এটি পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত হয়েছে প্রায় ০২ মাস আগে। আজ (২৮ ফ্রেব্রুয়ারী ২০২৪) পর্যন্ত এই সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হয়নি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>গ.</strong> কমপক্ষে ২ টি ডিবিআইডি পাওয়া গিয়েছে যাদেরকে ব্যক্তি নামে ডিবিআইডি দেয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় পরিষ্কার বলা ছিল এই রেজিস্ট্রেশন শুধুমাত্র ডিজিটাল বিজনেস এর জন্য এই ডিবিআইডি দেয়া হবে।  এ ধরনের ভুল হওয়ার যৌক্তিকতা নেই কারণ ৩টি ডেস্কে ভেরিফাই করে এই ডিবিআইডি দেয়া হয়। কেন এমন হচ্ছে এটা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।  </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>ঘ. </strong>আবেদন ও আবেদন ফর্মের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নাম বাংলা এবং ইংরেজীতে থাকতে হবে। এতে করে তাদের নামের বানান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। পরবর্তীতে চিহ্নিত করতে সুবিধা হবে। কিন্তু ৮৯৯ টি অনুমোদিত আবেদন বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে যে, ৩০টির বেশী প্রতিষ্ঠান তাদের প্রতিষ্ঠানের বাংলা নামের বানান প্রদান করেনি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>ঙ.</strong> এই বিষয়টি খুব স্পর্শকাতর। জনগনের কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে জেলে রয়েছে এবং নিউজ প্রকাশিত হয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানকে ডিবিআইডি প্রদান করা হয়েছে। শুধু তাই নয় এসব প্রতিষ্ঠান ডিবিআইডিকে এমএলএম এর লাইসেন্স হিসেবে প্রকাশ করে জনগনকে বিভ্রান্ত করছে। এ ধরনের অন্তত ৪টি প্রতিষ্ঠানকে ডিবিআইডি দেয়া হয়েছে যারা এটা দেখিয়ে এমএলএম ব্যবসা করে যাচ্ছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>চ.</strong> দুই এর অধিক প্রতিষ্ঠান তালিকাতে পাওয়া গিয়েছে যাদেরকে অনলাইনে ঔষধ বিক্রি করার জন্য ডিবিআইডি দেয়া হয়েছে। যদি ‘‘অনলাইন ফার্মাসি লাইসেন্স’’ ব্যতিত ডিবিআইডি দেয়া হয় তা হবে বেআইনি। বিষয়টি খতিয়ে দেখার অবকাশ রয়েছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>ছ.</strong> ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন এর তথ্যমতে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের ডিবিআইডি আবেদন খারিজ করা হয়েছে। কারণ তাদের কোম্পানী নাম ও ওয়েবসাইট নাম এক নয়। কিন্তু ৬% এর বেশী ডিবিআইডি পাওয়া গিয়েছে যাদের নামের ভিন্নতা সত্বেও ডিবিআইডি দেয়া হয়েছে। এ ধরনের দ্বৈত আচরণ পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এক্ষেত্রে যেসব প্রতিষ্ঠান ওয়েবসাইটে মালিকানার প্রমাণক প্রদর্শণ করবে তাদেরকে ডিবিআইডি প্রদান করা উচিত। যাদের প্রমাণক থাকবেনা তাদের ক্ষেত্রে কোনোমতেই সমীচিন হবে না।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>জ. </strong>এক প্রতিষ্ঠানের নামে অন্য ব্যক্তিকে ডিবি আইডি প্রদানের মতো ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন হলো এত কড়াকড়িভাবে যদি দেখা হয় যার কারণে ৮৫% শতাংশ আবেদন বাতিল হয়। সেখানে এই ঘটনা কি করে সম্ভব? দারাজের নামে ডিবিআইডি দেয়া হয়েছে একজনকে। যদিও দারাজের আলাদা ডিবিআইডি রয়েছে। দারাজ একটি মার্কেটপ্লেস। এখানে কমপেক্ষ ৫০ হাজার বিক্রেতা রয়েছে। যেহেতু দারাজের সব ধরনের লাইসেন্স রয়েছে তাই এখানকার বিক্রেতাদের ডিবিআইডি প্রয়োজন নেই। এ ধরনের সুযোগ থাকা উচিত নয়। তাহলে দারাজের নামে এমন অনেকে ডিবিআইডি নিয়ে যাবে কিন্তু কোনো অপরাধ সংগঠিত হলে তাদের অনলাইন প্লাটফর্ম সম্পর্কে জানার সুযোগ থাকবেনা।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ই-ক্যাব হচ্ছে ই-কমার্স খাতের বাণিজ্য সংগঠন। কিন্তু ই-ক্যাবের নামে অন্য কেউ ডিবিআইডি নিয়েছে। এখানে ইংরেজী বানান একটু আলাদা হলেও বাংলা বানান কিন্তু একই। যে ব্যক্তি এটা নিয়েছে তার কোনো দূরভীসন্ধি রয়েছে কিনা সেটা একটা বিষয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>হতাশার বিষয় হলো মাসের পর মাস এসব বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের টেকনিক্যাল কমিটি ও জয়েন্ট স্টক কোম্পানীসমূহের নিবন্ধন অধিদপ্তরকে লিখিত এবং বিভিন্ন সভায় এজেন্ডাভূক্ত আলোচনার মাধ্যমে অবহিত করার পরও এই বিষয়ে কোনো অগ্রগতি হয়নি। বরং নতুন নতুন জটিলতা তৈরী হতে দেখা যাচ্ছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২২ তারিখে ১২জন উদ্যোক্তাকে ডিবিআইডি দেয়ার জন্য সচিবালয় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল এমনকি তাদের নামও পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। তাদের ০৫ জনকে সেদিন ডিবিআইডি দেয়া হয়েছিল। বাকী ০৭ জনকে পরে দেয়ার কথা থাকলেও তাদের অনেকে এখনো ডিবিআইডি পায়নি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p>বিতর্কিত, প্রতারণার দায়ে জেল হয়েছে এমন প্রতিষ্ঠানও পেয়েছে ডিবিআইডি অন্যদিকে ঠুনকো অযুহাতে সুনামের সাথে ব্যবসা করছে এমন প্রতিষ্ঠানকে ডিবিআইডি দেয়া হচ্চে না মাসের পর মাস।</p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>একটি বিকাশমান খাতের জন্য সহজ নিবন্ধন, সম্মানজক পরিচয় ও প্রয়োজনে তাদেরকে খুঁজে পাওয়ার জন্য জরুরী ভিত্তিতে এই সেবা চালু হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা নানা সুবিধা পাওয়ার আশা করেছিল। আজ ০২ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সে আশার গুড়ে বালি। একদিকে ডিবিআইডির জন্য মাসের পর মাস অপেক্ষা এবং বার বার আবেদন বাতিল একদিকে উদ্যোক্তাদের হতাশ করছে। অন্যদিকে অনুমোদিত ডিবিআইডির ক্ষেত্রে নানারকম অনিয়ম এর মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করছে এবং ভবিষ্যতকে অনিশ্চিত করে তুলছে। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো এটি বাতিল করার জন্য উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে দাবী আসা অস্বাভাবিক কিছু নয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক</strong>: <em>নির্বাহী পরিচালক, </em>ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। <em>সাধারণ সম্পাদক</em>, বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:group {"layout":{"type":"constrained"}} -->
<div class="wp-block-group"><!-- wp:preformatted -->
<pre class="wp-block-preformatted"><mark><strong><mark style="background-color:#00d084" class="has-inline-color has-black-color">দ্রষ্টব্য: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুবদ্ধ বা উদ্বেলিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। </mark>
</strong></mark></pre>
<!-- /wp:preformatted --></div>
<!-- /wp:group -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>প্রণোদনা কমানোয় ঝুঁকিতে পড়বে রফতানি লক্ষ্যমাত্রা</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%8B%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A6%BE+%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A7%9F+%E0%A6%9D%E0%A7%81%E0%A6%81%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87+%E0%A6%AA%E0%A7%9C%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%B0%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF+%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%8B%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A6%BE+%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8B%E0%A7%9F+%E0%A6%9D%E0%A7%81%E0%A6%81%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%87+%E0%A6%AA%E0%A7%9C%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%B0%E0%A6%AB%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BF+%E0%A6%B2%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 31 Jan 2024 15:05:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:heading {"level":4} -->
<h4>সৈয়দ আলমাস কবীর</h4>
<!-- /wp:heading -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এখন ডিজিটাল যুগ পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছি আমরা।  সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের পর স্বল্পোন্নত আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি আইসিটি খাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে রপ্তানির বিপরীতে রপ্তানি প্রণোদনা/ নগদ সহায়তা প্রদান প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক আজ একটি সার্কুলার জারি করেছে; যেখানে- </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশ হতে সফটওয়্যার, আইটিইএস (Information Technology Enabled Services) ও হার্ডওয়্যার রপ্তানির বিপরীতে প্রনোদনা ১০% থেকে কমিয়ে ৮% এবং সফটওয়্যার, আইটিইএস সেবা রপ্তানির বিপরীতে ব্যক্তি পর্যায়ের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য রপ্তানি প্রনোদনা ৪% থেকে কমিয়ে ৩%করা হয়েছে। যা আমাদের প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করবে নিঃসন্দেহে।</p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>প্রথমত, ২০২৫ সাল নাগাদ সরকারের ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন- ইন্ডাস্ট্রির ধারণ করা এই টার্গেট সরকারও এখন ধারণ করে। তাই ২০২৫ এর আগে রপ্তানি প্রণোদনা কোনোভাবেই ৮% করা যাবে না। রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যাঘাত সৃষ্টি করবে এবং নগদ প্রণোদনা হ্রাস রপ্তানিকারকদের নিরুৎসাহিত করবে। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p>আমাদের অবশ্যই ৫ বিলিয়ন অর্জনের লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রণোদনা বজায় রাখতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির মুখে পড়বে আইসিটি খাত।</p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>দ্বিতীয়ত, অন্যান্য শিল্প খাতে কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে প্রণোদনা নিয়ে অনিয়ম হয়েছে। অন্যান্য খাতের অনিয়মের জন্য আইসিটি শিল্পকে শাস্তি দেওয়া উচিত নয়। এগুলি অসৎ লোকদের দ্বারা বিপথগামী, সম্পর্কহীন ঘটনা। তথ্য-প্রযুক্তি একটি জ্ঞান-ভিত্তিক-ইন্ডাস্ট্রি এবং এই অনিয়ম এখানে নেই।তাই এর ঋণাত্মক প্রভাব আমাদের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায়ীদের উপর পড়বে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>তৃতীয়ত, রপ্তানিতে বিপিও ইন্ডাস্ট্রি উল্লেখযোগ্য অবস্থায় আছে- এর সাথে যুক্ত আছে দেশের অনেক ছেলেমেয়ে ও তাদের কর্মসংস্থান। আমাদের ব্যবসায়ীদেরসহ তরুণ প্রজন্মকেও নিরুৎসাহিত করবে এই উদ্যোগ। আরএমজি সেক্টরের পাশাপাশি রেমিট্যান্স আনার জন্য সম্ভাবনাময় এই খাতকে দাঁড়ানোর জন্য এই খাতেও প্রণোদনা প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>অন্যদিকে ২০২৬ সালের পর যখন আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে একটি উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হব, তখন আমরা কিছু সুযোগ পাব। আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং দেশের আরও উন্নয়ন করতে আমাদের সেই সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে হবে, রপ্তানি ক্ষেত্রে পণ্যসেবা এবং বাজার বহুমুখীকরণে যেতে হবে। আমরা বুঝতে পেরেছি যে ২০২৬ সালের পরে প্রণোদনা বন্ধ করতে হবে। কিন্তু, ততদিনে আমরা আমাদের দক্ষতার ভিত্তি গড়ে তুলব এবং হাই-ভ্যালু মার্কেটের জন্য প্রস্তুত হইয়ে যাব যাতে আমরা এখন যা উপার্জন করছি তার ৩-৪ গুণ উপার্জন করতে পারব। ফলশ্রুতিতে আমরা রপ্তানির পরিমাণ ৫ বিলিয়নে উন্নীত হতে সক্ষম হব এবং ঊর্ধ্বমুখী পথ ধরে রাখতে পারব। সামগ্রিকভাবে সরকারঘোষিত অগ্রাধিকার খাত ও শিল্প হিসেবে বিবেচিত এই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায় তরুণ উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের এবং বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এ অব্যাহতির সীমা হ্রাসের এখনই প্রকৃত সময় নয় বলে&nbsp;আমি&nbsp;মনে&nbsp;করি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>একজন স্মার্ট সরকারি আমলা ও কামরুল ইসলাম সিদ্দিক</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9C%E0%A6%A8+%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F+%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF+%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BE+%E0%A6%93+%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%B2+%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE+%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%95</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9C%E0%A6%A8+%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F+%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF+%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%B2%E0%A6%BE+%E0%A6%93+%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%B2+%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%AE+%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%95</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 20 Jan 2024 08:50:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:paragraph -->
<p>আমলাতন্ত্রের বাধা ডিঙিয়ে আজ থেকে ৪২ বছর আগে স্মার্ট প্রশাসক হিসেবে তাক লাগিয়েছিলেন তিনি। প্রাচ্য ও প্রতীচ্যের জ্ঞান ও প্রযুক্তির সন্নিবেশ ঘটিয়ে এই ব-দ্বীপে প্রশাসনিক কাজে কম্পিউটার, ফ্যাক্স, মুঠোফোন ব্যবহার; ইনভেন্টরি অটোমেশন, জিআইএস, এমআইএস, কম্পিউটার বিলিং এর প্রবর্তন হয়েছে তাঁর হাত ধরেই। ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট টেকনোলজির রাবার ড্যাম ব্যবহার করে আবাদি জমি- কে বন্যা-খরার চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা, গ্রামীণ সড়কের উন্নয়ন এবং গ্রাম-কে উন্নয়নের কেন্দ্র বিন্দুতে রূপান্তরে প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের মতো কাজেও মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন তিনি। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>স্বাধীনতার লাল-সবুজের পতাকা বিজয় করেও দেশকে প্রকৃত অর্থেই জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মার্ট সোনার বাংলা রচনায় দক্ষ প্রশাসক হিসেবে আজ মৃত্যুঞ্জয়ী বীর হিসেবেই অনুসরণীয় হয়ে আছেন কামরুল ইসলাম সিদ্দিকী। ২০ জুনায়ারি তার ৭৯তম জন্মদিন। কুষ্টিয়া অধিবাসী কৃষিচিন্তক প্রয়াত নূরুল ইসলাম সিদ্দিক এবং রত্নগর্ভা মা বেগম হামিদা সিদ্দিকের কোল আলো করে পৃথিবীতে এসেছিলেন ১৯৪৫ সালে। প্রকৌশলী পেশার জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মুক্তিযুদ্ধের শুরুতেই ১৯৭১ সালের ৩০ এপ্রিল ভারতের ‘বেতাই’ ইয়্যুথ ক্যাম্প থেকে কুষ্টিয়া-পাবনা অঞ্চল হানাদার মুক্ত করতে ঝাপিয়ে পড়েছিলেন রণাঙ্গনে। মুক্তিযদ্ধের পর দেশ গড়ার যুদ্ধেও ছিলেন অগ্রগামী। স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষি ও অকৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যবস্থা উন্নীতকরণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে দারিদ্র্য বিমোচনে অনুঘটক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>সত্তরের দশকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের আওতায় যে ইঞ্জিনিয়ারিং সেল গঠন করা হয়েছিলো ১৯৮২ সালে সেই পল্লপূর্ত কর্মসূচিকে উন্নয়ন বাজেটের আওতায় ‘ওয়ার্কস প্রোগ্রাম উইং’ এ রুপান্তরের মাধ্যমে ১৯৮৪ সালের অক্টোবরে ওয়ার্কস প্রোগ্রাম উইং রাজস্ব বাজেটের আওতায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল ব্যুরো (এলজিইবি) রূপে পুনর্গঠিত করেন। যার ধারাবাহিকতায় ১৯৯২ সালের আগস্ট মাসে এলজিইবিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) হিসেবে উন্নীত করা হয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>অল্পসময়ের মধেই নানা দূরদর্শী উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রশংসা কুড়িয়েছেন দেশে-বিদেশে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশলে বাজিমাৎ করে বিশ্বব্যাংক থেকে ‘ম্যাজিক বয়’ স্বীকৃতিতে ভূষিত হন এই স্মার্ট প্রশাসক। দেশেও অর্জন করেছেন ডজন খানেক স্বর্ণপদক। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তেও বিদেশে বসে দেশে পাতাল সড়কের প্রকৌশল নকশা নিয়ে অপর গুণী প্রকৌশলী জামিলুর রেজা-কে মেইল পাঠান। অবশ্য দেশের সর্বোচ্চ সম্মাননাটা এখনো যুক্ত হয় নি এই প্রবাদ পুরুষের নামের সঙ্গে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>প্রসঙ্গক্রমে এ নিয়ে জীবদ্দশাতে খেদ প্রকাশ করে তিনি জানিয়েছিলেন, কেবল গ্রাম নয়; হাতিরঝিল থেকে পাতাল রেল সব পরিকল্পনাতেই জুড়ে আছে তাঁর নাম। তিনি ছিলেন ভিশনারি টেকনোক্র্যাট।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>দীর্ঘদিন কামরুল ইসলাম সিদ্দিক এর সঙ্গে কাজ করে অবসরে যাওয়া এলজিইডি’র প্রাক্তন প্রধান প্রকৌশলী মোঃ শহিদুল হাসান মনে করেন, ডিজিটাল বাংলাদেশের পেছনে সরকারি ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বিকার্য। বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতায় তাঁর কাজের প্রতিফলন সুস্পষ্ট। তাই কেবল মৃত্যুর পর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গার্ড অব অনার দেয়া ছাড়া গুণী এই কর্মবীরকে জাতীয় সম্মাননা না দেয়া জাতীয় ব্যর্থতা। আমাদের আর বিলম্ব না করে তাঁকে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত করা উচিত।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এই সম্মাননা না পাওয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ফ্লোরিডা ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট ডিস্ট্রিক্ট সিনিয়র জিআইস ডেভেলপার সাকির আহমেদ বললেন, উনার সবগুলো উদ্যোগই ছিলো স্মার্ট। আমরা গৎবাঁধা কাজ নয়, ‘এভরি ডে ম্যানেজমেন্ট’ এ ‘প্রায়োরিটি’ বিষয়ে তার কাছ থেকে শিখেছি। দক্ষতা উন্নয়নে কর্মচারীদের বিদেশে প্রশিক্ষণ, কাজের গাইড লাইন, তাৎক্ষণিক কাজের ইনপুট দেয়ায় তিনি ছিলেন কিংবদন্তী। সিদ্দিক স্যারের ভিশনটা  আমরা লক্ষ্য করেছি তিনি উন্নয়নের কাথা মাথায় রেখে সব কাজ করেছেন। বর্তমানে এলজিইডিতে তাকে কতটুকু অনুসরণ করতে পারছেন তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। একই সঙ্গে তিন কেন এখনো জাতীয় সম্মাননা পেলেন না সেটাও বুঝি না।   সতীর্থদের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, ১৯৮২ সালে বাংলাদেশে প্রথম ২টি আইবিএম মেইনফ্রেম কম্পিউটার পিসি এনে এলজিইডিতে ব্যবহার শুরু করেন তিনি।  সেই কম্পিউটার দেশে অনুপ্রাণিত হয়ে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হুসাইন মুহাম্মাদ এরশাদও রাষ্ট্রীয় কাজে কম্পিউটারের ব্যবহারে আগ্রহী হন। ১৯৮৮ সালে জমির মৌজার হার্ড কপি ম্যাপের ডিজিটাল ম্যাপিং শুরু করেন এই ‘বড় স্যার’। ১৯৯৪ সালে ইন্টারনেট, ই-মেইল এর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ওয়েবসাইটও তৈরি করান কামরুল ইসলাম সিদ্দিক। পিডিবি’র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের সময় খুলনা থেকে ডিজিটাল বিলিং সিস্টেম চালু করেন। ১৯৯৭-৯৮ সালের দিকে পরিসংখ্যান ব্যুরোর সঙ্গে জনশুমারিতে প্রকৌশলী জ্ঞানকে কাজে লাগিয়েছিলেন তিনি। ডিএলআরএস সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে যে ম্যাপিং করেছেন তাকে ভিত্তি করেই আজ কাজ করছে প্রতিটি সরকারি অধিদপ্তর। ওই সময়েই এলজিইডিতে গ্লোবাল ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ইউনিট উদ্বোধন করে প্রস্তাবিত ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্স পরিকল্পনায় মুগ্ধ হয়ে সেখানে ডিজিটাল সার্ভিস সেন্টার পরিকল্পনায় যুক্ত করেন প্রকৌশলী সজীব ওয়াজেদ জয়-কে। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এছাড়াও আজ থেকে ২৫ বছর আগে ১৯৯৯ সঙ্গে বাংলাদেশ পুলিশ বিভাগের জন্য জিআইএস ব্যবহার কাস্টম ম্যাপিং সফটওয়্যার তৈরি করে দিয়েছিলেন তিনি। তাঁর সুদক্ষ পরিচালনায় পিডিবি পেয়েছিল নতুন আলোর সন্ধান, তাঁর যুগোপযোগী কর্মকাণ্ডে পূর্ত মন্ত্রণালয় জেগে উঠেছিল নতুন স্বপ্নের আবির নিয়ে; সবশেষে প্রাইভেটাইজেশন কমিশনের কর্মকাণ্ড নিয়েও নতুনভাবে চিন্তার সূত্রপাত করেছিলেন৷ এভাবেই সরকারি কর্মকর্তাদের চিরায়ত ট্যাবু ভেঙ্গে নিজে কাজ করে অন্যদের কাজ শেখানো এবং প্রশিক্ষণ ও উদ্ভাবনে আমৃত্যু সহকর্মীদের অনুপ্রাণিত করেছেন কামরুল ইসলাম সিদ্দিক। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের- মানুষ নির্মাণ করে প্রয়োজনে, সৃষ্টি করে আনন্দে, বুদ্ধির পরিচয় দেয় জ্ঞানে, যোগ্যতার পরিচয় দেয় কৃতিত্বে, নিজের পরিচয় দেয় সৃষ্টিতে৷ কামরুল ইসলাম সিদ্দিক ছিলেন এই মর্মবাণীর প্রতিবিম্ব৷ ২০০৮ সালেল ১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে একমাত্র ছেলে সাইফুল ইসলাম সিদ্দিক এর বাসায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই প্রজ্বল নক্ষত্র সদৃশ উন্নয়ন ব্যাক্তিত্ব।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>ইমদাদুল হক:</strong> নির্বাহী সম্পাদক, ডিজিবাংলাটেক.নিউজ</p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>অনলাইনে খাদ্য ব্যবসায় শব্দফাঁদ: প্রতারণার নতুন কৌশল</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87+%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF+%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC+%E0%A6%B6%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A6%3A+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8+%E0%A6%95%E0%A7%8C%E0%A6%B6%E0%A6%B2</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87+%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF+%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC+%E0%A6%B6%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%A6%3A+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8+%E0%A6%95%E0%A7%8C%E0%A6%B6%E0%A6%B2</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 03 Jan 2024 01:01:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:buttons {"layout":{"type":"flex","justifyContent":"center"}} -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button {"style":{"color":{"background":"#33c48feb"}},"className":"is-style-fill"} -->
<div class="wp-block-button is-style-fill"><a class="wp-block-button__link has-background wp-element-button" style="background-color:#33c48feb"><strong>মো. বিল্লাল হোসেন</strong></a></div>
<!-- /wp:button --></div>
<!-- /wp:buttons -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>ব</strong>র্তমান যুগ আধুনিক প্রযুক্তির যুগ। এ যুগে ঘরে বসেই যেকোনো ধরনের পণ্য হাতে পাওয়া সম্ভব। বিশেষত ইন্টারনেটকে কাজে লাগিয়ে ফেসবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম ও বিভিন্ন ওয়েবসাইট ব্যবহার করে সারা বিশ্বে নানা ধরনের পণ্য বিক্রি হচ্ছে। করোনার পর থেকে অনলাইনে পণ্য বিক্রি বেড়েছে বহুগুণে। বিশেষ করে খাদ্যপণ্য বিক্রি বাড়ছে জ্যামিতিক হারে। দেশে অনলাইনে খাদ্যদ্রব্য সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ফেসবুকে। মূলত ফেসবুকে বিভিন্ন পেজ, আইডি ও গ্রুপের মাধ্যমে সব ধরনের খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হয়। যেহেতু এফ কমার্স (ফেসবুক কমার্স) একটি নতুন ধারণা, তাই এখনো এফ কমার্সের নানা ধরনের ফাঁকফোকর রয়েছে, আর এসব ফাঁকফোকরের মধ্য দিয়ে ব্যবসায়ীরা প্রতারণার নতুন নতুন কৌশল আবিষ্কার করছেন। এ প্রতারণা ভোক্তাদের যেমন ক্ষতিগ্রস্ত করছে, তেমনি ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন আঙুল ফুলে কলাগাছ। খাদ্য ব্যবসায় প্রতারণার রয়েছে বিভিন্ন ধরন, এসব ধরনের মধ্যে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হচ্ছে ‘শব্দফাঁদ’ প্রতারণা। ওজনে কম দেওয়া কিংবা খাদ্যে ভেজাল দেওয়া এ রকম নানা ধরনের প্রতারণা অনেক আগে থেকেই দেশে প্রচলিত, তবে বর্তমান সময়ে অনলাইন ব্যবসা প্রসারের ফলে শব্দফাঁদ নামক প্রতারণা বাড়ছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আসলে এ ধরনের নতুন কৌশলকে শব্দ ফাঁদ প্রতারণা কেন বলছি, তা একটু ব্যাখ্যা করা যাক। মূলত এ ধরনের প্রতারণার ক্ষেত্রে পণ্য বিক্রির সময় বেশ কিছু চটকদার শব্দ ব্যবহার করে ভোক্তাদের প্রতারিত করা হয়। এ ধরনের কয়েকটি শব্দ হলো প্রিমিয়াম, অর্গানিক, হালাল, ১০০ ভাগ খাঁটি, বিষমুক্ত, ন্যাচারাল ও ভেজালমুক্ত ইত্যাদি‌।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বর্তমান সময়ে ফেসবুকে স্ক্রল করার সময় আমরা দেখতে পাই, হাজারো ফেসবুক পেজ কিংবা গ্রুপ যেখানে প্রায় সব ধরনের খাদ্যপণ্য বিক্রি করা হচ্ছে। এবং প্রায় সবারই ব্যবসার মূল মন্ত্র হলো এ ধরনের চটকদার শব্দ ব্যবহার করে ভোক্তাদের কাছে এসব খাদ্যপণ্য বিক্রি করা। আমরা যাঁরা সাধারণ ভোক্তা আছি, তাঁরা অসচেতন হওয়ার কারণে তাঁদের এসব চটকদার শব্দ ফাঁদে পড়ে এসব পণ্য কিনে প্রতারিত হচ্ছি প্রতিনিয়ত। পত্রিকা খুললে আমরা দেখতে পাই, এসব প্রতারণার খবর। তবে অনেকে প্রতারণা ছাড়াই ভালো ব্যবসাও করছেন। &nbsp;</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আমরা মূলত এসব শব্দ ব্যবহারের কারণে ধরেই নিচ্ছি খাদ্যটি আসলে প্রিমিয়াম কিংবা অর্গানিক। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে দেশে প্রিমিয়াম, অর্গানিক কিংবা শতভাগ বিশুদ্ধ খাবার বাজারে নিয়ে আসা বেশ দুরূহ এবং ব্যয়বহুলও বটে। যদিও বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়াম কিংবা অর্গানিক খাবার বাজারজাত করছে, তবে সেটার সংখ্যা খুবই কম।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বেশ কিছু ক্ষেত্রে এমনও দেখা গেছে যে অনলাইনে বিভিন্ন খাবার নিয়ে ব্যবসা করে এবং তাঁর খাবারগুলোতে প্রিমিয়াম, অর্গানিক, হালাল কিংবা শতভাগ খাঁটি এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করে সেটি হাইলাইট করে বাজারজাত করে কিন্তু প্রিমিয়াম, অর্গানিক কিংবা শতভাগ খাঁটি এসব শব্দ দিয়ে আসলে কি বুঝায় বা প্রিমিয়াম, অর্গানিক কিংবা শতভাগ খাঁটি খাদ্যপণ্য হতে গেলে কি কি শর্ত মেনে চলতে হয়, সেসবের অনেক কিছুই জানেন না। বেশিরভাগ অনলাইন খাদ্য ব্যবসায়ীর ক্ষেত্রেই এমনটি দেখা যায়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে ব্যবসায়ীরা এসব শব্দ ব্যবহার করে শব্দফাঁদ তৈরি করছেন আর সেই ফাঁদেই আমরা পা দিচ্ছি। সেসব প্রতারক ব্যবসায়ীর নানা ধরনের খাদ্য পণ্য আমরা কিনে খাচ্ছি। ফলাফলস্বরূপ আমাদের দেহে নানা ধরনের জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে কিন্তু আমরা বুঝতে পারছি না।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>সাম্প্রতিক সময়ে ফাংশনাল ফুডস (যেসব খাবারর ঔষধি গুণাগুণ আছে) ও নিউট্রাসিউটিক্যালস (যেসব খাবারের পুষ্টি ও ফার্মাসিউটিক্যাল গুণাগুণ আছে) এর বাজার প্রসারিত হচ্ছে খুব দ্রুত। তাই তো ফেসবুকে বিভিন্ন পেজে নানা ধরনের ফাংশনাল ফুডস ও নিউট্রাসিটিক্যালস–জাতীয় খাদ্য বিক্রি হচ্ছে, যেমনটি আমরা দেখতে পাই হানিনাটস কিংবা সজিনা পাতার ক্ষেত্রে। শুধু বিক্রেতাদের শব্দফাঁদের কৌশলে এই দুটি পণ্য দেদারসে বিক্রি হচ্ছে অনলাইন মার্কেটে। আর এই সুযোগকে ব্যবহার করে প্রতারণা করছে অনেক অনলাইন ব্যবসায়ী।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>শব্দফাঁদের বাইরেও আরও এক ধরনের প্রতারণা বাংলাদেশে শুরু হয়েছে এফ কমার্সের ক্ষেত্রে। সেটি হলো প্যাকেজিংয়ের রং পরিবর্তনের মাধ্যমে প্রতারণা। বিষয়টা একটু জটিল মনে হলেও আসলে খুবই সহজ। বিভিন্ন ধরনের খাদ্যপণ্যে যেসব প্যাকেজিং ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হয়, সেগুলোকে ইকো ফ্রেন্ডলি ঘোষণা দিয়ে সেখানে সবুজ রঙের আধিক্য রেখে তৈরি করা হয়, যাতে ক্রেতারা খুব সহজে আকৃষ্ট হযন। কেন না সবুজ রং আমাদের চোখের জন্য প্রশান্তিদায়ক, তাই আমরা সবুজ রং দেখলেই সেদিকে বেশি আকৃষ্ট হই। আর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে নিম্নমানের খাদ্যপণ্যকে সবুজ রঙের জার কিংবা প্যাকেটে প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করে কোটি কোটি টাকা মুনাফা তৈরি করছে ব্যবসায়ীরা। ব্যাপারটি আপাতদৃষ্টিতে খুব ক্ষুদ্র মনে হলেও এটি আসলে ব্যবসায়ীদের জন্য বিশাল একটি সুযোগ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এভাবে অনলাইন খাদ্য ব্যবসায়ীরা ভোক্তাদের অসচেতনতা কিংবা অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত, যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। এভাবে জ্যামিতিক হারে বেড়ে যাওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ হলো অনলাইন খাদ্য ব্যবসার জন্য দেশে নির্দিষ্ট কোনো সরকারি নীতিমালা নেই কিংবা আইন নেই, যার মাধ্যমে এসব ব্যবসাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। আবার যেটুকু নীতিমালা আছে, সেটা মানতে নারাজ এসব অনলাইন খাদ্য ব্যবসায়ীরা।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>তাই কর্তৃপক্ষের উচিত অনলাইন ব্যবসা, বিশেষত খাদ্য ব্যবসার জন্য নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা, যা সব খাদ্যপণ্য ব্যবসায়ীরা মানতে বাধ্য থাকবেন। এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনস, বাংলাদেশ ফলিত পুষ্টি ও গবেষণা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ইত্যাদি। সরকারের সব সংস্থা ও জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করলে সুফল আসবেই। নিশ্চিত হবে নিরাপদ খাদ্য।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>তাই আমাদের সকলের উচিত শব্দফাঁদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তোলা, যাতে করে এসব অসাধু ব্যবসায়ীরা চটকদার শব্দ ব্যবহার করে খাদ্যপণ্য বিক্রি করতে না পারেন। আমরা নিরাপদ খাদ্য খেয়ে সঠিকভাবে জীবনযাপন করতে পারি এবং সুস্থ থাকতে পারি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক:</strong> <em>প্রভাষক</em>, খাদ্য প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা বিভাগ, <strong>স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:columns -->
<div class="wp-block-columns"><!-- wp:column {"width":"100%"} -->
<div class="wp-block-column" style="flex-basis:100%"><!-- wp:verse {"textAlign":"center","style":{"typography":{"fontStyle":"normal","fontWeight":"300"}},"backgroundColor":"cyan-bluish-gray","textColor":"white","fontSize":"medium"} -->
<pre class="wp-block-verse has-text-align-center has-white-color has-cyan-bluish-gray-background-color has-text-color has-background has-medium-font-size" style="font-style:normal;font-weight:300">
<mark><strong>দ্রষ্টব্য</strong>: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুবদ্ধ বা উদ্বেলিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। 
</mark></pre>
<!-- /wp:verse --></div>
<!-- /wp:column --></div>
<!-- /wp:columns -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>কেন উদ্যোক্তারা  ডিজিটাল কমার্স আইন চায় না?</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8+%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE++%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2+%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B8+%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8+%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC+%E0%A6%A8%E0%A6%BE%3F</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8+%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE++%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2+%E0%A6%95%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B8+%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8+%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC+%E0%A6%A8%E0%A6%BE%3F</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 02 Jan 2024 14:10:46 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:buttons {"layout":{"type":"flex","justifyContent":"center"}} -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button {"width":50,"style":{"color":{"background":"#00d199fc"}},"fontSize":"medium"} -->
<div class="wp-block-button has-custom-width wp-block-button__width-50 has-custom-font-size has-medium-font-size"><a class="wp-block-button__link has-background wp-element-button" style="background-color:#00d199fc"><strong>জাহাঙ্গীর আলম শোভন</strong></a></div>
<!-- /wp:button -->

<!-- wp:button /--></div>
<!-- /wp:buttons -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>ই</strong>-কমার্স নিয়ে নানা অস্থিরতা শেষে ডিজিটাল কমার্স সেল গঠন, টেকনিক্যাল কমিটি গঠন, ডিবিআইডি চালুকরণের পর সরকার ডিজিটাল কমার্স আইন নামে একটি আইনের খসড়া উপস্থাপন করেছে। এই আইনের পেছনেও অনেক কারণ ও ঘটনা রয়েছে। যা উল্লেখ করা বাহুল্য। তবুও এই খাতের উদ্যোক্তারা প্রায় সকলেই জোরালো একমত পোষন করেছে যে, তাদের এ ধরনের আইনের প্রয়োজন নেই এবং তারা আইন চান না। এই আইন না চাওয়ার কারণ কি সেটা একটু তলিয়ে দেখা যাক।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>দেশে মাত্র ৫-৭ শতাংশ মানুষ অনলাইনে কেনাকাটা করে এবং মাত্র ২% এর কাছাকাছি মানুষ নিয়মিত কেনে। কিন্তু প্রায় ৩০ শতাংশ মানুষের অনলাইন থেকে কেনাকাটার সুযোগ রয়েছে। এই খাতে করোনাকালীন সময়ে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ার মতো দেশে ৭০০% পর্যন্ত প্রবৃদ্ধি ঘটেছে যেখানে আমাদের প্রবৃদ্ধি একটিমাত্র শাখায় ৩০০% এর বেশী হয়নি। তাই এই অবস্থায় এখানে কোনো বন্ধন ও শৃংখল এই খাতের বিকাশকে বাঁধাগ্রস্থ করবে বলে খাত সংশ্লিষ্ঠরা মনে করছেন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>প্রথমে বলে নেয়া ভাল যে, সরকার এখনো ই-কমার্সকে স্বতন্ত্র ব্যবসা হিসেবে পুরোপুরি স্বীকৃতি দেয়নি। যার মানে হলে ২০১৬ সালের যে আইনে ট্রেড লাইসেন্স দেয়া হয় সে আইনে এখনো ই-কমার্স বা ডিজিটাল কমার্স বলে কোনো ব্যবসা যুক্ত করা হয়নি। মানে হলো, উদ্যোক্তারা ব্যবসার ধরণ হিসেবে ‘‘ই-কমার্স’’ লিখতে পারেন না। তারা আইটি, মার্কেটিং, সাপ্লায়ার, জেনারেল এসব শাখায় ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করছেন। এই বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সাথে সংশ্লিষ্ঠ অ্যাসোসিয়েশন তথা ই-ক্যাবের দুটি সভা হয়েছে ২০২০ ও ২০২১ সালে। দেয়া হয়েছে একাধিক চিঠিও। বিভিন্ন সেক্টর থেকে প্রায় ৩শ এর বেশী নতুন বৃত্তি বা পেশার প্রস্তাব দেয়া হলেও কিন্তু আলোর মুখ দেখেনি আইনের সংশোধন। যদিও ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন ই-কমার্স ট্রেড লাইসেন্স দিচ্ছে। ব্যাপারটা এমন যেখানে নামই রাখা হয়নি সেখানে হুকুমজারি কোন নামে হবে?</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আইন না চাওয়ার আরেকটি কারণ হলো, নিকট অতীতের অভিজ্ঞতা। ইতোপূর্বে দুটো ডিজিটাল ব্যবসাখাতে লাইসেন্স পদ্ধতি চালু করা হয়েছে একটি হলো কল সেন্টার এবং অন্যটি হলো রাইড শেয়ার। লাইসেন্স অথরিটি করে ‘‘ডুয়িং বিজনেস’’ তথা ব্যবসাটিকে নানা শর্ত দিয়ে কঠিন করা হয়েছে বটে। যদিও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লাইসেন্স শর্ত আনা হলেও বাস্তবে দেখা গেল এই ব্যবসাখাতগুলোর বিকাশ সাধিত হয়নি। &nbsp;রাইড শেয়ার করে নিবন্ধিত ব্যবসায়ীদের জন্য নানা নিয়ম দেয়া হয়েছে। কিন্তু যারা নিয়ম না মেনে সরকারকে ট্যাক্স না দিয়ে রাস্তায় ডেকে ডেকে লোক তুলে বিনিয়োগকারীদের ব্যবসাকে বাঁধাগ্রস্থ করছেন তাদের থামানোর বা বন্ধ করার দায়িত্ব কেউ নেয়নি। লাইসেন্স দেয়ার দায়িত্ব কিন্তু ঠিক কেউ নিয়েছে। সূতরাং ই-কমার্স খাতেও এমনটা হওয়ার আশংকা রয়েছে।&nbsp; উদ্যোক্তাদের আশংকা ই-কমার্স খাতে আইনের পর যারা নিবন্ধিত হবে তারা নানা বিধি দ্বারা শৃংখলিত হবে আর যারা নিবন্ধন ছাড়া ব্যবসা করবে তারা ঠিকই বাজারকে নষ্ট করার সুযোগ পাবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p>সবচেয়ে বড়ো বিষয় হলো, ই-কমার্সের ক্ষেত্রে বিগত দিনগুলোতে যেসব অনিয়ম সংগঠিত হয়েছে। সেগুলোর শাস্তি ও বিচারের কথা বাংলাদেশের কোনো না কোনো আইনে রয়েছে। কারণ এখানে যেসব অপকর্ম হয় সেগুলো প্রচলিত ব্যবসাতেও হয়। প্রতারণা, ওজনে কম দেয়া, প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করা এসব ভোক্তা অধিকার আইন, পেনাল কোডসহ বেশকিছু আইনে রয়েছে। আর আছে বলেই অনেককে জেলে পোরা গেছে। এখন ই-কমার্স বিষয়ে আবার আইন ও শাস্তির ব্যবস্থা হলে বিচারের ক্ষেত্রে দ্বৈততা হওয়ার আশংকা আছে। আবার নতুন আইনের কারণে চাপও বাড়বে। বর্তমানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, প্রতিযোগিতা কমিশন, নিরাপদ খাদ্য কৃতপক্ষসহ প্রায় ২০টির বেশী কতৃপক্ষ ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে ই-কমার্স খাতকে তদারকী করে বা করতে পারে। বিভিন্ন কতৃপক্ষ উদ্যোক্তাদের পদে পদে নানাবিধ জবাবদিহিতার মধ্যে রাখবে তাতে ব্যবসার স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হবে। বিভিন্ন ফোরামে উদ্যোক্তারা এই মতামত পেশ করেছেন।</p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এতদসত্বেও ই-কমার্সের কথা যেহেতু বর্তমান আইনগুলোতে পরিভাষাগতভাবে উল্লেখ নেই, সে সমস্যা দূর করতে ইতোমধ্যে ভোক্তা অধিকার &nbsp;সংরক্ষণ আইন ২০০৯ সংশোধন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং প্রতিযোগিতা আইন ২০১২ সংশোধন এর প্রাথমিক খসড়া তৈরী হয়েছে ট্রেড লাইসেন্স অ্যাক্ট সংশোধনী ইতোমধ্যে প্রস্তাব করা হয়েছে। তাই এসব আইন সময়োপোযোগী করলেই অল্প যেসব ঘাটতির আশংকা আছে তা বলতে গেলে মিটে যায়। বেশী আইন করে বেশী জটিলতা সৃষ্টি করা যুক্তিযুক্ত নয় এমনটা মত দিয়েছেন বিগত ই-ক্যাব ও এফবিসিসিআই আয়োজিত ১২ ফ্রেব্রুয়ারী ২০২৩ এফবিসিসিআইতে অনুষ্ঠিত ব্যবসায়ীদের মত বিনিময় সভায় উপস্থিত সকলেই।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>প্রস্তাবিত ডিজিটাল কমার্স আইনে যেসব বিধান প্রস্তাব করা হয়েছে তা কোনো না কোনো আইনে রয়েছে এবং যেসব শাস্তির প্রস্তাব করা হয়েছে তা বাস্তবসম্মত ও যুক্তি সঙ্গত নয়। যেমন উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, নিবন্ধনবিহীণ ব্যবসায় ১ লাখ টাকা জরিমানা। এটা ট্রেড লাইসেন্স আইনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কারণ ই-কমার্স কোনো নতুন পণ্য সেবার ব্যবসা নয়। প্রচলিত পণ্য সেবাগুলোকে কেবল ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমে উপস্থাপন করে মাত্র। তাই এই ব্যবসার আলাদা লাইসেন্স বা তার অনুপস্থিতে বড়ো ধরনের জরিমানা যুক্তিযুক্ত নয়। এতে করে এই খাতের প্রাথমিক বিকাশ ব্যাহত হবে। মনে রাখতে হবে এই সম্ভাবনাময় খাত এখনো কাংখিত বিকাশ লাভ করেনি। যেখানে ২০২৮ সালে সারা পৃথিবীব্যাপী খুচরা বিক্রিকে ছাড়িয়ে যাবে ই-কমার্স এ ধরনের গবেষণালব্দ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে সেখানে আমাদের এখানে এখনো খুচরা বিক্রয়ের ১% বাজারও ই-কমার্স দখল করতে পারেনি যেখানে ভারতেও এই হার ১৬% এবং চীনে ২৭%।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>সরকার ডিজিটাল কমার্স উন্নয়নে সরকার ‘‘ডিজিটাল কমার্স পলিসি ২০১৮’’ প্রনয়ন করে। এখনো এই পলিসির ৭০ ভাগ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়নি। প্রতিযোগিতা আইন পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়না। অনেক আইনের সঠিক প্রয়োগ নেই। এ অবস্থায় এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে আইন প্রণয়ন করা একটি স্ববিরোধী সিদ্ধান্ত হতে পারে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে প্রাইভেট সেক্টর ডেভলপমেন্ট কমিটির ১৩তম সভায় এই খাতের উন্নয়নে গৃহিত পদক্ষেপসমূহ বেশীরভাগ আজো আলোর মুখ দেখেনি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বলাবাহুল্য নিবর্তনমুলক আইন কল্যানমূখী বাজারের বিপরীত এতে রক্ষনশীল মনোভাব ও নানারকম বিধিনিষেধের কারণে বিদেশী বিনিয়োগ বাঁধাগ্রস্থ হয় এবং দেশীয় উদ্যোক্তারা নিজেদের বিনিয়োগ বিদেশে স্থানান্তর করতে পারে। এ ধরনের আইন হলে এখানে একই আশংকা থেকে যায়। যেখানে চীন ছাড়া পৃথিবীর কোনো দেশে ই-কমার্স সংক্রান্ত আইন আছে বলে তথ্য পাওয়া যায়নি। ভারতে ভোক্তা আইনের অধীনে একটি বিধি রয়েছে মাত্র।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>সর্বশেষ উদ্যোক্তাদের আপত্তির মুখে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক আবহে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আইনটির প্রস্তাবিত খসড়ায় সংশোধনী এনেছে এটিকে ‘‘ ডিজিটাল কমার্স কতৃপক্ষ আইন ২০২৩’’ নামে অভিহিত করে অন্যান্য ধারা ও বিধিসমূহ বাদ দিয়ে শুধুমাত্র নিবন্ধন সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে এটির একটা খসড়া উপস্থাপন করেছে। যুগ্ন সচিব ড সাইফ উদ্দীন আহমেদ ও উপসচিব জনাব সাইদ আলীর সাথে এই খাতের আরো ৩ জন সরকারী প্রতিনিধি ও বেসরকারী খাতের ১ জন প্রতিনিধি এই খসড়াটি চূড়ান্ত করেছেন। পুরো আইনের গতিটি ইতিবাচক হলেও কয়েকটি বিষয় নিয়ে এখনো শংকা কাটেনি খাত সংশ্লিষ্ঠদের।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এর আরেকটি কারণ হলো ডিবি আইডি। সরকার ২০২২ সালের ০৬ ফ্রেব্রুয়ারী ই-কমার্সের জন্য ডিবিআইডি নামব নিবন্ধন চালু করেছে। এটিকে একদিকে করা হয়েছে জটিল এবং এর কোনো কার্যকারিতা সৃষ্টি করা হয়নি। যেমন এর মাধ্যমে ব্যাংক একাউন্ট খোলা কিংবা ট্রেড লাইসেন্স বিকল্প হিসেবে ব্যবহার কিছুই করা যায়না অন্যদিকে এটি পেতে ৩ স্তরের জটিলতার কারণে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারিয়েছে। আবার যারা আগ্রহী হয়েছে তারাও হতাশ হয়েছে। কারণ এর সংখ্যা দেড় বছরে ৪ অংক ছুতে পারেনি। আরজেএসসি ৮৩% আবেদন বাতিল করে দেয়। এমনি এটাতে দালাল চক্রের হাত পড়ার কারণে এই বাতিলের নাটক সাজানো হয়েছে বলে পত্র-পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। মানে কারো মাধ্যমে কিছু বাড়তি খরচা করে আবেদন করলে সেটা পাস হয়ে যায়। নিজস্ব প্রচেষ্টায় কোনো ফল পাওয়া যায়না। এই ঘটনা আইনের ব্যাপারে ই-কমার্স খাতের উদ্যোক্তাদের আরো ভীত করে তুলেছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এখন প্রশ্ন হলো, সরকার সহজভাবে এই খাতকে বিকশিত করার সুযোগ দেবে নাকি আইনের দ্বারা সুন্দরভাবে বিকাশ করবে। যদিও বর্তমান প্রস্তাবিত খসড়াটি যথেষ্ঠ ইতিবাচক বলা যায়। অল্প ২/১টি বিষয় বাদে এটাকে উদ্যোক্তা বান্ধব বলছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এমনকি বর্তমান খসড়াতেও যদি কোনো পরিবর্তন দরকার হয় সেটাও করতে চায় সরকার। কিন্তু একটি আইন এবং একটি নজরদারিমূলক কতৃপক্ষ সৃষ্টির বিষয়ে সরকার সিদ্ধান্তবদ্ধ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>তা সত্বেও ভয় কাটেনি খাত সংশ্লিষ্ঠিদের। কারণ, ডিবিআইডি এর মতো সহজ ও সুন্দর কাজটি যেভাবে ভিন্নখাতে প্রবাহিত হয়েছে। একটি ইতিবাচক আইনেরও এইদেশে নেতিবাচক পরিণতে হওয়ার আশংকা উড়িয়ে দেয়া যায়না। আমি নিজে ৬ সদস্যের খসড়া কমিটির ১ জন হওয়া সত্বেও এটা বলছি। আমার মতামতের ৮০ শতাংশই তারা গ্রহণ করেছেন এটা খুব ভাল দিক। সচরাচর এমনটা হয়না। কিন্তু যদি এই আইনে ১০ শতাংশ কোনো কঠিন শর্ত থাকে তা যদি অপপ্রয়োগ হয় তাহলে এই খাতের বিকাশ ব্যাহত হওয়ার আশংকা সঠিক হবে। এমনকি এটা কাগজে কলমে সহজ ও সুন্দর হলেও ডিবিআইডির মতো আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে এই আইনে সকলের জন্য উপকারী হওয়ার বদলে ‘‘হিতে বিপরীত’’ হলে সে দায় কে নেবে? তাই এখন খাত সংশ্লিষ্ঠরা চাইছেন আইনে এমন কোনোকিছু থাকা ঠিক হবে না যাতে ১% অপপ্রয়োগ এর সুযোগ থাকে। এখন দেখার বিষয় চূড়ান্ত খসড়া নাগাদ এটি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে এর গতি-প্রকৃতি কেমন হয়?</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক</strong>:  <em>নির্বাহী পরিচালক, </em>ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। <em>সাধারণ সম্পাদক</em>, বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:group {"layout":{"type":"constrained"}} -->
<div class="wp-block-group"><!-- wp:verse {"textAlign":"center","backgroundColor":"cyan-bluish-gray","textColor":"white","fontSize":"medium"} -->
<pre class="wp-block-verse has-text-align-center has-white-color has-cyan-bluish-gray-background-color has-text-color has-background has-medium-font-size">
<mark style="background-color:rgba(0, 0, 0, 0)" class="has-inline-color has-vivid-red-color"><strong>দ্রষ্টব্য</strong>: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেউ সংক্ষুবদ্ধ বা উদ্বেলিত হলে তা তার একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়। 
</mark>
  </pre>
<!-- /wp:verse --></div>
<!-- /wp:group -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>আমাদের গৌরবময় টেক&#45;সই ‘বিজয়’</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%97%E0%A7%8C%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%AE%E0%A6%AF%E0%A6%BC+%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%95-%E0%A6%B8%E0%A6%87+%E2%80%98%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E2%80%99</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%97%E0%A7%8C%E0%A6%B0%E0%A6%AC%E0%A6%AE%E0%A6%AF%E0%A6%BC+%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%95-%E0%A6%B8%E0%A6%87+%E2%80%98%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E2%80%99</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 15 Dec 2023 22:20:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:quote {"align":"center"} -->
<blockquote class="wp-block-quote has-text-align-center"><!-- wp:paragraph -->
<p><strong>ইমদাদুল হক</strong></p>
<!-- /wp:paragraph --><cite><em>নির্বাহী সম্পাদক, ডিজিবাংলাটেক.নিউজ</em></cite></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদ্‌যাপিত হলো দুই বছর আগে। ১৯৭১ সালে ৯ মাসের একটি রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে উদিত হয় বিজয়ের লাল সূর্য। আমাদের স্বাধীনতা শুধু একটি ভূখণ্ডের নয়, নয় একটি মানবগোষ্ঠীর; সে বিজয় একটি চেতনার, একটি সংগ্রামের, একটি ইতিহাসের।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>সেই ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে এখনো প্রতিধ্বনিত হয় দিনবদলের ডাক। জানি, অন্তরায় অনেক; তারপরও তথ্যপ্রযুক্তিকে আলিঙ্গন করে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। তরুণসমাজের কর্মকুশলতা, সৃজনশীলতা ও সৃষ্টিশীলতায় অর্থবহ হয়ে উঠছে গৌরবময় ‘বিজয়’। এক্ষেত্রে প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণে কম্পিউটার, ইন্টারনেট ও যন্ত্রপাতির দৃশ্যমান অবস্থান উন্নয়ন রূপান্তরে সফল হতে সাহায্য করছে। দেশের মানুষ এখন তথ্য-প্রযুক্তির ব্যবহারকে মুক্তির উপায় হিসেবে বিবেচনা করছে। দেশে তরুণ শ্রমশক্তির একটি বড়ো অংশ প্রযুক্তিখাতে নিজের মেধা ও ভাবলোক বিনিয়োগ করছেন। ফলশ্রুতিতে প্রচুর উদ্ভাবনী চিন্তার ও কাজের সম্প্রসারণ ঘটছে। ভেতরের কাঠামোতে তাই এক আশ্চর্য মানবিক মূল্যবোধ জন্ম নিতে শুরু করেছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এই মূল্যবোধের বীজ বপন হয় ১৯৫২ সালে। মাতৃভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ সালে মুক্তির সংগ্রামের মধ্যে অর্জিত ‘ভূখণ্ড, পতাকা ও সার্বভৌত্ব’ অর্জনের ৫২ বছর পূর্তি হচ্ছে বিদয়ী বছরে। এরই মধ্যে অর্থনৈতিক মুক্তির মাধ্যমে এলডিসি গ্র্যজুয়েট হয়েছে বাংলাদেশ। কৃষিতে বীজতলা থেকে উৎপাদন পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে প্রযুক্তির ব্যবহারে গত ১৫ বছরে কৃষিতে উৎপাদন বেড়েছে ৪৫ শতাংশ। &nbsp;&nbsp;সুরক্ষিত প্রাচীর ভেদ করে নিমেষেই ই-মেইল; হোয়াটসআপে মহুর্তে পৌঁছে যাওয়া যায় ঈপ্সিত গন্তব্যে। সেবার ডিজিটাল রূপন্তরে সরকার এখন হাতের মুঠোয়। জনগণের সঙ্গে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হতে পারছে সরকার। চাকরির সন্ধানে শুকতলা ক্ষয়ে যাওয়ার দিন শিকেয় উঠছে। প্রতিকার পাতার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি না খুঁজে ‘বিডিজবস’ এর মতো অনলাইন ঠিকানাতে কম খরচেই চাকরির আবেদন করা যাচ্ছে। &nbsp;ইন্টারনেটে যুক্ত হয়ে ফ্রিল্যান্সিং হয়ে উঠেছে বৈদেশিক মুদ্রা আহরণের নতুন খাত। চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেদের সমস্যার ঘরোয়া সমাধান নিয়ে &nbsp;উদ্যোক্তা হওয়ার দৌড়ে শামিল হচ্ছে নতুন প্রজন্ম।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এভাবেই ইলেকট্রনিক যোগাযোগ বদলে দিয়েছে ব্যবসায়ের ধারণা। খুলে দিয়েছে নতুন নতুন দুয়ার। ঘরে বসেই কেনাকাটা, ব্যাংক ছাড়াই লেনদেন সহজ করেছে জীবনযাত্রাকে। প্রযুক্তির ষোলকলায় পূর্ণতার পথে ১৬ই ডিসেম্বর।  আমাদের গৌরবের, অস্তিত্বের বিজয়গাঁথা।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এরইমধ্যে ‘বিকাশ-নগদ-উপায়’ এর মতো এমএফএস বিশ্বে বাংলাদেশ-কে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। উবারের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে ‘পাঠাও’। ডিএইচএল হতে না পাড়লেও কুরিয়ারে ই-কুরিয়ার, রেডএক্স বেশ ভালো করছে। ‘বিক্রয়’ ও ’দারজ’ এর মতো বৈশ্বিক ব্র্যান্ডের পাশে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে ‘আজকের ডিল’, পিকাবু। ই-ভ্যালি স্ক্যাম কাটিয়ে প্রতিষ্ঠিত ব্র্যান্ডগুলো এখন নোঙর করছে ই-কমার্স বন্দরে। ক্ষুদ্র-মাঝারি খুচরা বিক্রেতাদের কাছে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে শপ-আপ। মুদি দোকানগুলো যুক্ত হচ্ছে ‘মোকাম’-এ। সিনেমা হলগুলোকে ঐতিহ্যে পরিণত করে নেটফ্লিক্স, হৈচৈ এর পাশাপাশি আয়না, চরকি-র পাশাপাশি ওটিটি প্লাটফর্মগুলো হয়ে উঠছে পরিচিত হয়ে উঠছে বিনোদনের আধারে। &nbsp;&nbsp;</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এমন অর্ধশতাধিক প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ-উদ্ভাবনের মধ্য দিয়েই দেশে প্রযুক্তির বাহনে চেপে এসেছে প্রকৃত বিজয়। এখন এই প্রযুক্তির সার্বভৌমত্বে নজর দেয়া দরকার। ডটকম থেকে ডটবিডি; জুম থেকে বৈঠক-এ মনযোগী হওয়া দরকার। একইভাবে বেসরকারি উদ্যোগে স্থানীয় উদ্যোক্তারা যেনো দীর্ঘ মেয়াদে চাপমুক্ত হয়ে প্রযুক্তি ব্যবসায় করতে পারে সেই নির্ভার পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরী। দরকার নিজস্ব ডেটাব্যাংক। রিসার্চ অ্যানালিটিক্স। একইভাবে জরুরী ই-জিপি’র মতো স্বচ্ছতা নিরুপণের আরো বেশি বেশি প্রাযুক্তিক উদ্যোগ; যে উদ্ভাবন ও উদ্যোগে মাধ্যমে দেশে নিশ্চিত হবে সুশাসন। হুন্দাই-স্যামসাং এর মতো ফেসবুক-ইউটিউব-নেটফ্লিক্স এর মতো বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে ডেরা স্থাপনে গড়তে হবে টেক-ডিপ্লোম্যাসি। কেননা তথ্যপ্রযুক্তি এখন শুধু পণ্য ও সেবা চালুর মধ্যেই সীমিত থাকবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যান্ত্রিক রূপান্তর আমাদের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশের জন্য আসবে ভিন্ন বাস্তবতা নিয়ে। তাই &nbsp;দেশীয় প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের প্রতিষ্ঠিত করতে দীর্ঘমেয়দী সরকারি নীতির কোনো বিকল্প নেই। জীবধারার প্রতিপদেই প্রযুক্তিকে তাই নিয়ে আসতে হবে চালকের আসনে। এভাবেই প্রযুক্তির টেকসই ব্যবহারে এই পলল বিধৌত বদ্বীপের &nbsp;‘মাটি’ ও ‘মানুষ’ হয়ে উঠবে স্বর্ণময়। সেদিন খুব বেশি দূরে নয়; যেদিন এআই বিশ্বেও ‘সোনার বাংলা’র বিজয় কেতন উড়বে বিশ্বময়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>স্বপ্নপূরণের নাম বিজয়</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%AA%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%AF%E0%A6%BC</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%AA%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AE+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%AF%E0%A6%BC</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 15 Dec 2023 16:19:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:quote {"align":"center"} -->
<blockquote class="wp-block-quote has-text-align-center"><!-- wp:paragraph -->
<p><strong>মোস্তাফা জব্বার</strong></p>
<!-- /wp:paragraph --><cite><em>বিজয় কিবোর্ড প্রতিষ্ঠাতা</em></cite></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বিজয় কীবোর্ড ও সফটওয়্যারের ৩৫ বছর পার হলো। ২৩ সালের ১৬ ডিসেম্বর পার হচ্ছে বিজয় এর ৩৬ তম জন্মদিন। এই সুদীর্ঘ সময়ে বিজয় অতিক্রম করেছে অনেক মাইল ফলক। বিজয় এখন জাতীয় প্রমিত কীবোর্ড (বিডিএস ১৭৩৮:২০১৮) বিজয় এর আসকি কোডও জাতীয় প্রমিত মান-বিডিএস ১৯৩৫:২০১৮। এখন বাংলাদেশের লাখ লাখ কীবোর্ডে বিজয় লেআউট মুদ্রিত হয়ে দেশের বাজারে আসে। এই সময়ে বিজয় বস্তুত দেশের সফটওয়্যার শিল্পের সবচেয়ে সফল ও জনপ্রিয় সফটওয়্যারের সন্মান পেয়েছে। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>মনে করিয়ে দেই সেই সময়ে প্রচলিত ফটোটাইপসেটারের চমৎকার বাংলা অক্ষর আমাকে বিজয় উদ্ভাবনের অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। সকলেই জানেন ১৬ মে ১৯৮৭ তারিখে বাংলা সাপ্তাহিক আনন্দপত্র প্রকাশ করে আমি কম্পিউটার দিয়ে বাংলা পত্রিকা প্রকাশ করার যুগে প্রবেশ করি। তখন আমরা সৈয়দ মাইনুল হাসানের মাইনুল লিপি ব্যবহার করেছিলাম। মুনীর কীবোর্ডকে অনুসরণ করে ৪ স্তরের কীবোর্ডটা আমিই বানিয়েছিলাম যার নাম ছিলো জব্বার কীবোর্ড-আমার বাবার নামে নাম। কিন্তু কীবোর্ডটির সমস্যা ছিলো ১৮৮টি বোতাম মুখস্থ রেখে বাংলা টাইপ করতে হতো। বিজয়-এর জন্মের পেছনে প্রযুক্তিগত প্রধান কারণ এটি। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>টাইপরাইটার, শীশার কম্পোজ বা ফটোটাইপসেটারে বাংলা লিখতে গিয়ে অনুভব করেছি যে, রোমান কীবোর্ড দিয়ে অবিকৃতভাবে বাংলা বর্ণমালা তৈরি করা সত্যি সত্যি এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। হাজার বছরের বাংলা ভাষার ইতিহাসে এই সংকট মোকাবেলায় বাংলা অক্ষর কমানো, যুক্তাক্ষর বর্জন, অর্ধবর্ণ ব্যবহার এবং রোমান বা আরবী হরফে বাংলা লেখার উদ্যোগসমূহের অন্যতম একটি কারণ ছিলো বাংলা যুক্তবর্ণ। আমি স্বপ্ন দেখতাম, কবে, কেমন করে এই যুক্তবর্ণের জটিলতার শেকল থেকে মুক্তি পাবো। বিজয় সৃষ্টি করে সেই শেকলটা আমি ভেঙ্গেছি। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলার ছাত্র বলে কিনা জানিনা, এটি আমার মাথায় পুরো ৮৭-৮৮ সাল জুড়েই ঘোরপাক খাচ্ছিলো। যেহেতু আমি নিজে ‘জব্বার’ কীবোর্ড বানিয়েছিলাম সেহেতু যুক্তাক্ষর তৈরির গ্লিফগুলো সম্পর্কে আমার ধারণা খুব স্পষ্ট ছিলো। কিন্তু আমি চাইছিলাম এমন একটি উপায়, যার সাহায্যে আমি ব্যবহারকারীকে কীবোর্ড যুক্তাক্ষরের হাত থেকে রক্ষা করতে পারি। সেই ভাবনা থেকেই ‘বিজয়’ কীবোর্ড-এর নকশা তৈরি করতে থাকি। পুরো বছর জুড়ে মুহম্মদপুরের ৪২ সি কাজী নজরুল ইসলাম রোডের দোতালার বাসায় কতো রাত যে আমি পায়চারী করে কাটিয়েছি তা মনে করা সম্ভব নয়। কিন্তু কোনমতেই কম্পিউটারের সীমাবদ্ধ বোতামের মাঝে সকল বাংলা বর্ণের ঠাই করতে পারছিলামনা। তবে আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, এমন একটা কিছু আমি অবশ্যই খোঁজে পাবো- আমার মাথায় এমন কিছু আসবে যার ফলে যুক্তাক্ষর নিয়ে কাউকে ভাবতে হবেনা। তবে আমার সমস্যাও ছিল অনেক। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আমি বাংলা ভাষা ও লিপি জানি, কম্পিউটারের ভাষা বা প্রোগ্রামিং জানিনা। কেমন করে কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেম কাজ করে এবং তাতে কীবোর্ড ইন্টারফেস কেমন করে তৈরি করা যায় তার কোন ধারণাই আমার ছিলোনা। এছাড়া বাংলাদেশে মেকিন্টোস কম্পিউটারের জন্য প্রোগ্রামার পাওয়া যেতোনা। ভারতের রাবা কন্টেলের অরুণ নাথ তখন আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আমি অরুণকে জানালাম, আমি মেকিন্টোসের জন্য বাংলা কীবোর্ড ড্রাইভার বানাতে চাই। আমার হাতে ফন্ট আছে- কিন্তু ফন্ট দিয়ে বাংলা লিখতে কীবোর্ডের চার স্তর ব্যবহার করতে হয়। আমি চার স্তর চাইনা- স্বাভাবিক দুই স্তর চাই। অরুণ আমাকে দিল্লী আসার বুদ্ধি দিলেন। সেখানে পরিচয় করিয়ে দিলেন, কুতুব হোটেলের কম্পাউন্ডের ভেতরেরই ডি-২ ফ্লাটে রাবা কন্টেলে কর্মরত প্রোগ্রামার দেবেন্দ্র জোশীর সাথে। বেটে খাটো জোশী এবং তার সাথে কর্মরত আরো কয়েকজন সহকর্মী তখন ম্যাকিন্টোসে ভারতীয় ভাষার কীবোর্ড ড্রাইভার এবং ফন্ট নিয়ে কাজ করছেন। তাদের মূল লক্ষ্য ছিলো দেবনাগরী ভাষাকে কম্পিউটারে প্রয়োগ করা। পাঞ্জাবী, গুজরাটী, তামিল, তেলেগু এবং মালয়ালমও তাদের তালিকায় ছিলো। তবে বাংলা তাদের কাজের তালিকায় ছিলোনা। পশ্চিমবঙ্গে তখন ম্যাকের বাজার খুব ছোট। রাহুল কমার্স নামে তাদের যে ডিলার কলকাতায় ছিলো, তারা তাদের বঙ্কিম ফন্ট নিয়েই সন্তুষ্ট ছিলো। কিন্তু আমি সুনন্দা ফন্টের পাশাপাশি বাংলা কীবোর্ড ড্রাইভার নিয়েও ব্যস্ত ছিলাম। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ডিসেম্বর মাসের শুরুতে (১৯৮৮ সন) জোশীর সাথে কুতুব হোটেলের ডি-২ ফ্লাটে কাজ করা শুরু করে আমি অনুভব করলাম যে, আমার স্বপ্ন সফল করা যেতে পারে। জোশী বাংলা জানতেন না- কিন্তু হিন্দী খুব ভালো জানতেন। ফলে আমি যখন তাকে হসন্ত (জোশী বলত হলন্ত) ব্যবহার করে যুক্তাক্ষর তৈরির কথা বললাম, জোশী তখন আমাকে আমার ফন্ট ফাইলটি (সুনন্দা ফন্টটি থেকে আমি তন্বী সুনন্দা ফন্ট বানাই) সাজিয়ে নিতে পরামর্শ দেন। জোশী তখন আমাকে এটিও জানান যে, ফন্টে কোডের ব্যবহার বাড়ালেও কোন অসুবিধা হবেনা। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আমি ১৮৮ অক্ষরের সংখ্যা বাড়িয়ে ২২০টি অক্ষর দিয়ে তন্বী সুনন্দা ফন্ট বানাই। আসকি কোডের যেসব জায়গায় কন্ট্রোল কী আছে সেগুলো ছাড়া ব্যবহার করা যায় এমন সকল কোডই আমি ব্যবহার করলাম। একটি যুক্তাক্ষরের তালিকাও আমি বানাই। আমার সাথে বিদ্যাসাগরের বর্ণ পরিচয় বইটি ছিলো। বইটি দিল্লী যাবার পথে কলিকাতায় কিনেছিলাম। তালিকাটি সেই মোতাবেক করা হয়। প্রতিটি যুক্তাক্ষর এবং তার কী কম্বিনেশন ও গ্লিফ চার্ট তৈরি করা হয়। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p>যতদূর মনে আছে, কুতুব হোটেলের ছয় তলায় ৫২২ নাম্বার রূমে বসে সাদা কাগজ আর পেন্সিল দিয়ে বারবার কাটাছেঁড়া করে দু’টি তালিকা প্রস্তুত করি আমি। একই সাথে প্রস্তুত করি বিজয় কীবোর্ড কোন নিয়মে কাজ করবে তার নিয়মাবলী। সেজন্য বিজয় কীবোর্ড প্রস্তুতের আগে আমাকে ভাবতে হয় অনেক কিছু। বিজয় কীবোর্ড সেই সময়ে বিদ্যমান সকল কীবোর্ডের মৌলিক ধারণা থেকে স্বাতন্ত্র নিয়ে আলাদা হয়ে যায়। </p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বিজয়-এর জন্মের সময় শহীদলিপি ও আবহ কীবোর্ড ছাড়া টাইপরাইটারের মুনীর কীবোর্ড প্রচলিত ছিলো। শহীদলিপি ও আবহ কীবোর্ড আমার পছন্দ হয়নি। কুতুব হোটেলের ৫২২ নাম্বার ঘরে বসেই যখন শেষ নকশাগুলো সম্পন্ন করা হয়, তখন গভীর রাত। দিল্লীর শহরতলীর নীরব ঐ হোটেলে কান পাতলে আমার শ্বাসের আওয়াজও আমি শুনতে পেতাম। চারপাশে জনবসতি নেই বলে গাড়ীঘোড়াও চলেনা। কাজ শেষ করে ফেলায় প্রায় সারা রাত উত্তেজনায় ঘুম হয়নি। আমার যদি সেই সময়ে মোবাইল ফোন থাকতো তবে আমি অবশ্যই জোশীকে গভীর রাতেই জাগাতাম। তখন ল্যাপটপ ছিলোনা। ফলে পুরো কাজটাই আমি কাগজে কলমে করি। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>আমার টেনশন ছিলো, আমার লেআউট, যুক্তাক্ষরের সর্বশেষ তালিকা এবং কীবোর্ডের নিয়মাবলী কাজ করবেতো? যদি ‘না’ করে তবে আবার চেষ্টা করা যাবে। কিন্তু যদি করে- তবে সেই আনন্দ আমি কোথায় রাখবো? </strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>সম্ভবত: শেষ রাতে শুয়ে পড়েছিলাম এবং ঘুম থেকে উঠে নাস্তা সেরে ডি-২ তে গিয়ে জোশীকে প্রস্তুতই পেয়েছিলাম। জোশী আগের দিনই বাংলা কীবোর্ডের জন্য মূল প্রোগ্রামিং তৈরি করে রেখেছিলো। আমার কাছ থেকে কীবোর্ডের লেআউট, বাংলা অক্ষরের কোড নং, লাতিন হরফের কোড নং এবং যুক্তাক্ষর তৈরির সিকুয়েন্স ও তার কোডসমূহ একের পর এক বসিয়ে গেলেন। ডি-২ এ্যাপার্টমেন্টে বসে ঘন্টা তিনেকের মাঝেই আমার তালিকার কাজ শেষ হলো। জোশী প্রোগ্রামটি কম্পাইল করলেন bkbd নামে। আমিই তাকে বলেছিলাম, এর নাম হবে বিজয় কীবোর্ড। সামনেই ছিলো ১৬ই ডিসেম্বর। সুতরাং আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম ঐদিনে এই কীবোর্ডটি আমি প্রকাশ করবো। স্বল্পভাষী জোশী মাত্র তিন কিলোবাইটের ঐ প্রোগ্রামটি আমাকে দেখালেন। আমি আমার আসল নামের গোলাম -এর জি অক্ষরটিকে লিংক বা হসন্ত হিসেবে রাখলাম। ইচ্ছে করলে এর বদলে এইচ বোতামটিকেও লিঙ্ক হিসেবে রাখা যেতো। বাংলা কীবোর্ড ও ইংরেজির মাঝে টোগল কী হিসেবে রাখলাম কন্ট্রোল- অপশন-বি। ‘বি’ দিয়ে বিজয় এবং বাংলা-দু’টিও বোঝায়। বিজয় কীবোর্ডটি যুক্ত করে বিজয় সফটওয়্যারের প্রোগ্রামিং শেষে নশনফ ফাইলটি জোশী তার ম্যাকের সিস্টেম ফোল্ডারে কপি করে দিয়ে আমাকে বললেন, পরীক্ষা করে দেখো। আমি তন্বী সুনন্দা ফন্ট এবং এর ১৪ পয়েন্ট সাইজ বাছাই করে কন্ট্রোল+অপশন বি টাইপ করে প্রথমেই ইংরেজি এইচ বোতামে চাপ দিই। ম্যাকের (সম্ভবত: ম্যাক এসই) পর্দায় বাংলা ব হরফ দেখা যায়। এরপর আমি ইংরেজি জে, জি এবং জে টাইপ করি। ক-এর পর হসন্ত এবং এরপর ক্ক হতে দেখে আমি প্রায় চিৎকার করে বলে উঠি- জোশী বিজয় কাজ করছে। জোশীর কোন প্রতিক্রিয়া হলোনা। একটা নির্লিপ্ত ভাব নিয়ে জোশী বললেন, সবগুলো কম্বিনেশন চেক করো। আমার পেন্সিলে তৈরি করা কীবোর্ড লেআউট এবং যুক্তাক্ষরের তালিকা আমি একের পর এক পরীক্ষা করি। বেশ সময় নেয় তাতে। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>সম্ভবত: দুপুরের খাবার সময় পার হয়ে যায়। কিন্তু আমার পেটে কোন ক্ষুধা লেগেছিলো বলে মনে নেই। পরীক্ষা শেষে বিস্ময়করভাবে আমি লক্ষ্য করেছিলাম যে, আমার তালিকা, কীবোর্ড লেআউট বা জোশীর কোডিং-এর কোথাও সামান্য চুল পরিমাণ ত্রুটি ছিলোনা। সেদিন আমি যে এনকোডিং করেছিলাম তা (কিছুটা বদলে) ম্যাক ও.এস ৯.২ পর্যন্ত ব্যবüত হয়। সেদিন যে কীবোর্ড তৈরি করেছিলাম তা-ই বর্ধিতরূপে এখনো ব্যবহৃত হয়। তবে কম্পিউটার সোর্সের পারফেক্ট কীবোর্ডের লেআউটে ভুল করে ৎ নীচে ও ঃ উপরে ছাপা হয়। ফলে কীবোর্ড বদলাতে হয়- যা এখন বিজয় কীবোর্ডে বজায় রয়েছে। তবে পরে চেক করে দেখেছি দুয়েকটি যুক্তাক্ষর প্রথম তালিকায় ছিলোনা। ভ্ল, স্ক্ল এমন দুটি যুক্তাক্ষর আমি পরে যুক্ত করেছি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p> ২০০৪ সালে তিনটি বোতামের অবস্থানও পরিবর্তন করি। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি যে, ঐ দিন পৃথিবীতে আমার চাইতে সুখী মানুষ আর একটিও ছিলো না। আমার মনে আছে, দিল্লীর এই এলাকাটি আমার ভালো লাগতোনা। রুক্ষ্ম মরু অঞ্চলের মতো অজানা কাঁটা জাতীয় গাছে ভরা কুতুব হোটেলের চারপাশটাও আমার তেমন পছন্দ ছিলোনা। সবুজ দেশের মানুষের কাছে এমন মরু টাইপের অঞ্চল ভালো না লাগারই কথা। তবে হোটেলের রুম থেকে পুরোটাই সবুজ দেখা যেতো। দালানকোঠা চোখেই পড়তোনা। আমি কুতুব হোটেলের আশেপাশে হাটতামনা। হোটেল কম্পাউন্ডটা খুব সুন্দর-বাড়ীর মতো। বরং ওটা আমি পছন্দ করতাম। কিন্তু সেদিন বিকেলে বালুময় কুতুব মিনার এলাকাটি মনে হলো ঘন সবুজ নরম মাটিতে মাখানো বাংলার মাটি। বালিতে পা দিয়ে হাটতে গিয়ে মনে হয়েছে সবুজ দুর্বাঘাসের কার্পেটে ভর দিয়ে হাটছি, আর আমার জুতো ডেবে যাচ্ছে। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p>হাটতে হাটতে অদূরে মাথা উচু করে দাড়িয়ে থাকা কুতুব মিনারের চুড়োটার দিকে চোখে পড়তেই মনে হয়েছে, ওখানে ওঠে দাঁড়ালে কি ঢাকা দেখা যাবে? ওখান থেকে ডাক দিলে কি সানু, রিনকি, তন্বী শুনবে? হেলেন, রাব্বানী বা কিবরিয়া কি পাবে আমার গলার আওয়াজ? যদি তখনই হামিদকে দেখিয়ে দিতে পারতাম, ওর ডিজাইন করা হরফকে আমি কতো সুন্দর করে সাজিয়ে ফেলেছি? খুব কাছাকাছিই হযরত নিজামউদ্দিনের মাজার। একবার ভেবেছিলাম, বাবার মাজারের কথা স্মরণ করতে ওখানে যাবো? মার কথাও মনে পড়েছিলো। </p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>কিন্তু সেদিনের সেই আনন্দ ভাগ করার কেউ ছিলোনা দিল্লীতে। তবে আমার মনে দৃঢ় বিশ্বাস ছিলো, আমার স্বপ্নের এই বিজয় অবশ্যই বিশ্ব জয় করবে। ৩৩ বছর পর পরিমাপ করতে পারছিনা সেই স্বপ্ন কতোটা সফল হলো। তবে এটুকু বুঝি বিজয় আমাকে বিশ্বজুড়ে বসবাসকারী বাঙালীদের মাঝে পরিচিত করেছে। এটিই এই জীবনের বড় পাওনা। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><a href="https://www.facebook.com/photo/?fbid=25166454946278686&amp;set=a.105369319480595&amp;__cft__[0]=AZUKrCGcZPkoUS1bMTC-9XyH2WT9CCagzlh4bAF-t_MH0MM-NqoI73-ORMC5kZtNpv81MrtVPYgCYC6pM5Jd-Gl_19PpqKqZ4mqAfINiAR_M839lmXHPi_O9Likw2-ZxWD9S54JL0CtdKameZOkl8wb_aU0KAsz3XSZh0jy5sXQgNVXILCHh13ASKBvzJMu8WDY&amp;__tn__=EH-R"></a></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:image {"linkDestination":"custom"} -->
<figure class="wp-block-image"><a href="https://www.facebook.com/photo/?fbid=25166454946278686&amp;set=a.105369319480595&amp;__cft__[0]=AZUKrCGcZPkoUS1bMTC-9XyH2WT9CCagzlh4bAF-t_MH0MM-NqoI73-ORMC5kZtNpv81MrtVPYgCYC6pM5Jd-Gl_19PpqKqZ4mqAfINiAR_M839lmXHPi_O9Likw2-ZxWD9S54JL0CtdKameZOkl8wb_aU0KAsz3XSZh0jy5sXQgNVXILCHh13ASKBvzJMu8WDY&amp;__tn__=EH-R"><img src="https://scontent.fdac13-1.fna.fbcdn.net/v/t39.30808-6/409208643_25166452679612246_189161550503860613_n.jpg?_nc_cat=111&amp;ccb=1-7&amp;_nc_sid=3635dc&amp;_nc_eui2=AeGBQO9PO8wOtwH2JqZqDvVEp_kwg-Igr26n-TCD4iCvbop-YPvfDEXwHUdXxXJFa02Arah-V5AhqEFAYOzrlzwM&amp;_nc_ohc=ewT130YQfUQAX_w8RSu&amp;_nc_ht=scontent.fdac13-1.fna&amp;oh=00_AfBp4soBmLv6dbD58jVFcEK0SfNMif99LnTOFMHYgNWpsg&amp;oe=65822A33" alt="May be an image of text that says 'শুভ জন্মদিন ১৯৮৮ সালের ১৬ই ডিসেম্বর জ্জিয় বাংলা কীবোর্ড ও সফটওয়্যারের জন্ম হয়। ব্িয় বাংলা কীবোর্ড ও সফট ওয়্যারের জন্মদিনের শুভেচ্ছা।'"/></a></figure>
<!-- /wp:image -->

<!-- wp:image -->
<figure class="wp-block-image"><img src="" alt=""/></figure>
<!-- /wp:image -->

<!-- wp:image -->
<figure class="wp-block-image"><img src="" alt=""/></figure>
<!-- /wp:image -->

<!-- wp:image -->
<figure class="wp-block-image"><img src="" alt=""/></figure>
<!-- /wp:image -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>তিনি বাংলাদেশের ডিএনএ</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%8F%E0%A6%A8%E0%A6%8F</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%8F%E0%A6%A8%E0%A6%8F</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 24 Nov 2023 00:44:03 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:code -->
<pre class="wp-block-code"><code><strong>ড. মনযুরুল হক</strong></code></pre>
<!-- /wp:code -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রাহমান। তার একটি ডাকে একত্র হয়েছিলো সাড়ে সাত কোটি বাংলাদেশী। স্বাধীনতার আকঙক্ষায় ঝাপিয়ে পড়েছিলো পুরো জাতি। বঙ্গবন্ধু কেবল একটি নাম নন; তিনি নিজেই ক্রিয়া।&nbsp; তিনি হলেন বাংলাদেশের ডিএনএ এবং ডিএনএর মতোই তাঁর মানসিকতা নির্দেশ দেয়- বাংলাদেশের বিকাশ, বেঁচে থাকা এবং সকলের জন্য ন্যায়, মানবতা এবং ন্যায়বিচারের মাধ্যমে কী প্রয়োজন তা পূরণ করার শক্তি। স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছর পর বাংলাদেশের দিকে তাকালে দেখা যাবে, কিভাবে বাংলাদেশ দারিদ্র্য দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। কোনো কোনো হিসেব অনুযায়ী, ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত হবে; অর্থাৎ এখন থেকে মাত্র বিশ বছর পর।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আর এটা সম্ভব হয়েছে তার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বে; বঙ্গবন্ধুর ভিশন ও নীতি নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা, জঙ্গিবাদ নির্মূল, অসংগঠিত অবস্থান এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, দারিদ্র্য দূরীকরণে তাঁর দৃঢ় পদক্ষেপ বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে। এখন দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ব্যবস্থাপনাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে রোল মডেল হিসেবে উল্লেখ করা হয়। আমার হিসেব অনুাসারে আগামী ১২ বছরে ৬ শতাংশ নিয়মিত প্রবৃদ্ধি হাৱে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে উন্নীত হবে বাংলাদেশ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:preformatted -->
<pre class="wp-block-preformatted">বঙ্গবন্ধু লিখেছেন “একজন মানুষ হিসাবে, মানবজাতির যে কোনো উদ্বেগের বিষয় আমাকে উদ্বিগ্ন করে। একজন বাঙালী হিসেবে, আমি বাঙালিদের উদ্বেগজনক সমস্ত কিছুর সাথে গভীরভাবে জড়িত। এই চিরস্থায়ী সম্পৃক্ততা, ভালবাসা থেকে উৎসারিত এবং লালিত স্থায়ী ভালবাসা, যা আমার রাজনীতি এবং আমার অস্তিত্বকে অর্থবহ করে।” উদ্ধৃত এই অংশটুকুতে ফুটে ওঠে বঙ্গবন্ধুর মানসিকতা যা প্রস্ফুটিত হয়েছে তাঁর দেশপ্রেমের উৎস থেকে। বৈশ্বিক পরিমন্ডলে তাঁর পররাষ্ট্রনীতির দৃষ্টিভঙ্গি বন্ধুতভা। তাই বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি-“সবার প্রতি বন্ধুত্ব এবং কারও প্রতি বিদ্বেষ নয়”। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটের আইকনিক তথা অপরিমেয় অতিথিপরায়ণ ও প্রতিক্রিয়া, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা বাহিনীতে বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর ভূমিকা, তৈরি পোশাক খাতে শিল্প ও পরিবেশগত কমপ্লায়েন্সে বাংলাদেশের সাফল্যের ইতিহাস, ডিজিটাল ডিসরাপশন এই ফ্রন্টের ধারাবাহিকতার কিছু উল্লেখযোগ্য দিক। ডিজিটাল রূপান্তর, পারমাণবিক শক্তি এবং মহাকাশ প্রযুক্তির যুগে একটি আলোকবর্তিকা যা অনুপ্রেরণাদায়ক ও উৎসাহবর্ধক এবং বাংলাদেশকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং তা অব্যাহত থাকবে।</pre>
<!-- /wp:preformatted -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>যতদিন ধরণীতের ভালবাসা আছে; ভালবাসা থাকবে ততদিন বঙ্গবন্ধুর চিন্তা শুধু মাতৃভূমিতে নয়, বিশ্বে অব্যাহত থাকবে। নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেন লিখেছেন, “ধর্মের রাজনৈতিক ব্যবহার না করার বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর শক্তিশালী ডায়গনিস্টিক মানদণ্ড আজ খুব ব্যাপকভাবে প্রাসঙ্গিক। যেহেতু এটি বিশ্বের জন্য গুরুত্বপূর্ণ - শুধু বাংলার জন্য নয়, তাই বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববন্ধু হিসাবেও দেখা যেতে পারে।”</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বঙ্গবন্ধু এমন এক কিংবদন্তির নাম যিনি স্বপ্ন দেখেছিলেন একটি বুভুক্ত ও দারিদ্রমুক্ত সমৃদ্ধ দেশের। তার কর্মগুলো পৃথিবীকে চিরতরে বদলে দিয়েছে। এবার তাঁৱ বড় মেয়ে বিশ্ববন্ধুর বন্ধুতভা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়ার পালা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আজকের প্রত্যাশিত বিজয়, বঙ্গবন্ধু ও বিশ্ববন্ধুর আদর্শকে বিশেষ করে আমাদের তরুণ প্রজন্মের মানসিকতা জাগরিত করবে, তাদেরকে মানবিক মূল্যবোধ &nbsp;শিখতে এবং নিজস্ব জাতি ও বিশ্বের প্রতি ভালোবাসা জানাতে অনুপ্রাণিত করবে। এটি তাদের বঙ্গবন্ধুর জীবন ও সংগ্রাম থেকে মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য ও চেতনা গ্রহণের সুযোগও দেবে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্তমান বিশ্ব অভূতপূর্ব উন্নতি করছে। বঙ্গবন্ধু এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা চেয়েছিলেন, যার মাধ্যমে দেশের তরুণ-তরুণীরা শুরু থেকেই সঠিক ও প্রাসঙ্গিকভাবে শিক্ষিত হয়ে প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে দক্ষ হয়ে উঠতে পারে। তাই বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ২৬শে জুলাই ডক্টর কুদরত-ই-খুদার নেতৃত্বে একটি স্বাধীন আধুনিক শিক্ষা কমিশন গঠন করেন। হায়েক আধুনিক সময়ের সবচেয়ে বড় মুক্ত বাজারের প্রবক্তা যথার্থই বলেছেন, “আর্থিক বাজার হল একটি স্থিতিশীল সামাজিক শৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য একমাত্র বৈধ, নির্ভরযোগ্যভাবে কল্যাণ-বর্ধক ভিত্তি।” সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ফিনটেক নতুন উচ্চতায় উঠে এসেছে স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে। ফিনটেক ইকোসিস্টেম প্রত্যাশিত বৃদ্ধি এবং টেকসই উন্নয়ন আনবে। ফিনটেক ও এআই ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী জিডিপি ২০ ট্রিলিয়ন ডলাৱ বাড়াতে পারে৷</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>নিরাপত্তা, কানেক্টিভিটি এবং অংশীদারিত্বের মাধ্যমে সমৃদ্ধির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক শক্তির মধ্যে অন্যতম হিসেবে ইন্দো প্যাসিফিক করিডোর এবং ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে (IOR) বাংলাদেশের বর্ধিত ভূমিকার কারণে বিশ্ববন্ধুর বন্ধুতভা উল্লেখযোগ্যভাবে প্রাসঙ্গিক। গত ২৪ এপ্রিল ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে একটি টাউন হল বৈঠকে, রাষ্ট্রদূত পিটার হাস বাংলাদেশে চারটি পরাশক্তির সম্পৃক্ততা রক্ষায় দক্ষতা প্রদর্শনের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেছেন। এটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও বিচক্ষণতার এক দৃষ্টান্তমূলক প্রমাণ! বর্তমান রাজনৈতিক দাবা খেলায় যখন ভিসা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, আমাদের বুঝতে হবে সেখানে ভারতকে একটি বার্তা দেওয়া হয়েছিল যাতে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলিতে প্রভাব বলয় গঠন করা যায় এবং গ্রুপ থেকে শ্রীলঙ্কা ও নেপালকে হারানোর জন্য সংশোধন করা হয়।<a href="#_ftn1" id="_ftnref1">[1]</a> বাংলাদেশ এখন ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয়েরই স্বাভাবিক অংশীদার। প্রভাবের একটি নতুন বলয় অর্জনের জন্য আমাদের তাদের সাথে কাজ করতে হবে। যখন এই দাবা খেলার ধ্রুম্রজালটি সরে যাবে তখন স্পষ্ট হবে কল্পিত হাতির কোনো নেতিবাচক পদক্ষেপ ছাড়াই এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জিতবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>পিতা শেখ মুজিব ও অমর বঙ্গবন্ধুকে ও বিশ্ববন্ধুকে সম্বোধন করে আমি আমার লেখা শেষ করতে চাই। এক্ষেত্রে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের কয়টি পঙক্তি উল্লেখ করে বাংলাদেশের স্থপতি এবং অদম্য ত্রাণকর্তার প্রতি আমার গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করতে চাই।&nbsp;</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><br>তুমি সর্ব কর্ম চিন্তা আনন্দের নেতা–<br>নিজ হস্তে নির্দয় আঘাত করি, পিতঃ,<br>[…] সেই স্বর্গে করো জাগরিত।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>Where the mind is led forward by thee</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>Into ever-widening thought, action, and joy.&nbsp;</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>My Father, wake my country into that heaven of freedom.</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>জয় বঙ্গবন্ধু, জয় বিশ্ববন্ধু, জয় বাংলা।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক :</strong> <em>অধ্যাপক, সেইন্ড যেভিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়, সিকাগো</em></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:separator -->
<hr class="wp-block-separator has-alpha-channel-opacity"/>
<!-- /wp:separator -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><a href="#_ftnref1" id="_ftn1">[1]</a> আমি জুন থেকে এই দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা করছি এবং 2023 সালের আগস্টের শুরুতে গ্রুপ অফ অ্যাকাডেমিকস এবং টুইটার নেটওয়ার্কে লিখেছি। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ওয়াশিংটন সফর এবং ভিসা বিধিনিষেধের পরপরই আন্ডার সেক্রেটারি উজরা জেয়ার বাংলাদেশ ও ভারত সফর এবং এক্স-এ মাইকেল কুগেলম্যানের প্রতিক্রিয়া আমার দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করেছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:preformatted -->
<pre class="wp-block-preformatted"><mark><strong>দ্রষ্টব্য</strong>: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়েই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেই সংক্ষুবদ্ধ বা উদ্বেলিত হলে তা তার একান্ত বিষয়। 
</mark></pre>
<!-- /wp:preformatted -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>স্মার্ট লজিস্টিকস ও স্মার্ট বাংলাদেশ</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F+%E0%A6%B2%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%B8+%E0%A6%93+%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F+%E0%A6%B2%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%B8+%E0%A6%93+%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9F+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 16 Nov 2023 23:33:16 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:quote {"backgroundColor":"cyan-bluish-gray","className":"is-style-plain"} -->
<blockquote class="wp-block-quote is-style-plain has-cyan-bluish-gray-background-color has-background"><!-- wp:paragraph {"align":"center"} -->
<p class="has-text-align-center"><strong>জাহাঙ্গীর আলম শোভন</strong></p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশের লজিস্টিকস ও সাপ্লাই চেইন মূলত প্রচলিত ব্যবস্থার উপর গড়ে উঠেছে। আমাদের ঐতিহ্যবাহী নদী ও নৌচলাচল ছিল এদেশের রসদ ব্যবস্থার প্রাণ তথা মূল শেকল। তারসাথে যুক্ত ছিল স্থানীয় পরিবহন নৌকা ও গরুর গাড়ি পরবর্তীতে আধুনিক পরিবহন। সাথে শ্রমজীবি মানুষদের সেবাও রয়েছে। দূর-দূরান্তে ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক পণ্য মানুষের মাধ্যমে বহনের ব্যবহার এখনো উঠে যায়নি। বিশেষ করে আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে মানবচালিত রিকশাবাহন দ্বারা পরিশীলিত হয়েছে। রিকসা সাইকেল এসব পরিবহন এখনো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রধান বাহন। ডিজিটাল সেবা উন্নতির পরও বিশ্বব্যাপী বাইকের পাশাপাশি বাই সাইকেলও টিকে রয়েছে ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>লজিস্টিকস বা রসদ সরবরাহ যেমন আমাদের জীবন যাত্রার অংশ তেমনি এটা বিশাল এক ব্যবসা খাত যাকে আমরা ইন্ডাস্ট্রি বলতে পছন্দ করছি। এই শিল্প দিন দিন সকল অর্থেই বিস্তৃত ও বিকশিত হয়ে চলেছে। লজিস্টিকস এর উপখাতগুলোকে সাধারণ মানুষ আসলে সেবা হিসেবে পাই। প্রোডাক্টস বা পণ্য হিসেবে ভোক্তার দিক থেকে চাহিদা হলো সেরা সেবাটি সহজে এবং যৌক্তিক দামে ভোগ করার সুযোগ পাওয়া।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>যিনি সেবা প্রদান করেন তিনি যখন সেবার মান উন্নয়ন করার জন্য এবং সেবাকে নজরদারীর মধ্যে রাখতে চান তখনি তার কয়েকটি বিষয় প্রয়োজন হয়। প্রথমত একটি পরিকল্পনা, দ্বিতীয়ত চাহিদা পূরণ ও সমস্যা সমাধানের উপায় হিসেবে তৈরী করা, তৃতীয়ত: সেবার উন্নয়নের জন্য উপাদান, হাতিয়ার ও প্রযুক্তির ব্যবহার করা, এবং চতুর্থত: পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করার জন্য দক্ষ বা উপযুক্ত জনকাঠামো গড়ে তোলা।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ঠিক এই কাজটি করতে গিয়ে আসে নানা প্রযুক্তির ব্যবহার ও তার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান, সেবার উন্নয়ন কিংবা সার্বিকভাবে বৈশ্বিক মানের সাথে নিজেদের এক কাতারে দাড় করানো। তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের যে স্রোত তা আমরা ধরতে পারিনি একদিকে আমাদের প্রস্তুতি ও দূরদর্শিতা ছিলনা অন্যদিকে যুদ্ধ বিধস্থ দেশ হিসেবে তখন টিকে থাকাটাই চ্যালেঞ্জ ছিল।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এখন আমরা প্রস্তুত রয়েছি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ডাকে সাড়া দিতে। এজন্য আমাদের লজিস্টিক খাতে আধুনিক মেশিনারী ব্যবহার নিশ্চিত করে তা দিয়ে পণ্য সেবার মান উন্নত করতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে আধুনিক পরিবহন থেকে শুরু করে প্যাকেজিং পর্যন্ত এবং তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে ভোক্তার আরো নিকটে আরো সহজে আরো দ্রতসময়ে আরো কম খরচে সেবাকে পৌঁছে দিতে পারা। এটাই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের মূল কাজ। এর সাথে আধুনিক ফোরআইআর প্রযুক্তির ব্যবহার দ্বারা পুরো সেবাকে টেকসই ও বিশ্বমানের করে তোলা। রোবোটিক্স, বিগডেটা, আওটি, অগমেন্টেড রিয়েলিটি, কৃত্রিম ‍বুদ্ধিমত্তা, ব্লক চেইন এসবের ব্যবহার নিশ্চিত করা। সেবার মান যেমন আন্তরিকতা ও দক্ষতা দিয়ে বাড়াতে হয় তেমনি প্রযুক্তি দিয়ে বাড়াতে হয়। কারণ প্রযুক্তির সমন্বয় না করলে গ্লোবাল লজিস্টিক এর সাথে সমন্বয় করে সেবা নিশ্চিত সম্ভব হবে না।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>কোনো ধরনের লজিস্টিক পলিসি ছাড়াই মূলত শিল্পনীতির কিছু নির্দেশনা ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ঠ আইন ও বিধি অনুসারে এই খাতের সেবা বিকশিত হয়ে আসছিল। কোনো নীতিমালা না থাকা কোনো ঘাটতি নির্দেশ করে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে এটা এক ধরনের সক্ষমতা নির্দেশ করে বিশেষ করে যদি নির্দিষ্ঠ নীতিমালা ব্যতিত সংশ্লিষ্ঠ বিধি দ্বারা খাতের বিকাশ হয়। তাছাড়া দেশে প্রচলিত অনেক আইন ও বিধি রয়েছে যেগুলো বিভিন্নক্ষেত্রে প্রয়োগযোগ্য। তবে সময়োপোযোগী কিছু করনীয় ঠিক করা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য নীতিমালা বা পলিসির প্রয়োজন আছে বৈকি? যেহেতু নানা পলিসি ও বিধি থাকা সত্বেও এলডিসি গ্রাজুয়েশন, এসডিজি লোকালাইজেশন ও ফোর আইআর এর কথা মাথায় রেখে নতুন রসদ নীতিমালা বা লজিস্টিক পলিসি তৈরী হচ্ছে। তার নাম হওয়া প্রয়োজন স্মার্ট লজিস্টিক পলিসি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>সরকার জাতীয় রসদ নীতিমালা বা লজিস্টিক পলিসির কাজে হাত দিয়েছে। একদিকে এটা জিরোড্রাপ্ট দিয়ে শুরু করতে হচ্ছে অন্যদিকে সরকারী বেসরকারী শতাধিক অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে এই নীতি তৈরীর কাজ চলছে। সকল খাতকে সমন্বয়ের সুবিধার্থে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কাজটিকে নেতৃত্ব দিচ্ছে। প্রথম এবং দ্বিতীয় কাজটি করা হয়ে গিয়েছে। লজিস্টিক বা রসদ খাতের ২১টি উপখাত চিহ্নিত করা হয়েছে। উপখাতের উপখাতগুলো অংশীজনদের পরামর্শের মধ্যে অন্তভূক্ত হবে এছাড়া সম্পৃক্ত এজেন্সি ও ব্যবসাখাতকেও সম্পৃক্ত করা হয়েছে। এখন কাজ হলো নীতি ও করনীয় (পলিসি এন্ড একশন প্লান) চূড়ান্ত করা। এর মধ্যে কোনো ধরনের ঘাটতি বা মিসিং লিংক যেন না হয় সেটা খেয়াল করা। এই নীতি-পলিসি যেভাবে তৈরী হোক সেটা পরে সংশোধনযোগ্য বটে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>কিন্তু মূল চ্যালেঞ্জ হলো ভারসাম্যপূর্ণভাবে তা বাস্তবায়ন করা। আমাদের দেশে এখনো ভারসাম্য রেখে কোনো পলিসি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। কারণ সরকারী দপ্তরগুলোর দক্ষতা, মানসিকতা, নেতৃত্ব ও চর্চা একরকম নয়। স্বাস্থ্যখাতে ব্যাপক বরাদ্ধ সত্বেও কোনো উন্নতি পরিলক্ষিত হয়নি। অথচ আমাদের সরকারের মেগাপ্রকল্পে যে বাজেট ব্যয় হয় স্বাস্থ্য খাতের ব্যয় তারচেয়ে কম নয়। এখানে শুধু প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও দূর্নীতিমূক্ত রাখা। শিক্ষার ব্যাপারে একই কথা খাটে। এখানে যদিও পরিবর্তনের একটি রেখাপাত শুরু হয়েছে। আদালতে ১৬ লক্ষ মামলার জট লেগে আছে দেশ ডিজিটাল হয়ে গেছে অথচ আমরা এই জট থেকে বের হতে পারিনি। তাই ডিজিটাল প্রযুক্তি তার সর্বত্র সমান্তরাল ব্যবহার, বৈষম্যহীন উপকারভোগিতা ও সময়ের সাথে প্রযুক্তির সমন্বয় সম্ভব স্মার্ট লজিস্টিক পলিসি এর মাধ্যমে। এজন্য আমার প্রথম প্রস্তাব হবে এই পলিসি শুধু লজিস্টিক পলিসি না করে স্মার্ট লজিস্টিক পলিসি হিসেবে তৈরী করা। তাই চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের কাফেলায় যোগ দিতে হলে স্মার্ট লজিস্টিক নীতিমালা দরকার।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>সরকারী প্রতিষ্ঠানের গতির ভারসাম্যহীনতার একটা উদাহরণ হলো স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তথা ট্রেড লাইসেন্স আইন। এই আইনটি ২০১৬ সালে নতুন করে প্রণয়ণ করা হলেও তখনকার সময়ে দেশে প্রচলিত নতুন ও আওটি ভিত্তিক অসংখ্য ব্যবসা এর মধ্যে অন্তভূন্ত হয়নি। ২০১৬ থেকে ২০২০ পর্যন্ত চার বছরে প্রাইভেট সেক্টর থেকে নতুন ধরনের প্রায় ৩শটি ব্যবসা ট্রেড লাইসেন্স ক্যাটাগরিতে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে কিন্তু বাস্তবাতা হলেও দফায় দফায় চিঠিও সভা করে আইনটিকে সংশোধনের জন্য তৈরী করা যায়নি। শুধু নতুন শাখা নয় এখানে নারী উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা দরকার, আবাসিক উদ্যোক্তাদের জন্য শর্ত শিথিল করা দরকার। সেটা না করে উল্টো ১০% জরিমানা ধার্য করা হয়েছে। একটি মাত্র নতুনত্ব সার্কুলার হয়েছে যা ইতিবাচক তা হলো ৫ বছরের জন্য একসাথে লাইসেন্স নবায়ন করা যায়। কিন্তু আরো প্রয়োজনীয় চাওয়াগুলো আসেনি। ই-কমার্স এর মতো জনপ্রিয় ব্যবসা ট্রেড লাইসেন্স আইনে নেই। এ খাতের উদ্যোক্তারা তাদের ট্রেড লাইসেন্স এ অন্য কিছু লিখে ব্যবসার বৈধতা নিয়ে থাকেন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>&nbsp;ই-কমার্সের মাধ্যমে ব্যক্তি পর্যায়ে আন্তজাতিক ক্রয় বিক্রয়ে নানারকম প্রতিবন্ধকতা বিদ্যমান। আমাদের দেশের বাইরে থাকা যে পরিমাণ প্রবাসী অনেক দেশের নাগরিক সংখ্যাও তার সমান নয়। এছাড়া আমাদের ক্ষুদ্র শিল্প থেকে শুরু করে এমন অনেক কিছুই রয়েছে যা আমরা বৈশ্বিক ক্রেতার উপযোগী করে সেবা দিতে পারি। এখানেও নানাবিধ সংকট আছে। একক একটি পণ্য রপ্তানী কিংবা আমদানীর জন্য এক জাহাজ ভর্তি পণ্যের নিয়ম অনুসরণ করা যুক্তিযুক্ত নয়। আমাদের পণ্যের দাম যদি হয় ২ হাজার টাকা আর তা প্রেরণের খরচ ৩ হাজার টাকা। হয়তো একজন ক্রেতার ৫ হাজার টাকা দিয়ে দেশের বাইরে থেকে দেশের একটা পণ্য কেনার সামর্থ্য আছে। কিন্তু ২ হাজার টাকা পণ্যে ৩ হাজার টাকা শিপিং বা কুরিয়ার চার্জ ক্রেতাকে পণ্যটি ক্রয় করতে নিরুৎসাহিত হয়।তার মনে হয় তিনি একটা পণ্য প্রায় দ্বিগুনের বেশী দাম দিয়ে কিনছেন। তখনি তার পণ্যটি কেনার চিন্তা উবে যায়। তার উপর রয়েছে পেমেন্ট সমস্যা।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশের বাইরে থাকা একজন ক্রেতার দুনিয়ার অন্য কোথা থেকে অনলাইনে পণ্য কিনতে যদি কার্ডের তথ্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য কিংবা পাসপোর্ট দেখাতে হয় তাহলে কেন তিনি বাংলাদেশী ই-কমার্স ওয়েবসাইট থেকে পণ্য কিনবেন বা অর্ডার করবেন। তারউপর এখান থেকে পণ্য কিনলে তিনি সে পণ্য পছন্দ না হলে ফেরত পাঠাতে পারবেন না আবার তার পেমেন্টও ফেরত নিতে পারবেন না অথবা এসব করার জন্য তাকে জটিল প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।একটি ব্যবসায়িক লেনদেন এর জন্য যদি সাধারণ কাজে এমন সমস্যা থাকে ক্রেতা হিসেবে তার পছন্দের তালিকায় বাংলাদেশ থাকবেনা। তাই লজিস্টিক পলিসিতে এখনি বিষয়গুলো অন্তভূক্ত করে একে জরুরী একশন প্লান এর মধ্যে এনে সমাধান করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে একই রেখায় থাকা দুটি চাকার মধ্যে একটি চাকা ছোট হলে যেমন সে গাড়ি ঘুরে ঘুরে আগের জায়গায় ফিরে আসে। তেমনি আমাদের একটি দপ্তর এগিয়ে যাবে আর অন্য দপ্তর শম্ভুক গতি নিয়ে কাজ করবে তাহলে স্মার্ট বাংলাদেশের বাস্তবায়ন আংশিক বা খন্ডিত আকারে হবে এবং সেখান থেকে জনগণ বেশী সুফল হবেনা। এসব বিষয় মাথায় রেখেই আমাদের পলিসি তৈরী করা সময়ের দাবী।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক</strong>:  <em>নির্বাহী পরিচালক, </em>ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। <em>সাধারণ সম্পাদক</em>, বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:group {"layout":{"type":"constrained"}} -->
<div class="wp-block-group"><!-- wp:verse -->
<pre class="wp-block-verse"><mark style="background-color:rgba(0, 0, 0, 0)" class="has-inline-color has-cyan-bluish-gray-color"><strong>দ্রষ্টব্য</strong>: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়েই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেই সংক্ষুবদ্ধ বা উদ্বেলিত হলে তা তার একান্ত বিষয়। 
</mark>
  </pre>
<!-- /wp:verse --></div>
<!-- /wp:group -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>এটুআই আইনে আইটি খাতের ‘অপূর্ণ’ প্রত্যাশা</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%8F%E0%A6%9F%E0%A7%81%E0%A6%86%E0%A6%87+%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87+%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%9F%E0%A6%BF+%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E2%80%98%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A3%E2%80%99+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BE</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%8F%E0%A6%9F%E0%A7%81%E0%A6%86%E0%A6%87+%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%87+%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%9F%E0%A6%BF+%E0%A6%96%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E2%80%98%E0%A6%85%E0%A6%AA%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A3%E2%80%99+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A6%BE</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 07 Nov 2023 01:08:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:buttons {"layout":{"type":"flex","justifyContent":"center"}} -->
<div class="wp-block-buttons"><!-- wp:button -->
<div class="wp-block-button"><a class="wp-block-button__link wp-element-button">জাহাঙ্গীর আলম শোভন</a></div>
<!-- /wp:button --></div>
<!-- /wp:buttons -->

<!-- wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>গ</strong>ত ৫ জুলাই ‘এজেন্সি টু ইনোভেট (এটুআই) বিল-২০২৩’ সংসদে উত্থাপন করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্‌মেদ পলক এমপি এবং বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে এই প্রথমত এই আইন নিয়ে আইসিটি খাতের নেতাদের আপত্তি এবং পরে কিছু ধারায় তাদের মতামত দিয়ে সংশোধনীর প্রস্তাব দিয়েছিলেন ৫টি আইসিটি ট্রেড এসোসিয়েশন এর নেতারা। তারা আইনের খসড়া পর্যায়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী এবং আইসিটি প্রতিমন্ত্রীকে মৌখিক ও লিখিতভাবে জানিয়েছেন।  আইনের যেসব জায়গায় খাত সংশ্লিষ্টদের আপত্তি রয়েছে তা তারা উদ্বেগের সহিত জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী এই বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। এতে ডিজিটাল খাতের ব্যবসায়ীরা আশ্বস্ত হয়েছিলেন বটে।  </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>কিন্তু বাস্তবে দেখা দেল ভিন্নচিত্র, আইনটি যখন পাস হয়। তখন দেখা যায় ব্যবসায়ীদের মূল আপত্তির বিষয়সহ কয়েকটি জায়গায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। যা আগে প্রস্তাব করা হয়েছিল তাতেই আইনটি সংসদে পাস করা হয়। সরকারের উচ্চ পদস্থদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা এবং তাদের আশ্বাস সত্বেও উদ্যোক্তাদের দাবী দাওয়ার কোনো প্রতিফলন না ঘটায় তারা বেশ হতাশ হয়েছেন। তাদের হতাশার কথা তারা সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে সকলকে জানিয়েছেন। তারা এখনো আশা করেন সরকার এটি সংশোধন করবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p>বাস্তবতার উপলব্ধিতে এমন আশার গুড়ে বালি পড়ার আশংকাই বেশী। প্রথমত তাদের প্রবল আপত্তি সত্বেও বিলটি সরকারের সংশ্লিষ্ঠ ব্যক্তিরা যেভাবে প্রস্তাব করেছেন সেভাবেই পাশ হয়েছে। দ্বিতীয়ত, জাতীয় নির্বাচনের এই স্বল্পকাল বাকী থাকা সময়ে সরকার আরো অনেক ইস্যু নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়বে। সহসা এর কোনো সুরাহা হবে না।</p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বিশেষ করে- এটুআই আইনের ১৬ ধারায় বলা আছে, সংস্থা হিসেবে সেবা বা পরামর্শ দেওয়ার বিনিময়ে ফি নিতে পারবে এটুআই। এ ছাড়া ২১ ধারায় আছে সংস্থা হিসেবে এটুআই প্রয়োজনে কোম্পানি গঠন করতে পারবে। এরকম  কয়েকটি বিষয়ে আইসিটি খাতের উদ্যোক্তাদের আপত্তি থাকলেও এই দুটি বিষয়ে ছিল জোরালো দ্বি-মত।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>প্রথমত, বেসরকারী খাত যে কাজটি করে থাকে সে একই কাজ সরকারী কোনো এজেন্সি করুক এটা তারা চাননা দ্বিতীয়ত তাদের মতে, &nbsp;আরো একটি প্রতিষ্ঠান খুলে সরকার সমজাতীয় কাজ বা ব্যবসা করে তাদের প্রতিযোগী হোক এটাও তাদের চাওয়া নয়। এই বিষয়টি বোঝাতে ৫টি আইসিটি এসোসিয়েশন এর নেতারা যৌথ চিঠি দিয়েছেন এবং বিষয়টি মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন।&nbsp;</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>সহজ কথায় তারা আশঙ্কা করছেন এই প্রতিষ্ঠানটি কোম্পানী আকারে প্রতিষ্ঠিত হলে তারা অসম প্রতিযোগিতায় পড়বেন। সংস্থাটি তাদের ব্যবসায় ভাগ বসাবে। আরো সহজ করে বললে বেসরকারী খাতের উদ্যোক্তারা আইসিটিতে সরকারের যেসব কাজ করেন সেগুলো থেকে তারা বঞ্চিত হবেন অনেকাংশেই। কারণ বাংলাদেশে আইসিটি ইন্ডাস্ট্রিতে সরকারী কাজ করার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশবিশেষের নির্ভরশীলতাও তৈরী হয়েছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বাস্তবতা ভিন্ন হতে পারে তবে আশংকা অমূলক নয়। যদিও সরকারের সংশ্লিষ্ঠ কর্তাব্যক্তিরা ব্যবসায়ীদর আশংকার সাথে একমত নন। তারা মনে করেন এটুআই কোম্পানী হলে বা নিজেরা কোম্পানী গঠন করলেও আইসিটি খাতের সিংহভাগ কাজ বেসরকারী খাত থেকে সহযোগিতার আদলে করার সুযোগ রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্নক্ষেত্রে সরকারী কোম্পানী প্রতিষ্ঠার নজির রয়েছে। কিন্তু তাতে করে সেসব খাতে বেসরকারী খাতের ব্যবসায়িক স্বার্থহানি ঘটেনি। শুধুমাত্র ব্যাংক ব্যবস্থার দিকে তাকালেও এমনটা সহজে অনুধাবন করা যায়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>যে পাঁচটি সংগঠন ধারাগুলো নিয়ে আপত্তি জানাচ্ছে, সেগুলো হচ্ছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস),ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ই-ক্যাব) , ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (আইএসপিএবি), বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কনট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো),এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আইনের অধ্যায় ৫ এ বলা হয়েছে-  ‘‘এজন্সেরি ক্ষমতা ও র্কাযাবলি। ১) এই আইনরে উদ্দশ্যেপূরণকল্প, এজন্সেরি ক্ষমতা ও র্কাযাবলি হইবে নিন্মরূপ, ….ঘ) প্রযুক্তভিত্তিকি উদ্ভাবনী র্কমসূচী ও প্রকল্প গ্রহণ; ঙ) অংশীদারীত্ব প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সরকার, শিল্প, শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজরে বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশাসহ দেশি বিদেশি প্রতিষ্ঠানসমূহকে সেবা ও পরার্মশ প্রদান;।’’ এখানেও ব্যবসায়িক প্রতিযোগি হিসেবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়েছে। আর এটাই হয়েছে খাত সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগের কারণ।  </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>খাতসংশ্লিষ্টদের বক্তব্য হলো- দেশী বিদেশী সরকারি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানকে বেসরকারী খাত থেকে সেবা দেয়া হচ্ছে এবং দেয়া হবে। সরকার বা সরকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ ব্যবসা করা নয়; এমনকি যেসব বেসরকারী খাত উন্নত বা উন্নত হতে চলেছে তাদের ক্ষেত্রে সরকারী প্রতিষ্ঠান এসে ব্যবসা করা কোনো যৌক্তিকতা নেই। সরকার উদ্যোক্তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে না।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>অনুচ্ছেদ ১২ (১) তে বলা হয়েছে- (১) ‘‘এই আইনরে উদ্দশ্যে পূরণকল্পে নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব ও কার্যাবলি হইবে নিন্মরূপ, যথা:-(ক) প্রকল্প, র্কমসূচি ও পরকিল্পনা প্রণয়ন, গ্রহণ, মূল্যায়ন ও পরিবীক্ষণ; (ঘ) ব্যক্তি, ফার্ম কোম্পানি, সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহিত যৌথ উদ্যোগ বা অংশীদারি কারবারে অংশগহণ; এবং------।’’</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p> উপধারা (খ) বলা হয়েছে- ‘‘এজেন্সির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার, উহার বীমাকরণ ও বীমা পরচিালনা; (গ) এজেন্সির কল্যাণে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি বা উহার কোনো অংশ ইজারা বা ভাড়া প্রদানের অনুমোদন;। ’’ এই বিষয়ে আপত্তির কারণ হলো বেসরকারী খাতের উদ্যোক্তারা চেয়েছিলেন এই বিষয়ে এটুআই শুধুমাত্র গবেষণার মাঝে সীমাবদ্ধ থাকুক। যদিও এ ধরনের কার্যক্রম সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিতেও রয়েছে। এই বিষয়ে উদ্যোক্তারা তাদের মতামত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছিল। বিশেষ করে ১৮ জুন সংসদীয় কমিটির সভায় ব্যাখ্যাসহ মতামত তুলে ধরে আইসিটি খাতের বাণিজ্য সংগঠনগুলো।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বিলের ধারা ২১ মতে,  কোম্পানি গঠনরে ক্ষমতা। এই আইনের উদ্দেশ্য পুরণকল্পে এজেন্সি প্রয়োজন অনুযায়ী কোম্পানি গঠন করতে পারবে। আর এটাই মূলত বেসরকারী খাতের মূল আপত্তির জায়গা।  সরকারী কিছু ব্যত্তিগণ এই বিষয়ে এই ধারণা পোষণ করেন যে, যেহেতু এ ধরনের ব্যবস্থা আরো কিছু বিরলক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছে তাই এখানেও এটা করা যেতে পারে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ধারা ২২ এ ক্ষমতা র্অপণ বিষয়ে বলা হয়েছে ‘‘ পরচিালনা র্পষদ, প্রয়োজনে, ইহার কোনো ক্ষমতা, লিখিত আদশে দ্বারা ও নির্ধারিত র্শত সাপেক্ষে, প্রধান  নির্বাহী কর্মকর্তা, অন্য কোনো সদস্য, র্কমচারী বা কোনো কমিটিকে র্অপণ করিতে পারিবে। ‘’ এই ধারাটি নিয়েও অনেকে শংকিত। কারণ এখানে পরিচালনা পর্ষদের কতটুকু ক্ষমতা কোন পর্যায়ে অর্পণ করা যাবে তা বলা নেই। এমনকি কোন ধরনের ক্ষমতা তাও উল্লেখিত নেই। এই অবস্থায় কোনো নির্বাহী ক্ষমতা, আর্থিক ক্ষমতা কোনো কর্মচারীকে প্রদান করা হলে সেখানে কোনো অনিয়মের সুযোগ থাকবে কিনা এই প্রশ্নটি থেকে যায়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আইসিটি প্রতিমন্ত্রীর বরাতে সংবাদ মাধ্যম লিখেছে (প্রথম আলো) &nbsp;সংগঠনগুলোর আপত্তির জায়গা বাদ দেওয়ার সুপারিশ তাঁর নিজেরও ছিল। কিন্তু সংসদীয় কমিটি থেকে যেভাবে এসেছে, সেভাবেই বিলটি সংসদে পাঠানো হয়েছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>তবে প্রতিমন্ত্রী জানান, বিলের আপত্তির জায়গা নিয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সংগঠনগুলোর সঙ্গে ভুল–বোঝাবুঝি হচ্ছে। তিনি সংগঠনগুলোর সঙ্গে কথাও বলেছেন। এ ছাড়া তিনি বলেন, আইসিটি বিভাগের আরও সংস্থার অধীনে কোম্পানি আছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ডেটা সেন্টার কোম্পানি লিমিটেড ও স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের কথা উল্লেখ করে বলেন, এগুলো মন্ত্রিসভার অনুমোদন সাপেক্ষে হয়েছে। এটুআইও যদি কোম্পানি করতে চায়, তবে সেটিও মন্ত্রিসভার অনুমোদনে হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এখন দেখার বিষয় হলো সরকার কি ধরনের পদক্ষেপ নেয় এবং আইনটি অনুরুপভাবে বহাল থাকলে কার্যক্ষেত্রে আশঙ্কা কতটা সত্য হয়। এখনো পর্য্ন্ত আইনটি সংশোধন করে পাশ করার ব্যপারে যেমন কোনো আলামত পরিলক্ষিত হয়নি। তেমনি নতুন ক্ষমতা প্রাপ্তির ফলে এটুআই ব্যবসায়ীদের জন্য কোনো খারাপ উদাহরণ সৃষ্টি করবে তেমন ঘটনাও ঘটেনি। যদিও দুটো ক্ষেত্রেই বিষয়টি ক্রমশ ও সুদূর প্রসারী একটা ব্যাপার। তবে গণমাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে এটুআই দ্বারা ব্যবসা সংগঠনের কিছু কথাবার্তা ভেসে আসছে। তবে সময়ই বলতে পারবে এর সঠিক বাস্তবায়ন কিভাবে হয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক</strong>:  <em>নির্বাহী পরিচালক, </em>ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ। <em>সাধারণ সম্পাদক</em>, বাংলাদেশ ট্রাভেল রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:group {"layout":{"type":"constrained"}} -->
<div class="wp-block-group"><!-- wp:verse -->
<pre class="wp-block-verse"><mark style="background-color:rgba(0, 0, 0, 0)" class="has-inline-color has-cyan-bluish-gray-color"><strong>দ্রষ্টব্য</strong>: অভিমত-এ প্রকাশিত পুরো মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ডিজিটাল বাংলা মিডিয়া কর্তৃপক্ষের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হিসেবে নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়েই এই লেখা প্রকাশ করা হয়। এতে কেই সংক্ষুবদ্ধ বা উদ্বেলিত হলে তা তার একান্ত বিষয়। 
</mark>
  </pre>
<!-- /wp:verse --></div>
<!-- /wp:group -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>“যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে চুয়েট”</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E2%80%9C%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%8F%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87+%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87+%E0%A6%9A%E0%A7%81%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%9F%E2%80%9D</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E2%80%9C%E0%A6%AF%E0%A7%87%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%8F%E0%A6%97%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87+%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87+%E0%A6%9A%E0%A7%81%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%9F%E2%80%9D</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 01 Sep 2023 17:18:19 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:paragraph {"align":"center"} -->
<p class="has-text-align-center"><strong>মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম</strong><strong></strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রকৌশল শিক্ষা ও গবেষণার একমাত্র উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। ২০০৩ সালে স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করা চুয়েট আজ ১লা সেপ্টেম্বর তাঁর গৌরবময় পথচলার ২১তম বর্ষে পদার্পণ করেছে। মাত্র দুই দশকের পথচলায় চুয়েট আজকে দেশের প্রকৌশল শিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয়। যার প্রমাণস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্ববিখ্যাত কিউএস র‌্যাংকিংয়ে পরপর দুইবার পেয়েছে ঈর্ষনীয় সফলতা। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জন্য প্রকাশিত কিউএস র‌্যাংকিংয়ে এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৪০১-৪৫০ এর মধ্যে এবং দক্ষিণ এশিয়ার ৯২তম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্থান অর্জন করেছে। এছাড়া সারাদেশের মধ্যে শীর্ষ ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৫ম,&nbsp;প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২য় সেরা এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ৩য় সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে র‌্যাংকিংয়ে স্থান পেয়েছে চুয়েট।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার পাহাড়তলি ইউনিয়নের চট্টগ্রাম-কাপ্তাই মহাসড়কের পাশে উনসত্তরপাড়া মৌজায় অবস্থিত। চট্টগ্রাম শহরের উত্তর-পূর্বে বহদ্দারহাট বাস টার্মিনাল থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে এবং কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে প্রায় ২০ কিলোমটার দূরে এক মনোরম প্রাকৃতিক পাহাড়ি ভূমিতে প্রায় ১৭১ একর জায়গাজুড়ে চুয়েট ক্যাম্পাসের অবস্থান। মনোরম এই ক্যাম্পাসে একইসাথে পাহাড়,&nbsp;সমতলভূমি ও লেকের অপূর্ব সম্মিলন ঘটেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র ৫ কিলোমিটার আয়তনের মধ্যেই দেশের একমাত্র খরস্রোতা&nbsp;কর্ণফুলী নদী বহমান। আর ঘন্টাখানেকের দূরত্বে মাত্র ৩৩ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তম মনুষ্যসৃষ্ট স্বাদু পানির কাপ্তাই হ্রদ। কাপ্তাই হ্রদ ও কর্ণফুলীর তীরবর্তী সমভূমি/অঞ্চল হওয়ার সুবাদে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পুরোটাই আঁচড়ে পড়েছে এই ক্যাম্পাসে। ছোট্ট পরিসরেই এখানে মিলবে সবুজ প্রকৃতি,&nbsp;সারি-সারি গাছের সমারোহ,&nbsp;বাহারি ফুলের সমাহার,&nbsp;পাখিদের কিচির-মিচির কলতান,&nbsp;পাহাড়-সমতল মিশ্রিত প্রাকৃতিক লেইক,&nbsp;পাহাড়ি উঁচু-নিচু মেঠো পথ,&nbsp;বণ্য প্রাণীর অবাধ বিচরণ,&nbsp;প্রকৌশলবিদ্যার অনুকরণে দৃষ্টিনন্দন সব অবকাঠামো ও স্থাপনা। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার,&nbsp;স্বাধীনতা ভাস্কর্য,&nbsp;জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল,&nbsp;মুক্ত মঞ্চ,&nbsp;পাহাড়ি মেঠোপথে ঝুলন্ত সেতু ও ছোট-ছোট লেইকের সম্মিলন চুয়েট ক্যাম্পাসের নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যকে অনন্য মুগ্ধতা দিয়েছে। এ যেন ১৭১ একরজুড়ে পুরো ব-দ্বীপের বাংলাদেশেরই চিত্রায়ন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>মূলশহর থেকে বেশ দূরে গ্রামীণ জনপদে অবস্থান ও নানাবিধ সীমাবদ্ধতার সত্ত্বেও সীমিত বাজেটের মধ্যে চুয়েট উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় নানা সাফল্য অর্জন করে ইতোমধ্যে দেশে-বিদেশে সকলের প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রতিবছর নিয়মিতভাবে একাধিক আর্ন্তজাতিক কনফারেন্স-সেমিনার-সিম্পোজিয়াম আয়োজন,&nbsp;বিশ্বমানের ল্যাব ও যন্ত্রপাতি সংযোজন,&nbsp;রোবট গবেষণায় যুগান্তকারী উদ্ভাবন,&nbsp;কর্ণফুলী ও হালদা নদী সম্পর্কিত গবেষণা,&nbsp;বহুবিধ শিল্পসমস্যার সমাধান ও কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং বৃহত্তর চট্টগ্রামের ভূমিকম্প,&nbsp;পরিবহণ-যানজট,&nbsp;জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণ সমস্যা বিষয়ক জনগুরুত্বপূর্ণ গবেষণা,&nbsp;শক্তিশালী ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন,&nbsp;বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় ও যৌথ গবেষণা প্রকল্প গ্রহণ,&nbsp;বিভিন্ন খ্যাতনামা জার্নালে নিয়মিত গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ,&nbsp;বহিঃর্বিশ্বের বিভিন্ন খ্যাতনামা বিশ্ববদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে উচ্চশিক্ষা-গবেষণায় সমঝোতা চুক্তি গড়ে তোলা এবং সরকারের রূপকল্প অনুসরণে স্মার্ট বাংলাদেশ ও ভিশন ২০৪১ বাস্তবায়নের নিত্যনতুন কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ চুয়েটের উল্লেখযোগ্য সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাতীয় উন্নয়ন ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে পেশাদার প্রকৌশলীদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষা-গবেষণাকে জনকল্যাণে বিস্তৃত করতে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে চুয়েট। পাশাপাশি বিশ্ববাজারের চাহিদার সাথে সমন্বয় ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকার লক্ষ্যে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যথোপযুক্ত মানব সম্পদ তৈরিতে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে চুয়েট কাজ করে যাচ্ছে। প্রসঙ্গত,&nbsp;১৯৬৮ সালে&nbsp;“চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ”&nbsp;হিসেবে মাত্র ৩টি বিভাগ এবং ১২০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে পরবর্তীতে ১৯৬৮ সালে&nbsp;“বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি),&nbsp;চট্টগ্রাম”&nbsp;হিসেবে উন্নীত হয়। দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে ২০০৩ সালের ১লা সেপ্টেম্বর&nbsp;“চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়”&nbsp;নামে একটি স্বায়ত্তশাসিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি নবরূপে আত্মপ্রকাশ করে। বর্তমানে ১৮টি বিভাগে ৯২০ আসনের (উপজাতি কোটাসহ মোট ৯৩১ আসন) বিপরীতে&nbsp;স্নাতক পর্যায়ে ৪ হাজার ৫০০ জন এবং&nbsp;স্নাতকোত্তর পর্যায়ে আরও ১২০০ জন সবমিলিয়ে মোট ৬ হাজার ছাত্র-ছাত্রী অধ্যায়নরত রয়েছেন। একইসাথে ১০১জন পিএইচডি ডিগ্রীধারীসহ ৩৩৩ জন শিক্ষক,&nbsp;১৭১ জন কর্মকর্তা এবং ৪৫৯ জন কর্মচারী মিলে প্রায় ১ হাজার জনের একটি সুখী পরিবার হিসেবে চুয়েটকে এগিয়ে নেওয়ার ব্রতে নিযুক্ত রয়েছেন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সফল উদ্যোক্তা তৈরি,&nbsp;বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশনকে আরও সম্মৃদ্ধ করার লক্ষ্যে প্রায় ১১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নির্মিত সর্বপ্রথম&nbsp;“চুয়েট শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর”&nbsp;গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জননেত্রী শেখ হাসিনা’র হাত ধরে শুভ উদ্বোধনের মাধ্যমে দৃশ্যমান অগ্রগতি ও চুয়েটের সাফল্যের ধারায় নতুন পালক যুক্ত করেছে। প্রকৌশল ও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষা-গবেষণার অন্যতম সেরা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে&nbsp;‘‘Center of Excellence’’&nbsp;হিসেবে গড়ার বহুমুখী প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। দুই দফায় ৩২০ কোটি টাকা এবং ৬৯ কোটি ব্যয়ে দুটি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও ল্যাবরেটরি যন্তপাতি সংযোজনের মাধ্যমে চুয়েটের দৃশ্যমান উন্নয়ন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে&nbsp;বেশ&nbsp;এগিয়ে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>দেশের একমাত্র বি</strong><strong>শ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর চুয়েটে</strong><strong></strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সর্বপ্রথম বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে এবং বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে প্রায় ১১৮ কোটি টাকা ব্যয়ে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে সফল উদ্যোক্তা সৃষ্টি,&nbsp;বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে উৎসাহিত করা এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশনকে আরও সম্মৃদ্ধ করার পাশাপাশি স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণা এবং এই খাতে বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের লক্ষ্যে দেশের বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সর্বপ্রথম&nbsp;“শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর”&nbsp;স্থাপন চুয়েটের দৃশ্যমান অগ্রগতি সাফল্যের ধারায় নতুন পালক যুক্ত করেছে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ৬ই জুলাই ২০২২ খ্রি. ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়ে এর শুভ উদ্বোধন করেন। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে&nbsp;“স্মার্ট বাংলাদেশ”&nbsp;বিনির্মাণে এই ইনকিউবেটর ভূমিকা রাখবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। ইনকিউবেটর নিয়ে চুয়েট শিক্ষার্থীদের মাঝেও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। চুয়েটের নির্মাণাধীন আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর প্রজেক্ট তরুণদের জন্য অপার সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। যেখানে যে কেউ যেকোনো ধরণের সৃজনশীল আইডিয়া নিয়ে আসতে পারবে এবং সেটাকে একটি প্রোডাক্টিভ পণ্য হিসেবে তৈরি করে বাজারজাত করার দায়িত্ব ইনকিউবেটর সংশ্লিষ্টদের। আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে তরুণরা দেশের প্রযুক্তি বিল্পবে নেতৃত্ব দেবেন বলে বিশ্বাস চুয়েটের মাননীয় ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল আলম। ইতোমধ্যে এই ইনকিউবেটরে বাটারফ্লাই ম্যানুফেকচারিং কোম্পানি লিমিটেড,&nbsp;চালডাল ডটকম,&nbsp;মিস্ত্রি বাজার,&nbsp;ডিলিজিট,&nbsp;ক্লিগ টেক,&nbsp;সিম্স ইন্টারঅ্যাকটিভ-সহ অন্তত ৭টি প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সম্প্রতি মাননীয় আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জনাব জুনাইদ আহমেদ পলক,&nbsp;এমপি ইনকিউবেটরে আরও ১৭টি স্টার্টআপ ও প্রযুক্তি কোম্পানির মাঝে বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করেন। মূলত তাঁরা গবেষণা ও উন্নয়ন (Research and Development) সেক্টর নিয়ে ইনকিউবেটরে কাজ করছেন। এছাড়া ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া কোলাবোরেশন,&nbsp;যৌথ গবেষণা প্রকল্প,&nbsp;স্কিলস ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং,&nbsp;অন-ক্যাম্পাস রিক্রুটমেন্ট প্রভৃতি কার্যক্রম চালাচ্ছে। উল্লেখ্য যে,&nbsp;প্রায় ৫ একর আয়তনজুড়ে স্থাপিত শেখ কামাল আইটি বিজনেস ইনকিউবেটরে ১০ তলাবিশিষ্ট একটি ইনকিউবেশন ভবন এবং ৬ তলাবিশিষ্ট একটি মাল্টিপারপাস প্রশিক্ষণ ভবন রয়েছে। যেখানে থাকছে স্টার্টআপ জোন,&nbsp;আইডিয়া/ইনোভেশন জোন,&nbsp;ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিক জোন,&nbsp;ব্রেইনস্ট্রর্মিং জোন,&nbsp;এক্সিবিশন সেন্টার,&nbsp;ই-লাইব্রেরি জোন,&nbsp;ডাটা সেন্টার,&nbsp;রিসার্চ ল্যাব,&nbsp;ভিডিও কনফারেন্সিং কক্ষ,&nbsp;সম্মেলন কক্ষ প্রভৃতি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>চুয়েট যেখানে অনন্য</strong><strong></strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫টি অনুষদের অধীনে ১৮টি বিভাগের পাশাপাশি ৩টি গবেষণা ইনস্টিটিউট,&nbsp;৩টি গবেষণা সেন্টার এবং একটি কেন্দ্রীয় ব্যুরো অব রিসার্চ,&nbsp;টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেন্সি (BRTC) রয়েছে। সেন্টারটির মাধ্যমে সারাদেশে বিবিধ শিল্প এবং প্রতিষ্ঠানকে প্রযুক্তি সংক্রান্ত সেবা ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। চুয়েটে রয়েছে&nbsp;‘ইনস্টিটিউট অব আর্থকোয়েক ইঞ্জিনিয়ারিং রিসার্চ’&nbsp;নামে দেশের একমাত্র ভূমিকম্প প্রকৌশল গবেষণা ইনস্টিটিউট। এছাড়া&nbsp;‘সেন্টার ফর রিভার,&nbsp;হারবার অ্যান্ড ল্যান্ড-স্লাইড রিসার্চ’&nbsp;নামে দেশের একমাত্র পোতাশ্রয় ও ভূমিধ্বস বিষয়ক গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে। অন্যদিকে চুয়েটে বছরজুড়েই বিভিন্ন বিভাগের আয়োজনে আন্তর্জাতিক সেমিনার ও কনফারেন্স আয়োজন করে। এরমধ্যে দেশের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারদের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক কনফারেন্স&nbsp;‘International Conference on Advance Civil Engineering (ICACE)’&nbsp;চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের আয়োজনেই হয়ে থাকে। এছাড়া যন্ত্রকৌশল অনুষদের আয়োজনে&nbsp;‘ICMERE’,&nbsp;ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং&nbsp;অনুষদের আয়োজনে&nbsp;‘ECCE’,&nbsp;পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের আয়োজনে&nbsp;‘ICPSDT)’,&nbsp;পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের আয়োজনে&nbsp;‘NCWRE’,&nbsp;ইনস্টিটিউট অব এনার্জি টেকনোলজি (আইটিই)-এর আয়োজনে&nbsp;‘NCETMIA’, ‘জাতীয় গবেষণা মেলা (National Research Fair)’&nbsp;শীর্ষক জাতীয়&nbsp;ও আন্তর্জাতিক&nbsp;কনফারেন্স&nbsp;আয়োজন&nbsp;উল্লেখযোগ্য।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকা</strong><strong>ণ্ডে&nbsp;চুয়েট</strong><strong></strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>প্রকৌশল শিক্ষা অন্যান্য শিক্ষা পদ্ধতির চেয়ে ব্যতিক্রম হওয়ায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের সারাবছরই আঁটসাঁট একাডেমিক শিউিউলের মধ্যে থাকতে হয়। কিন্তু তাই বলে চুয়েটিয়ানরা সামাজিক-সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দমে থাকতে পারে না। শুনে অবাক হতেও পারেন যে,&nbsp;চুয়েটের ১৭১ একরের ভূমিতে নিবন্ধনকৃত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সংখ্যা অন্তত ২৫টি। সংগঠনগুলো হলো- সাংস্কৃতিক সংগঠন&nbsp;‘জয়ধ্বনি’,&nbsp;পরিবেশ সচেতনতামূলক সংগঠন&nbsp;‘গ্রীন ফর পিস’,&nbsp;চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটি,&nbsp;চুয়েট ফটোগ্রাফিক সোসাইটি,&nbsp;চুয়েট চলচ্চিত্র সংসদ,&nbsp;ভাষা ও সাহিত্য সংসদ চুয়েট,&nbsp;রোবটিক চর্চা ও গবেষণামূলক সংগঠন&nbsp;‘রোবো মেকাট্রনিক্স অ্যাসোসিয়েশন’ (আরএমএ),&nbsp;মহাকাশ ও রোবটিক গবেষণা সংস্থা&nbsp;‘অ্যান্ড্রোমেডা স্পেস অ্যান্ড রোবটিক্স রিসার্চ অরগ্যানাইজেশন’ (আ্যসরো),&nbsp;চুয়েট ক্যারিয়ার ক্লাব,&nbsp;চুয়েট কম্পিউটার ক্লাব&nbsp;,&nbsp;চুয়েট স্পোর্টস ক্লাব,&nbsp;বিশ্বের সর্ববৃহৎ পেশাজীবীদের সংগঠন&nbsp;‘ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রনিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স’ (আইইইই) স্টুডেন্টস ব্রাঞ্চ,&nbsp;আমেরিকান কনক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) স্টুডেন্টস ব্রাঞ্চ প্রভৃতি। এরমধ্যে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সাংস্কৃতিক উৎসবে&nbsp;‘জয়ধ্বনি’&nbsp;২০১২,&nbsp;২০১৪,&nbsp;২০১৭ এবং ২০১৮ সালে চ্যাম্পিয়ন ও ২০১০ রানার্স আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটিও সম্প্রতি জাতীয় বিতর্ক উৎসব&nbsp;PCDF-2019&nbsp;এর চ্যাম্পিয়ন,&nbsp;বাংলাদেশ টেলিভিশন আঞ্চলিক বিতর্ক প্রতিযোগিতা-২০১৯ এর চ্যাম্পিয়নসহ বিভিন্ন পর্যায়ে মোট ৭বার চ্যাম্পিয়ন ও তিনবার রানাস-আপ হয়। এছাড়া গ্রীন ফর পিস’র বছরজুড়েই পরিবেশ সচেতনতামূলক কার্যক্রম তো আছেই। পাশাপাশি বহিঃর্বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে রোবটিক চর্চা এবং মহাকাশ ও রোবটিক গবেষণার সাথে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে আরএমএ এবং অ্যাসরো’র শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে,&nbsp;রোবট গবেষণায় চুয়েট শিক্ষার্থীরা প্রতিবছরই দেশ-বিদেশ হতে কোন না কোন সাফল্য নিয়ে আসছেন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong><u>চুয়েটের সাম্প্রতিক সময়ের অর্জনসমূহ:-</u></strong><strong><u></u></strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>কিউএস র‌্যাঙ্কিংয়ে চুয়েট দক্ষিণ এশিয়ায় ৯২তম</strong><strong>,&nbsp;</strong><strong>দেশের তৃতীয় সেরা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় এবং দ্বিতীয় সেরা প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়</strong><strong></strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্ববিখ্যাত কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিংয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ২০২৪ সালের জন্য প্রকাশিত তালিকায় এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৪০১-৪৫০ এর মধ্যে এবং দক্ষিণ এশিয়ার ৯২তম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে স্থান অর্জন করেছে। এছাড়া সারাদেশের মধ্যে শীর্ষ ১৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ৫ম,&nbsp;প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ২য় সেরা এবং পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ৩য় সেরা বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে র‌্যাংকিংয়ে স্থান পেয়েছে চুয়েট। পাশাপাশি বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে ১২০১-১৪০০ এর মধ্যে এবং বিষয়ভিত্তিক পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং ক্যাটাগরিতে ১০১-১৫০ এর মধ্যে অবস্থান করেছে চুয়েট। গত ২৭শে জুন ২০২৩ খ্রি. এই র‌্যাংকিং প্রকাশিত হয়েছে। বিস্তারিত এই লিংকে (<a href="https://tinyurl.com/486z58m5" target="_blank" rel="noreferrer noopener">https://tinyurl.com/486z58m5</a>) পাওয়া যাবে। প্রসঙ্গত,&nbsp;কিউএস ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‌্যাংকিং একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং সিস্টেম,&nbsp;যা প্রতিবছর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান,&nbsp;শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত,&nbsp;আন্তর্জাতিক শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংখ্যা,&nbsp;কর্মসংস্থান এবং গবেষণামূলক কাজের ভিত্তিতে প্রকাশিত হয়ে থাকে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>আমেরিকান কংক্রিট ইন্সটিটিউটের এসিআই&nbsp;</strong><strong>‘</strong><strong>এক্সিলেন্ট</strong><strong>’&nbsp;</strong><strong>বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকায় চুয়েট</strong><strong></strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে (চুয়েট) আবারও&nbsp;‘এক্সিলেন্ট ইউনিভার্সিটি’&nbsp;হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে পুরকৌশলীদের আন্তর্জাতিক পেশাজীবী সংগঠন আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই)। গত ১০ই ফেব্রুয়ারি ২০২৩ খ্রি. যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানভিত্তিক এই সংগঠনটি আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়ে চুয়েট কর্তৃপক্ষ এ তথ্য জানায়। তালিকায় স্থান পাওয়া ৫৫টি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে চুয়েট ছাড়াও ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি) আছে। এছাড়াও ৫৩টি বিশ্ববিদ্যালয়কে আউটস্ট্যান্ডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা দিয়েছে সংগঠনটি। এ তালিকায় বাংলাদেশ থেকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) স্থান পেয়েছে। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিক সাফল্যের বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এক্সিলেন্ট ইউনিভার্সিটির তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>৩৫০ শিক্ষক-গবেষক নিয়ে চুয়েটে প্রথম&nbsp;</strong><strong>“</strong><strong>জাতীয় গবেষণা মেলা</strong><strong>”&nbsp;</strong><strong>আয়োজন</strong><strong></strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) “স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে জ্ঞান অন্বেষণ” (Knowledge Exploration for Smart Bangladesh) স্লোগানে প্রথমবারের মতো “গবেষণা মেলা-২০২৩” অনুষ্ঠিত হয়েছে। চুয়েটের গবেষণা ও সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে গত ২৮শে আগস্ট ২০২৩ খ্রি. দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এই গবেষণা মেলার অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় দেশের ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষক, গবেষক, প্রকৌশলী, উদ্যোক্তা, প্রফেশনাল ও শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা বসবে। যেখানে চূড়ান্তভাবে বাছাইকৃত মোট ১৩১টি গবেষণা প্রবন্ধ (৯৪টি পোস্টার ও ৩৭টি প্রজেক্ট) উপস্থাপন করা হয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক</strong>:  <em>সহকারী রেজিস্ট্রার (সমন্বয়), চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়</em></p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বেদনায় ভরা দিন</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC+%E0%A6%AD%E0%A6%B0%E0%A6%BE+%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%A6%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC+%E0%A6%AD%E0%A6%B0%E0%A6%BE+%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 15 Aug 2023 01:25:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p><strong>শেখ হাসিনা</strong></p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>তখনও ভোরের আলো ফোটেনি। দূরের মসজিদ থেকে আজানের ধ্বনি ভেসে আসছে। এমন সময় প্রচণ্ড গোলাগুলির আওয়াজ। এ গোলাগুলির আওয়াজ ঢাকার ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কের একটি বাড়ি ঘিরে, যে বাড়িতে বসবাস করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এক বিঘা জমির ওপর খুবই সাধারণ মানের ছোট্ট একটা বাড়ি। মধ্যবিত্ত মানুষের মতোই সেখানে বসবাস করেন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। তিনি সবসময়ই সাধারণ জীবনযাপন করতেন। এই বাড়ি থেকেই ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের যে আন্দোলন-সংগ্রাম- এই বাড়িটি তার নীরব সাক্ষী। সেই বাড়িটিই হলো আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু। গোলাগুলির আওয়াজের মধ্যে আযানের ধ্বনি হারিয়ে যায়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>রাষ্ট্রপতির বাসভবনের নিরাপত্তায় সাধারণত সেনাবাহিনীর ইনফেন্ট্রি ডিভিশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু মাত্র ১০-১২ দিন পূর্বে বেঙ্গল ল্যাঞ্চারের অফিসার ও সৈনিকদের এ দায়িত্বে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আমার মা, বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, লক্ষ্য করলেন কালো পোশাকধারী সৈনিকেরা বাড়ির পাহারায় নিয়োজিত। তিনি প্রশ্নটা তুলেছিলেনও। কিন্তু কোনো সদুত্তর পাননি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আমার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ছিল দেশের মানুষের প্রতি অঢেল ভালোবাসা। তিনি সকলকেই অন্ধের মতো বিশ্বাস করতেন। তিনি কখনও এটা ভাবতেও পারেননি যে, কোনো বাঙালি তাঁর ওপর গুলি চালাতে পারে বা তাঁকে হত্যা করতে পারে। তাঁকে বাঙালি কখনও মারবে না, ক্ষতি করবে না- এই বিশ্বাস নিয়েই তিনি চলতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, সেই বিশ্বাসের কী মূল্য তিনি পেয়েছিলেন?</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>চারদিকে মুহুর্মুহু গুলির আওয়াজ। বিকট শব্দে মেশিনগান হতে গুলি করতে করতে মিলিটারি গাড়ি এসে দাঁড়ালো ৩২ নম্বর রোডের বাড়ির সামনে। গুলির আওয়াজে ততক্ষণে বাড়ির সকলেই জেগে উঠেছে। আমার ভাই শেখ কামাল দ্রুত নিচে নেমে গেল রিসেপশন রুমে- কারা আক্রমণ করলো, কী ঘটনা জানতে। বাবার ব্যক্তিগত সহকারী মহিতুল ইসলাম বিভিন্ন জায়গায় ফোন করার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু কোন সাড়া পাচ্ছিলেন না।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>সেখানে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পর কামাল বেরিয়ে বারান্দায় এসে দেখে বাড়ির গেট দিয়ে মেজর নূর ও ক্যাপ্টেন হুদা এগিয়ে আসছে। কামাল তাদের দেখেই বলতে শুরু করলো: আপনারা এসে গেছেন, দেখেন তো কারা বাড়ি আক্রমণ করলো?</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ওর কথা শেষ হতে পারলো না। তাদের হাতের অস্ত্র গর্জে উঠলো। কামাল সেখানেই লুটিয়ে পড়লো। অথচ মুক্তিযুদ্ধের সময় মেজর নূর আর কামাল একইসঙ্গে কর্নেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। আর সেই কারণে ওরা একে অপরকে ভালোভাবে চিনতো।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>কিন্তু কী দুর্ভাগ্য! সেই চেনা মানুষগুলো কেমন অচেনা ঘাতকের চেহারায় আবির্ভূত হলো। নিজ হাতে গুলি করে হত্যা করলো সহযোদ্ধা কামালকে। কামাল তো মুক্তিযোদ্ধা। দেরাদুন থেকে ট্রেনিং নিয়ে দেশের অভ্যন্তরে যায় যুদ্ধ করতে। এরপর বাংলাদেশ সরকার ক্যাপ্টেন শেখ কামালকে নিয়োগ দেয় বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী প্রধান কর্নেল ওসমানীর এডিসি হিসেবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>মেজর সৈয়দ ফারুক ট্যাঙ্ক নিয়ে আমাদের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছিল। আব্বা সবার আগে ঘর থেকে সেনাবাহিনী প্রধান সফিউল্লাহ সাহেবকে ফোন করেন। তাঁকে জানান যে বাড়ি আক্রান্ত। তিনি জবাব দেন: আমি দেখছি। আপনি পারলে বাইরে কোথাও চলে যান।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এর মধ্যে ফোন বেজে ওঠে। কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রব সেরিয়াবাত, আমার সেজ ফুফা, ফোনে জানান যে তাঁর বাড়ি কারা যেন আক্রমণ করেছে। আব্বা জবাব দেন তাঁর বাড়িও আক্রান্ত। আব্বা আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক ও তোফায়েল আহমেদকে ফোন করেন। আব্দুর রাজ্জাক বলেন- লিডার, দেখি কী করা যায়। আব্দুর রাজ্জাক স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>তোফায়েল আহমেদ ফোনে বলেন, আমি দেখছি। রিসিভার নামিয়ে রাখতে রাখতে বলতে থাকেন, আমি কী করবো? তোফায়েল আহমেদ রক্ষী বাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন। আব্বা নিচে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হন। মা পাঞ্জাবিটা পরিয়ে দেন। আব্বা যেতে যেতে কামাল কোথায় জিজ্ঞেস করতে থাকেন। কথা বলতে বলতে তিনি সিঁড়ির কাছে পৌঁছান।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এ সময় সিঁড়ির মাঝের প্ল্যাটফর্মে যারা দাঁড়িয়ে ছিল, তারাও দোতলায় উঠে আসছিল। এদের মধ্যে হুদাকে চিনতে পারেন আব্বা। আব্বা তার বাবার নাম ধরে বলেন: তুমি রিয়াজের ছেলে না? কী চাস তোরা? কথা শেষ করতে না করতেই গর্জে ওঠে ওদের হাতের অস্ত্র। তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যেই যোগ দিয়েছিল রিসালদার মোসলেউদ্দিন।<br>ঘাতকদের নির্মম বুলেটের আঘাতে সিঁড়ির ওপর লুকিয়ে পড়লেন আব্বা। আমার মা সিঁড়ির দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন। ঘাতকের দল ততক্ষণে উপরে উঠে এসেছে। আমার মাকে তারা বাধা দিল এবং বললো- আপনি আমাদের সঙ্গে চলেন। মা বললেন: আমি এক পা-ও নড়বো না, কোথাও যাবো না। তোমরা উনাকে মারলে কেন? আমাকেও মেরে ফেলো। ঘাতকদের হাতের অস্ত্র গর্জে উঠলো। আমার মা লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল ও জামালের স্ত্রী রোজী জামাল মা’র ঘরে ছিল। সেখানেই তাঁদের গুলি করে হত্যা করে ঘাতকেরা। রাসেলকে রমা জড়িয়ে ধরে এক কোণে দাঁড়িয়ে ছিল। ছোট্ট রাসেল কিছুই বুঝতে পারছে না। একজন সৈনিক রাসেল আর রমাকে ধরে নিচের তলায় নিয়ে যায়। একইসঙ্গে বাড়িতে আরও যারা ছিল তাদেরও নিচে নিয়ে দাঁড় করায়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>গৃহকর্মী আব্দুল গুলিবিদ্ধ হয়েছিল। তাকেও নিয়ে যায়। বাড়ির সামনে আম গাছতলায় সকলকে দাঁড় করিয়ে একে একে পরিচয় জিজ্ঞেস করে। আমার একমাত্র চাচা মুক্তিযোদ্ধা শেখ আবু নাসের পঙ্গু ছিলেন। তিনি বার বার মিনতি করছিলেন: আমার স্ত্রী অন্তঃসত্ত্বা; আমি মুক্তিযোদ্ধা। আমাকে মেরো না। ছোট ছোট বাচ্চারা আমার, ওদের কী হবে? কিন্তু খুনিরা কোন কথাই কানে নেয় না। তাঁর পরিচয় পেয়ে তাঁকে অফিস ঘরের বাথরুমে দাঁড় করিয়ে গুলি করে হত্যা করে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>রমার হাত ধরে রাসেল “মা’র কাছে যাব, মা’র কাছে যাব” বলে কান্নাকাটি করছিল। রমা বার বার ওকে বোঝাচ্ছিল: তুমি কেঁদো না ভাই। ওরা তোমাকে মেরে ফেলবে। কিন্তু অবুঝ শিশু মায়ের কাছে যাব বলে কেঁদেই চলেছে। এ সময় একজন পরিচয় জানতে চায়। পরিচয় পেয়ে বলে: চলো, তোমাকে মায়ের কাছে দিয়ে আসি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ভাইয়ের লাশ, বাবার লাশ মাড়িয়ে রাসেলকে টানতে টানতে দোতলায় নিয়ে মায়ের লাশের পাশেই গুলি করে হত্যা করে। দশ বছরের ছোট্ট শিশুটাকে ঘাতকের দল বাঁচতে দিল না।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>যে বাড়ি থেকে একদিন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেই বাড়িটি রক্তে ভেসে গেল। সেই রক্তের ধারা ওই সিঁড়ি বেয়ে বাংলার মাটিতে মিশে গেছে- যে মাটির মানুষকে তিনি গভীরভাবে ভালোবাসতেন।<br>৪৬ ব্রিগেডের দায়িত্বে ছিলেন সাফায়েত জামিল। সেনাপ্রধান তাঁকে ফোন করে পায়নি। সিজিএস খালেদ মোশাররফও কোন দায়িত্ব পালন করেনি। সেনাবাহিনীর ডেপুটি চিফ জিয়াউর রহমান কোন ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করেনি; বরং সে পুরো ষড়যন্ত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল। খুনি রশিদ ও ফারুক বিবিসি-তে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে জিয়াউর রহমানের জড়িত থাকার কথা বলেছে। খুনি মোস্তাক জিয়াকে সেনাপ্রধান হিসেবে নিয়োগ দেয়।<br>ঢাকার তৎকালীন এসপি মাহবুবকেও ফোন করে পাওয়া যায়নি।<br></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>মেজো ফুপুর বাসা<br></strong>ঘাতকেরা ধানমন্ডির মেজো ফুফুর বাড়ি আক্রমণ করে রিসালদার মোসলেউদ্দিনের নেতৃত্বে। তাদের একটি দল সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে উঠতে গালি দিতে থাকে। বুটের আওয়াজ আর চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে মুক্তিযোদ্ধা, যুবনেতা এবং বাংলার বাণীর সম্পাদক শেখ ফজলুল হক মনি ঘর থেকে বেরিয়ে আসেন। বন্দুক তাক করে তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালি দিতে থাকে ঘাতকের দল। এ সময় তাঁর অন্তঃসত্তা স্ত্রী আরজু ছুটে এসে স্বামীকে জড়িয়ে ধরে ঘাতকদের বুলেট থেকে বাঁচাতে। কিন্তু ঘাতকের দল তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি করে। বুলেটের আঘাতে দুজনের শরীর ঝাঁঝরা হয়ে যায়। মাটিতে লুটিয়ে পড়ে নিথর দেহ দুটি। ছোট দুই ছেলে, তিন বছরের তাপস আর বছর পাঁচেকের পরশ, মা-বাবার লাশের পাশে এসে চিৎকার করতে থাকে আর বলতে থাকে : মা ওঠো, বাবা ওঠো। ওই শিশুদের কান্না মা-বাবা কি শুনতে পেয়েছিল? ততক্ষণে তাঁরা তো না-ফেরার দেশে চলে গেছে। শিশুদের চোখের পানি মা-বাবার রক্তের সঙ্গে মিশে একাকার হয়ে যায়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><br><strong>সেজো ফুপুর বাড়ি<br></strong>গুলি করতে করতে মেজর সুলতান শাহরিয়ার রশিদ খান ও মেজর এ এম রাশেদ চৌধুরী মিণ্টো রোডে সেজো ফুপার সরকারি বাড়ির সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে যায়। পরিবারের সব সদস্যকে তাঁদের ঘর থেকে বের করে নিচতলায় বসার ঘরে নিয়ে আসে। এরপর তাদের ওপর ব্রাশফায়ার করে। গুলির আঘাতে লুটিয়ে পড়েন আবার ফুপু আমিনা সেরনিয়াবাত, আমার ফুপা কৃষিমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রব সেরিয়াবাত, তাঁর মেয়ে বিউটি, বেবি, রিনা, ছেলে খোকন, আরিফ, বড় ছেলে আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর স্ত্রী শাহানা, নাতি সুকান্ত, ভাইয়ের ছেলে মুক্তিযোদ্ধা শহীদ, ভাগ্নে রেন্টু।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আট বছরের নাতনি কান্তা গুলিবিদ্ধ লাশের নিচে চাপা পড়ে যাওয়ায় বেঁচে যায়। দেড় বছরের নাতি সাদেক গুলিবিদ্ধ মায়ের বুকে পড়ে কাঁদতে থাকে। আট বছরের কান্তা নিজের ফুপু বেবির লাশের নিচে চাপা পড়ে ছিল। সেখান থেকে কোনোমতে বের হয়ে অবাক বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকে।<br>সারি সারি গুলিবিদ্ধ আপনজন পড়ে আছে। কারও নিথর দেহ, কেউ বা যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছেন। ঘরের কোণায় রাখা অ্যাকুরিয়াম গুলি লেগে ভেঙে যায়। অ্যাকুরিয়ামের পানির সঙ্গে মাছগুলো মাটিতে পড়ে যায়। রক্ত ভেজা পানিতে মাছগুলোও ছটফট করে লাফাতে থাকে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>কিছুক্ষণ আগে আপনজন মা, বাবা, দাদা-দাদি, চাচা, ফুপুসহ সকলকে নিয়ে এই শিশুরা ছিল। আর এখন গুলিবিদ্ধ রক্তে ভেজা আপনজন। লাশের নিচ থেকে নিজেকে বের করে ঘরের কোণে দাঁড়িয়ে ৮ বছরের শিশুটি অবাক বিস্ময়ে ভীত-সন্ত্রস্ত চোখে তাকিয়ে থাকে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>মেজর ফারুক ট্যাঙ্ক নিয়ে লেকের ওপার থেকে ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবন লক্ষ্য করে গুলি চালাচ্ছিল। সেই গুলি মোহাম্মদপুরে এক বাড়িতে পড়ে। সেখানে ১১ জন মানুষ নিহত হয়। আরও অনেকেই আহত হয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>মেজর ডালিম রেডিও স্টেশন দখলের দায়িত্বে ছিল। সেখান থেকেই সে ঘোষণা দেয়: শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে। ঘাতকেরা শুধু হত্যা করে তাই নয়, তারা আমাদের বাসা লুটপাট করে। আমার বাবার শোবার ঘরে এবং ড্রেসিং রুমের সব আলমারি, লকার সবকিছু ভেঙে সেখান থেকে যা কিছু মূল্যবান ছিল- গহনা, ঘড়ি, টাকা-পয়সা লুটপাট করে নিয়ে যায়। বাসায় ব্যবহার করা গাড়িটাও মেজর হুদা ও নূর নিয়ে যায়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আলমারীর সব কাপড়-চোপড় বিছানার ওপর পড়ে ছিল। সেগুলোর অনেকগুলোতে ছিল রক্তের দাগ। এই হত্যাকাণ্ডের পর লুটপাটের ঘটনা মনে করিয়ে দেয় ওদের চরিত্রের অন্ধকার দিকটা। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যারা জড়িত ছিল, তারা এই সদ্য স্বাধীন দেশের মানুষের কত বড় সর্বনাশ করেছিল তা কি ওরা বুঝতে পেরেছিল?<br>যে বুকে বাংলার মানুষের জন্য প্রচণ্ড ভালোবাসা ছিল, সেই বুকটাই ঝাঁঝরা করে দিল তাঁরই প্রিয় বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর কিছু দুর্বৃত্ত। আমার আব্বা কএনাদিন বিশ্বাস করতেই পারতেন না যে, বাংলাদেশের কোনো মানুষ তাঁকে মারতে পারে, বা কোনো ক্ষতি করতে পারে। পৃথিবীর অনেক নেতাই তাঁকে এ বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তিনি বলেছেন, ওরা তো আমার ছেলে, আমাকে কেন মারবে? এত বড় বিশ্বাস ভঙ্গ করে ওরা বাঙালির ললাটে কলঙ্ক লেপন করল।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>কী বিচিত্র এ দেশ! একদিন যে মানুষটির একটি ডাকে এদেশের মানুষ অস্ত্র তুলে নিয়ে যুদ্ধ করে বিজয় এনেছিল, বীরের জাতি হিসেবে সারা বিশ্বের কাছে মর্যাদা পেয়েছিল, আজ এই হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে সেই জাতি সমগ্র বিশ্বের কাছে বিশ্বাসঘাতক জাতি হিসেবে পরিচিতি পায়। খুনি ও ষড়যন্ত্রকারীদের এদেশের অগণিত জনগণ ঘৃণা করে এবং বিশ্বাসঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করে। </strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p> আমার অন্তঃসত্ত্বা চাচী ছয় সন্তান নিয়ে চরম বিপদের সম্মুখীন হন। খুলনায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। সে বাসা থেকে তাঁকে বিতাড়িত করা হয়। টুঙ্গিপাড়ার বাড়িও সিল করে রাখা হয়। ঘরবাড়িহারা সদ্য বিধবা কোথায় ঠাঁই পাবেন? </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>সোবহানবাগ</strong> আব্বার সামরিক সচিব কর্নেল জামিল তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িতে করে বঙ্গবন্ধুর বাড়ির দিকে রওয়ানা হন। সোবহানবাগ মসজিদের কাছে তাঁর গাড়ি আটকে দেয় ঘাতকেরা। তিনি এগুতে চাইলে ঘাতকেরা তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করে। আমাদের বাড়ির নিচে পুলিশের বিশেষ শাখার সদস্য এসআই সিদ্দিকুর রহমানকেও তারা গুলি করে হত্যা করে। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বেলজিয়াম ক্রিং ক্রিং ক্রিং…। টেলিফোনটা বেজেই যাচ্ছে। আমার ঘুম ভেঙে গেল। মনে হলো টেলিফোনের আওয়াজ এত কর্কশ? আমি ঘুম থেকে উঠে সিঁড়ির কাছে দাঁড়ালাম। দেখি নিচে অ্যাম্বাসেডর সানাউল হক সাহেব ফোন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। আমাকে দেখে বললেন, ওয়াজেদের সঙ্গে কথা বলবেন। আমি তাঁকে ঘুম থেকে ডেকে তুললাম। অপর পারে জার্মানির অ্যাম্বাসেডর হুমায়ুন রশিদ সাহেব কথা বলছেন। তিনি জানালেন বাংলাদেশে ক্যু হয়েছে। আমার মুখ থেকে বের হল: ‘তাহলে তো আমাদের আর কেউ বেঁচে নাই।’ রেহানা পাশে ছিল। তাঁকে জড়িয়ে ধরলাম। কিন্তু তখনও জানি না কী ঘটনা ঘটেছে। মাত্র ১৫ দিন আগে জার্মানিতে এসেছি। বেলজিয়ামে বেড়াতে এসেছি। নেদারল্যান্ডেও গিয়েছিলাম। আব্বা বলেছিলেন, ‘নেদারল্যান্ড কীভাবে সাগর থেকে ভূমি উত্তোলন করে- পারলে একবার দেখে এসো।’ একদিন আগেই আব্বা-মার সঙ্গে কথা হয়েছে। কেন জানি মা খুব কাঁদছিলেন। বললেন ‘তোর সাথে আমার অনেক কথা আছে, তুই আসলে আমি বলবো।’ আমাদের খুব খারাপ লাগছিল। মনে হচ্ছিল তখনই দেশে ছুটে চলে যাই। আব্বা জানালেন, রোমানিয়া ও বুলগেরিয়াতে তিনি যাবেন। আর ফেরার পথে আমাদের নিয়ে আসবেন। কিন্তু আমাদের আর দেশে ফেরা হলো না। একদিন পরই সব শেষ। বেলজিয়ামে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সানাউল হক, যিনি রাজনৈতিক সদিচ্ছায় অ্যাম্বাসেডর পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন, রাতারাতি তার চেহারাটাই পাল্টে গেল। তিনি জার্মানিতে নিয়োজিত রাষ্ট্রদূত হুমায়ূন রশিদ সাহেবকে বলেন, যে বিপদ আমার কাঁধে পাঠিয়েছেন তাঁদের ফেরত নেন। যিনি আগের রাতে আমাদের জন্য ‘ক্যান্ডেল লাইট ডিনার’-এর আয়োজন করেছিলেন; কত খাতির, আদর-যত্ন, আর এখন আমরা তার কাছে আপদ হয়ে গেলাম। আমাদের বর্ডার পর্যন্ত পৌঁছে দেয়ার জন্য গাড়িটাও দিলেন না। বেলজিয়াম অ্যাম্বাসিতে কর্মরত আমার স্কুলের বান্ধবী নমি’র স্বামী জাহাঙ্গীর সাদাতের গাড়িতে করে আমদের বেলজিয়াম বর্ডারে যেতে বললেন। জাহাঙ্গীর সাদাত আমাদের জার্মানির বর্ডারে পৌঁছে দিলেন। সেখান থেকে হেঁটে নো-ম্যান্স ল্যান্ড পার হয়ে আমরা জার্মানির মাটিতে পৌঁছলাম। জার্মানির অ্যাম্বাসেডর হুমায়ুন রশিদ সাহেব গাড়ি পাঠিয়েছেন। আর তাঁর স্ত্রী আমার বাচ্চাদের জন্য শুকনো খাবার-দাবারও গাড়িতে দিয়েছিলেন। তাঁদের কাছে কয়েকদিন আশ্রয় পেলাম। তাঁদের আদর-যত্ন দুঃসময়ে আমাদের জন্য অনেক মূল্যবান। আমরা কোনদিন ভুলতে পারবো না হুমায়ুন রশীদ ও তাঁর স্ত্রীর অবদান। জার্মান অ্যাম্বাসির সকল অফিসার ও কর্মচারী আমাদের অত্যন্ত যত্ন করেছিলেন। অ্যাম্বাসির গাড়িতে আমাদের কার্লস রুয়ে পৌঁছে দিলেন। জার্মান সরকার, যুগোস্লাভিয়ার প্রেসিডেন্ট মার্শাল টিটো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীসহ আরও অনেকে আমাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে চাইলেন। জার্মানিতে নিযুক্ত ভারতের অ্যাম্বাসেডর জনাব হুমায়ুন রশিদ ও ডক্টর ওয়াজেদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন। তিনি আমাদের ভারতে যাওয়ার সব ব্যবস্থা করে দেন। আমরা জার্মানি থেকে ভারতে পৌঁছলাম। উপসংহার ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের রক্তাক্ত বেদনার আঘাত বুকে ধারণ করে আমার পথচলা। বাবা-মা, ভাইদের হারিয়ে ৬ বছর পর ১৯৮১ সালের ১৭ই মে দেশে ফিরে আসতে পেরেছি। একটি প্রতিজ্ঞা নিয়ে এসেছি, যে বাংলাদেশ আমার বাবা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন, তা ব্যর্থ হতে পারে না। লাখো শহিদের রক্ত আর আমার বাবা-মা ভাইদের রক্ত ব্যর্থ হতে আমি দেব না। আমার চলার পথ খুব সহজ ছিল না। বার বার আমার ওপর আঘাত এসেছে। মিথ্যা অপপ্রচার, গুলি, বোমা ও গ্রেনেড হামলার শিকার হতে হয়েছে আমাকে। খুনি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী খালেদা জিয়া বিভিন্ন সময় বলেছিল, ‘শত বছরেও আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যেতে পারবে না। শেখ হাসিনা, প্রধানমন্ত্রী তো দূরের কথা বিরোধী দলের নেতাও কখনও হতে পারবে না।’ </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এর পরই তো সেই ভয়াবহ ২০০৪ সালের ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলা। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মানবঢাল রচনা করে সেদিন আমাকে রক্ষা করেছিলেন। উপরে আল্লাহ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী আর বাংলাদেশের জনগণই আমার শক্তি। আমার চলার কন্টকাকীর্ণ পথে এরাই আমাকে সাহায্য করে চলেছেন। তাই আজকের বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জনগণের নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় আছে বলেই আজকের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছে। বাংলাদেশের জনগণকে ক্ষুধার হাত থেকে মুক্তি দিতে পেরেছি। তারা এখন উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে। আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছে। বাবা! তুমি যেখানেই থাক না কেন, তোমার আশীর্বাদের হাত আমার মাথার উপর আছে; আমি তা অনুভব করতে পারি। তোমার স্বপ্ন বাংলাদেশের জনগণের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষার ব্যবস্থা করে সোনার বাংলাদেশ গড়ে তুলবো। তোমার দেশের মানুষ তোমার গভীর ভালোবাসা পেয়েছে আর এই ভালোবাসার শক্তিই হচ্ছে এগিয়ে যাবার প্রেরণা। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>(বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ কন্যা)</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>&amp;quot;ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবায় কেন পিছিয়ে বাংলাদেশ?&amp;quot;</title>
<link>https://digibanglatech.news/%22%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A1%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1+%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%9F+%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC+%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8+%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%3F%22</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%22%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A1%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A1+%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%9F+%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC+%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8+%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A6%9B%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%3F%22</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 11 Jun 2023 15:49:40 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p><em><mark style="background-color:rgba(0, 0, 0, 0)" class="has-inline-color has-vivid-cyan-blue-color">অপেড-এ প্রকাশিত সকল মতামত লেখকের নিজস্ব। এর সঙ্গে ডিজিবাংলা’র কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।  বহুমতের প্রতিফলন গণমাধ্যমের অন্যতম সূচক হওয়ায় নীতিগত কোনো সম্পাদনা ছাড়াও এই লেখা প্রকাশ করা হয়।</mark></em></p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে বৈশ্বিক সংগঠন ওক্লা এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, বাংলাদেশ বিশ্বের ১৮০ টি দেশের মধ্যে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবায় ১৭০ তম। এরপরে আছে পাকিস্তান, শ্রীলংকা , নেপাল ও আফগানিস্তান। কিন্তু বাংলাদেশের ব্যবহারকারীদের মনে একটি প্রশ্ন যেখানে ডিজিটাল বাংলাদেশের এক যুগ পেরিয়ে গেছে। সরকার যেখানে ২০৪১ সালের মধ্যেই স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাচ্ছে। সেখানে কেন বাংলাদেশ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবায় পিছিয়ে থাকবে?</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>বাংলাদেশ কেন পিছিয়ে থাকবে?</strong><br>১৯৯৬ সালের ৬ জুন বাংলাদেশের প্রথম ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের যাত্রা শুরু হয়। বর্তমানে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ১৩ কোটি। ইন্টারনেট বলতে মোবাইলে ইন্টারনেট সেবা এবং দ্রুতগতির ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা কে আমরা বুঝিয়ে থাকি। যদিও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাংলাদেশে মাত্র এক কোটি ১২ লাখ। বর্তমান সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প অর্থনীতি, কৃষি, রাষ্ট্রীয় সকল সেবা, চিকিৎসা ও পারিবারিক সকল কাজেই ব্রডব্যান্ড ফিক্সড ইন্টারনেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আজ প্রান্তিক পর্যায়ে থেকেও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করে ফ্রিল্যান্সাররা আয় করছে কাড়ি কাড়ি টাকা । আমরা যদি একটু পরিসংখ্যানটা দেখি, ব্যান্ডউইথ ব্যবহারের ক্ষেত্রে- সেখানে দেখা যাবে দেশে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ২০০ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ ব্যবহার হয়। এর মধ্যে এক কোটি ১২ লাখ ব্যান্ডউইথ ব্যবহারকারী ব্যবহার করে থাকে ৩ হাজার ৩ শত জিবিপিএস। এ হিসাব থেকে বুঝা যায়, যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটে ব্যবহার কতটা গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি মোবাইল ফোন অপারেটররাও তাদের সেবা দানের ক্ষেত্রে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সেবা নিয়ে থাকে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ব্রডব্যান্ড এর অর্থ হল দ্রুতগতির ইন্টারনেট ছাড়া যা সর্বদা চালু এবং উচ্চ গতি সম্পন্ন। কমপক্ষে এক মেগাবাইট পার সেকেন্ড (এমবিপিএস) গতিতে তথ্য প্রবাহিত হলেই তাকে ব্রডব্যান্ড বলা হয়ে থাকে। যদিও বাংলাদেশের ইন্টারনেটের গতিকে কোনভাবেই ব্রডব্যান্ড বলা চলে না সেটা ওকলার প্রতিবেদনের দরকার পড়ে না। সাধারণ গ্রাহকদের দুর্ভোগের চিত্র খতিয়ে দেখলেই বুঝা যায় যে, ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সেবার মান আসলে কেমন। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট কে ব্রডব্যান্ড না বলে ন্যারোব্যান্ড বলাটাই উত্তম। কারণ বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আমাদের ইন্টারনেটের গতি থাকে ৪৫ থেকে ৩৫০ গতিতে ডাটা ট্রান্সফার হয়ে থাকে। আর এই গতিকে ন্যারোব্র্যান্ড বলা হয়ে থাকে। আবার সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসি এক দেশ এক রেট করার সময় গতি বেঁধে দেয় ৫ এমবিপিএস। আবার ব্যবহারকারী ওয়ান: টু এইট করার ফলে ডাটা ট্রান্সফারের প্রতি নেমে আসে ৬২৫ কেবিপিএস। এই গতিকে কোনভাবেই ব্রডব্যান্ড সঙ্গার মধ্যে আনা যায় না। বৈশ্বিক পর্যায়ে যেখানে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গড় ডাউনলোড গতি ৮০ দশমিক ১২ এমবিপিএস। সেখানে বাংলাদেশের গড় গতি ৩৫. ৯৬ এমবিপিএস যা ওকলার প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:quote -->
<blockquote class="wp-block-quote"><!-- wp:paragraph -->
<p>গ্রাহকের অভিযোগের যেন অন্ত নেই। গ্রাহকের মন্তব্য হচ্ছে যখন তখন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া। ডাটা শুধু ঘুরে, একটি ভিডিও ডাউনলোড করতে সময় লাগে ১০ থেকে ১৫ মিনিট। একটি ফাইল পাঠানো যায় না। অ্যাপস এর মাধ্যমে কথা বলতে বিরক্ত হয়ে পড়তে হয়। সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মানসম্পন্ন সেবা না পাওয়া। সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানদের আধিপত্য। অভিযোগ জানানোর সুব্যবস্থা না থাকা। ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণার ১৩ বছর পেরিয়ে গেছে কিন্তু এখনো প্রায় ১৬ কোটি মানুষ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবার বাইরে। তাই ২০৪১ সালের মধ্যে সবাইকে ইন্টারনেট সেবার আওতায় আনা সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যদিও সরকার ইতিমধ্যে ফাইবার @ হোম ও সামিট কমিউনিকেশনের সাথে ২৬০০ ইউনিয়নে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা পৌঁছাতে চুক্তি করেছে। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিটি ইউনিয়নে প্রযুক্তির সেবাদানকেন্দ্র খোলা হয়েছে। এই চুক্তি নিয়ে স্টেকহোল্ডরদের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া রয়েছে। কেননা, স্বাভাবিকভাবেই জবাবদিহিতার জায়গাটা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে যায় যখন দুটি প্রতিষ্ঠানকেই কেবলমাত্র সুবিধা দেওয়া হয়। </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>প্রশ্ন করাই যায়,  ৯০% সরকারি অর্থায়নে দুটি প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়া কতটা যুক্তিসঙ্গত?  কেননা, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) নতুন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট অবকাঠামোর রক্ষণাবেক্ষণ, আগ্রেডেশন, প্রতিস্থাপন, অপারেশন এবং সংযোগের জন্য সামিট কমিউনিকেশনস এবং ফাইবার @ হোমের সাথে যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে সেখানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ থেকে অর্জিত রাজস্বের ৯০ শতাংশ এই দুটি বেসরকারি সংস্থার কাছে যাবে। আর সরকার পাবে মাত্র ১০ শতাংশ। এম্নিতেই এই দুই কোম্পানির কাছে গ্রাহক পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবাদাতারা অনেকাংশেই জিম্মি। অভিযোগ আছে, তাদের কারণেই তৃণমূলে ইন্টারনেট সেবা বিস্তৃতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তারপর এমন চুক্তি দেশের জন্য কতটা বাস্তব সম্মত? সাধারণ মানুষের টাকায় বেসরকারি দুই প্রতিষ্ঠানের পকেট ভারি করা কতটা যৌক্তিক? জবাবদিহিতার জায়গাটা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে যায় যদি দুটি প্রতিষ্ঠানকেই কেবলমাত্র সুবিধা দেওয়া হয়।</p>
<!-- /wp:paragraph --></blockquote>
<!-- /wp:quote -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>সমস্যা কোথায়?<br></strong>দেশের প্রথম সমস্যা হল রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাথে সাথে রাজনৈতিক পরিচয় কিছু দুর্বৃত্ত পূর্বে যেমন ডিস ব্যবসা করেছিল। ঠিক একই ভাবে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাইও এই দুর্বৃত্তরা সেবা প্রদানের নামে গ্রাহকদের জিম্মি করে নামমাত্র সেবা দিয়ে আধিপত্য বিস্তার করে শত শত কোটি টাকা লোপাট করছে। সরকারও বিপুল পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছ। বর্তমানে দেশে অবৈধ সেবা দানকারী সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজারের অধিক। আই এস পিএবির তথ্য মতে তাদের নিবন্ধিত সদস্য সংখ্যা ২২ শত। আবার কারো কারো কাছে ক্যাশ সার্ভার থাকায় তাদের আধিপত্য সবচাইতে বেশি। ৯৯% ফাইবার কেবল ওভার হেড। ফলে যত্রতত্র তারকাটা। সন্ত্রাসীদের দ্বারা পপ কর্তন করা। এ সকল কারণেই মান সম্পন্ন থেকে গ্রাহক বঞ্চিত হয় ৭৫ শতাংশ। বৈধ অপারেটরদের জন্য উচ্চকর অন্যতম প্রতিবন্ধক। তাছাড়া পেশী শক্তির সাথে পেরে না ওঠে না।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>সমাধান কিভাবে<br></strong>সমাধানের উপায় হচ্ছে আইনের যথাযথ প্রয়োগ। ব্রডব্যান্ডের সংজ্ঞা ও নীতিমালা মেনে চলা। সেই সাথে অবৈধ কারবারীদের নিয়ন্ত্রণ করা। এবং যে সকল সমস্যার কথা আমরা আলোচনা করলাম এবং প্রযুক্তিবিদ দের মতামত নিয়ে সমস্যার সমাধান চিহ্নিত করে সমাধান করা। যদি উন্নত দেশের না ব্রডব্যান্ডের গতি ব্যবহারকারীদের প্রদান করা যায় তাহলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে সম্প্রীতি পাশাপাশি সরকারের যে লক্ষ্য স্মার্ট বাংলাদেশ সেটি বিনির্মাণ করা সহজ হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:verse -->
<pre class="wp-block-verse"><mark style="background-color:#8ed1fc" class="has-inline-color">লেখক : <strong>মহিউদ্দিন আহমেদ</strong>, সভাপতি, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন।</mark></pre>
<!-- /wp:verse -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বাজেট ২০২৩ : সফটওয়্যার শুল্ক ও ভ্যাট বিড়ম্বনা</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%9F+%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A8%E0%A7%A9+%3A+%E0%A6%B8%E0%A6%AB%E0%A6%9F%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%95+%E0%A6%93+%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9F+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%9F+%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A8%E0%A7%A9+%3A+%E0%A6%B8%E0%A6%AB%E0%A6%9F%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%95+%E0%A6%93+%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%9F+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BC%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 02 Jun 2023 14:47:08 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:paragraph {"align":"center"} -->
<p class="has-text-align-center"><strong>ইকবাল আহমদ ফখরুল হাসান (রাসেল)</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><em><strong>বাংলাদেশের সফটওয়্যার খাত:<br></strong></em>বাংলাদেশের সফটওয়্যার ডেভলপমেম্ট খাতের শুরু হয় ২০০০ সালের পর থেকে | যদিও এটার পূর্ণতা পাওয়া শুরু করে ২০০৭ এ বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবলে যুক্ত হওয়া এবং ২০০৯ সালের ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষনার পর থেকে | যদিও ২০১১/২০১২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের সফটওয়্যার খাত নিতান্তই ইনভেস্টমেন্টবিহীন একটি ছোট সেক্টর হিসেবে<br>তেমন কোনো ভূমিকা পালন করতে পারে নাই | কিন্তু বিগত ১০ বছরে সফটওয়্যার খাত দুটো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে | তার মধ্যে একটি হলো দেশীয় বাজারে সফটওয়্যার দিয়ে সক্ষমতা তৈরি এবং অন্যটি হলো বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন |</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:group {"layout":{"type":"constrained"}} -->
<div class="wp-block-group"><!-- wp:paragraph -->
<p><em><strong>এসএমই খাতে এ দেশীয় সফ্টওয়ার পণ্য ও ভ্যাট আরোপের প্রভাব:</strong></em></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>দেশীয় এসএমই খাতের বেশিরভাগ সফটওয়্যারই (POS, হিসাব সংরক্ষণ, ব্যবসা পরিচালনা) দেশে প্রস্তুত আছে এবং বাজার চাহিদার বেশিরভাগ দেশীয় সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো পূরণ করছে এবং যথেষ্ট কম মূল্যে । যদিও এই বাজারটিতে ভারত ও শ্রীলঙ্কার কিছু পণ্য যতারীতি বাজারের ভারসাম্য নষ্ট করে | কারণ সফটওয়্যার এর মূল্য কম হওয়ার কারণে এগুলো প্রচলিত পদ্ধতিতে আমদানি হয়না এবং যার ফলে শুল্ক নিয়ে তেমন ঝামেলা পোহাতে হয়না তাদের লোকাল পার্টনারদেরকে| এই খাতের দেশীয় সফটওয়্যার উদপাদনের উপর ভ্যাট আরোপ হলে এটি ভারত, শ্রীলঙ্কা ও অন্যদের হাতে যেতে খুব বেশি সময় লাগবেনা । দেশীয় ব্যবসায়ীদের অনীহা আসার সম্ভাবনা যথেষ্ট| বলা প্রযোজ্য, এই খাতে তেমন কোনো কাস্টম সফটওয়্যার ব্যবহার হয়না কিন্তু অনলাইন থেকে কিছু SaaS পণ্য ক্রেডিট কার্ড বা অন্য পদ্ধতিতে ক্রয় করে ব্যবহার হয় ।</p>
<!-- /wp:paragraph --></div>
<!-- /wp:group -->

<!-- wp:group {"layout":{"type":"constrained"}} -->
<div class="wp-block-group"><!-- wp:paragraph -->
<p><em><strong>মাঝারি শিল্পে দেশীয় সফটওয়্যার ও ভ্যাট আরোপের প্রভাব:</strong></em></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বিগত ১০ বছরে মাঝারি শিল্পের সফটওয়্যারে বিদেশি পণ্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দেশীয় কোম্পানিগুলো নিজেদের ইনভেস্টমেন্ট ও সক্ষমতা বাড়িয়ে বাজারের একাংশ দখলে নিয়েছে | সক্ষমতা ও স্তায়িত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে দেশীয় কোম্পানিগুলো অনেক ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হয় এবং সেটা এখনও কাটিয়ে উঠতে বেশ কয়েক বছর সময় প্রয়োজন | মাত্র বাজার দেশীয় সফটওয়্যারে (ERP, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট ও অন্যান্য) বিশ্বাস অর্জন করা শুরু করেছে | এই খাত এখনও অনিবন্ধিত বিদেশি ( ভারত, শ্রীলঙ্কাসহ অন্যান্য ) কোম্পানি ও প্রচলিত পদ্ধতীর বাইরে গিয়ে আমদানি শুল্ক ফাঁকি দেয়ার সুযোগ থাকায় দেশীয় কোম্পানি গুলোকে যথেষ্ট কসরত করতে হয় সক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে । এই খাতে ভ্যাট আরোপ বিদেশি কোম্পানিগুলোর বাজার আগ্র্রাসনকে সাপোর্ট করার মতো হয়ে যাবে |</p>
<!-- /wp:paragraph --></div>
<!-- /wp:group -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>মাঝারি খাতে তৈরিকৃত সফটওয়্যার এর পাশাপাশি কাস্টম সফটওয়্যারের (ভ্যাট অনুযায়ী : সার্ভিস খাত) একটা বড় বাজার পরিলক্ষিত হয় যেটার বেশিরভাগ অংশই দেশীয় সফটওয়্যার কোম্পানি গুলো দিয়ে আসছে | কাস্টমার চাহিদা মোতাবেক বাজেট কম থাকার কারণে বেশিরভাগ সময়ই সফটওয়্যার কোম্পানি গুলোকে ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হতে হচ্ছে | বাজার সফটওয়্যার এ কাস্টম সফটওয়্যার কেনার দক্ষতা বাড়লে এই ক্ষতির পরিমাণ কমে যাবে | সর্বোপরি, মাঝারি শিল্পের কাস্টম সফটওয়্যার এ ভ্যাট আরোপ কাস্টমার ও সফটওয়্যার তৈরি প্রতিষ্ঠানকে নিঃসন্দেহে বাধাগ্রস্ত করবে|</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>বৃহৎ শিল্পে দেশীয় সফটওয়্যার ও ভ্যাট এর প্রভাব:</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বৃহৎ শিল্প ( ব্যাংক, টেলিকম, মেডিসিন, শিপিং অন্যান্য) খাতে দেশীয় সফটওয়্যারের পরিমাণ যথেষ্ট কম , কিন্তু দেশীয় কোম্পানিগুলো তাদের সক্ষমতা প্রমাণে ইনভেস্টমেন্ট ও সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে এবং বেশ কিছু সফলতার গল্প তৈরি হয়ে আছে | যেটা প্রমাণ করে যে, দেশীয় কোম্পানিগুলোকে সুযোগ দিলে তারা এই খাতে সফটওয়্যার দিয়ে প্রচুর পরিমাণ বিদেশী মুদ্রা বাঁচাতে পারবে | এই খাতের দেশীয় তৈরি পণ্য ( যথা: কোর ব্যাঙ্কিং বা টেলিকম সফটওয়্যার) বা কাস্টম সফটওয়্যারে ভ্যাট আরোপ যতার্থ অর্থনৈতিক ক্ষতি বয়ে আনতে পারে | এই খাতে সফটওয়্যার আমদানি কমানো গেলে অনাখাঙ্খিত মুদ্রা পাচার হওয়ার সম্ভাবনা ও কমে যাবে । </p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:media-text {"mediaId":104031,"mediaLink":"https://digibanglatech.news/top-right-sidebar/104020/attachment/smart-bd/","mediaType":"image"} -->
<div class="wp-block-media-text alignwide is-stacked-on-mobile"><figure class="wp-block-media-text__media"><img src="https://digibanglatech.news/wp-content/uploads/2023/06/Smart-BD.jpg" alt="" class="wp-image-104031 size-full"/></figure><div class="wp-block-media-text__content"><!-- wp:group {"layout":{"type":"constrained"}} -->
<div class="wp-block-group"><!-- wp:paragraph -->
<p><strong>সরকারি পর্যায়ে দেশীয় সফটওয়্যার ও ভ্যাটের প্রভাব:</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বিগত কয়েক বছরে দেশীয় সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সুনামের সঙ্গে ভূমিকা পালন করে আসছে | এই খাতে এর আগেও বিদেশি সফটওয়্যারের ব্যবহারের চাইতে দেশীয় সফটওয়্যারের সফলতা অনেক বেশি, কিন্তু বিদেশি সফটওয়্যার তুলনায় দেশীয় সফটওয়্যারের জন্য সরকারি বাজেট নিতান্তই কম | যার কারণে দেশীয় কোম্পানি গুলো স্তায়িত্ব টিকিয়ে রাখার তাগিদে অনেক ক্ষতির সম্মুক্ষিণ হতে হয় | সঙ্গে এই খাতে ব্যাংক সাপোর্ট নিতান্তই দুর্বল| এই সব দিক বিবেচনা করে সরকারি পর্যায়ে দেশীয় সফটওয়্যার পন্য বা সেবা ভ্যাটমুক্ত ঘোষণা স্মার্ট বাংলাদেশ ভিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে|</p>
<!-- /wp:paragraph --></div>
<!-- /wp:group --></div></div>
<!-- /wp:media-text -->

<!-- wp:group {"layout":{"type":"constrained"}} -->
<div class="wp-block-group"><!-- wp:paragraph -->
<p><em><strong>বিদেশি সফটওয়্যার ও শুল্ক প্রভাব :</strong></em></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বিদেশি সফটওয়্যার পণ্যগুলো বিশেষত দুই ভাগে ভিবক্ত করা যায় ।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এক: বাজারে নেই বা যেগুলো খুব সহজে তৈরি হবেনা বিভিন্ন কারণে যেমন পর্যাপ্ত ইনভেস্টমেন্ট অথবা টেকনোলজি সক্ষমতা অথবা সময়সাপেক্ষতার কারনে । এই ক্যাটাগরিতে প্রথমেই চলে আসে অপারেটিং সিস্টেম, যেটি গ্রাহক পর্যায়ে মূলত মাইক্রোসফট ভিত্তিক উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার হয় | অন্যদিকে সার্ভার সাইড এর জন্য মাইক্রোফট সহ ওপেনসোর্স ( যেই সফটওয়্যার গুলো মূলত বিনা খরচে বা ক্ষম খরচে ব্যবহার করা যায়) অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার হয় | এই ক্যাটারির দ্বিতীয় সারিতে চলে আসে ডাটাবেস যেটিও আমাদের দেশে তৈরি হয়না কিন্তু প্রচুর পরিমাণ ওপেন সোর্স ব্যবহার হয় | গুরুত্বপূর্ণ স্তাপনা বা কোম্পানিব্যতীত পেইড ডাটাবেস কম ব্যবহার হয় । তৃতীয় সারিতে সিকিউরিটি সফটওয়্যার, এম্বেডডেড সফটওয়্যার ও মেশিন ভিত্তিক সফটওয়্যার গুলো চলে আসে । এই জাতীয় সফটওয়্যার গুলোতে শুল্ক হারের পরিমাণ বাড়ানোতে ( ৫ থেকে ২৫% ) যা রাজস্ব আসবে তার চাইতে বেশি ক্ষতি হবে এই সফটওয়্যার গুলোর বিদেশি ভেন্ডরকর্তৃক বাজারমূল্য বাড়ানোর কারণে | যদিও এই ক্যাটাগরি গুলোতে বিদেশি কোম্পানি গুলো বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারের চাইতে অনেক বেশি মূল্য নির্ধারণ করে রেখেছে|</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>দুই: যেই পণ্য গুলো বাংলাদেশে তৈরি হয় কিন্তু ক্ষেত্র বেঁধে আনা প্রয়োজন বা ডিপ্লোমেটিক প্রয়োজনে উম্মুক্ত বাজার প্রদান করা| উম্মুক্ত বাজার নীতিতে আমাদের দেশে আইনগত প্রক্রিয়া যেকোন দেশ থেকে সফটওয়্যার আসতে পারে | কিন্তু পুরোপুরি সক্ষমতা অর্জন স্বনির্ভরতা অথবা বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে দেশীয় পণ্য বা সেবাকে প্রাদান্য দেয়া গুরুত্বপূর্ণ | এই পণ্য গুলার ভ্যাট ও শুল্ক করের পরিমাণ বাড়ানো ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি ধরে আরও সুবিন্যস্ত কোড প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে স্মার্ট বাংলাদেশের ভিশন পূরণে সফটওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অনেক জোরদার হবে |</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:group {"align":"wide","layout":{"type":"constrained"}} -->
<div class="wp-block-group alignwide"><!-- wp:paragraph -->
<p><strong>একটি স্বল্প সময়ের সফলতা:</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>২০১৮ সালে এনবিআর কর্তৃক দেশীয় সফটওয়্যার কোম্পানি গুলোকে ভ্যাট সফটওয়্যার বানানো ও বাজারজাত করণের নিবন্ধনের ফলে ভ্যাট রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ক্রমাগত অনলাইন হচ্ছে ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাচ্ছে |</p>
<!-- /wp:paragraph --></div>
<!-- /wp:group --></div>
<!-- /wp:group -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখকঃ </strong><em>প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ,ডিভাইন আইটি লিমিটেড</em></p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>প্রস্তাবিত বাজেটে টেলিকম সেবায় সুখবর নেই</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A7%87+%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%AE+%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC+%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%96%E0%A6%AC%E0%A6%B0+%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A4+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A7%87+%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%AE+%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%AF%E0%A6%BC+%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%96%E0%A6%AC%E0%A6%B0+%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 02 Jun 2023 03:33:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:paragraph {"align":"center"} -->
<p class="has-text-align-center"><strong>মহিউদ্দিন আহমেদ</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>প্রস্তাবিত বাজেটকে (২০২৩-২৪) বলা হচ্ছে স্মার্ট বাজেট। কিন্তু স্মার্ট বাজেটের চারটি স্তম্ভের মধ্যে অন্যতম স্মার্ট সোসাইটি, স্মার্ট কানেক্টিভিটি ও স্মার্ট অর্থনীতি পরিশেষে স্মার্ট জনগণ। এই চারটি খাতে উন্নয়ন করতে হলে একজন নাগরিকের চাই সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেট সেবা এবং ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য চাই স্মার্ট ডিভাইস। কিন্তু স্মার্ট বাজেটের কথা বললেও স্মার্ট কানেক্টিভিটির অন্তরায় তৈরি করে প্রস্তাবিত বাজেটে হ্যান্ডসেট ডিভাইসের উপর তিন থেকে পাঁচ শতাংশ কর নতুন করে আরোপ করা হয়েছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এছাড়া আমদানির উপর পূর্বের ৫৮ শতাংশের সঙ্গে নতুন করে কর যুক্ত করা হয়েছে। দেশের যেখানে এখনো ৪৪ শতাংশ নাগরিক ইন্টারনেট কানেক্টিভিটিতে যুক্ত হতে পারেনি সেখানে এমন সিদ্ধান্ত তাদের ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>ক্যাশলেস বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হলে সবার হাতে স্মার্ট ডিভাইস অত্যন্ত জরুরি। মোবাইল ইন্টারনেট ও ভয়েজ কলের ক্ষেত্রে ৩৩.৭৫ শতাংশ ভ্যাট অব্যাহত রয়েছে। এক্ষেত্রেও সিম ট্যাক্স রাজস্ব ভাগাভাগি এবং মধ্যস্বত্ব সেবার কর মিলিয়ে প্রায় ৫৮ শতাংশ কর অপারেটরকে দিতে হয়। আমরা আশা করেছিলাম গ্রাহক সেবার ক্ষেত্রে হয়ত কিছুটা কর কমানো হতে পারে। ব্রডব্যান্ড সেবার ক্ষেত্রেও ১৫ শতাংশ কর অব্যাহত আছে। কেবলমাত্র ফাইবার উৎপাদনের জন্য ৫ শতাংশ কর কমানো হয়েছে। ফাইবার ক্যাবলে কর কমানোর ফলে ইন্টারনেট সেবা দানকারী আইএসপি প্রতিষ্ঠানের হয়ত কিছুটা লাভ হবে কিন্তু গ্রাহক পর্যায়ের সুফল খুব একটা মিলবে না।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>প্রস্তাবিত বাজেটে টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তির সেবার ব্যবহারকারীদের জন্য কোন সুখবর নেই। আমরা মনে করি এখনো সময় আছে স্মার্ট বাজেটকে স্মার্ট বাজে ট তৈরীর সহায়ক সকল শক্তিতে সরকার-কর কমিয়ে আনবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখকঃ</strong> <em><strong>সভাপতি,</strong> বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন</em></p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>নীলিমায় সেবা : কেবনি ক্রু ক্যারিয়ার</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A7%9F+%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE+%3A+%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BF+%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81+%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A7%9F+%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE+%3A+%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BF+%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81+%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 02 Jun 2023 01:48:00 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:paragraph {"align":"center"} -->
<p class="has-text-align-center"><strong>মোঃ কামরুল ইসলাম</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>কেবিন সার্ভিস যেকোনো এয়ারলাইন্সের একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ ডিপার্টমেন্ট। যারা প্রতিদিন বিমান যাত্রীদেরকে সরাসরি সেবা দেয়ার সুযোগ পেয়ে থাকে। একটি এয়ারলাইন্স কোম্পানী যে সেবামূলক প্রতিষ্ঠান তার পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে সহায়তা করে কেবিন ক্রুরা। প্রতিদিন একটি হাসপাতাল কিংবা অন্যান্য সেবামূলক যেকোনো প্রতিষ্ঠান থেকেও সংখ্যার হিসেবে এয়ারলাইন্স ক্রুরা বেশী যাত্রীদের সেবা দিয়ে থাকে। তাদের মনোভাবটাই থাকে এয়ারলাইন্সের যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির পিছনে তাদের সেবাই প্রধান ভূমিকা পালন করে থাকে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>দেশ-বিদেশ ভ্রমণ, আজন্ম লালিত স্বপ্নের জাল বুনে থাকে অনেক স্মার্ট-শিক্ষিত নারীরা। যাঁরা আকাশছোঁয়ার স্বপ্ন দেখেন, পাখির মতো আকাশে উড়ে বেড়াতে চান, সারা বিশ্বকে খুব কাছ থেকে দেখতে চান, তাঁদের জন্য কেবিন ক্রুর চাকরি অনেকটা সোনার হরিণের মতো। সারা বিশ্বের প্রত্যেকটি এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু বা এয়ার হোস্টেজ পদটির অধিকাংশই বরাদ্দ আছে উপরোক্ত গুনাবলীর নারীদের জন্য।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশের সরকারী-বেসরকারী এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু পদে সবাই বাংলাদেশী এবং অনেক বিদেশী এয়ারলাইন্সও বাংলাদেশী কেবিন ক্রু নিয়োগ দিয়ে যাচ্ছে। এর পিছনে রয়েছে বিশেষ কারন বাঙ্গালীরা জাতি হিসেবে খুবই অতিথি পরায়ন। এর পিছনে নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত কেবিন ক্রুদের এয়ারলাইন্সে চুক্তিবদ্ধ হতে হয়। পরবর্তী সময়ে তা পুন:চুক্তি করার সুযোগ আছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>প্রত্যেক এয়ারলাইন্সের গন্তব্য বিশ্বের সব বড় বড় শহরে। আকাশ কন্যার চাকুরীর সুবাদে সব বড় বড় শহর, চিত্তাকর্ষক সব আধুনিক বিমান বন্দর দেখা হয়ে যায়। স্বল্প সময়ের জন্য শহর দেখারও সুযোগ থাকে অনেক সময়। শুধু চোখের কিংবা মনের তৃপ্তি নয়, এখানে আর্থিক স্বচ্ছলতাও একটা বড় ব্যাপার। নির্দিষ্ট বেতনের বাহিরে যত বেশী আকাশ ভ্রমণ তত বেশী উপার্জন। সত্যিই বিচিত্র। প্রতিটি ফ্লাইটে শতাধিক যাত্রীকে সেবা প্রদান আর কোন প্রফেশনে আদৌ সম্ভব নয়। সংখ্যার বিচারে প্রতিমাসে হাজার হাজার যাত্রীকে সেবা দেয়া কোন হাসপাতালেও সম্ভব নয়। প্রতি ফ্লাইটে কত বিচিত্র রকম মানুষের সাথে পরিচয় হয়। যা তার জ্ঞান ভান্ডারকেও করে সমৃদ্ধি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>সাবলীল বাচনভঙ্গী। নজরকাড়া সৌন্দর্য্য। স্বাভাবিক গড় উচ্চতার চেয়ে একটু বেশী। কেবিন ক্রু হওয়ার জন্য যোগ্যতা হিসেবে ন্যূনতম এইচএসসি বা এ লেভেল কিংবা সমমানের হতে হয়। সাধারনত বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছর এর মধ্যে হতে হবে। মেয়েদের জন্য কমপক্ষে ৫ ফুট ২ ইঞ্চি এবং ছেলেদের জন্য ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতা থাকতে হয়, আর ওজন উচ্চতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। চোখের মাপ-৬/৬ (চশমা বা কন্টাক্ট লেন্স গ্রহণযোগ্য নয়)। হাতে কোনো কাটা দাগ কিংবা শরীরে কোনো ট্যাট্টু থাকতে পারবে না, যা সহজে দেখা যায়। সাঁতার জানা আবশ্যক। কোনও কারণে বিমান যদি পানিতে অবতরণ করতে হয় সেজন্য বিমানবালাদের কমপক্ষে ২০ মিটার সাঁতার কাটার সক্ষমতা থাকতে হয়। ইংরেজি ও বাংলায় কথা বলা ও লেখায় দক্ষ হতে হবে, অন্য ভাষা জানা অতিরিক্ত যোগ্যতা হিসেবে দেখা হয়। সাধারনত বিভিন্ন এয়ারলাইন্স কেবিন ক্রুর জন্য অবিবাহিতদের অগ্রাধিকার দিয়ে থাকে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বর্তমানে এয়ার হোস্টেজ বা কেবিন ক্রু পেশা স্মার্ট ও সম্মানজনক হওয়ায় প্রতিনিয়ত প্রবল ইচ্ছাশক্তি, আত্মবিশ্বাস ও ঝুঁকি গ্রহণের দৃঢ় মানসিকতা নিয়ে এয়ারলাইন্সগুলোতে ভিড় করছে তরুণ-তরুণীরা। তা ছাড়া এ পেশায় আছে অ্যাডভেঞ্চার, গ্ল্যামার ও উচ্চ আয়ের পন্থা। তাই দিন দিন ক্যারিয়ার হিসেবে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এ পেশা। সঙ্গে সঙ্গে তরুণদের মাঝে পেশাটি হয়ে উঠেছে প্রতিযোগিতামূলক।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>দীর্ঘ প্রস্তুতি না থাকলেও কিছু প্রশিক্ষণ কোর্স করে দেশী ও বিদেশী এয়ারলাইন্সগুলোতে চাকরির সুযোগ নেওয়া যায়। সাফল্যের সঙ্গে এ ক্যারিয়ারে যুক্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের তরুণ-তরুণীরা। বর্তমানে কেবিন ক্রু প্রশিক্ষণের জন্য কিছু একাডেমী আছে যেখানে প্রাথমিক ধারনা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে এভিয়েশন কলেজ অব ইউনাইটেড, বাংলাদেশ বিমান ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, জবস এ-ওয়ান উল্লেখযোগ্য। বাংলাদেশে এখন প্রতি বছর বিভিন্ন এয়ারলাইন্সে উল্লেখযোগ্য পরিমান কেবিন ক্রু নিয়োগ প্রদান করতে হয়। কারন একটাই বেসরকারী এয়ারলাইন্সের অগ্রগতি।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>স্মার্টনেস ও ভালো ইংরেজি বলার দক্ষতা আপনাকে এগিয়ে রাখবে এয়ার হোস্টেজ বা কেবিন ক্রু হওয়ার প্রতিযোগিতায়। কেবিন ক্রু বা এয়ার হোস্টেজ হতে চাইলে অধিক সুন্দর বা সুন্দরী হতে হবে- এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই। যোগ্যতাই হল আসল কথা। যেকোন ধর্মের ছেলে মেয়েরা আবেদন করতে পারবে। প্রার্থীকে পরিচ্ছন্ন রুচি, মিষ্টি হাসি, অনেকক্ষণ এককভাবে কাজ করার ক্ষমতা, বিরক্তিকর পরিস্থিতে স্বাভাবিক থাকা, উপস্থিত বুদ্ধিজ্ঞান, ধৈর্য্য ও সহনশীলতা, বিপদে সাবলিল মানসিকতা ও সবার সাথে আন্তরিকতার সাথে মিশতে পারার ক্ষমতা এ চাকরিতে সফলতা এনে দেবে। আমাদের দেশের শত শত ছেলেমেয়ে প্রতিদিন উড়ে চলেছে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো কেবিন ক্রুদের বিভিন্ন দেশের বিলাসবহুল হোটেলগুলোয় থাকার ব্যবস্থা করে থাকে, যেখানে থাকা এবং খাওয়া সম্পূর্ণ ফ্রি। শুধু একজন ক্রু'র নিজের জন্যই নয়, তার পরিবারের সদস্যদের জন্যও আছে নানা ধরনের সুবিধা। পরিবারসহ বিভিন্ন দেশে ট্যুর করার সুযোগ হরহামেশাই পাওয়া যায় এই পেশায়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বিশ্বের বেশিরভাগ এয়ারলাইনসের কেবিন ক্রু সদস্যদের মধ্যে মেয়েদের সংখ্যাই বেশি। যাত্রীদের খাবার পরিবেশন ছাড়াও তাদের নির্দিষ্ট আসন খুঁজে পেতে সহায়তা করা, ওভারহেডে মালপত্র ওঠানামায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়া, যাত্রীদের কেউ অসুস্থ হলে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা প্রদান করার মতো অনেক দায়িত্ব পালন করেন তারা। সব মিলিয়ে ফ্লাইটের অভ্যন্তরে বিমান উড্ডয়ন ও অবতরণের সময় যাত্রীদের নিরাপদে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে তাদের।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>কেবিন ক্রুদের মাথার চুল অবশ্যই কাঁধের ওপর পর্যন্ত ছোট রাখা আবশ্যক। চুল লম্বা হলেও সেভাবে সাজিয়ে রাখতে হবে। আর চুলের রঙ হতে হবে স্বাভাবিক। প্রত্যেক ক্রুর হাত ও পায়ের নখ ছোট রাখা বাধ্যতামূলক। অনেক বিদেশী এয়ারলাইন্সে কেবিন ক্রুদের সুন্দর পা থাকাও বাধ্যতামূলক।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আপনার পরিচিত কিংবা আপনার বন্ধুই হয়তো কোন না কোন এয়ারলাইন্সের কেবিন ক্রু তার কাছ থেকেও বাস্তবতা উপলব্ধি করতে পারেন, জেনে নিতে পারেন অনেক কিছু। উপরোক্ত গুনাবলী আর অদম্য ইচ্ছা থাকলেই সুদূর পরাহত নয়, আপনিও হয়ে যেতে পারেন কোন এয়ারলাইন্সের আকাশ কন্যা।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>৩১ মে ছিলো আন্তর্জাতিক কেবিন ক্রু দিবস। কানাডা ইউনিয়নের উদ্যোগে ২০১৫ সালে বিশ্বে প্রথম কেবিন ক্রু দিবস পালন করা হয়। প্রথম ৪৮০ জন কেবিন ক্রু নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি উদযাপন করা হয়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p><strong>লেখক :</strong> <em><strong>মহাব্যবস্থাপক</strong>-জনসংযোগ, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স।</em></p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বাজেট ২০২৩&#45;২৪ : প্রস্তাবনা ও সুপারিশ</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%9F+%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A8%E0%A7%A9-%E0%A7%A8%E0%A7%AA+%3A+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE+%E0%A6%93+%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B6</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%9F+%E0%A7%A8%E0%A7%A6%E0%A7%A8%E0%A7%A9-%E0%A7%A8%E0%A7%AA+%3A+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A6%BE+%E0%A6%93+%E0%A6%B8%E0%A7%81%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B6</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 30 May 2023 20:50:40 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:paragraph {"align":"center"} -->
<p class="has-text-align-center"><strong>সৈয়দ আলমাস কবীর</strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>নির্বাচন-পূর্ববর্তী বছরে দেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট উত্থাপিত হতে যাচ্ছে এই সপ্তাহেই। আয়-ব্যয়ের প্রাক্কলন হিসাব নিয়ে উত্থাপিত বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে প্রায় পৌনে আট লাখ কোটি টাকা। উচ্চ মূল্যস্ফীতির বেহাল দশা আর বিশ্ব অর্থনীতির টানাপোড়নে আগামী অর্থবছরের বাজেট নিয়ে ব্যবসায়ী সম্প্রদায় বেশ আগ্রহী।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>করোনার চেয়েও ভয়াবহ আর্থিক সমস্যা সৃষ্টি করেছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। মহামারী-উত্তর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যখন অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর্যায়ে, ঠিক তখনই শুরু হয় রাশিয়া-ইউক্রেন অসম যুদ্ধ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি অংশ না নিলেও তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ব্যাপক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। বিশ্বব্যাপী সাপ্লাই সাইড মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকেও প্রভাবিত করছে। স্থানীয় বাজারে প্রতিটি পণ্যের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। দ্রব্যমূল্যের কারণে দেশের অধিকাংশ মানুষই এখন বিপর্যস্তপ্রায়।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>করোনা মহামারী দ্বারা সৃষ্ট বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক মন্দার পরবর্তী সময়ে পরবর্তী জাতীয় বাজেট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে অগ্রাধিকার দেবে বলে আমরা আশাবাদী। পাশাপাশি সকল সুবিধা সমভাবে সব নাগরিকের মধ্যে সুষমভাবে বিতরণ করা হয়েছে তা নিশ্চিত করবে। ছোট এবং মাঝারি আকারের উদ্যোগ (এসএমই), কৃষি এবং অনানুষ্ঠানিক খাতে বিনিয়োগ করতে উদ্বুদ্ধ করতে হবে যা অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি তৈরি করতে পারে। পরবর্তী জাতীয় বাজেটে এসএমই এবং অনানুষ্ঠানিক খাতকে বিকশিত করার জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি করা উচিত, যা চাকরি সৃষ্টি এবং দারিদ্র্য হ্রাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটি লক্ষ্যযুক্ত আর্থিক প্রণোদনা, কম খরচে অর্থায়নে অ্যাক্সেস এবং ছোট ব্যবসার জন্য সক্ষমতা-নির্মাণ কর্মসূচির মাধ্যমে অর্জন করা যেতে পারে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>জাতীয় বাজেটে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং গণিত (STEM) বিষয়গুলিতে মনোযোগ দিয়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা এবং দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে বিনিয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। এটি চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চাহিদার জন্য কর্মী বাহিনীকে প্রস্তুত করতে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অবদান রাখতে সাহায্য করবে। আজকের দ্রুত বিকাশমান ডিজিটাল ল্যান্ডস্কেপে দেশের ডিজিটাল রূপান্তর এবং ই-গভর্নেন্স সার্ভিসগুলিকে সাপোর্ট করা পরবর্তী জাতীয় বাজেটের জন্য অপরিহার্য যা পাবলিক সার্ভিস ডেলিভারি উন্নত করতে পারে এবং নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ তৈরি করতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ডিজিটাল অবকাঠামোতে বিনিয়োগ, ডিজিটাল সাক্ষরতার প্রচার এবং দেশীয় আইসিটি সেক্টরের উন্নয়নে সহায়তা করা।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>জলবায়ু পরিবর্তনের প্রতিকূল প্রভাব প্রশমিত করার জন্য, জাতীয় বাজেটে জলবায়ু সহনশীলতা এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব উন্নয়নের জন্য আরও বরাদ্দ দেওয়া উচিত। এর মধ্যে রয়েছে নবায়নযোগ্য শক্তি বা রিনিউয়েবল এনার্জিতে বিনিয়োগ, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস, এবং অরক্ষিত সম্প্রদায় এবং বাস্তুতন্ত্র রক্ষার জন্য টেকসই অবকাঠামো।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এই উচ্চাভিলাষী উদ্যোগগুলিকে অর্থায়নের জন্য পরবর্তী জাতীয় বাজেটে কর সংগ্রহ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার উন্নতিতে ফোকাস করা উচিত। কর সংস্কার, কর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন এবং কর প্রশাসকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির কর্মসূচির মাধ্যমে এটি অর্জন করা যেতে পারে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি বাজেট প্রস্তাবনাঃ</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:list -->
<ul><!-- wp:list-item -->
<li>&nbsp;শিল্প পরিচালনার ব্যয় কমানোর জন্য আমদানি পর্যায়ে অগ্রিম আয়করের (এআইটি) হার ধাপে কমিয়ে ৩% করা উচিত। বর্তমানে অগ্রিম আয়করের হার ৫%। উল্লেখ্য যে, অগ্রিম আয়করের হার ৩০ জুন ২০১০ পর্যন্ত ৩% ছিলো।</li>
<!-- /wp:list-item -->

<!-- wp:list-item -->
<li>জীবনযাত্রার ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে ব্যক্তি করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা ৩,০০,০০০/- টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৪,০০,০০০ টাকা এবং মহিলা ও সিনিয়র নাগরিকদের জন্য ৩,৫০,০০০/- টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৪,৫০,০০০ টাকা করা প্রয়োজন।</li>
<!-- /wp:list-item -->

<!-- wp:list-item -->
<li>সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি করার জন্য সকল উপজেলা পর্যায়ে আয়কর দপ্তর স্থাপন করা প্রয়োজন;</li>
<!-- /wp:list-item -->

<!-- wp:list-item -->
<li>তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটালাইজেশন ভিত্তিক উৎসে করের কার্যক্রম, আয়কর রিটার্ণ দাখিল, অডিট নির্বাচন, কর নির্ধারণ, আপিল ও রিফান্ড প্রক্রিয়া নিশ্চিত করা দরকার;</li>
<!-- /wp:list-item -->

<!-- wp:list-item -->
<li>পণ্য উৎপাদনের লক্ষ্যে আমদানিকৃত উপকরণের ক্ষেত্রে ৩ (তিন) শতাংশ আগাম কর (এটি) ধাপে ধাপে রহিত করা প্রয়োজন। কারন এর ফলে শিল্প উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পায়।</li>
<!-- /wp:list-item -->

<!-- wp:list-item -->
<li>নিম্ন আয় এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ব্যবহার্য্য পণ্য, সাধারন পণ্য পরিবহন, নিত্য প্রয়োজনীয় অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবা, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত শিল্পের কাঁচামাল/উপকরণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, রি-সাইক্লিং, টেন্ডার বহির্ভূত সরাসরি পণ্য মেরামত বা সার্ভিসিং খাত ইত্যাদি ক্ষেত্রে মূসক ও সম্পূরক শুল্ক অব্যাহতি দেয়া।</li>
<!-- /wp:list-item -->

<!-- wp:list-item -->
<li>বর্তমানে শুধুমাত্র ভ্যাট নিবন্ধন ও ভ্যাট রিটার্নের ক্ষেত্রে অনলাইনে দাখিল করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। নোটিশ প্রদান, অনলাইনে ডকুমেন্টেশন আদান-প্রদান, অডিট ও রিফান্ড সহ সকল কার্যক্রম অনলাইন ভিত্তিক হওয়ার বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও ভ্যাট নিবন্ধন, রিটার্ণ দাখিল, রিফান্ড, অডিট সহ সকল কার্যক্রম করার ক্ষেত্রে অটোমেশন প্রয়োজন। এ পদ্ধতি প্রবর্তনের ফলে করদাতাদের ব্যবসা পরিচালনা করা অনেক সহজ হবে তার সাথে সাথে মূসক কর্তৃপক্ষেরও করদাতাদের তদারকি করা অনেক সহজ হবে।</li>
<!-- /wp:list-item -->

<!-- wp:list-item -->
<li>যন্ত্রপাতি, তালিকাভুক্ত অত্যাবশ্যকীয় পন্য, মৌলিক এবং দেশে উৎপাদিত হয়না এমন কাঁচামাল-এর আমদানি শুল্ক হার ১% থেকে ৩% এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা;</li>
<!-- /wp:list-item -->

<!-- wp:list-item -->
<li>আন্তর্জাতিক লেনদেনের ভারসাম্য বজায় রাখার লক্ষ্যে আমদানি সীমাবদ্ধ করার জন্য তালিকাভুক্ত পন্য বা সেবার ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক (Regulatory Duty) আরোপ করা উচিত;</li>
<!-- /wp:list-item --></ul>
<!-- /wp:list -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>গত ২৬ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরসঙ্গী ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি হিসেবে জাপান সফর করি। সেখানে বাংলাদেশ এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে অনেকগুলো সিদ্ধান্ত হওয়ার পাশাপাশি জাপান বাজেট সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশকে ৩০ বিলিয়ন ইয়েন উন্নয়ন সহায়তা দেবে জাপান। আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বের প্রসারে যা একটি দৃষ্টান্ত।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>পরবর্তী বাজেটের জন্য চারটি বড় চ্যালেঞ্জ &nbsp;- সুদের টাকা পরিশোধ, জনকল্যাণে বড় আকারের ভর্তুকি দেয়া, মূল্যস্ফীতি সামাল দেয়া ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত মেনে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ বৃদ্ধি। এছাড়া প্রতি বছরেই রাজস্ব আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয় তা পূরণ করা সম্ভব হয় না। এতে করে বছর শেষে ঘাটতি দেখা যায়। অথচ রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও আদায়ের মাধ্যমে অনেকখানি ঘাটতি সামাল দেয়া সক্ষম। তবে জিডিপির ঘাটতি ৫ শতাংশের মধ্যে থাকলে এটাকে মেজর কোনো সমস্যা বলে প্রতীয়মান হয় না।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>আমলাতান্ত্রিক পদ্ধতি হ্রাস করা, নীতিমালাকে ব্যবসাবান্ধব করা এবং ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্সের জন্য একটি স্বচ্ছ ও দক্ষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একটি অনুকূল ব্যবসায়িক পরিবেশ আরও বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে এবং স্থানীয় ব্যবসার প্রবৃদ্ধিকেও উৎসাহিত করে। এছাড়াও ব্যবসায়িক নিবন্ধন এবং লাইসেন্সের জন্য সুবিন্যস্ত পদ্ধতি এবং অর্থায়ন এবং ঋণের অ্যাক্সেস বৃদ্ধি করা উচিত। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের জন্য বাজেট যে ব্যাপক এবং কার্যকর তা নিশ্চিত করতে এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে নীতিনির্ধারকদের এগিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশে ব্যবসা সহজীকরণে সরকারকে আরও উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:heading {"level":6} -->
<h6><em>লেখকঃ<strong> সৈয়দ আলমাস কবীর</strong>,সভাপতি, বাংলাদেশ মালয়েশিয়া চেম্বার (বিএমসিসিআই); পরিচালক, এফবিসিসিআই; পরিচালক, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন; সিইও, মেট্রোনেট বাংলাদেশ লিমিটেড এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আয়আল কর্প লিমিটেড।</em></h6>
<!-- /wp:heading -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>কেমন বাজেট চাই</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%A8+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%9F+%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%87</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%A8+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%9F+%E0%A6%9A%E0%A6%BE%E0%A6%87</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 22 May 2023 13:16:15 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<!-- wp:paragraph {"align":"center"} -->
<p class="has-text-align-center"><strong>রাসেল টি আহমেদ</strong>, <em>সভাপতি</em><strong>, বেসিস </strong></p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বাংলাদেশ আজ ডিজিটাল যুগ পেরিয়ে স্মার্ট বাংলাদেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের পর স্বল্পোন্নত আয়ের দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হবে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের এ অগ্রযাত্রায় সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি তথ্যপ্রযুক্তি খাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>‘রূপকল্প ২০৪১’ অনুযায়ী স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে দেশীয় তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে উৎসাহ প্রদান, ২০২৫ সাল নাগাদ সরকারের ৫০০ কোটি (৫ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, স্থানীয় বাজার সম্প্রসারণ, তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের বিশ্বমানের সক্ষমতা তৈরি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিশ্চিতকরণ এখন সময়ের দাবি। তাই এসব লক্ষ্য অর্জনে সরকারের ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরের বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনায় আনতে হবে। বেসিস মনে করে, তথ্যপ্রযুক্তি খাতের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নে কিছু বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>প্রথমত: ২০৩০ সাল নাগাদ করপোরেট ট্যাক্স এক্সেম্পশন সুবিধা বলবৎ রাখতে হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>দ্বিতীয়ত: সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা রপ্তানিকে উৎসাহ দিতে এ খাতের রপ্তানি আয়ের ওপরে আর্থিক প্রণোদনা ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করতে হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>তৃতীয়ত: দেশি সফটওয়্যার ব্যবহারে উৎসাহ প্রদানের জন্য দেশীয় সফটওয়্যার ক্রয়ে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা চালু করতে হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>চতুর্থত: তথ্যপ্রযুক্তিশিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল তৈরির জন্য সুচিন্তিত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>পঞ্চমত: স্থানীয় সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) সব পর্যায়, অর্থাৎ আমদানি, উৎপাদন, সেবা ও ব্যবসায়ী পর্যায় থেকে সম্পূর্ণভাবে উঠিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>উল্লেখ্য, দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তা বা ব্যবসায়ীরা এখন ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন। টেকসই ব্যবসার জন্য বাজার সৃষ্টির বিষয়টি অনেকাংশেই চ্যালেঞ্জিং। করোনার মতো বৈশ্বিক মহামারি, চলমান ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ এবং তার সুদূরপ্রসারী নেতিবাচক প্রভাবের কারণেও ব্যবসায়ীরা কয়েক বছর পিছিয়ে পড়েছেন। বৈদেশিক বাজার সম্প্রসারণের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলেও তেমন উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধিত হয়নি। বর্তমানে কর অব্যাহতির মেয়াদ মাত্র এক বছর থাকায় বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘমেয়াদি কোনো বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন না। সামগ্রিকভাবে সরকারঘোষিত অগ্রাধিকার খাত ও শিল্প হিসেবে বিবেচিত এই তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায় তরুণ উদ্যোক্তা ও পেশাজীবীদের এবং বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে এ অব্যাহতির সময়সীমা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>অন্যদিকে ২০২৬ সালের পর যখন আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে একটি উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হব, তখন আমরা কিছু সুযোগ পাব। আমাদের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে এবং দেশের আরও উন্নয়ন করতে আমাদের সেই সুযোগগুলোকে কাজে লাগাতে হবে, রপ্তানি ক্ষেত্রে পণ্যসেবা এবং বাজার বহুমুখীকরণে যেতে হবে। বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি স্থানীয়ভাবে মূল্য সংযোজনকারী খাত হিসেবে তথ্যপ্রযুক্তির রপ্তানি বাড়িয়ে দেশেই রপ্তানি আয়ের পুরোটাই রাখার এ সুযোগ কাজে লাগানোর তাই অন্য কোনো বিকল্প নেই।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফলস্বরূপ ১০ শতাংশ রপ্তানি আর্থিক প্রণোদনা বাংলাদেশের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা রপ্তানির পরিমাণকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে ১৪০ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা রপ্তানি হচ্ছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্যানুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে এ খাতে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ছিল ৯৫ শতাংশ। বেসিসের গবেষণা অনুযায়ী এ খাতের রপ্তানি আয় ২০২৫ সাল নাগাদ ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং ২০৩১ নাগাদ ২০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার সম্ভাবনা রয়েছে। সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা খাতের এ অগ্রযাত্রায় রপ্তানি আয়ের ওপর বহাল ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনাকে বৃদ্ধি করে ২০ শতাংশ করা প্রয়োজন এবং একই সঙ্গে নতুন নতুন সফটওয়্যার বা তথ্যপ্রযুক্তির উদ্ভাবন ও নতুন বাজার সম্প্রসারণে মনোযোগী হতে হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>বর্তমানে দেশীয় সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তির প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক মানের সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা তৈরি এবং বাজারজাত করছে। বেসিসের তথ্যানুযায়ী, আইসিটি খাতের স্থানীয় বাজারের আকার প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার। বৈদেশিক মুদ্রার এ সংকটকালে সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবা আমদানি নিরুৎসাহিত করতে এবং তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবার প্রতি স্থানীয় করপোরেট গ্রাহকদের আগ্রহ বাড়াতে বাংলাদেশি উৎস থেকে কেনা সফটওয়্যার ও তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবার ওপর ৫ শতাংশ নগদ আর্থিক প্রণোদনা ক্রয়কারী স্থানীয় করপোরেট গ্রাহকদের প্রদান করা যেতে পারে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->

<!-- wp:paragraph -->
<p>এ ছাড়া সব মন্ত্রণালয় ও তাদের অধিভুক্ত সংস্থাগুলোর অভ্যন্তরীণ উন্নয়নের জন্য যে বাজেট রয়েছে, তার অন্তত ১০ শতাংশ দেশি সফটওয়্যার ও আইটিইএস কেনার জন্য বরাদ্দ করা যেতে পারে। আমরা এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের মধ্যে বাস করছি। এই শিল্পবিপ্লবের কথা মাথায় রেখেই আমাদের তথ্যপ্রযুক্তিশিল্পের জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বিনিয়োগ করতে হবে। দেশের মানুষকে কারিগরি ও প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণে দক্ষ করে তুলতে হবে, যাতে তারা পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে সমানতালে চলতে পারে। দক্ষ জনশক্তি আমাদের দেশের উন্নয়ন খাতে অবদান রাখতে পারবে। এ ক্ষেত্রে বাজেটে সরকারি থোক বরাদ্দের মাধ্যমে বেসিসকে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচির দায়িত্ব দেওয়া হলে বেসিস তার অতীত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ জনসম্পদ গড়ে তুলতে সচেষ্ট হবে।</p>
<!-- /wp:paragraph -->]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থী একটি ল্যাপটপ</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A7%8B%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%B2+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%9F%E0%A7%87+%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9C%E0%A6%A8+%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%80+%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF+%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%9F%E0%A6%AA</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A1%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AB%E0%A7%8B%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%B2+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%9F%E0%A7%87+%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9C%E0%A6%A8+%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%80+%E0%A6%8F%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%BF+%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%9F%E0%A6%AA</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 01 Jan 2023 15:41:16 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[সাদ্দাম হোসেন, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালীন সময়ে সে ”ওয়ান স্টুডেন্ট ওয়ান ল্যাপটপ” প্রজেক্টের আওতায় ল্যাপটপ গ্রহণ করে। তখন থেকেই সে ভাবতে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রদত্ত এই ল্যাপটপটির যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে কিভাবে নিজের প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং ক্যারিয়ারের উন্নয়ন ঘটানো যায়। যেই কথা সেই কাজ। তার তৈরি করা সামাজিক নিরাপত্তা জনিত সেল্ফ প্রোটেক্ট-ইমার্জেন্সি সেফটি আ্যাপের জন্য তিনি ২০১৭-১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে জাতীয় পুরষ্কার ও তহবিল অর্জন করেন এবং বর্তমানে উইংকি টেক লিমিটিড এর সিইও। তার প্রতিষ্ঠানে আরো অনেকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

শুধু সাদ্দাম হোসেন নয় মাইনুল হাসান দুলন, শফিউল ইসলাম কিংবা আশরাফ আলী, তাদের মতো হাজারো শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যলয় থেকে প্রাপ্ত ল্যাপটপের যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে প্রযুক্তিগত দক্ষতা, ফ্রিলেনসিং, নেটওয়ার্কিং, অনলাইন বিজনেস, ব্যাংক, সফটওয়্যার ফার্মসহ নানা ক্ষেত্রে নিজেকে উদ্যোক্তা অথবা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে নিজেকে সফল পর্যায়ে নিতে সক্ষম হয়েছে। গুগল, ইয়াহু, ব্যাংকিং সেক্টর, সরকারী-বেসরকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চপর্যায়ে ড্যাফোডিল এ্যালামনাইরা দেশে বিদেশে অত্যান্ত সফলতার সাথে যোগ্যতা এবং দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে।

মুলত, তথ্য প্রযুক্তির ক্রমবিকাশমান ধারার সাথে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে যুগোপযোগী করে তুলতে এবং প্রতিযোগীতামূলক চাকরি এবং উদ্যোক্তার বাজারে শিক্ষার্থীদের দক্ষ এবং যোগ্য করে গড়ে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ ‘একজন ছাত্র একটি ল্যাপটপ’। ২০১১ সাল থেকে শুরু হয়ে অদ্যাবধি প্রায় ৫০ হাজার ল্যাপটপ শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে বিতরণ করেছে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। এমনকি করোনাকালীন কঠিন সময়েও এই ল্যাপটপ বিতরণ কার্যক্রম থেমে থাকেনি। সরকারী ট্যাক্স, ভ্যাট এবং দামের উর্ধগতিসহ শত প্রতিকূলতা এবং প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করে শিক্ষার্থীদের একটি অন্যতম শিক্ষা উপকরণ হিসেবে ল্যাপটপ বিতরণ কার্যক্রম চালিয়ে গেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ফলশ্রæতিতে শিক্ষার্থীরা করোনাকালীন সময়েও নির্বিঘেœ এবং নিরবিচ্ছিন্নভাবে অনলাইন শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের শুধুমাত্র ল্যাপটপই প্রদান করে না, ল্যাপটপটি দেওয়ার পূর্বে ম্যানটরিং, মনিটরিং সিস্টেমের মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষাথীর উপড় রিচার্স করে শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপটির কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে সহায়তা করে। প্রতিটি শিক্ষার্থীর ফলাফল যাতে ভালো হয়, প্রতিনিয়ত সেই দিকে দৃষ্টিপাত করা হয়। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের পেশাগত এবং নৈতিক উন্নয়নের জন্য এম্প্লয়াবিলিটি ৩৬০ ডিগ্রি, আট অব লিভিং, কম্পিউটার ফান্ডামেন্টাল, ক্যারিয়ার কাউন্সিলিংসহ নানা রকম কোর্স পরিচালনা করে বিশ্ববিদ্যালয়, যাতে শিক্ষার্থীদের চাকুরীর বাজারে কোন রকম সুযোগ হাতছাড়া না হয়।

শিক্ষার্থীদের ল্যাপটপ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক গুলো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয় যেখানে ড্যাফোডিল পরিবারের আরেকটি প্রতিষ্ঠান ড্যাফোডিল কম্পিউটার্স লিমিটেড সহযোগীতা করে আসছে। যেমন গুগল সাইট তৈরি করা, গোএ্যাডুর বিভিন্ন কোর্স, ভিডিও রিজিউমিসহ শিক্ষার্থীদের টেকনোলজিক্যাল দক্ষতার বেসিক কোর্স সম্পন্ন করতে হয়। গুগলে সার্চ করা হলে বর্তমানে বাংলাদেশের ভিডিও রিজিউমির ক্ষেত্রে ৮০% পাওয়া যাবে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। এটার একটা বড় কারন হচ্ছে ল্যাপটপ।

ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ নিজেকে উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে যা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অন্যতম লক্ষ। ল্যাপটপ ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যারিয়ারের ভাগ্য পরিবর্তন করছে। মুলত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত ল্যপটপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা প্রযুক্তিগত বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ হয়ে উঠছে এবং অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনায় আইটি উদ্যোক্তা এবং জব মার্কেটে ভালো করছে।

ল্যাপটপ যে একটি শিক্ষার্থীর জীবন বদলে দিতে পারে এরকম হাজারো উদাহরণ রয়েছে ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ে। একটা সময়ে ব্যবসায় প্রশাসনে ভর্তির ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রবল আগ্রহ ছিল। এখন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির দিকে। এটাই যুগের চাহিদা। বর্তমান সময়টাই হচ্ছে তথ্য প্রযুক্তির। তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান ছাড়া এই পৃথিবীতে টিকে থাকা সম্ভব নয়। ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদেরকে সময়ের উপযোগী হিসেবে গড়ে তুলতে বিনামূল্যে শিক্ষার্থীদেরকে ল্যাপটপ দিচ্ছে। এটি এক যুগান্তকারী, সাহসী এবং অভিনব উদ্যোগ। দেশ বিদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের নজির আছে কিনা জানা নাই। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদেরকে ল্যাপটপ কেনার জন্য হয়ত ঋণ দেয়। কিন্তু বিনামূল্যে ল্যাপটপ প্রদান একটি নজিরবিহীন উদ্যোগ।

২০১১ সালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশানাল ইউনিভার্সিটির প্রথম ল্যাপটপ বিতরণ অনুষ্ঠানে এসে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের একটি অন্যতম সেরা বিশ্ববিদ্যালয় যারা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষে বিনামূলে ল্যাপটপ বিতরণের মতো সাহসী কার্যক্রম শুরু করেছে। ই্উজিসির সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল মান্নান বলেন, প্রযুক্তি আজ শিক্ষা গ্রহণ ও প্রদানের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি কর্তৃপক্ষের শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ল্যাপটপ বিতরণের উদ্যোগ একটি সাহসী ও সময়োপযোগি পদক্ষেপ। তিনি শিক্ষার্থীদের  ল্যাপটপের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার আহবান জানান। বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং আইসিটি মন্ত্রণালয়ের আইসিটি বিভাগের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক বলেন ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি আইসিটি সেক্টরকে এগিয়ে নিতে এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে সরকারকে সহায়তা করছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি দেশে বিপুল সংখ্যক আইসিটি দক্ষ জনশক্তি ও মানবসম্পদ প্রদান করছে যারা বাংলাদেশের আইসিটি সেক্টরে অবদান রাখছে। এছাড়াও সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উধ্বর্তন কর্মকর্তাবৃন্দ ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভর্সিটির বিনামূল্যে ল্যাপটপ বিতরণ কার্যক্রমের ভূয়াসি প্রশংসা করেন।

<strong>লেখক</strong>:<em> ঊধ্বর্তন জনসংযোগ কর্মকর্তা, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি</em>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ: প্রগতিশীল প্রযুক্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নতি</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%96+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%3A+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%97%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%80%E0%A6%B2+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%2C+%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%95+%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A6%BF</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%96+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%3A+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%97%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%80%E0%A6%B2+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%2C+%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A7%82%E0%A6%B2%E0%A6%95+%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A6%BF</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 11 Dec 2022 21:01:21 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি প্রেরণাদায়ী অঙ্গীকার।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলার আধুনিক রূপ তথ্যপ্রযুক্তি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রূপকল্প ২০২১ ঘোষণা করেন। এ রূপকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে বাংলাদেশ বিপ্লব সাধন করেছে। যে গতিতে বিশ্বে প্রযুক্তির বিকাশ ঘটেছে তা সত্যিই অভাবনীয়।

কিন্তু বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় এবং আইসিটি উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়ের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ বৈশ্বিক ডিজিটাল অগ্রগতি থেকে একটুও পিছিয়ে নেই। অদম্য গতিতে আমরা চলছি তথ্যপ্রযুক্তির এক মহাসড়ক ধরে। আমাদের সাফল্য গাথা রয়েছে এখাতে। যা সত্যিই গৌরব ও আনন্দের। ডিজিটাল দেশ হিসেবে সারা বিশ্বের বুকে আত্মপ্রকাশ করেছে বাংলাদেশ।

ডিজিটাল বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে স্বাধীন বাংলাদেশে বিজ্ঞান, কারিগরি ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের ভিত যাঁর হাত ধরে রচিত হয়েছিল, তা তুলে ধরাও আজ প্রাসঙ্গিক। ডিজিটাল বিপ্লবের শুরু ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেট আবিষ্কারের ফলে। ইন্টারনেটের সঙ্গে ডিভাইসের যুক্ততা মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। বিজ্ঞান, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে বিশ্বে উন্নয়ন দারুণ গতি পায়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করেন।

কারণ, তিনি গড়তে চেয়েছিলেন সোনার বাংলা। তাঁর এ স্বপ্নের বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সময় পান মাত্র সাড়ে তিন বছর। এ সময়ে প্রজ্ঞাবান ও বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ এমন কোনো খাত নেই, যেখানে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যক্রমের বাস্তবায়ন করেননি।বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ১৫টি সংস্থার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদস্যপদ লাভ করে। আর্থসামাজিক জরিপ, আবহাওয়ার তথ্য আদান-প্রদানে আর্থ-রিসোর্স টেকনোলজি স্যাটেলাইট প্রোগ্রাম বাস্তবায়িত হয় তাঁরই নির্দেশে। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বঙ্গবন্ধু বেতবুনিয়ায় স্যাটেলাইটের আর্থ স্টেশনের উদ্বোধন করেন।

বিজ্ঞান, প্রযুক্তিবিদ্যা ও কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে ডা. মোহাম্মদ কুদরাত-এ খুদার মতো একজন বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট প্রণয়ন এবং শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার করার লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা ছিল তাঁর অত্যন্ত সুচিন্তিত ও দূরদর্শী উদ্যোগ।শুধু তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও বিকাশে গৃহীত নানা উদ্যোগ ও কার্যক্রমের দিকে তাকালে দেখা যাবে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই রচিত হয় একটি আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের ভিত্তি, যা বাংলাদেশকে ডিজিটাল বিপ্লবে অংশগ্রহণের পথ দেখায়। ডিজিটাল বাংলাদেশ’ দার্শনিক প্রত্যয়টির যাত্রা শুরু হয়েছিল ১২ ডিসেম্বর ২০০৮, যখন বঙ্গবন্ধুর ‘সোনার বাংলা গড়ার’ দৃঢ় অঙ্গীকারে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহার জননেত্রী শেখ হাসিনা ‘ভিশন ‘রূপকল্প ২০২১’ ঘোষণা করেন। সেই নির্বাচনী অঙ্গীকারে বলা হয়, ‘২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ ‘ডিজিটাল বাংলাদেশে’ পরিণত হবে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে বাংলাদেশ আজ বিপ্লব সাধন করেছে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর স্বপ্ন নয়, বাস্তবতায় পরিপূর্ণতা পেয়েছে।প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের তত্ত্বাবধান ও নির্দেশনায় ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের জন্য সবার জন্য কানেক্টিভিটি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, ই-গভর্মেন্ট এবং আইসিটি ইন্ডাষ্ট্রি প্রোমোশন এ চারটি সুনির্দিষ্ট প্রধান স্তম্ভ নির্ধারণ করে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়িত হয়েছে। সততা, সাহসিকতা ও দূরদর্শিতা দিয়ে মাত্র ১৩ বছরের মধ্যে সারাবিশ্বকে তাক লাগিয়ে ৪০ শতাংশ বিদ্যুতের দেশকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় এনেছেন। যেখানে ৫৬ লাখ ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ছিল, আইসিটি উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের যুগপোযোগী পরিকল্পনা ও সুপরামর্শে ব্রডব্যন্ড কানেক্টিভিটি ইউনিয়ন পর্যন্ত পৌছে গেছে।
<blockquote>দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১৩ কোটির বেশি এবং মোবাইল সংযোগের সংখ্যা ১৮ কোটির উপরে।জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৮ হাজার ৮০০টি ডিজিটাল সেন্টারে প্রায় ১৬ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা কাজ করছে। যেখানে ৫০ শতাংশ নারী উদ্যোক্তা রয়েছে।</blockquote>
এর ফলে একদিকে নারী-পুরুষের বৈষম্য, অপরদিকে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ও গ্রাম-শহরের বৈষম্য দূর হয়েছে। বর্তমানে ডিজিটাল সেন্টার থেকে প্রতি মাসে গড়ে ৭০ লাখেরও অধিক সেবা প্রদান করা হচ্ছে।
<blockquote>এ পর্যন্ত ডিজিটাল সেন্টার থেকে নাগরিকেরা প্রায় ৮০ কোটির অধিক সেবা গ্রহণ করেছেন। ফলে নাগরিকদের ৭৮ দশমিক ১৪ শতাংশ কর্মঘণ্টা, ১৬ দশমিক ৫৫ শতাংশ ব্যয় এবং ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ যাতায়াত সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।</blockquote>
ডিজিটাল সেন্টার সাধারণ মানুষের জীবনমান সহজ করার পাশাপাশি দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে দিয়েছে। মানুষ এখন বিশ্বাস করে, ঘরের কাছেই সব ধরনের সেবা পাওয়া সম্ভব। মানুষের এই বিশ্বাস অর্জন ডিজিটাল বাংলাদেশের পথচলায় সবচেয়ে বড় পাওয়া। পেপারলেস কমিউনিকেশন চালু করার লক্ষ্যে সরকার ই-নথি চালু করে।
<blockquote>চালু হওয়ার পর থেকে ই-নথিতে এ পর্যন্ত ২ কোটি ৪ লাখের অধিক ফাইলের নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ই-নামজারি সিস্টেমে আগত ৫২ লক্ষেরও অধিক আবেদন মধ্যে ৪৫.৬৮ লক্ষেরও অধিক আবেদনের নিষ্পত্তি করা হয়েছে অনলাইনে।</blockquote>
এছাড়াও “স্টার্টআপ বাংলাদেশ কোম্পানি” পৃথিবীর ইতিহাসে একটা অনন্যসাধারণ দৃষ্টান্ত। দেশে স্টার্টআপ সংস্কৃতির বিকাশে ও স্টার্টআপদেরকে উদ্ভাবনী সুযোগ কাজে লাগানোর পথ সুগম করতে সরকার আগামী পাঁচ বছরে ৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করবে। মেধাবী তরুণ উদ্যোক্তাদের সুদ ও জামানতবিহীন ইকুইটি ইনভেস্টমেন্ট এবং ট্রেনিং, ইনকিউবেশন, মেন্টরিং এবং কোচিংসহ নানান সুবিধা দেয়ার ফলে দেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে।
<h4>বিকাশ, পাঠাও, চালডাল, শিওর ক্যাশ, সহজ, পেপারফ্লাইসহ ২ হাজার ৫০০ স্টার্টআপ সক্রিয় ভাবে কাজ করছে। যারা প্রায় আরো ১৫ লক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। ১০ বছর আগেও এই কালচারের সাথে আমাদের তরুণরা পরিচিত ছিল না। মাত্র সাত বছরে এ খাতে ৭০০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ এসেছে।বিশ্বে অনলাইন শ্রমশক্তিতে ভাল অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।</h4>
বিশ্বব্যাংক ও অক্সফোর্ড ইন্টারনেট ইনস্টিটিউটের (ওআইআই) এর সমীক্ষা মতে, অনলাইন শ্রমশক্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান বর্তমানে দ্বিতীয়।প্রায় সাড়ে ৬ লাখ প্রশিক্ষিত ফ্রিল্যান্সার আউটসোর্সিং খাত থেকে অন্ততপক্ষে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে। যারা কিনা কোনদিন আমেরিকায় যায় নি, কোনদিন ইংল্যান্ডে যায় নি। কিন্তু প্রযুক্তির শক্তিকে কাজে লাগিয়ে ঐ দেশের কোম্পানিতে বাংলাদেশ তরুণরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসেও আউটসোর্সিং করে হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ ডলার আয় করতে সক্ষম হচ্ছে।
<blockquote>ইতোমধ্যে নির্মিত ১০টি হাই-টেক/আইটি পার্কে বিনিয়োগের পরিমাণ ১,৫০০ কোটি টাকা। চৌদ্দ বছর আগে ডিজিটাল অর্থনীতির আকার ছিল মাত্র ২৬ মিলিয়ন ডলার। আর বর্তমানে তা ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে।</blockquote>
সরকারের লক্ষ্য ২০২৫ সালে আইসিটি রপ্তানী ৫ বিলিয়ন ডলার এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে আইসিটি খাতে কর্মসংস্থান ৩০ লাখে উন্নীত করা। ১০৯টি হাইটেক/আইটি পার্কে/ শেখ কামাল আইটি ইনকিউবেশন সেন্টারের (১৭টি বেসরকারি আইটি পার্ক) মধ্যে নির্মিত ১০টি পার্কে দেশী-বিদেশী ১৯২টি প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেছে।

চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তি শিক্ষায় পারদর্শী করে তুলতে এবং ডিজরাপ্টেড টেকনোলজি সম্পর্কে ধারণা দিতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ১৩ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব ‌এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩৩টি বিশেষায়িত ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং এন্ড ইনকিউবেশন সেন্টার, ৫০০টি জয় ডি-সেট সেন্টার, শেখ হাসিনা ইন্সটিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে।

আগামী ২০২৫ সালের মধ্যে আরও ৩৫ হাজার শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা হবে। আমরা ই-নথি, জাতীয় তথ্য বাতায়ন, জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩, ই নামজারি, আর এস খতিয়ান সিস্টেম, কৃষি বাতায়ন, ই চালান, এক পে, এক শপ, এক সেবা, কিশোর বাতায়ন, মুক্তপাঠ, শিক্ষক বাতায়ন, আই-ল্যাব, করোনা পোর্টাল, মা টেলি হেলথ সার্ভিস, প্রবাস বন্ধু কল সেন্টার, ভার্চুয়াল কোর্ট সিস্টেম, ডিজিটাল ক্লাসরুমসহ অসংখ্য সেবা চালু করেছি।

এর মাধ্যমে জনগণের জীবনযাত্রা সহজ হয়েছে। ফলে, করোনার মতো মহামারী মোকাবেলায় বাংলাদেশ দেখিয়েছে সাফল্য।তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, বাণিজ্য প্রভৃতি ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে, প্রযুক্তিনির্ভর হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। প্রত্যেকের হাতে এখন অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, দুনিয়ার সব প্রান্তের খবর মুহূর্তেই এসে যাচ্ছে হাতের মুঠোয়। বাংলাদেশ সরকারের সেবামূলক সব ফরম পাওয়া যাচ্ছে অনলাইনে। শুধু তাই নয়, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, চাকরির আবেদন, পড়াশোনা, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও ফোন বিলসহ বিভিন্ন পরিষেবার বিল পরিশোধ, মোবাইল মানি ট্রান্সফার, ব্যাংকিং, পাসপোর্ট আবেদন, ভিসা প্রসেসিং, বিমানের টিকিট, রেলওয়ে টিকিটিং, ইটেন্ডারিং, টিন সনদ, আয়কর রিটার্ন, ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন, জিডি, জন্ম-মৃত্যুর নিবন্ধন থেকে শুরু করে ব্যবসা-বাণিজ্য করা যাচ্ছে অনলাইনে, অর্থাৎ ডিজিটাল পদ্ধতিতে।জাতীয় ওয়েব পোর্টাল, জাতীয় ই-তথ্যকোষ, জাতীয় ডেটা সেন্টার, জেলা ওয়েব পোর্টাল, জেলা ই-সেবাকেন্দ্র, উপজেলা ওয়েব পোর্টাল, ইউনিয়ন তথ্য ও সেবাকেন্দ্র, ক্লাসরুমে মালটিমিডিয়া প্রজেক্টরের ব্যবহার, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের সব পাঠ্যপুস্তক নিয়ে ই-বুক, বিশ্ববিদ্যালয়ে ওয়াই-ফাই চালু, অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন প্রকল্প, ফোরজি প্রযুক্তি, ই-ফাইলিং, মোবাইল ব্যাংকিং, মোবাইল ফোনে স্বাস্থ্যসেবা, কম্পিউটারভিত্তিক ভূমি ব্যবস্থাপনা, মন্ত্রণালয়ে ই-সেবা, হাইটেক পার্ক, ইপিআই ও আইটিইই সার্টিফিকেশন, ডট বাংলা ডোমেইন, ইউনিয়ন পর্যায়ে ফাইবার অপটিক, জাতীয় ডিজিটাল উদ্ভাবনী পুরস্কার প্রবর্তন, বিনিয়োগের জন্য অনলাইন নিবন্ধন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডিজিটাল উদ্ভাবনী মেলা, অনলাইনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার তথ্য, কৃষিতথ্য সার্ভিস, ইলেকট্রনিক দরপত্র পদ্ধতি, ডিজিটাল স্বাক্ষর পদ্ধতির প্রবর্তনসহ নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রসারে বিপ্লব সূচিত হয়েছে।শুধু বিভাগীয় বা জেলা শহরে নয়, উপজেলা সদর ছাড়িয়ে প্রত্যন্ত গ্রামে এমনকি দুর্গম অঞ্চলেও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা পৌঁছে গেছে। হেল্পলাইনের মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে জরুরি সেবা পৌঁছে যাচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯ নম্বরে কল করে পুলিশের সেবা পাচ্ছে জনগণ, যা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে সরকারি সেবা ও তথ্য কে প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ৩৩৩ শর্টকোড ব্যবহার করে কল সেন্টার ভিত্তিক জাতীয় সেবা চালু করা হয়। ইতোমধ্যে নাগরিকদের জীবন মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে এবং ন্যাশনাল হেল্প লাইনসমূহে কল সরকারের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছে।করোনা মহামারি থেকে দেশের জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে টিকা কার্যক্রম, টিকার তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং সনদ প্রদানের লক্ষ্যে ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম ‘সুরক্ষা’ ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যা সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং দেশের জনগণ এর সুবিধা পাচ্ছে।২০০৯ সালের আগে বাংলাদেশে সরকারি কোনো সেবাই ডিজিটাল পদ্ধতিতে ছিল না। কিন্তু বর্তমানে সরকারি সব দপ্তরের প্রাথমিক সব তথ্য ও সেবা মিলছে ওয়েবসাইটে। সেই সঙ্গে সরকারি সব তথ্য যাচাই-বাছাই ও সংরক্ষণ এবং বিভিন্ন পরিষেবা ও আবেদনের যাবতীয় কার্যক্রম অনলাইনে পরিচালিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে আমরা ইন্টারঅপারেবল ডিজিটাল ট্রানজেকশন প্ল্যাটফর্ম “বিনিময়” চালু করেছি। বর্তমানে ব্যাংকিং সেবা পৌঁছে গেছে প্রত্যেক গ্রাহকের হাতের মুঠোয়। ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে অনেক কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। ফ্রিল্যান্সিং থেকে আসা অর্থ আমাদের জাতীয় প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দেশে আধুনিক ডিজিটাল ব্যাংকিং ব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এ সবকিছুই হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল। নারী-পুরুষের সমান অংশগ্রহণ, ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সকলের জন্য প্রযুক্তির ব্যবহার সুনিশ্চিত করা, শহর ও গ্রামের সেবা প্রাপ্তিতে দূরত্ব হ্রাস করা এই সকলই ছিলো আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশের মূল উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য। ডিজিটাল বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ফলে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ইন্টারনেট পৌঁছে দেয়া সম্ভব হয়েছে, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তাদের কর্মসংস্থানও নিশ্চিত করা গেছে। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও প্রযুক্তির কল্যাণেই এখন গ্রামে বসেই যে কেউ চাইলেই ফ্রিল্যান্সিং-এ কাজ করতে পারছে।

এসবই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়েছেজননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রগতিশীল প্রযুক্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নতির ফলে।সে কারণেই এবারের ডিজিটাল বাংলাদেশ দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে “প্রগতিশীল প্রযুক্তি, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নতি”।ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার সফলভাবে বাস্তবায়নের পর আমরা এখন নতুন কর্মসূচি নিয়ে অগ্রসর হচ্ছি। সেটি হচ্ছে স্মার্ট বাংলাদেশ। স্মার্ট সিটিজেন, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট গভর্নমেন্ট এবং স্মার্ট সোসাইটি এ চারটি মূল ভিত্তির উপর গড়ে উঠবে ২০৪১ সাল নাগাদ একটি সাশ্রয়ী, টেকসই, বুদ্ধিদীপ্ত, জ্ঞানভিত্তিক, উদ্ভাবনী, স্মার্ট বাংলাদেশ।

<em><strong>লেখক:</strong> তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী</em>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>প্রধানমন্ত্রীর সততা ও সাহসিকতার প্রতীক পদ্মা সেতু</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0+%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%A4%E0%A6%BE+%E0%A6%93+%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A6%95+%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE+%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%81</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B0+%E0%A6%B8%E0%A6%A4%E0%A6%A4%E0%A6%BE+%E0%A6%93+%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A4%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A6%95+%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE+%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%81</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 25 Jun 2022 05:39:50 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div class="some-class-name2">

১৯৭২ সালের ১২ জানুয়ারি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার গ্রহণ করেন তখন বাংলাদেশ ছিল বিশ্বের দরিদ্রতম দশটি দেশের একটি। ৮৮ শতাংশ মানুষ ছিল দরিদ্র। বৈদেশিক সাহায্যের নির্ভরতাও ছিল ৮৮ ভাগ। বাংলাদেশ টিকে থাকবে কিনা এ নিয়ে অনেকেই সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার বলেছিলেন বাংলাদেশ হলো ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’র দেশ। বঙ্গবন্ধু ধ্বংসস্তুপের দাঁড়িয়ে শূণ্য হাতে সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক কার্যক্রম শুরু করেন। প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা (১৯৭৩-৭৮) প্রণয়নের দ্বিতীয় বছরে ১৯৭৪-৭৫ সালে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বাংলাদেশের জিডিপি ৯.৫৯ শতাংশে উন্নীত হয়, যা আজও পর্যন্ত রেকর্ড জিডিপি। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ অন্ধকারে নিমজ্জ্বিত হয়। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সামরিক ও আধা গণতন্ত্রী শাসকরা স্বাধীনতাবিরোধীদের ক্ষমতার অংশীদার করে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে দেশ শাসন করে। তাদের আমলে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কখনোই ৪/৫ শতাংশের ওপরে ওঠেনি। কিন্তু আমরা যদি ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৯ সাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসুরি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাষ্ট্র পরিচালনা সময়কালকে বিবেচনায় নেই  তাহলে কি দেখতে পাই। বঙ্গবন্ধুর পরে অর্থনীতি ও উন্নয়নসহ সব ক্ষেত্রকে তিনি ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে এসেছেন। দেশকে পৌঁছে দিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়। ২০২১-২২ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৭ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা কোভিড-১৯ মহামারির আগে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ছিল ৮ শতাংশের ওপরে। বাংলাদেশ এখন বিশ্বে ৪১তম অর্থনীতির দেশ। বিশ্বের কাছে উন্নয়নের বিস্ময়।
<blockquote>বাংলাদেশের অব্যাহত উন্নয়ন অভিযাত্রায় এবার বিশ্বের কাছে বিস্ময় জাগানো আরও মাইলফলক অর্জন যোগ হতে যাচ্ছে আগামী ২৫ জুন। এদিন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাঁর স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। পদ্মা শুধুই একটি সেতু নয়। এটি এক দিকে যেমন এক সময়ের ৮৮ ভাগ বৈদেশিক সাহায্যনির্ভর বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার ইতিহাস সৃষ্টির সেতু অন্যদিকে তেমনি ষড়যন্ত্র ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে সাহস ও সততার উদাহরণ সৃষ্টির সেতু। এ নিবন্ধের অবতারণা পদ্মা সেতু নির্মাণকে ঘিরেই।</blockquote>
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একজন দূরদর্শী নেতা। প্রমত্তা পদ্মা নদীর ওপর সেতু একটি নির্মাণ তাঁর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। কারণ পদ্মা সেতু নির্মিত হলে দেশের তা শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটাবে না বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখবে। কৃষি-শিল্প-অর্থনীতি-শিক্ষা-বানিজ্য সব ক্ষেত্রেই এই সেতুর বিশাল ভূমিকা থাকবে। সমন্বিত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এ অঞ্চলকে ট্রান্স এশিয়ান হাইওয়ে ও ট্রান্স এশিয়ান রেলওয়ের সঙ্গে যুক্ত করবে। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারত, ভুটান এবং নেপালের সঙ্গে আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটি প্রতিষ্ঠিত হবে। মংলা বন্দরের গুরুত্ব বেড়ে যাবে বহুগুণ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পর্যটনসহ শিল্পের প্রসার ঘটবে। পদ্মার দুই পাড়ে সিঙ্গাপুর ও চীনের সাংহাই নগরীর আদলে শহর গড়ে উঠবে। বিশ্বব্যাংকের স্বাধীন পরামর্শক এবং সেতু বিভাগের নিয়োজিত পরামর্শক সংস্থার সমীক্ষা থেকেও জানা যায় পদ্মা সেতুর অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পর্কে। সমীক্ষায় বলা হয়, পদ্মা সেতু নির্মিত হলে জিডিপি বৃদ্ধি পাবে ১ দশমিক ২৩ শতাংশ। এছাড়া, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জিডিপি বৃদ্ধি পাবে ২ দশমিক ৩ শতাংশ।

১৯৯৬ সালের জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়ী হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নতুন সরকার যাত্রা শুরু করে। অর্থনৈতিক কার্যক্রমে অগ্রাধিকার তালিকায় স্থান পায় প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের পদ্মা সেতু। ১৯৯৯ সালে পদ্মা সেতুর প্রাক সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়। ২০০১ সালের ৪ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন।

কিন্তু পরিতাপের বিষয় পদ্মা সেতু প্রকল্পের বাস্তবায়নের শুরু সরল পথে হয়নি। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র এই সেতুর বাস্তবায়নকে বাধাগ্রস্থ করে। বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি-জামাত জোটের শাসনামলে পদ্মা সেতু নির্মাণের গতি শস্নথ হয়ে পড়ে। বিশদ সমীক্ষার পর ২০০৪ সালে জাইকা মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতু নির্মাণের সুপারিশ করে। কিন্তু বিএনপি-জামাত জোট সরকার এ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ায় কোন কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। তারা বিশদ সমীক্ষার আলোকে পদ্মা সেতু প্রকল্প একনেকের সভায় পাস করেনি। এর কারণ ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদ্মা সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন। প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতু নির্মাণের এতটাই আগ্রহী ছিলেন যে, ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে পদ্মা সেতু নির্মাণ অঙ্গীকার আকারে অন্তর্ভুক্ত করেন। দেশের মানুষের সৌভাগ্য যে, ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। তিনি আবারও পদ্মা সেতু নির্মাণ অগ্রাধিকার দিয়ে তার বাস্তবায়ন দ্রুততর করার উদ্যোগ নেন।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পদ্মা সেতু প্রকল্প দেশি-বিদেশী ষড়যন্ত্রের শিকার হয়। বিশ্বব্যাংক একটি কালো তালিকাভুক্ত কোম্পানিকে পরামর্শক নিয়োগের জন্য বার বার সুপারিশ করে। দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বুয়েটের বরেন্য অধ্যাপক জামিলুর রেজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন মূল্যায়ন কমিটি কালো তালিকাভুক্ত ওই কোম্পানিকে পরামর্শক নিয়োগে রাজী ছিলেন না। বিশ্বব্যাংকের বার বার সুপারিশে পরামর্শক নিয়োগ বিলম্বিত হয়। ২০১১ সালে বিশ্বব্যাংক অভিযোগ করে, তারা পদ্মা সেতু প্রকল্পে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ দুর্নীতির ষড়যন্ত্র খুঁজে পেয়েছে, উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ অভিযোগের ব্যাপারে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন এবং বিশ্বব্যাংককেই অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে বলেন। বিশ্বব্যাংক কানাডিয়ান এসএনসি-লাভালিনের বিরুদ্ধে কানাডিয়ান রয়েল মাউন্টেড পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। পরবর্তীতে কানাডিয়ান আদালতে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১২ সালের ২৯ জুন বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট রবার্ট জোয়েলিক পদ্মা সেতুর ঋণ বাতিল করেন। প্রশ্ন হলো যে প্রকল্প ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ তার বাস্তবায়নেতো একটি টাকাও রিলিজ করা হয়নি। তাহলে দুর্নীতি কোথায়? সচেতন মহল থেকে এমন প্রশ্নও উচ্চারিত হতে থাকে। আসলে এর নেপথ্যে ছিল সুগভীর ষড়যন্ত্র। ঋণ বাতিলের এই সিদ্ধান্ত শুধু বিশ্বব্যাংকের একার নয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক কুশীলবদের প্রভাব এতে কাজ করেছে। তাদের লক্ষ্য ছিল আওয়ামী লীগ সরকারের কপালে দুর্নীতির কালিমা লেপন করে দেশে-বিদেশে ভাবমূর্তি বিনষ্ট করা এবং বিরোধী দলের হাতে আন্দোলনের অস্ত্র তুলে দেওয়া, যাতে আন্দোলনের মুখে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় নিশ্চিত হয়। এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে যুক্ত হয় বিরোধী রাজনীতিক এবং নোবেল লরিয়েটসহ সুশীল সমাজের চিহ্নিত কতিপয় ব্যক্তি, যারা এক এগারোর সময় জননেত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করতে চেয়েছিল।

বিশ্বব্যাংকের ঋণ বাতিল পরবর্তী কার্যক্রমগুলোর ওপর আলোকপাত করলে ষড়যন্ত্রের গভীরতা আরও স্পষ্ট হবে। পুনরায় ঋণ পেতে বিশ্বব্যাংক সরকারকে একের পর শর্ত দিতে থাকে। বিশ্বব্যাংকের দাবী অনুসারে সরকার সৈয়দ আবুল হোসেনকে যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের দায়িত্ব থেকে  সরিয়ে দেওয়া হয়। সেতু বিভাগের সচিব মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তারের দাবী তোলে এবং তাকে কারাগারে যেতে হয়। তিনি চাকুরিও হারান। প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা ড. মশিউর রহামানকে ছুটিতে যেতে হয়। কিন্তু এত কিছুর পরও বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ সহায়তা পাওয়ার ব্যাপারে কোন ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। লক্ষনীয় যে, দেশের আলোচ্য চিহ্নিত বিরোধী রাজনীতিক, নবেল লরিয়েটসহ সুশীল সমাজের কতিপয় ব্যক্তি পদ্মা সেতুতে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণে সচেষ্ট হয়। তারা বিবৃতিও দেয়। অভিযোগ রয়েছে কথিত নবেল লরিয়েট একটি প্রভাবশালী দেশকে দিয়ে বিশ্বব্যাংকের ওপর প্রভাব খাটিয়ে ঋণ বাতিল করান। পুনরায় ঋণ পেতে নেপথ্যের ষড়যন্ত্র আঁচ করতে পেরে প্রধানমন্ত্রী কঠোর অবস্থান নেন। তিনি ২০১২ সালের জুলাইয়ে জাতীয় সংসদে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণের ঘোষণা দেন। এটি ছিল সময়োপরযাগী সাহসী উচ্চারণ, যা দেশ-বিদেশে সকল মহল কর্তৃক সমাদৃত হয়। এরই ধারবাহিকতায় ২০১৩ সালে ৩১ জানুয়ারি অর্থমন্ত্রী এ এম এ মুহিত বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট এবং এডিবি, জাইকা এবং আইডিবিকে লেখা দুটি পত্রে পদ্মা সেতু প্রকল্পে তাদের অর্থায়নের প্রয়োজন নেই বলে সরকারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেন। ২০১৫ সাল থেকে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হয়। এই নির্মাণযজ্ঞ চলার মধ্যেই কানাডার ফেডারেল কোর্টের রায়ে বিশ্বব্যাংকের দুর্নীতির অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়। সরকার সাত বছরে নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। অর্থনীতিবিদসহ অনেকেই বলেছিলেন, নিজস্ব অর্থায়নের পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে যেয়ে বাংলাদেশ বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকির মধ্যে পড়তে যাচ্ছে। কিন্তু তা হয়নি। প্রকৃত সত্য হলো প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তা, সাহস ও সততার কাছে ষড়যন্ত্র পরাভূত হয়েছে। বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা প্রমাণিত হয়েছে। দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হয়েছে। তাই পদ্মা সেতু কেবলই একটি সেতু নয় এটি জননেত্রী শেখ হাসিনার সততা ও সাহসিকতার প্রতীক।

<strong>লেখক: তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী </strong>
<a href="mailto:me@palak.net.bd">me@palak.net.bd </a>

</div>
<div class="hidden-xs hidden-sm"></div>
<div class="clearfix"></div>
<div class="hidden-xs hidden-sm banner-details-fixed-bottom "></div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>নতুন সিলিকন ভ্যালি হতে চোখ রাঙাচ্ছে পদ্মা সেতু</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8+%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A8+%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF+%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%87+%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%96+%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87+%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE+%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%81</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%A8+%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%A8+%E0%A6%AD%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF+%E0%A6%B9%E0%A6%A4%E0%A7%87+%E0%A6%9A%E0%A7%8B%E0%A6%96+%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%9B%E0%A7%87+%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE+%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%81</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 23 Jun 2022 10:52:44 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<strong><span style="text-decoration: underline;">মহিউদ্দিন আহমেদ</span></strong>

বর্তমান সরকার ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা করে ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে লক্ষ্যে কাজ শুরু করে। প্রযুক্তির ছোঁয়া সারাদেশে কম বেশি লাগলেও রাজধানী চট্টগ্রাম এমনকি যশোর, টাঙ্গাইল , গাজীপুর এলাকা যেভাবে প্রযুক্তি পণ্য উৎপাদনের ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে ঠিক তেমনি ভাবে রাষ্ট্রীয়ভাবেও প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন বেশিরভাগই এ সকল এলাকায় সম্পাদিত হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক দক্ষিণবঙ্গ হলেও বিশেষ করে জাতির জনকের জন্ম স্থান গোপালগঞ্জ টুংগীপাড়া যাতায়াতের প্রতিবন্ধকতা থাকায় ঠিক খুব একটা প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন দক্ষিণাঞ্চলের হয়নি।

আগামী ২৫ জুন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সকল নাগরিকের স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করতে যাচ্ছেন। আরে সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে যোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতের কানেক্টিভিটি নিরবিচ্ছিন্ন হবে।

আর এই নিরবিচ্ছিন্ন কানেক্টিভিটির মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলে গড়ে উঠতে পারে বাংলাদেশ আরেকটি সিলিকন ভ্যালি। প্রযুক্তি খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তা এমনকি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান গুলির হেডকোয়ার্টার গড়ে উঠেছে রাজধানী ভিত্তিক। দক্ষিণাঞ্চলের শিক্ষার্থী, চিকিৎসক প্রযুক্তিবিদ বা আধুনিক কৃষি কাজে নিয়োজিত ব্যক্তিবর্গ শিল্প মালিক গন তাদের উৎপাদিত গবেষণালব্ধ গবেষণা নিয়ে আসতে হয় ঢাকায়। আর যাতায়াতের ও পণ্য আনা-নেওয়ার ঝুঁকি এবং সময়ের কারণে ইকোসিস্টেম গড়ে উঠতে পারেনি প্রযুক্তিখাতে এখনো দক্ষিণাঞ্চলের জনগণের জন্য। যেমনি ভাবে ১৯৬৯ সালের ১৭ মে ইন্টারনেটভিত্তিক শিল্প বিপ্লব শুরু হলেও বাংলাদেশ সেই শিল্পবিপ্লব মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়নি। ঠিক একইভাবে যোগাযোগের নিরবিচ্ছিন্ন মাধ্যম না থাকায় ডিজিটাল বাংলাদেশের শতভাগ সফল থেকে বঞ্চিত হয়েছে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণাঞ্চলে ই-কমার্স, কৃষি খাতে প্রযুক্তির ব্যবহার, চিকিৎসা, গবেষণা, ফ্রিল্যান্সিং, রোবটিক্স ও আইওটি শিল্পে নতুন বিপ্লব শুরু হতে পারে। বিশেষ করে তাদের উৎপাদিত পণ্য সফটওয়্যার দ্রুত রাজধানীতে সরবরাহ বা প্রযুক্তি খাতের হেডকোয়াটার গুলিতে প্রদর্শন এবং দাপ্তরিক কাজ দ্রুততার সাথে সেরে ফেলতে পারবে।

পদ্মায় দুই পাড়ে গড়ে উঠতে পারে অগ্রসরমান প্রযুক্তি (অ্যাডভান্স টেকনোলজি) আবার সেই প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষ জনবল গড়ে তুলতে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সফটওয়্যার ফিনিশিং স্কুল, মর্ডানাইজেশন অফ রুরাল এন্ড আরবান লাইভস, স্মার্ট সিটি, আইটি ফরেনসিক ল্যাব এর মত প্রকল্প। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় দক্ষিণাঞ্চলে গড়ে তুলতে পারে আইওটি ভিত্তিক শিল্প কলকারখানা। তাছাড়া ঢাকার বেশিরভাগ শ্রমিক বিশেষ করে অদক্ষ তারা দক্ষিণ অঞ্চলের নাগরিক। তাদেরকে বর্তমান পারিশ্রমিকের চাইতেও আরেকটু বেশি পারিশ্রমিক দিয়ে প্রযুক্তি খাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে দক্ষিণাঞ্চলে প্রযুক্তিভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান নিয়োজিত করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে ঢাকায় যেমন জনসংখ্যার চাপ কমবে ঠিক একইভাবে প্রযুক্তি জ্ঞান সম্পন্ন আধুনিক দক্ষ শ্রমিক গড়ে উঠবে দক্ষিণাঞ্চলে।

এছাড়াও প্রফেশনাল ফ্রিলান্সার, আউটসোর্সিং, ই-কমার্স, হ্যান্ডসেট তৈরীর নতুন শিল্প কারখানা, ফাইবার শিল্প এমনকি প্রযুক্তিখাতের সহযোগী ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা গড়ে উঠতে পারে পদ্মার দুই পাড়ে। প্রযুক্তি খাতের সম্ভাবনা হাত এবং পদ্মা সেতুর মধ্যে একটি ইকোসিস্টেম তৈরীর মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন সিলিকন ভ্যালি হতে চোখ রাঙাচ্ছে পদ্মা সেতু।
<strong>লেখক</strong>, <em>সভাপতি, বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশন।</em>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনার এক সফল উন্নয়ন দর্শন</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6+%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80+%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%96+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%8F%E0%A6%95+%E0%A6%B8%E0%A6%AB%E0%A6%B2+%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8+%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A6%A8</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6+%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80+%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%96+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%8F%E0%A6%95+%E0%A6%B8%E0%A6%AB%E0%A6%B2+%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8+%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A6%A8</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 12 Dec 2021 00:50:13 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<span style="text-decoration: underline;"><strong><img class="size-full wp-image-60280 alignleft" src="https://digibanglatech.news/wp-content/uploads/2021/09/পলক-পিপি.jpg" alt="" width="215" height="168" />জুনাইদ আহমেদ পলক</strong></span>

বাঙালি জাতির দুটি অভূতপূর্ব সন্ধিক্ষণে এ বছর ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার সফলভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করছি আমরা। এমনি স্মরণীয় মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেরণাদায়ী ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা কতটা সফল তা মানুষের কাছে তুলে ধরার দায়বদ্ধতা যেমন রয়েছে, তেমনি বিশ্বে ডিজিটাল বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে বিজ্ঞান, কারিগরি ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের ভিত যার হাত ধরে রচিত হয়েছিল, প্রাসঙ্গিকভাবে তাও তুলে ধরার প্রয়োজন রয়েছে।

&nbsp;

ডিজিটাল বিপ্লবের শুরু ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেট আবিষ্কারের ফলে। ইন্টারনেটের সঙ্গে ডিভাইসের যুক্ততা মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। বিজ্ঞান, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে বিশ্বে উন্নয়ন দারুণ গতি পায়। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। কারণ তিনি গড়তে চান সোনার বাংলা। তার এ স্বপ্নের বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য সময় পান মাত্র সাড়ে তিন বছর। এসময়ে প্রজ্ঞাবান ও বিচক্ষণ রাষ্ট্রনায়ক বঙ্গবন্ধু তাঁর স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ এমন কোনো খাত নেই যেখানে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যক্রমের বাস্তবায়ন করেননি। শুধু তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও বিকাশে গৃহীত নানা উদ্যোগ ও কার্যক্রমের দিকে তাকালে দেখা যাবে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই রচিত হয় একটি আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের ভিত্তি, যা বাংলাদেশকে ডিজিটাল বিপ্লবে অংশগ্রহণের পথ দেখায়।

&nbsp;

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ১৫টি সংস্থার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদস্যপদ লাভ করে। আর্থ-সামাজিক জরিপ, আবহাওয়ার তথ্য আদান-প্রদানে আর্থ-রিসোর্স টেকনোলজি স্যাটেলাইট প্রোগ্রাম বাস্তবায়িত হয় তাঁরই নির্দেশে। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বঙ্গবন্ধু বেতবুনিয়ায় স্যাটেলাইটের আর্থ স্টেশনের উদ্বোধন করেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তিবিদ্যা ও কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কুদরত-এ খুদার মতো একজন বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট প্রণয়ন এবং শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার করার লক্ষ্য বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা ছিল তার অত্যন্ত সুচিন্তিত ও দূরদর্শী উদ্যোগ।

১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। থেমে যায় সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন। পঁচাত্তর-পরবর্তী ২১ বছরের শাসনামলে বিনা অর্থে ইন্টারনেট কেবল লাইনে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করে দেশের মানুষ। দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আরেক দূরদর্শী নেতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসূরি দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে দেশ পরিচালনার জন্য নির্বাচিত করে জনগণ। তিনি দেশ পরিচালনায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেন। ১৯৯৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভায় গাজীপুরের কালিয়াকৈরে হাই-টেক পার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বর্তমানে হাই-টেক পার্কের সংখ্যা ৩৯টি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মোবাইল ফোনের মনোপলি ভেঙে তা মানুষের কাছে সহজলভ্য করেন। ২০১৫ সালে কম্পিউটার আমদানিতে শুল্ক হ্রাস, হার্ডওয়ার, সফটওয়্যার  শিল্প উৎপাদনকারীদের ভর্তুকি, প্রণোদনা প্রদানসহ বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেণ গ্রহণ করেন। সরকারের বিভিন্ন নীতি সহায়তার ফলে বর্তমানে দেশে হাই-টেক পার্কসহ বিভিন্ন স্থানে স্যামসাঙ ,ওয়ালটন , সিম্ফোনি, মাই ফোন, শাওমিসহ দেশি-বিদেশি ১৪টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ উৎপাদন করছে এবং পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে এবং দেশের মোবাইল ফোন  চাহিদার ৭০ শতাংশ পূরণ করছে। ডিজিটাল ডিভাইস উৎপাদনে রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে পরিচিত হয়েছে বাংলাদেশ। আর দিন বদলের সনদ রূপকল্প-২০২১ এর মূল উপজীব্য হিসাবে ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা আসে ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা দেন। ঘোষণায় বলা হয়, ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে দেশ পরিণত হবে ডিজিটাল বাংলাদেশে।

&nbsp;

ডিজিটাল বাংলাদেশ আসলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার আধুনিক রূপ, যার বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০০৯ সালে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা দেশের সব মানুষের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও বিকাশ, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলার ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।  এসব কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নের জন্য আইন, নীতিমালা প্রণয়ন থেকে শুরু করে সামগ্রিক কার্যক্রমের পরামর্শ ও তদারকি করছেন ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

&nbsp;

জনগণের দোরগোড়ায় সহজে, দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে ২০১০ সালের ১১ নভেম্বর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের ৪৫০১টি ইউনিয়নে একযোগে ইউনিয়ন তথ্য ও সেবা কেন্দ্র উদ্বোধন করেন যা বর্তমানে ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার (ইউডিসি) নামে সুপরিচিত। এই সেন্টার থেকে গ্রামীণ জনপদের মানুষ খুব সহজেই তাদের বাড়ীর কাছে পরিচিত পরিবেশে জীবন ও জীবিকাভিত্তিক তথ্য ও প্রয়োজনীয় সেবা পাচ্ছেন। প্রথমে কেবল ইউনিয়ন পরিষদ কেন্দ্রিক এর কার্যক্রম চালু হলেও বর্তমানে পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, গার্মেন্টস কর্মী এবং প্রবাসী নাগরিকদের জন্য আলাদা ডিজিটাল সেন্টার চালু হয়েছে। বর্তমানে সারাদেশে ৮,২৮০টি ডিজিটাল সেন্টারের মাধ্যমে ৩০০ এর অধিক ধরনের সরকারি-বেসরকারি সেবা জনগণ গ্রহণ করতে পারছেন। ডিজিটাল সেন্টার সাধারণ মানুষের জীবনমান সহজ করার পাশাপাশি দৃষ্টিভঙ্গিও বদলে দিয়েছে। মানুষ এখন বিশ্বাস করে, ঘরের কাছেই সকল ধরণের সেবা পাওয়া সম্ভব। মানুষের এই বিশ্বাস অর্জন ডিজিটাল বাংলাদেশের পথচলায় সবচেয়ে বড় পাওয়া।

ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সুফল দেশের প্রত্যেক মানুষ পাচ্ছে।

কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থানসহ এমন কোনো খাত নেই যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার হচ্ছে না। এটা সম্ভব হচ্ছে মূলত সারা দেশে একটি শক্তিশালী আইসিটি অবকাঠামো গড়ে ওঠার কারণে, যা গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমান সরকার দায়িত্ব লাভ করার আগে প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম ছিল ৭৮ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতি এমবিপিএস ৩০০ টাকার নিচে। দেশের ১৮ হাজার ৫শ সরকারি অফিস একই নেটওয়ার্কের আওতায়। ৩৮শ ইউনিয়নে পৌঁছে গেছে উচ্চগতির (ব্রডব্যান্ড) ইন্টারনেট। ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতায় মানুষের তথ্যপ্রযুক্তিতে অভিযোজন ও সক্ষমতা দুই-ই বেড়েছে।

&nbsp;

দেশে বর্তমানে মোবাইল সংযোগের সংখ্যা ১৮ কোটির অধিক। ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বর্তমানে প্রায় ১৩ কোটি। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) প্রতিবেদনে যথার্থভাবেই মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে গ্রামীণ এলাকায় আর্থসামাজিক ব্যবধান কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। বাস্তবেও দেখা যাচ্ছে, তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে আর্থিক সেবায় মানুষের অন্তর্ভুক্তি রীতিমতো বিস্ময়কর। অনলাইন ব্যাংকিং, ইলেকট্রনিক মানি ট্রান্সফার, এটিএম কার্ড ব্যবহার শুধু ক্যাশলেস সোসাইটি গড়াসহ ই-গভর্মেন্ট প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখছে তা নয়, ই-কমার্সেরও ব্যাপক প্রসার ঘটাচ্ছে। বিশ্বের ১৯৪টি দেশের সাইবার নিরাপত্তায় গৃহীত আইনী ব্যবস্থা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, সাংগঠনিক ব্যবস্থা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পারস্পরিক সহযোগিতার উপর ভিত্তি করে তৈরী করা সূচকে বাংলাদেশ ITU-তে ৫৩তম স্থানে এবং এনসিএসআই (NCSI) জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সূচকে ৩৭তম স্থানে অবস্থান করছে। যার ফলে দক্ষিণ এশিয়া ও সার্ক দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান প্রথম।

&nbsp;

স্টার্টআপ সংস্কৃতির বিকাশে আইডিয়া প্রকল্প ও স্টার্টআপ বাংলাদেশ কোম্পানি লিমিটেডসহ সরকারের নানা উদ্যোগে ভালো সুফল পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে। ই-গভর্মেন্ট কার্যক্রমে বাংলাদেশকে প্রায় দুইশ বছর ধরে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলের প্রচলিত সেবা প্রদানের পদ্ধতির ডিজিটালাইজেশন করা হয়। ৫২ হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইটের জাতীয় তথ্য বাতায়নে যুক্ত রয়েছে ৯৫ লাখেরও অধিক বিষয়ভিত্তিক কনটেন্ট এবং ৬শ’ ৮৫টির  বেশি ই-সেবা সহজেই মানুষ অনলাইনে পাচ্ছে।  ৮ হাজার ২৮০টি ডিজিটাল সেন্টার থেকে ৬০ কোটির অধিক এবং জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩ এর মাধ্যমে ৭ কোটির বেশি সেবা দেওয়া হয়। ডিজিটাল সেন্টার, জাতীয় তথ্য বাতায়ন ও মাইগভ থেকে প্রতিমাসে সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা ৭৫ লাখ।

&nbsp;

২০২৫ সাল নাগাদ যখন শতভাগ সরকারি সেবা অনলাইনে পাওয়া যাবে তখন নাগরিকদের সময়, খরচ ও যাতায়াত সাশ্রয়ের পরিমাণ কী পরিমাণ বাড়বে তা সহজেই অনুমেয়। ই-নথিতে ১ কোটি ৬৭ লাখ ফাইলের নিষ্পত্তি হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লাখ ৭১ হাজারের অধিক ই-মিউটেশন সম্পন্ন হয়েছে অনলাইনে। ‘ফোর টায়ার ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার’ প্রকল্পের আওতায় দেশে একটি সমন্বিত ও বিশ্বমানের ডাটা সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। এর ফলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ই-সেবা সংরক্ষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি, ই-সেবাগুলোর সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে জনসেবা উন্নত হবে।

&nbsp;

ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রেও দেশে ইতিবাচক ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আইসিটি রপ্তানি ২০১৮ সালেই ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে আইসিটি খাতে রপ্তানি ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। অনলাইন শ্রমশক্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রায় সাড়ে ৬ লাখ ফ্রিল্যান্সারের আউটসোর্সিং খাত থেকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে। ৩৯টি হাই-টেক/আইটি পার্কের মধ্যে ইতোমধ্যে নির্মিত ৯টিতে দেশি-বিদেশি ১৬৬টি প্রতিষ্ঠান ব্যবসায়িক কার্যক্রম শুরু করেছে। এতে বিনিয়োগ ১৫০০ কোটি টাকা এবং কর্মসংস্থান হয়েছে ২১ হাজার, মানবসম্পদ উন্নয়ন হয়েছে ৩২ হাজার। নারীর ক্ষমতায়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ১০৫০০ নারীকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ২০ লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট মহাকাশে প্রেরণের মাধ্যমে  বাংলাদেশ আজ স্যাটেলাইটের এলিট ক্লাবের সদস্য হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

&nbsp;

করোনা মহামারিতে যখন গোটা বিশ্ব টালমাটাল, পরিস্থিতি মোকাবিলায় এমনকি উন্নত দেশগুলোও হিমশিম খাচ্ছিল, তখনো সরকারের বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগ মানুষকে দেখিয়েছে নতুন পথ, জুগিয়েছে প্রেরণা। বিগত ১২ বছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যথাযথ অবকাঠামো গড়ে তোলার ফলে  করোনাকালে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠক, আদালতের কার্যক্রম, বিজনেস কনটিনিউটি প্ল্যান অনুসারে অফিস, ব্যবসা-বাণিজ্যের কার্যক্রমসহ প্রায় সবকিছুই চলমান রাখা হয়। মহামারির মধ্যেও প্রযুক্তির সহায়তায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু থাকায় তা আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখছে। প্রযুক্তির সহায়তায় করোনা সচেতনতা, বিভিন্ন দিকনির্দেশনা ও স্বাস্থ্যসেবাসহ সব ধরনের সেবা দেশের কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে।

&nbsp;

দেশব্যাপী লকডাউনে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম যেন থেমে না যায় সেজন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করা হয়। সংসদ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে দেশব্যাপী সম্প্রচার করা হয়। এ ছাড়া যেকোন আপৎকালীন সময়ে  বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম এবং সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ডিজিটাল মাধ্যমে কার্যকর ও সহজ উপায়ে চলমান রাখতে ‘ভার্চুয়াল ক্লাস’ প্লাটফর্ম চালু রয়েছে।

&nbsp;

করোনা মহামারী থেকে দেশের জনগণকে সুরক্ষিত রাখতে তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে ভ্যাক্সিনেশন কার্যক্রম, ভ্যাক্সিনেশন এর তথ্য সংরক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং সনদ প্রদানের লক্ষ্যে ভ্যাকসিন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম "সুরক্ষা " ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে। যা সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং দেশের জনগণ এর সুবিধা পাচ্ছে।

&nbsp;

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার লক্ষ্যের চেয়েও অনেক বেশি অর্জন করেছে। বিগত বছরগুলোতে ডিজিটাল বাংলাদেশের কর্মযজ্ঞ শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন এবং সেবা প্রদানের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এর বিস্তৃতি ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া সাউথ-সাউথ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সোমালিয়া, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ, ফিজি, ফিলিপাইন ও প্যারাগুয়ের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে এসডিজি, ওপেন গভর্নমেন্ট ডাটা চেইঞ্জ ল্যাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান এবং সেবা বা সিস্টেম আদান-প্রদান করা হচ্ছে।

&nbsp;

ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে নানা উদ্যোগ ও কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের ঝুলিতে এসেছে জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন অ্যান্ড ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড, আইসিটি সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস) উইটসা, এসোসিও অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের যে ভিত্তি তৈরি করে গেছেন সে পথ ধরেই ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। একযুগের বেশি পথ চলায় প্রমাণিত হয়েছে ডিজিটাল বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনার এক উন্নয়ন দর্শন। সরকারের বর্তমান লক্ষ্য ২০২৫ সালে আইসিটি রপ্তানী ৫ বিলিয়ন ডলার ও তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থান ৩০ লাখে উন্নীত করা এবং সরকারি সেবার শতভাগ অনলাইনে পাওয়া নিশ্চিত করা, আরও ৩শ’ স্কুল অব ফিউচার ও ১ লক্ষ ৯ হাজার ওয়াইফাই কানেক্টিভিটি, ভিলেজ ডিজিটাল সেন্টার এবং ২৫ হাজর শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাব প্রতিষ্ঠা করা। এছাড়াও, একই সময়ে আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে ইন্টারঅপারেবল ডিজিটাল ট্রানজাকশান (আইডিটি) চালু, ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলা, শেখ হাসিনা ইনস্টিটিউট অব ফ্রন্টিয়ার টেকনোলজি (এসএইচআইএফটি) স্থাপন, ডিজিটাল লিডারশীপ একাডেমি এবং সেন্টার ফর ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভুলেশন প্রতিষ্ঠা করা হবে। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যে প্রসার ঘটেছে তাকে পুরোপুরি কাজে লাগিয়ে ২০৪১ সালের মধ্যেই সরকার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহামানের স্বপ্নের সোনার বাংলার আধুনিক রূপ জ্ঞানভিত্তিক উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

<strong>লেখক:</strong> <em>জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।</em>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>আমাদের ছোট রাসেল সোনা: শেখ হাসিনা</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%9B%E0%A7%8B%E0%A6%9F+%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B2+%E0%A6%B8%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%3A+%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%96+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BE</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%9B%E0%A7%8B%E0%A6%9F+%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B2+%E0%A6%B8%E0%A7%8B%E0%A6%A8%E0%A6%BE%3A+%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%96+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BE</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 18 Oct 2021 08:23:26 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<em>রাসেল, রাসেল তুমি কোথায়?
রাসেলকে মা ডাকে, আসো, খাবে না, খেতে আসো।
মা মা মা, তুমি কোথায় মা?</em>
মা যে কোথায় গেল- মাকে ছাড়া রাসেল যে ঘুমাতে চায় না ঘুমের সময় মায়ের গলা ধরে ঘুমাতে হবে।
<div class="ads">
<div>
<div data-id="47">
<div id="div-gpt-ad-5565653-11" data-google-query-id="CLeJxuOb0_MCFRxtjwodbWME1Q">
<div id="google_ads_iframe_/21675215918/All_NewsDetails_Middle_728x90_0__container__">মাকে ও মা বলে যেমন ডাক দিত, আবার সময় সময় আব্বা বলেও ডাকত।</div>
</div>
</div>
</div>
</div>
আব্বা ওর জন্মের পরপরই জেলে চলে গেলেন। ৬ দফা দেওয়ার কারণে আব্বাকে বন্দি করল পাকিস্তানি শাসকরা। রাসেলের বয়স তখন মাত্র দেড় বছরের কিছু বেশি। কাজেই তার তো সব কিছু ভালোভাবে চেনার বা জানারও সময় হয়নি। রাসেল আমাদের সবার বড় আদরের; সবার ছোট বলে ওর আদরের কোনো সীমা নেই। ও যদি কখনও একটু ব্যথা পায় সে ব্যথা যেন আমাদের সবারই লাগে। আমরা সব ভাইবোন সব সময় চোখে চোখে রাখি, ওর গায়ে এতটুকু আঁচড়ও যেন না লাগে। কী সুন্দর তুলতুলে একটা শিশু। দেখলেই মনে হয় গালটা টিপে আদর করি।

১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর রাসেলের জন্ম হয় ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর সড়কের বাসায় আমার শোয়ার ঘরে। দোতলা তখনও শেষ হয়নি। বলতে গেলে মা একখানা করে ঘর তৈরি করেছেন। একটু একটু করেই বাড়ির কাজ চলছে। নিচতলায় আমরা থাকি। উত্তর-পূর্ব দিকের ঘরটা আমার ও কামালের। সেই ঘরেই রাসেল জন্ম নিল রাত দেড়টায়।

আব্বা নির্বাচনী মিটিং করতে চট্টগ্রাম গেছেন। ফাতেমা জিন্নাহ প্রেসিডেন্ট প্রার্থী। সর্বদলীয় ঐক্য পরিষদ আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে একটা মোর্চা করে নির্বাচনে নেমেছে। প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল। তখনকার দিনে মোবাইল ফোন ছিল না। ল্যান্ডফোনই ভরসা। রাতেই যাতে আব্বার কাছে খবর যায় সে ব্যবস্থা করা হয়েছে। রাসেলের জন্মের আগের মুহূর্তগুলো ছিল ভীষণ উৎকণ্ঠার। আমি, কামাল, জামাল, রেহানা ও খোকা কাকা বাসায়। বড় ফুফু ও মেজ ফুফু মার সাথে। একজন ডাক্তার এবং নার্সও এসেছেন। সময় যেন আর কাটে না। জামাল আর রেহানা কিছুক্ষণ ঘুমায় আর জেগে ওঠে। আমরাও ঘুমে ঢুলঢুলু চোখে জেগে আছি নতুন অতিথির আগমনবার্তা শোনার অপেক্ষায়।

মেজ ফুফু ঘর থেকে বের হয়ে এসে খবর দিলেন আমাদের ভাই হয়েছে। খুশিতে আমরা আত্মহারা। কতক্ষণে দেখব। ফুফু বললেন, তিনি ডাকবেন। কিছুক্ষণ পর ডাক এলো। বড় ফুফু আমার কোলে তুলে দিলেন রাসেলকে। মাথাভরা ঘন কালো চুল। তুলতুলে নরম গাল। বেশ বড়সড় হয়েছিল রাসেল। মাথার চুল একটু ভেজা মনে হলো। আমি আমার ওড়না দিয়েই মুছতে শুরু করলাম। তারপরই এক চিরুনি নিলাম মাথার চুল আচড়াতে। মেজ ফুফু নিষেধ করলেন, মাথার চামড়া খুব নরম তাই এখনই চিরুনি চালানো যাবে না। হাতের আঙ্গুল বুলিয়ে সিঁথি করে দিতে চেষ্টা করলাম।

আমাদের পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট রাসেল। অনেক বছর পর একটা ছোট বাচ্চা আমাদের ঘর আলো করে এসেছে, আনন্দের জোয়ার বয়ে যাচ্ছে। আব্বা বার্ট্র্যান্ড রাসেলের খুব ভক্ত ছিলেন, রাসেলের বই পড়ে মাকে ব্যাখ্যা করে শোনাতেন। মা রাসেলের ফিলোসফি শুনে শুনে এত ভক্ত হয়ে যান যে নিজের ছোট সন্তানের নাম রাসেল রাখলেন। ছোট্ট রাসেল আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে। মা রাসেলকে বিছানায় শুইয়ে দিয়ে সংসারের কাজ করতেন, স্কুল বন্ধ থাকলে তার পাশে শুয়ে আমি বই পড়তাম। আমার চুলের বেণি ধরে খেলতে খুব পছন্দ করতো ও। আমার লম্বা চুলের বেণিটা ওর হাতে ধরিয়ে দিতাম। ও হাত দিয়ে নাড়াচাড়া করতে করতে হাসতো। কারণ নাড়াচাড়ায় মুখে চুল লাগতো তাতে খুব মজা পেত।

জন্মের প্রথম দিন থেকেই ওর ছবি তুলতাম, ক্যামেরা আমাদের হাতে থাকতো। কত যে ছবি তুলেছি। ওর জন্য আলাদা একটা অ্যালবাম করেছিলাম যাতে ওর জন্মের দিন, প্রথম মাস, প্রতি তিন মাস, ছয় মাস অন্তর ছবি অ্যালবামে সাজানো হতো। দুঃখের বিষয় ওই ফটো অ্যালবামটা অন্যসব জিনিসপত্রের সঙ্গে ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী লুট করে নেয়। হারিয়ে যায় আমাদের অতি যত্নে তোলা আদরের ছোট্ট ভাইটির অনেক দুর্লভ ছবি।

বাসার সামনে ছোট্ট একটা লন। সবুজ ঘাসে ভরা। আমার মা খুবেই যত্ন নিতেন বাগানের। বিকেলে আমরা সবাই বাগানে বসতাম। সেখানে একটা পাটি পেতে ছোট্ট রাসেলকে খেলতে দেওয়া হতো। একপাশে একটা ছোট্ট বাঁশ বেঁধে দেওয়া ছিল, সেখানে রাসেল ধরে ধরে হাঁটতে চেষ্টা করতো। তখন কেবল হামাগুড়ি দিতে শুরু করেছে। আমরা হাত ধরে হাঁটাতে চেষ্টা করতাম। কিন্তু কিছুতেই হাঁটতে চাইতো না। ওর স্বাস্থ্য খুব ভালো ছিল। বেশ নাদুস-নুদুস একটা শিশু। আমরা ভাইবোন সব সময় ওকে হাত ধরে হাঁটাতাম।

একদিন আমার হাত ধরে হাঁটছে। ওর যেন হাঁটার ইচ্ছা খুব বেড়ে গেছে। সারা বাড়ি হাত ধরে ধরে হাঁটছে। হাঁটাতে হাঁটতে পেছনের বারান্দা থেকে সামনের বারান্দা হয়ে বেশ কয়েকবার ঘুরলো। এই হাঁটার মধ্যে আমি মাঝে মাঝে চেষ্টা করছি আঙ্গুল ছেড়ে দিতে, যাতে নিজে হাঁটতে পারে। কিন্তু সে বিরক্ত হচ্ছে, আর বসে পড়ছে, হাঁটবে না আঙ্গুল ছাড়া। তার সাথে হাঁটতে হাঁটতে আমি বরাবরই চেষ্টা করছি যদি নিজে হাঁটে। হঠাৎ সামনের বারান্দায় হাঁটতে হাঁটতে আমার হাত ছেড়ে নিজে হাঁটতে শুরু করলো। হাঁটতে হাঁটতে চলছে। আমি পেছনে পেছনে যাচ্ছি। সেই প্রথম হাঁটা শুরু করল। আমি ভাবলাম কতটুকু হেঁটে আবার আমার হাত ধরবে। কিন্তু যতই হাঁটছি দেখি আমার হাত আর ধরে না, চলছে তো চলছেই, একেবারে মাঝের প্যাসেজ হয়ে পেছনের বারান্দায় চলে গেছে। আমি তো খুশিতে সবাইকে ডাকাডাকি শুরু করেছি যে, রাসেল সোনা হাঁটতে শিখে গেছে। একদিনে এভাবে কোনও বাচ্চাকে আমি হাঁটতে দেখিনি। অল্প অল্প করে হেঁটে হেঁটে তবেই বাচ্চারা শেখে।

কিন্তু ওর সবকিছু যেন ছিল ব্যতিক্রম। ও যে খুবই মেধাবী তার প্রমাণ অনেকভাবে আমরা পেয়েছি। আমাকে হাসুপা বলে ডাকত। কামাল ও জামালকে ভাই বলত আর রেহানাকে আপু। কামাল ও জামালের নাম কখনও বলতো না। আমরা অনেক চেষ্টা করতাম নাম শেখাতে, মিষ্টি হেসে মাথা নেড়ে বলতো ভাই। দিনের পর দিন আমরা যখন চেষ্টা করে যাচ্ছি- একদিন বলেই ফেলল ‘কামমাল’, ‘জামমাল’। তবে সব সময় ভাই বলেই ডাকত।

চলাফেরায় বেশ সাবধানি কিন্তু সাহসী ছিল, সহসা কোনও কিছুতে ভয় পেতো না। কালো কালো বড় পিপড়া দেখলে ধরতে যেত। একদিন একটা বড় ওলা (বড় কালো পিঁপড়া) ধরে ফেললো আর সাথে সাথে কামড় খেল। ছোট্ট আঙ্গুল কেটে রক্ত বের হলো। সঙ্গে সঙ্গে ওষুধ দেওয়া হলো। আঙ্গুলটা ফুলে গেছে। তারপর থেকে আর পিঁপড়া ধরতে যেত না। কিন্তু ওই পিঁপড়ার একটা নাম নিজেই দিয়ে দিল। কামড় খাওয়ার পর থেকেই কালো বড় পিপড়া দেখলেই বলতো ‘ভুট্টো’। নিজে থেকেই নামটা দিয়েছিল।

রাসেলের কথা ও কান্না টেপরেকর্ডারে টেপ করতাম। তখনকার দিনে বেশ বড় টেপরেকর্ডার ছিল। এর কান্না মাঝে মাঝে ওকেই শোনাতাম। সব থেকে মজা হতো ও যদি কোনও কারণে কান্নাকাটি করতো, আমরা টেপ ছেড়ে দিতাম, ও তখন চুপ হয়ে যেত। অবাক হতো মনে হয়। একদিন আমি রাসেলের কান্না টেপ করে বারবার বাজাচ্ছি, মা ছিলেন রান্নাঘরে। ওর কান্না শুনে মা ছুটে এসেছেন। ভেবেছিলেন ও বোধহয় একা, কিন্তু এসে দেখেন আমি টেপ বাজাচ্ছি আর ওকে নিয়ে খেলছি। মার আর কী বলবেন। প্রথমে বকা দিলেন, কারণ মা খুব চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলেন ও একা আছে মনে করে। তারপর হেসে ফেললেন ওর টেপ করা কান্না শুনে। আমি ওকে দিয়ে কথা বলিযে টেপ করতে চেষ্টা করছিলাম।

আব্বা যখন ৬-দফা দিলেন তারপরই তিনি গ্রেফতার হয়ে গেলেন। রাসেলের মুখে হাসিও মুছে গেল। সারা বাড়ি ঘুরে ঘুরে রাসেল আব্বাকে খুঁজত। রাসেল যখন কেবল হাঁটতে শিখেছে, আধো আধো কথা বলতে শিখেছে, আব্বা তখনই বন্দি হয়ে গেলেন। মা ব্যস্ত হয়ে পড়লেন আব্বার মামলা-মকদ্দমা সামলাতে, পাশাপাশি আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা। সংগঠনকে সক্রিয় রেখে আন্দোলন-সংগ্রাম চালাতেও সময় দিতে হতো।

আমি কলেজে পড়ি, সঙ্গে সঙ্গে রাজনীতিতে সক্রিয় হযে কাজ শুরু করি। কামাল স্কুল শেষ করে ঢাকা কলেজে ভর্তি হয়। সেও রাজনীতিতে যোগ দেয়। জামাল ও রেহানা স্কুলে যায়। আব্বা গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই রাসেলের খাওয়া-দাওয়া একরকম বন্ধ হয়ে যায়। কিছু খেতে চাইতো না। ওকে মাঝে মাঝ ছোট ফুফুর বাসায় নিয়ে যেতাম। সেখানে গেলে আমার ছোট ফুফার সাথে বসে কিছু খেতে দিতেন। ছোট ফুফা ডিম পোচের সাথে চিনি দিয়ে রাসেলকে খেতে দিতেন। ঢেঁড়স ভাজির সাথেও চিনি দিয়ে রুটি খেতেন, রাসেলকেও খাওয়াতেন। আমাদের বাসায় আম্বিয়ার মা নামে এক বুয়া ছিল, খুব আদর করতো রাসেলকে। কোলে নিয়ে ঘুরে ঘুরে খাবার খাওয়াতো।
আমাদের বাসায় কবুতরের ঘর ছিল। বেশ উঁচু করে ঘর করা হয়েছিল। অনেক কবুতর থাকতো সেখানে। মা খুব ভোরে উঠতেন, রাসেলকে কোলে নিয়ে নিচে যেতেন এবং নিজের হাতে কবুতরদের খাবার দিতেন। রাসেল যখন হাঁটতে শেখে তখন নিজেই কবুতরের পেছনে ছুটত, নিজে হাতে করে তাদের খাবার দিত। আমাদের গ্রামের বাড়িতেও কবুতর ছিল। কবুতরের মাংস সবাই খেত। বিশেষ করে বর্ষাকালে যখন অধিকাংশ জমি পানির নিচে থাকতো তখন তরকারি ও মাছের বেশ অভাব দেখা দিত। তখন প্রায়ই কবুতর খাওয়ার রেওয়াজ ছিল। সকালের নাস্তার জন্য পরোটা ও কবুতরের মাংস ভুনা সবার প্রিয় ছিল। তাছাড়া কারও অসুখ হলে কবুতরের মাংসের ঝোল খাওয়ানো হতো। ছোট ছোট বাচ্ছাদের কবুতরের স্যুপ করে খাওয়ালে রক্ত বেশি হবে, তাই বাচ্চাদের নিয়মিত কবুতরের স্যুপ খাওয়াতো।

রাসেলকে কবুতর দিলে কোনও দিন খেত না। এত ছোট বাচ্চা কিভাবে যে টের পেত কে জানে। ওকে আমরা অনেকভাবে চেষ্টা করেছি। ওর মুখের কাছে নিলেও খেত না। মুখ ফিরিয়ে নিত। শত চেষ্টা করলেও কোনোদিন কেউ ওকে কবুতরের মাংস খাওয়াতে পারে নি। আব্বার সঙ্গে প্রতি ১৫ দিন পর আমরা দেখা করতে যেতাম। রাসেলকে নিয়ে গেলে আর আসতে চাইতো না। খুবই কান্নাকাটি করতো। ওকে বোঝানো হয়েছিল যে আব্বার বাসা জেলখানা আর আমরা আব্বার বাসায় বেড়াতে এসেছি। আমরা বাসায় ফেরত যাবো। বেশ কষ্ট করেই ওকে বাসায় ফেরত আনা হতো। আর আব্বার মনের অবস্থা কী হতো তা আমরা বুঝতে পারতাম। বাসায় আব্বার জন্য কান্নাকাটি করলে মা ওকে বোঝাতো এবং মাকে আব্বা বলে ডাকতে শেখাতেন। মাকেই আব্বা বলে ডাকতো।
১৯৬৮ সালের ১৮ জানুয়ারি আব্বাকে আগরতলা মামলায় আসামি করে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ক্যান্টনমেন্টে নিয়ে বন্দি করে রাখে। ছয় মাস আব্বার সঙ্গে দেখা হয়নি। আমরা জানতেও পারিনি আব্বা কেমন আছেন, কোথায় আছেন।

রাসেলের শরীর খারাপ হয়ে যায়। খাওয়া-দাওয়া নিয়ে আরও জেদ করতে শুরু করে। ছোট্ট বাচ্চা মনের কষ্টের কথা মুখ ফুটে বলতেও পারে না, আবার সহ্যও করতে পারে না। কী যে কষ্ট ওর বুকের ভেতরে তা আমরা বুঝতে পারতাম।

কলেজ শেষ করে ১৯৬৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হই। মা আব্বার মামলা ও পার্টি নিয়ে ব্যস্ত। প্রায়ই বাসার বাইরে যেতে হয়। মামলার সময় কোর্টে যান। আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন জোরদার করার জন্য ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠন করে ১৯৬৮ সালে ৬ দফা ও ১১ দফা আন্দোলন নিয়ে সবাই ব্যস্ত। আন্দোলন সংগ্রাম তখন জোরদার হয়েছে। রাসলকে সময় দিতে পারি না বেশি। আম্বিয়ার মা সব সময় দেখে রাখতো। এমনি খাবার খেতে চাইত না কিন্তু রান্নাঘরে যখন সবাই খেত তখন সবার সঙ্গে বসতো। পাশের ঘরে বসে লাল ফুল আঁকা থালায় করে পিঁড়ি পেতে বসে কাজের লোকদের সঙ্গে ভাত খেতে পছন্দ করতো।

আমাদের একটা পোষা কুকুর ছিল; ওর নাম টমি। সবার সঙ্গে খুব বন্ধুত্ব ছিল। ছোট্ট রাসেলও টমিকে নিয়ে খেলতো। একদিন খেলতে খেলতে হঠাৎ টমি ঘেউ ঘেউ করে ডেকে ওঠে, রাসেল ভয় পেয়ে যায়। কাঁদতে কাঁদতে রেহানার কাছে এসে বলে, টমি বকা দিচ্ছে। তার কথা শুনে আমরা তো হেসেই মরি। টমি আবার কিভাবে বকা দিল। কিন্তু রাসেলকে দেখে মনে হলো বিষয়টা নিয়ে সে বেশ বেশ গম্ভীর। টমি তাকে বকা দিয়েছে এটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না, কারণ টমিকে সে খুব ভালোবাসতো। হাতে করে খাবার দিত। নিজের পছন্দমতো খাবারগুলো টমিকে ভাগ দেবেই, কাজেই সেই টমি বকা দিলে দুঃখ তো পাবেই।

১৯৬৯ সালে ২২ ফেব্রুয়ারি প্রায় তিন বছর পর আব্বা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যখন মুক্তি পান তখন রাসেলের বয়স চার বছর পার হয়েছে। কিন্তু ভীষণ রোগা হয়ে গিয়েছিল বলে আরও ছোট্ট দেখাতো। ওর মধ্যে আর একটি জিনিস আমরা লক্ষ্য করলাম। খেলার ফাঁকে ফাঁকে কিছুক্ষণ পরপরই আব্বাকে দেখে আসত। আব্বা নিচে অফিস করতেন। আমরা তখন দোতলায় উঠে গেছি। ও সারাদিন নিচে খেলা করত। আর কিছুক্ষণ পরপর আব্বাকে দেখতে যেত। মনে মনে বোধহয় ভয় পেত যে আব্বাকে বুঝি আবার হারায়।

১৯৭১ সালের মার্চ মাসে যখন অসহযোগ আন্দোলন চলছে, তখন বাসার সামনে দিয়ে মিছিল যেত আর মাঝে মধ্যে পুলিশের গাড়ি চলাচল করত। দোতলায় বারান্দায় রাসেল খেলা করত, যখনই দেখত পুলিশের গাড়ি যাচ্ছে তখনই চিৎকার করে বলত, ‘ও পুলিশ কাল হরতাল’। যদিও ওই ছোট্ট মানুষের কণ্ঠস্বর পুলিশের কানে পৌঁছত না কিন্তু রাসেল হরতালের কথা বলবেই। বারন্দায় রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে ‘হরতাল হরতাল’ বলে চিৎকার করত। স্লোগান দিত ‘জয় বাংলা’। আমরা বাসায় সবাই আন্দোলনের ব্যাপারে আলোচনা করতাম, ও সব শুনত এবং নিজেই আবার তা বলত।

১৯৭১ সালের পঁচিশ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপর হামলা চালালে আব্বা স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। ছাব্বিশ মার্চ প্রথম প্রহরের পরপরই আব্বাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। পরদিন আবার আমাদের বাসা আক্রমণ করে। রাসেলকে নিয়ে মা ও জামাল পাশের বাসায় আশ্রয় নেন। কামাল আমাদের বাসার পেছনে জাপানি কনস্যুলেটের বাসায় গিয়ে আশ্রয় নেয়।

কামাল মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিতে চলে যায়। আমার মা পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে বন্দি হন। আমাদের ধানমণ্ডির ১৮ নম্বর সড়কে (পুরাতন) একটা একতলা বাসায় বন্দি করে রাখে। ছোট্ট রাসেলও বন্দি জীবনযাপন করতে শুরু করে। ঠিকমতো খাবার-দাবার নেই। কোনো খেলনা নেই, বইপত্র নেই, কী কষ্টের দিন যে ওর জন্য শুরু হলো।

বন্দিখানায় থাকতে আব্বার কোনও খবরই আমরা জানি না। কোথায় আছেন কেমন আছেন কিছুই জানি না। প্রথম দিনে রাসেল আব্বার জন্য খুব কান্নাকাটি করত। তার ওপর আদরের কামাল ভাইকে পাচ্ছে না, সেটাও ওর জন্য কষ্টকর। মনের কষ্ট কীভাবে চেপে রাখবে আর কীভাবেই বা ব্যক্ত করকে। চোখের কোণে সব সময় পানি। যদি জিজ্ঞাসা করতাম, ‘কি হয়েছে রাসেল?’ বলত ‘চোখে ময়লা’। ওই ছোট্ট বয়সে সে চেষ্টা করত মনের কষ্ট লুকাতে। মাঝে মধ্যে রমার কাছে বলত। রমা ছোট থেকেই আমাদের বাসায় থাকতো, ওর সাথে খেলতো। পারিবারিকভাবে ওদের বংশ পরম্পরায় আমাদের বাড়িতে বিভিন্ন কাজ করত। ওকে মাঝে মধ্যে দুঃখের কথা বলত। ওর চোখে পানি দেখলে যদি জিজ্ঞেস করতাম, বলত চোখে কী হয়েছে। অবাক লাগত এটুকু একটা শিশু কীভাবে নিজের কষ্ট লুকাতে শিখল।

আমরা বন্দিখানায় সব সময় দুঃশ্চিন্তায় থাকতাম, কারণ পাকবাহিনী মাঝে মধ্যেই ঘরে এসে সার্চ করত। আমাদের নানা কথা বলত। জামালকে বলত, তোমাকে ধরে নিয়ে শিক্ষা দেব। রেহানাকে নিয়েও খুব চিন্তা করতো। জয় এরই মধ্যে জন্ম নেয়। জয় হওয়ার পর রাসেল যেন একটু আনন্দ পায়। সারাক্ষণ জয়ের কাছে থাকত। ওর খোঁজ নিতো।

যখন ডিসেম্বর মাসে যুদ্ধ শুরু হয় তখন তার জয়কে নিয়েই চিন্তা। এর কারণ হলো, আমাদের বাসার ছাদে বাংকার করে মেশিনগান বসানো ছিল, দিন-রাতই গোলাগুলি করত। প্রচণ্ড আওয়াজ হতো। জয়কে বিছানায় শোয়াতে কষ্ট হতো। এটুকু ছোট্ট বাচ্চা মাত্র চার মাস বয়স, মেশিনগানের গুলিতে কেঁপে কেঁপে উঠত।

এরপর শুরু হল এয়ার রেইড। আক্রমণের সময় সাইরেন বাজত। রাসেল এ ব্যাপারে খুবই সচেতন ছিল। যখনই সাইরেন বাজত বা আকাশে মেঘের মতো আওয়াজ হত, রাসেল তুলা নিয়ে এসে জয়ের কানে গুঁজে দিত। সব সময় পকেটে তুলা রাখত।

সে সময় খাবারের কষ্টও ছিল, ওর পছন্দের কোনো খাবার দেওয়া সম্ভব হতো না। দিনের পর দিন বন্দি থাকা, কোনো খেলার সাথি নেই। পছন্দমতো খাবার পাচ্ছে না একটা ছোট বাচ্চার জন্য কত কষ্ট নিয়ে দিনের পর দিন কাটাতে হয়েছে তা কল্পনাও করা যায় না।

রাসেল অত্যন্ত মেধাবী ছিল। পাকসেনারা তাদের অস্ত্রশস্ত্র পরিস্কার করত। ও জানালায় দাঁড়িয়ে সব দেখত। অনেক অস্ত্রের নামও শিখেছিল। যখন এয়ার রেইড হতো তখন পাকসেনারা বাংকারে ঢুকে যেত আর আমরা তখন বারান্দায় বের হওয়ার সুযোগ পেতাম। আকাশে যুদ্ধবিমানের ‘ডগ ফাইট’ দেখারও সুযোগ হয়েছিল। প্লেন দেখা গেলেই রাসেল খুশি হয়ে হাতে তালি দিত।

ষোল ডিসেম্বর ১৯৭১ সালে সারেন্ডার হয়, পাকিস্তান যুদ্ধে হেরে যায়, বাংলাদেশ মুক্ত হয়। আমরা সেদিন মুক্তি পাইনি। আমরা মুক্তি পাই ১৭ ডিসেম্বর সকালে। যে মুহূর্তে আমরা মুক্ত হলাম এবং বাসার সৈনিকদের ভারতীয় মিত্রবাহিনী বন্দি করল, তারপর থেকে আমাদের বাসায় দলে দলে মানুষ আসতে শুরু করল। এর মধ্যে রাসেল মাথায় একটা হেলমেট পরে নিল, সাথে টিটোও একটা পরল। দুইজন হেলমেট পরে যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা শুরু করল।

আমরা তখন একদিকে মুক্তির আনন্দে উদ্বেলিত আবার আব্বা, কামাল, জামালসহ অগণিত মানুষের জন্য দুশ্চিন্তাগ্রস্ত। কে বেঁচে আছে কে নেই কিছুই তো জানি না। এক অনিশ্চয়তার ভার বুকে নিয়ে বিজয়ের উল্লাস করছি। চোখে পানি, মুখে হাসি--এই ক্ষণগুলো ছিল অদ্ভুত এক অনুভূতি নিয়ে, কখও হাসছি কখনও কান্নাকাটি করছি। আমাদের কাঁদতে দেখলেই রাসেল মন খারাপ করত। ওর ছোট্ট বুকের ব্যথা আমরা কতটুকু অনুভব করতে পারি? এর মধ্যে কামাল ও জামাল রণাঙ্গন থেকে ফিরে এসেছে। রাসেলের আনন্দ ভাইদের পেয়ে, কিন্তু তখন তার দু’চোখ ব্যথায় ভরা, মুখফুটে বেশি কথা বলত না। কিন্তু ওই দুটো চোখ যে সব সময় আব্বাকে খঁজে বেড়াচ্ছে তা আমি অনুভব করতে পারতাম।

আমরা যে বাসায় ছিলাম তার সামনে বাড়িভাড়া নেওয়া হলো। কারণ এত মানুষ আসছে যে বসারও জায়গা দেওয়া যাচ্ছে না। এদিকে আমাদের ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির বাসা লুটপাট করে বাথরুম, দরজা-জানলা সব ভেঙে রেখে গেছে পাকসেনারা। মেরামত না হওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকতে হবে।
১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি আব্বা ফিরে এলেন বন্দিখানা থেকে মুক্তি পেয়ে। আমার দাদা রাসেলকে নিয়ে এয়ারপোর্ট গেলেন আব্বাকে আনতে। লাখো মানুষের ঢল নেমেছিল সেদিন, আব্বা প্রথম গেলেন তার প্রিয় মানুষের কাছে। তারপর এলেন বাড়িতে। আমরা সামনের বড় বাড়িটায় উঠলাম। ছোট যে বাসাটায় বন্দি ছিলাম সে বাসাটা দেশ-বিদেশ থেকে সব সময় সাংবাদিক ফটোগ্রাফার আসত আর ছবি নিত। মাত্র দুটো কামরা ছিল। আব্বার থাকার মতো জায়গা ছিল না এবং কোনও ফার্নিচারও ছিল না। যা হোক, সব কিছু তড়িঘড়ি করে জোগাড় করা হলো।
রাসেলের সব থেকে আনন্দের দিন এলো যেদিন আব্বা ফিরে এলেন। এক মুহূর্তে যেন আব্বাকে কাছছাড়া করতে চাইত না। সব সময় আব্বার পাশে পাশে ঘুরে বেড়াত। ওর জন্য ইতোমধ্যে অনেক খেলনাও আনা হয়েছে। ছোট সাইকেলও এসেছে, কিন্তু কিছুক্ষণ পরপরই ও আব্বার কাছে চলে যেত।

ফেব্রুয়ারি মাসে আমরা ৩২ নম্বর সড়কে আমাদের বাসায় ফিরে এলাম। বাসাটা মেরামত করা হয়েছে। রাসেলের মুখে হাসি, সারা দিন খেলা নিয়ে ব্যস্ত। এর মাঝে গণভবনও মেরামত করা হয়েছে। পুরনো গণভবন বর্তমানে সুগন্ধাকে প্রধানমন্ত্রীর কর্যালয় হিসেবে ব্যবহার করা হতো। এবার গণভবন ও তার পাশেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে কার্যক্রম শুরু করা হলো। গণভবন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসস্থান আর এর পাশেই প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে, ভেতর থেকে রাস্তা ছিল, হেঁটেই কার্যালয়ে যাওয়া যেত।

আব্বা প্রতিদিন সকালে অফিসে আসতেন, দুপুরে গণভবনে বিশ্রাম নিতেন, এখানেই খাবার খেতেন। বিকেলে হাঁটতেন আর এখানেই অফিস করতেন। রাসেল প্রতিদিন বিকেলে গণভবনে আসত। তার সাইকেলটাও সাথে আসত। রাসেলের মাছ ধরার খুব শখ ছিল। কিন্তু মাছ ধরে আবার ছেড়ে দিতো। মাছ ধরবে আর ছাড়বে এটাই তার খেলা ছিল। একবার আমরা সবাই মিলে নাটোরে উত্তরা গণভবনে যাই। সেখানেও সারা দিন মাছ ধরতেই ব্যস্ত থাকতো।

রাসেল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরি স্কুলে ভর্তি হয়। তবে স্কুলে যেতে মাঝে মধ্যেই আপত্তি জানাত। তখন আমরা ছোটবেলা থেকে যে শিক্ষকের কাছে পড়েছি তার কাছে পড়বে না। তখন ও স্কুলে ভর্তি হয় নি এটা স্বাধীনতার আগের ঘটনা, তার পছন্দ ছিল ওমর আলীকে। বগুড়ায় বাড়ি। দি পিপল পত্রিকার অ্যাডে কণ্ঠ দিয়েছিল, টেলিভিশনে ইংরেজি খবর পড়ত। মাঝে মধ্যে আমাদের বাসায় আসত, তখন রাসেলের জন্য অনেক ‘কমিক’ বই নিয়ে আসত এবং রাসেলকে পড়ে শোনাত।

যা হোক স্বাধীনতার পরে একজন ভদ্র মহিলাকে রাসেলের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হলো। রাসেলকে পড়ানো খুব সহজ কথা ছিল না। শিক্ষককে তার কথাই শুনতে হতো। প্রতিদিন শিক্ষয়িত্রীকে দুটো করে মিষ্টি খেতে হবে। আর এ মিষ্টি না খেলে সে পড়বে না। কাজেই শিক্ষিকাকে খেতেই হতো। তা ছাড়া সব সময় তার লক্ষ্য থাকত শিক্ষিকার যেন কোনও অসুবিধা না হয়। মানুষকে আপ্যায়ন করতে খুই পছন্দ করত।

টুঙ্গিপাড়া গ্রামের বাড়িতে গেলে তার খেলাধুলার অনেক সাথী ছিল। গ্রামের ছোট ছোট অনেক বাচ্চাদের জড়ো করত। তাদের জন্য ডামি বন্দুক বানিয়ে দিয়েছিল। সে-ই বন্দুক বানিয়ে দিয়েছিল। সেই বন্দুক হাতে তাদের প্যারেড করাত। প্রত্যেকের জন্য খাবার কিনে দিত। রাসেলের খুদে বাহিনীর জন্য জামা-কাপড় ঢাকা থেকেই কিনে দিতে হতো। মা কাপড়-চোপড় কিনে টুঙ্গিপাড়ায় নিয়ে যেতেন। রাসেল সেই কাপড় তার খুদে বাহিনীকে দিত। সব সময় মা কাপড়-চোপড় কিনে আলমারিতে রেখে দিতেন। নাসের কাকা রাসেলকে এক টাকা নোটের বাণ্ডিল দিতেন। খুদে বাহিনীকে বিস্কুট লজেন্স কিনে খেতে টাকা দিত। প্যারেড শেষ হলেও তাদের হাতে টাকা দিত। এই খুদে বাহিনীকে নিয়ে বাড়ির উঠোনেই খেলা করতো। রাসলেকে যদি কেউ জিজ্ঞেস করতো, বড় হয়ে তুমি কি হবে? তাহলে বলতো, আমি আর্মি অফিসার হব। ওর খুব ইচ্ছা ছিল সেনাবাহিনীতে যোগ দেবে। মুক্তিযুদ্ধের চলাকালীন থেকেই ওর ওই ইচ্ছা। কামাল ও জামাল মুক্তিযুদ্ধ থেকে ফিরে আসার পর সব গল্প বলার জন্য আবদার করতো। খুব আগ্রহ নিয়ে শুনতো।

রাসেল আব্বাকে ছায়ার মতো অনুসরণ করতো। আব্বাকে মোটেই ছাড়তে চাইতো না। যেখানে যেখানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব আব্বা সেখানে তাকে নিয়ে যেতেন। মা ওর জন্য প্রিন্স স্যুট বানিয়ে দিয়েছিলেন। কারণ আব্বা প্রিন্স স্যুট যেদিন পরতেন রাসেলও পরতো। কাপড়-চোপড়ের ব্যাপারে ছোটবেলা থেকেই তার নিজের পছন্দ ছিল। তবে একবার একটা পছন্দ হলে তা আর ছাড়তে চাইতো না।

ওর নিজের আলাদা একটা ব্যক্তিত্ব ছিল। নিজের পছন্দের ওপর খুব বিশ্বাস ছিল। খুব স্বাধীন মত নিয়ে চলতে চাইতো। ছোট মানুষটার চরিত্রের দৃঢ়তা দেখে অবাক হতে হতো। বড় হয়ে সে যে বিশেষ কেউ একটা হবে তাতে কোনও সন্দেহ ছিল না। জাপান থেকে আব্বার রাষ্ট্রীয় সফরের দাওয়াত আসে। জাপানিরা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সমর্থন দেয়। শরণার্থীদের সাহায্য করে জাপানের শিশুরা তাদের টিফিনের টাকা দেয় আমাদের দেশের শিশুদের জন্য।

সেই জাপান যখন আমন্ত্রণ জানায় তখন গোটা পরিবারকেই আমন্ত্রণ দেয় বিশেষভাবে রাসেলের কথা উল্লেখ করে। রাসেল ও রেহানা আব্বার সাথে জাপান যায়। রাসেলের জন্য বিশেষ কর্মসূচিও রাখে জাপান সরকার। খুব আনন্দ করেছিল রাসেল সেই সফরে।

তবে মাকে ছেড়ে কোথাও ওর থাকতে কষ্ট হয়। সারাদিন খুব ব্যস্ত থাকতো কিন্তু রাতে আব্বার কাছেই ঘুমাতো। আর তখন মাকে মনে পড়ত। মার কথা মনে পড়লেই মন খারাপ করতো। আব্বার সঙ্গে দেশেও বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দিতো। আব্বা নেভির কর্মসূচিতে যান। সমুদ্রে জাহাজ কমিশন করতে গেলে সেখানে রাসেলকে সাথে নিয়ে যান। খুব আনন্দ করেছিল ছোট্ট রাসেল।

রাসেলের একবার খুব বড় অ্যাকসিডেন্ট হলো। সে দিনটার কথা এখনও মনে পড়লে গা শিউরে ওঠে। রাসেলের একটা ছোট মপেট মোটরসাইকেল ছিল আর একটা সাইকেলও ছিল। বাসায় কখনও রাস্তায় সাইকেল নিয়ে চলে যেত। পাশের বাড়ির ছেলেরা ওর সঙ্গে সাইকেল চালাতো। আদিল ও ইমরান দুই ভাই এবং রাসেল একসঙ্গে খেলা করতো। একদিন মপেট চালানোর সময় রাসেল পড়ে যায় আর ওর পা আটকে যায় সাইকেলের পাইপে। বেশ কষ্ট করে পা বের করে। আমি বাসার উপর তলায় জয় ও পুতুলকে নিয়ে ঘরে। হঠাৎ রাসেলের কান্নার আওয়াজ পাই। ছুটে উত্তর- পশ্চিমের খোলা বারান্দায় চলে আসি, চিৎকার করে সবাইকে ডাকি। এর মধ্যে দেখি কে যেন ওকে কোলে নিয়ে আসছে। পায়ের অনেকখানি জায়গা পুড়ে গেছে। বেশ গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হযেছে। ডাক্তার এসে ওষুধ দিল। অনেকদিন পর্যন্ত পায়ের ঘা নিয়ে কষ্ট পেয়েছিল।

এর মধ্যে আব্বা অসুস্থ হয়ে পড়েন। রাশিয়া যান চিকিৎসা করাতে। সেখানে রাসেলের পায়ে চিকিৎসা হয়। কিন্তু সারতে অনেক সময় নেয়। আমাদের সবার আদরের ছোট ভাইটি। ওর ছোটবেলার কথা মনে পড়ে। খুবই সাবধানী ছিল। আর এখন এতো কষ্ট পাচ্ছে। ১৯৭৫ সালের জুলাই মাসে কামাল ও জামালের বিয়ে হয়। হলুদ ও বিয়ের অনুষ্ঠানে আমরা অনেক মজা করি। বাইরে চাকচিক্য বেশি ছিল না কিন্তু ভেতরে আমরা আত্মীয়-স্বজন মিলে অনেক আনন্দ করি। বিশেষ করে হলুদের দিন সবাই খুব রং খেলে। রাসেল ওর সমবয়সীদের সাথে রং খেলে। বিয়ের সময় দুই ভাইয়ের পাশে পাশেই থাকে। দুই ভাইয়ের বিয়ে কাছাকাছি সময়ই হয়। কামালের ১৯৭৫ সালের ১৪ জুলাই, আর জামালের ১৭ জুলাই বিয়ে হয়। রাসেল সব সময় ভাবিদের পাশে ঘুর ঘুর করতো, আর কী লাগবে খুব খেয়াল রাখতো।

৩০ জুলাই আমি জার্মানিতে স্বামীর কর্মস্থলে যাই। রাসেলের খুব মন খারাপ ছিল। কারণ সে জয়ের সাথে এক সঙ্গে খেলতো। সব থেকে মজা করতো যখন রাসেল জয়ের কাছ থেকে কোনও খেলনা নিতে চাইতো তখন জয়কে চকলেট দিত। আর চকলেট পেয়ে জয় হাতের খেলনা দিয়ে দিত, বিশেষ করে গাড়ি। রাসেল গাড়ি নিয়ে খেলতো, জয়ের যেই চকলেট শেষ হয়ে যেত তখন বলত চকলেট শেষ, গাড়ি ফেরত দাও। তখন আবার রাসেল বলতো চকলেট ফেরত দাও, গাড়ি ফেরত দেব। এই নিয়ে মাঝে মধ্যে দু`জনের মধ্যে ঝগড়া লেগে যেত, কান্নাকাটি শুরু হতো। মা সবসময় আবার জয়ের পক্ষ নিতেন।

রাসেল খুব মজা পেত। পুতুলের খেলার জন্য একটা ছোট্ট খেলনা পুতুল ও প্রাম ছিল, ওই প্রাম থেকে খেলার পুতুল সরিয়ে পুতুলকে বসিয়ে ঠেলে নিয়ে বেড়াত। পুতুল এত ছোট ছিল যে, খেলার প্রামে ভালোই বসে থাকতো। রাসেল খুব মজা করে জয়-পুতুলকে নিয়ে খেলত। আমি জার্মানি যাওয়ার সময় রেহানাকে আমার সাথে নিয়ে যাই। রাসেলকে সাথে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম কিন্তু ওর জন্ডিস হয়, শরীর খারাপ হয়ে পড়ে। সে কারণে মা ওকে আর আমাদের সাথে যেতে দেননি। রাসেলেকে সেদিন আমাদের সাথে নিয়ে যেতে পারতাম তা হলে ওকে আর হারাতে হতো না।

১৯৭৫ সালের পনের আগস্ট ঘাতকের নির্মম বুলেট কেড়ে নিল ছোট্ট রাসেলকে। মা, বাবা, দুই ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, চাচা সবার লাশের পাশ দিয়ে হাঁটিয়ে নিয়ে সবার শেষে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করল রাসেলকে। ওই ছোট্ট বুকটা কি তখন ব্যথায় কষ্টে বেদনায় স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। যাদের সান্নিধ্যে স্নেহ-আদরে হেসে খেলে বড় হয়েছে তাদের নিথর দেহগুলো পড়ে থাকতে দেখে ওর মনের কী অবস্থা হয়েছিল- কী কষ্টই না ও পেয়েছিল!!

কেন কেন কেন আমার রাসেলকে এত কষ্ট দিয়ে কেড়ে নিল? আমি কি কোনোদিন এই "কেন"র উত্তর পাব?

<em><strong>লেখক: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বঙ্গবন্ধু কন্যা, জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা।
লেখাটি বাংলাদেশ ছাত্রলীগ এর বার্ষিক প্রকাশনা ‘মাতৃভূমি’-২০১১ তে প্রকাশিত।</strong></em>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সারা পৃথিবীই শিশুদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠুক</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE+%E0%A6%AA%E0%A7%83%E0%A6%A5%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%87+%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%C2%A0%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF+%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%A6+%E0%A6%B9%E0%A7%9F%E0%A7%87+%E0%A6%89%E0%A6%A0%E0%A7%81%E0%A6%95</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%BE+%E0%A6%AA%E0%A7%83%E0%A6%A5%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%87+%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0%C2%A0%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF+%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%A6+%E0%A6%B9%E0%A7%9F%E0%A7%87+%E0%A6%89%E0%A6%A0%E0%A7%81%E0%A6%95</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 18 Oct 2021 00:10:35 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div class="intro-text">
<blockquote class="pullquote align-center"><img class="wp-image-61639 alignleft" style="color: #333333; font-size: 15px;" src="https://digibanglatech.news/wp-content/uploads/2021/10/palok.jpg" alt="" width="199" height="199" /></blockquote>
</div>

<hr />

<strong>জুনাইদ আহমেদ পলক</strong>

<hr />

১৯৬৪ সাল। সময়টা ছিল লড়াই আর যুদ্ধের উত্তেজনায় মুখর। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ঘটে চলেছে ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। ওই সময় সমগ্র পাকিস্তানজুড়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ডামাডোল। একদিকে প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খান, অন্যদিকে সম্মিলিত বিরোধীদলের প্রার্থী কায়দে আজম মুহম্মদ আলী জিন্নাহর বোন ফাতেমা জিন্নাহ। অনিশ্চয়তা আর অন্ধকারের মাঝেও এ অঞ্চলের মানুষ স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখছে। যিনি এই স্বপ্নের বাস্তবায়ন ঘটিয়ে বাঙালি জাতিকে এনে দেবেন মুক্তির স্বাদ বাঙালির সেই অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘর আলো করে জন্ম নিল এক ছোট্ট দেবশিশু।

১৯৬৪ সালের ১৮ অক্টোবর ধানমন্ডির ৩২ নম্বর সড়কে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক বাড়িতে শেখ রাসেলের জন্ম। রাসেলের যেদিন জন্ম হয় বঙ্গবন্ধু সেদিন ফাতেমা জিন্নাহর পক্ষে প্রচারণায় অংশগ্রহণের জন্য চট্টগ্রামে অবস্থান করছিলেন। জন্মের সময় বাবা কাছে না থাকলেও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট পিতা-পুত্রের চিরপ্রস্থান ঘটেছিল একসঙ্গেই।

ছোট ছেলের রাসেল নামটি রেখেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তাঁর প্রিয় লেখক ছিলেন পৃথিবী বিখ্যাত বৃটিশ দার্শনিক সাহিত্যে নোবেল পুস্কারপ্রাপ্ত বার্ট্রান্ড রাসেল। তিনি কেবলমাত্র একজন দার্শনিকই ছিলেন না। বিজ্ঞানী ছিলেন। ছিলেন পারমাণবিক যুদ্ধবিরোধী আন্দোলনের একজন বড় মাপের বিশ্বনেতাও। পৃথিবীটাকে মানুষের বসবাসের জন্য সুন্দর ও শান্তিময় করার লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন তিনি নিরলস। বার্ট্রান্ড রাসেলের নামের সঙ্গে মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সর্বকনিষ্ঠ সদস্যের নাম রাখলেন রাসেল। শেখ রাসেল। এই নামটিকে ঘিরে নিশ্চয়ই বঙ্গবন্ধুর মহৎ কোনো স্বপ্ন বা আকাঙ্ক্ষা ছিল। কত আশা ছিল তাঁর ছেলে বড় হয়ে জগৎখ্যাত হয়ে উঠবে একদিন। কত সাধই না মানুষের অপূর্ণ থেকে যায়!

শিশু রাসেলের ভুবন ছিল তাঁর পিতা-মাতা— বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ ফজিলাতুননেসা মুজিব, বোন শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এবং ভাই শেখ কামাল এবং শেখ জামালকে ঘিরে। তাদের সকলের ভালবাসার ধন ছিলেন ছোট্ট রাসেল। রাসেলের জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কেটেছে বাবা মুজিবকে ছাড়া। কারণ, বাবা মুজিব রাজনৈতিক বন্দী হয়ে কারাগারে ছিলেন দিনের পর দিন। শেখ রাসেল বেশ কয়েকবারই কারাগারে বঙ্গবন্ধুর সাথে দেখা করেছেন। তবে তাঁর প্রথম কারাগার দেখা ১৯৬৬ সালের ৮ মে। পিতার গ্রেপ্তারের পর।

কারাগারে দেখা করার সময় রাসেল কিছুতেই তাঁর বাবাকে রেখে আসতে চাইত না। এ কারণে তাঁর মন খারাপ থাকতো। কারাগারের রোজনামচা’য় ১৯৬৬ সালের ১৫ জুনের দিনলিপিতে রাসেলকে নিয়ে বঙ্গবন্ধু লিখেছেন, “১৮ মাসের রাসেল জেল অফিসে এসে একটুও হাসে না- যে পযর্ন্ত আমাকে না দেখে। দেখলাম দূর থেকে পূর্বের মতোই ‘আব্বা আব্বা’ বলে চিৎকার করছে। জেল গেট দিয়ে একটা মাল বোঝাই ট্রাক ঢুকেছিল। আমি তাই জানালায় দাঁড়াইয়া ওকে আদর করলাম। একটু পরেই ভিতরে যেতেই রাসেল আমার গলা ধরে হেসে দিল। ওরা বলল আমি না আসা পর্যন্ত শুধু জানালার দিকে চেয়ে থাকে, বলে ‘আব্বার বাড়ি’। এখন ধারণা হয়েছে এটা ওর আব্বার বাড়ি। যাবার সময় হলে ওকে ফাঁকি দিতে হয়।”

শিশু রাসেল ছিল অভিমানী। এ নিয়ে বঙ্গবন্ধু নিজেই লিখেছেন কারগারের রোজনামচা‘য়।১৯৬৭ সালের ১৪-১৫ এপ্রিল অন্যান্য প্রসঙ্গ ছাড়াও বঙ্গবন্ধু রাসেলকে নিয়ে লিখেছেন,”জেল গেটে যখন উপস্থিত হলাম ছোট ছেলেটা আজ আর বাইরে এসে দাঁড়াইয়া নাই দেখে আশ্চর্যই হলাম। আমি যখন রুমের ভিতর যেয়ে ওকে কোলে করলাম আমার গলা ধরে ‘আব্বা’ ‘আব্বা’ করে কয়েকবার ডাক দিয়ে ওর মার কোলে যেয়ে ‘আব্বা’ ‘আব্বা’ করে ডাকতে শুরু করল। ওর মাকে ‘আব্বা’ বলে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, ‘ব্যাপার কি?’ ওর মা বলল,“বাড়িতে ‘আব্বা’ ‘আব্বা’ করে কাঁদে তাই ওকে বলেছি আমাকে ‘আব্বা’ বলে ডাকতে।” রাসেল ‘আব্বা’ ‘আব্বা’ বলে ডাকতে লাগল। যেই আমি জবাব দেই সেই ওর মার গলা ধরে বলে, ‘তুমি আমার আব্বা।’ আমার উপর অভিমান করেছে বলে মনে হয়। এখন আর বিদায়ের সময় আমাকে নিয়ে যেতে চায় না।”

শিশু রাসেলকেও কাটাতে হয় বন্দি জীবন। অত্যন্ত কষ্টকর ছিল তাঁর দিনগুলি। তাঁর বন্দিত্ব সম্পর্কে বোন শেখ হাসিনা ‘আমাদের ছোট রাসেল সোনা’ নিবন্ধে লিখেছেন,‘ছোট্ট রাসেলও বন্দি জীবন-যাপন শুরু করে। ঠিকমতো খাবার-দাবার নেই। কোন খেলনা নেই, বইপত্র নেই, কী কষ্টের দিন যে ওর জন্য শুরু হলো। বন্দিখানায় থাকতে আব্বার কোন খবর আমরা জানিনা। কোথায় আছেন কেমন আছেন কিছুই জানিনা। প্রথমদিকে রাসেল আব্বার জন্য খুব কান্নাকাটি করত। তার ওপর আদরের কামাল ভাইকে পাচ্ছে না, সেটাও ওর জন্য কষ্টকর।’ (ইতিহাসের মহানায়ক, পৃষ্ঠা ২১)।

ছোট থেকে বাবা শেখ মুজিবুর রহমানকে কারাগারে দেখতে দেখতে বড় হওয়া রাসেল অজান্তেই চাপা স্বভাবের হয়ে উঠেছিল। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সে বিষয়ে বক্তৃতায় বলেন, ‘খুব চাপা স্বভাবের ছিল। সহজে নিজের কিছু বলতো না। তার চোখে যখন পানি, চোখে পানি কেন জানতে চাইলে বলতো, চোখে যেন কী পড়েছে। ওইটুকু ছোট বাচ্চা, নিজের মনের ব্যথাটা পর্যন্ত কীভাবে লুকিয়ে রাখতে হয় শিখেছিল।’

শেখ রাসেল ছিলো বন্ধুবৎসল, গরিবদের জন্য ছিলো তাঁর দরদ, মমতা। জাতির পিতার গ্রামের বাড়ি টুঙ্গিপাড়াতে যখন সে যেতো তখন গ্রামের ছেলেদের জন্য সে জামা নিয়ে যেতো। তাদের উপহার দিতো। আজ শেখ রাসেল বেঁচে থাকলে দেশ একজন মানবদরদী মানুষ পেতো।

শেখ রাসেলের এই ছোট্ট জীবন আমাদের জন্য অনেক শিক্ষনীয়। প্রথমত, আমাদের শিশুরা যদি শেখ রাসেলকে আদর্শ হিসেবে বিবেচনা করে তাঁর মতো বেড়ে উঠে, তাহলে আমরা আদর্শ শিশু পাবো। যাদের হাত ধরে বিনির্মিত হবে আগামীদিনের চেতনার নাগরিক। শিশুদের তাই, শেখ রাসেলের ছোট্ট জীবনটা জানাতে হবে। যাতে শিশুরা অনাবিল সুন্দরের সৌন্দর্যে বেড়ে ওঠে, হাসতে পারে, খেলতে পারে, দুষ্টুমি করতে পারে, বন্ধুত্ব করতে পারে, গরিব মানুষকে ভালোবাসতে পারে। এভাবে যদি প্রতিটি শিশু বেড়ে ওঠে তাহলে এই শিশুরা বড় হয়ে আলোকিত মানুষ হতে পারে। একারণেই শেখ রাসেলের জীবন আমাদের জানাটা অত্যন্ত জরুরি।

শেখ রাসেল নিজেকে কীভাবে গড়ে তুলত তা বলার উপায় নেই। তবে পারিবারিক ঐতিহ্য, আদর্শের উত্তরাধিকার তার চরিত্র গঠনে যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখত, তাতে সন্দেহ নেই। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায় অন্তত এই দেশ, দেশের মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসা আর দায়িত্ববোধ থাকত তার অন্তর ও চেতনাজুড়ে। পরিণত হয়ে উঠত দায়িত্ব গ্রহণ করার জন্য। তার আগ্রহের বিষয়গুলো আয়ত্ত করে সেখানে তাৎপর্যপূর্ণ অবদান রাখতে পারত। সেটিই স্বাভাবিক ছিল তার জন্য। আজ রাসেল থাকলে একজন মেধাবী মানুষ বাংলাদেশকে এগিয়ে নেয়ার সংগ্রামে থাকতো প্রথম সারিতে।

দুর্ভাগ্য এই যে, জীবনের পথ, ইতিহাসের গতিধারা সব সময় স্বাভাবিক সূত্র ধরে এগোয় না। অনভিপ্রেত বহু ঘটনা এসে সেই যাত্রাপথ বিপদসংকুল করে তোলে, বাঁক ঘুরিয়ে দেয়, ভিন্ন খাতে নিয়ে যায়। তখন আবার সঠিক পথে ফিরতে প্রয়োজন হয় কঠিন সংগ্রামের। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের ভেতর দিয়ে এমনি এক ভ্রান্ত পথে পরিচালিত করা হয়েছিল এই দেশকে। এরই নির্মম শিকার হয়েছিল শিশু শেখ রাসেল। ফলে তার জন্মদিনটি আনন্দ নয়, বরং বেদনাই বয়ে আনে বিবেকবান মানুষের কাছে।

শেখ রাসেলের সেই বেদনাঘন জন্মদিনে আমরা সমাগত। আমরা শেখ রাসেলের পাশাপাশি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের শহীদদের স্মৃতিও এই দিনে স্মরণ করি। একাত্তরের পরাজিত ঘাতক বাহিনী দেশ থেকে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মুছে দিতে এ হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিল। আর আইন করে সেই আত্মস্বীকৃত খুনিদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। আশার কথা হলো, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই দায়মুক্তি অধ্যাদেশ বাতিল করে খুনিদের বিচারের আওতায় এনে বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে দেশকে মুক্ত করেন।

শেখ রাসেলের জন্মদিন ১৮ অক্টোবর এ বছর থেকে ‘জাতীয় দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ শেখ রাসেল দিবস পালনের প্রস্তাব এবং যৌক্তিকতা মন্ত্রিসভায় পেশ করে। ২৩ আগস্ট ২০২১, মন্ত্রিসভার বৈঠকে শেখ রাসেল দিবস ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালনের বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয়। এর জন্য আমরা আইসিটি বিভাগের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।

শিশু শেখ রাসেলের অকালপ্রয়াণের শোক-দুঃখ কোনো দিন শেষ হবার নয়। শেখ রাসেলের জন্মদিনে আমাদের কামনা শুধু আমাদের দেশ নয়, সারা পৃথিবীই শিশুদের জন্য নিরাপদ হয়ে উঠুক। হানাহানির অবসান হোক, প্রতিষ্ঠিত হোক চিরকাঙ্খিত শান্তি।

<strong>লেখক: জুনাইদ আহমেদ পলক এমপি, প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ</strong>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>উদ্ভাবনের হাত ধরেই অব্যাহত থাকবে ডাক সেবা</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A4+%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%87+%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%A4+%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%95+%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%89%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%A4+%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%87+%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B9%E0%A6%A4+%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%95+%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A6%BE</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 09 Oct 2021 12:25:57 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<blockquote class="pullquote align-center"><strong><img class="wp-image-61185 alignleft" src="https://digibanglatech.news/wp-content/uploads/2021/10/শেফায়েত.jpeg" alt="" width="127" height="149" />ম. শেফায়েত হোসেন </strong></blockquote>
ইতিহাসের পথরেখায় সংবাদ আদান-প্রদানে ডাক সেবার অভিযাত্রা আজ থেকে সাড়ে চার হাজার বছর আগে থেকে। র্দীঘ এই পথপরিক্রমায় প্রাচীন মেসোপটমিয়া হয়ে ব্যাবিলনীয় সভ্যতার পথ হেটে অগ্নিশিখা সংকেত, শিকারি কবুতর পাঠিয়ে কিংবা ঘোড়ার পিঠ রানারের ঝুলির যুগ থেকে স্যামুয়লে মোর্সের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি টরে-টক্কার যুগ অতিক্রম করেছে পৃথিবীর প্রাচীনতম প্রতিষ্ঠানটি। হাজার বছরের বৈশ্বিক বির্বতনের পথ বেঁয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি যুগে ডাক সেবা আজ প্রবেশ করছে। সংবাদ আদান-প্রদানে প্রাচীনতম এই মাধ্যমটি সময়ের সাথে খাপ খাইয়ে আজও তার অস্তিত্ব ধরে রেখেছে সগৌরবে। ডিজিটাল প্রযুক্তির কল্যাণে চিঠির যুগ শেষ হয়ে গেলেও ডাক সেবার প্রয়োজন শেষ হয়ে যায়নি বরং উত্তরোত্তর এর প্রয়োজনীয়তা বেড়েই চলেছে এর বহুমাত্রিক ডিজিটাল সেবা প্রদানের বদৌলতে-উদ্ভাবনের হাত ধরেই আগামীর ডিজিটাল শিল্পবিপ্লবের পৃথিবীতেও ডাক সেবার প্রয়োজনীয়তা অব্যাহত থাকবে।ডাক সেবা সর্ম্পকে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে ইউনিভার্সেল পোস্টাল ইউনিয়নের উদ্যোগে প্রতিবছর ৯ অক্টোবর বিশ্ব ডাক দিবস পালিত হয়ে আসছে।

১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের বের্নে ২২টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে গঠিত হয় আন্তর্জাতিক পোস্টাল ইউনিয়ন। ইউনিয়ন গঠন করার মাহেন্দ্রক্ষণটি স্মরণীয় রাখতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১৯৬৯ সালে ৯ অক্টোবরকে বিশ্ব ডাক দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশে ১৯৭৩ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বেইউনিভার্সেল পোস্টাল ইউনিয়ন (ইউপিইউ) এবং আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন (আইটিইউ) এর সদস্য পদ অর্জন করে। এরপর থেকে দেশে প্রতিবছর বিশ্ব ডাক দিবসপালিত হয়ে আসছে। বিশ্ব ডাক দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য হলো- “Innovate to recover” বাপুনরুদ্ধারে উদ্ভাবন। কোভিড-১৯ অতিমারির কবল থেকে টিকা উদ্ভাবন বিশ্বকে রক্ষা পেতে সহায়তা করেছে। কোভিড সংকটের শুরুতে উদ্বেগ ছিল অতিমারি মোকাবিলায় টিকা উদ্ভাবতি হতে অনেক বছর সময় লাগবে। কিন্তু ব্যক্তি সংস্থা সর্বোপরি বিজ্ঞানী গবেষকদের নিরন্তর প্রচেষ্টায় এক বছরের মধ্যে এই টিকা উদ্ভাবিত হয়েছে। করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধের নতুন আশা জাগিয়েছে। এই উদ্ভাবন কীভাবে মহামারি থেকে মানুষকে রক্ষা করেছে তা আন্তর্জাতিক ডাকখাত অনুকরণ করতে পারে। সে দিক থেকে এবছরের প্রতিপাদ্য অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়েছে।

ডাক সেবার ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা যায় ১৮৪০ সালে পৃথিবীর ইতিহাসের প্রথম ডাকটিকেট ব্যবহার করা হয় ব্রিটেনে। তার এক যুগ বাদে ভারতীয় উপমহাদেশে ডাকটিকেটের প্রথম ব্যবহার শুরু হয় ১৮৫২ সালে তৎকালীন সিন্ধুপ্রদেশের কমিশনার স্যার বার্টেল ফেরির হাত ধরে। ওই ডাকটিকিটের নাম ছিল- ‘সিন্ডে ডক’। বছর দুয়েক ওই ডাকটিকেট চলার পর গোটা উপমহাদেশ জুড়ে এক অভিন্ন ডাক ব্যবস্থা চালু করে ইস্টইন্ডিয়া কোম্পানি। ওই ডাকটিকেটে ছিল কুইন ভিক্টোরিয়ার ছবি। ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার আগে পর্যন্ত ভারতীয় উপমহাদেশের সবডাকটিকিটই হয় কুইন ভিক্টোরিয়া অথবা তাঁর উত্তরসূরিদের ছবি বহাল থাকতো।

১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সাথেও জড়িয়ে আছে ডাক সেবার গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। আমরা কেবল অস্ত্র দিয়েই যুদ্ধ করিনি। সংস্কৃতিকর্মী, খেলোয়াড়, সাধারণ জনগণ ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রেরমাধ্যমেও আমাদের যুদ্ধটা হয়েছে। ডাকটিকেটেও সেই লড়াইয়ের অংশীদার। ১৯৭১ সালের ২৯ জুলাই ভারতীয় নাগরকি বিমান মল্লিক (বিমান চাঁদ মল্লিক)- এর ডিজাইন করা আটটি ডাকটিকেট মুজিবনগর সরকার, কলকাতায় বাংলাদেশ মিশন ও লন্ডন থেকে প্রকাশিত হয়। মুজিবনগর সরকার কূটনৈতিক প্রক্রিয়া হিসেবে স্বাধীনতার সপক্ষে বিশ্ব জনমত গড়ে তোলার জন্য এ উদ্যোগ গ্রহণ করে।

একাত্তরের ২৯ জুলাই মুজিবনগর সরকার এবং যুক্তরাজ্যের হাউজ অব কমন্স থেকে প্রকাশিত ৮টি স্মারক ডাকটিকেট বিশ্বে আমাদের জাতিসত্তা, রাষ্ট্রসত্তা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। এই দিবসটি কেবল ডাক অধিদপ্তরের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে দিবসটিকে জাতীয় দিবস হিসেবে পালনের যৌক্তিকতা আছে। স্মারক এই ডাকাটকিটেসমূহ কেবলই ইতিহাসের ধারক ও স্মারক নয়। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রের অস্তিত্ব তুলে ধরা হয়েছে যা সারাদুনিয়ায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ইতিমধ্যে ডিজিটাল কমার্সযুক্ত করায় ডাক বিভাগ নতুনরূপে আবির্ভূত হচ্ছে।

ডিজিটাল প্রযুক্তি বর্তমান বিশ্বকে একটি গ্লোবাল হাউজে পরিণত করেছে। প্রযুক্তির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ডাক সার্ভিসকে লাগসই প্রযুক্তিতে রূপান্তর করার বিকল্প নেই। দেশে দশ হাজার ডাকঘরে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী ডাক সেবায় নিয়োজিত। চল্লিশ হাজার মানুষের আশি হাজার হাত এবং দেশব্যাপী ডাকঘরের বিস্তীর্ণ অবকাঠামো ও নেটওয়ার্ক জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল সাম্য সমাজপ্রতিষ্ঠায় উপযোগী শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে ডাকঘরকে ডিজিটাল করার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। অনেক পুরাতন প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির অনেক ক্রটি ও পশ্চাৎপদতা আছে। বিদ্যমান পশ্চাৎপদতা কাটিয়ে উঠতে ডাক অধিদপ্তররে সমস্ত কার্যক্রম ডিজিটাল করার প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য। দূরদৃষ্টিসম্পন্ন অবিসংবাদিত রাজনীতিক প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার চলমান সংগ্রাম সফল করার মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার অভিযাত্রায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার এর দিকনির্দেশনায় ডাক অধিদপ্তর সনাতনী পদ্ধতি থেকে ডিজিটাল যুগে প্রবেশ করেছে। ডিজিটালাইজেশন কর্মসূচির ফলে ডাক অধিদপ্তরে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস, ডিজিটাল মানিঅর্ডার, পোস্টাল ক্যাশর্কাড এবং ডিজিটাল কমার্স ইত্যাদি র্কাযক্রম চালু করা হয়েছে। দেশে ৮ হাজার ৫ শত ডাকঘরকে ডিজিটাল ডাকঘরের রূপান্তরের ধারাবাহিকতায় দেশের তৃণমূল জনগোষ্ঠী সরকারের ২ শত ডিজিটাল সেবা পাচ্ছে। দেশব্যাপী ডাকঘরের সুবিশাল নেটওয়ার্ক ডিজিটাল কর্মাসে নিয়োজিত বেসরকারি উদ্যোক্তাদের ব্যবহারের জন্য নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

এর ফলে দেশব্যাপী দ্রুতসময়ে শাকসবজীসহ পঁচনশীল পণ্য পরিবহণ ও বিতরণ সম্ভব হবে। এই লক্ষ্যে ডাক পরিবহণের গাড়ি ও দেশের ৬৪টি জেলায় শর্টিং সেন্টারে হিমায়িত চেম্বার করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। এর ফলে দেশে ডিজিটাল কমার্সের বিকাশে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে। ডিজিটালাইজেশনের ধারাবাহিকতায় এক সময়ে অস্তিত্বের সংকটে পড়া ডাকঘর আজ জনগণের কাছে অত্যাবশ্যকীয় হিসেবে গড়ে উঠেছে। কোভিড-১৯ সৃষ্ট বৈশ্বিক অতিমারিতে থেমে যাওয়া জীবনযাত্রায় ডাকঘরের বিস্তীর্ণ পরিবহণ নেটওর্য়াক ও বিশাল অবকাঠামো মানুষের সেবায় কাজে লাগানো হয়েছে। বিনা মাশুলে কৃষকের সবজি, আম, লিচুসহ উৎপাদিত কৃষিপণ্য এবং কোভিড চিকিৎসা সরঞ্জাম দেশের প্রতিটি জেলায় পৌঁছে দিয়ে এক ঐতিহাসিক ভূমিকা পালন করেছে। ডিজিটাল প্রযুক্তির অভাবনীয় বিকাশ এবং এর প্রয়োগের ফলে প্রাচীন প্রতিষ্ঠান ডাক বিভাগ ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ডাকঘরকে ডিজিটাল ডাকঘর হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বিদ্যমান জনবলকে ডিজিটাল উপযোগী করে গড়ে তুলতে উদ্যোগ ইতিমধ্যে গ্রহণ করা হয়। ডিজিটাল কমার্স করোনাকালীন লকডাউনে কেনাকাটা সচল রেখেছে এবং আগামী দিনগুলোতে ডিজিটাল কর্মাসের চাপ অনেক বেড়ে যাব। ডিজিটাল কমার্স শহরের পণ্য যেমন গ্রামে যাবে ঠিক তেমনি গ্রামের পণ্য শহরে আসবে। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষিত করতে পারলে ডিজিটাল কমার্সের ব্যাপক সক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব। এই ক্ষেত্রে ডিজিটাল ডাকঘরের উদ্যাক্তাদের মধ্যে ডিজিটাল সক্ষমতা তৈরি করতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এবছর বিশ্ব ডাক দিবসের একটি বড়ো চমক হচ্ছে দিবসটি উপলক্ষ্যে বিশ্বসেরা পত্র লেখককে সংর্বধনা প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ডাক অধিদপ্তর। বিশ্ব ডাক সংস্থা ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন (ইউপিইউ) আয়োজতি ৫০তম পত্র লিখন প্রতিযোগিতায় স্বর্ণপদক লাভ করেছে সিলেট আনন্দ নিকেতন বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী নুবায়শা ইসলাম। আইভেরি কোস্টের শহর আবিদজানে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল ৫০তম আন্তর্জাতিক চিঠি লেখন প্রতিযোগিতায় (এলএলডব্লিউসি) জয়ী হয়েছে কিশোরী নুবায়শা ইসলাম। নুবায়শা তার ছোটো বোন আমলের উদ্দেশ্যে চিঠিটি লিখেছিলেন। গত ২৭ আগস্ট এক অনুষ্ঠানে বিজয়ী চিঠি লেখকের নাম ঘোষণা করে এলএলডব্লিউসি। করোনা ভাইরাসের মহামারিতে পরিবারের একজন সদস্যের প্রতি চিঠি- এই প্রতিপাদ্যে লেখা চিঠি ক্যাটাগরিতে জয়ী ঘোষণা করা হয় নুবায়শা ইসলামকে। নুবায়শার এই অর্জনে উৎফুল্ল বাংলাদেশ। মাননীয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী জনাব মোস্তাফা জব্বার ‘এটি আমাদেরমেধার বিশ্বস্বীকৃতি’ বলে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

<em><strong>লেখক :</strong> তথ্য ও জনসংযোগ অফিসার, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। </em>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল বাংলাদেশ জননেত্রী শেখ হাসিনার  এক সফল উন্নয়ন দর্শন</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6+%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80+%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%96+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0++%E0%A6%8F%E0%A6%95+%E0%A6%B8%E0%A6%AB%E0%A6%B2+%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8+%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A6%A8</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6+%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80+%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%96+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0++%E0%A6%8F%E0%A6%95+%E0%A6%B8%E0%A6%AB%E0%A6%B2+%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A7%9F%E0%A6%A8+%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A6%A8</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 25 Sep 2021 16:56:15 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[[caption id="" align="alignleft" width="311"]<img class="wp-image-60280 " src="https://digibanglatech.news/wp-content/uploads/2021/09/পলক-পিপি.jpg" alt="" width="311" height="243" /> <strong><span class="highlight" style="background-color: #0568bf; color: #ffffff;"><span class="highlight" style="background-color: #0568bf; color: #ffffff;">জুনাইদ আহ্‌মেদ‍ পলক</span></span></strong>[/caption]
<blockquote>বাঙালি জাতির দুটি অভূতপূর্ব সন্ধিক্ষণে এ বছর ১২ ডিসেম্বর ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার পূরণের ১৩ বছর পূর্ণ হচ্ছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন চলছে। আর ২৬ মার্চ আমরা উদযাপন করেছি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী। এমনি স্মরনীয় মুহুর্তে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের প্রেরণাদায়ি ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের আমরা কতোটা সফল তা মানুষের কাছে তুলে ধরার দায়বদ্ধতা যেমন রয়েছে তেমনি বিশ্বে ডিজিটাল বিপ্লবের প্রেক্ষাপটে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে বিজ্ঞান, কারিগরি ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের ভিত যার হাত ধরে রচিত হয়েছিল প্রাসঙ্গিকভাবে তা-ও বিধৃত করার প্রয়োজন রয়েছে।</blockquote>
&nbsp;

<strong>ডি</strong>জিটাল বিপ্লবের শুরু ১৯৬৯ সালে ইন্টারনেট আবিস্কারের ফলে। ইন্টারনেটের সাথে ডিভাইসের যুক্ততা মানুষের দৈনন্দিন জীবন, সংস্কৃতি, ব্যবসা-বানিজ্য, উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে শুরু করে। বিজ্ঞান, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে বিশ্বে উন্নয়ন দারুণ গতি পায়। দূরদর্শী রাষ্ট্রনেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর গুরুত্ব গভীরভাবে উপলব্ধি করেন। কারণ তিনি গড়তে চান সোনার বাংলা। তাঁর এই স্বপ্নের বাস্তবায়নে তিনি ছিলেন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ১৯৭৩ সালের ১৮ মার্চ ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ভাষণে তিনি বলেছিলেন, স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলাম, আজ স্বাধীনতা পেয়েছি। সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছি; সোনার বাংলা দেখে মরতে চাই।

সোনার বাংলা দেখার প্রত্যাশা পূরণে মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে প্রজ্ঞাবান ও বিচক্ষণ রাষ্ট্রনেতা বঙ্গবন্ধু কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এমন কোন খাত নেই যেখানে পরিকল্পিত উদ্যোগ ও কার্যক্রমের বাস্তবায়ন করেননি। শুধু তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও বিকাশে গৃহীত নানা উদ্যোগ ও কার্যক্রমের দিকে তাকালে দেখা যাবে বঙ্গবন্ধুর হাত ধরেই রচিত হয় একটি আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের ভিত্তি, যা বাংলাদেশকে ডিজিটাল বিপ্লবে অংশগ্রহণের পথ দেখায়। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ১৫টি সংস্থার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ইন্টারন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন ইউনিয়নের (আইটিইউ) সদস্যপদ লাভ করে। আর্থ-সামাজিক জরিপ, আবহাওয়ার তথ্য আদান-প্রদানে আর্থ-রিসোর্স টেকনোলজি স্যাটেলাইট প্রগ্রাম বাস্তবায়িত হয় তাঁরই নির্দেশে। ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বঙ্গবন্ধু বেতবুনিয়ায় স্যাটেলাইটের আর্থ স্টেশনের উদ্বোধন করেন। বিজ্ঞান, প্রযুক্তিবিদ্যা ও কারিগরি শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কুদরত-এ খুদার মতো একজন বিজ্ঞানীর নেতৃত্বে শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট প্রণয়ন এবং শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগগুলো ছিল তাঁর অত্যন্ত সুচিন্তিত ও দূরদর্শী। পারস্পারিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শীতার বোঝা যায়, ১৯৭৪ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে দেওয়া তাঁর সেই ঐতিহাসিক ভাষণ থেকে। তিনি বলেছিলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য স্বনির্ভরতা। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, সম্পদ ও প্রযুক্তিবিদ্যার শরিকানা মানুষের দুঃখ, দুর্দশা হ্রাস করিবে এবং আমাদের কর্মকান্ডকে আরও সহজতর করিবে, ইহাতে কোন সন্দেহ নাই। নতুন বিশ্বের অভ্যূদয় ঘটিতেছে। আমাদের নিজেদের শক্তির উপর আমাদের বিশ্বাস রাখিতে হইবে। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়। থেমে যায় সোনার বাংলা বিনির্মাণের স্বপ্ন, ডিজিটাল বিপ্লবের পথে পথ চলা। শুধু কী তা-ই। পঁচাত্তর পরবর্তী ২১ বছরের শাসনামলে বিনা অর্থে ইন্টারনেট কেবল লাইনে যুক্ত হওয়ার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা প্রত্যক্ষ করে দেশের মানুষ। ১৯৯২ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার রাষ্ট্রীয় গোপণ তথ্য ফাঁস হয়ে যেতে পারে এমন ঠুনকো ও অবিচবচনাপ্রসূত অজুহাত দেখিয়ে আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবল সি-মি-উই –এ যুক্ত হওয়া থেকে বিরত থাকে।

মানুষকে হত্যা করা যায়। কিন্তু তার স্বপ্ন ও দর্শনকে হত্যা করা যায় না। বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘ ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে আরেক দূরদর্শী নেতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসুরী দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে দেশ পরিচালনার জন্য নির্বাচিত করে। দেশ পরিচালনায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও বিকাশের ওপর গুরুত্ব দেন। কম্পিউটার আমদানীতে শুল্ক হ্রাস ও মোবাইল ফোনের মনোপলি ভেঙ্গে তা মানুষের কাছে সহজলভ্য করেন। ১৯৯৯ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভায় গাজীপুরের কালিয়াকেরে হাই-টেক পার্ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আর দিন বদলের সনদ রূপকল্প ২০২১ এর মূল উপজীব্য হিসেবে ডিজিটাল বাংলাদেশের ঘোষণা আসে ২০০৮ সালের ১২ ডিসেম্বর। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের ঘোষণা দেন। ঘোষনায় বলা হয়, ২০২১ সালে স্বাধীনতার ৫০ বছরে বাংলাদেশ পরিণত হবে ডিজিটাল বাংলাদেশে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ আসলে সোনার বাংলার আধুনিক রূপ, যার বাস্তবায়ন শুরু হয় ২০০৯ সালে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়ন দর্শনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা দেশের সব মানুষের উন্নয়ন অগ্রাধিকার দিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও বিকাশ, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ডিজিটাল অর্থনীতি ও ক্যাশলেস সোসাইটি গড়ে তোলায় ব্যাপক কার্যক্রম গ্রহণ গ্রহণ করা হয়। এসব কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়নের জন্য আইন, নীতিমালা প্রণয়ন থেকে শুরু করে সামগ্রিক কার্যক্রমের পরামর্শ ও তদারকি করছেন ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা জনাব সজীব ওয়াজেদ জয়। ফলে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের বিগত ১২ বছরের পথ চলায় দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি মানুষ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের সুফল পাচ্ছে। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, শিল্প, ব্যবসা-বানিজ্য, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান এমন কোন খাত নেই তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সমাধান ব্যবহৃত হচ্ছে না। এটা সম্ভব হচ্ছে মূলত সারাদেশে একটি শক্তিশালী আইসিটি অবকাঠামো গড়ে ওঠার কারণে, যা গ্রাম পর্যন্ত বিস্তৃত। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগে প্রতি এমবিপিএস ইন্টারনেট ব্যান্ডউইথের দাম ছিল ৭৮ হাজার টাকা। বর্তমানে প্রতি এমবিপিএস ৩শ টাকার নীচে। দেশের ১৮ হাজার ৫ সরকারি অফিস একই নেটওয়ার্কের আওতায়। ৩৮শ ইউনিয়নে পৌঁছে গেছে উচ্চগতির (ব্রডব্যান্ড) ইন্টারনেট। ইন্টারনেট ও মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতায় মানুষের তথ্যপ্রযুক্তিতে অভিযোজন ও সক্ষমতা দুই-ই বেড়েছে। বাংলাদেশে বর্তমানে মোবাইল সিম ব্যবহারকারি প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি। ইন্টারনেট ব্যবহারকারি বর্তমানে ১১ কোটিরও বেশি। ডব্লিউইএফ এর প্রতিবেদনে যথার্থভাবেই মোবাইল ব্যাংকিং সেবার মাধ্যমে গ্রামীন এলাকায় আর্থসামাজিক ব্যবধান কমিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। বাস্তবেও দেখা যাচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার করে আর্থিক সেবায় মানুষের অন্তর্ভুক্তি রীতিমতো বিস্ময়কর। বিশেষ করে মেবাইল ব্যাংকিং সেবা বহির্ভুত অধিকাংশ (প্রায় ৬০ শতাংশ) মানুষকে (যাদের আবার অধিকাংশই গ্রামের মানুষ) ব্যাংকিং সেবার অন্তর্ভুক্ত করেছে। ১০ বছর আগে চালু হওয়া মোবাইল ব্যাংকিং খাতে নিবন্ধিত গ্রাহকের সংখ্যা ৯ কোটি ৬৪ লাখ এবং ২০২০ সালের অক্টোবর মাসে লেনদেন ৫৩ হাজার ২শ ৫৮ কোটি টাকা এবং ২০২১ সালের এপ্রিলে তা ৬৩ হাজার ৪শ ৭৯ কোটি টাকায় উন্নীত হয়।

অনলাইন ব্যাংকিং, ইলেক্ট্রনিক মানি ট্রান্সফার, এটিএম কার্ড ব্যবহার শুধু ক্যাশলেস সোসাইটি গড়াসহ ই-গভর্মেন্ট প্রতিষ্ঠায় ভুমিকা রাখছে তা নয়, ই-কমার্সেরও ব্যাপক প্রসার ঘটাচ্ছে। ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত ই-কমার্সের আকার ছিল ৮হাজার ৫শ’ কোটি টাকা, যা করোনা মহামারিতে দ্বিগুণ হয়েছে। আগামী ২০২৩ সাল নাগাদ দেশীয় ই-কমার্সের বাজার ২৫ হাজার কোটিতে পৌঁছাতে পারে। এছাড়া, ৫০ হাজারেরও বেশি ফেসবুকভিত্তিক উদ্যোক্তা যারা ৩০ হাজারেরও বেশি পণ্য হস্তান্তরে যুক্ত। এরমধ্যে ১২ হাজার পেইজ চালাচ্ছেন নারীরা। দেশের গ্রাম ও প্রান্তিক এলাকায় ই-কমার্সের প্রসারে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘একশপ’, যেখানে প্রান্তিক অঞ্চলের পণ্য উৎপাদনকারীরা কোন মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই নিজেদের পণ্য বিক্রি করতে পরছেন।

স্টার্টআপ সংস্কৃতির বিকাশে সরকারের নানা উদ্যোগে ভাল সুফল পাওয়া যাচ্ছে। বর্তমানে দেশে স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের উদ্যোগে আইডিয়া প্রকল্প ও বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্রান্ট (বিগ) এর মাধ্যমে স্টার্টআপগুলোতে অনুদান দেওয়া, স্টার্টআপে বিনিয়োগ করার জন্য স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড নামে সরকারি ভেঞ্চার কোম্পানি, ৫ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন নিয়ে শেয়ার বাজারে যাওয়ার সুযোগ, শেয়ারবাজারে পৃথক এসএমই বোর্ড চালু করা, বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ভেঞ্চার তহবিল পরিচালনার নীতিমালা প্রণয়ন দেশে স্টার্ট আপ বিকাশের পথ সুগম করে। বর্তমানে দেশে প্রায় ১.৫ হাজার স্টার্টআপ রয়েছে। যাদের অধিকাংশই পরিচালনা করছে তরুণরা। স্টার্টআপে বিনিয়োগ প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।

ই-গভর্মেন্ট কার্যক্রমে বাংলাদেশকে প্রায় দুইশ’ বছর ধরে বৃটিশ ঔপনিবেশিক আমলের প্রচলিত সেবা প্রদানের পদ্ধতির ডিজিটাইজেশন করা হয়। ৫২ হাজারেরও বেশি ওয়েবসাইটের জাতীয় তথ্যবাতায়নে যুক্ত রয়েছে ৮৬.৪৪ লক্ষেরও অধিক বিষয়ভিত্তিক কনটেন্ট এবং ৬শ’রও বেশি সেবা, যা সহজেই মানুষ অনলাইনে পাচ্ছে। প্রায় ৮ হাজার ডিজিটাল সেন্টার থেকে ৬০ কোটি সেবা দেওয়া হয়, যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ গ্রামের। বিগত প্রায় এক যুগে নাগরিকরা অনলাইনে তথ্য ও সেবা পেয়ে কীভাবে উপকৃত হয়েছে তার একটা হিসাব তুলে ধরছি। এ সময়ে নাগরিকদের ১.৯২ বিলিয়ন দিন, ৮.১৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ এবং ১ মিলিয়ন যাতায়ত হ্রাস পায়। ২০২৫ সাল নাগাদ যখন শতভাগ সরকারি সেবা অনলাইনে পাওয়া যাবে তখন নাগরিকদের সময়, খরচ ও যাতায়ত সাশ্রয়ের পরিমাণ কী পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে তা সহজেই অনুমেয়। ই-নথিতে ১ কোটি ৫০ লাখ ফাইলের নিষ্পক্তি হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ২৬ লক্ষ ই-মিউটেশন করা হয় অনলাইনে। ‘ফোর টায়ার ন্যাশনাল ডাটা সেন্টার’ প্রকল্পের আওতায় দেশে একটি সমন্বিত ও বিশ্বমানের ডাটা সেন্টার গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার ই-সেবা সংরক্ষণের ক্ষমতা বৃদ্ধি, ই-সেবাসমূহের সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে জনসেবা উন্নত হবে। বিভিন্ন ই-সেবাসমূহের মধ্যে যে ইন্টারঅপারেবেলিটি সমস্যা দূরীকরণ ও প্রক্রিয়া সহজসাধ্য করার জন্য বাংলাদেশ ন্যাশনাল ডিজিটাল আর্কিটেকচার (বিএনডিএ) তৈরি করা হয়েছে। ‘ই-গভ মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এর আওতায় বাংলাদেশের ৯টি পৌরসভা ও ১টি সিটি কর্পোরেশনে ডিজিটাল মিউনিসিপালিটি সার্ভিস সিস্টেম (ডিএমএসএস) উন্নয়নের মাধ্যমে নাগরিক সেবাসমূহ অনলাইন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশনে ডিএমএসএস বাস্তবায়ন করা হবে।

ডিজিটাল অর্থনীতির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ধারা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আইসিটি রপ্তানী ২০১৮ সালেই ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যায়। অনলাইন শ্রমশক্তিতে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ ফ্রিল্যান্সারের আউটসোর্সিং খাত থেকে প্রায় ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করছে। ৩৯টি হাই-টেক/আইটি পার্কের মধ্যে ইতোমধ্যে নির্মিত ৭টিতে দেশি-বিদেশী বিনিয়োগকারীরা ব্যবসয়াকি কার্যক্রম শুরু করেছে। এরমধ্যে ৫টিতে ১২০টি প্রতিষ্ঠান ৩২৭ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। ১৩ হাজারের অধিক কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। হাই-টেক পার্কগুলোর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে সম্পন্ন হলে ৩ লাখের বেশি মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে হাই-টেক/আইটি পার্কগুলোতে ২৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

করোনা মহামারিতে যখন গোটা বিশ্ব টালমাটাল। পরিস্থিতে মোকাবেলায় এমনকি উন্নত দেশগুলোও হিমসিম খাচ্ছিলো তখনও সরকারের বিভিন্ন ডিজিটাল উদ্যোগ মানুষকে দেখিয়েছে নতুন পথ, যুগিয়েছে প্রেরণা। করোনাকালে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠক, আদালতের কার্যক্রম, বিজনেস কনটিনিউটি প্লান অনুসারে অফিস, ব্যবসা-বানিজ্যের কার্যক্রমসহ প্রায় সবকিছুই চলমান রাখা হয়। মহামারির মধ্যেও প্রযুক্তির সহায়তায় ব্যবসা-বানিজ্যসহ অর্থনৈতিক কার্যক্রম চালু থাকায় তা আমাদের জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখছে। প্রযুক্তির সহায়তায় করোনা সচেতনতা, বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ সকল ধরনের সেবা দেশের কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। জাতীয় হেল্পলাইন ৩৩৩ এর মতো একটি ফোন সেবার মাধ্যমে ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, স্বাস্থ্যসেবা প্রদান, নিত্যপণ্য সরবরাহসহ সরকারি তথ্য ও সেবা প্রদান করে আসছে। করোনাভাইরাস সংক্রান্ত যেকোনো প্রয়োজনীয় পরামর্শ, করোনা সম্পর্কিত সকল সেবার হালনাগাদ তথ্যের জন্য করোনা পোর্টাল তৈরি করেছি, যার মাধ্যমে কোটি মানুষকে করোনা সম্পর্কিত তথ্য প্রদান করা হয়েছে। সরকারি অফিসগুলোতে চালুকৃত ই-নথি ব্যবস্থা সেবা কার্যক্রমকে আরো গতিশীল করেছে। শুধুমাত্র করোনা মহামারির সময়ে ৩০ লাখের অধিক ই-নথি সম্পন্ন হয়েছে। এতে করে সরকারি সেবা কার্যক্রম নাগরিকের কাছে আরো সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সেবাকে আরো ত্বরান্বিত করতে চালু করা হয়েছে স্পেশালাইজইড টেলিহেলথ সেন্টার। পাশাপাশি গর্ভবতী ও মাতৃদুগ্ধদানকারী মা ও শিশুর নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রদানে মা টেলিহেলথ সেন্টার সার্ভিস তৈরি করা হয়েছে, এর মাধ্যমে লক্ষাধিক মা ও শিশুকে সেবা প্রদান করা হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশীদেরও প্রবাস বন্ধু কলসেন্টারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করে আসছে। প্রযুক্তিনির্ভর বাজার ব্যবস্থায় ফুড ফর নেশনের মতো প্লাটফর্মের মাধ্যমে সারাদেশের উদ্যোক্তাদেরকে যুক্ত করা হয়েছে। করোনা ট্রেসার বিডি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাসমূহ চিহ্নিতকরণের কাজ করছে। এছাড়াও গুজব ও অসত্য তথ্য রোধে দেশব্যাপী ‘সত্যমিথ্যা যাচাই আগে ইন্টারনেটে শেয়ার পরে’, ‘ আসল চিনি’ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে আইসিটি বিভাগের সহযোগিতায় সারাদেশের ১ লাখ ১০ হাজার গুরুত্বপূর্র্ণ স্থান গুগল ম্যাপ ও ওপেন স্ট্রিট ম্যাপে যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার হাসপাতাল, ১৬ হাজার ফার্মেসি এবং ২০ হাজার মুদি দোকান সন্নিবেশিত করার পাশাপাশি ৮শ’৭০টি রাস্তা ম্যাপে যুক্ত করা হয়েছে।

দেশব্যাপী লকডাউনে শিক্ষার্থীদের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা কার্যক্রম যেন থেমে না যায় সেজন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সহযোগিতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমকি ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মাদ্রাসা এবং কারিগরি পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল কনেটেন্ট তৈরি করে তা সংসদ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে দেশব্যাপী সম্প্রচার করা হচ্ছে। অনলাইনে ক্লাস প্রচারিত হয়েছে প্রায় ৫ হাজার ৬শ’ ৬৮টি এবং আপদকালীন সময়ে শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন প্রায় ৫ হাজার ৮৬ জন শিক্ষক। এছাড়া, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম এবং সরকারি-বেসরকারি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানসমূহের নিয়মিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ডিজিটাল মাধ্যমে কার্যকরী ও সহজ উপায়ে চলমান রাখতে ‘ভার্চুয়াল ক্লাস’ প্লাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এ প্লাটফর্মের মাধ্যমে লাইভ ক্লাস বা ট্রেনিং পরিচালনা, এডুকেশনাল কনটেন্ট ম্যানেজমেন্ট, মূল্যায়ন বা অ্যাসেসমেন্ট টুলস, মনিটরিং এবং সমন্বয় করার প্রযুক্তি যুক্ত রয়েছে।

কৃষি প্রধান বাংলাদেশে এই ক্ষেত্রও প্রযুক্তির ছোঁয়া বদলে দিয়েছে কৃষকের জীবন। তথ্যপ্রযুক্তিগত সেবা ‘কৃষি বাতায়ন’ এবং ‘কৃষক বন্ধু কলসেন্টার’ চালু করা হয়েছে। সরকারের বিভিন্ন কৃষি বিষয়ক সেবাগুলোর জন্য কলসেন্টার হিসেবে কাজ করছে ‘কৃষক বন্ধু’ (৩৩৩১ কলসেন্টার)। ফলে সহজেই কৃষকেরা ঘরে বসে বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।

ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণে সরকার লক্ষ্যের চেয়েও অনেক বেশি অর্জন করেছে। বিগত একযুগে ডিজিটাল বাংলাদেশের কর্মযজ্ঞ শুধু দেশের অভ্যন্তরীণ উন্নয়ন এবং সেবা প্রদানের মাঝেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, এর বিস্তৃতি ছড়িয়েছে বিশ্বজুড়ে। ২০১৭ সালে শুরু হওয়া সাউথ-সাউথ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সোমালিয়া, নেপাল, ভূটান, মালদ্বীপ, ফিজি, ফিলিপিন্স এবং প্যারাগুয়ে এর সাথে সমঝোতার মাধ্যমে এসডিজি, ওপেন গভর্নমেন্ট ডাটা, চেইঞ্জ ল্যাবসহ বিভিন্ন বিষয়ে জ্ঞান এবং সেবা বা সিস্টেম আদান-প্রদান করা হচ্ছে। যেখানে পাঁচটি বেস্ট প্র্যাকটিস চিহ্নিত করা হয়েছে। বেস্ট প্র্যাকটিসগুলো হচ্ছে ডিজিটাল সেন্টার, সার্ভিস ইনোভেশন ফান্ড, এ্যাম্পেথি ট্রেনিং, টিসিভি এবং এসডিজি ট্রেকার। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হওয়া এসকল ডিজিটাল কার্যক্রমের মডেল বাস্তবায়িত হচ্ছে বিদেশের মাটিতেও। ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে নানা উদ্যোগ ও কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশের ঝুঁলিতে এসেছে জাতিসংঘের সাউথ-সাউথ কো-অপারেশন অ্যান্ড ভিশনারি অ্যাওয়ার্ড, আইসিটি সাসটেনেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যাওয়ার্ড, ওয়ার্ল্ড সামিট অন দ্য ইনফরমেশন সোসাইটি (ডব্লিউএসআইএস) অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক পুরস্কার।

আমরা এখন কৃত্রিম, বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, ব্লকচেইন , ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) এর মতো ফ্রন্টিয়ার প্রযুক্তির বিকাশ ঘটিয়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সম্ভাবনা কাজে লাগানো ও চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার প্রস্তুতি নিচ্ছি। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইওটি, রোবোটিক্স, সাইবার সিকিউরিটির উচ্চপ্রযুক্তির ৩১টি বিশেষায়িত ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আইটি বিজনেস ইনকিউবেটর স্থাপন করা হবে। প্রযুক্তি ও জ্ঞাননির্ভর প্রজন্ম বিনির্মাণের লক্ষ্যে প্রতিটি জেলায় শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের মধ্যে পঞ্চম প্রজন্মের প্রযুক্তি চালুর লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান, কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশের যে ভিত্তি তৈরি করে গেছেন সে পথ ধরেই ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করে বাংলাদেশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশ আজ স্যাটেলাইটের এলিট ক্লাবের সদস্য। আমাদের লক্ষ্য ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যে প্রসার ঘটেছে তাকে কাজে লাগিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা ও ২০৪১ সাল নাগাদ একটি জ্ঞানভিত্তিক উন্নত বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তোলা।

<strong>লেখক:</strong><em> জুনাইদ আহ্‌মেদ‍ পলক, এমপি, প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।</em>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বঙ্গবন্ধু, বাংলা ও বাঙালি</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%81%2C+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE+%E0%A6%93+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%81%2C+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE+%E0%A6%93+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 14 Aug 2021 17:16:25 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<blockquote>
<blockquote class="pullquote align-center"><strong><img class="wp-image-57584 aligncenter" src="https://digibanglatech.news/wp-content/uploads/2021/08/মোস্তাফা-জব্বার-1.jpg" alt="" width="243" height="152" />মোস্তাফা জব্বার</strong></blockquote>
</blockquote>
<h4>ছিচল্লিশ বছর আগে বাংলার মাটিকে রক্ত দিয়ে পবিত্র করে যাকে সপরিবারে শহীদ হতে হয়েছিলো তাঁর সম্পর্কে দুটি বাক্য লিখতে কার অনুভূতি কি হয় জানিনা, আমারতো অন্তর কাঁপে। আমি অক্ষর হারিয়ে ফেলি-বাক্য পূর্ণ করতে পারি না। আবেগ অনুভূতির প্লাবন বয়ে যায়। কোনভাবেই আমি তাকে নিয়ে লেখার সাহস পাইনাই। এতো বড় মাপের মানুষ তাকে মূল্যায়ন করার ক্ষমতা আমার মতো নগন্য একজনের থাকতেই পারে না বলে আমি মনে করি। আমি তার ভক্ত-সৈনিক।</h4>
আমার চারপাশে কিংবা ইতিহাসের পাতায় তাঁর সাথে তূলনীয় কোন রাজনীতিককে আমি দেখি না। বাংলাদেশতো দূরের কথা, সারা দুনিয়াতেই তিনি একজনই। তিনি কেবল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী নন। তাকে আমি মনে করি একজনই বাঙালী, যার মাঝে বাঙালীত্বের পুরোটা আছে এবং সেজন্য তিনি সকল বাঙালীর, সকল বাংলা ভাষাভাষীর অনুসরণীয়, অনুকরণীয় এবং পরম শ্রদ্ধার পাত্র। চারপাশে তাকে নিয়ে কোটি কোটি হরফ দেখি।
<blockquote><strong>খণ্ড খণ্ড বই লেখা হয়েছে তাকে নিয়ে। যিনি যেভাবে চান তাকে সেভাবেই তিনি তাকে উপস্থাপন করছেন। কেন জানি মনে হচ্ছে তার নীতি, আদর্শ বা কর্মপন্থাকে আমরা এখনও সেইভাবে মূল্যায়ন করিনা যেভাবে সেটি করা দরকার। অনেক ভাবনা থেকে তার সম্পর্কে একটি ছোট নিবন্ধ লেখার সাহসও এতোদিন পাইনি।</strong></blockquote>
এবার যখন ৭২ বছর পার করেছি তখন মনে হলো এই মহামানব সম্পর্কে নিজের ভাবনাটা প্রকাশ করে যাওয়াটা নিজের কাছে জবাবদিহি করার মতো একটি বিষয় হতে পারে। নইলে এক সময়ে মনে হবে আমি তাকে যেমনটি ভাবি সেটিতো কাউকে বলিনি। মনে মনে ভাবছি যদি সময় পাই তবে আমি তাকে একটু বিস্তারিতভাবেই মূল্যায়ন করবো। গত তিন বছরে সেই চেষ্টাও করেছি। তাঁর বিভিন্ন দিক নিয়ে বেশ কিছু আলোচনা আমি করেছি। সেগুলো বিভিন্ন প্রকাশনায় প্রকাশিতও হয়েছে। ইচ্ছা আছে গ্রন্থ আকারে প্রকাশ করার।

তাঁর নাম শুনেছি ৬৬ সালে, যখন ঢাকা কলেজে পড়ার সময়ে ছাত্রলীগ করা শুরু করি। সেখানেই ছয় দফা নামক একটি লিফলেট বিলাতে গিয়ে প্রথম জেনেছি যে বাঙালীরা তাদের প্রাপ্য পায় না। তার আগে সারাটা স্কুল জীবনে <em>পাক সার জমিন সাদ বাদ</em>  গাওয়াইয়ে পাকিস্তানী বানাবার চেষ্টা করা হয়েছে। ১৯৬৫ সাল ছিলো প্রথম যখন ঢাকা শহরে এসে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর কুশ পুত্তলিকা জ্বালাতে দেখেছি। ৬৬ সালে ৬ দফা পাঠ করে জীবনে প্রথম অনুভব করলাম, আমি বাঙালী এবং আমার একটি আলাদা অর্থনীতি, রাজনীতি, ইতিহাস, একটি আলাদা ভাষা, আলাদা সংস্কৃতি ও আলাদা ভূখণ্ড রয়েছে। ৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করে শুনলাম, বাঙালীদের একজনই নেতা তার নাম শেখ মুজিবুর রহমান। তারপর ১১ দফায় সেই ছয় দফা যুক্ত হয় আর রাজপথে তার মুক্তির দাবিতে মিছিল করা দিয়ে নিজের শ্লোগান দেবার ক্ষমতাকে শাণিত করি। ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নগন্য একজন কর্মী হিসেবে তাঁর সামনে যাবার কোন কারণই ছিলো না। তবে যারা তাঁর কাছে থাকতেন তাদের সাথে আমরা দিন-রাত কাটাতাম বলে তাঁর ব্যক্তিগত ভাবনা-জীবনাচার বা রাজনৈতিক দর্শন জানতে পারতাম। তাঁর জেষ্ঠ্য কণঅ আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কয়েকমাস ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুবাদে বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক জীবন সম্পর্কেও ধারনা পাই। বঙ্গবন্ধুর বড় ছেলে শেখ কামালকে ঢাকা কলেজ থেকে চিনতাম ও বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে রাজনীতির সাথে নাট্য আন্দোলনে যুক্ত হয়ে ঘণিষ্টতাও তৈরি হয়। সেই মানুষটি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
<blockquote><strong>তাঁর জীবন নিয়ে ইতিহাস লেখার কোন ইচ্ছাই আমার নাই। অনেকে লিখেছেন, লিখবেন এবং সারা বিশ্ব তাকে নিয়ে গবেষণা করবে, বর্তমানের প্রেক্ষিতে এটাই স্বাভাবিক। গত কয়েক বছরে তার কন্যা বাংলার স্বর্ণকন্যা শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে যেখানে স্থাপন করেছেন তাতে সারা বিশ্বকে জানতেই হবে, কে এই দেশের জনক এই শেখ মুজিবুর রহমান।</strong></blockquote>
এক সময়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের তলাহীন ঝুড়ির দেশ এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সামনে আদর্শ দেশ, এই রূপান্তরটাতো আমাদেরকে জানতেই হবে। । আমাদের এই দেশটির জনক প্রথম আমাকে আকৃষ্ট করেন তার অতি সাধারন জীবন যাপন, সহজ সরল অভিব্যক্তি এবং স্পষ্টবাদিতায়। একবাক্যে তার বাঙালীত্বে।

আমি স্মরণ করতে পারি বঙ্গবন্ধু কেবল তার রাজনৈতিক দল নয়, ছাত্র বা শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীদেরকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন। এমনকি তাদের পারিবারিক তথ্যও মনে রাখতেন। সেই মানুষটির সাধারণ মূল্যায়ন যখন আমরা করি তখন কেবল তার বাংলাদেশ সৃষ্টির বিষয়টিকে প্রাধ্যান্য দিই। যে সময়ে ব্রিটিশরা পুরা উপমহাদেশটিকে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্পে কলঙ্কিত করে দুটি অদ্ভুত রাষ্ট্র বানিয়ে দিয়ে গিয়েছিলো এবং পুরো উপ মহাদেশের তাবত বড় বড় রাজনীতিবিদরা সেই সাম্প্রদায়িকতাকেই মাথায় তুলে নিয়েছিলেন। তখন তিনি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গঠনের বিপরীতে একটি ভাষাভিত্তিক আধুনিক জাতিরাষ্ট্র গঠনের দূরদর্শী স্বপ্ন দেখেন। ভাবা যায় যে, পাকিস্তান তৈরির ৫ মাসের মাঝে জিন্নার মুখের ওপর কেউ না না চিৎকার করে নিজের মাতৃভাষার দাবিকে উত্থাপন করতে পারেন। এই অঞ্চলে ভাষারাষ্ট্র ধারনা তখন মোটেই গুরুত্ব পায়নি। ভারত বহুভাষিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে ওঠে। খুব সঙ্গত কারণেই ভারতের ধর্ম রাষ্ট্র হবারও খুব সুযোগ ছিলো না। তবুও ব্রিটিশরা ভারতকে হিন্দুরাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ব্যবস্থা করেছিলো। ভারতের নেতারাও সেটি প্রচ্ছন্নভাবে মেনে নিয়েছিলেন। তবে পাকিস্তান হয়ে ওঠে উগ্র সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র। বঙ্গবন্ধু সেই মানুষটি যিনি বাংলাদেশের অন্তরকে অনুভব করেন এবং উগ্র সাম্প্রদায়িকতা যে এই অঞ্চলের মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয় এবং বাঙালী যে তাঁর ভাষা-সাহিত্য-সংস্কৃতিকে সবার ওপরে ঠাই দেয় এবং তার এই জীবনধারায় ধর্ম যে কেবল ব্যক্তিগত বিষয় এবং রাষ্ট্রের রাজনীতির প্রধান শক্তি নয় সেটি উপলব্ধি করতে সক্ষম হন। আমি নিজে অভিভূত হই যখন দেখি যে তিনি পাকিস্তানের কাঠামোতে থেকে তাঁর রাজনৈতিক সংগঠনের নাম থেকে মুসলিম শব্দটি উপড়ে ফেলে দিতে পেরেছিলেন। যে মানুষটি নিজেকে স্পষ্ট করে দুনিয়ার কাছে তুলে ধরতে পারেন যে তিনি বাঙালী, মানুষ এবং তারপরে মুসলমান, কেবল সেই মানুষটিই পাকিস্তানের শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের চোখের সামনে পাকিস্তানের কোন রাজনৈতিক সংগঠনকে ধর্ম নিরপেক্ষ করতে পারেন!

আজ তার মৃত্যুর ৪৬ বছর পর আমাদের আইন মন্ত্রীকে বলতে হয় যে, আমরা অবশ্যই ৭২ সালের সংবিধানে ফেরৎ যাবো। তিনি নিজেই অনুভব করেন যে বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে আমরা ফেরৎ যেতে পারিনি। জিয়া, এরশাদ ও খালেদা দেশটিকে যেভাবে পাকিস্তানের দূরবর্তী অঙ্গরাজ্য বানিয়েছিলো, সেটির সংবিধান আমরা বঙ্গবন্ধুর মতো করে ফিরে পেতে পারিনি। ভাবুন দেখি, তিনি তার দলের নাম থেকে কেবল মুসলিম শব্দ বর্জন করেননি, মুসলমানদের রাষ্ট্র পাকিস্তানকে টুকরো করে সেখানে ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। আমার জানা মতে, তার হাতে তৈরি ৭২ সালের সংবিধানটি হচ্ছে দুনিয়ার অন্যতম সেরা সংবিধান যার সাথে তুলনা করার মতো কোন সংবিধান অন্তত এই অঞ্চলে পাওয়া যায়না। এই সংবিধানকে ছিন্নভিন্ন করে জিয়া ও এরশাদ কেবল যে সাম্প্রদায়িকতা যুক্ত করে তাই নয় এর গণতান্ত্রিক চরিত্রও বিনষ্ট করে। আমাদের জন্য দুঃখজনক যে ৭৫ থেকে ৯৬ অবধি দেশে এমন সাম্প্রদায়িক রাজনীতি গড়ে তোলা হয় যে বঙ্গবন্ধুর কন্যার পক্ষেও এখন ৭২-এর সংবিধানের পরিপূর্ণ মূল চরিত্রে ফেরৎ যাওয়া সম্ভব হচ্ছেনা। এখন যদি তিনি সেই কাজটি করেন তবে রাজনীতির ছকটাকে উল্টানোর অপচেষ্টা করা হবে এবং বাংলাদেশকে পাকিস্তানের মতোই সাম্প্রদায়িক, জঙ্গী ও একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার রাজনীতি প্রবলভাবে জোরদার করা হবে। সংবিধানকে নিয়েই মুসলিম আবেগ জোরদার করা হবে এবং এরজন্য যতো রকমের ষড়যন্ত্র করা যায় সেটি করাই হবে। আমাদের দুর্ভাগ্য যে বঙ্গবন্ধুর সময়কালের বিশ্ব পরিস্থিতি এখন আর বিরাজ করেনা। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও পূর্ব ইউরোপ দুর্বল হবার পর পুঁজিবাদের একতরফা বিকাশ, চীনের আপোষকামিতা ও মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হবার ফলে আমরা বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে হুবহু যেতে পারছিনা।
<blockquote><strong>আজকের তরুণরা বঙ্গবন্ধুকে সেভাবে বুঝবেন না যেভাবে আমরা তাকে চিনি। বঙ্গবন্ধুর বাঙালীত্ব, তার প্রতি একনিষ্ঠতা এবং জাতিস্বত্ত্বা বিষয়ে অত্যন্ত ষ্পষ্ট নীতিমালা আমার মতো লাখো লাখো তরুণকে বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্র গঠনে জীবন দিতে উদ্বুদ্ধ করেছে। যারা এখন মনে করেন যে, পাকিস্তান আমাদেরকে ঠকিয়েছে, ন্যায্য পাওনা দেয়নি এবং বনিবনা হয়নি বলে পাকিস্তান ভেঙ্গে বাংলাদেশ জন্ম নিয়েছে তারা বঙ্গবন্ধুর নীতি ও আদর্শকে পুরোটা বুঝতেই পারেন না।</strong></blockquote>
কোন সন্দেহ নাই যে, তিনি পাকিস্তানের কাঠামোতে নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন এমনভাবে গড়ে তুলেন যে সারা দুনিয়ার কাছে আমরা এটি প্রমাণ করেছি যে আমাদের সশস্ত্র যুদ্ধের পথে ঠেলে দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ৪৮ সালেই তিন এটি বুঝেছিলেন যে, পাকিস্তান রাষ্ট্রটি বাঙালীদের নয় এবং বাঙালীদের একটি আলাদা রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সেজন্য তিনি একদিকে পাকিস্তানের রাজনীতিতে অংশ নিয়েছেন অন্যদিকে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়ার সশস্ত্র লড়াই-এর প্রস্তুতিও গড়ে তুলেছেন। তিনি একদিকে নির্বাচন করেছেন, অন্যদিকে আমাদের কণ্ঠে বীর বাঙালী অস্ত্র ধর বাংলাদেশ স্বাধীন কর সেই শ্লোগানও তুলে দিয়েছেন। বাঙালীর জাতিরাষ্ট্র বুঝতে হলে তার তৈরি করা ৭২-এর সংবিধান বুঝতে হবে।

তাঁর ৭২ সালের সংবিধানের মূলমন্ত্র ছিলো চারটি। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্ম নিরপক্ষেতা ও জাতীয়তাবাদ। ধীরে ধীরে আমরা সেই চার নীতির গণতন্ত্র ছাড়া বাকি সবগুলোকেই এড়িয়ে চলেছি। আজকের বাংলাদেশে সমাজতন্ত্র শব্দটি কেউ উচ্চারণ করেনা। কিন্তু ঐতিহাসিক বাস্তবতা হচ্ছে সমাজতন্ত্র ছাড়া মুক্তির কোন পথ নেই।
<blockquote><strong>হয়তো কার্লমার্ক্সের সমাজতন্ত্র ডিজিটাল যুগে প্রতিষ্ঠা করা যাবে না, কিন্তু ধনী গরীবের বৈষম্য দূর করতে ডিজিটাল যুগের সমাজতন্ত্র ও তার ধারনা কাজে লাগানো ছাড়া বিকল্প কোন উপায় নেই। এক সময়ে কায়িকশ্রম নির্ভর মালিক শ্রমিক কাঠামোটি দিনে দিনে মেধাশ্রম ভিত্তিক কাঠামোতে রূপান্তরিত হচ্ছে। ফলে শ্রেণিচরিত্র বা শ্রেণি সংগ্রামের সংজ্ঞা বদলাচ্ছে।</strong></blockquote>
কোন এক মার্ক্সকে নতুন করে সমাজতন্ত্রের কথা বর্ণনা করতে হবে-ব্যাখ্যা করতে হবে মালিক-শ্রমিক ও উৎপাদন ব্যবস্থা। শিল্পযুগের প্রথম দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের ব্যবস্থা শিল্প বিপ্লবের চতুর্থ স্তরে চলতে পারেনা। অন্যদিকে পুজিবাদের রূপান্তরে তার মূল্যায়নও অন্যভাবেই করতে হবে। চীন একটি সমাজতান্ত্রিক দেশ হয়েও পুজিবাদের ধারনাকে ভিন্নভাবে প্রয়োগ করে নতুন রাষ্ট্রীয় পুজিবাদের ধারনা তুলে ধরেছে। তবে সমাজতন্ত্র যে বৈষম্যহীনতার ধারনাকে জন্ম দিয়েছে সেটি দুনিয়া থেকে বিদায় নেবেনা। বরং সমাজতন্ত্রের ডিজিটাল ধারাটির জন্য সারা দুনিয়ায় নতুন করে লড়াই চলবে। অন্যদিকে ধর্ম নিরপেক্ষতার জন্য বাংলাদেশকে আবার লড়াই করতে হচ্ছে।

জিয়া-এরশাদ-খালেদা বাংলাদেশকে যেভাবে সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করার অপচেষ্টা করেছে এবং সারা দুনিয়ার ধর্ম পরিস্থিতি যেমনটা তাতে বাংলাদেশের জন্য ধর্মনিরপেক্ষেতা বজায় রাখাকেই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাড় করিয়েছে। একই কারণে বাঙালীর জাতিস্বত্ত্বা বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে। নতুন প্রজন্মের কাছে বঙ্গবন্ধুর জাতীয়তাবাদের মূল কথাগুলো তুলে ধরা হয়নি বলে এখন তরুণরা ইসলামি জঙ্গীতে রূপান্তরিত হয়। অথচ বঙ্গবন্ধুকেতো বটেই পুরো বাঙালী জাতিকে পাকিস্তানীরা অমুসলিম বানাতে চেষ্টা করেও সফল হয়নি। একাত্তরে তারা স্পষ্ট করেই বলেছে যে পূর্ব পাকিস্তানের বাসিন্দারা মুসলমান নয়। আমরা পাকিস্তানীদের পরাজিত করে এর জবাব দিয়েছি। বঙ্গবন্ধুর জন্য আমার চোখের পানি আসে আরও একটি বিশাল কারণে। তাকে ছাড়া আমি নিজেকে অসহায় মনে করছি। আমার নিজের মতে বঙ্গবন্ধু বাঙালীর মাতৃভাষাকে রাষ্ট্রযন্ত্রে প্রয়োগ করার অনন্য প্রচেষ্টা গ্রহণ করেন। আমি সেই মুজিবের কথা ভাবি, যে মুজিব অপটিমা মুনীর টাইপরাইটার বানিয়েছিলেন। আমি সেই মুজিবের কথা ভাবি যিনি রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবার আগেই বলেছিলেন, ভুল হোক শুদ্ধ হোক আমরা সরকারি কাজে বাংলাই লিখবো। কালক্রমে জিয়া এরশাদ ও খালেদা সেই মুজিবের আদর্শ থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্রকে সরানোর চেষ্টা করেছে। ভাষার কথাই বলি।
<blockquote><strong>বাংলাদেশের বেসরকারি অফিসে বাংলা বর্ণমালাই নেই। সরকারের কাজে-কর্মে বাংলা ভাষা বিরাজ করে। কিন্তু যখনই আমরা এর ডিজিটাল রূপান্তর করছি, তখন বাংলা অবহেলার বিষয় হয়ে ওঠছে। বস্তুত ডিজিটাল করার নামে বাংলা হরফকে অনেক ক্ষেত্রেই বিদায় করা হয়। উচ্চ আদালতে ও উচ্চ শিক্ষায় বাংলা নেই। যে মানুষটি ৫২ সালে চীনে আয়োজিত বিশ্ব শান্তি সম্মেলনে বাংলায় ভাষণ দেন এবং যিনি সদ্যজাত দেশের পক্ষে জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দিতে পেরেছিলেন সেই মানুষটির দেশে এখন চারপাশে রোমান হরফের রাজত্ব দেখি।</strong></blockquote>
একটি সাম্প্রতিক গবেষণার ফলাফল বলছে, ফেসবুকে শতকরা মাত্র ৮ ভাগ বাঙালী বাংলা ব্যবহার করে। কী ভয়ংকর একটি চিত্র এতে প্রকাশিত হয়। আমি চাইনা আমার অনুমান সত্য হোক, কিন্তু মনে হচ্ছে এক সময়ে অশিক্ষিত-অর্ধশিক্ষিত বা গ্রামের মানুষ ছাড়া বাংলা হরফই আমরা দেখবোনা। আপনি চারপাশে খোজ নিলেই দেখবেন, তথাকথিত শিক্ষিত লোকেরা বিয়ের কার্ডটাতেও বাংলা হরফ ব্যবহার করেনা। এই হীনমন্য জাতির ভবিষ্যৎ কি? যে ভাষা রাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু গড়ে তুলেছিলেন সেখানে থেকে সরে গিয়ে আমরা কোন জাতিরাষ্ট্র গড়ে তুলছি সেটি আমি মোটেই বুঝিনা। আসুন না সবাই মিলে বঙ্গবন্ধুর ভাষারাষ্ট্রটাকেই বিশ্বের সেরা রাষ্ট্রে রূপান্তরিত করি। আসুন সকল ক্ষেত্রে সেই একজন বাঙালীকেই অনুসরণ করি যার নাম শেখ মুজিবুর রহমান।

<strong>লেখক : বিজয় বাংলার উদ্ভাবক; মন্ত্রী, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ</strong>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>বঙ্গবন্ধুর আদর্শের মৃত্যু নেই</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%81%E0%A6%B0+%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81+%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%81%E0%A6%B0+%E0%A6%86%E0%A6%A6%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81+%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%87</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 14 Aug 2021 15:56:03 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<blockquote class="pullquote align-center"><strong>জুনাইদ আহমেদ পলক<img class=" wp-image-57554 alignleft" src="https://digibanglatech.news/wp-content/uploads/2021/08/পলক.jpeg" alt="" width="202" height="229" /></strong></blockquote>
<h4>মানুষকে হত্যা করা যায়। কিন্তু তাঁর দর্শন, নীতি ও আদর্শকে হত্যা করা যায় না। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট ঘাতকরা বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। কিন্তু তারা হত্যা করতে পারেনি তার দর্শন, নীতি ও আদর্শকে। তার আদর্শই আজ আমাদের পথ চলার পাথেয়।</h4>
&nbsp;

আসলে বঙ্গবন্ধুর জীবন-দর্শন, নীতি, আদর্শ, কর্ম ও নেতৃত্বের বহুমাত্রিক গুণাবলির মধ্যে নিহিত রয়েছে আদর্শ মানুষ ও সুনাগরিক হওয়ার সব উপাদান।বঙ্গবন্ধুর লেখা তিনটি গ্রন্থ- ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’, ‘কারাগারের রোজনামচা’ এবং ‘আমার দেখা নয়াচীন’ পাঠ করলে এ সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পাওয়া যায়। ছাত্রাবস্থায়ই তার মধ্যে মানবিক গুণ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা এবং ক্যারিশম্যাটিক রাজনীতি বোধের প্রকাশ দেখা যায়। এ কারণেই গোপালগঞ্জ মিশন স্কুলে পড়ার সময় ১৯৩৮ সালে অবিভক্ত বাংলার শ্রমমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর দৃষ্টিতে আসেন। স্কুলের ছাত্র শেখ মুজিব তাঁর গৃহ শিক্ষক কাজী আবদুল হামিদ, এমএসসি পরিচালিত ‘মুসলিম সেবা সমিতি’র সক্রিয় সদস্য হিসেবে বাড়ি বাড়ি গিয়ে মুষ্টি চাল সংগ্রহ করে গরীব শিক্ষার্থীদের বই, পরীক্ষার ফি, জায়গিরের খরচ জোগান দিতেন। ১৯৪৩ সালে যখন কলেজ ছাত্র তখন ভয়াবহ দুর্ভিক্ষে প্রায় ৫০ লাখ মানুষ মারা যান। বঙ্গবন্ধু লঙ্গরখানা খুলে মানুষকে খাইয়েছেন। বেকার হোস্টেলে দুপুর ও রাতে যে খাবার বাঁচে তা বুভুক্ষুদের বসিয়ে ভাগ করে দিয়েছেন।
<blockquote><span style="color: #3366ff;">বঙ্গবন্ধু ২৩ বছর ধরে দেশের প্রতিটি মানুষকে জেনেছেন, চিনেছেন। তাদের নাগরিক ও নৈতিক অধিকার এবং সংশয়মুক্ত জীবন ধারণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে সাহসী ও উপযুক্ত হয়ে উঠতে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি দেশের মানুষকে অত্যাধিক ভালবাসতেন। ১৯৭২ সালের ১৮ জানুয়ারি ব্রিটিশ টেলিভিশন সাংবাদিক ডেভিড ফ্রস্টের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “আমার সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে আমি আমার জনগণকে ভালবাসি। আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা হচ্ছে আমি তাদের অত্যাধিক ভালবাসি।’</span></blockquote>
বঙ্গবন্ধুর জীবনে সততাই ছিল মূল চালিকা শক্তি। সততার শিক্ষা তিনি পেয়েছেন পরিবার থেকে। তার পিতা শেখ লুৎফর রহমান ১৯৪২ সালে তাকে বলেছিলেন, “বাবা রাজনীতি কর আপত্তি করব না, পাকিস্তানের জন্য সংগ্রাম করছ এতো সুখের কথা, তবে লেখাপড়া করতে ভুলিও না। লেখাপড়া না শিখলে মানুষ হতে পারবে না। আর একটা কথা মনে রেখ, ‘সিনসিয়ারিটি অব পারপোস এন্ড অনেস্টি অব পারপোস’ থাকলে জীবনে পরাজিত হবা না।” (শেখ মুজিবুর রহমান, অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা ২১)।

সারাজীবনে বঙ্গবন্ধু বাবার মতোই সততার অনুশীলন করেছেন। রাজনীতিতে কখনও মিথ্যা, ভণ্ডামির আশ্রয় নেননি। বঙ্গবন্ধু ছিলেন দূরদর্শী নেতা। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান স্বাধীন হলেও তাতে বাঙালির কোন লাভ হবে না। বিচক্ষণ ও প্রজ্ঞাবান নেতা বঙ্গবন্ধু এটা ভালভাবেই উপলব্ধি করেন। সে সময় থেকেই তিনি বাঙালির স্বাধীনতার কথা ভাবেন। স্বাধীনতা পরবর্তীতে অন্নদা শংকর রায় বঙ্গবন্ধুকে প্রশ্ন করেছিলেন- ‘বাংলাদেশের আইডিয়াটা কবে আপনার মাথায় কবে এলো?’ উত্তরে জাতির পিতা বলেন, “সেই ১৯৪৭ সালে, তখন আমি সোহরাওয়ার্দী সাহেবের দলে।”

সে স্বপ্নের বাস্তবায়নের জন্য ২৩ বছর আন্দোলন করেছেন। বঙ্গবন্ধু অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে লিখেছেন, “পাকিস্তানের রাজনীতি শুরু হল ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। জিন্নাহ যতদিন বেঁচেছিলেন প্রকাশ্যে কেউ সাহস পায় নাই। যেদিন মারা গেলেন ষড়যন্ত্রের রাজনীতি পুরোপুরি প্রকাশ্যে শুরু হয়েছিল।” (অসমাপ্ত আত্মজীবনী, পৃষ্ঠা-৭৮)।

উর্দুকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে ঘোষণার মধ্য দিয়ে পাকিস্তানের ষড়যন্ত্র উন্মোচিত হয়। রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই দাবিতে ১৯৪৮ সাল থেকে শুরু হয় আন্দোলন। বঙ্গবন্ধু সুদীর্ঘ ২৩ বছর ধরে ভাষাভিত্তিক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে ধাপে ধাপে স্বাধীনতার আন্দোলনে পরিণত করেন। তিনি বিশ্বাস করতেন জনতার শক্তিতে। এজন্য তিনি পাকিস্তানি শোষণ-বৈষম্যের কথা মানুষের সামনে তুলে ধরেছেন। তার বিশেষ গুণ ছিল তিনি একজন ভালো বাগ্মী। বক্তৃতার মাধ্যমে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বিশ্ব ইতিহাসের অবিস্মরণীয় উপাদানে পরিণত হয়। ১৯ মিনিটের এ ভাষণ যুগসৃষ্টিকারী ও বিশ্বের অন্যতম সেরা ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব, আদর্শ ও নীতির প্রতি প্রতি জনগণের আস্থা ছিল শতভাগ। যে কারণে প্রতিটি মানুষ নিজেকে একজন বিপ্লবী হিসেবে তৈরি করে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চের ভাষণে তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন। তাঁর ডাকে সাড়া দিয়েই জনগণ পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করে। নয় মাসের সশস্ত্র যুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যূদয় ঘটে।
<blockquote><span style="color: #3366ff;">আমি আগেই বলেছি বঙ্গবন্ধু ভিশনারি নেতা। শুধু রাজনৈতিক সংগ্রামে নয়, মাত্র সাড়ে তিন বছরে রাষ্ট্র পরিচালনায় একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ গড়ে তোলার পাশাপাশি এমন কিছু পদক্ষেপ তিনি নিয়েছিলেন, যা তার দূরদর্শী চিন্তা থেকে উৎসারিত। তার আজন্ম লালিত স্বপ্ন ছিল সোনার বাংলা বিনির্মাণের। সেই লক্ষ্যে সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক কাযক্রমের বাস্তবায়নও করছিলেন। শুধু তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির সম্প্রসারণ ও বিভিন্ন উদ্যোগের কথাই ধরা যাক। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশকে একটি আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর, বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমৃদ্ধিশালী দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছিলেন।</span></blockquote>
এর মধ্যে অন্যতম তৃতীয় শিল্প বিপ্লব বা ডিজিটাল বিপ্লবের সুফল ঘরে তোলার উদ্যোগ। বাংলাদেশ যুদ্ধ বিধ্বস্ত একটি দেশ। অন্ন, বন্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষার মতো মানুষের মৌলিক চাহিদা অগ্রাধিকার বিবেচনায় থাকার কথা। কিন্তু তিনি এসবের সাথেও তার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার জন্য তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল বা তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের কথা ভেবেছেন। ১৯৭৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর আইটিইউর সদস্যপদ লাভ, ইআরটিএস স্যাটেলাইট প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন, ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বেতবুনিয়ায় স্যাটেলাইটের আর্থ-স্টেশনের উদ্বোধন, প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহারঅন্তর্ভুক্ত করা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিকাশে ‘বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) প্রতিষ্ঠা এবং জ্ঞান ও বিজ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন গঠন ছিল তার দূরদর্শী চিন্তারই ফসল। এমন কোন খাত নেই যেখানে তিনি দূরদর্শী চিন্তা থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি। যার সুফলও বাংলাদেশ পায়।

প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরের বছরই ৯ শতাংশের ওপরে প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়। বঙ্গবন্ধু জীবিত থাকলে বহু আগেই তার স্বপ্নের সুখী-সমৃদ্ধিশালী সোনার বাংলা গড়ে উঠতো। ১৯৭৫ সালের ১৫ অগাস্ট এমনি একজন নেতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এটি কোন সাধারণ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছিল না। এ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে কাজ করেছে সূদূর প্রসারী জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র।
<blockquote><span style="color: #3366ff;">যে নেতা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সারা বিশ্বের মুক্তিকামী মানুষের জন্য আদর্শ হয়ে উঠলেন এবং যার সারাজীবনের রাজনীতি ছিল বাঙালির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি এবং বাংলার স্বাধীনতা তাকে কেন হত্যা করা হলো?</span></blockquote>
স্বাধীনতা পূর্ব আন্দোলন-সংগ্রামে বঙ্গবন্ধুকে হত্যায় পাকিস্তানি স্বৈরশাসক এবং তাদের আন্তর্জাতিক মিত্রদের ষড়যন্ত্র সফল না হওয়ার কারণ ছিল বঙ্গবন্ধুর কৌশলী, দূরদর্শী ও সাহসী নেতৃত্বে জনতার সৃদৃঢ় ঐক্য। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তাদের শোচনীয় পরাজয় হয়। কিন্তু এ পরাজয়কে তারা মেনে নিতে পারেনি। স্বাধীন বাংলাদেশে তাদের ষড়যন্ত্রে নতুন মাত্রা যোগ হয়। এর কারণ বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণ। দক্ষিণ এশিয়ায় বঙ্গবন্ধুর মতো এমন একজন জাতীয়তাবাদী নেতার উথ্থান যাকে ১৯৭৩ সালে জুলিও কুরি শান্তি পুরস্কার দেওয়া  হয় তা  একাত্তরের দেশি-বিদেশি পরাজিত শক্তি মেনে নিতে পারেনি। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সাল থেকে পরবর্তী শাসকরা দীর্ঘ ২১ বছর বাংলাদেশকে নব্য পাকিস্তানে পরিণত করার অপচেষ্টা করে। প্রতিক্রিয়াশীল ধারায় দেশ পরিচালনা করে। আমরা সৌভাগ্যবান যে, দেশের জনগণ বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯৯৬ সালে এবং ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন করে। ১৯৯৬-২০০১ এবং ২০০৯ সাল থেকে টানা তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বাংলাদেশ পরিচালিত হওয়ায় মানুষ মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস, বঙ্গবন্ধুর জীবন-দর্শন, নীতি ও আদর্শ জানতে পারছে।

ইতিহাসে তিনিই অমর, যিনি তার স্বপ্নের বাস্তবায়নের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করেন এবং জাতিকে স্বপ্ন দেখান। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন। দীর্ঘ ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নও করেন। ইতিহাস তাকে সৃষ্টি করেনি। তিনিই ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। বঙ্গবন্ধু ইতিহাসের সেই মহামানব। তিনি দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর জন্য রাজনৈতিক সংগ্রাম ও কর্মের মধ্য দিয়ে যে দর্শন, নীতি ও আদর্শ আমাদের সামনে রেখে গেছেন তাকে অনুসরণ করেই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে অনুসরণ করলেই একজন ব্যক্তি সুনাগরিক ও আদর্শ মানুষ হয়ে উঠতে পারে।

বঙ্গবন্ধুর উক্তি: <strong>নেতার মৃত্যু হতে পারে, কিন্তু সংগঠন বেঁচে থাকলে </strong><strong>আদর্শের মৃত্যু নেই।</strong>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সংগ্রামের অফুরান প্রেরণার উৎস তিনি ৥ জুনাইদ আহ্‌মেদ‍ পলক</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%85%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A8+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%B8+%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF+%E0%A7%A5+%E0%A6%9C%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A6+%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E2%80%8C%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%A6%E2%80%8D+%E0%A6%AA%E0%A6%B2%E0%A6%95</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%85%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A8+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%B8+%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BF+%E0%A7%A5+%E0%A6%9C%E0%A7%81%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A6+%E0%A6%86%E0%A6%B9%E0%A7%8D%E2%80%8C%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%A6%E2%80%8D+%E0%A6%AA%E0%A6%B2%E0%A6%95</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 08 Aug 2021 20:16:26 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[বাঙালি জাতির প্রতি বেগম মুজিবের অবদান ছিল অপরিসীম। জনগণের প্রতি তাঁর ভালবাসা ছিল অকুন্ঠ ও অকৃত্রিম। আর তাই তিনি হয়ে ওঠেন বাঙালি জাতির বঙ্গমাতা।পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধু শেখমুজিবুর রহমানের ২৪ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামে অনুপ্রেরণার উৎসছিলেন বঙ্গমাতা। দীর্ঘ এই সংগ্রামে প্রায় ১৪ বছর বঙ্গবন্ধুর জীবন কাটে কারা প্রকোষ্ঠে। শুধু বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতে নয়, অনুপস্থিতেও আন্দোলন যাতে ভাটা নাপড়ে সেজন্য জনগণের সাথে নিবিড় যোগাযোগ রেখেছেন বঙ্গমাতাফজিলাতুন্নেছা মুজিব । যেকারণে জনগণ তাকে ডাকতেন ভাবীবলে। আর বঙ্গবন্ধুকে ডাকতেন মুজিব ভাই হিসেবে।

ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ১৯৩০ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া গ্রামে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাতে তিনি জাতির পিতার হত্যাকারীদের হাতে পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে নির্মম ভাবে নিহত হন। বঙ্গমাতা হিসেবে যিনি আমাদের শ্রদ্ধার আসনে আসিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী। জননেত্রী শেখ হাসিনা, শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রেহানা, শেখ রাসেলের প্রিয় মা। সব কিছু ছাপিয়ে বড় পরিচয় তিনি আমাদের স্বাধীনতা ও মুক্তির সংগ্রামে নির্ভরতার সারথি। আগস্টেই জন্ম আগস্টেই প্রয়াণ। জন্মের আবহটাও যেন বেদনায় নীল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানেরসহ ধর্মিনী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৯১তম জন্মবার্ষিকীতে বাংলা ও বাঙালির অকৃত্রিম বন্ধু, সুহৃদ, দুঃসময়ের সহযাত্রী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আমাদের প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে কাজ করার যেমন সুযোগ হয়নি; তেমনি সুযোগ হয়নি বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিণী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের মতো আত্মত্যাগী মহীয়সী নারীকে কাছ থেকে দেখার।

বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা তাঁর মা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে নিয়ে স্মৃতিচারণমূলক এক লেখায় একজন নারী কীভাবে সংসার, স্বামী-সন্তান নিয়ে আত্মসর্বস্বনা থেকে বাঙালির প্রিয় নেতা শেখ মুজিবকে বঙ্গবন্ধু হতে অসামান্য অবদার রেখেছেন, তার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়েছেন।

জননেত্রী শেখ হাসিনা ইতোমধ্যে জাতিকে সেই দায়িত্ব থেকে অনেকটাই মুক্তি দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ প্রকাশের মাধ্যমে। বইটি প্রকাশিত হওয়ার পর বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে বেগম মুজিবের প্রভাব ও অবদান বর্তমান প্রজন্ম নতুন করে জানতে পেরেছে। বঙ্গবন্ধুর নিজ হাতে লেখা আত্মজীবনী যত টুকু পাঠকের হাতে পৌঁছে সেইটুকু বিশ্লেষণ করলেই মহিয়সী বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবকে অনুধাবন করা যাবে। খুঁজে পাওয়া যাবে তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও দূরদর্শী দৃষ্টি ভঙ্গির অসংখ্য নিদর্শন।

মানুষের ভালোবাসার কাঙ্গাল ছিলেন বঙ্গবন্ধু। নেতা-কর্মীদের প্রাণ উজাড় করে ভালোবাসতেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর কর্মী বান্ধব গুণাবলির শতভাগই আমরা বেগম মুজিবের মধ্যে দেখতে পাই। দলীয় কর্মীদের সুখ-দুঃখের সাথী ছিলেন তিনি। হোক সেরা জনৈতিক কর্মী অথবা সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষ, তাঁর কাছ থেকে সাহায্য চেয়ে কেউ কখনও খালি হাতে ফিরে যেতনা।

বঙ্গবন্ধুর ছাত্র-রাজনীতি থেকে শুরু করে শাহাদাত বরণ পর্যন্ত ছায়ার মতো সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ড পাশে ছিলেন বেগম মুজিব। স্বাধিকার থেকে স্বাধীনতা এবং পরবর্তী সময় দেশগড়ার সংগ্রামে বেগম মুজিব অনেক কষ্ট করেছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন। ছাত্র-রাজনীতি করার সময়ও বেগম মুজিব তাঁর পিতৃ সম্পত্তি থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে নিয়মিত সহযোগিতা করতেন। রাজনৈতিক কাজে টাকা-পয়সা দিয়ে সহযোগিতার এই মনোভাবতার আমৃত্যু ছিল। দেশমাতৃকার সংগ্রামকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি তাঁর গহনা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন।

আওয়ামী লীগের এক প্রকাশনায় বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ রেহানা স্মৃতিচারণমূলক লেখায় উল্লেখ করেছেন, “আব্বার রাজনৈতিক কর্মকান্ডের প্রতি মায়ের অসম্ভব রকম সহযোগিতা ছিল… আমার মায়ের ধৈর্য, নীতিবোধ, পারিবারিক সংস্কার, ভালোবাসা ও মমত্ববোধ এক ভিন্ন মাত্রা। যার কোনো তুলনা খুঁজে পাওয়া ভার। মহান ব্যক্তিত্বদের পেছনে এমনি ভাবে মহীয়সীদের অবদান রয়ে যায়।”

আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে দিনের পরদিন, মাসের পর মাস জেলের অভ্যন্তরে কাটাতে হয়েছে। এ-সময় আওয়ামী লীগের তরুণকর্মী, বিশেষ করে ছাত্রনেতাদের নির্ভরতার কেন্দ্র বা আশ্রয়স্থল ছিলেন বেগম মুজিব। রাজনৈতিক কর্মীদের তিনি মনে-প্রাণে ভালোবাসতেন। পরম মমতার বন্ধনে আবদ্ধ করতেন। বিশিষ্ট কলামিস্ট ভাষা সৈনিক আবদুল গাফ্ফার চৌধুরী বেগম মুজিব সম্পর্কে লিখেছেন “মাথায় গ্রেফতারি পরোয়া না নিয়ে বহুদিনের আত্মগোপনকারী ছাত্রনেতা কিংবা রাজনৈতিক কর্মী অভুক্ত অস্নাত অবস্থায় মাঝরাতে এসে ঢুকেছেন বত্রিশের বাড়িতে, তাঁকে সেই রাতে নিজের হাতে রেঁধে মায়ের স্নেহে, বোনের মমতায় পাশে বসে খাওয়ান বেগম মুজিব।

বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনের অনেক জটিল পরিস্থিতিতে বেগম মুজিব সৎপরামর্শ দিয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহযোগিতা করেছেন। ১৯৪৬ সালে দাঙ্গার সময় বেগম মুজিব নিজে অসুস্থ থাকা অবস্থায়ও স্বামীকে দাঙ্গা উপদ্রুত এলাকায় যেতে বারণ করেন নি। সেই সময় বেগম মুজিব স্বামীকে চিঠিতে লিখেছেন “আপনি শুধু আমার স্বামী হবার জন্য জন্মনেন নি, দেশের কাজ করার জন্য জন্ম নিয়েছেন। দেশের কাজই আপনার সবচাইতে বড় কাজ। আপনি নিশ্চিন্ত মনে সেই কাজে যান। আমার জন্য চিন্তা করবেন না। আল্লাহর উপর আমার ভার ছেড়ে দিন।” কতইবা বয়স ছিল বেগম মুজিবের। ১৯৩০ সালে জন্মের হিসাবে বড় জোর ১৬বছর। এই বয়সের একজন তরুণী নিজের সুখ-শান্তি, আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে দেশের প্রয়োজনকেই সবার উপরে স্থান দিয়েছেন। দেশের জন্য ত্যাগের এই উদাহরণ বর্তমান সময়ে কল্পনাতীত।

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ঘোষিত ৬-দফা আন্দোলনের কঠিন সময়ও বেগম মুজিব শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষুও সকল প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে সাহসী ও দৃঢ়চেতা মনোভাব নিয়ে স্বামীকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছেন। দলের তরুণকর্মী, ছাত্র, যুবকদের সাথে বেগম মুজিব সবসময়ই যোগাযোগ রাখতেন। তাদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতেন। আন্দোলনের ক্ষেত্রে তরুণ যুবকদের আপসহীন মনোভাব বেগম মুজিব ভালো ভাবে জানতেন বলেই স্বামীকে স্বাধীনতা সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার প্রেরণা দিতেন। বেগম মুজিব বিশ্বাস করতেন আন্দোলন প্রশ্নে বয়স্কদের মধ্যে কিছুটা দোদুল্য মানতা থাকতে পারে। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের হাজার হাজার তরুণ-যুবা স্বাধীনতা আন্দোলনের পথ থেকে কখনোই পিছপা হবেনা।

ঊনসত্তরের অগ্নিগর্ভা দিন গুলোতে বেগম মুজিবের সময়োচিত সিদ্ধান্ত স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় শেখ মুজিব তখন জেলে। দেশের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য জেনারেল আইয়ুব খান রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দকে গোলটেবিল বৈঠকে আমন্ত্রণ জানান। শেখ মুজিবকে প্যারোলে মুক্তি দিয়ে প্রস্তাবিত গোল টেবিলে যাবার প্রস্তাব করা হলো। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামি অনেকেই প্রস্তাবে সম্মত হলো। এ-সময় গণদাবি ছিল ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারের। বেগম মুজিব প্যারোলে মুক্তি নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণের বিরুদ্ধে ছিলেন। প্যারোলে মুক্তিতে রাজি হলে সম্পর্ক ছিন্নের কঠিন বার্তাও ক্যান্টনমেন্টে বন্দী মুজিবের কাছে পাঠিয়েদেন। স্বামীর মতোই তিনিও ছিলেন নীতির প্রশ্নে আপসহীন। রাজপথে প্রচন্ড আন্দোলনের চাপেই স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকার শেখ মুজিবকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের অগ্নিঝরা ভাষণের প্রেরণা দাত্রী ছিলেন বেগম মুজিব। তিনি তাঁর স্বামী বঙ্গবন্ধু মুজিব কেমন ও বিবেকের উপর ভর করে বক্তৃতা করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর পাশে বেগম মুজিবের মতো প্রজ্ঞাবান নারী থাকার কারণেই হয়তো “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” নামক মহাকাব্যের সৃষ্টি হয়েছে।

বেগম মুজিবের স্মরণশক্তি ছিলে অত্যন্ত প্রখর। রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ তিনি সঠিকভাবে মনে রাখতে পারতেন। এ-কারণে বঙ্গবন্ধু বেগম মুজিবকে তাঁর ‘সারা জীবনের জীবন্ত ডায়েরি’ বলতেন। বন্দী থাকার সময় জেলখানা থেকে বঙ্গবন্ধুর সকল নির্দেশনা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কাছে তিনি নিয়ে আসতেন। আবার আন্দোলনের সকল ঘটনা জেল গেটে গিয়ে বঙ্গবন্ধুকে জানাতেন। বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ জেল জীবনে নেতা-কর্মীদের সাথে সেতুবন্ধন ছিলেন বেগম মুজিব। যে সংগঠন বাংলাদেশের ইতিহাস নির্মাণ করেছে সেই ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্য বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব অক্লান্ত পরিশ্রমক রেছেন, যা হয়তো ইতিহাসে অনুল্লেখই থাকবে। আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভাসহ সকল নীতি-নির্ধারণী বৈঠক ধানমন্ডির ৩২নম্বরের বাড়িতে ইহতো। বেগম মুজিব কখনোই এটাকে ঝামেলা মনে করেন নি। বরং আনন্দচিত্তে নিজ হাতে রান্না করে সকলের খাবার পরিবেশন করতেন। কর্তব্যনিষ্ঠা, দূরদর্শিতা, সাহসিকতাও দেশপ্রেমের অসামান্য গুণাবলির জন্য বেগম মুজিবের নাম বাঙালি হৃদয় থেকে কেউ কখনও মুছে ফেলতে পারবেনা। বাঙালির ইতিহাসের ধ্রুব তারা হয়ে থাকবেন তিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের রক্তের উত্তরাধিকার দেশরত্ন শেখ হাসিনা। যিনি আজ চতুর্থবারের মতো গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পিতামাতার মতো সহজ সারল্যে ভরাতার জীবনাচার। বঙ্গবন্ধু দলীয় নেতা-কর্মীদের তথা দেশের মানুষকে হৃদয় দিয়ে ভালোবাসতেন। তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সাথে ছিল তাঁর নিবিড় সম্পর্ক। এ মহৎ গুণের কারণে তিনি সকলের প্রিয় ‘মুজিব ভাই’ থেকে ‘বঙ্গবন্ধু’ হতে পেরেছেন। বেগম মুজিবও ছিলেন নেতা-কর্মীদের পরম আপনজন। পিতামাতার কাছ থেকে অর্জিত দেশসেবার অসামান্য গুণাবলির কারণেই বঙ্গবন্ধু-কন্যা শেখ হাসিনা নেতা-কর্মীদের অতিপ্রিয় ‘নেত্রী’ বা ‘আপা’। বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের মতো মহীয় সীমায়ের রক্ত শেখ হাসিনার ধমনিতে প্রবাহিত বলেই মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল শেখ হাসিনা। সকল দুঃখ-কষ্ট-বেদনার মাঝে পিতামাতার ঐশ্বরিক অভয় বাণীই শেখ হাসিনার এগিয়ে চলার অবলম্বন।

বেগম মুজিবকে জানতে হলে বঙ্গবন্ধুর ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ ও ‘কারাগারের রোজনামচা’ গ্রন্থ দুটি সকলেরই পাঠ করা উচিত। গ্রন্থ দুটির সূত্র ধরে গবেষণা করলে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সম্পর্কে আরও অজানা তথ্য জানা যাবে, যা আমাদের ইতিহাসকে সমৃদ্ধ করবে, জাতিকে ইতিহাস বিকৃতির হাত থেকে রক্ষা করবে।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার কবিতায় লিখেছিলেন, ‘বিশ্বে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যাণকর, অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।’ বঙ্গমাতা ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জীবনী বিশ্লেষণে জাতীয় কবির এই কবিতার যথার্থ প্রতিফলন পাওয়া যায়।

বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে শ্রেষ্ঠতম অর্জন হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বঙ্গবন্ধুর এসব লড়াই-সংগ্রাম-আন্দোলনের নেপথ্যের প্রেরণাদাত্রী এবং বঙ্গবন্ধুর সমগ্র রাজনৈতিক জীবন ছায়ার মতো অনুসরণ করে তাঁর প্রতিটি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে অফুরান প্রেরণার উৎস বাংলার মহীয়সী নারী ফজিলাতুন্নেছা মুজিব।

<em><strong>লেখক:</strong> জুনাইদ আহ্‌মেদ‍ পলক, এমপি, প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ।</em>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ঈদ সম্মিলনে ভরসা ‘অনলাইন’</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%88%E0%A6%A6+%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%87+%E0%A6%AD%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%BE+%E2%80%98%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E2%80%99</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%88%E0%A6%A6+%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%87+%E0%A6%AD%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%BE+%E2%80%98%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%A8%E2%80%99</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 20 Jul 2021 11:06:46 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[ঈদ একক কোনো আনন্দ নয়। এই আনন্দ সীমিত নয় নির্দিষ্ট সমাজ বা ভূখণ্ডের গন্ডিতে। ঈদ- মুসলিম উম্মাহর মহাসম্মিলন। কিন্তু অতিমারি করোনা এই মহাসম্মিলনে বেঁধে দিয়েছে সামাজিক দূরত্ব। তবে বিশ্ব ভ্রাতৃত্বের এই বন্ধনে চির ধরাতে পারেনি।

সম্মিলনের অমলিন বার্তাকে করেছে আরো প্রবল। ঈদ-উল আজহার ‘বিলিয়ে দেয়ার আনন্দ’ এই সময়ে ঈদকে করেছে আরো তাৎপর্যময়। সঙ্কটের এই সময়ে উম্মাহর সম্মিলনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে ‘অনলাইন’। সশরীরে উপস্থিত না থেকেও ঈদের আনন্দকে রঙিন রাখতে অনলাইনে কেনাকাটার পাশাপাশি ডিজিটাল ওয়ালেটের সহায্য যেমন নেয়া হচ্ছে, তেমনি ভার্চুয়াল সামাজিক মাধ্যমই এখন হয়ে উঠেছে কথোপকথন বা যোগাযোগের একমাত্র ভরসা। এন্টারটেইনমেন্ট থেকে এখন মৌলিক বা আবশ্যিক চাহিদায় রূপান্তরিত হয়েছে অনলাইন।

সরাসরি অংশ গ্রহণ না করতে পেরে লাইভ স্ট্রিমিং থেকে কাবার মোনাজাতে শরীক হয়েছেন অনেক ভগ্ন-হৃদয়ের হজ্জে অংশগ্রহণেচ্ছু মুসলিম। ডিজিটাল হাট থেকে কেরাবানির পশু কিনছেন নগরবাসী। গ্রামে বসেই পালা গরুটি বিক্রি করতে অনলাইন বেছে নিয়েছেন কেউ কেউ। কেউ অবার মোবাইল ওয়ালেট নিয়ে গোপনেই স্বজনের পাশে দাঁড়িয়েছেন। নিজ মহল্লা বা দেশেই পরবাসীর এই জীবনে ঈদের সম্মিলনের আনন্দ পুরোপুরি মেটাতে না পারলেও অনলাইনই এখন বিকল্প ভরসা হয়ে উঠছে এই জনপদে।
<blockquote>
<p style="text-align: center;"><strong>অতিমারি করোনা অফলাইনে পাঠিয়ে দিয়েছে বিমল আনন্দ</strong></p>
</blockquote>
ঈদগাহে কোলাকুলিতে এখন ভয়। হাত মেলাতেও সঙ্কোচ। তবে ভার্চুয়াল দুনিয়ায় এসব ইমোজি ব্যবহার করেই এখন ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিচ্ছেন বয়স্করাও। এসএমএস, এমএমএস কমলেও হোয়াটসঅ্যাপ আর মেসেঞ্জারে ছড়িয়ে যাচ্ছে আতরের ঘ্রাণ; ঈদ মুবারাক। শেডিউল করে নেটিজেনদের অনেকেই বিভিন্ন ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করে ঈদ আড্ডায় মিলিত হওয়ার আয়োজন শেষ করেছেন।

ইতোমধ্যেই মুঠোফোনে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে দেশের মানুষকে ঈদের শুভেচ্ছা পাঠিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এমন মুহূর্তে যারা ডিজিটাল মাধ্যমে সংযুক্ত নেই তাদেরকেও এই আনন্দে শরিক করার বিষয়টি এখন চলে এসেছে সবার সামনে। শুধু মুঠোফোন নয়, সবাইকে ইন্টারনেটে যুক্ত করার পাশাপাশি সামনে চলে এসেছে এখানে বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন ও ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ। ইন্টারনেট সেবার পথে বাধা দূরকরার পাশাপাশি এই পথকে আরো কুসুমাস্তির্ণ করতে না পরালে আগামীতে সব উৎসব আনন্দতেই শঙ্কাকে সামাল দেয়া হয়ে পড়বে দূরুহ। আনন্দের পূর্ণতায় জায়গা করে নেবে রিক্তের বেদন।]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ফরিদপুরের ভাঙ্গাকেই কেন মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হলো? </title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AB%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%87+%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8+%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B6+%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A6%A8+%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0+%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87+%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE+%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%8B%3F%C2%A0</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AB%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A6%E0%A6%AA%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%87+%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8+%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B6+%E0%A6%85%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%95%E0%A6%A8+%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0+%E0%A6%B9%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87+%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%93%E0%A7%9F%E0%A6%BE+%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%8B%3F%C2%A0</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 02 Jun 2021 21:39:01 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<span style="color: #0000ff;"><strong>সালাউদ্দিন সেলিম</strong></span>

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় স্থাপন করা হচ্ছে মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র । জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে হবে এই মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র । এটি বাস্তবায়ন হলে ভাঙ্গা থেকে মহাকাশ অবলোকন করা যাবে। এছাড়া মহাকাশ গবেষণার সুযোগও তৈরি হবে। কিন্তু এই কেন্দ্র হিসেবে ভাঙ্গাকেই বেছে নেওয়াকে কেউ কেউ রাজনৈতিক কারণ হিসেবে মনে করেছেন, আসলে কিন্তু তা নয়- এর একটি বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে।

<strong>ভাঙ্গাকেই কেন মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হলো?</strong>
পৃথিবীর সব প্রান্ত থেকে মহাকাশ অবলোকন করা গেলেও কিছু কিছু বিশেষ স্থান রয়েছে যেখান থেকে গ্রহ, নক্ষত্র ও বিভিন্ন উপগ্রগের অবস্থান তুলনামূল ভালোভাবে অবলোকন করা যায়। ভৈাগলিক অবস্থানের দিক দিয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গাও ঠিক তেমিন একটি বিশেষ জায়গা।

মূলত; পৃথিবীকে পূর্ব-পশ্চিমে বেষ্টন করে রাখা বিষুবরেখা, কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত চারটি দ্রাঘিমা রেখার সংযোগস্থল রয়েছে পৃথিবীতে মোট ১২টি। তাত্ত্বিকভাবে বলা হয়ে থাকে, মহাকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য এই স্থানগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই ১২টি ছেদবিন্দুর ১০টিই অবস্থিত বিভিন্ন সাগর-মহাসাগরে। স্থলভাগে এরকম মাত্র দুটি ছেদবিন্দু রয়েছে যার একটি হলো সাহারা মরুভূমিতে এবং অন্যটি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ভাঙ্গারদিয়া গ্রামে।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাফর ইকবাল ২০১৯ সালে এ তথ্যটি আলোচনায় নিয়ে আসেন এবং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে সেখানে তিনি ‘বঙ্গবন্ধু মানমন্দির’ স্থাপনের প্রস্তাবও করেন। তিনি উল্লেখ করেন এমন একটি সময় আসবে যখন পৃথিবীর জোর্তিবিজ্ঞানীদের অন্যতম প্রধান দৃষ্টি থাকবে ভাঙ্গার এই অঞ্চলটির দিকেই। সেই প্রস্তাবের সূত্র ধরেই মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্রটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত কেন্দ্রে সাধারণ জনগণের জন্য থাকবে বিভিন্ন ধরনের মহাকাশ বিজ্ঞান বিষয়ক ওয়ার্কশপ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ। এছাড়া এখানে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অ্যাস্ট্রনমি বা অ্যাস্ট্রফিজিক্স অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণকারীদের জন্য উপযোগী প্রশিক্ষণ ক্যাম্প আয়োজনের সুযোগ থাকবে। গবেষকদের জন্য থাকবে মহাকাশ বিজ্ঞানে গবেষণার সুযোগ।

এখন সহজেই অনুমেয়, পলিটিক্যাল নয়, বৈজ্ঞানিক কারণেই ফরিদপুরের ভাঙ্গাকেই মহাকাশ অবলোকন কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।

<em><strong>লেখক:  </strong>তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ</em>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সময় এসেছে ক্রসবর্ডার গেমিং নীতিমালার</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%9F+%E0%A6%8F%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87+%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%82+%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A6%AE%E0%A7%9F+%E0%A6%8F%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87+%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%97%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%82+%E0%A6%A8%E0%A7%80%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%B0</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 31 May 2021 11:09:29 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<h4><strong>ইমদাদুল হক</strong></h4>

<hr />

<h4 class="jeg_post_title"><a href="https://digibanglatech.news/op-ed/50672/">কিভাবে পরিত্রাণ মিলবে ফ্রি ফায়ার, পাবজি ও টিকটক সঙ্কট থেকে?</a> লেখাটি প্রকাশের পর কেউ কেউ ‘নিষিদ্ধ’ করার পক্ষেই অবস্থান থেকে নিজেদের ভাবনাকে আরেকটু টিউনিং করতে শুরু করেছেন। তাদের জন্যই আবারো একই প্রসঙ্গে আজকের লেখাটি।</h4>
ক’দিন ধরে দেশে দুইটি গেম নিয়ে চারদিকে চলছে ‘নিষদ্ধ’ মাতম। যা এর সঙ্গে অপরিচিতদেরকেও যেমনটা পরিচয় করিয়ে দিচ্ছে; তেমনি কৌতুহলের জন্ম দিয়ে সেই পথে নিয়ে যাওয়ার পথে মোটেই কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারছে না।

তাই আমি মনে করি, নিষিদ্ধ রোল তুলে নয় প্রযুক্তি দিয়েই এই সমস্যা মোকাবেলা করা যেতে পারে। আর সমস্যাটি যে শুধু বাংলাদেশের নয় একটি প্রজন্মের সে বিষয়টিও প্রতিষ্ঠিত করতে আমাদের সুশীল বুদ্ধিজীবি সমাজ এগিয়ে আসবেন।

আমার মনে হয়, বাংলাদেশে তাদের সার্ভার বসানো বাধ্যতামূলক করে গেমটি ব্যবহারের সময় সীমা প্যারেন্টিং কন্ট্রোলের অধীনে নিয়ে আসা যেতে পারে।
<blockquote>সমস্যাটিকে সম্ভাব্য মানবীয় সঙ্কট বিবেচনায় নিয়ে অংশীজনদের অংশগ্রহণে একটি <strong>ক্রসবর্ডার গেমিং নীতিমালা</strong> করা যেতে পারে। এই পরামর্শ কমিটিতে গেমারদেরও অন্তর্ভূক্ত করে তাদের কথাও শোনা দরকার। তারপর একটি ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে।</blockquote>
তাদেরকে সঙ্গে নিয়েই এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ সম্ভব। তা না হলে এটা আরেক গন্ধম হিসেবে রূপ নিবে।
<blockquote>গেম তৈরি ও খেলার নিয়মের সঙ্গে বাস্তবতার মিল রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক আইন ও স্থানীয় সংস্কৃতি অনুযায়ী মহাদেশ ভিত্তিক গেমিং সংস্করণ তৈরিতে নির্মাতাদের একটি নীতিমালার মধ্যে নিয়ে আসা দরকার। সিনেমাগুলো যেভাবে সেন্সর করা হয় এক্ষেত্রেও সেই বিষয়টি ভাবা যেতে পারে। এই দায় প্রতিপালনে  গেম ইঞ্জিন থেকে শুরু করে স্টোরগুলোতেও একটা নির্দেশনা পাঠিয়ে দিতে হবে। এই নির্দেশনা দেশ/মহাদেশ ভিক্তিক হলে  পৃথিবীর সাংস্কৃতিক ও ঐতিহ্যগত সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব হবে।</blockquote>
এই সঙ্কেটকালকে সম্ভবনার সময় হিসেবে বিবেচনা করতে পারে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে স্থানীয় গেম নির্মাতাদের বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে ধারণ করে সেরকম গল্প দিয়ে গেম তৈরির বিষয়ে উৎসাহ দিলে সমনের দিনে গেমিং অর্থনীতি থেকেও বাংলাদেশের আয় বাড়বে। গেমের গল্প তৈরির ক্ষেত্রে মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এবং সার্বিকভাবে মানবিক মূল্যবোধের প্রতি সংবেদনশীল গেম তৈরিতে যদি প্রণোদনা দেয়া যায় এবং এর অ্যাভাটার চরিত্রগুলোর নকশায় যদি দেশীয়/মহাদেশী ঐতিহ্যকে লালন করারা সুযোগ রাখা হয়, তবে অবশ্যই বাংলাদেশের গেমই একসময় বিশ্বজয় করবে। তখন এই নিষিদ্ধ আন্দোলনে মেধা-মননকে ব্যস্ত না রেখে সৃজনশীলতার পথকে আরো প্রশস্ত করবে।

https://digibanglatech.news/op-ed/50672/

অনেকেই হয়তো বলবেন, সম্প্রতি নেপালে পাবজি নিষিদ্ধ করে দেশটির আদালত। একই কারণে ভারতের গুজরাটেও এ গেম খেলার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছিল। এমনকি গেমটি খেলার জন্য কয়েকজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল। বাংলাদেশেও পাবজি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল, পরে আবার চালু করা হয়। তবে এখন সমস্যা কোথায়?

এই প্রশ্নের জবাবে বিনীত ভাবে বলতে চাই, ভারত সম্প্রতি পাবজির বিকল্প গেম ‘ফৌজ’ তৈরি করছে সেটাও মাথায় রাখতে হবে। তবে কারো অনুকরণ না করে এক্ষেত্রে উদ্ভাবনী ও বিজয়ী জাতি হিসেবে আমাদেরকে নেতৃত্বের আসনে আসতে হলে এই মহূর্তে ক্রসবর্ডার গেমিং নীতিমালা তৈরি ও প্রতিপালন এবং নিজেদের গেমিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে ওঠার বিষয়ে আরো সক্রিয় হতে হবে। তা না হলে আজ একটি তো কাল আরেকটি গেম নিষিদ্ধের দাবি চলতেই থাকবে। কিন্তু স্থায়ী কোনো সমাধান মিলবে না।

ভিডিও গেমের প্রতি শিশু-কিশোরদের আগ্রহ নতুন কিছু নয়। প্রতিনিয়ত ভিডিও গেম খেললে শরীরে এক ধরণের হরমোন নি:সরণ হয়। এতে শিশু সব কিছু নিয়েই উত্তেজিত হয়ে পড়ে। বাবা মায়ের অবাধ্য হয়ে যায়। মেজাজ খিটমিটে হয়ে যায়। সব কিছুর প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। এছাড়া কারো সঙ্গে মিশতে না পারা, ঘুম, খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম তো রয়েছেই। এসমন সব কিছু বিবেচনায় এনেই এই আসক্তিকে এরইমধ্যে 'মানসিক রোগের' তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। বিষয়টিকে নজরে নিয়ে ব্রিটেনসহ কয়েকটি দেশ বিশেষ ক্লিনিক স্থাপনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত মনিটরিং শুরু করলেও এক্ষেত্রে অনেকটাই পিছিয়ে বাংলাদেশ। বিষয়টি নিয়েও ভাবতে পারেন আমাদের নীতি নির্ধারকেরা। আর ভাবনার অগ্রভাগে ‘নিষিদ্ধ’ আন্দলন উস্কে না দিয়ে গেমারদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলার কৌশলটাই এখন বেশি জরুরী।

কেননা যত বেশি নিষিদ্ধ শব্দ উচ্চারিত হবে ততটাই গেমার-অভিভাবকদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হবে। আর অন্দর মহলের আলাপকে বৈঠকখানার বাইরে গিয়ে চায়ের কাপে ঝড় তুলে শেষতক খুব বেশি লাভবান হওয়ার উপায় নেই। কেননা, যারা খেলছে তারা ঘরের সন্তান। আমাদেরই কেউ। তাকে সম্মোহন করার ক্ষমতা অর্জন করা এবং সেই পরিবেশটা তৈরি করাটাই এখন সবার আগে জরুরী। সেজন্য উদ্ভাবনী বিকল্প ছাড়া কোনো অবকাশ নেই। নিষিদ্ধতা, কড়া আইন, হাতকড়া অথবা অস্ত্রপচারে কিশোর মনের বিকাশ হবে না। পারিবারিক পরিমন্ডলে ‘ডিজিটাল সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য’ লালনের জন্য একটা মহাপরিকল্পনা এখন সময়ের দাবি। তবে তার আগে আসক্তদের ফিরিয়ে আনার চিকিৎসাটাই জরুরী। অর্থাৎ মানসিক স্বাস্থ বিকাশের পথেই হাঁটতে হবে আমাদের।
<div class="bbc-19j92fr e57qer20" dir="ltr">
<div class="entry-content no-share">
<div class="content-inner ">

<strong>লেখক :</strong> <em>নির্বাহী সম্পাদক, ডিজিবাংলা</em>

</div>
</div>
<div class="jeg_ad jeg_article jnews_content_bottom_ads ">
<div class="ads-wrapper "></div>
</div>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>কিভাবে পরিত্রাণ মিলবে ফ্রি ফায়ার, পাবজি  ও টিকটক সঙ্কট থেকে?</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A3+%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF+%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%2C+%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BF++%E0%A6%93+%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%95+%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%9F+%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87%3F</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%A3+%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%AB%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BF+%E0%A6%AB%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%2C+%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%AC%E0%A6%9C%E0%A6%BF++%E0%A6%93+%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%95+%E0%A6%B8%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%95%E0%A6%9F+%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87%3F</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 29 May 2021 07:53:36 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<span style="text-decoration: underline;"><strong>ইমদাদুল হক</strong></span>

অ্যাঙ্গরি বার্ড, টেম্পল রান, ক্যান্ডি ক্রাশ এখন মামুলি। অনলাইনে গেমে মারদাঙ্গা পর্যায়ে চলে এসেছে ফ্রি ফায়ার ও পাবজি। সহিংসতায় পূর্ণ গেম দুটি এখন দখল করে নিচ্ছে কিশোর মনের সব মনোযোগ। আর এসঙ্গে ব্যঙ্গ, অনুকরণ এমনকি জাল ভিডিও তৈরির মস্করায় কেবল কিশোর-তরুণ নয় পরিণত বয়সীদেরও গ্রাস করে ফেলছে ‘টিকটক’।

এই তিনের আবাহান জেড প্রজন্মকে একটু একটু করে জড়িয়ে ধরছে ডিজিটাল আসক্তিতে। রেখে যাচ্ছে নির্মমতার ছাপ। বাড়ছে অপরাধ প্রবনতা। তৈরি হচ্ছে কিশোর গ্যা।

গেম খেলার জন্য মোবাইলের ডাটা কেনার টাকা না পেয়ে মায়ের সঙ্গে অভিমান করে গত ২১ মে চাঁদপুরে মামুন আত্মহত্যা আবার মনে করিয়ে দিচ্ছে বিশ্বকাঁদানো ব্লু-হোয়েলের কথা। উত্তরারা কিশোর গ্যাংয়ের টিকটক কাণ্ডর রেশ কাটতে না কাটতেই টিকটক ভিডিও তৈরির ফাঁদে ফেলে তরুণীদের ভারতে পাচার করা হচ্ছে। এমন অপকর্মে জড়িত হওয়ায় শুক্রবার (২৮ মে) ভারতের বেঙ্গালুরুতে গ্রেফতারের পর গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বাংলদেশের রিফাদুল ওরফে টিকটক হৃদয়।

সব মিলিয়ে উদ্বেগ-উৎকন্ঠার শেষ নেই। তারপরও সহসাই বন্ধ করা যাচ্ছে না এসব অ্যাপ ও গেমগুলি। এই সঙ্কট আসলে নিষদ্ধ করার মধ্য দিয়ে কাটবে না। সঙ্কট কাটাতে অংশীজনদের সম্মিলিত প্রয়াসের বিকল্প নেই। তবে এক্ষেত্রে দায়টা নির্মাতাদেরই বেশি নিতে হবে।

কেননা ২০১৯ সালের ১৮ অক্টোবর দেশে একবার পাবজি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিলো। সম্প্রতি প্রতিবেশী দেশ ভারত ও নেপালে বন্ধ করা হয় গেমটি। ভারত এখন নিজেই এ ধরনের গেম বানানো উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু যুদ্ধবাজ গেমগুলো থেকে নিস্তার মিলছে না প্রস্পূটিত প্রজন্মের। যেমনটা টিকটক কর্তৃপক্ষ আপত্তিকর ভিডিও মনিটর করবে প্রতিশ্রুতি দেয়ায় বাংলাদেশ সরকার এটি বন্ধ করতে গিয়ে করেনি। কিন্তু এখন আমরা কী দেখছি? এই অ্যাপটি বহাল তবিয়তে চলছে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়ে।

<strong>এবার স্বাক্ষ্য-প্রমাণসহ পুরোনো দুই অনলাইন দুষ্টচক্রের সঙ্গে কাঠগড়ায় উঠে এসেছে গেরিনা ফ্রি ফায়ার (ফ্রি ফায়ার ব্যাটলগ্রাউন্ডস বা ফ্রি ফায়ার নামেও পরিচিত) একটি ব্যাটল রয়্যাল গেম। এসব গেম ও অ্যাপগুলো বিশ্বজুড়েই জনপ্রিয়তায় শীর্ষ হওয়ায় এর কোনো কূল-কিনারা মিলছে না সহজেই। আর দিন যত গড়াবে বরুদের গন্ধ যেন ততটাই ছড়িয়ে পড়বে আত্মঘাতি এলএসডি মাদকের মতো।   </strong>

খবরে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে গেমগুলো অনতিবিলম্বে বন্ধের সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এ সুপারিশ করা হয়েছে । বিষয়টি নিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির আলোচনাতে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

কিন্তু এগুলো ব্যবহারে ভিপিএনসহ নানা বিকল্প উপায় থাকায় এবার আর হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না সরকার। পরিপক্ক এই ভাবনাটির প্রতি শতভাগ সম্মান জানাই। কেননা কিশোর মনে নিষিদ্ধের আকর্ষণ আরো বেপরোয়া। তবে পরিত্রাণের পথ বের করতে হবে আমাদেরকেই।

যতদূর জেনেছি, অভিযুক্ত দুটি গেম কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের মধ্যে আসক্তি তৈরি করেছে স্বীকার করেই টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এগুলো হঠাৎ করে বন্ধ করতে গেলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে। তাই ধীরে সুস্থে বিকল্প পদ্ধতিতে গেম দুটি বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হবে। এক্ষেত্রে ভিপিএনসহ বিকল্প উপায়গুলো বন্ধের বিষয়টি নিয়ে ভাবছেন সংশ্লিষ্টারা।
<blockquote>কর্তৃপক্ষের এই ভাবনাটা অত্যন্ত যৌক্তিক। আর তাই, কেবল সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলেই চলবে না। রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের পাশাপাশি পারিবারিক ভাবেও এর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। টিনেজার গ্রুপ লিডারদেরও এগিয়ে আসতে হবে। এই সঙ্কটে যুক্ত হতে হবে আমাদের তারকাদেরকেও। তা না হলে এই সঙ্কট করোনা মহামারির মতোই ছড়িয়ে যেতে পারে।</blockquote>
এক্ষেত্রে আমরা আস্থা রাখতে চাই দেশের গেমিং কোম্পানিগুলোর ওপর। ক্রাউডসোসিংয়ের মাধ্যমে হলেও এমন একটি গেম তরুণদের উপহার দিক যেই গেমটি কিশোর মনকে সহিংসতা থেকে নিরস্ত করবে। রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠোপোষকতায় এমন একটি মেগা প্রকল্প নেয়া যেতে পারে আইসিটি বিভাগ থেকে, স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের মাধ্যেমে। একইসঙ্গে টেলিকম মন্ত্রণালায় দেশে উৎপাদিত ও আমদানিকৃত সকল মোবাইল ফোনেই এই গেমটি প্রি-ইনস্টলে বাধ্য করতে পারে। নিজস্ব সংস্কৃতির গেম বিপ্লব দিয়েই টগবগে কিশোরের রক্তের তেজকে ভারসাম্যাবস্থায় রাখতে হবে।

কিশোর প্রজন্মকে সাইবার জগতে সুস্থ্য ও মানবিক বিকাশে গেম তৈরির ক্ষেত্রেও ফ্যান্টাসিজম ব্যবহারে বৈশ্বিকভাবে একটি নীতিমালা দাঁড় করাতে হবে। শুধু প্যাকেটের গায়ে সতর্ক বার্তা দেয়াটাই দায়িত্বশীলতার পরিচয় হবে না। এক্ষেত্রে কল্পনার বিষয় যুক্ত করলেও গেমে খেলোয়াড়কে বাস্তবতার আইন ও অনুশাসনের মধ্য দিয়েই যুদ্ধকালীন গ্রহণযোগ্য আচরণের সীমা নির্ধারণ করে দিতে হবে। এই যেমন যুদ্ধের গেমে‘নারী-শিশু’ যখম করা থেকে নিরস্ত থাকার মতো বেলো বা আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুসারে গেমের পয়েন্ট নির্ধারণ করতে হবে। তা না হলে বাস্তবের যুদ্ধ থেকেও ভার্চুয়াল এই যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা গোটা বিশ্বকেই অস্তিত্ব সঙ্কটে ফেলবে।

<strong>লেখক :</strong> <em>নির্বাহী সম্পাদক, ডিজিবাংলা</em>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>পারসেভারেন্সের  প্রোগ্রামিং ও যত প্রযুক্তি</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0++%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%82+%E0%A6%93+%E0%A6%AF%E0%A6%A4+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0++%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%97%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%82+%E0%A6%93+%E0%A6%AF%E0%A6%A4+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 04 Apr 2021 12:08:20 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<blockquote>যুগে যুগে মানুষকে মহাকাশ  আকর্ষণ  করেছে । মানুষ কল্পনায় চাঁদে গিয়েছে । বিস্ময় নিয়ে বিভিন্ন গ্রহ নক্ষত্রকে পর্যবেক্ষণ করেছে , যার চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে ১৯৬৯ সালের ১৬ জুলাই চন্দ্রবিজয়ের মাধ্যমে নতুন যুগের সৃষ্টি হয় । এরপর বহুবার মানুষ মহাকাশে গেছে । অসংখ্য কৃত্রিম উপগ্রহ পাঠিয়েছে । কিন্তু মানুষের দৃষ্টি এখানেই শেষ হয়নি । বহু আগে থেকেই মঙ্গল গ্রহ নিয়ে মানুষের অনেক আগ্রহ। বহু সায়েন্স ফিকশন গল্প , উপন্যাস লেখা হয়েছে, বহু সিনেমা নির্মাণ করা হয়েছে এ নিয়ে। মঙ্গল গ্রহের সাথে পৃথিবীর কোথায় যেন একটা সংযোগ রয়েছে । বিজ্ঞানীরা দিনের পর দিন এ নিয়ে গবেষণা করছে। যার ফলশ্রুতিতে  ১৯৯৭ সালের ৪ জুলাই সর্ব প্রথম মঙ্গলযান <em>পাথফাইন্ডার  </em>মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করে । শুরু হয় মহাকাশে নতুন অধ্যায়। এরপর আরও ৫ টি মঙ্গলযান পাঠানো হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি নতুন একটি মঙ্গলযান <em>পারসেভারেন্স  </em>মঙ্গলগ্রহে অবতরণ করে। এই উপগ্রহে ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ও প্রযুক্তি বিষয়ে জানাচ্ছেন- কম্পিউটার প্রোগ্রামার <strong>আরমান হাকিম সাগর</strong>।</blockquote>
<strong>একনজরে <em>পারসেভারেন্স </em></strong>

<em>পারসেভারেন্স</em><strong>  </strong>বাংলায় করলে যার অর্থ দাড়ায় অধ্যাবসায় । একটি  ছোটখাট গাড়ির সমান আয়তনের এই যান ডিজাইন এবং ম্যানুফ্যাকচার করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান<em>  জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি </em> বা সংক্ষেপে<em> জেপিএল  </em>। এটি গত ৩০ জুলাই ২০২০, জেপিএল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয় যা ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ মঙ্গলে অবতরণ করে । মঙ্গলে এই মিশনের উদ্দেশ্য প্রাণের উৎসের খোঁজ । সেই সাথে মঙ্গলে পানির খোঁজও করবে <em>পারসেভারেন্স</em>   । এই মঙ্গলযানটি জেজেরো ক্রেটার নামক স্থানে অবতরণ করে । বিজ্ঞানীরা ধারনা করছে যে সেখানে বিলিয়ন বছর আগে পানির প্রবাহ বিদ্যমান ছিল ।

এর আগেও কয়েকটি  রোভার মঙ্গল গ্রহে পাঠানো হয়েছে। তাহলে এর বিশেষত কি? আসলে <em>পারসেভারেন্সের</em>  আকৃতি পূর্ববর্তী আরেক মঙ্গলযান <em>কিউরিওসিটি  </em>মতই কিন্তু আপগ্রেডেট ।

এটাতে স্থাপন করা হয়েছে ১৯ টি বিভিন্ন অ্যাঙ্গেলে ক্যামেরা এবং ২ টি মাইক্রোফোন । যার ফলে প্রথমবারের মত আমরা মঙ্গল গ্রহের শব্দ শুনতে পারব । এছাড়াও এটা বিভিন্ন জায়গা হতে বিভিন্ন ধরনের মাটি পাথর সংগ্রহ করে বিল্ট ইন টিউবে সংরক্ষণ করে রাখবে যেন পরবর্তীতে ঐ নমুনা গুলো পরীক্ষা করা যায়।

<em>পারসেভারেন্স</em>  মূলত অণুজীবের অস্তিত্বের খোঁজের পাশাপাশি পাথর ও মাটি পরীক্ষা করবে এবং অক্সিজেন নিষ্কাশন করবে। এতে করে মঙ্গলে বাস করার ক্ষেত্রে একটা গুরুত্বপূর্ণ বাধা দুর হবে এবং পরবর্তিতে মঙ্গলগ্রহেই অক্সিজেন তৈরি করে পৃথিবীতে ফেরার জন্যে প্রয়োজনীয় জ্বালানী প্রস্তুত করতে সক্ষম হবে। কখনো কি ভেবে দেখেছেন যে কেন আমরা সহজে মঙ্গল গ্রহে যেতে পারিনা। মুলত জ্বালানী স্বল্পতার কারনেই আমাদের এই ব্যর্থতা। আর জ্বালানী পৃথিবী থেকে প্রায় ৭ - ৮ মাসের মত পথ পারি দিয়ে নিয়ে যাওয়া যেরকম ব্যয়বহুল সেরকমই অসম্ভবও বটে। তাই বিজ্ঞানীরা চিন্তা করছে মঙ্গল গ্রহের জ্বালানী দিয়েই পৃথিবীতে ফিরে আসা যায় কিনা।  এই মিশন সফল হলে সেদিন খুব দুরে নেই যখন মঙ্গলগ্রহে যাওয়াও সহজলভ্য হয়ে যাবে।

এছাড়াও এর  সবচেয়ে বেশি চমকপ্রদ দিক হচ্ছে যে , যানটিতে <em>ইনজেনুইটি</em>  নামের একটি ড্রোন  রয়েছে । যার ফলে প্রথমবারের মত কোন অন্য গ্রহে উড়ন্ত যান চালনা করা হবে । যেটা আসলেই মজার  একটা প্রাপ্তি ।

<strong>একনজরে  ইনজেনুইটি ড্রোন</strong>

পৃথিবীর পর প্রথমবারের মত কোন গ্রহে ড্রোন উড়তে যাচ্ছে। ড্রোনটি একবারে ১.৫ মিনিটের মত উড়তে পারবে।  রাইট ব্রাদারেরা যখন প্রথমবারের মত পৃথিবীতে হেলিকপ্টার উড্ডয়ন করে তখন তা মাত্র কয়েক সেকেন্ড  স্থায়ী হয়। সেক্ষেত্রে ইনজেনুইটি যে অনেক এগিয়ে আছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। ইনজেনুইটির কাজ হল মুলত এটা দেখা যে মঙ্গলের বুকে কোন ফ্লাইট সম্ভব কি না। এটাকে ৩-৫ মিটার উঁচুতে উড়ানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এর রেঞ্জ হবে প্রায় ৫০ মিটার তারপর আবার সে তার নিজের জায়গায় ফিরে আসবে। এটি <em>পারসেভারেন্স </em>এর সাথে যোগাযোগ করতে থাকবে এবং <em>জেপিএল  </em>ল্যাবরেটরিতে যাবতীয় ডেটা প্রেরণ করবে। যদি এটি প্রত্যাশার মতো কাজ করে তবে নাসার ভবিষ্যতের মঙ্গল বিমানের মিশনগুলির নকশা তৈরি করা সহজ হবে।

তবে পৃথিবীর তুলনায় মঙ্গলের বায়ুমন্ডল খুব পাতলা হওয়ায় পৃথিবীতে একটি হেলিকপ্টার বা ড্রোন উড়ানো যত সহজ মঙ্গল গ্রহে ততটা সহজ নয়। বিজ্ঞানীদের এজন্যে অনেক গানিতিক ক্যালকুলেশন করতে হয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হল যে এই ড্রোনটিকে চালনা করতে আমাদের বহুল পরিচিত লিনাক্স অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। এবং প্রসেসর হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে কোয়ালকম কোম্পানির স্ন্যাপড্রাগন ৮০১।

এই ড্রোন উতক্ষেপনের মধ্যে দিয়ে মঙ্গল যাত্রায় মানব জাতি আরো এক ধাপ এগিয়ে গেল।

<strong>এর পিছনে কম্পিউটার বিজ্ঞানের অবদান কতটুকু?</strong>

যানটির দুটি  PowerPC 750 আর্কিটেকচারে নির্মিত  BAE RAD 750 প্রসেসর  রয়েছে যার মধ্যে একটি সাধারণত সচল থাকে। যাতে করে কোন সমস্যা হলে অন্যান্য কম্পিউটার প্রসেসরকে  নিয়ন্ত্রণ করতে এবং মিশন চালিয়ে যেতে বাকি প্রসেসরটি দিয়ে কাজ চালিয়ে নেয়া যায়।

এতে তথ্য ধারণের জন্যে রয়েছে ২ গিগাবাইট ফ্ল্যাশ মেমরি,  ২৫৬ মেগাবাইট ডায়নামিক র‍্যানডম অ্যাক্সেস মেমরি এবং ২৫৬ কিলোবাইট রিড অনলি মেমরি ।

অপারেটিং সিস্টেম হিসেবে এতে রয়েছে VxWorks এর রিয়েল টাইম অপারেটিং সিস্টেম বা RTOS । যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো এম্বেডেড কম্পিউটিং সিস্টেম চালনার জন্য সর্বোচ্চ মান পূরণ করতে হয় এমন সমস্ত কার্য সম্পাদন, নির্ভরযোগ্যতা, সুরক্ষা সরবরাহ করে । একটি নির্জন গ্রহে যেখানে মেশিনকে নিজে নিজে কাজ করতে হলে  এবং মেশিনের সাথে ভালভাবে সম্পর্ক স্থাপন করতে হলে একটি বিশেষায়িত অপারেটিং সিস্টেম এর দরকার । এই অপারেটিং সিস্টেমে ২৫ লাখের লাইনের অধিক <em>সি</em>  ল্যাঙ্গুয়েজে  কোড করা হয়েছে । মূলত এই মিশনে প্রোগ্রামারদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ভূমিকা রয়েছে । যেহেতু মঙ্গলে কোন অপারেটর থাকবেনা মেশিনকে নিজেই নিজেকে চালনা হবে সেহেতু একেবারে নিখুঁত কোডিং প্রয়োজন । কারন সেখানে কোন প্রোগ্রামার থাকবে না ত্রুটিগুলো সমাধান করার জন্যে। এজন্যে নাসার বিজ্ঞানীরা বারবার কোড গুলো যাচাই করেছে। একটা বাগ শুন্য প্রোগ্রাম তৈরি করা যে কেমন কঠিন তা শুধু মাত্র প্রোগ্রামাররাই বলতে পারবে। তাও আবার এরকম মিলিয়ন লাইনের মেগা প্রজেক্টের কোড।

<strong>এই মিশনে ব্যবহৃত যত প্রযুক্তি</strong>

যেকোন মহাকাশ অভিযানে বিগ ডাটা খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ভূমিকা রাখে। একটা মিশনে যে পরিমাণ ডাটা তৈরি হয় তা সাধারণ কম্পিউটারে অ্যানালাইসিস করা সম্ভব নয়। এসব ডাটার পরিমাণ পেটাবাইট (1 PB = 8 * 10^6 GB ) যা অস্বাভাবিকভাবে বিশাল। আবার এসব ডাটা এত দ্রুত পরিবর্তনশীল যে সাধারণ ভাবে প্রসেসিং প্রক্রিয়া করা সম্ভব না। এক্ষেত্রে <em> জেপিএল </em>এবং <em>নাসা </em> দুইটা অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহার করে, একটা তাদের অভ্যন্তরীণ সিস্টেম ও সেখানকার বিজ্ঞানীদের সাথে সংযোগ করতে এবং অন্যটা মঙ্গলগ্রহের মত  প্রকল্পের ডাটা প্রসেস করতে।

এখানে এত ডাটা যে এসব ডাটা অ্যানালাইসিস করতে বিশেষ প্রক্রিয়ার সাহায্য নিতে হয় যেমন মেশিন লার্নিং। যেই <em>জেজেরো ক্রেটারে </em>এটা অবতরণ করে সেই স্থানও মেশিন লার্নিং এর মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়। বিভিন্ন পরীক্ষালব্ধ ফলাফল অনুমান এর ক্ষেত্রে মেশিন লার্নিং খুব কার্যকর একটা পদ্ধতি। যা হয়ত সাধারণ পদ্ধতিতে করলে অনেক সময়সাপেক্ষ।

<em>পারসেভারেন্স রোভার </em> যেই ছবিগুলো পাঠায় সেগুলো অনেক লো রেজ্যুলেশন হতে পারে  আবার ছবিগুলো নষ্ট ও হতে পারে, যেকারনে ইমেজ প্রসেসিং ব্যবহার করা হয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন অ্যালগরিদম প্রয়োগ করা হয়।

একটি অচেনা গ্রহে যেখানে কোন নির্দেশনা দেওয়ার মত নেই সেখানে অভিযান চালাতে হলে রোভারকে কিছু তাৎক্ষনিক সিদ্ধান্ত নিতে হয়। এক্ষেত্রে ডিপ লার্নিং সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি । কেননা যখন রোভার কোন শিলা বা পাথর পরীক্ষা করার জন্যে নির্বাচন করে তখন নির্দিষ্ট কোন শিলা নয় বরং সে দেখবে যে শিলা পরীক্ষার জন্যে সবচেয়ে ভাল সেটা নির্বাচন করবে।

<strong>পারসেভারেন্স এর সাথে আমরা যোগাযোগ করব কিভাবে </strong>

পারসেভারেন্সে তিনটি এন্টেনা রয়েছে। প্রথমটি হল আলট্রা হাই ফ্রিকুয়েন্সি এন্টেনা  ,  এর ফ্রিকুয়েন্সি প্রায় ৪০০  মেগাহার্জ । পৃথিবীর সাথে এর দ্বারা যোগাযোগ করতে ৫ থেকে ২০ মিনিট সময় লাগে যা পৃথিবী ও মঙ্গলগ্রহের অবস্থানের উপর নির্ভর করে। এর ট্রান্সমিশন রেট প্রতি সেকেন্ডে প্রায়  ২ মেগাবিটস  যা মূলত কক্ষপথের  স্যাটেলাইটের সাথে যোগাযোগ করে থাকে ।

দ্বিতীয় আরেকটি এন্টেনা এক্স-ব্যান্ড হাই-গেইন এন্টেনা। এটি মূলত পৃথিবীর সাথে সরাসরি যোগাযোগের জন্যে ব্যবহৃত হয়। এর ফ্রিকুয়েন্সি প্রায় ৭ - ৮ গিগাহার্জ।  ষড়ভুজাকৃতির এই এন্টেনার ব্যাস প্রায় ১ ফুট। এটি রোভারটির পিছনে স্থাপন করা আছে যা স্বয়ংক্রিয় ভাবে পৃথিবী অভিমুখী হয়ে সংকেত পাঠাতে পারে। এর ট্রান্সমিশন রেট প্রতি সেকেন্ডে প্রায়  ১৬০ - ৮০০ বিটস এবং রিসিপশন রেট প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৫০০ - ৩০০০ বিটস। এটির নির্মাতা স্পেন।

এছাড়াও তৃতীয় আরেকটি এন্টেনা এক্স-ব্যান্ড লো-গেইন এন্টেনা, এটি মূলত সংকেত গ্রহণের জন্যে ব্যবহৃত হয় যার রেঞ্জ প্রায় ৭ - ৮ গিগাহার্জ।

<strong>এই মিশনে  প্রোগ্রামিং ব্যবহার</strong>

আমরা ইতিমধ্যে জেনেছি এই প্রজেক্টে একটা গুরুত্বপূর্ণ অংশ জুড়ে <em>সি</em>  প্রোগ্রামিং রয়েছে। <em>সি  </em>ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করার অন্যতম কারণ হল এটি অসম্ভব রকমের ফাস্ট। এছাড়া হার্ডওয়্যার এর সাথে এম্বেডেড করা যায় সহজে। প্রশ্ন আসতে পারে পাইথন দিয়েও তো করা যেত তাহলে পাইথন ব্যবহার করা হলোনা কেন? আসলে পাইথন নিজেই <em>সি  </em>এর উপর ভিত্তি করে তৈরি। তাছাড়া যেসব কার্নেল দিয়ে মূলত অপারেটিং সিস্টেমগুলো তৈরি করা হয় সেখানে প্রায় শতকরা  ৯৫ ভাগ <em>সি  </em>ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহৃত হয়। সুতরাং এতক্ষণে হয়ত বুঝতেই পেরেছেন <em>সি</em> এর গুরুত্ব এখানে কেমন। তাছাড়া <em>সি</em>  দিয়ে কোর মেমরি অ্যাক্সেস করা যায় সহজে। যদিও <em>জেপিএল</em>  এখনো প্রকাশ করেনি আর  কি কি ল্যাঙ্গুয়েজ ইউজ করা হয়েছে। তবে <em> সি </em> এর যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। হার্ডওয়্যারের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চয়তা করবে এমন প্রতিদ্বন্দ্বী ল্যাঙ্গুয়েজ খুব কম আছে।

তাহলে কি আমরা <em>সি  </em>শিখব? আপনি যদি <em>সি</em>  জানেন, তাহলে আপনি শুধুমাত্র প্রোগ্রাম কিভাবে কাজ করে তাই জানবেন না। বরং আপনি মেমোরি ম্যানেজমেন্ট এবং বরাদ্দ সহ কম্পিউটার কিভাবে কাজ করে তার একটি মডেল তৈরি করতে পারবেন। প্রোগ্রামিং এ <em>সি</em>  যে স্বাধীনতা দিয়ে থাকে আপনি তার তারিফ করবেন। কেননা অন্যান্য প্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ যেমন- <em>পাইথন</em> এবং <em>জাভা</em> এই সুবিধা দেয় না।

আপনি যদি একবার <em>সি</em>  বুঝতে পারেন, তাহলে আপনি এমন এমন প্রোগ্রাম লিখতে পারবেন যে, আপনি ভেবেছিলেন কখনোই এটা আপনার দ্বারা সম্ভব না । অথবা অন্ততপক্ষে, আপনি কম্পিউটার আর্কিটেকচার এবং প্রোগ্রামিং এর উপর বৃহত্তর ধারনা পাবেন। এই ল্যাঙ্গুয়েজ ব্যবহার করে আপনি সরাসরি হার্ডওয়্যারকে প্রভাবিত করতে পারবেন এবং এর জন্যে আপনার  কোন থার্ড পার্টি টুলস  লাগবেনা।

এছাড়া প্রথমে আপনি <em>সি  </em>কে উপেক্ষা করতে পারেন। কেননা আপনি যদি ওয়েব প্রোগ্রামিং করতে চান তাহলে <em>পিএইচপি</em>, <em>জাভাস্ক্রিপ্ট</em>  বা <em>সি#</em>  কিংবা এম্বেডেড প্রোগ্রামিং করতে গেলে লাগবে<em> পাইথন </em> বা <em>সি++ </em>।

কিন্তু মজার বিষয় হল যে এসব ল্যাঙ্গুয়েজই <em> সি </em> এর উপর ভিত্তি করে চলে। এজন্যেই হয়ত একে <em>মাদার অফ  অল ল্যাঙ্গুয়েজ</em>  বলা হয়ে থাকে।

আপনি যদি যথাযথ মেমরি ম্যানেজমেন্ট করতে পারেন তাহলে <em>সি  </em>দিয়েও অনেক ভাল কোড লিখতে পারবেন। তাছাড়া <em> সি </em> এর গুরুত্ব বুঝতে হলে আপনি বর্তমানে প্রচলিত অপারেটিং সিস্টেম গুলো দেখতে পারেন কিভাবে হার্ডওয়্যারের সাথে সফটওয়ারের সংযোগ এতটা সহজ হয়েছে। পুরাতন একটা ল্যাঙ্গুয়েজ হওয়া সত্ত্বেও বর্তমান সময়ে এর গুরুত্ব ফুরিয়ে যায়নি, ভবিষ্যতেও ফুরিয়ে যাবেনা।

<strong>মঙ্গলগ্রহে বসতি সম্ভব না অসম্ভব </strong>

পৃথিবীর সাথে মঙ্গলগ্রহের অনেক দিক দিয়ে মিল রয়েছে যেমন এটি পৃথিবীর ন্যায় ২৪ ডিগ্রি কোণে ঘূর্ণায়মান, প্রায় একই দৈর্ঘ্যের সৌর দিবস, ঋতু ও প্রায় একই এবং পাথুরে গ্রহ। কিন্তু তারপরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে যেমন,

মঙ্গলের গ্র্যাভিটি পৃথিবীর তুলনায় ৩ ভাগের ১ ভাগ। আবার এর বায়ুচাপ পৃথিবীর ১০০ ভাগের ১ ভাগ। যার বায়ুমণ্ডলের শতকরা প্রায় ৯৫ ভাগ কার্বন ডাই অক্সাইড ৩ ভাগ নাইট্রজেন এবং ১.৬ ভাগ আর্গন যা জীবন ধারণের জন্যে অনুপযুক্ত। এখানে নামমাত্র অক্সিজেনের উপস্থিতি পাওয়া যায়। এর মাটির মুল উপদান মূলত বিষাক্ত লৌহ অক্সাইড দেখতে লাল যা উদ্ভিদের জন্যে মোটেই উপযুক্ত নয়। এছাড়া এখানে প্রায়ই ঘূর্ণিঝড় হয়ে থাকে। তবে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল এর কোন চৌম্বক ক্ষেত্র নেই যার দরুন সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি এর মাটিকে অনবরত পুড়িয়ে দিচ্ছে।

সুতরাং মঙ্গলগ্রহে বসতি গড়তে গেলে কিছু চ্যালেঞ্জিং পদক্ষেপ গ্রহণ করা লাগবে। যেমন,

প্রথমেই এতে কৃত্রিম চৌম্বক ক্ষেত্র স্থাপন করতে হবে। নাহলে বিভিন্ন প্রকার ক্ষতিকর সৌর রশ্মির কারণে সেখানে কোন প্রাণের বিকাশ ঘটবে না।

কৃত্রিম ভাবে সেখানে বায়ুমণ্ডল তৈরি করা যেতে পারে। বিজ্ঞানীরা এক্ষেত্রে একটা তত্ত্ব দিয়েছে যেখানে তারা বিভিন্ন ভারী গ্যাস যেগুলো কম গ্র্যাভিটির কারণে সহজে বাষ্প হয়ে সেগুলো ব্যবহার করে একটা বায়ুমণ্ডলীয় পরিবেশ তৈরি করা যেতে পারে। যাতে করে পরবর্তিতে তাপমাত্রার হার এবং অতিবেগুনি রশ্মির হার কমানো সম্ভব হবে।

যদি বায়ুমন্ডল একটা স্থিত অবস্থায় হয় তবে সেখানে বিভিন্ন ব্যাক্টেরিয়া,  ফার্ন,  শৈবাল জাতীয়  উদ্ভিদ গুলো রোপন করতে হবে।

নভোচারীদের জীবনধারণের এবং খাদ্য চাহিদা পুরনের  জন্যে গ্রীন হাউস তৈরি করে সেখানে উদ্ভিদ চাষ করা যেতে পারে।

এক তৃতীয়াংশ গ্র‍্যাভিটি উৎপাদন এবং মাটির উর্বরতার জন্যে যথেষ্ট নয়, একারনে অভিযোজন করতে হবে।

কিছু মজার আইডিয়াও রয়েছে যেমন যদি কোন অ্যাস্টেরয়েডে পানি ভরতি করে  মঙ্গলগ্রহে নিক্ষেপ করা যেতে পারে যাতে করে এর গ্র‍্যাভিটি বাড়বে এবং তাপামাত্রাও বৃদ্ধি পাবে। যার ফলে এর মেরু থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড গলবে এবং অ্যাস্টেরয়েডের পানি থেকে পানির অনু গঠিত হবে।

এছাড়াও এর অভ্যন্তরে লবনের মাধ্যমে কিছু পানি দ্রবীভুত হয়ে আছে যা এর ভুপৃষ্ঠের তিন ভাগের একভাগ পুরন করতে সক্ষম। কিন্তু এই পানি ব্যবহার করতে গেলে সর্বপ্রথম গ্র‍্যাভিটি বাড়াতে হবে নাহলে সমস্ত পানি বাষ্প মহাকাশে চলে যাবে।

এসব চিন্তা কয়েকদিন আগেও সাইয়েন্স ফিকশন হিসেবে গন্য হত। কিন্তু এখন আর এগুলো ফিকশন নয়। হয়তবা আগামী কয়েক দশক পর এগুলো বাস্তবে রুপ নেবে। যার শুরু <em>পারসেভারেন্স  </em>সহ অন্যান্য রোভার গুলোর হাত ধরে।]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সোস্যাল মিডিয়া জোয়ার&#45; আমরা কি ভাসছি, না ডুবছি?</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A7%8B%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2+%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE+%E0%A6%9C%E0%A7%8B%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-+%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A6%BE+%E0%A6%95%E0%A6%BF+%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%9B%E0%A6%BF%2C+%E0%A6%A8%E0%A6%BE+%E0%A6%A1%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%BF%3F</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A7%8B%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2+%E0%A6%AE%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE+%E0%A6%9C%E0%A7%8B%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-+%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%B0%E0%A6%BE+%E0%A6%95%E0%A6%BF+%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%9B%E0%A6%BF%2C+%E0%A6%A8%E0%A6%BE+%E0%A6%A1%E0%A7%81%E0%A6%AC%E0%A6%9B%E0%A6%BF%3F</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 25 Oct 2020 13:23:39 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<strong>সৈয়দ এমদাদুল হক</strong>

বর্তমান ডিজিটাল যুগে বিশ্বব্যাপী সোস্যাল মিডিয়ার ব্যবহার      এমনতর বৃদ্ধি পাচ্ছে, কারো কারো কাছে যেন তা দৈনিক রুটিন ওয়ার্কে পরিণত হয়েছে। বয়স-নির্বেশেষে সকল জনগোষ্ঠি সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী হলেও যুব-সমাজের কাছে তা যেন জীবনের অপরিহার্য অনুষংগে পরিণত হয়েছে। সোস্যাল মিডিয়ার জোয়ারে বিশ্ব আজ কেমন করে ভাসছে তা বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকে প্রতিফলিত হয়। Digital 2020, July Global Statshot Report অনুযায়ী বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৫৯% (৪.৫৭ বিলিয়ন) ইন্টারনেট এবং ৫১%( ৩.৯৬ বিলিয়ন) সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী রয়েছে। সোস্যাল মিডিয়াসমূহের মধ্যে ২৬০৩ মিলিয়ন ব্যবহারকারী নিয়ে ফেস-বুক প্রথম, ২০০০ মিলিয়ন ব্যবহারকারী নিয়ে ইউ-টিউব এবং হোয়াটস-আপ সম্মিলিতভাবে দ্বিতীয় এবং ১৩০০ মিলিয়ন ব্যবহারকারী নিয়ে ফেস-বুক মেসেঞ্জার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ইন্টারনেট বা সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের মধ্যে মোবাইল ব্যবহারকারীদের সুষ্পষ্ট প্রাধান্য রয়েছে, সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীদের ৯৯% মোবাইল নির্ভর ইন্টারনেট ব্যবহারকারী। একই সূত্রে আরো জানা যায়, বয়স-ভিত্তিক গ্রুপের মধ্যে ১৬-২৪ বছরের জনগোষ্টি দৈনিক সবচেয়ে বেশী গড়ে ২ ঘন্টা ৫৩ মিনিট এবং ৫৫-৬৪ বছরের জনগোষ্টি সবচেয়ে কম ১ ঘন্টা ২০ মিনিট সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। প্রণিধানযোগ্য তথ্য হল সব বয়স-ভিত্তিক গ্রুপের ক্ষেত্রে মহিলারা পুরুষদের চেয়ে বেশী সময় সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে। বাংলাদেশের সোস্যাল মিডিয়া বিশেষ করে ফেস-বুকের খাবার দাবার, পোষাক-গহনা কিংবা স্বাস্থ্য-বিষয়ক ওয়েব-পেজগুলোর অধিকাংশ ভিজিটরগণই মহিলা।

অত্যধিক জনপ্রিয়তার কারণে ফেস-বুক বর্তমানে সোস্যাল-মিডিয়ার সমার্থক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মার্ক জুকারবার্গ এবং তার হার্ভার্ড কলেজ সহপাঠিদের হাত ধরে ২০০৪ সনে “ফেস-মাশ” নামে জন্ম লাভ করা “ফেস-বুক” আজ সোস্যাল মিডিয়া সাম্রাজ্যে অধিশ্বরের আসনে আসীন। ২০২০ সনের জুলাই মাসের তথ্যাদির ভিত্তিতে Statista এর পরিসংখ্যাণ অনুযায়ী বিশ্বের সর্বাধিক ফেসবুক ব্যবহারকারী দেশের তালিকায় ২৯০ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর দেশ ভারত প্রথম অবস্থানে এবং ৩৮ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর দেশ বাংলাদেশ দশম অবস্থানে রয়েছে। Global Stats এর সেপ্টেম্বর-২০২০ মাসের প্রতিবেদন থেকে জানা যায় বাংলাদেশে সোস্যাল মিডিয়ার মধ্যে ফেস-বুকের একচ্ছত্র প্রভাব রয়েছে, যা মোট সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর ৯৫.২৮% নিয়ে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে, ২.৫৪% নিয়ে ইউ-টিউব দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে।

ইতিহাস থেকে সুষ্পষ্ট ধারণা মেলে যে মানব সভ্যতার ইতিহাসে তথ্য-প্রযুক্তি তথা ডিজিটাল প্রযুক্তি যত দ্রুত বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা এবং বিস্তার লাভ করেছে আর কোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তেমনটি লক্ষ্যনীয় নয়। ডিজিটাল প্রযুক্তির ফসল সোস্যাল মিডিয়ার ক্ষেত্রেও তেমন অভাবনীয় গতির বিস্তার লক্ষ্য করা যায়। লিংগ, বর্ণ, বয়স-নির্বিশেষে সোস্যাল-মিডিয়ার জোয়ারে ভাসার গূঢ় রহস্য এখনো জনসমক্ষে পরিষ্কার নয়।

সোস্যাল মিডিয়া কেন মানুষকে আকর্ষণ করে অথবা মানুষ তার কি প্রয়োজন মেটাতে সোস্যাল মিডিয়ার দ্বারস্ত হয় তা নিয়ে বিস্তর গবেষণা হয়েছে। কুয়েত ইউনিভার্সিটির  প্রফেসর Jamal J. Al-Menayes তাঁর “Motivations for Using Social Media: An Exploratory Factor Analysis” গবেষণা প্রবন্ধে ৫টি মোটিভেশনাল ফ্যাক্টর চিহ্নিত করেছেন- বিনোদন, ব্যাক্তিগত প্রয়োজন, তথ্য-সন্ধান, সুবিধা এবং পরোপকারী ভাবনা।

স্পেনের Alcala বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর Ghassan H Felemban এবং Miguel-Angel Sicilia তাদের “Motivations and Incentives in Joining and Using Social Networks : A Systematic Review” প্রবন্ধে সোস্যাল মিডিয়ার ১২ টি মোটিভেশনাল ফ্যাক্টরের উল্লেখ করেছেন- (১) নতুন সম্পর্ক স্থাপন (২) বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ (৩)সামাজিকতা (৪)তথ্য অনুসন্ধান (৫) বিতর্ক (৬) ফ্রি এসএমএস (৭) সময় কাটানো (৮) কন্টেন্ট শেয়ার করা বা দেখা (৯) মজা করা (১০) অন্যের প্রোফাইল ভিজিট (১১) পারিবারিক যোগাযোগ এবং (১২) অন্যান্য।   নরওয়ের বিখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান SINTEF এর  গবেষক Petter Bae Brandtzæg এবং Jan Heim তাদের গবেষণামূলক “ Why People Use Social Networking Sites” প্রবন্ধেও অনুরুপ ১২ টি মোটিভেশনাল ফ্যাক্টর সনাক্ত করেছেন। তাদের গবেষণার ফলাফলে আরো প্রতীয়মান হয়েছে সর্বাধিক ৩১% ব্যবহারকারী নতুন সম্পর্ক স্থাপন, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২১% ব্যবহারকারী বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৪% ব্যবহারকারী সামাজিকতার জন্য সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে থাকে। এক্ষেত্রে সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারের  মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপনের বিষয়টি মুখ্য হিসাবে প্রতিফলিত হয়।

বাফার ব্লগের ডিরেক্টর Courtney Seiter তার “The Secret Psychology of Facebook:Why We Like, Share, Comment andKeep Coming Back” প্রবন্ধে ব্যবহারকারীগণ ফেস-বুকে কেন আঠাঁর মতো লেগে থাকে তার বৈজ্ঞানিক ও মনোস্তাত্ত্বিক কারণ বিশ্লেষণ করেছেন।
<blockquote>ফেস-বুক ব্যবহারকারীগণ কোন পোস্টে কেন ‘লাইক’ দেন? সাধারণত কোন বন্ধু বা পরিচিতজনের চিন্তা-চেতনার প্রতি একাত্মতা বা সংহতি প্রকাশের জন্য, ভার্চ্যুয়ালি সহানুভূতি প্রকাশের জন্য। কোন ব্যবসা বা কোম্পানির পোস্টে ‘লাইক’ দেয়ার ক্ষেত্রে ভিন্নতর কারণ নিহিত থাকে, বিনিময়ে ‘ফ্রি কুপন’ কিংবা নিয়মিত ‘আপ-ডেট’ প্রাপ্তির প্রত্যাশা থাকে। তবে সকল ক্ষেত্রেই ‘লাইক’ প্রদানকারী নিজের অজান্তে তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের ছাপ  উন্মোচিত করে থাকেন, যা পোস্টের ‘মেসেজ’ বা ‘গুণগত মানের’ ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।</blockquote>
ফেস-বুক ব্যবহারকারীগণ কোন পোস্টে কেন ‘কমেন্ট’ করেন?  মনোস্তাত্ত্বিক বিচারে ‘কমেন্ট’ হল অত্যন্ত শক্তিশালী ‘emotional driver’ যা পোস্ট প্রদানকারী এবং কমেন্ট প্রদানকারীর মধ্যে সুদৃঢ় বন্ধন সৃষ্টি করে যোগাযোগ অব্যাহত রাখতে সহায়তা করে।

ফেস-বুকে ‘পোস্ট’  কেন “শেয়ার” করা হয়? The New York Times এর শেয়ারিং এর মনোস্তাত্ত্বিক কারণ অনুসন্ধানীমূলক এক সমীক্ষা থেকে জানা যায় সবচেয়ে বেশী সংখ্যাক অর্থাৎ ৮৪% শেয়ার করে কোন একটা সত্য বা মতামতকে সমর্থন করার জন্য, ৭৮% সম্পর্ক স্থাপন/উন্নয়ন, ৬৯% আত্মতুষ্টির জন্য, ৬৮% নিজেকে প্রকাশ করার জন্য এবং ৪৯% নিছক বিনোদনের জন্য।

ফেস-বুক ব্যবহারের ধরণ দেখে অর্থাৎ ‘লাইক’, ‘কমেন্ট’ কিংবা “পোস্ট শেয়ারিং” থেকে ব্যবহারকারীর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করা সম্ভব।

বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক সমাজের একজন হিসাবে সামাজিক অনুষ্ঠানাদিতে যোগদান করতে পারেন। কিন্তু পোস্ট শেয়ারিং এর ক্ষেত্রে সামাজিক অনুষ্ঠানের ছবি নাকি জাতীয় বা আন্তর্জাতিক কোন সভা/সেমিনারে অংশগ্রহণের ছবি কোনটা তার ফেস-বুক ফ্রেন্ড বা ফলোয়ারদের যথাযথ মেসেজ দিবে, তার মর্যাদা এবং অবস্থান সঠিক মূল্যায়ণে সহায়ক হবে? একজন সরকারী কর্মকর্তা সরকারী কাজে বরিশাল কিংবা সিলেটে যাওয়ার সময় বিমানের সিড়িঁতে পা ঠেকিয়ে ছবি তুলে তা ফেস-বুকে পোস্ট করলে তা কি কোন গুরুত্বপূর্ণ মেসেজ দেয়? একজন শিক্ষিকা প্রতিদিন  স্কুলে প্রবেশের কিংবা প্রস্থানের ছবি ফেস-বুকে পোস্ট করলে তা ফেস-বুক ফ্রেন্ডদের জন্য কি তথ্য/মেসেজ দেয়। প্রতিদিন নিজ বাসার ছাদে বসে সূর্যাস্ত দেখা হয়তো নিজের শারিরীক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য হিতকর কিন্তু তা ফেসবুক ফ্রেন্ডের জন্য কতটা স্বাস্থ্যকর? বাংগালী হিসাবে রিক্সা চড়া কিংবা নিজের হাতে বাজার করা কোনটাই কি চমকিত হওয়ার মত ঘটনা? রিক্সায় বসে ছবি কিংবা বাজারের থলে হাতে কাচাঁবাজারের ছবি কিংবা পৌঢ় দম্পতির চোখে-চোখ রেখে ‘দুজনে-দুজনার” জাতীয় ছবি গুলি সামগ্রিকভাবে ফেস-বুকের তথ্য-ভান্ডারকে অহেতুক স্থুল করা এবং ফেস-বুকের প্রয়োজনীয় ব্যবহারের সুযোগ সীমিতকরণ ছাড়া  ফ্রেন্ড বা ফলোয়ারদের কোন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য/মেসেজ দিতে সক্ষম হয় কি?  এ প্রসংগে Pew Research Center এর ফেস-বুক অপছন্দের কারণ অনুসন্ধানীমূলক Internet Project Survey, 2013 ফলাফল পর্যালোচনা করা যেতে পারে। ফেস-বুকে নিজের সম্পর্কে অত্যাধিক প্রচারণাকে ৩৬% এবং নিজের  সম্পর্কে অত্যাধিক প্রচারণার মানসিকতা থাকাকে ২৪% ফেস-বুক ব্যবহারকারী “Strongly dislike” করে। আমরা ফেস-বুকে আঠাঁর মত লেগে থেকে নিজেদের অকাতর প্রচারণার মিশন বাস্তবায়ণের ক্ষেত্রে কখনো কি ফ্রেন্ড বা ফলোয়ারদের অমানুষিক নির্বাক যন্ত্রনায় কুকঁড়ে উঠা মুখের প্রতিচ্ছবিটি মনে রাখি?

Licensed clinical social worker Frances Dalomba তার “Social Media: The Good, The Bad, and The Ugly”প্রবন্ধে সোস্যাল মিডিয়ার খারাপ দিক সম্পর্কে উল্লেখ করেছেন, সোস্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীগণ প্রায়শঃই অন-লাইন জগত আর বাস্তবকে একাকার করে ফেলে যা সমীচীন নয়। সোস্যাল মিডিয়ার বন্ধু প্রকৃত বন্ধু নাও হতে পারে, অনেক সময় অপরিচিত জন, এক্ষেত্রে অধিক আস্থা স্থাপনে ঝুঁকির সম্ভাবনাও থাকে। ব্যবহারের ক্ষেত্রে পরিমিতিবোধের অভাব ঘটে, যা বয়স বা লিংগের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে অপ্রত্যাশিত ফলাফল বয়ে আনে। সোস্যাল-মিডিয়া আসক্তি দেখা দিলে তা ব্যাক্তি, পরিবার এমনকি সামাজিক জীবনে বিপর্যয় ঢেকে আনতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে সোস্যাল মিডিয়ায় ইমেজ-সৃষ্টির অসুস্থ্য প্রতিযোগিতা দেখা যায়, যা ব্যবহারকারীদেরকে বেপরোয়া করে তুলে। কুৎসিত আচরণের মধ্যে অন্যতম “Cyberbullying”, যা সামাজিক অবক্ষয়ের চরমতর বহিঃপ্রকাশ, যার কুপ্রভাব সাম্প্রতিক কালে বাংলাদেশেও পরিলক্ষিত হয়েছে ।

আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ৩৮ মিলিয়ন ফেস-বুক ব্যবহারকারী নিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে দশম স্থানে অবস্থান বাংলাদেশে সোস্যাল-মিডিয়া তথা ফেস-বুকের জোয়ারের সুষ্পষ্ট প্রতিফলন। কিন্তু ব্যবহারের গুণগত মানের চিত্র মোটেও আত্মতুষ্টিদায়ক নয়। আমাদের আত্মপোলব্দি এবং আত্মসমালোচনা প্রয়োজন। ডিজিটাল জমানার আশির্বাদ ফেস-বুকের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে  তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। ফেস-বুক ব্যবহার করে পরিবেশ রক্ষা, দারিদ্র দূরীকরণ, দূর্নীতির বিরুদ্ধাচারণ, দূর্যোগ মোকাবেলায় সহায়তা, নারী-নির্যাতনের প্রতিবাদ, নতুন ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ব্যবসার নব-নব দ্বার উন্মোচন, সামাজিক সচেতনতা সৃষ্টিসহ ব্যাক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক উন্নয়ণমূলক বিভিন্ন কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করা সম্ভব। বিশ্বব্যাপী তরুণ সমাজের কাছে ফেস-বুক অত্যন্ত আকর্ষণীয়, এর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে তরুণ-সমাজকে সঠিক দিক নির্দেশনা প্রদানের অপার সুযোগ রয়েছে। আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে- সোস্যাল মিডিয়ার জোয়ারে আমরা কি ভাসতে ভাসতে এগিয়ে যাব, নাকি এর আবর্তে অতলে তলিয়ে যাবো?

<strong>লেখক</strong> <em>: বাংলাদেশের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য-প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়াধীন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের একজন যুগ্ম-সচিব</em>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>শেখ হাসিনা : রত্নাগর্ভা থেকে বিশ্ব নেতা</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%96+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BE+%3A+%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%BE+%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC+%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%BE</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%96+%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%BE+%3A+%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%97%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AD%E0%A6%BE+%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%AC+%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%A4%E0%A6%BE</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Tue, 29 Sep 2020 00:57:30 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<strong>জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি</strong>

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপরিবারে নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডে শিকার হওয়ার পর অভিভাবকহীন বাংলাদেশের জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা অনিবার্য হয়ে ওঠেন নানা কারণে। জেনারেল জিয়ার স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্বদানে এমনি একজন নেতার প্রয়োজন ছিল যিনি: প্রথমত, দলের ঐক্য এবং জেনারেল জিয়ার সামরিক স্বৈরাচারী সরকারের অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মনোবল ফেরাতে পারবেন; দ্বিতীয়ত, স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে নেতৃত্বদানে সাহসী ও কৌশলি হবেন; এবং তৃতীয়ত, নেতা-কর্মীসহ মানুষের আস্থা অর্জন করতে পারবেন। সামগ্রিক রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে ১৯৮১ সালের ১৪-১৬ ফ্রেবুয়ারি আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে জননেত্রী শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে তাঁকে দলের সভাপতি করা হয়। যে কোন বিচারে এটি ছিল একটি সুবিবেচনা প্রসূত সিদ্ধান্ত। কারণ দলের সংকটকালে একমাত্র বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য উত্তরসুরীর পক্ষেই দলকে সুসংগঠিত করে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত করা সম্ভব।

দেশরত্ন শেখ হাসিনার মধ্যে নেতৃত্বদানের গুণাবলি পরিলক্ষিত হয় যখন তিনি ছাত্র। মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি ইডেন কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। তাঁর নেতৃত্ব আরও বিকশিত হয় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারি দল আওয়ামী লীগের হাল ধরার পর। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শিশু রাষ্ট্রের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশ যখন অভিভাবকহীন, ঠিক তখন ১৯৮১ সালের ১৭ মে জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের মাটিতে ফিরে আসেন জীবনের হুমকি এবং ঝুঁকি মাথায় নিয়ে। মাত্র ৩৪ বছর বয়সে অসীম সাহসিকতা নিয়ে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর দায়িত্ব নিলেন। বঙ্গবন্ধু, জাতীয় চার নেতাকে হারিয়ে নেতা-কর্মীরা দিশেহারা, হাজার নেতা-কর্মী জেলে, দলের মধ্যে বিভক্তি এমনি এক সংকটময় মুহুর্তে দলের দায়িত্ব নিয়ে তিনি শুধু দলকে বাঁচাননি, দেশ ও জাতিকে বাঁচিয়েছেন। তিনি স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের জন্য জনমত তৈরি করেছেন। তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলেছেন। নির্বাচনকে আন্দোলনের কৌশল হিসেবে গ্রহণ করেছেন। ১৯৮৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। সে নির্বাচন যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হতো, সঠিক ফলাফল যদি প্রকাশ করা হতো জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮৬ সালেই প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হতে পারতেন। বিরোধী দলের নেতা হিসেবে সংসদে এবং রাজপথে তিনি তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। ৩৯ বছর বয়সে জননেত্রী শেখ হাসিনা হয়ে ওঠেন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতীক।

ভোট কারচুপির যে উদাহরণ জেনারেল জিয়া ও জেনারেল এরশাদ সৃষ্টি করেন এবং পরবর্তীতে তাদের পদাঙ্ক অনুসরন করেন বেগম খালেদা জিয়ার সরকার। গণতন্ত্র ও ভোটের অধিকারের দাবীতে ৯১ থেকে ৯৬ পর্যন্ত জননেত্রী শেখ হাসিনা তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন। আন্দোলনের মুখে বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে বাধ্য হয়। আন্দোলনের মুখে তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করতে বাধ্য হয়। দীর্ঘ ২১ বছরের ভোট ও ভাতের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম শেষ পর্যন্ত সফল হয়। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জয়লাভ করে। ৪৯ বছর বয়সে জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন এবং দেশ পরিচালনা করেন। ২০০১ সালে বিএনপি-জামাত জোট ভোট কারচুপির মাধ্যমে আবার ক্ষমতাসীন হয়ে হত্যা, খুন, দুর্নীতিসহ দেশকে চরম নৈরাজের পথে ঠেলে দেয়। তাদের অপশাসনের বিরুদ্ধে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আন্দোলন গড়ে ওঠে। তাঁর দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের জীবনে বহুবার কারাবরণ করেন। তাকে হত্যার জন্য দীর্ঘ ১৯ বার চেষ্টা করা হয়। তারপরও তিনি সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, অন্যায় ও অপশাসনের কাছে নতি শিকার করেননি।

এ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়। সেই থেকে দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে টানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার দেশ পরিচালনা করছে। তিনি তিনটি রূপকল্প- ভিশন ২০২১, ভিশন ২০৪১ এবং ডেল্টা প্লান ২১০০ বাস্তবায়ন করছেন। স্বাধীনতার চার দশক পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে তিনি দেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার, জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণ, পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি, আশ্রয়হীন রোহিঙ্গা শরনার্থীদের আশ্রয়দান, ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তি, সমুদ্রবক্ষে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে ব্লু ইকোনমির নতুন দিগন্ত উন্মোচন, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর সফল উৎক্ষেপণ, ফোরজি মোবাইল প্রযুক্তি ব্যবহারসহ নানা কর্মযজ্ঞ এবং দেশের আইসিটি খাতে বাস্তবমুখী ও কার্যকরী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়নের ফলে করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় বিশ্ব দরবারে প্রশংসিত হয়েছেন।

আমরা যখন দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আন্দোলনের বিভিন্ন পর্বগুলোর বিশ্লেষণ করি তখন সব কিছুই অসম্ভব মনে হয়। কিন্তু এই অসম্ভবকে সম্ভব করেছেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। যেভাবে জাতির পিতা ২৩ বছর পাকিস্তানি স্বৈরশাসকদের সংগ্রাম করে মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মুক্তি এনে দিয়েছিলেন। অসম্ভবকে সম্ভব করে হাজার বছরের পরাধীনতার গ্লানি থেকে মুক্ত করে বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার স্বাদ, স্বাধীন ভূখণ্ড উপহার দিয়েছিলেন। একই রকমভাবে বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর সেই অসমাপ্ত গণতন্ত্র এবং অর্থনৈতিক মুক্তির আন্দোলনকে সফল করে একটি দরিদ্র রাষ্ট্রকে মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে একটি নিম্ন মধ্যম আয়ের রাষ্ট্রে পরিণত করেছেন। তিনি খাদ্য ঘাটতির দেশকে উদ্বৃত্ত খাদ্য উৎপাদনের দেশে পরিণত করেছেন এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি (করোনকালের আগে ) ৮ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত করেছেন।
<blockquote>অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য বর্তমান বিশ্বের চালিকাশক্তি প্রযুক্তিকে তিনি হাতিয়ার হিসেবে বেছে নিয়েছেন। আজকের ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা। তারই নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সরকার কতটা সফল তার প্রমাণ করোনা মহামারিকালের কার্যক্রম। করোনাকালে অনলাইনে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন ও খাদ্যপণ্য পৌছে দেওয়া থেকে শুরু করে ভার্চুয়াল কোর্টসহ প্রায় সবই পরিচালনা করা হচ্ছে প্রযুক্তি ব্যবহার করে।</blockquote>
জননেত্রী শেখ হাসিনা রত্নগর্ভা। একজন সফল মা হিসেবে তিনি তাঁর দুই সন্তানকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলেছেন। তাঁর পুত্র আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ সজীব ওয়াজেদ জয় ডিজিটাল বাংলাদেশের আর্কিটেক্ট। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব এবং সজীব ওয়াজেদ জয়ের সুপরামর্শ, সঠিক দিকনির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে আমরা আজ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। তাঁর কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ একজন মনোবিজ্ঞানী এবং অটিস্টিক বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উপদেষ্টা। প্রতিবন্ধিদের কল্যাণে তাঁর কার্যক্রম আজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত।

দেশ ও মানুষের প্রতি ভালবাসার প্রবল আকর্ষণে জননেত্রী শেখ হাসিনা স্বদেশে ফিরে এসেছিলেন। শোককে শক্তিতে রুপান্তরিত করে বাংলার মানুষের জীবন-মানের উন্নয়ন ও তাদের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য নিরলস পরিশ্রম করছেন।

তিনি বিশ্বের বুকে বাংলাদেশেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব ও অপরিসীম আত্মত্যাগের ফলেই বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে মাথা উচু করে দাঁড়িয়েছে।
জয়তু শেখ হাসিনা।

<strong>লেখকঃ</strong> <em>জুনাইদ আহমেদ পলক, এমপি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী।</em>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>পৃথিবীর দ্রুততম সর্ববৃহৎ মেমোরি</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AA%E0%A7%83%E0%A6%A5%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%B0+%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%A4%E0%A6%AE+%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%B9%E0%A7%8E+%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BF</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AA%E0%A7%83%E0%A6%A5%E0%A6%BF%E0%A6%AC%E0%A7%80%E0%A6%B0+%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A4%E0%A6%A4%E0%A6%AE+%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%AC%E0%A7%83%E0%A6%B9%E0%A7%8E+%E0%A6%AE%E0%A7%87%E0%A6%AE%E0%A7%8B%E0%A6%B0%E0%A6%BF</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 14 Sep 2020 23:05:09 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<div class="gs">
<div class="">
<div id=":1dg" class="ii gt">
<div id=":1df" class="a3s aXjCH ">
<div dir="auto">
<div dir="auto"> <span style="text-decoration: underline;"><strong>মহিউদ্দিন আহমেদ</strong></span></div>
<div dir="auto">পৃথিবীর দ্রুততম সর্ববৃহৎ মেমোরি লাইব্রেরী শিরোনাম দেখে হয়তো ভাবছেন গুগলের কথা বলছি। প্রযুক্তির দিক থেকে বৃহৎ তথ্যভান্ডার গুগোল হলেও দ্রুত সময়ে আপনার জীবনের সকল ঘটনা বর্ণনা অর্থ গুগল সরবরাহ কি করতে পারে। পারেনা কারণ গুগোল কোন ব্যক্তি বিশেষের জীবনের সকল রেকর্ড সংরক্ষণ করে না। ধরুন আপনাকে যদি বলা হয় স্কুলে যখন ভর্তি হলেন প্রথম সেদিনের ঘটনা বা ৬০-৭০ বছর পূর্বের কোন ঘটনা বলতে তা আপনি চট করেই অনর্গল বলতে পারবেন।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">গুগলকে যদি একটি রেকর্ড দিতে বলেন সেদিকে কতটা সময় নিবে তা আপনার ইন্টারের ইন্টারনেটের গতির উপর নির্ভর করে। আবার যা চাচ্ছেন তা না দিয়ে ভুলভাল তথ্য দিতে পারে। কিন্তু আপনার নাম ভুল তথ্য যেমন দিবে না তেমনি সময়ক্ষেপণও করবে না।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">ধরুন আপনি কি বোর্ড লিখছেন এমন সময় আপনার পায়ে একটি মশা বসলো তখন আপনার নার্ভ থেকে সংকেত দেবে যে আপনার পায়ের অংশে একটি মশা বসেছে। তাকে ৯০ ডিগ্রি অ্যাঙ্গেলে থাপ্পড় দিন কারণ এর বেশি বা কম হলে আপনি ব্যথা পেতে পারেন প্রথম শ্রেণী থেকে উত্তর থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত আমাদের কত না লেখাপড়া পড়তে হয়। যার ছবি সংরক্ষিত থাকে মস্তিষ্কের নার্ভ সিস্টেম। একজন গবেষক এর তথ্য ভাণ্ডার তার মস্তিষ্ক পৃথিবীর উন্নয়ন ও বিকাশ ঘটিয়েছে।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">মানবদেহের এই মস্তিষ্ক গুগল তৈরি করেছে এই মস্তিষ্ক আর এই মস্তিষ্ক দান করেছেন মহান মহান আল্লাহতালা। তাঁর এই মহান দানের জন্য আল্লাহর দরবারে লাখো-কোটি শুকরিয়া জানাই। আবার এই মস্তিষ্ক রক্ষা করার জন্য আল্লাহতালা মস্তিষ্কের চারপাশে একটি আবরণ বা রক্ষা প্রাচীর তৈরি করে দিয়েছেন। যার নাম ব্লাড ব্রেইন বেরিয়ার। রক্ত দিয়ে মস্তিষ্কে কি যাবে তা রেকর্ড করে ওই পর্দা কবে ওই পর্দা নিকোটিন ও অ্যালকোহল আটকাতে পারেনা। এ কারণেই আল্লাহতালা হয়তো এই দুটি পদার্থকে হারাম হিসেবে গণ্য করেছেন মস্তিষ্ক থেকেই মানবদেহ নিয়ন্ত্রিত হয় আর এই মানবদেহ গোটা পৃথিবীতে নিয়ন্ত্রণ করে।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">একবার ভাবুন আপনার জীবনের সমস্ত ঘটনা ও তথ্য প্রবাহ সংরক্ষণ করতে কত বড় একটি লাইব্রেরীর প্রয়োজন পড়তো। আবার যদি গুগলের মত একটি প্লে স্টোর চালাতে হতো তাহলে কত গুগলের প্রয়োজন পড়তো। অথচ মহান আল্লাহতালা আমাদেরকে দান করেছেন।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">অথচ আমরা যার কোন যত্নই নিচ্ছি না অথচ আমার হাতে থাকা ডিভাইসটি দিনে কতবার পরিষ্কার করি তা নিজেই ভেবে দেখুন। পবিত্র কোরআনে এরশাদ হয়েছে তোমরা কি নিজেদের নিয়ে ভাববে সূরা যারিয়াত আয়াত ২১ আধুনিক বিশ্ব চিন্তায় ও রহস্য উন্মোচিত হয়েছে। মানবদেহের ইনার সিস্টেম থেকে আমরা এবার দেখতে চাই এই মস্তিষ্কে কি আছে। মানুষের মস্তিষ্কে আছে ১০০ বিলিয়নের বেশি নিউরন বানার। একটি গমের দানার সমপরিমাণ মস্তিষ্ক কিছুতে ১ লাখের মতো নিউরন থাকে যেগুলো পরস্পরের সঙ্গে ১ বিলিয়ন বন্ধন তৈরি করে মস্তিষ্কে প্রায় ১০ হাজার রকমের নিউরন রয়েছে।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">মস্তিষ্কের আদেশ এসব নিউরন এর মাধ্যমে বৈদ্যুতিক তরঙ্গের আকারে পৌঁছে আবার এসব তরঙ্গের গতি ঘন্টায় চারশো কিলোমিটার বা তার চাইতেও বেশি প্রতিদিন মস্তিষ্ক ১২ থেকে ২৫ ওয়াট বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। শরীরের প্রয়োজনে যে খাবার খায় তার পাঁচ ভাগের খরচ হয় মস্তিষ্কের শক্তি উৎপাদনের জন্য এই খাদ্য ও অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার জন্য ১৪০ থেকে ৮০ লিটার রক্তে পরিবাহিত হয়। ২৪ ঘন্টায় মজার কথা হল মস্তিষ্কে ২২০০০০০ সেল আছে মানুষ তার মাত্র ৩ শতাংশ ব্যবহার করে যারা খুব জ্ঞানী তারাও এর মাত্র ১০ শতাংশ ব্যবহার করে অর্থাৎ সবচাইতে জ্ঞানী ব্যক্তি ও ৯০% ব্যবহার করে না যদি করতে পারতো তাহলে বিশ্ব আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে তা একবার ভেবে দেখুন।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">মুঠোফোন বা কম্পিউটারে যেমন মেমোরি স্পেস থাকে তেমনি আমাদের মস্তিষ্কের মেমোরি স্পেস আছে। মস্তিষ্কের মেমরীস্পেস নিয়ে গবেষণা তথ্য নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইকোলজির অধ্যাপক ডক্টর পল রোবার উল্লেখ করেছেন যে মানুষের মস্তিষ্কে রয়েছে ১০০ কোটি বা ১ বিলিয়ন নিউরন প্রতিটি নিউরন একে অপরের সাথে সংযুক্ত হয়েছে। যার গাণিতিক সংখ্যা হবে এক ট্রিলিয়নেরও বেশি। মস্তিষ্কের তরঙ্গের গতি এতটাই বেশি যা ১২ থেকে ২৫ ওয়াট এলইডি বিদ্যুৎ বাল জ্বালাতেও সক্ষম।</div>
<div dir="auto"></div>
<div dir="auto">অধ্যাপক রোবার উল্লেখ করেন ব্রেন যদি সর্বাধুনিক ভিডিও রেকর্ডার এর মত মেমোরি ধারণ করে তাহলে সেই মেমোরি যদি কোন টিভিতে অবিরাম সম্প্রচার করা হয় তাহলে তা প্রচার করতে লাগবে প্রায় তিন শতাধিক বছর বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে দেখেছেন ব্রেনের মেমোরি ধারণ ক্ষমতা কমপক্ষে দুই দশমিক ৫ পেটাবাইট অথবা ১ মিলিয়ন জিবি বা ১০০০০০০ গিগাবাইট ধারণক্ষমতা রয়েছে মস্তিষ্কের মেমোরি কার্ডের। তাই আমরা বলতেই পারি পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মেমোরি কার্ড বা দ্রুতগতির সর্ববৃহৎ লাইব্রেরী মানুষের মস্তিষ্ক সবশেষে এই মহান দানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে আরেকবার শুকরিয়া আদায় করি সুবহানাল্লাহ।</div>
</div>
<div class="yj6qo"></div>
<div class="adL"> <em>লেখকঃ সভাপতি, মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন</em></div>
</div>
</div>
<div class="hi"></div>
</div>
</div>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>পাঠাও&#45;উবারের বাইক চলাচলে বিআরটিএ’র প্রজ্ঞাপন</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%93-%E0%A6%89%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95+%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A7%87+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%B0%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%8F%E2%80%99%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%A8</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A0%E0%A6%BE%E0%A6%93-%E0%A6%89%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%87%E0%A6%95+%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%9A%E0%A6%B2%E0%A7%87+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%86%E0%A6%B0%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%8F%E2%80%99%E0%A6%B0+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9E%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%A8</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 05 Sep 2020 14:58:05 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[করোনাভাইরাস সংক্রমণ বিস্তাররোধে গত চার মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর ফের স্মার্টফোন অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবা রাইডশেয়ারের মাধ্যমে মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)।

বৃহস্পতিবার (০৩ সেপ্টেম্বর) এ সম্পর্কিত একটি প্রজ্ঞাপনে এসব কথা উল্লেখ করে বিআরটিএ।

তবে আগের মতো ঢালাওভাবে নয়, যেসব মোটরসাইকেলের বিআরটিএ’র কাছ থেকে এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট নেয়া আছে, কেবল সেগুলোই চলাচল করতে পারবে বলেও জানানো হয়েছে। বর্তমানে এই এনলিস্টমেন্ট সার্টিফিকেট আছে মাত্র ১ হাজার ১৫৬টি মোটরসাইকেলের।

রাইডশেয়ারে মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে বেশকিছু শর্তও জুড়ে দিয়েছে বিআরটিএ। চালক ও যাত্রীকে মাস্ক, ফেস শিল্ড, হ্যান্ড গ্লাভস, নির্দিষ্ট মানদণ্ডের হেলমেট ব্যবহার করতে হবে। ট্রিপের শুরু ও শেষে হেলমেট, মোটরসাবইকেলসহ যাত্রীর মালামাল স্প্রে করে জীবানুমুক্ত করে নিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চলাচলের জন্য বিআরটিএর যেসব নির্দেশনা রয়েছে, সেগুলোও মেনে চলতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ হলে রাইডশেয়ারও বন্ধ হয়ে যায়। ১ জুন থেকে সীমিত পরিসরে গণপরিহন চালানোর অনুমতি দেয় সরকার। আর ২১ জুন থেকে প্রাইভেট কার, জিপ, মাইক্রোবাস ও অ্যাম্বুলেন্সও রাইডশেয়ারে চলাচলের অনুমতি দেয়া হয়।]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ইন্টারনেট সংযোগ বিপর্যয়: বিপদ বাড়বে শিক্ষার্থীদের</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%9F+%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%9F%3A+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%A6+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%9F+%E0%A6%B8%E0%A6%82%E0%A6%AF%E0%A7%8B%E0%A6%97+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%9F%3A+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%A6+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A7%9C%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%B6%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5%E0%A7%80%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sun, 16 Aug 2020 23:46:12 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<strong>ড. মুশতাক ইবনে আয়ূব</strong>

ঢাকা শহরকে তারের জটমুক্ত করার নামে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সংযোগ কাটার অভিযান চলছে বিভিন্ন জায়গায়। নিশ্চিত নই এর জন্য কোন আগাম নোটিশ বা কোন সতর্কতা জারি করা হয়েছিলো কি-না। এটা আশা করিও না বাংলাদেশে। যেখানে রাস্তার শেষ মাথায় গিয়ে দেখতে হয় 'রাস্তা বন্ধ', সেখানে ইন্টারনেটের তার কাটার জন্য আগেভাগে নোটিশ পাবার আশাটা দুরাশা মাত্র। এরকম ঘটনা এটাই প্রথম নয়। বাংলাদেশে হঠাৎ হঠাৎ একটা উদ্যোগ নেওয়া হয়, যার না থাকে কোন পূর্বপ্রস্তুতি, না জনসংশ্লিষ্টতা। ফলে কিছু মানুষের ভোগান্তিই সার হয়, সমস্যার কোন সমাধান হয় না। বিকল্প সমাধান না দিয়ে বিদ্যমান কোন সুবিধা কেড়ে নেওয়াটা কেবল অপ্রত্যাশিতই নয়, অন্যায়ও বটে।

শহরের তারের জটলা দেখতে ভালো লাগে না- এটা নিয়ে দ্বিমত নেই। কিন্তু বর্তমান সময়টা মোটেই ইন্টারনেটের ওপর খড়গহস্ত হওয়ার জন্য সঠিক নয়। দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে। লাখ লাখ শিক্ষার্থী ব্রডব্যান্ড সংযোগের ওপর নির্ভরশীল। অদূর ভবিষ্যতে আরো সংযোগ প্রয়োজন হবে, যেহেতু অনলাইন কেন্দ্রিক কার্যক্রম আরো বাড়বে। দেশের সরকারী-বেসরকারী অনেক প্রতিষ্ঠানও এখন অনলাইন যোগাযোগের ওপর ভিত্তি করে ভার্চুয়াল অফিস করছে। এমন অবস্থায় হঠাৎ করে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং নতুন সংযোগ না দেওয়াটা ভয়াবহ বিপর্যয় বলেই মনে করি। বর্তমান সময়ে এই কার্যক্রম আমাদের শিক্ষা ও ব্যবসায়িক অগ্রগতির পথে এক অবান্তর অন্তরায়।

আমাদের ইন্টারনেটের অবস্থা যে কখনোই খুব ভালো ছিলো এটা বলা যাবে না; তার কারণ- প্রথমত. এর ধীরগতি এবং দ্বিতীয়ত এর উচ্চদাম। অনেকেরই জানা থাকার কথা- দক্ষিণ এশিয়ার ভেতরে অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে ইন্টারনেটের মূল্য বেশি। তারপরও এই সীমাবদ্ধ সুবিধাকে ব্যববহার করে মানুষ কোন মতে কাজ চালিয়ে নিচ্ছিলো। কিন্তু হঠাৎ করে ইন্টারনেট সংযোগ হারিয়ে অবস্থা আরো শোচনীয় দিকে চলে গেলো। অনেক পরিবার এবং প্রতিষ্ঠান সংযোগ হারিয়েছে, নতুন সংযোগ চাইলেও পাওয়া যাচ্ছে না এবং বেশিরভাগ সংযোগ প্রচণ্ড ধীরগতির হয়ে পড়েছে।

এটি কল্পনা করতেও অবিশ্বাস্য লাগে যে, একটি দেশে হঠাৎ করে কোন ঘোষণা ছাড়াই অর্ধলক্ষ মানুষের ইন্টারনেট বা টিভি সংযোগ কেটে দেওয়া হবে। গ্রাহকদের তো জানার কথা নয় কোন সরবরাহকারী বৈধ, কে অবৈধ; কারা খুঁটির ওপর আর কারা মাটির নিচে তার নিয়ে এসেছে। এসব সরবরাহকারীদের চেনে প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আগে এই সরবরাহকারীদের সাথে সম্পর্ক ঠিক করতে হবে এবং সেটা সংযোগ দেওয়ার আগে। যারা সংযোগ পেয়েছেন, তাদেরকে বিপদে ফেলে, কোন রকম বিকল্প ব্যবস্থা তৈরি না করে এ ধরনের অভিযান গর্হিত কাজ।

গত দশ বছরে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গ্রাহক বেড়েছে বিপুল সংখ্যায়। এক তথ্যমতে, ২০০৯ সালে দেশে মাত্র ৫০,০০০ ব্রডব্যান্ড সংযোগ ছিলো। সেই সংখ্যা ২০১৬ সালে এসে দাড়ায় ত্রিশ লাখের ওপরে। আর বিটিআরসি'র তথ্যমতে, ২০১৮ সালে এই সংখ্যা ৫০ লক্ষ ছাড়িয়েছে। এতে প্রমাণ হয় দেশে ইন্টারনেটের চাহিদা এবং ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা উভয়েই বেড়েছে। ২০১৯ সালের এপ্রিল নাগাদ দেশে মোট ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় ৯ কোটি। এর বেশিরভাগই ব্যাক্তি পর্যায়ে মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহার করে। তবে বিশেষত. বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সরকারী-বেসরকারী সংস্থা এবং পরিবার পর্যায়ে মানুষ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ওপর নির্ভরশীল। এই বিপুল চাহিদা মেটাতে গিয়েই বড় বড় শহরের ইন্টারনেট সংযোগ-তারের এক অবিশ্বাস্য জট তৈরি হয়েছে। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট যারা সরবরাহ করেন তাদের ভেতরেও সমন্বনয়হীনতা রয়েছে। তাদের বৈধতার প্রশ্ন আছে। এগুলো 'সিস্টেমিক প্রবলেম' বা পদ্ধতিগত সমস্যা। এসব সসম্যার সমাধান না করে, তার কেটে জনদুর্ভোগ তৈরি করাটা অত্যন্ত আনাড়ি এবং অযাচিত কাজ। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-কে এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সাথে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। ইন্টারনেট, কেবল টিভি সংযোগ কাটার কাজ যদি ঢাকার রাস্তা কাটকাটির মতো একই রকম অপরিকল্পিতভাবে হয়, তাহলে বুঝতে হবে আমাদের অবিমৃষ্যকারিতা মাটি থেকে আকাশ পর্যন্ত ছড়িয়ে গেছে।

শুধু তার কেটেই ঢাকা শহরকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করা যাবে না। ইন্টারনেটের তার কাটার আগে আরো অনেক কাজ বাকি আছে। সেসব দিকে নজর না দিয়ে এই বিপন্ন সময়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে কর্তৃপক্ষ গর্হিত কাজ করেছে। বিকল্প ব্যবস্থা কী হবে সেটা আগে ঠিক করে তবেই এরকম উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। তার আগে কোন মতেই নয়।

দেশের শিক্ষার্থী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে এই অভিযান এখন বন্ধ হোক। একই সাথে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় পর্যায়ক্রমে তার-জট ও অবৈধ সংযোগ সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হোক।

<strong>লেখকঃ</strong> <em>সহকারী অধ্যাপক, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। </em>ইমেইল-miayub@du.ac.bd]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>উৎসব, ধর্মীয় উৎসব, ঈদ উৎসব</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%AC%2C+%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A7%9F+%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%AC%2C+%E0%A6%88%E0%A6%A6+%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%AC</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%AC%2C+%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%80%E0%A7%9F+%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%AC%2C+%E0%A6%88%E0%A6%A6+%E0%A6%89%E0%A7%8E%E0%A6%B8%E0%A6%AC</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 31 Jul 2020 12:23:06 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<span style="text-decoration: underline;"><strong>ড. মুশতাক ইবনে আয়ূব</strong></span>

মানব সমাজে উৎসবের শুরুটা কীভাবে হয়েছিলো তার নির্দিষ্ট সূ্ত্র টানা কঠিন। তবে এর সাথে জীবনের আনন্দ, সফলতা ভাগ করে নেওয়ার যে একটা সংযোগ ছিলো সেটা নিশ্চিত করেই বলা যায়। আদিম মানুষ যখন শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করতো, তখন এক একটা সফল অভিযান অবধারিতভাবেই তাদের মনে আনন্দ ও সন্তুষ্টির ঢেউ বইয়ে দিতো । উৎসব ছিলো সেই আনন্দ উদযাপনের মাধ্যম। বলাবাহুল্য, জমজমাট ভোজ তখন থেকেই উৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

উৎসব মোটাদাগে দুই রকমের। ঐতিহ্যগত এবং ধর্মীয়। ঐতিহ্যগত উৎসবের আবার দুটো ভাগ হতে পারে- এক অংশকে বলা যায় সাংস্কৃতিক উৎসব। আর বাকিগুলোকে একসাথে বলা যেতে প্রথাগত উৎসব।

সাংস্কৃতিক এবং প্রথাগত উৎসবগুলো জাতিসত্ত্বার স্বকীয়তার পরিচায়ক। তবে ভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক এবং প্রথাগত উৎসবের কিছু কিছু উপাদানে মিল পাওয়া যেতে পারে। সেটা অস্বাভাবিক নয়। কারণ, সংস্কৃতি এবং প্রথার আদানপ্রদান প্রায়শই ঘটে।  এর মাধ্যমে মানুষের জীবনাচারণের অনেক উপাদানের মতো তাদের উৎসবেরও বিনিময় ঘটে। বিভিন্ন দিবসভিত্তিক উৎসবগুলো এভাবে একদেশ থেকে অন্যদেশে ছড়িয়ে যেতে পারে। যেমন- বাংলাদেশে সম্প্রতি পশ্চিমা বেশকিছু দিবসভিত্তিক উৎসবের প্রচলন শুরু হয়েছে। হয়তো দেশীয় সংস্কৃতি ও প্রথার মিশ্রনে উৎসবগুলো একটু পরিবর্তিত হয়ে আমাদের মূলধারায় যুক্ত হয়ে যাবে কালের প্রবাহে।

ধর্মীয় উৎসব উপরিউক্ত দুই ধরনের চেয়ে আলাদা। এর উদ্দেশ্যও ভিন্ন। ধর্মীয় উৎসবের মূল উদ্দেশ্য যার যার ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী ঈশ্বর-সন্তুষ্টি লাভ। এখানেও সামাজিক, অর্থনৈতিক উদ্দেশ্য সাধন হয়। কিন্তু সেগুলো ধর্মীয় উৎসবের পার্শ্বফল। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে- এসব উৎসবের সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কিছু অনুশাসন জড়িয়ে থাকে। ঐতিহ্যগত উৎসবে কিছু আচার আচরণের ব্যাপারে একটা নির্দেশনা থাকলেও সেগুলো মানা-না মানা অনেকটা ব্যক্তিগত ইচ্ছার ব্যাপার। কিন্তু ধর্মীয় উৎসবে তার সুযোগ নেই। এখানকার নিয়মকানুনগুলো নির্ধারিত এবং সেগুলো সুনির্দিষ্টভাবে মেনেই এসব উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে হয়।

প্রাচীনকাল থেকেই মানুষ ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছে।  প্রাচীন গ্রীসে এবং অন্যান্য সভ্যতায় এ ধরনের ধর্মীয় উৎসবের বেশুমার উদাহরণ রয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাসের উন্মেষ, বিকাশ এবং প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ মানুষের উৎসবে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।  সকল ধর্মেরই নিজস্ব উৎসব এবং তদসংশ্লিষ্ট বিধান রয়েছে।

সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে নতুন নতুন উৎসব যোগ হয়েছে, কিছু পুরনো উৎসব বিলীন হয়েছে। কিন্তু সমাজে উৎসবের উপস্থিতি নিত্যই রয়ে গেছে। এর একটা বড় দৃষ্টান্ত পাওয়া যাবে আধুনিক সময়ের ফিলিপিনে। সেখানে বছরের প্রতি দিন কোন না কোন উৎসব পালন করা হয়। প্রায় ৪২০০০ ছোট-বড় উৎসব উদযাপন করা হয় বছর জুড়ে।

উৎসবের উদ্ভবটা যেহেতু মানুষে মনস্তত্ত্বের সাথেই নিহিত তাই অবচেতন বা সচেতন মনে এর প্রভাব অত্যন্ত গভীর।

আমাদের জীবনে উৎসব যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা বোধ হয় এই করোনা সংকট খুব ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছে। মাসের পর মাস ঘরে থেকে কিংবা সামাজিক কোন অনুষ্ঠানাদিতে যোগ দিতে না পেরে আমাদের দিন-রাত সব একাকার হয়ে গেছে। ব্যাপারটা এতটাই সঙ্গীন যে সপ্তাহের দিন, বার, তারিখ এগুলোও ঠিক খেয়াল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। উৎসব  উপলক্ষ্যগুলো ছিলো আমাদের জীবনের অবিরাম চলমান সময়ের এক একটা যতিচ্ছেদ- কোনটা ছোট, অল্প আনুষ্ঠানিকতার; কোনটা বৃহৎ আয়োজনে আড়ম্বড়পূর্ণ।

মুসলিম সমাজের জন্য সবচেয়ে আড়ম্বড়পূর্ণ উৎসব দুটি- বছরের দুই ঈদ। কিন্তু এর বাইরেও প্রতিটা শুক্রবারকে একটা বিশেষ দিন হিসেবে আলাদা করা যায়। একথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, এক একটা শুক্রবার মুসলমানদের জন্য এক একটা 'মিনি' ঈদ। যেমন ধর্মীয় গাম্ভীর্য, বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ ইবাদতের জন্য কথাটা সত্য, তেমনি একটু বিশেষ খাবার, সমাজের আরো দশজনের সাথে দেখা-সাক্ষাত হওয়া কিংবা আত্মীয়-স্বজনদের আপ্যায়ন; এসব মিলে শুক্রবারগুলো বিশেষ একটা উপলক্ষ্য- ধর্মীয় এবং সামাজিক উভয় দিক থেকেই।

ইসলামের উৎসবগুলোর একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সব মানুষকে শামিল করার একটা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এতে নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। শুক্রবার বেশি বেশি দান করার ব্যাপারে উৎসাহিত করা, ঈদুল ফিতরের সময় (বিশেষ করে খাদ্যদ্রব্য) ফিতরা প্রদানের ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা এবং ঈদুল আযহার সময়ে কুরবানী, যাকাত ইত্যাদি প্রদানের অনুশাসনগুলো সমাজের সবশ্রেণির মানুষকে একই আনন্দে, একই উৎসবে অবগাহন করার সুযোগ করে দেয়।

অন্যান্য ঐতিহ্যগত উৎসবের সাথে ধর্মীয় উৎসবের সাথে এখানে একটি বড় পার্থক্য। পহেলা বৈশাখ উদযাপনকালে কেউ কাউকে নতুন কিছু কিনে দিতে বাধ্য নয়, অভুক্ত প্রতিবেশিকে খাবার প্রদান করার ব্যাপারে কোন নির্দেশনা নেই। কিন্তু ঈদের উৎসবে সব কিছু নির্ধারিত। যে অভাবে আছে, যে কুরবানি করতে পারে নি, যার ঘরে খাবার নেই, তার জন্য  সামর্থ্যবানদের প্রতি সুনির্দিষ্ট নিয়ম করে দেওয়া হয়েছে।

ঈদুল ফিতর কিংবা ঈদুল আযহার উৎসবের এই হচ্ছে অনন্য বৈশিষ্ট্য। এই বিষয়টা আমাদের উপলব্ধি করতে হবে। তাহলেই মহিমান্বিত হবে ঈদ উৎসবে আমাদের মহাসম্মিলন।

<em>লেখক : miayub@du.ac.bd</em>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>তোমার কাজই বাঁচিয়ে রাখবে তোমাকে যুগ&#45;যুগ, মহাকাল</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A4%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%87+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87+%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%A4%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87+%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%97-%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%97%2C+%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B2</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A4%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%87+%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%81%E0%A6%9A%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87+%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%A4%E0%A7%8B%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87+%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%97-%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%97%2C+%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B2</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 13 Jul 2020 00:02:29 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[রাজধানীর বনানী কবরস্থানে মায়ের কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত দেশের প্রথম স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরহুম এডভোকেট সাহারা খাতুন। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়েরও মন্ত্রী ছিলেন তিনি। সেই সময়ে নানা রকম উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি। সেই সব উদ্যোগের একটি সংক্ষিপ্তসার তুলে ধরেছেন তার ওই সময়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শেফায়েত হোসেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনার্মাণ যাত্রায় সত্তুর্ধ্ব এই মহিয়সী নারীর ভূমিকার কথাই এখানে তুলে ধরা হলো।

(ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে সাহারা খাতুনের ভূমিকা)
*মহাকাশে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণে ২০১০ সালে গৃহীত উদ্যোগ বাস্তবায়নে অংশগ্রহণ।
* ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম প্রধান অবকাঠামো হিসেবে ন্যাশনাল আইপি ব্যাকবোন তৈরীর কার্যক্রম বাস্তবায়ন ।
*ইন্টারনেট ডেনসিটি শতকরা ৩ ভাগ হতে বৃদ্ধি পেয়ে শতকরা প্রায় ২০ ভাগে উন্নীত।
* ব্যান্ডউইডথ ৭ জিবিপিএস থেকে ২০০ জিবিপিএস-এ উন্নীত । ব্যান্ডউইডথ চার্জ ২৭ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে মাএ ৮হাজার টাকায় নির্ধারণ। ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সার্ভিস এর মাসিক সর্বনিম্ন চার্জ ৩০০/= (তিনশত) টাকা নির্ধারণ।

* প্রায় এক হাজার ভিএসপি লাইসেন্স প্রদান।
*থ্রি-জি মোবাইল নেটওয়ার্কের লাইসেন্স প্রদান উল্লেখযোগ্য।
*টেলিযোগাযোগ সার্ভিসের মান উন্নয়নের লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জেলাকে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্কের আওতায় আনা হয়েছে।
*এর মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাথে সারাদেশের বিভাগীয় ও জেলা প্রশাসকের অফিসসমূহকে উচ্চগতিসম্পন্ন নেটওয়ার্কে সংযুক্ত করণ

*তাছাড়া সাব-মেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ সার্ভিস নিরবচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার অপটিক্যাল ফাইবার লিংক চালু করা হয়েছে। বাংলাদেশ ডাক বিভাগ
*ডাক বিভাগের কার্যপ্রক্রিয়াকে স্বয়ংক্রিয়করণ করা ।
*২৭৫০টি ডাকঘরে মোবাইল মানি অর্ডার সার্ভিস চালু করা হয়েছে। ফলে একস্থান থেকে অন্য স্থানে ১ মিনিটে গ্রাহকগণ অল্প খরচে অর্থ আদান প্রদান করতে পারেন।

*বাংলাদেশের সকল জেলা শহর ও ঢাকা, চট্রগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট বিভাগের অধীন ৫৯৮ টি ডাকঘরে পোস্টাল ক্যাশকার্ড কার্যক্রম চালু হয়েছে ।
*অধিদপ্তরের প্রচলিত আইন-কানুন সংশোধন করা হয়েছে । দেশের প্রায় ৮৫০০গ্রামীন ডাকঘরেক ই ডাকঘরে রূপান্তর কার্যক্রম চলছে। টেলিটকের
<strong>অর্জনসমূহ:</strong>
সরকার ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গঠনে বেশ কিছু যুগান্তকারী কর্মসূচিতে অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে টেলিটক। এই নেটওয়ার্ক কাজে লাগিয়ে বেশ কিছু সেবা চালু করেন তিনি।
* ৩২টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ৪০০ কলেজ এবং ৭০ টি মেডিকেল কলেজসহ মোট ৫০২টি প্রতিষ্ঠানের ১৪,০০,০০০ ছাত্র -ছাত্রী এসএমএস পদ্ধতিতে শুধুমাত্র ২০১২ সালেই প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষার আবেদন ফরম পূরণ ও ফি প্রদান করেন।

* অনলাইনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত আইবিএ এর এমবিএ প্রোগ্রামের ভর্তি আবেদন গ্রহণ এবং এসএমএস এর মাধ্যমে ফি গ্রহণ করা হয়েছে।
*অনলাইন এবং এসএমএস এর মাধ্যমে প্রায় ২১টি সরকারি এবং ৪৯টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজসমূহের আবেদন ও ফি গ্রহণ করা হয়েছে।
*এছাড়া অনলাইনে প্রবেশ পত্র বিতরণ, এসএমএস এর মাধ্যমে আসন বিন্যাস এবং ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

*শুধু এসএমএস এর মাধ্যমে প্রায় ২৯টি কলেজের আবেদন ও ফি গ্রহণ করা হয়েছে। *ডিপার্টমেন্ট অব টেক্সটাইল এর অন্তর্ভুক্ত ৬টি প্রতিষ্ঠানে বিএসসি ইন টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সে শুধু এসএমএস এর মাধ্যমে ভর্তিও আবেদন ও ফি গ্রহণ করা হয়।

* শুধু এসএমএস এর মাধ্যমে প্রায় ৪৯টি সরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজে ভর্তি ফি এবং আবেদন ফি গ্রহণ করা হয়েছে এবং এসএমএস এর মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
* প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা ও সমমান পর্যায়ের পরীক্ষার ফলাফল প্রদান
*টিবিএল প্রি-পেইড মোবাইল ফোন দিয়ে দর্শনার্থীগণ ২ দিনের অগ্রিম টিকিট ক্রয় করতে পারেন।

<strong>সাবমেরিন </strong>
* সাবমেরিন কেবলের ব্যান্ডউইড্থ এর ব্যবহার ৭ জিবিপিএস হতে প্রায় ৩২ জিপিবিএস অতিক্রম করেছে।
*বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল এর কক্সবাজারস্থ ল্যান্ডিং স্টেশনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ৩ এপ্রিল ২০১১ তারিখে ব্যান্ডউইড্থ সম্প্রসারণ প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন করেন। এর ফলে সেপ্টেম্বর ২০১২ নাগাদ দেশের জাতীয় ব্যান্ডউইড্থ এর গড় মান দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ জিবিপিএস।

*বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল সিমিউই-৫ কনসোর্টিয়ামে যোগদান করে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করে এবং সিমিউই-৫ সাবমেরিন কেবল তথা দ্বিতীয় সাবমেরিন কেবলে সংযুক্ত হয়ে বিদ্যমান কেবলে দৈব দুর্বিপাক সংক্রান্ত সংকট নিরসনের প্রক্রিয়া শুরু করে। এই কনসোর্টিয়ামের অধীনে নির্মিতব্য সাবমেরিন কেবলটি ২০১৪ সালের দিকে অপারেশন এ যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। টেলিফোন কপার কেবল উৎপাদন, সরবরাহ ।

*বর্তমান ও মোবাইল ইন্টারনেট যুগে বিশ্ব টেলিফোন কপার কেবল চাহিদা উল্লেখযোগ্য ভাবে হ্রাস পেলেও দেশের বিদ্যমান অবকাঠামোতে নেটওয়ার্ক সমপ্রসারণে বিগত চার বছরেরও কম সময়ে এ প্রতিষ্ঠান থেকে ১৮৫১কিলোমিটার কেবল সরবরাহ করা হয়েছে।

<strong>টেশিস</strong>

*বর্তমান সরকার ক্ষমতাগ্রহনের আগে নানা অব্যবস্থাপনায় টেশিস রুগ্ন শিল্পে পরিনত হয়।
*বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পণ্যবহুমুখিকরণসহ নানামুখী বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহনের মাধ্যমে টেশিসের কার্যক্রম সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এরই অংশ হিসেবে ল্যাপটপ ছাড়াও কলার টেলিফোন সেট,কর্ডলেস টেলিফোনসেট এবং কলার আইডি স্টেনো টেলিফোন সেট সংযোজন এবং মোবাইল ব্যাটারি ,ব্যাটারি চার্জার ,মেইনটেনেন্স ফ্রি ব্যাটারি,ডিজিটাল ইলেকট্রিক মিটার,সিংগেল ফেজ মিটার এবং প্রি-পেইড মিটার ও সিঙ্গেল ফেজ মাল্টিফাংশন প্রোগ্রামেবল মিটার উৎপাদন কার্যক্রম চালু করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে উঠে।]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>নিয়েনডারথাল মানুষের জিনরূপ এবং কভিড&#45;১৯ এর ঝুঁকি</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%B2+%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%B0%E0%A7%82%E0%A6%AA+%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82+%E0%A6%95%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A1-%E0%A7%A7%E0%A7%AF+%E0%A6%8F%E0%A6%B0+%E0%A6%9D%E0%A7%81%E0%A6%81%E0%A6%95%E0%A6%BF</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%A8%E0%A6%A1%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%B2+%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%A8%E0%A6%B0%E0%A7%82%E0%A6%AA+%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82+%E0%A6%95%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A1-%E0%A7%A7%E0%A7%AF+%E0%A6%8F%E0%A6%B0+%E0%A6%9D%E0%A7%81%E0%A6%81%E0%A6%95%E0%A6%BF</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 08 Jul 2020 23:10:32 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<span style="text-decoration: underline;"><strong>ড. মুশতাক ইবনে আয়ূব</strong></span>

&nbsp;

<em>(সম্প্রতি নানানভাবে পত্র-পত্রিকায় একটি গবেষণার খবর এসেছে যেখানে নিয়েনডারথাল মানুষের জিনরূপের সাথে কভিড-১৯ এর ঝুঁকি'র সম্পর্ক নিয়ে একটি গবেষণাকে উদ্ধৃত করা হয়েছে। বিষয়টি এখানে যথসম্ভব সহজভাবে উপস্থাপন করা হলো।)</em>

৬০ হাজার আগে হোমো নিয়েনডারথাল মানুষ থেকে বর্তমান হোমো সেপিয়েন্স মানুষের ভেতরে আসা ডিএনএ'র একটি অংশ কোভিড-১৯ রোগের সংকট নির্ধারণে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানিরা।

প্রাচীন মানুষের ডিএনএ নিয়ে গবেষণাকারীদের পুরোধা বিজ্ঞানী সান্তে পাবো'র নেতৃত্বে এ সংক্রান্ত একটি গবেষণাপত্রের খসড়া <a href="https://www.biorxiv.org/content/10.1101/2020.07.03.186296v1.full.pdf">বায়োআর্কাইভ</a>-এ প্রকাশিত হয়েছে। পাবো'র সাথে মূল গবেষক ছিলেন হুগো জেবার্গ।

উক্ত গবেষণার সঙ্গে সংযুক্ত নন, প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ের এমন একজন জিনতত্ত্ববিদ জোশুয়া আকেয় বলেছেন, দেখা যাচ্ছে, ৬০ হাজার বছর আগের হোমো নিয়েনডারথাল মানুষের সাথে হোমো সেপিয়েন্স মানুষের আন্তঃপ্রজনন প্রক্রিয়াটি আজও প্রভাব ফেলছে।

জেবার্গ এবং পাবো তাদের গবেষণার ভিত্তি হিসেবে নিয়েছেন নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এ গত  ১৭ জুন ডেভিড এলিঙহস কর্তৃক প্রকাশিত একটি গবেষণাপত্রকে (DOI: 10.1056/NEJMoa2020283)। এই গবেষণায় এলিঙহস এবং তার সহযোগিরা দেখিয়েছেন যে,  মানুষের কোষের ৩ নম্বর ক্রোমোজমের 3p21.31 অংশে কিছু পরিবর্তন কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে যারা শ্বাসতন্ত্রের গুরুতর সমস্যায় নিপতিত হন তাদের মধ্যে বেশি পাওয়া যায়।

এখন জেবার্গ এবং পাবো বলছেন, মানুষের কোষের ৩ নম্বর ক্রোমোজমের উক্ত 3p21.31 অংশের পরিবর্তনগুলো আসলে প্রায় ৬০ হাজার বছর আগে আধুনিক মানুষের ভেতরে এসেছে হোমো নিয়েনডারথালদের কাছ থেকে। বিশেষ করে ক্রোয়েশিয়ায় আবিষ্কৃত হোমো নিয়েনডারথাল-এর নমুনা Vindija 33.19 এর ডিএনএ-তে ৩ নম্বর ক্রোমোজমের উক্ত পরিবর্তিত রূপ (এ্যালিল) দেখা যায়। সাইবেরিয়া অঞ্চলের নিয়েনডারথাল মানুষের নমুনায় এই পরিবর্তনগুলো কম এবং ডেনিসোভান নামে আরেক ধরেনের প্রাগৈতিহাসিক মানুষের ভেতর এই পরিবর্তন একেবারেই অনুপস্থিত। ক্রোমোজম ৩ এর উক্ত অংশে ছয়টি জিন রয়েছে। এগুলো হচ্ছে-SLC6A20, LZTFL1, CCR9, FYCO1, CXCR6, and XCR1। বিজ্ঞানীরা এসব জিন কোভিড-১৯ এর গুরুতর শ্বাসতন্ত্রের সমস্যার সাথে যুক্ত থাকতে পারে বলে অভিমত ব্যক্ত করছেন।

১০০০-জিনোম প্রজেক্ট- (1000 genome project)-এর অধীনে প্রকাশিত মোট ৫০০৮ টি মানব জিনোম তথ্যের সাথে তুলনা করে জেবার্গ এবং পাবো বলছেন, কভিড-১৯ এ আক্রান্ত মানুষে শ্বাসতন্ত্রের গুরুতর ঝুঁকির সাথে সম্পর্কিত ক্রোমোজম ৩ এর উক্ত পরিবর্তনগুলো এশিয়া এবং ইউরোপের মানুষের ভেতর সবেচেয়ে বেশি পরিমানে দেখা যায়। বিশেষ করে বাংলাদেশের মানুষের ৬৩ শতাংশের ভেতর উক্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবর্তনগুলোর কমপক্ষে একটি রয়েছে। যদিও এসব পরিবর্তন আসলে মানুষের ভেতর কেমন ভূমিকা রাখবে সে সম্বন্ধে এখনও নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে আরো গবেষণার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া জুড়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষ ক্রোমোজমের এই পরিবর্তন উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। তবে অন্যত্র এই পরিবর্তন অনেক কম দেখা যায়। মাত্র ৮ শতাংশ ইউরোপীয় এটা বহন করে, এবং পূর্ব এশিয়ায় মাত্র ৪ শতাংশ মানুষে এটা আছে। এসব পরিবর্তন আফ্রিকায় প্রায় পুরোপুরি অনুপস্থিত।

এখানে মনে রাখা দরকার যে, পৃথিবীর মানুষদের খুব নগন্য সংখ্যক সম্পূর্ণ জিনোম তথ্য এই গবেষণায় ব্যবহার করা হয়েছে। তার ভেতরে বাংলাদেশের মানুষের জিনোম তথ্য ১৪৪ টি (<a href="https://www.coriell.org/1/NHGRI/Collections/1000-Genomes-Collections/1000-Genomes-Project">https://www.coriell.org/1/NHGRI/Collections/1000-Genomes-Collections/1000-Genomes-Project</a>) হওয়ার কথা। ১৪৪টি জিনোমের ওপর ভিত্তি করে টানা উপসংহারকে খুব আস্থার সাথে নেয়ার সুযোগ নেই। সুতরাং বাংলাদেশিদের কভিড-১৯ এর ঝুঁকি বেশি বিষয়ক যে তথ্য প্রচার হচ্ছে সেটাকে আরো গবেষণার জন্য রেখে দিতে হবে।

<strong>লেখক:</strong>  <em>সহকারী অধ্যাপক, জিন প্রকৌশল ও জীবপ্রযু্ক্তি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় </em>

&nbsp;]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>টিকটকের বিকল্প ল্যাসো বন্ধ করছে ফেসবুক</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA+%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8B+%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7+%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%9B%E0%A7%87+%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%95</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%9F%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AA+%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A7%8B+%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7+%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%9B%E0%A7%87+%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%95</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Fri, 03 Jul 2020 03:54:10 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[ল্যাসোর কথা মনে আছে? হয়তোবা জানারও কথা নয়। এটি শুধুমাত্র কয়েকটি দেশে উন্মোচিত হয়েছিলো এবং স্বল্প সংখ্যক ভাষা সমর্থন করতো। নিজেদের ‘টিকটক’ প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ বন্ধ করেছে ফেসবুক। হ্যাঁ, বলছিলাম ফেসবুকেরই শর্ট ভিডিও ক্লিপ সেবার কথা।

অবশেষে আগামী ১০ জুলাই থেকে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অ্যাপটি। কোম্পানিটির বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে এনগ্যাজেট।

আপনি যদি একজন অ্যাসো ব্যবহারকারী হয়ে থাকেন তাহলে এই সময়ের মধ্যে অ্যাপটিতে সংরক্ষণ করে রাখা ভিডিও ডাউনলোড করে নিন। তবে ফেসবুক আসলে তাদের রিলস ফিচারে গ্রাহক টানতে চাইছে। ইনস্টাগ্রামের সাথে সম্পৃক্ত এই সেবাটি মূলত টিকটকের বিকল্প ফিচার।

<em><strong>ডিবিটেক/বিএমটি</strong></em>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>‘শুধু মহাশূন্য নয়, মানুষের জীবন বদলে দেয়া প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা হবে দেশে’</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E2%80%98%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%A7%E0%A7%81+%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A7%82%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF+%E0%A6%A8%E0%A7%9F%2C+%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%A8+%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A6%B2%E0%A7%87+%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF+%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87+%E0%A6%97%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B7%E0%A6%A3%E0%A6%BE+%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E2%80%99</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E2%80%98%E0%A6%B6%E0%A7%81%E0%A6%A7%E0%A7%81+%E0%A6%AE%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A7%82%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF+%E0%A6%A8%E0%A7%9F%2C+%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%B7%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%9C%E0%A7%80%E0%A6%AC%E0%A6%A8+%E0%A6%AC%E0%A6%A6%E0%A6%B2%E0%A7%87+%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A7%9F%E0%A6%BE+%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF+%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87+%E0%A6%97%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B7%E0%A6%A3%E0%A6%BE+%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E2%80%99</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Thu, 05 Dec 2019 16:12:39 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<strong>আজাদুল হক:</strong>

ফেব্রুয়ারীতে “কোন” সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর সামনে উপস্থাপিত বক্তব্যে আমরা বলেছিলাম যে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে নাসার মতন (তবে বাংলাদেশের জন্য প্রযোজ্য) একটি স্পেস সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হোক। জানি, এটা শুনে অনেকে নাক সিটকেছেন। মুচকি হাসি হেসেছেন। কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, যে দেশে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, পেঁয়াজের দাম বাড়ানো আটকানো যায় না, ট্রেনের সংঘর্ষ আটকানো যায় না সেই দেশে আবার মহাশূন্যের গবেষণা!

এতে মন খারাপ করার কিছু নেই। বাংলাদেশকে নিয়ে নাক সিটকানোর ঘটনা আগেও ঘটেছে। একাত্তরেও অনেকে নাক সিটকেছেন। তারা বলেছিলেন বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী বাহিনীর সাথে লড়াই করবে এই শুকনা পাতলা বাঙ্গালিরা! তার পরিনতি সবার জানা।

আমরা কিছু পাগল টাইপের মানুষ আছি। রাজনীতি আমাদের মাথার ওপর দিয়ে চলে যায়। ধন, দৌলত, টাকা, পয়সা, গাড়ী, বাড়ী, এইসবের প্রয়োজনকে অস্বীকার করিনা কিন্তু শুধু এর পেছনে দৌঁড়াই জীবনটা কাটাতে চাই না। কিছু উল্টা পাল্টা করতে চাই। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, মেধা দিয়ে বদলে দিতে চাই কিছু সংজ্ঞা।

আমরা আনন্দের সাথে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশে স্পেস সেন্টার প্রতিষ্ঠার প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে আমাদের পিকো স্যাটেলাইটের গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজ প্রায় শেষ। ক্যালিফোর্নিয়ার ল্যাবে টেলিমেট্রি ডাটা পেতে শুরু করেছে আমাদের প্রবাসী ইঞ্জিনিয়াররা। এমাসেই ঢাকায় এন্টেনা লাগানোর পর গ্রাউন্ড স্টেশনের কাজ শেষ হবে। আমরা আশা করছি জানুয়ারীতেই এর শুভ উদ্বোধন করা হবে।

হাওয়ায় ভাসছে খবর যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের কথা গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন এবং পদ্মার ওপারে, মাদারীপুরের কাছে ৭৭ একর জায়গা দেবার কথা ভাবছেন যেখানে শুধু মহাশূন্য নয়, মানুষের জীবনে বদলে দেয়া সব রকম প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা হবে।

আমাদের স্বপ্নের এই সবে শুরু। এর শেষ বলে কিছু নেই। যারা বলে আমরা পারব না, তাদের আমরা বলি – যদি কেউ পারে তবে আমরাই পারব।

কারণ – আমাদের বুকে আছে বাংলাদেশ।

লেখক: <strong>ম্যাক্স গ্রুপের প্রধান নির্বাহী ও নাসার সাবেক সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার</strong>]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>‘কেন আমি ফেইসবুকে’</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E2%80%98%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8+%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BF+%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%87%E2%80%99</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E2%80%98%E0%A6%95%E0%A7%87%E0%A6%A8+%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BF+%E0%A6%AB%E0%A7%87%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%87%E2%80%99</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Sat, 23 Nov 2019 12:36:36 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<strong>যুবলীগের ৭ম জাতীয় কংগ্রেস উপলক্ষে প্রকাশিত হয়েছে স্মরণিকা 'স্বপ্ন পূরণে’। এতে ‘কেন আমি ফেইসবুকে’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য-প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। নিচে তার লেখাটি তুলে ধরা হলো।  </strong>

আমি তরুণ প্রজন্মের ভোটারদের সাথে সংযুক্ত হওয়ার জন্য একটি পদ্ধতি হিসেবে ফেইসবুক ও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতে চেয়েছিলাম। তরুণরা তাদের তথ্যের জন্য অধিকাংশ অনলাইনের বিভিন্ন উৎস যেমন ফেইসবুক হতে পায়। তারা সংবাদপত্র তেমন একটা পড়ে না, তাই আপনি যদি তাদের কাছে পৌঁছাতে চান আপনাকে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করতেই হবে। এটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার উভয় নির্বাচনেই সোশ্যাল মিডিয়া কার্যকরভাবে ব্যবহৃত হয়েছে এবং আমি বাংলাদেশেও তাই করতে চেয়েছি।
<blockquote>আমি মনে করি, অনলাইনের রাজনৈতিক কার্যক্রম দলের সমর্থকদের ভিত্তি সুদৃঢ় করতে পারে। ঐতিহ্যগতভাবে দলের ভিত্তি ছাত্রলীগ, যুবলীগ এবং দলের স্থানীয় কমিটি থেকে গঠিত হয়ে থাকে। আমি দেখলাম তরুণদের বড় একটি অংশ রাজনীতিতে সংশ্লিষ্ট হতে আগ্রহী, কিন্তু তারা গতানুগতিক ছাত্র রাজনীতিতে জড়াতে চায় না এবং সমাবেশ মিছিলও করতে চায় না। আওয়ামী লীগের পক্ষে সংগঠিত হওয়া এবং রাজনীতিতে যুক্ত হবার জন্য সোশ্যাল মিডিয়া তাদের একটি পথ তৈরি করে দিয়েছে।</blockquote>
রাজধানীর বাইরে স্থানীয় কমিটির জন্য সোশ্যাল মিডিয়া আমাদের বার্তা প্রচারে একটি অসাধারণ মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। আগে আমরা প্রতিটি স্থানীয় কমিটির বিভিন্ন পার্টি কমিটির চেইন অব কমাণ্ডের মাধ্যমে আমাদের বার্তা পাঠাতাম। এতে অনেক সময় লেগে যেত। এই ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার যুগে সংবাদ খুব দ্রুত পরিবর্তন হয়ে যায়, তাই অনলাইনে বার্তা রাখা আমাদের দলের সব কর্মীদের তাৎক্ষণিক বার্তা পেতে সুযোগ তৈরি করে দেয়। আজকালকের দিনে পৃথিবীব্যাপী সেলিব্রিটি এবং রাজনীতিবিদরা ফেইসবুক পেইজ এবং তাদের টুইটারের মাধ্যমে বিবৃতি পোস্ট করেছেন, যা মূলধারার সংবাদ মাধ্যমগুলো লুফে নিচ্ছে। এটা বিশ্বের একটি প্রবণতা হয়ে উঠেছে। এটা আমাদের এবং সংবাদ মাধ্যমের অনেক সময় ও শ্রম বাঁচিয়ে দিচ্ছে যাতে প্রতিদিনকার ইস্যুর জন্য আমার প্রেস কনফারেন্স আয়োজন করা বা প্রেস রিলিজ দেয়ার কোন প্রয়োজন হচ্ছে না। সংবাদকর্মীদের আমার বক্তব্য ধারণের জন্য সময় নিয়ে পার্টি অফিসে আসতে হচ্ছে না।

ফেইসবুক পেজে আমি অনেক নেতিবাচক মন্তব্যও পেয়ে থাকি। তবে নেতিবাচক সমালোচনা আমাকে বিরক্ত করেনা এবং আমার নীতিতে সেসব সেন্সর করা হয় না। আমি দেখেছি যে ইতিবাচক মন্তব্য নেতিবাচককে অতিক্রম করে যায় এবং তাই বেশ দ্রুত নেতিবাচক মন্তব্য তার নিচে চাপা পড়ে। আমি যদিও কিছু অবমাননাকর মন্তব্য বা আমার ও আমার পরিবারের বিপক্ষে মিথ্যা প্রপাগান্ডা ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা হলে তা সেন্সর করি। যদি আপনি আমার বিরুদ্ধে কোন অসত্য অভিযোগ করেন তবে তা আমি মুছে দেব। এটা আমার ফেইসবুক পেইজ,আপনি আপনার মিথ্যা প্রপাগান্ডা অন্য কোথাও ছড়াতে পারেন।

যেসব তরুণ রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নয় তারা ফ্যান পেইজের মাধ্যমে আমার মতো ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে কাছে আসার অবারিত সুযোগ পাচ্ছে বলে আমি আশা করি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে পেইজটির বিপুল জনপ্রিয়তার কারণে এই যোগাযোগ একমুখী হয়ে যাচ্ছে। যেহেতু প্রতিটি কমেন্ট এবং বার্তার উত্তর দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় তাই আমি মনে করি, মন্তব্যকারীদের দ্বারা উত্থাপিত বিস্তৃত বিষয় ও তাদের উদ্বেগের কারণ নিয়ে পরবর্তী পোস্ট দেই।

তরুণদের জন্য আমি নতুন কিছু ধারণা নিয়ে চিন্তা করছি, কিন্তু এখনই কোন একটি নির্দিষ্ট হয়নি। নির্বাচন এক-দেড় মাস হলো শেষ হয়েছে, আগামী ৫ বছর নিয়ে পরিকল্পনা করার সময় আমি এখনও করে উঠতে পারিনি!]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>ডিজিটাল আইনও পরিশোধিত হবে: জয়</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2+%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%93+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%A4+%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87%3A+%E0%A6%9C%E0%A7%9F</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B2+%E0%A6%86%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A6%93+%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%B6%E0%A7%8B%E0%A6%A7%E0%A6%BF%E0%A6%A4+%E0%A6%B9%E0%A6%AC%E0%A7%87%3A+%E0%A6%9C%E0%A7%9F</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Wed, 03 Jul 2019 11:32:27 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[<img class="size-jnews-360x180 wp-image-8288 alignleft" src="https://digibanglatech.news/wp-content/uploads/2019/07/জয়-360x180.jpg" alt="" width="360" height="180" />অন্যান্য সব আইনের মতোই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনও নিখুঁত নয় উল্লেখ করে ‘এই আইনও দিনে দিনে পরিশোধিত হবে’ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। মার্কিন দৈনিক পত্রিকা<em> দ্য ওয়াশিংটন টাইমস</em>-এ গত ১ জুলাই প্রকাশিত এক কলামে এ তথ্য জানান তিনি।

<strong>নিচে কলামটির বাংলা অনুবাদ তুলে ধরা হলো:</strong>

ডিজিটাল যুগের দিকে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। গত বছর, নাগরিকদের তথ্য ও গোপনীয়তার সুরক্ষা এবং অনলাইনে উষ্কানি ও সহিংসতামূলক প্রকাশনা থেকে নাগরিকদের নিরাপদ রাখতে সংসদে ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট নামে একটি আইন পাস হয়। বিশ্বের অনেক দেশেই এমন আইন বিদ্যমান।

দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম ও এনজিও এই গুরুত্বপূর্ণ আইনের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে যে, এই আইনের মাধ্যমে সাংবাদিকদের অধিকার ও বাক-স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

তবে এটা সত্যি নয়। বাংলাদেশে অনেক মুক্ত গণমাধ্যম চর্চা হচ্ছে। এখানে ৯টি জাতীয় দৈনিক রয়েছে এবং তিন শতাধিক স্থানীয় সংবাদমাধ্যম রয়েছে, যারা প্রতিনিয়ত বিভিন্ন সংবাদ পরিবেশন করে যাচ্ছে। এর মধ্যে অনেক সংবাদে সরকারের সমালোচনাও করা হয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম হয়তো সরকারের দৃষ্টিভঙ্গিতে সংবাদ পরিবেশন করে,কিন্তু প্রায় ৩০টির মতো বেসরকারি টিভি চ্যানেল রয়েছে যারা ঘটনা যা ঘটে সেটাই সংবাদ হিসেবে তুলে ধরে। নিয়মিত সরকার,রাজনীতিবিদ ও তাদের নীতির সমালোচনা করে। একই ঘটনা আপনি ২২০টিরও বেশি স্বাধীন অনলাইন সংবাদমাধ্যমে দেখতে পারবেন।
<blockquote>সরকার এই সংবাদমাধ্যমগুলোকে দমন না করে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে যেনও সংখ্যালঘুরা কথা বলতে পারে। সরকার সব ধরনের সাইবার অপরাধীদের হাত থেকে নাগরিকের সুরক্ষার জন্যও পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু ডিজিটাল মিডিয়া যেমন সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ঘটাচ্ছে, তাই এই আইনও দিনে দিনে পরিশোধিত হবে। অন্যান্য সব আইনের মতোই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনও নিখুঁত নয়।</blockquote>
স্বাধীনতার প্রতিবন্ধকতা রয়েছে; গণতন্ত্র অনেক জটিল। আর বাংলাদেশে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র দুটোই রয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এই দুইটি বিষয় নিশ্চিত করে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চায়। এই সমন্বয় সরল কিছু নয়, এর ভারসাম্য রক্ষাও সহজ নয়।
<blockquote>আইনের প্রয়োগ যেন সর্বোচ্চ নাগরিকবান্ধব হয় সেজন্য দিনরাত কাজ করে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে সেটা সহজ নয়। অনেক সংবাদমাধ্যম যেমন জানিয়েছে, এই আইনের আওতায় অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। এটা গুরুত্বপূর্ণ, আদালত এখনও কাউকে এই আইনে দোষী সাব্যস্ত করেনি।</blockquote>
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দফতরের খসড়া অনুযায়ী এই আইন নিয়ে সংসদে ও সংবাদমাধ্যমে সাংবাদিক, আইনজীবীদের মধ্যে বিতর্ক হয়েছে। এমনকি এডিটর্স গিল্ড এই আইন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে, যা এর চূড়ান্ত রূপ দিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। ফলে আমরা বুঝতে পারি যেহেতু এখন নতুন প্রযুক্তি এসেছে তাই এই আইন পরিবর্তন করা দরকার। কর্তৃপক্ষও তাদের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝতে পারবে যে এটা কীভাবে প্রয়োগ করতে হবে।
<blockquote>তবে আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য পাল্টাবে না। সরকার অবশ্যই নাগরিকদের ডিজিটাল নিরাপত্তা দেবে। যে কোনও ধরনের সন্ত্রাস, ব্ল্যাকমেইল ও সাইবার হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়া হবে। এই আইনের একটি ধারায় ধর্মীয় উষ্কানিমূলক বক্তব্য নিষিদ্ধ করা হয়েছ, যাতে করে মুসলমান ও সংখ্যালঘু হিন্দুরা নিরাপদ থাকে। অন্যান্য ধারাতেও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার ব্যাপারটা খেয়াল রাখা হয়েছে।</blockquote>
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া ৩০ লাখ মানুষের তথ্য সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ ছিল এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন। জার্মানিসহ ইউরোপের অন্যান্য ১৫ টি দেশের মতো এই আইন মানবতাবিরোধী আইন নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোকে নিষিদ্ধ বিবেচনা করে।
<blockquote>বাংলাদেশের ইতিহাস বলছে, এমন কিছুতে সতর্ক থাকা দরকার। দেশের ৯০ শতাংশ মানুষ মুসলিম। বাকিদের মধ্যে বেশিরভাগই হিন্দু। ভুল তথ্য বা সংবাদ ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। যেমন, সম্প্রতি একটি ফেসবুক পোস্টে দেখা যায় মুসলমানদের পবিত্র কাবা শরিফে এক হিন্দু দেবতার মূর্তির ছবি। এর প্রতিবাদে উগ্রবাদী মুসলিমরা নাসিরনগরে হিন্দুদের ১৫টি মন্দির ও শতাধিক বাড়ি ভাঙচুর করে। ছবিটি যে ফটোশপ করা ছিল সেদিকে কেউ খেয়ালই করেনি।</blockquote>
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন এমন আচরণকে অনুৎসাহিত করে। সমালোচকদের দাবি, এই আইনের পরিধি অনেক বড় এবং এতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রে অন্যতম ভিত্তি হচ্ছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। তবে সংবাদমাধ্যমকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তাদেরও সত্য উদঘাটন করতে হবে এবং জননিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

সংবাদকর্মীরা যখন আইন ভঙ্গ করেন তখন শুধু পেশাগত কারণে নিজেদের আইনের ঊর্ধ্বে ভাবতে পারেন না। যদি সংবাদমাধ্যম জেনেশুনে ভুল সংবাদ পরিবেশন করে তবে তাদের অবশ্যই বিচারের আওতায় আনতে হবে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্যে একটি ভারসাম্য রক্ষা করে। এটা কি নিখুঁত? অবশ্যই না, তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর পরিবর্তন আসবে। নিখুঁত হয়ে উঠবে। বাংলাদেশ ডিজিটাল আইন ও নিরাপত্তার উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।]]> </content:encoded>
</item>

<item>
<title>সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে বুয়েটের রোবোটিক্স ল্যাব</title>
<link>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF+%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4+%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B8+%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AC</link>
<guid>https://digibanglatech.news/%E0%A6%B8%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0+%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF+%E0%A6%89%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4+%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%AC%E0%A7%87+%E0%A6%AC%E0%A7%81%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%9F%E0%A7%87%E0%A6%B0+%E0%A6%B0%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A7%8B%E0%A6%9F%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B8+%E0%A6%B2%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%AC</guid>
<description><![CDATA[  ]]></description>
<enclosure url="https://digibanglatech.news" length="4096" type="image/jpeg"/>
<pubDate>Mon, 06 May 2019 09:18:25 +0600</pubDate>
<dc:creator>স্টাফ রিপোর্টার</dc:creator>
<media:keywords></media:keywords>
<content:encoded><![CDATA[বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট)আজ উদ্বোধন করা হলো রোবোটিক্স ল্যাব। এই ল্যাবটি বুয়েটের শিক্ষার্থী-শিক্ষক এবং বিশ্ববিদ্যালয় ও বাইরের গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

১ কোটি ৬৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ ল্যাবটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ল্যাবটির উদ্বোধন করেন আইসিটি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক এবং বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পলক বলেন, আমাদেরকে এখন শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে মেধানির্ভর অর্থনীতির দিকে মনোনিবেশ করতে হবে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের ধাক্কা সামলাতে হলে আমাদেরকে এখনই উচ্চতর প্রযুক্তির দিকে নজর দিতে হবে। রোবটিক্স চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশের এক ছেলে এখন গুগলের ডাইরেক্টর। শুধু গুগল নয়, ইনটেল, ফেসবুক, গুগল সব জায়গায় আমাদের ছেলেরা ভালো করছে। সরকারের অন্যতম লক্ষ্য হলো আমাদের মেধাবীদেরকে দেশেই ধরে রাখা। এই মেধাবীদের কাজে লাগাতে পারলে প্রযুক্তির জন্য বিদেশের দিকে চেয়ে থাকতে হবে না।

বুয়েটের উপাচার্য প্রফেসর ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, এই ল্যাব কোনো নির্দিষ্ট ডিপার্টমেন্ট-এর জন্য নয়। সকল বিভাগের শিক্ষার্থী-শিক্ষক এই ল্যাবে গবেষণা করতে পারবেন। তিনি বুয়েটে এমন একটি আধুনিক ল্যাব স্থাপনের জন্য প্রতিমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বুয়েটের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্কের অধীনে দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩২টি ল্যাব তৈরীর উদ্যোগ গৃহীত হয়েছে। কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক (এবং অন্যান্য হাই-টেক পার্ক) এর উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ১৫টি ল্যাব তৈরী সম্পন্ন হয়েছে এবং আরো ১০টি ল্যাব তৈরী করা হচ্ছে। উক্ত কালিয়াকৈর হাই-টেক পার্ক (এবং অন্যান্য হাই-টেক পার্ক) এর উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমেই বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রোবোটিক্স ল্যাব তৈরী করা হয়েছে। আগামী দিনের প্রযুক্তি, রোবোটিক্স সম্পর্কিত দক্ষ মানবসম্পদ তৈরী এবং এ সংক্রান্ত গবেষণায় ল্যাবটি উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবে।]]> </content:encoded>
</item>

</channel>
</rss>